মধ্যবিত্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা লিভ টুগেদারে আগ্রহী হয়ে উঠছে!


ঢাকায় লিভ টুগেদার বাড়ছে। মধ্যবিত্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা লিভ টুগেদারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ কারণে বাড়ছে খুনের মতো অপরাধও। গ্রাম থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থীও ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে লিভ টুগেদার করছে অনেকে।

সমাজবিজ্ঞানীরাও স্বীকার করছেন পাশ্চাত্য দুনিয়ার ওই ধারণা অনেকটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকায়। এ রকম এক জুটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একই বিভাগে, একই ক্লাসে পড়তেন। গভীর বন্ধুত্ব তখন থেকেই। দু’জনই মেধাবী। রেজাল্টও ভাল। বন্ধুটি এখন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বান্ধবী পিএইচডি করছেন, এখনও শেষ হয়নি। থাকছেন বনানী এলাকার একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটটিও নিজেদের। লিভ টুগেদার করছেন। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিয়ে করবেন না। দু’জনই চেষ্টা করছেন ইউরোপের একটি দেশে যেতে। বিত্তবান ঘরের সন্তান তারা।

বন্ধুটির বাড়ি ছিল ফেনীতে, বান্ধবীর ঢাকায়। শাহানা তার নতুন নাম। এ নামে কেবল জর্জই তাকে চেনে। জর্জকে ওই নামে অন্য কেউ চেনে না। এটা শাহানার দেয়া নাম। একে অপরকে দেয়া নতুন নামেই তাদের বাড়ি ভাড়া নেয়া উত্তরা এলাকায়। চাকরিজীবী দু’জনই। এক সময়ে চাকরি করতেন এই সংস্থায়। সেখান থেকে পরিচয় ঘনিষ্ঠতা। এখন তারা চাকরি করছেন পৃথক দু’টি বৈদেশিক সাহায্য সংস্থায়। উচ্চ বেতনে চাকরি। অফিসের গাড়ি। শাহানা ইংরেজি সাহিত্যে এমএ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জর্জ পড়াশোনা করেছেন ভারতের নৈনিতালে, বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। বছর পাঁচেক আগে ঢাকায় ফিরে চাকরি নিয়েছেন। লিভ টুগেদার করছেন। বিয়ের প্রতি আগ্রহ নেই তাদের। শাহানা ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাতে চান। সেখানে তার পরিবারের বেশির ভাগ লোক বসবাস করছে। শাহানার চিন্তা বিয়ে মানেই একটি সংসার, ছেলেমেয়ে, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি। এখনই এগুলোর কথা ভাবতে গেলে তার ক্যারিয়ার হোঁচট খাবে, বিদেশে যাওয়া না-ও হতে পারে। এ কথাগুলো সে খুলে বলেছে জর্জকে। জর্জ রাজি হওয়ায় এক সঙ্গে থাকছেন তারা চার বছর ধরে। খাওয়া-দাওয়ার খরচ দু’জনে মিলে বহন করেন। সব কিছুই হয় দু’জনে শেয়ার করে। মনোমালিন্য হয় না তা নয়, হয় আবার তা মিটেও যায়। এভাবেই চলছে চার বছর ধরে।

একটি মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছেন তারা। বসবাস করছেন ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটে। ছেলেমেয়ে দুজনই ধনাঢ্য পরিবারের। দু’বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন। পড়শিরা জানে, স্বামী-স্ত্রী। অন্যদের সঙ্গে সেভাবেই নিজেদের পরিচয় দেন। যশোরের একটি গ্রাম থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছেন ওরা। পরিচয় তাদের স্কুল থেকে। ঢাকায় এসে প্রথম দু’বছর দু’জন থাকতেন আলাদা বাড়ি ভাড়া করে। এখন দু’জন মিলে থাকছেন একই বাসায়। ভাড়া দেন দু’জনে শেয়ার করে। গত এক বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। ঢাকার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজগুলোর ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এমনকি সাধারণ কর্মচারীরা পর্যন্ত লিভ টুগেদার করছে। শোবিজে লিভ টুগেদার এখন সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। জাতীয় ভাবে পরিচিত শোবিজের অনেক স্টার এখন লিভ টুগেদার করছেন। দেশব্যাপী পরিচিত দু’জন নৃত্যশিল্পীর লিভ টুগেদারের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট শোবিজে। একজন পরিচিত কণ্ঠশিল্পী গত পাঁচ বছর ধরে লিভ টুগেদারের পর আপাত বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এখন থাকছেন আলাদা। শোবিজের নাট্যাঙ্গনের চার জোড়া নতুন মুখ লিভ টুগেদার করছেন বছরখানেক ধরে। তাদের পরিচিত ও নিকটজনরা জানেন তাদের লিভ টুগেদার সম্পর্কে। নিজেদের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তারা কেউ আপাতত বিয়ের কথা ভাবছেন না। শোবিজে ছেলেমেয়ে উভয়ের উচ্চাসনে যাওয়ার পথে বিয়েকে একটি বড় বাধা মনে করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত দুই তিন বছরের মধ্যে ঢাকায় লিভ টুগেদারেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে লিভ টুগেদারের বেশির ভাগ ছিল সমাজের উচ্চ স্তরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে। এখন লিভ টুগেদারের প্রবণতা বেড়েছে মধ্যবিত্ত সমাজে। সদ্য গ্রাম থেকে এসে ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ছেলেমেয়েরা লিভ টুগেদার করছে। কেবলমাত্র পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে কিন্তু তাদের কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি এমন অনেক মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা ঢাকায় লিভ টুগেদার করছে।

ঢাকার একটি নামকরা মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে বলেন, তার জানা মতে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম করে হলেও এক শ’ জোড়া ছেলেমেয়ে লিভ টুগেদার করছে। বিষয়টি তাদের কাছে ওপেন সিক্রেট হলেও কেউ কাউকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে না। ওই শিক্ষার্থী লিভ টুগেদারকে খারাপ কিছু মনে করেন না। তার ভাষায় দু’জনের মতের মিলেই তারা লিভ টুগেদার করে। এখানে অপরাধ কিছু নেই। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা লিভ টুগেদার করছেন। তাদের লিভ টুগেদারের কথা জানে তাদের অনেক ছাত্রও। ওই শিক্ষকদের একজন তার এক নিকটজনের কাছে বলেছেন, লিভ টুগেদারকে তিনি বরং গর্বের বিষয় মনে করেন।
ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন, বর্তমানে বসবাস করছেন গুলশান এলাকায়। চাকরি করেন একটি বিদেশী সাহায্য সংস্থায়। এর আগে তার কর্মস্থল ছিল পাপুয়া নিউগিনিতে। তিন বছর ধরে ঢাকায় আছেন। লিভ টুগেদার করছেন তারই এক সহকর্মী নারীর সঙ্গে। ওই ভদ্রলোক এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা দু’জনই বাংলাদেশী। তবে আমাদের কর্মক্ষেত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে পোস্টিং হয়। এখন বাংলাদেশে আছি, এক বছর পর অন্য কোথাও যেতে হতে পারে। সে কারণে আমরা দু’জনই ঠিক করেছি লিভ টুগেদার করতে।

তাছাড়া, লিভ টুগেদারের ধারণা খারাপ নয়, আমরা কেউ কারও বোঝা নই, আইনি বন্ধনও নেই। কারও ভাল না লাগলে তিনি এক সঙ্গে না-ও থাকতে পারেন। এতে কোন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে এ প্রবণতার কিছু কারণ জানা গেছে। তাদের মতে, যে সব মেয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করে, নিজেদেরকে ইউরোপ-আমেরিকা বা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা এখনই বিয়ে করে ছেলেমেয়ের ভার নিতে চায় না। সংসারের ঘানি টানতে চায় না। ওই সব মেয়ে নিজেদেরকে বিবাহিত বলে পরিচয় দিলে তাদের ক্যারিয়ার গড়তে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করে। এমন অনেক ছেলেও আছে যারা ওই সব মেয়ের মতো ধারণা পোষণ করে না তারা কেবলমাত্র জৈবিক কারণে লিভ টুগেদার করছে। অর্থবিত্তে বা চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত এমন অনেকে লিভ টুগেদার করছে কেবলমাত্র সমাজে তার একজন সঙ্গীকে দেখানোর জন্য, নিজের একাকিত্ব ও জৈবিক তাড়নায়। অনেকে বিয়ের প্রতি প্রচণ্ড রকম অনাগ্রহ থেকেও লিভ টুগেদার করছে। ঢাকা শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতির কন্যা ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন একজন বিদেশী নাগরিকের সঙ্গে। ওই শিল্পপতির কন্যার প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সংসার জীবনের পাট চুকিয়ে এখন বিদেশী নাগরিকের সঙ্গে লিভ টুগেদার করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছেলেমেয়েদের লিভ টুগদোর। ওয়েস্টার্ন সোসাইটির প্রতি এক ধরনের অন্ধ আবেগ ও অনুকরণের পাশাপাশি জৈবিক চাহিদা মেটাতে তারা লিভ টুগেদার করছেন। আবার ঘন ঘন তাদের লিভ টুগেদারে বিচ্ছেদও ঘটছে। সহসা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে খুনের মতো অপরাধ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত এক বছরে রাজধানীতে দশটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশি অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে ওইসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল লিভ টুগেদারের বিড়ম্বনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুনের শিকার হয়েছে মেয়েরা। দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। এক পর্যায়ে মনোমালিন্য বা মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে খুন করে পালিয়েছে ছেলেটি। চলতি বছর জুলাই মাসে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় খুন হয় সুরাইয়া নামের এক যুবতী। তিনি চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। তাকে খুন করে বাসায় লাশ রেখে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে চলে যায় যুবক সুমন রহমান। পরে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক ধরে লিভ টুগেদার করতেন সুমন ও সুরাইয়া।

এপ্রিল মাসে এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ পাওয়া যায় গাজীপুরের শালবন এলাকায়। পুলিশ অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা এলাকায় একটি বাড়িতে দুই-তিন বছর ধরে এক যুবকের সঙ্গে সে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া থাকতো। মে মাসে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বাসার ভেতরে এক তরুণীকে খুন করে পালিয়ে যায় ঘাতক। তারাও ভাড়া থাকতো স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে। মে মাসে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ওই তরুণী লিভ টুগেদার করতো তারই এক বন্ধুর সঙ্গে। মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের মাঝে। শেষে মেয়েটিকে খুন করে পালিয়ে যায় বন্ধুটি। গত ১লা নভেম্বর রর‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় ম্যারেজ মিডিয়ার দুই পার্টনার। ফরিদপুর শহরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে একই শহরের আরেকটি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে লিভ টুগেদার করছে। পারভীন নামের মেয়ে ও আরিফ নামের ছেলেটি অকপটে স্বীকার করেছে তারা লিভ টুগেদার করছে এবং এক সঙ্গে ম্যারেজ মিডিয়ার ব্যবসা করছে।

ঢাকাতে লিভ টুগেদার বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহ এহসান হাবীব বলেন, বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের প্রভাবে নানা ধরনের মুভি সিনেমাডকুমেন্টারি আমাদের সমাজমানসে পাশ্চাত্য জীবনের নানা দিক প্রভাব ফেলছে, অনেকে সেটা গ্রহণ করছে। তার সঙ্গে আমাদের সমাজে ইন্ডিভিজ্যুয়াল বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের চিন্তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও অনেক যুবক-যুবতী এখন ফ্যামিলিকে একটা বার্ডেন মনে করে, বিয়েকে তাদের ক্যারিয়ারের অন্তরায় মনে করে। দেখা যাচ্ছে, এরা বিয়ের চেয়ে লিভ টুগেদারকে বেশি পছন্দ করছে। এতে তাদের জৈবিক চাহিদাও মিটছে আবার সামাজিক নিরাপত্তাও পাচ্ছে। তারা সুখে দুঃখে একজন আরেক জনের সঙ্গী হচ্ছে। মধ্যবিত্তদের লিভ টুগেদারে আগ্রহী হয়ে ওঠা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে এখন বাড়ি ভাড়া একটি বড় সমস্যা। বাইরে থেকে পড়তে আসা বা চাকরি করতে আসা যুবক বা যুবতীকে বাড়ির মালিক আলাদা আলাদা বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এক সঙ্গে থাকছেন, লিভ টুগেদার করছেন। এতে তাদের জৈবিক চাহিদাও মিটছে আবার সামাজিক নিরাপত্তাও থাকছে। আবার অনেক ছেলেমেয়ে মনে করছে লিভ টুগেদার করে কয়েক বছর কাটিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারা আবার অবিবাহিত পরিচয়ে সমাজে ফিরে যাবে যাতে সমাজে তাদের মর্যাদা ঠিক থাকে। তিনি বলেন, তবে এতে সমস্যা হচ্ছে সমাজে এক ধরনের ক্রাইম তৈরি হচ্ছে, কোন কারণে বনিবনা না হলে খুন হয়ে যাচ্ছে মেয়ে বা ছেলেটি।
http://allsharenews.com/

মেধা নাকি যৌন আবেদনে আসে খ্যাতি!


যৌন আবেদন নাকি মেধা?

ফোর্বস ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক এক তালিকা দেখে এমন প্রশ্নের আবির্ভাব৷ তালিকাটা ৩০ বছরের কম বয়সি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী সেলিব্রেটিদের৷ তাতে শীর্ষ দশের সাতজনই হচ্ছেন নারী৷

একেবারে শীর্ষ অবশ্যই লেডি গাগা৷ গত বছরে তাঁর আয় ছিল ৮০ মিলিয়ন ডলার৷ হিট গান বিক্রি, ওয়ার্ল্ড ট্যুর আর বিভিন্ন পণ্যের মডেল হয়ে এই অর্থ আয় করেছেন লেডি গাগা৷ পরিমাণটা হয়ত আরও বাড়তে পারতো যদি না ইনজুরির কারণে কয়েকটি ট্যুর বাতিল না করতেন৷ ঐ সময়টা তাঁকে তাঁর ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি হুইলচেয়ারে কাটাতে হয়েছে!

এরপরেই আছেন তালিকায় থাকা তিন তরুণের প্রথমজন ক্যানাডিয়ান সেনসেশন জাস্টিন বিবার৷ তবে তাঁর আয় লেডি গাগার চেয়ে ২২ মিলিয়ন ডলার কম, অর্থাৎ ৫৮ মিলিয়ন৷ তালিকার অন্য দুই ছেলে তারকা হলেন ডিজে ক্যালভিন হ্যারিস ও অভিনেতা টেলর লাউটনার৷ তাঁদের আয় যথাক্রমে ৪৬ ও ২২ মিলিয়ন ডলার৷ আর মেয়েদের মধ্য আছেন টেলর সুইফট (৫৫ মিলিয়ন ডলার), রিহানা (৪৩ মিলিয়ন), কেটি পেরি (৩৯ মিলিয়ন), আডেলে (২৫ মিলিয়ন), জেনিফার লরেন্স (২৬ মিলিয়ন ডলার) ও ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট (২২ মিলিয়ন)৷

তবে শুধু কম বয়সি তারকাদের তালিকায় নয়, গত জুনে ফোর্বস যে ‘পাওয়ারফুল সেলিব্রেটি'-দের লিস্ট তৈরি করেছিল তাতেও শীর্ষ দশে ছিলেন ছয়জন নারী৷

ফেমিনিস্ট ওয়েবসাইট জেজেবেল ডটকমের ব্লগার কেট ড্রাইস বলছেন, ‘‘শুধু যৌন আবেদন দিয়ে মেয়েরা অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা ঠিক নয়, বরং গানের শিল্পীরা শুধু মিউজিশিয়ান হওয়ার চেয়ে আরো অন্যান্য বিষয়েও দক্ষতা অর্জন করছেন৷ তাই তাঁরা বেশি আয় করছেন৷

তিনি বলেন, লেডি গাগা, রিহানা, টেলর সুইফট, কেটি পেরির মতো তারকারা পণ্যের মডেল হয়েই বেশি আয় করছেন৷ বিশেষ করে তাঁরা চান বিভিন্ন কসমেটিক পণ্যের সঙ্গে নিজের নাম জড়াতে৷ এমনকি জাস্টিন বিবারও তরুণীদের কাছে তাঁর নাম বেঁচে অনেক অর্থ আয় করছেন বলে মনে করেন ড্রাইস৷
প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন?

যৌনশক্তি বাড়াতে তরমুজ! 


 

স্বাস্থ্যডেস্ক (২৯ এপ্রিল ১৩) :

কৃত্রিম পন্থায় যৌনশক্তি বাড়াতে ভায়াগ্রা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। এ নীল ট্যাবলেটটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা শেষ পর্যন্ত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন প্রাকৃতিক ভায়াগ্রার সন্ধান দিয়েছেন। এ নিরীহ প্রাকৃতিক জিনিসটি আর কিছু নয়, আমাদের অতি পরিচিত তরমুজ। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ভায়াগ্রার মতোই কার্যকর তরমুজ।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনি-ভার্সিটির গবেষক বিনু পাতিল মিডিয়াকে জানান, নতুন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা যৌনশক্তির দিক থেকে অক্ষম বা দুর্বল, তাদের সক্ষমতার জন্য তরমুজই প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। অর্থাৎ তাদের এখন থেকে আর ভায়াগ্রার পেছনে টাকা না ফেলে তরমুজ বন্দনায় মেতে উঠলেই চলবে। বিনু পাতিল তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণার পর বিস্ময়করভাবে দেখতে পান, একটি তরমুজে সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো এসিডের পরিমাণ এত বেশি, যা আগে বিজ্ঞানীরা ধারণাও করতে পারেননি।

কারণ বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, সিট্রোলিন সাধারণত ফলের অখাদ্য অংশেই বেশি থাকে। বিনু পাতিল বলেন, তরমুজে সিট্রোলিন আছে, এটা আমাদের জানা কথা। কিন্তু এটা জানতাম না, সিট্রোলিনের পরিমাণ তাতে এত বেশি থাকতে পারে। গবেষকরা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মানবদেহ সিট্রোলিনকে আর-জিনিনিন নামের যৌগ পদার্থে রূপান্তরিত করে। আরজিনিনিন হচ্ছে ভিন্ন মাত্রার অ্যামাইনো এসিড, যা নাইট্রিক এসিডের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে। আবার নাইট্রিক এসিড দেহের রক্তবাহী শিরা বা ধমনির প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর রক্তবাহী শিরা বা ধমনির প্রসারণের কারণেই মানুষের বিশেষ অঙ্গটি সক্রিয় হয়। আর ভায়াগ্রাও দেহের নাইট্রিক এসিডকে সক্রিয় করার মাধ্যমে কৃত্রিম পন্থায় দেহে জৈবিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। গবেষক বিনু পাতিল আশা করছেন, তরমুজের ভায়াগ্রা-গুণটি নিয়ে বিশ্বের গবেষকরা এগিয়ে আসবেন। তবে তার এ গবেষণার ফলকে সবাই এক বাক্যে এখনো মেনে নেননি।

‘দি জার্নাল অফ সেক্সুয়াল মেডিসিন’-এর প্রধান সম্পাদক ইরউয়িন গোল্ডস্টেইন বলেন, বিশেষ অঙ্গের উত্তেজনার জন্য অবশ্যই নাইট্রিক এসিড দরকার। কিন্তু বেশি করে তরমুজ খেলেই তা প্রাকৃতিকভাবেই একই কাজটি করে দেবে, এটা এখনো প্রমাণিত নয়। অবশ্য বিনু পাতিল এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, জৈবিক তাড়না সৃষ্টি করতে একজন অক্ষম লোককে ঠিক কত পরিমাণ তরমুজ গিলতে হবে।

সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহময়তা


স্নেহময় অভিভাবকত্ব যৌন-রসাত্মক টাইম
তরুণীর বুকের দুধ শিশুকে খাওয়ানো নিয়ে তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পাওয়া ওই ছবিটি নিয়ে। বিষয়টি স্নেহময় অভিভাবকত্ব হিসেবে ধরে নিলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যত দোষ নন্দ ঘোষ হলে সমস্যা। আর সমস্যাটা হয়েছে প্রকাশ্যে পত্রিকার পাতায় দুধ খাওয়ানের দৃশ্য নিয়ে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে সাহসী স্নেহময় অভিভাবকত্বধারী সেই নারীর নাম লিন গ্রুমেট। বিতর্ক উঠেছে এটা যৌন-রসাত্মক কৌতুকের বলে। কথা উঠেছে বাল্যকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরও বুকের দুধ খাওয়াটা ঠিক কি না।

তিন বছর বয়সী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এক তরুণী। এটাই ছিল এ সপ্তাহের টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ। ‘স্নেহময় অভিভাবকত্ব’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির জন্য তোলা হয়েছিল ছবিটি। আর এটা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা এ ম্যাগাজিনটি। অনেকেই উৎসাহিত করেছেন সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহময়তাকে। আবার অনেকেই প্রকাশ করেছেন ভীত ও সন্দেহমূলক অভিব্যক্তি।

তবে লস অ্যাঞ্জেলেস নিবাসী গ্রুমেট তার তিন বছর বয়সী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিক ও জৈবিক ব্যাপার বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি তার মা তাকে ছয় বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাইয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, মানুষকে বুঝতে হবে যে এটা জৈবিকভাবে খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। মানুষ এটা যত বেশি দেখবে, ততই আমাদের সংস্কৃতিতে এটা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে। আমি এখন তেমনটাই আশা করছি। আমি চাই মানুষ এটা দেখুক।

তবে টাইম ম্যাগাজিনের এ প্রচ্ছদ নিয়ে জোর সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে। এটা যৌন-রসাত্মক কৌতুকের উদ্রেক করবে বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শিশুটি যখন বড় হবে, তখন তাকে অনেক বিদ্রƒপের মুখে পড়তে হবে। বাল্যকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরও বুকের দুধ খাওয়াটা ঠিক কি না, এসব বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। আরকানসাস নিবাসী ছয় সন্তানের জননী ববি মিলার বলেছেন, এমনকি একটা গরুও জানে কখন তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস ত্যাগ করা দরকার। আর প্রচ্ছদটি সম্পর্কে তার অভিমত, ‘এটাকে কেন এখানে আনতে হবে? এটা হাস্যকর।বিপরীতে টাইম ম্যাগাজিনের পক্ষেও দাঁড়িয়েছেন শিশুযতœবিষয়ক কিছু সংগঠন। বেস্ট ফর বেবিস নামের একটি সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেটিনা ফোর্বস বলেছেন, এ প্রচ্ছদটা মূলধারার আমেরিকানদের কিছুটা কম রোগে ভুগতে সাহায্য করবে। নারীরা তাদের যে কোনো বয়সী সন্তানকেই বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। আর এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় এটাই।

‘প্রেম ব্যবসা’


ছাতার নিচে টক-মিষ্টি প্রেম- স্পট : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান  

গতকাল দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উদ্যানের ভেতরদিকের বেশ কয়েকটি স্পটে লাল-নীল রঙিন সব ছাতা। নিচে বসার জন্য লাল চেয়ার। দেখলে সাগর সৈকতের বেলাভূমির মতো মনে হয়। চেয়ারগুলোতে জোড়ায়  জোড়ায় প্রেমিকযুগল বসে আছে।
 সন্ধ্যার পর এ দৃশ্যাবলী যেন আরো মনোরম। চেয়ারগুলোর চারপাশে লাল কাপড় দিয়ে ঘেরা থাকে। ভেতরে আলো-আঁধারিতে চলে প্রেম-যুগলের প্রেমলীলা। এসব ছাতার নিচের প্রেমকে স্থানীয়রা ‘প্রেম ব্যবসা’ বলেই নাম দিয়েছে। আর সাধারণের আইওয়াশের জন্য এখানে মূলত বেচাবিক্রি হয় চটপটি। কিন্তু টক-ঝাল-মিষ্টি এ ব্যবসার আড়ালে চেয়ারে বসে নিরাপদে চলে প্রেমলীলা। শেষ হলে আয়োজক বা ব্যবসায়ী যা-ই বলা হোক না কেন তাদের হাতে তুলে দিতে হয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বিল। মাঝেমধ্যে বাড়তি কিছু।
বাবুল নামের এক দোকানির কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে জানায়, কাপড়ের ভেতরে বসে আড্ডা মারলে আপনি নিরাপদ। আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কিন্তু এর বাইরে পার্কের যেখানেই আড্ডা দিতে বসবেন; সেখানেই আপনাকে বখাটে ছেলেরা উত্ত্যক্ত করবে।
 কখনো কখনো প্রেমিকাকে টানাটানির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এসব চেয়ারে বসে আড্ডা দিলে আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কারণ এসব বসার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতারা। তাদেরই শেল্টারে এ প্রেম ব্যবসা চলে থাকে। গতকাল দুপুরে পুরো উদ্যানজুড়ে ৫০-৫৫টি চটপটির দোকান দেখা যায়।
 অনেকগুলো আবার গুটিয়ে শিকল দিয়ে একসঙ্গে করে বেঁধে রাখা হয়েছে। দিনের বেলা এসব দোকান বন্ধ থাকে। বিকেলের পরপর খুলে দেয়া হয়। তখন দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০-৭৫টি।
দোকানি বাবুল, শফিক, মামুন ও বাবর জানান, এখানে দোকান চালাতে প্রতিদিন দোকান প্রতি তাদের ২শ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
লোকমান নামের একজন ওই টাকা তুলে ছাত্রনেতাসহ পুলিশকে দিয়ে থাকে। চাঁদার টাকা নিয়ে ছাত্র সংগঠনের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হয়েছে কয়েকবার। সন্ধ্যার পর বখাটেরা মাদক ব্যবসাও করে ওখানে। এছাড়া ভাসমান অনেক পতিতা এসেও জড়ো হয়।
মাঝে শাহবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালালেও পরে আবার দোকান বসে। প্রেমব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। তবে স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বহিরাগত অনেক প্রেমিক-প্রেমিকারা নিয়মিত আসে এখানে। ফলে চটপটি দোকানিদের এ ‘প্রেম-বাণিজ্য’ বেশ জমজমাট।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি জানান, পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এরপর আবার তারা শুরু করে। তাছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ধরলেও বিভিন্নরকম সমস্যা দেখা দেয়। তবু আমরা সবসময় উদ্যানের পরিবেশ যেন খারাপ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখি।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


সিসায় ডুবছে রাজধানী ঢাকা


সিসায় মাতোয়ারা ঢাকা-দুই শতাধিক অবৈধ বার  

সিসায় মাতোয়ারা ঢাকা-দুই শতাধিক অবৈধ বার

 


সিসায় ডুবছে রাজধানী ঢাকা।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণঅধিদপ্তরের লোকজনকে মাসিক মোটা অঙ্কের টাকা নজরানা দিয়ে সিসা বার চালাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এসব লাউঞ্জে সবসময়ই ভিড় লেগে থাকে তরুণ-তরুণীদের। গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানম-ি, মোহাম্মদপুর, বেইলি রোড, উত্তরার অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে প্রায় প্রকাশ্যে চলছে সিসা বারের অবৈধ ব্যবসা।


এসব বারে প্রতিঘণ্টা সিসা সেবনের জন্য নেয়া হয় ৪ থেকে ৫শ টাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উচ্চবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের নতুন নেশার নাম সিসা। নতুন মাদক হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে সিসার। অনেকটা দেশীয় হুঁকার আদলে তৈরি সিসার প্রচলন সেই মোগল আমল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সিসা এখন অনেক জনপ্রিয়। বিভিন্ন ফলের নির্যাস দিয়ে তৈরি হয় সিসার উপাদান।
কিন্তু বাংলাদেশে এর সঙ্গে মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য তৈরির উপাদান। মাদক হিসেবে তালিকাভুক্তি না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিরোধমূলক কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না।
ব্যক্তিগত লাভের কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকের তালিকায় নিচ্ছে না সিসাকে। অথচ সিগারেটের চেয়েও ভয়ঙ্কর এ সিসা আগে অভিজাত পরিবারের সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে সাধারণের নাগালে পৌঁছে গেছে। গাঢ় ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আলো-আঁধারি পরিবেশে চার পাঁচ তরুণ-তরুণী এক টেবিলে গোল হয়ে বসে গুড় গুড় শব্দে পাইপ টানতে থাকে। একই পাইপ এক হাত থেকে যাচ্ছে আরেক হাতে। রাজধানীর অধিকাংশ নামিদামি রেস্টুরেন্টে এমন চিত্র এখন হরহামেশাই মিলছে। নামিদামি রেস্টুরেন্টের মধ্যে আলাদা করে স্থান পাচ্ছে সিসা বার। আর এ সিসায় তরুণ-তরুণীরাই ঝুঁকছে বেশি।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সদস্য ইবনুল সাঈদ রানা জানান, প্রতিবার সিসা টানলে ৫৪টি সিগারেটের সমান ক্ষতি হয়। এ ছাড়া সিসার ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনো-অক্সাইড থাকে, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাদের মতে, সিসা সিগারেটের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। এ ছাড়া সিসায় ফলের নির্যাসের সঙ্গে অন্যান্য ক্ষতিকর মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। অন্য মাদকে যে ক্যানসার ছড়াতে পাঁচ বছর লাগবে, সেখানে নিয়মিত সিসায় আসক্ত হলে দুবছরের মধ্যে শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের উপপরিচালক আলী আসলাম জানান, সিসা সরাসরি মাদক না হলেও বাংলাদেশে এর অপব্যবহার হচ্ছে।
অভিজাত পরিবারের ছেলেমেয়েরা এটিকে মাদক হিসেবে ব্যবহার করছে। সিসার উপাদানের সঙ্গে মাদকদ্রব্য মেশানোর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, সিসার সঙ্গে অন্য মাদকের রাসায়নিক পদার্থ মেশানো এবং সিসা লাউঞ্জের আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদকের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে তারা কোনো অভিযানও চালাতে পারছেন না। সিসাকে মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা উচিত বলে মন্তব্য আলী আসলামের।
স্টিলের তৈরি কারুকার্যময় কলকের মধ্যে সিসার উপাদান রাখা হয়।


কলকের নিচের অংশে থাকে বিশেষ তরল পদার্থ। এটি দেখতে অনেকটা দেশীয় হুঁকার মতো। তবে এটি অনেক বড় আকারের এবং একাধিক ছিদ্রযুক্ত।
 


এসব ছিদ্রে লাগানো থাকে লম্বা পাইপ। এ পাইপ দিয়েই সিসা টানা হয়। সিসা বারে যাতায়াতকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তরুণ-তরুণী জানান, ইয়াবা- ফেনসিডিল বা অন্যান্য মাদক নেয়ার পর সিসা টানতে অন্যরকম অনুভূতি হয়। এ কারণে সিসা পার্টির আগে সবাই সাধারণত অন্যান্য মাদক সেবন করে থাকে।

Cheap International Calls


সিসা: জোড়ায় জোড়ায় তরুণ-তরুণী, উড়ছে নীল ধোঁয়া!


ছোট ছোট ক্যাবিন। ভেতরে জোড়ায় জোড়ায় তরুণ-তরুণী। উড়ছে নীল ধোঁয়া। নিবুনিবু আলো। হালকা মিউজিকে অন্য রকম এক পরিবেশ। এর মধ্যে আলো-আঁধারীর খেলায় বুঁদ হয়ে তারা হুকোর লম্বা পাইপে ধোঁয়া গিলছে। হুকোর কল্কিতে জ্বলছে কালো সুগন্ধি টিকা। এরা হুকোর মাধ্যমে সিসা নিচ্ছে। মাঝে মাঝেই বেসামাল হয়ে উঠছে তাদের অনেকেই। এটি রাজধানীর বেশির ভাগ সিসা লাউঞ্জের চিত্র।

 


শুরুতে শখের বশে যুবক-যুবতীরা সিসা পান করতে গেলেও একপর্যায়ে অনেকেই সিসায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। দেশে ক্রমেই সিসা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। তাত্তি্বক দিক থেকে সিসা মাদকের পর্যায়ে না পড়ার কারণে ‘সিসা লাউঞ্জ’ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (নারকোটিক্স) আওতাধীন নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ ক’টি ‘সিসা লাউঞ্জে’ হুক্কার সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘ইয়াবা’ (এমফিটামিন), হেরোইন, বিভিন্ন ধরনের মেটাফসফেট ও ‘টেট্রাহাইড্রোকেনাবিনল’। আইনশৃক্সখলা রক্ষাবাহিনীকে ম্যানেজ করে মদের বারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানীর অলিগলিতে গড়ে উঠছে ‘সিসা লাউঞ্জ’। এসব সিসা লাউঞ্জ করতে কোনো অনুমতি লাগছে না। এতে করে সরকার বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি নারকেটিক্সের পরিদর্শক হেলাল উদ্দীন ও নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি দল অভিযান চালিয়ে ধানমন্ডির ৫/এ সড়কের ৭৫ নম্বর ভবনের ‘ডেকাগন’ থেকে এক কেজি ও ‘বি-১৫১’ সিসা লাউঞ্জ থেকে চার কেজি ‘টেট্রাহাইড্রোকেনাবিনল’ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরদিন ধানমন্ডি থানায় দুটি মামলা হয়। বর্তমানে মামলা দুটি আদালতে বিচারাধীন।


গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পান সালসা, লিমোরা ডিলাইট, অরেঞ্জ কাউন্টি, ওয়াইল্ড মিন্ট, কিউই, ট্রিপল আপেল, চকো লাভা, ক্রেজি কেয়ারি, ব্লু বেরি ফ্লেভারের ধুয়া তুলে বর্তমানে রাজধানীর অন্তত ৫০টি বার ও ৩০০ বাসায় নিয়মিত সিসার আসর বসছে। রাজধানীতে সিসাসেবীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এদের ১৫ হাজার ইয়াবা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। নামকরা সিসা লাউঞ্জের মধ্যে ধানমন্ডির সেভেন টুয়েলভ লাউঞ্জ, ডমিনেন্স পিজা, কিউকিউটি অ্যান্ড লাউঞ্জ, এইচ টু ওয়াটার লাউঞ্জ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, ঝাল লাউঞ্জ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মোহাম্মদপুরের অ্যারাবিয়ান নাইটস্, গুলশানের একজিট লাউঞ্জ, জোন জিরো লাউঞ্জ, মাউন্ট আট্টা লাউঞ্জ, জাবেদ কাড লাউঞ্জ, ক্লাব অ্যারাবিয়ান, হাবুল-বাবুল, বনানীর মিলাউন্স, ডকসিন, কফি হাউস, বেজিং লাউঞ্জ, মিট লাউঞ্জ, সিক্সথ ফ্লোর, বেইলি রোডের থার্টি থ্রি, মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের ফুড কিং, খিলক্ষেতের হোটেল রিজেন্সি উল্লেখযোগ্য।

 


সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা সিসার অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের আওতায় নিয়ে আসা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃক্সখলা রক্ষাবাহিনীর অভিযান পরিচালনাসহ নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা, পারিবারিক শাসন অথবা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিসা সেবন বন্ধ করার বিষয়ে সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সেশনে উৎপাদিত সিসার ধোঁয়ার পরিমাণ ১০০ সিগারেটের সমান, যার মধ্যে উচ্চমাত্রার টক্সিন, কার্বন-মনোক্সাইড, হেভি মেটালসহ অন্যান্য ক্যানসার উৎপাদনকারী পদার্থ থেকে যায়। এতে নিকোটিনের পরিমাণও সিগারেটের দ্বিগুণ। তাই শীঘ্রই সিসা লাউঞ্জকে সরকারের কোনো একটি সংস্থার অধীনে নেওয়া উচিত।

 


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, সিসা লাউঞ্জে তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অপকর্মের বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। নারকোটিক্স ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুজিবর রহমান পাটোয়ারী জানান, সিসা মাদক না হওয়ায় তারা সিসা লাউঞ্জে অভিযান চালাতে পারছেন না। তবে বিভিন্ন লাউঞ্জ থেকে নিয়মিত স্যাম্পল সংগ্রহ করছেন এবং গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছেন।

Cheap International Calls


সরকারি নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে যৌনসন্ত্রাস- দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।


সরকারি নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে যৌনসন্ত্রাস

দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।

মঈনুল হক ● ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর ওপর যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর আবারো সারাদেশে বিষয়টি নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যৌন উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের রুখতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি উঠেছে। নারীর সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবিও সামনে আসছে। একটি অপরাধের বিচার না হওয়ায় আরেকটি অপরাধ উৎসাহিত হচ্ছে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। ভিকারুননিসার ঘটনার পর বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এলেও দাবি নতুন নয়। আড়াই বছর ধরে দেশে অব্যাহত যৌনসন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিকভাবে এ দাবি করে আসছেন নারী অধিকার আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে নারী উৎপীড়করা একের পর এক রোমহর্ষক যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। যখন একটির পর একটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করছে তখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলরাও কয়েকদিনের জন্য নড়ে বসছেন। আশ্বাস দিচ্ছেন কঠোর আইন প্রণয়নের। কিন্তু এরপর আবার যা তাই। আবার তারা হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়। কার্যকর হচ্ছে না কোনো প্রতিশ্রুতি। বিচার হচ্ছে না একটি ঘটনারও। আরো বেপরোয়া হচ্ছে যৌনসন্ত্রাসীরা। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত পনের দিনেই পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দেশে যৌননিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ১৮টি। শিক্ষক থেকে পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার কারণে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট নারী আইনজ্ঞরা। এছাড়াও নারী অধিকার কর্মীদের মতে, রাষ্ট্রের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীর ওপর যৌননিপীড়নের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, আড়াই বছরে যৌন উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন কমপক্ষে ৬৫ জন নারী। সন্ত্রাসীরা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে ২২০ জনের বেশি নারী ও শিশুকে। ২০০৯ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৩০৭টি। এছাড়াও যৌন উৎপীড়কদের বিরোধিতা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। যার মধ্যে ৭ জনই নিহত হয়েছেন এ বছরের প্রথম ৬ মাসে। মানবাধিকার সংস্থা ও পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, যৌনসন্ত্রাস ক্রমেই বাড়ছে। নির্যাতনে হত্যা ও আত্মহননের পরিসংখ্যান দীর্ঘ হলেও বিচার হচ্ছে না কোনো ঘটনার। যেসব ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হচ্ছে সে ক্ষেত্রে প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে তা চাপা পড়ে যাচ্ছে নতুন ঘটনার নিচে। অনেক ঘটনায় ক্ষমতাসীনরা যৌনসন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী কয়েকটি যৌনসন্ত্রাসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের কাছে সরকারের মন্ত্রীরা যেতে বাধ্য হয়েছেন। সে সময় অনেক আশ্বাস দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন আজও হয়নি। এমন হারিয়ে যাওয়া আশ্বাসের মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী হাসনা রহমান সিনথিয়ার আত্মহনন, ফরিদপুরের চাঁপা রানী ও নাটোরের শিক্ষক মিজানুর রহমান হত্যাকান্ড। এই তিনটি ঘটনায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি ও যৌনসন্ত্রাস বিরোধী আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ঘটনার বিচার হয়নি আজও, আইনও পাস হয়নি।

ভিকারুননিসায় শিক্ষকের যৌনউৎপীড়নের বিষয়টি প্রকাশ পাবার পর থেকে আবার নতুন করে দেশব্যাপী যৌননির্যাতনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিতে অচলাবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অপরাধীর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন সরকার তখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরবতা পালন করে। আইন-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে সর্বদা সজাগ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুখরা মন্ত্রীরা এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর পক্ষে একটি কথাও বললেন না। প্রথম দিকে অপরাধী শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা চলেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ একাংশের উদ্যোগে। শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ওই শিক্ষক গ্রেফতার হলেও তার সহযোগীদের ধরা হয়নি। যৌনউৎপীড়ক শিক্ষককে রক্ষার অভিযোগে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি তীব্র হয়। স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্রুত সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার। প্রথম মুখ খোলেন শিক্ষামন্ত্রী। অধ্যক্ষকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনে নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। দ্রুততার সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠন ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষকেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ হোসনে আরাকে ৩ মাসের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিকারুননিসা নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ও পাল্টা সিদ্ধান্তের পর সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু যৌনউৎপীড়ক শিক্ষকের বিচার নিয়ে কোনো কথাই বলা হচ্ছে না। আজ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কেউ প্রতিষ্ঠানটিতে যাননি।

বুধবারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা : মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বারৈখালী গ্রামের স্কুলছাত্রী সিনথিয়া অব্যাহত যৌনহয়রানির শিকার হয়ে গত বছরের ১০ আগস্ট বিকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তার আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের বিচারের দাবিতে বারৈখালী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। সিনথিয়ার পরিবার শ্রীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর বাড়িতে যান এবং দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি যৌন হয়রানি রোধে দ্রুত আইন পাসের কথা বলেন। বর্তমানে এই মামলাটির কি অবস্থায় তা জানতে চাইলে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘মামলাটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এরপর কি অবস্থা তা আর জানি না।’

সিনথিয়ার পরিবার জানায়, সিনথিয়াকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় বিদ্যালয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। যেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। পুলিশ অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করলে সিনথিয়াকে মরতে হতো না।

মেয়ের ওপর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুরের মধুখালীতে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা করে চাঁপা রানী ভৌমিককে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জানান, চাঁপা রানী হত্যা মামলায় দেবাশীষ, সঞ্জয় ও আলমগীরকে অভিযুক্ত করে ২২ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিরা আটক রয়েছে। কিন্তু মামলার আর কোনো অগ্রগতি নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষ চাপা রানীর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন কৌশল অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী চাঁপা রানীর বাড়িতে গিয়েছিলেন।

২০১০ সালের ১২ অক্টোবর নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে কলেজের শিক্ষক মিজানুর রশীদকে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগাতিপাড়া থানার এসআই আবদুর রহিম ৬৪ দিন তদন্ত শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে ১৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি গ্রেফতার হলেও পুলিশ তাদের কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেনি। সরকার এই ঘটনার পর মিজানুর রশীদের স্ত্রীকে চাকরি দিলেও রাজন নামে এক আসামিকে রক্ষা করার জন্য নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার বেগুনবাড়ি গ্রামের দিনমজুর বাইরুল ইসলামের মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী নুরেশা খাতুন লিমা গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর একদল সন্ত্রাসীর পাশবিক নির্যাতনে মারা যায়। ঘটনার পর স্থানীয়রা দুই নির্যাতককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অন্য আসামিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। নুরেশার পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের একটি অংশ আসামিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গোমস্তাপুর থানার ওসি জানান, যে তিন আসামি বাইরে রয়েছে তাদের একজন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আছে। অন্য আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

২০১০ সালের ৫ জুলাই টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কাহারতা গ্রামের নবম শ্রেণীর এক কিশোরীকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুল্লা ইতিহাস ওরফে হাবিব, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আহমেদ এবং সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারের ভাগ্নে বাবুল আজাদ ও তার নাতি আরিফুল ইসলাম আকাশ অপহরণ করে একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে হাবিবুল্লা ইতিহাস ওরফে হাবিব তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগীরা ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। সখীপুর থানা পুলিশ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ আদালতে হাবিবকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। পরে হাবিব হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছে।

যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২০ অক্টোবর বখাটেদের হাতে মাগুরার শরিফুজ্জামান নামে এক শিক্ষক আহত হন। এ ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডিয়ারসহ পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি এখন কোনো অবস্থায় আছে তা পুলিশও জানে না। মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এমন কোনো মামলার কথা মনে করতে পারছি না। এই মামলার কোনো আসামি আটক হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে ২৫ জুন ভোলায় প্রভাবশালী একটি পরিবারের ছেলে মমিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দরিদ্র কৃষক পরিবারের এক কিশোরীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়। ভোলা থানার ওসি মোবাশ্বের আলী জানান, পত্রপত্রিকায় এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর তারা ওই মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং একটি মামলা গ্রহণ করেন। মামলায় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা অব্যাহত হুমকির মুখে রয়েছে। মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই।

২৮ জুন বখাটে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মামলা করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাতক্ষীরার একটি পরিবার। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও রহস্যজনক। ওসির নির্দেশে ৩ বার এজাহার সংশোধন করে মামলা রেকর্ড হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যৌন নির্যাতনের ধারায় মামলাটি নেওয়া হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ। দুর্বল ধারায় মামলা রেকর্ড হওয়ায় আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার অভাবে যৌন হয়রানির শিকার মেয়ের পিতা থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। সাতক্ষীরা থানার ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে এ কারণে ধরা যাচ্ছে না। আর বিষয়টি যৌন নির্যাতন নয়। এটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব।’

হাইকোর্টের নির্দেশনা : ২০০৯ সালের ১৪ মে যৌননিপীড়নের সংজ্ঞা দিয়ে যৌন হয়রানি রোধে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য দিকনির্দেশনা চেয়ে এ রিট দায়ের করা হয়েছিল।

রায়ে বলা হয়, সংসদে যৌন হয়রানি রোধে কোনো আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নীতিমালা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে। রায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ কেন্দ্র গঠন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার কথাও বলা হয়।

যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায় আদালত বলেন, শারীরিক ও মানসিক যে কোনো ধরনের নির্যাতন যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। ই-মেইল, মুঠোবার্তা (এসএমএস), পর্নোগ্রাফি, টেলিফোনে বিড়ম্বনা, যে কোনো ধরনের চিত্র, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলাও যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। শুধু কর্মস্থল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের হয়রানি ঘটে না, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অশালীন উক্তি, কটূক্তি করা, কারও দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকানোও যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হবে। রায় অনুযায়ী, কোনো নারীকে ভয়ভীতি দেখানো, যে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়া, দেয়াল লিখন, অশালীন চিত্র ও আপত্তিকর কোনো ধরনের কিছু করা যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনার পরে যৌন হয়রানি বন্ধের জন্য একটি খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইন কমিশনের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে বিশেষজ্ঞ কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনের একটি বাংলা খসড়া তৈরি করে আইন কমিশনে হস্তান্তর করে। কিন্তু আইনটি আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্ব অনেক। হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে তা যদি সঠিকভাবে মানা হতো তা হলেও যৌন হয়রানি অনেক কমে যেত। এ ছাড়া ডিএমপি অধ্যাদেশেও এ সংক্রান্ত আইন আছে। কিন্তু সবক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তা মানছে না। তিনি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি খসড়া আইন কমিশনে জমা দেওয়া আছে। সরকারের উচিত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই আইনটি পাস করা। আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।

অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, সামাজিকভাবে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে যৌন হয়রানি রোধে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া যৌন নির্যাতন রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বিদ্যমানের আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া দরকার।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বিচার না হওয়ার কারণে একের পর এক যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা বেড়ে চলেছে। উৎপীড়নের শিকার নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বরাবরই বিঘ্নিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা দেওয়া এবং যৌন উৎপীড়কদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের সব উদ্যোগ আটকে আছে মৌখিক আশ্বাস এবং হম্বি-তম্বির মধ্যে। দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বখাটেদের শাস্তির নামে কিছু যুবকের দিন কতকের জেল বা জরিমানা এখন অনেকটা রসিকতায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কঠোর আইন, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচারের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে না পারলে যৌনসন্ত্রাসের মতো ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। এ দায় সরকারকে নিতে হবে। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]


১৮ না পেরুতেই যৌন অভিজ্ঞতা ৫০ শতাংশ শহুরে তরুণের

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী যৌন ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

https://ekush.wordpress.com/2011/07/19/sex/

Violence against women in Bangladesh rising

World News
Activists say that the rate of violence against women in Bangladesh is among the world’s highest and rising.

“Violence against women is increasing day by day as a result of family disputes, dowry system and eve teasing,” says Rosaline Costa, from Hotline (Human Rights) Bangladesh, a Church-based human rights organization.

“Every day 17 out of 100 women become victims of violence at home or in the workplace and 25% of them die”, Costa explained.

“Although people are more aware of the issues because of the media, poor law enforcement and male dominance are major barriers to preventing violence against women,” Costa told ucanews.com during the recent National Day of Prevention of Violence against Women on Aug. 24.

The nation has observed the event, which is also known as “Yeasmin Day,” since 1996 to commemorate the brutal rape and killing of garment worker Yeasmin, 14, by three policemen in northwestern Dinajpur district.

Yeasmin, a Muslim girl, was on her way home from work in Dhaka when she was molested, killed and her body abandoned beside the road.

Three accused were arrested and brought to trial in Sept. 1996. All initially received life sentences. However, they were later sentenced to death in 2004.

Although the Yeasmin case remains as an example of extreme violence against women, Father Albert Thomas Rozario, secretary of Episcopal Commission for Justice and Peace, says that such brutality is absent from the history of the Catholic Church in the country.

“The Catholic Church has taken many initiatives against such violence in our six dioceses,” he said.

“Mental and physical clashes do take place in Christian communities, but not to such an extent”, concluded Father Rozario, who is also a lawyer in the Bangladesh Supreme Court Bar Council.

URL to article: http://www.cathnewsindia.com/2010/08/31/violence-against-women-in-bangladesh-rising/
URL to article: http://budhbar.com/?p=5821