হলিউডে প্রদর্শিত হল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘কমন জেন্ডার_ দ্য ফিল্ম’


Common Gender The Movie Jahan Hassan Cindy Rolling Hollywood Foriegn Press Golden Globe Awardsহলিউডে প্রদর্শিত হল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘কমন জেন্ডার_ দ্য ফিল্ম’


হলিউডঃ ২০ অক্টোবর (একুশ নিউজ মিডিয়া) গত ২০ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ক্যালিফোর্নিয়ার দ্য চার্লস অ্যাইডিকফ স্ক্রিনিং রুমে প্রদর্শিত হয়েছে ‘কমন জেন্ডার_ দ্য ফিল্ম’।

হলিউডে বিভিন্ন দেশের বিনোদন সাংবাদিকদের সংগঠন হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন প্রতি বছরের জানুয়ারিতে গোল্ডেন গ্লোবস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে থাকে। আসছে বছরের ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বেভারলি হিলটন হোটেলে বসতে যাচ্ছে গোল্ডেন গ্লোবের ৭০তম আসর। গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রোগ্রামের জন্য প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র 'কমন জেন্ডার_ দ্য ফিল্ম' একুশ নিউজ মিডিয়া জাহান হাসান সিন্ডি রাওলিং cindy rolling common gender BADAM Jahan Hassan

হলিউডে এই ছবির পরিবেশক প্যাট্রিসিয়া পল্যাক আমেরিকার সংগঠন বাদাম-বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়ার সহযোগীতায় এই মুভি স্ক্রীনিংর আয়োজন করে। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাফলার প্রেসিডেন্ট ড্যানী তৈয়ব। এই উপলক্ষে মুভিতে অভিনয়কারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়ে সিন্ডি রাওলিং ‘কমন জেন্ডার_ দ্য ফিল্ম’-র পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দর্শক পরিপূর্ন বেভারলী হিলের রোডিও ড্রাইভের স্ক্রিনিং রুমে হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের অনেক সদস্যসহ হলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্রযোজক, ডিস্ট্রিবিউটর সহ বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অভিনয় প্রসঙ্গে সিন্ডি বলেন, ভিন্নধারার এই মুভি বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচয় করে দেবে এবং দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত।

হিজড়াদের জীবন নিয়ে বাংলাদেশে পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ‘কমন জেন্ডার_ দ্য ফিল্ম’ ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন তরুণ নির্মাতা নোমান রবিন, প্রযোজনায় ইআর সিনেমা।

গোল্ডেন গ্লোবস অ্যাওয়ার্ড-এর মনোনয়নের জন্য হলিউডে বাংলাদেশের আরেকটি চলচ্চিত্র হুমায়ুন আহমেদের ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র মুভি স্ক্রিনিং হবে আগামী ১০ নভেম্বর।

This slideshow requires JavaScript.


Pic:
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151194752851897.480302.826936896&type=1&l=ed4fc33eaa

Video: Common Gender The Movie & Cindy Rolling in Hollywood
http://youtu.be/kaCGtmKV92c

লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ


লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ
আটজন ব্যক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান
লস এঞ্জেলেস, ৩০ সেপ্টেম্বর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃ লস এঞ্জেলেসের অভিজাত এক রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি, আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেলেব্রেটি এওয়ার্ড প্রদান করে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর। অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে আটজন ব্যাক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান করা হয়।
BADAM Ibne Mizan Ekush Jahan Hassan
দেশ ও প্রবাসে শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতি-ক্রীড়া ও সমাজ উন্নয়নের আইকনদের কর্মের মূল্যায়ন, উৎসাহ, অবদানের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রেরনা সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও স্বদেশী স্বকীয়তাকে সমুজ্জ্বল রাখার নিমিত্তেই বাদাম-হলিউড পদক-এর সৃষ্টি।

বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্ব। এবারে যারা আজীবন সম্মাননা পদক পেলেন তারা হলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের লিজেন্ড পরিচালক, প্রযোজক ইবনে মিজান, স্বাধীনতাউত্তর বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের পুরোধা সৈনিক, “স্পন্দন” ব্যান্ডের নাসির আহমেদ অপু। আরো সম্মাননা পেলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কর্মের উপর অবদানমূলক কাজের জন্য খিলখিল কাজী, ডঃ গুলশান আরা কাজী, কবি রেজাউদ্দীন ষ্টালিন ও প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও শিক্ষক ফেরদৌস আরা। অভিনেত্রী তারিন জাহান, বিউটিশিয়ান – মেকআপ আর্টিষ্ট নাহিন কাজীকে ও সম্মাননায় ভূষিত করল বাদাম।
BADAM Tarin Nahin Zabin Hilton Jahan Hassan Ekush News Media
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা। সহযোগীতায় ছিলেন শাহানা পারভীন, এম কে জামান ও জাহান হাসান। সংগঠনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন বাদামের উপদেষ্টা মোবারক হোসেন। সম্মানিত বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর নির্মিত অডিও-ভিস্যুয়াল প্রর্দশনীর মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ইবনে মিজানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাদামের প্রধান উপদেষ্টা এম কে জামান। নাহিন কাজীকে ব্যবসায়ী ও সংগঠক ফরিদ আহমেদ নুরু ও তারিন জাহানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডাঃ রবি আলম।
BADAM Ekush News Media Jahan Hassan
তিন পর্বের এই অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু। বাদামের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্ণিয়ায় ৬ষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম এনডাউমেন্ট লেকচারশীপ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই পর্বে ফেরদৌস আরাকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান। খিলখিল কাজীকে জাতীয় বক্সার আক্তার ভূইয়া, ডঃ গুলশান আরা কাজীকে মোবারক হোসেন ও রেজাউদ্দীন ষ্টালিনকে শফিঊল আলম (ফ্রেন্ড বাবু) স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন।
BADAM Jahan Hassan ekush news media
সম্মানিতরা তাদের বক্তব্যে প্রবাসে তাদেরকে এই ধরনের তথ্যপূর্ণ ও ব্যক্তিগতভাবে যত্নশীল উপস্থাপনের জন্য বাদামকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশ-প্রবাসের মাঝে সেতুবন্ধনের এই মহতী প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

BADAM Jahan Hassan ekush news media

শেষ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ইবনে মিজানের বড় ছেলে ব্যবসায়ী, চিত্রনায়ক টিটো মিজান।
বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর ভিডিও নির্মান ও গবেষনায় ছিলেন জাহান হাসান। দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ এই ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেস সহ পার্শ্ববর্তী শহরের বিদগ্ধজনেরা যোগ দেন।

ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা


লস এঞ্জেলেস থেকে জেসমিন খানের কলাম
হলিউডে ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা
-জেসমিন খান
হলিউডের দেশে অর্থাৎ লস এঞ্জেলেসের “রয়াল দিল্লি প্যালেস” এর হলরুমে তখন আলো আধারির নরম আলোর তৈরী মোহনীয় আলোকসজ্জার মাঝে মঞ্চের বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে একটা গানের দৃশ্য। গানের সুর টা খুব আবেগময়। কন্ঠটাও খুব মিষ্টি। গায়িকা নিজেই অংশ নিয়েছেন কোরীয়গ্রাফিতে। আকাশ দেব কাকে? গানের কথায় আকাশ ছুয়ে যাওয়ার বাসনা, বৃষ্টির রিমঝিম ধারা ও শব্দের সাথে সুললিত কন্ঠ মাধুর্য ছুয়ে যাচ্ছে দর্শক-শ্রোতার হৃদয়। বৃষ্টি দেখতে দেখতে দর্শক শ্রোতাও পৌছে গেছেন বাংলাদেশের বর্ষার মাঝে। বাংলাদেশে এখন শরত এসেছে। হয়ত সেখানে এখন সুনীল আকাশে কৃষ্ণবর্ণ মেঘের আনাগোনা। বর্ষা বিদায় নিলেও যাই যাই করেও এখনো দাড়িয়ে আছে দুরে কোথাও। তবুও শরত এসেছে। এসেছে তার শিশির ভেজা সবুজ মাঠ,খালে বিলে পদ্ম ও শিউলির লাবন্য নিয়ে। এখন ভোর ভোর সকাল নেমেছে বাংলাদেশে। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সকালের স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে পরছে আমার দেশের পথে প্রান্তরে…|

চমক ভাঙ্গলো প্রচন্ড হাততালির শব্দে। গায়িকা অভিনেত্রী তারিনের গাওয়া গানের অংশ শেষ হয়েছে ,এখন অভিনয়ের অংশ বিশেষ দেখানো হচ্ছে। আয়োজনটি বাদামের পক্ষ থেকে। BADAM বাদাম -মানে, বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব ডাইভারসিটি আর্টস আন্ড মিডিয়া। আজ এখানে বাদাম আয়োজিত এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন দেশের আট জন গুনী ব্যক্তিত্ব। তার মধ্যে পাঁচ জনই নারী। নারীদের এই সাফল্য যে কতটা আনন্দের তা নতুন করে বলবার অপেক্ষা রাখে না। আমি পর্দায় জাহান হাসানের ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখতে দেখতে ভাবছিলাম – সাকসেস মাপার মাপকাঠিটি কেমন? কোন বিশেষ সংগায় বাধা যায় সাফল্যের রসাযন। যে মেয়েটা মিস ইউনিভার্স অথবা সেরা সুন্দরীর মুকুট পরে সারা দুনিয়ার মানুষকে তাক লাগিয়ে ফ্লাইং হাসি ছুড়ে দেয়, আর যে মেয়েটা লন্ঠনের আলোয় অঙ্ক কসে কসে ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো ডিগ্রির পরীক্ষায় ভালো ভাবে উতরে যায়,-তাদের মধ্যে কে বেশী সফল? প্রশ্নটা প্রায়ই আমায় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। নারী মুক্তির ইতিহাস নিয়ে কত কথা শুনি।

নারীবাদের আইনেস্টায়েন সিমন দা বুভেয়র এর “দা লাজিয়েম অফ সেক্স ” বা দা সেকেন্ড সেক্স” আদ্যপ্রান্ত পড়েও বুঝে উঠতে পারিনি এই সব গোলমেলে প্রশ্নের উত্তর। বুঝতে পারিনা তার আসল সংগা।একসময় পুতুল খেলার বয়সের বাচ্চা মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো ধর্ম রক্ষার নামে। তাদের স্বামী নির্বাচনের ব্যাপারে বয়সের কোনো মাপকাঠি ছিল না। একজন পুরুষ হলেই হলো। বৃদ্ধ,এমন কি মৃত্যু পথযাত্রী হলেও ক্ষতি নেই। সমাজ পতিদের মন রক্ষা হলেই বাধা নেই। তার পর বিধবা অথবা সহমরণ এই ছিল তাদের ভবিতব্য। সহমরণের ভয়ংকর প্রথা, বিধবাদের প্রতি সমাজের অকথ্য অত্যাচার, এসব থেকে তাদের বাচাতে এগিয়ে এসেছিলেন রামমোহন রায়,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর মতো মানুষ। বিদ্যাসাগর চেয়েছিলেন মেয়েমানুষ নামের এই সব অবলা বাকরুদ্ধ প্রাণীগুলো বাঁচতে শিখুক। ভালোমন্দ বুঝতে শিখুক। স্বপ্নটাকে আরো একটু বাড়িয়ে বিধবা-বিবাহ পর্যন্ত যেতে তাকে কম হেনস্থা সইতে হয় নি !

বিদ্যাসাগরের সময় থেকে বেগম রোকেয়ার সময় পর্যন্ত যে সব মেয়েরা বিদ্যাসাগর অথবা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন সার্থক করতে তুচ্ছ করেছিলেন সমাজের চোখ রাঙ্গানি ও ভ্রুকুটি -তারা কি বেশী সাফল্যময়ী নাকি সে সময়ের অভিজাত পরিবারের লোরেটো বা বেথুন থেকে পাশ করা সর্ব বিদ্যায় পারদর্শী মেয়েটি বেশি সাকসেসফুল তা ভাবনায় আসে অনেকটাই|

সাফল্যকে মাপা খুব জটিল একটা কাজ। তার নিজেরই একটা জ্যো-তি আছে। সে আলোতেই সে উদ্ভাসিত হয় সকলের চোখে। তেমনি আলোতেই গুণীজনদের আরো আলোকিত করবার প্রত্যয় ও প্রচেষ্টা নিয়েই বাদামের জন্ম। লস এঞ্জেলসে বেশ কিছু সংগঠন থাকা সত্বেও নতুন আরো একটি সংগঠন কেনো –এ প্রশ্নের উত্তরে বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান জানালেন –বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারার বিকাশ ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখবার একান্ত প্রচেষ্টাই বাদামের মূল লক্ষ্য। আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই এলাকার একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দেশের ও প্রবাসের কবি সাহিত্যিক ,দার্শনিক,সাংবাদিক ,অভিনেতা ,অভিনেত্রী ,ক্রীড়াবিদ ও সমাজের অন্যান্য শাখার প্রথিতযশা মানুষদের মূল্যায়নের জন্যই বাদাম কাজ করে যাবে।

এ লক্ষ্যেই বাদাম তার প্রথম আয়োজন করে -“সাম্প্রতিক বাংলাদেশ “। এই উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী হৃদয়ের অনেক চিন্তা-ভাবনার কথা উঠে আসে। কারণ প্রবাসের নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবনে বাস করলেও দেশের সুখ দুঃখ ,আনন্দ বেদনা ঘিরে রাখে প্রতিনিয়ত প্রায় সকল প্রবাসীকেই। হৃদয়ের চোরা কুঠুরিতে আলোড়ন তোলে দেশের ভাবনা। এই আবেগ থেকেই আলোচনা হয়ে ওঠে আরো প্রানবন্ত। স্থানীয় প্রবাসী ও পুরোনো সতীর্থদের সাথে যোগ দেন দেশের এর আর এক জন সফল মানুষ -ফিডব্যাক এর প্রথম ভোকালিস্ট, স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের প্রধান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জাকিউর রহমান। সম্বর্ধনা জানানো হয় বাংলাদেশে আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মানের অগ্রদূত চলচ্চিত্রকার মোহাম্মদ হোসেন জেমিকে। যিনি এই হলিউড থেকেই উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মানের ওপর।

এর মাঝেই বিষাদের ছায়া নেমে এলো বাঙালি সমাজে। শুধু বিষাদ নয় -এ যেনো এক কাল বৈশাখী ঝড়। কিংবদন্তির রূপকথার নায়ক হিসেবে যে মানুষটি অতি অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন দেশের কোটি মানুষের ভালবাসায়। সেই মহানায়ক লেখক হুমায়ুন আহমেদের চির প্রস্থানের পর বেদনাহত বাদাম পরিবার। সেই বেদনাকে সঙ্গী করে আয়োজন হলো -“-হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে–শ্রদ্ধাঞ্জলি “। তবু যেনো পাওয়া হলো না পরিপূর্ণ পাওয়ার দুর্লভ আনন্দ, যা অবিস্মরণীয় হতে পারতো! কারণ সদ্য প্রয়াত সেই মানুষটি অনন্তলোকের ওপার থেকেও আচ্ছন্ন করে রেখেছেন তার পাঠকের চিন্তা চেতনা ,মনন শীলতা। বাদামকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন ভক্তরা -জানালেন তাদের সেই অতৃপ্ততার কথা -বেদনার কথা ,শ্রদ্ধা ও ভালবাসার কথা।

এর পর বাদাম আয়োজন করে ওপার বাংলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় এর সাম্প্রতিক বই বেস্টসেলার ” কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট” এর হলিউডে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। আনন্দবাজার পত্রিকার সাবেক সহ সম্পাদক ও সংবাদ প্রতিদিনের সহ সম্পাদক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত লেখালিখি করেছেন -রবীন্দ্র জীবনের গোপনচারীনিদের নিয়ে। তার “আদরের উপবাস “বইটিতেও তিনি রবীন্দ্রনাথের জীবনের তিন নারীর ভূমিকার অজানা প্রেমময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরেছেন। তারা হলেন কাদম্বরী দেবী ,লেডি রানু মুখার্জি এবং ভাইঝি ইন্দিরা দেবী |স্কটিশ চার্জ কলেজের একদা ইংরেজির অধ্যাপক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় তার” আদরের উপবাসে ” জানিয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষ মুসলমান ছিলেন | তাদের পূর্বপুরুষের একজনের নাম ছিল -পীর আলী। যে কারণে তাদের পিরালী ব্রাহ্মন হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং নির্ভেজাল ব্রাহ্মন্ না থাকার কারণে ঠাকুর পরিবাররের ছেলেমেয়েদের বিবাহে -এমন কি রবীন্দ্রনাথেরও বধু সংগ্রহে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় |

সাহিত্যের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই, গোত্র নেই, নেই দেশ কাল সীমানা। সাহিত্য সকলের। তাই বাদাম তার সীমানা করেছে উন্মুক্ত। দেশ কাল পাত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাদাম সকলের। বিশেষ করে বাংলা ভাষা ভাষীদের প্রতিটি মানুষের। বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্। দেশের সংস্কৃতির অঙ্গনে তাদের অবদান অনষিকার্য। চলচিত্র বা সিনেমার পরিচালক হিসেবে ইবনে মিজান সুপরিচিত একটা নাম। বহু সফল বানিজ্যিক ছবির নির্মাতা তিনি। বর্তমানে তিনি লস এন্জেলেসে বসবাস করছেন। ইবনে মিজান ছাড়াও আজীবন সম্মাননা সনদ পেলেন নাসির আহমেদ অপু। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের, সম্ভবত ৭২ এর দিকে ব্যান্ড সঙ্গীতের জগতে জনপ্রিয় দল ” স্পন্দন ” এর সংগঠক ও প্রধান ভোকালিস্ট। বহু জনপ্রিয় গানের নির্মাতা তিনি। তার লেখা ও সুর করা গান -এমন একটা মা দেনা ,যে মায়ের সন্তানেরা -কান্দে আবার হাসতে জানে,-প্রচন্ড ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তিনিও বর্তমানে এখানেই বাস করছেন।
BADAM
নাহীন কাজী সম্মাননা পেলেন একটু ভিন্ন খাতে। তিনি একজন সফল বিউটিসিয়ান। তার কাজ অনেকটা অন্তরালে। টেলিভিশন বা মঞ্চের অভিনেত্রী বা গায়িকাদের সাজসজ্জায় আমরা মুগ্ধ হই, অনেক সময় অনুকরণ ও করতে চাই, সেই সব মনোমুগ্ধকর সাজ সজ্জা একজন বিউটিশিয়ানের সৃষ্টি। আধুনিক বিশ্বে সব কিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি ফ্যাশন, ফিউসন, লাইফ স্টাইল ট্রেন্ডস, হেলথ কেয়ার, তথা পারসনাল গ্রুমিং সব কিছুই জীবনে অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা সেলিব্রিটি বা মিডিয়ার সাথে যুক্ত। সৌন্দর্য চর্চা এবং সুন্দর থাকা তাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত। নাহীন কাজী তার কাজের মাধ্যমে দেশের মিডিয়া জগতে এক নন্দিত শিল্পীর পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করেছেন ইতিমধ্যে।

প্রখ্যাত গায়িকা ফেরদৌস আরার কথা নতুন করে বলবার কিছু নেই। তিনি জাত শিল্পী। অত্যন্ত খ্যাতিমান এই গায়িকা সঙ্গীতের সব শাখায় অবাধ বিচরণ করলেও নজরুল সঙ্গীতে তিনি ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তার জনপ্রিয়তা আজ আর দেশে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পরেছে সমস্ত পৃথিবীর প্রবাসী বাঙালির মাঝে। খিলখিল কাজিও এমনি একজন মানুষ। তিনি শুধু কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি নন ,প্রখ্যাত আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচীর কন্যা খিলখিল কাজী নিজে ও একজন শিল্পী। বহুবিধ প্রতিভার অধিকারিনী তিনি। অথচ তার কোনো প্রকাশ তার মধ্যে নেই। তিনি তার অসাধারণ বলবার ক্ষমতায় বর্ণনা করলেন কবি নজরুলের জীবনের অজানা আটপৌরে দিকগুলো।মুহুর্তেই বিদ্রোহী কবি তার যোজনার দুরত্ব ঘুচিয়ে হয়ে উঠলেন আমাদের সকলের আপনার। আমরা শ্রোতার দল খুঁজে পেলাম সেই নজরুল -যিনি রাগ করছেন,ফুটবল খেলে প্রিয় দল হেরেছে বলে অভিমানে কাঁদছেন,আবার সন্তানদের নিয়ে আনন্দ করে ঘুরছেন সাধারণ গৃহস্থ হয়ে, এই পাওয়াও বড় কম নয়। বাংলাদেশের জাতীয় কবি তথা বিশ্ব মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিশ্ব সমাজে পরিচিত করার লক্ষ্যে নর্থ আমেরিকাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নজরুল গবেষক ডঃ গুলশান আরা কাজী। তাকেও সম্মাননার অন্তর্জালেও আবদ্ধ করল বাদাম।

বেশ অনেকক্ষণ ধরে স্ক্রিনে দেখছি মিডিয়া কাপানো সেলিব্রিটিদের আনাগোনা। সাংবাদিক ও বাদামের আহবায়ক জাহান হাসানের অসাধারণ ভিডিও প্রেজেন্টশনএ প্রতিটি গুনিজনের জীবন বৃত্তান্ত ফুটে উঠেছে জীবন্ত হয়ে উঠছে রওনাক সালাম, শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের সাবলীল ধারা বর্ণনায়। সঞ্চালক মশহুরুল হুদা তার সহযোগী শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিকে করে তুলছে অত্যন্ত মনোগ্রাহী। কিন্তু কি যেনো একটা নেই। কি যেনো একটা অতৃপ্তি ! সাহিত্য বা কবিতার অনুপস্থিতি চোখে লাগে বৈকি ! উদ্যোক্তারা কি টেলিপ্যাথী জানেন?

এবার মঞ্চে যিনি এলেন, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন কবি। নজরুল একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর রেজাউদ্দিন স্টালিন তার সব পরিচয় ছাড়িয়ে কবি পরিচয়েই যেনো বড় বেশী কাছের হয়েছেন সকলের। কারণ অনেকেই তার কবিতা শুনতে চান। অত্যন্ত শক্তিমান এই কবি, কবিতার রাজ্যে বাস করেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন কাজী নজরুলের সব সৃষ্টিকে যথাযত ভাবে বাঁচিয়ে রাখবার প্রয়াসে। সকলের অনুরোধে তিনি পাঠ করলেন নিজের লেখা কিছু কবিতা। তার প্রায় কবিতায় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষার কথা বলেছেন। পৃথিবীকে বাঁচাবার কথা বলেছেন। স্টালিন বললেন কবিরা শুধু দিতে চায়, দিতে চায় হৃদয় ভরে। পৃথিবীকে সজীব ও সুন্দর রাখতে চায়। বিনিময়ে চায়না কিছুই। কোনো ঐশ্বর্যতেই কবিদের রুচি নেই। কবিরা প্রকৃতি ভালোবাসে তা আমরা জানি। তারা যে ঐশ্বর্য চায় না তাও আমরা জানি। অনেক বছর আগে শার্ল-বদলিয়ার বলেছিলেন –
কি তুমি চাও -অজানা আগন্তুক? মনি কাঞ্চন ,নাকি সোনা রুপা ?
কোথায় তোমার দেশ ?কোন দ্রাঘিমায় তার অবস্থান ?
অনেক প্রশ্নের উত্তরে সে বলছে —
আমি ভালো বাসি মেঘ ,চলিষ্ণু মেঘ ,যারা উড়ে যায় ওই উচু থেকে উচুতে …..||
আকাশ আর মেঘ থেকে আবার ফিরে এলাম মাটিতে। এই হলরুমে সুবেশী অসংখ্য নারী পুরুষের ভি। পরিমিত আলোক সজ্জা, চা কফি ছাড়াও সুখাদ্যের কমতি নেই। হৃদয় ও উদরের পরিপূর্ণ উপাদান।

বাদাম বয়সে নবীন হলেও কাজে প্রমান করেছে দায়িত্বশীলতার। ভাবছি –বাদাম যে প্রত্যয় দিয়ে শুরু করেছে তা ছিল অনেকটাই প্রতিশ্রুতিশীল। ছিল অনেক অঙ্গীকার। বাদাম কি তার প্রথম অঙ্গীকার থেকে কিছুটা সরে এসেছে? কিছুটা কি বদলে গেছে তার ভাবনার গতি? এই লস এন্জেলেসেই এমন বেশ কিছু মানুষ আছেন যারা সম্মাননা পাওয়ার তালিকার প্রথম সারিতে আছেন। আমার হয়ত অনেকের সাথে তেমন পরিচয় নেই, কিন্তু কিছু মানুষের কথা না বললেই নয়। তাদের মধ্যে আছেন –ড: মাহবুব হাসান, লেখক তপন দেবনাথ, কাজী মশহুরুল হুদা, মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ ও আরো অনেকেই। বাদাম কি ভাবছে তাদের নিয়ে? বাদাম কি তার পরবর্তী কাজের কথা ঘোষনা করেছে ইতিমধ্যে? জানবার বাসনা রইল অনেকটাই।

কবিতার রাজ্য থেকে আবার ফিরে এলাম গানের জগতে। তারিনের গানের মধ্য দিয়ে। তারিন জাহান বা তারিন এতটাই পরিচিত একটা নাম দেশের মিডিয়া জগতে যে ,তার সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলবার আর নেই। মিডিয়ার কল্যাণে তার সবকিছুই সবার মোটামুটি ভাবে জানাই আছে। নতুন কুড়ির শিশু শিল্পী হিসেবে তারিনের পথ চলা শুরু। তার পর থেকে পথটা শুধুই সাফল্যের। নাচ, গান, অভিনয় সবকিছুতেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা পাওয়া নামটি তারিন। আজকের দিন শুধু নয়। তারিন এগিয়ে যাবে আরো আরো অনেক দূর। যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম –সাফল্যের বেরমিটারের পারদ কি দিয়ে মাপা যায় ,যদি সে হয় নারী? আমেরিকার এই সব দেশে নারী পুরুষের তেমন তফাত মাপা হয় না। নারীদের কোনো জবাবদিহিতার দায় ও তেমন নেই। তবু ভাবি আরো কতদূর যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা? পলে পলে প্রতিবন্ধকতার বেড়ী এড়িয়ে? আমি জানি আজকের উদিতারা ,আজকের নারীরা অনেক চেতনা সম্মৃদ্ধ। তারা নিজ যোগ্যতাতেই খুঁজে নেবে পথের দিশা। আলোকের ঝরনাধারায় ধুয়ে দেবে সব অন্ধকার।

বাদাম সাথে থাক আমাদের। আজকের পৃথিবীর হিংসা বিদ্দেষ,অশান্তির কালো মেঘের মধ্যে দেখা দিক ভালবাসার আলোর উৎস। অন্ধকার গভীর হয় সূর্যের দুর্বল অবস্থানের জন্য। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রার্থনায় সূর্য আরো প্রখর হোক পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য। বেঁচে থাক প্রেম তার জাদুকরী উজ্জলতায়। বেচে থাক ফুল, নদী, পাখি, গান, কবিতা, সাহিত্য ও সুন্দর। এই সুন্দরের আগমনী সুরে –বাদাম এর স্বপ্ন দেখা –জাহান হাসান, কাজী মশহুরুল হুদা, এম কে জামান, পঙ্কজ দাস, ফারাহ সাঈদ, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, শাহানা পারভীন, শফিউর রহমান বাবু ,খাজা এরশাদ মইনুদ্দিন পপসি, আকতার ভুইয়া, মোবারক হোসেন ও কবি রওনক সালাম সহ বাদামের সকল সদস্য ও গুনগ্রাহীদের জানাই আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। এ পথ চলা সার্থক হোক।।
ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





BUFLA : বাফলা’র বর্তমান পরিস্থতি নিয়ে মুক্ত আলোচনাঃ ক্ষমতার অর্ন্তদ্বন্ধ থেকেই কি বাফলা ক্লিনজিং কমিটির উদ্ভব হয়েছিল?


বাফলা’র বর্তমান পরিস্থতি নিয়ে মুক্ত আলোচনাঃ

ক্ষমতার অর্ন্তদ্বন্ধ থেকেই কি বাফলা ক্লিনজিং কমিটির উদ্ভব হয়েছিল?

বাফলায় সেই অপ্রীতিকর মিটিং এ যা ঘটেছিলো, তার সূত্রপাত হয় অনেক আগেই। ধীরে ধীরে বাফলা যখন স্থানীয় ও মেইন ষ্ট্রীমে স্থান করে নিতে লাগলো , সেখানে বাংলাদেশ কমিউনিটিকে প্রপারভাবে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ সৃষ্টি তৈ্রী হলো। বাফলার কিছু কর্মকর্তা তখন সিটিহলে ও কোরিয়ান কম্যুনিটির সাথে লিটল বাংলাদেশ নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা শুরু করলেন। সেই সকল বাফলার নেতারা সিটি হলে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলেস ( বাফলা) -কে সমগ্র কম্যুনিটির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে উপস্থাপন করছিলেন। মুজিব-হাসেম-মাহবুব’রা এক হয়ে কাজ করা শুরু করলেন। এর মাঝে স্ব-প্রচেষ্টায় মুজিব সিদ্দীকি লিটল বাংলাদেশ নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন। ইতিমধ্যে বাফলার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলেও সিটি হল বা মেইন ষ্ট্রীমে অফিশিয়াল নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলোনা। বাফলার নতুন ক্যাবিনেট বাফলাকে আরো প্রেজেন্টেবল ও শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ হিসাবে ২য় বাফলা সংবিধান সংশোধনী আনলেন। নতুন কয়েকটা সংগঠনকে সম্যমতো বাফলায় অর্ন্তভূক্ত না করাতেও জটীলতা তৈ্রী হয়। যাতে আসল ক্ষমতার অর্ন্তদ্বন্ধ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করা যায়, তার সুযোগ ও তৈ্রী হলো। একজন বাফলার কর্মকর্তাকে নীতি বর্হিভূত কর্মকান্ডের জন্য বহিষ্কার করা হলো, তার সূত্র ধরে বাফলার নির্বাচনে পরাজিত শক্তিরা জোট বাধা শুরু করে নিজস্ব প্রভাব বলয় সৃষ্টি করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে তখন কোন কোন ইসি মেম্বার নিজেদের যোগ্যতার প্রশ্ন তুললেন, সেই থেকে বাফলার ভেতর অর্ন্তদ্বন্ধ শুরু।

বালা যখন আবার অকার্যকর হলো ও লিটল বাংলাদেশ নিয়ে যখন জোরে-সোরে কার্যক্রম শুরু হলো, বাফলার সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে একটি মহল উঠেপড়ে লাগলো, সুচিন্তিত ভাবে রাজাকার ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসা হলো বিভক্তির জন্যে। যাদের হাতে পূর্বে ক্ষমতা ছিলো তারাই নিজেদের তৈ্রী সংবিধানএর নীতি অনুসরন না করে নিজেদেরই তৈ্রী বাফলাকে অকার্য্যকর ঘোষনা করলেন। তারা নিজেরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, শত প্রচেষ্টা সত্বেও তথাকথিত স্বঘোষিত সংগঠনদের নূন্যতম ফী ও কম্যুনিটি সময়ের বিনিময়ে বাফলার মেম্বার করতে পারেন নি, অথবা তখনকার বাফলার নেতৃত্ব তাদের পছন্দ হয়নি, তাদেরকে নিয়ে রিফর্ম বাফলার উদ্যোগে অনেকে হয়তো খুশী হবেন, কিন্তু কম্যুনিটিকে একই নামে বিভক্ত করা কি উচিৎ হচ্ছে কিনা সেটা ভাববার সময় এসেছে। যা বাফলার সাংবিধানিক ভাবে সংশোধন করার সুযোগ ছিলো তাকে পাশ কাটিয়ে নতুন ফেডারেশন করার চিন্তা-ভাবনাকে বাফলার নেতৃবৃন্দকেও আমলে আনতে হবে। যেখানে লিটল বাংলাদেশ কম্যুনিটিকে এনার্জাইজ করার ও নিজেদের ম্যাপকে লস এঞ্জেলেসএ প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈ্রী হয়েছে , স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তিরা যখন বাফলার নেতৃত্বে, তখন রিফর্ম বাফলার উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানাতে পারছেন না।

সিনেমা আবিষ্কারের ১১৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও যদি সিনেমা নামক নন্দনকলার এই দিকটি আমাদের দেশে আজও উপেক্ষিত থাকে তাহলে আগামী দিনগুলোতে আদৌ আমরা সুস্থ, সুন্দর, ভালো এবং নান্দনিক ছবি নির্মাণ করতে পারব কি না সে বিষয়ে সন্দেহ থেকে যায়:বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র


বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র-১ম পর্ব

চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্র

Publish On 04/11/2010 ফ্লোরা সরকার ●

‘The time of pain is the time of the making’. ~Theodorous Angelopoulas.Filmmaker, Greece.

‘নৈতিকতা হচ্ছে ভবিষ্যতের নান্দনিকতা’- ভ্লা.ই.লেনিন।

[1]বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্রকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোকে আলোচনা করলে আমরা বিশ্ব চলচ্চিত্র থেকে কতটা দূরে বা কাছে অবস্থান করছি তা অনুধাবন করা সহজ হবে। দূরত্বের মাপকাঠির এই ফলাফল হয়তো আমাদের বিশ্ব চলচ্চিত্রের কাছে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে তা অনুধাবন করতে পারি। কারণ সিনেমা আবিষ্কারের ১১৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও যদি সিনেমা নামক নন্দনকলার এই দিকটি আমাদের দেশে আজও উপেক্ষিত থাকে তাহলে আগামী দিনগুলোতে আদৌ আমরা সুস্থ, সুন্দর, ভালো এবং নান্দনিক ছবি নির্মাণ করতে পারব কি না সে বিষয়ে সন্দেহ থেকে যায়। সন্দেহের সেই বিন্দু থেকেই শুরু করা যায়। যেহেতু বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোকে আমাদের আলোচনার সূত্রপাত তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রের অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত সম্যক ধারণা নেওয়ার পর আমরা তার আলোকে বাংলাদেশের অবস্থান বিবেচনা করব। তাই শুরুতেই হলিউডের চলচ্চিত্রজগতে চলে যাওয়া যাক। কেননা সিনেমার সূত্রপাত ফরাসি দেশে ঘটলেও শুরুর আগেও কিছু শুরু থাকে আর সেই শুরুটা আমরা মার্কিন মুলুকেই ঘটতে দেখি।

চেষ্টাটা অনেক দিন ধরেই চলছিল। কী করে স্থির ছবিকে চলমান এবং গতিময় করা যায়-সেই সমস্যার প্রাথমিক সমাধান করলেন অ্যাডওয়ার্ড মুইব্রিজ। আদতে ব্রিটিশ হলেও থাকতেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকার সময় ১৮৭৩ সালে তিনি পরপর ২৪টি ক্যামেরা বসিয়ে একটি ছুটন্ত ঘোড়ার ছবি তুললেন। ছবিকে চলমান করার এটিই সম্ভত প্রথম প্রয়াস। মুইব্রিজ তার যন্ত্রের নাম দিলেন জুপ্রাস্কিস্কোপ। এভাবে চলন্ত ছবিকে ধরে রাখার আরও বেশকিছু যন্ত্র আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে উনণততর আরও যন্ত্র আবিষ্কার হতে থাকল। অবশেষে অগস্তে লুমিয়ের ও লুই লুমিয়ের নামে দুই ফরাসি ভাই মিলে তৈরি করলেন সিনেমাটোগ্রাফ। ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরের সেই দিনটিতে প্রথম দর্শকরা পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে সিনেমা দেখলেন এবং সেই দিন থেকেই বিজ্ঞানী ও চলন্ত ছবির খেলনা বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সিনেমা সেসব কুশলীদের হাতে চলে গেল যাদের আমরা বলি প্রযোজক, পরিবেশক ও দর্শক।

প্রথম দিকের বেশির ভাগ ছবি নিউইয়র্কে নির্মিত হলেও ১৯০৭ সালের দিকে ফিল্ম নির্মাতাদের চোখ পড়ল ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণে মেক্সিকো সীমান্তঘেঁষা হলিউডে। নির্বাক যুগের ফিল্ম নির্মাতাদের মধ্যে যিনি সব থেকে সৃজনক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করেন সেই ডেভিড ওয়ার্ক গ্রিফিথ নির্মাণ করেন ‘বার্থ অব এ নেশন’ (এই ছবিটি গ্রিফিথকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি), ইনটলারেন্সসহ আরো অনেক ছবি। ইনটলারেন্স ছবির মূল প্রতিপাদ্য ছিল-অসহিষ্ণুতাই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় বিষবৃক্ষ, অসহিষ্ণুতাই মানুষকে ঠেলে দেয় অশান্তি এবং হিংসার পথে। এ সময়ে ওয়েস্টার্ন ছবির চাহিদাই ছিল সব থেকে বেশি। যা পরবর্তীতে পৃথিবীর আরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তা ছাড়া সিরিয়াস এবং অ্যাকশনধর্মী ছবির পাশাপাশি কমেডির চাহিদাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিল যথেষ্ট।

সেই স্বর্ণযুগের কমেডি ছবির শ্রেষ্ঠতম ফসল চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন (চার্লি চ্যাপলিন) অভিনীত প্রথম ছবি ‘মেকিং আ লিভিং’ তৈরি হলো ১৯১৪ সালে। প্রথম দিকে অন্যের ছবিতে অভিনয় করলেও পরের দিকে নিজেই ছবি পরিচালনায় যান এবং একে একে দ্য ট্র্যাম্প, গোল্ডরাশ, মডার্ন টাইমসসহ প্রায় আশিটি ছবি নির্মাণ এবং একই সঙ্গে অভিনয় করেন। ভাঁড়ামি নয়, হাসির অন্তরালে যে করুণা গোপন থাকে সেই করুণ রসে দর্শকের মন আর্দ্র করাই ছিল চার্লির উদ্দেশ্য। সেই সময়ে আরো কিছু কমেডি অভিনেতার আবির্ভাব ঘটে যেমন-হ্যারাল্ড লয়েড, লরেল ও হার্ডি, বাস্টার কিটন।

ওয়েস্টার্ন বা কমেডির মতোই মার্কিন চলচ্চিত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ধারা তথ্যচিত্র। এ ব্যাপারে প্রথমেই আসে রবার্ট ফ্ল্যাহার্টির নাম। বস্তুত তিনি হচ্ছেন তথ্যচিত্রের জনক। তার সব থেকে বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘নানুক অব দ্য নর্থ’ মুক্তি পায় ১৯২২ সালে। এরপর ‘মোয়ানা’, ‘টাবু’ ‘হোয়াইট স্যাডোস অব দ্য সাউথ সি’সহ বেশকিছু তথ্যচিত্র। বিশ্বে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনোহরণকারী প্রথম চরিত্র যদি হয় চার্লি চ্যাপলিন তাহলে দ্বিতীয়টি ওয়াল্ট ডিজনির মিকি মাউজ। অ্যানিমেটেড কার্টুন ছবির স্রষ্টা সেই ওয়াল্টার এলিয়াস ডিজনির প্রথম ছবি ‘অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড’ (১৯২৪) ব্যর্থ হলেও মিকি মাউজ চরিত্রের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ডিজনির ছবি প্রসার ঘটে যায়। সবাক যুগের আমেরিকার প্রথম ছবি ‘দ্য জ্যাজ সিঙ্গার’ মুক্তি পায় ১৯২৭ সালে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৯২৯ সালের ‘মহামন্দার’ আগে পর্যন্ত গোটা মার্কিন সাম্রাজ্যে চলচ্চিত্রের যে প্রসার ঘটে তা কল্পনাতীত। তবে মন্দার খুব বেশি প্রভাব মার্কিন চলচ্চিত্রে পড়ল না। ১৯৩০ সালে নির্মিত হলো পৃথিবী বিখ্যাত ছবি লুইস মাইলস্টোনের ‘অল কোয়ায়েট ইন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব ইউরোপের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেভাবে না পড়ায় ছবির গতি অব্যাহত থাকল। তবে পরিবর্ধিত সমাজবোধের ঢেউ ছবির গায়ে এসে লাগল বেশ ভালোভাবেই। চল্লিশের দশকে নির্মিত হতে লাগল নতুন ধারার ছবি-‘দ্য নিও রিয়ালিজম’। এ ধারায় যোগ দিতে লাগলেন জন ফোর্ড, বিলি ওয়াইল্ডার, ওরসনওয়েল্সসহ আরো অনেক নির্মাতা। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে স্টুডিও সিস্টেমের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় হলিউডের তথাকথিত স্বর্ণযুগ। তা ছাড়া টেলিভিশনের আবির্ভাবও সে জন্য কতকটা দায়ী। ষাটের দশকে বিভিন্ন দেশের বহুজাতিক সংস্থার অধিগ্রহণ শুরু হয় চলচ্চিত্র সংস্থার ওপর। আশির দশকে বিজ্ঞাননির্ভর ছবির নতুন জোয়ার ওঠে। স্টিভেন স্পিলবার্গের মতো পরিচালকের আবির্ভাব ঘটে। নির্মিত হয় ‘ইটি’, ‘জুরাসিস পার্ক’ এর মতো বিখ্যাত ছবি। বর্তমান পর্যন্ত যা অব্যাহত আছে। তবে হলিউডি ছবির প্রধান যে বৈশিষ্ট্য প্রথম থেকে লক্ষ্য করা যায় তা হচ্ছে-বিশ্ব জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা।

পৃথিবীর প্রথম নারী চিত্রপরিচালক একজন ফরাসি-নাম আলিস গি ব্লাশে। লুমিয়ের ভাতৃদ্বয় তথ্যচিত্র এবং বাস্তববাদী সিনেমার জন্মদাতা হলেও মেলিয়ে ছিলেন ফরাসি দেশের প্রথম গল্পনির্ভর থিয়েট্রিকাল সিনেমার নির্মাতা। প্রথম দিকে তাদের চেষ্টায় ফরাসি সিনেমা এগিয়ে গেলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ছবি করার মতো অর্থবান বড় কোনো কোম্পানি আর রইল না। কিন্তু অর্থের এই অভাবই ফরাসি সিনেমায় একটি অন্তর্বিপ্লব ঘটিয়ে দিল। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বড় মূলধনের অভাবে ছবি করতে যারা এগিয়ে এলেন তাদের বেশির ভাগই ছিলেন শখের বসে আসা প্রযোজক, যাদের অনেকেই আর দ্বিতীয় ছবি করেননি। পরিচালকরা পেলেন অবাধ স্বাধীনতা এবং ছবিতে শুরু হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নতুন স্টাইল। ইমপ্রেশনিজম, সুরিয়ালিজম, দাদাইজম ইত্যাদির প্রভাবে নির্মিত হলো অনেক আভঁ গার্দ ছবি যা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে চর্চার উপযুক্ত। সে সময়ের আভঁ গার্দ স্টাইলের ছবির মধ্যে রনে ক্লের ‘Entr’acte’ (১৯২৪) এবং সালভাদর দালি ও লুই বুনুয়েলের যৌথভাবে নির্মিত ‘An Andalusian Dog’ (১৯২৮) অন্যতম। ওই একই বছরে নির্মিত কার্ল থিওডর ডেয়ারের ‘The Passion of Joan of Arc’ সেই দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি।

ফরাসি দেশে সবাক চিত্র আসার পর একমাত্র জঁ ককতো ছাড়া বাকি সবাই আভঁ গার্দ ঐতিহ্য ত্যাগ করে গল্প বলার রীতিতে পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছবি নির্মাণ শুরু করলেন। ফরাসি সিনেমার সবচেয়ে পরিচিত ও আলোচিত যুগ হলো ‘নুভেল ভাগ’ বা ‘নব তরঙ্গ’, যার শুরু হয় ষাটের দশকে। ‘নুভেল ভাগ’ আন্দোলনটির অন্যতম ভিত্তি ‘কলমের মতো স্বাধীনভাবে ক্যামেরা ব্যবহারের তত্ত্ব’। নব তরঙ্গপন্থীদের মতে পরিচালক একজন illustrator, creator নন। অঁদ্রে বাজ্যাঁ, বুনুয়েল, গোদার, ফ্রঁসোয়া ত্রুফো এই ধারার ছবির পুরোধায় ছিলেন। তাই গোদারের কাছে সিনেমা আবেগশূন্য বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ আর বুনুয়েল সমাজের অন্তরসারশূন্যতা বারবার নিরাবরণ করেছেন। নব তরঙ্গ গোষ্ঠীভুক্ত না থাকলেও রবের ব্রেসঁ ছিলেন ফরাসি তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রে একক ও অনন্য চিত্রপরিচালক। বর্তমান সময়ের ফরাসি সিনেমার সবচেয়ে স্বতন্ত্র পরিচালক রাউল রুইজ। রুইজের দেশ চিলি হলেও ১৯৭৪ সালে ফ্রান্সে আসেন এবং আধুনিক লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যে ছবি নির্মাণ করেন। এ ছাড়া আছেন জঁ ক্লোদ ব্রিসো, মোরিস পিয়ালাসহ আরো অনেকে। ভালো সিনেমা সম্পর্কে জনসচেতনতাই ফরাসি সিনেমার বড় সম্পদ।

ইতালির ছবির জগতে ‘নিউ রিয়ালিজম’ বা ‘নয়া বাস্তববাদী’ আন্দোলনের আগে অনেক ধারার ছবি প্রচলিত ছিল। যেমন পৌরাণিক ফিল্ম, কমেডি ফিল্ম, ‘ফাম ফাতাল’ ‘হোয়াইট টেলিফোন ফিল্ম’ ইত্যাদি। ফাসিতন্ত্রে দুই ধরনের ছবি তৈরি হতো-‘পিঙ্ক’ ও ‘ব্ল্যাক’। ‘ব্ল্যাক’ ফিল্ম ছিল প্রকৃত ফাসি ফিল্ম আর ‘পিঙ্ক’ ফিল্ম চলতি ভাষায় ‘হোয়াইট টেলিফোন’ নামে পরিচিত ছিল : পাতি সেন্টিমেন্ট, কোমল রোমান্স আর চড়া মেলোড্রামায় ভরা অনেকটা আমাদের দেশের তথাকথিত বাংলা ছায়াছবি এবং টিভি নাটকের মতো। তুলনামূলক শিল্পের বিচারে, নির্বাক ও ফাসিস্ত চলচ্চিত্রের চরিত্র ছিল অপেরাধর্মী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নয়া-বাস্তববাদী আন্দোলন তাকে মুক্ত করে যেখানে নিয়ে গেল সেখানে ছিল না কোনো সৌন্দর্যের স্থান। বিশ্বযুদ্ধে নির্মম পরাজয়ের পর ইতালি বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ও অবমানিত। আলবার্তো লাতুয়াদা একবার লিখেছিলেন, ‘আমাদের পোশাক শতছিন্ন? তবে দেখুক সবাই এই ছিন্ন পোশাক। আমরা পরাজিত তবে দেখা যাক এই পরাজয়ের চেহারা’। রোসেলিনি নেমে পড়লেন একেবারে রাস্তায়, আন্তোনিওনি নির্মাণ করলেন স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘পিপল অব পো রিভার’। তবে নয়া-বাস্তববাদের প্রধান প্রবক্তা, দার্শনিক ও তাত্ত্বিক হিসেবে ডি সিকা এবং জাভাতিনিকেই ধরা হয়। ডি সিকার বিখ্যাত ছবি ‘বাইসাইকেল থিভস্’ সম্পর্কে ফরাসি নন্দনতাত্ত্বিক অঁদ্রে বাজাঁ বলেছেন ‘বাইসাইকেল থিভস’ বিশুদ্ধ চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রথম নিদর্শন। এতে না আছে কোনো অভিনেতা না কোনো কাহিনী না কোনো সেট। অর্থাৎ বাস্তবের নিখুঁত ভ্রম সৃষ্টিতে (তথাকথিত) সিনেমাই আর নেই। এভাবে নয়া-বাস্তববাদীদের হাত ধরে আমরা জাভাতিনি, রোসোলিনি, আন্তনিওনি, ফেলিনি, ডি সিকার মতো বিখ্যাত পরিচালকদের পাই। যাদের হাত ধরে ইতালির আধুনিক পরিচালকরা তাদের ছবি নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন।

পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে পোলিশরা প্রধানত সাহিত্যনির্ভর ছবি নির্মাণ করেন। সামাজিক প্রসঙ্গটাই জরুরি নির্মাতাদের কাছে। বিষয় হিসেবে যুদ্ধকে তারা ভোলেননি। কিন্তু যুদ্ধকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হতে লাগল। পরাজয়ের মুখে আত্মোৎসর্গ রূপে নয়, জোর দেওয়া হলো জয়ের সম্ভাবনার ওপর, বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ওপর। ১৯৫৫ সালে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ আটকে থাকা, সরকারি শাসনে নিয়ন্ত্রিত ইন্ডাস্ট্রিতে একটা বড় রকমের পরিবর্তন ঘটল। এতে ছবি করিয়েদের মধ্যে একটা পারস্পরিক নির্ভরতা যেমন নিয়ে এল তেমনি পরিচালকরা প্রশাসনের কর্তৃত্বমুক্ত হয়ে কাজ করার স্বাধীনতা পেলেন। বিশ্ব পেল ওয়াজদা, রোমান পোলানস্কি, ক্রিস্তফ জানুসি, ক্রিজটফ কিয়েসলোভস্কির মতো মহান পরিচালকদের। হাঙ্গেরির ছবিগুলোতে অতীত এবং বর্তমানের বাস্তব অবস্থাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। দৈনন্দিন সমস্যা থেকে দূরে গিয়ে সিনেমা এখানে পলায়নী-মনোবৃত্তির পরিচয় দেয়নি বরং সমকালীন সমস্যাকে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে অনুধাবন করতে চেয়েছে এখানকার সিনেমা। যে কারণে গেজা রাদভানি নির্মিত ‘Somewhere in Europe’ (১৯৪২) ইতালীয় নয়া-বাস্তববাদী ছবি Rome, Open city ev Bicycle Thieves এর সমতুল্য ধরা হয়। ১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয় জলটান ফাবরি। ষাটের দশকে আরো কিছু তরুণ পরিচালকের আগমন ঘটে যারা পূর্বসূরিদের ধারায় ছবি নির্মাণ অব্যাহত রাখেন। চেক চলচ্চিত্রের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি জানানো হয় ষাটের দশকের গোড়ায়। এই সময়ে ফরাসি নবতরঙ্গের ঢেউ এসে লাগে সেখানে। এখানকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী চিত্রপরিচালক চিটিলোভা। বুলগেরীয় চলচ্চিত্র শুরু থেকেই সাহিত্যনির্ভর। যারা ছবি করছিলেন তারা বুঝে গিয়েছিলেন যে সিনেমার জন্য প্রবাদ, পুরাণ, ইতিহাস, লোককথা বা জাতীয় সংগ্রামের দিকেই হাত বাড়াতে হবে। ১৯৫১ সালে জানডভের ‘এলার্ম’ ছবি থেকেই শুরু হলো বুলগেরীয় চলচ্চিত্রের নতুন যুগ। যুগোশ্লাভিয়ার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছোট কিন্তু এই ছোট ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় কান্ডকারখানা করেছে। সত্তরের দশকে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে তাদের ছবি দেখাবার পর ভেনিসেই বলতে শোনা যায়-‘One of the Greats among the small.’

ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্কের কার্ল থিয়োডোর ড্রেয়ারকে নির্বাক যুগের শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৫৫ সালের ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভেলে তার নির্মিত ‘ওয়ার্ড’ ছবিটি পুরস্কৃত হয়। অপর একটি দেশ সুইডেনে আমরা পাই সিনেমার রাজার রাজা ইঙ্গমার বার্গম্যানকে। বার্গম্যানের ছবি সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবহিত যা একটু কম অবহিত তা হলো বার্গমানের নির্মিত বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ ছবির সেই বুড়ো চরিত্রের ইসাক বোর্গ যিনি করেছিলেন সেই চিত্রপরিচালক ভিক্টর সিস্ট্রোমকে (১৮৭৯-১৯৬০) সুইডিশ ছবির জনক বলা হয়।

১৯০৭ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে রাশিয়ায় হাজারের বেশি কাহিনী চিত্র তোলা হয়, কিন্তু তার মধ্যে স্মরণীয় ছবি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ১৯২১ সালে লেনিনের ‘নয়া অর্থনীতি’ ঘোষণার পরপরই বিদেশী ছবির আমদানি ঘটে। একে একে মস্কো এবং দেশের অন্যত্র রাষ্ট্রীয় ও সমবায়ভিত্তিক ফিল্ম কোম্পানি গড়ে উঠতে থাকে। বিশের দশক ছিল সোভিয়েত চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ, তেমনি বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক স্মরণীয় দিকচিহ্ন। নির্মিত হলো ‘ক্রেন্স আর ফ্লাইং’ এর মতো যুগান্তকারী সৃষ্টি। আগমন ঘটল, সের্গেই আইজেনস্টাইন, আলেকজান্দার দভঝেঙ্কো, পুদোভকিনের মতো বিশাল মাপের চিত্রপরিচালকদের। আইজেনস্টাইনের বিখ্যাত মনতাজ তত্ত্ব যেন ফিল্ম ফর্ম এবং ফিল্ম সেন্সকে বদলে দিল। তার নির্মিত স্ট্রাইক, ব্যাটলশিপ পটেমকিন, ইভান দ্য টেরিবলসহ সব ছবি এখনো চলচ্চিত্র স্কুলগুলোতে ছবি নির্মাণের উদ্দেশ্যে দেখানো এবং শেখানো হয়। ১৯৩০ সালে মুক্তি পায় দভঝেঙ্কোর কালোত্তীর্ণ ছবি ‘আর্থ’। পঞ্চাশের দশকে চেখভ, কুপরিন, গোর্কির পাশাপাশি শেকস্পিয়রের ধ্রুপদী সাহিত্যের চিত্ররূপ দেওয়া হয়। পুদোভকিন করলেন গোর্কির ‘মাদার’ ও য়ুৎকেভিচ ‘ওথেলো’। এর পরের প্রজন্মে আমরা তারকাভস্কির মতো বড় মাপের পরিচালককে পাই। তারকাভস্কি যেন সেলুলয়েডে মোড়া মহাকাব্যিক কবি।

আমেরিকা, ইউরোপ, পূর্ব ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং সোভিয়েত রাশিয়ার চলচ্চিত্রের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও তাদের বিশ্বনন্দিত চিত্রনির্মাতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ পর্বের আপাত সমাপ্তি এখানে। এর পরের পর্বে আমরা এশিয়া, অফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্র সম্পর্কে আলোচনার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনার আশা রাখছি।