লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ


লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ
আটজন ব্যক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান
লস এঞ্জেলেস, ৩০ সেপ্টেম্বর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃ লস এঞ্জেলেসের অভিজাত এক রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি, আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেলেব্রেটি এওয়ার্ড প্রদান করে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর। অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে আটজন ব্যাক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান করা হয়।
BADAM Ibne Mizan Ekush Jahan Hassan
দেশ ও প্রবাসে শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতি-ক্রীড়া ও সমাজ উন্নয়নের আইকনদের কর্মের মূল্যায়ন, উৎসাহ, অবদানের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রেরনা সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও স্বদেশী স্বকীয়তাকে সমুজ্জ্বল রাখার নিমিত্তেই বাদাম-হলিউড পদক-এর সৃষ্টি।

বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্ব। এবারে যারা আজীবন সম্মাননা পদক পেলেন তারা হলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের লিজেন্ড পরিচালক, প্রযোজক ইবনে মিজান, স্বাধীনতাউত্তর বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের পুরোধা সৈনিক, “স্পন্দন” ব্যান্ডের নাসির আহমেদ অপু। আরো সম্মাননা পেলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কর্মের উপর অবদানমূলক কাজের জন্য খিলখিল কাজী, ডঃ গুলশান আরা কাজী, কবি রেজাউদ্দীন ষ্টালিন ও প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও শিক্ষক ফেরদৌস আরা। অভিনেত্রী তারিন জাহান, বিউটিশিয়ান – মেকআপ আর্টিষ্ট নাহিন কাজীকে ও সম্মাননায় ভূষিত করল বাদাম।
BADAM Tarin Nahin Zabin Hilton Jahan Hassan Ekush News Media
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা। সহযোগীতায় ছিলেন শাহানা পারভীন, এম কে জামান ও জাহান হাসান। সংগঠনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন বাদামের উপদেষ্টা মোবারক হোসেন। সম্মানিত বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর নির্মিত অডিও-ভিস্যুয়াল প্রর্দশনীর মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ইবনে মিজানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাদামের প্রধান উপদেষ্টা এম কে জামান। নাহিন কাজীকে ব্যবসায়ী ও সংগঠক ফরিদ আহমেদ নুরু ও তারিন জাহানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডাঃ রবি আলম।
BADAM Ekush News Media Jahan Hassan
তিন পর্বের এই অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু। বাদামের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্ণিয়ায় ৬ষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম এনডাউমেন্ট লেকচারশীপ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই পর্বে ফেরদৌস আরাকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান। খিলখিল কাজীকে জাতীয় বক্সার আক্তার ভূইয়া, ডঃ গুলশান আরা কাজীকে মোবারক হোসেন ও রেজাউদ্দীন ষ্টালিনকে শফিঊল আলম (ফ্রেন্ড বাবু) স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন।
BADAM Jahan Hassan ekush news media
সম্মানিতরা তাদের বক্তব্যে প্রবাসে তাদেরকে এই ধরনের তথ্যপূর্ণ ও ব্যক্তিগতভাবে যত্নশীল উপস্থাপনের জন্য বাদামকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশ-প্রবাসের মাঝে সেতুবন্ধনের এই মহতী প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

BADAM Jahan Hassan ekush news media

শেষ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ইবনে মিজানের বড় ছেলে ব্যবসায়ী, চিত্রনায়ক টিটো মিজান।
বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর ভিডিও নির্মান ও গবেষনায় ছিলেন জাহান হাসান। দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ এই ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেস সহ পার্শ্ববর্তী শহরের বিদগ্ধজনেরা যোগ দেন।

ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা


লস এঞ্জেলেস থেকে জেসমিন খানের কলাম
হলিউডে ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা
-জেসমিন খান
হলিউডের দেশে অর্থাৎ লস এঞ্জেলেসের “রয়াল দিল্লি প্যালেস” এর হলরুমে তখন আলো আধারির নরম আলোর তৈরী মোহনীয় আলোকসজ্জার মাঝে মঞ্চের বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে একটা গানের দৃশ্য। গানের সুর টা খুব আবেগময়। কন্ঠটাও খুব মিষ্টি। গায়িকা নিজেই অংশ নিয়েছেন কোরীয়গ্রাফিতে। আকাশ দেব কাকে? গানের কথায় আকাশ ছুয়ে যাওয়ার বাসনা, বৃষ্টির রিমঝিম ধারা ও শব্দের সাথে সুললিত কন্ঠ মাধুর্য ছুয়ে যাচ্ছে দর্শক-শ্রোতার হৃদয়। বৃষ্টি দেখতে দেখতে দর্শক শ্রোতাও পৌছে গেছেন বাংলাদেশের বর্ষার মাঝে। বাংলাদেশে এখন শরত এসেছে। হয়ত সেখানে এখন সুনীল আকাশে কৃষ্ণবর্ণ মেঘের আনাগোনা। বর্ষা বিদায় নিলেও যাই যাই করেও এখনো দাড়িয়ে আছে দুরে কোথাও। তবুও শরত এসেছে। এসেছে তার শিশির ভেজা সবুজ মাঠ,খালে বিলে পদ্ম ও শিউলির লাবন্য নিয়ে। এখন ভোর ভোর সকাল নেমেছে বাংলাদেশে। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সকালের স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে পরছে আমার দেশের পথে প্রান্তরে…|

চমক ভাঙ্গলো প্রচন্ড হাততালির শব্দে। গায়িকা অভিনেত্রী তারিনের গাওয়া গানের অংশ শেষ হয়েছে ,এখন অভিনয়ের অংশ বিশেষ দেখানো হচ্ছে। আয়োজনটি বাদামের পক্ষ থেকে। BADAM বাদাম -মানে, বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব ডাইভারসিটি আর্টস আন্ড মিডিয়া। আজ এখানে বাদাম আয়োজিত এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন দেশের আট জন গুনী ব্যক্তিত্ব। তার মধ্যে পাঁচ জনই নারী। নারীদের এই সাফল্য যে কতটা আনন্দের তা নতুন করে বলবার অপেক্ষা রাখে না। আমি পর্দায় জাহান হাসানের ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখতে দেখতে ভাবছিলাম – সাকসেস মাপার মাপকাঠিটি কেমন? কোন বিশেষ সংগায় বাধা যায় সাফল্যের রসাযন। যে মেয়েটা মিস ইউনিভার্স অথবা সেরা সুন্দরীর মুকুট পরে সারা দুনিয়ার মানুষকে তাক লাগিয়ে ফ্লাইং হাসি ছুড়ে দেয়, আর যে মেয়েটা লন্ঠনের আলোয় অঙ্ক কসে কসে ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো ডিগ্রির পরীক্ষায় ভালো ভাবে উতরে যায়,-তাদের মধ্যে কে বেশী সফল? প্রশ্নটা প্রায়ই আমায় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। নারী মুক্তির ইতিহাস নিয়ে কত কথা শুনি।

নারীবাদের আইনেস্টায়েন সিমন দা বুভেয়র এর “দা লাজিয়েম অফ সেক্স ” বা দা সেকেন্ড সেক্স” আদ্যপ্রান্ত পড়েও বুঝে উঠতে পারিনি এই সব গোলমেলে প্রশ্নের উত্তর। বুঝতে পারিনা তার আসল সংগা।একসময় পুতুল খেলার বয়সের বাচ্চা মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো ধর্ম রক্ষার নামে। তাদের স্বামী নির্বাচনের ব্যাপারে বয়সের কোনো মাপকাঠি ছিল না। একজন পুরুষ হলেই হলো। বৃদ্ধ,এমন কি মৃত্যু পথযাত্রী হলেও ক্ষতি নেই। সমাজ পতিদের মন রক্ষা হলেই বাধা নেই। তার পর বিধবা অথবা সহমরণ এই ছিল তাদের ভবিতব্য। সহমরণের ভয়ংকর প্রথা, বিধবাদের প্রতি সমাজের অকথ্য অত্যাচার, এসব থেকে তাদের বাচাতে এগিয়ে এসেছিলেন রামমোহন রায়,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর মতো মানুষ। বিদ্যাসাগর চেয়েছিলেন মেয়েমানুষ নামের এই সব অবলা বাকরুদ্ধ প্রাণীগুলো বাঁচতে শিখুক। ভালোমন্দ বুঝতে শিখুক। স্বপ্নটাকে আরো একটু বাড়িয়ে বিধবা-বিবাহ পর্যন্ত যেতে তাকে কম হেনস্থা সইতে হয় নি !

বিদ্যাসাগরের সময় থেকে বেগম রোকেয়ার সময় পর্যন্ত যে সব মেয়েরা বিদ্যাসাগর অথবা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন সার্থক করতে তুচ্ছ করেছিলেন সমাজের চোখ রাঙ্গানি ও ভ্রুকুটি -তারা কি বেশী সাফল্যময়ী নাকি সে সময়ের অভিজাত পরিবারের লোরেটো বা বেথুন থেকে পাশ করা সর্ব বিদ্যায় পারদর্শী মেয়েটি বেশি সাকসেসফুল তা ভাবনায় আসে অনেকটাই|

সাফল্যকে মাপা খুব জটিল একটা কাজ। তার নিজেরই একটা জ্যো-তি আছে। সে আলোতেই সে উদ্ভাসিত হয় সকলের চোখে। তেমনি আলোতেই গুণীজনদের আরো আলোকিত করবার প্রত্যয় ও প্রচেষ্টা নিয়েই বাদামের জন্ম। লস এঞ্জেলসে বেশ কিছু সংগঠন থাকা সত্বেও নতুন আরো একটি সংগঠন কেনো –এ প্রশ্নের উত্তরে বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান জানালেন –বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারার বিকাশ ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখবার একান্ত প্রচেষ্টাই বাদামের মূল লক্ষ্য। আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই এলাকার একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দেশের ও প্রবাসের কবি সাহিত্যিক ,দার্শনিক,সাংবাদিক ,অভিনেতা ,অভিনেত্রী ,ক্রীড়াবিদ ও সমাজের অন্যান্য শাখার প্রথিতযশা মানুষদের মূল্যায়নের জন্যই বাদাম কাজ করে যাবে।

এ লক্ষ্যেই বাদাম তার প্রথম আয়োজন করে -“সাম্প্রতিক বাংলাদেশ “। এই উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী হৃদয়ের অনেক চিন্তা-ভাবনার কথা উঠে আসে। কারণ প্রবাসের নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবনে বাস করলেও দেশের সুখ দুঃখ ,আনন্দ বেদনা ঘিরে রাখে প্রতিনিয়ত প্রায় সকল প্রবাসীকেই। হৃদয়ের চোরা কুঠুরিতে আলোড়ন তোলে দেশের ভাবনা। এই আবেগ থেকেই আলোচনা হয়ে ওঠে আরো প্রানবন্ত। স্থানীয় প্রবাসী ও পুরোনো সতীর্থদের সাথে যোগ দেন দেশের এর আর এক জন সফল মানুষ -ফিডব্যাক এর প্রথম ভোকালিস্ট, স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের প্রধান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জাকিউর রহমান। সম্বর্ধনা জানানো হয় বাংলাদেশে আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মানের অগ্রদূত চলচ্চিত্রকার মোহাম্মদ হোসেন জেমিকে। যিনি এই হলিউড থেকেই উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মানের ওপর।

এর মাঝেই বিষাদের ছায়া নেমে এলো বাঙালি সমাজে। শুধু বিষাদ নয় -এ যেনো এক কাল বৈশাখী ঝড়। কিংবদন্তির রূপকথার নায়ক হিসেবে যে মানুষটি অতি অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন দেশের কোটি মানুষের ভালবাসায়। সেই মহানায়ক লেখক হুমায়ুন আহমেদের চির প্রস্থানের পর বেদনাহত বাদাম পরিবার। সেই বেদনাকে সঙ্গী করে আয়োজন হলো -“-হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে–শ্রদ্ধাঞ্জলি “। তবু যেনো পাওয়া হলো না পরিপূর্ণ পাওয়ার দুর্লভ আনন্দ, যা অবিস্মরণীয় হতে পারতো! কারণ সদ্য প্রয়াত সেই মানুষটি অনন্তলোকের ওপার থেকেও আচ্ছন্ন করে রেখেছেন তার পাঠকের চিন্তা চেতনা ,মনন শীলতা। বাদামকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন ভক্তরা -জানালেন তাদের সেই অতৃপ্ততার কথা -বেদনার কথা ,শ্রদ্ধা ও ভালবাসার কথা।

এর পর বাদাম আয়োজন করে ওপার বাংলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় এর সাম্প্রতিক বই বেস্টসেলার ” কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট” এর হলিউডে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। আনন্দবাজার পত্রিকার সাবেক সহ সম্পাদক ও সংবাদ প্রতিদিনের সহ সম্পাদক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত লেখালিখি করেছেন -রবীন্দ্র জীবনের গোপনচারীনিদের নিয়ে। তার “আদরের উপবাস “বইটিতেও তিনি রবীন্দ্রনাথের জীবনের তিন নারীর ভূমিকার অজানা প্রেমময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরেছেন। তারা হলেন কাদম্বরী দেবী ,লেডি রানু মুখার্জি এবং ভাইঝি ইন্দিরা দেবী |স্কটিশ চার্জ কলেজের একদা ইংরেজির অধ্যাপক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় তার” আদরের উপবাসে ” জানিয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষ মুসলমান ছিলেন | তাদের পূর্বপুরুষের একজনের নাম ছিল -পীর আলী। যে কারণে তাদের পিরালী ব্রাহ্মন হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং নির্ভেজাল ব্রাহ্মন্ না থাকার কারণে ঠাকুর পরিবাররের ছেলেমেয়েদের বিবাহে -এমন কি রবীন্দ্রনাথেরও বধু সংগ্রহে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় |

সাহিত্যের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই, গোত্র নেই, নেই দেশ কাল সীমানা। সাহিত্য সকলের। তাই বাদাম তার সীমানা করেছে উন্মুক্ত। দেশ কাল পাত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাদাম সকলের। বিশেষ করে বাংলা ভাষা ভাষীদের প্রতিটি মানুষের। বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্। দেশের সংস্কৃতির অঙ্গনে তাদের অবদান অনষিকার্য। চলচিত্র বা সিনেমার পরিচালক হিসেবে ইবনে মিজান সুপরিচিত একটা নাম। বহু সফল বানিজ্যিক ছবির নির্মাতা তিনি। বর্তমানে তিনি লস এন্জেলেসে বসবাস করছেন। ইবনে মিজান ছাড়াও আজীবন সম্মাননা সনদ পেলেন নাসির আহমেদ অপু। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের, সম্ভবত ৭২ এর দিকে ব্যান্ড সঙ্গীতের জগতে জনপ্রিয় দল ” স্পন্দন ” এর সংগঠক ও প্রধান ভোকালিস্ট। বহু জনপ্রিয় গানের নির্মাতা তিনি। তার লেখা ও সুর করা গান -এমন একটা মা দেনা ,যে মায়ের সন্তানেরা -কান্দে আবার হাসতে জানে,-প্রচন্ড ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তিনিও বর্তমানে এখানেই বাস করছেন।
BADAM
নাহীন কাজী সম্মাননা পেলেন একটু ভিন্ন খাতে। তিনি একজন সফল বিউটিসিয়ান। তার কাজ অনেকটা অন্তরালে। টেলিভিশন বা মঞ্চের অভিনেত্রী বা গায়িকাদের সাজসজ্জায় আমরা মুগ্ধ হই, অনেক সময় অনুকরণ ও করতে চাই, সেই সব মনোমুগ্ধকর সাজ সজ্জা একজন বিউটিশিয়ানের সৃষ্টি। আধুনিক বিশ্বে সব কিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি ফ্যাশন, ফিউসন, লাইফ স্টাইল ট্রেন্ডস, হেলথ কেয়ার, তথা পারসনাল গ্রুমিং সব কিছুই জীবনে অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা সেলিব্রিটি বা মিডিয়ার সাথে যুক্ত। সৌন্দর্য চর্চা এবং সুন্দর থাকা তাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত। নাহীন কাজী তার কাজের মাধ্যমে দেশের মিডিয়া জগতে এক নন্দিত শিল্পীর পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করেছেন ইতিমধ্যে।

প্রখ্যাত গায়িকা ফেরদৌস আরার কথা নতুন করে বলবার কিছু নেই। তিনি জাত শিল্পী। অত্যন্ত খ্যাতিমান এই গায়িকা সঙ্গীতের সব শাখায় অবাধ বিচরণ করলেও নজরুল সঙ্গীতে তিনি ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তার জনপ্রিয়তা আজ আর দেশে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পরেছে সমস্ত পৃথিবীর প্রবাসী বাঙালির মাঝে। খিলখিল কাজিও এমনি একজন মানুষ। তিনি শুধু কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি নন ,প্রখ্যাত আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচীর কন্যা খিলখিল কাজী নিজে ও একজন শিল্পী। বহুবিধ প্রতিভার অধিকারিনী তিনি। অথচ তার কোনো প্রকাশ তার মধ্যে নেই। তিনি তার অসাধারণ বলবার ক্ষমতায় বর্ণনা করলেন কবি নজরুলের জীবনের অজানা আটপৌরে দিকগুলো।মুহুর্তেই বিদ্রোহী কবি তার যোজনার দুরত্ব ঘুচিয়ে হয়ে উঠলেন আমাদের সকলের আপনার। আমরা শ্রোতার দল খুঁজে পেলাম সেই নজরুল -যিনি রাগ করছেন,ফুটবল খেলে প্রিয় দল হেরেছে বলে অভিমানে কাঁদছেন,আবার সন্তানদের নিয়ে আনন্দ করে ঘুরছেন সাধারণ গৃহস্থ হয়ে, এই পাওয়াও বড় কম নয়। বাংলাদেশের জাতীয় কবি তথা বিশ্ব মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিশ্ব সমাজে পরিচিত করার লক্ষ্যে নর্থ আমেরিকাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নজরুল গবেষক ডঃ গুলশান আরা কাজী। তাকেও সম্মাননার অন্তর্জালেও আবদ্ধ করল বাদাম।

বেশ অনেকক্ষণ ধরে স্ক্রিনে দেখছি মিডিয়া কাপানো সেলিব্রিটিদের আনাগোনা। সাংবাদিক ও বাদামের আহবায়ক জাহান হাসানের অসাধারণ ভিডিও প্রেজেন্টশনএ প্রতিটি গুনিজনের জীবন বৃত্তান্ত ফুটে উঠেছে জীবন্ত হয়ে উঠছে রওনাক সালাম, শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের সাবলীল ধারা বর্ণনায়। সঞ্চালক মশহুরুল হুদা তার সহযোগী শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিকে করে তুলছে অত্যন্ত মনোগ্রাহী। কিন্তু কি যেনো একটা নেই। কি যেনো একটা অতৃপ্তি ! সাহিত্য বা কবিতার অনুপস্থিতি চোখে লাগে বৈকি ! উদ্যোক্তারা কি টেলিপ্যাথী জানেন?

এবার মঞ্চে যিনি এলেন, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন কবি। নজরুল একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর রেজাউদ্দিন স্টালিন তার সব পরিচয় ছাড়িয়ে কবি পরিচয়েই যেনো বড় বেশী কাছের হয়েছেন সকলের। কারণ অনেকেই তার কবিতা শুনতে চান। অত্যন্ত শক্তিমান এই কবি, কবিতার রাজ্যে বাস করেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন কাজী নজরুলের সব সৃষ্টিকে যথাযত ভাবে বাঁচিয়ে রাখবার প্রয়াসে। সকলের অনুরোধে তিনি পাঠ করলেন নিজের লেখা কিছু কবিতা। তার প্রায় কবিতায় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষার কথা বলেছেন। পৃথিবীকে বাঁচাবার কথা বলেছেন। স্টালিন বললেন কবিরা শুধু দিতে চায়, দিতে চায় হৃদয় ভরে। পৃথিবীকে সজীব ও সুন্দর রাখতে চায়। বিনিময়ে চায়না কিছুই। কোনো ঐশ্বর্যতেই কবিদের রুচি নেই। কবিরা প্রকৃতি ভালোবাসে তা আমরা জানি। তারা যে ঐশ্বর্য চায় না তাও আমরা জানি। অনেক বছর আগে শার্ল-বদলিয়ার বলেছিলেন –
কি তুমি চাও -অজানা আগন্তুক? মনি কাঞ্চন ,নাকি সোনা রুপা ?
কোথায় তোমার দেশ ?কোন দ্রাঘিমায় তার অবস্থান ?
অনেক প্রশ্নের উত্তরে সে বলছে —
আমি ভালো বাসি মেঘ ,চলিষ্ণু মেঘ ,যারা উড়ে যায় ওই উচু থেকে উচুতে …..||
আকাশ আর মেঘ থেকে আবার ফিরে এলাম মাটিতে। এই হলরুমে সুবেশী অসংখ্য নারী পুরুষের ভি। পরিমিত আলোক সজ্জা, চা কফি ছাড়াও সুখাদ্যের কমতি নেই। হৃদয় ও উদরের পরিপূর্ণ উপাদান।

বাদাম বয়সে নবীন হলেও কাজে প্রমান করেছে দায়িত্বশীলতার। ভাবছি –বাদাম যে প্রত্যয় দিয়ে শুরু করেছে তা ছিল অনেকটাই প্রতিশ্রুতিশীল। ছিল অনেক অঙ্গীকার। বাদাম কি তার প্রথম অঙ্গীকার থেকে কিছুটা সরে এসেছে? কিছুটা কি বদলে গেছে তার ভাবনার গতি? এই লস এন্জেলেসেই এমন বেশ কিছু মানুষ আছেন যারা সম্মাননা পাওয়ার তালিকার প্রথম সারিতে আছেন। আমার হয়ত অনেকের সাথে তেমন পরিচয় নেই, কিন্তু কিছু মানুষের কথা না বললেই নয়। তাদের মধ্যে আছেন –ড: মাহবুব হাসান, লেখক তপন দেবনাথ, কাজী মশহুরুল হুদা, মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ ও আরো অনেকেই। বাদাম কি ভাবছে তাদের নিয়ে? বাদাম কি তার পরবর্তী কাজের কথা ঘোষনা করেছে ইতিমধ্যে? জানবার বাসনা রইল অনেকটাই।

কবিতার রাজ্য থেকে আবার ফিরে এলাম গানের জগতে। তারিনের গানের মধ্য দিয়ে। তারিন জাহান বা তারিন এতটাই পরিচিত একটা নাম দেশের মিডিয়া জগতে যে ,তার সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলবার আর নেই। মিডিয়ার কল্যাণে তার সবকিছুই সবার মোটামুটি ভাবে জানাই আছে। নতুন কুড়ির শিশু শিল্পী হিসেবে তারিনের পথ চলা শুরু। তার পর থেকে পথটা শুধুই সাফল্যের। নাচ, গান, অভিনয় সবকিছুতেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা পাওয়া নামটি তারিন। আজকের দিন শুধু নয়। তারিন এগিয়ে যাবে আরো আরো অনেক দূর। যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম –সাফল্যের বেরমিটারের পারদ কি দিয়ে মাপা যায় ,যদি সে হয় নারী? আমেরিকার এই সব দেশে নারী পুরুষের তেমন তফাত মাপা হয় না। নারীদের কোনো জবাবদিহিতার দায় ও তেমন নেই। তবু ভাবি আরো কতদূর যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা? পলে পলে প্রতিবন্ধকতার বেড়ী এড়িয়ে? আমি জানি আজকের উদিতারা ,আজকের নারীরা অনেক চেতনা সম্মৃদ্ধ। তারা নিজ যোগ্যতাতেই খুঁজে নেবে পথের দিশা। আলোকের ঝরনাধারায় ধুয়ে দেবে সব অন্ধকার।

বাদাম সাথে থাক আমাদের। আজকের পৃথিবীর হিংসা বিদ্দেষ,অশান্তির কালো মেঘের মধ্যে দেখা দিক ভালবাসার আলোর উৎস। অন্ধকার গভীর হয় সূর্যের দুর্বল অবস্থানের জন্য। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রার্থনায় সূর্য আরো প্রখর হোক পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য। বেঁচে থাক প্রেম তার জাদুকরী উজ্জলতায়। বেচে থাক ফুল, নদী, পাখি, গান, কবিতা, সাহিত্য ও সুন্দর। এই সুন্দরের আগমনী সুরে –বাদাম এর স্বপ্ন দেখা –জাহান হাসান, কাজী মশহুরুল হুদা, এম কে জামান, পঙ্কজ দাস, ফারাহ সাঈদ, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, শাহানা পারভীন, শফিউর রহমান বাবু ,খাজা এরশাদ মইনুদ্দিন পপসি, আকতার ভুইয়া, মোবারক হোসেন ও কবি রওনক সালাম সহ বাদামের সকল সদস্য ও গুনগ্রাহীদের জানাই আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। এ পথ চলা সার্থক হোক।।
ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





হলিউড, লস এঞ্জেলেস এ বাদাম এর আত্মপ্রকাশ



http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-07-07/news/271545
হলিউড, লস এঞ্জেলেস এ বাদাম এর আত্মপ্রকাশ

একুশ নিউজ মিডিয়াঃ লস এঞ্জেলেস, ২৪ জুন:বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার প্লাটফর্ম হিসাবে কাজ করা, সহায়তা ও পরামর্শ দিতে লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্ণিয়া, ইউ এস এ-তে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া (বাদাম BADAM)। স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ ও সুধীজন এই আলোচনা সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে ‘বাদাম’ -এর প্রতি সম্পৃক্ততা ঘোষণা করেন।

BADAM Los Angelesরবিবার লিটল বাংলাদেশ এলাকায় আলাদীন রেস্তোরায় এক আলোচনা সভার মাধ্যমে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উদ্যোক্তারা এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। প্রবাসের মূলধারায় দেশীয় বাংলা সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে দেশ-প্রবাসের কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের যোগসূত্র হিসাবে কাজ করবে এই সংগঠন।

সুদীর্ঘ সময় পরে হলেও নতুন প্রজন্মের সাথে আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পরিচয় ও তাদেরকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বাদাম-নতুন প্রজন্ম’ নামে সংগঠনের একটি শাখা খোলার প্রস্তাবনা করা হয়। প্রতিমাসে একবার করে নতুন প্রজন্মদের নিয়ে স্কুলশিক্ষার আদলে ইন্টারএক্টিভ কর্মশালার প্রস্তাব করা হয়।

BADAM Los Angelesকাজী মশহুরুল হুদার সঞ্চালনায় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের অতীত-বর্তমান-ভবিষৎ নিয়ে আলোচনা করেন মিজান শাহীন, কাজী রহমান, আলী আশরাফ রুনু, ডাঃ নাসির আহমেদ অপু, একতার ভূঁইয়া, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, তারিক বাবু, ফ্রেন্ডস বাবু, দিলশাদ রহমান, মার্টিন রহমান, মিঠুন চৌধুরী, রওনাক সালাম, বুলবুল সিনহা, আব্দুল খালেক, স্যামী নোবেল, খাজা মইনুদ্দীন চিশতী, শহীদ আলম, শাহানা পারভীন, সাদিয়া রহমান, জাবিন হিল্টন, মাহবুবা রশীদ, শামসুন্নাহার মনি প্রমুখ।

BADAM Los Angelesফারহানা সাঈদ সবার বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরে বলেন, সবার বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা -সংস্কৃতি সার্বজনীন, বহমান সংস্কৃতিকে মূলধারার সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করে নিজ দেশের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে হবে।

BADAM Los Angeles
বাদাম-এর প্রধান উপদেষ্টা এম কে জামান নান্টু তার বক্তব্যে বলেন, লস এঞ্জেলেস এ কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের এক অপূর্ব সম্মীলন ঘটাবে এই বাদাম। বাদাম ও স্থানীয় বাংলাদেশী ডাক্তারদের সহযোগীতায় লিটল বাংলাদেশ-এ ফ্রি সানডে ক্লিনিক খোলার ঘোষণা দেন তিনি।

BADAM Los Angelesনব গঠিত বাদাম’র আহ্বায়ক জাহান হাসান সভার শেষে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, আমেরিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের একটি শক্তিশালী সাহিত্যিক-সামাজিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনেকদিন ধরে অনুভূত হচ্ছিল। অনেক প্রবাসী তাদের নিজ নিজ অবস্থানে সমুজ্জ্বল হলেও সংস্কৃতি প্রসারে নিরপেক্ষ প্লাটফর্মের অভাবে এগিয়ে আসতে পারছেন না। তাদের অভিজ্ঞতা, সার্মথ্য ও দেশকে ভালবাসা বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে এই বাদাম। নিয়মিতভাবে প্রবাস ও দেশের গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করার ঘোষণা দেন তিনি।

২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাদাম’র কাজ শুরু করেছে। অচিরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরবর্তীতে বিভিন্ন ষ্টেটে কমিটি গড়ে পর্যায়ক্রমে সারা উত্তর আমেরিকায় সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। ঈদের পরে স্থানীয় প্রবাসীদের সামনে পূর্নাংগ কমিটি ঘোষণা করা হবে। সংগঠনের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসীদের সহায়তা কামনা করে জানান, কবি,সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে সংগঠনটি গঠিত হলেও বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য গড়তে কাজ করতে ইচ্ছুক যে কেউই এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রবাসে শিল্পকলা প্রসারে বাদাম-এর মত সংগঠনের সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সংগঠনের কয়েকজন পরিচালকের সাথে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সভা



লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সভা

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীদের উদ্বেগ
মে ৩, ২০১২, লস এঞ্জেলেসঃ বাংলাদেশের অবনতিশীল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষন করছে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীরা। বিরোধী দলের উপর নজিরবিহীন আগ্রাসন ও হয়রানি, নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টার প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছেন তারা।

BADAM Los Angelesগত রবিবার লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক পুলিশ ষ্টেশনের কমিউনিটি সেন্টারে একুশ নিউজ মিডিয়া ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এর উদ্যোগে সমবেত বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের চরম লংঘনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, কিছু কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের ভুল সিদ্ধান্ত ও সংসদকে অকার্যকর করে রাখায় দেশ এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক উন্নয়ন প্রচণ্ড ভাবে হুমকির সম্মুখীন। দেশ ও দশের উন্নয়নে যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নাই। মেধা বিকাশে দলীয়করণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষিত সমাজকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানানো হয়।

BADAM Los Angelesবাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পরিমাণ হিংসা-বিদ্বেষ তাতে দেখে যে কারো মনে হতে পারে এখানে গৃহযুদ্ধ চলছে। প্রবাসের মতো দেশেও যেন সব দলের নেতারা এক প্লাটফর্মে বসে কথা বলার পরিবেশ তৈরী করতে পারে তার জন্য সহনশীলতা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার লিপ্সাই প্রধান। স্থানীয় উন্নয়নে সাংসদদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে শুধু নিজেদের জন্য নয় বরং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

BADAM Los Angelesদেশের নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের জান-মালের নিশ্চয়তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের দলের উর্ধে উঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে আজ ব্যক্তির কোনো নিরাপত্তা নেই। রাষ্ট্রে খুন, গুম, ধর্ষণ একের পর এক বেড়েই চলেছে। সচিবালয়ে বোমা হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটনায় কয়েকদিনের মাথায় বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জেলে অন্তরীন করা হয় অথচ মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের কোন কূলকিনারা না হওয়াতে দলীয় হস্তক্ষেপে আশংকায় উদ্দ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খুন হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ঘটনা সরকার যেন ইচ্ছা করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অপশক্তিরা উৎসাহিত হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের সাংবিধানিক অভিভাবক নির্বাচিত সরকারের নির্লিপ্ততার নিন্দা জানিয়ে বক্তরা বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানবিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কাজে সরাসরি পুলিশ বহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার সামগ্রিক পরিস্থতিকে আরো জটিল করেছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয় – তাই শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, অর্থবহ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দলীয় দূর্নীতিবাজদেরও ছাড় দেওয়া চলবে না। এতে নিজ দলের অপরাধীদেরকেও বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় তার প্রতি আইনজীবী ও সচেতন সমাজের লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। ব্যবসায়ীদের আজ রাজনীতিতে আধিপত্যতা। তার ফলশ্রুতিতে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে অপশক্তির উত্থান ঘটছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্বঘাটিত হচ্ছেনা। সাংবাদিকরাও আইনের উর্ধে নন। সাংবাদিকরা নিজেদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ সঠিকভাবে করছে না বলেই অপশক্তিরা এখনো সংগঠিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ পাশে প্রবাসীরা ও সোচ্চার আছে। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দেশের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার কোন বিকল্প নেই বলে প্রবাসীরা মনে করেন। বক্তারা বলেন, দেশের ভাবমূর্তি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক খারাপ। সবগুলো রাষ্ট্রীয় খাতই এত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত যে বিদেশিরা কোনো সহায়তা দিতে ভরসা পাচ্ছে না। তারা মনে করছে, এখানে কিছু দিলেই তা ব্যক্তি বিশেষের পকেটে চলে যাবে। এটা দেশের উন্নয়নের কোনো কাজে লাগবে না। হত্যা, গুম, নারী নির্যাতনরোধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরিতে পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রবাসে বসবাসরত প্রবাসীদের উৎকন্ঠা তাদের নিজ নিজ কাউন্সিলম্যান, সিনেটরদেরকে অবহিত করার উপর তাগিদ দেওয়া হয়। দেশের এ নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান স্বীকৃত হয়ে আসলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবাসীদের গুরুত্ব দেওয়ার ধারা তৈরী করতে হবে। প্রবাসীদের আওয়াজ যাতে সংসদ ও জনগণের মাঝে তুলে ধরা যায় তার জন্য প্রবাসী উইন্ডো নামে একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরী করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বদেশে নিরাপদ জীবনের অঙ্গীকারে প্রবাসীদের হয়রানী বন্ধে দেশের স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় হবার আহ্বান জানানো হয়। সহনশীলতার পরিবেশ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশের উন্নতির লক্ষ্যে বিজ্ঞ প্রবাসীদের নিয়ে একটি পলিসি ইন্সিটিউট তৈরির আহ্বান জানানো হয়। পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে পরিশীলিত রাজনৈতিক সংষ্কৃতির উন্মেষ ঘটিয়ে যুগের চাহিদা অনুযায়ী দেশ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও প্রবাস ভাবনা শীর্ষক এই আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসমাইল হোসেন, ড্যানী তৈয়ব, মুশফিকুর চৌধুরী খসরু, মাহতাব আহমেদ, তারিক বাবু, শাহানা পারভীন, এম এ বাতেন, মারুফ ইসলাম, শফিঊল আলম বাবু, মোঃ এস জোহা বাবলু, মুজিব সিদ্দিকী, শামসুদ্দিন মানিক, এম এ বাসিত, আনিসুর রহমান, ডাবলু আমিন, লায়েক আহমেদ, এম কে জামান, মোঃ গোলাম সারোয়ার, ফয়সাল আহমেদ তুহিন, রওনাক সালাম, আশরাফ এইচ আকবর, মার্টিন রহমান, জসীম আশরাফী, অবঃ মেজর হামিদ, ফারহানা সাঈদ, ডাঃ আবুল হাশেম, মোসাম্মৎ ফরিদা, সোহেল রহমান বাদল প্রমুখ।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আলী তৈয়ব, মাসুদ চৌধুরী, ইশতিয়াক চিশতী, কাঞ্চন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খান, বুলবুল সিনহা, মোঃ ময়েজ উদ্দিন, শফিক রহমান, নাসির উদ্দিন জেবুল, ফারুক হাওলাদার, ইফতেখার রহমান, ইলিয়াস খান, মোতিয়ার রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা ও সৈয়দ এম হোসেন বাবু।

সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন আয়োজক সংগঠন একুশ নিউজ মিডিয়ার পরিচালক জাহান হাসান।
Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=oa.425613467460482

হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে হলিউডে বাদাম-এর স্মরণ সভা



Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151062928006897.458033.826936896&type=3&l=78e5338c09

হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে হলিউডে বাদাম-এর স্মরণ সভা

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanহলিউড, ২ আগস্ট (জাহান হাসান, একুশ নিউজ মিডিয়া):কর্মের মাধ্যমে বেঁচে আছেন ও থাকবেন ক্ষণজন্মা এই কৃতি পুরুষ। অনন্য সাধারণ সহজভাষা ও সাবলীল রচনাশৈলী দিয়ে এক নিশ্বাসে একটি বই, এক বসায় একটি নাটক, এক যতিতে একটি চলচ্চিত্র দিয়ে শহর থেকে প্রান্তিক গরীব মানুষ পর্যন্ত সকলের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন হুমায়ুন আহমেদ।। তাই তার মৃত্যুর পর তিনি দেশ ও প্রবাসীদের মনে কান্নার শোয়াচাঁন পাখি হিসাবে অনুরণিত হচ্ছেন। BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

সদ্য প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিকের স্মরণে গত ২ আগষ্ট লস এঞ্জেলেসের হলিউডে স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) একটি নাগরিক শোক সভার আয়োজন করে। শোক সভায় লস এঞ্জেলেস কমিউনিটির কবি-সাহিত্যিক,অধ্যাপক, রাজনীতিক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও সাহিত্যের ওপর আলোকপাত করে মননশীল ও আবেগগঘন বক্তব্য রাখেন স্থানীয় প্রবাসীবৃন্দ। বক্তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীল সাহিত্য কর্মের মধ্য দিয়ে। বাংলা সাহিত্যের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো তার এই অকাল তিরোধানে। হুমায়ুন আহমেদ জীবদ্দশায় তার মেধা দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে সৃজনশীল করেছেন, সুবিশাল পাঠক-গোষ্ঠির সৃষ্টির সাথে সাথে বইমুখী করেছেন ধৈর্যের অভাববোধে তাড়িত সাধারণ পাঠকদের। বাংলা সাহিত্যের নবাগত ও অনাগত লেখকদের পথে আলোকবর্তিতা জ্বালিয়ে গেছেন নীরবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে দিয়েছেন শক্ত ভিত, প্রকাশনা শিল্পকে দিয়েছেন প্রাণ। চলচ্চিত্রশিল্পকে দিয়েছেন আশার আলো। ভবিষৎ প্রজন্মের সামনে এক অনন্য-সাধারণ উদাহরণ স্থাপন করে গেছেন এই নন্দিত কথাশিল্পী। BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan
বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অব লস এঞ্জেলেসের মাননীয় কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে হুমায়ুন আহমেদের প্রতীক প্রতিকৃতির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে এই স্মরনসভার উদ্বোধন করেন। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্ষণিকের নীরবতার মাধ্যমেহুমায়ুন আহমেদকে স্মরণ করা হয়। কথাশিল্পী, মনস্তত্ত্ববিদ এবং দার্শনিক হুমায়ুন আহমেদের অনবদ্য চরিত্র যুক্তিবাদী হিমুর স্মরণে ‘আজ হিমুর বিয়ে’ উপন্যাস থেকে আবৃত্তির মাধ্যমে বাদাম-এর এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা শুরু হয়। ইফতারের আয়োজনের পূর্বমূহর্তে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন। ইফতারির পরে হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু নির্মিত একটি তথ্যচিত্র উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তুলে।

প্রধান বক্তা কবি মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ সাহিত্য-সংষ্কৃতির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বাদাম-এর এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যার জন্য সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, লোভনীয় অধ্যাপনা জীবন থেকে বেরিয়ে এসে জীবনমুখী আপন সাম্রাজ্যের প্রভু হিসাবে প্রাত্যহিক জীবন সঙ্কটগুলির মাঝে সূক্ষ্ম সুখ আর দুঃখ যন্ত্রণাগুলিকে কাছে থেকে নিবিড়ভাবে অনুভব করে নিজস্ব আঙ্গিকে সাবলীলভাবে তুলে এনেছেন তার কর্মে, যা অবিনশ্বরভাবে সকলের মন হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

তার অবচেতন মনের গভীর মূল্যবোধ, সামাজিক অবক্ষয়য়ের মাঝে সমাজচেতনা হুমায়ুন আহমেদকে এক স্বতন্ত্র ঐশ্বর্যমন্ডিত লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ও কবিপ্রতিভার মিলনগাথায় সাংগৃতিক নন্দনতত্বে সমন্বিত হয়ে প্রকাশ হয়েছে। গ্রামবাংলার শান্ত সরলতা ও গ্রামের ছোট-খাট সামন্তপ্রভূদের জীবনের স্বেচ্ছাচারী বিলাসিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করে তার লেখনীতে তুলে এনেছেন জীবনঘনিষ্ঠ রূপকার হিসাবে। তাই তার প্রায় গল্পে, নাটক ও চলচ্চিত্রে এই ধরনের ছোট-খাট অনুষঙ্গ, যেমন ঐতিহ্যবাহী ব্যান্ড বাজানোর সার্থক সূচনার মাধ্যমে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে তুলে আনার প্রয়াসে গনমানুষের স্বপ্নকে লেখক নিজের বাস্তব স্বপ্নীল লেখনীতে ধারণ করেছেন।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

আমরা যেমন করে আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের ভুলিনি, আমাদের গর্ব রবীন্দ্র-নজরুল-শরৎ-বিভুতি-বঙ্কিম-মানিকদের ভুলিনি, যদিও তারা তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত জীবনের মোড়কে, হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে নিয়ে গেছেন ধনী থেকে প্রান্তিক গরীব মানুষের অন্তরে। এইভাবেই তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে যুগ-যুগ ধরে। হুমায়ুন আহমেদদের মরণ হয়না।

কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন বলেন, অনিশ্চিত, অবধারিত মৃত্যু জেনেও যারা কর্মকে আলিঙ্গন করে তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেন তারা অমর হয়ে থাকেন শত-শত বছর ধরে। বিশ্বসাহিত্য থেকে বিশেষ করে রাশিয়ান ও স্প্যানিশ সাহিত্য হতে নির্যাস এনে অসাধারণ মেধাবী হুমায়ুন আহমেদ আমাদের সাহিত্যে প্রবৃষ্ট করে সাহিত্যের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার ধর্ম ও ঈশ্বরপ্রীতির বর্ননা দিতে গিয়ে ষ্টীভেন হকিংয়ের এন্ড অফ লাইফের বিষয়ে হুমায়ুন আহমেদ বলেছিলেন, এই জীবনই শেষ নয়, আমরা সবাই ফিরে যাব সেই মহা স্রষ্টার কাছে। তার বিজ্ঞানমনস্কতা, উদার মননশীলতা, প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ ও জোসনার প্রতি ভালোবাসা আমাদের নিজেদেরকে জটিল ভাবনায় না ফেলে সহজ সরল সমাজবোধ, স্নেহ মমতায় অনুরাগে সিক্ত করে।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

হুমায়ুন আহমেদ স্মরণে একটি ইন্সটিটিউশন, যাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র করার জন্য আহ্বান জানান কাজী মশহুরুল হুদা। তিনি বলেন, হুমায়ুন আহমেদের অবিক্রীত চিত্রকর্ম যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য অতি সত্বর তার চিত্রকর্মগুলিকে নিউইয়র্ক থেকে উদ্বার করে বাংলাদেশে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়।

হুমায়ূন আহমেদের বিপুল রচনাবলির ইংরাজী ও অন্য ভাষায় ভাষান্তরিত করে তার সাহিত্য কর্মকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিবার জন্য ক্যালিফোর্ণিয়া প্রবাসীদের সহযোগিতায় হুমায়ুন আহমেদ স্মরণ ডট কম নামে একটি ওপেন ওয়েবপোর্টাল স্থাপন করার ঘোষণা দেন এম হোসেন বাবু।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

স্নেহাশিষ প্রিয় বড়ুয়া বলেন, জাতির মনের খোরাকের ভূমিকায় তিনি যা রেখে গেছেন তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মনের উৎকর্ষতা বাড়াবে। হুমায়ুন আহমেদকে জাতীয় লেখক হিসাবে স্বীকৃতি দানের জন্য আর্টেশিয়ার লিটল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হুমায়ুন আহমেদ স্মরণ সভা থেকে উত্থাপিত দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবরে একটি খসরা স্মারকলিপি তৈরি করা হয়েছে যা প্রবাসীদের সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে শীঘ্রই স্থানীয় কন্সুলেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে প্রেরণ করা হবে ।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan enayet hossain

হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যকে যে পর্যায়ে নিয়ে এসেছে তা আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। প্রবাসে হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় নাটকগুলিকে নতুন প্রজন্ম ও বিদেশীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সাব-টাইটেলসহ প্রচার করার জন্য টিভি ষ্টেশন ও নির্মাতাদের অনুরোধ করেন শাহানা পারভীন। পারিবারিক কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি থেকে সাধারণ মানুষের কাছে হুমায়ুনকে ফিরিয়ে দেবার সোচ্চার দাবী জানান তিনি।

জাহিদ হোসেন পিন্টু বলেন, হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্যকর্মে রবীন্দ্রনাথ, হাসন রাজার গানের উপযুক্ত ব্যবহার তার সৃষ্টিতে সার্বজনীনতা এনেছে।

সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু বলেন, স্বাপ্নিক হুমায়ুন আহমেদের দৃষ্টিপথে যুগোপযোগী ধারায় তার দর্শনকে নুহাশপল্লীতে সংরক্ষিত করার আহ্বান জানান।

১৯৯৩ সালে ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হবার পর ২০০৩ সনে ইংরাজিতে অনুদিত ‘ইন ব্লিসফুল হেল’ নামে বইটি বিদেশেও আলোড়ন তোলে বলে জানান, এক কালের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক মোবারক হোসেন বাবলু। তার বইয়ের অনুবাদ হুমায়ুন আহমেদকে বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় লেখক হিসাবে স্বীকৃতি বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

হুমায়ুন আহমেদের প্রস্তাবিত ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান জনাব সরোজ।

ফয়সাল আহমেদ তুহিন সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণের সময় তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ননা করে বলেন, হুমায়ুন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধ আর ইসলামকে পৃথক করে দেখেননি। স্বকীয়তা বজায় রেখে তিনি আত্মার ক্ষুধা মেটনোর জন্য দীর্ঘ চল্লিশ বছর লিখে গেছেন বিশ্বের বিশিষ্ট রম্য লেখক হিসাবে।

গেরুয়া পোশাকের হিমু, স্পিরিট্যুয়াল মিছির আলী চরিত্রের মাধ্যমে একজন হুমায়ুন আহমেদ বাংলা ভাষা প্রেমী জনসাধারণের মনে যে জায়গা করে নিয়েছেন সেখান থেকে তাকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ‘রুপা’ নামের উপন্যাস থেকে কিছু অংশ তিনি পাঠ করেন।

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanতারেক বাবু বলেন, নুহাশ আহমেদ তার বাবাকে সাবলীল ভাষায় যে শেষ চিঠি লিখেছে তাতে তিনি হুমায়ুন আহমেদের লেখনীর ছোঁয়া পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাদাম এই শোকসভা আয়োজন করে হুমায়ূনভক্তদের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছে।

এম কে জামান বলেন, জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আহমদ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন কথাশিল্পী নন, একজন বড়মাপের মনস্তত্ত্ববিদ এবং দার্শনিকও বটে। তার অভাব সহজে পূর্ণ হবে বলে আমি মনে করি না।

বাদাম-বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়ার আহবায়ক জাহান হাসান বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সম্রাট হুমায়ুন আহমেদের অকাল প্রয়াণে সমগ্র বাঙালী জাতি আজ শোকাহত। প্রকাশকদের হিসেবে, হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩২২ টি। বিক্রি হয় বছরে প্রায় আড়াই লাখ কপি। যা দেশে বিক্রি হওয়া মোট বইয়ের ৭৫ শতাংশ। শুধু সংখ্যাগত প্রাচুর্য নয়, শিল্পের নবমাত্রা সংযোজনে তার অবদান অসামান্য। হুমায়ুশ্র আহমদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকল সদস্য ও বন্ধু বান্ধবদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা এবং পরম করুণাময়ের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে অনুষ্ঠানে সবাইকে অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

ছড়া কবিতায় শ্রদ্ধা জানান জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ও কবি মুক্তাদির চৌধুরী তরুনের কবিতা আবৃত্তি করেন কানিজ ফাতেমা শিমুল।
…আমার জীবন সন্ধ্যার নির্জন সমাপ্তি উৎসবে,
নগর সভ্যতার বিদ্বেষ স্বার্থ শেষবারের মত তোমাদের সন্ধ্যাতারার কাব্যে গোপন রাখো।
আমি এখন গল্প থামিয়ে নির্মোহে চলে যাবো,
প্রিয় অপ্রিয় ধরিত্রী ছেড়ে-বিজন শান্তির পথে।
তোমরা বাঁজাও, নিশ্চিন্তে বাঁজাও – বাউলের বাউন্ডুলে বেদনার একতারা।
অনন্ত নীল থেকে ঝরে পড়তে দাও ক’ফোটা বৃষ্টির বরষা জলে…

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা, সহযোগীতা করেছেন জাহান হাসান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাঃ রবি আলম, ড্যানী তৈয়ব, শামসুদ্দিন মানিক, আঞ্জুমান আরা শিউলী, ম্যাকলীন চৌধুরী, কাজী নাজির হাসিব, বুলবুল সিনহা, নিয়াজ মোহাইমেন, প্রমূখ।

বাদাম আয়োজিত উক্ত শোকসভায় তোফাজ্জল কাজল, আকতার ভুঁইয়া, জিয়া আহমেদ, ডাঃ নাসির আহমেদ অপু, শফিঊল আলম বাবু, আইয়ুব হোসেন, পঙ্কজ দাস, ফ্রেন্ড ফেরদৌস, আঃ খালেক, মোঃ শাহ আলম, আলী তৈয়ব, খাজা মইনুদ্দীন পপসি, শফিক আহমেদ, মিঠুন চৌধুরী, মার্টিন রহমান সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।

Pic Link: 2011 – Were you there?
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151057559576897.457431.826936896&type=3&l=9f725eb6d6

একজন ইলিয়াস ও একটি বিজয়


একজন ইলিয়াস ও একটি বিজয়

রওনাক সালাম

Los Angeles, April 25, 2012

তুমি এখন কি ভাবছ ইলিয়াস?­
কি চিন্তাধারায় আবর্তিত তোমার মন?

তুমি এখন কি ভাবছ ইলিয়াস?
বাংলাদেশের পরাজয় না কি একটি মুক্তাংগন ?

৭১’এর বাংলাদেশ যে এখণ আবার আক্ক্রান্ত রাহুর কবলে!
কি ভয়ানক করাল তার গ্রাস!
এই গ্রহনে যে সব জালিয়ে-পুড়িয়ে একাকার, তাইনা ইলিয়াস?

ঘরে ঘরে গুম খুণ, হত্তা, আর বক্তব্বের টুটি চিপে ধরার কি এক ভয়ংকর খেলায়
ওরা মেতে গেছে,
-এখন কি হবে ইলিয়াস??
তুমিই পারো, বোধকরি তোমাকেই মহাশান্তির জণক এতদিন পরে
নিরধারন করলেন—ইলিয়াস
একদার সুজলা-সুফ লা বাংলাদেশকে হানাদারদের কবল
থেকে রক্ষার জন্ন
এগিয়ে আসো ইলিয়াস, হারকিউলিসের (Hercules) মত প্রবল শক্তিতে এসো,
কোরনা সারেন্ডার…

জীবনের বিনিময়ে হবে? …তবে তাই হোক

তবু হোক জয় বাংলার ষোল কোটী আপামর জনকণ্ঠের
শত মায়ের দোয়া তোমার জয় ধ্বনি হয়ে বাজুক…

—এইবার জেগেছে, ইলিয়াস জেগেছে, এইবার দুঃশাসন তুমি থেমে যাও—-

রুনি-সাগরের ভাসমান রুহু বেহেশত থেকে বলে উঠুক…
সাবাস ইলিয়াস, বাঃলার জয় তো তোমারই জয়।

——————————————————————-
ইলিয়াস আলী এবং আমাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা
ড· ফে র দৌ স আ হ ম দ কো রে শী

ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জিকে পিল্লাই বছর দুই আগে তার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এক সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘ওভ রহঃবষষরমবহপব ভধরষং, ধিৎ রং ষড়ংঃ’- গোয়েন্দারা ব্যর্থ হলে যুদ্ধে পরাজয় অবধারিত। বিএনপির তর“ণ নেতা ইলিয়াস আলী এখনও নিখোঁজ। ১৭ এপ্রিল রাতে বনানীতে নিজ বাড়ির কাছেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার গাড়ি থামিয়ে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তাকে আর পাওয়া যা”েছ না। তিনি জীবিত আছেন কিনা- সে প্রশ্ন এখন সবার মনে।

ইলিয়াস আলী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এমপি হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক। সাম্প্রতিককালে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে সক্রিয় ও আলোচিত রাজনীতিকদের অন্যতম। এমন একজন ব্যক্তিকে কে বা কারা এভাবে তুলে নিয়ে গেল, তুলে নিয়ে যাওয়ার এতদিন পরও তার কোন খোঁজখবর করা গেল না, এটা দেশে-বিদেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।

ইলিয়াস আলীর স্বজনদের জন্য বিষয়টি কতটা বিপর্যয়কর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার কোন ভাষা নেই। কি‘ দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গন এ ঘটনায় হতবিহ্বল। আতংক ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠছে সবার মনে। তাহলে তো কেউই নিরাপদ নয়! এ অসহায়ত্ব আরও তীব্র হ”েছ এজন্য যে, আমাদের আইন-শৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সং’া সাম্প্রতিককালের অনেক চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও খুনের ঘটনার মতো এ ঘটনারও কোন কূলকিনারা করতে পারছে না।

সরকারের তরফ থেকে বলা হ”েছ, ইলিয়াসকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস চলছে। সব ক’টি গোয়েন্দা সং’া, র্যাব এবং পুলিশ সর্বশক্তি নিয়ে কাজে নেমেছে। কি‘ ইলিয়াসকে কারা তুলে নিয়েছে, কেন নিয়েছে, তাকে আদৌ ফেরত পাওয়া যাবে কিনা, এসব প্রশ্নের কোন উত্তর মিলছে না।
পনেরো কোটি মানুষের একটি সমস্যাসংকুল দেশের অি’র সামাজিক-রাজনৈতিক পরিি’তিতে নানা কারণে নানা ধরনের সংঘাতের উদ্‌ভব ঘটতে পারে। সংঘাতের জের ধরে কিছু অনাসৃষ্টি ঘটা বিচিত্র কিছু নয়। তবে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সং’াসমূহ পরিি’তি মোকাবেলায় সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে, অপরাধী শনাক্ত হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাবে, এটাই প্রত্যাশিত। এটাই রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের ‘সামাজিক চুক্তি’ বা ঝড়পরধষ পড়হঃৎধপঃ; যা আধুনিক জাতি-রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি।

দুর্ভাগ্যবশত সাম্প্রতিককালে আমাদের রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন সব বক্তব্য আসছে, যা এ ‘সামাজিক চুক্তি’ অস্বীকার করার শামিল। সাংবাদিক দম্পতির হত্যার পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন, ‘কারও বেডর“ম পাহারা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের নয়।’ ভালো কথা। ইলিয়াস আলীকে তো বেডর“ম থেকে তুলে নেয়া হয়নি। নগরীর কেন্দ্র’লের রাজপথ থেকেই তুলে নেয়া হয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী কী বলবেন? তিনি বললেন, ‘বিএনপি নিজেরাই ইলিয়াসকে লুকিয়ে রেখেছে!’

ধরে নেয়া যাক, ব্যাপারটা সে রকমই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খবর থাকতে পারে, বিএনপি কিছু একটা চক্রান্তমূলক কাজ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। সে রকম সম্্‌ভাবনা একেবারে উড়িয়েও দেয়া যায় না। রাজনীতিতে তা বিচিত্র কিছু নয়। কি‘ তাহলে তো উচিত হবে ইলিয়াসকে চটজলদি জনসমক্ষে হাজির করা। সেক্ষেত্রে বিএনপির মুখে এমন চুনকালি লাগবে যে, আগামী নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আর কোন দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। এমন লোভনীয় সুযোগ তিনি নি”েছন না কেন?

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও বলেছেন, ‘শিগগিরই ইলিয়াসকে জীবিত উদ্ধার করে জনসমক্ষে হাজির করা হবে।’ তার এ কথা থেকে অনেকে মনে করছেন ইলিয়াসকে কারা তুলে নিয়েছে এবং তিনি কোথায় আছেন কর্তৃপক্ষ তা জানে এবং তাকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। এ লেখাটি কাগজে বের হওয়ার আগেই ইলিয়াস ফিরে আসুক। প্রধানমন্ত্রী এবং সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য সঠিক প্রমাণিত হোক। ইলিয়াস আলীর পরিবারের নির্ঘুম দিন-রাত্রির অবসান হোক। দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের সেটাই প্রত্যাশা।

দুই
তবে ইলিয়াস আলী ফিরে এলেও সারা দেশের মানুষের মনে সাম্প্রতিককালে যে ভয়-বিহ্বলতা দানা বেঁধেছে তা দূর হবে না। গত এক বছরে এ রাজধানীতে এবং সারাদেশে আরও অনেক ‘খুন’ ও ‘গুম’-এর ঘটনা ঘটেছে, যার কূলকিনারা হয়নি। এটা যেন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিডিয়ার সামনে সরকার এবং আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোর অতি-উৎসাহী উপি’তি থাকলেও এ ধরনের ঘটনাবলীর রহস্য উঞ্ছঘাটিত হ”েছ না। সে জন্য বিরোধী পক্ষ সরকার, পুলিশ ও গোয়েন্দা সং’াগুলোর সমালোচনায় মুখর। বিক্ষোভ-সমাবেশ, হরতাল, ভাংচুর চলছে দেশজুড়ে।

সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ পূর্তির আর বেশি দেরি নেই। তারা আবার ক্ষমতায় আসতে চান। কি‘ জনমতের বাতাস অনুকূলে নয়। সেজন্য তাদের অি’রতা ক্রমেই বাড়ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টাও সেই সঙ্গে বাড়ছে। আর তা করতে গিয়ে নানাবিধ বাড়াবাড়ি পরিি’তি আরও শোচনীয় করে তুলছে। যতই দিন যা”েছ, সরকার পক্ষ যেন মরিয়া হয়ে উঠছে।

অভাবের সংসারে পরিবারের কর্তা হওয়ার বিড়ম্বনা ভয়ংকর। তেমনি সীমিত সম্পদে সমস্যার পাহাড় উপড়ে ফেলার প্রতিশ্র“তি দিয়ে ক্ষমতায় বসাটা বাঘের পিঠে চড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ। যতক্ষণ সম্্‌ভব পিঠের উপরেই থাকতে হবে। নামলেই বিপদ। বাঘের পেটে যাওয়ার শংকা। আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে এ পর্যন্ত একবারও কোন দল দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়নি। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য হাজারও রকমের অনিয়ম করেও কোন লাভ হয়নি। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্্‌ভাবনা খুব একটা নেই। (চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা পৌর-কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়কে অনেকে তারই আলামত মনে করছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ’গিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই বাস্তবতা আরও প্রকট হয়েছে।)

এ পটভূমিতে অন্য অনেক ঘটনার মতো ইলিয়াসের গুম হওয়া, সাগর-র“নীর হত্যাকাণ্ড এবং রেল মন্ত্রণালয়ের ঘুষ কেলেংকারির মতো ঘটনার রহস্য উঞ্ছঘাটনে আমাদের আইন-শৃংখলা বাহিনী বিশেষ করে গোয়েন্দা সং’াগুলোর ব্যর্থতা রীতিমতো হতাশাব্যঞ্জক।

এখানেই আবার পিল্লাইয়ের কাছে ফিরে যেতে হবে। ভারতের এযাবৎকালের স্বরাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে তাকে সবচেয়ে জাঁদরেল ও সুদক্ষ মনে করা হয়। স্বরাষ্ট্র সচিব থাকাকালে তাকে ভারতের ‘তৃতীয় ক্ষমতাধর’ ব্যক্তি আখ্যা দেয়া হয়েছিল। ওপরে উদ্ধৃত তার বক্তব্যটি অবশ্য একেবারে নতুন কিছু নয়। একে আপ্তবাক্যও বলা যেতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্র“র অব’ান এবং পারিপার্শ্বিকতা বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সঠিক না হলে বিপর্যয় তো অনিবার্য হবেই। রাষ্ট্র পরিচালনা এবং যুদ্ধ পরিচালনা প্রায় সমার্থক। আর সেজন্যই রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সং’াগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলে কিংবা করতে না পারলে রাষ্ট্র পরিচালনার যুদ্ধে পরাজয় এড়ানো অসম্্‌ভব।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে যেসব লোমহর্ষক ও অভিনব হত্যা-গুম, খুন-ডাকাতি-ধর্ষণ, ঘুষ-দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। বিশেষ করে গত এক বছরে শতাধিক ব্যক্তির ‘গুম’ হওয়ার রহস্য উঞ্ছঘাটিত হয়নি। প্রতিটি ঘটনা নিয়েই দেশজুড়ে হৈচৈ হয়েছে, মিডিয়ায় দিনের পর দিন নানাবিধ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। থানা-পুলিশ থেকে তদন্তভার অর্পিত হয়েছে গোয়েন্দা সং’ার ওপর। একাধিক গোয়েন্দা সং’ার জোর তৎপরতার কথা শোনা গেছে। কি‘ শেষ পর্যন্ত যে তিমিরে সেই তিমিরেই। অর্থাৎ আমাদের গোয়েন্দারা অপরাধী শনাক্ত করতে পারছেন না, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের ‘মোটিভ’ বা কারণ উঞ্ছঘাটনেও তারা সক্ষম হ”েছন না।

কেন এমন হ”েছ? এটা কি আমাদের ইন্টেলিজেন্সের ই”ছাকৃত গাফিলতি? নাকি আমাদের ‘ইনটেলিজেন্স’ তার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে? আমাদের গোয়েন্দা সং’াগুলো কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে? নাকি তারা কাজ করার উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেছেন? যদি তাই হয়ে থাকে তা যে কারণেই হয়ে থাকুক না কেন, তাহলে তো আবারও পিল্লাইয়ের কথারই প্রতিধ্বনি করতে হবেঃ

তিন
রাজনীতিক ইলিয়াস আলীর ‘গুম’ ও সাংবাদিক সাগর-র“নীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিককালের দুটি অতি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দুটি ঘটনাই ঘটেছে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায়। উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের উ”চপর্যায় থেকে শুর“ করে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা, বাদ-প্রতিবাদ চলছে। মিডিয়ায় নানা সংবাদ, সংবাদ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য প্রচারিত হ”েছ দিনের পর দিন। প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন, অনশন হ”েছ। লাগাতার হরতালে জনজীবন বিপর্যস্ত। কি‘ কোন ‘ক্লু’ বের হয়ে আসছে না।
ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার পেছনে মিডিয়ায় নানা ধরনের কথাবার্তা হ”েছ। লোকমুখে নানা গুজবও ডালপালা বিস্তার করছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হ”েছঃ
০ ইলিয়াস টিপাইমুখ বাঁধ ইসুøতে লংমার্চ আয়োজনে এবং আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা পালন করে মহলবিশেষের রোষানলে পড়েছেন, সেজন্যই তাকে এ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে;
০ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়েছেন তিনি;
০ একটি বিদেশী গোয়েন্দা সং’া বাংলাদেশের রাজনীতি তাদের অনুকূলে রাখার জন্য দেশের ১০০ রাজনীতিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছে, এটা তারই অংশ;
০ বিএনপি বা সরকারবিরোধী কোন গ্র“প আন্দোলন চাঙ্গা করার জন্য একটা ইসুø তৈরি করেছে;
০ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ঘুষ কেলেংকারি ফাঁস হওয়ার পেছনে ইলিয়াসের ড্রাইভারের একটা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল, সেই ড্রাইভারকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত;
০ ব্যক্তিগত কোন শত্র“তার জের ধরেই এ ঘটনা ইত্যাদি।

প্রকৃত রহস্য উঞ্ছঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঘুড়ি ওড়ানো চলতেই থাকবে। সরকারের প্রত্যক্ষ ইঙ্গিতে ইলিয়াসকে গুম করা হয়েছে, যেমনটি বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হ”েছ, তা আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোন নির্বাচিত সরকার, যে সরকার আবার নির্বাচিত হতে চায়, এমন কাজ করতে পারে, তা চিন্তার অতীত। কোন বিদেশী সং’া বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণভার হাতে নেয়ার জন্য দেশের রাজনীতির মাঠ থেকে তাদের অপছন্দের রাজনীতিকদের সরিয়ে দেয়া শুর“ করেছে, তেমন চিন্তাও আমরা করতে চাই না।

এক্ষেত্রে ভাবনার বিষয় হ”েছ এই, আমাদের গোয়েন্দা সং’াগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে না। এটা গোটা জাতি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য চরম দুশ্চিন্তার বিষয়। ক্ষমতাসীন সরকারের জন্যও। কারণ রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তারা পদে পদে জবাবদিহিতা ও সমালোচনার সম্মুখীন হবেন। তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্রমাগত আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকবে।

অনেকে মনে করছেন সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সং’াগুলোর ভেতর এখন এক ধরনের হতাশা ও লক্ষ্যহীনতা বিরাজ করছে। মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ, উ”চপর্যায় থেকে দৈনন্দিন হস্তক্ষেপ, এমনকি বিদেশী পরামর্শের বাড়াবাড়ি এসব সং’ার সদস্যদের নৈতিক মনোবল ভেঙে দি”েছ।
সাম্প্রতিককালে এমন কিছু ঘটনাও ঘটেছে যার বিরূপ ও সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়ায় এখন এসব সং’ার অনেকে আর ঝঁুকি নিয়ে কোন কাজ করতে চাইছেন না। রাজনৈতিক সরকারের নির্দেশ আক্ষরিকভাবে পালন করা তাদের কর্তব্য, কি‘ তেমন নির্দেশ পালন করতে গিয়ে সাম্প্রতিককালে অনেক উ”চপদ’ পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। এক সরকারের আমলে ওপরের নির্দেশে কাজ করতে গিয়ে পরবর্তী সরকারের আমলে অনেককে চরম হয়রানির সম্মুখীন হতে হ”েছ। এক্ষেত্রে কথিত ‘দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা’র বিষয়টি বিবেচনায় আনা যেতে পারে। কাজটি ভালো কী মন্দ, উচিত কী অনুচিত, সে বিতর্ক থাক। কি‘ মন্দকাজ হলে তার চূড়ান্ত দায়-দায়িত্ব কার সে বিষয়টি স্পষ্ট না করে তখনকার সময়ের গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের যেভাবে হাতকড়া পরিয়ে কোমরে দড়ি দিয়ে হেন’া করা হয়েছে, তাতে ওই ব্যক্তিদের যতটা অপমান করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি সমগ্র পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের অবমাননা করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে আমাদের পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর নিয়মানুবর্তিতা ও রাজনৈতিক সরকারের প্রতি আনুগত্যে চিড় ধরিয়ে দিয়েছে।

আমাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা সে রকম একটা পরিি’তির পরিণতি কিনা, তা বর্তমানের শাসকশ্রেণী ও ভবিষ্যতের ক্ষমতা-প্রত্যাশী উভয় মহলকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।
ড· ফেরদৌস আহমদ কোরেশীঃ রাজনীতিক, ভূ-রাজনীতি গবেষক

%d bloggers like this: