সুখী জীবনের সন্ধানে


সুখী জীবনের সন্ধানে
তন্ময় হক

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

বৃষ্টিস্নাত বিকেল, বর্ণময় বসন্ত, স্মৃতির ডালি খুলে দেওয়া গান কিংবা প্রিয় মানুষটির উপস্থিতি। এসব একেকটি অনুষঙ্গ। বিকেলের বৃষ্টি কিংবা বর্ণময় বসন্ত কাউকে কাউকে করতে পারে সুখী। আবার স্মৃতিজাগানিয়া গান শুনেও কেউ হতে পারেন সুখী। অন্তত গবেষকরা এমনটাই মনে করেন। কিন্তু আপাত সুখী ও প্রকৃত সুখীর মধ্যে পার্থক্য তো থেকেই যায়। প্রশ্নটা যখন ওঠে প্রকৃত সুখী নিয়ে, তখন মনে হয় সবাইকেই নতুন করে ভাবতে হয়। মানুষ প্রকৃত সুখী হয় কিসে! মনোবিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘকাল ধরে। বেরিয়েও এসেছে নানা অনুষঙ্গ। গবেষকদের মধ্যেই সুখ নিয়ে নানা মত আছে। কেউ কেউ মনে করেন, সুখ বংশগত বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কিংবা মানুষের নিয়ন্ত্রণের একেবারেই বাইরের কোনো এক বিষয়। গবেষকদের একটি দল অক্সফোর্ড সুখ প্রশ্নাবলি নামের একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন, যা দিয়ে সুখের পরিমাপ কিছুটা হলেও করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা তাত্তি্বক মডেলের ভিত্তিতে সুখ পরিমাপ করে থাকেন। এই মডেলে সুখকে ইতিবাচক কর্ম ও আবেগগুলোর সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে তিনটি বিশেষ অবস্থাকেও বিবেচনা করা হয়_ আনন্দ, অঙ্গীকার ও অর্থ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী সানজা লুবোমারস্কি গবেষণার ভিত্তিতে বাতলে দিয়েছেন সুখী হওয়ার পাঁচ উপায়। এগুলো হলো_ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আশাবাদী থাকা, ভালো কাজ মনে রাখা, নিজের শক্তিকে কাজে লাগানো ও অপরের প্রতি দয়াশীল থাকা। তার এই গবেষণার ফল কিনিক্যাল বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল ।

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

আবার সুখী দেশ নির্বাচনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক জরিপও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের থিঙ্কট্যাঙ্ক নিউ ইকোনমিক্স ফাউন্ডেশন (এনইএফ) হ্যাপি পল্গ্যানেট ইনডেক্সের (এইচপিআই) প্রবর্তন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনও সুখী দেশ নির্বাচনে জরিপ পরিচালনা করেছে। তাছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ কতটা সুখী তার সূচক নির্ধারণের জন্য বার্ষিক জরিপ চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার আবিষ্কার করেছেন সুখের সূচক। সেই সূচক ধরে বের করা যাবে একজন মানুষ কতটা সুখী। ১৯৭২ সালের পর ১৭ বছর বয়সী জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক ভুটানের ক্ষমতা গ্রহণের পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভুটান এমন এক ধরনের বস্তুগত সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাবে, যা মোট জাতীয় সুখ বা এৎড়ংং ঘধঃরড়হধষ ঐধঢ়ঢ়রহবংং নিশ্চিত করবে। তখন থেকেই জিএনএইচ নামে আলাদা একটি সূচকের যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে ২০০৬ সালের দিকে চীন সরকার ‘সুখের সূচক’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা করেছিল। এতে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চীনের জনসাধারণের সন্তোষের মাত্রা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছিল। যদিও এই পরিকল্পনার আপডেট পরে জানা যায়নি।

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখ নির্ধারণ ও সংজ্ঞায়নে যখন চারদিকে এত আলোচনা, এত গবেষণা চলছে, তখন প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানরাই-বা থেমে থাকবে কেন! তারাও নেমেছে মানুষকে সুখী জীবনযাপন বাতলে দিতে। আইফোনের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘লিভ হ্যাপি’। গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই অ্যাপ্লিকেশনটি বাতলে দিচ্ছে সুখী জীবনযাপনের উপায়। তবে গবেষক, জরিপ প্রতিষ্ঠান ও মনোবিজ্ঞানীরা যাই বলুক না কেন, যে সূচকের উপস্থিতিই থাকুক না কেন, এ বিষয়ে সবাই একমত : সুখ একটি মানবিক অনুভূতি। সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন। ২০০২ সালে চীনের কেন্দ্রীয় টেলিভিশনের বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে শিল্পী থাং ছেন ‘সুখী জীবন দশ হাজার বছর দীর্ঘ হবে’ শিরোনামে একটি গান গেয়েছিলেন। চীনে গানটি খুবই জনপ্রিয়তা পায়। সুখী জীবন যত বছরই দীর্ঘ হোক না রহস্য থাকবেই। আর এ জন্যই বুঝি মানুষ সুখী হতে এতটা উদগ্রীব!

Peace & Love

Peace & Love

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

দিবাস্বপ্নেই বেশি সময় কাটে মানুষের ; জেগে থাকার ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ সময়ই মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে


দিবাস্বপ্নেই বেশি সময় কাটে মানুষের

দিবা স্বপ্ন

দিবা স্বপ্ন Day Dreaming

জীবনে স্বপ্ন থাকা ভালো। স্বপ্ন সজীবতার লক্ষণ। স্বপ্নহীন মানুষকে আপনি গন্ধহীন গোলাপের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। গন্ধ ছাড়া গোলাপের মহিমা কোথায়, বলুন তো?

চর ঘোরে রাতের স্বপ্ন অর্থহীন ঘটনার সমাহার মাত্র। সেদিকে মন না দেয়াই ভালো। সহি সোলেমানি খোয়াবনামার পাতা উল্টে উল্টে অনর্থক সময় নষ্ট। স্বপ্ন দেখতে হয় দিনে, কাজের ফাঁকে কিংবা কর্মহীন অবসরে। এই স্বপ্নই মানুষের মনে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়; তাকে প্রাণবন্ত ও আশাবাদী করে তোলে। অফুরান প্রাণশক্তি নিয়ে নবস্বপ্নে বলীয়ান মানুষ দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। গড়ে তোলে স্বপ্নে ছককাটা প্রাসাদের বাস্তব কাঠামো। তবে একটাই শর্ত—স্বপ্নটা যেন স্রেফ দিবাস্বপ্ন হয়ে না দাঁড়ায়। দিবাস্বপ্ন মানুষকে আপাত বিনোদন ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। তবে বিষয় হলো, মানুষের দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় দিবাস্বপ্নের অলীক প্রভাবে মগ্ন হয়ে। এটা শুধু অলস বা বেকারদের বেলায় নয়, মহা কর্মব্যস্ত মানুষটিও তার হাতের কাজটি নিয়ে না ভেবে দিনের অর্ধেকটা সময় দিবাস্বপ্ন দেখেই কাটিয়ে দেন। একটি মার্কিন গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র ওয়েবসাইট

২ হাজার ২শ’রও বেশি মানুষ মোবাইল ফোনে ছাড়া আবেদনপত্র ডাইনলোড করে উত্তর দেন। এর ভিত্তিতে দিনরাতের বিভিন্ন সময় তাদের চিন্তা-ভাবনার ধরন জরিপ চালিয়ে দেখা হয়। বিজ্ঞানবিষয়ক এ গবেষণায় বলা হয়, এমনকি জরুরি কাজের সময়ও দিনের ৩০ শতাংশ সময় দিবাস্বপ্ন দেখে কাটিয়ে দেন অধিকাংশ মানুষ। এ ধরনেরই আরেকটি জরিপের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, মানুষের মন খুব সহজেই বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর গবেষণা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আইফোনকে।

এখানে অংশগ্রহণকারীরা তারা কী করছেন, তালিকা থেকে তা চিহ্নিত করার ব্যাপারে সম্মত হন এবং এতে তিনি আনন্দিত নাকি বিষণ্ন, এ বিষয়েও তথ্য দেন।
অংশগ্রহণকারীদের উত্তরগুলো একত্রিত করার পর গবেষকরা জানতে পারেন, দিনের বেলা মানুষের মন কীভাবে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়।

দুই লাখ ৫০ হাজার গবেষণা ফলাফল একত্রিত করার পর গবেষকরা এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হন যে, জেগে থাকার ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ সময়ই মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে।

গবেষকদের একজন ড. ম্যাথু কিলিংসওয়ার্থ বলেন, ‘মানুষের মনের বিক্ষিপ্ত চিন্তা তার আর সব কাজকে ছাড়িয়ে গেছে। আসলে আমাদের মানসিক জীবন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।’

তবে দিনের বিভিন্ন সময় মন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ার সঙ্গে মানুষের সুখী হওয়ার প্রবণতার সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কাজের সময় যাদের মন বেশি বিক্ষিপ্ত থাকে, তারা অসুখী জীবন কাটানোর কথাই বেশি উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

তবে এই যে বিক্ষিপ্ত চিন্তা, এটা মানুষের অসুখী বোধের কারণ না ফলাফল—গবেষণায় এটা এখনও পরিষ্কার হয়নি।