বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?


বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা কমাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণা দিতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থা (ইউএসটিআর) সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে বাণিজ্য সুবিধা কমানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। ৩০ জুন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করেছে, এ হুমকি হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় শ্রম পরিবেশ সংস্কারে যথেষ্ট উত্সাহ জোগাবে।

তবে সুবিধা কমানো নাকি পুরোপুরি বাতিল করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম সংগঠন দি আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনসের (এএফএল-সিআইও) বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান সেলেস্ত ড্রেক রয়টার্সকে বলেন, গত নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনস ও সম্প্রতি সাভার রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করতে বা কমিয়ে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, এএফএল-সিআইও ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ সুযোগ-সুবিধা (জিএসপি) বাতিলের দাবিতে প্রথম আবেদন করে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে বাজার-সুবিধা দেয়া হয়, তা হলো জিএসপি বা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এ সুবিধার আওতাভুক্ত নয়।

তবে এ ঘোষণা বাংলাদেশের রফতানিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বাণিজ্য সুবিধা বাদ দিলে তা শাস্তি হিসেবে না নিয়ে বরং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা উচিত হবে। দেশের রফতানি খাতে বর্তমানে কর্মপরিবেশ থেকে শুরু করে সার্বিক মানের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সম্ভব হয়েছে। কারণ দেখা গেছে, সরকার বা স্থানীয় উদ্যোক্তা চাপে না পড়লে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরত থাকেন। তবে এ ধরনের সুবিধা বৃদ্ধি বা কমানোর পাশাপাশি ক্রেতা দেশগুলোর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সূত্রমতে, গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনায় সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এর পর থেকেই বাংলাদেশকে দেয়া বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করার দাবি ওঠে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে। ডিসেম্বরে তাজরীন দুর্ঘটনার পর থেকেই ইউএসটিআর জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। রানা প্লাজা ধসের পর এ পর্যালোচনায় নতুন মোড় নেয়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এড গ্রেসার জানান, গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁবু, গলফ খেলার সরঞ্জাম, প্লেটসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এর ওপর জিএসপি সুবিধা বাবদ ২০ লাখ ডলার শুল্কছাড় পেয়েছে। আবার বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার শুল্ক দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদিও রফতানি খাতের মূল পণ্য তৈরি পোশাক খাত কোনো ধরনের বাণিজ্য সুবিধা পায় না। তার পরও শ্রম নিরাপত্তাহীনতার তাত্পর্য মাথায় রেখে প্রতীকী জবাব হিসেবেই বাংলাদেশকে দেয়া সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব-অর্থনীতিতে ক্ষমতাধর দেশ হিসেবেই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা অনুসরণ করতে পারে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ।

অন্যদিকে রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হলে তা বাংলাদেশের রফতানি খাতের ভাবমূর্তির সংকটকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কারণ এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা আরো জোরালো হয়ে ভাবমূর্তি সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাণিজ্য সুবিধার আওতায় পোশাক খাত নেই। তার পরও আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু দেশটিতে আমাদের লবিংয়ের চেয়ে অ্যান্টি-লবিং অনেক বেশি জোরালো। আর তাজরীনের পর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় কোনো লবিং বা অনুরোধ কাজে লাগছে না। যদিও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা এখনো ছেড়ে দিইনি।’

জানা গেছে, অতীতে অনেক আইনপ্রণেতাই বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া তৈরি পোশাক খাতকে জিএসপি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক প্রস্তুতকারীরা এর বিরোধিতা করেছেন। আশির দশকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তত ১৩টি দেশের জিএসপি সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি বাতিল হয়। পরে তাদের বেশির ভাগই অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করায় আবার জিএসপি সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য সাউথ এশিয়া স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক সঞ্চিতা সাক্সেনা জানান, বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলেও তা দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কোনো সহায়তায় আসবে না। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসব পোশাক কারখানায় নজরদারি করতে পারে এবং বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগে চাপ দিতে পারে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউরোপের ক্রেতারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা-বিষয়ক চুক্তি সই শুরু করেছে। কিন্তু মার্কিন ক্রেতাদের এখনো বিষয়টিতে খুব একটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন পিসাকি এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তায় সাহায্যের বিষয় নিয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সংলাপ চলছে। সেখানকার কর্মপরিবেশকে মূলে রেখেই আলোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন ক্রেতাদের চুক্তি ও দায়িত্বশীল আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে জেন পিসাকি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, ক্রেতারা কর্মপরিবেশ ও মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবেন। যদি কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি সই নাও হয়, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও কর্মপরিবেশ নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মান ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। আশা করি, ক্রেতারা নিজ থেকেই এ মান বজায় রাখবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ১১৩ শ্রমিকের। এর পরই স্মার্ট ফ্যাশনে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ছয়জনের। আর চলতি বছর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩০।

Obama nears decision on Bangladesh trade following tragedies

Fri, Jun 14 03:16 AM IST

By Doug Palmer

WASHINGTON (Reuters) – President Barack Obama could soon decide to cut off trade benefits for Bangladesh, in a largely symbolic response to tragedies in the country’s garment sector that have cost more than 1,200 lives in the past eight months.

The U.S. Trade Representative’s office, with input from other government agencies, is completing its recommendations in preparation for a White House announcement by June 30.

Even though the trade benefits affect less than 1 percent of Bangladeshi exports to the United States, its government has pleaded with the Obama administration not to cut them off.

The AFL-CIO, the largest U.S. labor organization, first filed a petition to suspend Bangladesh from the U.S. Generalized System of Preferences program in 2007.

The U.S. government has put off that decision for six years, hoping the threat would be enough to encourage Bangladesh to make long-needed labor reforms.

But after the Tazreen factory fire in November that killed 112 people and the Rana Plaza building collapse in April that killed 1,129 more, it seems likely that Obama will eliminate or reduce the trade benefits, Celeste Drake, the AFL-CIO’s lead on trade issues, told Reuters this week.

The past year in Bangladesh has been so horrendous that unless the United States acts the labor provisions of the GSP program will be seen as meaningless, she said.

The GSP program is aimed at helping create jobs in poor countries by waiving U.S. duties on thousands of goods as long as the countries meet certain eligibility requirements.

Bangladesh has been in the program since it began in 1976. But its main export, clothing, is not eligible for GSP tariff cuts, in deference to the U.S. textile and apparel industry, which employed some 2.4 million workers four decades ago compared to less than 300,000 now.

Last year, the GSP program spared Bangladesh about $2 million in duties on $35 million worth of tents, golf equipment, plates and other items it exported to the United States, said Ed Gresser, a trade analyst with the GlobalWorks Foundation.

But Bangladesh paid about $732 million in duties on $4.9 billion worth of clothing to the United States. That is almost twice as much as the $383 million in U.S. tariffs collected on $41 billion worth of French goods in 2012, Gresser said.

In the past, some lawmakers have proposed changing the GSP program to provide duty-free benefits for clothing from Bangladesh and Cambodia, but U.S. textile manufacturers lobbied to prevent action on the legislation.

At least 13 countries have lost some or all of their GSP benefits since workers rights protections were added to the eligibility criteria in the 1980s. Most have been reinstated after making progress on the concerns.

While Bangladeshi clothing manufacturers would not be directly affected by a decision to suspend the GSP program, Drake said she expected other Bangladeshi companies hit with increased duties to join the international community in lobbying the government for labor reforms.

“It’s a small stick, which is perhaps right, given that it is a developing country. Nobody wants to do something that would be an earthquake to their economy,” Drake said.

Sanchita Saxena, associate director of the Center for South Asia Studies at the University of California at Berkeley, said revoking Bangladesh’s GSP benefits would not help workers in Bangladesh’s garment industry.

“If the U.S. wants to help improve conditions, international brands and international NGOs can help in building capacity to monitor the thousands of factories that need monitoring and help to enforce some of the laws that are in the books,” she said.

U.S. retailers should also sign an agreement embraced by European retailers to improve safety conditions in Bangladesh’s garment industry, Saxena said.

– See more at: http://bonikbarta.com

টিফা (Trade and Investment Framwork Agreement বা TIFA)


জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখেই হোক টিকফা
রাশিদুল ইসলাম নাহিদ

টিকফা চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে অনেক দিন আগ থেকে। তবে আগে এর নাম ছিল টিফা (Trade and Investment Framwork Agreement বা TIFA)। ১৩টি ধারা ও ১৯টি প্রস্তাবনাসংবলিত চুক্তিটির প্রথম খসড়া প্রণয়ন করা হয় ২০০২ সালে। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে চুক্তির খসড়াটিতে সংশোধন আনা হয়। চুক্তিটির খসড়া প্রণয়নের পর থেকেই দেশের নানা মহল থেকে এর সমালোচনা ও বিরোধিতা করা হয়। ফলে আজ অবধি এ চুক্তি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ওই সমালোচনা ও বিরোধিতা সামাল দেয়ার প্রয়াসে টিফার সঙ্গে সহযোগিতা শব্দটি যোগ করা হয়।

টিকফা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও নাছোড়বান্দা। বুশ, ওবামা সবার আমলেই বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের টিকফা স্বাক্ষরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। আগে বলা হয়েছিল, টিকফা স্বাক্ষরিত না হলে দুই দেশের সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্রমাগত চাপাচাপি করেও বাংলাদেশকে রাজি করাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাভারে ভবনধসের ঘটনায় অসংখ্য শ্রমিকের মৃত্যু তাদের জন্য এনে দিয়েছে মোক্ষম সুযোগ। বলা হলো, এ ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ যে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজিনা পরোক্ষভাবে বলেই দিলেন টিকফা স্বাক্ষর না হলে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করা হবে। আর এ ভয় থেকেই আমাদের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা জিএসপি রক্ষায় টিকফা স্বাক্ষরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অথচ বিশেষজ্ঞরা এ চুক্তি না করার ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন।

টিকফা চুক্তির মাধ্যমে উদারীকরণ, মুক্তবাজার, ব্যক্তি খাতের অবাধ আন্তর্জাতিক প্রবাহ, পুঁজি বিনিয়োগ, বাজার সংরক্ষণ নীতি পরিহার, মুনাফা স্থানান্তরের অবাধ গ্যারান্টি ও মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ দেশের অর্থনীতিকে মূলত ‘পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের’ কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলার একটি ব্যবস্থাপত্র বাস্তবায়ন করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ আমাদের নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, টিকফা স্বাক্ষর হলে তেমন অসুবিধা হবে না বরং যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়বে এবং বেশি বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু চুক্তির কাঠামো সে কথা বলে না।

বরং চুক্তিটি কার্যকর হলে দেশের সেবা খাতগুলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানির দখলে চলে যাবে। এতে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেশীয় কোম্পানিগুলোর স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। অবাধ মুনাফা অর্জনের জন্য বিদেশী কোম্পানিগুলো সেবা যেমন— টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি, চিকিত্সা, শিক্ষা, বন্দর প্রভৃতি ও পণ্যের দাম বাড়বে।

টিকফা চুক্তিতে উল্লেখ আছে— ১৯৮৬ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি। সে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিশেষ সুবিধা পাবে, তাদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির ওপর কর থাকবে না এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে এ চুক্তির ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো পক্ষ ব্যর্থ হলে অন্য পক্ষকে সহযোগিতা দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিটি হলে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির আশঙ্কা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টিফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মেধাস্বত্ব আইন মানতে বাধ্য করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। টিকফা চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে ২০১৬ সালের আগেই মেধাস্বত্ব আইন মেনে চলতে হবে। চুক্তির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাণিজ্য-সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকার (TRIPS), অন্যান্য প্রচলিত মেধাস্বত্ব আইনের যথাযথ এবং কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাত্ মেধাস্বত্ব প্রতিষ্ঠা পেলে তা আমাদের দেশকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন করবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই দেশকে সফটওয়্যার লাইসেন্স ফি বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকা (৬০ কোটি ডলার) ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্পকেও ব্র্যান্ড নামে ব্যবহূত এ দেশে তৈরি অ্যাকসেসরিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে রয়্যালিটি দিতে হবে।

বাংলাদেশকে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র এত তত্পর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তৃতীয় বিশ্বের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ মাঝে মধ্যেই পেয়ে থাকে। এসব স্থানে মার্কিন স্বার্থের বিরোধিতা করার সুযোগ থেকে বাংলাদেশকে বিরত রাখাটা টিকফা চুক্তির অন্যতম লুক্কায়িত এজেন্ডা বলে ধারণা। টিকফা চুক্তির খসড়ায় ১৮ নম্বর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একত্রে ‘দোহা ডেভেলপমেন্ট এজন্ডোর’ সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতামূলক প্রয়াস শক্তিশালী করবে। এ চুক্তির ফলে বহুপক্ষীয়ভাবে যেকোনো বিরোধ
নিরসনের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ।

টিকফা চুক্তিতে বলা হয়েছে, শ্রম আইন পরিপালন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং পরিবেশের মান বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসনের বিষয়টিও এ চুক্তির অধীনে কার্যকর করা হবে। প্রকৃতপক্ষে টিকফার প্রস্তাবনায় মানবাধিকার, শ্রমের মান ও শ্রমজীবীদের অধিকার এবং পরিবেশগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তার লক্ষ্য শ্রমজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়; বরং এগুলোকে ব্যবহারপূর্বক যুক্তরাষ্ট্র তার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
বলা হচ্ছে, এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ কয়েক গুণ বাড়বে। সেসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বে বাংলাদেশী পণ্য রফতানিও। এ রকম চুক্তি নাকি পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ইরাক, উরুগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কোন দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করা হবে— সেটা নির্ভর করে করপোরেট স্বার্থ আর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র কেবল মুনাফা অর্জনের জন্যই একটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করে না বরং এর মাধ্যমে একটি দেশকে নিজ প্রভাব বলয়ে নিয়ে এসে ওই অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে। যেমন উরুগুয়ের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরানো হয়েছে।
মূলত জিএসপি রক্ষার কথা বলে আমাদের সরকার টিকফা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী রফতানি পণ্য পোশাকশিল্পের জন্য কোনো জিএসপি সুবিধা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত ৯৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা দেয়া হলেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পণ্য তার আওতার বাইরে থাকায় আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে প্রধান বাধা হচ্ছে শুল্ক বাধা। বাংলাদেশী পোশাক রফতানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫.৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, অন্যদিকে চীন পরিশোধ করে মাত্র ৩ শতাংশ। তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের লোভ দেখিয়ে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র অথচ চুক্তিতে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা নেই। টিকফা চুক্তির খসড়ায় পণ্য ও পুঁজির চলাচলকে অবাধ করার কথা বলা হলেও শ্রমশক্তির অবাধ যাতায়াতের সুবিধার কথা কিছুই রাখা হয়নি।
উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলোর আলোকে টিকফা স্বাক্ষর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া আর সম্ভব হবে না বরং তাদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে বাংলাদেশ। এ কারণে টিকফা চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়া করে অগ্রসর না হয়ে জনগণের সামনে চুক্তির রূপরেখা তুলে ধরা চাই। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে ও চুক্তির ধারা-উপধারায় জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিন্যস্ত করার দিকে মনোযোগ দেয়া আবশ্যক।

লেখক: শিক্ষার্থী
nahidir09@gmail.com
সূত্রঃ বনিকবার্তা

প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান


প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান
রঙ-ঢঙ ডেস্ক

আকার আর ওজনের সুবিধা মিলিয়ে সারা বিশ্বেই প্লাস্টিকের বোতলজাত পানির কদর বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বোতলজাত পানি ব্যবসায়ীদের নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। যে কারণে এটি এখন ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গ। তবে এ বোতলজাত পানি কতটা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উপকারী, তা নিয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। চলছে গবেষণা, নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম অথবা স্টিলের বোতলে পানি খেতে। মেলবোর্ন ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানেও চলতি বছর প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি সরবরাহকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। কাজও চলছে সেই মাফিক। অস্ট্রেলিয়ার ২০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের বেশির ভাগই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার মতো আধুনিকতা ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষবিদ্যার শিক্ষক ক্রিস উইনডার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখিয়েছেন প্লাস্টিকের বিক্রিয়া ও মানবশরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব। তিনি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বোতলের পুনর্ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াদূষণের জন্য দায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর তা এমনভাবে ধুতে হবে, যেন অন্য কোনো উপাদান, যেমন- সাবান প্রভৃতি এর সঙ্গে লেগে না থাকে। তাহলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে অন্তত রেহাই মিলবে। তবে অবশ্যই তা ঠাণ্ডা পানিতে ধুতে হবে। কারণ তাপে প্লাস্টিকে ব্যবহূত রাসায়নিক পদার্থগুলো উন্মুক্ত হয়; যা শরীরের ক্ষতি করে।

প্লাস্টিক বোতল তৈরি হয় মূলত দুই ধরনের প্লাস্টিক থেকে। এর একটি পলিকার্বন, যা বিসফেনল এ (বিপিএ) থেকে উত্পাদিত এবং অন্যটি পিইটি, যা পলিইথিলিন থেকে উত্পাদিত। পলিইথিলিনকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়। তবে বিপিএ ক্ষতিকর। ১৯৫০ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে প্লাস্টিক উত্পাদনে এর ব্যবহার হয়ে আসছে; যার ক্ষতিকর বিষয়গুলো এরই মধ্যে প্রমাণিত।

বিপিএ প্লাস্টিকের আধারে জমে থাকা উপাদান দ্রবীভূত করার ক্ষমতা রাখে। পানিতে এসব উপাদান মিশে যায় সহজেই। ৯৫ শতাংশ মার্কিনের মূত্রে এ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। এর পরিমাণ শিশুদের মধ্যেই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

বিপিএর সঙ্গে এক প্রকার হরমোনের গাঠনিক মিল রয়েছে। এটি ওয়েসট্রোজেন মিকি হরমোন নামে পরিচিত। অধ্যাপক উইনডার জানিয়েছেন, বিপিএ নানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ। যেমন— অনুর্বরতা, মোটা হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, গলার ক্যান্সার, এমনকি এ উপাদান কেন্দ্রীয় সংবেদনশীলতাকেও অবশ করে দিতে পারে। স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের কারণও হয়ে উঠতে পারে এ বিপিএ। উইনডার আশা করছেন, মানুষ শিগগিরই এর বিপদ সম্পর্কে অবহিত হবে, ১০ বছরের মধ্যেই এ উপাদানের ক্ষতি সম্পর্কে সবাই জানবে এবং ২০ বছরের মধ্যেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় পানির বোতল তৈরিতে। একবার ভাবলেই বিষয়টি উপলব্ধি করা সম্ভব। কারণ এ বোতল তৈরির ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ উত্পাদিত হয়। ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকেল, ইথাইলবেনজিন, ইথিলিন অক্সাইড, বেনজিন প্রভৃতি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দেড় হাজার পানির বোতল নিঃশেষ করা হয়। এর কারণে নষ্ট হয় ভূমির উর্বরতা ও ব্যাহত হয় জলাধারের স্বাভাবিক গতি।

আতঙ্কের আরো বিষয় হচ্ছে, প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করার যে মানদণ্ড দেয়া হয়, বিশ্বব্যাপীই তা মানা হয় না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়েই অন্তত ২২ শতাংশ প্লাস্টিকের বোতলে ক্ষতিকর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। একই সঙ্গে পানির উত্স, এর বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ও দাম বিষয়েও ঘাপলা তৈরি হয়।

সূত্রঃ বনিকবার্তা

শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিপাকে মার্কিন সরকার


কৌশলে কর ফাঁকির অভিযোগ

শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিপাকে মার্কিন সরকার

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দেয়া শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রচলিত কর আইনে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিদেশের মাটিতে নগদ অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে অ্যাপল, গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে প্রবল জনসমর্থনের কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। খবর টেকটুর।

বিশ্লেষকরা জানান, মন্দা-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই নিত্যনতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। অতি উচ্চ জীবনমান আর উপযুক্ত পরিবেশের কারণে এসব কোম্পানিতে কাজ করতে মুখিয়ে থাকেন যেকোনো ব্যক্তিই। আবার এফডব্লিউডি ডট আসের (ফরওয়ার্ড আস) মতো প্রযুক্তিবিদদের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও যথেষ্ট শক্তিশালী। এ গ্রুপের চাপের মুখে সম্প্রতি প্রযুক্তি-সংক্রান্ত অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছে মার্কিন সিনেট।

কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা যা করে সবই স্বচ্ছ এবং বাক-স্বাধীনতাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। গুগলের প্রধান মূল্যবোধ স্বচ্ছতা; গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যক্তি-স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেয়ায় এসব কোম্পানির প্রতি জনসমর্থনও প্রবল। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের দুজন নামি সাংবাদিক তাদের পেশা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন গুগলে। এর মধ্যে রয়েছেন বামপন্থী পত্রিকা নিউ স্টেটসম্যানের সম্পাদক জন ক্যাম্ফনার। তিনি আবার সেন্সরশিপের এনজিও সূচকেরও প্রধান। বর্তমানে তিনি গুগলের অবাধ মত ও সংস্কৃতি শাখার এক্সটার্নাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। বিবিসির তদন্তনির্ভর নিউজনাইট অনুষ্ঠান সম্পাদনা করতেন পিটার ব্যারন। ইরাকে অস্ত্র পাচার-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির ওপর প্রতিবেদন করে ১৯৯৫ সালে রয়েল টেলিভিশন সোসাইটি পদক পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি গুগলের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা শাখার আন্তঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যক্তিরা কখনই চাইবেন না তাদের অধস্তনদের বিপদে ফেলতে। তবে কোম্পানিগুলোর মূল সমস্যা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের বাইরের অনেক কোম্পানিই বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দেয়; কিংবা অর্থ পাচার করে থাকে। রাজনীতিবিদ কিংবা কর্মকর্তাদের হাত করে পারও পেয়ে যায় তারা। অবশ্য এসবই হয়ে থাকে লোকচক্ষুর আড়ালে।

কিন্তু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছ থাকার মনোভাব ও বাক-স্বাধীনতা সমর্থন তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিপুল আয় করে থাকে অ্যাপল। তাদের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। তবে এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৪ হাজার কোটি ডলারের মতো। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাকি অর্থ ইচ্ছা করেই দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনছে না কোম্পানিটি। তবে তারা যেকোনো আইন ভাঙেনি তাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন সিনেটে তদন্ত উপকমিটি। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আশির দশক থেকেই করস্বর্গ বলে পরিচিত আয়ারল্যান্ডে অর্থ জমা রেখে আসছে অ্যাপল। গুগল এবং ফেসবুকের বিরুদ্ধেও এ দেশের পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থের মজুদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই আইন ভঙ্গের প্রমাণ দেখাতে সক্ষম হয়নি মার্কিন সিনেট। এ কারণে এসব কোম্পানির প্রতি নৈতিক স্খলনের মতো আপেক্ষিক অভিযোগ এনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রাজনীতিবিদদের। গত বছর আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগে ঋণাত্মক কর পরিশোধ করে ফেসবুক। এ ঘটনায় মার্কিন কোষাগার থেকে উল্টো ৪২ কোটি ৯০ লাখ ডলার পায় বিশ্বের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। জাকারবার্গসহ অন্যান্য অংশীদারের সম্পদের আর্থিক মূল্য পড়তির দিকে থাকায় এ সুযোগ পায় কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বেচে যায় ফেসবুকের। বিশ্লেষক ও আইনপ্রণেতারা জানান, ফেসবুক যে পদ্ধতিতে কর রেয়াত নিয়েছে, তা আইনগতভাবে পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কার্যক্রম অন্যদের কর ফাঁকি দেয়ায় উত্সাহিত করবে তা বলাই বাহুল্য। সিনেটর কার্ল লেভিন বলেন, ‘আমাদের ট্যাক্স কোডে এত ফাঁকফোকর দেখে যতটা না স্তম্ভিত হয়েছি; তার চেয়ে বেশি নাড়া খেয়েছে বিবেক, কীভাবে এ রকম ঘটনা ঘটল?’

মে মাসে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুকসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক শুনানিতে হাজির করে সিনেট। তার কয়েক দিন আগে কংগ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাপল যে পদ্ধতিতে কর দেয়; তা নিয়ে সংশয় আছে। বিশ্লেষকরা জানান, ৩০ বছর আগে আয়ারল্যান্ডে কৌশলগত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেয় কোম্পানিটি। যুক্তরাজ্যের এ প্রতিবেশী দেশটিতে করপোরেট করের হার খুবই কম। এমনিতে ব্যবসা কৌশল হিসেবে এটা দারুণ একটা উদাহরণ হতে পারত। কিন্তু কার্ল লেভিন মনে করেন, এত বড় একটা কোম্পানি এভাবে কর ফাঁকি দেয়ার ব্যবস্থা নেবে, তা মোটেও মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে বিশ্লেষকরা জানান, সিনেটে কর ফাঁকি অভিযোগ শুনানিতে অংশ নিলেও টিম কুককে মোটেও বিচলিত মনে হয়নি। এক বিবৃতিতে অ্যাপল প্রধান পাল্টা দাবি করেন যে, তার কোম্পানি কোনো ধরনে ছলচাতুরির সাহায্য নেয় না।

জাহান হাসান ফেস বুক

Jahan Hassan in San Jose at the FaceBook main office


সূত্রঃ বনিকবার্তা

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ প্রশংসা করা হয়। ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম ২০১২’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেশীয় ও আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ এবং প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের তত্পরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে সন্ত্রাসীদের বিচারিক প্রক্রিয়া ধীর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরও ‘সন্ত্রাসবাদ দমন অধ্যাদেশ ২০০৯’ ফৌজদারি আইন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগের পথে বাংলাদেশ এগোচ্ছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরো জোরদারে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সরকারি কৌঁসুলিরা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আর্থিক সহায়তায় অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ একটি ন্যাশনাল একাডেমী ফর সিকিউরিটি ট্রেনিং চালু করেছে। যেখানে সন্ত্রাস দমনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন রোধ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে পুরো প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। জঙ্গি অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ পাচার রোধ আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে সার্কের আওতায় বেশকিছু স্মারকে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জাতিসংঘের দেয়া বৈশ্বিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি আঞ্চলিক দেশগুলো বিশেষ করে ভারত দ্বারা প্রভাবিত। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কের কারণে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ হুমকিতে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের আন্তরিকতায় সন্ত্রাসবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নত ও সম্প্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোয় পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। এছাড়া বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্থিক অপরাধ এবং জঙ্গি অর্থায়নসহ অন্যান্য অপরাধ তদন্তে সহায়তাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মনে করে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ‘পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে, যা সন্ত্রাসবাদ দমনে
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে। সেই সঙ্গে মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

jahan Hassan Dan Mozena Ekush News Media

US praises Bangladesh’s counterterrorism efforts
But it says judiciary moves slowly
UNB, Dhaka

Counterterrorism

The US has highly appreciated Bangladesh’s role in combating terrorism saying its counterterrorism efforts made it harder for transnational terrorists to operate in or establish safe havens in Bangladeshi territory but said the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

“…Bangladesh has demonstrated its commitment to combating domestic and transnational terrorist groups,” the ‘Country Reports on Terrorism 2012’ of the US State Department said in its Bangladesh part.

It mentioned that the South Asia remains a frontline in the battle against terrorism.

US assistance supports programmes for Bangladeshi civilian, law enforcement, and military counterparts to build their capacity to monitor, detect, and prevent terrorism.

The report considers Bangladesh as an influential counterterrorism partner in the region, and mentioned that the country continued to make strides against domestic and international terrorism. Besides, Bangladesh and India improved and expanded counterterrorism cooperation.

Despite the absence of major terrorist incidents on their territory, governments in the five Central Asian states were concerned about the possibility of a growing threat connected to changes in the international force presence in Afghanistan in 2014.

Legislation, Law Enforcement and Border Security

Bangladesh’s criminal justice system is in the process of fully implementing the Antiterrorism Act of 2009. However, the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

Bangladesh cooperated with the United States to further strengthen control of its borders and land, sea, and air ports of entry. It continued to participate in the Department of State’s Antiterrorism Assistance program and cooperated with the Department of Justice’s efforts to provide prosecutorial skills training to its assistant public prosecutors, encourage greater cooperation between police and prosecutors, and institute community policing in targeted areas of the country.

With financial support from the United States and other partners, Bangladesh established a National Academy for Security Training in 2012 and began to provide counterterrorism training courses.

Countering Terrorist Finance

Bangladesh is a member of the Asia/Pacific Group on Money Laundering, a Financial Action Task Force (FATF)-style regional body.

The Bangladesh Bank (the central bank) and its Financial Intelligence Unit/Anti-Money Laundering Section lead the government’s effort to comply with the international sanctions regime.

FATF has identified Bangladesh’s implementation of UNSCRs 1267 and 1373 as a deficiency in its laws. Bangladesh formed an interagency committee to address this issue, and has drafted regulations to implement both of these provisions.

While Bangladesh’s Anti-Terrorism Act criminalised terrorist financing, FATF has recommended that Bangladesh amend its laws to meet international standards and to clarify remaining ambiguities.

The interagency committee mentioned above has begun revising the legislation to satisfy FATF’s concerns in this regard.

Regional and International Cooperation

Bangladesh is party to various counterterrorism protocols under the South Asian Association for Regional Cooperation and is bringing the country’s counterterrorism efforts in line with the four pillars of the UN Global Counter-Terrorism Strategy.

Bangladesh’s foreign and domestic policies are heavily influenced by the region’s major powers, particularly India.

In past years the Indo-Bangladesh relationship provided openings for transnational threats, but the current government has demonstrated its interest in regional cooperation on counterterrorism. Bangladesh was active in the full range of international fora.

In 2012, Bangladesh enacted a mutual legal assistance law that will allow for greater international cooperation. It has also signed memoranda of understanding with a number of countries to share evidence regarding criminal investigations, including investigations related to financial crimes and terrorist financing.

Countering Radicalisation and Violent Extremism

Bangladesh uses strategic communication to counter violent extremism, especially among youth.

The Ministry of Education provides oversight for madrassas and is developing a standard national curriculum that includes language, math, and science curricula; and minimum standards of secular subjects to be taught in all primary schools, up to the eighth grade.

The Ministry of Religious Affairs and the National Committee on Militancy Resistance and Prevention work with imams and religious scholars to build public awareness against terrorism.
“The Government of Bangladesh is also actively expanding economic opportunities for women as it views economic empowerment for women as a buffer against violent extremist messages of male religious leaders,” the report says.

About Pakistan it said the country continued to experience significant terrorist violence, including sectarian attacks.

Although terrorist attacks occurred in 85 different countries in 2012, they were heavily concentrated geographically. As in recent years, over half of all attacks (55%), fatalities (62%), and injuries (65%) occurred in just three countries: Pakistan, Iraq, and Afghanistan, the report says.
সূত্রঃ বনিকবার্তা

ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা


প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৩
–New with DIV——–


ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

বণিক বার্তা ডেস্ক

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তাই স্থূলতা কমাতে ভারতীয়রা অস্ত্র্রোপচারে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থূলতা বেড়ে যাওয়ায় অবিসিটি সার্জারি (স্থূলতা হ্রাসের অস্ত্রোপচার) দেশটির অন্যতম ব্যবসা হয়ে উঠেছে। লন্ডনের বাজার গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

গবেষণায় বলা হয়, নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে এখন হালকা পাতলা গড়নের চেয়ে অপেক্ষাকৃত মোটা নারীদের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। ২০০৯ সালে চেন্নাইয়ের একটি বস্তিতে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, এখানে প্রতি তিনজন নারীর দুজনই স্থূল সমস্যায় রয়েছেন।

দেশটির ৬৩ মিলিয়ন নাগরিক এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছে। এ কারণে এসব রোগী স্থূলতা কমাতে চাইছে। এজন্য তারা অবিসিটি সার্জারির দ্বারস্থ হচ্ছে। এ ধারাকে চালিয়ে নিতে ভারতের ২৫০টি হাসপাতালে ৪০০ সার্জন পেটের চর্বি কমানোর মতো অস্ত্রোপচারের কাজে নিয়োজিত আছেন।

এর ফলে ভারত বিশ্বের ১২০ কোটি ডলারের বেরিয়াট্রিক ডিভাইসের (স্থূলতা কমানো ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহূত বিভিন্ন উপাদান) একটি উদীয়মান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতে টিটানিয়াম স্টমাক স্ট্যাপল সরবরাহে জনসন অ্যান্ড জনসনের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে আয়ারল্যান্ডের কভিডেইন পিএলসি। এর মাধ্যমে চলতি বছর ভারতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর ১০ হাজার অস্ত্রোপচার হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গ্লোবালডাটার তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে বিশ্ব বেরিয়াট্রিক সার্জারি ডিভাইস বাজারে জনসন অ্যান্ড জনসনের শাখা ইথিকন এন্ডো-সার্জারি ইনকরপোরেশনের শেয়ার ছিল ২৪ শতাংশ। এ সময় কভিডেইনের ছিল ২১ শতাংশ, অ্যালারগান ইনকরপোরেশনের ছিল ১৬ শতাংশ।
কভিডেইনের ভারত বিভাগের প্রধান মার্ক রনেই জানান, ‘বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে সহায়তা করে ভারতে এমন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতে মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ১ ডলারের কমে তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করে। এসব নাগরিক তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য রোগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের চিকিত্সা দেয়া যায়। কারণ আমরা জানি, স্বল্পমূল্যে এটি অনেক ভালো একটি সেবা, যা ভারতের প্রত্যেক নাগরিকই বহন করতে পারবে।’

মুম্বাইয়ের বেসরকারি হাসপাতাল নোভা স্পেশালিটি সার্জারির সার্জন রামেন গোয়েল জানান, এ কোম্পানিগুলো এখন ভালো ব্যবসা করছে। তারা ব্যবসার জন্য এখন ভারতকে অন্যতম লক্ষ্যে পরিণত করেছে। সার্জারির মাধ্যমে এখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধু শরীরচর্চার মাধ্যমেই এসব রোগীর স্বাস্থ্য ভালো হবে না। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

গ্লোবালডাটা জানায়, স্ট্যাপল, স্ট্যাপল গানস ও এ ধরনের অস্ত্রোপচারে ব্যবহূত অন্য উপকরণগুলোর আন্তর্জাতিক বাজার চলতি বছর ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে। ২০১৮ সাল নাগাদ তা বেড়ে ২৩০ কোটি ডলার হবে।

বিশ্বে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি অস্ত্রোপচার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার মতো সমস্যায় রয়েছে। দ্য আমেরিকান সোসাইটি ফর মেটাবলিক অ্যান্ড বেরিয়েট্রিক সার্জারির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ২০ হাজার এ ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

ওজন কমানোর অস্ত্রোপচার করলে ডায়াবেটিসসহ স্থূলতাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়— এমন প্রমাণ পাওয়ার পরই এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। গ্যাস্ট্রিক সার্জারির মাধ্যমে পেটের আকার কমিয়ে আনা হয় এবং ক্যালরি বাড়তে দেয়া না, যার সহায়তায় ওজন কমে যায়। এছাড়া এ ধরনের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিছু কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব শরীরের সহায়তাকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে অন্ত্রে থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। গত মার্চে প্রকাশিত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী নয়, উদীয়মান দেশেও এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। নিম্ন ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোয় ছোঁয়াচে ও অপুষ্টিজনিত রোগের হার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের স্থূলতার মতো ঝুঁকি বাড়ছে, যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘দ্বিগুণ বোঝা’ বলে উল্লেখ করেছে। এসব দেশ আধুনিকীকরণের মতো কার্যক্রম শুরুর পরই এ ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে।

নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেসের অধ্যাপক জানান, সত্যিকারের শিল্পায়িত দেশগুলো এখন এ ধরনের সমস্যায় রয়েছে। ভারতে ২০ বছর ধরে এ সমস্যা চলছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভিয়ানের শিল্প বিশ্লেষক আরতি শেঠী জানান, গত দুই দশকে ভারতে স্থূল লোকের সংখ্যা ‘নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।’ ফলে দেশটিতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার বাজারের প্রবৃদ্ধিও বেড়ে চলছে।

ফোর্বসের শিক্ষায় শীর্ষ ১৫ উদ্ভাবকের তালিকায় সালমান খান | তেল উৎপাদনে সৌদিকে ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র


লন্ডনকে হারিয়ে অর্থনৈতিক রাজধানী নিউইয়র্ক

চাকরির দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনৈতিক রাজধানীর মুকুটটি হারিয়েছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। ২০১৫ সালের মধ্যে শহরটি এদিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা নিউ ইয়র্ক ও হংকং থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিলো লন্ডন। কিন্তু চলতি বছর অবশেষে শহরটিকে নিউ ইয়র্কের কাছে হার মানতে হলো। এছাড়া তিন বছরের মধ্যে লন্ডনকে ছাড়িয়ে যাবে হংকং, এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও ব্যবসায় গবেষণা কেন্দ্র (সিইবিআর)।
এমনকি সিঙ্গাপুরও খুব দ্রুত এ তালিকার উপরের দিকে উঠে আসছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
সিইবিআর আরও জানায়, পূর্বাঞ্চলের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণেই লন্ডন তার প্রভাব হারিয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে অদূরদর্শী নিয়ম-কানুনের খড়গ, অহেতুক কর ও ব্যাংকারদের অনিয়ম।

তেল উৎপাদনে সৌদিকে ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র
২০১৭ সাল নাগাদ সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা জ্বালানি সংস্থা আইইএ সোমবার এ পূর্বাভাস দিয়েছে। অতীতের নানা পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত এই পূর্বাভাস দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’ (আইইএ) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানিতে অনেকটাই স্বয়ং-সম্পূর্ণ হয়ে উঠতে সক্ষম হবে। যা আগে অচিন্তনীয় বলে মনে করা হচ্ছিল।
শিল্পোন্নত বড় বড় দেশগুলোর জ্বালানি নীতির পরামর্শ দানকারী আইইএ তাদের আগের কয়েকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০৩৫ সাল নাগাদ সৌদি আরবই বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে থাকবে।
কিন্তু এবার দীর্ঘমেয়াদের বার্ষিক প্রতিবেদনে আইইএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খাতের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। জ্বালানি খাতসহ উত্তর আমেরিকাতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবারই আইইএ সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক পূর্বাভাস দিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি কমতে থাকবে এবং তেল রপ্তানিকারক হয়ে উঠবে উত্তর আমেরিকা। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানিতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র।

৪ বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে চীনের অর্থনীতি
আগামী ৪ বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে চীন। এ কথাই বলছে আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান। প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) বলেছে, এ বছরের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনীতি ইউরোজোনের দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। আর এভাবেই ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। ওইসিডির ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ আশা জোহানসন বলেন, আগামী ৫০ বছরে বিশ্বের জিডিপি বাড়বে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে; কিন্তু বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চলভেদে এর বড় ধরনের তারতম্যও ঘটবে। তিনি বলেন, ২০৬০ সাল নাগাদ চীন ও ভারতে মানুষের আয় ৭ গুণ বেড়ে যাওয়াসহ দরিদ্র দেশগুলোতে বেশিরভাগ মানুষের আয় অনেক বাড়লেও বৈষম্য দূর হবে না। ২০২৫ সাল নাগাদ চীন এবং ভারতের সম্মিলিত জিডিপি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সম্মিলিত জিডিপিকে ছাড়িয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে এ ধরনের পরিবর্তনই পরিলক্ষিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অক্টোবরে চীনের অর্থনৈতিক উপাত্তে দেখা গেছে, দেশটিতে তিন বছরের ধীরোগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। অক্টোবরের তথ্যে দেখা গেছে এ উন্নয়নের ধারা। অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বেড়ে ৫ মাসে দ্রুত সচল হয়েছে চীনের অর্থনীতি। রয়টার্স।

এক ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

আসজাদুল কিবরিয়া: বিশ্ব আর্থিক উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ) বিশ্বের ৬২টি দেশকে নিয়ে এ বছর এই সূচক প্রণয়ন করেছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম। আর গত বছর ৬০টি দেশের মধ্যে অবস্থান ছিল ৫৬তম।
অবশ্য এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার আরও দুটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দেশ দুটি হলো ভারত ও পাকিস্তান। এই দুই দেশও এই সূচকে আগের বছরের চেয়ে পিছিয়ে গেছে।
ভারত গতবারের ৩৬তম অবস্থান থেকে এবার নেমে গেছে ৪০তম স্থানে। আর পাকিস্তান গতবারের ৫৫তম অবস্থান থেকে এবার নেমে এসেছে ৫৮তম স্থানে। সুতরাং, অবনমনের বিবেচনায় ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অবনমন কম হয়েছে।
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক খাতের বিভিন্ন দিকের ওপর পর্যালোচনা করে ডব্লিউইএফ এ সূচক প্রণয়ন করে থাকে। চলতি মাসে এই সূচকভিত্তিক পঞ্চম বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ১০০টির বেশি উপকরণকে মূল্যায়ন করে সাতটি স্তম্ভের ওপর সার্বিক সূচক নির্ণয় করা হয়েছে। ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা খাত, পুঁজিবাজার, ব্যবসার পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছে।
ডব্লিউইএফের এ সূচক থেকে দেখা যায়, সাতটি স্তম্ভের মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা স্তম্ভে বাংলাদেশ ৬২টি দেশের মধ্যে ৩৭তম অবস্থানে রয়েছে। মুদ্রা বিনিময়ের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে মূলত এ অগ্রগতি হয়েছে। এই উপসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। আবার যেসব উপকরণ দিয়ে এই উপসূচক গঠিত, তাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিপরীতে বৈদেশিক ঋণ উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
আবার আর্থিক স্থিতিশীলতা স্তম্ভের ব্যাংকব্যবস্থার স্থিতিশীলতা উপসূচকের পাঁচটি উপকরণের শেষটি হলো, ব্যাংকিং-সংকটে উৎপাদনের লোকসান। এই উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। এর মানে হলো, বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং-সংকটে বাংলাদেশের কোনো লোকসান হয়নি। অবশ্য আরও ২০টি দেশ একই রকম অবস্থানে আছে। কাজেই এককভাবে বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থান নেই।
এভাবে যেসব উপকরণের ওপর এই স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোর কোনো কোনোটিতে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো প্রতীয়মান হয়। যেমন: অব্যাংক আর্থিক সেবা স্তম্ভের বিমা উপসূচক গঠিত হয়েছে পাঁচটি উপকরণ নিয়ে। এর মধ্যে একটি হলো জীবন বিমায় ঘনত্ব। এ উপকরণে শীর্ষে আছে ভারত। আর সাধারণ বিমা ঘনত্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। ভারতের অবস্থান তৃতীয়। বিমার ঘনত্ব বলতে কোনো দেশে নির্দিষ্ট সময়ে জনসংখ্যার বিপরীতে বিমার প্রিমিয়ামের অনুপাতকে বোঝানো হয়।
ব্যবসার পরিবেশ শীর্ষক স্তম্ভে ব্যবসা করার ব্যয় উপসূচক গঠিত হয়েছে ছয়টি উপকরণ দিয়ে। এর অন্যতম হলো ব্যবসা বন্ধ করার ব্যয়। এতে বাংলাদেশ আছে ১৭তম স্থানে।
আর্থিক প্রবেশগম্যতা (অ্যাকসেস) স্তম্ভের খুচরা প্রবেশগম্যতা উপসূচকে ক্ষুদ্রঋণ হিসাব উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

ফোর্বসের শিক্ষায় শীর্ষ ১৫ উদ্ভাবকের তালিকায় সালমান খান
শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা বিশ্বের শীর্ষ ১৫ জন ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস সাময়িকী। এ তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সালমান খান।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই ১৫ জন বিশ্বব্যাপী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নবধারা প্রবর্তন করেছেন। ফোর্বস সাময়িকী এই ১৫ ব্যক্তিকে ‘শ্রেণীকক্ষের বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে তাঁরা কীভাবে বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন, তার বর্ণনা দিয়েছে।
ফোর্বস-এর তালিকায় স্থান পাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুজন মার্কিনও রয়েছেন। তাঁরা হলেন: ভারতে কম দামের ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডেটাউইন্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীত সিং ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক অনন্ত আগারওয়াল। টাইমস অব ইন্ডিয়া।