সুখ তুমি কী?


” … সুখ তুমি কী? …”

রঙ-ঢঙ ডেস্ক

হায় হায় করে কিছু হবে না; ট্যাঁকে যা আছে, তা নিয়েই সুখে থাকুন!

প্রায় ৮৫ শতাংশ মত দিয়েছেন— ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। কেউ কেউ আবার বলেছেন (৮১ শতাংশ), একটা ভালো সম্পর্ক বা বিবাহবন্ধনও মানুষকে সুখী করে। ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, ভালো কাজ করলে সহজেই সুখী হওয়া যায়।

সুখ নিয়ে আমেরিকানদের দর্শন পাল্টাচ্ছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাদের এ পরিবর্তনের কারণ বলে মানছেন কেউ কেউ। ‘দ্য লাইফ টুইস্টে’র এক গবেষণায় ধরা পড়েছে চিন্তার পরিবর্তনটি। সেখানে দেখা গেছে, অনেকে মনে করেন, সুখের সঙ্গে সম্পদ-সম্পত্তির কোনো সম্পর্ক নেই! তবে প্রতি চারজনের একজন অর্থাৎ ২৭ শতাংশ মার্কিন এখনো মনে করেন, সম্পদ বা অর্থ-বিত্ত মানুষের সফলতা নির্ধারণ করে। এ সমীক্ষায় দুই হাজার আমেরিকান অংশ নেয়।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮৫ শতাংশ মত দিয়েছেন— ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। কেউ কেউ আবার বলেছেন (৮১ শতাংশ), একটা ভালো সম্পর্ক বা বিবাহবন্ধনও মানুষকে সুখী করে। ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, ভালো কাজ করলে সহজেই সুখী হওয়া যায়। ৭৫ শতাংশ বলেছেন, ভালো কিংবা পছন্দের চাকরি সুখ বয়ে আনে। তবে জীবনে সফল বা সুখী হতে হলে উন্মুক্ত ও উদার মানসিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ— একবাক্যে প্রায় সবাই মানেন এ কথা।

এছাড়া ডজন খানেক গবেষণায় দেখা গেছে, সুখ-সফলতা নিয়ে মার্কিনদের ভেতর নতুন ধারণ তৈরি হচ্ছে। তাদের বিশ্বাস, সুখী হতে টাকা-পয়সা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক নয়। অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের হার বাড়ার কারণে তাদের চিন্তাভাবনায় নতুন এ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। ৪৩ শতাংশ বলেছেন, তারা সবাই আর্থিক দুরবস্থার তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার। ফলে জীবন সম্পর্কে তাদের নতুন দর্শন তৈরি হয়েছে। ৪২ শতাংশ বলছেন, নানা সমস্যা-প্রতিবন্ধকতা তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। টাকা-পয়সা থাকলেই সুখী হওয়া যায় না— এমন ধারণা বদলে যাওয়ার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপও বড় ভূমিকা পালন করেছে। ১০ জনের আটজন কর্মজীবী মত দিয়েছেন, প্রচণ্ড কাজের চাপ ও তুলনামূলক কম বেতনের কারণে তাদের জীবনটা চিঁড়েচ্যাপ্টা!

হাফিংটন পোস্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সম্পাদক আরিয়ানা হাফিংটন বলেছেন, টাকা ও ক্ষমতা থাকলেই সে সফল— এ ধারণা বদলে দেয়া প্রয়োজন। হাফিংটন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ব্লগে লিখেছেন, বাকি জীবনে নতুন উদ্যমে নিজেকে ফিরে পেতে, কাজে আনন্দ পেতে নিজেদের কল্যাণ, স্বাস্থ্য ও সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে সফল হওয়ার তৃতীয় কোনো পদ্ধতি বের করা প্রয়োজন। আসলে টাকা আর ভালো অবস্থান থাকলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না।

২০০৫-এর অন্য একটি গবেষণায় দেখা যায়, সুখী মানুষ সবসময় কাজকর্মে, সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে ও সুস্বাস্থ্য অর্জনে সফলতা পায় (এবং তাদের ঘুমও ভালো হয়!)। এসব গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়— হায় হায় করে কিছু হবে না; ট্যাঁকে যা আছে, তা নিয়েই সুখে থাকুন!

প্রতিটি প্রবাসীর অন্তর ভরে থাকে দেশ, দেশের মানুষ এবং আত্মীয় স্বজনের মায়ায়। তাইতো দেশ থেকে নতুন কেউ প্রবাসে আসলে অথবা ছুটি কাটিয়ে ফিরে আসলে তার কাছে আমরা প্রবাসীরা জানতে চাই দেশ এবং দেশের মানুষের অবস্থা, সুখ-দুঃখ এবং উন্নতি অগ্রগতির খবর।


কেমন চলছে আমাদের বাংলাদেশ?

মোহাম্মদ লোকমান
 

প্রশ্নটি আমার নয়, আমারই মতো আরেকজন সৌদি প্রবাসী ব্লগার বন্ধুর। আমি ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে আসার পর একটি পোস্টের কমেন্টে বন্ধুবর পরামর্শ দিলেন, ‘লিখে ফেলুন কেমন চলছে আমাদের বাংলাদেশ’। প্রতিটি প্রবাসীর অন্তর ভরে থাকে দেশ, দেশের মানুষ এবং আত্মীয় স্বজনের মায়ায়। তাইতো দেশ থেকে নতুন কেউ প্রবাসে আসলে অথবা ছুটি কাটিয়ে ফিরে আসলে তার কাছে আমরা প্রবাসীরা জানতে চাই দেশ এবং দেশের মানুষের অবস্থা, সুখ-দুঃখ এবং উন্নতি অগ্রগতির খবর। তিনি নিকটজন হলে তো কথাই নেই, চেনা জানার মধ্যে পড়ে এমন সকলের নাম-ধাম ধরে ধরে তাদের কুশল জিজ্ঞাসা করে থাকি। তাই বন্ধুগণ আসুন আমরা শেয়ার করার চেষ্ট করি কেমন চলছে আমাদের বাংলাদেশ-

সু-সংবাদ দিয়েই শুরু করি- ধীরগতি এবং দেরীতে হলেও আমাদের দেশ ক্রমে সামনের দিকে এগোচ্ছে। পরিমানে কম হলেও বিদেশী স্টাইলের শপিং মল, নজর কাড়া বহুতল ভবন, রাস্তায় দেখা যাচ্ছে নতুন মডেলের উন্নত মানের গাড়ী। উন্নত হয়েছে খাবার মেনু। কেউ একজন রস করে বলেছিলেন, এক সময় কোন বাড়ীতে মুরগীর ঝাপ্টা ঝাপ্টি এবং ভয়ার্ত ডাক শুনে অনুমান করা যেতো ঐ বাড়ীতে নিশ্চয়ই জামাই এসেছেন। অর্থাৎ জামাই বা মেহমান না এলে যেসব বাড়ীতে সাধারণত মুরগী খাওয়া হতো না এখন সেই মুরগী একটা কমন খাদ্যে পরিণত হয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে বিদেশী পদ্ধতির নতুন নতুন মোড়কে নানা পদের খাদ্য সামগ্রী এবং ফলমুল। ফাস্ট ফুড, শপিং মল ও শপিং সেন্টার সমূহের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে মাঝে মধ্যে ভ্রম হয়, দেশে আছি নাকি বিদেশে।

অনেষ্টলি বলতে গেলে বলতে হয়, এসব উন্নয়ন এবং অগ্রগতির মূলে রয়েছেন প্রবাসীরা। হাউজিং কোম্পানীগুলোর সিংহভাগ বিনিয়োগ প্রবাসীদের, ব্যক্তি মালিকানায় তৈরী স্থাপনা সমূহের উপর জরিপ চালালে দেখা যাবে এখানেও তারাই। বৈদেশীক মুদ্রার মূল যোগানদাতা প্রবাসীরা। দেশের পোশাক এবং অন্যান্য শিল্প মানুষের কর্মসংস্থান করেছে ঠিকই কিন্তু অধিকাংশ শিল্পপতি তাদের এসেটের চেয়ে অধিক পরিমান ঋণী থাকেন বিভিন্ন ব্যাংকের নিকট এবং তারা দেশে অর্জিত অর্থ বিদেশে নিয়ে গিয়ে সেখানে বাড়ী ঘর ও ব্যাংক ব্যালেন্স করে উন্নততর লাইফ এনজয় করে থাকেন। কৃষকগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মূল খাদ্যের যোগান দেয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের অবস্থান জানতে চান? তারা (যখন যারা আসেন) দল পূজা, নিজেদের আখের গোছানো আর দলীয় মাস্তানদের পেট ভরাতেই ব্যস্ত থাকেন। বর্তমান সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়। নিজেদের দলের না হলে অন্যরা দেশ ও জনগণের সেবা করুক তাও তারা চায় না। একটি দুঃখজনক ঘটনা শুনলেই বুঝবেন বিষয়টি-

চট্টগ্রামের একজন মেডিকেল অফিসার, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। নিজ পেশার পাশাপাশি তাঁর এলাকায় একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। গত কয়েক বছর আগে তাঁর সাথে পরিচয় আবুধাবীতেই। ছুটি পেয়ে তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে এসেছিলেন এখানে। আমরা সাধ্যমত সহযোগীতা করেছি। কেউ কেউ মেডিকেল ইকুইপম্যান্ট, এক্সরে মেশিন, কম্পিউটার, বেড ইত্যাদি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভবনটি একতলা পর্যন্ত করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া শুরু করে ৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপ দেয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য যোগাযোগ করে জানতে পারলাম সরকারের প্রভাবশালী এমপি বাহাদুরের নির্দেশে কাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশী কথা বললে জঙ্গলে ট্রান্সফার করার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এই হলো সরকারের দেশ সেবার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জনগণের উপকার নিজেরাতো করবেই না, অন্যদেরকেও বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। আমার উল্লিখিত এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঐ এমপি সাহেবের চেয়ে সম্মান ও যোগ্যতায় অনেক উপরে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রভাবশালীদের নিকট তিনি অসহায়।

আশির দশকে স্বৈরাচারী আমলে আমাদের দেশে সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল, ছোট ছোট ছেলেদের হাতে অস্ত্র এবং জর্দার কৌটায় নির্মিত ককটেল শোভা পেত। স্বৈরাচার পতনের পর ক্রমে সেই অবস্থা থেকে আমরা অনেকটা মুক্ত হয়েছিলাম। কিছু কিছু ঘটনা আমাকে আবারও সেই স্বৈরাচারী আমলকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, হয়ত আমরা আবারো সেদিকে পা বাড়াচ্ছি। শুনুন কেন বলছি এই দুঃসংবাদটি-

আমি বর্তমানে যেখানে নতুন বাড়ী করেছি (আমার বাড়ী থেকে এক/দেড় কিলোমিটার দূরে) মাত্র ১৬টি প্লটের একটি আবাসিক এলাকা। এখানে বহিরাগতদের আগমনের কোন প্রয়োজনই নেই, কারণ রাস্তাটি শুধুমাত্র ঐ ১৬টি প্লটের জন্য। দেশে গিয়ে দেখলাম, সন্ধ্যা হলে আমাদের এই এলাকার গলির ভিতর বিল্ডিং সমূহের নিকট দাঁড়িয়ে/বসে একঝাঁক আন্ডা-বাচ্চা, সিকি-আধুলী বয়সের ছেলেদের আড্ডা। এসব ছেলেদের কারো মুখে সিগারেট, কারো মোবাইলে উচ্চ ভলিউমে গান এবং হৈ চৈ তো চলছেই। আমি দেশে যাওয়ার আগে অন্যান্য বাড়ীর মালিকেরা প্রতিবাদ করাতে ওরা তো দমেই নাই বরং উল্টো হৈ চৈ’র মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে বলে ‘মোদের চেনো?’ টাইপের হুমকি-ধামকি দিতেও বাদ রাখেনি। ভেবে দেখুন, সম্মানীত নাগরীকদের কী লাঞ্ছনা। আমি দেশে যাওয়ার পর পরিবারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাহসী প্রতিবাদ করে আপাতত আড্ডা বন্ধ করাতে পেরেছি। জানিনা আমি চলে আসার পর আবার শুরু করে কি না। ক্ষমতা এখন তাদের হাতে, থানা পুলিশ তো দলের পাতি নেতাদের নিকটও নত শীর।

দুবাই প্রবাসী একজন আজীম ভাই, আমাদের ঐ এলাকায় ছয়তলা বাড়ী বানিয়েছেন, বিল্ডিং এর নাম ‘এ জেড ম্যানসন’। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই একজন সন্ত্রাসী স্ত্রী পরিচয়ে এক মহিলা সাথে এনে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। পরে দেখা গেল ঐ ফ্ল্যাটে নানা রকম অসামাজিক কর্মকান্ড এবং সন্ত্রাসীদের আড্ডা। ভাড়া তো দেয়-ই না, তার উপর উল্টো জমিদারের নিকট টাকা দাবী করে এবং এসব প্রকাশ করলে বড় ধরনের সমস্যা করার হুমকি দিয়ে রাখার কারণে ভয় এবং লজ্জায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওরা মুখ খোলেনি। আজীম ভাইয়ের শ্বশুর দেখাশুনা করতেন বাড়ীটি। একদিন অতিষ্ঠ হয়ে বিষয়টি তিনি আমাকে বলার পর বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে ওদেরকে বের করা হয়েছে। তবে গোপনে ওদেরকে টাকা দিতে হয়েছিল কিনা জানতে পারিনি।

আমার ইউনিভার্সিটি গোয়িং মেয়ের কমেন্ট- “রাস্তায় বেরুলেই বুঝা যায় এখন কারা দেশ শাসন করছে”। অর্থাৎ সে চিনতে পেরেছে বখাটে, আড্ডাবাজ এবং ইভটিজাররা কাদের খুঁটির জোরে নাচছে। মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার স্ত্রী দেখিয়ে দিল সেই স্থানটি, যেখানে গত বছর সোনার ছেলেরা একটি মেয়েকে…..।

বাংলাদেশের মানচিত্রে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সহায়তায় দেখতে হবে এমন একটি ক্ষুদ্র স্থানের বর্ণনা তুলে ধরলাম মাত্র। পাতিলের সব ভাত টিপে দেখতে হয় না, একটা হাতে নিলেই বুঝতে পারা যায় পুরা ভাতের অবস্থা। এখন ভাবতে পারেন কেমন চলছে আমাদের বাংলাদেশ।

আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, আমাদের দেশের সরকার যদি সত্যিকার দেশ প্রেমিক এবং দেশ ও দেশের মানু্ষের প্রতি আন্তরিক হতেন, সকল দল ও মতের মানুষকে নিজের হিসাবে গ্রহণ করতেন তাহলে দেশের চিত্র ভিন্ন হতে বাধ্য ছিল। আমাদের বিরোধী দলের ভূমিকাও কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ। তারা নানা রকম অজুহাতে সংসদ বয়কট করে কী বুঝাতে চান তা অন্তত আমার বোধগম্য নয়। তাদের উচিৎ ছিল সংসদে গিয়ে দেশের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা। নিজেরাই নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার এবং গোল করার জন্য ফিল্ড খালী করে দেয়া কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১/১১ তথা অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামক বিষাক্ত অধ্যায় থেকে শিক্ষা নেয়ার সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। আসুন আমরা যার যার অবস্থান থেকে সরকার ও বিরোধী দলের ভুলগুলি আঙ্গুলি নির্দেশ করে দেশ ও দেশের মানুষকে ভাল থাকার সহযোগিতা করি।

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

সুখী জীবনের সন্ধানে


সুখী জীবনের সন্ধানে
তন্ময় হক

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

বৃষ্টিস্নাত বিকেল, বর্ণময় বসন্ত, স্মৃতির ডালি খুলে দেওয়া গান কিংবা প্রিয় মানুষটির উপস্থিতি। এসব একেকটি অনুষঙ্গ। বিকেলের বৃষ্টি কিংবা বর্ণময় বসন্ত কাউকে কাউকে করতে পারে সুখী। আবার স্মৃতিজাগানিয়া গান শুনেও কেউ হতে পারেন সুখী। অন্তত গবেষকরা এমনটাই মনে করেন। কিন্তু আপাত সুখী ও প্রকৃত সুখীর মধ্যে পার্থক্য তো থেকেই যায়। প্রশ্নটা যখন ওঠে প্রকৃত সুখী নিয়ে, তখন মনে হয় সবাইকেই নতুন করে ভাবতে হয়। মানুষ প্রকৃত সুখী হয় কিসে! মনোবিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘকাল ধরে। বেরিয়েও এসেছে নানা অনুষঙ্গ। গবেষকদের মধ্যেই সুখ নিয়ে নানা মত আছে। কেউ কেউ মনে করেন, সুখ বংশগত বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কিংবা মানুষের নিয়ন্ত্রণের একেবারেই বাইরের কোনো এক বিষয়। গবেষকদের একটি দল অক্সফোর্ড সুখ প্রশ্নাবলি নামের একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন, যা দিয়ে সুখের পরিমাপ কিছুটা হলেও করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা তাত্তি্বক মডেলের ভিত্তিতে সুখ পরিমাপ করে থাকেন। এই মডেলে সুখকে ইতিবাচক কর্ম ও আবেগগুলোর সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে তিনটি বিশেষ অবস্থাকেও বিবেচনা করা হয়_ আনন্দ, অঙ্গীকার ও অর্থ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী সানজা লুবোমারস্কি গবেষণার ভিত্তিতে বাতলে দিয়েছেন সুখী হওয়ার পাঁচ উপায়। এগুলো হলো_ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আশাবাদী থাকা, ভালো কাজ মনে রাখা, নিজের শক্তিকে কাজে লাগানো ও অপরের প্রতি দয়াশীল থাকা। তার এই গবেষণার ফল কিনিক্যাল বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল ।

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

আবার সুখী দেশ নির্বাচনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক জরিপও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের থিঙ্কট্যাঙ্ক নিউ ইকোনমিক্স ফাউন্ডেশন (এনইএফ) হ্যাপি পল্গ্যানেট ইনডেক্সের (এইচপিআই) প্রবর্তন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনও সুখী দেশ নির্বাচনে জরিপ পরিচালনা করেছে। তাছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ কতটা সুখী তার সূচক নির্ধারণের জন্য বার্ষিক জরিপ চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার আবিষ্কার করেছেন সুখের সূচক। সেই সূচক ধরে বের করা যাবে একজন মানুষ কতটা সুখী। ১৯৭২ সালের পর ১৭ বছর বয়সী জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক ভুটানের ক্ষমতা গ্রহণের পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভুটান এমন এক ধরনের বস্তুগত সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাবে, যা মোট জাতীয় সুখ বা এৎড়ংং ঘধঃরড়হধষ ঐধঢ়ঢ়রহবংং নিশ্চিত করবে। তখন থেকেই জিএনএইচ নামে আলাদা একটি সূচকের যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে ২০০৬ সালের দিকে চীন সরকার ‘সুখের সূচক’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা করেছিল। এতে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চীনের জনসাধারণের সন্তোষের মাত্রা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছিল। যদিও এই পরিকল্পনার আপডেট পরে জানা যায়নি।

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখ নির্ধারণ ও সংজ্ঞায়নে যখন চারদিকে এত আলোচনা, এত গবেষণা চলছে, তখন প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানরাই-বা থেমে থাকবে কেন! তারাও নেমেছে মানুষকে সুখী জীবনযাপন বাতলে দিতে। আইফোনের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘লিভ হ্যাপি’। গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই অ্যাপ্লিকেশনটি বাতলে দিচ্ছে সুখী জীবনযাপনের উপায়। তবে গবেষক, জরিপ প্রতিষ্ঠান ও মনোবিজ্ঞানীরা যাই বলুক না কেন, যে সূচকের উপস্থিতিই থাকুক না কেন, এ বিষয়ে সবাই একমত : সুখ একটি মানবিক অনুভূতি। সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন। ২০০২ সালে চীনের কেন্দ্রীয় টেলিভিশনের বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে শিল্পী থাং ছেন ‘সুখী জীবন দশ হাজার বছর দীর্ঘ হবে’ শিরোনামে একটি গান গেয়েছিলেন। চীনে গানটি খুবই জনপ্রিয়তা পায়। সুখী জীবন যত বছরই দীর্ঘ হোক না রহস্য থাকবেই। আর এ জন্যই বুঝি মানুষ সুখী হতে এতটা উদগ্রীব!

Peace & Love

Peace & Love

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

রাজনৈতিক ‘ইভ টিজিং’ একটি নষ্ট সমাজে কোনো একটি অপরাধকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সব নষ্টের উৎস নষ্ট রাজনীতি। আর এই নষ্ট রাজনীতি উপহার দিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি।


রাজনৈতিক ‘ইভ টিজিং’
বেলাল বেগ

রাজনীতি

রাজনীতি

লাগুক বা না লাগুক, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান আওয়ামী লীগের উদ্দেশে একটি শব্দ গুলতি ছুড়েছেন। আওয়ামী লীগ নাকি সারা দেশটাকেই ‘ইভ টিজিং’ করছে। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, বেড়ে বলেছেন তো! রাষ্ট্র, সমাজ, সভ্যতা ও শিক্ষা-সংস্কৃতির আলোকদীপ্তিকে আরণ্যক অন্ধকার বানিয়ে নিশাচর হিংস্র পশুর মতো আচরণ করে যে রিপুতাড়িত বখাটের দল, সেটাই তো ইভ টিজিং। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুষ্কৃতকারীদের আচরণ এক ধরনের রাজনৈতিক ইভ টিজিং বটে। চকিতে মনে এল তারেক-কোকো, খাম্বা-মামুন, হাওয়া ভবনের প্যান্ডোরার বাঙ্রে কথা। জামায়াত-বিএনপির ওই যুগের তুলনায় আওয়ামী লীগ ভাঙিয়ে খাওয়া এসব কুলাঙ্গার তো নস্যি। আমার চিন্তাস্রোত হাসিনা-খালেদা, আওয়ামী-বিএনপির শৈবালধামে আটকা পড়ে যাচ্ছিল। আমার মনেই হয়নি, আবদুল্লাহ আল নোমান এই জাতির সাংস্কৃতিক মৃত্যুঘণ্টা বাজানো ইভ টিজিং সমস্যাটাকে খেলো বানিয়ে দিয়েছেন।

ক্ষমতার রাজনীতিতে দীর্ঘকাল মদাসক্ত আছেন বলে জাতির কোনো মর্মান্তিক সমস্যার যাতনা বিএনপি নেতাদের অন্তরে দাগ কাটে না। বখাটেদের কামলোলুপ হিংস্রতার মুখে সুন্দর এই পৃথিবীর দিকে চোখের পাপড়ি মেলে ধরার আগে ‘প্রতিকারহীন শক্তি’র অপরাধে যে কিশোরী আত্মহননের পথ বাছাই করল, তার অভিশাপে পুরো সমাজটাই দগ্ধ হতে পারে_এই বোধটা থাকলে ইভ টিজিংকে এমন ফালতু রাজনৈতিক মশকারা বানাতেন না সমাজসচেতন কোনো নেতা। এটা বলার আগে তাঁর একবারও মনে হলো না, অন্তত ইভ টিজিং সমূলে ধ্বংসের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপির হাত মেলানো উচিত ছিল। কেতাবি গণতন্ত্রীরা অভ্যাসবশত এটা আশা করলেও আমরা জানি, জাতির সুখ-দুঃখের কোনো বিষয়ে একমত হওয়া বা থাকা এই দুটি দলের জন্য সম্ভব নয়।

প্রথমে বিএনপির কথা ধরা যাক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শত্রুরা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, ১৯৭৫ সালে তারা একজোট হয়ে বঙ্গবন্ধু এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে বাংলাদেশ দখল করে এবং কালবিলম্ব না করে গোপনে রাষ্ট্রটির চরিত্র বদলে এটাকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে দেয়। এই পরিবর্তন চিরস্থায়ী করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়লে বিএনপির জন্ম হয়। বলা বাহুল্য, সেই সময় জনগণের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর গ্রহণযোগ্যতা থাকলে বিএনপির হয়তো জন্মই হতো না। যাহোক, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ধ্বংসই যাদের একমাত্র লক্ষ্য, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করাও তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জানত, সুযোগ পেলে বিএনপি তাদের ধ্বংস করবে। এ কাজটি তারা করে উঠতে পারছিল না গণতন্ত্রের মুখোশ পরে থাকায় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া-ভীতির কারণে। তার পরও শেষ পর্যন্ত গেরিলা কায়দায় বোমা হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যার চেষ্টা করে স্বাধীনতাবিরোধীরা। বস্তুত বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপির অবিরাম ষড়যন্ত্র ও শত্রুতা এবং তা প্রতিরোধে পরিচালিত আওয়ামী লীগের মরিয়া সংগ্রাম স্বাধীনতার পরদিন থেকেই বাংলাদেশের মানুষের বাঁচার পরিবেশকে সংঘাতময়, হতাশাগ্রস্ত, অস্থির ও অসহনীয় করে রেখেছে। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ঐতিহাসিক বাঙালি সমাজ ভেঙে খান খান হয়ে গেল। রাষ্ট্র ও সমাজের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি থেকে বস্তির নিঃস্ব ব্যক্তি পর্যন্ত যে কেউ যখন খুশি আইন হাতে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাজুল ইসলাম ছয়টি সন্তানসহ বিরজাবালাকে কেটে টুকরা টুকরা করে তাতে লবণ মিশিয়ে ড্রামে ভরে বিলের নিচে পুঁতে রেখেছিল। সংস্কৃতি চলে গেল বলিউড, মধ্যপ্রাচ্য ও ইয়াংকি মুলুকে, শিক্ষা চলে গেল হুজুরদের জুব্বার নিচে মক্তব-মাদ্রাসায়, ব্যবসা চলে গেল কালোবাজারে এবং মুক্তবাজার বিদেশিদের হাতে। ক্ষমতা রূপ নিল দখলদারিত্বে। পত্রিকার হেডলাইন পেতে লাগল সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিরা। দুর্নীতির আন্তবিভাগীয় প্রতিযোগিতা চলল রাজনীতিতে, প্রশাসনে, পুলিশে, শিক্ষা ক্ষেত্রে, কাস্টমসে, ইনকাম ট্যাঙ্_েকোথায় নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রইল বেশ কয়েক বছর। যেখানে সভ্যতাবিরোধী পরিবেশে রাজাকার-আলবদররা দেশের মন্ত্রী হতে পারে, খুনের বিচার হয় না, খুনিকে পুরস্কৃত করা হয়, সেখানে অল্প বয়সী অর্থ-অস্ত্র-উন্মাদ, ড্যাম কেয়ার বন্য তরুণটির ইভ টিজার হওয়াটাই তো একটা বাহাদুরি ছিল।

ইভ টিজিং_এসিড নিক্ষেপ, গুম, জোড়া খুন, সিরিয়াল কিলিং, নাবালিকা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, অগি্নসংযোগ, ভাড়ায় খুন প্রভৃতির মতো একটি অপরাধ। একটি নষ্ট সমাজে কোনো একটি অপরাধকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সব নষ্টের উৎস নষ্ট রাজনীতি। আর এই নষ্ট রাজনীতি উপহার দিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি।

বাংলাদেশ নষ্ট করার মিশন নিয়ে যেহেতু বিএনপির জন্ম, সেহেতু বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির সবকিছু নষ্ট করাই তার লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রধান দোষ গণতন্ত্রের মুখোশ পরা বিএনপি-জামায়াতকে প্রথম দিন থেকেই প্রতিহত না করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়া। যে জনগণ একাত্তরের নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংসের শিকার হয়েও স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা জুগিয়েছে, দেশের ঘোর বিপদের দিনে জনগণের নিজ সংগঠন আওয়ামী লীগ তাদেরই ডাকল না। তারা দেশের অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ ভুলে গিয়ে ক্ষমতা ভোগের রাজনীতিতে আসক্ত হয়ে পড়ল। বিএনপি আমাদের সংবিধানের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নষ্ট করল, আওয়ামী লীগ এর প্রতি নীরব সমর্থন জানাল। অনেকে বলাবলি শুরু করে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আওয়ামী লীগ-বিএনপির অসহযোগিতামূলক বন্ধুত্ব তিন দশক ধরে বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার আঁস্তাকুড় বানালে আমাদের বহু যুগের লালিত সব স্বপ্ন ও আদর্শ তিরোহিত হয়। সংক্ষেপে এই হচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমাদের পচা অতীতের আরণ্যক সমাজের গন্ধ ব্যবচ্ছেদ। এই সময়ে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ‘প্রতিকারহীন’ অসভ্য শক্তি ডাকাতির মতো একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

ঘোর বর্ষায় একটানা মেঘ-বৃষ্টির পর একটা ঝলমলে দিনের মতো আশা, উদ্দীপনা এবং প্রেরণা নিয়ে আওয়ামী লীগের নবযাত্রা শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। এই প্রথম জনগণ ২০২১ সালে পেঁৗছানোর জন্য একটি গন্তব্যের ঠিকানা পেল, পেল পথের দিশা ডিজিটাল বাংলাদেশ। পরিচ্ছন্ন মানুষদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, কৃষি ও কৃষকদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চারণ, বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে (ইভ টিজিংয়ের অন্যতম কারণ) ঝাঁকি দিয়ে জাগানো, পার্লামেন্ট চালু রাখা, সংকট ও জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক চেষ্টা_এ রকম অসংখ্য উদ্যোগ জনগণের চোখে পড়েছে। সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আস্থা দৃঢ়। কিন্তু তার পরও একটি জাগ্রত জনতার দেশের মতো গতিশীল, স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত পরিবেশ নেই বাংলাদেশে। একটি কারণ হয়তো রাজনৈতিক লক্ষ্যহারা বিএনপির ভাড়াটে নেতাদের দিন-রাত ‘বাঘ পড়েছে’, ‘বাঘ পড়েছে’ বলে চিৎকার করে জনগণকে সন্ত্রস্ত রাখা। এটি অবশ্য ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না কারণ কোকো-তারেক-মামুন-বাবর আর হাওয়া ভবন বিএনপিকে যে কফিনে শুইয়েছিল, তাতে পেরেক ঠুকে দিয়েছে খালেদা জিয়ার বাড়ি রক্ষা আন্দোলন। বিএনপি কখনো জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দল ছিল না, তবে জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনী হওয়ার মতো এমন ন্যক্কারজনক অবস্থায় আগে কখনো পড়েনি। সরকারকে সমর্থন করা সত্ত্বেও জনগণ কেন সক্রিয়ভাবে সমাজ গঠনে এগিয়ে আসছে না, এটিই হওয়া উচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল ভাবনা। কারণ এতকালের নষ্ট সমাজ ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণ করার অনুপযোগী।

সমাজ এখনো জেগে না ওঠার কারণ, চেতনার ক্ষেত্রে সরকার ও দলের মধ্যে যোজন যোজন মাইল দূরত্ব রয়েছে। সরকার যেখানে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে, দল সেখানে পচা অতীতের ক্ষমতা দখল রাজনীতির ফেনসিডিল নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। সরকার যেখানে নদী উদ্ধার, ভূমি উদ্ধার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ইত্যাদি চাচ্ছে, দল সেখানে নদী দখল, চর দখল, ভূমি দখল, বাড়ি দখল, চাকরি দখল, টেন্ডার দখল ইত্যাদি খাই খাই রোগে আক্রান্ত। জনগণ দলকে চেনে, সরকার চেনে না। তাই তো তারা ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থায় রয়েছে। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দলকে ছাড়িয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার যে শর্ত গতিশীলতা, যোগ্যতা ও ধনুকভাঙ্গা পণ, তার প্রতিবন্ধতা হচ্ছে, প্রশাসনের মস্তিষ্কে বড় হওয়া আমলাতন্ত্রের টিউমার।

সমাজ ন্যায়-নীতির মাঝে গতিশীল ও কর্মময় না হয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় কারণ জনগণ কর্তৃক পার্লামেন্টে পাঠানো তাদের ৩০০ নেতা নিজেরাই এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট কী এবং কেন তা একেবারেই অপরিহার্য। অথচ নতুন সমাজ গঠনের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে হলে প্রথম সারিতে দাঁড়াতে হবে তাঁদেরকেই।

নতুন সমাজ গঠনে জনজোয়ার এলে ‘ইভ টিজিং’ খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে, ভেসে যাবে ফালতু রাজনীতির পচা অতীত।
লেখক : নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক