লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সভা



লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সভা

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীদের উদ্বেগ
মে ৩, ২০১২, লস এঞ্জেলেসঃ বাংলাদেশের অবনতিশীল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষন করছে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীরা। বিরোধী দলের উপর নজিরবিহীন আগ্রাসন ও হয়রানি, নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টার প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছেন তারা।

BADAM Los Angelesগত রবিবার লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক পুলিশ ষ্টেশনের কমিউনিটি সেন্টারে একুশ নিউজ মিডিয়া ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এর উদ্যোগে সমবেত বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের চরম লংঘনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, কিছু কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের ভুল সিদ্ধান্ত ও সংসদকে অকার্যকর করে রাখায় দেশ এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক উন্নয়ন প্রচণ্ড ভাবে হুমকির সম্মুখীন। দেশ ও দশের উন্নয়নে যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নাই। মেধা বিকাশে দলীয়করণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষিত সমাজকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানানো হয়।

BADAM Los Angelesবাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পরিমাণ হিংসা-বিদ্বেষ তাতে দেখে যে কারো মনে হতে পারে এখানে গৃহযুদ্ধ চলছে। প্রবাসের মতো দেশেও যেন সব দলের নেতারা এক প্লাটফর্মে বসে কথা বলার পরিবেশ তৈরী করতে পারে তার জন্য সহনশীলতা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার লিপ্সাই প্রধান। স্থানীয় উন্নয়নে সাংসদদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে শুধু নিজেদের জন্য নয় বরং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

BADAM Los Angelesদেশের নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের জান-মালের নিশ্চয়তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের দলের উর্ধে উঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে আজ ব্যক্তির কোনো নিরাপত্তা নেই। রাষ্ট্রে খুন, গুম, ধর্ষণ একের পর এক বেড়েই চলেছে। সচিবালয়ে বোমা হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটনায় কয়েকদিনের মাথায় বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জেলে অন্তরীন করা হয় অথচ মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের কোন কূলকিনারা না হওয়াতে দলীয় হস্তক্ষেপে আশংকায় উদ্দ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খুন হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ঘটনা সরকার যেন ইচ্ছা করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অপশক্তিরা উৎসাহিত হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের সাংবিধানিক অভিভাবক নির্বাচিত সরকারের নির্লিপ্ততার নিন্দা জানিয়ে বক্তরা বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানবিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কাজে সরাসরি পুলিশ বহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার সামগ্রিক পরিস্থতিকে আরো জটিল করেছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয় – তাই শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, অর্থবহ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দলীয় দূর্নীতিবাজদেরও ছাড় দেওয়া চলবে না। এতে নিজ দলের অপরাধীদেরকেও বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় তার প্রতি আইনজীবী ও সচেতন সমাজের লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। ব্যবসায়ীদের আজ রাজনীতিতে আধিপত্যতা। তার ফলশ্রুতিতে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে অপশক্তির উত্থান ঘটছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্বঘাটিত হচ্ছেনা। সাংবাদিকরাও আইনের উর্ধে নন। সাংবাদিকরা নিজেদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ সঠিকভাবে করছে না বলেই অপশক্তিরা এখনো সংগঠিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ পাশে প্রবাসীরা ও সোচ্চার আছে। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দেশের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার কোন বিকল্প নেই বলে প্রবাসীরা মনে করেন। বক্তারা বলেন, দেশের ভাবমূর্তি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক খারাপ। সবগুলো রাষ্ট্রীয় খাতই এত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত যে বিদেশিরা কোনো সহায়তা দিতে ভরসা পাচ্ছে না। তারা মনে করছে, এখানে কিছু দিলেই তা ব্যক্তি বিশেষের পকেটে চলে যাবে। এটা দেশের উন্নয়নের কোনো কাজে লাগবে না। হত্যা, গুম, নারী নির্যাতনরোধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরিতে পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রবাসে বসবাসরত প্রবাসীদের উৎকন্ঠা তাদের নিজ নিজ কাউন্সিলম্যান, সিনেটরদেরকে অবহিত করার উপর তাগিদ দেওয়া হয়। দেশের এ নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান স্বীকৃত হয়ে আসলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবাসীদের গুরুত্ব দেওয়ার ধারা তৈরী করতে হবে। প্রবাসীদের আওয়াজ যাতে সংসদ ও জনগণের মাঝে তুলে ধরা যায় তার জন্য প্রবাসী উইন্ডো নামে একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরী করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বদেশে নিরাপদ জীবনের অঙ্গীকারে প্রবাসীদের হয়রানী বন্ধে দেশের স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় হবার আহ্বান জানানো হয়। সহনশীলতার পরিবেশ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশের উন্নতির লক্ষ্যে বিজ্ঞ প্রবাসীদের নিয়ে একটি পলিসি ইন্সিটিউট তৈরির আহ্বান জানানো হয়। পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে পরিশীলিত রাজনৈতিক সংষ্কৃতির উন্মেষ ঘটিয়ে যুগের চাহিদা অনুযায়ী দেশ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও প্রবাস ভাবনা শীর্ষক এই আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসমাইল হোসেন, ড্যানী তৈয়ব, মুশফিকুর চৌধুরী খসরু, মাহতাব আহমেদ, তারিক বাবু, শাহানা পারভীন, এম এ বাতেন, মারুফ ইসলাম, শফিঊল আলম বাবু, মোঃ এস জোহা বাবলু, মুজিব সিদ্দিকী, শামসুদ্দিন মানিক, এম এ বাসিত, আনিসুর রহমান, ডাবলু আমিন, লায়েক আহমেদ, এম কে জামান, মোঃ গোলাম সারোয়ার, ফয়সাল আহমেদ তুহিন, রওনাক সালাম, আশরাফ এইচ আকবর, মার্টিন রহমান, জসীম আশরাফী, অবঃ মেজর হামিদ, ফারহানা সাঈদ, ডাঃ আবুল হাশেম, মোসাম্মৎ ফরিদা, সোহেল রহমান বাদল প্রমুখ।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আলী তৈয়ব, মাসুদ চৌধুরী, ইশতিয়াক চিশতী, কাঞ্চন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খান, বুলবুল সিনহা, মোঃ ময়েজ উদ্দিন, শফিক রহমান, নাসির উদ্দিন জেবুল, ফারুক হাওলাদার, ইফতেখার রহমান, ইলিয়াস খান, মোতিয়ার রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা ও সৈয়দ এম হোসেন বাবু।

সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন আয়োজক সংগঠন একুশ নিউজ মিডিয়ার পরিচালক জাহান হাসান।
Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=oa.425613467460482

%d bloggers like this: