‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’


‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রশাসন মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে ‘সামরিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে ঘোষণা করবে না। আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উইলিয়াম বার্নসের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন।

আমেরিকা থেকে মিশর প্রতিবছর ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। মিশরের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মার্কিন এ সহায়তা স্থগিত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, বিশ্বের যে দেশেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উতখাত করা হবে সে দেশে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অবশ্যই স্থাগিত করতে হবে।

তবে, গত ৩ জুলাই মিশরের প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়নি আমেরিকা। মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতেই মিশরের ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান বলতে গড়িমসি করছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া, দখলদার ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা আমেরিকাকে সামরিক সহায়তা স্থগিত না করার জন্য একের পর এক ফোন করে চলেছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তারা আমেরিকাকে বার বার সতর্ক করে বলছেন, মিশরে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হলে ইসরাইলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল বার্নস বলেছেন, মিশরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করছে আমেরিকা। আইআরআইবি

এটাই হওয়ার কথা ছিল? মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সীমাহীন ধৈর্য দেখতে পাই আমরা। ধৈর্য নেই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে।


এটাই হওয়ার কথা ছিল?

হা সা ন মা মু ন

বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে যেভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে, আইনগত ভিত্তি থাকলেও সেটাকে সরকারের বলপ্রয়োগ বলে মনে হতে পারে। সরকার পক্ষ থেকে অবশ্য আভাস দেয়া হচ্ছিল, নোটিশের মাধ্যমে নির্ধারিত ১২ নভেম্বরের পর তাকে আর ওখানে অবস্থান করতে দেয়া হবে না। এর পক্ষে মামলাটিতে হাইকোর্টের রায়ের কথাও জোর দিয়ে বলা হচ্ছিল। কিছুটা বিস্ময়কর যে, বেগম জিয়ার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা হলেও সরকারের সম্্‌ভাব্য উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে তার কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়নি। কেন চাওয়া হয়নি, তার কোন ব্যাখ্যা এ পর্যন্ত দেননি বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- ‘হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে’ সরকারকে যে অভিযান পরিচালনা করতেই হবে, তাকে ঘিরে মানুষের সহানুভূতি কাড়তে ও রাজনৈতিক ইসুø তৈরি করতেই স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়নি। এও বলতে হবে, সরকার এর সুযোগ নিয়ে একদিনও দেরি করেনি বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে। সেটি করলে নাকি আদালত অবমাননা হতো!

এমন অনেক দৃষ্টান্তই দেয়া যাবে, যেখানে আদালতের রায় বা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকার রীতিমতো গড়িমসি করছে। আদালতের কাছে গিয়ে রায় বাস্তবায়নে সরকারের সময় প্রার্থনার দৃষ্টান্তও কম নেই। ওইসব ক্ষেত্রে হয়তো ব্যাপক মানুষ বা অর্থনীতির স্বার্থ জড়িত। বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে আরও ক’টা দিন পর উচ্ছেদ করলে এমন কী জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হতো- সংশ্লিষ্টরা কি তা বুঝিয়ে বলতে পারবেন? ঈদের বেশি বাকি নেই। তার চেয়ে বড় কথা, উচ্চতর আদালত মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। সেটিকে এক ধরনের স্থগিতাদেশ ধরে নিয়ে অপেক্ষা করলে তাকে শুধু আদালতের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ বলেই প্রচার করা যেত না- জনগণের মনে হতো, সরকার তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনেও ধৈর্য ধরতে জানে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষভাবে ভুগে দাবি জানানোর পরও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়েও তার সীমাহীন ধৈর্য দেখতে পাই আমরা। ধৈর্য নেই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে। বিএনপির বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ তোলা যাবে, হয়তো বেশিই যাবে। কিন্তু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তো আশা করে আছে- কোন না কোন পক্ষ, কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও থেকে ধৈর্যের চর্চাটি শুরু করবেন। ‘সুযোগের সদ্ব্যবহারের’ চেষ্টা থেকে নিজেদের বিরত রেখেও এ চর্চা শুরু করা দরকার। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, বিশেষত আমাদের মতো দেশে যেখানে সরকার সাংবিধানিকভাবেই অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী, সেখানে তার কাছেই এ দাবি বেশি করে উচ্চারিত হবে।

বোঝাই যাচ্ছিল, বর্তমান সরকার বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে আর থাকতে দেবে না। তাকে ওই বাড়ি বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়াগত ত্রুটি তারা বের করেছেন সফলভাবেই। হাইকোর্টে তা গ্রাহ্যও হয়েছে। হয়েছে বলেই তারা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দেয়া নোটিশ বাতিল করেননি। বিএনপিরও অনেকে এখন বলবেন, সরকারের অ্যাকশনের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হওয়াটা ঠিক হয়নি। উচ্চ আদালতও সঠিকভাবে চলছে না বলে তারা বলা যায় রোজ বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। অনেকে মনে করেন, বেগম জিয়ার উচিত ছিল সরকারের মনোভাব বুঝে; জনমত, নৈতিকতা ইত্যাদিও বিবেচনায় নিয়ে নোটিশ পাওয়ার পরপরই ওই বাসভবন ছেড়ে দেয়া। বিএনপির একটি অংশ নাকি চাইছিল আদালতে না গিয়ে এ ইসুøতে রাজপথ উত্তপ্ত করতে। দলে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী বেগম জিয়া নিশ্চয়ই ওটা অনুমোদন করেননি। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করাটাও তারই সিদ্ধান্ত নিশ্চয়। স্থগিতাদেশ না নিয়ে তিনি যে ১২ নভেম্বরের পরও ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেটা কার সিদ্ধান্ত? তিনি কি জানতেন না, সরকার তাকে ওই বাড়িছাড়া করতে ব্যগ্র? ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি যেভাবে ওই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন, তাতে মানুষের সহানুভূতি তিনি পাবেন। তবে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দেশে সরকার সমর্থকদের সহানুভূতি কতটা তার পক্ষে যাবে, সে প্রশ্ন রয়েছে। এমন মানুষও কম নেই, যারা মনে করেন একজন নিহত রাষ্ট্রপতির বিধবা স্ত্রী হিসেবে তিনি অনেক বেশি পেয়েছেন ও নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর ভেতরেও এমন মনোভাবের লোক সময়ান্তরে বেড়ে গেছে বলেই মনে হয়। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তো অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হবে সেখানে।

পরে যাই করা হোক, আপাতত বেগম জিয়ার নামে বরাদ্দ ওই বিশাল বাড়ি ও জমি দখলে নিয়েছে সরকার। সুপ্রিমকোর্টে নিষ্পত্তির পর অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে কাজটি তারা নির্বিঘ্নেই করতে পারতেন, সেটি করেছেন দৃষ্টিকটুভাবে। প্রকৃত ঘটনা ঢেকে রাখতে কিছুটা বিকৃত প্রচারণারও আশ্রয় নেয়া হয়েছিল বলতে হবে। এ নিবন্ধ যেদিন লেখা হচ্ছে, সেদিন দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকে বিএনপিও এর যথাযথ জবাব দেয়নি। ঈদের বাজারে লোকে যখন গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছে এবং কোরবানির পশু পরিবহনেও ব্যস্ত অনেকে, তখন এ ধরনের কর্মসূচি কেউ পছন্দ করবে না। সকাল-সন্ধ্যার হরতালকে অর্ধদিবস করা হলেও বোঝা যেত, তারা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিচয় দিয়েছেন। জনস্বার্থে দীর্ঘ সময়ের জন্য ডাকা হরতাল পালনেরও সামর্থø কি অর্জন করতে পেরেছে বিএনপি? বেগম জিয়াকে ওভাবে উচ্ছেদের প্রতিবাদে কিছু অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালেও দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভও সংঘটিত করতে পারেননি তারা।

সরকার নাকি ভেবেছিল, ঈদের আগে বিএনপি ওই উচ্ছেদের প্রতিবাদে অন্তত হরতাল ডাকবে না। বিএনপি ও বেগম জিয়াও কি ভেবেছিলেন, সুপ্রিমকোর্টে শুনানির আগে সরকার ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করবে না? দু’পক্ষই যদি তাই ভেবে থাকে, তাহলে বলতে হবে তারা পরস্পরকে কম চেনে। তবে দু’দলই এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের চেনা। জনগণের অন্তত বড় দলনিরপেক্ষ অংশটি চায়, চেনা দৃশ্যপটে তারা কিছু পরিবর্তন অন্তত আনুন।
হাসান মামুনঃ সাংবাদিক

অর্থহীন যুদ্ধের দশম বর্ষ শুরুতে ওবামার জন্য লিখিত বক্তব্য ঃ মাইকেল মুর ●


অর্থহীন যুদ্ধের দশম বর্ষ শুরুতে ওবামার জন্য লিখিত বক্তব্য

মাইকেল মুর

মাইকেল মুর

মাইকেল মুর ●

প্রিয় আমেরিকাবাসী

নয় বছর আগের এই দিনে আমরা আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছিলাম। আমার বয়স তখন সবে চল্লিশ। সে অনেকদিন আগের কথা। এতোটা আগের যে এখন অনেকে স্মরণই করতে পারবেন না, কেন সেদিন আমরা ওখানে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয় সবাই সেদিন ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে এবং ধরে তার বিচার করতে চেয়েছিল। কিন্তু আফগানিস্তান দখলের প্রথম মাস কিংবা তার কাছাকাছি সময়েই সে পালিয়ে যায়। সে গেল তো গেলই। আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম। পেছন ফিরে তাকাতে গেলে এখন মনে হয়, এ সবের কোনো মানেই ছিল না।

আমাদের অভিযানের পক্ষে নতুন একটা অজুহাত দাঁড় করানোর জন্য আমরা আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন ধর্মীয় মৌলবাদীদের উৎখাতের সিদ্ধান্ত নিলাম এবং আমরা সেটা করলাম। তবে ওসামার মতো তারা কিন্তু কখনো একেবারে পালিয়ে যায়নি। কেন যায়নি? কারণ তারা যে আফগান, এটি তাদেরই দেশ এবং বিস্ময়করভাবে আরো বহু আফগান তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে মাত্র ২৫ হাজার সশস্ত্র তালিবান যোদ্ধা রয়েছে। আপনারা সত্যি সত্যি কি মনে করেন, ক্ষুদ্র একটি সেনাবাহিনী ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের একটি জাতিকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বশে আনতে কিংবা দমিয়ে রাখতে পারে? তাহলে ভুলটা কোথায়?

সত্যি বলছি, এর কোনো উত্তর আমার জানা নেই। আমার জেনারেলরাও আমাদের এই অভিযানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাকে কোনো সঠিক ধারণা দিতে পারছেন না। ভালো কথা, আমরা যদি আল কায়দাকে নির্মূল করার জন্যই সেখানে গিয়ে থাকি তারাও তো এখন নেই। সিআইএ আমাকে জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১০০ আলকায়দাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমার জেনারেলরাও আমার কাছে স্বীকার করেছেন :

১। তালিবানকে হারানোর কোনো কৌশলই আর আমাদের জানা নেই। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে তাদের সমর্থন করে এবং দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের চেহারাটাই তাই।

২। আমরা গত নয় বছর যাবত সেখানে আছি বটে তবে বাস্তবতা হলো আমাদের কিংবা আফগান সরকারের নয়, দেশটি এখন পুরোপুরিই তালিবানের নিয়ন্ত্রণে। নয় বছরে আমরা আফগানিস্তানের মাত্র ৩ শতাংশ এলাকা থেকে তালিবানকে তাড়াতে পেরেছি।
মাত্র ৩%!! (আপনাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্যই বলছি, ডি-ডে’র পর থেকে ইউরোপজুড়ে নাৎসিদের পরাজিত করতে মাত্র ১১ মাস সময় লেগেছিল।)

৩। আমাদের সৈন্য এবং কমান্ডাররা আফগানদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং আচার-আচরণ রপ্ত করার জন্য এখন অবধি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সেখানকার সাধারণ মানুষ আমাদের সৈন্যদের বিশ্বাস করে না। (বিশেষত কারণে অকারণে তারা বহু বেসামরিক আফগানকে হত্যা করার পর থেকে।)

৪। আফগানিস্তানে আমাদের বসানো সরকারটি অবিশ্বাস্য রকমের দুর্নীতিপরায়ণ। জনগণ তাদের একেবারেই বিশ্বাস করে না। প্রেসিডেন্ট কারজাইকে অবসাদ কাটানোর জন্য ওষুধ সেবন করতে হয়। আমাদের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, সে নাকি কথাবার্তায় প্রায়ই বেসামাল হয়ে পড়ে এবং স্বভাবের দিক থেকেও পাগলাটে। তার ভাই তালিবানের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ এবং শোনা যায় পপির (হেরোইন) প্রায় পুরো ব্যবসাটাই নাকি তার হাতে। হেরোইন, পপি আফগান অর্থনীতিতেও একটা ভূমিকা রাখছে।

আফগান যুদ্ধ এখন একেবারেই তালগোল পাকিয়ে আছে। বিদ্রোহ ক্রমেই বাড়ছে। আর বাড়বেই বা না কেন? বিদেশি সৈন্যরা তাদের দেশে আক্রমণ চালিয়েছে, দেশটি দখল করে রেখেছে! ৯/১১-এর জন্য দায়ী ব্যক্তিরা তো এখন আর সেখানে নেই। সুতরাং আমরা কেন সেখানে আছি? কেন প্রতিদিন আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে? এর কোনো কারণ কেউই ব্যাখ্যা করতে পারবে না।

হ্যাঁ, আমি অবশ্য এর পেছনে একটি কারণই খুঁজে পেয়েছি। আর সেটি হলো, কোটি কোটি ডলারে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের পকেট ভরে যাওয়া। এটা কি একটা কারণ হতে পারে সেখানে আমাদের অবস্থানের? এভাবে কি হ্যালিবার্টনকে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া যায়?

এটিই এখন সময়, আমাদের সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার। আর দেরি করা যায় না। আর একজন আমেরিকানের মৃত্যু কাম্য হতে পারে না। তাদের মৃত্যু আমাদের নিরাপত্তা দেয় না এবং আফগানিস্তানে তারা গণতন্ত্রও আনতে পারবে না।

তালিবানকে পরাজিত করা আমাদের কাজ হতে পারে না। এটি আফগান জনগণের কাজ, যদি তারা তা করতে চায়। দুনিয়ার বহু দেশেই বহু গোষ্ঠী এবং নেতা আছে যারা দুষ্কর্ম করে বেড়াচ্ছে। আমরা একসঙ্গে গোটা তিরিশেক দেশ দখল করে নিয়ে সেখানাকর খারাপ শাসকগুলোকে বিতাড়িত করতে পারি না। ওটা আমাদের কাজও নয়।

আমরা আফগানিস্তানে অবস্থান করছি এবং দেশটি এখনো আমাদের জয় করা হলো না- এর মতো কারণ দেখিয়ে আমি আর সেখানে থাকতে চাই না। জয় করার মতো আসলে কিছুই নেই। চেঙ্গিস খান থেকে শুরু করে লিওনিদ ব্রেজনেভ পর্যন্ত কেউই সেখানে বিজয়ী হতে পারেনি। সুতরাং আমাদের সৈন্যরা ঘরে ফিরে আসছে।

ভুয়া একটি ভীতির ওপর ভিত্তি করে আমি মার্কিন জনগণের সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ অংশগ্রহণ করতে রাজি নই। আসলেই কি সেখানে সন্ত্রাসীরা আছে? হ্যাঁ। আবারও কি তারা আঘাত হানবে? দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, হ্যাঁ। তবে সন্ত্রাসী এসব কর্মকান্ড মাত্রায় খুবই কম। এগুলো কোনোভাবেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনপ্রণালীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কিংবা সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করা থেকে আমাদের বিরত রাখতে পারবে না। আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো কি অথবা দেশকে আমরা কিভাবে কতোটা নিরাপদ রাখবো সে ব্যাপারেও এদের কোনো ভূমিকা থাকার সুযোগ নেই। আমাদের প্রত্যেকেরই উপার্জনের ভালো একটি পথ থাকবে, পরিবারগুলোর জন্যে থাকবে চমৎকার বাসগৃহ, তারা তাদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুল-কলেজে পাঠাতে পারবে। থাকবে সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা। আর এসবের সব কিছুরই নিশ্চয়তা বিধান করবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সরকার। এসবের জন্য আপনাদের লোভী, মুনাফাখোর বীমা কোম্পানিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। আর এটিই হবে প্রকৃত জাতীয় নিরাপত্তা।

আর ওসামা বিন লাদেন সম্পর্কেই বা কী বলা যায়? নয়টি বছর পার করে দিলাম অথচ ডাইলোসিস করে বেঁচে থাকা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির এই আরবটিকে আমরা খুঁজে বের করতে পারলাম না। এমনকি বলা হয়েছে, কেউ যদি তার সন্ধান দিতে পারে তবে তাকে আড়াই কোটি ডলার পুরস্কার দেয়া হবে। আপনাদের কি মনে হয় না, এতদিনে কেউ না কেউ এই সুযোগটি নিত?

লাদেন সম্পর্কে আমি যা জানি তা হলো : ওসামা বিন লাদেন একজন কোটিপতি। আর ধনীদের সম্পর্কে আমার ধারণা হচ্ছে, টানা নয়টি বছর তাদের কেউ গুহায় বাস করতে পারে না। বিন লাদেন হয় মারা গেছে নয়তো এমন এক স্থানে লুকিয়ে আছে যেখানে তার অর্থই তাকে রক্ষা করছে। অথবা সে এতদিনে তার বাড়ি ফিরে গেছে।

এই মুহূর্তে আমাদের যা করণীয় তাহলো, এই যুদ্ধে আমাদের যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারবর্গের প্রতি আমি আমার সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এদের অধিকাংশই ৯/১১-এর পর চাকরিতে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছিলেন। কারণ আমরা আক্রান্ত হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো দেশ আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়নি। আমরা মুষ্টিমেয় কিছু ধর্মীয় উগ্রবাদীর হামলার শিকার হয়েছিলাম। তবে অর্ধেক পৃথিবী পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার সামরিক যান আর লাখ লাখ সৈন্য নিয়ে এসে কিছু তস্করকে পর্যুদস্ত করা আপনাকে মানায় না। এমন করাটা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। আজ রাতের মতো এখানেই শেষ করছি। ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন, আমি কিন্তু একজন মুসলমান নই।

যারা দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, তাদের বিপুল অধিকাংশই ভূমিদস্যু : বাংলাদেশে ভূমিদস্যুতা


বাংলাদেশে ভূমিদস্যুতা
বদরুদ্দীন উমর

বাংলাদেশে ভূমিদস্যুতা এখন একটা নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যারা এ দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, তাদের বিপুল অধিকাংশই ভূমিদস্যু। শুধু জমি নয়, লেকসহ বিভিন্ন ধরনের জলাভূমি, নদী সবকিছুই এদের দস্যুবৃত্তির লক্ষ্য। জমি দখলের ব্যাপার নতুন নয়। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও ভূমিদস্যুতা ছিল, জমি দখল হতো। কিন্তু তখন এই দস্যুদের সংখ্যা কম ছিল এবং তাদের দ্বারা দখলকৃত জমির পরিমাণও কম হতো। লেক, নদী ইত্যাদি দখলের কোনো ব্যাপার ছিল না। তখনকার দিনে ভূমিদস্যুরাও এ চিন্তা করত না। কিন্তু সে সময় যা দস্যুদেরও চিন্তার বাইরে ছিল, এখন তা-ই ঘটছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তো কথাই নেই, এমনকি রাজধানী ঢাকা শহরের ভেতর লেক ও এর চারপাশের নদী পর্যন্ত দখল হচ্ছে। সরকারের নাকের ডগাতেই এই দস্যুবৃত্তি চলছে। মাঝে মধ্যে সরকারি কর্তৃপক্ষ এই দখলকৃত নদীর জায়গা থেকে দস্যুদের উচ্ছেদ করার মহড়া দিলেও অল্পদিন পর জায়গা আবার বেদখল হচ্ছে। দস্যুরা তাদের দখলকৃত জায়গায় নতুন করে জাঁকিয়ে বসছে। এভাবে দস্যুদের দ্বারা দখলকৃত নদীর জায়গা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর তা পুনর্দখলের ব্যাপারটিও ঘটছে সরকারের নাকের ডগায়। শুধু তা-ই নয়, এই দখলকারী দস্যুরা নানা সূত্রে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ সম্পর্কের জোরেই তারা জমি দখল করে, আবার সাময়িকভাবে দখল হারানোর পর জমি নিজেদের দখলে ফেরত আনে। দেশজুড়ে এই খেলা চলছে। ঢাকার চারদিকের নদী এভাবে দখল ও সরকার কর্তৃক পুনরুদ্ধার এবং তারপর দস্যুদের দ্বারা পুনর্দখলের খেলা এখন পরিণত হয়েছে নিয়মিত ব্যাপারে।

ভূমিদস্যুরা যে জমি দখল করে সেগুলো হলো নদী, জলাশয় ছাড়া সরকারি খাসজমি, রেলের জমি। সংবাদপত্র রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, এভাবে সরকারি জমি দখল হতে থাকলেও সরকার এর বিরুদ্ধে যথোচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। এর ফলে সরকারের জমি, অর্থাৎ জনগণের জমি দস্যুদের দ্বারা অবাধে লুণ্ঠিত হয়। বলাবাহুল্য, সরকারি লোকদের দ্বারাই, অর্থাৎ সরকারি দল ও দলের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজনই এই দস্যুবৃত্তি করে থাকে। যে সরকারই ক্ষমতায় বসুক, এদিক দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। এর কারণ, এ দস্যুবৃত্তি বিশেষ কোনো সরকারের বৈশিষ্ট্য নয়। এটা হলো বাংলাদেশের লুণ্ঠনজীবী লুম্পেন শ্রেণীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

যেখানে নদী, লেকসহ বিভিন্ন ধরনের জলাশয়, সরকারি খাসজমি ইত্যাদি ভূমিদস্যুদের লুণ্ঠনের লক্ষ্যবস্তু_ সেখানে গরিবদের জমি, সমাজের দুর্বল লোকদের জমি যে এই দস্যুদের আক্রমণ থেকে রেহাই পাবে, এটা সম্ভব নয়। শুধু তা-ই নয়, সারাদেশে এখন ভূমিদস্যুদের যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে ব্যাপকভাবে, তার লক্ষ্যবস্তু হলো গ্রামের গরিবদের জমি। প্রত্যেক এলাকাতেই সরকারি লোকজন সরকারি ক্ষমতার জোরে এই লুটপাট করছে। এ ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পত্তি রক্ষা, এমনকি আত্মরক্ষার উপায় পর্যন্ত গরিবদের নেই। কাজেই প্রায়ই শুধু তাদের জমি হাতছাড়া হচ্ছে তা-ই নয়, নিজেদের গ্রামে টিকে থাকাও তাদের পক্ষে মুশকিল হচ্ছে। গ্রাম ছেড়ে তারা আসছে ঢাকা বা অন্যান্য শহরে। ভিটেমাটি ছেড়ে বস্তিবাসী হচ্ছে এবং নানা ধরনের অনিয়মিত কাজ করে জীবনধারণ করছে।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাভুক্ত মানুষরা যে কতখানি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করেন, এটা অনেকেরই জানা। তাদের জমি দখলের ধরন দেখে মনে হয়, ভূমিদস্যুরা এটাকে মনে করে তাদের অধিকারভুক্ত ব্যাপার। কাজেই এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব ইত্যাদি নীরব ভূমিকা পালন করে অথবা ক্ষেত্রবিশেষে দস্যুদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করে। ক্ষুদ্র জাতিসত্তাভুক্ত মানুষদের, সাঁওতাল, গারো, রাখাইন ইত্যাদি থেকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের জমি এভাবেই বেদখল হচ্ছে। বহু প্রজন্ম ধরে যে ভিটেবাড়িতে তারা বাস করেছেন ও যে জমির ওপর নির্ভর করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে এসেছেন, তার থেকে তারা উচ্ছেদ হচ্ছেন। বলা চলে, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বিষয়ে বাস্তবে অনুসৃত সরকারি নীতির কারণেই গরিবদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন চলছে। এটা না হলে গরিবদের জায়গায় রাতারাতি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে তার ওপর নিজেদের মালিকানা ঘোষণা করা এবং সেই মালিকানার কথা বলে তাদের উচ্ছেদ করা কোনোক্রমেই সম্ভব হতো না।

গত ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জমি নিয়ে ব্যাপকভাবে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকদের সংঘর্ষ হয়েছে। ২৪টি মৌজার ৪০টি গ্রামের ছয় হাজার বিঘা জমি সেনাবাহিনীর আবাসন প্রকল্পের নামে অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের মুখে এ সংঘর্ষ ঘটে [যুগান্তর, ২৪.১০.২০১০]। সংঘর্ষের সময় সমগ্র এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। বিক্ষুব্ধ লোকজন ইছাপুরা-রূপগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। সেনাক্যাম্পে অগি্নসংযোগ ও ভাংচুর করে। এর আগে এলাকাবাসীর দাবির মুখে ক্যাম্পে আটক থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যদের পুলিশ চারটি হেলিকপ্টার ও কয়েকটি স্পিডবোটে করে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এ বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা হঠাৎ করে ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকার ফলেই শেষ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২৪টি মৌজার জমি রেজিস্ট্রি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক বন্ধ রাখা হয়েছে। রেজিস্ট্রি অফিসে সাদা পোশাকে সেনাসদস্যরা ডিউটি করেন। এসব মৌজার জমি বিক্রির জন্য কেউ গেলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকেরা অভিযোগ করেন, সেনাসদস্যরা রাতে গ্রামবাসীর বাড়িতে গিয়ে তাদের হুমকি দেন। অনেক সময় জোর করে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন।

এলাকাবাসী বলেছেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে রূপগঞ্জে পাঁচ হাজার বিঘা জমি অধিগ্রহণ করেছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এছাড়া সেনাবাহিনী তাদের আবাসন প্রকল্পের নামে ছয় হাজার বিঘা জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করছে। এ জন্য তারা স্বাধীনভাবে কাউকে জমি বিক্রি করতে দিচ্ছে না। জমি তারা জোরপূর্বক কেনার ব্যবস্থা করছে এবং তার জন্য দাম দিচ্ছে জমির বর্তমান বাজারদর থেকে অনেক কম। গ্রামাঞ্চলে এত বড় আকারে জমি অধিকরণ করার অর্থ হলো, পুরুষানুক্রমে এলাকায় বসবাসকারী গ্রামের লোকদের তাদের ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে পথে বসানো। তাছাড়া জমিজমা নিয়ে তাদের জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে ভীষণ সংকট সৃষ্টি করা। শুধু এক-আধজন নয়, এর দ্বারা সমগ্র এলাকায় হাজার হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মুখে দাঁড়িয়েই শেষ পর্যন্ত সেনাক্যাম্প উঠিয়ে দেওয়া, জমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করা, ইচ্ছামতো জমি ক্রয়-বিক্রয় করার ক্ষেত্রে বাধা দূর করা এবং সর্বোপরি সেনা আবাসন প্রকল্প বাতিলের জন্য তারা ব্যাপকভাবে বিক্ষোভ সংগঠিত করেন।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেখা যায়, দেশজুড়ে গ্রামাঞ্চলে গরিব মানুষের জমির ওপর যে আক্রমণ ও দখলদারি চলছে, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়। সরকার ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এ কাজে নিযুক্ত থাকার মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হচ্ছে যে, শাসক শ্রেণীর লোকেরা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমেও জনগণের ভিটেমাটি ও জমির ওপর আক্রমণ পরিচালনা করছে। সামরিক বাহিনীর আবাসন প্রকল্পের উদ্দেশ্যে যেখানে হাজার হাজার লোককে উচ্ছেদ করা হচ্ছে নিজেদের পৈতৃক ভিটে ও জমিজমা থেকে, সেখানে এছাড়া আর কী বলা যায়?
[সূত্রঃ সমকাল, ২৬/১০/১০]