বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ


বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ

ডঃ কাজী নাসির উদ্দীন

সম্প্রতি বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে মার্কিন সমাজের আচার ব্যবহারের অনুপ্রবেশ বিশেষভাবে লক্ষ্যগোচর হচ্ছে গত কয়েক বছর যাবত অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে মা দিবস আর ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মার্কিনী প্রথায় ছেলেবন্ধু (বয়ফ্রেন্ড) ও মেয়েবন্ধু (গার্লফ্রেন্ড) গড়ে উঠছে এই রকম বন্ধুত্বের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোন পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না অচিরেই হয়তো শুনতে পাবো যে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েই যুবক-যুবতীরা একই ছাদের নীচে বসবাস করছে ।

দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হিড়িক পড়ে গেছে এবং তরুণ-তরুণীরা বন্ধুত্বের দাবীতে বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে আর একে অপরকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে অপরিসীম আনন্দ উপভোগ করছে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকেও এই মার্কিনী অনুকরণের বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এখন বাংলাদেশের গায়ক-গায়িকাদের গানের সঙ্গে নাচ যোগ করে দিতে হয় অর্থাৎ নেচে নেচে গান না গাইলে সে গান জনপ্রিয় হয় না বসে বসে গান গাওয়াটাতো এখন অতীতের ব্যাপারে পর্যবসিত হয়েছে আমাদের দেশের সংগীত শিল্পীরা চিরকাল গলা আর হৃদয়াবেগের মিশ্রণে মনের আকুলতা প্রকাশ করে এসেছে দেহকে সেখানে টেনে আনার কোন প্রয়োজন দেখা দেয় নি অবশ্য আমি এ ব্যাপারে সচেতন, যে কোন সংগীত চর্চায় গলা ও হৃদয়ের সঙ্গে দৈহিক অঙ্গভঙ্গী ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে, যেমন বাউল গান ও লালন গীতি কিনতু নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত ও আধুনিক গান যদি নেচে নেচে গাইতে হয়, তবে কেমন হয় ? পাঠকরাই বিবেচনা করুন এছাড়া দেশের তরুণীরা এখন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ আর ওড়না ছেড়ে দিয়ে বেপরোয়াভাবে শার্ট আর জিন্স-এর প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।

বলা বাহুল্য যে সমাজ ও সংস্কৃতির চিত্র উপরে তুলে ধরা হলো তা হুবহু মার্কিন সমাজ ও সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ মাত্র এক কথায় বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতি কেন এমন হলো ? পাশ্চাত্যে আরো অনেক দেশতো রয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকেরা পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ড ভ্রমণ করার সুযোগ আমার হয়েছে সেই সমস্ত দেশে বসবাসকারী বাঙালিদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রাণান্তকর প্রয়াসের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি আশ্চর্য্যরে ব্যাপার ঐ সমস্ত দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বাংলাদেশের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি কেবলমাত্র মার্কিনী সংস্কৃতি গ্রাস করে নিয়েছে বাংলাদেশকে আরো আশ্চর্য্যরে বিষয় এই যে পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি গ্রাস করে নিতে পারেনি উপরন্তু পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশে আমি মার্কিনী সংস্কৃতির প্রতি চরম বিতৃষ্ণা আর ঘৃণা লক্ষ্য করেছি জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে স্পেনে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম স্পেন, ইংল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডের অধিবাসীরা আমেরিকানদের রাখাল বালক (Cow Boy)হিসেবে অভিহিত করে অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে বলা হয়ে থাকে আমেরিকানরা অসভ্য আর অসংস্কৃত সুতরাং হঠাৎ করে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের কাছে আমেরিকার সংস্কৃতি এতো প্রিয় হয়ে গেল কেন যে, এ বিষয়টি নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

কোন একটি দুর্বল দেশকে যদি কোন একটি সবল দেশ চিরদিনের জন্যে অধীনস্থ করে রাখতে চায় তাহলে দুর্বল দেশটির সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘদিন যাবত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজেদের উপনিবেশকে বহাল তবিয়তে রাখার জন্য এই ধ্বংস যজ্ঞে আত্মনিয়োগ করেছিলো নিজেদেরকে কিšতু জাগ্রত প্রহরীর মতো সে সমস্ত উপনিবেশের বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা তাদের উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতির অপলাপ রোধ করতে সক্ষম হয়েছিলো আর তারই ফলশ্রুতিতে সেই সমস্ত দেশের পক্ষে সম্ভব হয়েছিলো তাদের নিজ নিজ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের অবসান আজও ঘটেনি নতুন মুখোশ পরে সাহায্য সহযোগিতার অজুহাতে আর গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা দুর্বল দেশগুলোর উপর নিজেদের অধিকার চিরস্থায়ী করার জন্যে তৎপর হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝতে পেরেছে সৈন্য লেলিয়ে দিয়ে একটি দেশকে দখল করা যায় সাময়িকভাবে কিনতু সে দেশটিকে জয় করা যায় না যতদিন পর্যন্ত না সে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা, গর্ব আর অহংকারকে চূর্ণ করা যায় ততদিন পর্যন্ত সে দেশের মানুষকে বশীভূত করা যায় না একটি জাতির গৌরব, গর্ব আর অহংকারকে ধ্বংস করতে হলে সর্বপ্রথম ধ্বংস করতে হবে সে জাতির সংস্কৃতিকে মহা ধ্বংসযজ্ঞে বর্তমানে আত্মনিয়োগ করেছে সাম্রাজ্যবাদীরা আর এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ কেন ? যেহেতু বাংলাদেশ হারিয়েছে তার আত্মমর্যাদা দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ সকল গৌরবকে দিয়েছে জলাঞ্জলি সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশকে জয় করার এই হচ্ছে মোক্ষম সময় এই পরিস্থিতির হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে বাংলদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে যেমনভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলো পৃথিবীর দিকে দিকে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বিভিন্ন জাতি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে।

সংস্কৃতি চেতনা যাদের খুব প্রখর তাদের আত্মমর্যাদাবোধ অত্যন্ত বলিষ্ঠ এই রকম আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতিকে অধীনস্থ করা কঠিন আমার নিজের দেশবাসীরাই যদি অতি আগ্রহের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদীর অপসংস্কৃতির অনুকরণে উৎসাহী হয়, তাহলে সাম্রাজ্যবাদীকে দোষ দিয়ে লাভ কি ? সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্যটাতো দেশবাসীর সহায়তায় সহজেই হাসিল হয়ে যায় কিনতু কেন যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এই মার্কিনী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশকে রুখে না দাঁড়িয়ে বরং স্বাগত জানালো সে বিষয়টা এবার একটু তলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রে বিপরীত আকর্ষণ (Opposite attracts) করে বলে একটা তত্ত্ব আছে এর সারমর্ম এই যে তরুণ-তরুণীরা তার সম্পূর্ণ বিপরীতের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে বাংলাদেশ আমেরিকার সম্পূর্ণ বিপরীত ক্রান্তিতে অবস্থান করছে অর্থাৎ আমেরিকায় যখন দিন বাংলাদেশে তখন রাত আমেরিকা পৃথিবীর একটি মহাপরাক্রমশালী দেশ বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম দুর্বল দেশ আমেরিকা পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় ধনী দেশ সমূহের তালিকাভুক্ত আর বাংলাদেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ বিপরীত বটে, আর সে কারণেই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের আমেরিকার সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়া মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রের তত্ত্ব অনুযায়ী খুবই স্বাভাবিক কিনতু এই স্বাভাবিক মানসিক অবস্থাটাকে দুর্বল পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যে তত্ত্ব প্রকাশ পায় তার নাম হলো হীনমন্যতা বোধ ইংরেজীতে যাকে বলে Inferiority complex এই হীনমন্যতা বোধের শিকারে পরিণত হয়ে যারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী মহান সভ্যতা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা শুধু নিজেদেরকেই অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে না, তারা সমগ্র জাতিকে দেউলিয়া করে দেশের স্বাধীনতাকে করে বিপন্ন। আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের জন্মলাভের জন্য ওরা নিজেরাও যথার্থভাবে দায়ী নয় আমাদের দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্যে দায়ী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি চেতনা, দেশাত্মবোধ এবং দেশপ্রেম গড়ে তুলতে বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন আমাদের দেশের দুর্নীতিপরায়ণ, স্বার্থান্বেষী কর্ণধাররা তাদের নিজেদের আখের গোছানোর কাজে এবং বিদেশী প্রভুদের পদলেহনে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে তারা আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে দেশাত্মবোধের কোন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হননি ।

বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অনেকে আবার মার্কিন সংস্কৃতির অনুকরণের স্বপক্ষে তাদের মনের মধ্যে অনেক যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তারা বলেন, বিদেশী সংস্কৃতিতে যদি কোন ভালো জিনিস থাকে তবে তাকে গ্রহণ করতে দোষ কি ? এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে এই যে সংস্কৃতির সঙ্গে ভালো মন্দের কোন সম্পর্ক নেই একটি দেশের সংস্কৃতি বলতে সেই দেশের মানুষের সামগ্রিক জীবন যাপন পদ্ধতিকে বুঝায় আমাদের সংস্কৃতির যে বিষয়টি আমরা সবচেয়ে ভালো মনে করি আমেরিকানরাতো সেটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে না তাহলে ওদের ভালো জিনিসটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে কেন ? তাছাড়া আপাততঃ যাকে ভালো মনে হয় সংস্কৃতির অঙ্গনে তার উৎপত্তি ও বিকাশের কারণটা খুঁজে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ মার্কিন মুল্লুকে মা দিবস ও বাবা দিবসের উদ্ভবের কারণ বিশ্লেষণ করা যাক আমেরিকায় সন্তান-সন্ততিরা তাদের ষোল (১৬) বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গৃহ ত্যাগ করে তারপর কালে ভদ্রে কখনো সখনো মা-বাবার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয় সেই দেখা সাক্ষাতের জন্যে আবার আগে থেকেই দিনক্ষণ নির্ধারণ (appointment) করে নিতে হয় তাছাড়া আমেরিকার ছেলেমেয়েদের মা-বাবারা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এক সঙ্গে এক বাড়িতে বসবাস করে না এই সমস্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদেরকে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্যে বৎসরে একবার মা-বাবার খোঁজ খবর নেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে সুতরাং আপাততঃ এটাকে একটা ভালো জিনিস মনে হলেও এর মূলে ভালো কিছুই নেই আমাদের সংস্কৃতিতে প্রতিটি দিনই মা-বাবার দিন প্রতিটি মূহুর্তে আমরা মা-বাবার সেবা করতে পারলে নিজেদেরকে ধন্য মনে করি এমন কি প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় নিজেদের ঘর সংসার নিয়ে যখন আমরা আলাদাভাবে বসবাস করি তখনও মা-বাবা বেঁচে থাকলে আমরা যখন তখন মা-বাবার কাছে ছুটে যাই মা-বাবার কাছ থেকে আমাদের কোন অনুমতি নিতে হয় না আমাদেরকে একবার মায়ের বাড়ি আর একবার বাপের বাড়ি দৌড়াতে হয় না আমরা মা-বাবাকে এক সঙ্গে পাই সব সময় সুতরাং ঘটা করে আমেরিকার মতো বৎসরে একবার মা আর একবার বাবার সেবা করাটা বাংলাদেশের সভ্যতা ও সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে যে কতো অবাস্তব তা সহজেই বোধগম্য ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আগে আমি দীর্ঘ ৩৪ বছর বাংলাদেশে বসবাস করি এখন আর ৩০ বছর যাবত আমি আমেরিকায় বসবাস করছি আমেরিকায় আসার পর এদেশের সংস্কৃতির তুলনায় আমাদের দেশের সংস্কৃতি যে কতো উন্নত, পরিশীলিত আর আমরা যে কি এক মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী তা আমার চোখে পড়ে দেশ থেকে বের না হলে দেশকে চেনা যায় না এটা শুধু আমার একার অভিমত নয় আমার মতো অনেকেই যারা কিছুদিন মার্কিন মুল্লুকে বসবাস করেছেন তারা সবাই মার্কিনী সংস্কৃতির অন্তঃসারশূন্যতা সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছেন আর তাদের নিজের বাংলাদেশে এই অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অতি সম্প্রতি হলিউড থেকে প্রকাশিত ”একুশ” পত্রিকায় চাঁদ সুলতানা মাহবুব কামরুন-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত ”ঘুরে এলাম কিছু সময় বা ঝটিকা সফর”-এ সেই দুঃখ এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ”একটা ব্যাপার খুব চোখে লাগলো, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ফ্রীডমে বিদেশকেও হার মানিয়েছে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মোহনা ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে” অন্যত্র ”নব্য সভ্যতার যুগে পুরাতন কালচার সব হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িতে ছেলেমেয়েরা সুরে বেসুরে ওদের ইচ্ছামতো গান গাচ্ছিলো আমি তখন একমনে খুঁজছিলাম আমার হারিয়ে যাওয়া পুরানো অতীতকে” বড়ই দুঃখের বিষয় সেই অতীত দ্রুত বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে সে কারণেই বোধ হয় প্রবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অত প্রাণান্তকর প্রয়াস অথচ আমাদের প্রিয় দেশবাসী তরুণ-তরুণীরা নির্বিচারে বিদেশী অপসংস্কৃতিতে অবগাহন করে পরম পুলক অনুভব করছে এর চাইতে পরিতাপের বিষয় আর কি হতে পারে ? কবে কিভাবে আমাদের বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের অবসান ঘটবে ? কবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কুঁড়ে ঘরে থেকেও শিল্পের বড়াই করতে শিখবে, কবে ওরা বুক ফুলিয়ে বলবে, ”নিক হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা” ? সে কথাই আজ ভাবছি।

একুশ পত্রিকা,

লস এঞ্জেলেস, জুলাই ৪ ২০০৭ ইস্যুঃ উপ-সম্পাদকীয়ঃ

বৃটেনে এশীয়রা পুলিশী তল্লাশির শিকার হচ্ছে বেশি


বৃটেনে এশীয়রা পুলিশী তল্লাশির শিকার হচ্ছে বেশি

বৃটেনের রাস্তাঘাটে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূতরা অধিকহারে পুলিশী তল্লাশির শিকার হচ্ছেন। পুলিশী তল্লাশির এই হার শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে কয়েক গুণ বেশি। আর কৃষ্ণাঙ্গদের তল্লাশির শিকার হওয়ার হার ২৬ গুণ বেশি। এশীয় বংশোদ্ভূতরা সাদাদের চেয়ে ছয় গুণেরও বেশি তল্লাশির মুখোমুখি হন। বৃটেনের সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশী আচরণের বৈষম্যের এ চিত্র তুলে ধরেছে গার্ডিয়ান পত্রিকা।
গবেষকরা একে বৃটেনের ‘বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’র জ্বলজ্বলে উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস এবং ওপেন সোসাইটি জাস্টিস ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে ওই গবেষণা চালানো হয়। এর ফলাফল বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রচারকর্মীদের দাবিকেই সমর্থন করছে। প্রচারকর্মীদের দাবি, ‘স্টপ অ্যান্ড সার্চ’ ক্ষমতাবলে পুলিশ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করছে।
বৃটেনে অপরাধ সম্পর্কিত বিচার ও সরকারি অধ্যাদেশ আইন ১৯৯৪-এর ৬০ ধারার অধীনে ‘স্টপ অ্যান্ড সার্চ’ ক্ষমতা ব্যবহারের অধিকার দেয়া হয়েছে পুলিশকে। দাঙ্গাবাজ ফুটবল দর্শক ও মারাত্মক অপরাধ দমনের লক্ষ্যে আইনটি করা হয়। এই আইনের বলে পুলিশ যেকোনো এলাকায় যেকোনো ব্যক্তিকে যেকোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ ছাড়াই তল্লাশি করার অধিকার রাখে।

বিচার মন্ত্রণালয়ের ২০০৮-০৯ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশটির তল্লাশির শিকার প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের তল্লাশির হার ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গরা ২৬ গুণ বেশি তল্লাশির শিকার হয়েছে। একই সময়ে শ্বেতাঙ্গদের অনুপাতে এশীয় বংশোদ্ভূতদের তল্লাশি চালানো হয় ৬ দশমিক ৩ গুণ বেশি। পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর পুলিশী তল্লাশির ক্রমবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছর কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর তল্লাশি চালানো হয়েছে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ১০ দশমিক ৭ গুণ বেশি। আর এশীয় বংশোদ্ভূতদের তল্লাশি চালানো হয়েছে ২ দশমিক ২ গুণ বেশি।
লন্ডনের কিংস কলেজের অপরাধসংক্রান্ত বিচার বিষয়ের অধ্যাপক বেন বোলিং বলেন, ‘যে ক্ষমতা শুধু বিশেষ অবস্থায় প্রয়োগের কথা, পুলিশ সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ফলে আইনের এ অস্ত্রটি একটি কার্যকর রক্ষাকবচ হয়ে উঠছে না। তল্লাশির গৎবাঁধা এই প্রবণতায় যেসব জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে।’
ওপেন সোসাইটি জাস্টিস ইনিশিয়েটিভের গবেষকরা জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ‘স্টপ অ্যান্ড সার্চ’ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৃটেনকে বিশ্বের সবচেয়ে বর্ণবাদী রাষ্ট্র বলা যায়। জাতিগত জনগোষ্ঠীর ওপর এ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে এর আগের রেকর্ডটি ছিল রাশিয়ার। মস্কোতে স্নাভ জনগোষ্ঠীর তুলনায় অস্লাভদের তল্লাশি চালানো হয় ২১ দশমিক ৮ গুণ বেশি। প্যারিসে আরবীয় চেহারার লোকজনকে তল্লাশি চালানো হয় সাত গুণ বেশি। নিউইয়র্কে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিম্পানিকরা ৯ গুণ বেশি তল্লাশির শিকার হয়। -ইন্টারনেট

এবার ইরাক যুদ্ধ সংক্রান্ত মার্কিন প্রশাসনের ৪ লাখ গোপন নথি ফাঁস


এবার ইরাক যুদ্ধ সংক্রান্ত মার্কিন প্রশাসনের ৪ লাখ গোপন নথি ফাঁস

ওয়াশিংটন থেকে রয়টার্স: আফগান যুদ্ধের পর এবার ইরাক যুদ্ধ সংক্রান্ত মার্কিন প্রশাসনের চার লাখ গোপন নথি প্রকাশ করেছে ওয়েবসাইট উইকিলিকস।
শুক্রবার প্রকাশিত এসব নথিতে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাক যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অসহায়ত্বের বিবরণ রয়েছে।
পাশাপাশি ওই সময় ইরাকি বাহিনীর হাতে বন্দিদের ওপর বিভীষিকাময় অত্যাচার ও ইরাকি পুলিশ এবং সেনাদের অনেক ভয়াবহ অপরাধের প্রমাণও এতে উঠে এসেছে। কিন্তু মার্কিন বাহিনী সেসব অপরাধ তদন্তে ব্যর্থ হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকাশিত নথিতে দেখা যাচ্ছে, ইরাকি কর্তৃপক্ষ মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেনি। পাশাপাশি, ইরাকিরাই ইরাকিদের হত্যার জন্য বেশি দায়ী বলে প্রমাণ মিলেছে। গোপন নথি অনুযায়ী ইরান নানাভাবে ইরাকি জঙ্গিদের সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পেন্টাগন এসব নথি ফাঁসের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওয়েবসাইটটি জুলাই মাসে আফগান যুদ্ধ সম্পর্কিত ৭০ হাজারেরও বেশি গোপন নথি ফাঁস করেছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, নথি ফঁসের ঘটনা মার্কিন সেনাদের বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতাকারী ৩শ ইরাকি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মার্কিন চেকপোস্টগুলোতেও অগণিত মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করলেও গোপন নথিতে অনুযায়ী, ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাক যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার। দুঃখজনক হলেও সত্য নিহতদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮১ জনই বেসামরিক মানুষ।

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এসব নথিকে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে পেন্টাগন এসব নথিকে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিবেদন বলে দাবি করছে।
মার্কিন তথ্যমন্ত্রী জিওফ মোরেল বলেন, আইন ভেঙে এসব গোপন নথি প্রকাশ ও পুরো বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের জন্য আমরা উইকিলিকসের নিন্দা জানাচ্ছি।

মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব সামলাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র


মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব সামলাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য অর্ধেক বেশি সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বেন বার্নানকে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান বোস্টনের ম্যাসাচুয়েটেসে প্রদত্ত বক্তৃতায় বলেন, তার প্রতিষ্ঠান দু’টি মূল লক্ষ্য মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাত্রা দুর্বল মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসে শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১০ শতাংশ চাকরি সংস্থান অর্থনৈতিক পুনরোন্নয়নকে ঝুঁকির সম্মুখীন করছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
উচ্চমাত্রার বেকারত্বের বিষয়টি নিতান্তই স্বাভাবিক। কেননা যেসব চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা মার্কিন কর্মচারী বা চাকরি প্রার্থীদের নেই এবং একই সাথে সে কারণে ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারেরও এক্ষেত্রে কিছু করণীয় নেই, সহকর্মীদের এরকম মতামতকে অগ্রাহ্য করে বানানকে এক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার অব্যাহত কর্মহীনতা ও বেকারত্বকে দায়ী করেন।
মুদ্রাস্ফীতি সংকোচনের জন্য তিনি পরিমাণগতভাবে মুদ্রা সরবরাহ কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এজন্য ব্যাংকগুলোর তহবিল দিয়ে সরকারি এবং কর্পোরেট বন্ড কেনার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এ বছরে বাজেট ঘাটতি গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ৪১ হাজার ৬শ’ কোটি থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪শ’ কোটি ডলারে কমেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা একে ২৩ বছরের ইতিহাসে প্রবৃদ্ধি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঘাটতি বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ দ্বিতীয় বাজেট ঘাটতি।
গত জুনে ডলারের মূল্যমান ইউরোর চেয়ে শতকরা ১৫ ভাগ কমেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মার্কিন অর্থনীতির এই নিম্নগতি ফেডারেল রিজার্ভকে পুনরায় মুদ্রা ব্যবস্থাকে আরো সহজ করতে বাধ্য করবে। -ইন্টারনেট

%d bloggers like this: