এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন


শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর
শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলো। একই সঙ্গে প্রাইমারি শেয়ারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে প্রদেয় করে ১০ শতাংশ হারে ছাড় (রিবেট) পাওয়া যাবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কালো টাকা বিনিয়োগের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় দুই সপ্তাহ ধরেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে তা দু’বছরের জন্য রাখতে হবে। আগামী এক বছর ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। আর কেউ যদি প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তাহলে প্রদেয় করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রিবেট পাওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত দু’বছরের আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা কালো টাকা তুলে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ২৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিতে পারবেন। পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে রাজস্ব বোর্ড। চলতি মাস থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ থাকবে। এনবিআর জানিয়েছে, কালো টাকা বিনিয়োগ করতে হলে এনবিআরকে একটি নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ওই টাকা বিনিয়োগের আগেই ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ সুযোগ নিতে হলে এনবিআরকে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব দাখিল করতে হবে। শেয়ারবাজারে আগে বিনিয়োগ করা টাকা পুনরায় বিনিয়োগের সুযোগ নেয়া যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক কারণে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই দু’বার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছিল। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণেই সরকারকে শেয়ারবাজারে কালো টাকার সুযোগ দিতে হয়েছে। এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা নেয়ার কথা বলেছে। অথচ বাজেট ঘাটতি পূরণে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সরকার সেটি গ্রহণ করেনি। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের অনাগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে এটি শেয়ারবাজারে স্বল্প মেয়াদে হয়তো প্রভাব পড়বে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। স্বল্প মেয়াদে প্রভাব পড়ার বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি।
প্রসঙ্গত, গত বছর চারটি সেক্টরে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে— বিএমআরই, শেয়ারবাজার, নতুন শিল্প স্থাপন ও রিয়েল এস্টেট সেক্টর। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রায় ৯২২ কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু শেয়ারবাজার থেকে ৪২৭ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার পর ৩৬ ব্যক্তি তাদের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। এ থেকে সরকার প্রায় ৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল।
শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে মাত্র এক বছর। ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে মূলধন কমপক্ষে দুই বছর বাজারে ধরে রাখতে হবে। অর্থাত্ ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত মূলধন বাজার থেকে উঠাতে পারবে না। বিনিয়োগকারী ওই সময়ের মধ্যে শেয়ার লেনদেন করে শুধু মুনাফা তুলে নিতে পারবেন। কিন্তু মূলধন উঠিয়ে নিতে পারবেন না। চূড়ান্ত নীতিমালায় এ ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। এ সুযোগ গ্রহণ করার পর যাতে কোনো ব্যক্তি বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন সেজন্যই এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার ঘোষিত সুযোগটি গ্রহণ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে তিনি কি পরিমাণ অর্থ বৈধ করবেন। যে পরিমাণ অর্থ ঘোষণা করা হবে তার বিপরীতে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এনবিআরের তৈরি করা আলাদা ঘোষণাপত্রে নাম, ঠিকানা, ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বরসহ (টিআইএন) সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি বিও অ্যাকাউন্টের বিবরণী ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। কারণ এর আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তারল্য সরবরাহ না বাড়ালে বাজারের স্থিতিশীলতা টিকবে না। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে ১০ শতাংশ রিবেটের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, সেটি তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিমালা সাপেক্ষে প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। এটি কোম্পানির জন্য ভালো। কারণ আইপিওর চাইতে প্লেসমেন্টে খরচ অনেক কম।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটো বলেন, এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে বেশি মনিটরিং করা হলে প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়তো বিনিয়োগ আসবে না। প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে রিবেটের সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি নট ফেয়ার। সুযোগ দেয়া হলে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে একসঙ্গেই দেয়া উচিত্। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন সেখানে আমলারা নানা রকম শর্ত জুড়ে দেয়ায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হয়তো সফল হবে না।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

এক বছরের পুঁজিবাজার ।। অনেক অঘটন ইতিহাস হয়ে থাকবে


এক বছরের পুঁজিবাজার ।। অনেক অঘটন ইতিহাস হয়ে থাকবে

শেয়ার বিজ্‌ রিপোর্টঃ পুঁজিবাজারের ইতিহাসে গত বছরটি ছিল বাজার সম্প্রসারণ, লেনদেন ও সূচকের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের বছর। এ সময়ে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো রাজধানীর গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলা শহরে। ফলে তৃণমূল পর্যায় থেকে টাকা আসতে শুরম্ন করে শেয়ারবাজারে। আর হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা সামাল দিতে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে ব্যর্থ হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সময় ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে উদাসীন ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক অবস্থান করে ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্টে। এদিন লেনদেনের পরিমাণ (টাকায়) দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা এবং বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭১ কোটি টাকায়। অনেকের চোখে ওই দিনটি ছিল ২০১০ সালে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে স্বর্ণালি দিন।

এরপর ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরম্ন হয় দরপতনের পালা। এদিন লেনদেন শুরম্নর মাত্র ৭৫ মিনিটের মধ্যে সূচক ৫৪৭ পয়েন্ট বা সাড়ে ৬ শতাংশ কমে যায়। এদিন বেলা ২টার দিকে সূচক আবার ৫৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮৬২৬·৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। দিনের শেষভাগে তা আবার নেমে আসে ৮৪৫১·৫৯ পয়েন্টে। যা আগের দিনের চেয়ে ১৩৪ পয়েন্ট কম। দেশের পঁুজিবাজারে সূচক ওঠানামার এ রকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এর আগে ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর শেয়ার কেলেঙ্কারির সময় সর্বোচ্চ ২৩৩ পয়েন্ট বা ৬ শতাংশের মতো সূচক কমেছিল।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারের উত্থান প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক সিইও সালাহ উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, গত এক বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতায় বাজারে যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা পঁুজিবাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠা না গেলে আবারো এমন দুংসময় আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে। তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা এবং চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যহীনতায় বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে। এতে অনেকে ড়্গতিগ্রস্তô হয়েছেন আবার অনেকে লাভবানও হয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যাই বেশি।

ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী এ ব্যাপারে বলেন, গত অর্থবছরে ডিমান্ড ও সাপস্নাইয়ের ভারসাম্যহীনতায় বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে। তবে আগামী বছর এ ২টির সমন্বয় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন বাজার আবার দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতায় ফিরে আসবে।

বাজার বিশেস্নষণে দেখা যায়, গত বছরের সর্বোচ্চ বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭১ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, সূচক ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ৩ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বছর শেষে মূলধন ৮২ হাজার ৬৮২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৯ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, সূচক ২ হাজার ৮০০ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১১৭ পয়েন্ট এবং আর্থিক লেনদেন ২ হাজার ২৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ২১ হাজার টাকা কমে দাঁড়ায় ৯৫৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।

জানা যায়, ২০০৯ সালে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছিল তার রেশ ২০১০ সালেও ছিল। চলতি বছরও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাজারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা সবার। সরকার পঁুজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইনি সংস্ড়্গার, কারসাজি চক্রকে শাস্তিôর আওতায় আনতে অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ, এসইসির পুনর্গঠনসহ নানামুখী সিদ্ধান্ত নেয়। ড· এম খায়রম্নল হোসেনকে চেয়ারম্যান করে পুনর্গঠিত এসইসি, ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজারবান্ধব বাজেট নিয়ে শুরম্ন হলো আরেকটি বছরের যাত্রা। চলতি বছর নতুন নেতৃত্বে পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, dhaka stock exchange

ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা


ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা
ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা

এ এইচ রানাঃ তারল্য সংকট, মুদ্রাবাজারে অস্থিরতাসহ পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। এতে করে অনেকেরই ধারণা ছিল ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা কমে আসতে পারে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অধিকাংশ ব্যাংক বছরের প্রথমার্ধে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ৭ মাস ধরে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটসহ নানা সমস্যার বিষয় উপস্থাপন করা হলেও বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অধিকাংশ ব্যাংকই রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা করেছে। চলতি বছরের জুন ক্লোজিং শেষে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার প্রাথমিক তথ্য এ চিত্রে উঠে এসেছে। জুন ক্লোজিং শেষে ব্যাংকগুলো প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের পরিচালন মুনাফার হিসাব-নিকাশ করেছে। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ড়্গেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন পুরোদমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আসবে। যে কারণে বছর শেষে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে মনে করছেন বিশেস্নষকরা। এদিকে বরাবরের মতো অর্ধবার্ষিক হিসাবে পরিচালন মুনাফার পরিমাণের দিক থেকে সর্বাধিক আয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। ৬ মাসে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফার দিক থেকে ইসলামী ব্যাংকের পরই রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৫৭ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৫৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১৫০ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময় করেছিল ১১০ কোটি টাকা। একইভাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ১৫৮ কোটি, গত বছর ছিল ১৩০ কোটি, শাহজালাল ব্যাংক করেছে ১৬৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৬০ কোটি, যমুনা ব্যাংক করেছে ১৫০ কোটি, এসআইবিএল করেছে ১৩৫ কোটি, গত বছর ছিল ১০৫ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১৩৩ কোটি,গত বছর ছিল ১৩৯ কোটি, ট্রাস্ট ব্যাংক করেছে ১০৬ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ৮০ কোটি, তবে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ব্যাংকটি এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ১০২ কোটি, অথচ গত বছর একই সময় ছিল ২১০ কোটি, একইভাবে মিউচুøয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক করেছে ৬৫ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ১০৪ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ব্যাংক এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ৭৮ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০ কোটি, বেসিক ব্যাংক করেছে ১৩৬ কোটি, গত বছর ছিল ৬২ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক করেছে ৪৯০ কোটি, গত বছর ছিল ৩৬৫ কোটি, প্রাইম ব্যাংক করেছে ৪০৫ কোটি, গত বছর ছিল ৩৩৫ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংক করেছে ৩২৫ কোটি, গত বছর ছিল ২৯৫ কোটি, পূবালী ব্যাংক করেছে ২৮০ কোটি, গত বছর ছিল ২৮৪ কোটি, ইউসিবিএল করেছে ২৮০ কোটি, গত বছর ছিল ২২৬ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক করেছে ২৫০ কোটি, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ২৪৫ কোটি, গত বছর ছিল ২২০ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক করেছে ২৩০ কোটি, গত বছর ছিল ২৫০ কোটি, ব্যাংক এশিয়া করেছে ২১৫ কোটি, গত বছর ছিল ২১৪ কোটি, এনসিসিবিএল করেছে ২০১ কোটি, গত বছর ছিল ১৮৫ কোটি, এবি ব্যাংক করেছে ২০০কোটি, গত বছর ছিল ২০০ কোটি, ঢাকা ব্যাংক করেছে ১৯৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৮১ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক করেছে ১৮৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৪০ কোটি, ওয়ান ব্যাংক করেছে ১৮০ কোটি, গত বছর ছিল ১৬৪ কোটি, সিটি ব্যাংক করেছে ১৮০ কোটি, আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংক করেছে ১৭৭ কোটি, গত বছর ছিল ১৪০ কোটি ও উত্তরা ব্যাংক বছরের প্রথমার্ধে পরিচালন মুনাফা করেছে ১৭০ কোটি, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পরিচালন মুনাফা প্রকাশের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফা প্রকাশ করতে পারে না। এ বিধিনিষেধ এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে। এসইসি মূল্য সংবেদনশীল বিবেচনায় এ তথ্য প্রকাশ করতে দিতে চায় না। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে যারা প্রতিনিয়ত কেনাবেচা করেন এবং যাদের হাতে কোনো ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, তারা ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমেই এ তথ্য আগেভাগে পেয়ে থাকেন। সে ড়্গেত্রে সংবাদপত্রে তথ্য প্রকাশিত হলে সব বিনিয়োগকারী একই তথ্য পেতে পারেন।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী পরিচালন মুনাফা প্রকাশ একটি সাধারণ নিয়মের বিষয়। তবে নিট মুনাফাই ব্যাংকের প্রকৃত আয়। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরড়্গণ এবং কর (৪২·৫ শতাংশ) বাদ দিয়ে নিট মুনাফার হিসাব হয়। উপরন্তু প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্য-উপাত্ত কিছুটা কমবেশি হতে পারে। কেননা কোনো কোনো ব্যাংকের জুন হিসাব শেষ হলেও এর অনেক ধরনের হিসাব চূড়ান্তô করতে আরো কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

ফলে এতে মুনাফার টাকা কমে বা বেড়ে যেতে পারে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীকে অপেড়্গা করতে হয় নিট বা প্রকৃত মুনাফার হিসাব পাওয়া পর্যন্তô।

সব মিলিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও অধিকাংশ ব্যাংক রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে সড়্গম হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিপর্যয় নেমে না এলে পরিচালন মুনাফার পরিমাণ আরো বাড়তো। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ড়্গেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নমনীয় মনোভাবের কারণে পুঁজিবাজার যেমন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সড়্গম হবে, ঠিক তেমনি বছর শেষে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশিস্নষ্টরা।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, dse, cse, dhaka stock exchange

সরকার জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারছে না। সময়মতো পাঠ্যবই নেই, ভোজ্যতেল হাওয়া, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন, জনশক্তি রফতানিতে ধস, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে, পোশাক শিল্পে আগুন জ্বলছে, পাটগুদাম পুড়ছে, শেয়ারবাজার নিয়ে চলছে জুয়াখেলা।


রাজনৈতিক সংস্কৃতি পালটে দেয়া ঠিক হচ্ছে না

মাসুদ মজুমদারঃ রাজনীতিতে অনৈতিকতার প্রভাব বাড়ছে। প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার প্রবণতাও প্রবল। ক্ষমতার রাজনীতিতে স্বার্থের বোঝাপড়াও বেড়ে গেছে। ক্ষমতার স্বার্থে যেকোনো অনিয়ম করতেও সরকার এখন প্রস্তুত। এ লক্ষ্যে মিথ্যাচারও বৈধ হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধ ইসুকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হাতিয়ার বানানো হয়েছে। এটা যেনো প্রতিপক্ষ দলন ও দমানোর মোক্ষম হাতিয়ার। স্পর্শকাতর এ ইসুকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা বলেছে।

১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করেনি­ এমন মানুষ বাংলাদেশে নেই। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়ার পর সরকার কার্যত ভড়কে যায়। কারণ আওয়ামী লীগ এ প্যান্ডোরার বাক্স নিয়ন্ত্রণহীনভাবে খুলতে চায়নি। আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে পরিচ্ছন্নভাবে নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যুদ্ধাপরাধ ইসুটি সামনে আনতে হলে সরকারের অতীত ভূমিকা বিতর্কিত হয়ে পড়বে। এমনকি বঙ্গবন্ধুও অভিযুক্ত হয়ে যান। জড়িয়ে যায় ভারত। পাকিস্তান তো জড়াবেই। আওয়ামী লীগ এত জটাজালে আটকে যেতে চায় না। কার্যত সরকার আন্তরিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। চায় এই ইসুকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে। রাজনৈতিক মেরুকরণে ইসলামপন্থীরা জাতীয়তাবাদী শক্তির মিত্র। অপর দিকে ক্ষমতার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ বিএনপি। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার মতো ধারালো অস্ত্র আওয়ামী লীগের হাতে নেই। জিয়া ইমেজ এখনো ইতিবাচক। তাই আওয়ামী লীগ জিয়া ইমেজের রশি ধরে টান দিতে চেয়েছে। জিয়াকে নিয়ে বিতর্কের আসল মাজেজা মৃত জিয়াও শক্তিমান। বিএনপি’র রাজনীতিতে ধস নামাতে হলে জিয়া ইমেজ ফুটো করে দেয়া জরুরি। অনেক ভুলভ্রান্তি নিয়েই বিএনপি জোট সরকার পরিচালনা করেছে, কিন্তু জাতীয় ইসুতে ও জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টিতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করেনি। প্রতিপক্ষ দমনেও হ্যাটট্রিক করেনি। ফলে ক্ষমতাসীন একটি দল অতীত ক্ষমতা চর্চাকারী অপর একটি দলকে শুধু সাফল্য-ব্যর্থতার নজির টেনেই সমালোচনা ও নিন্দা করতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান ব্যর্থতার তলানিতে পৌঁছে যাওয়ার কারণে সরকারকে অন্য ইসুতে মনোযোগী হতে হয়েছে। সেই ইসুটি যুদ্ধাপরাধ ইসু। মিত্ররা আক্রান্ত কিংবা অভিযুক্ত হলে অপর মিত্র বিব্রত হওয়া স্বাভাবিক। জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারে বিএনপি বিব্রত হয়েছে। সরকার এটাই চেয়েছিল। কারণ এই একটি মাত্র ইসুতে জামায়াত বিব্রতবোধ কাটাতে পারে না। এই ইসুটিকেই সরকার বিরোধী দলকে কাবু করার পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করেছে। দেশী-বিদেশী মিত্রদেরও এই ইসুতে কাছে পাওয়ার ভরসা পেয়েছে। অস্তিত্বের স্বার্থে বর্তমান সরকারের সাথে আছে তাবৎ বামপন্থী। আরো সাথে আছে সাংস্কৃতিক কর্মী পরিচয়ে বামপন্থী ও সেকুলার নামে ধর্মবিদ্বেষী একটি গোষ্ঠী। এরা ধর্মপন্থীদের আদর্শিক শত্রু বিবেচনা করাকে একধরনের প্রগতিশীল ভাবনা মনে করে। তাই বামপন্থীদের আদর্শিক শত্রু এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শত্রু কমন শত্রুতে পরিণত হয়েছে। ভারত তার ইমেজ বৃদ্ধি ও স্বার্থ উদ্ধারে নানামুখী প্রভাব বলয় সৃষ্টি করার জন্য সচেষ্ট। ঐতিহাসিক কারণে ভারত বাংলাদেশের চীনঘেঁষা বামপন্থী, জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ইসলামপন্থীদের তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিবন্ধক মনে করে। অপর দিকে পশ্চিমা ঘোলা চশমায় ইসলামপন্থী, জাতীয়তাবাদী শক্তি মানে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের প্রতি সহমর্মী। পশ্চিমা শক্তির ধারণা এরা একই সাথে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণাকেও কম পছন্দ করে। তাই পশ্চিমা শক্তি অন্তত কয়েকটি ইসু ভাবনায় জাতীয়তাবাদী-ইসলামি মূল্যবোধ লালনকারীদের তুলনায় সেকুলার ও বামপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। সমর্থন জোগায়। তা ছাড়া সাম্রাজ্যবাদী চিন্তার বীজ বপনের জন্য সেকুলার ও বামপন্থীদের মগজ এখন উর্বর। বামপন্থীদের সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদবিরোধী অবস্থান আজকাল একধরনের ফ্যাশন। যেকোনো জাতীয় স্বার্থবিরোধী সন্ধি-চুক্তিতে এদের ব্যবহার করা সহজ। ক্ষমতার টোপ দিয়ে কেনাকাটাও কঠিন নয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার সমস্যার জট পাকিয়ে ফেললেও এ কারণেই ভারত ও পশ্চিমা শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা পায়। একধরনের মন্দের ভালো বিবেচনায় মার্কিন লবির একটি অংশও বর্তমান সরকারকে তাদের স্বার্থানুকূল ভাবে। যদিও মার্কিন নীতি এককভাবে দলবিশেষ ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতি ঝুঁকে থাকার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। মার্কিন লবি হয়তো চাইবে না ভারত বাংলাদেশকে একক বাজার ও পশ্চাৎভূমি হিসেবে ব্যবহার করুক। কারণ তেল, গ্যাস, বন্দরসহ ভূরাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানের কারণে মার্কিন স্বার্থ সব ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থের সমান্তরাল হয় না।

আগেই বলেছি, আওয়ামী লীগ প্রকৃত অর্থে যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে যে ঢোল সহরত করছে সেটাও এক ধরনের রাজনৈতিক তামাশা। এ তামাশাও দেখাতে চায় খণ্ডিতভাবে। বাস্তবে সরকার প্রতীকী অর্থে বিচার নামের প্রহসনের ওপর ভর করে একই তীরে দুটো অর্জন নিশ্চিত করতে চায়। প্রথমত, তারা চায় প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে অকার্যকর প্রতিরোধহীন শক্তি হিসেবে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে রাখতে। একই সাথে আশা করে একই তীর ছুড়ে বিএনপিকে বন্ধুহীন করে রাখতে। দ্বিতীয়ত, জামায়াতকে কোণঠাসা ও কাবু করে রাখার জন্য এত সস্তা দাওয়াই আর নেই। এটা প্রয়োগ করে ভারত ও পশ্চিমা মিত্রদেরও বোঝানো সহজ যে, মহাজোট সরকার জঙ্গিবাদ-মৌলবাদবিরোধী এবং মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ সমর্থকদের দমন-পীড়নে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রশ্নে আওয়ামী লীগের নৈতিক অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। তারা আশা করেছিল বিএনপি শুরুতেই কঠোর অবস্থান নেবে। তাতে বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর বলে প্রচারণা চালানো সহজ হবে। বিএনপি’র দুর্বল অবস্থান সরকারকে অতি উৎসাহী করে তোলে। তারা আশা করে আখ খাওয়ার গল্পের মতো জামায়াতকে কোণঠাসা করে পরে বিএনপিকে দুর্বল করা সহজ হবে। যদিও একধরনের ইনার কন্ট্রাডিকশন নিয়ে আওয়ামী লীগ পথ চলছে। সিদ্ধান্তহীনতাও তাদের ঘিরে ধরে আছে। রাজনৈতিক তামাশা প্রদর্শন করতে গিয়ে যত পথ চলছে সামনে ভুলের মাশুলগুলো পথ রোধ করে দাঁড়াচ্ছে। জনগণের আবেগ কাটছে। সমর্থকদের মনোবল দুর্বল হচ্ছে।

সরকার যে মানবতাবিরোধী অপরাধের ইসুতে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে তার সর্বশেষ প্রমাণ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গ্রেফতার নাটক। তাকে গ্রেফতার করা হলো মগবাজারে গাড়ি পোড়ানোর মামলায়, যা শুধু অবিশ্বাস্য নয়, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ভোঁতা। নাবালক শিশুও বোঝে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পুলিশি সিদ্ধান্তে গ্রেফতার করা হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনা ছাড়া এ গ্রেফতার অসম্ভব। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের নৈতিক অবস্থান স্বচ্ছ হলে তাকে প্রথমেই কথিত যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হলো না কেন? বিএনপি প্রথমে এই ইসুটিকে অত্যন্ত হালকাভাবে গ্রহণ করেছে। জামায়াতও ভেবেছে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াতের শীতল প্রতিক্রিয়ায় উৎসাহবোধ করেছে। এ উৎসাহের প্রথম কারণ, তারা লক্ষ করেছে জামায়াতকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া সম্ভব হয়েছে। বিএনপিকেও বন্ধুহীন করার ফন্দি কাজ দিয়েছে। বিরোধী দল মাঠ ছেড়েছে। কেউ নয়াপল্টন, কেউ মগবাজারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ উৎসাহ আরো উচ্চাভিলাষের জন্ম দিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, এ উচ্চাভিলাষ ও বিরোধী দলকে অবমূল্যায়ন জনগণের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি।

সাধারণ মানুষ বলাবলি করছে দরাজ গলায় ‘আমরা ক্ষমা করতে জানি’ বলে চিহ্নিত ১৯৫ জনকে ভারতের সাহায্যে জামাই আদরে বিদায় করে দিয়ে সরকার এত বছর পর নিজ দেশের মানুষদের নিয়ে টানাহেঁচড়া করছে কেন? অপরাধী যেই হোক তার বিচার হওয়া কাম্য। কিন্তু মূল অপরাধী ছাড়া পাবে, তাদের সহযোগী শাস্তি পাবে, আইন-বিচার, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার কোথাও এর সমর্থন পাওয়া যাবে না। কোথাও এমন নজিরও নেই।

অনেকের মনে প্রশ্ন, সরকার যুদ্ধাপরাধ ইসু কদ্দূর টেনে নিয়ে যাবে। আসলে ইসুটি রাজনৈতিক। এর আইনি পরিসমাপ্তি সম্ভব নয়। এর জের টানা এত সহজ হলে বঙ্গবন্ধুকে ভিন্ন ভূমিকায় দেখা যেত। এখন বিএনপি-জামায়াত জোট ইসুটিকে নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে সরকার এগোতেই থাকবে। একটা প্রহসনের বিচার মহড়ায় কিছু চিহ্নিত প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার সব সুযোগ গ্রহণ করবে। কারণ অসৎ ভাবনা­ অনৈতিক কাজ ও প্রতিহিংসার শেষ থাকে না। যদিও সামগ্রিক ইসুটিকে সরকার বিতর্কিত করে লেজেগোবরে অবস্থায় নিয়ে গেছে।

সাকা চৌধুরীকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার প্রশ্ন নয়। তাকে খাতির-আত্তি করার বিষয়ও নয়। কিন্তু তাকে যে প্রক্রিয়ায় আগের কয়েকটি প্রশ্নবিদ্ধ গ্রেফতার রীতি অনুসরণ করে আটক করা হলো, তা কিন্তু খারাপ নজির হয়ে রইল। নির্যাতনের উপমাও মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এ সরকার একমাত্র সরকার নয়। শেষ সরকারও নয়। দেশজাতির সামনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে উপমা সৃষ্টি করে রাখা হলো তা যে বারুদে হাত রাখার শামিল হবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে। পরবর্তী সরকারগুলোর জন্য এ নজির ও উপমা অপকর্ম বৈধতা দেয়ার সনদ হয়ে থাকবে। এ খোঁড়া গর্ত বা কবরে বর্তমান শাসকরা পড়বেন না সেই নিশ্চয়তাই বা কোথায় পাওয়া যাবে। তা ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি পালটে দেয়ার প্রকৃতিগত প্রতিক্রিয়া রোধ করা কিভাবে সম্ভব হবে।

নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদলের পরও আমরা সংযমহীন বাড়াবাড়ি দেখেছি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের গায়ে পুলিশ হাত তুলেছে­ এমন দৃশ্য স্বচক্ষে দেখেছি। মান্নান সাহেবকে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে গোলাপ শাহ মাজারের কাছে, হরতালের সমর্থনে পিকেটিংয়ের সময়। মতিন চৌধুরীকে পুলিশ হামলে পড়ে অপদস্থ করেছে মৌচাকে। নাসিম সাহেবের ওপর পুলিশের হামলার দৃশ্য তো মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। বাবর সাহেবকে নিয়ে কী করা হচ্ছে তার কথা না তোলাই ভালো। তাই সহজেই উচ্চারণ করা যায় এককাল শাশুড়ির, আর এককাল বউয়ের। তা ছাড়া এক মাঘে শীত না যাওয়ার গল্প কে না জানে। তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করার জন্য যখন যারা দায়ী তারা সবাই নিন্দনীয় কাজ করেছেন।

আমরা অনুশীলিত রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি নিয়ে শঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত (।) একই সাথে বিব্রতও। আমরা সহজ কথায় যে সত্যটি বুঝি, ভিন্ন মত না থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। বিরোধী দল নাই হয়ে গেলে সরকারও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় টিকে থাকতে পারবে না। ভিন্ন মত ও বিরোধী দল সহ্য না করার প্রেক্ষাপটে যে অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়েছে, তার ষোলো আনা দায়ভার নিতে হবে সরকারকে। তাই ক্ষমতার জোরে পুলিশকে বেপরোয়া বানিয়ে দেয়া কিংবা আইনের ঊর্ধ্বে এলিট ফোর্সকে রক্ষীবাহিনী চরিত্রে নিয়ে যাওয়ার কোনো কুমতলব না থাকাই ভালো।

সরকার জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারছে না। সময়মতো পাঠ্যবই নেই, ভোজ্যতেল হাওয়া, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন, জনশক্তি রফতানিতে ধস, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে, পোশাক শিল্পে আগুন জ্বলছে, পাটগুদাম পুড়ছে, শেয়ারবাজার নিয়ে চলছে জুয়াখেলা। এর মাধ্যমে অতীতের অনেক ভয়াবহ ও ভীতিজনক স্মৃতির কথা মনে পড়ে। তাই জনগণের হৃৎস্পন্দন বোঝার দায় বাড়ছে। এ দায় পূরণে ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। ব্যর্থ হলে পাদুয়া দৃষ্টান্ত হবে। সরকার বিএসএফ নিয়ে রা করেনি। মিডিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ দেখেও না দেখার ভান করেছে। এটা যেনো ছিল বন্ধুত্বের সহনীয় ‘উৎপাত’। জনগণ অপেক্ষা করেনি। দল ও মতনিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে ভারতীয় আগ্রাসন ঠেকিয়ে দিয়েছে। জনগণের এ সম্মিলিত শক্তিকে সমীহ না করলে বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করার ফলাফল কোনো দিনই ভালো হওয়ার কথা নয়।

লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস এ বিজয় দিবস উদযাপিতঃ ১৫-১৬ ডিসেম্বর, ২০১০


লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস এ বিজয় দিবস উদযাপিতঃ
১৫-১৬ ডিসেম্বর, ২০১০

-বাংলাদেশের বিজয় প্যারেডে প্রবাসীদের আগ্রহ

-বাংলাদেশ কন্স্যুলেট, লস এঞ্জেলেস  কর্তৃক বিজয় দিবস উদযাপন। লস এঞ্জেলেস এ স্থায়ী কন্স্যুলেটএর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে অচিরেই বাংলাদেশ থেকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টীম আসছে। স্থান সংকুলান হেতু সর্বস্তরের প্রবাসীদের বিজয় দিবস উদযাপনে আমন্ত্রন না জানাতে পেরে কন্সাল জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্বা এনায়েত হোসেনের দুখঃ প্রকাশ। দেশের ও মানুষের অব্যাহত সুখ-সমৃদ্বি নিয়ে মুনাজাত। প্রবাসীদের বক্তব্য , কবিতা ও সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ও নৈশ ভোজের আয়োজন।
DSC09536

জাহান হাসান
লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস

৮১৮ ২৬৬ ৭৫৩৯

www.EkushTube.com

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস এর নিবেদনঃ ভালোবাসার বাংলাদেশ – পর্ব 1-2-3


মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে লিটল বাংলাদেশ,
লস এঞ্জেলেস এর নিবেদনঃ
ভালোবাসার বাংলাদেশ – পর্ব 1-2-3
চ্যানেল আইতে ২০০৬ সনে বিজয় দিবসে প্রচারিত
Bijoy Dibosh Valobashar Bangladesh
ভিডিও লিংকঃ
ভালোবাসার বাংলাদেশ – পর্ব ১

ভালোবাসার বাংলাদেশ – পর্ব ২

ভালোবাসার বাংলাদেশ – পর্ব ৩

‘আমাদের অক্ষমতা আমাদের জীবনকে প্রায় প্রতিটি জায়গায় ব্যর্থ করে দিয়েছে। পরের ভালো দেখলে তাই আমরা কষ্ট পাই, বিষণ্ন হয়ে পড়ি। অক্ষম মানুষ সাধারণত ব্যর্থ হয়, ব্যর্থ মানুষ হয় পরশ্রীকাতর। পরশ্রীকাতরতা তাই আমাদের জীবনের সার্বভৌম অধীশ্বর।


ঢোলকলমি সাংবাদিকতার এই দেশে

আযম মীর

বাংলাদেশের বিল, ঝিল, পুকুর বা ডোবার পাড়ে ঢোলকলমি নামের দ্রুত বর্ধনশীল এক ধরনের গাছ জন্মে। শিকড় থেকে গাছের শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করে বলে পানি বাড়ার সাথে সাথে দ্রুত গাছও বাড়ে। কিছুটা ঝোপজাতীয় গাছ হওয়ায় মাটির ক্ষয় রোধে ঢোলকলমি বেশ সহায়ক। এ জন্য পুকুরের পাড় ভাঙা রোধ করতে অনেকেই ঢোলকলমির চারা লাগান। দ্রুত বর্ধনশীল বলে এ ঝোপ মাঝেমধ্যেই সাফ করে শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আবার কয়েক দিনের মধ্যে শিকড় থেকে গাছ জন্মে নতুন কের ঝোপঝাড়ের সৃষ্টি হয়। জলজ উদ্ভিদ হওয়ায় নানারকম কীটপতঙ্গ ঢোলকলমির ঝোপে বাস করাটাই স্বাভাবিক। তবে কিম্ভূতকিমাকার দর্শন গায়ে কাঁটাওয়ালা ছোট একটি পোকা এ গাছের পাতায় দেখা যায়। সম্ভবত গাছের পাতা বা রস খেয়ে পোকাটি জীবন ধারণ করে থাকে।

আশির দশকের শেষ দিকে সে সময়ের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকে খবর বের হলো, ঢোলকলমি পোকার কামড়ে মানিকগঞ্জের এক গ্রামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। ঠিক দু’দিন পর অন্য এক জেলায় একইভাব আরেকজনের মৃতুø হয়েছে বলে ওই কাগজে খবর বের হয়। ব্যস এরপর থেকে ঢাকার প্রায় সব ক’টি দৈনিকে ঢোলকলমি পোকার কামড়ে একের পর এক মৃতুø সংবাদ প্রকাশ হতে লাগল প্রতিযোগিতা করে। দেশজুড়ে শুরু হলো ঢোলকলমি পোকার আতঙ্ক। যারা কোনো দিন ঢোলকলমি গাছ দেখেনি তারাও জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠল। পত্রপত্রিকায় ঢোলকলমিবিষয়ক নানা প্রবন্ধ-নিবন্ধ ছাপা হতে লাগল। আতঙ্ক এতটাই ব্যাপকতা লাভ করে যে, গ্রাম-শহর সর্বত্রই ঢোলকলমি নিধনযজ্ঞ শুরু হয়ে গেল। বলা যায়, কয়েক দিনের মধ্যেই শিকড়বাকড়সহ ঢোলকলমি নামক উদ্ভিদটি দেশ থেকে এক প্রকার বিদায় নিলো।

ঢোলকলমি নিয়ে এ হই চই দেখে কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা নড়েচড়ে বসলেন। অনুসন্ধান করে দেখা গেল ঢোলকলমি পোকা বলে যে কীটকে প্রাণঘাতী বলে প্রচার করা হয়েছে, তা আদৌ প্রাণঘাতী তো নয়ই, তার কোনো বিষই নেই। এটি দেখতে শুধু কদাকার এই যা। বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য পত্রিকায় ছাপার পরও পরিস্থিতির খুব পরিবর্তন হলো না। অবশেষে সে সময়ের কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক গিয়াসউদ্দিন মিলকী (মরহুম) একজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। এতে ঢোলকলমি গাছ এবং কথিত পোকাটি দেখানো হলো। পোকাটি যে নেহাতই নিরীহ তার যে কোনো বিষ নেই তা প্রমাণের জন্য মিলকী ও ওই বিশেষজ্ঞ নিজেদের হাতে কয়েকটি পোকা ছেড়ে দিয়ে দেখান। তারা দিব্যি বিচরণ করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু দংশনের চেষ্টামাত্র করেনি। এ অনুষ্ঠানটি বেশ কয়েকবার প্রচার করা হয় টিভিতে। এরপর হঠাৎ করেই ঢোলকলমি পোকার দংশনে মৃতুø গুজব বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনাটি নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল আমাদের সাংবাদিকতার মান নিয়ে। এরকম দায়িত্বহীন সাংবাদিকতাকে তখন ঢোলকলমি সাংবাদিকতা বলে কেউ কেউ আখ্যাও দিয়েছিলেন।

শুধু ঢোলকলমি পোকার কামড়ে মৃতুøর গুজবই নয়, ঝিনঝিনা রোগ ও জিনের আসরে মৃতুøর সংবাদ নিয়েও তোলপাড়ের ঘটনা নিশ্চয়ই অনেকের মনে থাকার কথা। আসল ঘটনা তলিয়ে দেখার আগেই সেনসেশন সৃষ্টির জন্য খবর বলে প্রচারের প্রবণতা এ দেশে আজো আছে। চিলে কান নিয়ে গেল রব উঠলে কানে হাত না দিয়ে চিলের পিছু ধাওয়া করা বাঙালির স্বভাবজাত। একটু তলিয়ে দেখার ধৈর্যটুকু আমাদের নেই। এ প্রবণতা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও সমান ক্রিয়াশীল। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনূসকে নিয়ে সম্প্রতি যা হয়ে গেল তা ওই ঢোলকলমি সাংবাদিকতারই আরেক রূপ বললে কি বেশি বলা হবে?

৩০ নভেম্বর ঢাকার দু’টি অনলাইন নিউজ এজেন্সি খবর প্রচার করে, নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন-এনআরকে ‘ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করেছে। ওই প্রামাণ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯৮ সালে নোরাডসহ কয়েকটি সাহায্যদাতা সংস্থা থেকে পাওয়া সাহায্যের অর্থ ড. ইউনূসের অপর একটি সংস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। গ্রামীণ কল্যাণ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নিয়ে ড. ইউনূস অনিয়ম করেছেন। ডেনমার্কের একজন অনুসন্ধানী রিপোর্টার এ প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা। পরদিন অনলাইনের ওই সংবাদ সূত্রে ঢাকার কয়েকটি দৈনিক প্রধান শিরোনাম করে। ‘ইউনূসের কেলেঙ্কারি’ ছিল একটি কাগজের শিরোনাম। অন্য কাগজগুলোর শিরোনামও ছিল প্রায় একই রকম। এরপর শুরু হয়ে যায় প্রফেসর ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে লেখালেখির ঝড়। প্রফেসর ইউনূসের দুর্নীতি, গ্রামীণ ব্যাংকের শোষণ, ঋণগ্রহীতাদের নিপীড়ন, এমনকি ড. ইউনূসের চরিত্র নিয়ে নানারকম লেখায় পরের কিছু দিন সংবাদপত্রগুলো ছিল ভরা। টেলিভিশনগুলোর টকশোতে প্রধান আলোচনার বিষয় গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র মাহবুব উল আলম হানিফ এ সম্পর্কে প্রথম বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি সিলেটে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ইউনূস যে দুর্নীতিবাজ তা আবারো প্রমাণিত হলো। আবার তিনি এ কথাও বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতিবাজ প্রমাণিত হওয়ার পর আবার তদন্ত কেন দরকার তার অবশ্য তিনি ব্যাখ্যা দেননি। এরপর ছাত্রলীগ ঘোষণা দেয় ইউনূসের নোবেল পুরস্কার কেড়ে নিয়ে তা যোগ্য অন্য কাউকে দিতে। অবশ্য যোগ্য ব্যক্তিটির নাম তারা বলেনি। ইউনূস সম্পর্কে যখন সংবাদপত্রে খবর বের হয়, প্রধানমন্ত্রী তখন ১২ দিনের বিদেশ সফরে ছিলেন। দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গরিবের রক্ত চুষে খেলে একদিন না একদিন ধরা খেতেই হয়।’ তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য এনজিও’র বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ঋণের নামে গরিব মানুষকে শোষণের কথাও বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের বিষয়টি বাংলাদেশে তো বটেই গোটা বিশ্বে অন্যতম সংবাদ শিরোনাম হয়। ‘দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নায়ক নোবেল বিজয়ী নিজ দেশের সরকারের প্রধানের চোখে রক্তচোষা’ ধরনের শিরোনাম করেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদপত্র। দেশে-বিদেশে ড. ইউনূস যখন প্রতিদিন সংবাদের শিরোনাম হ্‌িচ্ছলেন, তিনি তখন দেশের বাইরে। সামাজিক ব্যবসায় নামক নতুন এক ধারণার প্রচার নিয়ে তিনি ব্যস্ত। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যে দিন প্রকাশিত হয়, সে দিনই কোনো কোনো কাগজে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সাথে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি ছাপা হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিও’র ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দারিদ্র্য কমাচ্ছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের। ড. ইউনূসের নোবেলপ্রাপ্তি নিয়েও অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তার পরও তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এ আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে এনেছেন। বহু দেশে বাংলাদেশের নামটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে এই নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির মাধ্যমে। গ্রামীণ ব্যাংক কিংবা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে হয়তো আরো বহু বছর বিতর্ক হবে। এমনো হতে পারে, কালের পরিক্রমায় এ এনজিও কার্যক্রম হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু একজন ইউনূস যে বাংলাদেশের জন্য প্রথম নোবেল পুরস্কার নিয়ে এসেছেন তা কি ইতিহাস থেকে মুছে যাবে? অথচ ইউনূস জীবিত থাকতেই আমরা তাকে কালিমালিপ্ত করে দিলাম। তাকে অর্থ আত্মসাৎকারী বলে প্রচার করলাম। বিদেশী একজন সাংবাদিকের তৈরি করা তথ্যচিত্রের সত্যাসত্য যাচাই করার গরজটুকুও বোধ করলাম না।

তেরো বছর আগে নরওয়ের সাহায্য সংস্থা নোরাডের সাহায্য নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তথ্যচিত্রে, খোদ নোরাডই বলেছে বিষয়টির সাথে দুর্নীতি নয়, নীতিগত প্রশ্ন জড়িত ছিল। যার নিষ্পত্তি সে সময়ই হয়ে গেছে।

এ ঘটনা যখন ঘটে, আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায়। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকও তা জানত। এত বড় অন্যায় হয়ে থাকলে সে সময় তদন্ত না করার দায় তো তাদের ওপরও বর্তায়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে ড. ইউনূসও তদন্ত করার দাবি করেছেন। সেই তদন্ত হবে কি না দেশবাসী জানে না। তদন্ত হলে ড. ইউনূস দোষী সাব্যস্ত হবেন কি না তাও আগাম বলা যায় না। তবে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস ও তার দেশ বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্ববাসীর যে নেতিবাচক ধারণা জন্মালো তা দূর হবে না সহজেই। এ দেশের ভালো খবর খুব কমই প্রচারিত হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারো কি প্রমাণিত হলো না, ‘আমরা হুজুগে বাঙ্গাল’। কিংবা নিরোদ চন্দ্র চৌধুরীর পর্যালোচনায় যেমন আছে ‘আত্মঘাতী বাঙালি’। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তার সংগঠন ও বাঙালি বইয়ে আমাদের চরিত্র বিশ্লেষণ করে লিখেছেন, ‘আমাদের অক্ষমতা আমাদের জীবনকে প্রায় প্রতিটি জায়গায় ব্যর্থ করে দিয়েছে। পরের ভালো দেখলে তাই আমরা কষ্ট পাই, বিষণ্ন হয়ে পড়ি। অক্ষম মানুষ সাধারণত ব্যর্থ হয়, ব্যর্থ মানুষ হয় পরশ্রীকাতর। পরশ্রীকাতরতা তাই আমাদের জীবনের সার্বভৌম অধীশ্বর। অক্ষমতার কারণেই আমরা এমন নেতিবাচক। আমরা যে পরিমাণ নিষ্ফল, সেই পরিমাণেই নিন্দুক। নিন্দার ভেতর দিয়ে নিজেদের অক্ষমতার প্রায়শ্চিত্ত খুঁজি।’ কে জানে বাঙালির এই পরশ্রীকাতর ও আত্মঘাতী আচার-আচরণ দেখেই হয়তো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ খেদ করে লিখে গেছেন, ‘সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করোনি।’



Caught in Micro-Debt part 1 Original Documentary




%d bloggers like this: