পবিত্র রমজান উপলক্ষে লস এঞ্জেলেস সিটি হলে ইন্টারফেইথ ইফতার ও ডিনার


পবিত্র রমজান উপলক্ষে লস এঞ্জেলেস সিটি হলে ইন্টারফেইথ ইফতার ও ডিনার

একুশ নিউজ মিডিয়া, লস এঞ্জেলেস, জুলাই ১০,২০১৩:
দি সিটি অব লস এঞ্জেলেস হিউম্যান রিলেশন্স কমিশন (এইচ আর সি এল এ) গত বুধবার সিটি হলের টম ব্র্যাডলী টাওয়ারে এক আন্তধর্মীয় ইফতার ও ডিনারের আয়োজন করেন।

ধর্মীয় অনুভুতিতে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আদর্শকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্কলার, পুরোহিত, ইমাম সহ বিভিন্ন স্তরের কমিউনিটির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অংশ নেন।

HRC-Interfaith Meeting in Los Angeles

2013 CITY HRC INTERFAITH IFTAR DINNER @ Los Angeles City Hall

বক্তব্যে ইসলামী চিন্তাবিদ ডঃ মেহার হাতুত বলেন, ভিন্নধর্মীদের কাছে প্রমাণিত করতে প্রয়োজন হবে শুধুই যুক্তি, ধৈর্য, সহনশীলতা আর শালিনতার। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে আমাদের ব্যক্তিগত সততা ও বদান্যতা, সেই সাথে ধর্মীয় অনুভুতির নিরপেক্ষ বিশ্বাস।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষে হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি ডঃ জান্নাহ স্কট ধর্মীয় সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রসারিত করতে সকল ধর্মের এক কথা আদর্শ ও মানবিকতা নিয়ে একসাথে কাজ করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্টের বানী পৌঁছে দেন।

এইচ আর সি এল এল এ ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডার ওয়াসি মামুন তরুণদের মাঝে রমজানের শিক্ষার অভিব্যক্তি নিয়ে আলোকপাত করেন।
ইফতার প্রার্থনা পরিচালনা করেন ফিকাহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকার চেয়ারম্যান ডঃ সিদ্দীকী।
collage-Interfaith
অনুষ্ঠানে বিশপ শেরাপেইন ও ডঃ মেহার হাতুতকে আন্ত-ধর্মীয় সংযোগের জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ওয়ান নেশন ইনিশিয়েটিভের এলিসা বাফেইকে ও সম্মাননা জানায় এইচ আর সি এল এ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এইচ আর সি এল এ-র সিনিয়র পলিসি ডিরেক্টর জুমানা সিলান-সাবা ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্যাট্রিশিয়া ভিয়াসিনোর। মেয়রের পক্ষে তার প্রেস সচিব আমন্ত্রিত অতিথিদের সিটি হলের ২৭ তলায় টম ব্র্যাডলী টাওয়ারে অভর্থ্যনা জানান।

অনুষ্ঠানে মিশর, পাকিস্তানের কন্সাল জেনারেল ছাড়াও বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মাঝে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাফলার ভাইস প্রেসিডেন্ট আফম জিয়াউল ইসলাম ও কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট, মিডিয়া কর্মী জাহান হাসান।

IMG_2257003

Bangladeshi Journalist & Community Activist Jahan Hassan with Dr. Jannah Scott, Center of the White House Office of Faith-based & Neighborhood Partnerships at 2013 CITY HRC INTERFAITH IFTAR DINNER in Los Angeles City Hall

More Pics: http://goo.gl/TZoIo

https://www.facebook.com/groups/littlebangladeshlosangeles/
#HRCLosAngeles #LittleBangladesh

শুভ নববর্ষ স্বাগত স্বাগতম ২০১৩ Happy New Year 2013: Bangladeshi Los Angeles Style


শুভ নববর্ষ 2013: লস এঞ্জেলেসে আনন্দঘন আয়োজনে নতুন বছরকে স্বাগতমঃ
ভিডিওঃ আনন্দধারা বহিছে ভুবনেঃ

ছবি লিঙ্কঃ
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151308912426897.497750.826936896&type=0a77cca6da

সবাইকে ইংরেজী নববর্ষ ২০১৩ সালের শুভেচ্ছা। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ২০১২ এই ইংরেজী সালটি আমাদের চলমান ডায়েরি থেকে খুয়ে গেলেও, ২০১৩ আসছে সম্ভাবনার নতুন বারতা নিয়ে। তাই এই নববর্ষটিকে জানাই সাদর সম্ভাষণ। মনের সব কালিমা ও ব্যর্থতাকে ঝেড়ে-মুছে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে চলুন নতুন করে সুন্দর এক ভবিষ্যত এর পানে ছুটে চলি যেখানে নিশ্চিত হবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও প্রতিশ্রুতিশীল এক আবাসভূমি। সময় ও মহাকালের বহমান প্রবাহে কখনো কোন ছেদ ঘটে না। প্রতি মুহূর্তেই সময় বয়ে চলে সমান তালে। মানুষের মনে সেই বোধটা সবসময় উপলব্ধিতে আসে না। তবে কোনো কোনো সময় বেশ স্পষ্টভাবে সে সম্পর্কে বোধোদয় হয়। তেমনি একটি সময়কাল হলো ঠিক তখন, যখন আমরা পুরনো ক্যালেন্ডারটি বদলে দেয়ালে নতুন ক্যালান্ডার ঝুলাই। যখন পুরনো বছর সমাপনান্তে ঘটে আরেকটি নতুন বছরের সূচনা। তা সে হোক না বাংলা ক্যালেন্ডার কিংবা ইংরেজি ক্যালেন্ডার, যে কোনোটা। আজ নতুন ইংরেজি বছর ২০১৩-এর যাত্রা শুরু। অনেক চিন্তার সাথে আজ এ জিজ্ঞাসাটি জোরালোভাবে মনে জাগাটা বেশ স্বাভাবিক যে, পার হয়ে আসা ২০১২ সালটি কেমন গেল?

লস এঞ্জেলেসে অরল্যান্ডো ফোবানা ২০১২ কমিটির সাংবাদিক সম্মেলন


একুশ নিউজ মিডিয়া জাহান হাসানলস এঞ্জেলেসে অরল্যান্ডো ফোবানা ২০১২ কমিটির সাংবাদিক সম্মেলন

লস এঞ্জেলেস, ৬ আগস্ট (জাহান হাসান, একুশ নিউজ মিডিয়া): যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডে উইকেন্ডে অর্থাৎ আগামী ৩১ আগষ্ট ও ১-২ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফোবানা বাংলাদেশ সম্মেলন ২০১২। সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে অরল্যান্ডো ফোবানার ২০১২ কমিটির ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটি ২০১২ এর চেয়ারম্যান ড. জয়নাল আবেদীন লস এঞ্জেলেসে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। লস এঞ্জেলেসের আলাদীন রেষ্টুরেন্টে এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন অরল্যান্ডো ফোবানা ২০১২’র মেম্বার সেক্রেটারি বাবুল হাই ও কো-কনভেনর মোঃ খসরু।
মেম্বার সেক্রেটারি বাবুল হাই লস এঞ্জেলেস তথা সমগ্র ক্যালিফোর্ণিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের গতানুগতিক সম্মেলনে থেকে এবারের ভিন্নধর্মী, আর্কষনীয় অরল্যান্ডো ফোবানা সম্মেলন ২০১২-তে যোগ দিয়ে প্রবাসে নতুন এক ধারা সৃষ্টির ইতিহাসের সাথে প্রবাসীদের সংযুক্ত হবার আহ্বান জানান। বিশ্বখ্যাত টুরিষ্ট ডেস্টিনেশন অরল্যান্ডো ডিজনী ওয়ার্ল্ডের সন্নিকটে তিন হাজার আসনের ২০ হাজার স্কয়ার ফুটের সান রিজোর্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম ও বাংলাদেশী শিল্প-সংস্কৃতির এক মহা-মিলন মেলা।

লস এঞ্জেলেস থেকে সম্মেলনে যোগদানকারী প্রবাসীদের সুবিধার্থে থাকবে আকর্ষনীয় প্যাকেজ ডিল। লেবার ডে উইকেন্ডে মাত্র ৭৯ ডলারে ওয়ার্ল্ডগেট রিসোর্ট হোটেল এন্ড কনফারেন্স সেন্টারে রুম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় এয়ারপোর্ট থেকে সম্মেলন স্থল, ডিজনী ওয়ার্ল্ড, সী ওয়ার্ল্ড, কেনেডি স্পেস সেন্টার সহ অন্যান্য আকর্ষনীয় স্থানে সহজে যাতায়াত ও গাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা বাংলা খাবার, দেশী ষ্টাইলে চা দোকানসহ সম্মেলনে থাকবে ১০টি সেমিনার, নতুন প্রজন্মের ট্যালেন্ট শো, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। প্রবাসীদের সুবিধার্থে থাকবে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভ্রাম্যমান অফিস। বাংলাদেশ সরকারের শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন। বিনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগ দিচ্ছেন। অতিথিদের তালিকায় আরো রয়েছেন ফোরিডার গভর্ণর, সিনেটরসহ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন ও দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কো-কনভেনর ও কালচারাল কমিটির প্রধান মোঃ খসরু লস এঞ্জেলেস থেকে অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও সংগঠনদের জন্য বিশেষ ডিসকাঊন্ট রেটে খাবার ও অন্যান্য সুবিধার কথা ঘোষণা করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস, শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, কনক চাপা, মোহাম্মদ খসরু, তপন চৌধুরী, শফিক তুহিন, আরেফিন রুমী, শাহনাজ বেলী ও কণা’র উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন তানভীর শাহীন, জাফরীন অনি, শাহ মাহবুব, ফারজানা পপি, নাদীরা ও আশরাফ রানা। বাংলাদেশ সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল ফোরিডা ইনক ও চয়নিকা শিল্পী গোষ্ঠী ইনক যৌথভাবে এই অরল্যান্ডো ফোবানা সম্মেলন ২০১২ মূল আয়োজক।

সাংবাদিক সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত একুশ নিউজ মিডিয়ার জাহান হাসান বলেন, ফোবানা নামের একটি বিরাট শক্তিকে দ্বিধা-বিভক্ত করে আঞ্চলিক কাঠামোর মাঝে এনে প্রবাসীদের বিভিন্ন ফোবানা অনুষ্ঠানের নামে পারষ্পরিক দ্বিধা-দ্বন্ধ তৈরি করে শুধু সময় ও অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। তার ফলশ্রতিতে মূলধারায় নতুন প্রজন্ম ও বাংলাদেশী শিল্প-সংস্কৃতি প্রসারের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছেনা। এনআরবি ও আমেরিকান বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ হবার এখনি সময়।

প্রশ্নের জবাবে ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটি ২০১২ এর চেয়ারম্যান ড. জয়নাল আবেদীন বলেন, আগামী ফোবানা সম্মেলন যাতে ইউনিফাইড হয় তার জন্য তিনি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং সপরিবারে এই সম্মেলন উপভোগ করার আহ্বান জানান। ২০১৩ সালে লস এঞ্জেলেস এ ফোবানা নিয়ে আসবার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী।

কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট রবীন্দ্রনাথের নতুন বউঠানের শেষ চিঠি


রবীন্দ্রনাথের নতুন বউঠানের শেষ চিঠি

কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট

লেখক – রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক – পত্র ভারতী, মূল্য – ১০০.০০

আবীর মুখোপাধ্যায়
কলকাতা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২

বিহারীলালের সঙ্গে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের কোনও ‘গহন’ সম্পর্ক’? নাকি তৎকালীন কলকাতার বিখ্যাত এক নটীর সঙ্গে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের গোপন প্রণয়? না, বিয়ের পর আদরের রবির জীবনে নতুন অধ্যায়-  ঠিক কোন ঘটনা দায়ী, কবির বিয়ের সাড়ে চার মাসের মাথায় নতুন বউঠান কাদম্বরীদেবীর আত্মহত্যার জন্য? সঠিক উত্তরটি হয়ত বা জানতেন রবিঠাকুর স্বয়ং। বউঠানের আত্মহত্যার পরে হয়ত তাই লিখেছিলেন, ‘আমি জানি, আত্মহত্যার কারণ জিজ্ঞেস করলে কী সে কহিত, কী তাকে দহিত!’ 

যে ঠাকুরবাড়ি, পুত্রবধূর আত্মহত্যার পর মরদেহ মর্গে পাঠায় না, স্ক্যান্ডেল এড়ানোর উদ্দেশ্যে ৫১ টাকা ১২ আনা খরচ করে জোড়াসাঁকোর বাড়িতেই করোনার কোর্ট বসিয়ে রিপোর্ট গোপন করে এবং খবরের কাগজের মুখ বন্ধ রাখার জন্য ঘুষ দেয়, সেই বাড়ির এক বহুচর্চিত পরকীয়া সম্পর্কের মন-বিশ্লেষণের সৌরভ নিয়ে রঞ্জনের এই নব্য উপন্যাস। স্বয়ং মহর্ষির উদ্যোগে করোনার রিপোর্ট লোপ করা বা, কেন ‘সুইসাইড নোট’ গায়েব করা হল ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের এমনতরো বিতর্কিত প্রসঙ্গের সদুত্তর মেলে না রঞ্জনের ১২০ পাতার উপন্যাসে। মেলে, এক মধ্য তেইশের নারীর প্রেম ও দহনের বারমাস্যা। কাহিনির বাঁকে কাদম্বরী রবিকে তাই বলেছে, ‘তুমি জানো কোথায় আমার কষ্ট, আমার দহন’! বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে এখানেই রঞ্জনের কাহিনির উড়ান। 

ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের কাদম্বরীর আত্মহনন প্রসঙ্গ নিয়ে লেখালিখি শুরু হয়েছিল বহুকাল আগে। সে প্রায়, ১৯০০ সালে। সোফিয়া পত্রিকায় ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় তাঁর ‘দ্য ওয়ার্ল্ড পোয়েট অফ বেঙ্গল’ প্রবন্ধে কবির সঙ্গে বউঠানের সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছিলেন, রবীন্দ্র-কবিতায় যে ‘স্পিরিট’ তার উৎসে আছে ‘an excruciating pain of an unrequited love’। তবে, বিস্তৃত ভাবে প্রথম ‘শনিবারের চিঠি’-তে ধারাবাহিক ভাবে লেখেন জগদীশ ভট্টাচার্য। কাদম্বরীদেবীকে নিয়ে যাঁরা জগদীশ ভট্টাচার্যের ‘কবিমানসী’ বা, মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘কবির বউঠান’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘প্রথম আলো’ অথবা রবীন্দ্র-জীবনীকার প্রভাত মুখোপাধ্যায়, রবিজীবনী’-র অথর প্রশান্তকুমার পাল, রবীন্দ্র গবেষক জ্যোতির্ময় ঘোষ, অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য পড়েছেন, তাঁরা ভিরমি খাবেন না। কেন না, রঞ্জন সন-তারিখ মিলিয়ে জীবনকেন্দ্রিক এ উপন্যাসে ঠাকুরবাড়ির রোজনামচা হয়ত লেখেন নি। কিন্তু, এ উপন্যাস নিছক প্রাপ্ত-মনস্কদের গল্প নয়, বলা যায় খানিকটা গসিপ। গসিপের যেমন একটা ছুতো থাকে, কখনও ভিত্তি – এ কাহিনি ঠিক তেমন। বাকিটা রঞ্জনের সহজিয়া গদ্য ভাষার লালিত্যে পরকীয়া-প্রেম। যে প্রেম নিকষিত হেম-ই, কাম গন্ধ নেই তাতে! ভালো লাগে সেই পরকীয়া প্রেমের শোভন ও সহজপাঠ।
 

প্রদীপ জ্বালানোর আগে যেমন সলতে পাকানোর একটা কাহিনি থাকে। এ উপন্যাস শুরুর আগে লেখক তেমন একটি নাতিদীর্ঘ কাহিনি-সূত্র রেখেছেন। ইটালিক্স বাংলা হরফে তিন পাতার সেই ইতিহাস নির্ভর, একশো সাতাশ বছরের পুরানো, কাহিনি সূত্রে; কাদম্বরীদেবীর আফিম খেয়ে আত্মহনন ও শেষ দু্’ দিনের ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের কথা বারমহলে আনতে গিয়ে; রঞ্জন লিখছেন, ‘ঠিক সুইসাইড ‘নোট’ নয়। এক সুদীর্ঘ চিঠি। চিঠিটার সর্বাঙ্গ ঝলসে গেছে আগুনে। সব চিঠিটা ঠিক পড়াও যায় না। ঝলসানো চিঠিটিকে কে বাঁচিয়েছিলেন আগুন থেকে? রবীন্দ্রনাথ?…’ ব্লার্বেও এই প্রসঙ্গ, ঔপন্যাসিকের ‘প্রাক্-কথন’-এও এক কথার পুনরাবৃত্তি। সংবেদনশীল পাঠক এখানেই টের পান, উপন্যাসের মূল ‘কি-ওয়ার্ড’-টি লেখক পাঠকের হাতে যেন তুলে দিলেন এখানেই। এ উপন্যাস আসলে সেই কল্পিত কথাচারিতার এক দীর্ঘ গোপ্য চিঠিই। নতুন বউঠান লিখছেন ‘প্রাণের রবি’-কে।

পরকীয়া কাহিনির শুরুতেই এক মোক্ষম মোচড়। রবিকে তাঁর বউঠান লিখছেন, ‘আজকাল তোমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। সেটাই তো স্বাভাবিক। মাত্র চারমাস বিয়ে হয়েছে তোমার’। এর ঠিক পরের পরিচ্ছদে, ‘আগে তো সূর্য ওঠার আগে তুমি উঠতে। আমার ঘুম ভাঙাতো তোমার সকালবেলার গান। আমরা একসঙ্গে যেতাম নন্দনকাননে। …তারপর একদিন সেই বাগানে ভোরের প্রথম আলোয় আমাকে চুমু খেয়ে জিগ্যেস করলে- ‘নতুন বউঠান, নামটা তোমার পছন্দ হয়েছে?’ আমার সমস্ত শরীরের তখন কাঁটা দিচ্ছে। আবার ভয়ে বুক করছে দুরদুর। ঠাকুরপো, ‘এমন দুঃসাহস ভালো নয়, কেউ দেখে ফেললে…’!

কাদম্বরী চরিত্রের দুর্বহ যন্ত্রণার দিকটি আঁকতে গিয়ে তাঁকে ঠাকুরবাড়ির মহিলামহল এবং কর্তাব্যাক্তিদের নিয়ত অপমানের খন্ডচিত্র এনেছেন রঞ্জন। এর সঙ্গে, একদিকে নতুনদাদার প্রত্যাখান। অন্যদিকে, বর্ষণমুখর দিনে রবীন্দ্রের বরণমাল্য। প্রেমের আশ্চর্য সারল্যে লেখা এই পর্বের খানিকটা উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। ‘বৃষ্টিতে ভিজছ তুমি। …তোমার আয়ত দুটি চোখে মেঘলা আকাশের মায়া। তুমি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলে, ‘ঠাকুরবাড়িতে একটি উপবাসে আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি। চিরকাল, আদরের উপবাস’। …তোমার মুখের দিকে মুখ তুলে বললাম, ‘আমাকে একটু আদর করবে ঠাকুরপো? কতদিন – কতদিন কোনও আদর পাইনি আমি। তুমি যেন জলদেবতা। সামান্য নীচু হলে তুমি। আমার মুখখানি তুলে নিলে কত আদরে – চুমু খেলে আমার ঠোঁটে। এক ঝলকের আলতো চুমু। মনে হল, এই প্রথম আদর পেলাম আমি’। যে অলস দ্বিপ্রহরের প্রান্তবেলায় কাদম্বরী জানলার ধারে মালা গাঁথতে গাঁথতে ঘুমিয়ে পড়েছিল, সেদিনকার দৃশ্যকল্পটিও তুখোড়। পড়তে পড়তে আমার কেবলই মনে পড়ছিল ওই গানটির কথা, ‘যখন যাব চলে ওরা ফুটবে তোমার কোলে,/ তোমার মালা গাঁথার আঙুলগুলি মধুর বেদনভরে/ যেন আমায় স্মরণ করে…অলস দ্বিপ্রহরে’। 

মল্লিকা তাঁর বইতে ধরেছিলেন একটা সময়। যে সময়ে, ‘একইসঙ্গে খেলা করেছে সৃজনশীল এক আশ্চর্য সময় আর নিঃসঙ্গ ভালাবাসার বিষাদ’। অন্যরা, কেবল গবেষকের মন নিয়ে তথ্যনিষ্ঠ নিবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু সুনীলের পর, রঞ্জন তাঁর উপন্যাসে ধরেছেন সতেরো বছর ধরে চলা একটা সম্পর্কের মন বিশ্লেষণের সৌরভ! উপন্যাসের মধ্য পর্বে গিয়ে কাদম্বরী ও রবির পারস্পরিক ভালবাসার স্বীকারোক্তি চিঠি এনেছেন লেখক।  কাদম্বরীদেবীর বয়ানে খানিকটা স্বগতোক্তির ঢঙে বলে যাওয়া এই সব চিঠিতে, উপন্যাসের কাহিনি ঘিরে ভিড় করেছে ঠাকুরবাড়ির বিচিত্র চরিত্র ও তাদের দোস্তির দস্তুর। এঁরা সকলেই প্রায় ঐতিহাসিক নরনারী। নেহাত রঞ্জনের ‘গসিপ’-এর কুশীলব নয়। মানুষগুলোর সামাজিক পরিচয় দেবার জন্য চিঠির পরতে পরতে বে-আব্রু করে দেন লেখক। বোঝা যায়, এ উপন্যাসের সব চরিত্র কাল্পনিক নয়। 

কাহিনির নির্মিতির অভিনব ঠাট ও কথনভঙ্গিমার প্রেম-তন্ময়তা আমাকে বারবার মুগ্ধ করে। তবু, বাংলা উপন্যাসের হাওয়া বদলের পর লেখা একে ঠিক হয়ত ‘উপন্যাস’ বলা যায় না। কেন না, চিঠি একটি ব্যাক্তি-পুরুষের আত্মগত খন্ড-বিচ্ছিন্ন ভাবনা। ঘটনার পারম্পর্য বা ধারাবাহিকতার সংহতি থাকে না সেখানে। যা নেই-ও এ লেখায়। তাই প্রায় পরিচ্ছদ বদলের সঙ্গে সঙ্গেই একটি স্বতন্ত্র এপিসোড হয়ে ওঠে। কাদম্বরীর একই কথার অনুরণন তোলে, ‘মৃত্যু যতই এগিয়ে আসছে, বিদায়ের ঘণ্টা যতই শুনতে পাচ্ছি, ততই যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে মন, ভাবনারা সব ছড়িয়ে যাচ্ছে, তাদের ওপর আমার শাসন আলগা হয়ে যাচ্ছে’। কখনও কাদম্বরী বলছেন, ‘ঠাকুরপো, কথায়-কথায় খেই হারিয়ে কোথায় চলে এলাম। তোমাকে তো বলেইছি, মনটা বড্ড এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারছি না’। আর এই এলোমেলো কথার ভিতর দিয়েই কাদম্বরী মুখে তার ছোট্ট জীবনের গল্প বলেছেন। 

উপন্যাস শেষ করে, বউঠাকুরানির কথা ভাবতে ভাবতে কষ্ট হয়, করুণা হয় মধ্য তেইশের ওই রমণীর জন্য। কেননা, তিনি নিজেকে তো জানতেনই। আর এও জানতেন কবি নিরুপায়। বুঝেছিলেন, এই প্রণয় শেষ হবে বেদনরাগে। একটু একটু করে উপন্যাসের একেবারে শেষে রঞ্জন তাই যেন পিলু-কালাংড়া আর পরজ-কীর্তনে দুঃখরাগের মীড় বিছিয়ে দিয়েছেন। কবির বউঠান চিরতরে চলে গেলেন নিভৃতে! নিঃশব্দে যেন, ঢেউয়ের মতন ভেসে গেলেন চাঁদের আলোর দেশে! পাঠ ফুরিয়ে দূর নীলিমার দিকে তাকিয়ে থাকি। একরকম মনখারাপ হয়। বুঝি, এ মনখারাপ রঞ্জনের বউঠান চরিত্রের জন্য মনকেমনের মনখারাপ! এখানেই জিতে যান লেখক।

KadambariDebir Suicide Note by Ranjan Bandyopadhyay

BADAM’er ADDA: An Evening with Ranjan Bandyopadhyay in Hollywood

FaceBook Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151015787146897.452333.826936896&type=1&l=9eeafb6909
FaceBook Video:
http://www.facebook.com/v/10151327095401897

রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন


১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

গেল অর্থবছরে ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন (এক হাজার ২৮৫ কোটি) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা বা ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। 
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্স সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১১-১২ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে আসা ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে জুন মাসে এসেছে ১০৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
 
১২ মাসের মধ্যে মাত্র মাস দুই মাস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ একশ’ কোটি ডলারের কম ছিল। বাকি দশ মাস এসেছে একশ’ কোটি ডলারের বেশি।
 
এর মধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে জানুয়ারি মাসে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১২২ কোটি ১৪ ডলার। এক মাসের হিসাবে যা ছিল সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।
 
রেমিটেন্স বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৭০ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তবে মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
 
২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ কোটি ডলার।
 
এ ছাড়া বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ডলারের কিছু বেশি।
 
৭৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার এসেছে ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যাধ্যমে। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ এক কোটি ৯৫ লাখ ডলার।


রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন

প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স আমাদের দেশে মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা বরাবরই মূল্যহীন। এরা আমাদের কাছে শুধুই শ্রমিক হিসেবে গণ্য। প্রতিবছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে প্রবাসীরা। অথচ তাদের কোনো মূল্য নেই আমাদের দেশে। কোনো শ্রমিক বিদেশে মারা গেলে কোম্পানির খরচে দেশে পাঠানো হলেও স্টুডেন্ট বা ভিজিট ভিসায় গমনকারীদের চাঁদা তুলেই দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হয়।

সরকার কর্তৃক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে। এছাড়া চরম নিরাপত্তা হুমকিতে দিন কাটাতে হয় বাংলাদেশের প্রবাসীদের। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দেশের বাইরে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে তারা। এভাবে অনেকটা মূল্যহীন এবং অবহেলিত হয়েই প্রবাস জীবন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ রয়েছে, এসব শ্রমিক দেশে এসে কোনো রকম কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না।

বিদেশে অবস্থানকালে হাইলি স্কিলড এসব জনশক্তি আমাদের দেশে এসে অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। উপরন্তু কোনো রকম প্রবাসী ফান্ড বা ট্রাস্ট নেই বলে দেশে এসে শূন্য হাতেই জীবন কাটাতে হয় তাদের। বিদেশে অবস্থান কালে চিকিৎসা সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করলেও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেও কোনো রকম রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায় না তারা। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স জাতীয় অর্থনীতির জন্য মূল্যবান হলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই আমাদের দেশে। এছাড়া বাইরে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো রকম নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় জালিয়াত চক্রের হাতে হরহামেশা প্রতারিত হচ্ছে দেশের শিক্ষিত যুবকরা। গুটিকয়েক দেশীয় চক্র উচ্চ শিক্ষার নামে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সমপ্রতি মার্কিন দূতাবাস থেকে পাওয়া এক অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির পুরনো আবেদন ফরম ও ছবিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। এছাড়াও ইমিগ্রেশন পুলিশ জালিয়াতি করে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন সময় প্রায় ১ হাজার ৫শ’ যুবককে আটক করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সমপ্রতি একটি জালিয়াত চক্র উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৫৫ জন যুবকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। পরে তাদের বিদেশে না পাঠিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে।

ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে বিদেশ যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় জালিয়াত চক্র সুযোগ পেয়ে অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ভিজিট ভিসার নামে হাজার হাজার যুবক বিদেশে যায়। সেখানে গিয়ে নানা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র রোহিঙ্গাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে অনেককেই আটক করা হয়। কিন্তু এরপর সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে আদম বেপারীরা চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণ-তরুণীদের বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখায়। প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ হাজার তরুণ-তরুণী বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে গত প্রায় এক বছরে দেড় হাজার তরুণ-তরুণীকে গলাকাটা পাসপোর্টসহ নানা অভিযোগে ইমিগ্রেশনে আটক হয়েছে বলে জানা গেছে। আটককৃতদের মধ্যে অনেকেই ভুয়া ছাত্র সেজে উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশ যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে অন্য কাজ করে। আবার অনেকেই ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে। কেউ কেউ গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে জালিয়াতি করে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সঠিক পাসপোর্ট এবং কাগজ-পত্র ভেবেই তারা অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু যখন জানতে পারে পুরো বিষয়টিই ভুয়া তখন আর কিছুই করার থাকে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইমিগ্রেশন পুলিশের এক অপরাধ বিশেষজ্ঞ শীর্ষ কাগজকে জানান, এ জালিয়াত চক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য দেশে রাজধানী, বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা চালানো দরকার। এয়ারলাইনসগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। সংশ্লিষ্ট মতে, উচ্চশিক্ষার নামে চটকদার বিজ্ঞাপনগুলো খতিয়ে দেখার জন্য সরকারিভাবে একটি মনিটরিং সেল থাকা প্রয়োজন

ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০১২


নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা- আমরা সবাই মুজিব সেনা
ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০১২
৮ জুলাই ২০১২, সন্ধ্যা ৫-১০
শ্যাটো রিক্রিয়েশনাল সেন্টার, লস এঞ্জেলেস
ভিডিও নিউজঃ
You are all cordially Invited at the Awami League Conference in California 2012

ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ


ঢাকার বাতাসে বিষ

বুধবার প্রতিবেদন ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ। বাতাসের দূষণ এতটাই মাত্রাতিরিক্ত যে, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বছরে কয়েক হাজার মানুষ মারা যায় এ দূষণের কারণে। এছাড়াও লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন শ্বাসজনিত রোগে ভোগে। জাতীয় পর্যায়ে রাজধানীর বাতাস দূষণের বোঝাটি এতটাই ব্যাপক যে প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প পরিমাণের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর এটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি সমাপ্ত বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বায়ু দূষণ দেশের মৃত্যুহার এবং মানুষের কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ।

ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা সম্প্রতি এতটাই বেড়েছে যে, বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা দূষিত উপাদানের কারণে মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা শ্বাসনালী সংক্রান্ত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। বায়ু দূষণের কারণে ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি রক্তশূন্যতাও দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দূষিত বায়ুর কারণে শিশুরা এলার্জি, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত রোগ এতটাই প্রকট যে, তা ডায়রিয়ার প্রকোপকেও ছাড়িয়ে গেছে। দূষিত বাতাসের মাধ্যমে ফুসফুসে সিসা ও অদৃশ্য বস্ত্তকণা ঢুকে নিউমোনিয়া ও রক্তস্বল্পতা দেখা দিচ্ছে। তবে তারা বলছেন, এসব রোগ আগেও ছিল। আর ১০ বছরে তা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। তাছাড়া, আগে সামান্য পরিচর্যায় এসব রোগ ভালো হলেও এখন শিশুদের বয়স্কদের মতো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

শনিবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দীর্ঘ লাইন- যাদের একটি বড় অংশই শ্বাসজনিত রোগী। কথা হয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সুমা আক্তারের (১৩) পিতা সিদ্দিক মোল্লার সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে সুমা মাঝে মাঝে মাথায় ব্যথা অনুভব করছে। বিশেষ করে স্কুল থেকে ফেরার পর মাথা ব্যথাটা বেশি অনুভব করে। বর্তমানে যন্ত্রণা অনেক বেশি হয়েছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। লিপি মন্ডলের বয়স মাত্র সাত বছর। কিন্তু এই বয়সেই তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে লিপির শ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিপির মা নমিতা মন্ডল বলেন, আমাদের বংশে কারো শ্বাসকষ্ট রোগ নেই। তারপরও কী কারণে আমার মেয়ের এ রোগ হলো তা বুঝতে পারছি না। রক্তশূন্যতায় ভোগা সিহাবের (৭) মা নূরু-উন-নাহার জানান, শিহাবের বাবা রিকশা চালায়। দীর্ঘদিন ধরে সে রক্তশূন্যতায় ভুগছে। বর্তমানে একই সঙ্গে তার শ্বাসকষ্ট রোগ হয়েছে। শুধু সুমা, লিপি, সিহাব ও মিম নয় ঢাকা শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের প্রতি সাতজনের চারজনই অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত।

একই চিত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে। এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের একটা বড় অংশ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। তসলিমা আক্তারের (১০) মা জাহানারা বেগম জানান, তার মেয়ের রাতে প্রচন্ড কাশি হয়। একই সঙ্গে তসলিমার শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। রেজাউল করিমের (৭) পিতা করিম উদ্দিন বলেন, রেজাউলের প্রায় সময়ই মাথা ব্যথা করে। কাশিও হয়। তবে কাশির সঙ্গে কোনো কফ নেই। আর মাঝে মাঝে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।  কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন হচ্ছে বলে তিনি জানান। সেকেন্দারের (৯) পিতা এনামূল হক জানান, গত সপ্তাহে একবার এনামুলকে ডাক্তার দেখানো হয়। ওষুধ খাওয়ানোর পর শ্বাসকষ্ট কিছুটা কম হয়েছে। তবে এখনো রাতে মাঝে মাঝে সমস্যা দেখা দেয়। ফারহানা আক্তারের (৪) পিতা স্বপন মোল্লা জানান, জন্মের সময় থেকে তার অ্যাজমার সমস্যা ছিল বলে ডাক্তার জানিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি মেয়েকে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি। বর্তমানে তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

ইবনে সিনা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের শতকরা প্রায় ১১ ভাগ রোগীই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। এক সপ্তাহে ইবনে সিনার ধানমন্ডি শাখার জরুরি বিভাগে ১৯৫ জন চিকিৎসা নিয়েছে। যাদের মধ্যে ২৩ জনই ব্রঙ্কিয়ালে আক্রান্ত। এছাড়া একই কারণে হাসপাতালটিতে গত এক সপ্তাহে ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ফারুক রেজার (৬) পিতা রফিক রেজা জানান, শুক্রবার ও শনিবার তিনি ছেলেকে নিয়ে বই মেলায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ফারুকের কাশি হয়। শ্বাস নিতে সামান্য কষ্টও হচ্ছিল। পরে সমস্যা আরো বেড়ে গেলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তামান্না জাহান রোজির (৪) মা রোকেয়া আক্তার বলেন, রোজির জন্মের পর থেকেই এমন সমস্যা। সামান্য ঠান্ডা লাগলেই শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। তাই মেয়েকে সবসময় সাবধানে রাখি। কিন্তু বর্তমানে কোনো কারণ ছাড়াই সমস্যা লেগেই থাকছে। হালিমা আক্তার জ্যোস্নার (১৩) মা হাসিনা আক্তার বলেন, শীতের শুরুতে জ্যোস্নার সামান্য সর্দি-কাশি হয়। এটা জন্মের পর থেকেই হচ্ছে। তবে দুই-এক সপ্তাহ পর সাধারণত ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর পুরো শীতকাল জ্যোস্না সর্দি-কাশিতে ভুগেছে। আর বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।

এ ব্যাপারে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু) অধ্যাপক তাহমিনা বেগম বলেন, বায়ু দূষণের কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সঙ্গে বিষাক্ত সিসা প্রবেশ করছে। ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক হারে কমে যাচ্ছে। তাই সামান্য কারণেই তারা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে তা শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা বা নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে। শহরে বায়ু দূষণের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে এসব এলাকায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, আমার ২২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে বলতে পারি আগের থেকে এখন শিশুরা এসব রোগে প্রায় তিনগুণ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, বায়ু দূষণের কারণে সাধারণত শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া করা, নিউমোনিয়া, রক্তদূষণ, চর্মরোগ হয়ে থাকে। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে সিসা ও অদৃশ্য বস্ত্তকণার হার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা এলার্জি, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা জাতীয় রোগে আক্রান্ত। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত এমন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াদুদ গনি বলেন, বর্তমানে যেসব শিশু চিকিৎসাসেবা নিতে আসছে তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ব্রঙ্কিয়াল রোগে ভুগছে। আগেও শিশুদের এসব সমস্যা দেখা যেত। সে সময় পরিচর্যা আর সামান্য চিকিৎসা নিলে সাধারণত ভালো হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সমস্যাটা পূর্ণবয়স্কদের মতো করে দেখা দিচ্ছে। তাদের দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে।

শ্বাসজনিত রোগের কারণ ও প্রকোপ যে কতটা প্রকট তার প্রমাণ মিলে পরিবেশ বিভাগের তথ্য থেকেও। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাপক জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা যদি বর্তমান পর্যায় থেকে শতকরা ২০ ভাগও কমিয়ে আনা যায় তাহলে বছরে কম করে হলেও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যায় এমন ১২০০ থেকে ৩৫০০ মৃত্যু ঠেকানো যায়। এছাড়াও প্রতি বছর কম করে হলেও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ থেকে ১০ কোটি কমে আসত।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশ সরকারের ‘নির্মল বাতাস ও টেকসই পরিবেশ’ প্রকল্পের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে রাস্তায় ব্যাপক সংখ্যক গাড়ি ও আশপাশের ইটের ভাটা থেকে উৎসারিত ধোঁয়াশা, রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি ও দালানকোঠা নির্মাণ কাজ থেকে উৎসারিত দৃশ্য ও অদৃশ্য কণা, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কারখানার বর্জ্য ইত্যাদি। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই বায়ু দূষণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে পারলে সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যয় বছরে ১৭ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় করা যেত।

পরিবেশ অধিদফতরের সূত্রে ঢাকার একটি দৈনিকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে কম করেও ২৫০ মাইক্রোগ্রাম ধূলিকণা ভেসে বেড়াচ্ছে। সবচেয়ে শঙ্কার ব্যাপার সহনীয় মাত্রার চেয়ে এই পরিমাণ কম করেও পাঁচগুণ বেশি। ঢাকার বাতাসে সাধারণ ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো হচ্ছে সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ওজোন, হাইড্রোজেন সালফাইড, বিভিন্ন ধরনের সালফেট ও নাইট্রেট এবং দ্রবীভূত বিভিন্ন জৈব পদার্থ ইত্যাদি। এর সঙ্গে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষাক্ত ধাতব যৌগ। এসব ধাতব পদার্থের মধ্যে রয়েছে সীসা, পারদ, ম্যাংগানিজ, আর্সেনিক, নিকেল ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে বেঞ্জিন, ফরমালেডেহাইড, পলিক্লোরিনেটেড বাইফেনাইল, ডক্সিন ও অন্যান্য অদ্রবীভূত জৈব যৌগ।

বাতাসে এসব বিষাক্ত পদার্থ এত পরিমাণেই ভেসে বেড়াচ্ছে যে, ঢাকাকে তা একটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ঢাকার বাতাস যে কতটা বিষাক্ত ও দূষিত তার প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত একটি সমীক্ষা থেকে। এই সমীক্ষার ফলাফল দিয়ে তারা যে এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ২০১২ তৈরি করেছে, সে অনুযায়ী বিশ্বের মোট ১৩২টি দূষণ আক্রান্ত নগরীর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৩১তম।

বাংলাদেশ পরিবেশ বিভাগের পরিমাপে, মাত্রা অনুযায়ী প্রতি কিউবিক মিটার বাতাসে ২.৫ মাইক্রনের ৬৫ মাইক্রোগ্রাম ও ১০ মাইক্রনের ১৫০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সহনীয়। কিন্তু এই বিভাগের পরিমাপে শীত ঋতুতে এই মাত্রা ২৭৪ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০০৮ সালে ঢাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ছিল গড়ে ৩৩৯ দশমিক ২৩ মাইক্রোগ্রাম, ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৮ দশমিক ১৩ মাইক্রোগ্রাম এবং ২০১০ ও ২০১১ সালে পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ঘনমিটারে ৫৩৮ দশমিক ২০ ও ৬২৮ দশমিক ১২ মাইক্রোগ্রামে। একইভাবে বেড়েছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন যৌগসহ সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য কণা।

পরিবেশ বিভাগের মতে, এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাতাসে বিভিন্ন ধরনের কণার পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে কম থাকে। কিন্তু নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ ভয়াবহ আকারে বেড়ে যায়। এ সময় এই পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে ৪৬৩ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই দূষণের মাত্রা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বায়ু দূষণের শিকার বলে পরিচিত দুটি শহর মেক্সিকো ও মুম্বাইয়ের বায়ু দূষণের মাত্রা হলো প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৩৮৩ ও ৩৬০ মাইক্রোগ্রাম।

বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হচ্ছে অটোমোবাইল, ইটের ভাটা, শিল্পবর্জ্য, যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা নির্মাণ ও রাসায়নিক কারখানা, অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো (সড়ক, গৃহ) নির্মাণ কাজ, মেরামত, নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনীহা ইত্যাদি। ২০০২ সালের আগে গ্যাসোলিন দিয়ে গাড়ি চালানো, পুরনো গাড়ি বিশেষ করে টু স্ট্রোক অটোরিকশা বাতিল করায় ও সিএনজি দিয়ে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশ বিভাগের তথ্য মতে, নতুন করে ডিজেল চালিত পুরনো গাড়ি, ইটের ভাটা ও অবকাঠামো (গৃহ ও রাস্তাঘাট) নির্মাণ নিয়ন্ত্রণহীন বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকাসহ যত্রতত্র গজিয়ে গাড়ি মেরামত ও রড সিমেন্টের দোকান। নগরজীবনে প্রতিদিনের পারিবারিক ও গৃহস্থালী কাজের বর্জ্য নিষ্কাষণ ব্যবস্থার অসচেতনতাও দুষণের বড় কারণ। এরই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড়ের চিত্রে।

যেহেতু বায়ু দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত, তাই এর মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা অসম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজন উদ্যোগের। এর দায় সরকারের।
http://budhbar.com/?p=7771