‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’


‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রশাসন মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে ‘সামরিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে ঘোষণা করবে না। আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উইলিয়াম বার্নসের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন।

আমেরিকা থেকে মিশর প্রতিবছর ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। মিশরের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মার্কিন এ সহায়তা স্থগিত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, বিশ্বের যে দেশেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উতখাত করা হবে সে দেশে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অবশ্যই স্থাগিত করতে হবে।

তবে, গত ৩ জুলাই মিশরের প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়নি আমেরিকা। মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতেই মিশরের ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান বলতে গড়িমসি করছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া, দখলদার ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা আমেরিকাকে সামরিক সহায়তা স্থগিত না করার জন্য একের পর এক ফোন করে চলেছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তারা আমেরিকাকে বার বার সতর্ক করে বলছেন, মিশরে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হলে ইসরাইলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল বার্নস বলেছেন, মিশরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করছে আমেরিকা। আইআরআইবি

বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?


বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা কমাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণা দিতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থা (ইউএসটিআর) সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে বাণিজ্য সুবিধা কমানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। ৩০ জুন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করেছে, এ হুমকি হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় শ্রম পরিবেশ সংস্কারে যথেষ্ট উত্সাহ জোগাবে।

তবে সুবিধা কমানো নাকি পুরোপুরি বাতিল করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম সংগঠন দি আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনসের (এএফএল-সিআইও) বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান সেলেস্ত ড্রেক রয়টার্সকে বলেন, গত নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনস ও সম্প্রতি সাভার রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করতে বা কমিয়ে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, এএফএল-সিআইও ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ সুযোগ-সুবিধা (জিএসপি) বাতিলের দাবিতে প্রথম আবেদন করে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে বাজার-সুবিধা দেয়া হয়, তা হলো জিএসপি বা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এ সুবিধার আওতাভুক্ত নয়।

তবে এ ঘোষণা বাংলাদেশের রফতানিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বাণিজ্য সুবিধা বাদ দিলে তা শাস্তি হিসেবে না নিয়ে বরং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা উচিত হবে। দেশের রফতানি খাতে বর্তমানে কর্মপরিবেশ থেকে শুরু করে সার্বিক মানের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সম্ভব হয়েছে। কারণ দেখা গেছে, সরকার বা স্থানীয় উদ্যোক্তা চাপে না পড়লে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরত থাকেন। তবে এ ধরনের সুবিধা বৃদ্ধি বা কমানোর পাশাপাশি ক্রেতা দেশগুলোর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সূত্রমতে, গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনায় সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এর পর থেকেই বাংলাদেশকে দেয়া বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করার দাবি ওঠে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে। ডিসেম্বরে তাজরীন দুর্ঘটনার পর থেকেই ইউএসটিআর জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। রানা প্লাজা ধসের পর এ পর্যালোচনায় নতুন মোড় নেয়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এড গ্রেসার জানান, গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁবু, গলফ খেলার সরঞ্জাম, প্লেটসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এর ওপর জিএসপি সুবিধা বাবদ ২০ লাখ ডলার শুল্কছাড় পেয়েছে। আবার বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার শুল্ক দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদিও রফতানি খাতের মূল পণ্য তৈরি পোশাক খাত কোনো ধরনের বাণিজ্য সুবিধা পায় না। তার পরও শ্রম নিরাপত্তাহীনতার তাত্পর্য মাথায় রেখে প্রতীকী জবাব হিসেবেই বাংলাদেশকে দেয়া সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব-অর্থনীতিতে ক্ষমতাধর দেশ হিসেবেই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা অনুসরণ করতে পারে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ।

অন্যদিকে রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হলে তা বাংলাদেশের রফতানি খাতের ভাবমূর্তির সংকটকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কারণ এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা আরো জোরালো হয়ে ভাবমূর্তি সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাণিজ্য সুবিধার আওতায় পোশাক খাত নেই। তার পরও আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু দেশটিতে আমাদের লবিংয়ের চেয়ে অ্যান্টি-লবিং অনেক বেশি জোরালো। আর তাজরীনের পর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় কোনো লবিং বা অনুরোধ কাজে লাগছে না। যদিও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা এখনো ছেড়ে দিইনি।’

জানা গেছে, অতীতে অনেক আইনপ্রণেতাই বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া তৈরি পোশাক খাতকে জিএসপি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক প্রস্তুতকারীরা এর বিরোধিতা করেছেন। আশির দশকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তত ১৩টি দেশের জিএসপি সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি বাতিল হয়। পরে তাদের বেশির ভাগই অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করায় আবার জিএসপি সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য সাউথ এশিয়া স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক সঞ্চিতা সাক্সেনা জানান, বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলেও তা দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কোনো সহায়তায় আসবে না। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসব পোশাক কারখানায় নজরদারি করতে পারে এবং বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগে চাপ দিতে পারে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউরোপের ক্রেতারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা-বিষয়ক চুক্তি সই শুরু করেছে। কিন্তু মার্কিন ক্রেতাদের এখনো বিষয়টিতে খুব একটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন পিসাকি এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তায় সাহায্যের বিষয় নিয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সংলাপ চলছে। সেখানকার কর্মপরিবেশকে মূলে রেখেই আলোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন ক্রেতাদের চুক্তি ও দায়িত্বশীল আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে জেন পিসাকি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, ক্রেতারা কর্মপরিবেশ ও মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবেন। যদি কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি সই নাও হয়, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও কর্মপরিবেশ নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মান ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। আশা করি, ক্রেতারা নিজ থেকেই এ মান বজায় রাখবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ১১৩ শ্রমিকের। এর পরই স্মার্ট ফ্যাশনে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ছয়জনের। আর চলতি বছর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩০।

Obama nears decision on Bangladesh trade following tragedies

Fri, Jun 14 03:16 AM IST

By Doug Palmer

WASHINGTON (Reuters) – President Barack Obama could soon decide to cut off trade benefits for Bangladesh, in a largely symbolic response to tragedies in the country’s garment sector that have cost more than 1,200 lives in the past eight months.

The U.S. Trade Representative’s office, with input from other government agencies, is completing its recommendations in preparation for a White House announcement by June 30.

Even though the trade benefits affect less than 1 percent of Bangladeshi exports to the United States, its government has pleaded with the Obama administration not to cut them off.

The AFL-CIO, the largest U.S. labor organization, first filed a petition to suspend Bangladesh from the U.S. Generalized System of Preferences program in 2007.

The U.S. government has put off that decision for six years, hoping the threat would be enough to encourage Bangladesh to make long-needed labor reforms.

But after the Tazreen factory fire in November that killed 112 people and the Rana Plaza building collapse in April that killed 1,129 more, it seems likely that Obama will eliminate or reduce the trade benefits, Celeste Drake, the AFL-CIO’s lead on trade issues, told Reuters this week.

The past year in Bangladesh has been so horrendous that unless the United States acts the labor provisions of the GSP program will be seen as meaningless, she said.

The GSP program is aimed at helping create jobs in poor countries by waiving U.S. duties on thousands of goods as long as the countries meet certain eligibility requirements.

Bangladesh has been in the program since it began in 1976. But its main export, clothing, is not eligible for GSP tariff cuts, in deference to the U.S. textile and apparel industry, which employed some 2.4 million workers four decades ago compared to less than 300,000 now.

Last year, the GSP program spared Bangladesh about $2 million in duties on $35 million worth of tents, golf equipment, plates and other items it exported to the United States, said Ed Gresser, a trade analyst with the GlobalWorks Foundation.

But Bangladesh paid about $732 million in duties on $4.9 billion worth of clothing to the United States. That is almost twice as much as the $383 million in U.S. tariffs collected on $41 billion worth of French goods in 2012, Gresser said.

In the past, some lawmakers have proposed changing the GSP program to provide duty-free benefits for clothing from Bangladesh and Cambodia, but U.S. textile manufacturers lobbied to prevent action on the legislation.

At least 13 countries have lost some or all of their GSP benefits since workers rights protections were added to the eligibility criteria in the 1980s. Most have been reinstated after making progress on the concerns.

While Bangladeshi clothing manufacturers would not be directly affected by a decision to suspend the GSP program, Drake said she expected other Bangladeshi companies hit with increased duties to join the international community in lobbying the government for labor reforms.

“It’s a small stick, which is perhaps right, given that it is a developing country. Nobody wants to do something that would be an earthquake to their economy,” Drake said.

Sanchita Saxena, associate director of the Center for South Asia Studies at the University of California at Berkeley, said revoking Bangladesh’s GSP benefits would not help workers in Bangladesh’s garment industry.

“If the U.S. wants to help improve conditions, international brands and international NGOs can help in building capacity to monitor the thousands of factories that need monitoring and help to enforce some of the laws that are in the books,” she said.

U.S. retailers should also sign an agreement embraced by European retailers to improve safety conditions in Bangladesh’s garment industry, Saxena said.

– See more at: http://bonikbarta.com

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ প্রশংসা করা হয়। ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম ২০১২’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেশীয় ও আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ এবং প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের তত্পরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে সন্ত্রাসীদের বিচারিক প্রক্রিয়া ধীর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরও ‘সন্ত্রাসবাদ দমন অধ্যাদেশ ২০০৯’ ফৌজদারি আইন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগের পথে বাংলাদেশ এগোচ্ছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরো জোরদারে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সরকারি কৌঁসুলিরা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আর্থিক সহায়তায় অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ একটি ন্যাশনাল একাডেমী ফর সিকিউরিটি ট্রেনিং চালু করেছে। যেখানে সন্ত্রাস দমনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন রোধ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে পুরো প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। জঙ্গি অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ পাচার রোধ আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে সার্কের আওতায় বেশকিছু স্মারকে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জাতিসংঘের দেয়া বৈশ্বিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি আঞ্চলিক দেশগুলো বিশেষ করে ভারত দ্বারা প্রভাবিত। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কের কারণে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ হুমকিতে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের আন্তরিকতায় সন্ত্রাসবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নত ও সম্প্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোয় পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। এছাড়া বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্থিক অপরাধ এবং জঙ্গি অর্থায়নসহ অন্যান্য অপরাধ তদন্তে সহায়তাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মনে করে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ‘পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে, যা সন্ত্রাসবাদ দমনে
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে। সেই সঙ্গে মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

jahan Hassan Dan Mozena Ekush News Media

US praises Bangladesh’s counterterrorism efforts
But it says judiciary moves slowly
UNB, Dhaka

Counterterrorism

The US has highly appreciated Bangladesh’s role in combating terrorism saying its counterterrorism efforts made it harder for transnational terrorists to operate in or establish safe havens in Bangladeshi territory but said the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

“…Bangladesh has demonstrated its commitment to combating domestic and transnational terrorist groups,” the ‘Country Reports on Terrorism 2012’ of the US State Department said in its Bangladesh part.

It mentioned that the South Asia remains a frontline in the battle against terrorism.

US assistance supports programmes for Bangladeshi civilian, law enforcement, and military counterparts to build their capacity to monitor, detect, and prevent terrorism.

The report considers Bangladesh as an influential counterterrorism partner in the region, and mentioned that the country continued to make strides against domestic and international terrorism. Besides, Bangladesh and India improved and expanded counterterrorism cooperation.

Despite the absence of major terrorist incidents on their territory, governments in the five Central Asian states were concerned about the possibility of a growing threat connected to changes in the international force presence in Afghanistan in 2014.

Legislation, Law Enforcement and Border Security

Bangladesh’s criminal justice system is in the process of fully implementing the Antiterrorism Act of 2009. However, the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

Bangladesh cooperated with the United States to further strengthen control of its borders and land, sea, and air ports of entry. It continued to participate in the Department of State’s Antiterrorism Assistance program and cooperated with the Department of Justice’s efforts to provide prosecutorial skills training to its assistant public prosecutors, encourage greater cooperation between police and prosecutors, and institute community policing in targeted areas of the country.

With financial support from the United States and other partners, Bangladesh established a National Academy for Security Training in 2012 and began to provide counterterrorism training courses.

Countering Terrorist Finance

Bangladesh is a member of the Asia/Pacific Group on Money Laundering, a Financial Action Task Force (FATF)-style regional body.

The Bangladesh Bank (the central bank) and its Financial Intelligence Unit/Anti-Money Laundering Section lead the government’s effort to comply with the international sanctions regime.

FATF has identified Bangladesh’s implementation of UNSCRs 1267 and 1373 as a deficiency in its laws. Bangladesh formed an interagency committee to address this issue, and has drafted regulations to implement both of these provisions.

While Bangladesh’s Anti-Terrorism Act criminalised terrorist financing, FATF has recommended that Bangladesh amend its laws to meet international standards and to clarify remaining ambiguities.

The interagency committee mentioned above has begun revising the legislation to satisfy FATF’s concerns in this regard.

Regional and International Cooperation

Bangladesh is party to various counterterrorism protocols under the South Asian Association for Regional Cooperation and is bringing the country’s counterterrorism efforts in line with the four pillars of the UN Global Counter-Terrorism Strategy.

Bangladesh’s foreign and domestic policies are heavily influenced by the region’s major powers, particularly India.

In past years the Indo-Bangladesh relationship provided openings for transnational threats, but the current government has demonstrated its interest in regional cooperation on counterterrorism. Bangladesh was active in the full range of international fora.

In 2012, Bangladesh enacted a mutual legal assistance law that will allow for greater international cooperation. It has also signed memoranda of understanding with a number of countries to share evidence regarding criminal investigations, including investigations related to financial crimes and terrorist financing.

Countering Radicalisation and Violent Extremism

Bangladesh uses strategic communication to counter violent extremism, especially among youth.

The Ministry of Education provides oversight for madrassas and is developing a standard national curriculum that includes language, math, and science curricula; and minimum standards of secular subjects to be taught in all primary schools, up to the eighth grade.

The Ministry of Religious Affairs and the National Committee on Militancy Resistance and Prevention work with imams and religious scholars to build public awareness against terrorism.
“The Government of Bangladesh is also actively expanding economic opportunities for women as it views economic empowerment for women as a buffer against violent extremist messages of male religious leaders,” the report says.

About Pakistan it said the country continued to experience significant terrorist violence, including sectarian attacks.

Although terrorist attacks occurred in 85 different countries in 2012, they were heavily concentrated geographically. As in recent years, over half of all attacks (55%), fatalities (62%), and injuries (65%) occurred in just three countries: Pakistan, Iraq, and Afghanistan, the report says.
সূত্রঃ বনিকবার্তা

দ্য আদার আমেরিকা: ‘দারিদ্রের সংস্কৃতি’


মার্কিন দারিদ্রে্র পুনরাবিষ্কার

বারবারা এরেনরিচ

আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে গরিবরা না হলেও অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সচ্ছল মানুষ জানতে পেরেছিল যে, তাদের মধ্যেও দরিদ্র মানুষ রয়েছে। এই আবিষ্কারের জন্য মাইকেল হ্যারিংটনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। কারণ তার লেখা দ্য আদার আমেরিকা বা অন্য আমেরিকা বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরই শ্রেণীহীন সামাজিক অবস্থা ও সম্পদের সুখসাগরে ভাসতে থাকা একটি জাতি আকস্মিক একটি ধাক্কা খায়। হ্যারিংটনের দেওয়া তথ্য মতে, সে সময় এক-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিকই দারিদ্রে্যর মধ্যে বসবাস করছিল।

এদের বেশির ভাগই নগরকেন্দ্রের কৃষ্ণাঙ্গ, পাশ্চৎপদ শ্বেতাঙ্গ, খামার শ্রমিক এবং বয়স্ক মার্কিনি।

বইটিতে লেখক দারিদ্র সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন তাতে মনে হয়েছে আরাম আয়েসে থাকা মানুষের জন্যই আরো বেশি আয়েস যোগানো দরকার। বলা হয়েছে দরিদ্ররা অন্যান্য মার্কিনির চেয়ে একেবারেই আলাদা। আর এই আলাদা হওয়ার কারণ যে কেবল তারা বঞ্চিত, পশ্চাৎপদ, নিম্নমানের ঘরবাড়িতে বসবাস করে কিংবা নিম্নমানের আহার গ্রহণ করে থাকে তা নয়। তাদের আবেগ-অনুভূতি, ভাবনা-চিন্তাও আলাদা ধরনের। তাদের জীবনযাত্রার মধ্যে স্থূলতা আছে এবং রয়েছে একটা বেপরোয়াভাবও।

হ্যারিংটনের ভাষায়, ‘দরিদ্রদের নিজস্ব একটি ভাষা আছে, মনস্তত্ত্ব আছে এবং ভিন্ন ধরনের একটি বিশ্ববীক্ষাও পোষণ করে তারা। দরিদ্র হওয়ার অর্থই হলো সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকেপড়া এমন একটি সংস্কৃতির মধ্য বেড়ে ওঠা যা সমাজের মূল ধারা থেকে একেবারেই আলাদা।’ তবে ১৯৬৩ সালে আমি যখন প্রথম তার বইটি পড়ি আমি কিন্তু সেখানে আমার পূর্বপুরুষ এবং আমার পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই আলাদা মানুষের অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। একথা ঠিক যে, মধ্যবিত্তের মানদন্ডে বিচার করলে তারা হয়তো কিছুটা বিশৃঙ্খল জীবন যাপন করেছে, পানে আসক্ত থেকেছে, ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়েছে কিংবা বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তারাও যে পরিশ্রমী ছিল, তাদের মনেও যে উচ্চাশা উঁকি দিতো তা কিন্তু হ্যারিংটন উল্লেখ করেননি। এসব ভালো গুণ তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছলদের জন্যেই তুলে রেখেছেন। তার মধ্যে দরিদ্রদের যা আলাদা করে চিহ্নিত  করে তা হলো ‘দারিদ্র্য সংস্কৃতি’। এই ধারণাটি তিনি নৃতত্ত্ববিদ অসকার লুইসের মেক্সিকোর বস্তিবাসীদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপ থেকে ধার নিয়েছিলেন। এই ধারণাটির সংযোজন বইটির একটি তাত্ত্বিক মূল্য তৈরি করেছে। তবে এখানে ‘আমরা’ শব্দটি দিয়ে মার্কিন সমাজের সেই সব সচ্ছল বিত্তবানদের কথাই বলা হয়েছে, যারা সবসময় গরিব জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য লাঘবের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।

কিন্তু একটি বিষয় বোঝা উচিত যে, এই দারিদ্রে্যর মধ্যে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যেগুলো কেবল সরাসরি সম্পদ পুনর্বণ্টনের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব নয়। একবার ভাবুন সেই ব্যক্তিটির কথা যিনি একজন ভিক্ষুককে দেখে দয়াপরবশ হয়ে পড়েন কিন্তু তার হাতে একটি কানাকড়িও ছুড়ে দেন না। কারণ তার ধারণা টাকা-পয়সা হাতে গেলেই সে তা মদের পেছনে খরচ করে ফেলবে। হ্যারিংটন অবশ্য তার গ্রন্থের কোথাও একথা বলেননি যে, গরিব মানুষ তাদের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের কারণেই দরিদ্র। তবে ধারণাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরির দরজাটি তিনি খুলে দিয়েছিলেন। এরই সূত্র ধরে হ্যারিংটনের একসময়কার আড্ডার সঙ্গী ড্যানিয়েল প্যাট্রিক মইনিহানের একটি প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে রোনাল্ড রিগান প্রশাসনের উপদেষ্টা এডওয়ার্ড-সি ব্যানিফিল্ড মন্তব্য করেছেন, ‘নিম্নশ্রেণীর একজন মানুষ মুহূর্তের হিসেবে বেঁচে থাকে। শরীরিক প্রবণতাই তার আচরণের  নিয়ামক। এ কারণেই সে এতটা নিঃস্ব। যেটা তার ভোগে আসে না সেটাকেই সে অর্থহীন মনে করে। সে ভঙ্গুর প্রকৃতির এবং তার আত্মশক্তি নিঃশেষিত। রিগান আমলেই ‘দারিদ্রের সংস্কৃতি’ রক্ষণশীল আদর্শের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে। এই আদর্শ মনে করে যে, কম মজুরি কিংবা কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতার কারণে দারিদ্রে্যর সৃষ্টি হয় না। বরং দারিদ্রে্যর কারণ হচ্ছে জীবনের প্রতি খারাপ দৃষ্টিভঙ্গী ও ত্রুটিপূর্ণ জীবনাচরণ। গরিবরা নৈতিকদিক থেকে স্খলিত এবং উচ্ছৃঙ্খল, নেশা ও অপরাধের প্রতি আসক্ত। তারা কৃতজ্ঞতাবোধ বিবর্জিত। টাকা-পয়সা দিয়ে তাদের মোটেই বিশ্বাস করা যায় না।

তাদের বৈষয়িকভাবে সাহায্য করা মানেই হচ্ছে তাদের নৈতিক স্খলনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

এ কারণেই ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলেরই মনে হয়েছে, দারিদ্র্যময়, বরং দারিদ্রে্যর সংস্কৃতিই দূর করতে হবে। ১৯৯৬ সালে ক্লিনটন প্রশাসন এ লক্ষ্যে একটি আইনও প্রণয়ন করেছিল যার মাধ্যমে গরিবদের জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। একদশক সময় পেরিয়ে আজকের দিনেও এবং মার্কিন অর্থনীতির নিম্নগতির কারণে মধ্যবিত্তরা ক্রমশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও ‘দারিদ্র্য সংস্কৃতি’র ধারণা ও কার্যক্রম অভিন্নই থেকে গেছে। দরিদ্র মানুষকে এখনো সংশোধনের মুখোমুখি হতে হয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় থেকে সুবিধা পেতে হলে তাকে স্বভাব বৈশিষ্ট্য ও মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কারণ দারিদ্র্য সংস্কৃতি তত্ত্ব বলছে, গরীবরা স্বভাবতই অপরাধ প্রবণ। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে কোনো ধরনের সুবিধা পেতে এমনকি তাদের আঙ্গুলের ছাপ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়। তাদের কোনো অপরাধে জড়িত থাকার নজির আছে কিনা কম্পিউটার থেকে তাও খুঁজে বের করা হয়। বেকারত্ব এখনো দারিদ্রে্যর একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গ রাজ্যে বেকারদের চাকরি দেওয়ার আগে মূত্রপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনি এবং নেট গিনরিচও বলেছেন, একজন বেকারকে চাকরি পেতে হলে কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলায় থেকে কোনো সুবিধা পেতে হলে তাকে অবশ্যই মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

মাইকেল ক্যারিংটন যেই ‘দরিদ্র সংস্কৃতি’কে জনপ্রিয় করার জন্য এত চেষ্টা করেছিলেন সেই ‘দারিদ্র্য-সংস্কৃতি’কে এখন যেভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা দেখে তিনি কী বলতেন? ১৯৮০-এর দশকে তার সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তিনি কোনোদিনই ‘দারিদ্রে্যর সংস্কৃতি’ নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

আজ পঞ্চাশ বছর পর নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য আবিষ্কার করতে হলে শহরতলীর দরিদ্র মানুষ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক এবং দেশটির বিশাল আকারের খেটে খাওয়া গরিব মানুষের অবস্থা বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদেরও বুঝতে হবে যে, সাংস্কৃতিক বিচ্যুতি কিংবা চারিত্রিক ত্রুটিই দারিদ্রে্যর জন্মদাতা নয়। দারিদ্র্য হচ্ছে অর্থের অভাব।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

http://budhbar.com/?p=8200
Cheap International Calls

Remembering the Other America


March marks the 50th anniversary of one of the most important books ever published about poverty in the United States. Michael Harrington, born and raised in St. Louis, wrote of a population invisible to most Americans.

“These, then, are the strangest poor in the history of mankind,” Harrington wrote in The Other America. “They exist within the most powerful and rich society the world has ever known. Their misery has continued while the majority of the nation talked of itself as being ‘affluent’ and worried about the neuroses in the suburbs. In this way tens of millions of human beings became invisible. They dropped out of sight and out of mind; they were without their own political voice.”

Harrington wrote that researchers had concluded that there were 50 million poor living in the United States in the early 1960s, but admitted that he too had trouble believing the figures because they went against the popular perception of the United States as a prosperous society.

Though Harrington sprinkled in policy prescriptions throughout The Other America—mostly calls for a more active federal government—his main goal was to make American poverty visible to a people so removed from its effects that they often thought it had disappeared.

In many respects, he succeeded. The Other America not only became an immediate bestseller, it also had an impact at the highest levels of the government. Both John F. Kennedy and Lyndon Johnson were early readers of the book, and Harrington has often been credited with influencing Johnson’s “War on Poverty.”

Harrington believed that poverty must be at the top of the political agenda and challenged those who argued that American poverty wasn’t comparable to the poverty faced by those in other countries. “What shall we tell the American poor, once we have seen them? Shall we say to them that they are better off than the Indian poor, the Italian poor, the Russian poor? That is one answer, but it is heartless,” Harrington wrote. “I want to tell every well-fed and optimistic American that it is intolerable that so many millions should be maimed in body and in spirit when it is not necessary that they should be. My standard of comparison is not how much worse things used to be. It is how much better they could be if only we were stirred.”

Harrington continued to write books following the publication of The Other America, but none of his subsequent books caught the public’s attention in the same way.  Many of his other books, articles, and lectures dealt with socialism, a political philosophy that he believed offered a corrective to American capitalism, which he thought put too much power in the hands of unelected business leaders.

The Other America remains the St. Louis native’s defining work, and continues to be a touchstone for many who believe the issues of inequality remain invisible. Since its original publication in 1962, more than 1 million copies have been sold.

Not long before he died in 1989, friends and colleagues, including Cesar Chavez and Edward Kennedy, honored Harrington for his commitment to America’s poor at a ceremony in New York.

“I see Michael Harrington as delivering the Sermon on the Mount to American,” then Senator Kennedy said to the assembled. “Among veterans in the War on Poverty, no one has been a more loyal ally when the night was darkest.”

—Jody Sowell, Public Historian

 ***

Other books about poverty with St. Louis connections

The Other American: The Life of Michael Harrington (Maurice Isserman)

This excellent biography of Harrington examines his evolution as a social justice activist and includes details of his personal life, including his early days in St. Louis.

One Nation, Underprivileged: Why American Poverty Affects Us All (Mark Rank)

Mark Rank, a professor of social welfare at Washington University, is one of the country’s preeminent scholars of poverty and inequality. This book is an accessible entry into many of the statistics about American poverty and its wide-reaching effects.

Savage Inequalities: Children in America’s Schools (Jonathan Kozol)

Few have written as urgently about American poverty’s impact on children as has Jonathan Kozol. Kozol visited more than 30 schools, including schools in East St. Louis, for this 1992 examination of inequalities seen in classrooms. Though it is now 20 years old, many of the same issues remain—as Kozol’s later work has proved.

Mapping Decline: St. Louis and the Fate of the American City (Colin Gordon)

This book examines the ways that poverty and urban decline have affected one city—St. Louis. It is a deep examination of the country’s urban crisis through the lens of one city, and is worth a read for the graphics alone.


 

স্থায়ী ক্যাম্পাস না গড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপদ!


স্থায়ী ক্যাম্পাস না গড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপদ!


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় সনদ অর্জনের যোগ্যতা অর্জন করেছে সেই তথ্য জানতে চেয়ে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে না পারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর ৪৭ ধারা উদ্ধৃত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শর্ত পূরণ করে সনদ নিতে পারেনি সেসব বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদ্যমান আইনের সংশিস্নষ্ট শর্ত পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ গ্রহণ করে স্থায়ী হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শর্ত পূরণ করে সনদ গ্রহণ করে স্থায়ী হতে পারবে না, সরকার সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমতি বাতিল করে বন্ধ ঘোষণা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্যই ইউজিসিকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইউজিসি এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার পর একটি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলী কালের কণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী অবস্থান সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসে কাজ শুরু করা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ই সনদ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে কী হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক শিবলী বলেন, আমরা (ইউজিসি) তথ্য দেওয়ার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আলোকে সনদ অর্জনে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদ অর্জনের গ্রহণযোগ্যতা সাপেক্ষে চলতি বছরের ফল সেমিস্টার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে পারবে বলে গত ১৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে। ওই আদেশের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে সভাটি হয়নি। এ অবস্থায় ফল সেমিস্টার শেষ হওয়ার পথে। ফলে স্থগিত হওয়া সভাটি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই সভা সামনে রেখেই ইউজিসি থেকে সব তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে ্তুরেড অ্যালার্ট্থ জারি করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে ১৪টি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহসভাপতি আবুল কাশেম হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জমি খুঁজছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। সরকারকে তাঁদের সময় দিতে হবে। কারণ জমি পেলেই তো হবে না, এগুলোর প্রসেস করতে একটু সময় লাগে। তিনি বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে তারা সময় পেয়েছে ১২ বছর। অন্যদিকে যারা যেতে পারেনি তাদের (বিশ্ববিদ্যালয়) জন্ম হয়েছে মাত্র সাত-আট বছর। কাজেই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সবাইকে একই পরিমাণ সময় দেওয়া উচিত।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি সূত্রে জানা যায়, দেশে ৫৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কোনো উদ্যোগই নেয়নি। ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন রয়েছে; কিন্তু আইনানুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নয়। ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে; কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেনি। সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যারা স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনে এখন অবকাঠামো নির্মাণ করছে। ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে গেছে। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের অনুমতি নিয়ে চালাচ্ছে। একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের হিসাবে আসেনি।

সূত্র মতে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে সেগুলো হলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, আহ্‌ছান উলস্নাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালাচার অ্যান্ড টেকনোলজি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সাভারে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে বলে ইউজিসিকে জানিয়েছে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য ইউজিসিতে পাঠানো হয়নি। সেখানে পুরোপুরিভাবে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু করা হয়নি।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে এবং অবকাঠামো নির্মাণ করছে সেগুলো হলো ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেনি সেগুলো হলো আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, লিডিং ইউনিভার্সিটি সিলেট, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি সিলেট, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন আছে কিন্তু আইনানুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নেই সেগুলো হলো পিপলস ইউনিভর্সিটি অব বাংলাদেশ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এক বিঘা জমি কিনেছে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি ইউজিসি তদন্ত করছে।

এ ছাড়া আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চালু রয়েছে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হচ্ছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য আদালতের রায় থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মেলেনি।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য উদ্যোগ নেয়নি সেগুলো হলো দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

দৈনিক কালের কণ্ঠ / প্রথম পাতা : ২৯/১১/২০১১
—————————————–
Here is the list of the UGC Approved private university of Bangaldesh:

1. Ahsanullah University of Science and Technology(AUST)
2. American International University – Bangladesh(AIUB)
3. America Bangladesh University
4. ASA University Bangladesh (ASAUB)
5. Asian University of Bangladesh (AUB)
6. Atish Dipankar University of Science & Technology(ADUST)
7. Bangladesh University(BU)
8. Bangladesh University of Business and Technology(BUBT)
9. Begum Gulchemonara Trust University(BGTU)
10. BGC Trust University Bangladesh(BTUB)
11. Brac University(BracU)
12. Central Women’s University
13. City University(CU)
14. Daffodil International University (DIU)
15. Darul Ihsan University
16. Dhaka International University(DIU)
17. East West University (EWU)
18. Eastern University (EU)
19. Gano Bishwabidyalay
20. Green University of Bangladesh (GUB)
21. IBAIS University
22. Independent University, Bangladesh (IUB)
23. International Islamic University Chittagong (IIUC)
24. International University of Business, Agriculture & Technology (IUBAT)
25. Leading University
26. Manarat International University (MIU)
27. Metropolitan University, Sylhet
28. North South University (NSU)
29. Northern University – Bangladesh (NUB)
30. Premier University , Chittagong
31. Presidency University
32. Prime University
33. Primeasia University
34. Pundra University of Science and Technology
35. Queens University
36. Royal University of Dhaka (RUD)
37. Santa Marium University of Creative Technology
38. South East University (SEU)
39. Southern University
40. Stamford University
41. State University of Bangladesh (SUB)
42. Sylhet International University
43. The People’s University of Bangladesh (PUB)
44. The Millenium University
45. The University of Asia Pacific (UAP)
46. United International University (UIU)
47. University of Development Alternative (UODA)
48. University of Information Technology & Sciences (UITS)
49. University of Liberal Arts Bangladesh (ULAB)
50. University of Science and Technology, Chittagong (USTC)
51. University of South Asia (UniSA)
52. Uttara University
53. Victoria University of Bangladesh
54. World University of Bangladesh

Private university in Bangladesh is increasing day by day. As the students are rapidly increasing & the number of public university in Bangladesh are very few; so there is no substitute of private university to manage the higher education for the passed students of all over the Bangladesh.

But students have to be careful to choose the correct private university (Which is UGC Approved) for him/her to enlighten his/her future academic life. I am saying so because a lot of private university is inaugurating almost every new year; who are just selling the certificates by taking lots of money without providing any proper and qualified education.

বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’


বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’ ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

Occupy Wall St.


মেহেদী হাসান • ওয়াল স্ট্রিট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল কেন্দ্র। অন্য কথায়, পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যে কেন্দ্রে বসে আছে সমগ্র জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ, একচেটিয়া পুঁজির প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ বহুজাতিক করপোরেশন (তেল, অস্ত্র, খাদ্য), ব্যাংক, বীমা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আর যাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এ স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যাকে সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ, গণহত্যা, জাতিগত সহিংসতা, সামরিক শাসন বিস্তৃত করতে হয়েছে। অস্ত্র আর তেল কোম্পানির স্বার্থে সারা পৃথিবীতেই যুদ্ধোন্মাদনা ছড়াতে হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান সর্বশেষ লিবিয়ায় লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের বলি হয়েছে। কেবল দখলকৃত দেশগুলোর মানুষই রাষ্ট্রটির তাড়নার শিকার হয়নি, হয়েছে তার নিজ দেশের সাধারণ মানুষও। যুদ্ধ এবং দমন অর্থনীতির পেছনে জনগণের করের অর্থে এ রাষ্ট্রটি ব্যয় করে বছরে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ বাহ্যিক চাকচিক্যময়, জৌলুসপূর্ণ এ মুল্লুকে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকে চার কোটি মানুষ। তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজন মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। মন্দা অর্থনীতিতে জর্জরিত এ রাষ্ট্রে গোয়েন্দাগিরির পেছনে খরচ বেড়েছে তিনগুণ, কমেছে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়। দৈত্যাকার ব্যাংক, করপোরেশনের অন্তর্গত মন্দার কারণে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে গিয়ে বেইল আউট কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। বেড়েছে দ্রব্যমূল্য, কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ঋণ বেড়েছে জনগণের ওপরে করের বোঝা বেড়েছে জনগণের।

‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ আওয়াজ দিয়ে এহেন পররাজ্যগ্রাসী, সন্ত্রাসী, ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী অংশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা শতকরা ৯৯’ আর এটি এখন সারা দুনিয়ার এক প্রতীকী স্লোগান। আর এরই ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে আন্দোলন। নারী-শ্রমিক-শিক্ষার্থী-শিক্ষক-বেকার-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত; যারা বর্তমান বিদ্যমান ব্যবস্থায় জর্জরিত, দিশেহারা; তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে। ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ হলো শোষণকেন্দ্রে প্রজবলিত বিদ্রোহের নতুন নাম, নতুন পরিচয়। যে পরিচয় হীনমন্যতা, ভোগবাদিতা, আত্মপরিচয়ের সংকটকে ঝেড়ে ফেলে নতুন শক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এই শক্তি এখন ইথারে ভেসে ছড়িয়ে গেছে সারাবিশেবর তরুণ-যুব সম্প্রদায়ের কাছে। সারাবিশ্বের ভুক্তভোগী সংবেদনশীল মানুষের কাছে। নিজের দেশের অসহনীয় অস্বস্তিকর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর প্রতিরোধের শক্তি নিয়ে বিশ্বের প্রায় এক হাজার শহরে এই আন্দোলন দানা বেঁধেছে। নোয়াম চমস্কি এ আন্দোলনকে সমর্থন করে বার্তা পাঠিয়েছেন ‘জনগণের পক্ষে সম্মানজনক এবং দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ভূমিকা’ বলে।

সম্মানজনক কেন? কারণ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক শ্রেণীরাষ্ট্র-মুখপাত্ররা যেখানে পুরো সমাজকে ভোগবাদিতার চকচকে রঙিন চশমা দিয়ে দুনিয়াকে দেখানোর প্রচেষ্টায় দিনরাত আহাজারি করছে; পণ্যভোগকে ধর্মের স্থানে ঠাঁই দেওয়ার প্রচেষ্টায় মত্ত যেখানে `TINA’ (There is no Alternative)-র অনুসারীরা সেখানে সে বেড়াজালকে ছিন্ন করে ‘মানুষ’ পরিচয়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা দুঃসাহসিকই বটে। এই মানুষ প্রমাণ করেছেন, রাষ্ট্র যতই ক্ষমতাধর কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, জনগণের অসাধ্য কোনো কিছু নেই। নাহলে, বিশ্বের সবচাইতে ‘দুর্ধর্ষ’ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে এহেন কাজ কীভাবে সম্ভব? সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়; এটা প্রমাণ করেছেন ‘শতকরা ৯৯’-এর প্রতিনিধিরা।

Occupy Wall St.


কেন পুঁজিতান্ত্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে বিদ্রোহের নতুন ঠিকানা তৈরি হলো? এই কি প্রথম? তা তো নয়। নভেম্বর ১৯৯৯তে সিয়াটলে, এপ্রিল ২০০১-এ কিউবেক সিটিতে ‘পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বায়নবিরোধী’ বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই পর্বে পূর্বের আন্দোলনের দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতাকে অনেক ক্ষেত্রে অতিক্রম করে সচেতনতা-ধরণ-ধারণ-বিস্তৃতি-ব্যাপকতার নতুনমাত্রা নিয়ে এই আন্দোলন আরো শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আন্দোলন এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চেতনার ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে। এটা ঠিক এই আন্দোলনে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। এখানে যেমন শ্রমিক আছেন, তেমনি বেকাররাও আছেন। আছেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, পরিবেশবাদী, স্টাডি গ্রুপ, সংস্কৃতিকর্মী। বিপক্ষে; ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, ধর্মযাজক, স্টক এক্সচেঞ্জ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।

যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলনের গতি বিস্তৃত হয়েছে যে জগত তৈরি করেছিল করপোরেট তার আপন মুনাফাবৃদ্ধির স্বার্থে। সে প্রযুক্তিই তার জন্য কবর রচনা করতে যাচ্ছে। করপোরেট রাষ্ট্রের ভয়ও সে কারণে মারাত্মক। এই ভীতি থেকেই ন্যায্য এবং যুক্তির শক্তি নিয়ে দাঁড়ানো আন্দোলনকে দমন করতে উদ্যত। হামলা-মামলা-ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দমনমূলক নীতি নিয়ে তারা যে ‘পুলসেরাতের পুল’ পার হতে পারছে না তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের জুকোটি পার্কে অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব, ব্যাংক বন্ধকি সংকট ও করপোরেট লোভের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পর্তুগালের লিসবনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামে। তারা স্লোগান দেয়- ‘ঋণের দায় আমাদের নয়, আইএমএফ বেরিয়ে যাও’। এ আন্দোলন এখন নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া পর্যন্ত। সারা বিশ্বের হাজার শহরে; পাঁচজন থেকে পাঁচ হাজার, পঞ্চাশ হাজার, লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হচ্ছেন আপন আপন স্থানে।

স্লোগানের নতুন নতুন ভাষা তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন বক্তব্য। ‘আমরা ৯৯ শতাংশ’, ‘আমরা আমাদের দেশকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এসেছি’। ‘আমরা হারিয়েছি, ব্যাংক বেইল আউট পেয়েছে’, ‘সারাদিন, সারা সপ্তাহ ওয়াল স্ট্রিট দখল করুন’, ‘করপোরেট সাম্রাজ্য জাগ্রত এবং সচেতন মানুষকে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’ ‘৯৯ শতাংশ মানে বৃহৎ সংখ্যা, যারা হারতে পারে না।’ ‘ব্যাংকারদের গ্রেফতার কর, আমাদের নয়।’ ‘প্রাইভেট ব্যাংক সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে, জনগণ নয়।’ ‘আমাদের চাকরি কোথায়?’ ‘এটি আমাদের দেশ-একে আমরা দখল করবো, এগুলো আমাদের রাস্তা-এগুলো আমরা দখল করবো, আমরা এখানে আছি এবং আমরা ক্রমশ বাড়ছি-চল সবাই একসঙ্গে দখল করি।’ ‘আমাদের যা পাওনা আমরা তা বুঝে নেই।’

এই বিদ্রোহের প্রয়োজনীয়তা কেন তা স্লোগানের ভাষার মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়।

ক্রিস হেজেস যিনি একজন লেখক-সাংবাদিক, পূর্ব ইউরোপের অনেক ধরনের গণআন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী এবং ‘অকোপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশগ্রহণকারী; তিনি বলছেন, ‘আমি এই আন্দোলনে এসেছি ভেতরের তাগিদ থেকে। কারণ, করপোরেশনগুলো আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাথা-মগজ দখল করে নিয়েছে। দখল করে নিয়েছে তাদের স্বতবা। এ আন্দোলন তার বিরুদ্ধে।…যখন এই ধরনের আন্দোলন মাথা তুলে দাঁড়ায় সেখানে করপোরেট দখলের বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে প্রকৃত সত্যটাই সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের আন্দোলন যখন তৈরি হয় তখন যে মানুষ যে সমাজে বসবাস করছে সে সমাজের প্রকৃত চিত্রটাকে পরিষ্কার করে তুলে ধরে। তুলে ধরে সমাজের বৈষম্য, ক্ষমতাবানদের দেŠরাত্ম্য-অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা এবং আন্দোলন অনেকটা ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স’ ধরনের কাজ করে- কারণ এ আন্দোলনের যে শক্তি তা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথায় গিয়ে এর শেষটা দাঁড়াবে তা পূর্বে থেকে অনুমান করা যায় না।..সমাজের এলিট গোষ্ঠী, নীল পোশাকধারী পুলিশ প্রশাসন, মাথা-মগজ নিয়ন্ত্রণের ম্যাকানিজম; কেউ এ আন্দোলন আশা করে না। কিন্তু বিধি বাম, ইতিহাস তাদের নির্ধারিত পথে চলে না এবং শেষ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের কারণে ক্ষমতাবানরা হয়ে পড়ে প্রতিরোধহীন।’

‘করপোরেট ডাকাত হানা দিয়েছে দ্বারে, তাকে প্রতিরোধ কর’ প্ল্যাকার্ড হাতে ২০/২২ বছরের একজন তরুণ বলছেন, ‘আমরা এখন আর করপোরেটের হাতে বন্দি হতে চাই না। রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ আমরা চাই না। এই অর্থ সারা বিশ্বের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে; নিয়ন্ত্রণ করছে প্রাকৃতিক সম্পদ, সমস্ত জীবন-মান।’ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই তরুণ-যুব সমাজের অংশ। কয়েকজনের সাক্ষাৎকার সংবলিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তারা বলছেন, ‘ব্যাংক এবং এক্সনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ঘাড়ে চেপে আমাদের নিংড়ে নিচ্ছে। আমরা যারা সমবেত হয়েছি তারা এ প্রক্রিয়ার বিপক্ষে।’….‘মধ্য প্রাচ্যে যখন কোনো আন্দোলন হয় তখন মিডিয়া সেটাকে খামচে ধরে প্রচার করে। কারণ, সেখানে তাদের স্বার্থ আছে। সরকারি স্বার্থের সঙ্গে তাদের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু যখন নিজের দেশের উঠানে করপোরেট স্বার্থ-শোষণবিরোধী একটি ন্যায্য আন্দোলন হচ্ছে তখন সেটি প্রচার করতে তাদের অনীহা। কারণ, এতে তাদের মুনাফা স্বার্থ বাধাগ্রস্ত হয়।’…‘শাসকরা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জুয়া খেলছেন এবং এই বিষয়টি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে হচ্ছে। এটা তো কোনোভাবেই আমি মেনে নিতে পারি না।’…‘সরকার আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা আমাদের জীবনকে কোনো পরোয়াই করে না। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’ চাকরিজীবী একজন পৌঢ় বয়সের, তিনি সেদিনই উপস্থিত হয়েছেন আন্দোলনে। তার উপলব্ধি হলো, ‘এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা বলছেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কথা। এটা ঠিক। এদের কারণে আমরা আমাদের কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’ ৩০/৩২ বছরের একজন বেকার যুবক অসহনীয় অবস্থায় থেকেও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি আমার চাকরি হারিয়েছি। হারিয়েছি হেলথ ইন্স্যুরেন্স। সামাজিক নিরাপত্তা জাল যেটি সরকারের দেওয়ার কথা ছিল বেকার অবস্থায় তার সবকিছু এখন আমার আয়ত্তের বাইরে। কিন্তু এর জন্য আমরা কর প্রদান করি। বিপরীতে এখন অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ভর করেছে। আমি আমার এই কথাগুলোই বলতে এসেছি এখানে।’…‘যখন আমাদের জীবন-মান সব চলে যাচ্ছে অল্প কিছু সম্পদলোভী হায়েনার হাতে তখন আমরা আর কী করতে পারি। যখন আমাদের করের অর্থে ভোগ-বিলাসে মত্ত গুটিকয়েক লোক যারা সমাজের ১%, তখন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে না দাঁড়ানোর কি কোনো কারণ আছে? আমাদের করের অর্থে চালানো হচ্ছে যুদ্ধ, মানুষ মরছে, আমরা হচ্ছি বেকার’।

এ কথাগুলো শুধু আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নয় বরং মার্কিন মুল্লুক এবং পুঁুজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অধীনস্ত সব দেশের মানুষের। যার কারণে এর ঢেউ সারাবিশ্বে আছড়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। যার চেহারা আমরা দেখছি বিশ্বব্যাপী। শারীরিক-মানসিক-প্রাযুক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজস্ব স্বর এবং সুর নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের দখল-আধিপত্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা, সমাজের সিংহভাগ মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে, ‘আমরা শতকরা ৯৯’। রক্তাক্ত হচ্ছে কিন্তু আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে পারছে না ক্ষমতাধর প্রশাসন। গায়ে ‘কাঁদা’ লাগানোতে অনীহা মূল ধারার করপোরেট মিডিয়ার। এজন্য একদিকে আমরা দেখি লিবিয়ায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ নামক তেল দখলের যুদ্ধের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাহিনী যত না ফলাও করে প্রচার করা হয়; লিবিয়ার তথাকথিত বিদ্রোহী এনটিসির যুদ্ধ জয়ের খবর যত না আগ্রহ সহকারে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে; তার সিকিভাগের একভাগ গুরুত্ব পায় না জনগণের ন্যায় এবং ন্যায্য আন্দোলন। তার বিপরীতে ‘শতকরা ৯৯’কে আড়ালে রাখায় মরিয়া হয়ে উঠতে দেখি! উপরন্তু করপোরেট মিডিয়ার ঘাড়ে এখন ‘সমাজতন্ত্রের ভূত’ চেপে বসেছে। এ ভূত ঘাড় থেকে নামানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে কিন্তু কোনোভাবেই নামাতে পারছে না। কী মার্কিন, কী বাংলাদেশে। আদল আলাদা, রক্তের ধারা এক। কিন্তু এ বিদ্রোহের বিশেষত্ব এই যে, করর্পোরেট মিডিয়ার মুখ পানে চেয়ে বসে নেই বিদ্রোহীরা। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগের মতো সামাজিক মিডিয়াকে অবলম্বন করে আন্দোলনকে বিস্তৃত করতে তৎপর। যদিও এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু, এই শক্তিকে রুখবে কে?

বাংলাদেশেও একচেটিয়া পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন চলছে। সম্পদ এবং সম্মান যা বিভিন্ন মেয়াদের সরকারের সময় জনগণের হাতছাড়া হয়েছে তাকে জনগণের হাতে ফেরৎ আনার আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর সঙ্গে সংহতি এবং সম্পর্ক সেখানেই। ভিন্ন দেশ কিন্তু দখল-আধিপত্যবিরোধী গণআন্দোলনের সুরটি অভিন্ন। শোষণের মূল ধর্মটি যেখানে এক সেখানে প্রতিরোধ-বিদ্রোহের ভাষার মূলে ঐক্য থাকবে সেটিই স্বাভাবিক। mehedihassan1@gmail.com [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

ঢাকা, অক্টোবর ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গরিবী হটাও আন্দোলন’ এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নূরুল হক মেহেদী বলেন, “এ আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিশ্বের শ্রমজীবী-মেহনতী মানুষের আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে। এ আন্দোলনের ঢেউ আমাদের অধিকার বঞ্চিত মানুষদের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘অতিমুনাফা’র প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এ আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্বের ৮০টি দেশের ৯৫১টি শহরে একযোগে প্রতিবাদে নামে এ আন্দোলনের সমর্থকরা।

ঢাকার সমাবেশে কমরেড মেহেদি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুনেত্র ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গরিবী হটাও আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের সভাপতি খায়রুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মাহবুব।
সমাবেশ শেষে মিছিল করেন তারা।

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life

অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সত্ত্বেও আরো গোপন তথ্য ফাঁস: উইকিলিকসে বাংলাদেশ বিষয়ে ২১৮২ নথি


অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সত্ত্বেও আরো গোপন তথ্য ফাঁস

সবকিছুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী :অস্ট্রেলিয়া

যৌন অপরাধের মামলায় প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার হওয়া সত্বেও থামানো যাচ্ছে না তার সাড়া জাগানো সৃষ্টি ওয়েবসাইট-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের লাখ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে দুনিয়াজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলা উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ মঙ্গলবার ব্রিটেনে গ্রেফতার হন। সুইডেনের একটি গ্রেফতারি পরোয়ানায় তাকে আটক করা হয়। দু’জন মহিলার উপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ আগেই পরোয়ানা জারি করেছিল।

তবে অস্ট্রেলিয়া বলেছে, উইকিলিকসে আড়াই লাখ কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নন। অ্যাসাঞ্জকে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তার দেশ অস্ট্রেলিয়া। খবর বিবিসি, এপি ও এএফপির।

যৌন অপরাধের অভিযোগ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ব্রিটেনে গ্রেফতার হলেও গতকাল বুধবার তার প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস আরো গোপন তথ্য ফাঁস করেছে। ওয়েবসাইটের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, সামনে আরো গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আনবে উইকিলিকস। উইকিলিকস মুখপাত্র ক্রিস্টিন রাফসোন টুইটারে এক ক্ষুদ্রবার্তার সহায়তায় গতকাল বলেন, নতুন আরো গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। আমাদের মিডিয়া পার্টনাররা সময়মতো এগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবে। করপোরেট সেনসরশিপ আরোপ করে কিংবা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। উইকিলিকস অনলাইনে আছে। সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটটি ৫০০ এর বেশি স্থান থেকে অনুলিপি করা আছে। তাই সাইটটি বন্ধ হবার আশংকা মিথ্যা।’ উইকিলিকস সর্বশেষ যে গোপন তথ্য ফাঁস করেছে তাতে আছে ব্রিটেন-লিবিয়া কুটনৈতিক সম্পর্ক, লকারবি বোমারু মেগরাহি ইসু্য, সৌদি যুবরাজ সম্পর্কিত তথ্য, ইত্যাদি।

মঙ্গলবার লন্ডন পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, অনৈতিক বলপ্রয়োগের একটি ধারা, যৌন নিপীড়নের দুইটি ধারা ও ধর্ষণের একটি ধারায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এ অপরাধগুলোর সব কয়টি ২০১০ সালের আগস্টে ঘটেছে। একারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দায়ী ঃ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রাড বলেছেন, উইকিলিকসে আড়াই লাখ কূটনৈতিক নথি ফাঁস হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নন। কেভিন রাড বলেন, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রবাহে তার সম্পর্কে যে সমালোচনা হয়েছে করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। কেভিনের এ অবস্থানকে সমর্থন করেছেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। কেভিনের মন্তব্যেরও প্রশংসা করে গিলার্ড বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছেন।’

উইকিলিকসের স্রষ্টা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ লন্ডনে গ্রেফতার

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ


অবশেষে প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় দোসররা। দুই সুইডিশ নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বর্তমানে বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করা ওয়েবসাইট ‘উইকিলিকসের’ স্রষ্টা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে। বিবিসি, পিপিআই।
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রিটেনে বসবাসকারী অ্যাসাঞ্জ মঙ্গলবার তার আইনজীবীদের নিয়ে লন্ডনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এর পরই তাকে সুইডেনে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের আওতায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। তাকে এরপর ওয়েস্ট মিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তোলা হয়। সেখানে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। আদালতে অ্যাসাঞ্জ জানান, তাকে জোর করে সুইডেনে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন তিনি। এদিকে আদালতে পাঁচ বিশিষ্ট ব্রিটিশ নাগরিক অ্যাসাঞ্জের জামিনদার হতে চান। এদের মধ্যে রয়েছে প্রখ্যাত সাংবাদিক জন পিলগার, সমাজকর্মী ও কিংবদন্তী ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা। ৩৯ বছর বয়স্ড়্গ অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক অ্যাসাঞ্জ একজন পেশাদার কম্পিউটার হ্যাকার। পেন্টাগনসহ মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করে বিশ্ব রাজনীতির লাখ লাখ গোপন তথ্য বের করে আনেন তিনি। এরপর উইকিলিকস নামক ওয়েবসাইটটি তৈরি করে ওইসব তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন অ্যাসাঞ্জ। ফাঁস হয়ে যায় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথিত ধারক ও বাহক যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নানা গোপন কাহিনী। জনগণ আঁতকে উঠেন ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র অত্যাচার-নির্যাতনের কথা শুনে। কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানের কুকীর্তির তথ্য ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের নিজেদের ইশারায় নাচায় এ তথাকথিত বন্ধুপ্রতিম দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক নোংরা কাহিনী ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আঁতে ঘা লাগে এই বিশ্ব পরাশক্তির। হুমকি-ধমকি দিয়ে উইকিলিকসকে ডোমেইন বরাদ্দ দেয়া প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করে তাদের ডোমেইন প্রত্যাহার করে নিতে। এতে সফলও হয় তারা। বন্ধ হয়ে যায় উইকিলিকস। কিন্তু তা মাত্র কয়েকঘণ্টার জন্য। এরপর ওয়েব ঠিকানা সামান্য পরিবর্তন করে আবারও সচল হয় উইকিলিকস। এরই মধ্যে ২০০৯-এ সুইডেনে দায়ের হওয়া ওই যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অ্যাসাঞ্জ অবশ্য বরাবরই নিজেকে নির্দোষ ও একে যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো নাটক হিসেবেই দাবি করে আসছিল। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়ের পরম বন্ধু সাদ্দামকে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানো এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গেরিলাযুদ্ধ পরিচালনার জন্য নিজেদের সৃষ্টি করা তালেবান ও আল কায়দাকে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার পর নির্মূল করতে উঠেপড়ে লাগা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ইতিহাস ঘাটলে অ্যাসাঞ্জের দাবিকে চিরায়ত সত্যের মতোই মনে হবে। তবে ঘটনা যাই হোক, সত্যের জয় হবে এমনই প্রত্যাশা সবার।

————————————————————————————————————————
বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার
তথ্য ফাঁস নয়, অভিযোগ যৌন নিপীড়নের

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটেনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে লাখ লাখ মার্কিন গোপন তথ্য ফাঁসের জন্য নয়, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তথাকথিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগে। গতকালই তাকে আদালতে হাজির করার পর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় উইকিলিকসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এতে আমাদের গোপন ফাইল প্রকাশ বন্ধ হবে না। খবর বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স ও অন্যান্য সূত্রের।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় লন্ডনের পুলিশ গতকাল সকালে তাকে গ্রেফতার করেছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড আরো বলেছে, অ্যাসাঞ্জ নিজেই তার আটকের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। লন্ডন পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অনৈতিক বলপ্রয়োগের একটি ধারা, যৌন নিপীড়নের দু’টি ধারা ও ধর্ষণের একটি ধারায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ অনলাইন পত্রিকাটির সম্পাদক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। সব অপরাধ ২০১০ সালের আগস্টে ঘটেছে।’ এর আগে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সুইডেন সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
আলজাজিরা জানায়, মিডিয়ার খবরে বলা হয়, আগস্টে সুইডেন সফরকালে অ্যাসাঞ্জ দুই নারীর সাথে শুয়েছিলেন। তাদের একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সুইডিশ পত্রিকা একটি অদ্ভুত তথ্য জানায়। বলা হয়, সম্মতিক্রমেই সেক্স শুরু হলেও শেষটা নাকি হয় ‘বলপূর্বক’। তবে পেন্টাগনের মদদে এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ওই নারী প্রত্যাখ্যান করেন। এএফপি জানায়, ওই দুই নারী ছিলেন উইকিলিকসের স্বেচ্ছাসেবী। অ্যাসাঞ্জ চলতি বছরের প্রথম দিকে বেশ কিছু দিন সুইডেনে ছিলেন।
অ্যাসাঞ্জ অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে এটিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারকে তার আইনজীবী বর্ণনা করেছেন রাজনৈতিক চমক হিসেবে।
গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা পর গতকালই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। কালো গাড়িতে করে তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার সময় রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল বলেও বিভিন্ন সূত্র জানায়।
সুইডিশ কৌঁসুলিরা অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েও বেশ জটিলতায় পড়েছেন। প্রথমে তারা যে মামলাটি করেছিলেন, সেটা তারা প্রত্যাহার করেন। তারপর আবার তারা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন।
উইকিলিকসের মুখপাত্র হরাফনসন গতকাল রয়টার্সকে বলেন, অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হামলা। উইকিলিকস কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আগের মতোই একইভাবে কাজ করে যাবো। জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে না।
এর আগে অ্যাসাঞ্জ নিজেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, তাকে গ্রেফতার করা হলে তার সহকর্মীরা আরো ভয়াবহ তথ্য ফাঁস করে দেবে। তার কাছে গুয়ানতানামো বেসহ মারাত্মক সব তথ্য এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক লোকের প্রাণহানির ভিডিওচিত্রও আছে বলে তিনি দাবি করেন। উইকিলিকসের মুখপাত্র বলেন, উইকিলিকস লন্ডন ও অন্যান্য গোপন স্থান থেকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বিবিসি জানায়, গ্রেফতারের আগে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী মার্ক স্টিফেনস জানিয়েছিলেন, ‘পুলিশের কাছে তার স্বেচ্ছায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’ তিনি জানান, তার মক্কেল অভিযোগগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান। সোমবার রাতে ব্রিটিশ পুলিশ তাকে জানিয়েছিল, তারা সুইডিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পেয়েছে।
মার্ক স্টিফেনসের উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা জানায়, উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসে ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রই এসব অভিযোগ উত্থাপনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।
অ্যাসাঞ্জের লন্ডনভিত্তিক আইনজীবী জেনিফার রবিনসন বলেন, তার মক্কেল তাকে সুইডেনে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ প্রতিরোধ করবেন। কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। তবে আইনি জটিলতা থাকায় তাকে শিগগিরই সুইডেনে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না বলে আইনজীবীরা দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ইরাক, আফগান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ গোপন নথি উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হলে বিপাকে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পাইপলাইন, যোগাযোগ ও পরিবহন, ক্যাবল লোকেশন, স্যাটেলাইট ও বিএই সিস্টেম প্লান্টসহ বেশ কিছু গোপন স্থাপনার তালিকা প্রকাশ করে উইকিলিকস। এতে ওই সব স্থাপনা এখন সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার মুখে রয়েছে। এসব তথ্য ফাঁসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে অন্য দেশগুলোর কাছে দুঃখও প্রকাশ করতে হয়। আরো অনেক বিশ্বনেতার তোপের মুখেও পড়েন জুলিয়ান।
৩৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জকে আশ্রয় না দিতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ওয়াশিংটন আহ্বান জানায় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। সোমবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ যুক্তরাজ্যসহ স্পর্শকাতর অবস্থানের তথ্য ফাঁস করায় উইকিলিকসের সমালোচনা করে বলেছিলেন, তারা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পলিন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে রক্তমাখা হাতে মার্কিনবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনেন। অ্যাসাঞ্জের নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছ থেকেও তার সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ইতোমধ্যে অ্যাসাঞ্জের সমালোচনা করেছেন। তিনি নথি প্রকাশকে বেআইনি কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ইন্টারনেট সার্ভিস যোগানদাতা প্রতিষ্ঠান উইকিলিকসকে সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা সুইস সার্ভার নিতে বাধ্য হয়। সোমবার সুইস কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অ্যাসাঞ্জ তার আবাসস্থল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে এক সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জ এক লাখ ইউরো হারিয়েছেন। পোস্ট ফিনান্সের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সাথে সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ তার স্থায়ী নিবাস হিসেবে জেনেভা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তার সুইজারল্যান্ডে বসবাসের কোনো প্রমাণ না থাকায় তিনি পোস্ট ফিন্যান্সের সাথে ভোক্তার সম্পর্ক রাখার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে ব্যাংক তার অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অধিকার রাখে।
উইকিলিকস এক বিবৃতিতে জানায়, গত সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিশোধের বড় প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল জার্মান দাতব্য সংস্থা ওয়াও হল্যান্ড ফাউন্ডেশনের ৬০ হাজার ইউরো জব্দ করেছে। এ প্রতিষ্ঠান পরোক্ষভাবে উইকিলিকসকে সহায়তা করে থাকে।
সম্প্রতি ওবামার পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করে অ্যাসাঞ্জ বলেন, যদি দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের গোয়েন্দা লাগানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, যিনি এমন কাজের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি যদি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে দেখতে চান তাহলে তাকে পদত্যাগ করা উচিত।
প্রকাশিত ওই নথিগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো, জাতিসঙ্ঘের কর্মকাণ্ড গোপনে মনিটরিং করা, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে বলা হয়েছিল তিনি যেন জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার টেলিফোন, ই-মেইল ও ক্রেডিট কার্ডসহ যাবতীয় বিষয়ে গোয়েন্দা লাগিয়ে রাখেন।
চমস্কির স্বাক্ষরঃ এএফপি জানায়, বিখ্যাত মার্কিন বুদ্ধিজীবী, ভাষাতাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কি উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পক্ষাবলম্বন করে তাকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়ান গিলার্ডের কাছে পাঠানো একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজির (এমআইটি) অধ্যাপক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচক নোয়াম চমস্কি ওই চিঠিতে গিলার্ডকে তিনি এ বিষয়ে দৃঢ়তাপূর্ণ বিবৃতি দেয়ার জন্যও বলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন আইনজীবী, লেখক ও সাংবাদিক এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বংশোদ্ভূত অ্যাসাঞ্জকে লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান সহিংস বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বাক্ষরকারীরা বলেন, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জে স্প্যারো ও মানবাধিকার আইনজীবী লিজি ও’শেরার লিখিত চিঠিটিতে গিলার্ডকে অবাধে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

————————————————————————————————————————
উইকিলিকসে বাংলাদেশ বিষয়ে ২১৮২ নথি

কালের কণ্ঠ, Sun 5 Dec 2010
ওয়েবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিসহ গোটা বিশ্বের যে আড়াই লাখ নথি ফাঁস করার মিশনে নেমেছে, তার মধ্যে দুই হাজার ১৮২টি বাংলাদেশবিষয়ক। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত উইকিলিকস তার ওয়েবসাইটে ৬৮৩টি নথি প্রকাশ করেছে। বাকিগুলো গুরুত্ব বুঝে পর্যায়ক্রমে আগামী কয়েক মাসে প্রকাশ করা হবে বলে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ১৯৬৬ সাল থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেশটির ২৭৪টি দূতাবাসের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া নথি ওয়েবসাইটটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য নথিগুলোর উৎস দেখানোর জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখচিত্রে (গ্রাফ) ৪৫টি দূতাবাস স্থান পেয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৩৭ নম্বর অবস্থানে আছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

উইকিলিকস সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশিত ও প্রকাশিতব্য নথির মধ্যে আট হাজার ৩২০টি চীনবিষয়ক, সাত হাজার ৯৫টি আফগানিস্তানবিষয়ক, পাঁচ হাজার ৮৭টি ভারতবিষয়ক এবং চার হাজার ৭৭৫টি পাকিস্তানবিষয়ক। গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রকাশিত নথির চারটিতে বাংলাদেশের নাম এসেছে। এগুলোর মধ্যে দুটি প্যারিসের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে এবং বাকি দুটি ইসলামাবাদের দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো। ইসলামাবাদের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো নথিতে বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার আস্তানা থাকতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের দূতাবাস থেকে পাঠানো নথিতে ২০০৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিবেদনের বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মরক্কো থেকে আসা কমপক্ষে ২০ জন ইমামকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা এতে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ২০০৬ সালে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের নথিতে বাংলাদেশসহ ৯টি দেশে ডিএনএ পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো নথিতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের ব্যাপারে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত ফাঁস হওয়া এমন সাতটি নথি রয়েছে যেগুলোর অনুলিপি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে এসেছে। এগুলো হলো শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিষয়ে ‘শ্রীলঙ্কা ওয়ার ক্রাইম অ্যাকাউন্টিবিলিটি : দ্য তামিল’, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারকে চাপে রাখার বিষয়ে ‘টেরর ফিন্যান্স : এমবাসি প্রেসেস গভর্নমেন্ট অব পাকিস্তান অন ইউএন ১২৬৭’, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার না করতে আমেরিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের কাছে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের অনুরোধ বিষয়ে ‘মোশাররফ টেলস ম্যাককেইন : ডোন্ট পুল আউট ফ্রম ইরাক’, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল স্কুমেকার এবং দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক বিষয়ে ‘প্রেসিডেন্ট মোশাররফ ব্রিফস জেনারেল স্কুমেকার অ্যান্ড’, আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি রিচার্ড বাউচারের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক প্রসঙ্গে ‘মোশাররফ টেলস বাউচার অ্যাবাউট পাকিস্তানস প্ল্যান ফর’, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি সভার স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক বিষয়ে ‘প্রেসিডেন্ট মোশাররফ মিটস স্পিকার পেলোসি’ এবং ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার আস্তানা থাকতে পারে বলে ধারণা পোষণ বিষয়ে ‘প্রিজার্ভিং ইনফরমেশন শেয়ারিং’

—————————————————————————————————-
নিজেদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ

প্রথম আলো, Sun 5 Dec 2010
উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোপন বার্তা প্রকাশের পর থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অ্যাসাঞ্জ বলেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা যেকোনো হুমকি থেকে নিজেদের বাঁচাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গত শুক্রবার অজ্ঞাত স্থান থেকে অনলাইনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এসব কথা বলেন। তাঁর এ সাক্ষাৎকার ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে অ্যাসাঞ্জ নতুন করে আরও তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছেন, ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন) ও অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্যও তিনি প্রকাশ করবেন। তিনি তরুণ মার্কিন সেনা ব্রাডলি ম্যানিংকে �অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক� বলে আখ্যায়িত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার এই সেনাই সে দেশের গোপন দলিলপত্র উইকিলিকসের কাছে পাচার করেছেন। পুলিশ চলতি বছরের মে মাসে ম্যানিংকে গ্রেপ্তার করে।

অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁকে কেউ হুমকি দিলে তা হত্যার প্ররোচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, �আমাদের জীবনের হুমকির বিষয়টি সবারই জানা। পরাশক্তির সঙ্গে পেরে উঠতে এ বিষয়ে আমরা যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।� নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী বলেছেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তরের সব প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, বিদেশি শক্তিগুলো সুইডেনকে এ ব্যাপারে প্রভাবিত করছে।
এদিকে সুইডেন কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এরই মধ্যে ব্রিটেনের কাছে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজপত্র হস্তান্তর করেছে। ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ মাইক হুকাবি বলেছেন, যে ব্যক্তিই গোপন মার্কিন দলিল প্রকাশ করুক না কেন, তার বিচার করতে হবে।
আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন দলিল প্রকাশ করে উইকিলিকস বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলে। সর্বশেষ তারা বিপুল পরিমাণ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশ করে। এ নিয়ে উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে পড়ে।

এর পর থেকেই তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অ্যাসাঞ্জ দাবি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিল ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ সম্ভবত দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কোনো এক জায়গায় অবস্থান করছেন। ব্রিটেনের পুলিশ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছে।

—————————————————————————————————-

আত্মপক্ষঃ রহস্যজনক প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস

এবনে গোলাম সামাদ

সম্প্রতি উইকিলিকস (WikiLeaks) ওয়েবসাইট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। এসব গোপন তথ্য উইকিলিকস কিভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছে সেটা বিস্ময়কর। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, আরো অনেক রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করছে উইকিলিকস। তাই উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য যে বানোয়াট, তা কোনো রাষ্ট্রই বলছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল পাকিস্তানের পরমাণু চুল্লি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার এটা হতে দেয়নি। উইকিলিকস এই তথ্য ফাঁস করেছে পাকিস্তানের একজন সরকারি মুখপত্র বলেছেন, উইকিলিকসের দেয়া তথ্য যথার্থ। উইকিলিকসের ফাঁস করা সব তথ্যই মনে হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ আর এর আছে দালিলিক ভিত্তি। কী করে একটি প্রতিষ্ঠান এত দলিল সংগ্রহ করতে পারল, সেটা অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে বিস্ময়কর।

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জি (Julian Assange) একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তার জন্ম সে দেশে। অ্যাসাঞ্জি বলেছেন, তার সাথে সর্বক্ষণ কাজ করে মাত্র পাঁচজন। আর এ ছাড়া যারা কাজ করে তারা কেউই সার্বক্ষণিক নয়। প্রায় ৮০০ লোক পৃথিবীর নানা দেশ থেকে সহযোগিতা করছে অ্যাসাঞ্জিকে। উইকিলিকস নাম দুটো শব্দকে একত্রে মিলিয়ে তৈরি। উইকি (Wiki)শব্দটা হাওয়াই দ্বীপের ভাষা থেকে পাওয়া। শব্দগত অর্থ হলো দ্রুত। আর খপথর শব্দটা ইংরেজি। এর একটা মানে হলো ফাঁস করা। শব্দগত অর্থে তাই উইকিলিকস বলতে বোঝাচ্ছে ‘দ্রুত ফাঁস করা’। অ্যাসাঞ্জি ঘোষণা করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানত বিভিন্ন দেশের সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস করা। যাতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে সেসব দেশের মানুষের কাছে হতে হয় জবাবদিহিতার মুখোমুখি। উইকিলিকস বস্তুনিষ্ঠভাবে বিভিন্ন দেশের সরকারের স্বরূপ করে চলবে উন্মোচন।

উইকিলিস প্রতিষ্ঠানের মালিক অ্যাসাঞ্জি নন। এর মালিক হলো সানশাইন প্রেস (The Sunshine Press)। উইকিলিকস শুরু হয়েছে ২০০৬ সালে। কিন্তু মাত্র এই কয় বছরে তা হয়ে উঠেছে বিশেষ আলোচ্য ও তথ্যের উৎস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের New York Times, বিলাতের The Guardian, জার্মানির Der Spiege , এবং ফ্রান্সের Le monde Gog এসব পত্রিকা খুবই নামকরা। আর হালকা ধরনের নয়। এসব পত্রিকায় ছাপানো হচ্ছে উইকিলিসের ফাঁস করা তথ্য। আর বিভিন্ন দেশের পাঠক সমাজের কাছে তা গৃহীত হচ্ছে নির্ভরযোগ্য হিসেবে। উইকিলিকস সম্প্রতি ফাঁস করেছে, সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন, সে যেন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আঘাত করে। বাদশা আবদুল্লাহ চেয়েছেন ইরানের পরমাণু স্থাপনার ধ্বংস। উইকিলিকসের দেয়া এই তথ্য ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে নিশ্চয় সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটাবে। খবরটি এমনই এক সময় উইকিলিকসের পক্ষ থেকে ফাঁস করা হলো, যখন বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ইরান ও সৌদি আরব তাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে ইচ্ছুক।

উইকিলিকস দাবি করেছে, তার হাতে আছে আফগানিস্তানের ওপর ৭৬ হাজার ৯০০ দলিল, যা সে প্রকাশ করবে আফগানিস্তান সম্পর্কে মার্কিন নীতিকে উন্মোচিত করার জন্য। উইকিলিকস বলেছে, চীনের লক্ষ্য হচ্ছে দুই কোরিয়াকে এক করে একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং সেখান থেকে মার্কিন সৈন্যের অপসারণ। উইকিলিকস সেটা বলেছে, চীনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গোপন বক্তব্য উদ্ধৃৃত করে। প্রশ্ন উঠেছে উইকিলিকস এত সব গোপন তথ্য কী করে সংগ্রহ করতে পারছে? এসব তথ্য সংগ্রহ করতে নিশ্চয় তার ব্যয় করতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তার এই অর্থের উৎস জানা যাচ্ছে না। সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, তথ্য প্রচারের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক ব্রাডলি ম্যানিংকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গোপন তথ্য দিয়েছেন অ্যাসাঞ্জিকে। অ্যাসাঞ্জি বলেছেন, ব্রাডলি ম্যানিংয়ের মামলার সব খরচ তিনি বহন করবেন উইকিলিকসের পক্ষ থেকে। এই মামলায় প্রচুর অর্থ লাগবে। অ্যাসাঞ্জি এই অর্থ কোথা থেকে পাবেন তা নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রশ্ন। অর্থাৎ উইকিলিসককে যে ধরনের প্রতিষ্ঠান বলা হচ্ছে সে তা নয়। এর পেছনে আছে একটা শক্তিমান চক্র। যারা সাহায্য করে চলেছে অ্যাসাঞ্জিকে।

উইকিলিকসের কোনো সদর দফতর নেই। উইকিলিকসের কাজ চলেছিল সুইডেনকে নির্ভর করে। কিন্তু সুইডেনে অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যৌন হয়রানির। অ্যাসাঞ্জির বয়স ৩৯। তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। অনেকে বলছেন, অ্যাসাঞ্জিকে বিপাকে ফেলার জন্যই করা হয়েছে এই মামলা। প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে, তিনি একজন যৌন বিকারগ্রস্ত মানুষ। শোনা যাচ্ছে অ্যাসাঞ্জি এখন আছেন বিলাতে, কিন্তু বিলাতের পুলিশ নাকি তাকে ধরতে আগ্রহী নয়। তাই তিনি এখনো ধরা পড়েননি। বিলাতের পুলিশ কেন তাকে ধরতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট নয়। অ্যাসাঞ্জিকে মনে হয় রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে কোনো বিশেষ মহল থেকে। উইকিলিকসের জন্ম বেশি দিন হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে এর কর্মকা । কিন্তু ইতোমধ্যেই তা প্রতিষ্ঠা পেতে পেরেছে একটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সে দেশে অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে গোপন তথ্য চুরি করার অভিযোগে। কিন্তু অ্যাসাঞ্জি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থেকে এই কাজ করনেনি। তাই মার্কিন আদালতে এই মামলার বৈধতা নিয়ে থাকবে প্রশ্ন। অন্য দিকে ব্রিটেনে তার বিপক্ষে কোনো মামলা করা যাবে না, কারণ তিনি ব্রিটেন থেকে কোনো তথ্য চুরি করেননি। এ ছাড়া ব্রিটেনের আইন বলে (বিল অব রাইটস-১৬৮৯ খ্রিঃ) মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সংবাদপত্রে বিলাতে কোনো খবর ছাপাতে বাধা নেই। বিলাতের আইনে তাই অ্যাসাঞ্জিকে বলা যাচ্ছে না কোনোভাবেই অপরাধী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আইন আছে খবর জানার অধিকারের। অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা উঠলে নিশ্চয় এই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে গোপন তথ্য সংরক্ষণের কড়াকড়ি। কিন্তু তথাপি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস হতে পারছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সচিব) বলেছেন, অ্যাসাঞ্জি যা করছেন তা হলো তথ্য সন্ত্রাস। আর এই তথ্য সন্ত্রাসের ফলে কেবল যে মার্কিন স্বার্থই বিপন্নই হচ্ছে তা নয়, তার মিত্রদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। ফলে বিশ্বশান্তি বিপন্ন হতে পারে। বিপন্ন হতে পারে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা। অ্যাসাঞ্জি ঘোষণা করেছেন, উইকিলিকসের হাতে আছে এমন দলিলপত্র যা প্রকাশিত হলে মানুষ জানতে পারবে মার্কিন ব্যাংক ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা। তিনি এসব দলিল প্রকাশের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। অ্যাসাঞ্জি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কী করে এত দূর ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারলেন, সেটা থাকছে অজ্ঞাত। সে যা হোক, উইকিলিকস হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বের পত্রপত্রিকার বিশেষ খবর। উইকিলিকস যদি বিভিন্ন দেশের খবর ফাঁস করে চলতে পারে, তবে নিশ্চিতভাবেই তা প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে বিশ্ব রাজনীতির ধারাকে।

লেখকঃ প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info