লন্ডনের ব্যয়বহুল জীবনযাপনের ব্যয়ভার কোথা থেকে আসছে


[প্রবাস প্রতিবেদন] তারেক রহমানের বিলেতের দিনকাল

  

ইসহাক কাজল লন্ডন থেকে

তারেক রহমান তথা তারেক জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে বসবাস করছেন। তাকে নিয়ে বিলেতে বাঙালি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সাধারণ জনসমাজে কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটি তো বটেই, বাইরের সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় তাকে নিয়ে মানুষের ঔৎসুক্য আরও বেড়েছে। প্রায় ৫ বছর আগে বিলেতে এসে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার যে খরচ তার যোগান কোথা থেকে আসছে তাও এক রহস্য কমিউনিটির কাছে। বিশেষ করে তার রাজকীয় চলাফেরার খবর অনেকের কাছেই রয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন যেখানে তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইস্কন্দর মির্জা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এই লন্ডনে এসে হোটেলে ম্যানেজারের চাকরি করে দিন যাপন করেছেন, উগান্ডার ইদি আমিন, ইরানের রেজা শাহ পাহলেবী প্রচণ্ড অর্থকষ্টে জীবন কাটিয়েছেন বিদেশের মাটিতে, সেখানে তারেক রহমান বিনা আয়ে এমন রাজকীয়ভাবে লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে চলেন কীভাবে?
বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান প্রথমে লন্ডনে আসেন ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে বাসা থেকে বের না হলেও মাঝে মাঝে তাকে বিভিন্ন শপিং মলসহ বিনোদন কেন্দ্রে দেখেছেন অনেকে। এছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে ওয়েলিংটন হসপিটালে কিংবা তার প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময়ও অনেকের নজরে এসেছেন এই রহস্যময় রাজনীতিক নেতা। ক্ষমতা হারানোর পর নির্যাতনে তারেকের মেরুদণ্ডের ৬ ও ৯ নম্বর হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে এ অবস্থা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়া কঠিন। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ের বিয়েতে তারেক রহমান জনপ্রকাশ্যে এলে তাকে ছড়ি হাতে দেখে ডাক্তারদের সেই কথাই মনে হয়েছে অনেকের।

লন্ডনে শুরুর সময়
২০০৮ সালে লন্ডনে আসার পর পর তারেক রহমান ছিলেন তৎকালীন যুক্তরাজ্য বিএনপির একচ্ছত্র নেতা কমর উদ্দিনের ছত্রছায়ায়। সেই সময় তারেক রহমান কমর উদ্দিনের এনফিল্ড টাউন ও সাউথ গেইট এই দুই এলাকার মাঝামাঝি এলাকায় এক বাসায় থাকতেন। কমর উদ্দিন লন্ডনে বাংলাদেশি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। কমর উদ্দিনের প্রায় বারোটির মতো ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে লন্ডন ও বিভিন্ন শহরে। তারেক রহমান যে বাসায় ওঠেন কমর উদ্দিন সেই বাড়ি ক্রয় করেন ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিলাসবহুল এই বাড়ির মাসিক মর্টগেজ দিতে হতো ৩৩৫ পাউন্ড যা ক্রেডিট ক্রাঞ্চে কমে গিয়ে ২২০ পাউন্ডে নেমে আসে। তারেক রহমানকে এই মর্টগেজের টাকাও দিতে হয় না। উপরন্ত লন্ডনে তারেকের বাড়ির খরচও চালাতেন কমর উদ্দিন। লন্ডনে আসার পর কমর উদ্দিনের নিজের ব্যবহারকৃত জাগুয়ার গাড়িটি তারেককে দিয়ে দেন। মাসিক ৮০০ পাউন্ড বেতনে ড্রাইভার শরীফুল ইসলাম চাকরি পান। পরে তারেক নিজেও দুইটি গাড়ি কিনেন, ক্যাব্রিজ হিথ রোডের রূড থেকে। একটি হলো বিএম ডাব্লিউ সেভেন সিরিজ আরেকটি হচ্ছে অডি। এসময় তারেক রহমান প্রধানত বাসাতেই থাকতেন। মাঝে মধ্যে মেয়ে জাইমাকে স্কুল থেকে আনতে ড্রাইভারের সঙ্গে বের হতেন।
পাশাপাশি মাঝে মাঝে তার পরিবার নিয়ে বাসার গ্রোসারি কেনাকাটা করতেন পন্ডার্স এন্ডের টেসকো থেকে। কমর উদ্দিনের রেস্টুরেন্টের কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মচারীও তার কেনাকাটায় সাহায্য করতেন। প্রায় দিনই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার প্রেরণ করা হতো। এছাড়াও প্রতিমাসে লেক সাইডের ব্লু ওয়াটার এবং সেন্ট্রাল লন্ডনের সেলফ্রিজেসে শপিং করতেন বলে জানা গেছে। যেতেন সেলফ্রিজেস এর হোম এক্সেসরিজেও। সেলফ্রিজ ও ব্লু ওয়াটার হচ্ছে ইউকের সবচাইতে বিলাসবহুল এবং ব্যয়বহুল শপিং মল। মিলিয়নিয়াররাই মূলত সেখানে কেনাকাটা করে থাকেন। তারেক প্রায়ই পুরো পরিবার নিয়ে উডগ্রীন সিনে ওয়ার্ল্ডে সিনেমা দেখতে যেতেন। মাঝেমধ্যে আপ্টন পার্কের বলিনেও সিনেমা দেখতে আসতেন বলে জানা গেছে।

বর্তমান জীবন
কমর উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে তারেক রহমান থাকেন সারের কিংসটনে। এ এলাকার লোকাল অথরিটির তথ্য অনুযায়ী ৩-৪ বেডরুমের এক বাসার মাসিক ভাড়া ১২শ’ থেকে শুরু করে ৫ হাজার পাউন্ড। সি ব্যান্ডের বাসার জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স ১৪৭৪ পাউন্ড ৬৭ পেন্স। বিদ্যুৎ গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল ন্যূনতম ১৫০ পাউন্ড। তার পরিবারের ট্রান্সপোর্টেশন খরচ ন্যূনতম ১শ’ পাউন্ড। এছাড়া লন্ড্রি, পোশাক-আশাক, পত্রপত্রিকা এবং মোবাইল ও টেলিফোনসহ আরও প্রায় ৭-৮শ’ পাউন্ড খরচ হয়ই। সব মিলিয়ে ৪ হাজার পাউন্ডের নিচে তার মতো লাইফ স্টাইল চালানো সম্ভব হওয়ার কথা নয়। বিশেষত এই এলাকায় আরও রাঘব বোয়ালরা থাকেন। এই এলাকাতেই থেকে গেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। এখনো পাকিস্তানের সাবেক সেনা শাসক পারভেজ মোশাররফ বসবাস করছেন কিংসটনে।
এরই মধ্যে একবার তিনি ২০০৮-এ লন্ডনে এসে বার এট ল ডিগ্রি (ব্যারিস্টার) সম্পাদন করবেন বলে মনস্থির করেন। তবে তিনি সুবিধা করতে পারেনি। তারেক যেহেতু বাংলাদেশের গ্রাজুয়েট তাই লন্ডনে তাকে প্রথমে একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি এক্সেশন পাননি। সাউথ ব্যাঙ্ক ইউনিভারসিটি ও কুইন মেরী তারেককে সরাসরি রিজেক্ট করে দেয়। পরে তিনি জিডিএল করে শর্ট-কাটে বার এট ল করতে চেয়েও পারেননি।

নেই কোনো আয়ের উৎস
গত প্রায় ৫ বছর ধরে লন্ডন থাকলেও তারেক রহমান কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি যেমন কোনো কাজে নিয়োজিত হতেও পারেন না। তাকে বাইরে দেখাও যায় না খুব একটা। স্ত্রী জুবাইদা গুলশান আরাও তেমন কোনো কাজ করেন না। উপরন্তু এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচও রয়েছে। অতি সম্প্রতি ব্রিটেনে বসবাসের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন তারেক রহমান। এর সুবাদে ব্রিটেনে অবাধে চলাচলের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে কোনো সরকারি অর্থায়ন বা বেনিফিট পাবেন না তারেক। দেশেও তার এবং তার মা বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকটি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা আছে। তারেকের ইনকামের একমাত্র স্বীকৃত উৎস হিসেবে ধরা যায় তার মা বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সংসদের বেতন। তবে তা দিয়ে লন্ডনে এই বিলাসী জীবনের একাংশও বহন করা সম্ভব কি না সন্দেহ।

মাথার উপর মামলার বোঝা 
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ তারেক রহমানের ওপর ঝুলছে ১৪টি মামলার খড়গ। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করা হলেও ২০০৯ সালে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। অন্য মামলাগুলোর মধ্যে ৪টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। জীবনে আর রাজনীতি করবেন না এমন মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমান চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে লন্ডন চলে আসার পর তা বাতিল করে বর্তমান সরকার। পরবর্তীতে বাংলাদেশে দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে পলাতক বিবেচনায় একাধিক মামলায় তারেক রহমানের জামিন বাতিল করে আদালত। এছাড়াও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে যে ২৫টি মামলা ঝুলছে সেগুলোর মধ্যে ২৩টি মামলাই তত্ত্বাবধায়ক আমলে দায়ের করা।

যুক্তরাজ্য নেতৃবৃন্দ যা বলেন
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাজ্য বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির নেতৃবৃন্দের মতামত জানতে চাইলে তারা অনেক কথা বলেছেন।
 
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ বলেছেন, তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলকারী সামরিক শাসক ইস্কন্দর মির্জা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এই লন্ডনে এসে আশ্রয় পেয়ে ছিলেন। লন্ডনে জীবনযাপনের ব্যয়ভার বহনের জন্য তাকে একটি হোটেলে ম্যানেজারের চাকরি পর্যন্ত করতে হয়েছে। দারুণ অর্থকষ্টে একেবারে নিঃস্ব কপর্দকহীন অবস্থায় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। উগান্ডার ইদি আমিন, ইরানের রেজা শাহ পাহলেবীর কথা তো কারো অজানা নয়। ইদি আমিনকে সৌদি আরবে ঝাড়–দারের চাকরি করে জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল আর রেজা শাহ পাহলেবীর অবস্থাও খুবই করুণ ছিল। তারেক রহমান হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় অর্থসম্পদ
  নিজের করে নেয়া অনৈতিক রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তক। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পেয়ে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিকল্প ক্ষমতার ভরকেন্দ্রকে ভিত্তি করে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। সেই অর্থ দিয়েই তারেক রহমান লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অর্থ পাচারের ঘটনাটি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে প্রমাণিতও হয়েছে। রাজনৈতিক পাওয়ার বা শক্তি বিক্রি করেই তারেক রহমান এই অঢেল অবৈধ অর্থ ও বিত্তের মালিক হয়েছেন। এই অপরাধের জন্য তারেক রহমানকে যেমন একদিন আইনের মুখোমুখি হতে হবে তেমনি বাংলাদেশের জনগণের আদালতেও একদিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। সেই দিন বেশি দূরে নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী লন্ডনে তারেক রহমানের বিলাসী জীবনযাপন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ বলে সেনা শাসক জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক অঙ্গনে কেনাবেচার রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। স্বগর্বে তিনি ঘোষণা করেছিলেন রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি চর্চা কঠিন করে ছাড়বেন। সে ধারা অক্ষুণ
œ রেখে তারেক রহমান একই পথ অনুসরণ করেন। রাষ্ট্রীয় অর্থ সম্পদ লুটপাট করে সাহসী তারুণ্যের অহঙ্কারকে কেনাবেচার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে অনৈতিক রাজনীতি চর্চার সূচনা করেন। হাওয়া ভবনকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র করে তারেক-কোকো-মামুন এতিমের টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। লুটের সেই অর্থেই তাদের বিলাসী জীবনযাপন চলছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি। তাই তার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। লন্ডনে দীর্ঘদিন কী অবস্থায়, কোন ক্যাটাগরির ভিসায় তিনি আছেন তা জনগণের জানার অধিকার পর্যায়ে পড়ে। এখানে অবস্থানের ব্যয়ভার কীভাবে তিনি নির্বাহ করেন সে সত্যও প্রকাশ করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যেসব দুর্নীতি মামলা তার ওপর হয়েছে, সৎ সাহস থাকলে বাংলাদেশে গিয়ে সেগুলোর মোকাবেলা করা উচিত। সন্ত্রাসী চক্র আর দুর্নীতিবাজরা মিডিয়া থেকে বরাবরই নিরাপদ দূরত্বে থাকে। তারেক রহমান
  মিডিয়াকে ভয় করেন কেন? লন্ডনের ব্যয়বহুল জীবনযাপনের ব্যয়ভার কোথা থেকে আসছে একজন রাজনীতিক হিসেবে সে সত্য তার প্রকাশ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিলুপ্ত ঘোষিত যুক্তরাজ্য বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক এমএ মালিক বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন সংগঠক ও কর্মী হিসেবে এ সত্য আমার অজানা নয় যে তারেক রহমান নিজের সকল ব্যয়ভার নিজেই বহন করে থাকেন। একটি কথা মনে রাখতে হবে তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র। তার পিতা জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন সামরিক বাহিনীতে উচ্চপদে চাকরি করেছেন। তাই তাকে কারও দয়া দাক্ষিণ্যের উপর ভরসা করে লন্ডনে বসবাস করতে হবে সে প্রশ্ন অবান্তর।
যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া মনিরুল আলম এ ব্যাপারে কোনো প্রকার রাখঢাক না করে বলেন, তারেক রহমানের অবস্থা এত খারাপ নয় যে তার খাওয়াপরার ব্যয়ভার বহন করতে পারবেন না। সিলেটি ভাষায় তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পোয়া। তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন নিজের শক্তি ও সামর্থ্য।ে আজকের বাংলাদেশের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাতারে অনেকেই আছেন যারা আমাদের রেস্টুরেন্টে ভাত খেয়ে, থেকে লালিতপালিত হয়েছেন। অনেকের হাত খরচের অর্থ আমরা যুগিয়েছি। তারা এখন ক্ষমতার উচ্চশিখরে আছেন বলে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগসূত্রও নেই। দেখেও না দেখার ভান করেন। আর তারেক জিয়া আমাদের নেতা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আগামী দিনের বীর সেনানী তিনি যদি অর্থকষ্টে থাকেন তাহলে সে লজ্জা আমাদেরই। আমরা প্রাণ উজাড় করে শর্তহীনভাবে তাকে সহায়তা করতে সদা প্রস্তুত। তিনি সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে জাতির কাণ্ডারি হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করুন সে প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
বিলুপ্ত ঘোষিত যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ব্যারিস্টার এমএ সালাম বলেছেন, কিছু কিছু বিষয়ে রাজনীতি না এনে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্যাতনে প্রায় পঙ্গু অবস্থায় উচ্চতর চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য তারেক রহমান লন্ডন এসেছিলেন। এখনো তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শেই লন্ডনে তার চিকিৎসা অব্যাহত আছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারেক রহমানের ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে সে ব্যাপারে উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করা হবে। কিন্তু আমাদের সে প্রত্যাশা গুঁড়ে বালি। বিষয়টি তদন্ত করা তো দূরের কথা বর্তমান সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর একটি মামলা দায়ের করে তার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে।

সূত্রঃ http://www.shaptahik.com/v2/?DetailsId=7532

ফোর্বসের শিক্ষায় শীর্ষ ১৫ উদ্ভাবকের তালিকায় সালমান খান | তেল উৎপাদনে সৌদিকে ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র


লন্ডনকে হারিয়ে অর্থনৈতিক রাজধানী নিউইয়র্ক

চাকরির দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনৈতিক রাজধানীর মুকুটটি হারিয়েছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। ২০১৫ সালের মধ্যে শহরটি এদিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা নিউ ইয়র্ক ও হংকং থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিলো লন্ডন। কিন্তু চলতি বছর অবশেষে শহরটিকে নিউ ইয়র্কের কাছে হার মানতে হলো। এছাড়া তিন বছরের মধ্যে লন্ডনকে ছাড়িয়ে যাবে হংকং, এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও ব্যবসায় গবেষণা কেন্দ্র (সিইবিআর)।
এমনকি সিঙ্গাপুরও খুব দ্রুত এ তালিকার উপরের দিকে উঠে আসছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
সিইবিআর আরও জানায়, পূর্বাঞ্চলের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণেই লন্ডন তার প্রভাব হারিয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে অদূরদর্শী নিয়ম-কানুনের খড়গ, অহেতুক কর ও ব্যাংকারদের অনিয়ম।

তেল উৎপাদনে সৌদিকে ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র
২০১৭ সাল নাগাদ সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা জ্বালানি সংস্থা আইইএ সোমবার এ পূর্বাভাস দিয়েছে। অতীতের নানা পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত এই পূর্বাভাস দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’ (আইইএ) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানিতে অনেকটাই স্বয়ং-সম্পূর্ণ হয়ে উঠতে সক্ষম হবে। যা আগে অচিন্তনীয় বলে মনে করা হচ্ছিল।
শিল্পোন্নত বড় বড় দেশগুলোর জ্বালানি নীতির পরামর্শ দানকারী আইইএ তাদের আগের কয়েকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০৩৫ সাল নাগাদ সৌদি আরবই বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে থাকবে।
কিন্তু এবার দীর্ঘমেয়াদের বার্ষিক প্রতিবেদনে আইইএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খাতের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। জ্বালানি খাতসহ উত্তর আমেরিকাতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবারই আইইএ সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক পূর্বাভাস দিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি কমতে থাকবে এবং তেল রপ্তানিকারক হয়ে উঠবে উত্তর আমেরিকা। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানিতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র।

৪ বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে চীনের অর্থনীতি
আগামী ৪ বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে চীন। এ কথাই বলছে আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান। প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) বলেছে, এ বছরের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনীতি ইউরোজোনের দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। আর এভাবেই ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। ওইসিডির ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ আশা জোহানসন বলেন, আগামী ৫০ বছরে বিশ্বের জিডিপি বাড়বে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে; কিন্তু বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চলভেদে এর বড় ধরনের তারতম্যও ঘটবে। তিনি বলেন, ২০৬০ সাল নাগাদ চীন ও ভারতে মানুষের আয় ৭ গুণ বেড়ে যাওয়াসহ দরিদ্র দেশগুলোতে বেশিরভাগ মানুষের আয় অনেক বাড়লেও বৈষম্য দূর হবে না। ২০২৫ সাল নাগাদ চীন এবং ভারতের সম্মিলিত জিডিপি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সম্মিলিত জিডিপিকে ছাড়িয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে এ ধরনের পরিবর্তনই পরিলক্ষিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অক্টোবরে চীনের অর্থনৈতিক উপাত্তে দেখা গেছে, দেশটিতে তিন বছরের ধীরোগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। অক্টোবরের তথ্যে দেখা গেছে এ উন্নয়নের ধারা। অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বেড়ে ৫ মাসে দ্রুত সচল হয়েছে চীনের অর্থনীতি। রয়টার্স।

এক ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

আসজাদুল কিবরিয়া: বিশ্ব আর্থিক উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ) বিশ্বের ৬২টি দেশকে নিয়ে এ বছর এই সূচক প্রণয়ন করেছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম। আর গত বছর ৬০টি দেশের মধ্যে অবস্থান ছিল ৫৬তম।
অবশ্য এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার আরও দুটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দেশ দুটি হলো ভারত ও পাকিস্তান। এই দুই দেশও এই সূচকে আগের বছরের চেয়ে পিছিয়ে গেছে।
ভারত গতবারের ৩৬তম অবস্থান থেকে এবার নেমে গেছে ৪০তম স্থানে। আর পাকিস্তান গতবারের ৫৫তম অবস্থান থেকে এবার নেমে এসেছে ৫৮তম স্থানে। সুতরাং, অবনমনের বিবেচনায় ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অবনমন কম হয়েছে।
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক খাতের বিভিন্ন দিকের ওপর পর্যালোচনা করে ডব্লিউইএফ এ সূচক প্রণয়ন করে থাকে। চলতি মাসে এই সূচকভিত্তিক পঞ্চম বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ১০০টির বেশি উপকরণকে মূল্যায়ন করে সাতটি স্তম্ভের ওপর সার্বিক সূচক নির্ণয় করা হয়েছে। ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা খাত, পুঁজিবাজার, ব্যবসার পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছে।
ডব্লিউইএফের এ সূচক থেকে দেখা যায়, সাতটি স্তম্ভের মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা স্তম্ভে বাংলাদেশ ৬২টি দেশের মধ্যে ৩৭তম অবস্থানে রয়েছে। মুদ্রা বিনিময়ের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে মূলত এ অগ্রগতি হয়েছে। এই উপসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। আবার যেসব উপকরণ দিয়ে এই উপসূচক গঠিত, তাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিপরীতে বৈদেশিক ঋণ উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
আবার আর্থিক স্থিতিশীলতা স্তম্ভের ব্যাংকব্যবস্থার স্থিতিশীলতা উপসূচকের পাঁচটি উপকরণের শেষটি হলো, ব্যাংকিং-সংকটে উৎপাদনের লোকসান। এই উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। এর মানে হলো, বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং-সংকটে বাংলাদেশের কোনো লোকসান হয়নি। অবশ্য আরও ২০টি দেশ একই রকম অবস্থানে আছে। কাজেই এককভাবে বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থান নেই।
এভাবে যেসব উপকরণের ওপর এই স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোর কোনো কোনোটিতে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো প্রতীয়মান হয়। যেমন: অব্যাংক আর্থিক সেবা স্তম্ভের বিমা উপসূচক গঠিত হয়েছে পাঁচটি উপকরণ নিয়ে। এর মধ্যে একটি হলো জীবন বিমায় ঘনত্ব। এ উপকরণে শীর্ষে আছে ভারত। আর সাধারণ বিমা ঘনত্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। ভারতের অবস্থান তৃতীয়। বিমার ঘনত্ব বলতে কোনো দেশে নির্দিষ্ট সময়ে জনসংখ্যার বিপরীতে বিমার প্রিমিয়ামের অনুপাতকে বোঝানো হয়।
ব্যবসার পরিবেশ শীর্ষক স্তম্ভে ব্যবসা করার ব্যয় উপসূচক গঠিত হয়েছে ছয়টি উপকরণ দিয়ে। এর অন্যতম হলো ব্যবসা বন্ধ করার ব্যয়। এতে বাংলাদেশ আছে ১৭তম স্থানে।
আর্থিক প্রবেশগম্যতা (অ্যাকসেস) স্তম্ভের খুচরা প্রবেশগম্যতা উপসূচকে ক্ষুদ্রঋণ হিসাব উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

ফোর্বসের শিক্ষায় শীর্ষ ১৫ উদ্ভাবকের তালিকায় সালমান খান
শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা বিশ্বের শীর্ষ ১৫ জন ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস সাময়িকী। এ তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সালমান খান।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই ১৫ জন বিশ্বব্যাপী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নবধারা প্রবর্তন করেছেন। ফোর্বস সাময়িকী এই ১৫ ব্যক্তিকে ‘শ্রেণীকক্ষের বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে তাঁরা কীভাবে বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন, তার বর্ণনা দিয়েছে।
ফোর্বস-এর তালিকায় স্থান পাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুজন মার্কিনও রয়েছেন। তাঁরা হলেন: ভারতে কম দামের ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডেটাউইন্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীত সিং ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক অনন্ত আগারওয়াল। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

লন্ডন অলিম্পিকের স্মারক মুদ্রা হবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছাত্র সায়মন মিয়ার নকশায়


বাঙালি ছাত্রের নকশায় অলিম্পিকের মুদ্রা

লন্ডন অলিম্পিকের স্মারক মুদ্রা হবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছাত্র সায়মন মিয়ার নকশায়।

২০১২ সালের এ অলিম্পিকের আসর বসার আগে স্মারক মুদ্রার নকশা ঠিক করতে একটি প্রতিযোগিতা হয়। আর তাতে নির্বাচিত হয়েছে বার্মিংহ্যাম স্কুল অব আর্কিটেকচারের ছাত্র সায়মনের (২৪) নকশা।
যুক্তরাজ্যের মুদ্রা অনুমোদনকারী সংস্থা ‘রয়েল মিন্ট’ নির্বাচিত নকশা প্রকাশ করেছে। তাদের ওয়েবসাইটে এজন্য সায়মনকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে।
মুদ্রার মাঝখানে লন্ডন নগরীর স্কাইলাইন ও বিভিন্ন ক্রীড়ার ছবি রেখে বিচারকদের নজর কাড়েন সায়মন। ৫ পাউন্ড মূল্যমানের এ মুদ্রার নকশার জন্য পাঁচ হাজার পাউন্ড পেয়েছেন তিনি।

মুদ্রার নকশার বিষয়ে সায়মান বিডিনিউজকে বলেন, “ব্রিটিশ ঐতিহ্য ধরে রেখে আমি একটি ক্লাসিক্যাল নকশা আঁকার চেষ্টা করেছি।”

“লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ডমার্ক সেন্ট পলস, বিগ বেন ঘড়ি ইত্যাদির সঙ্গে স্কাইলাইন এবং মুদ্রার পাশে অলিম্পিকের বিভিন্ন খেলার চিত্র এঁকে আমি নতুন ও পুরাতনের মিলন ঘটাতে চেয়েছি,” বলেন তিনি।

অলিম্পিকের সঙ্গে স?পৃক্ত হতে পেরে আনন্দিত বার্মিংহ্যামের মজলির বাসিন্দা সায়মন বলেন, “এ চিত্রকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের হাত স্পর্শ করবে। একজন ডিজাইনার হিসেবে এটা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।”

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিক এবার হচ্ছে লন্ডনে। আগামী বছরের ২৭ জুলাই শুরু হয়ে ১২ অগাস্ট পর্যন্ত তা চলবে।

সায়মনের পাশাপাশি প্যারা অলিম্পিকের জন্য ৫ পাউন্ড মূল্যমানের আরেকটি স্মারক মুদ্রা ছাড়া হচ্ছে। এতে নির্বাচিত হয়েছে ব্রিটিশ তরুণী পিপা স্যান্ডারসনের নকশা।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


The official Olympic coin of London 2012
The London 2012 Olympic £5 Silver Coin

The London 2012 Olympic Silver Proof £5 CoinBe part of the London 2012 Games with this Official Olympic sterling silver £5 coin – the perfect collectible memorabilia to pass on from one generation to the next.

To celebrate the London 2012 Olympic Games the official UK silver coin features the winning design by architecture student Saiman Miah from an open competition for all UK art and design students. These UK coins are sure to become the commemorative coins of London 2012, a leading example of London 2012 memorabilia.

Struck in sterling silver to the highest Proof standard and with a mintage of 100,000 Olympic coins this coin is sure to be one of the most popular and sought-after collectibles of London 2012. Each sparkling silver commemorative coin is handsomely presented in an attractive case specially designed with the London 2012 emblems and comes with a Certificate of Authenticity.

The Olympic coin design features the London skyline and the River Thames within a central circle. Iconic buildings depicted include Big Ben, Westminster Abbey, the Gherkin, St Paul’s Cathedral, the London Eye and the Tower of London, with London 2012 arching above. The outer ring of the design features pictograms representing various Olympic sports which are synonymous with the London 2012 Games.

‘As an architecture student I wanted to include a detailed impression of London’s iconic skyline on my design,’ says Saiman. ‘The pictograms of Olympic athletes placed around the edge is like a clock face,’ he explains, ‘and a reference to another London icon, Big Ben. Winning the Olympic Coin competition is a dream come true.’

আমি বরাবরই তরুণদের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী : রুশনারা আলী


সাক্ষাৎকার

আমি বরাবরই তরুণদের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী

রুশনারা আলী

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : একরামুল হক শামীম
ছবি :আরিফুর সানী

Rushanara Ali

Rushanara Ali

রুশনারা আলীর জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশের
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ভুরকি গ্রামে। সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যের মালবেরি স্কুলস অব গার্লস ও টাওয়ার হ্যামলেট কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জন্স কলেজে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীতি বিষয়ে আগ্রহ থেকেই রাজনীতির জগতে পদার্পণ। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই ২০১০ সালে হাউস অব কমন্সের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। হাউস অব কমন্সে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, রুশনারা আলী ব্রিটেনের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নারীদের একজন। রুশনারা আলী সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতীকী জলবায়ু আদালতের পর্যবেক্ষক হিসেবে। সমকালের সঙ্গে আলাপে তিনি কথা বলেছেন তারা বেড়ে ওঠা, ব্রিটেন ও বাংলাদেশ নিয়ে:

সমকাল : আপনার জন্ম সিলেটে। সাত বছর বয়সে আপনি যুক্তরাজ্যে গেছেন। সেখানে টাওয়ার হ্যামলেট এলাকায় বেড়ে উঠেছেন। এক পর্যায়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। রাজনীতিতে নিজেকে জড়ালেন। আপনার এই দীর্ঘ যাত্রা কি পরিকল্পিত ছিল?
রুশনারা আলী : আমার গল্প আর সব টিপিক্যাল পূর্বাঞ্চলবাসীর মতোই। আমি বেড়ে উঠেছি টাওয়ার হ্যামলেটে। আমার জন্ম বাংলাদেশে। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাই। আমার পরিবারের এই মাইগ্রেশন দীর্ঘ সংস্কৃতির অংশ, যেসব পরিবার অধিকতর ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ আমার ঘটে। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়। টাওয়ার হ্যামলেটস সামার ইউনিভার্সিটিতে একটি প্রকল্প করার সুযোগ আমার হয়েছিল, যা হাজার হাজার তরুণকে সহায়তা করে এবং যুব অপরাধ কমাতে সহযোগিতা করে। এক পর্যায়ে আগ্রহ থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়েছি। আমি মনে করি এগুলো আমি করতে পেরেছি আমার পরিবারের সহযোগিতায়, আমার মালবেরি স্কুল ও টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজের বন্ধুদের পাশে পেয়ে। আমার বর্তমান অর্জন আমার পরিবারের অর্জন, আমার অর্জন আমার শিক্ষক ও বন্ধুদের অর্জন। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, আমার সফলতার রহস্য কী? আমি তাদের বলি কোনো রহস্য নেই। আমি মনে করি আমার পরিবারের অবদান এখানে অনেক বেশি। মানুষের সাফল্যের ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয়ত, চেষ্টা করা জরুরি। পরিশ্রম করা জরুরি, ডিটারমিনেশন ঠিক করা জরুরি। সর্বোপরি মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি।

সমকাল : আপনার দল লেবার পার্টির পলিসিতে বাংলাদেশের নানা বিষয় অন্তর্ভুক্তিতে আপনার অবদান কী হবে? আপনি এখন লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এ অবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের গৃহীত পদক্ষেপে আপনার ভূমিকা কী হবে?
রুশনারা আলী : আমার পক্ষে যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব তার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই আমি করব। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও দারিদ্র্য নিরসনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। তাছাড়া দরিদ্রতার কবল থেকে নারী ও শিশুদের রক্ষায় কাজ করার ইচ্ছা আমার রয়েছে। ব্রিটেনে লেবার পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলে রয়েছে। সুতরাং সরকারি দলের মতো কাজ করার সুযোগ আমাদের নেই। তবে আমরা যা করতে পারি তা হলো, সরকারের জন্য দায়বদ্ধতার জায়গা তৈরি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার যাতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি কমিটমেন্ট বজায় রাখে তার জন্য চাপ প্রয়োগ বজায় রাখবে লেবার পার্টি। লেবার পার্টির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে আমি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

Rushanara Ali and Muhammad Yunus

Rushanara Ali and Muhammad Yunus

সমকাল : বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কী কী বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায়?
রুশনারা আলী : আমি মনে করি, দুটি দেশ নানা ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল এক্সপার্টিজ বিনিময় করতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উচিত যুক্তরাজ্যের সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সংলাপ পরিচালনা করা। কারণ এ সংলাপের মাধ্যমেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বেরিয়ে আসবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার যাতে পদক্ষেপ নেয় তা নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থা নিতে পারি।

সমকাল : লন্ডনে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা প্রায়ই খবরে আসে। এক্ষেত্রে কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন?
রুশনারা আলী : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের নানা বিষয়ে আমি অবহিত। সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠেছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে। আসলেই সময়টা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন সময়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। একটি সমস্যা হচ্ছে, অনেকেই যুক্তরাজ্যে পড়তে যায় এবং মনে করে খণ্ডকালীন চাকরি করে টিউশিন ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করবে। কিন্তু এটি করা খুবই কঠিন। আমি মনে করি, কনজারভেটিভ সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নীতি আরও কার্যকর করতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে এ ব্যাপারে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।

British Prime Minister Gordon Brown is greeted by Labour parliamentary candidate for Bethnal Green and Bow Rushanara Ali

British Prime Minister Gordon Brown is greeted by Labour parliamentary candidate for Bethnal Green and Bow Rushanara Ali

সমকাল : বাঙালি কমিউনিটির নানা সমস্যার খবরও প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি হিসেবে আপনি এসব সমস্যা সমাধানে কী ভূমিকা রাখতে চান?
রুশনারা আলী : আমরা এখন ক্ষমতায় নেই। বিরোধী দল হিসেবে আমরা যা করতে পারি তা হলো সরকারকে দায়িত্বশীল রাখতে চাপ বজায় রাখা। কনজারভেটিভ পার্টির কোয়ালিশন সরকারকে ইমিগ্রেশন পলিসির ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখব। ইমিগ্রেশন পলিসি ঠিকমতো কাজ করলে তা দেশের অর্থনীতির জন্যই সমস্যা তৈরি করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাঙালি কমিউনিটির সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবছি। এগুলোর সমাধানে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছি খুব বেশিদিন হয়নি। তবে আমার কমিটমেন্টের বিষয়ে আমি সচেতন। লেবার পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকলেও পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে যতটা সম্ভব তার সর্বোচ্চ চেষ্টাই আমি করব।

সমকাল : ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি কী অবস্থায় আছে বলে আপনি মনে করছেন? কমিউনিটির সম্ভাবনা কেমন?
রুশনারা আলী : আমি মনে করি, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি খুবই ভালো অবস্থায় আছে। এই কমিউনিটির সম্ভাবনাও অনেক। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম নিজেদের উজ্জ্বল অবস্থান প্রকাশ করতে পেরেছে। এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ হিসেবে ভালো করছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। কিছু কিছু এলাকায় বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মনে হয়, এ বিষয়টি সামনে আরও উজ্জ্বল হবে। তবে হ্যাঁ, প্রথম জেনারেশনের অনেকেই সমস্যায় ছিল। চাকরি খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন সে চ্যালেঞ্জ কিছুটা হলেও কমেছে। আমরা এখন অনেক কিছুই করছি। সামনে আরও অনেক কিছুই করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

Labour MP Rushanara Ali has added her support to a campaign to stop a right-wing march in East London.

Labour MP Rushanara Ali has added her support to a campaign to stop a right-wing march in East London.

সমকাল : ব্রিটিশ এমপি হওয়ার পর এটিই বাংলাদেশে আপনার প্রথম সফর। আপনি সিলেটের পৈতৃক বাড়িতে গেছেন। এবারের সফর কেমন হয়েছে?
রুশনারা আলী : খুবই ভালো সফর হয়েছে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকের সঙ্গেই আমার আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে কথা হয়েছে। এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আলাপ করেছি। আমি জানি বাংলাদেশের সবাই খুব আন্তরিক।
সিলেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। সিলেট আমার জন্মস্থান। আলাদা একটা টান স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে। সেখানে অনেকেই দূর থেকে আমাকে দেখতে এসেছে। সবার কাছ থেকে ইতিবাচক রেসপন্স পেয়েছি। আমার জন্য সবচেয়ে ভালো লাগার ব্যাপারটি হলো, বাংলাদেশের মানুষ আমার জন্য গর্ববোধ করে। এ বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের। এজন্যই আমার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আমি সচেতন। আমি মনে করি, আমার দায়বদ্ধতা সবার ওপরে। আমার দায়বদ্ধতা কেবল সিলেটের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য। আমার আজকের অবস্থানের জন্য বাংলাদেশের অবদান অনেক, বাংলাদেশের মানুষের অবদান অনেক।

সমকাল : বাংলাদেশ কেমন দেখছেন? সংকট বা সম্ভাবনাগুলো কী?
রুশনারা আলী : গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন অনেকের নজর কেড়েছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জন্য এমডিজি পুরস্কারও পেয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। যদিও বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারের আরও সচেতন হওয়া উচিত। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সমকাল : বাংলাদেশের তরুণরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। নতুন ধারার কিছু করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
রুশনারা আলী : এই তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশে এবারের ভ্রমণে অনেক তরুণের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে আমার খুবই নলেজেবল মনে হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। তাদের মধ্যে সক্রিয়তা রয়েছে, এক্সাইটমেন্ট রয়েছে। এছাড়া তারা সৃজনশীল। যদিও আমার এবারের বাংলাদেশের ভ্রমণ খুবই কম সময়ের। তবে বাংলাদেশের তরুণদের ইতিবাচক বিষয়গুলো বেশ দৃশ্যমান। আমি তা উপলব্ধি করেছি। আমি একটি ব্যাপারে খুবই আগ্রহী, তা হলো এই তরুণদের সঙ্গে কীভাবে থাকা যায়, কীভাবে সহযোগিতা করা যায়। আমি মনে করি, এই তরুণ প্রজন্ম সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অনেক কিছুই করতে পারবে।

Rushanara Ali, a Labour MP and junior shadow minister

Rushanara Ali, a Labour MP and junior shadow minister

সমকাল : আপনি তরুণদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এর কারণ কী হতে পারে?
রুশনারা আলী : তাই নাকি? আসলে তরুণদের মধ্যে আমি কতটা জনপ্রিয় বলতে পারব না। তবে চেষ্টা করি তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে, তাদের আগ্রহের বিষয়গুলো জানতে, পরস্পর মতামতগুলো শেয়ার করতে। এতে করে যদি তরুণদের মধ্যে আমার জনপ্রিয়তা থেকে থাকে তা আমার জন্য খুবই আনন্দের।

সমকাল : বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে আপনি বাংলাদেশের জন্য কাজ করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।
রুশনারা আলী : জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। সুতরাং এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে, কাজ করতে হবে। আশার কথা হলো, বাংলাদেশ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। নিজেদের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে আমি চেষ্টা করব বর্তমান সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে। যাতে করে জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে, সে চেষ্টাও আমরা বিরোধী দল হিসেবে করব।

সমকাল : আপনি একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতীকী জলবায়ু আদালতে অংশ নিয়েছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
রুশনারা আলী : বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরেছি আমি। পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রথম ভ্রমণেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সংযুক্ত থাকতে পারা আমার জন্য আনন্দের। প্রতীকী জলবায়ু আদালতে উপকূলবাসীর সংকটের কথা আমি শুনেছি, তাদের সব হারানোর কথা শুনেছি। আমি মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অবশ্যই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটিতে আমি কাজ করতে আগ্রহী।

সমকাল : আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রযুক্তির আধুনিক সুবিধাগুলো আপনি নিয়েছেন, যেমন আমরা দেখতে পেয়েছি ফেসবুকে আপনার প্রচারণা হয়েছে। আপনার ওয়েবসাইটে নিজের পলিসিগুলো আপনি তুলে ধরেছেন। এমনকি ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে মানুষজন যেন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে সে পথও খোলা রেখেছেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নির্বাচনের পর ওয়েবসাইটটিতে তেমন কোনো আপডেট নেই। এমনটি কেন?
রুশনারা আলী : নির্বাচনের সময় এ উদ্যোগ কাজে লেগেছিল বলে আমি মনে করি। তবে গত কয়েক মাস ব্যস্ত সময় যাওয়ায় আপডেট করার সময় পাচ্ছি না। তবে একটু ফ্রি হলেই আপডেট দেওয়ার ব্যবস্থা করব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য এটি খুবই ভালো উপায় বলে আমি মনে করি।
সমকাল : আপনাকে ধন্যবাদ।
রুশনারা আলী : সমকালের পাঠকদের শুভেচ্ছা।

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,