লস এঞ্জেলেসে ষ্টেট আওয়ামী লীগের ইফতার ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন


লস এঞ্জেলেসে ষ্টেট আওয়ামী লীগের ইফতার ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন

একুশ নিউজ মিডিয়া,লস এঞ্জেলেস, ২৭ জুলাই :
লস এঞ্জেলেসে ইফতার সন্ধ্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪২তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
লস এঞ্জেলেসে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন
ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গত শনিবার লস এঞ্জেলেসের অলিম্পিক পুলিশ ষ্টেশন কম্যুনিটি সেন্টারে ইফতার মাহফিলে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মিয়া আবদুর রব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে দোয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সুস্থতা ও সাফল্য কামনা করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দুয়ার প্রসারিত করার লক্ষ্যে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নাই, আর সেই সন্ধিক্ষণে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অগ্রযাত্রাকে সুযোগ দিতে প্রবাসীসহ দেশবাসীকে আহ্বান জানান ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলম।

ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, নিজেদের মাঝে দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে আগামী নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।

দলের দুঃসময়ে যারা দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তাদেরকে সংগঠিত করে প্রবাসে-দেশে শক্তিশালী নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির উপর গুরুত্বারোপ করেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি সোহেল রহমান বাদল।

জন্মদিন উদযাপনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহাতাব আহমেদ টিপু, মিজানুর রহমান শাহীন, তোফাজ্জল কাজল, মোঃ হোসেন, শওকত চৌধুরী, মোঃ আলী, আকতার এইচ মিয়া, মোবারক হোসেন বাবলু, ফরিদ উ আহমেদ, শফিউল আলম বাবু, সৈয়দ এম হোসেন, জসীম আশ্রাফী, জিয়াউল ইসলাম, মোঃ হিলটন, তপন দেবনাথ, এম কে জামান, নাসির আহমেদ অপু, নিপা মোনালিসা, আতিক রহমান, মিঠুন চৌধুরী ও মমিনুল হক বাচ্চু প্রমুখ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় জন্ম হয় জয়ের, বিজয়ের পর তার নাম রাখেন নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তথ্য-প্রযুক্তিবিদ প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনের কেক কাটেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান সহ আগত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
২০১৩ ছবি লিঙ্কঃ http://goo.gl/mL3rVs

This slideshow requires JavaScript.


২০১২ জন্মদিনের ছবি ও নিউজঃ http://goo.gl/yNP3TI

Advertisements

লস এঞ্জেলেসে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান


This slideshow requires JavaScript.

লস এঞ্জেলেসে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

লস এঞ্জেলেস (একুশ নিউজ মিডিয়া): গত ১০ই অক্টোবর বুধবার লস এঞ্জেলেসের হিন্দু সম্প্রদায় চট্টগ্রামের পটিয়া ও কক্সবাজারের রামু, উখিয়ার মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবের প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে লস এঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কন্সুলেটের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ও কন্সুলেটে স্মারকলিপি প্রদান করে।

উইলশার সড়কে লস এঞ্জেলেস হিন্দু-বৌদ্ধ পরিষদ ও স্থানীয় কমিউনিটি নেতা-কর্মীরা শনিবার দুপর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানবন্ধন কর্মসূচি চলাকালে নেতৃবৃন্দরা কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। কমিউনিটির পক্ষ থেকে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিহার ও মন্দির বসতবাড়িতে ভাংচুর লুটপাট, অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও প্রবাসীদের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্ণবাসনের দাবি জানানো হয়। মানবন্ধন কর্মসূচি থেকে আমেরিকার আদলে হেইট ক্রাইম বিল পাশের জোর দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশে হিন্দুধর্ম্বাবলীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।Hindu community protest in Los Angeles Ekush News Media / BCNN

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে ডাঃ পরিতোষ মজুমদার, ডাঃ প্রদীপ চৌধুরী, ডাঃ তপন সরকার, অসীম ভৌমিক, অসিত শীল, দীপক মিস্ত্রী সহ অনেকে উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষে মিঠু বড়ুয়া, বাবু বড়ুয়া সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় কমিউনিটির লিডার মমিনুল হক বাচ্চু সহ হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি দল কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেনের সাথে মত-বিনিময় করেন। কন্সাল জেনারেল এই ন্যাকারজনক ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনায় আমাদের দেশের ভাবমূর্তি, ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। ডিপ্লোম্যাটিক কোরে আমাদের দেশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগে বাংলাদেশ সরকার বিব্রত ও লজ্জিত। সরকার দোষী ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘৃণিত কাজের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সরকার যথার্থ কার্য্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে।Hindu community protest in Los Angeles Ekush News Media / BCNN

লস এঞ্জেলেস কমিউনিটির অনেক সদস্যরা মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন সংগঠন, নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস (বাফলা) সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে উদ্ভূত ব্যক্তিগত এই উস্কানিমূলক কর্মকান্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকবার জন্য এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা ও দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।Hindu community protest in Los Angeles Ekush News Media / BCNN
Photo Courtesy: BCNN – Los Angeles

 

 

লস এঞ্জেলেসে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন


ভিডিও লিঙ্কঃ

ছবি লিঙ্কঃ
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151047784091897.456144.826936896&type=3&l=fa4ce0919b

লস এঞ্জেলেসে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন
একুশ নিউজ মিডিয়া,লস এঞ্জেলেস, ২৮ জুলাই : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪১তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে গত রাতে লস এঞ্জেলেসের গ্ল্যান্ডেল শহরে ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ তাঁর জন্মদিন উদযাপন করেছে।

এ উপলক্ষে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি ইফতারির পর স্থানীয় প্রবাসীদের উপস্থিতিতে ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলমের বাসভবনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনের কেক কাটেন।

ফারুক খান জয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, বাংলাদেশ নতুন নেতৃত্ব চায়। লস এঞ্জেলেসে আওয়ামী লীগের মাঝে নতুন-পুরাতনদের নিয়ে যে সমন্বয় গড়ে উঠেছে, সেই সমন্বয়ের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাত্ম হয়ে কাজ করে যাবার আহ্বান জানান।

ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানের মুখে এক টুকরো কেক তুলে দিয়ে জয়ের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।

জন্মদিন উদযাপনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোস্তাইন দারা বিল্লাহ, হাবিব আহমেদ টিয়া, মোঃ শামীম হোসেন, মাহাতাব আহমেদ টিপু, মিজানুর রহমান শাহীন, তোফাজ্জল কাজল, আলী আহমেদ প্যারিস, দিদার আহমেদ, চিন্ময় রায় চৌধুরী, সাঁতারু মোশারফ হোসেন, আমিন আলম পাপ্পু, এম কে জামান, আতিক রহমান, মিঠুন চৌধুরী, সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু ও মমিনুল হক বাচ্চু প্রমুখ।

এ সময় সবাইকে সজীব ওয়াজেদের জন্মদিনের কেক দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। ডাঃ রবি আলম ও মিসেস রবি সবাইকে ক্যালিফোর্ণিয়ায় প্রথমবারের মত সজীব ওয়াজেদ জয়ের শুভ জন্মদিন পালন করায় কমিউনিটির সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

অলিম্পিক গেমস-২০১২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সজীব ওয়াজেদ জয় এখন লন্ডনে রয়েছেন। তাকে ফোন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে সজীব ওয়াজেদের জন্ম হয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০১২


নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা- আমরা সবাই মুজিব সেনা
ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০১২
৮ জুলাই ২০১২, সন্ধ্যা ৫-১০
শ্যাটো রিক্রিয়েশনাল সেন্টার, লস এঞ্জেলেস
ভিডিও নিউজঃ
You are all cordially Invited at the Awami League Conference in California 2012

‘দলীয় নেত্রী’ ও দেশের ‘প্রধানমন্ত্রীর’ মধ্যে যে একটা গুণগত পার্থক্য থাকে তা অনেক সময়ই তিনি বিস্মৃত হয়ে যান


ক্ষুদ্রঋণ : প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে

আ বু ল আ ব্বা স

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ ও প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। এ ব্যাপারে ‘প্রথম আলো’ পত্রিকা তাদের এক সম্পাদকীয়তে বলেছে : ‘শেখ হাসিনা যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন তা অনিভিপ্রেত। তদন্তের আগেই কাউকে দোষারোপ করা যায় না।’ (৭ ডিসেম্বর) ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকাও এ বিষয়ে এক সম্পাদকীয়তে বলেছে : প্রধানমন্ত্রী ও মিডিয়ার একটি অংশ নরওয়ের টিভি চ্যানেলে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের সূত্র ধরে নোবেল বিজয়ী, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছে তা সব তথ্যকে বিবেচনায় এনে করা হয়নি। (৬ ডিসেম্বর) দৈনিক ‘সমকাল’ এক সম্পাদকীয়তে বলেছে : ‘ইতিমধ্যে ড. ইউনূস সম্পর্কে কোনো কোনো মহল থেকে এমন সব মন্তব্য করা হয়েছে, যা সমর্থনযোগ্য নয়। ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যকে এক ফুত্কারে অস্বীকার করব, সেটিও সমর্থনযোগ্য নয়। (৮ ডিসেম্বর)

প্রধানমন্ত্রীর আলোচ্য বক্তব্য নিয়ে অনেক স্থানে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। আমি অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যে অবাক হইনি। কারণ, তিনি এরকমই বলে থাকেন। ‘দলীয় নেত্রী’ ও দেশের ‘প্রধানমন্ত্রীর’ মধ্যে যে একটা গুণগত পার্থক্য থাকে তা অনেক সময়ই তিনি বিস্মৃত হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা উপলক্ষে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কেও ব্যঙ্গোক্তি ও চটুল ভাষায় সমালোচনা করে থাকেন। পাঠকের নিশ্চয় তা মনে আছে। রাজনীতিতে অনেক সময় ভাষা বা ভাবের ত্রুটি খোঁজা হয় না। তবু সেখানেও একটা পরিমিতি থাকা প্রয়োজন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা নোবেল বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে যে ভাষায় সমালোচনা করেছেন, তা শেখ হাসিনার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী পদের একজন নেতা দেশের কোনো সম্মানিত নাগরিক সম্পর্কে (রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক ছাড়া) ব্যক্তিগত পর্যায়ে অশোভন, অরুচিকর ভাষায় যে মন্তব্য করতে পারেন তা অনেকেরই কল্পনার অতীত ছিল। প্রধানমন্ত্রী কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কর্মসূচির সমালোচনা করতেই পারেন। প্রত্যেক নাগরিকেরই সেই অধিকার রয়েছে। কিন্তু সমালোচনার যে ভাষা তিনি ব্যবহার করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রী পদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শুধু ভাষা নয়, তিনি গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করেছেন, তাও তথ্যভিত্তিক নয়। তা কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মতলববাজ গবেষক বা সাংবাদিকের পক্ষে এ ধরনের অভিযোগ মানালেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য তা খুবই বেমানান ও অশোভন। প্রধানমন্ত্রী এমন একটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সম্পর্কে তির্যক সমালোচনা করেছেন, ঘটনাক্রমে সেই প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারে’ সম্মানিত, যা প্রকারন্তরে বাংলাদেশেরই গৌরব। সমালোচনা করার সময় প্রধানমন্ত্রী সেই তথ্যটিও বিস্মৃত হয়েছেন। আশা করি, নোবেল পুরস্কারের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ভুল ধারণা নেই। শুধু নোবেল পুরস্কার নয়, ড. ইউনূস সারা বিশ্বের জাতীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অসংখ্য পুরস্কার এবং পৃথিবীর নানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ৪৮টি সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি লাভ করেছেন। এসব ডিগ্রি তিনি কোনো সরকারি পদে থাকার সময় পাননি। ড. ইউনূসের মতো এত বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার খুব কম মানুষের ভাগ্যে জুটেছে। বিশ্বের বহু দেশের সাধারণ মানুষ এখন ‘বাংলাদেশকে’ চেনেন শুধু ড. ইউনূসের জন্য।

আমার ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. ইউনূসসংক্রান্ত এসব তথ্য জানেন না। বোধ হয় প্রধানমন্ত্রীর ধারণা, ড. ইউনূস সোনালী বা জনতা ব্যাংকের মতো আরেকটি সরকারি ব্যাংকের এমডি। তা না হলে তিনি ড. ইউনূস সম্পর্কে প্রকাশ্যে এই ভাষায় সমালোচনা করতে পারতেন না।
ড. ইউনূস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন। তিনি ভোট, হরতাল, মিছিল, সরকারি ব্যবসা, কমিশন বাণিজ্যের অংশীদার, কোনো সরকারি পদ ইত্যাদি থেকে অনেক অনেক দূরে। যেগুলো দেখভাল করা প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনে ড. ইউনূস তো কোনো বাধা নয়। তবু ড. ইউনূসের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রোশ কেন? খালেদা জিয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর আক্রোশের কারণ বোঝা যায়। এটা বোঝা যায় না।

‘গ্রামীণ ব্যাংক’ সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী সমালোচনামুখর। গ্রামীণ ব্যাংকও একটি নোবেল জয়ী প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর খুব কম ‘প্রতিষ্ঠানই’ নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। এই পুরস্কারে বাংলাদেশ সম্মানিত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সম্মানিত। অথচ সেই বিরল প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে তিনি যুক্তিহীনভাবে সমালোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান আক্রমণের টার্গেট ‘ক্ষুদ্রঋণ’। এটা খুব রহস্যময়। কারণ, সারা পৃথিবী বাংলাদেশের উদ্ভাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ’ নিয়ে প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত, অথচ এর জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এর সমালোচনায় মুখর। তিনি বলেন, ‘আমি এটা কখনোই সমর্থন করিনি। প্রতিবাদ করেছি।’ তিনি কেন একে সমর্থন করেননি, তার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক নেতার সমালোচনার মতো শুধু ঢালাও মন্তব্য পাওয়া যায়। রাজনৈতিক নেতারা রাজনৈতিক ইস্যুতে ঢালাও মন্তব্য করে থাকেন। এটা মোটামুটি সহনীয় হয়ে গেছে। কোনো সমালোচনার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত দেয়া রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রে নেই। (ব্যতিক্রম খুব কম) ঢালাও মন্তব্য করার মধ্যেই তাদের আনন্দ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ক্ষেত্রে অভ্যাসমত তাই করেছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা হয়তো ভুলে গেছেন ‘ক্ষুদ্রঋণ’ কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, ট্রানজিট বা টিপাইমুখ বাঁধের মতো। এটা বহুল পরীক্ষিত ও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত একটি অর্থনৈতিক মডেল। বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশের ১১০টি দেশে এই ‘গ্রামীণ’ মডেল অনুসরণ করা হয়। বিশ্বের বহু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও ফিন্যান্স শাস্ত্রে ‘মাইক্রো ফিন্যান্স’ পড়ানো হয়ে থাকে। এই মডেল নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। বহু বই প্রকাশিত হয়েছে। এটা ‘একটি বাড়ি ও একটি খামার’ এর মতো কোনো সরকারি কর্মসূচি নয়, যা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

ড. ইউনূস ‘গ্রামীণ’ আইডিয়ার মাধ্যমে একটি নতুন ব্যাংকিং মডেল উদ্ভাবন করেছেন, যার বৈশিষ্ট্য হলো : বিনা বন্ধকিতে গরিব মানুষকে ছোট অংকের ঋণ দেয়া ও প্রতি সপ্তাহে সুদসহ তা পরিশোধ করা। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী যেসব গরিব নারী ও পুরুষ সম্পদের অভাবে (কোলেটারেল) কোনোদিন ব্যাংকের কাছে ঋণ চাইতে পারেনি, তারা আজ ‘গ্রামীণ’ মডেলের বদৌলতে ঋণ নিয়ে আয়-উপার্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতে পারছেন। নিজের একটি ছোট বাড়ি করতে পেরেছেন। সবই ক্ষুদ্রঋণের জন্যই সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি কখনও বাংলাদেশের গরিব মানুষের, বিশেষ করে গরিব, বিত্তহীন নারীদের জীবনে এই পরিবর্তনের কথা শোনেননি? বাংলাদেশের গ্রামে কি আওয়ামী লীগের কোনো শাখা নেই? কোনো নেতা নেই? কর্মী নেই? তারা কি ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের (অন্যান্য এনজিওসহ) ভাগ্য পরিবর্তন নিজের চোখে দেখেননি? যদি দেখে থাকেন, তাহলে সেই গল্প দয়া করে আপনাদের নেত্রীকে বলবেন।

পৃথিবীর নানা দেশের সরকারপ্রধান ও নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশের গ্রামে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে গরিব নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন দেখে গেছেন। শুধু দেখার সময় হয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। মনে হয় বেগম খালেদা জিয়ারও দেখার সময় হয়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কি!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কয়েকটি সমালোচনার পয়েন্ট তুলেছেন। আমি এখানে একে একে তা নিয়ে আলোচনা করব।

১.প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গরিব মানুষের রক্ত চুষে খেলে ধরা খেতে হয়।’ অন্যান্য ব্যাংক বা এনজিওর কর্মসূচি ছাড়াও শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮৪ লাখ। দেশের সব এনজিও মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি মানুষ ক্ষুদ্রঋণ নেয়। এরা সবাই গরিব মানুষ। গ্রামীণ ব্যাংক এ পর্যন্ত (নভেম্বর ২০১০) ৫৭ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। এই ঋণ নিয়ে গ্রামের গরিব মহিলারা উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি ও বন, গৃহপালিত পশু ও মত্স্য, ব্যবসা, ফেরি ব্যবসা ও দোকানদারি ইত্যাদি কাজে খাটান। এর চেয়ে বড় কাজেও তারা ঋণের টাকা খাটান। যেমন : ট্রাক্টর ভাড়া দেয়া, মুরগির খামার, মাছ চাষ, স’মিল, ফার্নিচারের ব্যবসা, মুদি দোকান, মাছের আড়ত, কাপড়ের ব্যবসা, তেলের ব্যবসা ও ওষুধের দোকান ইত্যাদি। এই কাজগুলো করছেন গ্রামের বিত্তহীন নারী ও পুরুষ। যারা ঋণ নেয়ার আগে দু’বেলা ভাত খেতে পারতেন না। যাদের ছেলেমেয়েরা কখনও স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেনি। এখন গ্রামীণ ব্যাংকের ‘শিক্ষা ঋণ’ নিয়ে তাদের অনেকের ছেলেমেয়ে ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিংও পড়ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি এসব তথ্যে কোনো উন্নয়ন দেখতে পান না? নাকি পুরোটাই তার ভাষায় ‘ভোজবাজি’? গ্রামের গরিব মহিলাদের এই অবস্থার পরিবর্তনকে প্রধানমন্ত্রী এত ছোট করে দেখতে চান কেন? এই উন্নয়নকেই কি শেখ হাসিনা ‘গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া’ বলতে চেয়েছেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে গরিব নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা কি ‘রক্ত চুষে খাওয়া?’

দেশের তিন কোটি ঋণ গ্রহীতার মধ্যে হয়তো কেউ কেউ ঋণের টাকা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সবাই মূলধন ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হয় না। কিন্তু তিন কোটি ঋণ গ্রহীতার মধ্যে ৩০০ জনের ব্যর্থতাকে কি ক্ষুদ্রঋণের ব্যর্থতা বলা হবে?

২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষকে গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হয়েছে।’ কোন মানুষকে? গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়। গ্রামীণ ব্যাংক তো সেই স্তর পেরিয়ে এসেছে ৩০ বছর আগে। এখন গিনিপিগের প্রশ্ন আসছে কেন? তাছাড়া যে ব্যাংকের সদস্য সংখ্যা ৮৪ লাখ, সেখানে গিনিপিগ হবে কে?

৩. প্রধানমন্ত্রী নাম উল্লেখ না করে ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘নিজের আখের গোছাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন।’ ড. ইউনূস নরওয়ের টিভির কথিত অভিযোগে নিজের আখের গুছিয়েছেন কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে আশা করি। তবে আমার জানা মতে, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সরকারি স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন। ব্যাংকের গাড়িতে চড়েন, ব্যাংকের কোয়ার্টারে থাকেন। নোবেল পুরস্কারসহ যাবতীয় আন্তর্জাতিক পুরস্কারের টাকা ‘ইউনূস ট্রাস্টে’ দিয়েছেন। যে ট্রাস্ট গরিব মানুষের কল্যাণে নানা প্রকল্প নিয়ে থাকে। সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে নানা ‘সামাজিক ব্যবসা’ শুরু করেছেন। ড. ইউনূস উদ্ভাবিত ‘সামাজিক ব্যবসার’ অন্যতম শর্ত হলো : এই ব্যবসার মালিক কখনও ব্যবসা থেকে লাভ (ডিভিডেন্ট) নিতে পারবেন না। বিনিয়োগের টাকা ফেরত নিতে পারবেন। ব্যবসার লাভ থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হবে। নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করা হবে।

ড. ইউনূসের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নানা ‘গ্রামীণ কোম্পানির’ (গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত নয়) পরিচালনা বোর্ডের তিনি অবৈতনিক চেয়ারম্যান। এর একটিও ব্যক্তিমালিকানার প্রতিষ্ঠান নয়। এগুলো হয় সামাজিক ব্যবসা বা ট্রাস্ট কিংবা ফাউন্ডেশন। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে অবসর নিলে তিনি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ও অবসর সুবিধা ছাড়া আর কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না। অবশ্য বিশ্বজোড়া খ্যাতিও সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
এবার শেখ হাসিনা বলুন, ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ ও গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে কীভাবে নিজের আখের গোছাচ্ছেন?

৪. প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক জনগণের সম্পত্তি। অথচ এখন তাকে এমনভাবে কব্জা করা হয়েছে, এটা যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তি।’
গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা, পরিচালনা বোর্ড, অর্থের উত্স ইত্যাদি কোনো কিছু সম্পর্কেই শেখ হাসিনার পরিষ্কার ধারণা আছে বলে মনে হয় না। সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী যদি অর্থমন্ত্রী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে একটু আলাপ করে নিতেন, ভালো হতো। তারা অনেক দিন যাবত্ গ্রামীণ ব্যাংককে জানেন। জনসমক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ভুল তথ্য বা ধারণা দেয়া ঠিক নয়।

প্রকৃত তথ্য হলো : গ্রামীণ ব্যাংক সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিষ্ঠান। কারণ এর ৭৫ ভাগ মালিকানা এর শেয়ারহোল্ডারদের। বাকি ২৫ ভাগ সরকারের। একটি নির্দিষ্ট স্তরের গরিব না হলে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য হওয়া যায় না। বাংলাদেশে ৭৫ ভাগ মালিকানায় গরিব মানুষের আর কোনো প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার মনে হয় না। প্রধানমন্ত্রী কি জানেন, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হয়েও গরিবের মালিকানার এই ব্যতিক্রমী শর্তটি তিনি নিজেই যুক্ত করেছিলেন?

একজন সম্পাদক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলেছেন : ‘আগে গ্রামীণ ব্যাংকে ৬০ শতাংশ সরকারের মালিকানা ছিল। এখন তা ২৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে।’ মনে হয় সম্পাদক সাহেব এটা পছন্দ করতে পারেননি। সরকার যে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানাও ছেড়ে দিচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংক বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে, সরকারি ব্যাংকে পৃথক বেতন স্কেল দিয়েছে, এ ব্যাপারে সম্পাদক সাহেব প্রশ্ন করেন না কেন? নাকি তার এজেন্ডা শুধু গ্রামীণ ব্যাংক? আমরা তো জানি, নাগরিক সমাজের জনপ্রিয় দাবি হলো : সরকার কোনো রকম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। সরকার করবে নীতি ও মনিটরিং। প্রশ্নকর্তা সম্পাদক মনে হয় এখনও সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের যুগেই রয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী উত্তরে বলেছেন : ‘গ্রামীণ ব্যাংক যেন আজ ব্যক্তি সম্পত্তি।’ এ কথা প্রধানমন্ত্রী অবশ্য পরোক্ষভাবে ঠিকই বলেছেন। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা গরিব নারী পুরুষরাই এর মালিক। এরা গরিব হলেও ব্যক্তি তো। এই গরিব নারী ও পুরুষরা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক হলে শেখ হাসিনার আপত্তি কেন? কে বা কারা মালিক হলে শেখ হাসিনা খুশি হতেন? প্রধানমন্ত্রী কি এ কথা স্পষ্ট করে সাংবাদিকদের জানাবেন?

৫. প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিদেশ থেকে গরিব মানুষের (ভাগ্য বদলানোর) কথা বলে টাকা আনা হলেও তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এক সময় ইআরডির সচিব ছিলেন। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা তার সঙ্গে আলাপ করলে ভালো হয়। কোনো দাতা সংস্থা তাদের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে আর কখনও টাকা দেয় না। দাতাদের থাকে নিজস্ব অডিট ও মনিটরিং ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে ইআরডিরও রয়েছে পৃথক মনিটরিং। বিদেশের টাকা আনা ও খরচ করা খুব সহজ কাজ নয়। এটা রাজনৈতিক দলের চাঁদা সংগ্রহ নয়। যার কোনো রশিদ বা হিসাব থাকে না। এমনকি অডিটও হয় না।
আমার সন্দেহ, আমাদের কর্মব্যস্ত প্রধানমন্ত্রীকে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানানো হয়নি। তিনি হয়তো জানেন না গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯৮ সালের পর থেকে আর কোনো বিদেশি অনুদান গ্রহণ করেনি। কাজেই বিদেশ থেকে গরিব মানুষের অজুহাতে টাকা আনার অভিযোগ থেকে গ্রামীণ ব্যাংক এখন পুরোপুরি মুক্ত। প্রধানমন্ত্রী কি জানেন, বিশ্বব্যাংক বহু চেষ্টা করেও গ্রামীণ ব্যাংককে এক সময় টাকা দিতে পারেনি। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতি সপ্তাহে ২২৫ কোটি টাকা ঋণ দেয় কীভাবে? গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ দেয় তার সদস্য ও বহিরাগতদের কাছ থেকে সংগৃহীত আমানতের মাধ্যমে।

৬. প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্রঋণের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমি কখনও এর সমর্থন করিনি। বিরোধিতা করেছি।’
খুব ভালো কথা। ক্ষুদ্রঋণ একটি আইডিয়া, একটি মডেল। সবাই তা সমর্থন করবেন, এটা আশা করা উচিত নয়। সবাই কি সমাজতন্ত্র সমর্থন করেন? করেন না। সমর্থন বা বিরোধিতা নিয়ে বাদানুবাদের কিছু নেই। এটা ব্যক্তি অভিমত। বাংলাদেশের কয়েকজন অর্থনীতিবিদও ক্ষুদ্রঋণ সমর্থন করেন না। তাতে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুদ্রঋণ সমর্থন না করা বা বিরোধিতার একটি ভিন্ন তাত্পর্য রয়েছে। তা হলো : তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রধান নীতিনির্ধারক। নীতির প্রশ্নে তার স্ববিরোধিতা মানায় না। তিনি একদিকে বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ সমর্থন করেন না। অন্যদিকে তার সরকার নানা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, পিকেএসএফ, যুব মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়মিত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। তদুপরি গ্রামীণ ব্যাংকে রয়েছে সরকারের আংশিক মালিকানা। তার এক মন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের আর প্রয়োজন নেই।’ তাহলে এত সরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে কেন? বন্ধ করে দিলেই তো ভালো হয়। অন্তত আওয়ামী লীগ যত দিন ক্ষমতায় আছে, তত দিন ক্ষুদ্রঋণ দেয়া বন্ধ করা যেতে পারে। সেটাই হবে শেখ হাসিনার কথার সঙ্গে কাজের মিল। তা না হলে একে স্ববিরোধিতাই বলতে হবে।

সারা দেশে সম্ভব না হলেও আপাতত যেসব উপজেলা ও গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাদের উচিত, তাদের নেত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে সেই সব গ্রামে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া। সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ‘গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়ার’ এই ব্যবস্থা মেনে নেয়া ঠিক হবে না। সবখানে প্রচার করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গরিব নারীদের এই ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয়া হলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ ও ড. ইউনূস সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করেছেন, তা কতটা সত্য বা অসত্য, তা একমাত্র নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে। আমার এই সামান্য রচনা প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ সম্পর্কে একজন সাধারণ নাগরিকের পর্যবেক্ষণ মাত্র।

লেখক : একজন উন্নয়নকর্মী
তথ্যসূত্র : বিভিন্ন সংবাদপত্র, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকাশনা ও গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয়

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

বাপা-বেন সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার


নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার
পড়শী প্রতিনিধি

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

গত ১০ই অক্টোবর, ২০১০ বেন (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটয়ার্ক) নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ও কানেকটিকাট শাখার উদ্যোগে “নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বেনের এই তিন-রাজ্য শাখার সমন্বয়কারী তওফিক চৌধুরী সভাটি শুরু করেন ও বেনের বিশ্ব সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামকে সভাপতিত্ব করতে আহ্ববান জানান। ড. ইসলাম বলেন যে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি বেন ও বাপা কর্তৃক আয়োজিত আগামী ৮-ই জানুয়ারী , ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য “নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশ” শীর্ষক সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমটি হচ্ছে যানজট ও নগরায়নের অন্যান্য সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিভিন্ন অনভিপ্রেত বৈশিষ্টের প্রেক্ষাপটে বিচার করে একটি সামগ্রিক ও সুষম নগরায়ন নীতি প্রণয়ন করা। এ প্রসংগে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গ্রহণের চিন্তা করা হয়েছে, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে “সাময়িক উপশম” মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা,যেমন ট্র্যাফিক নীতির পরিবর্তন, ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে উড়াল-সড়ক বা পাতাল রেল, ইত্যাদি বিভিন্ন নতুন অবকাঠামোর নির্মাণ। এই উভয়বিধ পদক্ষেপই হয়তো প্রয়োজন, যদিও অবকাঠামো নির্মাণমূলক প্রকল্পগুলির যথাযথ নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের পরিবর্তন না হলে শুধু এই দুই ধরণের পদক্ষেপ দ্বারা যানজট সমস্যার স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান অর্জিত হবে না।

ড. ইসলাম জানা যে, জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য বাপা-বেন সম্মেলনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। ড. ইসলাম প্রবাসীদেরকে এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন কৌশল নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্ববান জানান।

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে অতিথিবৃন্দ

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সাও পাওলো শহর মেক্সিকো সিটির উদাহরণ অনুযায়ী একটা চক্রাকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে যার অধীনে “রাশ আওয়ারের” সময় গাড়ির লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী শহরের কিছু অংশে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতি শুরুতে শহরের যানজট ১৮% কমিয়ে দেয়। সাথে সাথে সাও পাওলো সাইকেল ট্রাফিকের জন্য অবকাঠামো নির্মান শুরু করে। রাজিয়া নাজমি বলেন, গণ-পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকায় হাঁটার জন্য ভাল ফুটপাথ, সাইকেলের জন্য পথ ও বিশেষ রিক্সা এলাকা সৃষ্টির প্রয়োজন, এবং এই কাজটা সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতায় সরকার করতে পারে।

পরবর্তী আলোচক ছিলেন ড. আদনান মোর্শেদ যিনি আন্তর্জাতিক নগরায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন সফল নগরায়ন তখনই সম্ভব যখন বিভিন্ন ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ নগরায়ন সমস্যার এই সন্ধিক্ষণকে ব্যবহার করে একটা দক্ষ, সুষম ও উপযুক্ত গণ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে। ফুটপাথ, সাইকেল পথ ও পানি পথকে সর্বোচ্চ ও উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে নগরায়নের সুন্দর অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান যে, সফল নগরায়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের সম্মিলন প্রয়োজন। ড. মোর্শেদ তাঁর যুক্তি শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপিত করেন।

প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, উন্নত নগরায়নের প্রকল্পগুলিকে স্বার্থান্বেষী মহলের মোকাবেলা করতে হবে, সেইজন্য এই সব প্রকল্পের গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

প্রফেসর রেহমান সোবহানও সঠিক নগরায়ন পদ্ধতির একটা মূল সমস্যা হিসেবে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের নিরসন না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারে যেখানে দশ থেকে বারো বছরের প্রয়োজন, সেখানে সরকারের আয়ু পাঁচ বছর। সময়ের এই অমিল সরকারকে নতুন কাজে হাত দিতে উৎসাহিত করে না। জমির উচ্চ মূল্যও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পথে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন যে সমস্ত অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে এখান ভাবা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিশ/পঁচিশ বছর আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্পের বাস্তবায়নের সাথে সাথে দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় সেরকম কাজগুলোও চলতে পারে। বাপা-বেন নগরায়ন নিয়ে যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ঢাকা শহরের যানজট

ঢাকা শহরের যানজট

অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই উৎসাহের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রের জন্য নীচের You-Tube ক্লিপটি দেখুনঃআমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের
কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,