বাংলা ভাষায় প্রতিনিয়ত ঢুকছে বিদেশি শব্দ


বাংলা ভাষায় নতুন আড়াই হাজার বিদেশি শব্দ

রফিকুল বাসার
#
  প্রয়োজন ছাড়াই ঢোকানো হয়েছে অনেক বিদেশি শব্দ
#
  বাদ পড়ছে প্রচলিত অনেক যুত্সই বাংলা শব্দ
#
  পরিভাষা যথার্থভাবে প্রণয়নের পক্ষে বিশেষজ্ঞরা

বাংলা ভাষায় প্রতিনিয়ত ঢুকছে বিদেশি শব্দ। এর ফলে অনেক প্রচলিত শব্দ বাদ যাচ্ছে দৈনন্দিন ব্যবহারের তালিকা থেকে। মানুষের মুখে মুখে যেমন উচ্চারিত হচ্ছে বিদেশি শব্দ, তেমনি সরকারিভাবেও প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অনেক বিদেশি শব্দ আত্তীকরণ করা হয়েছে। গত ১৮ বছরে বাংলায় সরকারিভাবে দুই হাজার ৫০০ নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সবকটিই বিদেশি। মান বা প্রমিত বাংলার বাইরে অঞ্চলভেদে বৃহত্ জনগোষ্ঠীর নিত্যব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা থেকে একটি শব্দও নতুন সেই তালিকায় স্থান পায়নি।

ভাষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় শব্দ আত্তীকরণ না করা ভালো। বিদেশি শব্দকে গ্রহণ করতে হবে; কিন্তু দেখতে হবে সেই শব্দটি আমাদের জন্য কতটা জরুরি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ (বাবাকো) প্রশাসনিক পরিভাষা তৈরি করে। ১৮ বছর পর বাবাকো নতুন করে প্রশাসনিক পরিভাষা প্রকাশ করেছে গত বছরের অক্টোবরে। এর আগে ১৯৯৪ সালে প্রশাসনিক পরিভাষা প্রকাশ করেছিল তারা। নতুন পরিভাষা কোষটির প্রকাশনা বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অনেক নতুন শব্দ নতুন কলেবরে প্রশাসনিক পরিভাষায় অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় প্রায় ২৫০০ নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত করে বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ প্রশাসনিক পরিভাষা পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে।’

পরিভাষা কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে পরিভাষা প্রয়োজন আছে। তবে তা করতে হবে যথেষ্ট বিচার- বিবেচনা করে। যত্নের সাথে এটা করা উচিত। ভাষাকে চলমান করতে, ভাষার গতি ঠিক রাখতে পরিভাষা যথার্থভাবে প্রণয়ন করতে হবে। যেনতেন করে পরিভাষা করলে ভাষায় তার খারাপ প্রভাব পড়বে।

বাবাকো’র নতুন প্রশাসনিক পরিভাষা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যেসব বিদেশি শব্দ পরিভাষায় আনা হয়েছে, সেসবের অনেকগুলোরই বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট যুত্সই বাংলা শব্দ রয়েছে। সেগুলো বহুল প্রচলিতও বটে। শুধু অভিধানে নয়, মানুষের মুখে মুখেও সেসব শব্দ চালু আছে। তবু সেসব শব্দ বাদ দিয়ে সরাসরি ইংরেজি শব্দটিকে বাংলায় স্থান দেয়া হয়েছে। যেমন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জ’ শব্দটিকে বাংলায় আনা হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে ‘শেয়ার বাজার’ শব্দটি। বাংলা আর ইংরেজি মিশিয়ে এটি করা হয়েছে। কিন্তু বহুল প্রচলিত ‘পুঁজি বাজার’ শব্দটিকে রাখা হয়নি পরিভাষায়। এমন আরো অনেক ইংরেজি শব্দ হুবহু বাংলা হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। যেমন—মেডিকেল অফিসার, পাসওয়ার্ড, সিকিউরিটি, সিভিল সার্ভিস ইত্যাদি। কিন্তু এসবের প্রত্যেকটির প্রচলিত বাংলা শব্দ রয়েছে। যেমন—মেডিকেল অফিসার> চিকিত্সা কর্মকর্তা, পাসওয়ার্ড>গোপন নম্বর, সিকিউরিটি>নিরাপত্তা, সিভিল সার্ভিস>জনপ্রশাসন ইত্যাদি।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী পরিভাষা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করা উচিত পরিভাষা তৈরি করা। বিজ্ঞান বিষয়ক যদি কিছু হয়, তবে তা আলাদা কথা। বিজ্ঞানের অনেক শব্দ আছে যার হয়তো প্রায়োগিক ও যুত্সই বাংলা করা সম্ভব নয়। সেটা আমরা সরাসরি নিতে পারি। কিন্তু যে শব্দগুলো তৈরি করা সম্ভব তা সরাসরি না নিয়ে তৈরি করা উচিত। আর এটিই ঠিক পথ। আঞ্চলিক শব্দ থেকেও মূল ধারায় শব্দ আনা যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শব্দ থাকলে সেটিই প্রথম নেয়া উচিত। প্রচলিত শব্দ কোনভাবেই বাদ দেয়া ঠিক নয়। আর প্রশাসনিক পরিভাষা অবশ্যই ভালোভাবে করা উচিত। কারণ এখান থেকেই মানুষ প্রথম এবং বেশি শেখে।’

নতুন কলেবরে বের করা পরিভাষায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজি ও বাংলা দুইটি শব্দই পাশাপশি রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারী তার ইচ্ছেমতো যেকোনটিই ব্যবহার করতে পারবে। যেমন ‘একটিং প্রেসিডেন্ট’-এর দুইটি বাংলা করা হয়েছে। ‘অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট’ ও ‘অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি’। এ ধরনের আরো শব্দ রাখা হয়েছে। যেমন—মর্গ/শবাগার, বাসা/কোয়ার্টার, প্রতিবেদক/রিপোর্টার, সিদ্ধান্ত/রুলিং, সাইরেন/সংকেত বাঁশি, স্টক/মজুদ, এক্স-রে রিপোর্ট/রঞ্জন রশ্মি প্রতিবেদন, উড়োজাহাজ/বিমান, ব্যাংক জামানত/ ব্যাংক গ্যারান্টি, অঙ্গন/ ক্যাম্পাস, ক্যাপশন/ পরিচয়জ্ঞাপক বিবরণ, সার্টিফিকেট/ সনদ, ডেসপাচ/প্রেরণ করা, ডাউনপেমেন্ট/ক্রয়মূল্যের প্রাথমিক পরিশোধযোগ্য অংশ, এন্ট্রি ফি/প্রবেশ মূল্য, ইরেজার/মুছিয়া ফেলা, নিশ্চিহ্ন করা, দ্রুত টেলিগ্রাম/তারবার্তা, প্রধান কার্যালয়/প্রধান অফিস, হাইজ্যাক/ছিনতাই, হট লাইন/সরাসরি লাইন, হাইব্রিড/সংকর, জেলখানা/কারাগার, এজমালি/যৌথ ভূসম্পত্তি/জয়েন্ট ইস্টেট, জার্নাল/পত্রিকা ইত্যাদি। কিছু ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে শব্দ করা হয়েছে। যেমন—ব্যাংকের পাসবই, বাণিজ্যিক এজেন্ট, কাউন্টার বিলি, তলবী ড্রাফট, জরুরী ওয়ার্ড ইত্যাদি।

যেসব বিদেশি শব্দ প্রশাসনিক পরিভাষায় সরাসরি ঢুকিয়ে বাংলায় আত্তীকরণ করা হয়েছে সেগুলো হলো এডহক, অ্যাডমিরাল এজেন্সি, ব্যাংক ড্রাফট, ব্যাংক নোট ব্যানার, বার কাউন্সিল, ব্যারিস্টার, ব্যাটেলিয়ান, ব্যাটারি, ব্যাটারি চার্জ, বিল, ব্রীফকেস, ব্রডব্যান্ড, বাজেট, ক্যাডেট, ক্যাডার, ক্যাডার সার্ভিস, ক্যাম্প, ক্যাপ্টেন, কপি, ক্যাশবই, সিনিয়র ক্যাম্প রেজিষ্টার, ক্যাসেট, চার্টার অ্যাকাউন্টান্ট, চেক/ব্যাংক চেক, সিভিল, সিভিল সার্ভিস, সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, কমিশন এজেন্ট, কমনওয়েল্থ, কম্পাউন্ডার, কম্পিউটার, কনফারেন্স, কনস্টেবল, কনসাল, কনসাল অফিস, কন্টেইনার সার্ভিস, কর্পোরেশন, কালভার্ট, ডিজিটাল, ডিপ্লোমা, ডিভিশন বেঞ্চ, ই-মেইল, এস্টাব্লিসমেন্ট, ম্যানুয়াল, ইস্টেট, এক্সচেঞ্জ ফি, ফেলোসিপ ফাউন্ডেশন, গ্যালারি, গ্যারেজ, ব্রড গেজ, মিটার গেজ, গেজেট, গেজেটেড অফিসার, গার্ল গাইড, গ্রেড, গার্ড ফাইল, হার্ডডিস্ক ইনবক্স, ইনস্টিটিউট, ইন্টারনেট, কিটবক্স, লেবেল, ল্যাপটপ লে-অফ, লে-আউট, লেভেল ক্রসিং, লাইসেন্স, লাইফ ভেস্টা, লাইন, লক আউট, মেসার্স, মেইলবক্স, মেইন ট্রেন, ম্যানহোল, মাস্টার রোল, মিটার, মিল, মিস্ড কল, মিশন, মিকচার, মোবাইল ফোন, মডেম, মানিঅর্ডার, মনিটর, মনোগ্রাম, মাদারবোর্ড, মাউস, নোটারী পাবলিক, নোট শীট, নোটিশ, অফিসিয়েলিং আউটবক্স, ওভারড্রাফট, প্যাকেট, প্যানেল, পার্শেল, পাসওয়ার্ড, পে-অর্ডার, পে-রোল, পে-স্লিপ, পারমিট, পেট্রোল, ফোন, ফটো, ফটোপ্রিন্ট, ফটোকপি, পিকেটিং প্লাকার্ড, প্লাস্ট, প্লাটফর্ম, প্লাটুন, পোর্টফোলিও, পোস্টাল অর্ডার পাওয়ার অব এটর্নি, প্রেসক্লিপিং, প্রেসকাটিং, প্রাইজবন্ড, প্রমিসরি নোট, প্রটোকল, রাডার, লটারী, রেস পুলিশ, র্যালি, রেকর্ড, রেফারী, রিমান্ড, রোটারী ক্লাব, রয়্যালটি, রবার স্ট্যাম্প, রানওয়ে, সেলুন, স্কেল, স্কল, সার্চ লাইট, সীট-বেল্ট, সেক্টর, সিনেট, সেপটিক ট্যাংক সার্ভিস, সার্ভিস চার্জ, সেটেলমেন্ট, শেয়ার সার্টিফিকেট, শেয়ার হোল্ডার, শুটিং, শর্ট সার্কিট, শো-রুম সাটস ট্রেন, স্লিপ প্যাড, স্লোগান, স্লুইস গেইট, সলিসিটর, স্পীড বোট, স্পাইরাল বাইন্ডিং, স্পন্সর, স্টেডিয়াম, স্ট্যাম্প, স্টেশন, স্ট্রং-রুম, সাব-পোস্ট অফিস, সাব-এজেন্সি, সিম্পোজিয়াম, সিন্ডিকেট, সিনথেটিক, ট্যাগ, ট্যানারি, টেলিগ্রাম মনিঅর্ডার, টেলিফোন, টেলিপ্রিন্টার, টেলেক্স, টেরেস্ট্রিয়াল, টেস্ট, টেস্ট রিলিফ, টাইমস্কেল, টিস্যু পেপার, টয়েলেট, ট্রেড-ইউনিয়ন. ট্রফি ট্রান্সফর্মার, ট্রলার, ট্রেজারি বিল, ট্রাইব্যুনাল, ট্রাংক কল, ট্রাস্ট, টাইফয়েড, ইউনিয়ন, ইউনিট, ভল্ট, ভাইস চেয়ারম্যান, ভিটামিন, ভোল্ট, ভাউচার, ওয়েবসাইট ইত্যাদি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইকবাল মাহমুদ বইটির ভূমিকায় বলেছেন, ‘পরিভাষা কমিটি প্রতিটি শব্দের বুত্পত্তি, মূল অর্থ, ব্যবহূত অর্থ ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিচারপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

মানুষের মুখে মুখে নতুন শব্দ
গত দুই বা তিন দশকে অনেক ইংরেজি শব্দ বাংলাভাষী মানুষের মুখে মুখে মিশেছে, যার প্রতিটির প্রচলিত বাংলা রয়েছে। যেমন—প্রফেসর (অধ্যাপক), হাই (সালাম/আদাব/নমস্কার), সরি (দুঃখিত), মর্নিং ওয়াক (সকালের ব্যায়াম বা হাঁটা), দাঁত ব্রাশ (দাঁত মাজা), বাথরুম (গোসলখানা), টয়লেট (পায়খানা), লাঞ্চ (দুপুরের খাবার), ডিনার (রাতের খাবার), কিচেন (রান্নাঘর), ড্রইং রুম (বৈঠক ঘর), বেডরুম (শোবার ঘর), ডাইনিং রুম (খাবার ঘর), টিচার (শিক্ষক), ক্লাস লেকচার (শ্রেণী বক্তৃতা), হোম ওয়ার্ক (বাড়ির কাজ), ক্লাশ ওয়ার্ক (শ্রেণীর কাজ), ক্লাশ রুম (শ্রেণী কক্ষ), ড্যাডি (বাবা), মাম (মা), আঙ্কেল (চাচা, মামা, খালু, ফুফু), আন্টি (চাচি, খালা, মামি, ফুফু), ফ্রেন্ড (বন্ধু), গেস্ট (অতিথি, মেহমান), ওকে (ঠিক আছে), থ্যাঙ্কস (ধন্যবাদ), প্লিজ (দয়া করে), ওয়েলকাম (স্বাগতম), প্রিন্ট মিডিয়া (সংবাদপত্র) ইত্যাদি।

কিছু বিকৃত শব্দ

হালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মৌখিকভাবে যে ভাষা ব্যবহার করছে তা না আঞ্চলিক, না প্রমিত। শুদ্ধ-অশুদ্ধের মিশেলে সে এক অন্য ভাষা। যেমন—প্রমিত বাংলায় ‘এসেছ’, শিক্ষার্থীরা বলছে ‘আসছ’। এভাবে ‘করেছিস’-কে ‘করছিস’, ‘তাহলে’-কে ‘তাইলে’, ‘পাঁচটা’-কে ‘পাসটা’, ‘খরচ’-কে ‘খরছ’, ‘ধরে’-কে ‘ধইরা’, ‘কেন’-কে ‘ক্যা/ক্যান/কিয়াল্লাই’, ‘কাকে’-কে ‘কারে’, ‘কোথায়’-কে ‘কই’, ‘ওটা’-কে ‘ওইটা’, ‘ওগুলো’-কে ‘ওইগুলা’ বলছে শিক্ষার্থীরা।

তরুণ প্রজন্ম বিকৃত করে শব্দ উচ্চারণ করছে বেশি। শুধু আধুনিকতার দোহাই দিয়ে তারা এটা করছে। এতে গণমাধ্যমের প্রভাব বেশি। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্রে বিশেষ করে বিকৃত ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের কথা যেমন—’খাইলেই দিশ খোশ’, ‘এক্সট্রা খাতির’, ‘আবার জিগায়’ ইত্যাদি এখন তরুণ-তরুণীদের মুখে মুখে। কিছু নাটকের নাম এবং সংলাপে দেখা যাচ্ছে বিদেশি শব্দের ছড়াছড়ি। যেমন—ফার্স্ট ডেট, হাইজফুল, ছাইয়্যা ছাইয়্যা, লাভ ডট কম, সিটি বাস ইত্যাদি। নাটকের সংলাপে বলা হচ্ছে, মাইরের মধ্যে ভাইটামিন আছে, ফাইস্যা গেছি মাইনকার চিপায়, ফিল্মি কথা বাদ দাও, এক্সটা খাতির নাই, ফিল্মি ডায়ালগ মারতাছ।

বেসরকারি রেডিওগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে বিকৃত বাক্য ও শব্দ ব্যবহার করে। কথাবন্ধু (রেডিও জকি) নামে একটি চরিত্র তৈরি হয়েছে, যারা এই বিকৃতি করছে। এদের বাংলা উচ্চারণ ইংরেজির মতো। উদাহরণ—’হ্যালো…ও…ও…ফ্রেন্ডস, কেমন আছ তোমরা? হোপ দিস উইকে তোমরা ম্যানি ম্যানি ফান করেছ, উইথ লটস অফ মিউজিক। অ্যনিওয়ে, এখন তোমাদের সাথে আছি কুল ফ্রেন্ড জারা অ্যান্ড আছে জোশ সব মিউজিক ট্রাক অ্যান্ড লটস আড্ডা, সো ফ্রেন্ডস ঝটপট জয়েন করে ফেলো আমাদের আড্ডায় এন্ড ফেবারিট গান শুনতে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে লিখো….।’ অন্য এক ‘কথাবন্ধু’ বলছে, ‘ডিয়ার ফ্রেন্ডস এখন প্লে করছি ২১শে ফেব্রুয়ারির স্পেশাল ট্রাক—আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি… তো শুনতে থাকো আর এনজয় করো অ্যান্ড অফ কোর্স একুশের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করো।’

অবজ্ঞা ও বিরক্তি প্রকাশে তরুণ-তরুণীরা নতুন নতুন শব্দযুগল ব্যবহার করছে। যেমন—মাঞ্জা মারা, হুদাই প্যাচাল, তেলবাজ, চালবাজ, পল্টিবাজ, কুফালাগা, গুষ্ঠি কিলাই, তারছিড়া, বেইল নাই, মাইনকাচিপা, আরে মামু, প্যাচগি মারে, সুইসাইড খামু, আল্টামডান, কইছে তরে, যাইগা বাদ দে, কঠিন চেহারা, ঠ্যাক দিছে ইত্যাদি।

Source: http://banglabarta.dk/details.php?cid=1&id=2864

প্রবাসীদের প্রধান ঈদ আনন্দ দেশে প্রিয়জনদের সাথে কথা বলা: ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে


ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে
ফিরোজ মান্না ॥

BTRC

BTRC

বৈধ পথে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ঈদের দিন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এই পরিমাণ কল এর আগে কখন হয়নি। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের বিরম্নদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনার কারণে আনত্মর্জাতিক কল সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে কলের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তারা চায় না অবৈধ পথে টেলিফোন কল করতে। অবৈধ ভিওআইপি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কল সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। অবৈধ কল বন্ধ করার জন্য বিটিআরসি ‘সিম ডেকেটশন টুল’ স্থাপন করে মোবাইল বা পিএসটিএন নম্বর শনাক্ত করা হয়। যে সব নম্বর থেকে অবৈধ কল আসছে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে বস্নক করে দেয়া হচ্ছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কল দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রতিদিন ২ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে আসত। সিংহভাগ কল চলে যেত অবৈধ পথে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৈধ পথে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ২৫৬ মিনিট কল দেশে প্রবেশ করেছে। এটা বিটিআরসির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কল। ঈদের আগের দিন কল এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৫২১ মিনিট। ঈদের পরের দিন কলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার ১৭৫ মিনিট। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য ১৪টি আইএসপি, পিএসটিএন ও ভিস্যাট লাইসেন্স বাতিল করার পর থেকেই আনত্মর্জাতিক কল বাড়তে শুরম্ন করেছে। অবৈধ ভিওআইপি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের পরিমাণ প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ কোটি মিনিটে উন্নতি হতে পারে। আমরা বৈধ কল বাড়াতে নানা পদৰেপ নিয়েছি।

Radio Link

Radio Link

জানা গেছে, অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) কল বন্ধ করতে সর্বোচ্চ পদৰেপ হিসেবে সরকার টেলিযোগাযোগের বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স বৃদ্ধির চিনত্মা ভাবনা করছে। ভিওআইপি একটি প্রযুক্তি এবং সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে প্রযুক্তি দিয়ে। লাইসেন্স বৃদ্ধি করে এর সমাধান হবে না বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অবৈধ কল যাচাইয়ের জন্য ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (ডিপিআই) নামে একটি যন্ত্র আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ দেয় সেখানে এটি স্থাপন করা হলেই অবৈধ কল বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে কর্তৃপৰ তেমন আগ্রহী হচ্ছে না।

সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চলছে অত্যাধুনিক ‘রেডিও লিঙ্ক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে কল আদান-প্রদান করা হচ্ছে। আর এই কাজ হচ্ছে সীমানত্ম এলাকার বহু জেলায়। এমন কি খোদ ঢাকাতেই হাই ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে। বিটিআরসি নানা ব্যবস্থা নেয়ার পরেও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হয়নি। কিছু ভুয়া বিদেশী টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করে এসব কল আদান-প্রদান করার কাজ চলছে। বিটিআরসির পৰে এমন কল আটকানো কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এসব কল আদান-প্রদানের জন্য দেশীয় যে কোন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড বা ই-১ ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তিকে ফিল্টার করতে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তির কাছে মার খাচ্ছে বিটিআরসি। সরকার হারাচ্ছে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব। পিএসটিএন কোম্পানি এবং কিছু আইএসপি বন্ধ করে দিলেই ভিওআইপি হবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিদিন প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

E1 30 GSM Channel Bank

E1 30 GSM Channel Bank

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে একটা ই-১ (৩০টি টেলিফোন লাইন সংযুক্ত করা যায় এমন যন্ত্র) ভয়েজ কানেকটিভিটি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ( ভয়েজ ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) হচ্ছে। অথবা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিমও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভিওআইপির বেশির ভাগ ৰেত্র হচ্ছে সীমানত্ম জেলায়। সরকার ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারেনি। খোদ বিটিসিএল’র বিরম্নদ্ধে ভিওআইপি করার অভিযোগ রয়েছে। এ থেকে মোবাইল অপারেটররাও বাদ নেই। বিদেশে কল আদান-প্রদান করার সময় দেখা যায় দেশী ফোন কোম্পানিগুলোর নম্বর ভেসে উঠছে। তবে রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে যে সব কল আদান-প্রদান হচ্ছে সেগুলোতে ভুয়া বিদেশী নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন দেশ থেকে কল এলে টেলিফোন নম্বরের আগে অবশ্যই যোগ চিহ্ন থাকবে। কিন্তু রেডিও লিঙ্ক থেকে আসা বেশির ভাগ কলে যোগ চিহ্ন পাওয়া যাবে না। গ্রাহক মনে করবে যে নম্বর থেকে কল এসেছে সেই নম্বরটি সংশিস্নষ্ট দেশেরই নম্বর। বিটিআরসিকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এটি করতে তারা উন্নত মানের সফটওয়ার ব্যবহার করছে। ভারতে যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে দেশীয় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা। ভারত ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে বিটিআরসি বলছে, রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা অসম্ভব। এটা যারা বলছে তারা এর কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারত থেকে এভাবে কেউ ব্যান্ডউইথ কিনতে পারে না। ব্যান্ডউইথ কিনতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ভারত তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকা দেশ হিসাবে এমন কাজ তারা কোনভাবেই করতে পারে না। তাছাড়া ভারতকে এত উদার ভাবার কোন কারণ নেই। ভারতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রয়েছে। এটা ধরা পড়লে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। বিটিআরসি মনে করে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ চ্যানেলে কল বেশি আদান-প্রদান হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

VOIP

VOIP

এদিকে বিডি ডট কমের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিওআইপি কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। কোন না কোন প্রক্রিয়ায় ভিওআইপি হবেই। ইন্টারনেটকে লং ডিসটেন্স হিসাবে দেখার কিছু নেই। ইন্টারনেট বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তাই ইন্টারনেট হচ্ছে লোকাল বিষয়। পৃথিবীর যে প্রানত্মেই যাওয়া যাক ইন্টারনেট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। বিটিআরসিকে কোন কল অবৈধ আর কোন কল বৈধ এটা ধরার জন্য বসে থাকা বা অভিযান চালাতে হবে না। এখানে কিছু টেকনিক্যাল ব্যবস্থা নিলেই তখন আর অবৈধ বলতে কিছু থাকবে না। তখন বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যাবে।আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,