বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভবিষৎ অনিশ্চিতঃ

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত, বিদেশী বিনিয়োগের বড় বাঁধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর দুর্নীতি – ড্যান ডব্লিউ মজিনা

লস এঞ্জেলেস, ২৩ অক্টোবর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃবাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা লস এঞ্জেলেসে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমেরিকার তার নিজস্ব স্বার্থেই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক কারণেই আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিক্ষুদ্ধ চরমপন্থী সহিংসতার মাঝে মধ্যপন্থী সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক লোকায়ত রাষ্ট্রশক্তি হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান উত্থান এই অঞ্চলে প্রচণ্ড আশাবাদ নিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা এমনকি চীনের সাথে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ সহযোগীতার কেন্দ্রস্থল হিসাবে আবির্ভুত হচ্ছে। শান্তিরক্ষী মিশনে বিশ্বের প্রথম দুটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা পুলিশ ইউনিট সহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে  ১০ হাজার ৬৫৩ জন শান্তিরক্ষী সদস্যের বৃহত্তম শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম কুড়াচ্ছে। তারজন্য আমেরিকা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায়।’ বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা ও মানবহিতৈষী কর্মকান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহযোগিতা ও সাহায্যের কথা ড্যান ডব্লিউ মজিনা অভিবাসী বাংলাদেশীদের জানান। তিনি বলেন আমেরিকা চায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো উন্নত হোক।

This slideshow requires JavaScript.


বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। তিনি এই প্রসঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দারিদ্র্য দূরীকরণে মাইক্রোক্রেডিটকে সাফল্যকে যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করে বলেন, আমেরিকা এই প্রতিষ্ঠানের সার্থক প্রসারের ধারায় অনুভূতিশীল ও সহানুভূতিশীল। আশ্রয়হীন, বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের অতীতের মতোই আশ্রয় দেয়ার জন্য আবারও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। তিনি এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে আরো মানবিক হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী উদ্বাস্তুরা ভারতে আশ্রয় নেয়, সেই ঘটনার কথা তিনি স্মরণে আনেন। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়েও তার উদ্বেগের কথা জানান। বাংলাদেশকে আগামীর এশিয়ান টাইগার হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি রোধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ-সহায়তার উপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতুর ভবিষৎ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সেতু হলে বাংলাদেশের তথা এ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে পদ্মা সেতুর জন্য ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র,ভারত এবং জাপানসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কাজ করছে। এখন ভারত সেই আশাবাদ থেকে সরে এসে  দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে ভিন্নভাবে অগ্রসর হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের স্বাভাবিক শর্তে বর্তমান সরকারের অস্বাভাবিক আচরনে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজেদের আভ্যন্তরীণ আয়োজনে এই সেতু নির্মান করা প্রায় অসম্ভব বলে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য ঋনের ব্যাপারটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ও আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুকে জনগনের সামনে এনে সুবিধা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। 

গত কয়েক বছর ধরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশী-আমেরিকান শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুনগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের অংশ হিসাবে মার্কিন কূটনীতিকদের এই আয়োজন। এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে নতুন প্রজন্মদের সম্পৃক্ত করে নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য মিলিয়ন ডলারের পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মিতুল দেশাই। দেশে জনসেবায় প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করার নিমিত্তে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে তাদের এমবেডেড এনজিওগুলির সাথে কাজ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের অর্জিত ব্যবসা, প্রফেশনাল ও সাইন্টিফিক নেটওয়ার্ককে স্বদেশে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই কমিউনিটি উদ্যোগ ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আমেরিকান দূতাবাসের সহযোগীতায় তাদের আমব্রেলা অর্গানাইজেশনগুলির মাধ্যমে কো-ডেভেলপমেন্টের সুযোগ তৈরী করাই এই ইনিশিয়েটিভের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানী এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় নয় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী তিন বছরে এই রপ্তানিকে তিনগুন করার লক্ষ্যে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসবার আহ্বান জানান। আমেরিকান দূতাবাস এই ব্যাপারে সর্বাত্মক সাহায্য করার অঙ্গীকার করছে।

লস এঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে প্রবাসী ব্যবসায়ী ফিরোজ ফখরীর বাসভবনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্টনারশিপ ডায়লগের অংশ হিসাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (ইউ এস বি বি এফ) এ মতবিনিময় নৈশভোজের আয়োজন করে। গত সপ্তাহজুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন স্তরের এই মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। এই পর্যায়ে নিউইয়র্ক, পোর্টল্যান্ড ও ক্যালিফোর্ণিয়ায় প্রবাসী সীমিতসংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিকদের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা খোলামেলা কথা-বার্তা বলেন। লস এঞ্জেলেসে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ণ ক্যালিফোর্ণিয়ায় শিক্ষক-ছাত্র ও কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে লাঞ্চ, বিকালে উডল্যান্ড হিলের এক প্রবাসীর বাসায় ইভনিং টী প্রোগ্রাম ও রাতে বেভারলি হিলস-ব্রেন্টউড এলাকায় ডিনার পার্টি আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও নৈশভোজে স্থানীয় প্রবাসীদের সাথে রাষ্ট্রদূত পত্নী গ্রেস ফিনে মজিনাও উপস্থিত থেকে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফিরোজ ফখরী তার স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মজিনাকে এই কমিউনিটি উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। এরপর মজিনা অভ্যাগত অতিথিদেরও কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। এই পর্বটি পরিচালনা করেন ইউ এস বি বি এফ-এর প্রসিডেন্ট মোঃ জাফরুল্লাহ। 
Video: United States Ambassador to Bangladesh – Dan Mozena with Bangladeshi American in Los Angeles
-Jahan Hassan
Editor,
Ekush News Media
13659 Vicory Blvd, #376, Van Nuys, CA 91401, USA

1 818 266 7539
editor@Ekush.info
FaceBook: 
http://www.facebook.com/jahan.hassan.1

Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151198517861897.480982.826936896&type=1&l=a99bed5285


Dan Mozena Grace Feeney -Jahan Hassan Ekush News Media জাহান হাসান একুশ নিউজ মিডিয়া
Editor

http://www.probashipotro.com/2012/10/26/padmasetu/

Advertisements

হলিউড, লস এঞ্জেলেস এ বাদাম (BADAM) এর আত্মপ্রকাশ


হলিউড, লস এঞ্জেলেস এ বাদাম এর আত্মপ্রকাশ

একুশ নিউজ মিডিয়াঃ লস এঞ্জেলেস, ২৪ জুন: বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার প্লাটফর্ম হিসাবে কাজ করা, সহায়তা ও পরামর্শ দিতে লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্ণিয়া, ইউ এস এ-তে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া (বাদাম BADAM)। স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক,অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ ও সুধীজন এই আলোচনা সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে ‘বাদাম’ -এর প্রতি সম্পৃক্ততা ঘোষণা করেন।


রবিবার লিটল বাংলাদেশ এলাকায় আলাদীন রেস্তোরায় এক আলোচনা সভার মাধ্যমে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উদ্যোক্তারা এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
  প্রবাসের মূলধারায় দেশীয় বাংলা সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে দেশ-প্রবাসের কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের যোগসূত্র হিসাবে কাজ করবে এই সংগঠন। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি মাইলফলকে  আলোচনা সভা সহ অনুষ্ঠানমালা করার ঘোষণা দিয়েছে ‘বাদাম’।


সুদীর্ঘ সময় পরে হলেও নতুন প্রজন্মের সাথে আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পরিচয় ও তাদেরকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে
 ‘বাদাম-নতুন প্রজন্ম’ নামে সংগঠনের একটি শাখা খোলার প্রস্তাবনা করা হয়। প্রতিমাসে একবার করে নতুন প্রজন্মদের নিয়ে স্কুলশিক্ষার আদলে ইন্টারএক্টিভ কর্মশালার প্রস্তাব করা হয়। 

কাজী মশহুরুল হুদার সঞ্চালনায় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের অতীত-বর্তমান-ভবিষৎ নিয়ে আলোচনা করেন মিজান শাহীন,কাজী রহমান, আলী আশরাফ রুনু, ডাঃ নাসির আহমেদ অপু, একতার ভূঁইয়া, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, তারিক বাবু, ফ্রেন্ডস বাবু,দিলশাদ রহমান, মার্টিন রহমান, মিঠুন চৌধুরী, বুলবুল সিনহা, আব্দুল খালেক, স্যামী নোবেল, খাজা মইনুদ্দীন চিশতী, শহীদ আলম, পঙ্কজ দাস, শাহানা পারভীন, সাদিয়া রহমান, জাবিন হিল্টন, মাহবুবা রশীদ, শামসুন্নাহার মনি, রওনাক সালাম, ফরিদা, প্রমুখ।


ফারহানা সাঈদ সবার বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরে বলেন,
 সবার বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা -সংস্কৃতি সার্বজনীন, বহমান সংস্কৃতিকে মূলধারার সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করে নিজ দেশের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে হবে।


বাদাম-এর প্রধান উপদেষ্টা এম কে জামান নান্টু তার বক্তব্যে বলেন,
 লস এঞ্জেলেস এ কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক,অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের এক অপূর্ব সম্মীলন ঘটাবে এই বাদাম। বাদাম ও স্থানীয় বাংলাদেশী ডাক্তারদের সহযোগীতায় লিটল বাংলাদেশ-এ ফ্রি সানডে ক্লিনিক খোলার ঘোষণা দেন তিনি।


নব গঠিত বাদাম’র আহ্বায়ক জাহান হাসান সভার শেষে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন,আমেরিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের একটি শক্তিশালী সাহিত্যিক-সামাজিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনেকদিন ধরে অনুভূত হচ্ছিল। অনেক প্রবাসী তাদের নিজ নিজ অবস্থানে সমুজ্জ্বল হলেও সংস্কৃতি প্রসারে নিরপেক্ষ প্লাটফর্মের অভাবে এগিয়ে আসতে পারছেন না। তাদের অভিজ্ঞতা,
 সার্মথ্য ও দেশকে ভালবাসা বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে এই বাদাম। নিয়মিতভাবে প্রবাস ও দেশের গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান
 করার ঘোষণা দেন তিনি।


২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাদাম’র কাজ শুরু করেছে। অচিরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরবর্তীতে বিভিন্ন ষ্টেটে কমিটি গড়ে পর্যায়ক্রমে সারা উত্তর আমেরিকায় সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। ঈদের পরে স্থানীয় প্রবাসীদের সামনে পূর্নাংগ কমিটি ঘোষণা করা হবে। সংগঠনের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসীদের সহায়তা কামনা করে জানান,
 কবি,সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে সংগঠনটি গঠিত হলেও বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য গড়তে কাজ করতে ইচ্ছুক
 যে কেউই এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। 


বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রবাসে শিল্পকলা প্রসারে বাদাম-এর মত সংগঠনের সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সংগঠনের কয়েকজন পরিচালকের সাথে ঢাকায় এক মত বিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।
  


ছবিতে বাদাম – ক্লিক করুনঃ
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10150975188591897.447813.826936896&type=1&l=ca17e7ec41

 

আনন্দ করেই দেখুন না,নিন্দুকদের প্রতি শাহরুখ


আনন্দ করেই দেখুন না,নিন্দুকদের প্রতি শাহরুখ

বিনোদন ডেস্কঃ আনন্দ করেই দেখুন না,নিন্দুকদের বার্তা শাহরুখের নিজস্ব প্রতিবেদন নাক-উঁচু নিন্দুকের মতো সব কিছু নিয়ে ব্যাঁকাট্যারা কথা না বলে একটু দিল খুলে আনন্দ করুন না! আইপিএল ট্রফিটা পাশে নিয়ে নিজের বাড়িতে বসে প্রথম সাংবাদিক বৈঠক। শাহরুখ খান দৃশ্যতই বিপুল খুশি, তৃপ্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং অবশ্যই অনেকখানি নিশ্চিন্ত। 

কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং তাঁকে ঘিরে এই কয়েক বছরে হাজারো বিতর্ক তাঁর দিকে ধেয়ে এসেছে। এসে চলেছে। ওয়াংখেড়ের ঘটনার রেশ এখনও যথেষ্ট টাটকা। বিশেষত মুম্বইয়ে। তার পরে কলকাতায় বিজয়োৎসবের প্রাচুর্য এবং চেন্নাইয়ের মাঠে তাঁর উল্লাস প্রদর্শন নিয়েও নানা মহলে নানা কথা বলা হচ্ছে। শাহরুখ আজ তাঁর সব কথারই জবাব দিয়েছেন। কিন্তু এ দিন তিনি আর বিতর্কিত টিমমালিক নন, মাথা-গরম চিত্রতারকা নন। মুখে এক গাল হাসি, কথায় ঠাট্টার সুর, গলায় বিজয়ীর পরিতৃপ্তি।

চেন্নাইয়ের মাঠে তাঁর লম্ফঝম্ফ, ইডেনে মহোৎসব নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, শাহরুখ বরং তাঁদেরকেই পরামর্শ দিচ্ছেন ‘একটু আনন্দ করে দেখুন না! ভাল লাগবে!’ কারণ তাঁর জীবনদর্শনই বলেন, ছোট-বড় যেমনই সুযোগ আসুক, আনন্দ করা উচিত! কিন্তু ব্যক্তিগত টিমমালিকের জয় নিয়ে এত হইচই? “কীসের ব্যক্তিগত? কোনটা ব্যক্তিগত? একটা ম্যাচ দেখার জন্য গোটা দেশ সন্ধে আটটা থেকে টিভি খুলে বসে, সেটা ব্যক্তিগত? অর্ধেক সরকারি অনুষ্ঠান তো সম্প্রচারই হয় না! মন্ত্রীরা ইফতার পার্টি দেন না? কত জনের জন্য সেটা? আইপিএল যদি আমার ইফতার হয়, কত জন তার থেকে আনন্দ নিলেন?”

মোদ্দা কথাটা শাহরুখের মতে,আনন্দের বহিঃপ্রকাশকে এ দেশে খুব ভাল ভাবে নেওয়া হয় না বলেই তাঁর আচরণ নিয়ে টিভি চ্যানেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুষ্ঠান করতে হয়, নানা রকম মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা খোঁজা হয়। ”আমাদের দেশের অনেক সমস্যা আছে। উন্নয়নে আমরা প্রথম সারিতে নেই! তাই বলে আনন্দ করতে বাধা কীসের? আমি জানি না, মানুষ আনন্দ প্রকাশ করতে এত ভয় পায় কেন?” প্রত্যেকটা মানুষেরই আনন্দের নিজস্ব অভিব্যক্তি আছে। শাহরুখেরও আছে। তিনি সেটাই চেন্নাইয়ে করেছেন বলে দাবি করলেন। “সত্যি বলতে কী, ওই দিন আমার মনে হচ্ছিল, আমি উড়ে যেতে পারি। মেয়ে আমাকে ধরে না রাখলে আমি হয়তো উড়েই যেতাম! আমি সে দিন ৫০ জনের আনন্দ বোধহয় আমি একা প্রকাশ করেছি। সবাই তো আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পায় না। আমি পেয়েছি বলেই এত কথা উঠছে!”

শুধু আইপিএল নিয়েই আনন্দ-উৎসব হয়, সেটাও মানলেন না শাহরুখ! “বিশ্বকাপ জয়ের দিন আনন্দ করিনি? গাড়ি করে ফারহানের বাড়িতে যাচ্ছিলাম আমরা। করিশমা ছিল। দক্ষিণের এক অভিনেত্রী ছিলেন। মুম্বইয়ের রাস্তায় খুবই আনন্দ করেছি। পতাকা উড়িয়েছি! গাড়ির থেকে মুখ বার করে চেঁচিয়েছি! সকাল আটটা অবধি পার্টি করেছি। আমি তো চাই, বিশ্বনাথন আনন্দকে নিয়েও উৎসব হোক!”

দেখাই যাচ্ছে, শাহরুখের এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে বিতর্কের জবাব আছে, কিন্তু ঝাঁঝালো প্রতি-আক্রমণ নেই। ঠাট্টা আছে, শ্লেষ নেই। শাহরুখ বরং এ দিন বলগুলোকে খেলেছেন ব্যাটের আলতো টোকায়। বলেছেন, “আমাকে একটা কথা বুঝতে হবে। আমি যে বয়স এবং যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে সব রকম অপ্রীতিকর কথা নিয়ে সব সময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা আমার সাজে না।” এই কথাটা এল ওয়াংখেড়ে প্রসঙ্গে। ওয়াংখেড়ের ঘটনার পরদিন বলেছিলেন, “যা ঘটেছে, তা যদি আবার ঘটে, তাহলে যা করেছি তাই করব।” আজ বললেন, “মেজাজ হারানোর মতোই ঘটনা ঘটেছিল। গালি দেওয়ার মতোই অবস্থা ছিল। কিন্তু তবু বলব ঠিক করিনি। বাচ্চাদের সামনে গালি দিয়ে ঠিক করিনি। দর্শকদের কথাও ভাবা উচিত ছিল।” বলেই গর্বিত পিতা জানান, সন্তানরাই এই ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছে তাঁকে।

শাহরুখ বললেন, বিষয়টা তিনি নিজে ভাবেননি। কারণ নিজেকে তিনি ‘রোল মডেল’ বলে মনে করেন না। “অনেক খারাপ খারাপ কাজ করি। রাতে ঘুমোই না, হইহুল্লোড় পার্টি করি, গাদা গাদা কফি খাই। ফিল্মের লোকেদের কেউ ভাল লোক বলে ভাবেও না।” ফিল্মের লোক বলেই তাঁর দলকে সব সময়ই চাপে থাকতে হয়েছে। ভাল-খারাপ দু’রকম চাপই অনেক বেশি টিমের উপরে পড়েছে। এখন ‘সেটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে কেকেআর’, তাই কেকেআর-মালিকের ফুরফুরে মেজাজের পাশে ঝলমল করছে ট্রফিটা। পাঁচ বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে অর্জিত ট্রফি।

শাহরুখ বরাবর বলে এসেছেন, তিনি হারতে ভয় পান। আইপিএল তাঁকে হারতে শেখাল। বললেন, “প্রীতিদের (জিন্টা) দেখে অনেক শিখেছি। কী ভাবে পরাজয়কে গ্রহণ করতে হয়, কী ভাবে হাসিমুখে থাকতে হয়, খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াতে হয়, এগুলো শিখেছি। আগে হারলে ঘর থেকে বেরোতাম না। সেটা ঠিক নয়। কত জনের পরিশ্রম, কত মানুষের কষ্ট জড়িত আছে! দাদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) কত সময় খায়নি, ক্রিস গেইল কত বার কেঁদেছে!” শাহরুখ নিজেকে ভেবে এসেছেন টিমের পিতার মতো। “ছেলেদের সব সময় বলেছি, পরিশ্রম আর লড়াই করলে ফল পাবেই। পাঁচ বছর ধরে সেই কথাটা বলে চলা, বিশ্বাস না খোয়ানো খুব সহজ কাজ ছিল না।” সেই জন্যই এখন তাঁর মনে হয়, “জেতা-হারাটাই সব নয়।” তাঁর মনে হয়, যারা কেকেআর-এ বাঙালির সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারা ‘টিম’ শব্দটার মানে জানে না। “বাঙালি না থাকলে ভারতীয় দলের খেলা দেখেন না তাঁরা? কলকাতার হয়ে খেলতে গেলে কলকাতার হতেই হবে?” ‘টিম’, এই শব্দটার মানেই তো পর্দায় শিখিয়েছিলেন ‘কবীর খান’। গত ক’দিন ধরে শাহরুখের গালে কবীরের মতোই হাল্কা দাড়ি। একটা প্রশ্নের উত্তরে বললেনও, বড্ড ঘোরাঘুরি গেল। ভাল করে চান করা দরকার।” তার পরেই হাসি “দেখুন না, এক্ষুনি কোনও চ্যানেল দেখাতে শুরু করবে ব্রেকিং নিউজ! শাহরুখ তিন দিন চান করেননি!!!”
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা: পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা ; হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন


পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা

বারাক ওবামা

বারাক ওবামা


সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির পরাজয়ের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক খাতে তেমন অগ্রগতি না ঘটায় ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই তারা ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর এজন্য আমিই দায়ী।’ বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপি, বিবিসি অনলাইনের। মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের দলের ভরাডুবির পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে মলিন মুখে হাজির হন বারাক ওবামা। মাত্র দুই বছর আগে রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে ধরাশায়ী করে ক্ষমতায় যান ওবামা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তায় ধস নামায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে বলেন, আমি খুব খারাপ বোধ করছি। একই সঙ্গে স্বীকার করলেন দলের এ অবস্থার জন্য নিজের দায়িত্বের কথা। তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকার কোনো উন্নতি ঘটাতে পারেনি এমন অভিযোগ মেনে নিতে নারাজ তিনি। তিনি বলেন, অর্থনীতি মন্দা অবস্থা থেকে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। বেকারত্বের হার অনেকটা কমে এসেছে। তবে জনগণ এখনও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত রিপাবলিকানরা ওবামার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার রিপাবলিকান জন বোয়েনার বলেন, এটা খুব স্পষ্ট, মার্কিন জনগণ আরও ছোট, কম ব্যয়ের এবং বেশি জবাবদিহিমূলক সরকার চায়। তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নির্বাচনের ফল জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণে গৃহীত পরিকল্পনাসহ পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে বারাক ওবামার অবস্থানকে বেশ জটিল পরীক্ষার মধ্যে ফেলবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে একটি গবেষণা সংস্থা। তারা বলছে, ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে তরুণদের ভোট পড়েছে প্রায় ১০ লাখ কম। সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের হিসাবে, মঙ্গলবার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের প্রতি পাঁচজনের একজন ভোট দিয়েছে। এ বয়সের প্রায় ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছে। অথচ ২০০৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় এক কোটি তরুণ।
৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮ আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ২৩৯টি। ওবামার ডেমোক্র্যাট পার্টি পায় ১৮৬টি আসন। বাকি ১০টির ফল জানা যায়নি। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পেরেছে। ১০০ আসনের মধ্যে তাদের আসন এখন ৫২টি। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪৭টি। একটি আসনের ফল চূড়ান্ত হয়নি।

হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে (মিশিগান কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৩) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হেনসেন হাশেম ক্লার্ক প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের।
বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, হেনসেন হাশেম ক্লার্কের বিজয় তার প্রতি সাধারণ জনগণের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।