দরবেশ থাকেন ভাড়া বাড়িতে?


Some content on this page was disabled on October 27, 2016 as a result of a DMCA takedown notice from Deshe Bideshe. You can learn more about the DMCA here:

https://en.support.wordpress.com/copyright-and-the-dmca/

‘‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টা আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’’ -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


‘দেশপ্রেমিক’ এবং টোকাইদের আখ্যান

পিয়াস করিম ● প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তার আরো অনেক বক্তব্যের মতোই এই প্রশ্নটিই কোনো আলগা, অসতর্ক উচ্চারণ কিনা আমরা জানি না। কিন্তু নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নকে খুব হালকাভাবেই নেই কি করে?

১৮ জুন ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টা আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’’ যেই মনোভঙ্গি থেকে একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান জানান দেন যে তার চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক আর কেউ হতে পারে না, সেই ভঙ্গিটিকে ঠিক গণতান্ত্রিক বলা যাবে না। এই ঘোষণাটির মধ্যে ক্রিয়াশীল রয়েছে এক ধরনের ঔদ্ধত্য ‘আমার চেয়ে বড় আর কেউ নয়’ এই দৃষ্টিভঙ্গিটি। একজন ফার্দিনান্দ মার্কোস, একজন পিনোসে কিংবা একজন হোসনি মোবারকের কাছে এই বক্তব্যটি প্রত্যাশা করা যায়। কিন্তু একজন নির্বাচিত গণপ্রতিনিধির কাছ থেকেও এই কথা আমাদের শুনতে হবে?

জানতে ইচ্ছে করে এই আমার চেয়ে বড় কেউ নয়, এই অহংবোধের, এই দম্ভোক্তির রাজনৈতিক ভিত্তিটি কোথায়? একজন সাধারণ নাগরিক কি দেশপ্রেমের মাত্রায় তার নির্বাচিত প্রতিনিধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন না? বাংলাদেশের যে কৃষক উদয়াস্ত শ্রম করেও তার ফসলের ন্যায্য দাম পান না, সেই শ্রমিককে মানবেতর কাজের পরিবেশে প্রতিদিনের দিনযাপনের গ্লানি সয়ে সয়ে নিজেকে ক্রমান্বয়ে ক্ষয় করে ফেলতে হয়, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বড় দেশপ্রেম দাবি করার অধিকার তার নেই? দেশপ্রেমের কোন মাপকাঠিতে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের মেপে থাকেন? ক্ষমতাহীনরা তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের চেয়ে চিরকাল পিছিয়ে থাকতে বাধ্য হন। হায় ঈশ্বর, এখন দেশপ্রেমিকত্বের প্রতিযোগিতাতেও তাদের পিছিয়ে থাকতে হবে! ক্ষমতা, অর্থ, প্রতিপত্তিতে ক্ষমতাসীনদের একচেটিয়া অধিকার থাকে। এখন দেশপ্রেমের ওপরও তাদের মৌরসী পাট্টা! এখন দেশপ্রেমে বড় হওয়ার অধিকারটুকুও বুঝি আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেল! সত্যি কি বিচিত্র এই দেশ আমাদের, আর বিচিত্রতর আমাদের দেশপ্রেমের অধিপতি বয়ান।

দুই.

‘দেশপ্রেম’ তো অবিতর্কিত প্রত্যয় নয় কোনো। কে দেশপ্রেমিক আর কে দেশপ্রেমিক নয় তা নিয়ে একটা বিতর্ক তো ছিলই সবসময়। সেই ১৭৭৫ সালে আত্মম্ভরী ভুয়া দেশপ্রেমিকদের সমালোচনা করতে গিয়ে স্যামুয়েল জনসন বলেছিলেন- ‘Patriotism is the last resort of the scoundrel.’ ইতিহাসের প্রেক্ষিত পাল্টে গেছে, কিন্তু দেশপ্রেমের অহংকারী বয়ানের পুনরাবৃত্তি তো ঘটেই চলেছে।

পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসকেরা আমাদের বাঙালিদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বারবার। আমরা ভারতের দালাল, আমরা পাকিস্তান রাষ্ট্র ও আদর্শের প্রতি যথেষ্ট বিশ্বস্ত নই, পাকিস্তানের অধিপতি আখ্যানে এই অভিযোগগুলো বারবার উত্থাপিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমের পাকিস্তানি অধিপতি আখ্যানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ একটি প্রতিবাদী দেশপ্রেমের আখ্যান নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তান নামক দেশের ধারণার মধ্যে ঘুন ধরে গিয়েছিল অনেকদিন ধরেই। ভাষার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, স্বাধিকারের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, জনগণের সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে নতুন এক দেশের কল্পনা নির্মিত হচ্ছিল আমাদের চৈতন্যে, আমাদের বাস্তবতায়। একাত্তরে সেই চেতনার প্রবল শক্তিধর বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আমরা নতুন দেশের, নতুন দেশপ্রেমের স্বপ্নলোককে একটা বাস্তব অবয়ব দিতে পেরেছিলাম।

কিন্তু সেই বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত একটি অসম্পূর্ণ বাস্তবতা থেকে গেছে, একাত্তরের অসমাপ্ত গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মতোই। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বতন্ত্র নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখা নির্মিত হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বস্ত্তগত রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে যেই স্বপ্নের দেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিল তা আমাদের হয়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরেও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। জনগণের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো সুদূরপরাহত। আমাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধের কোন স্পষ্ট ভিত্তি এখনো দাঁড়া হয়নি।

কিন্তু এই ব্যর্থতার দায়ভাগ তো বাংলাদেশের জনগণের নয়। আমাদের বিদ্যুৎ আর গ্যাসের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, বিশুদ্ধ পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, দ্রব্যমূল্য সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাবনার পৃথিবী ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না আর কোথাও, আমাদের জাতীয় সম্পদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, সামাজিক বৈষম্য বেড়েই চলেছে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের চোখের আড়ালে অসম চুক্তি হয়ে যাচ্ছে, আমাদের সীমান্তে পাখি শিকারের মতো হত্যা করা হচ্ছে আমাদের নাগরিকদের – এর সব দায়ভার কি আমাদের জনগণের?

কোন যোগ্যতায়, কোন রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে আমাদের শাসকশ্রেণীর প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে, তাদের চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক আর কেউ হতে পারে না?

তিন.

দেশপ্রেম নিয়ে এই উদ্ধত ঘোষণার সঙ্গে ইদানীং হয়েছে আরেকটি প্রসঙ্গ। শাসক শ্রেণীর সাম্প্রতিক বয়ানের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ‘টোকাই’ চরিত্রটি। শিল্পী রফিকুন্নবীর এই অসামান্য সৃষ্টিটি বাংলাদেশের ছিন্নমূল পথশিশুদের প্রতিনিধি। আমাদের শ্রেণীবিভক্ত সমাজের সবচেয়ে নিচে এদের অবস্থান। রাষ্ট্র এবং সমাজ এদের গৃহ দিতে পারেনি, শিক্ষার সুযোগ দিতে পারেনি, জীবনের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর কোন সংস্থান করতে পারেনি। এই বঞ্চিত, নিপীড়িত শিশুরা আমাদের সমাজের অসঙ্গতির, ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠে এসেছে রফিকুন্নবীর দক্ষ তুলির অাঁচড়ে।

কিন্তু বঞ্চনা ছাড়াও টোকাইয়ের চরিত্রে রয়েছে অন্য একটি মাত্রা। টোকাইয়ের রয়েছে প্রবল বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সমাজের অসঙ্গতিকে বোঝার জন্য প্রখর অন্তর্দৃষ্টি (ইংরেজিতে একেই বুঝি wit বলে)।

শাসকশ্রেণীর তো এক অর্থে মতাদর্শগত আধিপত্য থাকেই, মার্কস থেকে গ্রামসী পর্যন্ত ইতিহাসের নক্ষত্র পুরুষরা তা বলেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও আমাদের জানবার বিষয় যে কোনো অধিপতি মতাদর্শই সমাজের প্রতিটি অংশের ওপর তার চূড়ান্ত আধিপত্য বজায় রাখতে পারে না। মতাদর্শগত আধিপত্য সবসময়ই তাই একটি অসম্পূর্ণ প্রকল্প। সমাজের কোথাও না কোথাও আধিপত্যের বাইরে ভিন্ন মতাদর্শের, প্রতিরোধের সম্ভাবনা আর বাস্তবতা থেকেই যায়। এই আধিপত্যবিরোধী মতাদর্শ, এই প্রতিরোধ আসে সমাজের প্রান্তে যাদের অবস্থান সেই মানুষ থেকেই। টোকাইয়ের wit সেই প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। টোকাই তাই একই সঙ্গে বঞ্চনা আর প্রতিরোধের যুগল প্রতিনিধি।

রফিকুন্নবী টোকাইয়ের চিত্রিত আখ্যানটি তৈরি করেছিলেন সমাজের একটি ক্রিটিক হিসেবে। কিন্তু আমাদের বুর্জোয়া, মধ্যবিত্ত আখ্যান টোকাইয়ের এই ক্রিটিক্যাল দিকটি ধারণ করেনি। টোকাই এখানে হয়ে উঠেছে উপেক্ষার, টিটকারির, অপমানের প্রতীক। সেই পথশিশুরা শ্রেণী সমাজের অন্তর্নিহিত বৈষম্যের ফল, তাদেরকে বুর্জোয়া আখ্যান দেখে উপহাসের লক্ষ্যবস্ত্ত হিসেবে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ২০ জুন সংসদে টোকাইয়ের এই বুর্জোয়া অর্থটিকেই ব্যবহার করেছেন। জাতীয় তেল-গ্যাস কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদকে লক্ষ্য করে তিনি বলেছেন – কোথাকার মনু মোহাম্মদ, আনু মুহাম্মদ মিলে টোকাইদের নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে।

‘মনু মোহাম্মদ-আনু মুহাম্মদ’ প্রকাশটির মধ্যে নাম বিকৃতির কুৎসিত রুচি তো রয়েছেই কিন্তু এর চেয়েও বেশি এতে রয়েছে শাসকশ্রেণীর ঔদ্ধত্য আর অসংবেদনশীলতা। হাছান মাহমুদের পক্ষে যেটা বোঝা সম্ভব নয়, তার সংকীর্ণ রাজনৈতিক বোধের কারণেই হয়তো, টোকাইদের সংগঠন আখ্যা দিয়ে তিনি জাতীয় কমিটিকে অপমান করতে পারেননি। প্রতিমন্ত্রী তার এই বক্তব্যে কোন কায়েমী স্বার্থের প্রতিধ্বনি তুললেন সেটা তো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই। কিন্তু একই গুরুত্বের সঙ্গে যা আমাদের মনোযোগ দাবি করে তা হচ্ছে এই অসংযত বক্তব্যের মধ্য দিয়েই নিজের অনিচ্ছায় তিনি জাতীয় কমিটির জনভিত্তির সত্যটিকেই প্রকাশ করে দিলেন। জাতীয় কমিটি যদি সত্যিই টোকাইদের সংগঠিত করতে পারে তাহলে তো তা একটি বড় মাপের অর্জন। কারণ এই দেশটি তো হাছান মাহমুদ কিংবা তার নেত্রী শেখ হাসিনার নয়। আমাদের কারোই পৈতৃক সম্পত্তি নয় দেশটি। অনেকাংশেই পিতৃমাতৃহীন টোকাইদের চেয়ে আমাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশপ্রেম বেশি এটাও তো দাবি করা যাবে না।

২৪ জুন রাতে একুশে টেলিভিশনের ‘একুশের রাতে’ অনুষ্ঠানে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বললেন, তিনি তো ঠিকই বলেছেন। আনু মুহাম্মদ তো টোকাই-ই। টোকাই অর্থ তো গরিব মানুষ। আনু মুহাম্মদ তো গরিব মানুষই।

সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পেছনে কোনো সচেতন Irony ছিল কিনা জানি না। কিন্তু তা থাকুক না থাকুক, বুঝে হোক না হোক, তিনি কিন্তু আনু মুহাম্মদকে সম্মানিত করলেন। প্রতিমন্ত্রী ‘টোকাই’ শব্দটিকে ব্যবহার করেছিলেন নেতিবাচক উপহাস আর উপেক্ষা অর্থে। সংসদ সদস্য রনি, সচেতন কিংবা অসচেতনভাবে ‘টোকাই’ প্রত্যয়টির সমাজতাত্ত্বিক বৃত্তটিকে বিস্তৃত করে দিলেন। ‘টোকাই’ আজকে শুধু ছিন্নমূল পথশিশু নয়। আমরা যারা নিপীড়িত, বঞ্চিত, যাদের জীবন রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণীর হাতে প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত, যাদের সম্পদ তাদের সম্মতি না নিয়েই বিদেশী করপোরেশনের কাছে বিকিয়ে যায়, আমরা সবাই আজকে ‘টোকাই’। আনু মুহাম্মদ, তার বন্ধু ও সমর্থকরা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করছেন, সবচেয়ে বড় কথা, শাসকশ্রেণীর বাইরে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকই আজকে টোকাই।

আন্তনিও নেগ্রি বিশ্লেষন করে দেখিয়েছেন পুঁজিবাদের বর্তমান পর্যায়ে শোষণের কেন্দ্র শুধু আর কারখানাতে সীমাবদ্ধ নেই। গোটা সমাজজুড়ে গড়ে উঠেছে এক সামাজিক কারখানা। শ্রমিকের সংজ্ঞাও শুধু কারখানার বৃত্তে আটকে নেই। সারা সমাজজুড়ে তৈরি হয়েছে সামাজিক শ্রমের নতুন ধারণা। একইভাবে কিন্তু বাংলাদেশে ‘টোকাই’দের ধারণাও আজ বিস্তৃত হয়ে পড়েছে।

চার.

যদি আজকে আমাদের সমাজের দ্বন্দ্ব শাসকশ্রেণীর ‘দেশপ্রেমিক’ আর টোকাইদের মধ্যে এসে ঠেকে, আমাদের পক্ষপাতিত্বকেও আজ স্পষ্ট করে আমাদের বুঝে নিতে হবে। যেই ‘দেশপ্রেমিক’রা আমাদের হতাশা, নিপীড়ন আর ব্যর্থতার দিকে বারবার ঠেলে দিচ্ছে তাদের পক্ষে নয়, ইতিহাসকে আজকে নির্মাণ করতে হবে টোকাইদের পক্ষেই।

শাসকশ্রেণীর ‘দেশপ্রেমিক’ প্রতিনিধিরা, আপনাদের জন্য আমাদের টোকাইদের একটি বার্তা আছে। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন তো? মার্কস যেমন বলেছিলেন বুর্জোয়ারা তাদের নিজেদের কবর খনন করেছে প্রলেতারিয়েত তৈরি করে আপনারাও তেমনি কোটি কোটি টোকাই তৈরি করে ফেলেছেন আপনাদের শোষণ-নিপীড়নের সীমাহীন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। আমাদের সমুদ্রের সম্পদ আপনারা বিক্রি করে দিয়েছেন, বিদেশী বাঁধ আর অসম পানি বণ্টনের চুক্তি আমাদের নদী শুকিয়ে ফেলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের তেরশ’ নদীর বহতা স্রোতের মতো, সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের মতো টোকাইরা এই দেশের মালিকানা দাবি করতে যদি আজকে ধেয়ে আসে, আপনাদের ভুল ‘দেশপ্রেমের’ বালির বাঁধ দিয়ে কি তা রুখতে পারবেন?
[উপ-সম্পাদকীয়, সাপ্তাহিক বুধবার]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, ঢাকা ষ্টক একচেঞ্জ ডিএসই

এক বছরের পুঁজিবাজার ।। অনেক অঘটন ইতিহাস হয়ে থাকবে


এক বছরের পুঁজিবাজার ।। অনেক অঘটন ইতিহাস হয়ে থাকবে

শেয়ার বিজ্‌ রিপোর্টঃ পুঁজিবাজারের ইতিহাসে গত বছরটি ছিল বাজার সম্প্রসারণ, লেনদেন ও সূচকের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের বছর। এ সময়ে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো রাজধানীর গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলা শহরে। ফলে তৃণমূল পর্যায় থেকে টাকা আসতে শুরম্ন করে শেয়ারবাজারে। আর হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা সামাল দিতে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে ব্যর্থ হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সময় ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে উদাসীন ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক অবস্থান করে ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্টে। এদিন লেনদেনের পরিমাণ (টাকায়) দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা এবং বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭১ কোটি টাকায়। অনেকের চোখে ওই দিনটি ছিল ২০১০ সালে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে স্বর্ণালি দিন।

এরপর ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরম্ন হয় দরপতনের পালা। এদিন লেনদেন শুরম্নর মাত্র ৭৫ মিনিটের মধ্যে সূচক ৫৪৭ পয়েন্ট বা সাড়ে ৬ শতাংশ কমে যায়। এদিন বেলা ২টার দিকে সূচক আবার ৫৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮৬২৬·৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। দিনের শেষভাগে তা আবার নেমে আসে ৮৪৫১·৫৯ পয়েন্টে। যা আগের দিনের চেয়ে ১৩৪ পয়েন্ট কম। দেশের পঁুজিবাজারে সূচক ওঠানামার এ রকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এর আগে ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর শেয়ার কেলেঙ্কারির সময় সর্বোচ্চ ২৩৩ পয়েন্ট বা ৬ শতাংশের মতো সূচক কমেছিল।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারের উত্থান প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক সিইও সালাহ উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, গত এক বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতায় বাজারে যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা পঁুজিবাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠা না গেলে আবারো এমন দুংসময় আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে। তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা এবং চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যহীনতায় বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে। এতে অনেকে ড়্গতিগ্রস্তô হয়েছেন আবার অনেকে লাভবানও হয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যাই বেশি।

ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী এ ব্যাপারে বলেন, গত অর্থবছরে ডিমান্ড ও সাপস্নাইয়ের ভারসাম্যহীনতায় বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে। তবে আগামী বছর এ ২টির সমন্বয় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন বাজার আবার দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতায় ফিরে আসবে।

বাজার বিশেস্নষণে দেখা যায়, গত বছরের সর্বোচ্চ বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭১ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, সূচক ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ৩ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বছর শেষে মূলধন ৮২ হাজার ৬৮২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৯ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, সূচক ২ হাজার ৮০০ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১১৭ পয়েন্ট এবং আর্থিক লেনদেন ২ হাজার ২৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ২১ হাজার টাকা কমে দাঁড়ায় ৯৫৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।

জানা যায়, ২০০৯ সালে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছিল তার রেশ ২০১০ সালেও ছিল। চলতি বছরও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাজারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা সবার। সরকার পঁুজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইনি সংস্ড়্গার, কারসাজি চক্রকে শাস্তিôর আওতায় আনতে অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ, এসইসির পুনর্গঠনসহ নানামুখী সিদ্ধান্ত নেয়। ড· এম খায়রম্নল হোসেনকে চেয়ারম্যান করে পুনর্গঠিত এসইসি, ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজারবান্ধব বাজেট নিয়ে শুরম্ন হলো আরেকটি বছরের যাত্রা। চলতি বছর নতুন নেতৃত্বে পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, dhaka stock exchange

ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা


ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা
ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা

এ এইচ রানাঃ তারল্য সংকট, মুদ্রাবাজারে অস্থিরতাসহ পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। এতে করে অনেকেরই ধারণা ছিল ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা কমে আসতে পারে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অধিকাংশ ব্যাংক বছরের প্রথমার্ধে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ৭ মাস ধরে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটসহ নানা সমস্যার বিষয় উপস্থাপন করা হলেও বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অধিকাংশ ব্যাংকই রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন মুনাফা করেছে। চলতি বছরের জুন ক্লোজিং শেষে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার প্রাথমিক তথ্য এ চিত্রে উঠে এসেছে। জুন ক্লোজিং শেষে ব্যাংকগুলো প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের পরিচালন মুনাফার হিসাব-নিকাশ করেছে। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ড়্গেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন পুরোদমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আসবে। যে কারণে বছর শেষে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে মনে করছেন বিশেস্নষকরা। এদিকে বরাবরের মতো অর্ধবার্ষিক হিসাবে পরিচালন মুনাফার পরিমাণের দিক থেকে সর্বাধিক আয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। ৬ মাসে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফার দিক থেকে ইসলামী ব্যাংকের পরই রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৫৭ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৫৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১৫০ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময় করেছিল ১১০ কোটি টাকা। একইভাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ১৫৮ কোটি, গত বছর ছিল ১৩০ কোটি, শাহজালাল ব্যাংক করেছে ১৬৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৬০ কোটি, যমুনা ব্যাংক করেছে ১৫০ কোটি, এসআইবিএল করেছে ১৩৫ কোটি, গত বছর ছিল ১০৫ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১৩৩ কোটি,গত বছর ছিল ১৩৯ কোটি, ট্রাস্ট ব্যাংক করেছে ১০৬ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ৮০ কোটি, তবে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ব্যাংকটি এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ১০২ কোটি, অথচ গত বছর একই সময় ছিল ২১০ কোটি, একইভাবে মিউচুøয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক করেছে ৬৫ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ১০৪ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ব্যাংক এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ৭৮ কোটি, গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০ কোটি, বেসিক ব্যাংক করেছে ১৩৬ কোটি, গত বছর ছিল ৬২ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক করেছে ৪৯০ কোটি, গত বছর ছিল ৩৬৫ কোটি, প্রাইম ব্যাংক করেছে ৪০৫ কোটি, গত বছর ছিল ৩৩৫ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংক করেছে ৩২৫ কোটি, গত বছর ছিল ২৯৫ কোটি, পূবালী ব্যাংক করেছে ২৮০ কোটি, গত বছর ছিল ২৮৪ কোটি, ইউসিবিএল করেছে ২৮০ কোটি, গত বছর ছিল ২২৬ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক করেছে ২৫০ কোটি, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক এবার পরিচালন মুনাফা করেছে ২৪৫ কোটি, গত বছর ছিল ২২০ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক করেছে ২৩০ কোটি, গত বছর ছিল ২৫০ কোটি, ব্যাংক এশিয়া করেছে ২১৫ কোটি, গত বছর ছিল ২১৪ কোটি, এনসিসিবিএল করেছে ২০১ কোটি, গত বছর ছিল ১৮৫ কোটি, এবি ব্যাংক করেছে ২০০কোটি, গত বছর ছিল ২০০ কোটি, ঢাকা ব্যাংক করেছে ১৯৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৮১ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক করেছে ১৮৫ কোটি, গত বছর ছিল ১৪০ কোটি, ওয়ান ব্যাংক করেছে ১৮০ কোটি, গত বছর ছিল ১৬৪ কোটি, সিটি ব্যাংক করেছে ১৮০ কোটি, আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংক করেছে ১৭৭ কোটি, গত বছর ছিল ১৪০ কোটি ও উত্তরা ব্যাংক বছরের প্রথমার্ধে পরিচালন মুনাফা করেছে ১৭০ কোটি, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পরিচালন মুনাফা প্রকাশের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফা প্রকাশ করতে পারে না। এ বিধিনিষেধ এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে। এসইসি মূল্য সংবেদনশীল বিবেচনায় এ তথ্য প্রকাশ করতে দিতে চায় না। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে যারা প্রতিনিয়ত কেনাবেচা করেন এবং যাদের হাতে কোনো ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, তারা ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমেই এ তথ্য আগেভাগে পেয়ে থাকেন। সে ড়্গেত্রে সংবাদপত্রে তথ্য প্রকাশিত হলে সব বিনিয়োগকারী একই তথ্য পেতে পারেন।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী পরিচালন মুনাফা প্রকাশ একটি সাধারণ নিয়মের বিষয়। তবে নিট মুনাফাই ব্যাংকের প্রকৃত আয়। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরড়্গণ এবং কর (৪২·৫ শতাংশ) বাদ দিয়ে নিট মুনাফার হিসাব হয়। উপরন্তু প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্য-উপাত্ত কিছুটা কমবেশি হতে পারে। কেননা কোনো কোনো ব্যাংকের জুন হিসাব শেষ হলেও এর অনেক ধরনের হিসাব চূড়ান্তô করতে আরো কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

ফলে এতে মুনাফার টাকা কমে বা বেড়ে যেতে পারে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীকে অপেড়্গা করতে হয় নিট বা প্রকৃত মুনাফার হিসাব পাওয়া পর্যন্তô।

সব মিলিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও অধিকাংশ ব্যাংক রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে সড়্গম হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিপর্যয় নেমে না এলে পরিচালন মুনাফার পরিমাণ আরো বাড়তো। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ড়্গেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নমনীয় মনোভাবের কারণে পুঁজিবাজার যেমন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সড়্গম হবে, ঠিক তেমনি বছর শেষে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশিস্নষ্টরা।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info, dse, cse, dhaka stock exchange

প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।


প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশপ্রেম এবং চারপাশের বাস্তবতা

Probashi

প্রবাসী

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রবাসী পক্ষে দেশকে না দেখে কোনো উপায় নেই। প্রথম কথা এই যে, প্রবাসী মাত্রেই স্বদেশবাসী, দেশ তার সঙ্গে সঙ্গে থাকে, স্মৃতিতে জ্বলে, অনুভবে লুকিয়ে রয়, দৃষ্টিভঙ্গিতেও ধরা পড়ে। দেশে বাস করে দেশকে উপেক্ষা করা বরং সহজ, প্রবাসে থেকে দেশকে না দেখার তুলনায়। দ্বিতীয় সত্য এই যে, বিদেশে এসে খোঁজ পাওয়া গেছে নতুন আলোর। খোঁজ পাওয়া নয় তো, অনেক ক্ষেত্রেই আলোটা সঙ্গী হয়ে থাকে সর্বক্ষণ। সে আলো দেশকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।

তৃতীয় ঘটনা এমনতর যে, ভালো দৃশ্য যেমন তেমন, খারাপ দৃশ্য চোখ কাড়ে না হয়তো কিন্তু চোখে টেনে নেয় ঠিকই। ফুলের টব ও আবর্জনার বালতি পাশাপাশি থাকলে আবর্জনাই দেখি প্রথমে। দৃশ্য তো আছেই; গন্ধটাও কম নয়। দেশে ফিরলে প্রবাসী প্রথমে যা দেখে তা হলো ভিড়। আগেও ছিল, কিন্তু সে ভিড় আরো বেড়েছে। উপচে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে দেখা হয় অরাজকতাও। নানা ধরনের দুর্বৃত্ত ওঁৎপেতে রয়েছে। ধরবে, জব্দ করবে, ঠকাবে।

কোনো মতে পথে বের হয়ে আসতে পারলে দেখবে সে বৈষম্য। বৈষম্য পুরাতন ব্যাপার, কিন্তু তার মনে হবে যে, সেটা বেড়েছে। সত্যি সত্যি তো বেড়েছে, না দেখে উপায় কী। এই বৈষম্য রাস্তায় চোখে পড়বে, নিজের ঠিকানায় পৌঁছলেই টের পাওয়া যাবে। পরিবার ভেঙে গেছে, ক্ষুদ্র এক অংশ ওপরে গেছে উঠে, অপরাংশ, সেটাই বড়, নেমে গেছে নিচে। দেখবে সে তথ্যপ্রযুক্তির প্রাচুর্য ঘটেছে। মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, বিদেশে যা দেখেছে, এখানেও পাবে দেখতে।

কিন্তু এদের প্রাচুর্য অভাব দূর করেনি মানুষের, যা করেছে তা হলো বৈষম্য বৃদ্ধি। অন্তর্গত বৈষম্যকে আরো প্রকটিত করে তুলেছে। না দেখে উপায় থাকবে না। সর্বত্র ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় চলে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে, এ খবর জানা আছে প্রবাসীর। দেখবে সে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা পেতে হলে যেতে হবে প্রাইভেট ক্লিনিকে। দেখবে সে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সঙ্কুচিত, প্রাইভেট কারের দাপটে। আর সেই সব গাড়ি যে পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ছে তা শারীরিকভাবে পর্যুদস্ত করে দেয় মানুষ ও গাছপালাকে।

বিদেশে প্রবাসীদের জন্য সমস্যা মাতৃভাষা চর্চা করা। এখানে এসে দেখবে ধনী ঘরের ছেলেমেয়েরা মাতৃভাষা ভুলতে চলেছে। এ কেমন ঘটনা, ভাববে সে। বিদেশে আমরা আতঙ্কে থাকি মাতৃভাষা ভুলে যাব বলে, আর এখানে দেখেছি মাতৃভাষা ভোলা যায় কী করে তার জন্য জীবনপণ চেষ্টা। শিক্ষার প্রধান যে ধারা সেই বাংলা মাধ্যমিক ব্যবস্থায় দেখবে সে যে নকল বেড়েছে পরীক্ষায়। শুনবে শ্রেণীকক্ষ থেকে পড়াশোনা উঠে গেছে; যা হওয়ার হয় কোচিং সেন্টারে। প্রবাসীরা দেখেছে পুঁজিবাদী বিশ্বে নৈতিকতার প্রশ্নটি বড় জরুরি হয়ে উঠেছে। পুঁজিবাদীরা নানা অপকর্ম করে, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কোনো প্রকার সামাজিক দায়িত্ব নিতে চায় না। প্রবাসী বাঙালি কেউ কেউ ভাবে প্রতিকার রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষায়। কিন্তু প্রবাসী জানে সে শিক্ষা স্কুল শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না, বড়জোর পরিপূরক হওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রবাসী দেখবে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার বেড়েছে; দেখে সে চিন্তিত হবে।

Probashi

লস এঞ্জেলেস এ প্রবাসীদের মেলা


শিক্ষা তো শিক্ষার্থীকে আধুনিক করবে। তাকে দক্ষতা দেবে, বাড়াবে তার মানমর্যাদা। এ কথা তো সত্য, মাদ্রাসাতে প্রধানত যায় গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরাই। কেননা, সেখানে খরচা কম। আর যায় কিছুটা অবস্থাপন্ন ঘরের বুদ্ধিবৃত্তিতে কম অগ্রসর সন্তানরা। তারা সেখানে গিয়ে যে শিক্ষা পায় তাতে তাদের জাগতিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না, বরং আরো খারাপ হয়, তাদের শিক্ষা অর্থনৈতিকভাবে তাদের এগিয়ে দেয় না। প্রবাসীর চোখে এটা ধরা পড়ে বেশ সহজেই যে, গরিব ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসা শিক্ষা দেয়া আসলে গরিব মানুষকে গরিব করে রাখার ষড়যন্ত্র। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় এটা যে, গরিব টেরই পায় না যে এটা তার সঙ্গে শত্রুতা মাত্র, সে ভাবে তার উপকার করা হচ্ছে, তাকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী দেখবে এই বিপরীত ঘটনাও যে, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য যারা উচ্চ হারে সরকারি ব্যয়ের বরাদ্দ দেয়, তাদের কোনো সন্তান-সন্ততি মাদ্রাসায় পড়ে না।

প্রবাসীর মনে এই দুশ্চিন্তা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পীড়াদায়ক হয়ে দেখা দেবে যে, এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে কিনা। এর ঐক্যটা কোথায়? না, ঐক্য সে খুঁজে পাবে না। দেশপ্রেম সে প্রবাসীদের মধ্যে যতোটা দেখেছে, দেখে উৎফুল্ল হয়েছে, দেশে ফিরে অনেক বাঙালির মধ্যেই তা দেখতে পাবে না, না পেয়ে দমে যাবে। টের পাবে সে যে, স্বদেশীদের অনেকেই তাকে ঈর্ষা করছে। বলছে খুব ভালো আছো ভাই। কিভাবে যাওয়া যায় তার ফন্দি-ফিকির তারা জানতে চাইছে। ধাক্কা খাবে প্রবাসী এটা দেখে যে, সে যাদের ঈর্ষা করে তাদের কাছেই সে পাত্র হচ্ছে ঈর্ষার। তাতে তার ব্যক্তিগত অহমিকা বাড়ছে ঠিকই কিন্তু সমষ্টিগত ভবিষ্যৎটা তার কাছে উজ্জ্বল মনে হবে না।

সবাই বলবে দেশে নিরাপত্তা নেই। সরকার যে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অস্ত্র ও বোমার ব্যবহার বাড়ছে। এমন জিনিস আগে এ দেশে ছিল না। অপরাধী ধরা পড়ছে না। আর ধরা পড়ছে না বলেই অপরাধ বাড়ছে। আসল অপরাধ সুযোগ প্রাপ্তরাই করে থাকে। করে ক্ষমতার ছত্রছায়ায়। আর সে ক্ষমতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি দলের। সন্ত্রাস মূলত রাজনৈতিক এবং তা ঘটে রাজনীতির স্বার্থে এবং পৃষ্ঠপোষকতায়। ভাড়াটে খুনিও পাওয়া যাচ্ছে অল্প দামেই। পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে এ দেশের মানুষের কখনই কোনো আস্থা ছিল না। ভয় ছিল। কিন্তু সেই আস্থাহীনতা ও ভীতিও এখন যে পর্যায়ে গেছে সেটা আগে কখনো দেখা যায়নি।

প্রবাসী শুনবে কৃষকের দুর্দশার কথা। ফসল খারাপ হলে কৃষকের মাথায় বাজ পড়ে। সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু শুনবে সে যে বাম্পার ফসল হলেও কৃষকের সমূহ সর্বনাশ। টমেটো পচনশীল। তা ধরে রাখা যায় না। সেজন্য উত্তরবঙ্গে এমনও ঘটনা ঘটেছে যে এক মণ টমেটো বিক্রি করে কৃষক ১ সের চাল কিনে ঘরে ফিরেছে। বোরো ধান খুব ফলেছে। তাতে কৃষক বসে গেছে মাথায় হাত দিয়ে। যে ধান তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এই খরচের মধ্যে কৃষকের শ্রমের হিসাবটা নেই। ব্যাপার দাঁড়াচ্ছে এই যে, কৃষক যদি নিজের ক্ষেত্রে ধান না চাষ করে অন্যের ক্ষেত্রে দিনমজুরি খাটতো তাহলে তার উপকার হতো বেশি। খাদ্যে গর্বিত স্বয়ংসম্পূর্ণতা শীর্ণ কৃষকের দীর্ঘশ্বাসে পুষ্ট বটে।

লিটল বাংলাদেশ

লস এঞ্জেলেস এ লিটল বাংলাদেশ


প্রবাসী শুনতে পাবে এবং দেখবেও যে, দেশের নদী-খাল, বিল, পার্ক, খোলা মাঠ সব ব্যক্তিগত হয়ে গেছে। তার জানা আছে এটা যে, একাত্তর সালে এ দেশে হানাদাররা এসেছিল বাইরে থেকে। তারা ছিল শত্রু, তাদের আচরণ ছিল দৈত্যের মতো। তারা মানুষ মেরে, বাড়িঘর পুড়িয়ে, ধর্ষণ করে, সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার এসে দেখবে সে যে, বিদেশি হানাদাররা গেছে চলে ঠিকই, কিন্তু দেশী হানাদাররা তৎপর হয়ে উঠেছে মহোৎসাহে, তারা দৈত্য নয় হয়তো তবে রাক্ষস ও শৃগাল বটে যা পায় খেয়ে ফেলে এবং খাওয়াতে কোনো বিরতি নেই, ক্লান্তি নেই। দেখতে পাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। বৃদ্ধি করা উচিত ছিল রেল লাইন, সেটা এক ইঞ্চি বাড়েনি বরং কমেছে। বাড়ানো উচিত ছিল নৌপথের সুবিধা। সেটা এক তিল বাড়েনি। বেড়েছে বাস, সড়ক ও সড়কের দুর্ঘটনা। সড়ক নির্মাণ করলে সুবিধা ঠিকাদারদের, সুবিধা বাস-ট্রাক মালিকের। সুবিধা ওসবের বিদেশি বিক্রেতার স্থানীয় এজেন্টের। সেই সুবিধারই পাকা বন্দোবস্ত মানুষের মৃত্যু বিনিময়ে।

বিদেশ থেকে প্রবাসী শুনে এসেছে যে, বাংলাদেশ গ্যাস ও তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু তাতে বাংলাদেশের বিপদের আশু সম্ভাবনা। কেননা, তা বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির কাছে। তারা আমাদের গ্যাস ও তেল তাদের নিজেদের স্থির করা দামে কিনবে এবং পরে তা আন্তর্জাতিক দরে তাদের কাছ থেকেই আবার আমরা কিনে নেব। অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্য। সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কার অবস্থা।

সমুদ্র বন্দর হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। বাংলাদেশে বন্দর বলতে আসলে একটাই। চট্টগ্রামে। প্রবাসী শুনবে সেটা ধ্বংসের ব্যবস্থা হচ্ছে বিদেশীদের পাল্টা বন্দর তৈরি করার সুযোগদানের মাধ্যমে। কারা দিচ্ছে? আবার কারা, ওই দেশী লুণ্ঠনকারীরা। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদদৌলা লড়েছিলেন উপনিবেশবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তারপর ব্রিটিশ শাসনকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। ব্রিটিশ গেছে, কিন্তু উপনিবেশ যায়নি। যে জন্য পাকিস্তানি শাসন আমলে আমাদেরকে লড়াই করতে হয়েছে। আজকে দেশ স্বাধীন। কিন্তু প্রবাসী দেখবে মনুষের মুক্তি তো দূরের কথা দেশের স্বাধীনতাও আসেনি। লগ্নিপুঁজি ও মুক্তবাজার দেশ দখল করে ফেলেছে। ফলে বড় রাষ্ট্র ছোট হয়েছে ঠিকই কিন্তু রাষ্ট্রের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার মতাদর্শ ও সংগঠন দুটোই পুঁজিবাদী ও আমলাতান্ত্রিক। ব্রিটিশ আমলেও এ রকম ছিল, পাকিস্তান আমলেও তাই, এখনো অধিকাংশ সেই রকমই। পরিবর্তন যা তা নামে।

ব্রিটিশ গেছে, পাঞ্জাবি গেছে, এখন এসেছে বাঙালি। বাঙালি শাসক আগের শাসকদের মতোই লুটপাট করে। তবে একটা তফাৎ আছে, আগেকার শাসকরা জানতো তারা বিদেশি, তাই অল্প হলেও ভয়ে ভয়ে থাকতো, এখনকার শাসকদের সেই ভয়টা নেই, কেননা তারা স্বদেশী। এরা লুণ্ঠন করছে আরো নির্মমভাবে। তাদের জন্য দায় নেই কোনো জবাবদিহিতার এবং অবাধে এই লুণ্ঠনই হচ্ছে তাদের রাজনীতি। যে জন্য সর্বত্র এমন নৈরাজ্য, নিরাপত্তার এমন অভাব।

নির্বাচন আসলে হচ্ছে দুইদল ডাকাতের মধ্যে লড়াই। তাই তো নির্বাচন আসছে দেখলে মানুষ কিছুটা ভীত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের যে প্রস্ত্ততি তাতে উলুখাগড়াদেরই বিপদ। কে জিতবে, কে হারবে তাতে জনগণের কিছু আসবে যাবে না। তাদের অবস্থা আরো খারাপ হতেই থাকবে। লুণ্ঠনকারীরা তাদের রেহাই দেবে না। প্রবাসী যেটা দেখতে না পেয়ে পীড়িত হবে তা হলো প্রতিরোধ। লুণ্ঠন ব্রিটিশ আমলে ছিল, পাকিস্তান আমলেও ছিল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধও ছিল। এখন সেটা নেই। হতাশার কারণ রয়েছে সেখানেই। অনুৎপাদক লুণ্ঠনকারীরা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকে। এ দলে তারা, ও দলেও তারাই। জনগণ কোনো বিকল্প পাচ্ছে না। লুন্ঠনের বাইরে কোনো আদর্শবাদিতা নেই। প্রবাসী দেখবে এটা। দেখে দুশ্চিন্তায় পড়বে। প্রতিরোধ যে একেবারেই নেই তা অবশ্য নয়। আর শুনবে সে এবং আশা করবে যে প্রতিরোধটা শক্তিশালী হোক, মানুষের মুক্তির যে রাজনীতিটা সামনে আসুক। এই রাষ্ট্রের চরিত্র বদল ঘটুক এবং রাষ্ট্রের আদর্শগত সাংগঠনিক বিন্যাসের পরিবর্তন মানুষকে মাুনষের মতো বাঁচতে দিক।

মূল প্রয়োজন ওই আদর্শবাদী রাজনীতির। দেশের মানুষ সেটা গড়ে তুলতে পারছে না। নেতৃত্ব আসবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকেই কিন্তু সে মধ্যবিত্তকে শ্রেণীচ্যুত হয়ে জনগণের সঙ্গে এক হতে হবে। জনগণের স্বার্থকে প্রধান করে তুলতে হবে। তার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ আবশ্যক। প্রবাসী বুঝবে সেটা। চাইবে ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে। যতোটা চাইবে ততোটাই ভালো। তার বাইরে তো কেবলই হতাশা।

দেশে এখন দেশপ্রেমের খুবই অভাব। প্রবাসী বাংলাদেশী পীড়িত হয়, দেশে ফিরে যখন সে অভাব দেখে এই দেশপ্রেমের। প্রবাসী মাত্রেই যে দেশপ্রেমিক তা নিশ্চয়ই নয়। কেউ কেউ আছে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু অধিকাংশই দেশের কথা ভাবে, দেশের জন্য তাদের মন কাঁদে, দেশের দুর্দশা দেখে তারা পীড়িত বোধ করে। দেশের রাজনীতিতে মীর জাফরদের উৎপাতে প্রবাসী টের পায়, টের পেয়ে তার দুঃখ বাড়ে। কিন্তু প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।প্রবাসীদের পক্ষে ভাবার বিষয় হচ্ছে এ লড়াইয়ে তারা কোনো ভূমিকা নিতে পারে কিনা। কেবল টাকা পাঠালেই যে দেশ বদলাবে না তা তো বোঝাই যাচ্ছে।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush

লিটল বাংলাদেশ লস এঞ্জেলেস এর প্রথম অফিশিয়াল কার্য্যক্রমে অভূতপূর্ব সাড়া।

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা! একটি ব্যক্তিগত খতিয়ানঃ


শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

আরিফুল ইসলামঃ পুঁজিবাজারে আসা নতুন বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণরূপে অথরাইজড নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কারণ নতুন বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশেরই বাজার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা অথরাইজডদের পরামর্শ অনুযায়ী বিনিয়োগ করছেন বলে বাজার সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাউজগুলোতে নতুন মুখের আনাগোনা এবং অথরাইজডদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ার প্রবণতা বাড়ছে।

এ ব্যাপারে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী বলেন, পুঁজিবাজার একটি বিশাল ড়্গেত্র। এ সম্পর্কে জানার কোনো শেষ নেই। আমরা বেশকিছু দিন ধরে বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পরও নিজেদের অভিজ্ঞ দাবি করতে পারি না। আর নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য তো এটা গভীর সমুদ্র, যেখানে সাঁতার শিখতে হলে হাবুডুবু খেতেই হবে। যে কারণে নতুন বিনিয়োগকারীরা অথরাইজডদের দেয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করে থাকেন। বিনিময়ে অথরাইজডদের কমিশন নেয়ার সংস্ড়্গৃতিও গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। তবে অনেক ড়্গেত্রে অনভিজ্ঞ অথরাইজডদের কবলে পড়ে নতুন বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ড়্গতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ব্যাপারে নতুন বিনিয়োগকারী আনোয়ার বলেন, মার্কেট সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকায় আমি কখনো আইপিও আবেদন করিনি। কিন্তু আমি শেয়ার ব্যবসায় আগ্রহী। এ জন্য আমাকে অথরাইজডদের সাহায্য নিতে হয়। হাসান নামে অপর এক বিনিয়োগকারী বলেন, বেকারত্ব দূর করার জন্য আমি শেয়ার ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। কিন্তু মার্কেট সম্পর্কে ধারণা না থাকায় আমি পুরোপুরি অথরাইজড নির্ভরশীল। কারণ আমার শেষ সম্বল নিয়ে শেয়ার ব্যবসায় নেমেছি। আর এর মাধ্যমেই আমাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। তাই লোকসান এড়াতে আমি অথরাইজডদের সাহায্য নিচ্ছি। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিকিউরিটিজ হাউজের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অথরাইজডরা শুধু শেয়ার বাই-সেলের ড়্গেত্রে বিনিয়োগকারীদের অর্ডার অনুসরণ করবে। এছাড়া অন্য দায়িত্ব তাদের হাতে ন্যস্তô করা হয়নি। তবে অনুরোধ এড়াতে না পেরে তাদের অনেক সময় নতুন বিনিয়োগকারীদের কোনো বিশেষ শেয়ার কেনার পরামর্শ দিতেও দেখা যায়। এড়্গেত্রে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই বিচার বিশেস্নষণ করে ওই শেয়ারে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্তô নিতে হবে।

যেহেতু পুঁজিবাজার খুব সেনসেটিভ জায়গা। তাই এ সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এ কারণেই অসাধু চক্রগুলো ফায়দা লুটতে পারছে। ফলে প্রায়ই বিপদে পড়তে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বাজার সংশিস্নষ্টরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, বিনিয়োগের পূর্বে নতুন বিনিয়োগকারীদের উচিত অন্তôত কিছুদিন হাউজগুলোতে গিয়ে লেনদেন পর্যবেড়্গণ করা এবং শেয়ার বিষয়ক বিভিন্ন কর্মলালায় অংশ নেয়া।
——————————-

শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি অ্যাকাউন্টের হালঃ
৫ মাসে কোটি টাকার ও বেশী আর্থিক ক্ষতির খতিয়ানঃ
বিনিয়োগে দয়া করে সতর্ক হোন। অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নাই।
– জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস

শেয়ার বাজার

শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত একটি অ্যাকাউন্টের হালঃ


শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত আরেকটি অ্যাকাউন্টের হালঃ


আমার শেয়ার মার্কেট এ হাতেখড়ি এভাবেই শুরু

আমার শেয়ার মার্কেট এ হাতখড়ি এভাবেই শুরু

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, শেয়ার মার্কেট

ভারত থেকে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিআরটিসি: সাপস্নায়ার্স ক্রেডিটের জালে বাংলাদেশ


সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটের জালে বাংলাদেশ

আদিব ফয়সাল

সাপস্নায়ার্স ক্রেডিট বা সরবরাহকারী ঋনের জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাংলাদেশ। আশির দশকের চেয়ে সাপস্নায়ার্স ক্রেডিটে ঋণ নেয়ার হার কমলেও তা একেবারে বন্ধ হয়নি। সরবরাহকারী ঋণ বা সাপস্নায়ার্স ক্রেডিটকে বলা হয় কঠিন শর্তের ঋণ। এ ধরণের ঋনের সুদহার বেশি থাকে, পরিশোধের সময়সীমা থাকে কম, পাশাপাশি ঋনের টাকা খরচে পণ্য কিনতে হয় ঋণদানকারী দেশ থেকে। ফলে খুব কম দেশই এ ধরণের ঋণ নিতে আগ্রহী হয়।

এছাড়া ঋণদাতা দেশ থেকে পণ্য ও যন্ত্রপাতি কিনতে হয় বলে এর মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ফলে নানা ভাবে দুর্নীতির অভিযোগও উঠে। কিন্তু বাংলাদেশ বরাবর সরবরাহকারী ঋণ নিতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৯ সালের জুন পর্যন- বাংলাদেশ ৯৪ বার সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে। এর পর সর্বশেষ বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাকেও বলা হচ্ছে সরবরাহকারী ঋণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত ’বৈদেশিক সম্পদ প্রবাহ’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন পর্যন- ২১টি দেশ এবং সংস্থা থেকে সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে চীন থেকে। ২০ বার ঋণ নেয়া হয়েছে চীন থেকে। ভারত থেকে নেওয়া সরবরাহকারী ঋণের সংখ্যা ১৮ বার। রাশিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ বার এবং নেদারল্যান্ড থেকে ৮ বার।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ প্রথম সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছিলো অস্ট্রিয়া থেকে। সিলেট পাল্প মিল চালুর জন্য এই ঋণ নেয়া হয়। এরপর ঋণ নেয়া হয় মস্ড়্গো থেকে তখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জন্য পুরাতন জাহাজ কিনতে ১৯৭৩ সালে ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলার ঋণ নেয়া হয়। ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ সূদহারে এই ঋণ পরিশোধ করতে হয় পাঁচ বছরে।

চীন থেকে প্রথম সাপস্নায়ার্স ক্রেডিট নেওয়া হয় ১৯৮৪ সালে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) চারটি বস্ত্রকলের জন্য ৯ আগস্ট চারটি চুক্তি করে। বিটিএমসি ১৯৮৬ সালে আবারও চীনের কাছ থেকে চারবার সরবরাহকারী ঋণ নেয়। সব কটি ঋণের ক্ষেত্রে সুদহার ছিল ৭ শতাংশ। তবে প্রথম চারটি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে দুই বছরের বাড়তি সময়সহ আট বছরে, আর পরের চারটি ঋণ নয় বছরে। এরপর থেকে চীন থেকে সরবরাহকারী ঋণ নেয়া অব্যাহত ছিলো। বিদুøত খাতের জন্য চীন থেকে পাঁচবার ঋণ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদুøৎকেন্দ্র নির্মাণ, ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন, সারকারখানা এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি প্রকলের জন্য একাধিকবার সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয় চীন থেকে। এসব ক্ষেত্রে সুদহার ছিল সাড়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে। সব মিলিয়ে চীন থেকে সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ডলার। এর মধ্যে এখন পর্যন- বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ১০ কোটি ৭২ লাখ ৩২ হাজার ডলার।

ভারত থেকে বেশির ভাগ সরবরাহকারী ঋণ নেয় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে পরিবহন খাতের জন্য ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিআরটিসি। ভারত থেকে প্রথম সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া শুরু ১৯৭৪ সালে। এ বছরের ১৬ মে চারটি ঋণচুক্তি করা হয়েছিল। ভারত থেকে নেওয়া প্রথম সরবরাহকারী ঋণ ছিল এক কোটি ৮৩ লাখ ৬৪ হাজার ভারতীয় রুপি। এ পর্য- ভারত থেকে নেওয়া হয়েছে ৯২ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার রুপি বা ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ৯২ কোটি নয় লাখ ৩৬ হাজার রুপি বা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ডলার। ভারতের পর রাশিয়া থেকেই সরবরাহকারী ঋণ সবচেয়ে বেশি এসেছে। আর এর অধিকাংশ ঋণই নেওয়া হয়েছে আশির দশকে, এরশাদের সময়ে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বা এখনকার রাশিয়া থেকে ১০ বারই সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয়েছে বিদুøৎ খাতের জন্য। এসব ঋণের সুদহার ছিল ৩ থেকে ৪ শতাংশ এবং পরিশোধ করতে হয়েছে নয় থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। রাশিয়া থেকে নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৩৮ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। এর মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে ৩৭ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার।

রাশিয়া থেকে প্রথম ঋণ নেওয়া হয় ১৯৮১ সালের ১৬ সেপেম্বর। ঘোড়াশাল বিদুøৎকেন্দ্রের জন্য নেওয়া হয় সাত কোটি পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ডলার। ১৯৮৩ সালে এই ঘোড়াশালেরই আরেকটি ইউনিটের জন্য নেওয়া হয় সাত কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ডলার। রাশিয়া থেকে ১০ বার নেওয়া ঋণের মধ্যে নয়বারই নেওয়া হয় ঘোড়াশাল বিদুøৎকেন্দ্রের জন্য, একবার নেওয়া হয় সিদ্ধিরগঞ্জ বিদুøৎকেন্দ্রের জন্য। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০০০ সালে নেওয়া ঋণের অর্থ এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়া অষ্ট্রেলিয়া, সাবেক চেকোশেস্নাভেকিয়া থেকে বাংলাদেশ এধরনের ঋণ নিয়েছে। নেদারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ সরবরাহকারী ঋণ নেয় আটবার। বিমান চলাচলে ফকার কেনা এবং শুরু করে বস্ত্রস্ত্র ও চামড়াশিলের জন্য এসব ঋণ নেওয়া হয়। ১৯৭৮ থেকে শুরু করে ১৯৮৯ সালের মধ্যে নেওয়া এসব ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, ৫ থেকে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন-। পরিশোধ করতে হয়েছে ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। সব মিলিয়ে এই দেশটি থেকে নেওয়া হয় পাঁচ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ডলার। নরওয়ে, উত্তর কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, রুমানিয়া, যুক্তরাজ্য এবং সুইডেন থেকেও বিপুল অঙ্কের সাপস্না্‌য়ার্স ক্রেডিটে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন যে অবস্থানে তাতে সাপস্নায়ার্স ক্রেডিটে ঋণ নেয়ার আর কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বরং এই ঋনের জাল থেকে বেরিয়ে আসার এখন সময়। কারণ বিশ্বব্যাংক এডিবির মতো প্রতিষ্টান বাংলাদেশকে ঋণ দিতে হচ্ছে। এ কারনে ভারত থেকে ১০০ কোটি ডলারের ঋনের সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী দেশগুলো সব সময় এই ধরনের ঋনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়। কারণ সূদের অঙ্কের পাশাপাশি নিজ দেশ থেকে পন্য কেনার লাভ থাকে। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান চীনের সাথে সাপস্নায়ার্স ক্রেডিটের ঋনের সিদ্ধা- বাতিল করায় সে সময় চীন সরকারের সাথে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গিয়েছিলো। এ কারনে বাংলাদেশের এখন পর্যালোচনার সময় এসেছে এ ধরনের ঋনের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না।