বিশ্বের ৫০ প্রভাবশালীসুমাইয়া কাজী ও সালমান খান।


বিশ্বের ৫০ প্রভাবশালীর তালিকায় দুই বাংলাদেশি
নিউইয়র্ক থেকে এনা : যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়া দুই বাংলাদেশি বিশ্বের ৫০ প্রভাবশালীর তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এদের একজন হলেন সুমাইয়া কাজী এবং অপরজন সালমান খান। ওয়েবসাইট জগতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০ উদ্যোক্তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং ক্লাউট। সে তালিকার ১৬ নম্বরে স্থান পেয়েছেন সুমাইয়া কাজী। অপরদিকে বিনামূল্যে অনলাইনে অঙ্ক শেখানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করে বাংলাদেশি সালমান খান বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানোর পর ব্রিটেনের ‘উইয়ার্ড’ ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের পরিবর্তন সাধনে সক্ষম ৫০ ব্যক্তির তালিকাভুক্ত হয়েছেন। সালমান খানের ক্রমিকও ১৬। আটলান্টিকের দুই পাড়ের দুটি খ্যাতিমান সংস্থার এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ানদের মধ্যে আর কেউ নেই। কয়েক মাস আগে বিশ্বের ১০০ জন উদ্যমী মানুষের একজন হিসেবে বাংলাদেশি আমেরিকান ড. রায়ান সাদীর নাম উঠে এসেছিল। সুমাইয়া কাজী, সালমান খান এবং ড. সাদীর অবিস্মরণীয় প্রতিভা শক্তির এ স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের উৎফুল্ল করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইমেজ মহিমান্বিত করার জন্য এ ৩ বিশেষ ব্যক্তিত্বকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ-কানাডা কনভেনশন’ (এবিসি কনভেনশন) কমিটির পক্ষ থেকে। প্রবাসে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পারদর্শীদের অংশগ্রহণে গত ৩ বছর ধরে নিউইয়র্কে এবিসি কনভেনশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামনের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে দুই দিনের এবিসি কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে এবং উপরোক্ত ৩ জনকেই বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হবে বলে এবিসি কনভেনশন কমিটির কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এনাকে জানিয়েছেন।


বাংলাদেশের মেয়ে সুমাইয়া কাজী তার মা-বাবা-ভাই-বোনদের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো বে এলাকায় থাকেন। লেখাপড়ার ফাঁকে তিনি সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেন। এরপর সানমাইক্রোসিস্টেমে মার্কেটিং ম্যানেজারের কাজ নেন। সেখানে সপ্তাহে সময় দিতে হয় ৪০ থেকে ৫০ ঘণ্টার মতো। একইসঙ্গে তিনি আরও ২০ থেকে ৪০ ঘণ্টা ব্যয় করেন ‘কালচারাল কানেক্ট ডট কম’ নামক নিজ কোম্পানিতে। ২০০৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘কালচারাল কানেক্ট ডট কম’ তথা টিসিসিসি। ৩৫ বছরের কম বয়েসী কর্মোদ্দীপক যুবক-যুবতীদের আপন সংস্কৃতির অবগাহনে উজ্জীবিত করেন এ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে। প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক ৫টি ই-ম্যাগাজিন। এগুলো হচ্ছে_ দ্য দেশি কানেক্ট, দ্য মিডলইস্ট কানেক্ট, দ্য এশিয়া কানেক্ট, দ্য ল্যাটিন কানেক্ট এবং দ্য আফ্রিকান কানেক্ট। শতাধিক দেশে এসব ম্যাগাজিনের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। ৩ স্টাফ নিয়ে শুরু এসব ম্যাগাজিনে বর্তমানে অর্ধশত স্টাফ কাজ করছেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বারকেলি থেকে মার্কেটিং এবং স্ট্র্যাটেজিক প্লানিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী সুমাইয়া কাজী বলেন, ম্যাগাজিনগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ায় বর্তমানে দুটি দেশের ৮ অঙ্গরাজ্যের ১৮ সিটিতে অফিস স্থাপন করতে হয়েছে। সবাই একটি টিমে কাজ করছি। ২০০৬ সালে বিজনেস উইক ম্যাগাজিন কর্তৃক আমেরিকায় অনূধর্্ব ২৫ বছর বয়েসী সেরা উদ্যোক্তার একজন হিসেবে স্বীকৃতি পান সুমাইয়া কাজী। একই বছর ওই ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ৭৫ মহিলা উদ্যোক্তার একজন হন সুমাইয়া। সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘রয়টার্স এবং ক্লাউট’ প্রকাশ করেছে ওয়েবসাইটে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০ কর্মকর্তা-উদ্যোক্তার তালিকা। সেখানে ১৬ নম্বরে রয়েছেন সুমাইয়া কাজী।


এদিকে বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম ৫০ প্রতিভাবান ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক ‘উইয়ার্ড’ ম্যাগাজিন। অন্য বছর এ ম্যাগাজিন বিশ্বের সেরা ১৫ উদ্ভাবকের তালিকা প্রকাশ করলেও এবার সে সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করেছে। সেখানে রয়েছেন বিল গেটসের স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস, আমাজন ডটকমের জেয় বেজোস এবং জুকারবার্গসহ বিখ্যাতরা। সেই বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের তালিকায় বরিশালের প্রবাসী সন্তান সালমান খানও রয়েছেন। সালমান খানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানায় এবং বিশ্ববিখ্যাত এমআইটি থেকে তিনি ৩টি ডিগ্রি নিয়েছেন। ব্যাচেলর অব সায়েন্স করেন অঙ্কে, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্সে। এরপর এমএস করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স ও ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। শেষে এমবিএ করেছেন আরেক বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে। ইয়াহু ডুডল নোটপ্যাডে তিনি তার কাজিন নাদিয়াকে ২০০৪ সালে অঙ্ক শেখাতে শেখাতে ইউটিউবে টিউটোরিংয়ের আইডিয়া উদ্ভাবন করেন। এরপর প্রতিষ্ঠা করেন খান একাডেমী। এমন চমকপ্রদ পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের প্রতি সালমান খান এতই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন, যে কারণে ২০০৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। মাইক্রোসফ্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বিল গেটসের ছেলে, এ তথ্যটি তার বাবাকে জানালে বিল গেটস অভিভূত হন এবং ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে বক্তৃতার সময় সালমান খানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তারপরই খান একাডেমীর নাম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এযাবৎ ২৬০০ ভিডিওর মাধ্যমে প্রায় সোয়া কোটি লেসন প্রদান করেছেন ইউটিউবে_ বিনিময়ে একটি পয়সাও নেননি। বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ নিতে পারে এ শিক্ষা। অঙ্ক, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অর্থনীতি বিষয়ে এ লেসন দেওয়া হচ্ছে। তার এই টিউটোরিংয়ের কনসেপ্ট বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়্যাল ক্লাসরুমের ধারণাকে সফল হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং সে কারণেই তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


%d bloggers like this: