মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরবীয় জনগণের মতাদর্শিক সংঘর্ষ


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরবীয় জনগণের মতাদর্শিক সংঘর্ষ


রামজে বারোউদ • স্বেচ্ছাচারীদের চ্যালেঞ্জ করা, পুরনো কাঠামো ধ্বংস করা এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য কর্মপন্থা উদ্ভাবনের কাজে আরবদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ব্যর্থ নীতি, ভুল ধারণা ও আত্মস্বার্থে অবিচল রয়েছে। আরবরা নিজেদের মধ্যে অনেক বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে, কিন্তু এ বিষয়ে খুব কম লোকই ভিন্ন মত পোষণ করে যে, এখন পিছনে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। মুবারক ও বেন আলীর মতো স্বেচ্ছাচারীদের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করে, তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জসহ নতুন সকাল। এ এলাকায় গণতন্ত্র, সুশীল সমাজ ও নাগরিকত্ব বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আরবের যেসব বুদ্ধিজীবী এখনো সন্ত্রাসবাদ ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বাগাড়ম্বর করে তাদের ওয়াশিংটন ভিত্তিক বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী কাজে লাগিয়েছে অথবা তাদের মধ্যে এমন কিছু বেপরোয়া লোক আছে যারা মিথ্যার বেসাতি বিক্রেতা রুপার্ট মারডকের ফক্স নিউজে উপস্থিত হন।

একটা কথা সহজে অনুমেয় – আরব বিশ্বের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো এখন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের বিষয় নয়। হোসনি মুবারক যখন মিসরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখনকার অবস্থার সঙ্গে এখনকার অবস্থার মিল নেই। একদল ‘আরব মধ্যস্থতাকারীর’ পরিচালনায় মুবারকের প্রধান দায়িত্ব ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির প্রতিফলন ঘটানো। ব্যাপারটা ছিল যেন তা মিসরের জাতীয় স্বার্থের জন্যও একটা জরুরি বিষয়। ইতোমধ্যে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ পরস্পরবিরোধী অবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে গেছেন। তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিষয়ে ভালো কাজে কৃতিত্ব লাভের জন্য তিনি বেপরোয়া ছিলেন – তিনি এখনো আরব প্রতিরোধের অভিভাবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০০১ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তান দখল করে তখন ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ কথাটা আরব সংস্কৃতিতে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত করা হয়। সাধারণ আরববাসীদের এমন বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বাধ্য করা হয় যা তাদের কাছে গুরুত্বহীন ছিল, অথচ সেই বিষয়টিই এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতিভাত হয়।

আরব নারী-পুরুষ সবাইকে অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়, এমনকি তাদের আশাশূন্য করা হয়। তাদের শুধু ওসামা বিন লাদেন, আল কায়েদা ও অন্যান্য বিষয়ে জনমত জরিপের উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। অথচ এসব বিষয় তাদের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও অবমাননার জন্য দায়ী কোনো বিষয় ছিল না।

আরব স্বেচ্ছচারীরা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বদ্ধ সংস্কারকে গ্রহণ করে। ইয়েমেনের আলী আবদুল্লাহ সালেহকে ‘আল কায়েদাকে পরাজিত’ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শত্রুভাবাপন্নভাবে দখল অথবা নিজেকেই ক্ষতিকর একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মধ্যে যে কোনো একটা পথ বেছে নিতে হয়। তিনি শেষোক্ত বিকল্পটি বেছে নেন এবং এমন ভূমিকার ফলাফল হাতে হাতেই পেয়ে যান। ইয়েমেনী জনগণ রাস্তায় নেমে আসে – তারা দাবি করে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের। সালেহ অনুগত বাহিনী ও রিপাবলিকান গার্ডদের পাঠান হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আল কায়েদা যোদ্ধাদের এবং নিরস্ত্র গণতন্ত্রকামী লোকদের একসঙ্গে হত্যা করার জন্য। সরাসরি ও কঠোর এ কাজকে তুলনা করা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অকথিত দরকষাকষির অাঁতাত, তোমাদের খারাপ লোকদের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করব যতক্ষণ আমি নিজেকে ধ্বংস করতে পারব এমন ভাবনার সঙ্গে।

লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো কাজে লাগান। তার শাসনামলে প্রতিনিয়ত জোর দেওয়া হয়েছে যে, বিরোধী দলগুলোর সদস্যদের মধ্যে আল কায়েদা আছে। এসব কথা পশ্চিমা গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়। পাশ্চাত্যকে শান্ত করার জন্য গাদ্দাফি এমন বেপরোয়া হয়ে যান যে, তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ফিলিস্তিনি ‘চরমপন্থীদের’ বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব স্বৈরশাসকরা যে ভাষায় কথা বলেন তা নির্যাতনের ভাষা কোষে খুঁজে পাওয়া যায় না এবং এটা একটা বিস্ময়কর বিষয়। অপরদিকে সাধারণ আরব জনগণ তাদের দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলো ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেলিত ছিল। আল কায়েদা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণনা অনুযায়ী আরব জনগণ ঐক্যবদ্ধ নয়, অন্য কিছু বিষয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ যা পশ্চিমা ভাষ্যকার ও সরকারি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। অংশীদারিত্বমূলক ইতিহাস, ধর্ম, ভাষা ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ঐক্য ছাড়াও তাদের মধ্যে আছে নির্যাতন, বিচ্ছিন্নতা, অন্যায় ও অসাম্যের এক সাধারণ অভিজ্ঞতা।

২০০৫ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের তৃতীয় আরব উন্নয়ন রিপোর্টে বলা হয় যে, আধুনিক আরব রাষ্ট্রে ‘নির্বাহী প্রক্রিয়ার ধরন একটা কৃষ্ণ গহবরের মতো, যা এর আশপাশের সামাজিক পরিবেশকে এমনভাবে গঠন করে যে, তা থেকে কিছু এগিয়ে যায় না এবং যা থেকে কিছু পালিয়ে যেতে পারে না।’ আরব রাষ্ট্রগুলোর জন্য ২০০৯ সালটা খুব ভালো ছিল না। ওই সময় এ ধরনের রিপোর্টের পঞ্চম খন্ডে বলা হয়, ‘মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে আশা করা হয়। অথচ বেশ কয়েকটা আরব দেশে দেখা গেছে, তা হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক সনদ ও জাতীয় শাসনতান্ত্রিক ধারাগুলোর প্রতি হুমকিস্বরূপ।’ মে’তে টাইম ম্যাগাজিন ‘হাউ দ্য এরাব স্প্রিং মেড বিন লাদেন অ্যান আফটারথট’ শিরোনামে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করে। আরব বিপ্লবের সম্মিলিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতির কথা উল্লেখ করে ওই রিপোর্টে পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, মিসরের তাহরির স্কোয়ারে ওসামা বিন লাদেনের প্রশংসা করে কোনো ব্যানার দেখা যায়নি। তিউনিসিয়া, লিবিয়া বা এমনকি ইয়েমেনেও সরকারবিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে তার ডেপুটি আয়মান আল জাওয়াহিরির কোনো ছবি দেখা যায়নি।’

সত্যের এই প্রকাশ পশ্চিমা মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা হলেও তাকে মোটামুটিভাবে বলা যায় একটা প্রতারণা। আসল কথা হলো, আল কায়েদা মডেল কখনো আরব সমাজের মূলধারায় প্রতিফলিত হয়নি। আরব বিপ্লব আল কায়েদা সম্পর্কে আরব সমাজের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেনি। কারণ ওই ধারণা সমগ্র আরব সমাজের ধারণার খুবই সামান্য একটা অংশ মাত্র। যা হোক, এসব বিপ্লব আরবদের সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ধারণাকে এখনো সত্যিকারভাবে চ্যালেঞ্জ করেনি।

জগবি ইন্টারন্যাশনাল জুলাইয়ে এরাব অ্যাটিচিউড ২০১১ প্রকাশ করে। এতে ছয়টি আরব রাষ্ট্রের এমন ধারণা প্রকাশ পায় যা এতে আরবদের মধ্যে বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা শতকরা ১০ ভাগ কমে যাওয়ার কথাও রয়েছে। ২০০৯ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবামা যখন তার বিখ্যাত ভাষণ দেন তখন অনেক আরব মনে করে যে, কোনো কোনো অংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-আরব অগ্রাধিকার চূড়ান্তভাবে এসে মিলেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কোনো অনুকূল দিকে পরিচালিত না হওয়ায় আরবরা অনুধাবন করে, মার্কিন নীতিগুলো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েই আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধ, ইসরাইলের প্রতি তার সমর্থন এবং তাদের পুরনো মিত্র অত্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ আরব শাসক ও অভিজাতদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আরবরা আবিষ্কার করেছে অথবা পুনরায় আবিষ্কার করেছে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোনো মিল নেই, বরং ওই দুই ধারা আসলে সাংঘর্ষিক পর্যায়ে আছে।

এটা খুবই স্বাভাবিক, মধ্যপ্রাচ্যের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট স্বার্থ ও লক্ষ্যে তার নীতি পরিচালিত করবে। কিন্তু আসলে যা হচ্ছে তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের জন্য অধিকাংশ আরব দেশের আশা আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আরব স্বৈরাচারী শাসকদের সহায়তায় ওয়াশিংটনের অস্পষ্ট ও বিভ্রান্ত নীতি আরব জাতিগুলোর জন্য অকথিত ক্ষতি ডেকে এনেছে। লাখ লাখ সাধারণ আরব যাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রাধিকারকে পুরোপুরি হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এখন আরব জনগণ দেখাচ্ছে যে, তারা ওই বাস্তবতা গ্রহণে আর রাজি নয়।

ইন্টারনেট থেকে ভাষান্তর [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’


বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’ ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

Occupy Wall St.


মেহেদী হাসান • ওয়াল স্ট্রিট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল কেন্দ্র। অন্য কথায়, পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যে কেন্দ্রে বসে আছে সমগ্র জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ, একচেটিয়া পুঁজির প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ বহুজাতিক করপোরেশন (তেল, অস্ত্র, খাদ্য), ব্যাংক, বীমা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আর যাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এ স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যাকে সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ, গণহত্যা, জাতিগত সহিংসতা, সামরিক শাসন বিস্তৃত করতে হয়েছে। অস্ত্র আর তেল কোম্পানির স্বার্থে সারা পৃথিবীতেই যুদ্ধোন্মাদনা ছড়াতে হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান সর্বশেষ লিবিয়ায় লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের বলি হয়েছে। কেবল দখলকৃত দেশগুলোর মানুষই রাষ্ট্রটির তাড়নার শিকার হয়নি, হয়েছে তার নিজ দেশের সাধারণ মানুষও। যুদ্ধ এবং দমন অর্থনীতির পেছনে জনগণের করের অর্থে এ রাষ্ট্রটি ব্যয় করে বছরে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ বাহ্যিক চাকচিক্যময়, জৌলুসপূর্ণ এ মুল্লুকে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকে চার কোটি মানুষ। তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজন মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। মন্দা অর্থনীতিতে জর্জরিত এ রাষ্ট্রে গোয়েন্দাগিরির পেছনে খরচ বেড়েছে তিনগুণ, কমেছে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়। দৈত্যাকার ব্যাংক, করপোরেশনের অন্তর্গত মন্দার কারণে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে গিয়ে বেইল আউট কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। বেড়েছে দ্রব্যমূল্য, কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ঋণ বেড়েছে জনগণের ওপরে করের বোঝা বেড়েছে জনগণের।

‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ আওয়াজ দিয়ে এহেন পররাজ্যগ্রাসী, সন্ত্রাসী, ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী অংশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা শতকরা ৯৯’ আর এটি এখন সারা দুনিয়ার এক প্রতীকী স্লোগান। আর এরই ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে আন্দোলন। নারী-শ্রমিক-শিক্ষার্থী-শিক্ষক-বেকার-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত; যারা বর্তমান বিদ্যমান ব্যবস্থায় জর্জরিত, দিশেহারা; তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে। ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ হলো শোষণকেন্দ্রে প্রজবলিত বিদ্রোহের নতুন নাম, নতুন পরিচয়। যে পরিচয় হীনমন্যতা, ভোগবাদিতা, আত্মপরিচয়ের সংকটকে ঝেড়ে ফেলে নতুন শক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এই শক্তি এখন ইথারে ভেসে ছড়িয়ে গেছে সারাবিশেবর তরুণ-যুব সম্প্রদায়ের কাছে। সারাবিশ্বের ভুক্তভোগী সংবেদনশীল মানুষের কাছে। নিজের দেশের অসহনীয় অস্বস্তিকর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর প্রতিরোধের শক্তি নিয়ে বিশ্বের প্রায় এক হাজার শহরে এই আন্দোলন দানা বেঁধেছে। নোয়াম চমস্কি এ আন্দোলনকে সমর্থন করে বার্তা পাঠিয়েছেন ‘জনগণের পক্ষে সম্মানজনক এবং দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ভূমিকা’ বলে।

সম্মানজনক কেন? কারণ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক শ্রেণীরাষ্ট্র-মুখপাত্ররা যেখানে পুরো সমাজকে ভোগবাদিতার চকচকে রঙিন চশমা দিয়ে দুনিয়াকে দেখানোর প্রচেষ্টায় দিনরাত আহাজারি করছে; পণ্যভোগকে ধর্মের স্থানে ঠাঁই দেওয়ার প্রচেষ্টায় মত্ত যেখানে `TINA’ (There is no Alternative)-র অনুসারীরা সেখানে সে বেড়াজালকে ছিন্ন করে ‘মানুষ’ পরিচয়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা দুঃসাহসিকই বটে। এই মানুষ প্রমাণ করেছেন, রাষ্ট্র যতই ক্ষমতাধর কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, জনগণের অসাধ্য কোনো কিছু নেই। নাহলে, বিশ্বের সবচাইতে ‘দুর্ধর্ষ’ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে এহেন কাজ কীভাবে সম্ভব? সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়; এটা প্রমাণ করেছেন ‘শতকরা ৯৯’-এর প্রতিনিধিরা।

Occupy Wall St.


কেন পুঁজিতান্ত্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে বিদ্রোহের নতুন ঠিকানা তৈরি হলো? এই কি প্রথম? তা তো নয়। নভেম্বর ১৯৯৯তে সিয়াটলে, এপ্রিল ২০০১-এ কিউবেক সিটিতে ‘পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বায়নবিরোধী’ বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই পর্বে পূর্বের আন্দোলনের দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতাকে অনেক ক্ষেত্রে অতিক্রম করে সচেতনতা-ধরণ-ধারণ-বিস্তৃতি-ব্যাপকতার নতুনমাত্রা নিয়ে এই আন্দোলন আরো শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আন্দোলন এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চেতনার ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে। এটা ঠিক এই আন্দোলনে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। এখানে যেমন শ্রমিক আছেন, তেমনি বেকাররাও আছেন। আছেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, পরিবেশবাদী, স্টাডি গ্রুপ, সংস্কৃতিকর্মী। বিপক্ষে; ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, ধর্মযাজক, স্টক এক্সচেঞ্জ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।

যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলনের গতি বিস্তৃত হয়েছে যে জগত তৈরি করেছিল করপোরেট তার আপন মুনাফাবৃদ্ধির স্বার্থে। সে প্রযুক্তিই তার জন্য কবর রচনা করতে যাচ্ছে। করপোরেট রাষ্ট্রের ভয়ও সে কারণে মারাত্মক। এই ভীতি থেকেই ন্যায্য এবং যুক্তির শক্তি নিয়ে দাঁড়ানো আন্দোলনকে দমন করতে উদ্যত। হামলা-মামলা-ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দমনমূলক নীতি নিয়ে তারা যে ‘পুলসেরাতের পুল’ পার হতে পারছে না তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের জুকোটি পার্কে অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব, ব্যাংক বন্ধকি সংকট ও করপোরেট লোভের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পর্তুগালের লিসবনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামে। তারা স্লোগান দেয়- ‘ঋণের দায় আমাদের নয়, আইএমএফ বেরিয়ে যাও’। এ আন্দোলন এখন নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া পর্যন্ত। সারা বিশ্বের হাজার শহরে; পাঁচজন থেকে পাঁচ হাজার, পঞ্চাশ হাজার, লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হচ্ছেন আপন আপন স্থানে।

স্লোগানের নতুন নতুন ভাষা তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন বক্তব্য। ‘আমরা ৯৯ শতাংশ’, ‘আমরা আমাদের দেশকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এসেছি’। ‘আমরা হারিয়েছি, ব্যাংক বেইল আউট পেয়েছে’, ‘সারাদিন, সারা সপ্তাহ ওয়াল স্ট্রিট দখল করুন’, ‘করপোরেট সাম্রাজ্য জাগ্রত এবং সচেতন মানুষকে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’ ‘৯৯ শতাংশ মানে বৃহৎ সংখ্যা, যারা হারতে পারে না।’ ‘ব্যাংকারদের গ্রেফতার কর, আমাদের নয়।’ ‘প্রাইভেট ব্যাংক সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে, জনগণ নয়।’ ‘আমাদের চাকরি কোথায়?’ ‘এটি আমাদের দেশ-একে আমরা দখল করবো, এগুলো আমাদের রাস্তা-এগুলো আমরা দখল করবো, আমরা এখানে আছি এবং আমরা ক্রমশ বাড়ছি-চল সবাই একসঙ্গে দখল করি।’ ‘আমাদের যা পাওনা আমরা তা বুঝে নেই।’

এই বিদ্রোহের প্রয়োজনীয়তা কেন তা স্লোগানের ভাষার মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়।

ক্রিস হেজেস যিনি একজন লেখক-সাংবাদিক, পূর্ব ইউরোপের অনেক ধরনের গণআন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী এবং ‘অকোপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশগ্রহণকারী; তিনি বলছেন, ‘আমি এই আন্দোলনে এসেছি ভেতরের তাগিদ থেকে। কারণ, করপোরেশনগুলো আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাথা-মগজ দখল করে নিয়েছে। দখল করে নিয়েছে তাদের স্বতবা। এ আন্দোলন তার বিরুদ্ধে।…যখন এই ধরনের আন্দোলন মাথা তুলে দাঁড়ায় সেখানে করপোরেট দখলের বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে প্রকৃত সত্যটাই সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের আন্দোলন যখন তৈরি হয় তখন যে মানুষ যে সমাজে বসবাস করছে সে সমাজের প্রকৃত চিত্রটাকে পরিষ্কার করে তুলে ধরে। তুলে ধরে সমাজের বৈষম্য, ক্ষমতাবানদের দেŠরাত্ম্য-অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা এবং আন্দোলন অনেকটা ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স’ ধরনের কাজ করে- কারণ এ আন্দোলনের যে শক্তি তা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথায় গিয়ে এর শেষটা দাঁড়াবে তা পূর্বে থেকে অনুমান করা যায় না।..সমাজের এলিট গোষ্ঠী, নীল পোশাকধারী পুলিশ প্রশাসন, মাথা-মগজ নিয়ন্ত্রণের ম্যাকানিজম; কেউ এ আন্দোলন আশা করে না। কিন্তু বিধি বাম, ইতিহাস তাদের নির্ধারিত পথে চলে না এবং শেষ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের কারণে ক্ষমতাবানরা হয়ে পড়ে প্রতিরোধহীন।’

‘করপোরেট ডাকাত হানা দিয়েছে দ্বারে, তাকে প্রতিরোধ কর’ প্ল্যাকার্ড হাতে ২০/২২ বছরের একজন তরুণ বলছেন, ‘আমরা এখন আর করপোরেটের হাতে বন্দি হতে চাই না। রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ আমরা চাই না। এই অর্থ সারা বিশ্বের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে; নিয়ন্ত্রণ করছে প্রাকৃতিক সম্পদ, সমস্ত জীবন-মান।’ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই তরুণ-যুব সমাজের অংশ। কয়েকজনের সাক্ষাৎকার সংবলিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তারা বলছেন, ‘ব্যাংক এবং এক্সনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ঘাড়ে চেপে আমাদের নিংড়ে নিচ্ছে। আমরা যারা সমবেত হয়েছি তারা এ প্রক্রিয়ার বিপক্ষে।’….‘মধ্য প্রাচ্যে যখন কোনো আন্দোলন হয় তখন মিডিয়া সেটাকে খামচে ধরে প্রচার করে। কারণ, সেখানে তাদের স্বার্থ আছে। সরকারি স্বার্থের সঙ্গে তাদের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু যখন নিজের দেশের উঠানে করপোরেট স্বার্থ-শোষণবিরোধী একটি ন্যায্য আন্দোলন হচ্ছে তখন সেটি প্রচার করতে তাদের অনীহা। কারণ, এতে তাদের মুনাফা স্বার্থ বাধাগ্রস্ত হয়।’…‘শাসকরা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জুয়া খেলছেন এবং এই বিষয়টি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে হচ্ছে। এটা তো কোনোভাবেই আমি মেনে নিতে পারি না।’…‘সরকার আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা আমাদের জীবনকে কোনো পরোয়াই করে না। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’ চাকরিজীবী একজন পৌঢ় বয়সের, তিনি সেদিনই উপস্থিত হয়েছেন আন্দোলনে। তার উপলব্ধি হলো, ‘এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা বলছেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কথা। এটা ঠিক। এদের কারণে আমরা আমাদের কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’ ৩০/৩২ বছরের একজন বেকার যুবক অসহনীয় অবস্থায় থেকেও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি আমার চাকরি হারিয়েছি। হারিয়েছি হেলথ ইন্স্যুরেন্স। সামাজিক নিরাপত্তা জাল যেটি সরকারের দেওয়ার কথা ছিল বেকার অবস্থায় তার সবকিছু এখন আমার আয়ত্তের বাইরে। কিন্তু এর জন্য আমরা কর প্রদান করি। বিপরীতে এখন অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ভর করেছে। আমি আমার এই কথাগুলোই বলতে এসেছি এখানে।’…‘যখন আমাদের জীবন-মান সব চলে যাচ্ছে অল্প কিছু সম্পদলোভী হায়েনার হাতে তখন আমরা আর কী করতে পারি। যখন আমাদের করের অর্থে ভোগ-বিলাসে মত্ত গুটিকয়েক লোক যারা সমাজের ১%, তখন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে না দাঁড়ানোর কি কোনো কারণ আছে? আমাদের করের অর্থে চালানো হচ্ছে যুদ্ধ, মানুষ মরছে, আমরা হচ্ছি বেকার’।

এ কথাগুলো শুধু আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নয় বরং মার্কিন মুল্লুক এবং পুঁুজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অধীনস্ত সব দেশের মানুষের। যার কারণে এর ঢেউ সারাবিশ্বে আছড়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। যার চেহারা আমরা দেখছি বিশ্বব্যাপী। শারীরিক-মানসিক-প্রাযুক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজস্ব স্বর এবং সুর নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের দখল-আধিপত্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা, সমাজের সিংহভাগ মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে, ‘আমরা শতকরা ৯৯’। রক্তাক্ত হচ্ছে কিন্তু আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে পারছে না ক্ষমতাধর প্রশাসন। গায়ে ‘কাঁদা’ লাগানোতে অনীহা মূল ধারার করপোরেট মিডিয়ার। এজন্য একদিকে আমরা দেখি লিবিয়ায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ নামক তেল দখলের যুদ্ধের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাহিনী যত না ফলাও করে প্রচার করা হয়; লিবিয়ার তথাকথিত বিদ্রোহী এনটিসির যুদ্ধ জয়ের খবর যত না আগ্রহ সহকারে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে; তার সিকিভাগের একভাগ গুরুত্ব পায় না জনগণের ন্যায় এবং ন্যায্য আন্দোলন। তার বিপরীতে ‘শতকরা ৯৯’কে আড়ালে রাখায় মরিয়া হয়ে উঠতে দেখি! উপরন্তু করপোরেট মিডিয়ার ঘাড়ে এখন ‘সমাজতন্ত্রের ভূত’ চেপে বসেছে। এ ভূত ঘাড় থেকে নামানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে কিন্তু কোনোভাবেই নামাতে পারছে না। কী মার্কিন, কী বাংলাদেশে। আদল আলাদা, রক্তের ধারা এক। কিন্তু এ বিদ্রোহের বিশেষত্ব এই যে, করর্পোরেট মিডিয়ার মুখ পানে চেয়ে বসে নেই বিদ্রোহীরা। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগের মতো সামাজিক মিডিয়াকে অবলম্বন করে আন্দোলনকে বিস্তৃত করতে তৎপর। যদিও এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু, এই শক্তিকে রুখবে কে?

বাংলাদেশেও একচেটিয়া পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন চলছে। সম্পদ এবং সম্মান যা বিভিন্ন মেয়াদের সরকারের সময় জনগণের হাতছাড়া হয়েছে তাকে জনগণের হাতে ফেরৎ আনার আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর সঙ্গে সংহতি এবং সম্পর্ক সেখানেই। ভিন্ন দেশ কিন্তু দখল-আধিপত্যবিরোধী গণআন্দোলনের সুরটি অভিন্ন। শোষণের মূল ধর্মটি যেখানে এক সেখানে প্রতিরোধ-বিদ্রোহের ভাষার মূলে ঐক্য থাকবে সেটিই স্বাভাবিক। mehedihassan1@gmail.com [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

ঢাকা, অক্টোবর ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গরিবী হটাও আন্দোলন’ এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নূরুল হক মেহেদী বলেন, “এ আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিশ্বের শ্রমজীবী-মেহনতী মানুষের আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে। এ আন্দোলনের ঢেউ আমাদের অধিকার বঞ্চিত মানুষদের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘অতিমুনাফা’র প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এ আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্বের ৮০টি দেশের ৯৫১টি শহরে একযোগে প্রতিবাদে নামে এ আন্দোলনের সমর্থকরা।

ঢাকার সমাবেশে কমরেড মেহেদি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুনেত্র ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গরিবী হটাও আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের সভাপতি খায়রুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মাহবুব।
সমাবেশ শেষে মিছিল করেন তারা।

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life