ওয়াল স্ট্রিট দখলকারীদের সাহসী ভুবন


ওয়াল স্ট্রিট দখলকারীদের সাহসী ভুবন
Wall Street protesters urge students to boycott loan payments


অ্যামি গুডম্যান • মঙ্গলবার রাত ১টার পর আমাদের কাছে খবর এলো, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারীদের ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। আমি ‘ডেমোক্রেসিনাউ’ টিমের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে জুকুটি পার্কের দিকে দৌড়ালাম। এই পার্কটির নতুন নামকরণ হয়েছে লিবার্টি স্কয়ার বা স্বাধীনতা চত্বর। গিয়ে দেখি কয়েকশ’ দাঙ্গা পুলিশ ইতোমধ্যেই এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে। দেখলাম, পুলিশ একদিকে তাঁবুগুলো ছিঁড়ে ফেলছে আর সিটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের জিনিসপত্রগুলো ময়লার ট্রাকে ছুড়ে মারছে। পুলিশ বেষ্টনির বাইরে পার্কের কেন্দ্রস্থলে ২০০ থেকে ৩০০ আন্দোলনকারীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বসে থাকতে দেখলাম। কিছুতেই তারা দুই মাস ধরে দখল করে বসে থাকা জায়গাগুলো ছেড়ে যাবে না। তাদের সবাইকে এক এক করে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা যে ক’জন সংবাদকর্মী পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারলাম তাদের জুকুটি পার্ক সংলগ্ন রাস্তাগুলোর ওপর দাঁড়াতে দেওয়া হলো। তবে আমরা আমাদের ক্যামেরাগুলো চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সামনে দুটি পুলিশ বাস এনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো যাতে আমরা ভেতরকার ছবি তুলতে না পারি। আমি আর আমার কয়েকজন সহকর্মী বাস দুটির ফাঁক গলিয়ে এবং ছেঁড়া তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগের স্তূপ পেরিয়ে পার্কের ভেতর ঢুকে পড়লাম। পুলিশ এতবড় একটা ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র মিডিয়ার কাছ থেকে প্রায় আড়ালই করে ফেলছিল।

একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বইয়ের একটি ভাঙা তাক আমার চোখে পড়ল। পার্কের বেশ কিছুটা ভেতরে গিয়ে দেখতে পেলাম একটি বই পড়ে আছে। বইটির গায়ে ‘ওডব্লিউএসএল’ চিহ্ন সাঁটা ছিল যার মানে হচ্ছে বইটি অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট লাইব্রেরির। এটি এখন পিপলস লাইব্রেরি হিসেবেও পরিচিত। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল এই লাইব্রেরিটি। সর্বশেষ তথ্য মতে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দান করা ৫ হাজার বইয়ের একটি সংগ্রহ রয়েছে এটির। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা গণতন্ত্রের ধ্বংসাবশেষের মাঝখানে যে বইটি আমার দৃষ্টিগোচর হলো সেটি পড়েছিল একটি আবর্জনার স্তূপের ওপর। বইটির নাম ‘ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড রিভিজিটেড’। লেখক এলডাস হাকসলি।

রাত গভীর হতে থাকলে হাকসলির বইটি চোখে পড়ার মাহাত্ম্য স্পষ্ট লাগল। তার বিখ্যাত উপন্যাস ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড লেখার ৩০ বছর পর ১৯৫৮ সালে হাকসলি এই বইটি লেখেন। মূল বইটিতে তিনি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর মানুষকে হ্যাভস এবং হ্যাভনটস এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। তার বর্ণিত দ্য ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ডের মানুষ আনন্দ, উন্মাদনা, বিজ্ঞাপন আর নেশা জাগানিয়া দ্রব্যাদির সাহচার্যে গা ভাসাবে। যাকে বলে প্রকৃত অর্থেই একটি ভোগবাদী জীবন। এই সমাজের নিচের স্তরের মানুষ ওপরের স্তরের অভিজাত কিছু মানুষকে সব ধরনের সেবা যুগিয়ে যাবে। তবে হাকসলির ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড রিভিজিটেড বইটি কিন্তু উপন্যাসধর্মী রচনা নয়। এটিতে তিনি আধুনিক সমাজের একটি বিবর্ণ ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এই বইটির এখানে একটি প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কারণ আমরা দেখেছি যে, বাণিজ্য এবং বিশ্বায়নের আধিপত্যকে বিরোধিতা করে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। আন্দোলনকারীদের ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

হাকসলি তার বইতে লিখেছেন ‘প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এবং ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে গড়ে ওঠা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক বলতে বোঝায় পার্টির মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণই। সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং বেসামরিক আমলারা ওই মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের আজ্ঞাবাহী হয়ে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুঁজিবাদী একটি গণতন্ত্রে এই নিয়ন্ত্রণটি রয়েছে অধ্যাপক সি রাইট মিলসের ভাষায় পাওয়ার এলিটদের হাতে। হাকসলি বলছেন, এই পাওয়ার এলিট বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীটি দেশের লাখ লাখ মানুষকে তাদের কারখানা, অফিস এবং স্টোরগুলোতে কর্মে নিয়োজিত করে। অন্যদিকে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী কেনার জন্য এই পাওয়ার এলিটরা আবার লাখ লাখ মানুষকে টাকা ধার দেয় এবং এর মাধ্যমে তাদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

তাছাড়া নিজেদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে প্রতিটি মানুষের চিন্তাভাবনা, আবেগ-অনুভূতি এবং কর্মকান্ডকেও তারা বিপুল পরিমাণে প্রভাবিত করে থাকে। জুকুটি পার্কে পুলিশি হামলা চলার সময় পিপলস লাইব্রেরির কর্মী স্টিফেন বয়ার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতার এড়িয়ে এবং আক্রান্তদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পর তিনি বলছেন, পার্কে আমরা যেসব জিনিস জড়ো করেছিলাম তার সবই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এত সুন্দর একটি লাইব্রেরিও ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা ৫ হাজার বইও হারিয়ে গেছে। অনুদান হিসেবে পাওয়া আমাদের তাঁবুগুলোও ছিঁড়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের সব অর্জন এরা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মিচেল ব্লুমবার্গের অফিস থেকে পরে অবশ্য উপরে কিছু বই সাজিয়ে রাখা একটি টেবিলের ছবি প্রচার করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে, লাইব্রেরির বইগুলো সংরক্ষিত আছে। তবে পিপলস লাইব্রেরির টুইটারে বলা হয়েছে, কিছু বই অক্ষত আছে দেখে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের অন্য বইগুলো কোথায়, আমাদের আচ্ছাদন আর বাক্সগুলোই বা কোথায়? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লাইব্রেরিকে এই আচ্ছাদনগুলো উপহার দিয়েছিলেন ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বিখ্যাত রক অ্যান্ড রোল শিল্পী প্যাটি স্মিথ।

দখল অবস্থান নেওয়া আরো কিছু স্থানেও ইতোমধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। ওকল্যান্ডের মেয়র জ্যা কুয়ান বিবিসির কাছে স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ১৮টি নগরীর কর্তৃপক্ষেও সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্য আরেকটি খবরে জানা গেছে, এফবিআই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও পরিস্থিতি সম্পর্কে নগরীগুলোর কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টেট আদালতের একজন বিচারক এই মর্মে রায় দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উৎখাত করার বিষয়টি বহালই থাকবে এবং তারা আর তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে জুকুটি পার্কে ফিরে যেতে পারবে না। এই রায় জারির পর সংবিধান বিশেষজ্ঞ একজন আইনজীবী আমাকে এই মর্মে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন, ‘মনে রাখবেন আন্দোলন কিন্তু এখন রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। আদালতকে সব সময়ই শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।’ কিংবা প্যাট্টি স্মিথের বিখ্যাত সেই গান ‘জনগণই সর্বশক্তিমান’।

কমন ড্রিমস থেকে ভাষান্তর

আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না •

দুই মাস আগের ঘটনা। মাত্র ২০০ জন মানুষ আমরা তাঁবু গেড়ে বসলাম ওয়াল স্ট্রিটের দোরগোড়ায়। সেই থেকেই অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট একটি জাতীয় এবং এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একই কায়দায় সারা আমেরিকায় এবং বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন শহর এবং নগরে দখল করে নেওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। এখন এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে। ক্রমশ বাড়তে থাকা গণআন্দোলন আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, আমাদের গণতন্ত্র এবং আমাদের ভবিষ্যতের চেহারাটাই তাৎপর্যপূর্ণভাবে পাল্টে দিতে শুরু করেছে।

এই গণআন্দোলনকে প্রতিহত করতে পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে আমরা কিন্তু এতটুকুও দমে যাইনি। আমাদের শক্তি এখন তুঙ্গে। আমাদের মনোবল অনমনীয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আন্দোলন কেবল একটি প্রতিবাদ মাত্র নয়, তার চেয়েও বড় কিছু। এটি দখল করে নেওয়ার চেয়েও বেশি কিছু এবং এটিকে কেবল একটি কৌশল হিসেবে দেখলেই চলবে না। শারীরিকভাবে যারা দখল কার্যে অংশ নিতে পেরেছেন এই আন্দোলনে ‘আমরা’ শব্দটি দিয়ে তাদের চেয়ে আরো বড় একটি পরিসরকে বোঝানো হয়েছে। এই আন্দোলনে যারা সহযোগিতা প্রদান করেছেন, যারা আন্দোলনের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো নিয়ে বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন কিংবা যারা কোনো না কোনোভাবে নাগরিক সমাজের এই কর্মকান্ডে যুক্ত হয়েছেন তারা সবাই এই আন্দোলনের অংশ।

আমাদের জীবন বিপন্নকারী সংকটের মুহূর্তে আমরা যেমন সবাই একত্রে মিলে আমেরিকার অন্তর্নিহিত শক্তিকে আবিষ্কার করে সেই সংকট মোকাবিলা করি এবারের এ আন্দোলনও তারচেয়ে কম কিছু নয়। এমন একটি আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায় না। কিছু রাজনীতিক আমাদের হয়তো শারীরিকভাবে আমাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে নিতে পারেন, গণজমায়েত ভেঙে দিতে পারেন। বলপ্রয়োগের এই প্রচেষ্টায় তারা হয়তো সফলও হবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা এখন একটি আদর্শিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ। আমাদের ভাবনার জায়গাটি অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা চাই, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি আমাদের সেবা দেবে। কেবল ধনসম্পদ আর ক্ষমতাবানদের নয়, সেবা দেবে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই চিন্তার সঙ্গে সব মানুষই সহমত পোষণ করে। কারণ আমাদের প্রতিনিধি পরিষদ কংগ্রেস ওয়াল স্ট্রিটের ঘটনা দেখেও না দেখার ভান করেছে, তারা ঘরে ঘরে জন্ম নেওয়া অসন্তোষ, প্রতিবেশীর হৃদয়ের আর্তনাদ, অর্থনৈতিক কারণে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কষ্টের কাহিনীকে অবজ্ঞা করেছে। আমরা একটি গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখি। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট এবং আমরা ৯৯%-এর আন্দোলনে সেই স্বপ্ন মূর্ত হতে শুরু করেছে।

১০০ মানুষ জেলে বসে আছেন। আজ সকালেই একজন বিচারক রায় দিয়েছেন যে, আমরা আমাদের জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার অধিকার রাখি, অধিকার রাখি আমাদের অবস্থানে ফিরে যাওয়ারও। তবে মেয়র ব্লুমবার্গ ঘোষণা দিয়েছেন, পার্কটি বন্ধই থাকবে। তাতে অবশ্য কিছুই আসে যায় না। আমরা আবারো রাস্তার দখল নেব। আমরা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানগুলো দখল করে নেব। সর্বত্র আমরা এ কাজ করব। কারণ আমরা জানি যে, আমাদের চিন্তাকে হত্যা করা যাবে না।

কমন ড্রিমস থেকে ভাষান্তর [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

আতঙ্কিত ধনিকগোষ্ঠী


আতঙ্কিত ধনিকগোষ্ঠী

পল ক্রুগম্যান • গত ১৫ মে স্পেনের ‘ক্ষুদ্র জনতার আন্দোলনের’ রেশ ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’ আন্দোলনের উত্তাপ এখন ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা-ইউরোপ হয়ে আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। শনিবার বিশ্বের ৮২টি দেশের ৯শ’রও বেশি শহরে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভে শামিল হয়। পুঁজিবাদের সাম্প্রতিক প্রতিভূ করপোরেট ব্যবসায়ীদের লোভ-লালসা ও সীমাহীন লুটপাট, সে কারণে ধনী-দরিদ্রে্যর ব্যাপক বৈষম্য এবং এই লুটপাটের সহযোগী সরকারগুলোর ব্যয় সংকোচননীতি ও ধনীদের বেইল আউটের নামে কোটি কোটি ডলারের অর্থ সাহায্যের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ পরিচালিত হচ্ছে। পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণেই যে বর্তমান এই পরিস্থিতি এবং এই পরিস্থিতি যে মোকাবিলার শক্তিও সে ক্রমশই হারিয়ে ফেলছে তারই আভাস মিলছে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। বিশ্বায়নের ধারায় মাত্র ১ শতাংশের লুটপাটের বিরুদ্ধে ৯৯ শতাংশের প্রতিবাদেরও বিশ্বায়ন ঘটছে, এরই নমুনা পাওয়া গেছে গত শনিবার। এরই বিশ্লেষণধর্মী দুটি লেখা প্রকাশ করা হলো এই বিক্ষোভের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ অনুধাবনের জন্য।

ওয়াল স্ট্রিট দখল করো আন্দোলন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বদলে দেয় কিনা তা দেখতে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। তথাপি ওয়ালস্ট্রিট, সাধারণভাবে অতি বিত্তবান এবং রাজনীতিবিদ ও পন্ডিত যারা মূলত অধিকাংশ অর্থবিত্তের মালিক এক শতাংশ মার্কিনিদেরই স্বার্থ রক্ষা করে থাকে তারা এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রলাপ বকতে শুরু করেছে। তাদের এ ধরনের প্রতিক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধরা পড়েছে। তারা বলছে, চরমপন্থীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। যেমন এফডিআর ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারীদের জাকুতি পার্কে সমবেত প্রতিবাদকারী না বলে ‘অর্থনৈতিক রাজানুগত্যবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

একটু দেখে নেওয়া যাক রিপাবলিকান রাজনীতিকরা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকা অহিংস এই আন্দোলনকে কীভাবে চিত্রিত করছে। একথা ঠিক যে, আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যেই পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশও মাঝে মাঝে তাদের ওপর বেশিমাত্রায়ই চড়াও হয়েছে। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়নি যে, একে দাঙ্গা আখ্যায়িত করতে হবে। এসব ঘটনাকে কোনোভাবেই ২০০৯ সালের গ্রীষ্মে সংঘটিত টি পার্টির আন্দোলনের সঙ্গেও তুলনা করা যাবে না।

তারপর হাউজে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এরিক ক্যান্টর আন্দোলনকারীদের হুজুগে জনতা আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘এরা এক মার্কিনিকে আরেক মার্কিনির বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছে।’ আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মিট রমনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘শ্রেণী সংগ্রাম’ শুরুর অভিযোগ এনেছেন। অন্যদিকে হারম্যান কেইন তাদের ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। সিনেটর র‌্যান্ড পল আমার একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনিও কি জানি কি কারণে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা আই প্যাডগুলো ছিনিয়ে নেবে। কারণ তারা মনে করে, এগুলো ধনীদের প্রাপ্য নয়।

নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ নিজ যোগ্যতায়ই একজন ধনবান ব্যক্তি, আচার-আচরণেও সজ্জন এবং অপেক্ষাকৃত নমনীয় বলে পরিচিত। অথচ তিনিও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ এনেছেন যে, তারা নাকি এই নগরে বসবাসকারী লোকজনের চাকরি-বাকরি কেড়ে নিতে চায়। অথচ আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্যের সঙ্গে এ জাতীয় অভিযোগের কোনো মিলই নেই।

আপনি যদি সিএনবিসিতে প্রচারিত আলাপ-আলোচনা শুনতেন তাহলে শুনতে পেতেন যে, সেখানে বলাবলি হচ্ছে ‘আন্দোলনকারীরা তাদের খেয়ালের পতাকা উড়িয়ে যায় যাক’, ‘আসলে তারা তো হচ্ছে লেনিনেরই দোসর’।

বর্তমান অবস্থাটি বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে যে, এই অবস্থানটি হচ্ছে বৃহত্তর একটি প্রেক্ষিতের উপসর্গমাত্র। আসল ব্যাপার হলো বিপুল অর্থ সম্পদের অধিকারী ধনাঢ্য মার্কিনিরা বিশেষ একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। আর যখনই কেউ তাদের এই সম্পদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি নিয়ে কোনো রকম প্রশ্ন তোলে তখনই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট ওবামা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মৃদু সমালোচনার সুরে কথা বলেছিলেন। আর তাতেই তারা ওবামার ওপর প্রচন্ড রকম ক্ষেপে যান। ওবামা ভলকার আইন নামে একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তাতে বলা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্যের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলো কোনো রকম অনুমাননির্ভর বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে পারবে না। এই কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক মালিকরা ক্ষেপে গিয়ে ওবামার আচরণকে প্রায় সমাজতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছিলেন। আর তাদের প্রস্তাব মতো কর নীতিতে পরিবর্তন মেনে নেওয়ার পর দেখা গেল, তাদের কাউকে কাউকে খুব অল্প পরিমাণেই কর দিতে হচ্ছে। এই অবস্থাটিকে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপের চেয়ারম্যান স্টিফেন স্কেয়ার্জম্যান হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

অন্যদিকে এলিজাবেথ ওয়ারেনের মতো ভদ্র মহিলাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার মতো ঘটনাও থেমে নেই। এলিজাবেথ আর্থিক খাতের একজন সংস্কারক হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে ম্যাসাচুসেট থেকে সিনেটর পদপ্রার্থী। কিছুদিন আগে তিনি একটি ইউটিউব ভিডিওচিত্রে ধনীদের ওপর বেশিমাত্রায় করারোপের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তার বক্তব্যে এমন কোনো বিপ্লবাত্মক কথাবার্তা ছিল না। এমনকি অলিভার ওয়েন্ডেল হোমের সেই বিখ্যাত আপ্ত বাক্যের চেয়েও তার বক্তব্য কম ধারালো ছিল। অলিভার তো তার সেই বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘আমরা একটি সভ্য সমাজের উদ্দেশ্যেই কর প্রদান করে থাকি।’

কিন্তু মিস ওয়ারেনের বিরুদ্ধে সম্পদশালীদের পক্ষে ওকালতি করা মানুষজনের কথা শুনলে আপনার মনে হবে, মিস ওয়ারেনের রূপ ধরে বুঝিবা লিওন ট্রটস্কির দ্বিতীয় দফা মর্ত্যে আগমন ঘটেছে। জর্জ উইল তো বলেই বসলেন, ওয়ারেন একটি সমবায়ী এজেন্ডা নিয়েই এগুচ্ছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তিতান্ত্রিকতা হচ্ছে এক ধরনের পৌরানিক দানব। আর রাশ লিমবাগ তাকে ‘পরগাছা’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘ওয়ারেন এমন একটি পরগাছা যে কিনা তাকে আশ্রয় দেওয়া গাছটিকেই ঘৃণা করে। যে গাছটির গায়ে জড়িয়ে থেকে সে তার জীবনের উপদান সংগ্রহ করছে সে গাছটিকেই সে আবার ধ্বংস করে দিতে চায়।’ সেখানে আসলে ঘটছেটা কী? উত্তর হলো- ওয়াল স্ট্রিটে আস্তানা গেঁড়ে থাকা বিশ্ব মোড়লরা বুঝে গেছেন, নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার পক্ষে নৈতিক কোনো শক্তি এখন আর তাদের অবশিষ্ট নেই। তারা কোনো জন গাল্ট নন, নন কোনো স্টিভ জবসও। তারা আসলে এক ধরনের আর্থিক ফেরিওয়ালা। অর্থের সব জটিল ফাঁদ পেতে নিজেরা বিপুল বিত্তবৈভব হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের কর্মকান্ড মার্কিন জনগণের কোনো উপকারেই আসছে না। উপরন্তু, তাদের এসব ফন্দিফিকির আমাদের বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। যার ফলস্বরূপ লাখ লাখ কোটি কোটি মার্কিন নাগরিকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।

এতকিছুর পরও কোনো রকম ক্ষতিই তাদের গুনতে হচ্ছে না। তাদের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন জনগণের করের টাকায় বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের অবদান খুবই সামান্য। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করছে। এখনো তারা সামনের দিকে থেকেই মজা লুটছে। আর পেছনে থাকা করদাতা জনগণ তাদের সবকিছুই হারাচ্ছে। তারা কর নীতিতে থেকে যাওয়া ফাঁকফোকড় গলিয়ে কর প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের রেয়াত পেয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাই দেখা যায় কোটি কোটি ডলার আয়-উপার্জনকারীদের চেয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর দেওয়া করের পরিমাণ বেশি।

তারা যে এ ধরনের বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তা নিয়ে কোনো রকম উচ্চবাচ্য করা যাবে না। কেউ যদি করতে চায় এবং যত ভদ্র ভাষায়ই তা করা হোক না কেন, তাকে রক্ষক বা দৈত্য হিসেবে চিত্রিত করা হবে এবং মঞ্চ থেকে বিতাড়িত হবে সে। বস্ত্তত, একজন মানুষ যত বেশি পরিশীলিত ভাষায় এবং যুক্তিসঙ্গত উপায়ে তাদের সমালোচনা করবে সেও ঠিক তত বেশি পরিমাণেই দৈত্য হিসেবে আখ্যায়িত হবে। এলিজাবেথ ওয়ারেনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। সুতরাং, প্রকৃতপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কে? অবশ্যই আন্দোলনকারীরা নয়, যারা কেবল তাদের বক্তব্যগুলো উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। নিজেদের কথাগুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে। আসল চরমপন্থী হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী, যারা তাদের বিপুল বিত্তবৈভব আহরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার যে কোনো কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

লেখক নোবেলজয়ী মার্কিনি অর্থনীতিবিদ [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’


বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’ ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

Occupy Wall St.


মেহেদী হাসান • ওয়াল স্ট্রিট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল কেন্দ্র। অন্য কথায়, পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যে কেন্দ্রে বসে আছে সমগ্র জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ, একচেটিয়া পুঁজির প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ বহুজাতিক করপোরেশন (তেল, অস্ত্র, খাদ্য), ব্যাংক, বীমা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আর যাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এ স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যাকে সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ, গণহত্যা, জাতিগত সহিংসতা, সামরিক শাসন বিস্তৃত করতে হয়েছে। অস্ত্র আর তেল কোম্পানির স্বার্থে সারা পৃথিবীতেই যুদ্ধোন্মাদনা ছড়াতে হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান সর্বশেষ লিবিয়ায় লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের বলি হয়েছে। কেবল দখলকৃত দেশগুলোর মানুষই রাষ্ট্রটির তাড়নার শিকার হয়নি, হয়েছে তার নিজ দেশের সাধারণ মানুষও। যুদ্ধ এবং দমন অর্থনীতির পেছনে জনগণের করের অর্থে এ রাষ্ট্রটি ব্যয় করে বছরে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ বাহ্যিক চাকচিক্যময়, জৌলুসপূর্ণ এ মুল্লুকে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকে চার কোটি মানুষ। তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজন মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। মন্দা অর্থনীতিতে জর্জরিত এ রাষ্ট্রে গোয়েন্দাগিরির পেছনে খরচ বেড়েছে তিনগুণ, কমেছে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়। দৈত্যাকার ব্যাংক, করপোরেশনের অন্তর্গত মন্দার কারণে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে গিয়ে বেইল আউট কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। বেড়েছে দ্রব্যমূল্য, কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ঋণ বেড়েছে জনগণের ওপরে করের বোঝা বেড়েছে জনগণের।

‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ আওয়াজ দিয়ে এহেন পররাজ্যগ্রাসী, সন্ত্রাসী, ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী অংশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা শতকরা ৯৯’ আর এটি এখন সারা দুনিয়ার এক প্রতীকী স্লোগান। আর এরই ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে আন্দোলন। নারী-শ্রমিক-শিক্ষার্থী-শিক্ষক-বেকার-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত; যারা বর্তমান বিদ্যমান ব্যবস্থায় জর্জরিত, দিশেহারা; তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে। ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ হলো শোষণকেন্দ্রে প্রজবলিত বিদ্রোহের নতুন নাম, নতুন পরিচয়। যে পরিচয় হীনমন্যতা, ভোগবাদিতা, আত্মপরিচয়ের সংকটকে ঝেড়ে ফেলে নতুন শক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এই শক্তি এখন ইথারে ভেসে ছড়িয়ে গেছে সারাবিশেবর তরুণ-যুব সম্প্রদায়ের কাছে। সারাবিশ্বের ভুক্তভোগী সংবেদনশীল মানুষের কাছে। নিজের দেশের অসহনীয় অস্বস্তিকর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর প্রতিরোধের শক্তি নিয়ে বিশ্বের প্রায় এক হাজার শহরে এই আন্দোলন দানা বেঁধেছে। নোয়াম চমস্কি এ আন্দোলনকে সমর্থন করে বার্তা পাঠিয়েছেন ‘জনগণের পক্ষে সম্মানজনক এবং দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ভূমিকা’ বলে।

সম্মানজনক কেন? কারণ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক শ্রেণীরাষ্ট্র-মুখপাত্ররা যেখানে পুরো সমাজকে ভোগবাদিতার চকচকে রঙিন চশমা দিয়ে দুনিয়াকে দেখানোর প্রচেষ্টায় দিনরাত আহাজারি করছে; পণ্যভোগকে ধর্মের স্থানে ঠাঁই দেওয়ার প্রচেষ্টায় মত্ত যেখানে `TINA’ (There is no Alternative)-র অনুসারীরা সেখানে সে বেড়াজালকে ছিন্ন করে ‘মানুষ’ পরিচয়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা দুঃসাহসিকই বটে। এই মানুষ প্রমাণ করেছেন, রাষ্ট্র যতই ক্ষমতাধর কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, জনগণের অসাধ্য কোনো কিছু নেই। নাহলে, বিশ্বের সবচাইতে ‘দুর্ধর্ষ’ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে এহেন কাজ কীভাবে সম্ভব? সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়; এটা প্রমাণ করেছেন ‘শতকরা ৯৯’-এর প্রতিনিধিরা।

Occupy Wall St.


কেন পুঁজিতান্ত্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে বিদ্রোহের নতুন ঠিকানা তৈরি হলো? এই কি প্রথম? তা তো নয়। নভেম্বর ১৯৯৯তে সিয়াটলে, এপ্রিল ২০০১-এ কিউবেক সিটিতে ‘পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বায়নবিরোধী’ বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই পর্বে পূর্বের আন্দোলনের দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতাকে অনেক ক্ষেত্রে অতিক্রম করে সচেতনতা-ধরণ-ধারণ-বিস্তৃতি-ব্যাপকতার নতুনমাত্রা নিয়ে এই আন্দোলন আরো শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আন্দোলন এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চেতনার ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে। এটা ঠিক এই আন্দোলনে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। এখানে যেমন শ্রমিক আছেন, তেমনি বেকাররাও আছেন। আছেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, পরিবেশবাদী, স্টাডি গ্রুপ, সংস্কৃতিকর্মী। বিপক্ষে; ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, ধর্মযাজক, স্টক এক্সচেঞ্জ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।

যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলনের গতি বিস্তৃত হয়েছে যে জগত তৈরি করেছিল করপোরেট তার আপন মুনাফাবৃদ্ধির স্বার্থে। সে প্রযুক্তিই তার জন্য কবর রচনা করতে যাচ্ছে। করপোরেট রাষ্ট্রের ভয়ও সে কারণে মারাত্মক। এই ভীতি থেকেই ন্যায্য এবং যুক্তির শক্তি নিয়ে দাঁড়ানো আন্দোলনকে দমন করতে উদ্যত। হামলা-মামলা-ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দমনমূলক নীতি নিয়ে তারা যে ‘পুলসেরাতের পুল’ পার হতে পারছে না তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের জুকোটি পার্কে অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব, ব্যাংক বন্ধকি সংকট ও করপোরেট লোভের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পর্তুগালের লিসবনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামে। তারা স্লোগান দেয়- ‘ঋণের দায় আমাদের নয়, আইএমএফ বেরিয়ে যাও’। এ আন্দোলন এখন নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া পর্যন্ত। সারা বিশ্বের হাজার শহরে; পাঁচজন থেকে পাঁচ হাজার, পঞ্চাশ হাজার, লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হচ্ছেন আপন আপন স্থানে।

স্লোগানের নতুন নতুন ভাষা তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন বক্তব্য। ‘আমরা ৯৯ শতাংশ’, ‘আমরা আমাদের দেশকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এসেছি’। ‘আমরা হারিয়েছি, ব্যাংক বেইল আউট পেয়েছে’, ‘সারাদিন, সারা সপ্তাহ ওয়াল স্ট্রিট দখল করুন’, ‘করপোরেট সাম্রাজ্য জাগ্রত এবং সচেতন মানুষকে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’ ‘৯৯ শতাংশ মানে বৃহৎ সংখ্যা, যারা হারতে পারে না।’ ‘ব্যাংকারদের গ্রেফতার কর, আমাদের নয়।’ ‘প্রাইভেট ব্যাংক সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে, জনগণ নয়।’ ‘আমাদের চাকরি কোথায়?’ ‘এটি আমাদের দেশ-একে আমরা দখল করবো, এগুলো আমাদের রাস্তা-এগুলো আমরা দখল করবো, আমরা এখানে আছি এবং আমরা ক্রমশ বাড়ছি-চল সবাই একসঙ্গে দখল করি।’ ‘আমাদের যা পাওনা আমরা তা বুঝে নেই।’

এই বিদ্রোহের প্রয়োজনীয়তা কেন তা স্লোগানের ভাষার মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়।

ক্রিস হেজেস যিনি একজন লেখক-সাংবাদিক, পূর্ব ইউরোপের অনেক ধরনের গণআন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী এবং ‘অকোপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশগ্রহণকারী; তিনি বলছেন, ‘আমি এই আন্দোলনে এসেছি ভেতরের তাগিদ থেকে। কারণ, করপোরেশনগুলো আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাথা-মগজ দখল করে নিয়েছে। দখল করে নিয়েছে তাদের স্বতবা। এ আন্দোলন তার বিরুদ্ধে।…যখন এই ধরনের আন্দোলন মাথা তুলে দাঁড়ায় সেখানে করপোরেট দখলের বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে প্রকৃত সত্যটাই সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের আন্দোলন যখন তৈরি হয় তখন যে মানুষ যে সমাজে বসবাস করছে সে সমাজের প্রকৃত চিত্রটাকে পরিষ্কার করে তুলে ধরে। তুলে ধরে সমাজের বৈষম্য, ক্ষমতাবানদের দেŠরাত্ম্য-অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা এবং আন্দোলন অনেকটা ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স’ ধরনের কাজ করে- কারণ এ আন্দোলনের যে শক্তি তা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথায় গিয়ে এর শেষটা দাঁড়াবে তা পূর্বে থেকে অনুমান করা যায় না।..সমাজের এলিট গোষ্ঠী, নীল পোশাকধারী পুলিশ প্রশাসন, মাথা-মগজ নিয়ন্ত্রণের ম্যাকানিজম; কেউ এ আন্দোলন আশা করে না। কিন্তু বিধি বাম, ইতিহাস তাদের নির্ধারিত পথে চলে না এবং শেষ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের কারণে ক্ষমতাবানরা হয়ে পড়ে প্রতিরোধহীন।’

‘করপোরেট ডাকাত হানা দিয়েছে দ্বারে, তাকে প্রতিরোধ কর’ প্ল্যাকার্ড হাতে ২০/২২ বছরের একজন তরুণ বলছেন, ‘আমরা এখন আর করপোরেটের হাতে বন্দি হতে চাই না। রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ আমরা চাই না। এই অর্থ সারা বিশ্বের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে; নিয়ন্ত্রণ করছে প্রাকৃতিক সম্পদ, সমস্ত জীবন-মান।’ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই তরুণ-যুব সমাজের অংশ। কয়েকজনের সাক্ষাৎকার সংবলিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তারা বলছেন, ‘ব্যাংক এবং এক্সনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ঘাড়ে চেপে আমাদের নিংড়ে নিচ্ছে। আমরা যারা সমবেত হয়েছি তারা এ প্রক্রিয়ার বিপক্ষে।’….‘মধ্য প্রাচ্যে যখন কোনো আন্দোলন হয় তখন মিডিয়া সেটাকে খামচে ধরে প্রচার করে। কারণ, সেখানে তাদের স্বার্থ আছে। সরকারি স্বার্থের সঙ্গে তাদের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু যখন নিজের দেশের উঠানে করপোরেট স্বার্থ-শোষণবিরোধী একটি ন্যায্য আন্দোলন হচ্ছে তখন সেটি প্রচার করতে তাদের অনীহা। কারণ, এতে তাদের মুনাফা স্বার্থ বাধাগ্রস্ত হয়।’…‘শাসকরা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জুয়া খেলছেন এবং এই বিষয়টি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে হচ্ছে। এটা তো কোনোভাবেই আমি মেনে নিতে পারি না।’…‘সরকার আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা আমাদের জীবনকে কোনো পরোয়াই করে না। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’ চাকরিজীবী একজন পৌঢ় বয়সের, তিনি সেদিনই উপস্থিত হয়েছেন আন্দোলনে। তার উপলব্ধি হলো, ‘এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা বলছেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কথা। এটা ঠিক। এদের কারণে আমরা আমাদের কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’ ৩০/৩২ বছরের একজন বেকার যুবক অসহনীয় অবস্থায় থেকেও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি আমার চাকরি হারিয়েছি। হারিয়েছি হেলথ ইন্স্যুরেন্স। সামাজিক নিরাপত্তা জাল যেটি সরকারের দেওয়ার কথা ছিল বেকার অবস্থায় তার সবকিছু এখন আমার আয়ত্তের বাইরে। কিন্তু এর জন্য আমরা কর প্রদান করি। বিপরীতে এখন অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ভর করেছে। আমি আমার এই কথাগুলোই বলতে এসেছি এখানে।’…‘যখন আমাদের জীবন-মান সব চলে যাচ্ছে অল্প কিছু সম্পদলোভী হায়েনার হাতে তখন আমরা আর কী করতে পারি। যখন আমাদের করের অর্থে ভোগ-বিলাসে মত্ত গুটিকয়েক লোক যারা সমাজের ১%, তখন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে না দাঁড়ানোর কি কোনো কারণ আছে? আমাদের করের অর্থে চালানো হচ্ছে যুদ্ধ, মানুষ মরছে, আমরা হচ্ছি বেকার’।

এ কথাগুলো শুধু আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নয় বরং মার্কিন মুল্লুক এবং পুঁুজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অধীনস্ত সব দেশের মানুষের। যার কারণে এর ঢেউ সারাবিশ্বে আছড়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। যার চেহারা আমরা দেখছি বিশ্বব্যাপী। শারীরিক-মানসিক-প্রাযুক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজস্ব স্বর এবং সুর নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের দখল-আধিপত্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা, সমাজের সিংহভাগ মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে, ‘আমরা শতকরা ৯৯’। রক্তাক্ত হচ্ছে কিন্তু আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে পারছে না ক্ষমতাধর প্রশাসন। গায়ে ‘কাঁদা’ লাগানোতে অনীহা মূল ধারার করপোরেট মিডিয়ার। এজন্য একদিকে আমরা দেখি লিবিয়ায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ নামক তেল দখলের যুদ্ধের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাহিনী যত না ফলাও করে প্রচার করা হয়; লিবিয়ার তথাকথিত বিদ্রোহী এনটিসির যুদ্ধ জয়ের খবর যত না আগ্রহ সহকারে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে; তার সিকিভাগের একভাগ গুরুত্ব পায় না জনগণের ন্যায় এবং ন্যায্য আন্দোলন। তার বিপরীতে ‘শতকরা ৯৯’কে আড়ালে রাখায় মরিয়া হয়ে উঠতে দেখি! উপরন্তু করপোরেট মিডিয়ার ঘাড়ে এখন ‘সমাজতন্ত্রের ভূত’ চেপে বসেছে। এ ভূত ঘাড় থেকে নামানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে কিন্তু কোনোভাবেই নামাতে পারছে না। কী মার্কিন, কী বাংলাদেশে। আদল আলাদা, রক্তের ধারা এক। কিন্তু এ বিদ্রোহের বিশেষত্ব এই যে, করর্পোরেট মিডিয়ার মুখ পানে চেয়ে বসে নেই বিদ্রোহীরা। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগের মতো সামাজিক মিডিয়াকে অবলম্বন করে আন্দোলনকে বিস্তৃত করতে তৎপর। যদিও এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু, এই শক্তিকে রুখবে কে?

বাংলাদেশেও একচেটিয়া পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন চলছে। সম্পদ এবং সম্মান যা বিভিন্ন মেয়াদের সরকারের সময় জনগণের হাতছাড়া হয়েছে তাকে জনগণের হাতে ফেরৎ আনার আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর সঙ্গে সংহতি এবং সম্পর্ক সেখানেই। ভিন্ন দেশ কিন্তু দখল-আধিপত্যবিরোধী গণআন্দোলনের সুরটি অভিন্ন। শোষণের মূল ধর্মটি যেখানে এক সেখানে প্রতিরোধ-বিদ্রোহের ভাষার মূলে ঐক্য থাকবে সেটিই স্বাভাবিক। mehedihassan1@gmail.com [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

ঢাকা, অক্টোবর ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গরিবী হটাও আন্দোলন’ এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নূরুল হক মেহেদী বলেন, “এ আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিশ্বের শ্রমজীবী-মেহনতী মানুষের আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে। এ আন্দোলনের ঢেউ আমাদের অধিকার বঞ্চিত মানুষদের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘অতিমুনাফা’র প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এ আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্বের ৮০টি দেশের ৯৫১টি শহরে একযোগে প্রতিবাদে নামে এ আন্দোলনের সমর্থকরা।

ঢাকার সমাবেশে কমরেড মেহেদি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুনেত্র ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গরিবী হটাও আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের সভাপতি খায়রুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মাহবুব।
সমাবেশ শেষে মিছিল করেন তারা।

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life