আমেরিকায় আমার ছাত্রজীবনঃ


আমেরিকায় আমার ছাত্রজীবনঃ
অল্প-স্বল্প গল্প

কানিজ ফাতিমা সুমাইয়া
অনেক দিন ধরে সিসিবিতে কিছু একটা লেখার তাগিদ বোধ করছি। কিন্তু ব্যস্ত আমেরিকান জীবনে সময় কোথায় একটু স্থির হয়ে বসে মনের মধ্যে ছড়ানো ছিটানো ভাবনাগুলো কাগজে কলমে তুলে ধরার? তবে গত সপ্তাহ থেকে আমার ব্যস্ততা কিছুটা কমেছে। ইউনিভার্সিটিতে কোয়ার্টারব্রেক আর ক্রিস্টমাসের ছুটি একসাথে পড়ায় বেশ বড়সড় একটা ছুটি পেয়েছি এবার। সকালে ৬টার সময়, সূর্য ওঠারও আগে আজকাল উঠতে হয়না। আর রাতে টাইম-টেবিল ধরে ১০টার মধ্যে ঘুমাতেও হচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে জীবন বেশ ভালোই কাটছে আমার।

কি দিয়ে লেখা শুরু করবো ভাবতে গিয়ে মনে হলো আমেরিকায় আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের প্রথম কোয়ার্টারের অভিজ্ঞতাটাই শেয়ার করি। গত ফল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাষ্টার্স প্রোগ্রাম শুরু করেছি। আর সবার মত আমিও খুব এক্সাইটেড ছিলাম আমার নতুন ছাত্রজীবন নিয়ে। ক্যাম্পাস কেমন হবে, প্রফেসররা কেমন হবে, সর্বোপরি কারা আমার নতুন বন্ধু হবে এইসব ভেবে। অতঃপর আমার সব কৌতুহলের অবসান ঘটল ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম ক্লাসে। ক্লাসটি ছিল Physical Anthropology and Anatomy। আমি যথারীতি ক্লাস শুরু হওয়ার আধঘন্টা আগেই ক্লাসরূমের গিয়ে উপস্থিত। প্রথম ক্লাস বলে কথা! কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে ছাত্রছাত্রীরা আসা শুরু করলো। যথাসময়ে প্রফেসর গিলবার্ট ক্লাসে ঢুকলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে বন্ধুমহলে কিছু আজব শব্দের প্রচলন ছিল, যেমন খুব সুন্দর অথবা অদ্ভুত কিংবা অন্যরকম কিছু দেখলে সবাই বলতাম ‘টাস্কি খাইছি’। সেদিনও ক্লাসে প্রফেসরকে দেখার পর পাশের ক্লাসমেটটিকে আমার খুব কানেকানে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল “মামা, টাস্কি খাইলাম রে“।

প্রফেসর গিলবার্ট হাফহাতা একটা গেঞ্জির সাথে একটা হাফপ্যান্ট পড়ে ক্লাসে উপস্থিত! এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেই হাফপ্যান্টের ঝুল কোনভাবেই ৭/৮ ইঞ্চির বেশি হবেনা। শুধু তাই নয়, তার ঝাকড়া দোলানো কটকটে লাল কোকড়া চুলগুলো দেখে সবার প্রথম আমার মনে যে চিত্রটি ভেসে উঠলো সেটি ছিল আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের গহীন জঙ্গলে আবিষ্কৃত ওরাং ওটাং নামের মানুষসদৃশ এক প্রানীর ছবি। ধরে নেওয়া হয়, আধূনিক সভ্য মানবজাতির পূর্বপুরুষ ছিল তারা। কিন্তু পরক্ষণেই তার কপালে তোলা রোদচশমা দেখে আমার বিভ্রম ভাংল যে তিনি আমাদের আধূনিক মানবগোত্রেরই একজন। ইন্ডিয়ানা-ব্লুমিংটনের মত প্রথমসারির একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট প্রফেসরের সেই আজব বেশভূষা এবং পারসোনালিটির প্রেজেন্টেশন আমাকে রীতিমত হতভম্ব করেছিল। শুধু তাই নয়, পুরো কোয়ার্টারে যতদিন আমি তার ক্লাস করেছি, কোনদিনই তার হাফপ্যান্টের ঝুল আর বাড়তে দেখিনি।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রথম দিকে আমি ডঃ গিলবার্টের ক্লাসে খুব অস্বস্তিতে ভুগতাম। তার এই আজব বেশভূষা দেখে আমি প্রায়ই ভাবতাম যে তার মধ্যে কোন পার্সোনালিটি-ডিসওর্ডার আছে, কিংবা বছরের পর বছরে গবেষোপণার জন্য বনে বাদারে শিম্পাঞ্জী আর গরিলাদের মাঝে থাকতে থাকতে তার উপরও এদের আছর পড়েছে। কিন্তু যতই দিন যেতে থাকল, আমি ক্রমান্বয়ে আবিষ্কার করতে থাকলাম তার জ্ঞানের গভীরতা, শেখানোর সহজতর পদ্ধতি আর ছাত্রছাত্রীদের মনে তা’ চিরস্থায়ী করে রাখবার কলা-কৌশল। ছোটবেলা থেকে আমার একটা অভ্যাস ছিল ক্লাসে কোনকিছু বুঝতে না পারলে প্রশ্ন করা। প্রফেসর গিলবার্টের ক্লাসেও আমি বহুদিন বিভিন্ন বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেছি। সত্যকথা বলতে, প্রত্যেকবারই তার চমকপ্রদ এবং যথার্থ উত্তরগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। এবং আমার মনের মধ্যে তার সম্পর্কে গড়ে ওঠা নেতিবাচক ধারণাগুলোকে ভুল প্রমাণিত করেছে। তার ক্লাসে আমি ফিজিক্যাল এনথ্রপলোজী কতটুকু শিখেছি জানিনা। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনে আমরা সচরাচর যেসব ষ্টেরিওটাইপড ধারণা নিয়ে চলি সেগুলো যে কতখানি ভুল তা’ অনুধাবন করতে শিখেছি। যেমন, রাস্তাঘাটে, বাসে, ট্রেনে চলতে ফিরতে আফ্রিকান-আমেরিকান্দের আজগুবি পোষাক-আশাক এবং আচরণ দেখে আগে ভাবতাম এরা বোধহয় স্বাভাবগত কারণেই এমন। কিন্তু আমেরিকায় ওদের নির্যাতনের ইতিহাস এবং ওদের প্রতি Discrimination গুলো জানতে পাড়ায় ওদের প্রতি যে নেতিবাচিক ধারণগুলো ছিল, তা’ ভেঙ্গে গেছে। এখন আমি ওদেরকেও সাধারণ মানুষের মতোই মনে করি।

আমার আরেকটি ক্লাস ছিল Anthropology of Race and Racism.এক কথায় বর্ণ এবং বর্ণবাদ। বাংলাদেশে থাকতে যে ব্যাপারটি নিয়ে কোনদিন আমি মাথা ঘামাইনি সেই বিষয়টি যে আমেরিকান সমাজে এত গুরুত্বপূর্ন সেটা আমেরিকার মাটিতে প্রথম পা’ রেখেই বুঝেছি। নিউইয়র্কের jfk এয়ারপোর্ট এ বিশাল বড় এমিগ্রেশ্ন লাইনে দাঁড়িয়ে আছি হঠাত ইমিগ্রেশন অফিসার আমার পিছনের প্যাসেঞ্জারকে উদ্দেশ্য করে বলল-” the guy behind the brown lady”। এটা ছিল আমেরিকার মাটিতে আমার প্রথম racist অভিজ্ঞতা। খুব অবাক হলাম একজন সরকারী অফিসারের মুখ থেকে এমন একটা কমেন্ট শুনে। সত্যি কথা বলতে কি এর আগে বাংলাদেশে থাকতে আমার গায়ের বর্ণ যে বাদামি এটা আলাদা করে উপলব্ধি করি নাই। বাংলাদেশে আমি শ্যাম বর্ণ বলেই জানতাম যা কিনা শতকরা ৮০% বাংগালীর গায়ের রং। কিন্তু পৃথিবীর আরেক প্রান্তে গিয়ে আমার পরিচয় যে এত ভিন্ন বিষয়টি আমি সেদিন প্রথম jfk এয়ারপোর্ট এ আবিস্কার করলাম।

যাই হোক, আসা যাক আমার আসল গল্পে।- আমার Race and Racism কোর্সের প্রফেসর ছিলেন একজন এশিয়ান মহিলা, নাম Cngin Choar Sin। তার নাম এবং চেহারা দেখে তার আইডেন্টিটি বের করা খুবই মুশকিল। কোর্সটি নেবার আগে তার নাম দেখে আমার ধারণা হয়েছিল তিনি নিশ্চয়ই চাইনিজ অথবা জাপানীজ। কিন্তু ক্লাস করতে গিয়ে প্রথম দিনেই আমি কনফিউজড হয়ে গেলাম। যদিও তার চেহারা দেখতে চাইনিজদের মতো, কিন্তু গায়ের রঙ আমাদের মতো বাদামী। তিনি একই সাথে ইংরেজীর পাশাপাশি তাগালগ (ফিলিপাইনের ভাষা), তামিল, মালে, এবং চাইনিজ বলতে পারেন। একদিন ক্লাসে ষ্টুয়ার্ট হলের Old and New Identities পড়াচ্ছেন, আমি কৌতুহল দমাতে না পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করেই বসলাম, তার আইডেন্টিটি কি? তিনি আমাকে যে উত্তর দিয়েছিলেন তা ছিলোঃ “I was born in Taiwan, but grew up at a Tamil neighborhood in Malaysia, and my father is a Chinese and my mother is a Malaysian Muslim. Now you decide what is my identity”. এখন আপনারাই বলুন আমি বা আমরা তাকে কিভাবে আইডেন্টিফাই করবো?

আমেরিকার স্বাধীনতার পর থেকেই এইদেশে আইডেন্টিটি, এথনিসিটি, ন্যাশনালিটি ব্যাপারগুলো নিয়ে অনেক আন্দোলন এবং লেখালেখি চলছে। এবং প্রফেসর নিং এর মত কনফিউজিং কেস এদেশে অগণিত। খোদ আমেরিকার সরকারও সেনসাসে এই ব্যাপারটাকে এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে আলাদা করতে পারেনি। ডঃ নিং এর ক্লাসে আমার বিভিন্ন সহপাঠীদের মুখ থেকে তাদের রেস, এথনিসিটি, ন্যাশনালিটি নিয়ে বিভিন্ন সময় যেসব কনফিউশন তৈরী হয়, তা’ নিয়ে গল্প, আলোচনা এবং বিতর্ক শুনেছি। কখনো দেখতাম তারা একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসতে পারতো, আবার কখনো পারতো না। কিন্তু যেদিন ক্লাস শেষ হলো, সেদিন মনে হয়েছে এই কোর্সটা শুধুমাত্র এন্থ্রোপলোজির ছাত্র-ছাত্রীদের ছাড়াও আর সকল গ্রাজুয়েট ছাত্রছাত্রীদের জন্যই বাধ্যতামূলক করা দরকার।

আমার আরেকটা কোর্স ছিল  Academic Writing and Publishing. প্রফেসর জেমস ব্রাডির তত্বাবধানে পুরো কোয়ার্টার জুড়ে আমাদেরকে গলদঘর্ম হতে হয়েছে মেইনষ্ট্রীম আমেরিকান লেখনী রপ্ত করতে। খোদ আমেরিকায় জন্ম নেওয়া এবং বড় হওয়া ছাত্রছাত্রীরা এই ক্লাসে নাকানি-চুবানি খেয়েছে। সেখানে সদ্য অভিবাসী আমার অবস্থা ছিলো আরো করূণ। প্রায় প্রতিটি এসাইনমেন্টে আমার লেখায় ডঃ ব্রাডি লালকালির অপারেশন চালাতো। আর প্রতিটি ক্লাসেই আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, আমি কি আদৌ ইংরেজী লেখা শিখেছিলাম? দিশেহারা আমি কোন কূলকিনারা না পেয়ে ছোটবেলায় ক্লাস নাইনের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ইংরেজীতে ৯১ পাওয়ার স্মৃতি দিয়ে মনকে স্বান্তনা দিতাম। সেদিন বেলাল স্যার বলেছিলেন তার পনের বছরের শিক্ষকতার জীবনে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ নম্বর! অথচ আজ ডঃ ব্রাডির লালকালির দাপটে আমার এসাইনমেন্টের কালো শব্দগুলো রীতিমত মলিন হয়ে যায়। সবার এসসাইনমেন্ট যেখানে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ড্রাফটেই আপ্রুভ হতো, সেখানে আমার লাগল চার/পাঁচ ড্রাফট। উল্লেখ্য যে, এই ক্লাসে প্রতি সপ্তাহে দুইটা করে এসাইনমেণ্ট জমা দিতে হতো, যা’র কোনটাই সাত থেকে দশ পৃষ্ঠার কম নয়। আর আমার জন্য কষ্টের বোঝা ত’ ছিন এমনিতেই আরো তিনগুণ। আমার মনে হয়, ঢাবি’র চার বছরে যতখানি লিখেছিলাম, এই তিন মাসে তারও থেকে বেশি লিখাছি। এত কষ্টের পর গতপরশু ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে এই ক্লাসের গ্রেডটি ‘এ’ দেখে মনে হলো যে, ‘কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে’ কথাটি যে বলেছে সে আসলেই একটা জিনিয়াস।

সবশেষে একটা বিষয়ে যা’ না লেখলেই নয়। আমাদের অনেকের মনেই আমেরিকা সম্পর্কে নানা বিদ্বেষ, ঘৃণা জমে আছে। এবং সেসবের পেছনে হয়তো অনেক যৌক্তিক কারণও আছে। কিন্তু এখানকার শিক্ষার উচ্চমান নিয়ে আমার মনে হয় কারো মনে কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমার গত এক কোয়ার্টারের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, এদের শিক্ষাব্যবস্থা খুবই বাস্তবমুখী এবং যুগুপোযোগী। সমসাময়িক বিষয়গুলোকে তারা পাঠ্যক্রমের মধ্যে নিয়ে এসেছে। ক্লাসরুমের পাঠদান পদ্ধতিও অনেক উন্নততর যেখানে শিক্ষকের সাথে ছাত্রের অনেক বেশি আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এরফলে ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজস্ব মতামত গঠন করার এবং তা’ তুলে ধরার সুযোগ পায়, সার্বিকভাবে জীবনে সাফল্যের জন্য যেটা খুবই দরকারী।

Source: http://banglabarta.dk/details.php?cid=1&id=2578

ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি


ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি

ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি ওয়াল স্ট্রিট বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি রেকর্ড করেছে। খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পণ্যে মূল্য হ্রাস ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতা আকর্ষণে সফল হওয়ায় গত বছরের তুলনায় বিক্রি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ হিসাবে এ বছর বিক্রি ১ হাজার ১৪০ কোটিতে পৌঁছেছে এবং এটিই দেশটিতে ব্ল্যাক ফ্রাউডে উপলক্ষে সবেচেয়ে বেশি বিক্রি বলে শিকাগোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান শপার ট্রাক জানায়। খবর এএফপি ও ইয়াহু নিউজের।

কেনাকাটা উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর নভেম্বরের শেষ শুক্রবার ব্ল্যাক ফ্রাইডে হিসেবে পালন করা হয়। বিক্রি বাড়ার ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তিন দিনে যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছে তা গত বছর অর্জিত প্রবৃদ্ধির অর্ধেক বলে জানা যায়। একই সঙ্গে খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রেতাদের জন্য এটি বছরের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ার দিনও ছিল। এর আগে গত বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে দেশটির চলতি বছর এ দিবসটির বিক্রি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে বলে দ্য ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন প্রত্যাশা করেছিল।

ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এ টি কিয়ার্নির অংশীদার লরা গুরস্কি বলেন, ‘প্রত্যেকে একই ক্রেতা আকর্ষণে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ এ ক্রেতাদের একজন হলেন এলিসন সার্টরেন্ড। বোস্টনভিত্তিক এ হিসাবরক্ষক টাইম স্কয়ারে কাপড়ের দোকান অ্যারোপোস্টালে গিয়েছিলেন কেনাকাটার জন্য। তিনি বলেন, একমাত্র কম দাম ও ভাল সুযোগ পেলেই আমি কেনাকাটার জন্য দোকানে যাই।

এদিকে অ্যারোপোস্টাল ইনকরপোরেশন তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, শনিবারের ব্লুআউটের জন্য আমাদের সবকিছুর দাম ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে গ্যাপ ইনকরপোরেশনের শনিবারের বিশেষ কেনাকাটা উপলক্ষে সব ধরনের পোশাকের ওপর ৬০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয় বলেও জানা যায়। পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনার্স এলএলপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড বাসোক বলেন, এ খেলার নাম হচ্ছে— উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। তারা সামনেও একে ধরে রাখতে চায়। প্রসঙ্গত,
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এ দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটনের স্থানীয় দোকানগুলোয় গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি অপেক্ষাকৃত ভালো হলেও গত শুক্রবার অকুপাই ওয়াল স্ট্রিটের বিক্ষোভকারীদের কারণে বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রি বন্ধ ছিল। এর মধ্যে লস এঞ্জেলেসে ওয়ালমার্টের একটি শাখায় সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। তার পরও স্মার্টফোনের মতো পণ্যগুলোর দাম তুলনামূলক কমিয়ে দেয়ায় দোকানটিগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। সিয়ার্স হোল্ডিংয়ের রিটেইল সার্ভিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যামিই বুকস রয়টার্সকে বলেন, এ মৌসুমের পুরো সময়ই আমরা এ ধরনের কর্মসূচি চালু রাখব। তবে একটি দিবস উপলক্ষেই আমরা আমাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব না।

এদিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো শুরু করেছে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ম্যাকিস ইনকরপোরেশন তাদের পণ্যের প্রচারণার জন্য তরুণ সঙ্গীতশিল্পী জাস্টিন বিবারকে বেছে নিয়েছে। জেসি প্যানি কোম্পানি ইনকরপোরেশনের নির্বাহী মাইক থিলম্যান বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা।

সফটওয়্যার ও খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান আইবিএম স্মার্টার কমার্স জানায়, থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে অনলাইনে বিক্রির পরিমাণ ৩৯ দশমিক ৩ ও ব্ল্যাক ফ্রাইডে উপলক্ষে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজার পেয়েছে মোবাইল ফোনসেট ও ট্যাবলেট কম্পিউটার। প্রসঙ্গত, বড়দিন উপলক্ষে কেনাকাটার প্রস্তুতি মূলত শুরু হয় এ ব্ল্যাক ফ্রাইডের মধ্য দিয়েই। ফলে এ দিনগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে বড় চেইন শপ ও সুপার মার্কেটগুলো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা ব্যয় দেশটির অর্থনীতির ৭০ শতাংশ হওয়ায় বর্তমান এ মন্দাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই এখন বিনিয়োগকারীদের নজর ক্রেতাদের গতিবিধির ওপর।
বণিক বার্তা ডেস্ক

কোন পথে আরব বিশ্ব


কোন পথে আরব বিশ্ব
তা রে ক শা ম সু র রে হ মা ন
আরব বিশ্বের রাজনীতি এখন কোন পথে? গেল বছরের নভেম্বরে তিউনিসিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বেন আলির দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে তাতে গাদ্দাফির পতন ও মৃত্যুই শেষ কথা নয়। বরং পরিবর্তন আসছে সিরিয়ায়, সেখানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দিন যত যাচ্ছে, দেশটিতে গণঅসন্তোষ তত বাড়ছে। গত প্রায় আট মাস ধরে সেখানে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন হচ্ছে, তাতে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। গাদ্দাফির মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট আসাদকে কিছুটা নমনীয় মনে হয়। গত ২ নভেম্বর কায়রোতে আরব লিগের প্রস্তাবনায় সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই চুক্তির ভবিষ্যত্ ইতোমধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেননা চুক্তি স্বাক্ষরের পরও সিরিয়ার সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক ব্যবহার করেছে এবং একটি ঘটনায় ২৪ জন মানুষ হোমসে শহরে মারা গেছে। চলতি সপ্তাহে কায়রোতে সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে আলাপ শুরু হওয়ার কথা। এই আলোচনার ফলাফলের ওপর অনেক কিছুই এখন নির্ভর করছে। বলা ভালো, আসাদের পিতা হাফিজ আল আসাদ ১৯৭১ সাল থেকেই সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। বাথ পার্টির মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা পরিচালনা করতেন। ২০০০ সালে তার স্বাভাবিক মৃত্যুর পর তার বড় সন্তান বাশার আল আসাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

আরব বিশ্বের এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তনের ঢেউ গিয়ে লেগেছে বাহরাইনেও। সেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর রাজধানী মানামায় বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে নারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। পুলিশের গুলিতে একজন বিক্ষোভকারী মারাও গেছেন। তিউনিসিয়া থেকে শুরু করে বাহরাইন পর্যন্ত সর্বত্রই সরকার পতনের আন্দোলন হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং একটি গণতান্ত্রিক ধারাও সেখানে শুরু হয়েছে। তিউনিসিয়ায় সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি ইসলামিক শক্তি সেখানে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এন্নাহদার বিজয় আরব বিশ্বে নতুন এক রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিয়েছে। লিবিয়ায় গণ-আন্দোলনের মুখে গাদ্দাফির পতন হয়নি। একটি গৃহযুদ্ধে এবং বিদেশি শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপে গাদ্দাফির সরকারের পতনই শুধু হয়নি, গাদ্দাফি নিজে নিহতও হয়েছেন। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়াতে কোন ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে তা নিয়েও নানা প্রশ্ন আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী আট মাসের মধ্যে সেখানে নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন আছে অনেক। যদি লিবিয়াতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়, তা হলে আরেকজন স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের আবির্ভাব হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। মুস্তাফা আবদেল জলিলের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সেখানে যুদ্ধ পরিচালক করেছে এবং গাদ্দাফি-পরবর্তী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনে দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিলের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে থাকবে। অতীতে আবদেল জলিল গাদ্দাফির বিচারমন্ত্রী ছিলেন। পক্ষ ত্যাগ করে তিনি বিদ্রোহীদের দলে যোগ দেন। কিন্তু জিবরিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে সেখানেই বসবাস করেন। সম্ভবত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। জলিলের চেয়ে জিবরিল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের খুব কাছের ব্যক্তি হবেন। যুদ্ধের কারণে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র সাধারণ মানুষের কাছে চলে গেছে। গাদ্দাফি নিজেও অস্ত্রভাণ্ডার খুলে দিয়েছিলেন। ন্যাটোর বিমান থেকেও বিদ্রোহীদের জন্য অস্ত্র ফেলা হয়েছিল। এসব অস্ত্রের হদিস পাওয়া খুব কঠিন হবে। বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে ওইসব অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে। এই অস্ত্র আল কায়দার কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ফলে গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় অস্ত্র একটি বড় ভূমিকা পালন করবে, যা গণতন্ত্রের উত্তরণে কোনো সাহায্য করবে না। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় ইসলামী জঙ্গিরা অন্যতম একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বেশ কয়েকটি জঙ্গি গ্রুপের খবর পাওয়া যায়, যারা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে; যেমন, বলা যেতে পারে Islamic Fighting Group (IFG), Abu Ubaidah-bin Januah Brigade, Abdel Hakim Belhadj Group, Tripoli Military Council কিংবা Salafi Group-এর কথা। এদের কারও কারও সঙ্গে আল কায়দার যোগাযোগ রয়েছে বলেও ধরে নেওয়া হয়। এক সময় IFG-কে পশ্চিমা শক্তি সমর্থন করেছিল। ১৯৯৬ সালে গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনে IFG-কে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী দাঁড়ায় সেটা দেখার বিষয়। গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য যা দরকার, তা হচ্ছে রাজনৈতিক দল ব্যবস্থাপনা, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা-যা লিবিয়াতে নেই। এখানে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এখন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সদস্যরা একাধিক দলের জন্ম দিতে পারেন এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে পারেন। লিবিয়ায় বেকার সমস্যা প্রকট। জনগোষ্ঠীর ৩০ ভাগ বেকার। লিবিয়ায় বিশাল তেলের রিজার্ভ থাকলেও তেলনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। লিবিয়ার জনগোষ্ঠীর ৪০ ভাগ হচ্ছে তরুণ। এদেরকে মূল ধারায় নিয়ে আসা, চাকরির ব্যবস্থা করা হবে কঠিন কাজ। না হলে এখানে চিরস্থায়ী একটি অস্থিতিশীলতা থাকবেই। লিবিয়া গোত্রকেন্দ্রিকভাবে বিভক্ত। গোত্রের লোকজন একত্রিত হয়ে মরুভূমি তথা পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন। এরা আধুনিকমনস্ক নন। গাদ্দাফি যে গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন, তারা গাদ্দাফির মৃত্যুকে সহজভাবে নেবেন না। ফলে একধরনের বিরোধিতা থেকেই যাবে। উপরন্তু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিরোধের জন্ম হয়েছে। তেল কূপগুলো পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল থেকে। গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়বে। পশ্চিমা শক্তিগুলোর আগ্রহ মূলত লিবিয়ার তেল ও গ্যাসের কারণে। বিশ্বের রিজার্ভের ৩৫ ভাগ তেল রয়েছে লিবিয়ায়, যার পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ব্যারেল। গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে ১ হাজার ৫০০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন তেল উত্তোলিত হতো এক দশমিক তিন মিলিয়ন ব্যারেল থেকে এক দশমিক ছয় মিলিয়ন ব্যারেল। ভূমধ্যসাগরের নিচ দিয়ে পাইপের সাহায্যে এই গ্যাস যায় ইতালিতে (ত্বেবহংঃত্বধস চরঢ়বষরহব)। লিবিয়ার অভ্যন্তরে মাত্র এক ডলারে তেল পাওয়া যেত। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের মূল্য ৮০ ডলার। সুতরাং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থটা কোথায় তা সহজেই অনুমেয়। লিবিয়ার পুনর্গঠনের নামে তখন লিবিয়াতে ব্যবসা খুঁজবে মার্কিনি কোম্পানিগুলো। আর লিবীয় সরকারকে তেল বিক্রি করে (অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করে) পুনর্গঠনের বিল পরিশোধ করতে হবে। ঠিক যেমনটি হয়েছে ইরাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাটেজিতে লিবিয়ার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পেন্টাগন যে দীর্ঘ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, তাতে লিবিয়া একটি ফ্যাক্টর। লিবিয়ার প্রশাসনকে যদি হাতে রাখা যায়, তা হলে উত্তর আফ্রিকা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। লিবিয়া নিয়ন্ত্রণে এলে পার্শ্ববর্তী শাদ ও নাইজারও নিয়ন্ত্রণে আসবে। শাদ ও নাইজারে রয়েছে তেল ও ইউরেনিয়াম, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। একুশ শতকে যে নতুন আফ্রিকার জন্ম হতে যাচ্ছে, সেখানে ফরাসি ভাষাভাষী অঞ্চলে কর্তৃত্ব বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের। কঙ্গো, রুয়ান্ডা, আইভরি কোস্ট ছিল একসময় ফ্রান্সের কলোনি। ফরাসি ভাষা এখানে সরকারি ভাষা। এ অঞ্চলে তখন বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব। ইতোমধ্যেই আফ্রিকাতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নতুন একটি মিলিটারি কমান্ড অঋজওঈঙগ। এ জন্য লিবিয়ায় ‘বন্ধুপ্রতিম’ সরকারের খুব প্রয়োজন ছিল। গাদ্দাফির মত্যু এই হিসাবটা সহজ করে দিল। লিবিয়ার ঘটনাবলি দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রের সরকারকে উত্খাত করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র রাখে। তবে অবশ্যই সেই সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দের হতে হবে। অতীতে গাদ্দাফিকে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থে ব্যবহার করেছে। ইরাকে সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযানের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র গাদ্দাফিকে তার স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় গাদ্দাফিকে চলে যেতে হল। এভাবে একটি স্বাধীন দেশে ন্যাটোর বিমানবহর দিয়ে হামলা কোনো আন্তর্জাতিক আইন অনুমোদন করে না। এটা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ। নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ায় তথাকথিত ‘গণহত্যা’(?) ঠেকাতে ন্যাটোর বিমান হামলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের কোনো অনুমতি দেয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদে এ কথাগুলো আর কেউ বলবে না। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আফ্রিকায় সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই লিবিয়ায় সরকার পরিবর্তন হল।

প্রশ্ন হচ্ছে, সমগ্র আরব বিশ্বের এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তন কি সেখানে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্ম দেবে? তিউনিসিয়ায় এন্নাহদা পার্টির উত্থান সেখানে একটি ‘তুরস্ক মডেলের’ জন্ম দিতে যাচ্ছে। তুরস্কে ইসলাম আর গণতন্ত্রের সমন্বয়ে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে। তুরস্কে ইসলামপন্থীরা কট্টরপন্থী নন। এরা আল কায়দাকে সমর্থনও করে না। বরং আল কায়দার রাজনীতিকে সমালোচনা করে। আধুনিকমনস্ক তুরস্কের নেতৃত্ব ইসলামিক বিশ্বে নতুন এক ইমেজ নিয়ে এসেছে। এন্নাহদার নেতা ঘান্নুচি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের রাজনীতির অনুসারী। এ কথা তিনি স্বীকারও করেছেন। একসময় মিসরের ইসলামিক ব্রাদারহুড পার্টির রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়েছিলেন ঘান্নুচি। এখন সেখান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। ‘তুরস্ক মডেল’ এখন তার কাছে আদর্শ। আগামী ২৮ নভেম্বর মিসরে সংসদ নির্বাচন। সেখানে ইসলামিক ব্রাদারহুড পার্টির বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোন পর্যায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়। সামরিক জান্তা প্রধান ফিল্ড মার্শাল তানতাবি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে অশান্ত পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। এখানে ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা পরিচালনা করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। ইয়েমেনের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট সালেহ ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখেননি। তুলনামূলক বিচারে আল কায়দা অনেক শক্তিশালী ইয়েমেনে। এখানে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তরুণ সমাজ সেখানে সালেহবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। কিন্তু তাদের কোনো সংগঠন নেই। তবে আল কায়দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে একটা ভয় থেকেই গেল। সিরিয়াতেও এদের তত্পরতা রয়েছে।
স্পষ্টতই আরব বিশ্বে ইসলামিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। ১৯৫২ সালে মিসরে জামাল আবদুন নাসেরের ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে আরব জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্ম হয়েছিল, যা ছড়িয়ে গিয়েছিল প্রতিটি আরব রাষ্ট্রে। এখন তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রমনা একটি ইসলামিক শক্তির উত্থান সমগ্র আরব বিশ্বে ছড়িয়ে যায় কি না সেটাই দেখার বিষয়।

লেখক : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
tareque.rahman(a)aol.com

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

ওবামার কিছু সহজাত সুকুমার প্রবৃত্তি থাকলেও থাকতে পারে, যা তার মুসলিম বিশ্বের প্রতি মনোভাবে প্রকাশ পায়- সেড়্গেত্রে অবশ্য তিনি একই রকম ভয়াবহভাবে দুর্বল, কাপুরম্নষোচিত


ওবামার স্ববিরোধিতা ও প্রত্যয়ের অভাব

এম আবদুল হাফিজ

Barack Obama

Barack Obama


 

তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজের খ্রিস্টান পরিচিতিকে সতর্কভাবে ধরে রেখেছেন। তিনি জানতেন যে, বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রে এই পরিচয়ই তার অভিলাষকে পূর্ণ করবে- হোক না তার জন্ম কোনো অখ্যাত আফ্রিকীয় জনকের ঔরসে। তাই তিনি মাতৃকুলের খ্রিস্টান সম্পৃক্ততাকে নিজে শুধু ধারণই করেননি, সেটাকে ঘষে-মেজে উজ্জ্বল করেছেন। ক্যাম্পেইনের সময় প্রায়ই ওবামাকে গির্জায় যেয়ে উপাসনায় লিপ্ত দেখা যেত। মসজিদ বা কোনো ধরনের মুসলিম উপাসনালয়কে তিনি সযত্নে এড়িয়ে চলতেন। তিনি তার অতীতের মুসলিম সম্পৃক্ততাকে প্রাণপণে চেষ্টা করেছেন মুছে ফেলার, যদিও তার জন্মদাতা বাবা এবং সৎ বাবা দুজনে মুসলমান ছিলেন। জাকার্তায় তার সৎ বাবার সঙ্গে বসবাসকালে তার জীবনারম্্‌ভ হয়েছিল একজন মুসলমান হিসেবে। কী পরিমাণ স্বার্থ-বুদ্ধি কারো মধ্যে কাজ করলে সে অবলীলায় তার শেকড়কে অস্বীকার করতে পারে। ওবামা সেটিই করেছিলেন এবং এখন তার মধ্যে যে দ্বিবিধ চেহারা পরিদৃষ্ট হয়, তার কারণও এটি।

নির্বাচনে ওবামাকে বেকায়দায় ফেলতে তার প্রতিপড়্গরা প্রায়ই তার চোখের মধ্যাংশের প্রতি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। শুধু তাই নয়, তারা ওবামার জন্ম-বৃত্তান্তের রেকর্ডকেও বিতর্কিত করেছিল এবং এও প্রচার করেছিল যে, ওবামা ফিলিস্তিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সম্্‌ভাব্য প্রেসিডেন্টকে ঘায়েল করতে প্রতিপড়্গরা তাদের অনুকূল কন্সটিটিউয়েন্সি বিশেষ করে ইহুদি-খ্রিস্টানদের মুখাপেড়্গী হয়েছিল।

যা হোক, ড়্গমতায় আসীন হওয়া মাত্রই কিছু কিছু বিষয়ে ওবামা আরব ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্বিন্যাসে বুশ প্রশাসনের নীতিকে বর্জন করেন। ইরাক থেকেও তিনি মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন, যদিও তা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে তার ইরাককে নিয়ে সত্যিকারের অভিপ্রায় নিয়ে। কেননা তিনি বিপুল সংখ্যার সৈন্য ইরাকেই পুনঃমোতায়েন করছেন ইরাকি নেটিভ আর্মির প্রশিড়্গণের ছুতোয়। তাছাড়াও ইরাকের এ পর্যায়ে একটি লেজেগোবরে অবস্থা, যার অছিলায় যুক্তরাষ্ট্র যখন তখন সৈন্য পুনঃমোতায়েন করতে পারে এবং ইরাকের জাতি ও ধর্ম গোষ্ঠীগত বিভেদ-বিদ্বেষকে কাজ লাগিয়ে মার্কিন-দোসর ইসরায়েলের গ্রেটার ইসরায়েলে স্বপ্নের অনুকূলে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি বিরোধ নিষ্পত্তিতেও ওবামা আপাতদৃষ্টিতে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপন সম্প্রসারিত না করার জন্য চাপে রেখেছেন এবং সরল বিশ্বাসে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে বলছেন। মিত্র হিসেবে ইসরায়েলের ওপর ওয়াশিংটনের বিরাট প্রভাব রয়েছে। ওবামা সম্্‌ভবত সেটিই কাছে লাগাতে চান। প্রয়োজনে এবং সদিচ্ছা থাকলে ওবামা ইসরায়েলকে আগের মতো মার্কিন অস্ত্র প্রেরণ বন্ধও করে দিতে পারেন।

কিন্তু বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের এতসব হুমকি-ধমকি বা প্রভাব এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আচরণে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। ওবামা কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনুকূল মনোভাব দেখিয়েই যাচ্ছেন। যদিও তার ইতিবাচক কোনো ফলাফলই নেই। ২০০৯ সালের জুনে ওবামার বহুল প্রচারিত কায়রো ভাষণটি বিশ্ব মুসলিমের কাছে গতানুগতিকভাবে পৌঁছেছিল এবং তিনি সে সময় ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ নামটি পরিবর্তনের কথাও চিন্তা করছিলেন। কিন্তু মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে টার্গেট করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শব্দমালা থেকে এই নামটির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

শুধু তাই নয়, ওবামার এতসব মুসলিম বিশ্বের জন্য উদার এবং মহৎ উচ্চারণের পর ওবামা আফগানিস্তানে সৈন্যস্ফীতির আদেশ দিয়েছেন। সিআইএর ড্রন হামলাও তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন উপজাতীয় অঞ্চলে।

ড্রন হামলার এই তীব্রতা ওবামার মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিশেষ সমীকরণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণার পর। মার্কিন বিশেষ বাহিনীগুলো এখন ৭৫টি দেশে সক্রিয়। বুশ আমলে তা ছিল ৬০টি দেশে। ইত্যবসরে গুয়ানতানামো বে এখনো চালু আছে। মার্কিনিরা এখনো সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেয় এবং প্রয়োজনে ‘হত্যা’ এখনো ওয়াশিংটনের টুলবক্সে একটি যন্ত্র বা হাতিয়ার।

মার্কিনিদের কনটিজেন্সি অপারেশন্স-এ বিদেশ-বিভূইয়ে যেসব বেসামরিক ব্যক্তি মারা পড়ে তাদের অধিকাংশই মুসলমান। যেসব বিদেশি ধরা পড়ে এবং জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয় তাদেরও প্রায় সবাই মুসলিম। ফলে আল-কায়েদার ব্যবহৃত উক্তি ‘ক্রুসেডর’ এবং ‘ইমপেরিয়ালিস্ট’ কাদের বোঝায় তা কিছুটা চোখ-কান খোলা রাখলে আর অস্পষ্ট থাকে না।

আশ্চর্যের বিষয় যে, ওবামার কায়রো ভাষণের লালিত্য সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বে ওবামার দেশের গ্রহণযোগ্যতা যা আগেও খুব ভালো ছিল না- আরও অনেক নিচে নেমে এসেছে। গ্রহণযোগ্যতার এই নিম্নগামিতা মার্কিনিদের মিত্র আরব দেশ মিসরে ২০০৯ সালের শতকরা ৪১ ভাগের বিপরীতে এখন শতকরা ৩১ ভাগে নেমে এসেছে। তুরস্ড়্গে তা গত বছরের শতকরা ৩৩ ভাগের বিপরীতে এখন শতকরা ২৩ ভাগে নেমেছে। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস ঘটেছে পাকিস্তানে, যা গত বছরের শতকরা ১৩ ভাগের বিপরীতে এখন শতকরা ৮ ভাগ। বোঝা যায়, ওবামা প্রেসিডেন্সি এই ধ্বংস সর্বাধিক।

মার্কিনি যুদ্ধ, দখলদারিত্ব এবং অতর্কিত ড্রন হামলা মার্কিনিদের বিরম্নদ্ধে মুসলিম বিশ্বে বিরূপ অবস্থান গ্রহণ প্রধান কারণ। এমনটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবাট প্যাপের অভিমত। তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ আত্মঘাতী হামলা- যা দখলদারদের এবং বিদেশি হামলাকারীদের বিরম্নদ্ধে পরিচালিত হয়েছে বা হচ্ছে। তা সব প্রতিশোধমূলক, যা মার্কিনিরা কোনো যৌক্তিক প্রক্রিয়া ব্যতিরেকেই নয়- এগারোর অব্যবহিত পর ঘটিয়েছিল। অনেকে ধর্মের দোহাই দিলেও এগুলো নিছক প্রতিশোধের বীভৎস প্রকাশ।

নয়-এগারোয় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি আইকন ধ্বংস হওয়ার পরই প্রতিশোধের দাবানল জ্বলে উঠেছিল। মার্কিনিরা এর ধর্মীয় অনুশাসন বা অনুমোদন খঁুজতে তখন বাইবেলের প্রাসঙ্গিক ছত্র হাতড়াতে যায়নি। জনমত জরিপ বিশেষজ্ঞ স্টিফেন কাল বলেন যে, মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থা এবং একটি শক্তিশালী জাতিসংঘ ও সর্বজনীন মূল্যবোধের প্রতি গভীর আস্থা এবং সমর্থন আছে। তা সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্ব ওবামা যুগের বৈদেশিক নীতিকে মুসলমানরা বুশ নীতিরই প্রলম্বন ভাবছে না। তাদের কাছে ওবামার যুদ্ধ এবং দখলদারিত্বের নীতি আরো কদর্য, আরো ভয়াবহ। ওবামার কিছু সহজাত সুকুমার প্রবৃত্তি থাকলেও থাকতে পারে, যা তার মুসলিম বিশ্বের প্রতি মনোভাবে প্রকাশ পায়- সেড়্গেত্রে অবশ্য তিনি একই রকম ভয়াবহভাবে দুর্বল, কাপুরম্নষোচিত।

লেখকঃ ব্রিগেডিয়ার (অব·), সাবেক মহাপরিচালক, বিআইআইএসএস

আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা: পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা ; হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন


পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা

বারাক ওবামা

বারাক ওবামা


সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির পরাজয়ের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক খাতে তেমন অগ্রগতি না ঘটায় ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই তারা ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর এজন্য আমিই দায়ী।’ বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপি, বিবিসি অনলাইনের। মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের দলের ভরাডুবির পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে মলিন মুখে হাজির হন বারাক ওবামা। মাত্র দুই বছর আগে রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে ধরাশায়ী করে ক্ষমতায় যান ওবামা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তায় ধস নামায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে বলেন, আমি খুব খারাপ বোধ করছি। একই সঙ্গে স্বীকার করলেন দলের এ অবস্থার জন্য নিজের দায়িত্বের কথা। তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকার কোনো উন্নতি ঘটাতে পারেনি এমন অভিযোগ মেনে নিতে নারাজ তিনি। তিনি বলেন, অর্থনীতি মন্দা অবস্থা থেকে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। বেকারত্বের হার অনেকটা কমে এসেছে। তবে জনগণ এখনও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত রিপাবলিকানরা ওবামার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার রিপাবলিকান জন বোয়েনার বলেন, এটা খুব স্পষ্ট, মার্কিন জনগণ আরও ছোট, কম ব্যয়ের এবং বেশি জবাবদিহিমূলক সরকার চায়। তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নির্বাচনের ফল জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণে গৃহীত পরিকল্পনাসহ পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে বারাক ওবামার অবস্থানকে বেশ জটিল পরীক্ষার মধ্যে ফেলবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে একটি গবেষণা সংস্থা। তারা বলছে, ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে তরুণদের ভোট পড়েছে প্রায় ১০ লাখ কম। সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের হিসাবে, মঙ্গলবার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের প্রতি পাঁচজনের একজন ভোট দিয়েছে। এ বয়সের প্রায় ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছে। অথচ ২০০৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় এক কোটি তরুণ।
৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮ আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ২৩৯টি। ওবামার ডেমোক্র্যাট পার্টি পায় ১৮৬টি আসন। বাকি ১০টির ফল জানা যায়নি। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পেরেছে। ১০০ আসনের মধ্যে তাদের আসন এখন ৫২টি। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪৭টি। একটি আসনের ফল চূড়ান্ত হয়নি।

হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে (মিশিগান কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৩) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হেনসেন হাশেম ক্লার্ক প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের।
বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, হেনসেন হাশেম ক্লার্কের বিজয় তার প্রতি সাধারণ জনগণের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।