এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন


শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর
শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলো। একই সঙ্গে প্রাইমারি শেয়ারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে প্রদেয় করে ১০ শতাংশ হারে ছাড় (রিবেট) পাওয়া যাবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কালো টাকা বিনিয়োগের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় দুই সপ্তাহ ধরেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে তা দু’বছরের জন্য রাখতে হবে। আগামী এক বছর ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। আর কেউ যদি প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তাহলে প্রদেয় করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রিবেট পাওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত দু’বছরের আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা কালো টাকা তুলে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ২৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিতে পারবেন। পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে রাজস্ব বোর্ড। চলতি মাস থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ থাকবে। এনবিআর জানিয়েছে, কালো টাকা বিনিয়োগ করতে হলে এনবিআরকে একটি নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ওই টাকা বিনিয়োগের আগেই ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ সুযোগ নিতে হলে এনবিআরকে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব দাখিল করতে হবে। শেয়ারবাজারে আগে বিনিয়োগ করা টাকা পুনরায় বিনিয়োগের সুযোগ নেয়া যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক কারণে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই দু’বার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছিল। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণেই সরকারকে শেয়ারবাজারে কালো টাকার সুযোগ দিতে হয়েছে। এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা নেয়ার কথা বলেছে। অথচ বাজেট ঘাটতি পূরণে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সরকার সেটি গ্রহণ করেনি। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের অনাগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে এটি শেয়ারবাজারে স্বল্প মেয়াদে হয়তো প্রভাব পড়বে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। স্বল্প মেয়াদে প্রভাব পড়ার বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি।
প্রসঙ্গত, গত বছর চারটি সেক্টরে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে— বিএমআরই, শেয়ারবাজার, নতুন শিল্প স্থাপন ও রিয়েল এস্টেট সেক্টর। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রায় ৯২২ কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু শেয়ারবাজার থেকে ৪২৭ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার পর ৩৬ ব্যক্তি তাদের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। এ থেকে সরকার প্রায় ৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল।
শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে মাত্র এক বছর। ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে মূলধন কমপক্ষে দুই বছর বাজারে ধরে রাখতে হবে। অর্থাত্ ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত মূলধন বাজার থেকে উঠাতে পারবে না। বিনিয়োগকারী ওই সময়ের মধ্যে শেয়ার লেনদেন করে শুধু মুনাফা তুলে নিতে পারবেন। কিন্তু মূলধন উঠিয়ে নিতে পারবেন না। চূড়ান্ত নীতিমালায় এ ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। এ সুযোগ গ্রহণ করার পর যাতে কোনো ব্যক্তি বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন সেজন্যই এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার ঘোষিত সুযোগটি গ্রহণ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে তিনি কি পরিমাণ অর্থ বৈধ করবেন। যে পরিমাণ অর্থ ঘোষণা করা হবে তার বিপরীতে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এনবিআরের তৈরি করা আলাদা ঘোষণাপত্রে নাম, ঠিকানা, ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বরসহ (টিআইএন) সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি বিও অ্যাকাউন্টের বিবরণী ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। কারণ এর আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তারল্য সরবরাহ না বাড়ালে বাজারের স্থিতিশীলতা টিকবে না। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে ১০ শতাংশ রিবেটের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, সেটি তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিমালা সাপেক্ষে প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। এটি কোম্পানির জন্য ভালো। কারণ আইপিওর চাইতে প্লেসমেন্টে খরচ অনেক কম।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটো বলেন, এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে বেশি মনিটরিং করা হলে প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়তো বিনিয়োগ আসবে না। প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে রিবেটের সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি নট ফেয়ার। সুযোগ দেয়া হলে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে একসঙ্গেই দেয়া উচিত্। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন সেখানে আমলারা নানা রকম শর্ত জুড়ে দেয়ায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হয়তো সফল হবে না।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

Advertisements

‘‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টা আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’’ -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


‘দেশপ্রেমিক’ এবং টোকাইদের আখ্যান

পিয়াস করিম ● প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তার আরো অনেক বক্তব্যের মতোই এই প্রশ্নটিই কোনো আলগা, অসতর্ক উচ্চারণ কিনা আমরা জানি না। কিন্তু নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নকে খুব হালকাভাবেই নেই কি করে?

১৮ জুন ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টা আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’’ যেই মনোভঙ্গি থেকে একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান জানান দেন যে তার চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক আর কেউ হতে পারে না, সেই ভঙ্গিটিকে ঠিক গণতান্ত্রিক বলা যাবে না। এই ঘোষণাটির মধ্যে ক্রিয়াশীল রয়েছে এক ধরনের ঔদ্ধত্য ‘আমার চেয়ে বড় আর কেউ নয়’ এই দৃষ্টিভঙ্গিটি। একজন ফার্দিনান্দ মার্কোস, একজন পিনোসে কিংবা একজন হোসনি মোবারকের কাছে এই বক্তব্যটি প্রত্যাশা করা যায়। কিন্তু একজন নির্বাচিত গণপ্রতিনিধির কাছ থেকেও এই কথা আমাদের শুনতে হবে?

জানতে ইচ্ছে করে এই আমার চেয়ে বড় কেউ নয়, এই অহংবোধের, এই দম্ভোক্তির রাজনৈতিক ভিত্তিটি কোথায়? একজন সাধারণ নাগরিক কি দেশপ্রেমের মাত্রায় তার নির্বাচিত প্রতিনিধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন না? বাংলাদেশের যে কৃষক উদয়াস্ত শ্রম করেও তার ফসলের ন্যায্য দাম পান না, সেই শ্রমিককে মানবেতর কাজের পরিবেশে প্রতিদিনের দিনযাপনের গ্লানি সয়ে সয়ে নিজেকে ক্রমান্বয়ে ক্ষয় করে ফেলতে হয়, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বড় দেশপ্রেম দাবি করার অধিকার তার নেই? দেশপ্রেমের কোন মাপকাঠিতে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের মেপে থাকেন? ক্ষমতাহীনরা তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের চেয়ে চিরকাল পিছিয়ে থাকতে বাধ্য হন। হায় ঈশ্বর, এখন দেশপ্রেমিকত্বের প্রতিযোগিতাতেও তাদের পিছিয়ে থাকতে হবে! ক্ষমতা, অর্থ, প্রতিপত্তিতে ক্ষমতাসীনদের একচেটিয়া অধিকার থাকে। এখন দেশপ্রেমের ওপরও তাদের মৌরসী পাট্টা! এখন দেশপ্রেমে বড় হওয়ার অধিকারটুকুও বুঝি আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেল! সত্যি কি বিচিত্র এই দেশ আমাদের, আর বিচিত্রতর আমাদের দেশপ্রেমের অধিপতি বয়ান।

দুই.

‘দেশপ্রেম’ তো অবিতর্কিত প্রত্যয় নয় কোনো। কে দেশপ্রেমিক আর কে দেশপ্রেমিক নয় তা নিয়ে একটা বিতর্ক তো ছিলই সবসময়। সেই ১৭৭৫ সালে আত্মম্ভরী ভুয়া দেশপ্রেমিকদের সমালোচনা করতে গিয়ে স্যামুয়েল জনসন বলেছিলেন- ‘Patriotism is the last resort of the scoundrel.’ ইতিহাসের প্রেক্ষিত পাল্টে গেছে, কিন্তু দেশপ্রেমের অহংকারী বয়ানের পুনরাবৃত্তি তো ঘটেই চলেছে।

পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসকেরা আমাদের বাঙালিদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বারবার। আমরা ভারতের দালাল, আমরা পাকিস্তান রাষ্ট্র ও আদর্শের প্রতি যথেষ্ট বিশ্বস্ত নই, পাকিস্তানের অধিপতি আখ্যানে এই অভিযোগগুলো বারবার উত্থাপিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমের পাকিস্তানি অধিপতি আখ্যানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ একটি প্রতিবাদী দেশপ্রেমের আখ্যান নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তান নামক দেশের ধারণার মধ্যে ঘুন ধরে গিয়েছিল অনেকদিন ধরেই। ভাষার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, স্বাধিকারের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, জনগণের সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে নতুন এক দেশের কল্পনা নির্মিত হচ্ছিল আমাদের চৈতন্যে, আমাদের বাস্তবতায়। একাত্তরে সেই চেতনার প্রবল শক্তিধর বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আমরা নতুন দেশের, নতুন দেশপ্রেমের স্বপ্নলোককে একটা বাস্তব অবয়ব দিতে পেরেছিলাম।

কিন্তু সেই বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত একটি অসম্পূর্ণ বাস্তবতা থেকে গেছে, একাত্তরের অসমাপ্ত গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মতোই। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বতন্ত্র নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখা নির্মিত হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বস্ত্তগত রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে যেই স্বপ্নের দেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিল তা আমাদের হয়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরেও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। জনগণের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো সুদূরপরাহত। আমাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধের কোন স্পষ্ট ভিত্তি এখনো দাঁড়া হয়নি।

কিন্তু এই ব্যর্থতার দায়ভাগ তো বাংলাদেশের জনগণের নয়। আমাদের বিদ্যুৎ আর গ্যাসের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, বিশুদ্ধ পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, দ্রব্যমূল্য সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাবনার পৃথিবী ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না আর কোথাও, আমাদের জাতীয় সম্পদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, সামাজিক বৈষম্য বেড়েই চলেছে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের চোখের আড়ালে অসম চুক্তি হয়ে যাচ্ছে, আমাদের সীমান্তে পাখি শিকারের মতো হত্যা করা হচ্ছে আমাদের নাগরিকদের – এর সব দায়ভার কি আমাদের জনগণের?

কোন যোগ্যতায়, কোন রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে আমাদের শাসকশ্রেণীর প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে, তাদের চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক আর কেউ হতে পারে না?

তিন.

দেশপ্রেম নিয়ে এই উদ্ধত ঘোষণার সঙ্গে ইদানীং হয়েছে আরেকটি প্রসঙ্গ। শাসক শ্রেণীর সাম্প্রতিক বয়ানের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ‘টোকাই’ চরিত্রটি। শিল্পী রফিকুন্নবীর এই অসামান্য সৃষ্টিটি বাংলাদেশের ছিন্নমূল পথশিশুদের প্রতিনিধি। আমাদের শ্রেণীবিভক্ত সমাজের সবচেয়ে নিচে এদের অবস্থান। রাষ্ট্র এবং সমাজ এদের গৃহ দিতে পারেনি, শিক্ষার সুযোগ দিতে পারেনি, জীবনের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর কোন সংস্থান করতে পারেনি। এই বঞ্চিত, নিপীড়িত শিশুরা আমাদের সমাজের অসঙ্গতির, ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠে এসেছে রফিকুন্নবীর দক্ষ তুলির অাঁচড়ে।

কিন্তু বঞ্চনা ছাড়াও টোকাইয়ের চরিত্রে রয়েছে অন্য একটি মাত্রা। টোকাইয়ের রয়েছে প্রবল বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সমাজের অসঙ্গতিকে বোঝার জন্য প্রখর অন্তর্দৃষ্টি (ইংরেজিতে একেই বুঝি wit বলে)।

শাসকশ্রেণীর তো এক অর্থে মতাদর্শগত আধিপত্য থাকেই, মার্কস থেকে গ্রামসী পর্যন্ত ইতিহাসের নক্ষত্র পুরুষরা তা বলেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও আমাদের জানবার বিষয় যে কোনো অধিপতি মতাদর্শই সমাজের প্রতিটি অংশের ওপর তার চূড়ান্ত আধিপত্য বজায় রাখতে পারে না। মতাদর্শগত আধিপত্য সবসময়ই তাই একটি অসম্পূর্ণ প্রকল্প। সমাজের কোথাও না কোথাও আধিপত্যের বাইরে ভিন্ন মতাদর্শের, প্রতিরোধের সম্ভাবনা আর বাস্তবতা থেকেই যায়। এই আধিপত্যবিরোধী মতাদর্শ, এই প্রতিরোধ আসে সমাজের প্রান্তে যাদের অবস্থান সেই মানুষ থেকেই। টোকাইয়ের wit সেই প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। টোকাই তাই একই সঙ্গে বঞ্চনা আর প্রতিরোধের যুগল প্রতিনিধি।

রফিকুন্নবী টোকাইয়ের চিত্রিত আখ্যানটি তৈরি করেছিলেন সমাজের একটি ক্রিটিক হিসেবে। কিন্তু আমাদের বুর্জোয়া, মধ্যবিত্ত আখ্যান টোকাইয়ের এই ক্রিটিক্যাল দিকটি ধারণ করেনি। টোকাই এখানে হয়ে উঠেছে উপেক্ষার, টিটকারির, অপমানের প্রতীক। সেই পথশিশুরা শ্রেণী সমাজের অন্তর্নিহিত বৈষম্যের ফল, তাদেরকে বুর্জোয়া আখ্যান দেখে উপহাসের লক্ষ্যবস্ত্ত হিসেবে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ২০ জুন সংসদে টোকাইয়ের এই বুর্জোয়া অর্থটিকেই ব্যবহার করেছেন। জাতীয় তেল-গ্যাস কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদকে লক্ষ্য করে তিনি বলেছেন – কোথাকার মনু মোহাম্মদ, আনু মুহাম্মদ মিলে টোকাইদের নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে।

‘মনু মোহাম্মদ-আনু মুহাম্মদ’ প্রকাশটির মধ্যে নাম বিকৃতির কুৎসিত রুচি তো রয়েছেই কিন্তু এর চেয়েও বেশি এতে রয়েছে শাসকশ্রেণীর ঔদ্ধত্য আর অসংবেদনশীলতা। হাছান মাহমুদের পক্ষে যেটা বোঝা সম্ভব নয়, তার সংকীর্ণ রাজনৈতিক বোধের কারণেই হয়তো, টোকাইদের সংগঠন আখ্যা দিয়ে তিনি জাতীয় কমিটিকে অপমান করতে পারেননি। প্রতিমন্ত্রী তার এই বক্তব্যে কোন কায়েমী স্বার্থের প্রতিধ্বনি তুললেন সেটা তো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই। কিন্তু একই গুরুত্বের সঙ্গে যা আমাদের মনোযোগ দাবি করে তা হচ্ছে এই অসংযত বক্তব্যের মধ্য দিয়েই নিজের অনিচ্ছায় তিনি জাতীয় কমিটির জনভিত্তির সত্যটিকেই প্রকাশ করে দিলেন। জাতীয় কমিটি যদি সত্যিই টোকাইদের সংগঠিত করতে পারে তাহলে তো তা একটি বড় মাপের অর্জন। কারণ এই দেশটি তো হাছান মাহমুদ কিংবা তার নেত্রী শেখ হাসিনার নয়। আমাদের কারোই পৈতৃক সম্পত্তি নয় দেশটি। অনেকাংশেই পিতৃমাতৃহীন টোকাইদের চেয়ে আমাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশপ্রেম বেশি এটাও তো দাবি করা যাবে না।

২৪ জুন রাতে একুশে টেলিভিশনের ‘একুশের রাতে’ অনুষ্ঠানে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বললেন, তিনি তো ঠিকই বলেছেন। আনু মুহাম্মদ তো টোকাই-ই। টোকাই অর্থ তো গরিব মানুষ। আনু মুহাম্মদ তো গরিব মানুষই।

সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পেছনে কোনো সচেতন Irony ছিল কিনা জানি না। কিন্তু তা থাকুক না থাকুক, বুঝে হোক না হোক, তিনি কিন্তু আনু মুহাম্মদকে সম্মানিত করলেন। প্রতিমন্ত্রী ‘টোকাই’ শব্দটিকে ব্যবহার করেছিলেন নেতিবাচক উপহাস আর উপেক্ষা অর্থে। সংসদ সদস্য রনি, সচেতন কিংবা অসচেতনভাবে ‘টোকাই’ প্রত্যয়টির সমাজতাত্ত্বিক বৃত্তটিকে বিস্তৃত করে দিলেন। ‘টোকাই’ আজকে শুধু ছিন্নমূল পথশিশু নয়। আমরা যারা নিপীড়িত, বঞ্চিত, যাদের জীবন রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণীর হাতে প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত, যাদের সম্পদ তাদের সম্মতি না নিয়েই বিদেশী করপোরেশনের কাছে বিকিয়ে যায়, আমরা সবাই আজকে ‘টোকাই’। আনু মুহাম্মদ, তার বন্ধু ও সমর্থকরা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করছেন, সবচেয়ে বড় কথা, শাসকশ্রেণীর বাইরে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকই আজকে টোকাই।

আন্তনিও নেগ্রি বিশ্লেষন করে দেখিয়েছেন পুঁজিবাদের বর্তমান পর্যায়ে শোষণের কেন্দ্র শুধু আর কারখানাতে সীমাবদ্ধ নেই। গোটা সমাজজুড়ে গড়ে উঠেছে এক সামাজিক কারখানা। শ্রমিকের সংজ্ঞাও শুধু কারখানার বৃত্তে আটকে নেই। সারা সমাজজুড়ে তৈরি হয়েছে সামাজিক শ্রমের নতুন ধারণা। একইভাবে কিন্তু বাংলাদেশে ‘টোকাই’দের ধারণাও আজ বিস্তৃত হয়ে পড়েছে।

চার.

যদি আজকে আমাদের সমাজের দ্বন্দ্ব শাসকশ্রেণীর ‘দেশপ্রেমিক’ আর টোকাইদের মধ্যে এসে ঠেকে, আমাদের পক্ষপাতিত্বকেও আজ স্পষ্ট করে আমাদের বুঝে নিতে হবে। যেই ‘দেশপ্রেমিক’রা আমাদের হতাশা, নিপীড়ন আর ব্যর্থতার দিকে বারবার ঠেলে দিচ্ছে তাদের পক্ষে নয়, ইতিহাসকে আজকে নির্মাণ করতে হবে টোকাইদের পক্ষেই।

শাসকশ্রেণীর ‘দেশপ্রেমিক’ প্রতিনিধিরা, আপনাদের জন্য আমাদের টোকাইদের একটি বার্তা আছে। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন তো? মার্কস যেমন বলেছিলেন বুর্জোয়ারা তাদের নিজেদের কবর খনন করেছে প্রলেতারিয়েত তৈরি করে আপনারাও তেমনি কোটি কোটি টোকাই তৈরি করে ফেলেছেন আপনাদের শোষণ-নিপীড়নের সীমাহীন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। আমাদের সমুদ্রের সম্পদ আপনারা বিক্রি করে দিয়েছেন, বিদেশী বাঁধ আর অসম পানি বণ্টনের চুক্তি আমাদের নদী শুকিয়ে ফেলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের তেরশ’ নদীর বহতা স্রোতের মতো, সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের মতো টোকাইরা এই দেশের মালিকানা দাবি করতে যদি আজকে ধেয়ে আসে, আপনাদের ভুল ‘দেশপ্রেমের’ বালির বাঁধ দিয়ে কি তা রুখতে পারবেন?
[উপ-সম্পাদকীয়, সাপ্তাহিক বুধবার]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, ঢাকা ষ্টক একচেঞ্জ ডিএসই

এক বছরের পুঁজিবাজার ।। অনেক অঘটন ইতিহাস হয়ে থাকবে


এক বছরের পুঁজিবাজার ।। অনেক অঘটন ইতিহাস হয়ে থাকবে

শেয়ার বিজ্‌ রিপোর্টঃ পুঁজিবাজারের ইতিহাসে গত বছরটি ছিল বাজার সম্প্রসারণ, লেনদেন ও সূচকের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের বছর। এ সময়ে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো রাজধানীর গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলা শহরে। ফলে তৃণমূল পর্যায় থেকে টাকা আসতে শুরম্ন করে শেয়ারবাজারে। আর হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা সামাল দিতে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে ব্যর্থ হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সময় ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে উদাসীন ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক অবস্থান করে ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্টে। এদিন লেনদেনের পরিমাণ (টাকায়) দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা এবং বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭১ কোটি টাকায়। অনেকের চোখে ওই দিনটি ছিল ২০১০ সালে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে স্বর্ণালি দিন।

এরপর ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরম্ন হয় দরপতনের পালা। এদিন লেনদেন শুরম্নর মাত্র ৭৫ মিনিটের মধ্যে সূচক ৫৪৭ পয়েন্ট বা সাড়ে ৬ শতাংশ কমে যায়। এদিন বেলা ২টার দিকে সূচক আবার ৫৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮৬২৬·৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। দিনের শেষভাগে তা আবার নেমে আসে ৮৪৫১·৫৯ পয়েন্টে। যা আগের দিনের চেয়ে ১৩৪ পয়েন্ট কম। দেশের পঁুজিবাজারে সূচক ওঠানামার এ রকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এর আগে ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর শেয়ার কেলেঙ্কারির সময় সর্বোচ্চ ২৩৩ পয়েন্ট বা ৬ শতাংশের মতো সূচক কমেছিল।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারের উত্থান প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক সিইও সালাহ উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, গত এক বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতায় বাজারে যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা পঁুজিবাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠা না গেলে আবারো এমন দুংসময় আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে। তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা এবং চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যহীনতায় বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে। এতে অনেকে ড়্গতিগ্রস্তô হয়েছেন আবার অনেকে লাভবানও হয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যাই বেশি।

ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী এ ব্যাপারে বলেন, গত অর্থবছরে ডিমান্ড ও সাপস্নাইয়ের ভারসাম্যহীনতায় বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে। তবে আগামী বছর এ ২টির সমন্বয় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন বাজার আবার দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতায় ফিরে আসবে।

বাজার বিশেস্নষণে দেখা যায়, গত বছরের সর্বোচ্চ বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭১ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, সূচক ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ৩ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বছর শেষে মূলধন ৮২ হাজার ৬৮২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৯ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, সূচক ২ হাজার ৮০০ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১১৭ পয়েন্ট এবং আর্থিক লেনদেন ২ হাজার ২৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ২১ হাজার টাকা কমে দাঁড়ায় ৯৫৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।

জানা যায়, ২০০৯ সালে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছিল তার রেশ ২০১০ সালেও ছিল। চলতি বছরও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাজারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা সবার। সরকার পঁুজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইনি সংস্ড়্গার, কারসাজি চক্রকে শাস্তিôর আওতায় আনতে অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ, এসইসির পুনর্গঠনসহ নানামুখী সিদ্ধান্ত নেয়। ড· এম খায়রম্নল হোসেনকে চেয়ারম্যান করে পুনর্গঠিত এসইসি, ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজারবান্ধব বাজেট নিয়ে শুরম্ন হলো আরেকটি বছরের যাত্রা। চলতি বছর নতুন নেতৃত্বে পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, dhaka stock exchange

ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা


ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা
ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা

এ এইচ রানাঃ তারল্য সংকট, মুদ্রাবাজারে অস্থিরতাসহ পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। এতে করে অনেকেরই ধারণা ছিল ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা কমে আসতে পারে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অধিকাংশ ব্যাংক বছরের প্রথমার্ধে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ৭ মাস ধরে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটসহ নানা সমস্যার বিষয় উপস্থাপন করা হলেও বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অধিকাংশ ব্যাংকই রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা করেছে। চলতি বছরের জুন ক্লোজিং শেষে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার প্রাথমিক তথ্য এ চিত্রে উঠে এসেছে। জুন ক্লোজিং শেষে ব্যাংকগুলো প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের পরিচালন মুনাফার হিসাব-নিকাশ করেছে। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ড়্গেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন পুরোদমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আসবে। যে কারণে বছর শেষে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে মনে করছেন বিশেস্নষকরা। এদিকে বরাবরের মতো অর্ধবার্ষিক হিসাবে পরিচালন মুনাফার পরিমাণের দিক থেকে সর্বাধিক আয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। ৬ মাসে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফার দিক থেকে ইসলামী ব্যাংকের পরই রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৫৭ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৫৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১৫০ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময় করেছিল ১১০ কোটি টাকা। একইভাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ১৫৮ কোটি, গত বছর ছিল ১৩০ কোটি, শাহজালাল ব্যাংক করেছে ১৬৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৬০ কোটি, যমুনা ব্যাংক করেছে ১৫০ কোটি, এসআইবিএল করেছে ১৩৫ কোটি, গত বছর ছিল ১০৫ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১৩৩ কোটি,গত বছর ছিল ১৩৯ কোটি, ট্রাস্ট ব্যাংক করেছে ১০৬ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ৮০ কোটি, তবে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ব্যাংকটি এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ১০২ কোটি, অথচ গত বছর একই সময় ছিল ২১০ কোটি, একইভাবে মিউচুøয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক করেছে ৬৫ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ১০৪ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ব্যাংক এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ৭৮ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০ কোটি, বেসিক ব্যাংক করেছে ১৩৬ কোটি, গত বছর ছিল ৬২ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক করেছে ৪৯০ কোটি, গত বছর ছিল ৩৬৫ কোটি, প্রাইম ব্যাংক করেছে ৪০৫ কোটি, গত বছর ছিল ৩৩৫ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংক করেছে ৩২৫ কোটি, গত বছর ছিল ২৯৫ কোটি, পূবালী ব্যাংক করেছে ২৮০ কোটি, গত বছর ছিল ২৮৪ কোটি, ইউসিবিএল করেছে ২৮০ কোটি, গত বছর ছিল ২২৬ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক করেছে ২৫০ কোটি, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ২৪৫ কোটি, গত বছর ছিল ২২০ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক করেছে ২৩০ কোটি, গত বছর ছিল ২৫০ কোটি, ব্যাংক এশিয়া করেছে ২১৫ কোটি, গত বছর ছিল ২১৪ কোটি, এনসিসিবিএল করেছে ২০১ কোটি, গত বছর ছিল ১৮৫ কোটি, এবি ব্যাংক করেছে ২০০কোটি, গত বছর ছিল ২০০ কোটি, ঢাকা ব্যাংক করেছে ১৯৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৮১ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক করেছে ১৮৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৪০ কোটি, ওয়ান ব্যাংক করেছে ১৮০ কোটি, গত বছর ছিল ১৬৪ কোটি, সিটি ব্যাংক করেছে ১৮০ কোটি, আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংক করেছে ১৭৭ কোটি, গত বছর ছিল ১৪০ কোটি ও উত্তরা ব্যাংক বছরের প্রথমার্ধে পরিচালন মুনাফা করেছে ১৭০ কোটি, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পরিচালন মুনাফা প্রকাশের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফা প্রকাশ করতে পারে না। এ বিধিনিষেধ এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে। এসইসি মূল্য সংবেদনশীল বিবেচনায় এ তথ্য প্রকাশ করতে দিতে চায় না। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে যারা প্রতিনিয়ত কেনাবেচা করেন এবং যাদের হাতে কোনো ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, তারা ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমেই এ তথ্য আগেভাগে পেয়ে থাকেন। সে ড়্গেত্রে সংবাদপত্রে তথ্য প্রকাশিত হলে সব বিনিয়োগকারী একই তথ্য পেতে পারেন।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী পরিচালন মুনাফা প্রকাশ একটি সাধারণ নিয়মের বিষয়। তবে নিট মুনাফাই ব্যাংকের প্রকৃত আয়। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরড়্গণ এবং কর (৪২·৫ শতাংশ) বাদ দিয়ে নিট মুনাফার হিসাব হয়। উপরন্তু প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্য-উপাত্ত কিছুটা কমবেশি হতে পারে। কেননা কোনো কোনো ব্যাংকের জুন হিসাব শেষ হলেও এর অনেক ধরনের হিসাব চূড়ান্তô করতে আরো কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

ফলে এতে মুনাফার টাকা কমে বা বেড়ে যেতে পারে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীকে অপেড়্গা করতে হয় নিট বা প্রকৃত মুনাফার হিসাব পাওয়া পর্যন্তô।

সব মিলিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও অধিকাংশ ব্যাংক রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে সড়্গম হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিপর্যয় নেমে না এলে পরিচালন মুনাফার পরিমাণ আরো বাড়তো। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ড়্গেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নমনীয় মনোভাবের কারণে পুঁজিবাজার যেমন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সড়্গম হবে, ঠিক তেমনি বছর শেষে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশিস্নষ্টরা।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, dse, cse, dhaka stock exchange

উইকিলিকসের প্রকাশিত বেশ কিছুসংখ্যক তারবার্তায় বাংলাদেশ


আ’লীগের জয়ে খুশি ভারত, ডেথ স্কোয়াড, মাদরাসা সংস্কারে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন

উইকিলিকসের চাঞ্চল্যকর তথ্য

উইকিলিকসের সদ্য ফাঁস করা এক তারবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন কর্তৃক সরকারি ‘ডেথ স্কোয়াড’ নামে অভিহিত বাংলাদেশী আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাবকে ব্রিটিশ সরকার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। মার্কিন দূতাবাসের ফাঁস হওয়া তারবার্তার বরাত দিয়ে উইকিলিকস আরো বলেছে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা ইনভেস্টিগেটিভ ইন্টারভিউ টেকনিকস ও ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’-এর ওপর ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত লোককে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বন্দীদের ওপর রুটিনমাফিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

উইকিলিকসের ফাঁস করা অন্য এক তারবার্তায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষার পাঠক্রম পরিবর্তনে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কাজ করছে। এ ছাড়া ফুলবাড়ী কয়লাখনিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়েছিল।

গোপন নথি ফাঁস করে আলোড়ন সৃষ্টিকারী উইকিলিকসের তথ্যে বলা হয়, ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে নয়াদিল্লির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষাকারী আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী খুশি হয়েছিলেন। পিনাক রঞ্জন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টিকে বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগিতা বাড়ানোই হবে ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরে প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে সন্ত্রাস প্রতিরোধ। পিনাক রঞ্জন বলেন, মন্ত্রী যৌথ টাস্কফোর্স গঠনে শেখ হাসিনার আহ্বানকে স্বাগত জানাবেন। ভারত যদিও মূলত দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের দিকেই নজর দেবে, তবুও শেখ হাসিনা খুবই ভারতঘেঁষা­ এ অভিযোগ থেকে তাকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা আড়াল দিতে বাংলাদেশের আঞ্চলিক টাস্কফোর্স গঠনে জোর দেয়ার কারণটি উপলব্ধি করছে। অবশ্য হাইকমিশনার টাস্কফোর্সটি যাতে আরেকটি আঞ্চলিক কথার দোকান (টক শপ) না হয়ে ফলপ্রসূ টাস্কফোর্সে পরিণত হয়, সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উইকিলিকসের এসব তথ্যের উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে এসব তথ্য পরিবেশন করে।

ফুলবাড়ী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ

ফুলবাড়ী কয়লাখনিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়েছিল বলে উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন নথিতে বলা হয়েছে। এই নথির ভিত্তিতে গার্ডিয়ানে বলা হয়েছে, গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর সাথে বাংলাদেশে নিযু্‌ক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বৈঠক করেন।

‘বৈঠকে মরিয়ার্টি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল কোল মাইনিং ম্যানেজমেন্টকে ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিতে বলেন’। তিনি বলেন, কয়লা উত্তোলনে উন্মুক্ত পদ্ধতিই সর্বোত্তম পন্থা। এ প্রতিষ্ঠানই ২০০৬ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ফুলবাড়ী থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ওই বিক্ষোভে সেনাদের গুলিতে তিনজন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হন। তবে বাংলাদেশ সরকার এখনো কয়লা প্রকল্পটি চালু করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। মানবাধিকার কর্মীদের বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির আশঙ্কায় বিষয়টি নিয়ে এখনো ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

পরে আরেকটি তারবার্তায় মরিয়ার্টি ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখ করেন, ফুলবাড়ী প্রকল্পের পেছনে থাকা এশিয়া এনার্জি কোম্পানির ৬০ শতাংশ মার্কিন বিনিয়োগ। এশিয়া এনার্জি কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদূতকে বলেন, তারা খুবই আগ্রহী যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার এ প্রকল্পের ব্যাপারে অনুমোদন দেবে। তবে মরিয়ার্টি উল্লেখ করেন, তৌফিক-ই-ইলাহী স্বীকার করেন, কয়লাখনিটি রাজনৈতিকভাবে খুবই স্পর্শকাতর।

মাদরাসায় পরিবর্তনে সক্রিয় যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র

উইকিলিকসের তথ্যে বলা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষার পাঠক্রম পরিবর্তনে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কাজ করছে। ‘সামষ্টিক সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের’ অংশ হিসেবে দেশ দু’টি মাদরাসা পাঠক্রমকে প্রভাবিত করতে চায়।

উইকিলিকসের তথ্যে বলা হয়, মাদরাসার পাঠক্রম পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ (ডিএফআইডি) একত্রে কাজ করছে। এক তারবার্তায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের অনিয়ন্ত্রিত মাদরাসাগুলোর জন্য একটি মান পাঠক্রম তৈরি ও প্রয়োগের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কিভাবে দেয়া হবে তা দুই দেশের সমন্বিত পরিকল্পনায় আছে বলে বার্তায় জানান মরিয়ার্টি। মাদরাসা ‘পাঠক্রম উন্নয়ন পরিকল্পনা’র অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড’র দেয়া এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

লন্ডনের মুসলিম ইনস্টিটিউটের ড. গিয়াসউদ্দিন সিদ্দিক স্বীকার করেন, ডিএফআইডি’র উদ্যোগটি ছিল দক্ষিণ এশিয়া ইসলামের চরমপন্থা রোধের জন্য। তিনি বলেন, ‘এটি অনেক পুরনো সমস্যা’। ‘অনেক আগেই অনিয়ন্ত্রিত মাদরাসাগুলোর পাঠক্রমের দিকে নজর দেয়া উচিত ছিল। ডিএফআইডি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বাংলাদেশে প্রায় ৬৪ হাজার মাদরাসা রয়েছে। যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রথাগত বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারেন না তাদের সন্তানরা প্রায়ই বিনামূল্যে মাদরাসায় শিক্ষার সুযোগ পায়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে প্রায় ১৫ হাজার অনিয়ন্ত্রিত মাদরাসা নিয়ে সচেতন বর্তমান সরকার। এসব মাদরাসায় অন্যগুলোর তুলনায় শিক্ষার গড় মান ভালো নয়। ‘মাদরাসার বিরুদ্ধে সন্তানদের চরমপন্থী করে তোলার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।’

‘গত সপ্তাহে মাদরাসার অর্থের উৎস তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার’, উল্লেখ করে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির মাদরাসায় ঘাঁটি গাড়ছে­ এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

ডেথ স্কোয়াডকে সহযোগিতা

উইকিলিকসের প্রকাশিত বেশ কিছুসংখ্যক তারবার্তায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের সন্ত্রাসবাদ দমনসংক্রান্ত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। একটি তারবার্তায় এটা পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবকে মানবাধিকার বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কোনো সহায়তা দেবে না এবং মার্কিন আইনানুযায়ী এটা করা হবে অবৈধ। কেননা র‍্যাব সদস্যরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ ঘটনার সাথে জড়িত এবং এ জন্য তাদের কোনো ধরনের শাস্তি পেতে হয় না।

ছয় বছর আগে র‍্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী সে থেকে এ পর্যন্ত এ বাহিনীটি ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সহস্রাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে র্যাবের মহাপরিচালক বলেছিলেন, তার সদস্যদের হাতে ক্রসফায়ারে ৫৭৭ জন মারা গেছেন। এ বছর মার্চে তিনি এ সংখ্যা ৬২২ জনে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

গার্ডিয়ানে বলা হয়, তারবার্তায় এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে যে, ব্রিটিশ ও আমেরিকা উভয়ই বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমন কর্মকাণ্ড জোরদারে এ বাহিনীকে সহায়তা দিতে তাদের সঙ্কল্পের কথা জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হচ্ছে এই যে, বিগত দশকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে র্যাবের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মনোভাব ইতিবাচক। সাধারণ মানুষ তাদের সপ্রশংস ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখেন। একটি তারবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি এ মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে র‍্যাব এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং এক দিন এটি ইউএস ফেডারেল বুøরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) বাংলাদেশী সংস্করণে পরিণত হবে।’

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য একটি তারবার্তায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তারা র‍্যাবকে ১৮ মাস ধরে ইন্টারভিউয়ের অনুসন্ধানী কৌশল ও কর্মতৎপরতা পরিচালনার বিধির মতো কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। র্যাবের জন্য প্রশিক্ষণ সহায়তাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাজ্য সরকার দেশটিকে মানবাধিকারসংক্রান্ত কতগুলো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তবে র্যাবের প্রশিক্ষণ প্রধান মেসবাহ উদ্দিন গার্ডিয়ানকে বলেছেন, গত গ্রীষ্মে কাজে যোগদানের পর থেকে তিনি এ ধরনের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যাপারে অবহিত নন।

তারবার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, তিন বছর আগে লেবার সরকারের আমলে র্যাবে প্রশিক্ষণকার্যক্রম শুরু হয়। তবে র‍্যাব কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, কোয়ালিশন সরকার গঠিত হওয়ার পাঁচ মাস পর অক্টোবরে তারা কতগুলো কোর্স ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন। মন্ত্রীরা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুমোদন করেছেন কি না তার জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ ও অন্যদের সন্ত্রাসবাদ দমনে অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তারবার্তায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্যাখ্যা করেন, মার্কিন সরকার র্যাবের বিরুদ্ধে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অঙ্গীকারের কারণে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এই অভিযোগের কারণে এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কিংবা অন্য কোনো সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ততা হারিয়েছে। মার্কিন আইনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পার পেয়ে যাওয়া বিদেশী কোনো সামরিক ইউনিটকে মার্কিন অর্থসহায়তা দেয়া যাবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও রবাবরই র্যাবের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। আর বাংলাদেশী মানবাধিকার সংগঠন অধিকার তো ২০০৪ সালের মার্চ মাসে র‍্যাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এটি যেসব বিচারবহিভূêত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে তার বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ রেখেছে। মানবাধিকার গ্রুপগুলোর উদ্বেগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘আমরা সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতার অপারেশনাল দিকটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি না। সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আমাদের আইন ও মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। অন্তত ব্রিটিশ প্রশিক্ষণের কিছু কর্মরত ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এসব ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশিং ক্যাপাসিটি ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল পুলিশিং ইমপ্রুভমেন্ট এজেন্সির (এনপিআইএ) পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করেন। র্যাবের সাম্প্রতিক ফোর্সগুলো পরিচালিত হয় ওয়েস্টমার্সিকা ও হামবারসাইড পুলিশের কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এনপিআইএ বাংলাদেশ পুলিশ ও র‍্যাবকে কারিগরি কিছু ক্ষেত্রে সীমিত সহযোগিতা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে­ ফরেনসিক সচেতনতা, অপরাধ সংগঠনের স্থান সংরক্ষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ উদ্ধার প্রভৃতি। সমগ্র প্রশিক্ষণে আমরা এ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছি, সাক্ষী, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও ভিকটিমের মানবাধিকারকে সর্বাধিক সম্মান জানাতে হবে। আমাদের সহযোগিতার লক্ষ্য হচ্ছে পুলিশের পেশাগত মানোন্নয়ন। পুলিশ যাতে গণতান্ত্রিক আচরণ ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সে বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয় প্রশিক্ষণে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের একাধিক সরকার র্যাবের হাতে হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানোর ব্যাপার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে র্যাবের বিচারবহিভূêত হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দুই বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর তারা সে আগের ধারাই অব্যাহত রেখেছে। গত বছর অক্টোবর মাসে বিবিসি আয়োজিত একটি আলোচনায় নৌপরিবহনমন্ত্রী এম শাহজাহান বলেছিলেন, এমন কিছু কর্মকাণ্ড আছে যেগুলোর বিচার দেশের আইন দ্বারা সম্ভব নয়। সে কারণে সরকারকে বিচারবহিভূêত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখতে হতে পারে। যে পর্যন্ত না সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির মূলোৎপাটন করা যাবে সে পর্যন্ত ক্রসফায়ার নামের এই কর্মটি চলার দরকার আছে।

আওয়ামী লীগের জয়ে খুশি ভারত

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী খুশি হয়েছিলেন।

গোপন নথি ফাঁস করে আলোড়ন সৃষ্টিকারী উইকিলিকসের তথ্যে বলা হয়, ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে নয়াদিল্লির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষাকারী আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী খুশি হয়েছিলেন।

পিনাক রঞ্জন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এফ মারিয়ার্টিকে বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগিতা বাড়ানোই হবে ভারতের অগ্রাধিকার। ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরে প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে সন্ত্রাস প্রতিরোধ। পিনাক বলেন, মন্ত্রী যৌথ টাস্কফোর্স গঠনে শেখ হাসিনার আহ্বানকে স্বাগত জানাবেন। ভারত যদিও মূলত দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের দিকেই নজর দেবে, তবুও শেখ হাসিনা খুবই ভারতঘেঁষা­ এ অভিযোগ থেকে তাকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা আড়াল দিতে বাংলাদেশের আঞ্চলিক টাস্কফোর্স গঠনে জোর দেয়ার কারণটি উপলব্ধি করছে। অবশ্য হাইকমিশনার টাস্কফোর্সটি যাতে আরেকটি আঞ্চলিক কথার দোকান (টক শপ) না হয়ে ফলপ্রসূ টাস্ক ফোর্সে পরিণত হয়, সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। ভারত প্রায়ই অভিযোগ করে থাকে­ আন্তর্জাতিক ইসলামি সন্ত্রাসীরা প্রায়ই বাংলাদেশকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে এবং ভারতে বোমা ও বিভিন্ন ধরনের হামলা চালানোর জন্য প্রায়ই সীমান্ত অতিক্রম করে থাকে। নয়াদিল্লি আরো জানায়, বাংলাদেশকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহারকারী ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামসহ (উলফা) ভারতের চরমপন্থী গ্রুপগুলোর মূলোৎপাটনের জন্য ঢাকার আরো কিছু করা দরকার।

উইকিলিকসের আরেক নথিতে বলা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এবং ‘ট্র্যাক ২’ প্রোগ্রামের বিষয়টি বিবেচনা করছে যাতে সুশীলসমাজ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আরো ব্যাপক সমন্বয় সাধন করবে। পিনাক বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি ‘সব সময়ই সাদরে গ্রহণযোগ্য’। নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বাংলাদেশী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য শেখ হাসিনার সন্ত্রাস প্রতিরোধবিষয়ক একজন ‘জার’ নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবেও ভারতীয় হাইকমিশনার ইতিবাচক সাড়া দেন। শেখ হাসিনার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ভেঙে দেয়া উচিত হবে না বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে একমত হন পিনাক রঞ্জন (সন্ত্রাস প্রতিরোধের জন্য র‍্যাব বাংলাদেশের প্রধান বাহিনীতে পরিণত হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি গঠন করায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এই বাহিনী নিয়ে সংশয় পোষণ করতেন)।

পিনাক বলেন, নির্বাচনের পরপরই এক বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মৃতপ্রায় রেলব্যবস্থায় বিপুল বিনিয়োগের জন্য খুব আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে ছিল ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার সাথে বাংলাদেশী রেললাইনের পুনঃসংযোগ সাধন। পিনাক রঞ্জন উল্লেখ করেন, তিনি ১২-১৩ তারিখে পানিসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী রমেশচন্দ্র সেনের সাথেও বৈঠক করেছেন (এর পরপরই বাংলাদেশী মিডিয়া খবর প্রকাশ করে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভারত থেকে আসা নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে বিতর্ক অবসানে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে শিগগিরই বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে)।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরো বলেন, ভারত আগরতলায় নতুন প্রতিষ্ঠিত ৭৫০ মেগাওয়াটের নতুন বিদুøৎকেন্দ্র থেকে মারাত্মক জ্বালানি সঙ্কটে থাকা বাংলাদেশে ২৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদুøৎ বিক্রির প্রস্তাব দেবে। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, বিদুøতের দাম নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি এবং বাংলাদেশকে তার জাতীয় বিদুøৎ গ্রিডের সাথে ওই প্লান্টের সংযোগসাধনের জন্য ব্যয়বহুল অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। পিনাক রঞ্জন ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ভারতীয় কোম্পানিগুলো নতুন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগের বিষয়টি নির্ভর করছে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার তাদের সামর্থø ও প্রযুক্তিকেন্দ্র গঠনের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনের ওপর।

[নয়া দিগন্ত ডেস্ক]

এক দশকে জমির দাম বেড়েছে ৭শ’ শতাংশ : অভিমতঃ বাড়িভাড়া প্রসঙ্গ


এক দশকে জমির দাম বেড়েছে ৭শ’ শতাংশ

সমকাল, Wed 22 Dec 2010
গত এক দশকে রাজধানীতে এলাকা ভেদে কাঠা প্রতি জমির দাম বেড়েছে গড়ে ৭০০ শতাংশ। অভিজাত এলাকায় দাম বেড়েছে আরও বেশি। জমির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই ফ্ল্যাটের দাম আকাশছোঁয়া।

Housing in Dhaka


বেসরকারি হাউজিং কোম্পানি শেলটেকের এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল শেলটেক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন শেলটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তৌফিক এম সেরাজ। এতে আবাসন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে ড. তৌফিক বলেন, মূলত জমির অগি্নমূল্যের কারণেই ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে আবাসন একটি সম্ভাবনাময় খাত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। আবাসন খাতের এ সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তার মতে, আবাসন খাতের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে সমন্বয়ের অভাব। বিদ্যমান বিধি, আইন ও নীতিমালার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। সুষ্ঠু আবাসন শিল্প বিকাশের জন্য সমন্বয় খুবই জরুরি। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু জমি নয়, আবাসন খাতের অন্যান্য উপকরণ ইট, বালু, সিমেন্ট ও রডের দামও বেড়েছে বহুগুণ। গত দশ বছরে ইটের দাম বেড়েছে ৩০০ শতাংশ, সিমেন্ট ২০০ শতাংশ, রড ২৫০ শতাংশ। নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে ফ্ল্যাটের দামের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার ওপর যোগ হয়েছে জমির দাম। এ প্রসঙ্গে ড. তৌফিক বলেন, ধানমণ্ডিতে এখন প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ১৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমির দামের কারণে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। ঢাকা শহরে চাপ কমাতে নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদ তৌফিক এম সেরাজ বলেন, একটি প্লান পাস করতে রাজউক এক বছর সময় নেয়। অথচ আইনে আছে ৪৫ দিন। এ ধরনের নীতির কোনো যৌক্তিকতা নেই।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বারিধারায় ২০০০ সালে প্রতি কাঠা জমির দাম ছিল ৫০ লাখ টাকা। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩ কোটি টাকা। গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডিতে ২০০০ সালে প্রতি কাঠা জমির দাম ছিল ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। মোহাম্মদপুর, উত্তরায় প্রতি কাঠা জমির দাম ছিল ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা । এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা। মিরপুরে ২০০০ সালে প্রতি কাঠা জমির দাম ছিল ৭ লাখ টাকা, ২০১০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ টাকা। বাসাবোতে ২০০০ সালে প্রতি কাঠা জমির দাম ছিল ৮ লাখ টাকা, এখন ৩৫ লাখ টাকায়ও সে জমি পাওয়া যায় না। ২০০০ সালে এলাকা ভেদে গড়ে ঢাকা শহরে প্রতি কাঠা জমির দাম ছিল সাড়ে ১৭ লাখ টাকা, ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত দশ বছরে গড়ে ঢাকা শহরের এলাকা ভেদে জমির দাম বেড়েছে ৭ গুণ বা ৭০০ শতাংশ। ২০০০ সালে প্রতি পিস ইটের দাম ছিল আড়াই টাকা। এখন বেড়ে দাঁড়িছে ৭ টাকা। ২০০০ সালে প্রতি বেগ সিমেন্টের দাম ছিল ১৯৩ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ টাকা। ২০০০ সালে প্রতি টন রডের দাম ছিল ২১ হাজার ৩০০ টাকা, এখন ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত চলি্লশ বছরে বেসরকারি ডেভেলপার কোম্পানিগুলো ১ লাখ ফ্ল্যাট সরবরাহ করেছে। তবে জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় আবাসন সংকট এখন তীব্র। বিশেষ করে ঢাকা শহরে এই সংকট আরও প্রকট। তাই এ শিল্পের রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা।

অভিমতঃ বাড়িভাড়া প্রসঙ্গ

হুসাইন আল জাওয়াদ
বাড়িওয়ালারা ভাড়ার ব্যাপারে কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেন না। তাদের খেয়াল খুশিমতো ভাড়া নির্ধারণ করেন। বছর যেতে না যেতেই ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপিয়ে দেন অতিরিক্ত ভাড়ার নোটিশ। ফলে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মাঝে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। যারা কম আয়ের মানুষ, তাদের হয়তো বাড়িওয়ালার এই অসঙ্গত ভাড়া দিতে না পারায় ছাড়তে হয় বাসা। নয়তো গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। তাদের আয়ের ৬০ ভাগই চলে যায় এই ভাড়ার পেছনে। বাকি টাকা দিয়ে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন চালাতে হয়। এসব মানুষের বেশির ভাগই বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কম বেতনভোগী। সরকারি চাকুরেদের বছর বছর বেতন বাড়লেও বেসরকারিদের বেলায় অনেকের ক্ষেত্রেই অন্য রকম নিয়ম। কয়েক বছর পরও বেতন বাড়ান না ওই সব মালিকপক্ষ। বেশির ভাগই তিন থেকে আট হাজার টাকার বেশি বেতন পান না। অথচ অন্যপক্ষে সরকারি একজন পিয়নও এখন পাঁচ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতন পান। দেশের ৯৫ শতাংশ লোকই বেসরকারি চাকরিজীবী। সুতরাং শতকরা তিন-চার ভাগ সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানোর সাথে বাড়িভাড়া বাজারে দ্রব্যমূল্য তরতর করে বেড়ে যায়। যার ভোগান্তির শিকার হয় দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ। এ দিকে সরকারের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

বাড়িভাড়ার ব্যাপারে নীতিমালা থাকলেও সে নীতিমালাকে মালিকরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের ইচ্ছামাফিক ভাড়া বাড়াতেই থাকেন। অথবা কেউ সে নীতিমালা সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ। এ জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী। ভুক্তভোগী জনগণ এ নীতিমালার প্রয়োগ দেখতে চায়। বেসরকারি নাগরিক সংহতির এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়াকে তাদের আয়ের অর্ধেকই খরচ করতে হচ্ছে ভাড়ার পেছনে।
উচ্চ বাড়িভাড়া ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন। গত ১৭ মে উচ্চ আদালত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে সরকারের প্রতি রুলও জারি করেন। কিন্তু ভাড়াটিয়ারা বলছেন, এতে কোনো লাভ হয়নি। বাড়িভাড়া সংক্রান্ত ১৯৯১ সালের আইনের প্রতি তিন বছর পর আলোচনাসাপেক্ষে এবং বাড়ি সংস্কার করা হলে ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ আদৌ দেখা যায় না। নাগরিক সংহতির জরিপে আরো বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়াদের ১৬ শতাংশই বলেছেন, প্রতি ছয় মাস পরপর বাসাভাড়া বাড়ানো হয়। ৪৫ শতাংশ ভাড়াটিয়ার উক্তি, প্রতি এক বছর পরপর ভাড়া বাড়ানো হয়। আর ১৩ শতাংশ বলেছেন, প্রতি এক বছর পরপর ভাড়া বাড়ানো হয় মালিকের ইচ্ছেমতোই।
ক্যাবের এক জরিপে বলা হয়েছে, গত ১৮ বছরে ঢাকা শহরে ভাড়া বেড়েছে ২৮৫ শতাংশ। ১৯৯১ সালের আইনে ভাড়া আদায়ের রসিদ দেয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও কেউ এই আইন মানেন না। (সূত্রঃ প্রথম আলো, ১৫.০৭.১০)

ইত্তেফাকের শিরোনাম ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণহীন’। ১৫ বছরে বেড়েছে তিন গুণ। আইন থাকলেও অকেজো। বাড়িভাড়া বাড়ানো দণ্ডযোগ্য অপরাধ তা জানেন না বহু বাড়ির মালিক। এক শ্রেণীর বাড়িওয়ালা পৌরকর, গ্যাস, বিদুøৎ, পানির মূল্য বাড়ানোর অজুহাতে ঘনঘন অনেকটা চক্রবৃদ্ধিহারে বাসাবাড়ির ভাড়া বাড়িয়ে যাচ্ছেন। এতে নগরীর তিন-চতুর্থাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাড়াটিয়া নির্ধারিত ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মালিক কর্তৃক দুর্বøবহার, পানি দিতে কৃপণতা, ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ, পেশিশক্তির ব্যবহার­ এ অভিযোগ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। আর ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ জোরপূর্বক বাড়িতে থাকা, নিয়মিত ভাড়া না দেয়া, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে ঢাকার একটি জোনের দায়িত্বে থাকা রেন্ট কন্ট্রোলার জানান, নতুন বাড়ি করার পর রেন্ট কন্ট্রোল বিভাগকে জানালে তারা তদন্ত করে ভাড়া নির্ধারণ করবেন এবং বাড়ির মালিককে সার্টিফিকেট দেয়ার পরই কেবল ভাড়া দেয়া যাবে। এমন আইন দরকার। (ইত্তেফাক, ২৭.০৮.১০)
বাড়িভাড়া বাড়ানো সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করার পরও কোনো বাড়িওয়ালাকে সোচ্চার কিংবা সংশোধন হতে দেখা যায়নি, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বাড়িওয়ালারা কেন এবং কোন অসাধু চক্রের ইঙ্গিতে এসব আইনের তোয়াক্কা না করে বাড়িভাড়া বাড়িয়ে চলছেন লাগামহীন, তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল যত দ্রুত বিষয়টি উপলব্ধি করবেন ততই মঙ্গল।
লেখকঃ কবি ও সাংবাদিক, বাংলাবাজার, ঢাকা

লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস এ বিজয় দিবস উদযাপিতঃ ১৫-১৬ ডিসেম্বর, ২০১০


লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস এ বিজয় দিবস উদযাপিতঃ
১৫-১৬ ডিসেম্বর, ২০১০

-বাংলাদেশের বিজয় প্যারেডে প্রবাসীদের আগ্রহ

-বাংলাদেশ কন্স্যুলেট, লস এঞ্জেলেস  কর্তৃক বিজয় দিবস উদযাপন। লস এঞ্জেলেস এ স্থায়ী কন্স্যুলেটএর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে অচিরেই বাংলাদেশ থেকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টীম আসছে। স্থান সংকুলান হেতু সর্বস্তরের প্রবাসীদের বিজয় দিবস উদযাপনে আমন্ত্রন না জানাতে পেরে কন্সাল জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্বা এনায়েত হোসেনের দুখঃ প্রকাশ। দেশের ও মানুষের অব্যাহত সুখ-সমৃদ্বি নিয়ে মুনাজাত। প্রবাসীদের বক্তব্য , কবিতা ও সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ও নৈশ ভোজের আয়োজন।
DSC09536

জাহান হাসান
লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস

৮১৮ ২৬৬ ৭৫৩৯

www.EkushTube.com

%d bloggers like this: