এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন


শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর
শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলো। একই সঙ্গে প্রাইমারি শেয়ারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে প্রদেয় করে ১০ শতাংশ হারে ছাড় (রিবেট) পাওয়া যাবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কালো টাকা বিনিয়োগের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় দুই সপ্তাহ ধরেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে তা দু’বছরের জন্য রাখতে হবে। আগামী এক বছর ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। আর কেউ যদি প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তাহলে প্রদেয় করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রিবেট পাওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত দু’বছরের আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা কালো টাকা তুলে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ২৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিতে পারবেন। পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে রাজস্ব বোর্ড। চলতি মাস থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ থাকবে। এনবিআর জানিয়েছে, কালো টাকা বিনিয়োগ করতে হলে এনবিআরকে একটি নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ওই টাকা বিনিয়োগের আগেই ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ সুযোগ নিতে হলে এনবিআরকে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব দাখিল করতে হবে। শেয়ারবাজারে আগে বিনিয়োগ করা টাকা পুনরায় বিনিয়োগের সুযোগ নেয়া যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক কারণে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই দু’বার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছিল। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণেই সরকারকে শেয়ারবাজারে কালো টাকার সুযোগ দিতে হয়েছে। এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা নেয়ার কথা বলেছে। অথচ বাজেট ঘাটতি পূরণে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সরকার সেটি গ্রহণ করেনি। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের অনাগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে এটি শেয়ারবাজারে স্বল্প মেয়াদে হয়তো প্রভাব পড়বে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। স্বল্প মেয়াদে প্রভাব পড়ার বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি।
প্রসঙ্গত, গত বছর চারটি সেক্টরে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে— বিএমআরই, শেয়ারবাজার, নতুন শিল্প স্থাপন ও রিয়েল এস্টেট সেক্টর। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রায় ৯২২ কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু শেয়ারবাজার থেকে ৪২৭ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার পর ৩৬ ব্যক্তি তাদের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। এ থেকে সরকার প্রায় ৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল।
শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে মাত্র এক বছর। ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে মূলধন কমপক্ষে দুই বছর বাজারে ধরে রাখতে হবে। অর্থাত্ ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত মূলধন বাজার থেকে উঠাতে পারবে না। বিনিয়োগকারী ওই সময়ের মধ্যে শেয়ার লেনদেন করে শুধু মুনাফা তুলে নিতে পারবেন। কিন্তু মূলধন উঠিয়ে নিতে পারবেন না। চূড়ান্ত নীতিমালায় এ ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। এ সুযোগ গ্রহণ করার পর যাতে কোনো ব্যক্তি বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন সেজন্যই এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার ঘোষিত সুযোগটি গ্রহণ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে তিনি কি পরিমাণ অর্থ বৈধ করবেন। যে পরিমাণ অর্থ ঘোষণা করা হবে তার বিপরীতে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এনবিআরের তৈরি করা আলাদা ঘোষণাপত্রে নাম, ঠিকানা, ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বরসহ (টিআইএন) সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি বিও অ্যাকাউন্টের বিবরণী ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। কারণ এর আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তারল্য সরবরাহ না বাড়ালে বাজারের স্থিতিশীলতা টিকবে না। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে ১০ শতাংশ রিবেটের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, সেটি তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিমালা সাপেক্ষে প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। এটি কোম্পানির জন্য ভালো। কারণ আইপিওর চাইতে প্লেসমেন্টে খরচ অনেক কম।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটো বলেন, এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে বেশি মনিটরিং করা হলে প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়তো বিনিয়োগ আসবে না। প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে রিবেটের সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি নট ফেয়ার। সুযোগ দেয়া হলে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে একসঙ্গেই দেয়া উচিত্। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন সেখানে আমলারা নানা রকম শর্ত জুড়ে দেয়ায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হয়তো সফল হবে না।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।


প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশপ্রেম এবং চারপাশের বাস্তবতা

Probashi

প্রবাসী

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রবাসী পক্ষে দেশকে না দেখে কোনো উপায় নেই। প্রথম কথা এই যে, প্রবাসী মাত্রেই স্বদেশবাসী, দেশ তার সঙ্গে সঙ্গে থাকে, স্মৃতিতে জ্বলে, অনুভবে লুকিয়ে রয়, দৃষ্টিভঙ্গিতেও ধরা পড়ে। দেশে বাস করে দেশকে উপেক্ষা করা বরং সহজ, প্রবাসে থেকে দেশকে না দেখার তুলনায়। দ্বিতীয় সত্য এই যে, বিদেশে এসে খোঁজ পাওয়া গেছে নতুন আলোর। খোঁজ পাওয়া নয় তো, অনেক ক্ষেত্রেই আলোটা সঙ্গী হয়ে থাকে সর্বক্ষণ। সে আলো দেশকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।

তৃতীয় ঘটনা এমনতর যে, ভালো দৃশ্য যেমন তেমন, খারাপ দৃশ্য চোখ কাড়ে না হয়তো কিন্তু চোখে টেনে নেয় ঠিকই। ফুলের টব ও আবর্জনার বালতি পাশাপাশি থাকলে আবর্জনাই দেখি প্রথমে। দৃশ্য তো আছেই; গন্ধটাও কম নয়। দেশে ফিরলে প্রবাসী প্রথমে যা দেখে তা হলো ভিড়। আগেও ছিল, কিন্তু সে ভিড় আরো বেড়েছে। উপচে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে দেখা হয় অরাজকতাও। নানা ধরনের দুর্বৃত্ত ওঁৎপেতে রয়েছে। ধরবে, জব্দ করবে, ঠকাবে।

কোনো মতে পথে বের হয়ে আসতে পারলে দেখবে সে বৈষম্য। বৈষম্য পুরাতন ব্যাপার, কিন্তু তার মনে হবে যে, সেটা বেড়েছে। সত্যি সত্যি তো বেড়েছে, না দেখে উপায় কী। এই বৈষম্য রাস্তায় চোখে পড়বে, নিজের ঠিকানায় পৌঁছলেই টের পাওয়া যাবে। পরিবার ভেঙে গেছে, ক্ষুদ্র এক অংশ ওপরে গেছে উঠে, অপরাংশ, সেটাই বড়, নেমে গেছে নিচে। দেখবে সে তথ্যপ্রযুক্তির প্রাচুর্য ঘটেছে। মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, বিদেশে যা দেখেছে, এখানেও পাবে দেখতে।

কিন্তু এদের প্রাচুর্য অভাব দূর করেনি মানুষের, যা করেছে তা হলো বৈষম্য বৃদ্ধি। অন্তর্গত বৈষম্যকে আরো প্রকটিত করে তুলেছে। না দেখে উপায় থাকবে না। সর্বত্র ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় চলে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে, এ খবর জানা আছে প্রবাসীর। দেখবে সে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা পেতে হলে যেতে হবে প্রাইভেট ক্লিনিকে। দেখবে সে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সঙ্কুচিত, প্রাইভেট কারের দাপটে। আর সেই সব গাড়ি যে পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ছে তা শারীরিকভাবে পর্যুদস্ত করে দেয় মানুষ ও গাছপালাকে।

বিদেশে প্রবাসীদের জন্য সমস্যা মাতৃভাষা চর্চা করা। এখানে এসে দেখবে ধনী ঘরের ছেলেমেয়েরা মাতৃভাষা ভুলতে চলেছে। এ কেমন ঘটনা, ভাববে সে। বিদেশে আমরা আতঙ্কে থাকি মাতৃভাষা ভুলে যাব বলে, আর এখানে দেখেছি মাতৃভাষা ভোলা যায় কী করে তার জন্য জীবনপণ চেষ্টা। শিক্ষার প্রধান যে ধারা সেই বাংলা মাধ্যমিক ব্যবস্থায় দেখবে সে যে নকল বেড়েছে পরীক্ষায়। শুনবে শ্রেণীকক্ষ থেকে পড়াশোনা উঠে গেছে; যা হওয়ার হয় কোচিং সেন্টারে। প্রবাসীরা দেখেছে পুঁজিবাদী বিশ্বে নৈতিকতার প্রশ্নটি বড় জরুরি হয়ে উঠেছে। পুঁজিবাদীরা নানা অপকর্ম করে, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কোনো প্রকার সামাজিক দায়িত্ব নিতে চায় না। প্রবাসী বাঙালি কেউ কেউ ভাবে প্রতিকার রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষায়। কিন্তু প্রবাসী জানে সে শিক্ষা স্কুল শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না, বড়জোর পরিপূরক হওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রবাসী দেখবে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার বেড়েছে; দেখে সে চিন্তিত হবে।

Probashi

লস এঞ্জেলেস এ প্রবাসীদের মেলা


শিক্ষা তো শিক্ষার্থীকে আধুনিক করবে। তাকে দক্ষতা দেবে, বাড়াবে তার মানমর্যাদা। এ কথা তো সত্য, মাদ্রাসাতে প্রধানত যায় গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরাই। কেননা, সেখানে খরচা কম। আর যায় কিছুটা অবস্থাপন্ন ঘরের বুদ্ধিবৃত্তিতে কম অগ্রসর সন্তানরা। তারা সেখানে গিয়ে যে শিক্ষা পায় তাতে তাদের জাগতিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না, বরং আরো খারাপ হয়, তাদের শিক্ষা অর্থনৈতিকভাবে তাদের এগিয়ে দেয় না। প্রবাসীর চোখে এটা ধরা পড়ে বেশ সহজেই যে, গরিব ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসা শিক্ষা দেয়া আসলে গরিব মানুষকে গরিব করে রাখার ষড়যন্ত্র। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় এটা যে, গরিব টেরই পায় না যে এটা তার সঙ্গে শত্রুতা মাত্র, সে ভাবে তার উপকার করা হচ্ছে, তাকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী দেখবে এই বিপরীত ঘটনাও যে, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য যারা উচ্চ হারে সরকারি ব্যয়ের বরাদ্দ দেয়, তাদের কোনো সন্তান-সন্ততি মাদ্রাসায় পড়ে না।

প্রবাসীর মনে এই দুশ্চিন্তা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পীড়াদায়ক হয়ে দেখা দেবে যে, এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে কিনা। এর ঐক্যটা কোথায়? না, ঐক্য সে খুঁজে পাবে না। দেশপ্রেম সে প্রবাসীদের মধ্যে যতোটা দেখেছে, দেখে উৎফুল্ল হয়েছে, দেশে ফিরে অনেক বাঙালির মধ্যেই তা দেখতে পাবে না, না পেয়ে দমে যাবে। টের পাবে সে যে, স্বদেশীদের অনেকেই তাকে ঈর্ষা করছে। বলছে খুব ভালো আছো ভাই। কিভাবে যাওয়া যায় তার ফন্দি-ফিকির তারা জানতে চাইছে। ধাক্কা খাবে প্রবাসী এটা দেখে যে, সে যাদের ঈর্ষা করে তাদের কাছেই সে পাত্র হচ্ছে ঈর্ষার। তাতে তার ব্যক্তিগত অহমিকা বাড়ছে ঠিকই কিন্তু সমষ্টিগত ভবিষ্যৎটা তার কাছে উজ্জ্বল মনে হবে না।

সবাই বলবে দেশে নিরাপত্তা নেই। সরকার যে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অস্ত্র ও বোমার ব্যবহার বাড়ছে। এমন জিনিস আগে এ দেশে ছিল না। অপরাধী ধরা পড়ছে না। আর ধরা পড়ছে না বলেই অপরাধ বাড়ছে। আসল অপরাধ সুযোগ প্রাপ্তরাই করে থাকে। করে ক্ষমতার ছত্রছায়ায়। আর সে ক্ষমতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি দলের। সন্ত্রাস মূলত রাজনৈতিক এবং তা ঘটে রাজনীতির স্বার্থে এবং পৃষ্ঠপোষকতায়। ভাড়াটে খুনিও পাওয়া যাচ্ছে অল্প দামেই। পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে এ দেশের মানুষের কখনই কোনো আস্থা ছিল না। ভয় ছিল। কিন্তু সেই আস্থাহীনতা ও ভীতিও এখন যে পর্যায়ে গেছে সেটা আগে কখনো দেখা যায়নি।

প্রবাসী শুনবে কৃষকের দুর্দশার কথা। ফসল খারাপ হলে কৃষকের মাথায় বাজ পড়ে। সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু শুনবে সে যে বাম্পার ফসল হলেও কৃষকের সমূহ সর্বনাশ। টমেটো পচনশীল। তা ধরে রাখা যায় না। সেজন্য উত্তরবঙ্গে এমনও ঘটনা ঘটেছে যে এক মণ টমেটো বিক্রি করে কৃষক ১ সের চাল কিনে ঘরে ফিরেছে। বোরো ধান খুব ফলেছে। তাতে কৃষক বসে গেছে মাথায় হাত দিয়ে। যে ধান তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এই খরচের মধ্যে কৃষকের শ্রমের হিসাবটা নেই। ব্যাপার দাঁড়াচ্ছে এই যে, কৃষক যদি নিজের ক্ষেত্রে ধান না চাষ করে অন্যের ক্ষেত্রে দিনমজুরি খাটতো তাহলে তার উপকার হতো বেশি। খাদ্যে গর্বিত স্বয়ংসম্পূর্ণতা শীর্ণ কৃষকের দীর্ঘশ্বাসে পুষ্ট বটে।

লিটল বাংলাদেশ

লস এঞ্জেলেস এ লিটল বাংলাদেশ


প্রবাসী শুনতে পাবে এবং দেখবেও যে, দেশের নদী-খাল, বিল, পার্ক, খোলা মাঠ সব ব্যক্তিগত হয়ে গেছে। তার জানা আছে এটা যে, একাত্তর সালে এ দেশে হানাদাররা এসেছিল বাইরে থেকে। তারা ছিল শত্রু, তাদের আচরণ ছিল দৈত্যের মতো। তারা মানুষ মেরে, বাড়িঘর পুড়িয়ে, ধর্ষণ করে, সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার এসে দেখবে সে যে, বিদেশি হানাদাররা গেছে চলে ঠিকই, কিন্তু দেশী হানাদাররা তৎপর হয়ে উঠেছে মহোৎসাহে, তারা দৈত্য নয় হয়তো তবে রাক্ষস ও শৃগাল বটে যা পায় খেয়ে ফেলে এবং খাওয়াতে কোনো বিরতি নেই, ক্লান্তি নেই। দেখতে পাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। বৃদ্ধি করা উচিত ছিল রেল লাইন, সেটা এক ইঞ্চি বাড়েনি বরং কমেছে। বাড়ানো উচিত ছিল নৌপথের সুবিধা। সেটা এক তিল বাড়েনি। বেড়েছে বাস, সড়ক ও সড়কের দুর্ঘটনা। সড়ক নির্মাণ করলে সুবিধা ঠিকাদারদের, সুবিধা বাস-ট্রাক মালিকের। সুবিধা ওসবের বিদেশি বিক্রেতার স্থানীয় এজেন্টের। সেই সুবিধারই পাকা বন্দোবস্ত মানুষের মৃত্যু বিনিময়ে।

বিদেশ থেকে প্রবাসী শুনে এসেছে যে, বাংলাদেশ গ্যাস ও তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু তাতে বাংলাদেশের বিপদের আশু সম্ভাবনা। কেননা, তা বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির কাছে। তারা আমাদের গ্যাস ও তেল তাদের নিজেদের স্থির করা দামে কিনবে এবং পরে তা আন্তর্জাতিক দরে তাদের কাছ থেকেই আবার আমরা কিনে নেব। অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্য। সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কার অবস্থা।

সমুদ্র বন্দর হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। বাংলাদেশে বন্দর বলতে আসলে একটাই। চট্টগ্রামে। প্রবাসী শুনবে সেটা ধ্বংসের ব্যবস্থা হচ্ছে বিদেশীদের পাল্টা বন্দর তৈরি করার সুযোগদানের মাধ্যমে। কারা দিচ্ছে? আবার কারা, ওই দেশী লুণ্ঠনকারীরা। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদদৌলা লড়েছিলেন উপনিবেশবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তারপর ব্রিটিশ শাসনকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। ব্রিটিশ গেছে, কিন্তু উপনিবেশ যায়নি। যে জন্য পাকিস্তানি শাসন আমলে আমাদেরকে লড়াই করতে হয়েছে। আজকে দেশ স্বাধীন। কিন্তু প্রবাসী দেখবে মনুষের মুক্তি তো দূরের কথা দেশের স্বাধীনতাও আসেনি। লগ্নিপুঁজি ও মুক্তবাজার দেশ দখল করে ফেলেছে। ফলে বড় রাষ্ট্র ছোট হয়েছে ঠিকই কিন্তু রাষ্ট্রের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার মতাদর্শ ও সংগঠন দুটোই পুঁজিবাদী ও আমলাতান্ত্রিক। ব্রিটিশ আমলেও এ রকম ছিল, পাকিস্তান আমলেও তাই, এখনো অধিকাংশ সেই রকমই। পরিবর্তন যা তা নামে।

ব্রিটিশ গেছে, পাঞ্জাবি গেছে, এখন এসেছে বাঙালি। বাঙালি শাসক আগের শাসকদের মতোই লুটপাট করে। তবে একটা তফাৎ আছে, আগেকার শাসকরা জানতো তারা বিদেশি, তাই অল্প হলেও ভয়ে ভয়ে থাকতো, এখনকার শাসকদের সেই ভয়টা নেই, কেননা তারা স্বদেশী। এরা লুণ্ঠন করছে আরো নির্মমভাবে। তাদের জন্য দায় নেই কোনো জবাবদিহিতার এবং অবাধে এই লুণ্ঠনই হচ্ছে তাদের রাজনীতি। যে জন্য সর্বত্র এমন নৈরাজ্য, নিরাপত্তার এমন অভাব।

নির্বাচন আসলে হচ্ছে দুইদল ডাকাতের মধ্যে লড়াই। তাই তো নির্বাচন আসছে দেখলে মানুষ কিছুটা ভীত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের যে প্রস্ত্ততি তাতে উলুখাগড়াদেরই বিপদ। কে জিতবে, কে হারবে তাতে জনগণের কিছু আসবে যাবে না। তাদের অবস্থা আরো খারাপ হতেই থাকবে। লুণ্ঠনকারীরা তাদের রেহাই দেবে না। প্রবাসী যেটা দেখতে না পেয়ে পীড়িত হবে তা হলো প্রতিরোধ। লুণ্ঠন ব্রিটিশ আমলে ছিল, পাকিস্তান আমলেও ছিল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধও ছিল। এখন সেটা নেই। হতাশার কারণ রয়েছে সেখানেই। অনুৎপাদক লুণ্ঠনকারীরা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকে। এ দলে তারা, ও দলেও তারাই। জনগণ কোনো বিকল্প পাচ্ছে না। লুন্ঠনের বাইরে কোনো আদর্শবাদিতা নেই। প্রবাসী দেখবে এটা। দেখে দুশ্চিন্তায় পড়বে। প্রতিরোধ যে একেবারেই নেই তা অবশ্য নয়। আর শুনবে সে এবং আশা করবে যে প্রতিরোধটা শক্তিশালী হোক, মানুষের মুক্তির যে রাজনীতিটা সামনে আসুক। এই রাষ্ট্রের চরিত্র বদল ঘটুক এবং রাষ্ট্রের আদর্শগত সাংগঠনিক বিন্যাসের পরিবর্তন মানুষকে মাুনষের মতো বাঁচতে দিক।

মূল প্রয়োজন ওই আদর্শবাদী রাজনীতির। দেশের মানুষ সেটা গড়ে তুলতে পারছে না। নেতৃত্ব আসবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকেই কিন্তু সে মধ্যবিত্তকে শ্রেণীচ্যুত হয়ে জনগণের সঙ্গে এক হতে হবে। জনগণের স্বার্থকে প্রধান করে তুলতে হবে। তার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ আবশ্যক। প্রবাসী বুঝবে সেটা। চাইবে ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে। যতোটা চাইবে ততোটাই ভালো। তার বাইরে তো কেবলই হতাশা।

দেশে এখন দেশপ্রেমের খুবই অভাব। প্রবাসী বাংলাদেশী পীড়িত হয়, দেশে ফিরে যখন সে অভাব দেখে এই দেশপ্রেমের। প্রবাসী মাত্রেই যে দেশপ্রেমিক তা নিশ্চয়ই নয়। কেউ কেউ আছে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু অধিকাংশই দেশের কথা ভাবে, দেশের জন্য তাদের মন কাঁদে, দেশের দুর্দশা দেখে তারা পীড়িত বোধ করে। দেশের রাজনীতিতে মীর জাফরদের উৎপাতে প্রবাসী টের পায়, টের পেয়ে তার দুঃখ বাড়ে। কিন্তু প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।প্রবাসীদের পক্ষে ভাবার বিষয় হচ্ছে এ লড়াইয়ে তারা কোনো ভূমিকা নিতে পারে কিনা। কেবল টাকা পাঠালেই যে দেশ বদলাবে না তা তো বোঝাই যাচ্ছে।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush

লিটল বাংলাদেশ লস এঞ্জেলেস এর প্রথম অফিশিয়াল কার্য্যক্রমে অভূতপূর্ব সাড়া।

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা! একটি ব্যক্তিগত খতিয়ানঃ


শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

আরিফুল ইসলামঃ পুঁজিবাজারে আসা নতুন বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণরূপে অথরাইজড নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কারণ নতুন বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশেরই বাজার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা অথরাইজডদের পরামর্শ অনুযায়ী বিনিয়োগ করছেন বলে বাজার সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাউজগুলোতে নতুন মুখের আনাগোনা এবং অথরাইজডদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ার প্রবণতা বাড়ছে।

এ ব্যাপারে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী বলেন, পুঁজিবাজার একটি বিশাল ড়্গেত্র। এ সম্পর্কে জানার কোনো শেষ নেই। আমরা বেশকিছু দিন ধরে বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পরও নিজেদের অভিজ্ঞ দাবি করতে পারি না। আর নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য তো এটা গভীর সমুদ্র, যেখানে সাঁতার শিখতে হলে হাবুডুবু খেতেই হবে। যে কারণে নতুন বিনিয়োগকারীরা অথরাইজডদের দেয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করে থাকেন। বিনিময়ে অথরাইজডদের কমিশন নেয়ার সংস্ড়্গৃতিও গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। তবে অনেক ড়্গেত্রে অনভিজ্ঞ অথরাইজডদের কবলে পড়ে নতুন বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ড়্গতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ব্যাপারে নতুন বিনিয়োগকারী আনোয়ার বলেন, মার্কেট সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকায় আমি কখনো আইপিও আবেদন করিনি। কিন্তু আমি শেয়ার ব্যবসায় আগ্রহী। এ জন্য আমাকে অথরাইজডদের সাহায্য নিতে হয়। হাসান নামে অপর এক বিনিয়োগকারী বলেন, বেকারত্ব দূর করার জন্য আমি শেয়ার ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। কিন্তু মার্কেট সম্পর্কে ধারণা না থাকায় আমি পুরোপুরি অথরাইজড নির্ভরশীল। কারণ আমার শেষ সম্বল নিয়ে শেয়ার ব্যবসায় নেমেছি। আর এর মাধ্যমেই আমাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। তাই লোকসান এড়াতে আমি অথরাইজডদের সাহায্য নিচ্ছি। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিকিউরিটিজ হাউজের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অথরাইজডরা শুধু শেয়ার বাই-সেলের ড়্গেত্রে বিনিয়োগকারীদের অর্ডার অনুসরণ করবে। এছাড়া অন্য দায়িত্ব তাদের হাতে ন্যস্তô করা হয়নি। তবে অনুরোধ এড়াতে না পেরে তাদের অনেক সময় নতুন বিনিয়োগকারীদের কোনো বিশেষ শেয়ার কেনার পরামর্শ দিতেও দেখা যায়। এড়্গেত্রে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই বিচার বিশেস্নষণ করে ওই শেয়ারে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্তô নিতে হবে।

যেহেতু পুঁজিবাজার খুব সেনসেটিভ জায়গা। তাই এ সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এ কারণেই অসাধু চক্রগুলো ফায়দা লুটতে পারছে। ফলে প্রায়ই বিপদে পড়তে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বাজার সংশিস্নষ্টরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, বিনিয়োগের পূর্বে নতুন বিনিয়োগকারীদের উচিত অন্তôত কিছুদিন হাউজগুলোতে গিয়ে লেনদেন পর্যবেড়্গণ করা এবং শেয়ার বিষয়ক বিভিন্ন কর্মলালায় অংশ নেয়া।
——————————-

শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি অ্যাকাউন্টের হালঃ
৫ মাসে কোটি টাকার ও বেশী আর্থিক ক্ষতির খতিয়ানঃ
বিনিয়োগে দয়া করে সতর্ক হোন। অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নাই।
– জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস

শেয়ার বাজার

শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত একটি অ্যাকাউন্টের হালঃ


শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত আরেকটি অ্যাকাউন্টের হালঃ


আমার শেয়ার মার্কেট এ হাতেখড়ি এভাবেই শুরু

আমার শেয়ার মার্কেট এ হাতখড়ি এভাবেই শুরু

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, শেয়ার মার্কেট

শিগগিরই বাজারে আসছে মবিল-যমুনার শেয়ার


শিগগিরই বাজারে আসছে মবিল-যমুনার শেয়ার

কিসমত খোন্দকার
যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি মবিল-যমুনা লুবিক্রেন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের সরকারি অংশের শেয়ার বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন কোম্পানির সরকারি অংশের শেয়ার বাজারে ছাড়ার সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মবিল-যমুনা বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের ৪০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিটি তাদের মোট শেয়ারের ২২ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়বে। গ্রামীণফোনের পরই এটি হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণপ্রস্তাব (আইপিও)। এরই মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কোম্পানিটির প্রস্পেকটাস অনুমোদন করেছে। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এর মুনাফা বাড়ানোর জন্যই কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সে ক্ষেত্রে তাদের শেয়ার বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট চার কোটি শেয়ার ছাড়া হবে। যার প্রতিটির দাম হবে ১০ টাকা। বুক বাইন্ডিং পদ্ধতিতে মবিল-যমুনার আইপিও ছাড়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশন মূল্য ধরা হয়েছে ১২৭ টাকা। বুক বাইন্ডিং পদ্ধতি অনুসরণ করে বৈধ যে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্দেশন মূল্যের ২০ শতাংশ কম-বেশি উল্লেখ করতে পারবে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা অফার করতে পারবে। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মবিল-যমুনা বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার বাজারে ছাড়া হলে তার ইতিবাচক প্রভাব কিছুটা হলেও শেয়ারবাজারে পড়বে। তবে তা শেয়ার বাজারের চাহিদার খুবই সামান্য। দেশের শেয়ারবাজার ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের চাহিদা মেটাতে আরও ভালো শেয়ার বাজারে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার যত দ্রুত বাজারে নিয়ে আসা যাবে বাজারের জন্য ততই মঙ্গলজনক হবে।

মবিল-যমুনা কোম্পানি দেশের জ্বালানি তেলের ২৬ শতাংশ দখল করে আছে। এছাড়া লুব্রিক্যান্ট রফতানির ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দিন দিন কোম্পানিটির রফতানি বেড়েই চলেছে। ১৯৯৮ সালে মবিল-যমুনা প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডে রূপান্তরিত হয়। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে কোম্পানিটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করে। ২০০৩ সাল থেকে তারা অ্যাডভান্স লুব্রিক্যান্ট উৎপাদন করছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হওয়ায় শেয়ারবাজারে ঝুঁকছে মানুষ স্বাভাবিক সংশোধন ছাড়াই ধারাবাহিক উর্ধগতিতে বাড়ছে ঝুঁকি


বিনিয়োগের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হওয়ায় শেয়ারবাজারে ঝুঁকছে মানুষ
স্বাভাবিক সংশোধন ছাড়াই ধারাবাহিক উর্ধগতিতে বাড়ছে ঝুঁকি

রাজু আহমেদ ॥ গত অর্থবছরে কালো টাকার শর্তহীন বিনিয়োগের সুযোগ, গ্যাস-বিদ্যুত সঙ্কটের কারণে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়া এবং ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে যাওয়ায় গত বিনিয়োগের বিকল্প ক্ষেত্রে হিসেবে পুঁজিবাজারকে বেছে নিচ্ছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। প্রতিদিনই নতুন নতুন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে আসছেন। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তারল্য। এ কারণেই মার্জিন ঋণ এবং সমন্বয় (নেটিং) সুবিধা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করার পরও পুঁজিবাজারের শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধ করা হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিশ্লেষকদের উদ্বেগ সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে অধিকাংশ শেয়ারের দর। আগের সপ্তাহে মাত্র একদিন সামান্য কমার পর আবারও ছুটে চলেছে শেয়ারবাজারের পাগলা ঘোড়া।

দুই কার্যদিবসেই ১২৫ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক। এর আগের সপ্তাহে সূচক বেড়েছে ১২২ পয়েন্ট। স্বাভাবিক সংশোধন ছাড়াই শেয়ারবাজারের এই উর্ধমুখী প্রবণতাকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, বিভিন্ন মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সেই তুলনায় শেয়ারের সরবরাহ বাড়ায় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর। এ অবস্থায় শেয়ারের যোগান বাড়ানোকেই বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে বড় উপায় বলে মনে করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালাহ উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, দেশের উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতি প্রায় স্থবির হয়ে থাকায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে শেয়ারের চাহিদা বেড়েই চলেছে। কিন্তু এর বিপরীতে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ছে না। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে ঋণ সঙ্কোচন করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গত দু’বছরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকহারে বেড়েছে। বিশেষ করে কালো টাকার সাদা করার শর্তহীন সুযোগ গ্রহণ করে গত অর্থবছরে অনেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। কারণ অন্যান্য খাতের চেয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগে ঝামেলা কম, মুনাফার সুযোগ বেশি। পাশাপাশি বিদু্যত ও জ্বালানি সঙ্কটের কারণে শিল্প খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকেই শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন। একই কারণে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে। এসব কারণেই ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন।

সব দিক থেকেই দেশের পুঁজিবাজার এখন যে কোন সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে যখন শেয়ারবাজার নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে, তখন ডিএসই বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে বাজার মূলধনের পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে_ যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪৬ শতাংশ। মোট বাজার মূলধনের এক-তৃতীয়াংশ ধরা হলেও সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিকে যৌক্তিক সংশোধন ছাড়াই ধারাবাহিক উর্ধগতির কারণে দেশের পুঁজিবাজার ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারের নীতি-নির্ধারকরাও বাজারের অস্বাভাবিক উর্ধগতি থামাতে কার্যকর পদৰেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ কারণেই তারল্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে স্বাভাবিক সংশোধনের চেষ্টা করছে এসইসি। এর অংশ হিসেবেই মার্জিন ঋণ প্রদানের ৰেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর আগে মার্জিন ঋণের হার কমানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয়েছে একক গ্রাহকের জন্য ঋণ প্রদানের সর্বোচ্চ সীমা। কারণ বড় বিনিয়োগকারীদের নেয়া বিপুল পরিমাণ মার্জিন ঋণ বাজারে তারল্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছে এসইসি। তবে বাজার বিশেস্নষকরা মনে করেন, গত দেড় বছরে নানা উৎস থেকে স্রোতের মতো টাকা ঢুকলেও এর সঙ্গে পালস্না দিয়ে নতুন শেয়ারের যোগান বাড়াতে না পারার কারণেই পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উর্ধমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দর কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেঁৗছেছে। এরপরও নানা ধরনের গুজব ও প্রলোভনের কারণে শেয়ার ধরে রাখছেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। একের পর এক পদৰেপ নিয়েও বাজারের রাশ টানতে ব্যর্থ হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে জমে ওঠা পুঁজি উৎপাদনমুখী খাতে স্থানানত্মর করে শেয়ারের যোগান বাড়ানো সবচেয়ে জরম্নরী হয়ে পড়েছে। চাহিদা ও যোগানের এই অসামঞ্জস্যতা কমাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে না পারলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশেস্নষকরা মনে করেন। তাঁদের মতে, শক্তিশালী পুঁজিবাজারকে দেশের উৎপাদনমুখী খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতির বিকাশে কীভাবে কাজে লাগানো যায়_ সরকারের দিক থেকে সে ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। এজন্য বিদু্যত, গ্যাসসহ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং শিল্প খাতকে শক্তিশালী করতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সরবরাহের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারলে একদিকে যেমন জাতীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে_ তেমনি পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা বাড়বে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারে যে হারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে সেই তুলনায় নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। এর ফলে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অনাকাঙ্ৰিত পরিস্থিতি এড়াতে এখনই উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে নতুন নতুন কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে হবে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২৬টি সরকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা হলে শেয়ারবাজারে বিপুলসংখ্যক শেয়ার যুক্ত হবে_ যা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নতুন বিদু্যত কেন্দ্রসহ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হলে একদিকে ভাল শেয়ারের যোগান বাড়বে, অন্যদিকে উন্নয়নে পরনির্ভরশীলতা কমবে।

ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে চাহিদা অনুযায়ী ভাল শেয়ারের সরবরাহ নেই। ফলে অনেক শেয়ারই অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। বিদু্যত, গ্যাসসহ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সরবরাহের প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হবে। এৰেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারলে একদিকে যেমন জাতীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে_ তেমনি পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা বাড়বে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফ খানের মতে, চাহিদা অনুযায়ী শেয়ারের সরবরাহ না থাকার কারণে দেশের শেয়ারবাজারে ধারাবাহিকভাবে শেয়ারের দর বাড়ছে। এই অবস্থায় শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে শেয়ারের যোগান বাড়াতে হবে। সেৰেত্রে সরকার পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করলে একদিকে উন্নয়ন কাজে অর্থায়ন সহজ হবে, অন্যদিকে ভাল শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে এসইসির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া বলেন, বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি কমিশনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। কমিশনের কাছে কোন আইপিও আবেদন এলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তবে এসব অনুমোদন দেয়ার ৰেত্রে আইন ও বিধি-বিধান মেনে কাজ করতে হয়। শেয়ারবাজার থেকে কোন কোম্পানি অর্থ সংগ্রহ করতে চাইলে অবশ্যই তাকে এগুলো মানতে হবে।

আট মাস ধরে স্পট মার্কেটে গ্রামীণফোন ও ম্যারিকো : পাবলিক মার্কেটের শেয়ার বিক্রি করে স্পট মার্কেটের শেয়ার কিনতে চাইলে বিনিয়োগকারীকে অপেক্ষা করতে হয় ৪ থেকে ১০ দিন


আট মাস ধরে স্পট মার্কেটে গ্রামীণফোন ও ম্যারিকো
সমকাল প্রতিবেদক
শেয়ারবাজারের এক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী চট্টগ্রামের সুবিনয় সাহা। নিজের সব পুঁজি আর সমপরিমাণ ঋণ নিয়ে চলতি বছরের গোড়ার দিকে গ্রামীণফোনের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন। এর কয়েকদিন পরই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশে কোম্পানিটিকে পাবলিক মার্কেট নামের সাধারণ বাজার থেকে স্পট মার্কেট নামের নগদ বাজারে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনাচক্রে তারপর থেকেই বাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ক্রমাগত কমছে। শেয়ারের টানা দাম বাড়ার কারণে কোম্পানিটিকে স্পট মার্কেটে সরিয়ে নেওয়া হলেও এসইসির নির্দেশনার পর এর শেয়ারের ৪০ শতাংশ দর হারানো সত্ত্বেও একে আর মূল বাজারে ফিরিয়ে আনা হয়নি। বাজারে শেয়ারের দাম যতই কমেছে ততই কমেছে ঋণের বিপরীতে সুবিনয়ের নিজস্ব মূলধন। বাধ্যতামূলক বিক্রি (ফোর্সড সেল) এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংকে একাধিক দফায় বাড়তি অর্থ জমা দিয়েছেন। শেয়ারের দাম আরেকটু কমলে নতুন করে বাড়তি টাকা জমা দেওয়ার মতো আর কোনো অবস্থা নেই তার। কখন মার্চেন্ট ব্যাংক সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ঋণ সমন্বয় করে নেয় এমন ভয়ে দিন কাটছে।

সুবিনয় সাহার মতোই এমন উদ্বেগ-আতঙ্কে দিন কাটছে হাজারো বিনিয়োগকারীর। তাদের অনেকেই প্রায় সর্বস্বান্তের পথে। শেয়ারের দরপতনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়তি অর্থ জমা না দিতে পারায় ইতিমধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী বাধ্যতামূলক বিক্রির কবলে পড়েছেন। হারিয়েছেন নিজস্ব মূলধনের পুরোটা। গ্রামীণফোনের শেয়ারে বিনিয়োগ করে দুর্দশাগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, গ্রামীণফোনের প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিমাতাসুলভ আচরণের কারণেই তারা এভাবে সর্বস্বান্ত হতে চলেছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে একাধিক কোম্পানিকে স্পট মার্কেটে নিয়ে আসা হলেও এত দীর্ঘ সময় কোনো কোম্পানিকে স্পট মার্কেটে থাকতে হয়নি। তারা বলেন, শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে স্পট মার্কেটে নিয়ে যাবার কথা বলেছিল এসইসি। কিন্তু স্পটে আসার পর শেয়ারের দাম ৩৭ শতাংশের বেশি কমলেও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেনি এসইসি। অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে বাজার মূলধন প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, ৩০/৩৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির কারণে গ্রামীণফোনকে স্পট মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও ১০০ শতাংশের বেশি মূল্য বৃদ্ধির পরও আর কোনো কোম্পানিকে গ্রামীণের পরিণতি বরণ করতে হয়নি।

পাবলিক মার্কেটে এ বি ও এন ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তি হয় শেয়ার কেনা-বেচার চতুর্থ দিনে। ওই দিন ক্রেতার বিও বিনিয়োগ হিসাবে শেয়ার চলে আসে, ক্রেতা চাইলে ওইদিনই তা বিক্রি করতে পারেন। অন্যদিকে শেয়ার বিক্রির চতুর্থ দিনে বিক্রেতা তার দাম পেয়ে যান। জেড ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে এ সময় লাগে ১০ দিন। পাবলিক মার্কেটে লেনদেন নিস্পত্তিতে ৪ দিন সময় লাগে বলে একজন বিনিয়োগকারী চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ নিয়েও এসব কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেন। কিন্তু স্পট মার্কেটে নগদ টাকায় শেয়ার কিনতে হয়। অন্যদিকে ঋণ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারের ক্ষেত্রে পাবলিক মার্কেটে একটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে সমপরিমাণ অর্থে অপর যে কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনা যায়। কিন্তু স্পট মার্কেটে থাকা কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে ওই অর্থ দিয়ে একই দিনে অন্য কোনো শেয়ার কেনা যায় না। অন্যদিকে পাবলিক মার্কেটের শেয়ার বিক্রি করে স্পট মার্কেটের শেয়ার কিনতে চাইলে বিনিয়োগকারীকে অপেক্ষা করতে হয় ৪ থেকে ১০ দিন। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণত স্পট মার্কেটে শেয়ারের দাম কমে যায়, লেনদেনও হয় কম।
চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি এসইসি গ্রামীণফোন এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ নামের অপর একটি কোম্পানিকে স্পট মার্কেটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় যা পরদিন থেকে কার্যকর হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ছিল ৩৮০ টাকা। গতকাল সোমবার তা ২৪২ টাকায় নেমে এসেছে। দর কমেছে প্রায় ১৪০ টাকা বা ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা, গতকাল যা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার কোটি। একই সময়ে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫ হাজার ৭৬০ পয়েন্ট থেকে ৭ হাজার ৭৪০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। আট মাসের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের শেয়ারের ৩৭ শতাংশ দরপতনের বিপরীতে বাজার মূলধন ও সূচক বেড়েছে যথাক্রমে ৪২ ও ৩৪ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণফোন একটি বড় মূলধনসম্পন্ন কোম্পানি হওয়ায় এর শেয়ারের অল্প দাম বৃদ্ধি সূচকের ওপর অপেক্ষাকৃত বেশি প্রভাব ফেলে। সূচকের মাধ্যমে যাতে বাজারের প্রবল ঊর্ধ্বমুখী ধারার প্রকৃত প্রতিফলন না ঘটে সে লক্ষ্যেই গ্রামীণফোনকে স্পট মার্কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তারা। তবে তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এতে করে বড় মূলধনসম্পন্ন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাছাড়া শুধু ‘সূচক ম্যানেজমেন্টের’ উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে এভাবে মূল বাজারের বাইরে রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।

স্পট মার্কেটে থাকা অপর বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশের শেয়ারের দাম গ্রামীনফোণের মতো না কমলেও স্পটে আসার পর তেমন বাড়েওনি। সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২১ টাকা ৬৪ পয়সা। বাজারে এর শেয়ারের দাম ৬৩০ থেকে ৬৪০ টাকা। এ হিসাবে এর মূল্য-আয় অনুপাত দাঁড়ায় ৩১। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্ধেকেরও বেশি কোম্পানির মূল্য-আয় অনুপাত এর চেয়ে বেশি। অথচ এদের কাউকেই স্পট মার্কেটে আসতে হয়নি।
কোম্পানি দুটিকে এভাবে পাবলিক মার্কেটের বাইরে রাখায় শুধু বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত নন; দেশের শেয়ারবাজারের ভাবমূর্তিও কিছুটা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দুটি বহুজাতিক কোম্পানির প্রতি এমন অযৌক্তিক বিমাতাসুলভ আচরণ অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানির প্রতি ভুল সংকেত পাঠাবে।

শেয়ারবাজারে এখন প্রতিদিনই স্রোতের মতো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছেঃ দৈনিক গড়ে যার পরিমাণ ৬ হাজারের মতো


এসইসি ও ডিএসইর নতুন উদ্যোগ
মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ
ব্যাপক হারে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আরো বেশি সচেতনতামূলক প্রশিড়্গণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এসইসি এবং ডিএসই। গতকাল সোমবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বাজার পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তô নেয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান এসইসির মুখপাত্র আনোয়ারম্নল কবির ভঁুইয়া। তিনি বলেন, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বাজারে এখন নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি। এদের বেশিরভাগেরই শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা নেই। সেই লড়্গ্যে আমরা এখন থেকে বেশি বেশি সচেতনতা মূলক প্রশিড়্গণের ব্যবস্থা করবো। এতে করে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ার পাশাপাশি তারা বুঝে-শুনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। শেয়ারবাজারে এখন প্রতিদিনই স্রোতের মতো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক মাসে বাজারে এসেছে ১ লাখ ৭০ হাজারের মতো বিনিয়োগকারী। দৈনিক গড়ে যার পরিমাণ ৬ হাজারের মতো। আর এ সপ্তাহের প্রথম দুই দিনে ওপেন হয়েছে ৩৬ হাজার বিও। সপ্তাহ শেষে যার গড় দাঁড়াবে ১৭ থেকে ১৮ হাজারের মতো। অনুসন্ধানে জানা যায়, এখন যারা বাজারে আসছে তাদের বেশিরভাগেরই শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। যে কারণে এসব বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগকৃত অর্থ যে কোনো সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে এসইসি ও ডিএসই বিনিয়োগকারীদের সচেতনতামূলক প্রশিড়্গণের ব্যবস্থা করবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট মো· শাকিল রিজভী বলেন, বাজারের স্থিতিশীল পরিবেশ ধরে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর বাজারে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকার পেছনে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা অনেক বেশি গুরম্নত্বপূর্ণ। এ লড়্গ্যে আমরা বিনিয়োগকারীদের প্রশিড়্গণকে গুরম্নত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, আগে থেকেই আমরা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কে প্রশিড়্গণ দিয়ে আসছি। এখন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বেশি বেশি প্রশিড়্গণ দেয়া জরম্নরি হয়ে পড়েছে। ঢাকার বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা মূলক প্রশিড়্গণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার বিনিয়োগকারীদেরও এ প্রশিড়্গণ দেয়া হবে বলে তিনি জানান। উলেস্নখ্য, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিগণিত হয়ে ওঠায় বিনিয়োগকারীদের এ অংশগ্রহণকে আরো বেশি কার্যকর ও অর্থবহ করে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সারা দেশে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি হোটেলে ‘আঞ্চলিক বিনিয়োগকারীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রারম্্‌িভক ধারণা, পুঁজিবাজার নীতিমালা, মৌলিক বিশ্লেষণ, কারিগরি বিশেস্নষণ প্রভৃতি বিষয়ে আলোকপাত করেন ডিএসইর মনিটরিং, ইনভেস্টিগেশন ও কমপস্ন্লায়েন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো· খন্দকার আসাদুলস্ন্লাহ এবং ট্রেনিং একাডেমির উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আল-আমিন রহমান।

২ দিনে ৩৬ হাজার বিও

শেয়ার বিজ্‌ রিপোর্ট

দেশের পুঁজিবাজারে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মুখ। সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। গত ২ দিনে বাজারে এসেছে প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী। বিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) দেয়া তথ্য মতে, গতকাল পর্যন্তô মোট বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ১৮৪টিতে। এর মধ্যে পুরম্নষ অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭১ জন। প্রবাসী বিনিরেয়াগকারী ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৫ জন, নারী একাউন্টধারী ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৫ জন এবং বিভিন্ন কোম্পানির নামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৭ হাজার ৯১৯টি। মাত্র এক মাস আগেই দেশে মোট বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিলো ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩টি। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। গত সপ্তাহের শেষ দিন এর সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৯৭৮টি। এদিকে বাজারে স্রোতের মতো বিনিয়োগকারী আসা নিয়ে বাজার সংশিস্নষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লড়্গ্য করা গেছে। অনেকে নতুন বিনিয়োগকারীদের বাজারে প্রবেশকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে যোগ হলে বিদ্যমান শেয়ারগুলো আরো অতিমূল্যায়িত হবে। এমনিতে বাজারে শেয়ারের চাহিদা এবং জোগানের সমন্বয় নেই। এর মধ্যে শেয়ার সংখ্যা না বাড়িয়ে শুধু বিনিয়োগকারী বাড়লে তা বাজারের জন্য ড়্গতিকর হবে।

অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারের পরিবেশ অধিক বিনিয়োগবান্ধব হওয়ায় এখানে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ছে। যার হাতেই সামান্য সঞ্চিত অর্থ রয়েছে তিনি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। নতুন কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা অনেকেই ধারদেনা করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। আর এ ধরনের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে একটি কোম্পানির আইপিও আবেদন জমা নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে আসার জন্য তালিকায় রয়েছে দেশবন্ধু পলিমার, মবিল যমুনা, জনতা ব্যাংকসহ আরো বেশ কিছু কোম্পানি। সে কারণে বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার হিড়িক পড়েছে। গতকাল সরেজমিন বিভিন্ন হাউজে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। গতকাল দুপুর দেড়টায় ইবিএল ব্র্যাক ব্রোকারেজ হাউজে গিয়ে দেখা যায়, বিও খুলতে আসা লোকের ভিড়। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দেশবন্ধু পলিমার কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করার জন্য তারা তড়িঘড়ি করে অ্যাকাউন্ট খুলছেন। এদিকে কিছু কোম্পানির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা দ্রম্নত বিও খোলার নাম করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের হিসাব অনুযায়ী, দেড় বছরের ব্যবধানে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। দেড় বছর আগে যেখানে এ সংখ্যা ছিল ১২ লাখের মতো বর্তমানে তা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু বিও অ্যাকাউন্ট বাড়া তথা বাজার প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি উলেস্নখযোগ্য হারে বাড়েনি হাউজের সংখ্যা। বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি।

এদিকে সপ্তাহের প্রথম ২ দিনে ৩৬ হাজার বিও খোলা প্রসঙ্গে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট মো· শাকিল রিজভী বলেন, বিনিয়োগকারী বাড়ছে এটি বাজারের জন্য মঙ্গলজনক। বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি ভালো বলে এখানে সবাই বিনিয়োগ করতে চাইছেন। তবে বাজারে বিনিয়োগকারী বাড়ার পাশাপাশি শেয়ার সংখ্যা বাড়ানো উচিত বলে তিনি মন্তôব্য করেন। একই প্রসঙ্গে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো· নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বিও অ্যাকাউন্ট বাড়া মানে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া। এটি বাজারের জন্য পজিটিভ দিক। বাজারে এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে বলেই এতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়লে শেয়ার সংকট আরো তীব্র হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে শেয়ারের ডিমান্ডের সঙ্গে সাপস্নাইয়ের সমন্বয় নেই এ কথা সত্যি। এর সমন্বয় জরম্নরি। তা না হলে শেয়ার আরো অতিমূল্যায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ ব্যপারে এসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাজারে এমনিতেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত। তাই শেয়ার সংখ্যা না বাড়িয়ে শুধু বিনিয়োগকারী বাড়লে তা বাজারের জন্য সন্তেôাষজনক হবে না। কারণ এতে বাজারে শেয়ার কেনার প্রতিযোগিতা শুরম্ন হবে। এতে অনেকেই বিপদে পড়বেন।

রেকর্ড যেন অশনি সংকেত না হয়

শেয়ার বিজ কড়চা সম্পাদকীয় অক্টোবর ২৫, ২০১০
আমাদের পঁুজিবাজারে একের পর এক রেকর্ড হয়েই যাচ্ছে। বলতে গেলে গত কয়েক মাস যাবৎ রেকর্ড ভাঙা গড়ার খেলাটা নিয়মিতই চলছে। রেকর্ড হওয়াটা যে কোনো বিষয়ের জন্যই গৌরবের। কারণ রেকর্ড মানেই এক একটা বিষয়ের দলিল। তবে এটা বাজারের জন্য একদিকে যেমন শুভ লড়্গণ, অন্যদিকে তেমনি অশনি সংকেত। কারণ ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, যখনই রেকর্ড হয়েছে তারপরই বাজারে বড় ধরনের কারেকশন বা দরপতন হয়েছে।

রেকর্ড আমাদের জন্য অবশ্যই সুখকর হতো যদি এ মুহূর্তে ১০০টি কোম্পানি বাজারে আসার পাইপলাইনে থাকতো এবং তালিকাভুক্তির পথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতো! আমরা বারবারই বলে আসছি এত রেকর্ড ভালো না। কারণ সব কিছুরই একটি লিমিটেশন থাকা দরকার। শেয়ারবাজারে যুক্ত হওয়া প্রায় দেড় কোটি লোক এবং বিশাল অঙ্কের তারল্য সেই সঙ্গে প্রখর শেয়ার সংকট, ডিএসই এবং সিডিবিএলের সীমিত ট্রেডিং ক্যাপাসিটি- সব কিছু মিলিয়ে এ মুহূর্তে আমাদের বাজারের ভারসাম্যের বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে গুরম্নত্বের সঙ্গে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এখনই এটা নিয়ে ভাববার এবং পদড়্গেপ নেয়ার উপযুক্ত সময়।

রেকর্ডটা বাজারের জন্য শুভ লড়্গণ এ অর্থে আমাদের পঁুজিবাজারের যে সম্প্রসারিত হয়েছে এতে করে এটা আর বলার অপেড়্গা রাখে না। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এতে সম্পৃক্ত হয়ে একে প্রসারিত করছে। প্রতিদিনই এখানে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মুখ। সেইসঙ্গে বাড়ছে বাজারের তারল্য প্রবাহ। বিভিন্ন দিক থেকে আসা অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে পঁুজিবাজারে। এতে কেউই আর পিছিয়ে নেই। এমন কি ব্যাংকগুলোর অলস অর্থও বিনিয়োগ হচ্ছে এখানে। এ অর্থে এটা অবশ্যই শুভ লড়্গণ কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে এ বিশাল তারল্য প্রবাহকে ধারণ করার কতটুকু ড়্গমতা আমাদের বাজারের আছে? বাজার প্রসারিত হচ্ছে সত্যি কিন্তু সেইসঙ্গে পালস্না দিয়ে এর গভীরতা বাড়ছে কি?

শেয়ার সংকট নিরসনের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আমরা ইতিপূর্বে সম্পাদকীয়তে বারবার আলোচনা করেছি। তারপরও আবারো বলছি, লট প্রথা ভেঙে দিলে শেয়ার সংকট কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্্‌ভব হবে। এছাড়া বাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিকে কোনো শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ না করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া যেতে পারে। দেশে এমনো অনেক কোম্পানি আছে যেগুলো উৎপাদনশীল এবং মুনাফায় আছে। হয়তো আরো কিছু অর্থের সংস্থান করতে পারলে এগুলোর কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ঘটতে পারে। তারা হয়তো পঁুজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে অর্থ উত্তোলন করতে আগ্রহী। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেধে দেয়া তালিকাভুক্তির শর্ত পূরণ করতে না পারায় শেয়ারবাজারে আসতে পারছে না। তাই এসব দিক বিবেচনায় এনে এসইসি পদড়্গেপ নিলে এবং সমস্যাগুলো কেটে গেলে তখন হয়তো রেকর্ডটা নিশ্চিন্তেô সবাই উপভোগ করতে পারবে।