প্রবাসীদের প্রধান ঈদ আনন্দ দেশে প্রিয়জনদের সাথে কথা বলা: ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে


ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে
ফিরোজ মান্না ॥

BTRC

BTRC

বৈধ পথে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ঈদের দিন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এই পরিমাণ কল এর আগে কখন হয়নি। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের বিরম্নদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনার কারণে আনত্মর্জাতিক কল সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে কলের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তারা চায় না অবৈধ পথে টেলিফোন কল করতে। অবৈধ ভিওআইপি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কল সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। অবৈধ কল বন্ধ করার জন্য বিটিআরসি ‘সিম ডেকেটশন টুল’ স্থাপন করে মোবাইল বা পিএসটিএন নম্বর শনাক্ত করা হয়। যে সব নম্বর থেকে অবৈধ কল আসছে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে বস্নক করে দেয়া হচ্ছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কল দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রতিদিন ২ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে আসত। সিংহভাগ কল চলে যেত অবৈধ পথে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৈধ পথে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ২৫৬ মিনিট কল দেশে প্রবেশ করেছে। এটা বিটিআরসির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কল। ঈদের আগের দিন কল এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৫২১ মিনিট। ঈদের পরের দিন কলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার ১৭৫ মিনিট। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য ১৪টি আইএসপি, পিএসটিএন ও ভিস্যাট লাইসেন্স বাতিল করার পর থেকেই আনত্মর্জাতিক কল বাড়তে শুরম্ন করেছে। অবৈধ ভিওআইপি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের পরিমাণ প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ কোটি মিনিটে উন্নতি হতে পারে। আমরা বৈধ কল বাড়াতে নানা পদৰেপ নিয়েছি।

Radio Link

Radio Link

জানা গেছে, অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) কল বন্ধ করতে সর্বোচ্চ পদৰেপ হিসেবে সরকার টেলিযোগাযোগের বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স বৃদ্ধির চিনত্মা ভাবনা করছে। ভিওআইপি একটি প্রযুক্তি এবং সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে প্রযুক্তি দিয়ে। লাইসেন্স বৃদ্ধি করে এর সমাধান হবে না বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অবৈধ কল যাচাইয়ের জন্য ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (ডিপিআই) নামে একটি যন্ত্র আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ দেয় সেখানে এটি স্থাপন করা হলেই অবৈধ কল বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে কর্তৃপৰ তেমন আগ্রহী হচ্ছে না।

সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চলছে অত্যাধুনিক ‘রেডিও লিঙ্ক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে কল আদান-প্রদান করা হচ্ছে। আর এই কাজ হচ্ছে সীমানত্ম এলাকার বহু জেলায়। এমন কি খোদ ঢাকাতেই হাই ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে। বিটিআরসি নানা ব্যবস্থা নেয়ার পরেও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হয়নি। কিছু ভুয়া বিদেশী টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করে এসব কল আদান-প্রদান করার কাজ চলছে। বিটিআরসির পৰে এমন কল আটকানো কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এসব কল আদান-প্রদানের জন্য দেশীয় যে কোন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড বা ই-১ ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তিকে ফিল্টার করতে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তির কাছে মার খাচ্ছে বিটিআরসি। সরকার হারাচ্ছে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব। পিএসটিএন কোম্পানি এবং কিছু আইএসপি বন্ধ করে দিলেই ভিওআইপি হবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিদিন প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

E1 30 GSM Channel Bank

E1 30 GSM Channel Bank

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে একটা ই-১ (৩০টি টেলিফোন লাইন সংযুক্ত করা যায় এমন যন্ত্র) ভয়েজ কানেকটিভিটি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ( ভয়েজ ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) হচ্ছে। অথবা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিমও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভিওআইপির বেশির ভাগ ৰেত্র হচ্ছে সীমানত্ম জেলায়। সরকার ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারেনি। খোদ বিটিসিএল’র বিরম্নদ্ধে ভিওআইপি করার অভিযোগ রয়েছে। এ থেকে মোবাইল অপারেটররাও বাদ নেই। বিদেশে কল আদান-প্রদান করার সময় দেখা যায় দেশী ফোন কোম্পানিগুলোর নম্বর ভেসে উঠছে। তবে রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে যে সব কল আদান-প্রদান হচ্ছে সেগুলোতে ভুয়া বিদেশী নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন দেশ থেকে কল এলে টেলিফোন নম্বরের আগে অবশ্যই যোগ চিহ্ন থাকবে। কিন্তু রেডিও লিঙ্ক থেকে আসা বেশির ভাগ কলে যোগ চিহ্ন পাওয়া যাবে না। গ্রাহক মনে করবে যে নম্বর থেকে কল এসেছে সেই নম্বরটি সংশিস্নষ্ট দেশেরই নম্বর। বিটিআরসিকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এটি করতে তারা উন্নত মানের সফটওয়ার ব্যবহার করছে। ভারতে যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে দেশীয় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা। ভারত ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে বিটিআরসি বলছে, রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা অসম্ভব। এটা যারা বলছে তারা এর কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারত থেকে এভাবে কেউ ব্যান্ডউইথ কিনতে পারে না। ব্যান্ডউইথ কিনতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ভারত তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকা দেশ হিসাবে এমন কাজ তারা কোনভাবেই করতে পারে না। তাছাড়া ভারতকে এত উদার ভাবার কোন কারণ নেই। ভারতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রয়েছে। এটা ধরা পড়লে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। বিটিআরসি মনে করে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ চ্যানেলে কল বেশি আদান-প্রদান হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

VOIP

VOIP

এদিকে বিডি ডট কমের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিওআইপি কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। কোন না কোন প্রক্রিয়ায় ভিওআইপি হবেই। ইন্টারনেটকে লং ডিসটেন্স হিসাবে দেখার কিছু নেই। ইন্টারনেট বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তাই ইন্টারনেট হচ্ছে লোকাল বিষয়। পৃথিবীর যে প্রানত্মেই যাওয়া যাক ইন্টারনেট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। বিটিআরসিকে কোন কল অবৈধ আর কোন কল বৈধ এটা ধরার জন্য বসে থাকা বা অভিযান চালাতে হবে না। এখানে কিছু টেকনিক্যাল ব্যবস্থা নিলেই তখন আর অবৈধ বলতে কিছু থাকবে না। তখন বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যাবে।আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

ইনসাইডার ট্রেডিং এসইসিকে আরো কঠোর হওয়া উচিত


ইনসাইডার ট্রেডিং এসইসিকে আরো কঠোর হওয়া উচিত

ইনসাইডার ট্রেডিং (আগাম তথ্য ফাঁস) বন্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আইন থাকলেও বাস্তôবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। ১৯৯৩ সালে প্রণীত আইন ১৯৯৫ সালে সংশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করা হয় এবং ২০০৪ সালে এটি অধিকতর ব্যবহারের জন্য পুনঃসংশোধন করা হয়। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় গত ১৭ বছরে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে এসইসির এবং ডিএসইর জ্ঞাতসারে, আবার অনেক সময় অজ্ঞাতসারে হাজার হাজার বার ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। অথচ এ পর্যন্তô একজন ব্যক্তি কিংবা একটি প্রতিষ্ঠানকেও ওই আইনের আওতায় ফেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা শাস্তিô দিতে পারেনি বা দেয়নি। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ৯৬ গেল, ২০০৪ গেল, এখন ২০১০ যাচ্ছে। এ কারণে ২০১০ বলা হচ্ছে যে, গত ১৫ দিনের বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায় প্রায় ২০টির অধিক কোম্পানির লভ্যাংশ ও রাইট শেয়ার দেয়ার তথ্য এ সময় বাজারে আগাম ফাঁস হয়ে গেছে। আর এতে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী অতি মুনাফার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। অনেক সময় দেখা গেছে, এসব আগাম তথ্যের মধ্যে কোনোটা সত্য আবার কোনোটা শুধুই গুজব।

আমরা নিশ্চিত যেগুলো সত্য হয়েছে সেগুলোর তথ্য পাচারের সঙ্গে অবশ্যই কোম্পানি বা নিরীড়্গক অথবা তাদের সংশিস্নষ্ট কোনো পড়্গ জড়িত ছিল। কিন্তু এত বড় একটি বিষয়ের ব্যাপারে এসইসি একেবারে নির্বিকার। সংস্থাটি একজনের ব্যাপারেও যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে পরে এজন্য আরো অনেকেই সতর্ক হতে পারতো। অথচ বাজার সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে এ কাজটি ছিল এখন তাদের জন্য অতি জরম্নরি। আমরা দৈনিক শেয়ার বিজ্‌ কড়চা পত্রিকার পড়্গ থেকে এসইসিকে এতটুকু আশ্বস্তô করতে চাই আগামীতে যদি তারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের বিরম্নদ্ধে কোনো শাস্তিôমূলক ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমরা শুধু এ দেশের লাখ লাখ ড়্গুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থে প্রথম পৃষ্ঠায় ব্যানার হেডলাইন দিয়ে লিড নিউজ করার ব্যবস্থা করবো ইনশাআলস্নাহ। কারণ এ অপরাধটি যে কত ভয়াবহ তা এ দেশের মানুষের জানা না থাকলেও আমরা জানি, বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর সাজা কত কঠোর এবং নির্মম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অপরাধে একজন শ্রীলঙ্কান বংশোদ্‌ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারীর ১৭ বছর জেল হয়েছিল। মাত্র একটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির ব্যাপারে এজেন্টের কাছে শুধু ইয়েস (হ্যা) শব্দটি উচ্চারণ করায় আমেরিকার স্বনামধন্য মহিলা বিনিয়োগকারী মারথা স্টুয়ার্ডকে ৬০ দিন হাজতবাস করতে হয়েছে।

উলেস্নখ্য, অভিযুক্ত ওই মহিলা মাত্র ৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে শেয়ারটি বিক্রি করেছিলেন। এ ২টি ঘটনার উদাহরণ সামনে রেখে এসইসিকে এগোতে হবে। আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের অনৈতিক লেনদেনের ড়্গেত্রে সংস্থাটি আরো কঠোর হবে বলে আমরা আশা করি। আমাদের বিশ্বাস এতে বরং ড়্গুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরো বেশি সংরড়্গিত হবে।
শেয়ার বিজ কড়চা সম্পাদকীয়ঃ ১১.০১.১০

কোটিপতিদের নিয়ন্ত্রণে বাজার!


কোটিপতিদের নিয়ন্ত্রণে বাজার!

আমিরম্নল ইসলাম নয়নঃ কোটি টাকার আড়াইশ বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণে পুঁজিবাজার। আর এদের সঙ্গে আছেন শত কোটি টাকার ৫০ জন বিনিয়োগকারী। এসইসির তথ্যানুযায়ী ডিএসইতে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী আছেন ১০-এর অধিক। যারা সবাই কোটি টাকার বিনিয়োগকারীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। কারণ এসইসির সিদ্ধান্তô অনুযায়ী একদিনে কোনো বিনিয়োগকারী ১ কোটি টাকার বেশি শেয়ার ক্রয় করলে কমিশনে তার প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগে জমাকৃত গত ১৫ কার্যদিবসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আড়াইশ বিনিয়োগকারী প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করছেন।

পঁুজিবাজার সংশিস্নষ্টদের মতে, যারা এক প্রকার অলিখিতভাবে স্টক মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতের একটি ব্যাবসায়িক গ্রম্নপ শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছে গুজব রয়েছে। যে কারণে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এ গুজবকে আমলে নিতে নারাজ ডিএসই ও এসইসির কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দেশের বিনিয়োগকারীরাই অন্য ব্যবসা বন্ধ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন। তারা বলেন, বাজার অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের যে কোনো অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। আর সেল প্রেসার বাড়াকে গতকাল সর্বকালের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়ার কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশিস্নষ্টরা।

স্টক মার্কেট গুটিকয়েক বিনিয়োগকারীর কাছে জিম্মি বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসইসির কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, এসব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আছেন কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তা। যারা অর্থের লোভে এ চক্রকে গুজব ছড়িয়ে এসইসির বিপড়্গে মামলা করতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করে থাকে। এনএভি ফর্মুলা নিয়ে এসইসির সিদ্ধান্তেôর বিপড়্গে একটি প্রথম শ্রেণীর মার্চেন্ট ব্যাংক ২ জন বিনিয়োগকারীকে দিয়ে মামলা করান বলে শেয়ারবাজারে গুজব রয়েছে। এ মার্চেন্ট ব্যাংকটি মামলা চালাতে যাবতীয় অর্থ খরচ করে। বিনিময়ে ওই সময়ে বাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখে মামলার খরচের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি আয় করে বলে জানা গেছে। এসইসি এ চক্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেও নিজেদের দুর্বলতার কারণে এদের ব্যাপারে তেমন কোনো পদড়্গেপ নিতে পারছে না বলে জানা গেছে। ফলে গুটিকয়েক বিনিয়োগকারী ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এসব বিনিয়োগকারী ফান্ডামেন্টাল শেয়ার বাদ দিয়ে এ চক্রের ফাঁদে পড়ে অতিমূল্যায়িত কোম্পানি ও দুর্বল শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করছে। এসবের মধ্যেও এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী গুজব নির্ভর না হয়ে ফান্ডামেন্টাল দেখে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করছেন।

বিনিয়োগকারী ও বাজারের স্বার্থে গুটিকয়েক বিগ ইনভেস্টর যাতে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে দিকে এসইসির নজর রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন বিনিয়োগকারীরা। বাজার সংশিস্নষ্টদের মতে, বিগ ইনভেস্টরদের গেম্বলিং বন্ধ করে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করার জন্য এসইসকে পথ বাতলে দিতে হবে। নতুবা এসব বিনিয়োগকারী বাজারের পরিবেশ আরো ঘোলাটে করে তুলবে। আর এজন্য প্রাথমিকভাবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো টার্গেট করে এ ব্যাপারে পদড়্গেপ নিতে আলোচনায় বসতে হবে। এ ব্যাপারে বাাজার বিশেস্নষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক তরফদার জামান শেয়ার বিজ্‌ কড়চাকে বলেন, বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারের একটা বৃহৎ অংশজুড়ে রয়েছে। এ শ্রেণী ইচ্ছেমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এ শ্রেণী যাতে ফান্ডামেন্টাল গুজব না ছড়ায় সে দিকে এসইসিকে নজর রাখতে হবে।

বিদেশে কৃষি জমি লিজ : দেরিতে হলেও মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ


বিদেশে কৃষি জমি লিজ : দেরিতে হলেও মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ

০০ শফিকুর রহমান রয়েল

সম্প্রতি সাপ্তাহিক ২০০০-এ প্রকাশিত বিশেষ একটি প্রতিবেদন পড়লাম মনোযোগ দিয়ে। জানতে পারলাম, গত ২৪ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’-এ ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস। উদ্দেশ্য ছিল- বাজার অনুসন্ধান, জনশক্তি রফতানি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। দেশে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের শুনিয়েছেন আশাব্যঞ্জক কথাবার্তা। ঘানা, সেনেগাল ও আইভোরিকোস্টকে কৃষি জমি লিজ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাব গৃহীত হলে উৎপাদিত ফসল বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেবে দেশগুলো। তার মানে কৃষি কাজ করতে বাংলাদেশের কৃষকদের পশ্চিম আফ্রিকায় যাওয়ার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর তথ্য অনুসারে, লাইবেরিয়ায় মাত্র এক মার্কিন সেন্টের বিনিময়ে এক একর জমি লিজ নেয়া যায় এক বছরের জন্য। এ তো রীতিমতো পানির দাম!

মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ বিদেশে কৃষি জমি লিজ নেয়ার যে চিন্তা এখন করছে, অনেক দেশই তা শুরু করে দিয়েছে অনেক আগে। পুঁজি রফতানি করে, অথচ খাদ্য আমদানি করে, এমন দেশগুলো এই উদ্যোগের অগ্রপথিক। বিশ্ববাজার থেকে খাদ্য কেনার চেয়ে এই কৌশল বেশি কার্যকরী। সরকারী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো বিদেশে কৃষি জমি লিজ নিয়ে ফসল ফলায়। তারপর যৎসামান্য দিয়ে বাকিটা জাহাজ ভরে নিয়ে আসে নিজেদের দেশে। তারা অবশ্য নিজেদের কৃষক পাঠায় না। চুক্তিভিত্তিক ওখানকার কৃষক দিয়েই উৎপাদন করে। অনেকেই এটিকে বলছে, নয়া সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। তবে লিজ নেয়া দেশগুলোর দাবি- বীজ, প্রযুক্তি পুঁজি সরবরাহের বদৌলতে মুনাফা ভোগ করছে তারা।

বিদেশে কৃষি জমি লিজ নেয়ার ফলশ্রুতিতে গেলো বছরের সূচনায় সৌদি আরব প্রথম গমের চালানটি গ্রহণ করে। বাদশাহ আব্দুলস্নাহ এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। করবেনই বা না কোনো, সবে তো শুরু। এখন থেকে প্রতিবছর ইথিওপিয়া থেকে আসবে বিশাল পরিমাণের খাদ্য শস্য। বাদশাহ সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগেই জমি লিজ নেয়ার চুক্তি করেন দরিদ্র দেশটির সঙ্গে। প্রথম কয়েক বছর করের কোন ঝামেলা নেই। বিনিয়োগকারী সুযোগ পাচ্ছে উৎপাদিত সমস্ত খাদ্য শস্যই দেশে নিয়ে যাওয়ার। সৌদি আরব ইথিওপিয়াতে বিনিয়োগ করেছে ১১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডবস্ন- এফপি) ঠিক একই পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে ইথিওপিয়াতে গত ৪ বছরে। তবে তাদের লক্ষ্য ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আক্রান্ত মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা।

বিদেশে কৃষি জমিতে বিনিয়োগ নতুন কিছু নয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও যৌথ খামারগুলো লিজ নেয়ার জন্য ভিড় করেছিলো বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা। তবে সাম্প্রতিক প্রবণতাকে একটু ভিন্ন বলেই মন হচ্ছে, বিশেষত চুক্তির পরিসরের কারণে। ১ লাখ হেক্টরের (২৪ হাজার একর) চুক্তি হলেই সেটিকে বলা হয় বড় চুক্তি। বর্তমানে চুক্তি হচ্ছে তারচে’ অনেক বড় আকারে। কেবলমাত্র সুদানেই ৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমি লিজ নেয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সংযুক্ত আরব-আমিরাত ও মিশর নিয়েছে ৪ লাখ হেক্টর করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুদানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোট কর্ষিত জমির এক-পঞ্চমাংশ তারা ছেড়ে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কাছে। আফ্রিকার সর্ববৃহৎ এ দেশটি ঐতিহ্যগতভাবে আরব বিশ্বের রুটির ঝুড়ি নামে পরিচিত। তবে লিজ সেই সব দেশই দিচ্ছে, যাদের রয়েছে কর্ষিত-অকৃর্ষিত প্রচুর জমি, অথচ ঘাটতি রয়েছে পুঁজির।

বিদেশে জমি লিজ নেয়ার দৌড়ে ইতোমধ্যে সামিল হয়েছে ভারত ও চীন। জৈব জ্বালানির জন্য পামওয়েল উৎপাদনের লক্ষ্যে চীন কঙ্গোর কাছ থেকে লিজ নিয়েছে ২.৮ মিলিয়ন হেক্টর জমি। সেখানে তারা গড়ে তুলছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পামওয়েল পস্নানটেশন। এরই মধ্যে সেখানে পেঁৗছে গিয়েছে চীনা কৃষি শ্রমিক। আরো ২ মিলিয়ন হেক্টরের জন্য তারা কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে কঙ্গোর সঙ্গে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) জানিয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোর প্রায় ২০ মিলিয়ন হেক্টর জমি লিজ হিসেবে বিনিময় হয়েছে। এ জন্য অর্থ চুক্তির পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অনেকেই এ বিষয়টিকে দেখছে ইতিবাচক দৃষ্টিতে। কারণ, প্রতি হেক্টর জমিতে যদি ২ টন খাদ্য শস্যও হয়, তবে তা হবে আফ্রিকায় গড় উৎপাদনের দ্বিগুণ। এতে করে পৃথিবীর খাদ্য সমস্যা কমানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

আগে ভিন দেশের কৃষিতে বিনিয়োগ হতো কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে, কিন্তু এখন চলছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। তবে বেসরকারী পর্যায়ে বিনিয়োগও টিকে রয়েছে। গত বছর সুইডেনের আলপো এগ্রো কোম্পানি রাশিয়ার কাছ থেকে লিজ নেয় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমি। প্রায় সমপরিমাণ জমি কম্বোডিয়ার কাছ থেকে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি।

বৃহৎ পরিসরে জমি লিজ নেয়ার চিন্তাটা হয়তো বাংলাদেশ এখনই করছে না, কিন্তু স্বল্প পরিসরে হলেও এখনই শুরু করা উচিত। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বীরা তৎপর। ভবিষ্যতে সস্তা বিনিময় মূল্য নাও থাকতে পারে। তবে আশার কথা- চাষাবাদ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো। অদূর ভবিষ্যতে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা ফসল ফলাচ্ছে আফ্রিকায়, আর উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক চলে আসছে বাংলাদেশে।

– দ্যা ইকোনোমিস্ট অনুসরণে

আইপিওর শর্ত শিথিল : শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো, না বিশেষ সুবিধা দেয়ার কৌশল


আইপিওর শর্ত শিথিল : শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো, না বিশেষ সুবিধা দেয়ার কৌশল
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
অবশেষে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আইপিওর শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটির পরিবর্তে ৩০ কোটি টাকায় কমিয়ে আনাসহ শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত শিথিল করছে কমিশন। এ সপ্তাহের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামোগত খাতের কোম্পানিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য শর্ত শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন। আইপিও শর্ত শিথিল করায় বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়তে ইতিবাচক ভূমিকা তৈরি হবে বলে মনে করেন বাজারবিশ্লেষকরা। তবে একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে না বিশেষ কাউকে সুযোগ দেয়ার জন্য আইপিও’র শর্ত শিথিল করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারে ক্রমেই চাহিদা বাড়তে থাকলেও শেয়ার সরবরাহ বাড়ানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং শেয়ারবাজারে ফেসভ্যালু পরিবর্তনের মতো নন-ইস্যুকে সামনে আনা হয়। ফেসভ্যালু পরিবর্তনের কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন না হলেও কোম্পানির পরিচালকরা এ বিষয়ে বেশ তত্পর হয়ে ওঠেন। আর এতে অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও এসইসির অতিউত্সাহী মনোভাব নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কিন্তু এসইসির জনবল বৃদ্ধি, শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো, শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলা নিষ্পত্তি, শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা বিরোধে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের বিষয়গুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি খুব একটা নজর নেই। উপরন্তু গত মার্চে হঠাত্ করেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে আইপিওর ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত আরোপ করে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। যদিও এ ধরনের চিঠি ইস্যুর ক্ষেত্রে এসইসির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই করেনি মন্ত্রণালয়। অথচ এসইসির আইন অনুযায়ী, বাজারসংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এসইসির মতামত নেয়ার কথা। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সুপারিশগুলোকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে এসইসি। গত ১১ তারিখে জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা হিসেবে কোম্পানির কমপক্ষে ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। একইসঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপনে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকার নিচে হলে ওই কোম্পানির জন্য ৪০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া বাধ্যবাধক করা হয়। এছাড়া পরিশোধিত মূলধন ৭৫ থেকে ১৫০ কোটি টাকা হলে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ অথবা ৩০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে সে পরিমাণ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। আর ১৫০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। তবে বাজারে ছাড়া শেয়ারের মূল্য ৪০ কোটি টাকার কম হতে পারবে না। এসইসির এ সিদ্ধান্তের কারণে শেয়ার সরবরাহে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হবে এবং বাজারে শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে কোম্পানিগুলো আগ্রহ হারাবে বলে মত প্রকাশ করেছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা। কিন্তু এ ধরনের সমালোচনার মুখেও এসইসি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। আবার প্রশ্নও ওঠে, কমিশনের মতামত ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সুপারিশকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে? কমিশন সরকারের আজ্ঞাবাহী কোনো সংস্থা না হলেও এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির ফলে কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

নানা সমালোচনার মুখে অবশেষে ৯ আগস্ট কমিশন বাজার পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে পরিশোধিত মূলধন কমানোর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে পরিশোধিত মূলধন ২৫ কোটি টাকা করার বিষয়ে সুপারিশ করা হলেও অবশেষে কমিশনের বৈঠকে তা ৩০ কোটি টাকা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তাদের মূলধন ১৮ কোটি টাকা হলেই কোম্পানিটি ১২ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে তার পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে পারবে। এছাড়া শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে আরও বেশকিছু শর্ত শিথিল করা হয়। তবে কমিশন বৈঠকের এ সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর হয়নি। কারণ এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছে কমিশন। কমিশনের একজন নির্বাহী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইপিও শর্ত শিথিল করা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু ১১ মার্চের প্রজ্ঞাপনটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নেয়ার কারণে এখন তা পরিবর্তনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি হওয়া উচিত ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে কমিশনের আইপিও শর্ত শিথিল করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৪০ কোটি টাকার আইপিও শর্ত এবং ৪০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে কমিশন তা পরিবর্তন না করার ব্যাপারে অনড় ছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই কমিশনের পর্যালোচনা কমিটির সভায় এবং কমিশনের সভায় আইপিও শর্ত শিথিল করার পেছনে শুধু শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো মূল উদ্দেশ্য কিনা এ প্রশ্ন উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিযোগ করছেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুযায়ী ওয়েস্টিন হোটেলের আইপিওতে ন্যূনতম ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়ার কথা থাকলেও তারা সে শর্ত পূরণ না করেই এসইসির অনুমোদনে প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছিল। শর্ত পূরণ করে আবার আইপিও আবেদন করতে বলেছে এসইসি। অ্যাপোলো হাসপাতালের আইপিও একই কারণে অনুমোদন দেয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্যই শর্ত শিথিল করা হচ্ছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—কোম্পানি দুটি যখন আইপিওর জন্য আবেদন করেছিল তখন শর্ত অনুযায়ী তাদের ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়া ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখন আইপিওর শর্ত শিথিল করা হলে তারা এ সুবিধা পাবে কিনা? তিনি বলেন, যদি শর্ত শিথিল করা হয় তাহলে তারা অবশ্য সে সুবিধা পাবে। এজন্য তাদের শর্তগুলো কমপ্লাইন্স করে আবেদন করতে হবে। কিন্তু তারা তো আগেই আবেদন করেছিল যখন ৪০ কোটি টাকার শর্ত ছিল—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কিন্তু ততক্ষণে শর্ত পরিবর্তন হয়ে গেছে। অথচ এর আগে বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধ করা হলেও শুধু নিষিদ্ধের আগে আবেদন করায় বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক দুটি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এখন আবার কোম্পানিগুলোকে শর্ত শিথিলের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে কমিশনের ইতিবাচক মনোভাব অনেক প্রশ্ন জন্ম দিচ্ছে।

অপরদিকে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো খাতের নতুন কোম্পানির (গ্রিনফিল্ড) জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব বিবেচনা করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ২৬ অক্টোবর কমিশনের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের জন্য বিএপিএলসি’র পক্ষ থেকে এসইসিতে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো খাতের নতুন প্রকল্পগুলোকে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসার জন্য তিনটি শর্ত থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করে বিএপিএলসি। তবে এ ধরনের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন। কারণ শেয়ারবাজারে বর্তমানে চাহিদা সঙ্কটের কারণে অনেকেই তার সুযোগ নিতে তত্পর হয়ে উঠেছেন। নানাভাবে বাজার থেকে টাকা ওঠানোর হিড়িক পড়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে এমনিতেই রয়েছে নানা প্রশ্ন। এরপর আবার শর্ত শিথিল করে বিশেষ কোনো কোম্পানিকে সুযোগ দেয়ার জন্য আইপিও শর্ত শিথিল করা কতটুকু যৌক্তিক হবে তা বিবেচনা করতে হবে।

এদিকে বাজারে চাহিদার কারণে ১৯৯৬-৯৭ সালে অনেক নামসর্বস্ব কোম্পানি বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়েছে বলে গত ৯ অক্টোবর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই এবং সিএসই প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছিলেন। এসব কোম্পানি যারা বাজারে নিয়ে এসেছিল সেসব মার্চেন্ট ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। ওই সময় বাজারে আসা কোম্পানিগুলো ওটিসি মার্কেটে স্থান পেয়েছে।

এখন আবার বাজারে চাহিদার কারণে যাতে যেনতেন কোম্পানিকে বাজারে আসার অনুমোদন না দেয়া হয়, সে বিষয়ে এসইসিকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। অপরদিকে বাজারবিশ্লেষকরা বলেন, চাহিদার কারণে যাতে কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিতে না পারে তাতেও এসইসির দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষার বিষয়ে এসইসির ভূমিকা সবার কাম্য।

আইপিওতে এনআরবি কোটা দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন


আইপিওতে এনআরবি কোটা দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন

মনির হোসেন
শেয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অনিবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) কোটা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন মনে করছে, প্রবাসীদের পাঠানো অথের্র (রেমিট্যান্স) বিশাল একটি অংশ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ফলে রেমিট্যান্স উৎপাদনশীল খাতের এ ব্যবহারের জন্য এ সুপারিশ করেছে কমিশন। সম্প্রতি সরকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন এ সুপারিশ করেছে। কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী মনে করেন, বড় পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো যেতে পারে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের এ সুপারিশের সঙ্গে একেবারেই এক মত নন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ। তার মতে, আইপিওতে কারও কোটা বাড়ানো নয়, বরং সিস্টেম তুলে দেয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, এনআরবিদের বিনিয়োগ একান্তই বাড়ানো জরুরি হলে মিউচুয়াল ফান্ডের কোটা কমিয়ে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো যেতে পারে। অপরদিকে শেয়ারবাজারের ব্যাপারে সুপারিশ করা পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বের বাইরে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, আইপিও বিধিমালা অনুসারে বর্তমানে একটি কোম্পানি যে পরিমাণ শেয়ার বাজার ছাড়ে তার ১০ শতাংশ এনআরবিদের জন্য, ১০ শতাংশ মিউচুয়াল ফান্ড এবং বাকি ৮০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং প্রাইভেট প্লেসমেন্টে বরাদ্দ দেয়া হয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক শেয়ারের জন্য লটারির মাধ্যমে আবেদন করেন এবং প্লেসমেন্টের শেয়ার কোম্পানির ইচ্ছা অনুসারে ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দেয়া হয়। এক্ষেত্রে এনআরবিদের ১০ শতাংশ কোটাও লটারির মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে এনআরবিদের কোটা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করে বাকি ৮০ শতাংশ অন্যান্য খাতে বিতরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি যেভাবে বাড়ছে, তার অন্যতম কারণ হল রেমিট্যান্স। কারণ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ তাদের স্বজনদের হাতে চলে যাচ্ছে। এতে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। কিন্তু আইপিওর মাধ্যমে এনআরবিদের এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হলে তা উৎপাদনশীল খাতে যাবে। এতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ কমবে।

অপরদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রেমিট্যান্সের টাকা জমি এবং স্বর্ণ ক্রয়ে চলে যাচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে রেমিট্যান্সের অর্থ শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইনসেনটিভ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ৮৩ কোটি ডলার মূল্যমানের রেমিট্যান্স এসেছে। এই রেমিট্যান্সের অধিকাংশ বিলাসী সামগ্রী ক্রয়ে ব্যয় হচ্ছে।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের এ সুপারিশকে তাদের দায়িত্বের অতিরিক্ত কাজ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান যুগান্তরকে বলেন, পরিকল্পনা কমিশনও এখন শেয়ারবাজারের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে কি ঘটবে এ ব্যাপারে মাথা ঘামানো পরিকল্পনা কমিশনের কাজ নয়। এখানে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নামে স্বাধীন একটি কমিশন আছে।

অপরদিকে এর আগে গত বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাঠানো এক সুপারিশে আইপিওতে এনআরবিদের কোটা পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী যুগান্তরকে বলেন, এনআরবিরা শেয়ারবাজারে এলে ফরেন কারেন্সি বাড়বে। তার মতে, ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি এলেই কেবল এই কোটা বাড়ানো যেতে পারে। কারণ ছোট কোম্পানিগুলো এমনিতেই ওভার সাবসক্রিপশন হয়। তাই ছোট ইসুøতে কোটা বাড়ানোর দরকার নেই।

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিদুøৎ ও জ্বালানি সেক্টরে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো দরকার। কারণ এ দুই খাতেই ফরেন কারেন্সি দরকার। এনআরবিদের অংশগ্রহণ বাড়লে ফরেন কারেন্সির সরবরাহ বাড়বে। তিনি বলেন, আইপিওতে কোটা বাড়ানো হলে একদিকে এনআরবিদের দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, অপরদিকে সরকারও ব্যাপক লাভবান হবে।

তবে এ মতের একেবারেই বিরোধিতা করেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ। তার মতে, আইপিওতে কোটা সিস্টেমই বাদ করে দেয়া উচিত। কারণ যেখানে দেশের মানুষের হাতে প্রচুর টাকা রয়েছে। বর্তমানে একটি কোম্পানির আইপিও ছাড়লে তার ২০ থেকে ২৫ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। এখানে কারো জন্য কোটা বাড়ানোর প্রশ্ন আসে না। তিনি বলেন যেখানে এখন তারল্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে এনআরবিদের টাকা এনে তারল্য বাড়িয়ে লাভ কী? তাই তিনি মনে করেন, কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে শেয়ার বিতরণ করা উচিত। তবে তিনি মনে করেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য এনআরবিদের কোটা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে মিউচুয়াল ফান্ডের কোটা কমিয়ে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো যেতে পারে। কারণ মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা কোথায় যাচ্ছে, তারা কী করছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার স্বচ্ছতা নেই। কিন্তু কোনভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ কমানো যাবে না।

৭০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছেড়ে তুলে নিতে যাচ্ছে সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকা : রাতারাতি এই অর্থের মালিক হবেন তিনটি পরিবার।


৭০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে তুলে নিচ্ছে হাজার কোটি

ঢাকা ষ্টক একচেঞ্জ

ঢাকা ষ্টক একচেঞ্জ


এম আবদুল্লাহ
দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার সঙ্কট ও বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহকে পুঁজি করে নবাগত কোম্পানিগুলো লুটে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। প্রিমিয়াম বাণিজ্য ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ফতুর করা হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। এর মধ্যেই ঝুঁকির মুখে পড়া বাজারকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে আরও নাজুক পরিস্থিতির দিকে। সর্বশেষ বাজারে শেয়ার ছাড়ার অনুমতিপ্রাপ্ত দুই কোম্পানি মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট ও এম আই সিমেন্ট ৭০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছেড়ে তুলে নিতে যাচ্ছে সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকা। ১০ টাকা ফেসভেল্যুর শেয়ারের সঙ্গে প্রিমিয়ামের নামে যোগ করা হচ্ছে এক হাজার থেকে চৌদ্দশ’ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি অর্থ। দুই কোম্পানি সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকায় ৭ কোটি শেয়ার বিক্রি করলেও বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবে ৭০ কোটি টাকার ভিত্তিতে। বাকি ৮৮০ কোটি টাকাই যাবে কোম্পানি দু’টির পরিচালকদের পকেটে। রাতারাতি তারা এই অর্থের মালিক হবেন। দুই কোম্পানির এই অর্থের প্রায় পুরোটাই পাবে তিনটি পরিবার। মবিল-যমুনার ২৫ শতাংশ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ওয়েল কোম্পানি। আর এ সুবাদে সরকারের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে সহজেই সবকিছু অনুমোদন করে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোম্পানি দু’টিতে পরিচালকদের নিজস্ব বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়নের নামে সম্পদের অতিমূল্যায়ন, মনগড়া লাভ দেখিয়ে নিজেদের নামে বোনাস শেয়ার ইস্যু করে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর মতো নানান কৌশলে পুঁজিবাজারে থেকে মোটা দাগে অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বর্তমান বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারকে অতিমূল্যায়িত এবং ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করলেও সেই অতিমূল্যায়িত কোম্পানিগুলোর উদাহরণ টেনেই নতুন কোম্পানি উচ্চহারে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুযায়ী নির্দেশক মূল্য নির্ধারণে একই খাতের অন্য কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ভিত্তি হিসেবে ধরার নিয়ম থাকায় পরিকল্পিতভাবে ওইসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানোর ঘটনাও ঘটছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার স্বপ্নে সারাদেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নিজেদের সব সঞ্চয় নিয়ে এখন শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এরই সুযোগ নিচ্ছে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াধীন কোম্পানিগুলো।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আবু আহমদ এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেছেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছিল বিনিয়োগকারীদের লাভবান করার কথা বলে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উল্টোপাল্টা হচ্ছে। বাজারে শেয়ার স্বল্পতার সুযোগ নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। পর্যাপ্ত শেয়ার থাকলে এত উচ্চ প্রিমিয়ামের মাধ্যমে এত টাকা বাজার থেকে তুলে নিতে পারতো না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভী এ ব্যাপারে আমার দেশকে বলেন, প্রিমিয়ামের নামে শত শত কোটি টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি আমাদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এ ব্যাপারে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও বলেছি। তিনি বলেন, বুক বিল্ডিংয়ের বিদ্যমান পদ্ধতি পুনর্মূূল্যায়ন করা এবং প্রিমিয়াম বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরা উচিত। এদিকে প্রিমিয়ামসহ যে মূল্যে শেয়ার ছাড়া হবে সেই দরকে ভিত্তিমূল্য ধরে পরবর্তীতে মুনাফা বণ্টনের বিধান করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখার কথা বলেছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা। নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো এ পর্যন্ত অর্জিত মুনাফাকে পরিশোধিত মূলধন আকারে শেয়ারে পরিণত করেই যেখানে বাজারে আসছে, সেখানে কোন যুক্তিতে তারা এক হাজার থেকে চৌদ্দশ’ এমনকি আঠারোশ’ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করবে—এ প্রশ্ন উঠেছে জোরেশোরে। এর আগে ডাইরেক্ট লিস্টিং-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়া খুলনা পাওয়ার কোম্পানি (কেপিসিএল) ১০ টাকার শেয়ার প্রিমিয়ামসহ ১৯৪ টাকা ২০ পয়সায় বিক্রি করেছে। এ শেয়ার এখন লেনদেন হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। বিনিয়োগকারীরা এ নিয়ে হা-হুঁতাশ করেও কোনো কিনারা পাচ্ছেন না।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতি : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি একটি নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করে প্রাইস ডিসকোভারির জন্য বিডিং আহ্বান করবে। বিডিং-এ অংশ নেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। এ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকার, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, সরকার অনুমোদিত পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইন্সুরেন্স কোম্পানি, স্টক ডিলার প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এ খাতের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি চাইতে পারবে না। কোম্পানি নির্ধারিত নির্দেশক মূল্যের ভিত্তি হিসেবে ৪টি মেথড ব্যবহার করার কথা। চারটি মেথড হচ্ছে—শেয়ারপ্রতি নেট এসেট ভেল্যু নিরূপণ, শেয়ারপ্রতি কোম্পানির অতীত মুনাফা, ভবিষ্যতে শেয়ারপ্রতি সম্ভাব্য আয় এবং একই খাতের কোম্পানিগুলোর বর্তমান বাজার দর। এ চারটিকে গড় করে যে অংক পাওয়া যায় তাকে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এ চারটি মেথড অনুসরণের ক্ষেত্রে নানা কারসাজি ও ম্যানিপুলেশনের অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে এসেট ভেল্যু নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন, অতীত মুনাফা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে গরমিল, ভবিষ্যত্ আয় প্রাক্কলনের বেলায় উচ্চাভিলাষী মুনাফা প্রদর্শন এবং একই খাতের কোম্পানির বর্তমান বাজার দর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে দর বাড়ানো ইত্যাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট ও এমআই সিমেন্টের ক্ষেত্রে।

পরের ধাপে শেয়ার ছাড়ার প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রাইস ডিসকভারির লক্ষ্যে বিডিং আহ্বান করে। এসইসি ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে অনলাইন সিস্টেমে বিডিং-এর সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে কোম্পানির নির্দেশক মূল্য থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বেশি কিংবা ২০ শতাংশ কম দর প্রস্তাব করা যায়। প্রাপ্ত দরে নির্দিষ্টসংখ্যক শেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বিডিং-এ প্রাপ্ত দরই ওই কোম্পানির শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য হিসেবে নির্ধারিত হয়। ওই মূল্যে আইপিও’র মাধ্যমে সাধারণের কাছে নির্ধারিতসংখ্যক শেয়ার বিক্রি করা হয়। আইপিওতে বরাদ্দকৃত শেয়ার যে দিন থেকে ট্রেডিং শুরু হবে তার ১৫ ট্রেডিং দিবস পর প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বাজারে বিক্রি করা যাবে। আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো যে দর প্রস্তাব করছে তা তাদের পরিচয় ছাড়াই অনলাইনে প্রচারিত হবে। প্রস্তাবিত দরের ২০ শতাংশ অগ্রিম জমা দিয়ে দরপ্রস্তাব পেশ করতে হবে। বিডিং-এ সর্বোচ্চ দর : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত যে কয়টি কোম্পানি বাজারে এসেছে তার সব কয়টিই কোম্পানির নির্ধারিত নির্দেশক মূল্যের সঙ্গে বিডিং-এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ যুক্ত হয়ে মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। এর কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিডিং-এর মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের যে উদ্দেশ্য ছিল তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের জন্য শেয়ার কিনছে না বলে সর্বোচ্চ দর দিয়েই নিচ্ছে। জানা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা জমা নিয়ে বিডিং-এ অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। নিজেদের কোনো টাকা বিনিয়োগ করে না তারা। ফলে নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ বেশি বা সর্বোচ্চ মূল্যে কিনতে তারা দ্বিধা করছে না। আর সে মূল্যই বিবেচিত হচ্ছে যুক্তিযুক্ত মূল্য হিসেবে।

মবিল-যমুনা লব্রিকেন্ট : বাজারে তীব্র শেয়ার সঙ্কটের মুখে সম্প্রতি জ্বালানি খাতের মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট বাংলাদেশ লি. শেয়ার ছাড়ার অনুমতি লাভ করে এসইসি থেকে। এ কোম্পানির চেয়ারম্যান জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইস্টকোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে. চৌধুরী। কোম্পানির ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ওয়েল কোম্পানি। বাকি ৭৫ শতাংশ আজম জে. চৌধুরী ও তার পরিবারের। প্রসপেক্টাসে প্রদর্শিত মালিকানার হিসেবে ইস্টকোস্ট সিকিউরিটিজ-এর নামে ৭৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার দেখিয়ে আজম জে. চৌধুরী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার দেখানো হয়েছে। কিন্তু ইস্টকোস্ট (ইসি) সিকিউরিটিজ-এর শতভাগ মালিকানা আজম জে. চৌধুরী পরিবারের এবং তিনি নিজে ইসি সিকিউরিটিজ-এর চেয়ারম্যান।

এ কোম্পানির ইনডেকটিভ প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য ও ১১৭ টাকা প্রিমিয়াম। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিডিং অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী ২০ শতাংশ কম-বেশি দর প্রস্তাব করা যাবে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় এ কোম্পানির বিডিং-এ ২০ শতাংশ বেশি দরে অর্থাত্ ১৫২ টাকায় মূল্য স্থির হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ফলে কোম্পানি ৪ কোটি শেয়ারের বিপরীতে বাজার থেকে পাবে ৬০৮ কোটি টাকা। অথচ অভিহিত মূল্য অনুয়ায়ী ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়ছে কোম্পানিটি। মোট ১৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন দেখিয়ে ১৪ কোটি শেয়ারের ২৯ শতাংশ বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে ছাড়া ৪ কোটি শেয়ারের মধ্যে বুক বিল্ডিং-এ অংশগ্রহণকারী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকাররাি ৮০ লাখ, প্রবাসী বাংলাদেশীরা ১০ শতাংশ বা ৪০ লাখ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের জন্য ১০ শতাংশ বা ৪০ লাখ এবং আইপিও লটারির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ২ কোটি ৪০ লাখ বা ৬০ শতাংশ শেয়ার পাবে।

কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের তালিকায় জমির দাম দেখানো হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ভবন ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, মেশিনারি ২৬ কোটি ৫৪ লাখ, ফার্নিচার ও যানবাহন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। ব্যাংক লোনসহ কোম্পানির মোট দায়-দেনার পরিমাণ ১০৭ কোটি টাকা।

উচ্চহারে প্রিমিয়াম নেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে জ্বালানি খাতে একই ধরনের ৪টি কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য দেখানো হয়েছে। এতে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের ৭০২ দশমিক ৩২, যমুনা ওয়েলের ৪০৬ দশমিক ৮৭, পদ্মা ওয়েলের ৭৪২ দশমিক ৩২ এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ২৮২ দশমিক ৩২ টাকা গড় দর উল্লেখ করা হয়েছে। ৪টি কোম্পানির গড় বাজার দর দেখানো হয়েছে ৫৩৩ দশমিক ৪৫ টাকা। পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই ও সিএসই’র বিবেচনায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর দরকে অতিমূল্যায়িত বলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। অথচ সে দরকেই মবিল-যমুনা তাদের প্রিমিয়াম নির্ধারণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নির্দেশক মূল্যের সার-সংক্ষেপে শেয়ার প্রতি নীট এসেট ভেল্যু ১১ দশমিক ৭৩ টাকা, কোম্পানির ভবিষ্যত্ সম্ভাব্য আয়ভিত্তিক পিই ১৬৪ দশমিক ২১ এবং একই খাতের চার কোম্পানির গড় বাজার মূল্য ৫৩৩ দশমিক ৪৫ কে যোগ করে গড় নির্দেশক মূল্য দেখানো হয়েছে ২৩৬ দশমিক ৪৬ টাকা।

শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ৭৫ কোটি টাকায় এলপিজি টার্মিনাল প্লান্ট, ১৩৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় ক্রুড ওয়েল ট্যাংকার ক্রয়, ১১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায় প্রধান কার্যালয়ের জন্য জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণ, ২১ কোটি টাকায় এন্টি-ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং প্লান্ট এবং ২৫০ কোটি টাকায় হোয়াইট ওয়েল প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন করা হবে। এসব খাতে মোট ৬০২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতভিত্তিক যে ব্যয় পরিকল্পনা দেখানো হয়েছে তা মনগড়া। তাছাড়া প্রধান কার্যালয়ের জমি ও ভবন নির্মাণের ১১৭ কোটি টাকাই অনুত্পাদনশীল খাতে ব্যয় হবে। ২৫০ কোটি টাকায় যে হোয়াইট ওয়েল প্রসেসিং প্লান্ট করা হবে, তা আলাদা কোম্পানির নামে করা হবে বিধায় ভবিষ্যতে ওই কোম্পানিরও যে শেয়ার ছাড়া হবে না, তা কে নিশ্চিত করবে।

মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট কোম্পানির ২০০৯ সালে মুনাফা দেখানো হয়েছে ৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে মুনাফা হয়েছে ৪০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। চলতি সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩ মাসে মুনাফা করেছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যে কোম্পানির বার্ষিক মুনাফা ৩৪ কোটি টাকা, সে কোম্পানি অতিরিক্ত ৬০৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে যোগ করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ৪০ কোটি টাকার ওপর কত শতাংশ মুনাফা দিতে পারবে—সে প্রশ্ন তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা।

অভিযোগ ও উত্থাপিত প্রশ্নের ব্যাপারে মবিল-যমুনা কোম্পানির চেয়ারম্যান জ্বালানি সচিব মেজবাহ উদ্দিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা সেলফোন ধরেননি। কোম্পানির গুলশানের কার্যালয়ে ফোন করলে কথা বলার মতো দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা নেই বলে জানানো হয়।

এমআই সিমেন্ট : সর্বশেষ ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং সম্পন্ন হয়েছে ক্রাউন সিমেন্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিমেন্ট লিমিটেডের। তারা ১০ টাকা ফেসভেল্যুর ৩ কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে। ১০ টাকার শেয়ারে তারা ৮৩ টাকা প্রিমিয়াম যোগ করে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করেছে ৯৩ টাকা। বিডিংয়ে নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ বেশি দর লাভ করে এই কোম্পানির শেয়ারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১১ দশমিক ৬০ টাকা। এ মূল্যে কোম্পানি ৩ কোটি শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে তুলে নেবে ৩৩৬ কোটি টাকা। প্রসপেক্টাসে যে তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় এমআই সিমেন্টের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ টাকা মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা। এছাড়া জমি বাবদ ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বোনাস শেয়ার ইস্যু করে ৪২ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধন দেখানো হয়েছে। বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে গত ২১ ডিসেম্বর। এ হিসেবে কোম্পানিটির সর্বমোট পরিশোধিত মূলধন ৭০ কোটি টাকা। ফেসভেল্যু অনুযায়ী ১০ টাকার ৩ কোটি শেয়ার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে জানানো হয়েছে। কোম্পানি বলেছে, উল্লিখিত মেথড অনুসরণে তাদের নির্দেশক মূল্য হওয়ার কথা ১১৬ টাকা ৮২ পয়সা; কিন্তু তারা তা কমিয়ে ৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ নির্দেশক মূল্য যথার্থ বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয় যে, ১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা জমি ক্রয় ও এর উন্নয়ন করা হবে। ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে ভবন। ১৮৮ কোটি টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে মেশিনারি আমদানি করা হবে। ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে দেশি মেশিন ক্রয় বাবদ। ৭২ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ হবে গাড়ি ক্রয়ে। এছাড়া জরিপ ও পরিকল্পনা প্রণয়নে ৪৪ লাখ, বৈদ্যুতিক কাজসহ কারখানা চালুতে ৮ কোটি ১৫ লাখ, ফার্নিচার ও অন্যান্য খরচ ৫০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। মোট ৩৩৫ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগের এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে কোম্পানির এ পর্যন্ত স্থাপিত ৩টি ইউনিটে ব্যয় হয়েছে অনধিক ৭০ কোটি টাকা, সেখানে ৪র্থ ইউনিট স্থাপনসহ কিছু ইকুইপমেন্ট কিনতে কেন ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে? বর্তমানে ৩টি ইউনিটের দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮শ’ টন। উত্পাদন ক্ষমতা আরও ৫ হাজার ৮শ’ টন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তাতেও ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ধোপে টেকে না। অনুরূপ ক্ষমতার অন্যান্য সিমেন্ট কোম্পানির বিনিয়োগ বিশ্লেষণে এর যথার্থতা মেলেনি।

মোল্লা গ্রুপ ও জাহাঙ্গীর অ্যান্ড আদারস গ্রুপ যৌথ উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে। মুন্সীগঞ্জের মোক্তারপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ৮ একর ৪১ শতাংশ জমির ওপর তাদের কারখানা। অ্যাসেটের হিসাবে জমির মূল্য প্রকৃত দামের তিনগুণ দেখানো হয়েছে বলে মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা। তার আগের বছরে কোম্পানি লাভ করেছে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে মুনাফা দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

কোম্পানির পরিচালকদের ২৮ কোটি টাকার বিনিয়োগকে বার্ষিক মুনাফা ও বোনাস শেয়ার যোগ করে ৭০ কোটি টাকা দেখিয়ে তার সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন খাতে ২৬ কোটি ৩৫ লাখ, রিটেইনেড আর্নিং বাবদ ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকার হিসাব দেখিয়ে মোট নিট সম্পদ দেখানো হয়েছে ১১০ কোটি ৪৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। এই সম্পদমূল্যকে ৭ কোটি শেয়ারে ভাগ করে প্রতি ১০ টাকার শেয়ারের অনুকূলে নিট সম্পদমূল্য নিরূপণ করা হয়েছে ১৫ টাকা ৭৮ পয়সা।

জমি, কারখানা ও তিনটি ইউনিট বিল্ডিং খাতে খরচ ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা পুনর্মূল্যায়নের নামে নিমিষেই দ্বিগুণ হয়ে ৫৫ কোটি ২১ লাখ ৪৮ হাজার হয়ে গেছে। এখানে মূল্যবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
কোম্পানির চেয়ারম্যান মুন্সীগঞ্জের উত্তর ইসলামপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নারায়ণগঞ্জের আলহাজ খবির উদ্দিন মোল্লা।

কোম্পানি যে ৩ কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়ছে, তার ২০ শতাংশ অর্থাত্ ৬০ লাখ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের, ১০ শতাংশ বা ৩০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য, ১০ শতাংশ মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ বা ১ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার পাবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আইপিওর মাধ্যমে।

এমআই সিমেন্ট কোম্পানির ব্যাংক ঋণ রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার। তন্মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ১৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এছাড়া ১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার ট্যাক্স দেনা রয়েছে কোম্পানিটির।

সম্ভাব্য ভবিষ্যত্ মুনাফা : কোম্পানির ভবিষ্যত্ প্রাক্কলিত মুনাফা দেখানো হয়েছে প্রসপেক্টাসে। তাতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩১ কোটি ৮৯ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫৫ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯০ কোটি ১৮ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০৩ কোটি ২২ লাখ টাকা নিট মুনাফা প্রাক্কলন করা হয়েছে। শেয়ারবাজার থেকে নেয়া ৩৩৬ কোটি টাকাসহ মোট পরিশোধিত মূলধনের ওপর উল্লিখিত প্রাক্কলিত মুনাফা বণ্টন করা হলে তা হবে খুবই অনুল্লেখযোগ্য।

এমআই সিমেন্ট তাদের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে যেসব কোম্পানির পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতেও কারসাজি ও অসত্য তথ্য দেয়া হয়েছে। সমমূলধনের কোম্পানির তথ্য দিতে গিয়ে সামিট এলায়েন্স পোর্টের ব্যাপারে বলা হয়েছে, বিগত ৬ মাসে ওই কোম্পানির গড় মূল্য ছিল ২ হাজার ১০৬ টাকা ৪২ পয়সা এবং ইপিএস ছিল ১৯ দশমিক ৯৩ টাকা। প্রকৃতপক্ষে বিগত ৬ মাসে কোম্পানিটির গড় মূল্য ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ইপিএস ছিল ৩ দশমিক ৬৭ টাকা। কোম্পানিটি গত জুলাই মাসে তাদের ফেসভেল্যু ১০০ টাকা থেকে পরিবর্তন করে ১০ টাকা করে। এমআই সিমেন্ট তাদের ১০ টাকা ফেসভেল্যুর শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণে সামিট এলায়েন্সের ১০০ টাকা ফেসভেল্যুর ইপিএস যোগ করেছে। ২০০৯ সালে সামিট এলায়েন্সের পিই রেশিও ৫১ দশমিক ৮৩ হলেও দেখানো হয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৯। একইভাবে ইস্টার্ন হাউজিং, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ও এস আলম কোল্ড রোলেড স্টিলের ৬ মাসের গড় মূল্য, ইপিএস ও পিই রেশিওর হিসাবে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। উল্লিখিত ৩টি কোম্পানির শেয়ারই ১০০ টাকা ফেসভেল্যুর। ১০ টাকা ফেসভেল্যুর শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সূচকগুলো সে হারে কমিয়ে দেখানো হয়নি। ফলে সমমূলধনের ওইসব কোম্পানির গড় পিই রেশিও দেখানো হয়েছে ৫০ দশমিক ১৪।

এ অভিযোগের ব্যাপারে গতকাল এমআই সিমেন্টের সেনা কল্যাণ ভবনের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান ও এমডি এ অফিসে বসেন না বলে জানানো হয়। শেয়ার সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোম্পানির চিফ ফাইন্যান্স অফিসার মুক্তার হোসেন তালুকদারের সঙ্গে কথা বললে তিনি উল্লিখিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার মতে, যথার্থভাবে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে ৩৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে এতদিন চালিয়েছি, এ টাকাতো নিতেই পারি। এ পর্যন্ত অর্জিত মুনাফা পরিচালকরা বোনাস শেয়ার আকারে নিয়ে নেয়ার পর কেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রিমিয়াম দিতে হবে জানতে চাইলে তিনি অন্যান্য কোম্পানির প্রিমিয়ামের উদাহরণ টানেন।

ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এসইসির উচিত প্রিমিয়ামের একটি নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেয়া। কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় খেয়ালখুশিমত প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। কোম্পানির প্রকৃত সম্পত্তি ও আয়ের চেয়ে প্রিমিয়াম নেয়া হচ্ছে অনেক বেশি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আগামী ৪-৫ বছরের সম্ভাব্য আয়ের হিসাব কষে প্রিমিয়ামের হার বাড়িয়ে যেভাবে আগাম নিয়ে নেয়া হচ্ছে, তা একধরনের লুটের পর্যায়ে পড়ে। এতে করে কোম্পানি ভবিষ্যতে লোকসানি হয়ে গেলেও পরিচালকদের কোনো ক্ষতি নেই।

প্রিমিয়ামবাণিজ্য : সাম্প্রতিক অতীতে প্রিমিয়ামবাণিজ্য শুরু হয় মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার থেকে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার থেকে ১৫ টাকা প্রিমিয়াম নেয়। অর্থাত্ ১৫০ শতাংশ লাভ অগ্রিম তুলে নিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।

গ্রামীণফোন ১০ টাকার শেয়ারে প্রিমিয়াম নিয়েছে ৬০ টাকা। মোট ৭০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে ১০ টাকার শেয়ার। অর্থাত্ শুরুতেই ৬০০ শতাংশ লাভ যোগ করা হয়েছে। আবার ম্যারিকো শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নিয়েছে ৮০ টাকা। অর্থাত্ ৮০০ শতাংশ। এ দুটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা সাময়িকভাবে কিছুটা লাভে থাকলেও বাজার সংশোধন হলে দীর্ঘমেয়াদি লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।