কে জানে গণতন্ত্রই এক দিন গুম হয়ে যায় নাকি এ দেশে!


গুম হয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র?
 

  

আসিফ নজরুল:

অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
 

রোববারের পত্রিকা পড়ার পর আরও চিন্তিত হয়ে আছি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, গুম ও নিখোঁজের কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তাঁর এই সাহসী বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ; কিন্তু তিনি যা বলেছেন, তা উদ্বেগজনকও। এই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় যখন আমরা মিজানুর রহমান খানের লেখায় পাই গুমের একটি ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবে থাকা একজন সেনাসদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ।

বাংলাদেশে বহু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র‌্যাব জড়িত ছিল। এ ধরনের ঘটনা বানানো হলেও র‌্যাবের একটি কৈফিয়ত থাকে। লাশ উদ্ধার হয় বলে তার ময়নাতদন্ত, সৎকার এবং ভবিষ্যতে বিচারের একটি সম্ভাবনা থাকে। গুমের ক্ষেত্রে এসব কিছুই থাকে না; থাকে না এমনকি ‘মৃত’ মানুষের জন্য প্রার্থনা করার সুযোগটুকু। এই পৈশাচিক অপরাধকে তাই নিকৃষ্টতম অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আইন ও নৈতিকতা—উভয় বিচারে। পৃথিবীর ইতিহাস বলে, যে দেশের সরকার যত বেশি ফ্যাসিস্ট, সেখানে তত বেশি গুমের ঘটনা ঘটে। কম্পুচিয়া, ভিয়েতনাম, কলম্বিয়া, নিকারাগুয়া, জিম্বাবুয়ের মতো দেশে এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটত একসময়। ইলিয়াসের নিখোঁজের ঘটনা আবারও এই প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে যে আমরা কি সেদিকে যাচ্ছি? নাকি এরই মধ্যে এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছি, যেখানে জনগণের নিরাপত্তার বড় শত্রু স্বয়ং রাষ্ট্র!

অতীতের বিশাল বর্ণনা বাকি রাখি। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনাই চরম অস্বস্তির জন্ম দেয় আমাদের মনে। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পর এর তদন্ত তদারকির দায়িত্ব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও নিয়েছেন—এ কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে। পুলিশের আইজি হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর বলেছিলেন, তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তদারকির দায়িত্ব নেওয়ার পরও সেই পুলিশি তদন্তের ফলাফল উচ্চ আদালতের ভাষায় কেমন করে তাহলে ‘জিরো’ হয়ে যায়! কেন এই তদন্তের দায়িত্ব অবশেষে দিতে হয় র‌্যাবকে, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই রয়েছে তদন্ত ‘গুম’ করার বা সাজানোর অভিযোগ! এ দেশের ইতিহাসে বিদেশি কূটনীতিকের খুন হওয়ার কোনো নজির ছিল না। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর রাজধানীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় খুন হন একজন পদস্থ সৌদি কূটনীতিক। কেন প্রায় দুই মাস পরও এমন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর খুনের তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই? কেন দেশকাঁপানো এমন দুটো ঘটনায় একজনকে আজও গ্রেপ্তার করতে পারল না পুলিশ? মিডিয়ার এত জিজ্ঞাসা সত্ত্বেও কোথায় গায়েব হয়ে গেল সুরঞ্জিতের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা, যার কারণে উদ্ঘাটিত হয়নি সেই গাড়িচালক আলী আজম?

সবশেষে কেমন করে রাজধানীর সবচেয়ে প্রটেকটেড একটি রাস্তা থেকে উধাও হলেন বিরোধী দলের একজন প্রথম সারির নেতা? এ ঘটনার পর বিএনপি, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদের সাবধানে চলাফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলোতে। বড় রাজনীতিবিদদের গানম্যান আছে, সঙ্গী-সাথি আছে, খবর নেওয়ার নেটওয়ার্ক আছে। তাঁরা সাবধানে থাকতে হয়তো সমর্থ। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কী হবে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেডরুমে নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। আবার আমরা দেখছি, রাজপথ থেকেও উধাও হয়ে যেতে পারে কোনো মানুষ। আইন-আদালত কোথাও নিষ্পত্তি হচ্ছে না কারও দায়দায়িত্ব!

এ পরিস্থিতি, বিশেষ করে সরকারের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণকারীদের জন্য অশনিসংকেত। এ পরিস্থিতি মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকারের জন্য ভয়ংকর। এ পরিস্থিতি কখনোই গণতন্ত্র নয়, বরং গণতন্ত্রের মোড়কে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিতবাহী।

২.
প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যে বর্ণনা আমরা পেয়েছি, তাতে এটি সন্দেহ করার কারণ রয়েছে, সরকারের কোনো সংস্থার লোকেরা ইলিয়াসকে তুলে নিয়ে গেছে। যে নিখুঁত পরিকল্পনায় তাঁর গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে নেমে আসতে বাধ্য করা হয়, যেভাবে সেখানে মাইক্রোবাসে তাঁকে তোলা হয় এবং ঘটনাস্থলে সাইরেন বাজানো যানের যে বর্ণনা আমরা পাই, তাতে এ ধারণা যে কারও জন্মাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ইলিয়াস লুকিয়ে থাকতে পারেন আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করার জন্য। সোহরাব হাসান তাঁর লেখায় ব্যাখ্যা করেছেন কতটা অবাস্তব এটি। আমি মনে করি, যে সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দলীয়করণ আর ভারত-তোষণের অভিযোগের পাহাড় জমছে, তার বিরুদ্ধে আন্দালনের আর কোনো নতুন ইস্যুর প্রয়োজন নেই; বরং খতিয়ে দেখলে মনে হবে ইলিয়াসকে উধাও করার ঘটনার পেছনে সরকারেরই মোটিভ থাকতে পারে। প্রথমত, বিএনপি অভিযোগ করেছে, রেল মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যের দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তা আড়াল করার জন্য ইলিয়াসকে গুম করা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, তোলপাড় করা সুরঞ্জিতকেন্দ্রিক এ দুর্নীতির ঘটনা আসলেই অনেকটা আড়াল পড়ে গেছে ইলিয়াস গুম হওয়ার ঘটনায়। দ্বিতীয়ত, বিএনপির একজন নেতা টিপাইমুখবিরোধী আন্দোলনে সম্প্রতি ইলিয়াসের সোচ্চার ভূমিকাকেও আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৃতীয়ত, আন্দোলনের মাঠ সচল রাখার ক্ষেত্রে ইলিয়াসের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ইলিয়াসের মতো একজন সুপরিচিত নেতা গুম হয়ে গেলে মাঠপর্যায়ে, বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি এটি বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে আতঙ্কিত এবং আন্দোলনবিমুখও করে তুলতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, এর আগে বিএনপির প্রায় দুই ডজন নেতাসহ শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। কারও ক্ষেত্রেই তদন্তের কোনো সুরাহা হয়নি। দুই বছরে সরকার আমাদের কিছুই জানাতে পারেনি যে চৌধুরী আলম কোথায়, তাঁকে কে উধাও করেছে, তিনি মারা গেলে তাঁর লাশ কোথায়?

সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব যেকোনো নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া। কোনো মানুষ উধাও বা খুন হলে দোষীদের গ্রেপ্তার করা এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা। সরকার যদি এটি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুটো অনুসিদ্ধান্তই কেবল নেওয়া সম্ভব। এক. সরকার নিজে তা করেছে বলে বিচার করতে অনিচ্ছুক। দুই. সরকার অপরাধী শনাক্ত করতে বা অপরাধটির বিচার করতে অক্ষম বা অসমর্থ। যদি এর একটিও সত্যি হয়, তাহলে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায় থাকে? মানুষের নিরাপত্তা ও জীবন যদি রাষ্ট্রযন্ত্র কেড়ে নেয় বা তা কেড়ে নেওয়া মেনে নেয়, তাহলে সে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর আইনের শাসন কোথায় থাকে?

৩.
আমাদের কিছু উদ্বেগ এখনো দূর হয়ে যেতে পারে ইলিয়াস জীবিত অবস্থায় ফেরত এলে। কিন্তু তিনি কি বেঁচে আছেন এখনো? আমি জানি, যাঁরা প্রকৃত রাজনীতিক, যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁরা মনেপ্রাণে চাইবেন তিনি বেঁচে থাকুন। আওয়ামী লীগের মতো সুদীর্ঘকালের গণতান্ত্রিক দলে এমন বহু নেতা-কর্মী আছেন, যাঁরা ইলিয়াসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তাঁর অন্তর্ধানের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কথাবার্তায় তাঁদের উদ্বিগ্ন ও বিব্রত মনে হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কিছু দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্যের পর আওয়ামী লীগের দু-একজন নেতাকে তাঁর মতো করে কথা বলতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, ইলিয়াসকে খালেদা জিয়াই লুকিয়ে থাকতে বলে নাটক সাজিয়েছেন, তাঁকে ভুল প্রমাণ করার জন্য নিশ্চয়ই পুলিশ-গোয়েন্দা কাজ করবে না। অন্য বহু তদন্তের মতো সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে এটিও ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে তাই। সরকারের কাজের যা প্যাটার্ন, এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরও ভয়াবহ কোনো ঘটনাও হয়তো ঘটানো হতে পারে বাংলাদেশে।

আমি জানি, দেশজুড়ে গুজব আছে ইলিয়াসকে ফেরত দেওয়া হতে পারে জীবিতাবস্থায়। কিন্তু এটি বিশ্বাস করা কষ্টকর। যেখানে কোনো তদন্তের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এটি বিরোধী দলের নেত্রীর সাজানো নাটক, সেখানে ইলিয়াস এমন একটি বিবরণ নিজে থেকে দিতে রাজি হলেই কেবল তাঁকে জীবিত ফেরত দেওয়া সম্ভব। নিজের জীবন রক্ষার্থে এবং সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে ইলিয়াস হয়তো সাময়িকভাবে রাজি হতে পারেন এতে। কিন্তু তাতে এই হীন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা রক্ষা পাবে, প্রকৃত ঘটনা নিয়ে কুৎসিত কাদা ছোড়াছুড়ি অব্যাহত থাকবে, দেশবাসী আরও বিভ্রান্তিতে পড়বে।

আমরা তবু চাই, ইলিয়াস ফেরত আসুন। কারণ, শাহ্দীন মালিকের গতকালের অসাধারণ লেখা থেকেই বলছি, ‘এভাবে চলতে থাকলে দেশে রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের আকাল পড়বে। বহাল তবিয়তে থাকবে শুধু র‌্যাব।’

যত দূর মনে করতে পারি, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে র‌্যাবের দিকে ইঙ্গিত করে বিরোধী দলকে বলছেন, আপনাদের সৃষ্টি করা বাহিনীই আপনাদের খাবে! বিএনপির কি এখন বোধোদয় হচ্ছে, কী ভয়ংকর আগুন নিয়ে খেলেছিল তারা র‌্যাবের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে? আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি বুঝতে পারছেন, আপনার আমলে গুম-সংস্কৃতি বিস্তার হওয়ায় কোন দাবানল তৈরি হচ্ছে দেশে? গুম হওয়া যদি স্বাভাবিক হয়ে পড়ে, তাহলে কে জানে গণতন্ত্রই এক দিন গুম হয়ে যায় নাকি এ দেশে!

আমরা সত্যিই আশঙ্কিত!

পাদটীকা: এই লেখা যখন লিখছি, দেশে তখন হরতাল চলছে বিরোধী দলের আহ্বানে। হরতালের দিন এবং আগের দিন সহিংসতায় নিহত হয়েছেন দুজন, আহত হয়েছেন অনেকে, বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা হরতালের অধিকারে বিশ্বাসী, কিন্তু হরতালে নিহত-আহত হওয়ার ঘটনা আর ধ্বংসযজ্ঞ এই অধিকারের আওতায় পড়ে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

 
 

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[সূত্রঃ প্রথম আলো, ২৩/০৪/১২]

Advertisements

কোন পথে আরব বিশ্ব


কোন পথে আরব বিশ্ব
তা রে ক শা ম সু র রে হ মা ন
আরব বিশ্বের রাজনীতি এখন কোন পথে? গেল বছরের নভেম্বরে তিউনিসিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বেন আলির দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে তাতে গাদ্দাফির পতন ও মৃত্যুই শেষ কথা নয়। বরং পরিবর্তন আসছে সিরিয়ায়, সেখানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দিন যত যাচ্ছে, দেশটিতে গণঅসন্তোষ তত বাড়ছে। গত প্রায় আট মাস ধরে সেখানে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন হচ্ছে, তাতে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। গাদ্দাফির মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট আসাদকে কিছুটা নমনীয় মনে হয়। গত ২ নভেম্বর কায়রোতে আরব লিগের প্রস্তাবনায় সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই চুক্তির ভবিষ্যত্ ইতোমধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেননা চুক্তি স্বাক্ষরের পরও সিরিয়ার সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক ব্যবহার করেছে এবং একটি ঘটনায় ২৪ জন মানুষ হোমসে শহরে মারা গেছে। চলতি সপ্তাহে কায়রোতে সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে আলাপ শুরু হওয়ার কথা। এই আলোচনার ফলাফলের ওপর অনেক কিছুই এখন নির্ভর করছে। বলা ভালো, আসাদের পিতা হাফিজ আল আসাদ ১৯৭১ সাল থেকেই সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। বাথ পার্টির মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা পরিচালনা করতেন। ২০০০ সালে তার স্বাভাবিক মৃত্যুর পর তার বড় সন্তান বাশার আল আসাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

আরব বিশ্বের এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তনের ঢেউ গিয়ে লেগেছে বাহরাইনেও। সেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর রাজধানী মানামায় বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে নারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। পুলিশের গুলিতে একজন বিক্ষোভকারী মারাও গেছেন। তিউনিসিয়া থেকে শুরু করে বাহরাইন পর্যন্ত সর্বত্রই সরকার পতনের আন্দোলন হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং একটি গণতান্ত্রিক ধারাও সেখানে শুরু হয়েছে। তিউনিসিয়ায় সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি ইসলামিক শক্তি সেখানে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এন্নাহদার বিজয় আরব বিশ্বে নতুন এক রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিয়েছে। লিবিয়ায় গণ-আন্দোলনের মুখে গাদ্দাফির পতন হয়নি। একটি গৃহযুদ্ধে এবং বিদেশি শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপে গাদ্দাফির সরকারের পতনই শুধু হয়নি, গাদ্দাফি নিজে নিহতও হয়েছেন। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়াতে কোন ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে তা নিয়েও নানা প্রশ্ন আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী আট মাসের মধ্যে সেখানে নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন আছে অনেক। যদি লিবিয়াতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়, তা হলে আরেকজন স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের আবির্ভাব হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। মুস্তাফা আবদেল জলিলের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সেখানে যুদ্ধ পরিচালক করেছে এবং গাদ্দাফি-পরবর্তী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনে দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিলের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে থাকবে। অতীতে আবদেল জলিল গাদ্দাফির বিচারমন্ত্রী ছিলেন। পক্ষ ত্যাগ করে তিনি বিদ্রোহীদের দলে যোগ দেন। কিন্তু জিবরিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে সেখানেই বসবাস করেন। সম্ভবত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। জলিলের চেয়ে জিবরিল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের খুব কাছের ব্যক্তি হবেন। যুদ্ধের কারণে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র সাধারণ মানুষের কাছে চলে গেছে। গাদ্দাফি নিজেও অস্ত্রভাণ্ডার খুলে দিয়েছিলেন। ন্যাটোর বিমান থেকেও বিদ্রোহীদের জন্য অস্ত্র ফেলা হয়েছিল। এসব অস্ত্রের হদিস পাওয়া খুব কঠিন হবে। বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে ওইসব অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে। এই অস্ত্র আল কায়দার কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ফলে গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় অস্ত্র একটি বড় ভূমিকা পালন করবে, যা গণতন্ত্রের উত্তরণে কোনো সাহায্য করবে না। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় ইসলামী জঙ্গিরা অন্যতম একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বেশ কয়েকটি জঙ্গি গ্রুপের খবর পাওয়া যায়, যারা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে; যেমন, বলা যেতে পারে Islamic Fighting Group (IFG), Abu Ubaidah-bin Januah Brigade, Abdel Hakim Belhadj Group, Tripoli Military Council কিংবা Salafi Group-এর কথা। এদের কারও কারও সঙ্গে আল কায়দার যোগাযোগ রয়েছে বলেও ধরে নেওয়া হয়। এক সময় IFG-কে পশ্চিমা শক্তি সমর্থন করেছিল। ১৯৯৬ সালে গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনে IFG-কে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী দাঁড়ায় সেটা দেখার বিষয়। গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য যা দরকার, তা হচ্ছে রাজনৈতিক দল ব্যবস্থাপনা, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা-যা লিবিয়াতে নেই। এখানে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এখন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সদস্যরা একাধিক দলের জন্ম দিতে পারেন এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে পারেন। লিবিয়ায় বেকার সমস্যা প্রকট। জনগোষ্ঠীর ৩০ ভাগ বেকার। লিবিয়ায় বিশাল তেলের রিজার্ভ থাকলেও তেলনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। লিবিয়ার জনগোষ্ঠীর ৪০ ভাগ হচ্ছে তরুণ। এদেরকে মূল ধারায় নিয়ে আসা, চাকরির ব্যবস্থা করা হবে কঠিন কাজ। না হলে এখানে চিরস্থায়ী একটি অস্থিতিশীলতা থাকবেই। লিবিয়া গোত্রকেন্দ্রিকভাবে বিভক্ত। গোত্রের লোকজন একত্রিত হয়ে মরুভূমি তথা পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন। এরা আধুনিকমনস্ক নন। গাদ্দাফি যে গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন, তারা গাদ্দাফির মৃত্যুকে সহজভাবে নেবেন না। ফলে একধরনের বিরোধিতা থেকেই যাবে। উপরন্তু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিরোধের জন্ম হয়েছে। তেল কূপগুলো পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল থেকে। গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়বে। পশ্চিমা শক্তিগুলোর আগ্রহ মূলত লিবিয়ার তেল ও গ্যাসের কারণে। বিশ্বের রিজার্ভের ৩৫ ভাগ তেল রয়েছে লিবিয়ায়, যার পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ব্যারেল। গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে ১ হাজার ৫০০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন তেল উত্তোলিত হতো এক দশমিক তিন মিলিয়ন ব্যারেল থেকে এক দশমিক ছয় মিলিয়ন ব্যারেল। ভূমধ্যসাগরের নিচ দিয়ে পাইপের সাহায্যে এই গ্যাস যায় ইতালিতে (ত্বেবহংঃত্বধস চরঢ়বষরহব)। লিবিয়ার অভ্যন্তরে মাত্র এক ডলারে তেল পাওয়া যেত। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের মূল্য ৮০ ডলার। সুতরাং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থটা কোথায় তা সহজেই অনুমেয়। লিবিয়ার পুনর্গঠনের নামে তখন লিবিয়াতে ব্যবসা খুঁজবে মার্কিনি কোম্পানিগুলো। আর লিবীয় সরকারকে তেল বিক্রি করে (অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করে) পুনর্গঠনের বিল পরিশোধ করতে হবে। ঠিক যেমনটি হয়েছে ইরাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাটেজিতে লিবিয়ার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পেন্টাগন যে দীর্ঘ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, তাতে লিবিয়া একটি ফ্যাক্টর। লিবিয়ার প্রশাসনকে যদি হাতে রাখা যায়, তা হলে উত্তর আফ্রিকা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। লিবিয়া নিয়ন্ত্রণে এলে পার্শ্ববর্তী শাদ ও নাইজারও নিয়ন্ত্রণে আসবে। শাদ ও নাইজারে রয়েছে তেল ও ইউরেনিয়াম, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। একুশ শতকে যে নতুন আফ্রিকার জন্ম হতে যাচ্ছে, সেখানে ফরাসি ভাষাভাষী অঞ্চলে কর্তৃত্ব বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের। কঙ্গো, রুয়ান্ডা, আইভরি কোস্ট ছিল একসময় ফ্রান্সের কলোনি। ফরাসি ভাষা এখানে সরকারি ভাষা। এ অঞ্চলে তখন বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব। ইতোমধ্যেই আফ্রিকাতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নতুন একটি মিলিটারি কমান্ড অঋজওঈঙগ। এ জন্য লিবিয়ায় ‘বন্ধুপ্রতিম’ সরকারের খুব প্রয়োজন ছিল। গাদ্দাফির মত্যু এই হিসাবটা সহজ করে দিল। লিবিয়ার ঘটনাবলি দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রের সরকারকে উত্খাত করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র রাখে। তবে অবশ্যই সেই সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দের হতে হবে। অতীতে গাদ্দাফিকে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থে ব্যবহার করেছে। ইরাকে সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযানের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র গাদ্দাফিকে তার স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় গাদ্দাফিকে চলে যেতে হল। এভাবে একটি স্বাধীন দেশে ন্যাটোর বিমানবহর দিয়ে হামলা কোনো আন্তর্জাতিক আইন অনুমোদন করে না। এটা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ। নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ায় তথাকথিত ‘গণহত্যা’(?) ঠেকাতে ন্যাটোর বিমান হামলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের কোনো অনুমতি দেয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদে এ কথাগুলো আর কেউ বলবে না। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আফ্রিকায় সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই লিবিয়ায় সরকার পরিবর্তন হল।

প্রশ্ন হচ্ছে, সমগ্র আরব বিশ্বের এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তন কি সেখানে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্ম দেবে? তিউনিসিয়ায় এন্নাহদা পার্টির উত্থান সেখানে একটি ‘তুরস্ক মডেলের’ জন্ম দিতে যাচ্ছে। তুরস্কে ইসলাম আর গণতন্ত্রের সমন্বয়ে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে। তুরস্কে ইসলামপন্থীরা কট্টরপন্থী নন। এরা আল কায়দাকে সমর্থনও করে না। বরং আল কায়দার রাজনীতিকে সমালোচনা করে। আধুনিকমনস্ক তুরস্কের নেতৃত্ব ইসলামিক বিশ্বে নতুন এক ইমেজ নিয়ে এসেছে। এন্নাহদার নেতা ঘান্নুচি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের রাজনীতির অনুসারী। এ কথা তিনি স্বীকারও করেছেন। একসময় মিসরের ইসলামিক ব্রাদারহুড পার্টির রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়েছিলেন ঘান্নুচি। এখন সেখান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। ‘তুরস্ক মডেল’ এখন তার কাছে আদর্শ। আগামী ২৮ নভেম্বর মিসরে সংসদ নির্বাচন। সেখানে ইসলামিক ব্রাদারহুড পার্টির বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোন পর্যায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়। সামরিক জান্তা প্রধান ফিল্ড মার্শাল তানতাবি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে অশান্ত পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। এখানে ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা পরিচালনা করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। ইয়েমেনের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট সালেহ ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখেননি। তুলনামূলক বিচারে আল কায়দা অনেক শক্তিশালী ইয়েমেনে। এখানে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তরুণ সমাজ সেখানে সালেহবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। কিন্তু তাদের কোনো সংগঠন নেই। তবে আল কায়দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে একটা ভয় থেকেই গেল। সিরিয়াতেও এদের তত্পরতা রয়েছে।
স্পষ্টতই আরব বিশ্বে ইসলামিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। ১৯৫২ সালে মিসরে জামাল আবদুন নাসেরের ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে আরব জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্ম হয়েছিল, যা ছড়িয়ে গিয়েছিল প্রতিটি আরব রাষ্ট্রে। এখন তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রমনা একটি ইসলামিক শক্তির উত্থান সমগ্র আরব বিশ্বে ছড়িয়ে যায় কি না সেটাই দেখার বিষয়।

লেখক : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
tareque.rahman(a)aol.com

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

দুর্ঘটনারোধে চালকদের দক্ষ ও সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই


গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের বিরুদ্ধে নামছে মোবাইল কোর্ট


১৩ জুলাই: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আজ জানিয়েছেন। মিরসরাইয়ে ট্রাক উল্টে ৪২ ছাত্রসহ ৪৪ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির কয়েকদিন পর এ ঘোষণা দিলেন তিনি।
সাহারা খাতুন আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত আইন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের অভাবে গাড়ি চালকদের মধ্যে এ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশ মোতাবেক এ ধরনের অপরাধের জন্য গাড়ি চালককে পাঁচশ টাকা জরিমানা বা এক মাস কারাদণ্ড কিংবা উভয়ই হতে পারে।
অবশ্য পুলিশ বলছে, এ আইন বাস্তবায়ন করার মতো জনশক্তি তাদের নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় সাহারা খাতুন বলেন, এ ধরনের অপরাধীদের খুঁজে বের করার ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বিশেষ গুরুত্বারোপ করবে। তিনি আরো জানান, মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশের কঠোর বাস্তবায়ন করবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সড়কে সঠিক ট্রাফিক চিহ্ন না থাকার কারণে অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হলে সাহারা খাতুন বলেন, সড়ক চিহ্ন বসানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবে।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলার বিরুদ্ধে দুর্বল আইন

শাহীন রহমান ॥ একটি পরিচিত বাণী পরিবহনের পেছনে লেখা থাকে। এসব বাণীর মধ্যে একটি জনপ্রিয় বাণী হলো একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না। গাড়ি চালাতে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কিন্তু এসব বাণী কেউ মেনে চলে, না বাণিজ্যিক উদ্দেশ ব্যবহার করা হয় তা নিয়ে হয়ত প্রশ্ন রয়েছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত অযৌক্তিক কারণে দেশে যে হারে দুর্ঘটনা বাড়ছে তাতে কান্নার রোল হয়ত কোনদিন থামবে না। পরিবহণে চলতে গেলে চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো কারও চোখ এড়ায় না। প্রতিবাদ করে লাভ হয়নি কোনদিন। উল্টো প্রতিবাদ করায় যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয় হরহামেশায়। কিন্তু যারা বেপরোয়া গাড়ি চালায়, এসব চালকের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। হেলপার হয়ে ড্রাইভারের কাজ করা, চলন্ত গাড়িতে চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার একটি স্বভাবে পরিণত হয়েছে। চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরম্নদ্ধে আইন থাকলে তার কোন প্রয়োগ নেই। শুধু দুর্ঘটনা ঘটলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর হতে দেখা যায়। তখন হয়ত গাড়ি চালাতে অনেক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কিছুদিন গেলে যে লাউ সেই কদুতে পরিণত হয়। আবার সবকিছু হয়ে যায় আগের মতো। কিন্তু মাঝখানে যে তরতাজা প্রাণগুলো হারিয়ে যায় তা কোনদিন ফিরে পাবার নয়। দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের কান্না যে কতদিন চলে তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানে। তাই হয়ত তাদের কান্না নিয়ে অন্যদের কোন মাথা ব্যথা নেই। ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার অর্ধশত স্কুল ছাত্রের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবেন কেউ। অথচ তাদের লাশ হয়ে ফেরার পেছনেও রয়েছে চালকের বেপরোয়া, খামখেয়ালি আর স্বেচ্ছাচারিভাবে গাড়ি চালানো। আইন না মেনে গাড়ি চালানোর কারণে এত কচি প্রাণের অপমৃতু্য ঘটল। চালক মোবাইল ফোনে কথা বলায় গিয়ে ব্রিজ থেকে গাড়ি খাদে পড়ে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো তাদের। এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। আইনে জেল জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিন্তু আইন মানার প্রবণতা কারও মধ্যে লৰ্য করা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর কারণে দেশে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি গাড়ি চালানোর সময় চালকের মোবাইলে কথা বলা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অথচ চলনত্ম অবস্থায় চালক মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণেই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, অনেকে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন চলনত্ম অবস্থায় চাকলের কথা বলাকে। রাজধানীসহ সারাদেশে হরহামেশা এ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিবহনের চালক ছাড়াও মোটরসাইকেল আরোহীকে প্রায়ই চলন্ত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায়। এভাবে কথা বলার কারণে রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি যেসব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার প্রধান কারণও এই মোবাইল ফোনের ব্যবহার।
চলন্তু অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার রোধে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা রোধ করতে ২০০৭ সালে মোটরযান আইনের সংশোধন করা হয়। ওই বছর ১২ জুলাই গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলার ব্যাপারে মোটরযান আইনের ১১৫(বি) ধারার সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি আইনে এয়ারফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন অমান্য করলে ৫শ’ টাকা জেল জরিমানার করার বিধান রয়েছে। কিন্তু হরহামেশা এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপৰ ব্যবস্থা নিতে দেয়া যায়নি। ভারতেও এধরনের একটি আইন রয়েছে। আইন অমান্য করলে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের জেলা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারতের আইনের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনের পার্থক্য হলো বাংলাদেশের আইনটি যেমন দুর্বল, তেমনি এর কোন প্রয়োগ নেই।
সম্প্রতি যে সব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার পেছনে রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় চালক প্রায় অসতর্ক অবস্থায় থাকে। এছাড়া পাশে বসা অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় অসতর্ক হয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালায়। গত সোমবার চট্টগ্রামে ট্রাক খাদে পড়ে ৪১ স্কুলছাত্রের নিহত হবার পেছনেও রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী চালক চলনত্ম অবস্থায় কথা বলছিল। তখন তার অসকর্ত হওয়ার কারণে ট্রাকটি এলামেলো চলছিল। একপর্যায়ে দ্রম্নতগতিতে ট্রাকটি সেতুর ওপর উঠে প্রচণ্ড ধাক্কা খায় তখনই ঘটে যায় স্মরণকালের ভয়াবহ দুঘর্টনা।
এ মাসের ২ তারিখে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে নোয়াখালীতে। এ ঘটনায় ৭ শিৰার্থীর করম্নণ মৃতু্য হয়। জানা যায়, নিহত ছাত্রছাত্রীর মধ্যে একলাশপুর হাইস্কুলের এবং নোয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী। এ ঘটনায় নিহত অপরজন চালক স্বয়ং। শিৰার্থীদের মধ্যে দুজন ছিল সহোদর। প্রত্যৰদর্শীদের ভাষ্যমতে চালক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ছয় শিৰার্থী প্রাণ হারায়। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন মারা যায়। এ দুর্ঘটনার পেছনেও ছিল চালকের মোবাইল ফোনের ব্যবহার। ওই বছরের ২৯ মে লোহাগড়ার চুনতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হানিফ এন্টারপ্রাইজের বেপরোয়া গতির বাসটি একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দিলে এক পরিবারের তিনজন নিহত হয়। আহত বা বেঁচে যাওয়া বাসের যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী চালক চলনত্ম অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আগামী ২৪ তারিখে ডাকা হয়েছে সড়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। জানা গেছে চালকদের সচেতন করতে এ বৈঠকে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মো. আয়ুবুর রহমান খান জনকণ্ঠকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সারাদেশে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। চালককের প্রশিৰণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বিআরটিএর পৰ থেকে। আগামী ২৪ জুলাই সড়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে বিসত্মারিত আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনারোধে চালকদের দক্ষ ও সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তার আন্দোলনের প্রেৰিতে দেশের নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের জন্য সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে মাত্র ৫শ’ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তাও কার্যকর করা হচ্ছে না। জরিমানার বিধান ৫শ’ টাকার বেশি করে এসব চালকের কঠোর শাসত্মির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বাসত্মবায়ন করা না গেলে দুর্ঘটনারোধ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, এসব বেপরোয়া চালকের পেছনে রয়েছে তাদের শক্তিশালী সংগঠন। কোনরকম দুর্ঘটনায় চালক একবার প্রাণে বেঁচে গেলে তাদের বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে সংগঠনগুলো। ফলে তাদের আর শাসত্মির আওতায় আনা সম্ভব হয় না। [একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ নিউজ মিডিয়া Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchange

ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দ দূষণ বেড়ে চলেছে তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে।


রাজধানীর অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাবে

শব্দদূষণ


এফএনএস (মাহতাব শফি) : রাজধানীতে বেড়েই চলছে শব্দদূষণ। নীতিমালা আছে কিন্তু তার কোন প্রতিকার নেই। রাজধানী ঢাকা শুধু নয়। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরেই বর্তমানে এই শব্দ দূষণের শিকার। ফলে আগামী প্রজন্ম হারাচ্ছে শ্রবণশক্তি। শ্রবণশক্তিই নয়, শব্দ দূষণের কারণে উচ্চরক্ত চাপ, মাথাধরা, অজীর্ণ, পেপটিক আলসার, অনিদ্রা ও ফুসফুসে সহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত শব্দ দূষণে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা নষ্ট হয়, সন্তান সম্ভাবনা মায়েদের যে কোনো ধরনের উচ্চ শব্দ মারাÍক ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, যানবাহনের শব্দ দূষণে ষ্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায় বহুমাত্রায়। এক জরিপে উঠে আসা রাজধানী ঢাকার শব্দ দূষণের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। যা সত্যিই আতংকজনক। সারা বিশ্বে এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার পালিত হয় ‘আর্ন্তজাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস’। সারা বিশ্বেই এই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে তেমন সচেতন নয়।
বাংলাদেশে রয়েছে শব্দ দূষণ নীতিমালা। ২০০৬ সালে প্রণীত এই নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা হলো ৫৫ ডেসিবেল এবং রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবেল। একই ভাবে, নীরব এলাকার জন্য এই শব্দসীমা যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৫০ ও ৪০ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় ৬০ ও ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ও ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ও ৭০ ডেসিবেল সর্বোচ্চ শব্দসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করা দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আমাদের দেশে এই বিধিমালা মানা হচ্ছে না।
একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বেসরকারী সংগঠনের পরিচালিত গবেষনায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় শব্দদূষণ মাত্রা ১০২ ডেসিবেল, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ৯৩ ডেসিবেল, বাংলামোটর এলাকায় ৯২ ডেসিবেল, সদরঘাট এলাকায় ৮৮ ডেসিবেল, ফার্মগেট এলাকায় ৯৩ ডেসিবেল, শাহবাগ এলাকায় ৮৬ ডেসিবেল, মহাখালীতে ৯৪ ডেসিবেল, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ১০১ ডেসিবেল, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ৯৫ ডেসিবেল, গুলিস্তান এলাকায় ৯২ ডেসিবেল এবং স্কয়ার হাসপাতাল এলাকায় ১০৪ ডেসিবেল। যেখানে সবোর্চ্চ শব্দসীমা যত তার দ্বিগুণ শব্দ দূষণ করা হচ্ছে।
রাস্তায় বেরুলেই দেখা যায় এই শব্দ দূষণের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। রিক্সা ওভারটেক করতে চায় বাসকে, বাস ওভারটেক করতে চায় প্রাইভেট কারকে, প্রাইভেট কার ওভারটেক করতে চায় এ্যাম্বুলেন্সকে। আর এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে আছে প্যাঁ পুঁ শব্দে হর্ণ বাজানো।
উন্নত দেশগুলো অবশ্য শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং বিশ্বব্যাংক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ৩০টি কঠিন রোগের উৎস ১২ রকমের পরিবেশ দূষণ, এর মধ্যে অন্যতম শব্দদূষণ। শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট সমস্যাবলীর ভিতরে রয়েছে কানে কম শোনা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক ভীতি। এছাড়া অস্থিরতা, উচ্চরক্তচাপ ও শব্দভীতি অন্যতম।
রাজধানীতে শুধু গাড়ির হর্নই নয় জনসভায় ব্যবহৃত মাইকগুলোও একে অন্যের চাইতে জোরে চিৎকাররত। মার্কেটে বাজছে উচ্চশব্দের গান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর একটি ভি,আই,পি সড়কে হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তা বেশী দিন কার্যকর রাখতে পারেনি। শুধুমাত্র একটা শব্দদূষণ বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া সরকারের আর কোন উদ্যোগই চোখে পড়ে না। এগিয়ে আসছে না কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা এনজিও।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, যদি টানা ৮ ঘন্টা ৯০ থেকে ১০০ ডেসিবেল শব্দ প্রতিদিন শোনা হয়, তাহলে ২৫ বছরের মধ্যে শতকরা ৫০ জনের বধির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শব্দ দূষণ চোখ ও মাথার বিভিন্ন সমস্যার জন্যও দায়ী। শহরের বেশীরভাগ মানুষই মাথার যন্ত্রণায় ভোগে-যার অন্যতম কারণ শব্দ দূষণ। এছাড়া ক্রমাগত শব্দ দূষণের ফলে মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক এমনকি লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দ দূষণ বেড়ে চলেছে তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে।
মানুষের ব্যক্তিগত অদূরদর্শী কার্যকলাপ, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপরিকল্পিত বিস্তার, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার ত্র“টি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারের বিবর্তিত শব্দের ব্যাপকতায় শব্দ দূষণ বর্তমান সময়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় শিল্পকারখানায়, পরিবহন পদ্ধতিতে এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনির্দিষ্ট তীব্রতা সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বাস, ট্রেন, জাহাজ, শিল্প-কারখানা থেকে বের হওয়া শব্দ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারের শব্দের তীব্রতা নির্দেশিত মাত্রায় বা তার নিচে বজায় রাখা উচিত। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকা প্রয়োজন। যানবাহন থেকে বের হওয়া শব্দের ব্যাপকতা এবং তীব্রতা হ্রাসের জন্য আইন করে উন্নত প্রযুক্তির ডিজেল ইঞ্জিন এবং এক্সসট গ্যাস পাইপে সাইলেন্সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যান্ড সঙ্গীতের আয়োজন করা হয়ে থাকে। যার ফলে এ সময় অনাকাক্সিক্ষতভাবে শব্দ দূষণ সৃষ্টি হয়ে আশেপাশে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীসহ প্রায় প্রত্যেকেরই ঘুমের বিঘœ ঘটছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে দরকার জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১৯৯৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব জায়গায় মোটরগাড়ির হর্ণ বাজানো বা মাইকিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ এ আইনের তোয়াক্কা কেউ করে না। ঢাকা সিটির সাইলেন্টস জোনেও আইনশৃংখলা বাহিনীর সামনেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইক বাজিয়ে দেদারসে ঔষধ বিক্রির নামে যন্ত্রণাদায়ক অশ্লীল কথামালায় মাইকিং করতে দেখা যায়।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী কোন এলাকা ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশী শব্দ হলে সেই এলাকা দূষণের আওতায় চিহ্নিত হবে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী অফিস কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩৫ ডেসিবেল, রেস্তোরায় ৪০ থেকে ৬০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা সহনীয়। ৬০ ডেসিবেল শব্দ মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।
উচ্চশব্দ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও অসচেতনার কারণে রাজধানীতে শব্দ দূষণের শিকার হচ্ছে ৯৫ ভাগ মানুষ। অবশ্য এ শব্দ দূষণের অন্যতম কারণ হিসাবে গাড়ির হর্ণকেই দায়ী করলেন বিষেজ্ঞরা।
শব্দদূষণ বন্ধে বিধিমালা বাস্তবায়নে গাড়িচালকদের মধ্যে সচেতনতার পাশাপাশি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের মাধ্যমে গাড়ীর হর্ণ বাজানোর জন্য সংশ্লিষ্ট চালক ও গাড়ির বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। শব্দদূষণ বন্ধে পুলিশ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের পরিচালিত মোবাইল কোর্টগুলোতে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ণ এর ব্যবহার রোধে আরও কার্যকারী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আইনৃ´খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, অপ্রয়োজনে হর্ণ বাজালে মোটরযান অধ্যাদেশের আওতায় ২শ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ জরিমানা চালককে দিতে হয় না বলে চালকরা এ অপরাধ করেই যাচ্ছে। শব্দ দূষণ রোধে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে এর কোন প্রয়োগ নেই।
প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষ। রাস্তায় নামছে নতুন নতুন গাড়ি। তৈরি হচ্ছে নতুন স্থাপনা। আর এই বাড়তি মানুষের চাহিদার জোগান দিতে বেড়েছে শব্দ দূষণের মাত্রা এবং বাড়তে বাড়তে এক অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাড়ি চালক ও গাড়ির মালিকগণকে শব্দ দূষণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিতকরণসহ জনসচেতনতা সৃষ্টি, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান এবং শব্দ দূষণ বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ করতে হবে। বিশেষ করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সেক্স, যৌন, যৌনতা, অপরাধ, একুশ নিউজ মিডিয়া, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchange

বাঙালির বুদ্ধিজীবিতার ইতিহাস সুবিধাবাদিতার ইতিহাস


জাতীয় সংকটে সুশীলরা কোথায়?

সোয়াদ আহমদ ● কেউ কথা বলছেন না, কয়েকজন বলছেন। তারা মোটে গুটি কয়। জাতীয় সম্পদ পাচার হচ্ছে, জাতীয় স্বার্থ লুণ্ঠিত হচ্ছে, গণমানুষের সঙ্গে নিদারুণ প্রতারণা হচ্ছে, রাষ্ট্রশক্তি বিক্রি করে দিচ্ছে গণমানুষের ভবিষ্যৎ – এসব অহরাত্রি ক্লান্তিহীনভাবে বলে চলেছেন আমাদেরই কয়জন। আনু মুহাম্মদ, এম এম আকাশরা লড়ছেন, সঙ্গে আছে বিশাল সংখ্যার রাজনীতি সচেতন এক তরুণ শ্রেণী। তরুণরা ব্লগে লিখছেন, তর্ক করছেন, গল্প করছেন, স্বপ্ন দেখছেন এবং তৈরি হচ্ছেন। তৈরি হচ্ছেন এক বড় সামাজিক প্রয়োজনে, নিজেদের মতো করে সব গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। অনেককেই ভুলিয়ে রাখতে পেরেছে রঙিন করপোরেট জগত, মাল্টিনেশন কোম্পানি অথবা সুশীল জাতীয়তাবাদের ছায়া, তবে সবাইকে পারেনি। সবাইকে পারা যায় না। এরা টিভি সিরিয়াল, সিনেমা, ফেসবুক সব ছাপিয়ে সময়ের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার ইচ্ছায় সচেতন বা অবচেতনভাবে অভিন্ন প্রয়োজনে জড়ো হচ্ছে।

আমাদের অতি চেনা হিসাব মতোই, আমাদের বুদ্ধিজীবীরা নির্ভাবনায় আরাম কেদারায় শুয়ে দু’পা নাচাচ্ছেন। অনেকেই অবাক হয়, যারা ইতিহাস সচেতন তারা অবাক হয় না, তারা এঁদের হাড়ে হাড়ে চেনেন। এই সময়গুলোতেই উনারা কালা এবং বোবা, আর বাকি সময়ে উনাদের মুখে কথার ফুলঝুরি। তেল-গ্যাস নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা বলবেন এর বাইরে আমাদের সুশীলদের বিষয়ে সামান্য গুণকীর্তনের নিমিত্তেই এই লেখার অবতারণা।

বারবার আমরা এই সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের চরিত্রগত সংকট দেখে বিস্মিত হচ্ছি। আমরা এরশাদ সরকারের পতন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের দোহাইয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দানের মধ্য দিয়ে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীটির শ্রেণীগত প্রতিষ্ঠা দেখি। তখন আমরা আমাদের বিশিষ্ট হেভিওয়েট দেশপ্রেমিক বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদের ঐক্যবদ্ধ হতে দেখি। ২৭ জুন ২০১১ তারিখে বিভিন্ন পত্রিকাতে দেয়া শেখ হাসিনার কলামেও তার কথা উল্লেখ করেছেন যে হাবিবুর রহমান ১৯৯৬তেই সুশীল অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। সেসব তো অনেক পরের কথা। আমরা বেশ খানিক আগে চলে যাব, এদের শ্রেণীগত চরিত্র বোঝার জন্য রাষ্ট্রের সংকটকালীন সময়গুলোর ওপর চোখ বোলালেই চলবে।

বাঙালির বুদ্ধিজীবিতার ইতিহাস সুবিধাবাদিতার ইতিহাস। নিজের ভোগবিলাস ছাড়া এই পরজীবী বুদ্ধিজীবীরা কিছুই বোঝে না। আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে সংকটকালীন সময় ’৭১, সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। এই বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ স্বপ্ন দেখতে জানত না, এদের চোখে কোনোদিন স্বাধীন বাংলাদেশের ছবি জেগে ওঠেনি। তাই সাহস করে কেউ ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেনি যে, একটি জাতি ঐতিহাসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি জাতীয় রাষ্ট্রের জন্ম দিতে যাচ্ছে। মনীষা আহমদ ছফা এই বিষয়টাতেই ভীষণ আক্ষেপ করতেন। পশ্চিম বাংলায় এ দেশের কোটি কোটি উদ্বাস্ত্ত বাঙালি যখন মানবেতর জীবন যাপন করছে তখন কলকাতা নগরীতে রাজ সম্মানে আশ্রিত বুদ্ধিজীবীরা আয়েশি জীবন, ভোগবিলাসে মগ্ন থাকতেন, সত্য-মিথ্যা গল্প ফেঁদে মোটা অর্থ কামাতেন। এরা সগৌরবে বিদেশী সাহায্যের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিতে লজ্জা পেতেন না। সময়ের প্রয়োজনে এদের অনেকেই যারা একসময় ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদী, পাকিস্তান রাষ্ট্র দর্শনের একনিষ্ঠ পুজারী তারাই স্বাধীনতার পর দলে দলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জয়গান গেয়েছেন। অনেক ভারি ভারি বুদ্ধিজীবী আইয়ুব খানের টাকার ঝুলির পেছনে কলম ফেলে দৌড়িয়েছে। এসব শুধুই ইতিহাস নয়, সেদিনের কতিপয় ‘বোকাসোকা’ মানুষ যারা বুদ্ধিকে জীবিকার বাহন হিসেবে নেয়নি, যে কয়জন ‘মূর্খের’ মতো নতুন ভূখন্ড নিয়ে অহর্নিশ স্বপ্ন দেখত, সেই কয়জনের বাইরে বুদ্ধিজীবীদের বিশাল অংশের শেকড়-বাকড় আর তাদের ভাবশিষ্য নিয়েই রচিত আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের ভিত্তিভূমি।

আমরা দেখেছি সময়ের প্রয়োজনে ও পুঁজির বিকাশের স্বার্থেই এরশাদ সরকারের উত্থান ঘটিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি। এরশাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তার পতনও ঘটানো হয়। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এরা নতুন আরেকটি শ্রেণী তৈরিতে উদ্যোগী হলো। গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মত প্রকাশ তথা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা। নতুন শ্রেণীটি হলো এই সংবাদ মাধ্যম আশ্রয়ী বুদ্ধিজীবী শ্রেণী আমাদের এখানে যারা সুশীল সমাজ নামে পরিচিত। এরা অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংস্কৃতি ও চিন্তার ধারক ও বাহক মধ্যবিত্ত ও মধ্যবর্তী শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে অতিমাত্রায় গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যায়। তাদের এই উত্থানের ও গ্রহণযোগ্যতার কারণ রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনে জেগে ওঠা হতাশাকে ধরতে পারা। তারা দেশে জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার গালভরা কথা বলে, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় উচ্চকণ্ঠ প্রকাশ করে যা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীকে সহজেই আকৃষ্ট করে তোলে। তৃতীয় বিশ্বের নেতা-নেত্রীরা ক্ষমতা ও অর্থ ছাড়া তেমন কিছু চেনে না এবং তা স্বাভাবিক, খালেদা-হাসিনারা তাই দুর্নীতির ধারক-বাহক। রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক অশ্রদ্ধা, গণতন্ত্র চর্চার অভাব, সহিংস মনোবৃত্তি ইত্যাদি জনমনকে সর্বদা ক্লান্ত ও হতাশ করে রাখে। সেই সুযোগটাই সুশীলরা হাতিয়ে নেয় কৌশলে। এদের আমরা প্রয়াশই দুর্নীতি, সুশাসন প্রভৃতি প্রশ্নে সভা সমিতি, সেমিনার, টক শো, পত্রিকার কলামে বলিষ্ঠ বক্তা ও প্রতিবাদী দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখি। যাদের মুখে বুলেটের মতো উচ্চারিত হয় দেশ, জাতি আর স্বাধীনতার কথা। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে আমাদের নেতৃত্ব দেশকে কিছুই দিতে পারেনি এই তাদের মূল বক্তব্য। সব ব্যর্থতার উৎস তারা রাজনীতি আর রাজাকারে খোঁজার প্রয়াস পায়। দেশ বিষয়ক মায়াকান্নায় মুহূর্তে তারা তরুণ শিক্ষিত সমাজকে সিক্ত করে ফেলে। ফের সুশাসন প্রশ্নে আমরা তাদের মূল বক্তব্য খুঁজে পাই, এক অগণতান্ত্রিক রাস্তার নির্দেশনা তারা কৌশলে দিয়ে থাকেন। সেই পথ এক পাপের পথ যে পথ কোনো দিন গণতন্ত্রকে মাটির গভীরে শেকড় গাঁড়তে দেবে না। তাদের সেই ষড়যন্ত্রের শিকার আমাদের স্বাধীনতা-উত্তর সমাজের তরুণ প্রজন্ম যাদের ফেইসবুকের পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস থাকে এই সব বাক্য। একটা প্রজন্মকে তারা নষ্টের চূড়ান্তে নিয়ে গেছে। যারা এরই মধ্যে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে। স্বার্থপর সহিংসতায় তাদের সহপাঠীর মৃত্যু তাদের ভাবিত করে না। ন্যায্য অধিকারের জন্য, শিক্ষার বাণিজ্যিকরণের বিরুদ্ধে তাদের সহযাত্রীদের সংগ্রাম এদের আলোড়িত করে না, তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাক বা ভবিষ্যৎ বংশধরদের কান্না কিছুই এদের কান নাগাদ পৌঁছুতে পারছে না।

এই সুশীল-বুদ্ধিজীবীর অভ্যুত্থানের সুযোগ করে দেয় হাসিনা-খালেদার অগণতান্ত্রিক রাজনীতিই। তারা যত বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যত দুর্নীতিগ্রস্ত হবে, যত তাদের রাজনৈতিক চরিত্র স্খলন হবে, ততই সুশীলদের লাভ। তারা তত সহজেই হতাশ জনগণের কাছাকাছি যেতে পারে। সুশীল সমাজ সম্রাজ্যবাদী শক্তির নতুন মাত্রার সহযোগী। নানা কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা তৃতীয় বিশ্বের সস্তা চরিত্রহীন রাজনীতিবিদের চাইতেও এই শ্রেণীটিকে বেশি পছন্দ করে এবং এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। তৃতীয় বিশ্বের এই পরিবারতন্ত্র, পুঁজিবাদের বিকাশ ও সম্রাজ্যবাদের প্রসারণে যথেষ্ট বাধার সৃষ্টি করে। তাই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চায় একেবারে তাদের নিজের শক্তিই ক্ষমতায় আসুক। সেই নিজের একান্ত শক্তি যে কখনো তার সঙ্গে বেঈমানী করবে না- সেটি হলো এই সুশীল সমাজ। খালেদা-হাসিনাকে তো সামান্য হলেও জনগণের কথা ভাবতে হয়, কিছুটা হলেও জনগণের সামনে দাঁড়াতে হয় কিন্তু এই বুদ্ধিজীবী সুশীল শ্রেণীর সে দায়বদ্ধতাও নেই।

এই নতুন মাত্রার সুশীল সরকারের এক্সপেরিমেন্ট আমরা দেখি ওয়ান-ইলিভেনে। আমেরিকার আশীর্বাদ পুষ্ট সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের অভ্যুত্থান হয় এই দিনটিতে। এক অগণতান্ত্রিক, অরাজনৈতিক ঐতিহাসিক পাপের জন্ম দিল সুশীল সমাজ। আরোপিত ব্যবস্থার নাম দিল সামরিক শক্তি সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার। কিন্তু আসলে এত দুর্নীতি, অন্যায়, দুঃশাসনের পরও জনমনে হাসিনা-খালেদার প্রতি সামান্য হলেও ভালোবাসা অবশিষ্ট ছিল। সে ভালোবাসাই আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়। বিভিন্ন ঘাত, প্রতিঘাত, সংগ্রাম, ছাত্র বিস্ফোরণ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের ভেতর দিয়ে দুর্বলভাবে হলেও নির্বাচিত সরকারের পুনর্জন্ম হয়েছিল বলা যায়। এই অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েই পিএসসি-২০০৮ বা রফতানিমুখী উৎপাদন বণ্টন চুক্তির প্রণয়ন দেখি। সম্ভবত সেই অগণতান্ত্রিক সুশীল সরকার থাকলে এতদিনে গ্যাস পাচারের কাজ শুরু হয়েই যেত। এখন যে আমরা নিদেনপক্ষে প্রতিবাদ, মিছিল বা হরতালের সুযোগ পাচ্ছি সেটা তখন কল্পনাও করা যেত না।

সুশীলরা এখন তাই নিশ্চুপ, এটা তাদেরই অসমাপ্ত কাজ। অস্থিতিশীল, দুর্বল বিএনপির মুখে জোর নেই, তারা নিজেরাই কয়েকবার জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে এবং জাতীয় কমিটির গণআন্দোলনের সামনে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া তারাও সরকারে থাকলে একই কাজ করত। ভালো মানুষের মুখোশ পরা দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান সুশীলরা শুধু এই প্রশ্ন নয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ ইত্যাদির যে কোনো শর্তে দেশের অপার মঙ্গল দেখতে পান, জনকল্যাণমুলক খাতসমূহে সরকারি ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ায় তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খুঁজে পান।

তবে এবার এদের নতুন প্রজন্ম চিনে রাখবে ভালোভাবেই। তারা মনে রাখবে এদের অনেকেই যারা ইউনূসের সম্মান বাঁচাতে দলে দলে মানববন্ধন করেছে, নাকের জল চোখের জল এক করে ফেলেছে আর তাদেরই ষোল কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ সামান্যও ভাবিত করে না। যাদের কাছে একটা নোবেল প্রাইজের ওজন ষোল কোটি মানুষের ওজনের চেয়ে বেশি তাদের নাম লাল কালি দিয়ে লিখে রাখবে আনু মুহাম্মদের উত্তরসূরিরা।

[লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchabge

পুনর্বার নতুন শক্তিতে জেগে উঠুক আমাদের ইতিহাস, আমাদের দেশবোধ, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।


রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন : একজন নাগরিকের প্রতিবাদ

পিয়াস করিম ● তেসরা জুলাই একটা তুলকালাম কান্ড ঘটে গেল ঢাকায়। জানি আমাদের জাতীয় জীবনে এই অস্থির ঘটনাগুলো নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর তো চল্লিশ বছর পায়ে পায়ে কেটে গেল। এই পদযাত্রা সহজ হয়নি কোনো অর্থেই। পথ কখনো কুসুমাস্তীর্ণ থাকেনি আমাদের।

যেই স্থিতিটুকু থাকলে জাতি হিসেবে আমাদের সত্তাকে আরো সুসংহত বলে মনে করা যেত- তা আর আমাদের হয়ে উঠলো না। আমাদের ইতিহাসজুড়ে বার বার রক্তপাত ঘটে গেছে, বার বার ঘটে গেছে অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থানের পালাবদল। আমাদের গণতন্ত্রের সঙ্গে স্বৈরতন্ত্রের বিভাজন রেখাটি বার বার ধূসর হয়ে গেছে। জাতি হিসেবে স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট আমাদের পেতে হয়েছে ক্রমাগত। আমরা প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়ও যে আমাদের শাসকরা খুব বোধ করেছেন তা নয়।

এই চল্লিশ বছরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর নিপীড়নের অভিজ্ঞতাতেও আমাদের খুব ঘাটতি নেই। আমাদের রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি কিছুতেই। যাদের রক্ষক হওয়ার কথা ছিল তারা ভক্ষক হয়ে উঠেছেন দিনের পর দিন। আমরা চেয়েছি বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বাধীনতা। উল্টো আমাদের ওপর নেমে এসেছে শ্বাসরুদ্ধকর স্বৈরশাসন। আমরা চেয়েছি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে জুটেছে গুপ্তমৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড। আমাদের তরুণরা দৃপ্ত পদে এগিয়ে যেতে চেয়েছেন। তার বদলে লিমনের মতো তরুণকে পা হারাতে হয়েছে।

সুতরাং তেসরা জুলাই যা ঘটে গেল, তাতে বিস্ময়ে চমকে ওঠার কারণ হয়তো আমাদের নেই। জাতি হিসেবে এটুকু স্থূলচর্ম তো আমরা অর্জন করেছে সেই কবেই। কোনো শোকই বুঝি আর শোক নয় আমাদের কাছে, কোনো আঘাতই আর আঘাত নয়।

কিন্তু তবু তেসরা জুলাই আমাদের নতুন করে ভাবাল। এই হাজারো কষ্টের মধ্যেও যে নতুন করে ভাবার, নতুনভাবে বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাটুকু আমাদের সুকঠিন অভিজ্ঞতার ফাঁকফোকরের মধ্যে এটুকু সবুজ চারাগাছের মতো নিজেকে জানান দেয় তা হয়তো প্রমাণ করে- এত পরাজয়, এত অবমাননার পরেও জাতি হিসেবে আমাদের ঘুরে দাঁড়াবার ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

তেসরা জুলাই ঢাকায় আধাবেলা হরতাল ছিল। তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বঙ্গোপসাগরের দুটি গ্যাস ব্লক মার্কিনি বহুজাতিক করপোরেশন কনোকো-ফিলিপসের কাছে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে এই হরতাল ডেকেছিল। হরতাল আইনসম্মত গণতান্ত্রিক অধিকার, অধিকার আদায়ের জন্য একটি স্বীকৃত গণতান্ত্রিক মাধ্যম। এই হরতাল কায়েমী স্বার্থের পক্ষের হরতাল ছিল না। পেছনের দুয়ার দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ছিল না এই কর্মসূচি। বাংলাদেশের সম্পদের ওপর বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রক্ষার, বাংলাদেশে স্বাধীন গণতান্ত্রিক অর্থনীতি বিকাশের প্রত্যাশার এটি ছিল ন্যয়সঙ্গত এক পদক্ষেপ।

কিন্তু তেসরা জুলাই কাকভোর থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্র তার নিপীড়নের থাবা নামিয়ে এনেছিল হরতালকারীদের ওপর। বিনা প্ররোচণায় জাতীয় কমিটির নেতারা একের পর এক গ্রেফতার হয়েছেন। কর্মীদের ওপর নেমে এসেছে পুলিশি নির্যাতনের দানবীয় শক্তি। আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি কর্মীরা বেধড়কভাবে লাঠিপেটা হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে। টেনেহিঁচড়ে ছেলেমেয়েদের পুলিশি ট্রাকে তোলা হচ্ছে। আমরা দৈনিক সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় ছবি দেখেছি এক তরুণীকে বুট দিয়ে লাথি মারছে জনগণের করের টাকায় প্রতিপালিত পুলিশ।

পল্টন থানায় দেখা হয় অদিতি হকের সঙ্গে। অদিতি নৃবিজ্ঞানী, সঙ্গীতশিল্পী। ওর বাবা-মা আমার ব্যক্তিগত বন্ধু সাইফুল হক এবং বহ্নিশিখা জামেরির সঙ্গে সে গ্রেফতার হয়েছিল। সেই সকালেই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেওয়ায় অদিতিকে ঘাড়ে-পিঠে বেধড়ক মেরেছে পুলিশ। পল্টন আর শাহবাগ থানায় অদিতির মতোই আরো সব তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে দেখা হলো সেই সন্ধ্যায়। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের সময়ও দেশপ্রেমিক কর্মীরা রাজপথে থাকতে পেরেছেন। স্বাধীন দেশের ‘‘পিকেটারদের রাস্তায় না দাঁড়াতে দেবার’’ রাষ্ট্রীয় নীতির কারণেই রাজনীতি বুঝি শেষে পথছাড়াই হয়ে গেল।

হরতালের আগের বিকালে জাদুঘরের সামনে সংস্কৃতিকর্মীদের সমাবেশ ছিল এই ইস্যুতে। সেই সমাবেশে আগুনের টুকরোর মতো ছেলেমেয়েদের দেখেছি। এদের কেউ অদূর ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি যাবে তেমন সম্ভাবনা নেই, সুবিধার হালুয়া-রুটিতে এদের কারো আগ্রহ নেই। বরং এদের মধ্যে আছে তারুণ্যের সেই জাদুকরী শক্তি-আদর্শের প্রতি সুগভীর বিশ্বাস। এদের চোখের তারায়, এদের কণ্ঠের কাঁপুনিতে সেই বিশ্বাস ঝিকমিক করে জ্বলে উঠেছিল। এইসব তরুণ-তরুণী এস্টাবলিসমেন্টের অংশ হতে চায় না, কায়েমী স্বার্থবুদ্ধি তাদের জীবনবোধের চালিকাশক্তি নয় এখনো। এদের মধ্যে জীবনের ওপর আস্থার সেই অকম্প শিখা, তারুণ্যেই বুঝি যার শুদ্ধতম প্রকাশ সম্ভব। শিক্ষক হিসেবে, পিতা হিসেবে আমার মনে হচ্ছিল এই বিশ্বাস, এই জীবনবোধ যতদিন জাগ্রত থাকবে, আমাদের এই বেনোজলের খরার, মন্বন্তরের দেশটি সব আশাও ততোদিন ফুরোবে না।

এইসব তরুণ-তরুণীদের অনেককেই পরদিন রাজপথে লাঞ্ছিত, প্রহৃত হতে হয়েছে। কিন্তু এই লাঞ্ছনা তো শুধু তরুণ কর্মীদের নয়। এই অবমাননা গণতন্ত্রের, মানবাধিকারের। তেসরা জুলাই আমাদের বহুবার ক্ষত-বিক্ষত হওয়া গণতন্ত্র ঢাকার রাজপথে আবার মুখ থুবড়ে পড়ল।

আসুন, রাষ্ট্র দ্বারা গণতন্ত্রের ওপর এই নিপীড়নের, গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর এই নিষ্পেষণের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আসুন আমরা বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিকরা প্রতিবাদে সোচ্চার হই। এই প্রতিবাদে আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক। পুনর্বার নতুন শক্তিতে জেগে উঠুক আমাদের ইতিহাস, আমাদের দেশবোধ, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchabge

এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন


শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর
শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলো। একই সঙ্গে প্রাইমারি শেয়ারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে প্রদেয় করে ১০ শতাংশ হারে ছাড় (রিবেট) পাওয়া যাবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কালো টাকা বিনিয়োগের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় দুই সপ্তাহ ধরেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে তা দু’বছরের জন্য রাখতে হবে। আগামী এক বছর ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। আর কেউ যদি প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তাহলে প্রদেয় করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রিবেট পাওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত দু’বছরের আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা কালো টাকা তুলে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ২৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিতে পারবেন। পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে রাজস্ব বোর্ড। চলতি মাস থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ থাকবে। এনবিআর জানিয়েছে, কালো টাকা বিনিয়োগ করতে হলে এনবিআরকে একটি নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ওই টাকা বিনিয়োগের আগেই ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ সুযোগ নিতে হলে এনবিআরকে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব দাখিল করতে হবে। শেয়ারবাজারে আগে বিনিয়োগ করা টাকা পুনরায় বিনিয়োগের সুযোগ নেয়া যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক কারণে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই দু’বার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছিল। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণেই সরকারকে শেয়ারবাজারে কালো টাকার সুযোগ দিতে হয়েছে। এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা নেয়ার কথা বলেছে। অথচ বাজেট ঘাটতি পূরণে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সরকার সেটি গ্রহণ করেনি। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের অনাগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে এটি শেয়ারবাজারে স্বল্প মেয়াদে হয়তো প্রভাব পড়বে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। স্বল্প মেয়াদে প্রভাব পড়ার বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি।
প্রসঙ্গত, গত বছর চারটি সেক্টরে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে— বিএমআরই, শেয়ারবাজার, নতুন শিল্প স্থাপন ও রিয়েল এস্টেট সেক্টর। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রায় ৯২২ কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু শেয়ারবাজার থেকে ৪২৭ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার পর ৩৬ ব্যক্তি তাদের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। এ থেকে সরকার প্রায় ৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল।
শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে মাত্র এক বছর। ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে মূলধন কমপক্ষে দুই বছর বাজারে ধরে রাখতে হবে। অর্থাত্ ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত মূলধন বাজার থেকে উঠাতে পারবে না। বিনিয়োগকারী ওই সময়ের মধ্যে শেয়ার লেনদেন করে শুধু মুনাফা তুলে নিতে পারবেন। কিন্তু মূলধন উঠিয়ে নিতে পারবেন না। চূড়ান্ত নীতিমালায় এ ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। এ সুযোগ গ্রহণ করার পর যাতে কোনো ব্যক্তি বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন সেজন্যই এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার ঘোষিত সুযোগটি গ্রহণ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে তিনি কি পরিমাণ অর্থ বৈধ করবেন। যে পরিমাণ অর্থ ঘোষণা করা হবে তার বিপরীতে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এনবিআরের তৈরি করা আলাদা ঘোষণাপত্রে নাম, ঠিকানা, ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বরসহ (টিআইএন) সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি বিও অ্যাকাউন্টের বিবরণী ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। কারণ এর আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তারল্য সরবরাহ না বাড়ালে বাজারের স্থিতিশীলতা টিকবে না। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে ১০ শতাংশ রিবেটের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, সেটি তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিমালা সাপেক্ষে প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। এটি কোম্পানির জন্য ভালো। কারণ আইপিওর চাইতে প্লেসমেন্টে খরচ অনেক কম।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটো বলেন, এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে বেশি মনিটরিং করা হলে প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়তো বিনিয়োগ আসবে না। প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে রিবেটের সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি নট ফেয়ার। সুযোগ দেয়া হলে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে একসঙ্গেই দেয়া উচিত্। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন সেখানে আমলারা নানা রকম শর্ত জুড়ে দেয়ায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হয়তো সফল হবে না।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

%d bloggers like this: