পুলিশের অপরাধ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ


১লাখ ৫০ হাজার অভিযোগ: মানুষের কাছে আইনরক্ষাকারীরা এখন আতঙ্ক

পুলিশের অপরাধ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ

ঢাকা প্রতিনিধি: পুলিশকে রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। সমাজের অপরাধ দমনের জন্য। এই অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের, সেই পুলিশ দিনদিনই অপরাধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। দিনদিনই হয়ে উঠছে বেপরোয়া। ঘুষ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, নির্যাতন, ব্লাকমেইলিংয়ের পাশাপাশি খুনের মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দফতরে এ ধরনের ১ লাখ ৫০ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে আছে।তবে প্রকৃত অপরাধের ঘটনা আরো অনেক বেশী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া আদালতেও পুলিশের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলাও ঝুলে আছে। ্তবে পুলিশ সদস্যদের শাস্তি পেতে হয় না। বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা উঠিয়ে নিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ আছে। এ অবস্থায় পুলিশ-সদস্যরা ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠছে। পুলিশ এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।

পুলিশ সদর দফতরে সূত্রে জানা যায় ২০১০ সালে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১১ হাজার পুলিশের শাস্তি হয়েছে। এসব শাস্তির মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুতি, বরখাস্ত, পদাবনতি, ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ব্যবস্থা। মোট অভিযোগের তুলনায় শাস্তির ঘটনা খুবই নগন্য।

ট্রন্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল, বাংলাদেশের জরীপে পরপর দুবার পুলিশকে দেশের সবচেয়ে দূনীতিবাজ বাহিনী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপরেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ যেমন ডাকাতি, ছিনতাই, খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছে, তেমনি ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকারও হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় অর্থের লোভে পুলিশ এ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে বলা হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অপরাধ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তবে এসব অপরাধের জন্য অল্পসংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তাকেই শাস্তি পেতে হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, খোদ রাজধানীতেই পুলিশ সদস্যদের নানা অপরাধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গত মাসে ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড় থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তিন যুবককে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তিনজনেরই দুই হাত পেছনে ও পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। এ ছাড়া দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। রাজধানীর উপকণ্ঠ আমিনবাজারে ছয় কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করর ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে মাদক ব্যাবসায়ী ও পুলিশের যোগসাজসে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। পরে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ নিহত ছয় ছাত্রকে ডাকাত প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠে। পুলিশের সহায়তায় পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতারের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করা হয়। পরে ওই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসিসহ তিন পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মিরপুর থানার ওসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা হয়েছ। আবদুল কাদের মিয়া নামে একজন বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন। মিরপুর থানার সাবেক ওসি জাকির হোসেন মোল্লা, উপ-পরিদর্শক আবদুল আজিজ ও আবু বকরের বিরুদ্ধেও ঢাকার সিএমএম আদালতে ঘুষ গ্রহণ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে মামলা হয়।। মতিঝিল থানার ওসিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়। থানায় অপহরণের মামলা করতে গেলে মতিঝিল থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা নিলেও আসামি গ্রেফতার না করে উল্টো বাদীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয় পুলিশ। এদিকে আরেক ঘটনায় রামপুরা থানার ওসির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্য রাখার অভিযোগও রয়েছে একই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। পল্টন থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ফুটপাতে চাঁদাবাজিসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। মগবাজারের সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী বাবুল গাজীকে হত্যার অভিযোগে রমনা থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ, দুই সোর্সসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা হয়েছে। পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ইয়াকুব ও সহকারী উপ-পরিদর্শক আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন পল্লবীর ফুটপাতের এক কাপড়-বিক্রেতা। কদমতলী থানাধীন দনিয়া বাজারে চাঁদার টাকা আনতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হন তিন পুলিশ কনস্টেবল। কেরানীগঞ্জ থানায় আটক হাজতিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে ওসি ও দুই উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা হয় ঢাকার সিএমএম আদালতে। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কমার্স কলেজের ছাত্র মোমিনকে তাদের উত্তর ইব্রাহীমপুরের বাসার সামনে খুনের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত।

নিরীহ তরুণকে ডাকাত বানিয়ে গণধোলাইয়ের মাধ্যমে হত্যা করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। হত্যা ও হত্যাকান্ডে সহযোগিতার অপরাধে পুলিশসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে নোয়াখালীর ২ নম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহকে ক্লোজড, এসআই আকরাম শেখ এবং দুই কনস্টেবল আবদুর রহিম ও হেমারঞ্জন চাকমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গত মাসে ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড় থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তিন যুবককে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তিনজনেরই দুই হাত পেছনে ও পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। এ ছাড়া দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। রাজধানীর উপকণ্ঠ আমিনবাজারে ছয় কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে মাদক ব্যাবসায়ী ও পুলিশের যোগসাজসে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। পরে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ নিহত ছয় ছাত্রকে ডাকাত প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠে। পুলিশের সহায়তায় পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতারের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করেন খিলগাঁও থানার ওসি হেলাল উদ্দিন। পরে ওই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসিসহ তিন পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশ সদস্যরা ডাকাতি করতে যেয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাদের ঘেরাও করে গণধোলাই দিয়ে আটক করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের ছাড়িয়ে আনাকে কেন্দ্র করে থানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পুলিশের এসপি ও জেলার ডিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক আইজি এস এম শাহজাহান বলেন, অপরাধের দায়ে সাধারণ মানুষের চেয়ে পুলিশের শাস্তি বেশি হওয়া উচিত। কারণ পুলিশকে রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন তাদের শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা মনে করেন, পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার বন্ধ না হলে তাদের অপরাধও বন্ধ হবে না।

পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি অবশ্য বলেন দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে আমি ভাবে মনে করি না।

পুলিশ সদর দফতরের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ জমা পড়ে, সেগুলোর তদন্ত পুলিশই করে থাকে। যে কারণে অভিযোগের তদন্ত সঠিকভাবে হয় না। পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর শাস্তি হয়েছে, এমন নজির কম। এসব ক্ষেত্রে কনস্টেবল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের শাস্তি পেতে হয় বেশি।

এ কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীরা পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে না পেরে আদালতের আশ্রয় নেয় মানুষ। আদালতে মামলা হলেও পরে তা আর বেশি দূর এগোয় না। পুলিশের চাপে ভুক্তভোগীরা মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা শাস্তি না পাওয়ায় পুলিশ বেপরোয়া হতে থাকে।

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com

মানুষ সহজে ভুলে যেতে পারে না তার শিকড়। নিজেকে সে শক্ত এক বাঁধনে বেঁধে রাখতে চায় বিচ্ছিন্ন সেই সত্তার সঙ্গে। তার ভয় হয়, এই বিশ্বাস হারিয়ে গেলে সে হয়ে পড়বে অবলম্বনহীন। -লিও টলস্টয়


লিও টলস্টয় মৃত্যুশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি
‘জীবন কী’ বলছেন টলস্টয়

Count Lev Nikolayevich Tolstoy

Count Lev Nikolayevich Tolstoy

“Boredom: the desire for desires.” Count Leo Lev Nikolayevich Tolstoy
Leo Tolstoy
Count Lev Nikolayevich Tolstoy, commonly referred to in English as Leo Tolstoy (September 9, 1828 – November 20, 1910) was a Russian novelist, writer, essayist, philosopher, Christian anarchist, pacifist, educational reformer, vegetarian, moral thinker and an influential member of the Tolstoy family.
Read Letter to a Hindu, which spurred a friendship between Tolstoy and Gandhi, one of 20 of his works available in several languages, including Tagalog, free from Project Gutenberg.

লিও টলস্টয় : জন্ম : ৯ সেপ্টেম্বর, ১৮২৮; মৃত্যু : ২০ নভেম্বর ১৯১০

আমার জীবনটা আসলে কী? পরিণত বয়সে পেঁৗছে বিশ্বখ্যাত লেখক লিও টলস্টয় নিজেই নিজেকে এমন এক কঠিন প্রশ্ন করে বসলেন। হেতু? কারণ, ততদিনে তার মনে হয়েছে, এ হলো এমন এক প্রশ্ন যার সদুত্তর না মেলা পর্যন্ত লেখালেখি দূরে থাক, জীবনটাই হয়ে পড়ে অর্থহীন।

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ যার হাত ধরে বেঁচে থাকছে এবং তার তাবৎ শক্তি ও সামর্থ্য যার পেছনে বিনিয়োগ করছে তার নাম জীবন। এ জীবনকে তারা যেভাবে উপলব্ধি করছে তার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হচ্ছে তাদের সব কর্তব্য ও করণীয়। এ বোধ থেকে তারা স্থির করে, কোন বিষয়গুলো না হলেও ভালোই দিন চলে যাবে তার, আবার কোন বিষয়গুলো না হলে আক্ষরিক অর্থেই অচল হয়ে যাবে তার জীবন। শুধু কি তাই, পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে যাবে বর্তমান জীবনের কোনো কোনো ঐশ্বর্য, সেগুলোও ঠিকঠাক করে দেয় জীবন সম্পর্কে তার এ অভিজ্ঞান।

জীবন সম্পর্কিত মহাগুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার শুরুতেই টলস্টয় তার ‘জীবন সম্বন্ধে’ গ্রন্থে জানিয়ে দেন, প্রতিটি মানুষ বেঁচে থাকে শুধু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য, একান্ত তার নিজের ভালোর জন্য। একজন মানুষের কাছে বেঁচে থাকার অর্থ প্রতিমুহূর্তে সর্বোচ্চ ভালো থাকার কামনা লালন করে চলা এবং পর্যায়ক্রমে সেই লক্ষ্যকে ছুঁয়ে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে আমার প্রশ্ন করতে পারি, কিসে একজন মানুষের উত্তম নিহিত? সে কি জানে না তার সব আনন্দই ক্ষণস্থায়ী এবং তার নিজের কাছে সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ_ সেই ব্যক্তিত্বেরই অবধারিত পরিণতি হচ্ছে দুর্ভোগ এবং মৃত্যু! অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে এ ব্যক্তিত্বের বাইরে অস্তিমান যে জীবন, একমাত্র তা-ই স্থায়ী। যদিও অধিকাংশ মানুষের কাছে তার ব্যক্তিগত চাওয়ার সাপেক্ষে এ ‘বহিঃস্থ জীবন’ স্রেফ অর্থহীন এক উচ্চারণ, যা আদৌ তার কাছে কোনো আবেদন বহন করে না।

অতএব একজন মানুষ যে জীবনকে তার একমাত্র জীবন বিবেচনা করে এবং স্থির বিশ্বাসে তাকে যাপন করে চলে, প্রকৃত অর্থে তা অলীক এবং অসম্ভব। বরং তার ‘বিখ্যাত’ ব্যক্তিত্বের বাইরে অস্তিমান জীবন_ যাকে সে জানে না, অনুভব করে না এবং ভালোবাসে না_ সেটাই তার প্রকৃত জীবন।’

টলস্টয় গভীরভাবে লক্ষ্য করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় গুরুগণ বিরতিহীনভাবে মানুষকে বলে বেড়ান পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব আর এর বিপরীতে ধর্মীয় আচারাদি পালনসাপেক্ষে মৃত্যু পরবর্তী উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতির কথা, অথচ অধিকাংশ মানুষ কদ্যপি তাদের বিশ্বাস করে না। তাদের এ অবিশ্বাসের অন্যতম কারণ, খোদ ধর্মগুরু কিংবা পেশাজীবী ধর্মাত্মারা পার্থিব আনন্দ বর্জনের পরিবর্তে বরং আরও বেশি করে তা অর্জনের লক্ষ্যেই অধিক সচেষ্ট থাকেন। তারা ডুবে থাকেন আরও বেশি ক্ষমতা, আরও বেশি বিনোদনের লক্ষ্যে অবিরাম এক খেয়োখেয়ির মধ্যে। পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা যেতে পারে এখানে, ইহলোকে একজন মানুষের যাপিত জীবন যদি অর্থহীনই হয়, সেক্ষেত্রে কোন যুক্তিতে অর্থপূর্ণ হতে পারে পরকালে তার যাপিতব্য জীবন?
প্রচলিত বিজ্ঞান আমাদের শেখায় দেহকোষের কার্যকলাপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত থাকে মানবজীবন। বিজ্ঞান এসব কোষের কার্যকলাপের ব্যাখ্যা সন্ধান করে। অথচ এটাই সত্য, ভালোর লক্ষ্যে নিবেদিত মানুষের বাস্তব জীবনের রহস্য উদ্ঘাটনে সে পুরোপুরি অক্ষম।

‘এবং আমাদের বেঁচে থাকতেই হবে। যাপন করে যেতে হবে এ জীবন। কিন্তু কী সেই জীবন? প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা এবং ঘুমুতে যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে কৃত অজস্র কার্যকলাপের সমষ্টিই জীবন। প্রতি মুহূর্তে আমাকে যেতে হচ্ছে এক ধরনের বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সম্ভাব্য আরও এক শো কাজের মধ্য থেকে বেছে নিতে হচ্ছে আমার কাজটি। কিন্তু আমার পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কীভাবে সম্ভব যখন আমি নিজেই জানি না কোনটি আমার জন্য ভালো আর কোনটি খারাপ।’

Divine and Human stands apart as both a landmark in literary history and a master-piece of spiritual and ethical reflection. Suppressed in turn by the tsarist and Soviet regimes, the tales contained in this book have, for the most part, never been published in English until now. Emerging at last, they offer western readers fresh glimpses of novelist and philosopher Leo Tolstoy.

Divine and Human stands apart as both a landmark in literary history and a master-piece of spiritual and ethical reflection. Suppressed in turn by the tsarist and Soviet regimes, the tales contained in this book have, for the most part, never been published in English until now. Emerging at last, they offer western readers fresh glimpses of novelist and philosopher Leo Tolstoy.

সারাজীবন আঁতিপাতি করে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরেছেন টলস্টয়। ধ্রুপদী দার্শনিক আর কাব্বালাদের লেখাপড়ার জন্য শিখেছেন গ্রিক এবং হিব্রু। জীবনের সংজ্ঞা জেনেছেন কনফুসিয়াস আর লাও জি, ভারতীয় বেদ, বুদ্ধের বাণী, ইহুদি ঋষি এবং যিশুখ্রিস্টের কাছ থেকে। অবশ্য সবার মাঝে খ্রিস্টের সংজ্ঞাটাই তার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। অন্য সমস্ত সংজ্ঞাই একাকার হয়ে যায় তার এ উপলব্ধির কাছে এসে যে, জীবন হচ্ছে ঈশ্বরপ্রেম এবং তোমার প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম। যা কিছু ভালো তা অন্যের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত জীবনের প্রকৃত তাৎপর্য।

‘ঈশ্বর’ বিষয়ক ধারণায় পেঁৗছাতে গিয়ে টলস্টয় উপলব্ধি করেছেন চৈতন্যের স্বরূপ। এ উৎস চেতনাকেই তার মনে হয়েছে মানবজীবনের প্রকৃত সার। তার মনে হয়েছে মানবজীবন আর ইতর প্রাণীর জীবন এক নয়। এ শুধু জীবনের প্রকাশ, এর উপরিকাঠামো। দৈহিক জন্ম কিংবা মৃত্যুর সঙ্গে এ জীবন শেষ হয়ে যায় না। বরং জীবন হচ্ছে বিচিত্র প্রকাশের মধ্য দিয়ে চৈতন্যের এক অবিরাম প্রবাহ। প্রতি মুহূর্তে যা এক রূপ থেকে বদলে জন্ম নিচ্ছে আরেক রূপে। ‘মানুষ যতই চেষ্টা করুক কখনোই সে জানতে পারবে না কোথা থেকে তার শুরু,’ জানান টলস্টয়। এ কথার অর্থ, চৈতন্য অবস্থান করে এমন এক অবস্থানে যা সময়েরও অগম্য।

টলস্টয়ের দর্শন অনুসারে ঈশ্বরকে বুঝতে হবে সময়হীন সীমাহীন এক চৈতন্য হিসেবে। এর মধ্যেই পাওয়া যাবে জীবনের অর্থ। মানুষ যখন তার নিজের জীবনে আবিষ্কার করে এই চৈতন্য, সে তখনই উপলব্ধি করে তার নিজের ভেতরকার ঈশ্বর। এই চৈতন্য, ঈশ্বর, মূলত অখণ্ড। চেতন মানুষ কখনোই বুঝতে পারে না কোথা থেকে সে এলো। বরং সে উপলব্ধি করে বিচিত্র যত চেতনাপ্রবাহের মধ্যে মিশে থাকা তার নিজের চৈতন্য, যা তার একমাত্র জীবন।

অথচ শর্তসাপেক্ষ ছাড়া ব্যক্তিকে খণ্ডরূপে বিচার অসম্ভব। বোধগম্য, ব্যক্তিগত ভালোত্ব এক অলীক ধারণা। আমরা যদি নিজেদের ভালো প্রথমে চাই এবং তারপর অন্যের কাছ থেকে এমন ভালো আশা করি যা আমাদেরই মঙ্গল সাধন করবে_ এই চাওয়া অসম্ভব। কেননা, এ যুক্তি অনুসারে প্রতিটি মানুষ প্রথমত তার নিজের ভালোর কথাই চিন্তা করবে। এখান থেকে এ বিষয়টি অন্তত পরিষ্কার যে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে, শুধু নিজের ভালো চাওয়ার মধ্য দিয়ে সামগ্রিক ভালোর উৎপাদন অসম্ভব।

এর ঠিক বিপরীত এক পরিস্থিতির জন্ম হয় যখন মানুষ এই বৃহৎ ঐক্য এবং চেতনার অবাধ প্রবাহের মধ্যে আবিষ্কার করে তার নিজের স্বরূপ। এক্ষেত্রে একজন মানুষ তার নিজের মঙ্গলকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজেকে বিনিয়োগ করে অন্যের ভালো সাধনের নিমিত্তে। এখন, এই মানুষটি আশা করতেই পারে তার দেখাদেখি অন্য মানুষটিও একই কাজে উৎসাহিত হবে। আর এমন কিছু হলে তা হবে সামগ্রিক মানবজাতির জন্যই কল্যাণকর। অন্য কারও মঙ্গলের লক্ষ্যে নিজের চাওয়াগুলো বিসর্জন দেওয়ার অর্থই হচ্ছে আমি তার মধ্যে ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছি এবং তাকেই ভালোবেসেছি। খ্রিস্টের মতে, এই প্রেম ভালোকে নিশ্চিত করে। এই প্রেমের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা অর্জন করে মানবজীবন।

যুক্তিটি নিতান্তই সরল এবং বোধগম্য। মানবেতিহাস এমন অজস্র মানুষ পেয়েছে যারা এ উপলব্ধিকে নিয়মিত চর্চা করে গেছেন তাদের প্রাত্যহিক জীবনে। টলস্টয়ের বিশ্বাস ছিল, অধিকাংশ মানুষ শিগগিরই তাদের প্রাণীচৈতন্য থেকে জেগে উঠে এই সত্য আবিষ্কার করবে এবং হয়ে উঠবে প্রকৃত মানুষ। আর তা ঘটলে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ সেদিন সবেগে ধাবিত হবে এক মহাউত্তরণের লক্ষ্যে।

এসব গ্রন্থ টলস্টয় রচনা করে গেছেন আজ থেকে একশ বছর আগে। অথচ বর্তমান শতকে এসেও আমরা দেখছি অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে তার অনেক ভবিষ্যদ্বাণী। টলস্টয় পরবর্তী এই গোটা সময়টা মানুষ অন্ধের মতো নিজেকে নিরত রেখেছে যুদ্ধ আর সংঘাতের মাঝে। ব্যক্তিগত চাহিদা চারিতার্থ করতে গিয়ে বাসঅযোগ্য করে তুলেছে পৃথিবীটাকে। তবু শেষ হয়নি তাদের দুর্নিবার যুদ্ধাকাঙ্ক্ষা। কেন এমন হলো? কেন তারা ব্যর্থ হলো টলস্টয়ের প্রত্যাশা পূরণে? এ সম্পর্কেও বলে গেছেন তিনি নিজেই।

একজন মানুষ কখন, জীবন কী, এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়? প্রাণিসত্তা থেকে যখন তার উত্তরণ ঘটে এবং সে উপনীত হয় মানবচৈতন্যের স্তরে একমাত্র তখনই তার মধ্যে জন্ম হয় এ প্রশ্নের, জীবন কী? এটি ঘটার পর আর কোনোভাবেই সে ফিরে যেতে পারে না তার পূর্ববর্তী স্তরে। নতুন এ উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু ঘটে তার পূর্ববর্তী চৈতন্যের। যেমন, বীজ থেকে নতুন চারার প্রস্ফুটনের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় বীজের সমগ্র জীবন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠে নতুন চারাটি।

কিন্তু তবুও মানুষ সহজে ভুলে যেতে পারে না তার শিকড়। নিজেকে সে শক্ত এক বাঁধনে বেঁধে রাখতে চায় বিচ্ছিন্ন সেই সত্তার সঙ্গে। তার ভয় হয়, এই বিশ্বাস হারিয়ে গেলে সে হয়ে পড়বে অবলম্বনহীন। নিজেকে রক্ষার প্রাণিজ প্রবৃত্তি তাকে তাড়িত করে এ কাজ করার জন্য। একমাত্র এ কারণেই সে তার পূর্বপুরুষের এসব অর্জনকে দেখে সন্দেহের চোখে। যদি তাকে উপেক্ষা করা অসম্ভব হয়ে ওঠে তার জন্য, তখন সে তাদের পাগল বলে উপহাস করে। কখনও অপরাধী বিবেচনায় তাকে নিক্ষেপ করে কঠিন শাস্তির মধ্যে।

নিষ্ঠুর এ নিয়তি এড়াতে পারেননি এমনকি টলস্টয়। যদিও তিনি ছিলেন সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক। তার বক্তব্য শুনে রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ তাকে বহিষ্কার করে। প্রবীণ বয়সে রচিত তার সবচেয়ে প্রাজ্ঞ লেখাগুলো ব্যর্থ হয় মানুষের আদর কুড়াতে। অবাক হওয়ার কিছু নেই, বহু দশক ধরে খোদ রাশিয়ায় তাকে দেখা হতো অদ্ভুত এবং অবাস্তব ধারণা লালনকারী স্ববিরোধী এক বিচিত্র চরিত্র হিসেবে।

মানুষের সঙ্গে ধর্ম, বিজ্ঞান এবং সমাজের সম্পর্ক নিয়ে নিজের মতাদর্শ উদ্ঘাটন করেছেন টলস্টয়। চৈতন্যের যে স্তরে আমাদের যাবতীয় ভোগান্তি তা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের দেখিয়েছেন সেই পথ যার মধ্যে নিহিত রয়েছে সর্বপ্রাণীর মঙ্গল। নিজের প্রতি সততাবশত টলস্টয় তার প্রাত্যহিক জীবনে সেই চর্চা অব্যাহত রেখেছেন যা তিনি প্রচার করেছেন অপরের উদ্দেশে_ নূ্যনতম জাগতিক চাহিদা, নিজের সেবা এবং জীবনের প্রধান যে লক্ষ্য_ সেই ভালোবাসার সেবা করে চলা। এক কথায়, ভালোবাসা বেঁচে থাকে ভবিষ্যৎ নয়, আজকের এ মুহূর্তটির মধ্যে, এক মুহূর্তের কাজের মধ্যেই তার চিরকালীন বসবাস।
অনুবাদ :মিলটন মোললা, সমকাল, কালের খেয়া ১ ডিসেম্বর ২০১০ ইস্যু
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি, এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident bangladeshi, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রগাঢ় বেদনা চোখে নিয়ে/বন্ধু এসে বলে আজ তার/সাহায্য যে কতো দরকার/যখন মৃত্যুপুরী তারই দেশ। গিটারের সাহায্যে হৃদয় নিংড়ে দেওয়া আকুতি যিনি প্রকাশ করে গেছেন তার কি মৃত্যু আছে!


বাংলাদেশের বন্ধু
একরামুল হক শামীম

George Harrison

George Harrison

“When you’ve seen beyond yourself, then you may find, peace of mind is waiting there.” ~ George Harrison

বাংলাদেশ বাংলাদেশ_ পাশাপাশি বসিয়ে সুর দিলেই যে মানুষটির কথা মনে পড়ে তিনি জর্জ হ্যারিসন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও বুঝেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের হাহাকার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও উদ্বাস্তু মানুষদের সহায়তার জন্য একটি কনসার্ট আয়োজনের কথা ভেবেছিলেন রবিশঙ্কর। সেই ভাবনা জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগেই বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। জর্জ হ্যারিসন উদ্যোগী হয়ে জোগাড় করেছিলেন শিল্পীদের, নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়েছিলেন। নিজের ম্যানেজার এলন ক্লাইনকে পুরো অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। হ্যারিসন পরে লিখেছেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থা ও উদ্বাস্তুদের দুর্ভোগ সবাইকে উপলব্ধি করানোর জন্যই বাংলাদেশ গানটি লিখেছিলেন তিনি। এ রকম একটি গান লেখার প্রস্তাব করেছিলেন লিয়ন রাসেন। তিনবার খসড়া শেষে তৈরি হয় সেই গান : প্রগাঢ় বেদনা চোখে নিয়ে/বন্ধু এসে বলে আজ তার/সাহায্য যে কতো দরকার/যখন মৃত্যুপুরী তারই দেশ।

১৯৬৬ সাল থেকেই রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের বন্ধুত্ব। রবিশঙ্করের কাছ থেকে সেতার শেখেন হ্যারিসন। বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আয়োজন করেন ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক কনসার্টের_ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। ওই একবারই জর্জ হ্যারিসন তার তারকাখ্যাতি ও জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেছিলেন এবং তা করেছিলেন বাংলাদেশের জন্যই। এর জন্যই মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীখ্যাত শিল্পীদের এক মঞ্চে হাজির করা সম্ভব হয়েছিল। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ হাজির হয়েছিলেন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল ও রিঙ্গো স্টারের মতো শিল্পীরা। সুরের ঝঙ্কারে মাতিয়ে দিয়েছিলেন উপস্থিত শ্রোতাদের। বিটলস ভেঙে যাওয়ার পর এই কনসার্টই ছিল হ্যারিসনের সরাসরি অংশগ্রহণ করা প্রথম অনুষ্ঠান। কনসার্টের গানের একটি সংকলন কিছুদিন পরেই ১৯৭১ সালে বের হয় এবং ১৯৭২ সালে এই অনুষ্ঠানের একটি চলচ্চিত্র প্রকাশিত হয়। কনসার্ট ও অন্যান্য বিষয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৪৩,৪১৮.৫১ মার্কিন ডলার, যা ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের সাহায্যার্থে প্রদান করা হয়। পরে ২০০৫ সালে নতুন আকারে ডিভিডি প্রকাশ পায়। তাছাড়াও ১৯৮২ সালে একটি মার্কিন টিভি অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন কয়েক লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের শিশুদের জন্য।

১৯৪৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন জর্জ হ্যারিসন। তাকে বিশ্ববাসী চিনেছে বিটলসের একজন হিসেবে। চার বিটলস সদস্যের অন্যতম হ্যারিসন। মূলত তিনি বিটলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬০-এ শুরু হয়েছিল বিটলস নামের ব্যান্ডের যাত্রা। কয়েক বছরের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিটলস। সঙ্গীত যে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রাকে, সমাজ ও রাজনীতিকে নতুন স্রোতে প্রবাহিত করে দিতে পারে, তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল বিটলস। ১৯৭০ সালে ভেঙে যায় পৃথিবীখ্যাত এই ব্যান্ড দল। তারপরও একক শিল্পী হিসেবে জর্জ হ্যারিসনের খ্যাতি থেমে থাকেনি। ব্যক্তিগত জীবনে জর্জ হ্যারিসন কিছুটা অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলেন। কিছুটা রহস্যাবৃত থাকতেই ভালোবাসতেন তিনি। জন লেনন বলেছিলেন, জর্জ নিজে কোনো রহস্য নয়, কিন্তু ওর ভেতরে তো অনন্ত রহস্য।

The Concert for Bangladesh

The Concert for Bangladesh

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জন্য জর্জ হ্যারিসন কতটা করেছিলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই ভাবনা কখনও হয়নি। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের কথা, বাংলাদেশের মানুষের কথা। বিশ্ববাসীর সাড়া মিলেছিল দ্রুত। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে জর্জ হ্যারিসন কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান পাননি। কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হ্যারিসনকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। হাজার মাইল দূরে থেকে যে দেশটির জন্য প্রগাঢ় মমতায় সুরের আশ্চর্য ঝঙ্কার তুলেছিলেন নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ারে, সেই দেশ দেখার সুযোগ মেলেনি তার! অবশ্য বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি একটি উদ্যোগ নিয়েছে_ মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান। দেরিতে হলেও এটি একটি শুভ উদ্যোগ।

২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর ৫৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। বিটলস ব্যান্ডের একটি গানের শিরোনাম_ ‘হোয়েন আই অ্যাম সিক্সটি ফোর।’ কিন্তু সেই ৬৪-এর আগেই পৃথিবী ছেড়েছেন হ্যারিসন। কিন্তু গিটারের সাহায্যে হৃদয় নিংড়ে দেওয়া আকুতি যিনি প্রকাশ করে গেছেন তার কি মৃত্যু আছে! আজও তিনি স্মরণীয়। বাংলাদেশের মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে পরম কৃতজ্ঞতায়।
The Concert For Bangladesh was the event title for two benefit concerts organized by George Harrison and Ravi Shankar, held at noon and at 7:00 p.m. on August 1, 1971, playing to a total of 40,000 people at Madison Square Garden in New York City. Organized for the relief of refugees from East Pakistan (now independent Bangladesh) after the 1970 Bhola cyclone and during the 1971 Bangladesh atrocities and Bangladesh Liberation War, the event was the first benefit concert of this magnitude in world history. It featured an all-star supergroup of performers that included Ravi Shankar, Bob Dylan, Eric Clapton, George Harrison, Billy Preston, Leon Russell, Badfinger, and Ringo Starr.

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

পবিত্র কোরআনের আলো: পাপের পথ নেতিবাচক পথ। মানুষ পাপ করেও পাপের পথ থেকে ফিরে আসতে পারে।


পবিত্র কোরআনের আলো

পথ মূলত দুটিই, যারা যেভাবেই বেছে নিক

৮১. বালা-মান কাছাবা ছায়্যিয়াতাওঁ ওয়াআহাত্বাত বিহি খাতি-আতুহু ফাউলা-ইকা আছহাবুন্না-রি; হুম ফি-হা খা-লিদুন।

৮২. ওয়াল্লাজি-না আমানু ওয়া’মিলুচ্ছা-লিহাতি উলা-ইকা আছহাবুল জান্নাতি; হুম ফি-হা খা-লিদুন।

৮৩. ওয়াইজ আখাজনা-মি-ছা-ক্বা বানি ইছরা-ইলা লা তা’বুদু-না ইল্লাল্লাহা; ওয়াবিলওয়া-লিদাইনি ইহছা-নাওঁ ওয়াজিল ক্বুরবা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাছাকি-নি ওয়াকু-লু-লিন্নাছি হুছনাওঁ ওয়াআকি্ব-মুছ্ছালা-তা ওয়াআ-তুজ জাকা-তা; ছুম্মা তাওয়াল্লাইতুম ইল্লা ক্বালি-লাম্ মিনকুম ওয়ানতুম মু’রিদুন।

৮৪. ওয়াইজ আখাজনা-মি-ছা-ক্বাকুম লা-তাছফিকু-না দিমা-আকুম ওয়ালা-তুখরিজু-না আনফুছাকুম মিন দিয়ারিকুম ছুম্মা আক্বরারতুম ওয়াআনতুম তাশহাদুন। (সুরা বাকারা, আয়াত ৮১-৮৪)।

অনুবাদ

৮১. হ্যাঁ, যারা পাপ কামিয়েছে এবং পাপ তাদের ঘিরে রেখেছে, এমন লোকেরাই হচ্ছে জাহান্নামের বাসিন্দা, আর সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।

৮২. আর যারা ইমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তারা বেহেশতবাসী হবে, তারা সেখানে চিরদিন থাকবে।

৮৩. যখন আমি বনি ইসরাইলদের কাছ থেকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম যে তোমরা এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না, আর মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে, আত্মীয়স্বজন ও এতিম-মিসকিনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে; মানুষের সঙ্গে সুন্দর কথা বলবে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে এবং জাকাত দান করবে; অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে সামান্য কিছু লোক ছাড়া অধিকাংশই ফিরে গেছ; এভাবেই তোমরা অঙ্গীকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।

৮৪. তোমাদের কাছ থেকে আমি এ অঙ্গীকারও নিয়েছিলাম যে তোমরা পরস্পরে রক্তপাত ঘটাবে না এবং নিজদের লোকদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবে না, অতঃপর তোমরা তা স্বীকার করে নিয়েছিলে, তোমরা তো নিজেরাই এর সাক্ষী।

ব্যাখ্যা
এখানে জগদ্বাসীর প্রতি পথনির্দেশনায় দুটো মোটা দাগের পথের কথাই বলা হয়েছে। একটা হলো পাপের পথ। যারা পাপ করেছে এবং পাপের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তারা সেই জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। আর একটা হলো সৎপথ বা সঠিক পথ। যারা ইমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তারা বেহেশতবাসী হবে, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। প্রসঙ্গক্রমে এখানেও বনি ইসরাইলদের কথাই টেনে আনা হয়েছে।

বনি ইসরাইল সম্প্রদায় তাদের কিতাব ও নবীগণের মাধ্যমে যেসব নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল তার প্রধান প্রধান অংশের বিবরণ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ৮৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত কাজগুলো চিরায়ত ইসলামের কালোত্তীর্ণ শিক্ষা। হজরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আমল পর্যন্ত এ কাজগুলো আল্লাহর প্রতি মানুষের পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহাসিক বিবেচনায় বনি ইসরাইলরা এ শিক্ষায় বিশেষভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু সে জাতির অল্প কিছু লোক ছাড়া অনেকেই এর বরখেলাপ করেছে। ৮৪ নম্বর আয়াতে আরেক ধরনের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে, তা হলো শান্তির অঙ্গীকার। পরস্পরে যুদ্ধ নয়, বরং শান্তির পথ মেনে চলা। অথচ অন্যান্য কলহপ্রিয় জাতির মতো বনি ইসরাইলরাও এই অঙ্গীকার বারবার ভঙ্গই করেছে।

৮১ নম্বর আয়াতে পাপাচারীদের কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যারা পাপ কামিয়েছে এবং পাপ তাদের ঘিরে রেখেছে’_এর মর্মগত অর্থ হচ্ছে যারা পাপে লিপ্ত। পাপের পথ নেতিবাচক পথ। মানুষ পাপ করেও পাপের পথ থেকে ফিরে আসতে পারে। যারা পাপ করেছে এবং ফিরে আসেনি তাদেরকেই চিহ্নিত করা হয়েছে জাহান্নামি হিসেবে। অপরদিকে ইমান, সৎকর্ম ও জান্নাতের পথ হচ্ছে ইতিবাচক পথ। মানুষ এ পথে চলবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষ এ পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারে, তবে আবার ফিরেও আসতে পারে। সুরা ফাতিহায় আল্লাহ তায়ালা এ পথকে ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ বা সরল পথ বলে অভিহিত করেছেন।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

দিবাস্বপ্নেই বেশি সময় কাটে মানুষের ; জেগে থাকার ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ সময়ই মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে


দিবাস্বপ্নেই বেশি সময় কাটে মানুষের

দিবা স্বপ্ন

দিবা স্বপ্ন Day Dreaming

জীবনে স্বপ্ন থাকা ভালো। স্বপ্ন সজীবতার লক্ষণ। স্বপ্নহীন মানুষকে আপনি গন্ধহীন গোলাপের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। গন্ধ ছাড়া গোলাপের মহিমা কোথায়, বলুন তো?

চর ঘোরে রাতের স্বপ্ন অর্থহীন ঘটনার সমাহার মাত্র। সেদিকে মন না দেয়াই ভালো। সহি সোলেমানি খোয়াবনামার পাতা উল্টে উল্টে অনর্থক সময় নষ্ট। স্বপ্ন দেখতে হয় দিনে, কাজের ফাঁকে কিংবা কর্মহীন অবসরে। এই স্বপ্নই মানুষের মনে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়; তাকে প্রাণবন্ত ও আশাবাদী করে তোলে। অফুরান প্রাণশক্তি নিয়ে নবস্বপ্নে বলীয়ান মানুষ দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। গড়ে তোলে স্বপ্নে ছককাটা প্রাসাদের বাস্তব কাঠামো। তবে একটাই শর্ত—স্বপ্নটা যেন স্রেফ দিবাস্বপ্ন হয়ে না দাঁড়ায়। দিবাস্বপ্ন মানুষকে আপাত বিনোদন ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। তবে বিষয় হলো, মানুষের দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় দিবাস্বপ্নের অলীক প্রভাবে মগ্ন হয়ে। এটা শুধু অলস বা বেকারদের বেলায় নয়, মহা কর্মব্যস্ত মানুষটিও তার হাতের কাজটি নিয়ে না ভেবে দিনের অর্ধেকটা সময় দিবাস্বপ্ন দেখেই কাটিয়ে দেন। একটি মার্কিন গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র ওয়েবসাইট

২ হাজার ২শ’রও বেশি মানুষ মোবাইল ফোনে ছাড়া আবেদনপত্র ডাইনলোড করে উত্তর দেন। এর ভিত্তিতে দিনরাতের বিভিন্ন সময় তাদের চিন্তা-ভাবনার ধরন জরিপ চালিয়ে দেখা হয়। বিজ্ঞানবিষয়ক এ গবেষণায় বলা হয়, এমনকি জরুরি কাজের সময়ও দিনের ৩০ শতাংশ সময় দিবাস্বপ্ন দেখে কাটিয়ে দেন অধিকাংশ মানুষ। এ ধরনেরই আরেকটি জরিপের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, মানুষের মন খুব সহজেই বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর গবেষণা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আইফোনকে।

এখানে অংশগ্রহণকারীরা তারা কী করছেন, তালিকা থেকে তা চিহ্নিত করার ব্যাপারে সম্মত হন এবং এতে তিনি আনন্দিত নাকি বিষণ্ন, এ বিষয়েও তথ্য দেন।
অংশগ্রহণকারীদের উত্তরগুলো একত্রিত করার পর গবেষকরা জানতে পারেন, দিনের বেলা মানুষের মন কীভাবে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়।

দুই লাখ ৫০ হাজার গবেষণা ফলাফল একত্রিত করার পর গবেষকরা এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হন যে, জেগে থাকার ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ সময়ই মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে।

গবেষকদের একজন ড. ম্যাথু কিলিংসওয়ার্থ বলেন, ‘মানুষের মনের বিক্ষিপ্ত চিন্তা তার আর সব কাজকে ছাড়িয়ে গেছে। আসলে আমাদের মানসিক জীবন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।’

তবে দিনের বিভিন্ন সময় মন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ার সঙ্গে মানুষের সুখী হওয়ার প্রবণতার সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কাজের সময় যাদের মন বেশি বিক্ষিপ্ত থাকে, তারা অসুখী জীবন কাটানোর কথাই বেশি উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

তবে এই যে বিক্ষিপ্ত চিন্তা, এটা মানুষের অসুখী বোধের কারণ না ফলাফল—গবেষণায় এটা এখনও পরিষ্কার হয়নি।