মারাত্মক শব্দদূষণ : জটিল মানসিক ও শারীরিক সমস্যা বাড়ছে ।। শব্দদূষণ প্রতিরোধ জরুরি


মারাত্মক শব্দদূষণ : জটিল মানসিক ও শারীরিক সমস্যা বাড়ছে ।।

শব্দদূষণ

শব্দদূষণ


নগরীর রাজপথ থেকে আবাসিক এলাকা-সর্বত্রই শব্দদূষণের ফলে জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিরোধ করতে হাইড্রোলিক হর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও যানবাহন মালিক, চালকরা এগুলো মানছেন না। স্কুল কিংবা হাসপাতালের সামনে হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ হলেও কে শোনে কার কথা। অব্যাহত যানজট শব্দ দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণ প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করছে, জরিমানা করছে, কিন্তু শব্দদূষণ বন্ধ করতে পারছে না। যানবাহনের দুর্ভোগ তো আছেন, তার সাথে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের প্রকোপে জেনারেটরের বিকট শব্দ, যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যানবাহন, যানবাহনের হর্ন, মাইক, লাউড-স্পিকার, ইট ও পাথর ভাঙার মেশিন, জেনারেটর ইত্যাদি থেকে নির্গত শব্দ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই সময় এসেছে শব্দদূষণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার। বিষয়টি মোটেও সহজসাধ্য নয়। তাই দেরি না করে জনসচেতনতার মাধ্যমে এবং আইন প্রয়োগ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

ঢাকা হচ্ছে বিশ্বের একটি অন্যতম জনবহুল ও অপরিকল্পিত মহানগর। এখানে এভাবে অযথা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে, মাইক ও লাউড-স্পিকার দিয়ে শব্দদূষণ করা হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত খুব ক্ষতিকারক। উন্নত দেশগুলোতে হাজার লোকের সমাবেশে উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার না করে মাউথ-স্পিকারের মাধ্যমে বক্তৃতা দেওয়া হয়। মিছিলে উচ্চ কণ্ঠে শ্লোগান দিয়ে শব্দদূষণ না করে প্লাকার্ড বহন করা হয়। রেলস্টেশনগুলো এমনভাবে তৈরি, ইঞ্জিনের হর্ন ও শব্দ আবসিক এলাকায় কোনো প্রভাব ফেলে না। আর আমাদের দেশে হাসপাতালে যখন চিকিৎসা চলে, তখন দেখা যায়, রাস্তায় মাইক দিয়ে কেউ বক্তৃতা দিচ্ছে, মাইক দিয়ে গান বাজিয়ে লটারির টিকিট বিক্রি করছে, কারণে-অকারণে বাস ও ট্রাকচালকেরা হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে বাইরে থেকে হাসপাতালের ভেতর শব্দদূষণ করছে। শাহবাগের পিজি হাসপাতালের লাইব্রেরিতে পড়তে গেলে বোঝা যায়, শব্দদূষণ কী মারাত্মক!

শব্দদূষণ ঢাকা শহরের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা

শব্দদূষণ ঢাকা শহরের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা


শব্দদূষণে রাজধানীর শতভাগ মানুষ রোগাক্রান্ত। গাড়ি ও কল-কারখানার অনিয়ন্ত্রিত উচ্চশব্দের প্রভাবে সবাই ছোট-বড় বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের রোগীরা শব্দদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঢাকার ৪৫টি পয়েন্টে গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত শব্দমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। যানজট বাড়ার সঙ্গে শব্দমাত্রাও বেড়ে চলছে।

জানা গেছে, শ্রবণের জন্য শব্দের কম্পাঙ্ক ৪৫ ডেসিবল সহনীয় মাত্রা। ১০৬ ডেসিবলের শব্দ অতিমাত্রায় দূষণ ঘটায়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সূত্রে জানা যায়, ৩০টি কঠিন রোগের কারণ ১২ রকমের পরিবেশ দূষণ। শব্দদূষণ তার মধ্যে অন্যতম। শব্দদূষণের প্রধান উৎস গাড়ির হর্ণ। এ ছাড়া ইট ভাঙার মেশিন, জেনারেটর, মাইকের শব্দ, কারখানার শব্দ, উচ্চ শব্দে গান শোনা ইত্যাদি নানাভাবে শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিছুদিন ধরে বিকট শব্দে হর্ণ বাজানো যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। মোটর সাইকেলে শোনা যায় কুকুর বা গাধার ডাক, প্রাইভেট কারে গাড়ি ব্রেকের শব্দ। পেছন থেকে হঠাৎ এমন শব্দ শুনলে সামনের পথচারীর শোচনীয় অবস্থা। চিন্তার ফুরসতও পায় না তারা।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়ায ঢাকা শহরে গাড়ির উচ্চশব্দে শব্দদূষণশীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধে শব্দদূষণকে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম বড় কারণ বলে চিহ্নিত করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরাও গাড়ির উচ্চশব্দকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন।

Sound pollution -- a severe health hazard

Sound pollution -- a severe health hazard

ডুয়েটের শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়াযের গবেষণা প্রবন্ধটি মিলিটারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের জার্নালের চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসরত শিক্ষক, ছাত্র, ডাক্তার, ট্রাফিক পুলিশ, চালক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন চাকরিজীবীর সাক্ষাত্কার নিয়ে দেখা গেছে শতভাগ মানুষই শব্দদূষণের কারণে নানা রোগে ভুগছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১২ ভাগ মাথাব্যথা ও চোখের পানিপড়া, ১৮ ভাগ অবসাদ, ১৫ ভাগ অনিদ্রা, ২৮ ভাগ বদমেজাজী, ২৬ ভাগ কানে কম শোনা এবং ৩ ভাগ লোক অন্যান্য রোগে ভুগছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিল্প এলাকায় শব্দের সহনীয় মাত্রা দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবল ও ৬০ ডেসিবল মিশ্র এলাকায় ৬০ ডেসিবল ও ৫০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবল ও ৪০ ডেবিল এবং নিরব এলাকায় (হাসপাতাল ও স্কুল আছে এমন এলাকা) ৪৫ ডেসিবল ও ৩৫ ডেসিবল।

কিন্তু ঢাকা শহরের ৪৮টি পয়েন্টে সরেজমিন জরিপে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৫টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা থাকে ৮০ ডেসিবলের ওপরে। ১০টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা থাকে ৭১ থেকে ৮০ ডেসিবল, ১৩টি স্পটে ৬১ থেকে ৭০ ডেসিবল, ৯টি পয়েন্টে ৫১ থেকে ৬০ ডিসেবল এবং ১টি পয়েন্টে ৪৫ থেকে ৫০ ডেসিবল শব্দমাত্রা থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল ১০টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

এমনকি সাইলেন্ট জোন হিসেবে পরিচিত হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এলাকায় যানজটের কারণে শব্দমাত্রা থাকে ৮০ ডেসিবলের কাছাকছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। তিন দিক থেকে উচ্চশব্দ আসে এ হাসপাতালটিতে। শাহবাগ মোড়, শাহবাগ হয়ে শেরাটন হোটেল এবং শাহবাগ হয়ে কাঁটাবন পয়েন্টে প্রচণ্ড যানজটে অতিউচ্চমাত্রার গাড়ির শব্দ এ হাসপাতালের রোগীদের সাধারণ রোগের পাশাপাশি শব্দদূষণ রোগে আক্রান্ত করে। এ দুটো হাসপাতালে শব্দপ্রতিরোধক দেয়াল তৈরি করা যেতে পারে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট এলাকা সাইলেন্ট জোন হলেও এই পয়েন্টে উচ্চমাত্রার শব্দদূষণ চলে দিনভর।

শব্দদূষণ

শব্দদূষণ


গবেষণাপত্রে বলা হয়, উচ্চশব্দে হর্ন বাজানোকে বেশিরভাগ চালক নিজেদের শক্তির পরিচয় হিসেবে মনে করেন। অপেক্ষাকৃত আগে যেতে অন্য গাড়ি থেকে সাইড নেয়ার জন্য তারা উচ্চশব্দে হর্ন দেন। আবার লেন পরিবর্তন করার জন্য লাইট ইনডিকেটর সিগন্যাল ব্যবহার না করে বেশিরভাগ চালক হর্ন ব্যবহার করে থাকেন।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে উচ্চ শব্দমাত্রা হয় রমনা পার্কের অরুণোদয় গেটের সামনের সড়কে বিকাল ৫টার দিকে এবং এ মাত্রা ৯৯ দশমিক ৮ ডেসিবল। মগবাজার মোড় সংলগ্ন এলাকায়ও শব্দমাত্রা বেশিরভাগ সময়ই ৯১ ডেসিবল ছাড়িয়ে যায়। গুলিস্তান ও মতিঝিল থেকে প্রেসক্লাব এবং হাইকোর্ট হয়ে রমনা পার্কের সামনে দিয়ে শাহবাগ ও ফার্মগেট হয়ে বিজয়নগর সড়কে যানজটের কারণেই বেশি উচ্চমাত্রার শব্দ হয়ে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আবাসিক বাড়িতে ও শোবার ঘরে শব্দের মাত্রা ২৫ ডেসিবল, অন্যান্য রুমে ৪০ ডেসিবল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩০ ডেসিবল, রেস্টুরেন্টে ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবল, অফিস কক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ ডেসিবল এবং শ্রেণীকক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবল থাকা স্বাস্থ্যসম্মত। এর চেয়ে বেশি হলে সেটা শব্দ দূষণের পর্যায়ে পড়ে।

মারাত্মক শব্দদূষণ প্রতিরোধ জরুরি

Noise-pollution

Noise-pollution

শব্দদূষণ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আপনি জানেন কি, তিন বছর বয়সের নিচে কোনো শিশুর কানে যদি খুব কাছ থেকে ১০০ ডেসিবেল শব্দ আসে, তাহলে তার শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে? শব্দদূষণের কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বুক ধড়ফড়, খিটখিটে মেজাজ, মাথাব্যথা, পেপটিক আলসার, অস্থিরতা, অমনোযোগী ভাব, ঘুমে ব্যাঘাত, শ্রবণশক্তি ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ মানুষের লিভার সিরোসিস, গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তচাপজনিত রোগ, মাথা ধরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগ নষ্টসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে। অপরদিকে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বড় বড় শহরে পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে শব্দদূষণ। উচ্চ শব্দদূষণের কারণে প্রাণিকুল আজ বিলুপ্তির পথে, শহর আজ পাখিশূন্য। ঢাকায় সৃষ্ট শব্দদূষণে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে হাজার হাজার শিশুর শ্রবণক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে বা কমছে।

বাড়িতে, অফিসে, রাস্তাঘাটে, বিপণিকেন্দ্রে, বাস ও রেলস্টেশনের মাধ্যমে শব্দদূষণ করা হচ্ছে। শব্দদূষণ সম্পর্কে এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিএএফ শাহীন কলেজের কাছে শব্দদূষণ দিনের বেলায় ৭৪ ডেসিবেল এবং রাতে ৮৩ ডেসিবেল। মতিঝিল সরকারি হাইস্কুলের কাছে দিনে ৭৯ ডেসিবেল এবং রাতে ৮৫ ডেসিবেল; ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দিনে ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৮০ ডেসিবেল; পিজি হাসপাতালের কাছে দিনে ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৮৩ ডেসিবেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নগর-পরিবেশের জন্য নিরাপদ শব্দমাত্রা হচ্ছে সর্বোচ্চ ডেসিবেল। বিভিন্ন মাত্রার শব্দ ভিন্ন ভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে, যেমন-

৩০-৩৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রায় নার্ভাসনেস ও ঘুমের ব্যাঘাত।

৬৫ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় হৃদরোগ।

৯০ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় আলসার, শ্রবণে ব্যাঘাত ও স্মায়ুতন্ত্রের পরিবর্তন।

১২০ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় শ্রবণযন্ত্রে ব্যথা এবং স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি লোপ পেতে পারে। এ ছাড়া শব্দদূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের সমস্যাই দেখা দেয় এবং এটা হতে পারে স্থায়ী বা অস্থায়ী। হঠাৎ কোনো উচ্চ শব্দে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে এবং সঙ্গে রক্তক্ষরণও হতে পারে। উচ্চ শব্দে কানের মধ্যে ইনফ্লামেশন হয়ে ইফিওশন হতে পারে।

উচ্চ শব্দের উৎসের কাছে দীর্ঘদিন কাজ করলে একজন মানুষের শ্রবণক্ষমতা স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। রোগী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য শব্দদূষণ মারাত্মক ক্ষতির কারণ। শব্দদূষণের কারণে বিকলাঙ্গ শিশুও জ্নগ্রহণ করতে পারে।

প্রচণ্ড শব্দ শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। কোনো শিশুর কানে যদি খুব কাছ থেকে উচ্চ শব্দ আসে, তাহলে তার শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শব্দদূষণের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর শ্রবণক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে। এর প্রতিকার জরুরি।

এভাবে শব্দদূষণ চলতে থাকলে রাজধানীবাসীর শ্রবণশক্তি দিন দিন হ্রাস পাবে বলে গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করেন ডুয়েটের শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়ায। অন্য রোগগুলো আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ অস্বাস্থ্যকর এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকার যানজট নিরসন ও চালকদের অধিকতর প্রশিক্ষণ জরুরি। এছাড়া রোড ডিভাইডারে পরিকল্পিত বনায়ন, শব্দদূষণ রোধে বিশেষ আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন এবং কম মাত্রার শব্দ করেএমন গাড়ি তৈরি ও আমদানি করার সুপারিশ করেন এই গবেষক। গবেষণা সুপারিশে একইসঙ্গে ব্যস্ততম সড়কের পাশে হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজ নির্মাণ না করা, প্রতিষ্ঠানে শব্দপ্রতিরোধক আসবাবপত্র ব্যবহারেরও পরামর্শ দেয়া হয়। এজন্য ঢাকা শহরকে যতটুকু সম্ভব পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এসব থেকে নিস্তার চাই মানুষ। ভিন্ন একটি সূত্র জানিয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত হর্ণের শব্দ, কালো ধোঁয়া, এলাকাভেদে অনুমোদিত শব্দ মাত্রার হর্ণ ব্যবহারের ব্যাপারে নগর ট্রাফিক বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্কাউট, গার্লস গাইড, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা ভাল অবদান রাখতে পারে। পরিবেশ রক্ষা ও শব্দদূষণ রোধে ব্যাপক গণ সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও কঠোরভাবে তা প্রয়োগও জনস্বার্থে জরুরি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শব্দদূষণ সংক্রান্ত আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। ১৯৭৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্ধারিত স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নিরব এলাকা হিসেবে নির্দিষ্ট রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, এ ধরনের স্থানেও অবাধেই গাড়ির হর্ণ বাজানোসহ লাউড স্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিকট ও কর্কশ শব্দ নিয়ন্ত্রণে শব্দ অপরিবাহী আবরণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে, কিন্তু করা হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে শব্দদূষণ কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে ড্রাইভারদের অধিকতর প্রশিক্ষণ, যানজট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিম মাঠে নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে হাসপাতালে শব্দপ্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ এবং মূল সড়কের পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে শব্দপ্রতিরোধক আসবাবপত্র ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তারা। এর শিকার নগরবাসীর প্রশ্ন আর কতদিন সইতে হবে এমন যন্ত্রণা?

সূত্রঃ মাহাবুবুর রহমান, ঋত্বিক নয়ন, ডা: মুহম্মদ শফিকুল হক

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

বাপা-বেন সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার


নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার
পড়শী প্রতিনিধি

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

গত ১০ই অক্টোবর, ২০১০ বেন (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটয়ার্ক) নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ও কানেকটিকাট শাখার উদ্যোগে “নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বেনের এই তিন-রাজ্য শাখার সমন্বয়কারী তওফিক চৌধুরী সভাটি শুরু করেন ও বেনের বিশ্ব সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামকে সভাপতিত্ব করতে আহ্ববান জানান। ড. ইসলাম বলেন যে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি বেন ও বাপা কর্তৃক আয়োজিত আগামী ৮-ই জানুয়ারী , ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য “নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশ” শীর্ষক সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমটি হচ্ছে যানজট ও নগরায়নের অন্যান্য সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিভিন্ন অনভিপ্রেত বৈশিষ্টের প্রেক্ষাপটে বিচার করে একটি সামগ্রিক ও সুষম নগরায়ন নীতি প্রণয়ন করা। এ প্রসংগে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গ্রহণের চিন্তা করা হয়েছে, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে “সাময়িক উপশম” মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা,যেমন ট্র্যাফিক নীতির পরিবর্তন, ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে উড়াল-সড়ক বা পাতাল রেল, ইত্যাদি বিভিন্ন নতুন অবকাঠামোর নির্মাণ। এই উভয়বিধ পদক্ষেপই হয়তো প্রয়োজন, যদিও অবকাঠামো নির্মাণমূলক প্রকল্পগুলির যথাযথ নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের পরিবর্তন না হলে শুধু এই দুই ধরণের পদক্ষেপ দ্বারা যানজট সমস্যার স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান অর্জিত হবে না।

ড. ইসলাম জানা যে, জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য বাপা-বেন সম্মেলনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। ড. ইসলাম প্রবাসীদেরকে এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন কৌশল নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্ববান জানান।

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে অতিথিবৃন্দ

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সাও পাওলো শহর মেক্সিকো সিটির উদাহরণ অনুযায়ী একটা চক্রাকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে যার অধীনে “রাশ আওয়ারের” সময় গাড়ির লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী শহরের কিছু অংশে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতি শুরুতে শহরের যানজট ১৮% কমিয়ে দেয়। সাথে সাথে সাও পাওলো সাইকেল ট্রাফিকের জন্য অবকাঠামো নির্মান শুরু করে। রাজিয়া নাজমি বলেন, গণ-পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকায় হাঁটার জন্য ভাল ফুটপাথ, সাইকেলের জন্য পথ ও বিশেষ রিক্সা এলাকা সৃষ্টির প্রয়োজন, এবং এই কাজটা সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতায় সরকার করতে পারে।

পরবর্তী আলোচক ছিলেন ড. আদনান মোর্শেদ যিনি আন্তর্জাতিক নগরায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন সফল নগরায়ন তখনই সম্ভব যখন বিভিন্ন ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ নগরায়ন সমস্যার এই সন্ধিক্ষণকে ব্যবহার করে একটা দক্ষ, সুষম ও উপযুক্ত গণ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে। ফুটপাথ, সাইকেল পথ ও পানি পথকে সর্বোচ্চ ও উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে নগরায়নের সুন্দর অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান যে, সফল নগরায়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের সম্মিলন প্রয়োজন। ড. মোর্শেদ তাঁর যুক্তি শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপিত করেন।

প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, উন্নত নগরায়নের প্রকল্পগুলিকে স্বার্থান্বেষী মহলের মোকাবেলা করতে হবে, সেইজন্য এই সব প্রকল্পের গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

প্রফেসর রেহমান সোবহানও সঠিক নগরায়ন পদ্ধতির একটা মূল সমস্যা হিসেবে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের নিরসন না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারে যেখানে দশ থেকে বারো বছরের প্রয়োজন, সেখানে সরকারের আয়ু পাঁচ বছর। সময়ের এই অমিল সরকারকে নতুন কাজে হাত দিতে উৎসাহিত করে না। জমির উচ্চ মূল্যও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পথে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন যে সমস্ত অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে এখান ভাবা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিশ/পঁচিশ বছর আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্পের বাস্তবায়নের সাথে সাথে দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় সেরকম কাজগুলোও চলতে পারে। বাপা-বেন নগরায়ন নিয়ে যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ঢাকা শহরের যানজট

ঢাকা শহরের যানজট

অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই উৎসাহের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রের জন্য নীচের You-Tube ক্লিপটি দেখুনঃআমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের
কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,