বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ


বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ

ডঃ কাজী নাসির উদ্দীন

সম্প্রতি বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে মার্কিন সমাজের আচার ব্যবহারের অনুপ্রবেশ বিশেষভাবে লক্ষ্যগোচর হচ্ছে গত কয়েক বছর যাবত অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে মা দিবস আর ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মার্কিনী প্রথায় ছেলেবন্ধু (বয়ফ্রেন্ড) ও মেয়েবন্ধু (গার্লফ্রেন্ড) গড়ে উঠছে এই রকম বন্ধুত্বের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোন পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না অচিরেই হয়তো শুনতে পাবো যে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েই যুবক-যুবতীরা একই ছাদের নীচে বসবাস করছে ।

দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হিড়িক পড়ে গেছে এবং তরুণ-তরুণীরা বন্ধুত্বের দাবীতে বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে আর একে অপরকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে অপরিসীম আনন্দ উপভোগ করছে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকেও এই মার্কিনী অনুকরণের বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এখন বাংলাদেশের গায়ক-গায়িকাদের গানের সঙ্গে নাচ যোগ করে দিতে হয় অর্থাৎ নেচে নেচে গান না গাইলে সে গান জনপ্রিয় হয় না বসে বসে গান গাওয়াটাতো এখন অতীতের ব্যাপারে পর্যবসিত হয়েছে আমাদের দেশের সংগীত শিল্পীরা চিরকাল গলা আর হৃদয়াবেগের মিশ্রণে মনের আকুলতা প্রকাশ করে এসেছে দেহকে সেখানে টেনে আনার কোন প্রয়োজন দেখা দেয় নি অবশ্য আমি এ ব্যাপারে সচেতন, যে কোন সংগীত চর্চায় গলা ও হৃদয়ের সঙ্গে দৈহিক অঙ্গভঙ্গী ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে, যেমন বাউল গান ও লালন গীতি কিনতু নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত ও আধুনিক গান যদি নেচে নেচে গাইতে হয়, তবে কেমন হয় ? পাঠকরাই বিবেচনা করুন এছাড়া দেশের তরুণীরা এখন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ আর ওড়না ছেড়ে দিয়ে বেপরোয়াভাবে শার্ট আর জিন্স-এর প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।

বলা বাহুল্য যে সমাজ ও সংস্কৃতির চিত্র উপরে তুলে ধরা হলো তা হুবহু মার্কিন সমাজ ও সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ মাত্র এক কথায় বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতি কেন এমন হলো ? পাশ্চাত্যে আরো অনেক দেশতো রয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকেরা পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ড ভ্রমণ করার সুযোগ আমার হয়েছে সেই সমস্ত দেশে বসবাসকারী বাঙালিদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রাণান্তকর প্রয়াসের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি আশ্চর্য্যরে ব্যাপার ঐ সমস্ত দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বাংলাদেশের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি কেবলমাত্র মার্কিনী সংস্কৃতি গ্রাস করে নিয়েছে বাংলাদেশকে আরো আশ্চর্য্যরে বিষয় এই যে পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি গ্রাস করে নিতে পারেনি উপরন্তু পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশে আমি মার্কিনী সংস্কৃতির প্রতি চরম বিতৃষ্ণা আর ঘৃণা লক্ষ্য করেছি জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে স্পেনে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম স্পেন, ইংল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডের অধিবাসীরা আমেরিকানদের রাখাল বালক (Cow Boy)হিসেবে অভিহিত করে অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে বলা হয়ে থাকে আমেরিকানরা অসভ্য আর অসংস্কৃত সুতরাং হঠাৎ করে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের কাছে আমেরিকার সংস্কৃতি এতো প্রিয় হয়ে গেল কেন যে, এ বিষয়টি নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

কোন একটি দুর্বল দেশকে যদি কোন একটি সবল দেশ চিরদিনের জন্যে অধীনস্থ করে রাখতে চায় তাহলে দুর্বল দেশটির সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘদিন যাবত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজেদের উপনিবেশকে বহাল তবিয়তে রাখার জন্য এই ধ্বংস যজ্ঞে আত্মনিয়োগ করেছিলো নিজেদেরকে কিšতু জাগ্রত প্রহরীর মতো সে সমস্ত উপনিবেশের বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা তাদের উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতির অপলাপ রোধ করতে সক্ষম হয়েছিলো আর তারই ফলশ্রুতিতে সেই সমস্ত দেশের পক্ষে সম্ভব হয়েছিলো তাদের নিজ নিজ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের অবসান আজও ঘটেনি নতুন মুখোশ পরে সাহায্য সহযোগিতার অজুহাতে আর গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা দুর্বল দেশগুলোর উপর নিজেদের অধিকার চিরস্থায়ী করার জন্যে তৎপর হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝতে পেরেছে সৈন্য লেলিয়ে দিয়ে একটি দেশকে দখল করা যায় সাময়িকভাবে কিনতু সে দেশটিকে জয় করা যায় না যতদিন পর্যন্ত না সে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা, গর্ব আর অহংকারকে চূর্ণ করা যায় ততদিন পর্যন্ত সে দেশের মানুষকে বশীভূত করা যায় না একটি জাতির গৌরব, গর্ব আর অহংকারকে ধ্বংস করতে হলে সর্বপ্রথম ধ্বংস করতে হবে সে জাতির সংস্কৃতিকে মহা ধ্বংসযজ্ঞে বর্তমানে আত্মনিয়োগ করেছে সাম্রাজ্যবাদীরা আর এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ কেন ? যেহেতু বাংলাদেশ হারিয়েছে তার আত্মমর্যাদা দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ সকল গৌরবকে দিয়েছে জলাঞ্জলি সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশকে জয় করার এই হচ্ছে মোক্ষম সময় এই পরিস্থিতির হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে বাংলদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে যেমনভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলো পৃথিবীর দিকে দিকে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বিভিন্ন জাতি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে।

সংস্কৃতি চেতনা যাদের খুব প্রখর তাদের আত্মমর্যাদাবোধ অত্যন্ত বলিষ্ঠ এই রকম আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতিকে অধীনস্থ করা কঠিন আমার নিজের দেশবাসীরাই যদি অতি আগ্রহের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদীর অপসংস্কৃতির অনুকরণে উৎসাহী হয়, তাহলে সাম্রাজ্যবাদীকে দোষ দিয়ে লাভ কি ? সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্যটাতো দেশবাসীর সহায়তায় সহজেই হাসিল হয়ে যায় কিনতু কেন যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এই মার্কিনী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশকে রুখে না দাঁড়িয়ে বরং স্বাগত জানালো সে বিষয়টা এবার একটু তলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রে বিপরীত আকর্ষণ (Opposite attracts) করে বলে একটা তত্ত্ব আছে এর সারমর্ম এই যে তরুণ-তরুণীরা তার সম্পূর্ণ বিপরীতের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে বাংলাদেশ আমেরিকার সম্পূর্ণ বিপরীত ক্রান্তিতে অবস্থান করছে অর্থাৎ আমেরিকায় যখন দিন বাংলাদেশে তখন রাত আমেরিকা পৃথিবীর একটি মহাপরাক্রমশালী দেশ বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম দুর্বল দেশ আমেরিকা পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় ধনী দেশ সমূহের তালিকাভুক্ত আর বাংলাদেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ বিপরীত বটে, আর সে কারণেই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের আমেরিকার সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়া মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রের তত্ত্ব অনুযায়ী খুবই স্বাভাবিক কিনতু এই স্বাভাবিক মানসিক অবস্থাটাকে দুর্বল পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যে তত্ত্ব প্রকাশ পায় তার নাম হলো হীনমন্যতা বোধ ইংরেজীতে যাকে বলে Inferiority complex এই হীনমন্যতা বোধের শিকারে পরিণত হয়ে যারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী মহান সভ্যতা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা শুধু নিজেদেরকেই অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে না, তারা সমগ্র জাতিকে দেউলিয়া করে দেশের স্বাধীনতাকে করে বিপন্ন। আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের জন্মলাভের জন্য ওরা নিজেরাও যথার্থভাবে দায়ী নয় আমাদের দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্যে দায়ী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি চেতনা, দেশাত্মবোধ এবং দেশপ্রেম গড়ে তুলতে বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন আমাদের দেশের দুর্নীতিপরায়ণ, স্বার্থান্বেষী কর্ণধাররা তাদের নিজেদের আখের গোছানোর কাজে এবং বিদেশী প্রভুদের পদলেহনে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে তারা আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে দেশাত্মবোধের কোন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হননি ।

বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অনেকে আবার মার্কিন সংস্কৃতির অনুকরণের স্বপক্ষে তাদের মনের মধ্যে অনেক যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তারা বলেন, বিদেশী সংস্কৃতিতে যদি কোন ভালো জিনিস থাকে তবে তাকে গ্রহণ করতে দোষ কি ? এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে এই যে সংস্কৃতির সঙ্গে ভালো মন্দের কোন সম্পর্ক নেই একটি দেশের সংস্কৃতি বলতে সেই দেশের মানুষের সামগ্রিক জীবন যাপন পদ্ধতিকে বুঝায় আমাদের সংস্কৃতির যে বিষয়টি আমরা সবচেয়ে ভালো মনে করি আমেরিকানরাতো সেটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে না তাহলে ওদের ভালো জিনিসটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে কেন ? তাছাড়া আপাততঃ যাকে ভালো মনে হয় সংস্কৃতির অঙ্গনে তার উৎপত্তি ও বিকাশের কারণটা খুঁজে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ মার্কিন মুল্লুকে মা দিবস ও বাবা দিবসের উদ্ভবের কারণ বিশ্লেষণ করা যাক আমেরিকায় সন্তান-সন্ততিরা তাদের ষোল (১৬) বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গৃহ ত্যাগ করে তারপর কালে ভদ্রে কখনো সখনো মা-বাবার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয় সেই দেখা সাক্ষাতের জন্যে আবার আগে থেকেই দিনক্ষণ নির্ধারণ (appointment) করে নিতে হয় তাছাড়া আমেরিকার ছেলেমেয়েদের মা-বাবারা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এক সঙ্গে এক বাড়িতে বসবাস করে না এই সমস্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদেরকে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্যে বৎসরে একবার মা-বাবার খোঁজ খবর নেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে সুতরাং আপাততঃ এটাকে একটা ভালো জিনিস মনে হলেও এর মূলে ভালো কিছুই নেই আমাদের সংস্কৃতিতে প্রতিটি দিনই মা-বাবার দিন প্রতিটি মূহুর্তে আমরা মা-বাবার সেবা করতে পারলে নিজেদেরকে ধন্য মনে করি এমন কি প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় নিজেদের ঘর সংসার নিয়ে যখন আমরা আলাদাভাবে বসবাস করি তখনও মা-বাবা বেঁচে থাকলে আমরা যখন তখন মা-বাবার কাছে ছুটে যাই মা-বাবার কাছ থেকে আমাদের কোন অনুমতি নিতে হয় না আমাদেরকে একবার মায়ের বাড়ি আর একবার বাপের বাড়ি দৌড়াতে হয় না আমরা মা-বাবাকে এক সঙ্গে পাই সব সময় সুতরাং ঘটা করে আমেরিকার মতো বৎসরে একবার মা আর একবার বাবার সেবা করাটা বাংলাদেশের সভ্যতা ও সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে যে কতো অবাস্তব তা সহজেই বোধগম্য ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আগে আমি দীর্ঘ ৩৪ বছর বাংলাদেশে বসবাস করি এখন আর ৩০ বছর যাবত আমি আমেরিকায় বসবাস করছি আমেরিকায় আসার পর এদেশের সংস্কৃতির তুলনায় আমাদের দেশের সংস্কৃতি যে কতো উন্নত, পরিশীলিত আর আমরা যে কি এক মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী তা আমার চোখে পড়ে দেশ থেকে বের না হলে দেশকে চেনা যায় না এটা শুধু আমার একার অভিমত নয় আমার মতো অনেকেই যারা কিছুদিন মার্কিন মুল্লুকে বসবাস করেছেন তারা সবাই মার্কিনী সংস্কৃতির অন্তঃসারশূন্যতা সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছেন আর তাদের নিজের বাংলাদেশে এই অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অতি সম্প্রতি হলিউড থেকে প্রকাশিত ”একুশ” পত্রিকায় চাঁদ সুলতানা মাহবুব কামরুন-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত ”ঘুরে এলাম কিছু সময় বা ঝটিকা সফর”-এ সেই দুঃখ এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ”একটা ব্যাপার খুব চোখে লাগলো, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ফ্রীডমে বিদেশকেও হার মানিয়েছে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মোহনা ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে” অন্যত্র ”নব্য সভ্যতার যুগে পুরাতন কালচার সব হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িতে ছেলেমেয়েরা সুরে বেসুরে ওদের ইচ্ছামতো গান গাচ্ছিলো আমি তখন একমনে খুঁজছিলাম আমার হারিয়ে যাওয়া পুরানো অতীতকে” বড়ই দুঃখের বিষয় সেই অতীত দ্রুত বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে সে কারণেই বোধ হয় প্রবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অত প্রাণান্তকর প্রয়াস অথচ আমাদের প্রিয় দেশবাসী তরুণ-তরুণীরা নির্বিচারে বিদেশী অপসংস্কৃতিতে অবগাহন করে পরম পুলক অনুভব করছে এর চাইতে পরিতাপের বিষয় আর কি হতে পারে ? কবে কিভাবে আমাদের বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের অবসান ঘটবে ? কবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কুঁড়ে ঘরে থেকেও শিল্পের বড়াই করতে শিখবে, কবে ওরা বুক ফুলিয়ে বলবে, ”নিক হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা” ? সে কথাই আজ ভাবছি।

একুশ পত্রিকা,

লস এঞ্জেলেস, জুলাই ৪ ২০০৭ ইস্যুঃ উপ-সম্পাদকীয়ঃ

পৃথিবীর মোট ভাষার অর্ধেক আজ হারিয়ে যেতে বসেছে


নৃ-জাতিগোষ্ঠীর শিল্প ও সংস্কৃতি

উপমহাদেশে নৃ-জাতিগোষ্ঠীর আবির্ভাব কবে ঘটেছিল তা সঠিক করে বলা মুশকিল। ইংরেজ শাসনামলে চা-বাগনে কাজ কিংবা রেললাইন বসানোর কাজ করতে করতে অনেক নৃ-জাতিগোষ্ঠী স্থায়ী আবাস গড়ে এ দেশে। সময়ের পরিক্রমায় তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তপ্রায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি নৃ-গাষ্ঠীর মধ্যে শুধুমাত্র চাকমা ও মারমা বাদে ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চংগ্যা, চাক, বম, লুসাই, পাংখোয়া, খিয়াং ও খুমী সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি খুবই সংকটের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে আদিমতম ভয়, বিস্ময়, বিধ্বংস ভীতি এবং লৌকিক-অলৌকিক বিশ্বাসের মাঝে সুন্দরবনে দূর অতীতে শেকড় গেড়েছে পুন্ড্র, পৌন্ড্র, ক্ষত্রিয় বা পৌদ শ্রেণীভুক্ত কৌম্য জীবনযাত্রার মানুষেরা। কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসা প্রান্তিক নৃতাত্তি্বক জাতিগোষ্ঠীর শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে লিখেছেন আরেফীন করিম

শত প্রতিকূলতা আর ঝড় ঝঞ্ঝার মাঝেও বেঁচে ছিলেন বোয়া সিনিয়র। আন্দামান নিকোবরের গ্রেট আন্দামানিজ গোত্রের_প্রায় লক্ষাধিক বছরের প্রাচীন নৃ-গোষ্ঠীর শেষ বংশধর এই ব্যক্তিটি সম্প্রতি মারা গেছেন। আর তার সাথে সাথেই যেমন বিলুপ্তি ঘটে বো’ ভাষার তেমনি কালের গহ্বরে হারিয়ে যায়, একটি নৃ-জাতিগোষ্ঠীর সমাজ-সংস্কৃতির ইতিহাস। দুনিয়াজুড়ে এমনি ঘটনা পূর্বেও দেখা গেছে। দুঃখজনক ও বেদনাতুর এমনি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশেও। এদেশের ৪৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ভাষা আজ হুমকীর সম্মুখীন হচ্ছে। এ কথা বললে বোধ করি অতু্যক্তি হবে না, যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের ফলে কোনো কোনো নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতি হুমকী তথা বিলুপ্তির পথে রয়েছে। বিশেষ করে উলেস্নখ করার বিষয় হলো, যে সংবিধানে সরকার আবার ফিরে যেতে যাচ্ছে, সেখানেও নৃ-জাতি গোষ্ঠীর মানুষের ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি তথা সমধিকার সম্বন্ধে স্পষ্টত তেমন কোনো ধারা-উপধারা নেই। অন্যদিকে এদেশের সুধী সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাশীল কর্তাব্যক্তিরা- যারা শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন তথা বাণী কপচান তারা যতটা আগ্রহী স্প্যানিশ, ফরাসি, লাতিন, গ্রিক, ইতালিয়ান, ইংরেজি, আরবি ও ফরাসি’র শিল্প ও সংস্কৃতির সমকালীন ও ঐতিহ্যগত খোঁজখবর নিয়ে, আবার তারা ততটাই উদাসীন বাড়ির কাছের পড়শির শিল্প ও সংস্কৃতির বিষয়ে। মাঝে মাঝে অবশ্য সভা সেমিনারে তারা বক্তব্য রাখেন। তৃপ্তির ঢেঁকুর বলতে এতটুকুই। আমাদের দেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এসব জাতি গোষ্ঠীর আছে নিজস্ব ঐতিহ্য-পুরাণ, কিংবদন্তি-রূপকথা, যা সমৃদ্ধ করতে পারে আমাদের সাংস্কৃতিক রুচিকে।

পাবর্ত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ৪৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ১৫ লক্ষ। এ কথা দুঃখজনক হলেও সত্য_সংবিধানে তাদের তেমন কোনো গুরুত্ব নেই_কিংবা অন্যভাবে বললে স্বীকৃতি নেই। আদমশুমারি-অনুসারে ১৯৯১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি নৃতাত্তি্বক জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে_চাকমা ২, ৩৯, ৪১৭ জন, মারমা ১,৪২,৩৩৪ জন, ত্রিপুরা ৫২,৯৪২ জন, ম্রো ২২,১৬৭ জন, তঞ্চংগ্যা ১৯,২২১ জন, বম ৬,৯৮৭ জন, পাংঘোয়া ৩,২২৭ জন, চাক ২,০০০ জন, ঘিয়াং ১৯৫০ জন, খুমী ১,২৪১ জন এবং লুসাই ৬৬২ জন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৯টি জাতিসত্তার মোট জনসংখ্যা এক লক্ষেরও নিচে। ভাষা নিয়ে সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, যে ভাষার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ লক্ষের নিচে তারা হারিয়ে যাবে বিলুপ্তি শব্দের মাঝে। পৃথিবীর মোট ভাষার অর্ধেক আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে হারিয়ে যাচ্ছে ১২টি ভাষা। পাশাপাশি তাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী আসন করে নিচ্ছে।

সময়ে বন্দি কলরবের মাঝে কখনো কখনো খরা, বন্যা, গোর্কি, সুনামি, ভূমিকম্প, অগ্নু্যৎপাত, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, গণহত্যাজনিত দুর্ভোগ এবং অন্যান্য দুর্গতির জন্য হঠাৎ একটি ভাষাগোষ্ঠী লোপ পেয়ে যেতে পারে। ব্যাপক দেশত্যাগ কিংবা অন্যদেশ থেকে শরণার্থী বা অভিবাসীদের সংস্কৃতির বিড়ম্বনা বৃদ্ধি পেতে পারে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আগমনে-স্থানীয় সংস্কৃতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ইউরোপে উপনিবেশ পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান ভাষা ছিলো ২৫০টি। শত শত আঞ্চলিক ভাষার মাঝে বর্তমানে সেখানে ১৭টি নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি বেঁচে রয়েছে। সাধারণত তার ধর্ম ও ভাষার সঙ্গে নিজের স্বরূপ নির্ণয় করে থাকে। একটি ভাষার মৃতু্য হলে একটি সংস্কৃতির মৃতু্য ঘটে। সংস্কৃতির বাহক হচ্ছে ভাষা। ভাষার মৃতু্য হলে সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় সেই ভাষায় রচিত কাহিনী, গল্প, রূপকথা, কিংবদন্তি, ছড়া, কবিতা, গান, ইতিহাস, ঐতিহ্যসহ সবকিছু।

বাংলাদেশের সংবিধানে ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে উলেস্নখ করা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। দেশে বসবাসকারী অন্য কোনো সম্প্রদায়ের কথা এখানে উলেস্নখ করা হয়নি। অথচ বাংলা ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামেই রয়েছে ১১টি নৃ-জাতিগোষ্ঠীর ভাষা। অন্যদিকে কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বড়গুনায় বসবাস করে ‘রাখাইন’ সম্প্রদায়। তাদের রয়েছে নিজস্ব বর্ণমালা ‘বর্মী’। একই ভূখণ্ডে বসবাস করলেও নিজস্ব সংস্কৃতিকে তারা সঠিকভাবে উদযাপন করতে পারছে না। এখানে হুমকি শব্দটি ব্যবহার না করে বরং বলা যায়, করাল কালের রক্তচক্ষু। অথচ এ সকল আদিবাসী জাতিসত্তার রয়েছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আদিবাসীদের মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। সংবিধানের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক শিরোনামে বলা হয়েছে ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন।’ এখানে শুধুমাত্র জাতীয় ভাষা, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির কথা উলেস্নখ করা হয়েছে। সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য সম্বন্ধে তেমন কিছু বলা হয়নি। ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রণীত চুক্তির ২৭ ধারায় বলা হয়েছে ‘যদি কোনো দেশে আঞ্চলিক, ভাষাভিত্তিক বা ধমর্ীয় এমন জনগোষ্ঠী থাকে, যারা এই দেশে সংখ্যালগিষ্ঠ, তবে তাদের ক্ষেত্রে এই অধিকার অস্বীকার করা যাবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি উপভোগ, নিজস্ব ধর্ম অবলম্বন ও প্রচার এবং নিজস্ব ভাষা ব্যবহারের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা যাবে না।’

১৯৯৫ সালের আদিবাসীদের অধিকারসমূহের খসড়া ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, ‘সংস্কৃতি ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধিতে বিভিন্ন জাতি যে অবদান রাখে তা মানবজাতির এক যৌথ অধিকার।’ ২০০১ সালের ইউনেস্কো জেনারেল কনফারেন্সের ৩১ তম অধিবেশনে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর একটি সর্বজনীন ঘোষণা গৃহীত হয়। আবার ২০০২’এর ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫৬/১৬২ নম্বর প্রস্তাবটি পাস করিয়ে ভরসা দেয় যে, জাতিসংঘ লক্ষণ ও সংরক্ষণের উপায় হিসেবে বহুভাষিতা অসুরণ করবে।’ এতোকিছুর পরও শুধুই হোঁচট খাচ্ছে নৃতাত্তি্বক জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি। ইতিহাসের বিবর্তনে নানা সম্প্রদায়, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সম্মিলন ঘটেছে বাংলাদেশের অধীন ১৪৪৫ বর্গকিলোমিটার অধু্যষিত সুন্দর বনাঞ্চলে। দূর অতীতে পুন্ড্রু, পৌন্ড্র, ক্ষত্রিয় শ্রেণীভুক্ত কৌম জীবনযাত্রার মানুষের সংখ্যাধিক্য ছিলো এখানে। ক্রমে খাদ্যান্বেষণে, বসবাসের সন্ধানে, লুটপাটের লোভে, ধর্ম প্রচারের অজুহাতে এবং শাসন-শোষণের নিমিত্তে এখানে বসত গড়ে তোলে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, মগ-ফিরিঙ্গি ও নানা শ্রেণীর তফসিলি জাতি-উপজাতি। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো বেদে-বাউল, ডগবানিয়া, মুণ্ডা বা বুনোরা। পাশাপাশি সমাজ বিন্যাস ঘটে উচ্চ ও নিম্ন বর্ণের হিন্দু, মুসলমান, রাজন্য, জোতদার, মহাজন, প্রান্তিক চাষি ও নানা পেশাভিত্তিক শ্রেণীর মানুষের। তারই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের বিচিত্র সার্বভৌম পরিকাঠামোর ওপর গড়ে ওঠে মিশ্র লোকজীবনের সংস্কৃতি। আদব আদি মুণ্ডারা যে ভাষা, ধর্ম, বিশ্বাস ও সংস্কারের সংস্কৃতি বয়ে এনেছিল, আজকের মুণ্ডা সম্প্রদায়ের মাঝে তার ছিটেফোঁটা রয়েছে। আর হারিয়েছে তাদের আদিম স্বভাব, ভাষা, ধর্ম ও পূজা-পার্বণ। কালে কালে গ্রহণ করেছে হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি। সুন্দরবনে মুন্ডারা আজ পরিণত হয়েছে অপজাত সম্প্রদায়ে। তাদের দেখভাল করার যেমন কেউ নেই তেমনি সমাজেও তাদের অধিকার নেই। এক ভগবান তাদের উপাস্য হলেও হিন্দুদের সব পূজা-আর্চনায় তাদের করতে হয়। শুধু শীতকালের ‘শারোল পূজা’ই একমাত্র নিজস্ব কৃষ্টি হয়ে আজ বেঁচে রয়েছে মুণ্ডাদের মাঝে।

নৃতাত্তি্বক জাতিগোষ্ঠীর সমঅধিকারই নয়, তাদের ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ আরো জোলালো ভাবে করা প্রয়োজন। শুধু রাষ্ট্রের একার এই দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষের উপর এই কর্তব্য বর্তায়। আমরা কখনোই চাই না গ্রেট আন্দামানিজ গোত্রের ভাষা ‘বো’র ন্যায় কিংবা প্রতি বছর হারিয়ে যেতে বসা ১১টি নৃ-জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মতো আমাদের নৃতাত্তি্বক জাতিগোষ্ঠীর ভাষা তথা শিল্প ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাক। শাশ্বত এক সত্য হয়ে এই সকল জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আরো বিকশিত হোক, বাঙালি সংস্কৃতির রুচিতে তারা আনুক নতুনত্ব এই প্রত্যাশা।

সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহময়তা


স্নেহময় অভিভাবকত্ব যৌন-রসাত্মক টাইম
তরুণীর বুকের দুধ শিশুকে খাওয়ানো নিয়ে তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পাওয়া ওই ছবিটি নিয়ে। বিষয়টি স্নেহময় অভিভাবকত্ব হিসেবে ধরে নিলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যত দোষ নন্দ ঘোষ হলে সমস্যা। আর সমস্যাটা হয়েছে প্রকাশ্যে পত্রিকার পাতায় দুধ খাওয়ানের দৃশ্য নিয়ে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে সাহসী স্নেহময় অভিভাবকত্বধারী সেই নারীর নাম লিন গ্রুমেট। বিতর্ক উঠেছে এটা যৌন-রসাত্মক কৌতুকের বলে। কথা উঠেছে বাল্যকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরও বুকের দুধ খাওয়াটা ঠিক কি না।

তিন বছর বয়সী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এক তরুণী। এটাই ছিল এ সপ্তাহের টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ। ‘স্নেহময় অভিভাবকত্ব’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির জন্য তোলা হয়েছিল ছবিটি। আর এটা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা এ ম্যাগাজিনটি। অনেকেই উৎসাহিত করেছেন সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহময়তাকে। আবার অনেকেই প্রকাশ করেছেন ভীত ও সন্দেহমূলক অভিব্যক্তি।

তবে লস অ্যাঞ্জেলেস নিবাসী গ্রুমেট তার তিন বছর বয়সী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিক ও জৈবিক ব্যাপার বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি তার মা তাকে ছয় বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাইয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, মানুষকে বুঝতে হবে যে এটা জৈবিকভাবে খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। মানুষ এটা যত বেশি দেখবে, ততই আমাদের সংস্কৃতিতে এটা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে। আমি এখন তেমনটাই আশা করছি। আমি চাই মানুষ এটা দেখুক।

তবে টাইম ম্যাগাজিনের এ প্রচ্ছদ নিয়ে জোর সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে। এটা যৌন-রসাত্মক কৌতুকের উদ্রেক করবে বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শিশুটি যখন বড় হবে, তখন তাকে অনেক বিদ্রƒপের মুখে পড়তে হবে। বাল্যকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরও বুকের দুধ খাওয়াটা ঠিক কি না, এসব বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। আরকানসাস নিবাসী ছয় সন্তানের জননী ববি মিলার বলেছেন, এমনকি একটা গরুও জানে কখন তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস ত্যাগ করা দরকার। আর প্রচ্ছদটি সম্পর্কে তার অভিমত, ‘এটাকে কেন এখানে আনতে হবে? এটা হাস্যকর।বিপরীতে টাইম ম্যাগাজিনের পক্ষেও দাঁড়িয়েছেন শিশুযতœবিষয়ক কিছু সংগঠন। বেস্ট ফর বেবিস নামের একটি সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেটিনা ফোর্বস বলেছেন, এ প্রচ্ছদটা মূলধারার আমেরিকানদের কিছুটা কম রোগে ভুগতে সাহায্য করবে। নারীরা তাদের যে কোনো বয়সী সন্তানকেই বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। আর এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় এটাই।

দ্য আদার আমেরিকা: ‘দারিদ্রের সংস্কৃতি’


মার্কিন দারিদ্রে্র পুনরাবিষ্কার

বারবারা এরেনরিচ

আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে গরিবরা না হলেও অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সচ্ছল মানুষ জানতে পেরেছিল যে, তাদের মধ্যেও দরিদ্র মানুষ রয়েছে। এই আবিষ্কারের জন্য মাইকেল হ্যারিংটনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। কারণ তার লেখা দ্য আদার আমেরিকা বা অন্য আমেরিকা বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরই শ্রেণীহীন সামাজিক অবস্থা ও সম্পদের সুখসাগরে ভাসতে থাকা একটি জাতি আকস্মিক একটি ধাক্কা খায়। হ্যারিংটনের দেওয়া তথ্য মতে, সে সময় এক-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিকই দারিদ্রে্যর মধ্যে বসবাস করছিল।

এদের বেশির ভাগই নগরকেন্দ্রের কৃষ্ণাঙ্গ, পাশ্চৎপদ শ্বেতাঙ্গ, খামার শ্রমিক এবং বয়স্ক মার্কিনি।

বইটিতে লেখক দারিদ্র সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন তাতে মনে হয়েছে আরাম আয়েসে থাকা মানুষের জন্যই আরো বেশি আয়েস যোগানো দরকার। বলা হয়েছে দরিদ্ররা অন্যান্য মার্কিনির চেয়ে একেবারেই আলাদা। আর এই আলাদা হওয়ার কারণ যে কেবল তারা বঞ্চিত, পশ্চাৎপদ, নিম্নমানের ঘরবাড়িতে বসবাস করে কিংবা নিম্নমানের আহার গ্রহণ করে থাকে তা নয়। তাদের আবেগ-অনুভূতি, ভাবনা-চিন্তাও আলাদা ধরনের। তাদের জীবনযাত্রার মধ্যে স্থূলতা আছে এবং রয়েছে একটা বেপরোয়াভাবও।

হ্যারিংটনের ভাষায়, ‘দরিদ্রদের নিজস্ব একটি ভাষা আছে, মনস্তত্ত্ব আছে এবং ভিন্ন ধরনের একটি বিশ্ববীক্ষাও পোষণ করে তারা। দরিদ্র হওয়ার অর্থই হলো সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকেপড়া এমন একটি সংস্কৃতির মধ্য বেড়ে ওঠা যা সমাজের মূল ধারা থেকে একেবারেই আলাদা।’ তবে ১৯৬৩ সালে আমি যখন প্রথম তার বইটি পড়ি আমি কিন্তু সেখানে আমার পূর্বপুরুষ এবং আমার পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই আলাদা মানুষের অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। একথা ঠিক যে, মধ্যবিত্তের মানদন্ডে বিচার করলে তারা হয়তো কিছুটা বিশৃঙ্খল জীবন যাপন করেছে, পানে আসক্ত থেকেছে, ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়েছে কিংবা বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তারাও যে পরিশ্রমী ছিল, তাদের মনেও যে উচ্চাশা উঁকি দিতো তা কিন্তু হ্যারিংটন উল্লেখ করেননি। এসব ভালো গুণ তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছলদের জন্যেই তুলে রেখেছেন। তার মধ্যে দরিদ্রদের যা আলাদা করে চিহ্নিত  করে তা হলো ‘দারিদ্র্য সংস্কৃতি’। এই ধারণাটি তিনি নৃতত্ত্ববিদ অসকার লুইসের মেক্সিকোর বস্তিবাসীদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপ থেকে ধার নিয়েছিলেন। এই ধারণাটির সংযোজন বইটির একটি তাত্ত্বিক মূল্য তৈরি করেছে। তবে এখানে ‘আমরা’ শব্দটি দিয়ে মার্কিন সমাজের সেই সব সচ্ছল বিত্তবানদের কথাই বলা হয়েছে, যারা সবসময় গরিব জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য লাঘবের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।

কিন্তু একটি বিষয় বোঝা উচিত যে, এই দারিদ্রে্যর মধ্যে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যেগুলো কেবল সরাসরি সম্পদ পুনর্বণ্টনের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব নয়। একবার ভাবুন সেই ব্যক্তিটির কথা যিনি একজন ভিক্ষুককে দেখে দয়াপরবশ হয়ে পড়েন কিন্তু তার হাতে একটি কানাকড়িও ছুড়ে দেন না। কারণ তার ধারণা টাকা-পয়সা হাতে গেলেই সে তা মদের পেছনে খরচ করে ফেলবে। হ্যারিংটন অবশ্য তার গ্রন্থের কোথাও একথা বলেননি যে, গরিব মানুষ তাদের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের কারণেই দরিদ্র। তবে ধারণাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরির দরজাটি তিনি খুলে দিয়েছিলেন। এরই সূত্র ধরে হ্যারিংটনের একসময়কার আড্ডার সঙ্গী ড্যানিয়েল প্যাট্রিক মইনিহানের একটি প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে রোনাল্ড রিগান প্রশাসনের উপদেষ্টা এডওয়ার্ড-সি ব্যানিফিল্ড মন্তব্য করেছেন, ‘নিম্নশ্রেণীর একজন মানুষ মুহূর্তের হিসেবে বেঁচে থাকে। শরীরিক প্রবণতাই তার আচরণের  নিয়ামক। এ কারণেই সে এতটা নিঃস্ব। যেটা তার ভোগে আসে না সেটাকেই সে অর্থহীন মনে করে। সে ভঙ্গুর প্রকৃতির এবং তার আত্মশক্তি নিঃশেষিত। রিগান আমলেই ‘দারিদ্রের সংস্কৃতি’ রক্ষণশীল আদর্শের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে। এই আদর্শ মনে করে যে, কম মজুরি কিংবা কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতার কারণে দারিদ্রে্যর সৃষ্টি হয় না। বরং দারিদ্রে্যর কারণ হচ্ছে জীবনের প্রতি খারাপ দৃষ্টিভঙ্গী ও ত্রুটিপূর্ণ জীবনাচরণ। গরিবরা নৈতিকদিক থেকে স্খলিত এবং উচ্ছৃঙ্খল, নেশা ও অপরাধের প্রতি আসক্ত। তারা কৃতজ্ঞতাবোধ বিবর্জিত। টাকা-পয়সা দিয়ে তাদের মোটেই বিশ্বাস করা যায় না।

তাদের বৈষয়িকভাবে সাহায্য করা মানেই হচ্ছে তাদের নৈতিক স্খলনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

এ কারণেই ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলেরই মনে হয়েছে, দারিদ্র্যময়, বরং দারিদ্রে্যর সংস্কৃতিই দূর করতে হবে। ১৯৯৬ সালে ক্লিনটন প্রশাসন এ লক্ষ্যে একটি আইনও প্রণয়ন করেছিল যার মাধ্যমে গরিবদের জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। একদশক সময় পেরিয়ে আজকের দিনেও এবং মার্কিন অর্থনীতির নিম্নগতির কারণে মধ্যবিত্তরা ক্রমশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও ‘দারিদ্র্য সংস্কৃতি’র ধারণা ও কার্যক্রম অভিন্নই থেকে গেছে। দরিদ্র মানুষকে এখনো সংশোধনের মুখোমুখি হতে হয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় থেকে সুবিধা পেতে হলে তাকে স্বভাব বৈশিষ্ট্য ও মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কারণ দারিদ্র্য সংস্কৃতি তত্ত্ব বলছে, গরীবরা স্বভাবতই অপরাধ প্রবণ। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে কোনো ধরনের সুবিধা পেতে এমনকি তাদের আঙ্গুলের ছাপ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়। তাদের কোনো অপরাধে জড়িত থাকার নজির আছে কিনা কম্পিউটার থেকে তাও খুঁজে বের করা হয়। বেকারত্ব এখনো দারিদ্রে্যর একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গ রাজ্যে বেকারদের চাকরি দেওয়ার আগে মূত্রপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনি এবং নেট গিনরিচও বলেছেন, একজন বেকারকে চাকরি পেতে হলে কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলায় থেকে কোনো সুবিধা পেতে হলে তাকে অবশ্যই মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

মাইকেল ক্যারিংটন যেই ‘দরিদ্র সংস্কৃতি’কে জনপ্রিয় করার জন্য এত চেষ্টা করেছিলেন সেই ‘দারিদ্র্য-সংস্কৃতি’কে এখন যেভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা দেখে তিনি কী বলতেন? ১৯৮০-এর দশকে তার সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তিনি কোনোদিনই ‘দারিদ্রে্যর সংস্কৃতি’ নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

আজ পঞ্চাশ বছর পর নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য আবিষ্কার করতে হলে শহরতলীর দরিদ্র মানুষ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক এবং দেশটির বিশাল আকারের খেটে খাওয়া গরিব মানুষের অবস্থা বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদেরও বুঝতে হবে যে, সাংস্কৃতিক বিচ্যুতি কিংবা চারিত্রিক ত্রুটিই দারিদ্রে্যর জন্মদাতা নয়। দারিদ্র্য হচ্ছে অর্থের অভাব।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

http://budhbar.com/?p=8200
Cheap International Calls

Remembering the Other America


March marks the 50th anniversary of one of the most important books ever published about poverty in the United States. Michael Harrington, born and raised in St. Louis, wrote of a population invisible to most Americans.

“These, then, are the strangest poor in the history of mankind,” Harrington wrote in The Other America. “They exist within the most powerful and rich society the world has ever known. Their misery has continued while the majority of the nation talked of itself as being ‘affluent’ and worried about the neuroses in the suburbs. In this way tens of millions of human beings became invisible. They dropped out of sight and out of mind; they were without their own political voice.”

Harrington wrote that researchers had concluded that there were 50 million poor living in the United States in the early 1960s, but admitted that he too had trouble believing the figures because they went against the popular perception of the United States as a prosperous society.

Though Harrington sprinkled in policy prescriptions throughout The Other America—mostly calls for a more active federal government—his main goal was to make American poverty visible to a people so removed from its effects that they often thought it had disappeared.

In many respects, he succeeded. The Other America not only became an immediate bestseller, it also had an impact at the highest levels of the government. Both John F. Kennedy and Lyndon Johnson were early readers of the book, and Harrington has often been credited with influencing Johnson’s “War on Poverty.”

Harrington believed that poverty must be at the top of the political agenda and challenged those who argued that American poverty wasn’t comparable to the poverty faced by those in other countries. “What shall we tell the American poor, once we have seen them? Shall we say to them that they are better off than the Indian poor, the Italian poor, the Russian poor? That is one answer, but it is heartless,” Harrington wrote. “I want to tell every well-fed and optimistic American that it is intolerable that so many millions should be maimed in body and in spirit when it is not necessary that they should be. My standard of comparison is not how much worse things used to be. It is how much better they could be if only we were stirred.”

Harrington continued to write books following the publication of The Other America, but none of his subsequent books caught the public’s attention in the same way.  Many of his other books, articles, and lectures dealt with socialism, a political philosophy that he believed offered a corrective to American capitalism, which he thought put too much power in the hands of unelected business leaders.

The Other America remains the St. Louis native’s defining work, and continues to be a touchstone for many who believe the issues of inequality remain invisible. Since its original publication in 1962, more than 1 million copies have been sold.

Not long before he died in 1989, friends and colleagues, including Cesar Chavez and Edward Kennedy, honored Harrington for his commitment to America’s poor at a ceremony in New York.

“I see Michael Harrington as delivering the Sermon on the Mount to American,” then Senator Kennedy said to the assembled. “Among veterans in the War on Poverty, no one has been a more loyal ally when the night was darkest.”

—Jody Sowell, Public Historian

 ***

Other books about poverty with St. Louis connections

The Other American: The Life of Michael Harrington (Maurice Isserman)

This excellent biography of Harrington examines his evolution as a social justice activist and includes details of his personal life, including his early days in St. Louis.

One Nation, Underprivileged: Why American Poverty Affects Us All (Mark Rank)

Mark Rank, a professor of social welfare at Washington University, is one of the country’s preeminent scholars of poverty and inequality. This book is an accessible entry into many of the statistics about American poverty and its wide-reaching effects.

Savage Inequalities: Children in America’s Schools (Jonathan Kozol)

Few have written as urgently about American poverty’s impact on children as has Jonathan Kozol. Kozol visited more than 30 schools, including schools in East St. Louis, for this 1992 examination of inequalities seen in classrooms. Though it is now 20 years old, many of the same issues remain—as Kozol’s later work has proved.

Mapping Decline: St. Louis and the Fate of the American City (Colin Gordon)

This book examines the ways that poverty and urban decline have affected one city—St. Louis. It is a deep examination of the country’s urban crisis through the lens of one city, and is worth a read for the graphics alone.


 

যুদ্ধক্লান্ত জীবনে এতো কবিতা আসে কী করে! ওদের তো দেশ নেই, ঘর নেই, মেঘের মতোই বেসে বেড়ায়, তারপরও এত আনন্দময় কী করে হয় জীবন?


সারা আকাশ আর কালো বোরখা

নু রু ল ক রি ম না সি ম

আরো কয়েকদিন থেকে গেলে হয়তো ভালো হতো। প্রবাসের বন্ধুরাও সেরকম ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওয়াহিদ মাহমুদের মন সাড়া দিচ্ছিল না, তার মন উড়ে গিয়েছিল ঢাকার ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের ছিমছাম একতলা অফিসে, তার একান্ত পৃথিবীতে। টরন্টো থেকে বিমানে উঠলেন আলো-অাঁধারের এক অপরূপ ভোরবেলা। এখন তীব্র শীত নেই। অসম্ভব গরমও নেই। এখন ফুরফুরে বাতাস আর চমৎকার আবহাওয়ার দিন।

সবসময়ই তার বিমানযাত্রা সুপ্রসন্ন হয়। এটা বহুবার ওয়াহিদ লক্ষ করে অভিভূত হয়েছে। এবং যেহেতু সে মার্কসিস্ট, সে তার অজানা ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এবারও জানালার একান্ত পাশের সিট পেল। অন্য সিটগুলোতে তার পাশে বসলো একজন ভারতীয়, একজন আইরিশ। ওই দুজনের আলাপচারিতায় সে জানতে পারল ওরা বিজনেস পার্টনারও আবুধাবির এক কোম্পানির। ওয়াহিদের চিরকালের শখ বিমানের জানালায় বসে মেঘের অনিশ্চিত বিচরণ দেখা। ঠিক যেন জীবনের মতো। মাঝে মাঝে সে অবাক হয়। মেঘেরা যেমন অবয়ব বদলায়, রং বদলায় সেও যদি তেমনটি পারত, জীবন অন্যরকম হতো তাহলে। তার জীবন অনিশ্চয়তার দোলায় কেবলই দুলছে। ভালো চাকরি পেয়েছিল, করেনি। মন্ত্রী ডেকে ব্যবসা দিতে চেয়েছিলেন, কোথায় যেন তার অাঁতে ঘা লাগল কী কারণে, সেই প্রলোভনের ফাঁদে পা দেয়নি। রাজনৈতিক পার্টিতে ডেকেছিল, যায়নি। সৃজনশীল প্রকাশনা আর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি তার প্রিয়তম পেশা। সে সেল্ফ অ্যাম্পলয়েড থাকতে ভালোবাসে। তা ছাড়া আছে বিশাল পৈতৃক সম্পত্তি। সেই উৎস থেকে কম টাকা আসে না প্রতি মাসে! লেবানিজ এয়ারহোস্টেসের সুরেলা কণ্ঠে তার কল্পনা আর ভাবনা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তার প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেল পানীয়ের। কিছুক্ষণ পর হালকা ব্রেক ফাস্ট। সেইসাথে বিশেষ অনুরোধে পানীয় পেল। লেবাননের মেয়েটি সি্নগ্ধ ও মায়াবী, ঠিক তার সেক্রেটারি বীথিকার মতো। হঠাৎ সে কথা মনে হতেই দুষ্ট করে মনটা নিভে গেল। বাইরে তখন সূর্যের আলো হঠাৎ নিভে গেছে, মেঘে মেঘে ধোঁয়াটে হয়ে যাচ্ছে সারা আকাশ। তার ভেতর দিয়ে মেঘ কেটে কেটে এগোচ্ছে ভিনদেশি এই বিমানটি।

বীথিকা হঠাৎ কী এক অজানা কারণে দেশ ত্যাগ করে চলে গেল। শুনেছে লন্ডনে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। তার হাজবেন্ড ভীষণ ভালোবাসত, বলা চলে একটু বেশি ভালোবাসত। সব সময় বাইরের ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে আগলে রাখতে চাইত। একটু বেশি পজিটিভ ছিল। এটা বীথিকার ভালো লাগত না। তাদের কারো বছরের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান নেই। বীথিকার মনে সব সময়ই সন্তানের জন্য একটা হাহাকার ছিল। সব কথা তার বস ওয়াহিদ মাহমুদকে বলত; কিন্তু লন্ডন যাওয়ার কথাটা বলেনি। তার স্বামীও জানতো না ব্যাপারটা। এক ডিভোর্সি বান্ধবী, যে আগেই চলে গিয়েছিল, জানা যায় সমস্ত ব্যবস্থা সেই করেছিল।

সোনালি রংয়ের পানীয় দিয়ে সোনালি চুল দুলিয়ে সি্নগ্ধ সুন্দর এয়ারহোস্টেস চলে গেল। ধন্যবাদ দিয়ে ওয়াহিদ বলল : না, তোমার চক্ষু দুইটি সত্যিই অপূর্ব সুন্দর। ইওর আইস আর বিউটিফুল। মেয়েটি শব্দ করে হাসল। অজস্র চুড়ি যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল। মেয়েটির ভারি নিতম্ব দুলে উঠলো। উদ্ধত বুক যেন তীব্র কটাক্ষ হানলো। মেয়েটি বললো, ‘ইহা আমার চক্ষুদ্বয় নহে, ইহা সুন্দর তোমার দৃষ্টি যা আমাকে দেখে।’ ভোরের চমৎকার আলোর মতো এতক্ষণের জমে থাকা মেঘমেদুর বেদনা উড়ে গেল। তার মনে হলো, এরা কি জন্মগত কবি। যুদ্ধক্লান্ত জীবনে এতো কবিতা আসে কী করে! ওদের তো দেশ নেই, ঘর নেই, মেঘের মতোই বেসে বেড়ায়, তারপরও এত আনন্দময় কী করে হয় জীবন?

বোরখা ও নেকাব

বোরখা ও নেকাব

দীর্ঘ যাত্রা শেষে আবুধাবিতে ট্রানজিট। আধ ঘণ্টার। ওয়াহিদ নামল না। একটি সিলেটি পরিবার তার পাশের সিটে এসে বসলো। ভদ্রলোকের মুখে সামান্য দাড়ি। তার স্ত্রীর সারা শরীর কালো বোরখায় ঢাকা, শুধু চাঁদের মতো অপূর্ব মুখাবয়বটুকু বের করা। এতো সুন্দর মুখ অনেকদিন দেখেনি। বাংলাদেশের মেয়েরাও এরকম সুন্দর ও সি্নগ্ধ হতে পারে, তা ভেবে ভালো লাগে। এয়ারহোস্টেস মেয়েটির চেয়ে সুন্দর ও মায়াবী। চোখ দুটো কালো ও প্রেমময়। ঠোঁট দুটো পেলব, অনেকদিন সম্ভবত সেখানে চুমু পড়েনি। ভদ্রলোক সিলেটি। তিনি নিজে যেঁচে কথা বললেন। স্ত্রী-কন্যার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সব সিলেটিরা রক্ষণশীল নয়, ওয়াহিদের বিস্ময় জাগল। কথায় কথায় ওয়াহিদের বেশ কয়জন সিলেটি বন্ধুদের চিনতে পারলেন ভদ্রলোক। বিমান যাত্রার এই ভাসমান আড্ডা আরো জমে উঠল। ঢাকার স্মৃতি, সিলেটের স্মৃতি, টরন্টোর স্মৃতি_কত ছবি, কত কথা ওয়াহিদের লন্ডনের হারিয়ে যাওয়া যৌবনের দিনগুলো অবচেতনে নক করতে লাগল। এক সিলেটি বাসায় আশির দশকে সে পেয়িংগেস্ট হিসেবে ছিল। এসএসসিতে পড়ত। থাকত দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের বালামের কাছে ফোর্টস্কিউ রোডের একতলা লালইটের ছবির মতো এক বাড়িতে। হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল, দেশ তাকে গভীরভাবে টানল। সে পড়াশোনা অসম্পূর্ণ রেখে চলে এলো বাংলাদেশে। সিলেটি ভদ্রলোকের কোনো কথা তার কানে ঢুকছে না। আর ঢুকবে না পরবর্তী মুহূর্তগুলোতে। সে কোথায় কোন সুদূরে যেন হারিয়ে গেছে। তার আর উদ্ধার নেই, তার আর মুক্তি নেই।

বিমান ঢাকা এয়ারপোর্টের হাইওয়ে স্পর্শ করেছে। সবাই নেমে যাচ্ছে। সিলেটি পরিবারটিও বিদায় নিয়ে নেমে গেল। মহিলা শব্দহীন রহস্যময় হাসলেন। সেও। এখানেই কি সব কিছু শেষ! হঠাৎ সেলফোন বেজে উঠল। মহিলার কল এসেছে। তিনি হেসে হেসে খুব মৃদুস্বরে কী যেন বলছেন। সিলেটি ভদ্রলোক অস্থির, বিরক্ত এবং ক্ষেপে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ওয়াহিদের কাছে এসে অভিযোগ করলেন_অনেকটা সে রকম কণ্ঠ, ‘ওমরাও করাইয়া আনলাম, তবুও মাগির টেলিফোনের অভ্যাস গেল না।’

বিশ্বচরাচরের কোনোদিকে খেয়াল নেই, কালো বোরখা পরা মহিলাটি নিরন্তর কথা বলে যাচ্ছে_যেন এ আলাপচারিতা সহসা শেষ হওয়ার নয়।

—————————————————————————————————————————–

আকাশপথের খাবার : চলছে গবেষণা



বিমানের ভেতরের পরিবেশ কিছুটা ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার মতো। কারণ যখন নাক বন্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তির সমস্যা হয়, স্বাদের অনুভূতিও কমে যায়। কম বায়ুচাপে আকাশপথে কফি খেতে খারাপ লাগে, তবে যাত্রীদের কাছে টমেটোর সস স্বাদু মনে হয়
জার্মানির লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স এবং এর ক্যাটারিং সহযোগী এলএসজি ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটকে অনুরোধ করেছে যে, ১০ হাজার মিটার উঁচুতে কোন ধরনের খাবার ভালো লাগবে এবং কোনটি লাগবে না।

ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, আকাশ ভ্রমণে বর্তমান প্রচলিত খাবার হতে হবে কড়া ধরনের অর্থাৎ ঝালে-মসলায় ভরা যারা আকাশপথে ভ্রমণ করেন তারা প্রত্যেকেই জানেন যে, বিমানের ভেতরের আবহাওয়া এবং পরিবেশটি কেমন থাকে। বিমানের ভেতর আর্দ্রতা থাকে মাত্র ১৫ শতাংশ। বিমানের শব্দে আরোহীদের চারপাশে ঠিক যেন মেলা থাকে এক ধোঁয়াটে সাদা চাদর। আর বায়ুচাপে শরীরের তরল হয় ঊর্ধ্বমুখী। এ রকম পরিস্থিতিতে তৃষ্ণা বেড়ে যায়, শ্বাস কম প্রবাহিত হয় এবং ঘ্রাণশক্তির ব্যাঘাত ঘটে। সম্প্রতি জার্মানির ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বিমানে পরিবেশন করা খাবার সম্পর্কে এক মজার তথ্য প্রকাশ করেছেন। আর তা হলো, আকাশপথে ভ্রমণের সময় বিমানের খাবারে লবণ, ঝাল এবং মসলাযুক্ত খাবার আরও বেশি দরকার। ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. ফ্লোরিয়ান মায়ার এ বিষয়গুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন এবং সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি বলেন, বিমানের ভেতরের পরিবেশটা কিছুটা ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার মতো। কারণ তখন নাক বন্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তির সমস্যা হয়, স্বাদের অনুভূতিও কমে যায়। বায়ুচাপ কমে গেলেও এমনটিই ঘটে।

জার্মানির লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স এবং এর ক্যাটারিং সহযোগী এলএসজি এ কারণেই ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছিল যে, ১০ হাজার মিটার উঁচুতে কোন ধরনের খাবার ভালো লাগবে এবং কোনটি লাগবে না। জানা গেছে, এ গবেষণার জন্য একটি বিমানের সামনের অংশে ৩০ মিটার দীর্ঘ টিউব আকৃতির চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। এই চেম্বারটির ভেতরের বায়ুচাপটি নিয়ন্ত্রিত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। ফ্লোরিয়ান মায়ার এ ব্যাপারে বলেন, এখানে আর্দ্রতার পরিমাণ রাখা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। আকাশে থাকার সময় বিমানের ভেতরে যে পরিবেশটি থাকে, তেমন পরিবেশই তারা তৈরি করেছেন এই চেম্বারটিতে। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়েও এর ভেতরের চাপটি কম রাখা হয়েছে। ভূপৃষ্ঠে বায়ুচাপ থাকে ৯৫০ হেক্টো প্যাসকল, কিন্তু বিমান যখন আকাশে থাকে তখন এর ভেতরের বায়ুচাপটি থাকে ৭৫০ থেকে ৮০০ হেক্টো প্যাসকল। আর এই টিউব আকৃতির চেম্বারটির ভেতরে আকাশ ভ্রমণে বিমানের ভেতরের পরিবেশটি যেমন থাকে, ঠিক তেমন পরিবেশই তৈরি করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে বিমানের আসনগুলো কাঁপে এবং শব্দ হয়, এখানেও একইরকমভাবে কাঁপন এবং শব্দ হয়। শুধু তা-ই নয়, বিমানে দেওয়া খাবারের মেন্যুর মতোই এখানে খাবার দেওয়া হয়। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, আকাশ ভ্রমণে বর্তমান প্রচলিত খাবার হতে হবে কড়া ধরনের অর্থাৎ ঝালে-মসলায় ভরা। ড. ফ্লোরিয়ান মায়ারের মতে, মসলাদার খাবার যেমন থাই বা ইন্ডিয়ান খাবার এ পরিবেশে দারুণ মানানসই হবে। আর এর কারণ হচ্ছে, এই খাবারের স্বাদটি সবসময় এক থাকে। এর মসলাদার ঝাল ঝাল ভাবটি কখনও কমে যায় না। কিন্তু সাধারণ খাবারে বাড়তি মসলা ঢেলে দিয়ে তবেই স্বাদ বাড়াতে হয়। অবশ্য লুফ্থহানসা তার বিমানের খাবারের মেন্যুতে বাড়তি কোনো সুরুয়া জাতীয় খাবার যুক্ত না করলেও এর ক্যাটারিং সার্ভিসটি ইতিমধ্যেই তাদের সরবরাহকৃত ব্রেডরোলে যুক্ত করেছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, আকাশ ভ্রমণে যাত্রীরা টমেটোর সস বেশি খায়। আর কেন তারা টমেটোর সস বেশি খায় এ প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছিলেন গবেষকরা। লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স তার বিমানের খাবারের সঙ্গে বছরে শুধু ১৭ লাখ লিটার টমেটোর সসই সরবরাহ করে থাকে। টমেটোর এই সস একই সঙ্গে লবণ আর ঝালের কাজ করলেও ড. মায়ার বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, বায়ুচাপের সঙ্গে সঙ্গে টমেটোর স্বাদও বদলাতে থাকে। তাই মাটিতে বা ভূপৃষ্ঠে টমেটোর জুসের যে বদনাম রয়েছে সেটির স্বাদই আকাশপথে ভ্রমণের সময় সুস্বাদু হয়ে ওঠে। ড. মায়ার আরও বলেছেন, কম বায়ুচাপের কারণে আকাশপথে কফি খেতে একেবারেই খারাপ লাগে।

যে কোনো ডেজার্টে আরও চিনি ঢেলে তারপর এর মিষ্টি ভাবটা আনতে হয়। অনেক বিমানেই প্যাক করা স্যান্ডউইচ, কিছু মাঝারি ধরনের সাদামাটা খাবার সামান্য পরিবেশন করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন কোনো ঝাল-মসলাদার খাবার কিংবা স্বাদ বাড়ায় এমন মুখরোচক খাদ্য বিমানের খাবার মেন্যুতে যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত খাবারের মেন্যুতে টমেটোর সস বা জুস টিকে থাকছে। আকাশপথে ভ্রমণের নতুন খাবার নিয়ে গবেষকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুব শিগগিরই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে এবং ভোজনরসিকরাও মেপে মেপে কম মসলায় রাঁধা সব খাবারের পরিবর্তে ঝাল ও মসলাদার বিভিন্ন খাবার খেয়ে রসনায় তৃপ্তি আনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রদীপ সাহা

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,