বিশ্বের ৭ম বৃহৎ শ্রমশক্তি বাংলাদেশে


বিশ্বের ৭ম বৃহৎ শ্রমশক্তি বাংলাদেশে 

ইসমাইল আলী
Bangladesh’s growing workforce supports key export industries and generates remittances that contribute a significant amount to the economy. In 2010, Bangladesh was ranked as the 7th manpower exporting country and migrant workers remitted nearly US$ 11.6 billion in FY 2011. Bangladesh has also emerged as an exporting power house and the country’s growth in Ready Made Garments and Knitwear exports has been impressive. Link:

কিছু দিন আগেও বহির্বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা খবর নিত না। গরিব দেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ, অধিক জনসংখ্যার দেশ। যারা বাংলাদেশের এ রকম ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন, তারাই এখন বলছেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এখানে আছে বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রমশক্তির ভাণ্ডার। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টালিজেন্স ইউনিটের (সিআইএ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রমশক্তির আকারের বিচারে বিশ্বের ২২৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোয় সেসব দেশই অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে যাবে, যার শ্রমশক্তি ও ভোক্তার আকার যত বড়। পশ্চিমের দেশগুলো সে কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের নেতৃত্ব হারাবে এবং এশিয়ার দেশগুলো এগিয়ে যাবে। এখন প্রয়োজন মোটিভেশন এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে উত্পাদনশীলতা কয়েক গুণ বাড়ানো।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শ্রমশক্তি রয়েছে চীনে। বর্তমানে দেশটির শ্রমশক্তি ৮১ কোটি ৬২ লাখ। দ্বিতীয় স্থানে ভারত। দেশটির শ্রমশক্তি ৪৮ কোটি ৭৬ লাখ। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের শ্রমশক্তির পরিমাণ ২২ কোটি ৮১ লাখ। ১৫ কোটি ৩৪ লাখ শ্রমশক্তি নিয়ে চতুর্থ স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, ১১ কোটি ৭০ লাখ শ্রমশক্তি নিয়ে পঞ্চম স্থানে ইন্দোনেশিয়া ও ১০ কোটি ৪৩ লাখ শ্রমশক্তি নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ৭ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার শ্রমশক্তি নিয়ে ৭ম অবস্থানে বাংলাদেশ। শীর্ষ ১০-এর মধ্যে এরপর রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, জাপান ও পাকিস্তান।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বণিক বার্তাকে বলেন, শ্রমশক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানের অন্যতম। কারণ এর জনসংখ্যা বেশি এবং শ্রমশক্তির মধ্যে নির্ভরশীলতার হার হ্রাস পাওয়া। তবে শ্রমশক্তির দিক থেকে বৃহৎ শক্তি হলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশই বেকার। এ ছাড়া ন্যূনতম মজুরি, কাজের নিশ্চয়তা, শিক্ষার সুযোগ, চিকিত্সা সুব্যবস্থা না থাকায় শ্রমশক্তির বড় একটা অংশ সবসময় দেশ ত্যাগে আগ্রহী থাকে। তাই এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি দেয়া জরুরি।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশির ভাগ শ্রমিক অদক্ষ। কারণ তাদের দক্ষতার জন্য যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দরকার, তা তাদের নেই। শ্রমিকের দক্ষতার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে এটির সুযোগ কম। যেটুকু সুযোগ আছে তা আবার মানসম্পন্ন নয়। তা ছাড়া মানবসম্পদের দক্ষতা অনেক বেশি বিশেষায়িত হয়ে পড়েছে। দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদাও বেশি। তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারায় দেশে তাদের ধরে রাখতে পারছি না।’
অদক্ষ শ্রমিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বপ্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষ মানবসম্পদেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আমাদের তার অভাব রয়েছে।’
তবে সিআইয়ের প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের ভিন্নতা রয়েছে। বিবিএসের তথ্যমতে, বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ-২০১০ অনুসারে বাংলাদেশে শ্রমশক্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৩ কোটি ৯৫ লাখ ও নারী ১ কোটি ৭২ লাখ। তবে মোট শ্রমশক্তির বেশির ভাগই গ্রামে বাস করে। শহরের শ্রমশক্তির পরিমাণ ১ কোটি ৩৩ লাখ আর গ্রামের ৪ কোটি ৩৪ লাখ।
জনসংখ্যা বেশি হওয়া, মোট জনসংখ্যার মধ্যে কর্মক্ষম (১৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে) জনগোষ্ঠী বাড়া, নির্ভরশীল (১৫ বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের ওপরে) জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমা, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়া শ্রমশক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ২০০৫-০৬ সালের তুলনায় ২০১০-এ শ্রমশক্তি ২ কোটি ৯ লাখ বেড়েছে। এর মধ্যে তরুণ শ্রমশক্তি বেড়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ। তরুণ শ্রমশক্তির উল্লেখ্যযোগ্য বৃদ্ধি মোট শ্রমশক্তি বৃদ্ধিরও অন্যতম কারণ।
শ্রমশক্তি জরিপ-২০১০ অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় কর্মক্ষমের হার বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী শ্রমশক্তির অন্তর্ভুক্ত। ২০০৫-০৬ সালের জরিপ অনুসারে তা ছিল ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি বছর প্রায় ১৮ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া বর্তমানে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০১০ সালের জরিপ অনুসারে নারী শ্রমশক্তির পরিমাণ ৩৬ শতাংশ, ২০০৫-০৬ প্রতিবেদনে যা ছিল ২৯ দশমিক ২ শতাংশ।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব রীতি ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশে শ্রমশক্তি বাড়ছে। এর মূল কারণ এ দেশে নির্ভরশীলতার হার কমছে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। এমনকি কয়েকটি সামাজিক সূচকে ভারতের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এগুলোর সম্মিলিত প্রভাবে বাংলাদেশ শ্রমশক্তির দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিবিএসের হিসাবে মোট কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ৪১ লাখ। এর মধ্যে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আর মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। মোট কর্মজীবীর মধ্যে অবৈতনিক পারিবারিক সহযোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ; কৃষি, বনজ ও মত্স্য খাতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৫৭ লাখ ও দিনমজুরের সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ। সব মিলিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৩ লাখ আর প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ৬৮ লাখ। বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীদের মধ্যে কৃষি খাতে ৪৭ দশমিক ৩ ও অকৃষি খাতে ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়োজিত রয়েছে।
শ্রম অধিদফতরের শ্রম বিভাগের পরিচালক আবু সাইদ মো. খুরশীদুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বে শ্রমশক্তির দিক থেকে ৭ম অবস্থানে থাকলেও আমাদের দেশের শ্রমশক্তির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। ফলে শ্রমশক্তির ফলদায়ক ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদফতর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কাজ করছে। দেশী-বিদেশী উদ্যোগে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও কাজ করছে। তবে এখনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষা, চিকিত্সা, প্রশিক্ষণসহ অনেক ধরনের কাজ করতে হবে।’
এদিকে দেশে কর্মে নিয়োজিতদের মধ্যে মজুরি অনেক কম। মোট শ্রমশক্তির ৪২ দশমিক ৮ শতাংশের সাপ্তাহিক আয় ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশের সাপ্তাহিক আয় ১ হাজার ১ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। মাসিক আয়ের দিক থেকে ১১ দশমিক ৬ শতাংশের আয় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৯৯৯ টাকার মধ্যে। ১১ দশমিক ৮ শতাংশের মাসিক আয় ৮ হাজার থেকে ৮ হাজার ৯৯৯ টাকার মধ্যে। আর ২১ শতাংশের আয় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার ৪৯৯ টাকার মধ্যে।
 
২০১০ সালের তথ্যনুসারে, মোট শ্রমশক্তির ২৬ লাখ বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেকার। গত পাঁচ বছরে বেকারের হার কিছুটা বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সালের হিসাব অনুসারে, বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এদিকে মোট শহর অঞ্চলে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৫ ও গ্রামে ৪ শতাংশ। আর মোট শ্রমশক্তির ৫ দশমিক ৭ শতাংশ নারী ও ৪ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ বেকার। মোট শ্রমশক্তির মধ্যে শহর অঞ্চলে পুরুষ ও নারীর বেকারত্বের হার যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭ ও ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আর গ্রাম অঞ্চলে এ হার যথাক্রমে ৩ দশমিক ৬ ও ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে


তৈরি পোশাকের নয়াবাজারে ঢুকতে পারছে না বাংলাদেশ

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দারুণ চাহিদা। একই অবস্থা আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। তবে এসব দেশের নতুন বাজারে ঢুকতে পারছেন না দেশের তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তারা। সরকারি পর্যায়ে নানা জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পের বাজার প্রতিনিয়তই বাড়ছে। দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৭৮ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রফতানি হচ্ছে। সাড়ে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ শিল্পটি বাজার সম্প্রসারণের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় উদ্যোগগুলো কাজে লাগছে না।
এদিকে পোশাক শিল্পের নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে গত বছর বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে। এ ভ্রমণের ফলাফল হিসেবে সম্প্রতি শেষ হওয়া বাটেক্সপো মেলায় উপরোক্ত দেশগুলোর ক্রেতাদের অংশগ্রহণ এবং এদেশ থেকে তারা পোশাক কেনার জন্য স্পট অর্ডারও দিয়েছেন।
এবারের বাটেক্সপো মেলায় মোট ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার পেয়েছেন এদেশের পোশাক শিল্প মালিকরা। পাশাপাশি আরও ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু অর্ডার পেলেও সেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় রফতানি কার্যক্রম দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না।
যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে সেসব দেশে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা না থাকায় রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে বাংলাদেশকে প্রতি বছরই কোনো না কোনো বায়ার হারাতে হচ্ছে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩৯টি দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার রয়েছে।
একদিকে নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে যতই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিজিএমইএ, অন্যদিকে সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর লবিংয়ের অভাবে বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দূতাবাস না থাকায় দেশগুলোতে পোশাক রফতানি করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিএমইএর একটি সূত্র।
এশিয়ার অনেক দেশে দূতাবাস থাকলেও বাণিজ্যিক পরামর্শক না থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশেও পোশাক রফতানির অর্ডার পেয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দ্রুত ভিসাপ্রাপ্তি এবং দূতাবাসগুলোতে বাণিজ্যিক লবিস্ট না থাকার কারণে খুব সহজে রফতানি করতে পারেছেন না পোশাক শিল্প মালিকরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করতে পারবে এ দেশ। ফলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন; কিন্তু এখনও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের চোখে পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলিসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এ বাজার ধরে রাখার জন্য এবং সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সে দেশগুলোতে যেতে হয়। কিন্তু আমরা তা পারছি না। ফলে বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ নিটঅয়্যার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ বিষয়ে গতকাল আমার দেশকে বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর যেমন ইউরোপ-আমেরিকায় তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নতুন বাজারও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আফ্রিকার অনেক দেশ আছে যেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রফতানি হচ্ছে; কিন্তু এ সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারছে না।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

ব্রাজিলের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট


ব্রাজিলের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট

ব্রাজিলের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী বছরের শুরুতেই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মিজ দিলমার
ফ খ রু জ্জা মা ন চৌ ধু রী

Former Marxist guerrilla Dilma Rousseff to be Brazil's first female president

Former Marxist guerrilla Dilma Rousseff to be Brazil's first female president

[ ব্রাজিল : ব্রাজিল (পর্তুগিজ ভাষায়: Brasil ব্রাজ়িউ, আ-ধ্ব-ব: [bɾa’ziw]) দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং সারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও জনবহুল রাষ্ট্র।]
ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন পেশাজীবী ব্যুরোক্রেট মিজ দিলমা ভানা রুসোফ। ২০১০ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল বামপন্থি ওয়ার্কার্স পার্টি জয়ী হয়েছে বিপুল সংখ্যাধিক্যে। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা মিজ রুসোফ বেড়ে উঠেছেন তার ‘রাজনৈতিক অভিভাবক’ লুলা দা সিলভার ছায়ায়। তার দলের বাজারবান্ধব অর্থনীতি ও উদার সামাজিক কর্মসূচির কারণে ব্রাজিলের জনসাধারণ এখন সুখী, পরিতৃপ্ত।
একদা দূরবর্তী পর্তুগিজ উপনিবেশ ব্রাজিল আয়তন এবং জনসংখ্যার নিরিখে দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ও পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ। উত্তর ও দক্ষিণ_ এ দুই আমেরিকান মহাদেশের মধ্যে ব্রাজিল একমাত্র পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশ। আটলান্টিক মহাসাগর দেশটির পূর্বে অবস্থিত। এই সাগর তটরেখার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৬৫৫ মাইল। তটভূমির দৈর্ঘ্য দেশটির বিশালতা প্রমাণ করে।
আজকের সমৃদ্ধ দেশ ব্রাজিল এক সময় ছিল বঞ্চনা আর নানা রকম সামাজিক বৈষম্যের শিকার। পর্তুগিজ শাসক পেড্রো আল ভারেজ কাবরাল ১৫০০ সালে ব্রাজিলকে পর্তুগিজ কলোনিতে পরিণত করেন। ১৮২২ সালে ব্রাজিল পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করলেও দুঃশাসন, সামরিক শাসন দেশটিকে সমস্যা জর্জরিত করে রাখে।
বর্তমান সমৃদ্ধ ব্রাজিলের যাত্রা শুরু ১৯৭৪ সালে, যখন জেনারেল আর্নেস্টো গেইজেল ধীরে ধীরে দেশটিকে বেসামরিক শাসনাধীনে নিয়ে যান এবং ১৯৮৫ সালে দেশটিতে পুরোদমে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ব্রাজিল

ব্রাজিল


ফেডারেল রিপাবলিক অব ব্রাজিল আজ উন্নতির এতটা শীর্ষে পেঁৗছে গেছে সাবেক কলোনির মালিক পর্তুগালের হাত ধরে থেকে। পর্তুগিজ-ভাষী বিশ্বের নেতৃত্ব এখন ব্রাজিলের। ঔপনিবেশিক শক্তি পর্তুগাল বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু এক শক্তি আর একদা কলোনি ব্রাজিল উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে সমানতালে এগিয়ে চলেছে, এর এক মাত্র কারণ দেশটিতে ধারাবাহিক প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ব্রাজিল শুধু ফুটবলেই পরাশক্তি নয়, উন্নত দেশের মধ্যেও উদীয়মান শক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অর্থনীতি সমান্তরালে চলছে। আজ ব্রাজিল শুধু খাদ্য, বনজসম্পদ, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ নয়। উড়োজাহাজ সংযোজনের মতো অতি জটিল কাজটিও অনায়াসে করে চলেছে দেশটি। কানাডার মতো উন্নত দেশ তাদের বিমান সংযোজনের দায়িত্ব অর্পণ করে ব্রাজিলকে।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা একজন সার্থক প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিগত আট বছর দুই মেয়াদে ব্রাজিলে শাসনকার্য পরিচালনাকালে ব্রাজিল জাতিসংঘে এবং জি-২০-এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছে অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে। জাতিসংঘ এবং গ্রুপ অব টোয়েন্টি (জি-২০) নামক উন্নত বিশ দেশের গ্রুপের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা দেশ ব্রাজিলের কোনো প্রেসিডেন্টই বিশ্ব নেতৃত্বে আসার উচ্চাশা দেখাননি। নিজের দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্ব কাজ করেছেন নীরবে লো-প্রোফাইল বজায় রেখে।
এত যে সমৃদ্ধ দেশ ব্রাজিল, এর প্রচার শুধু শোনা যায় ফুটবল বিশ্বকাপ আর অন্যান্য বিশ্বমানের ফুটবল আসরের সময়। শুধু ফুটবলের কারণেও পরিচিত হতে নাকি ব্রাজিলিয়ানদের আপত্তি নেই। তাদের বিত্ত-বৈভব নিয়ে হৈচৈ করতে অভ্যস্ত নন ব্রাজিলবাসী! ব্রাজিল এখনও নিজেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ভাবতে অভ্যস্ত। যদিও ব্রাজিলের অর্থনীতি পৃথিবীর অষ্টম বৃহৎ অর্থনীতি এবং ক্রয়ক্ষমতার নিরিখে দেশটির বিশ্বময় অবস্থান নবম স্থানে।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ২০০৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ‘বোলসা ফ্যামিলিয়া’ (পারিবারিক ভাতা) ও ‘ফোমেজিরো’ (শূন্য হার অনাহার) নামে জনকল্যাণমুখী যে দুটি সামাজিক কর্মসূচির সূচনা করেন, তারই ফল আজকের সমৃদ্ধ ব্রাজিল।
প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করার আগে বর্তমান সময়টা দিলমা রুসোফ ব্যয় করছেন, যাকে বলে ‘হোমওয়ার্ক’ করে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে ইতিমধ্যে লুলা দা সিলভা সরকারের খনি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং চিফ অব স্টাফ হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট মনে করছেন না তিনি। পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট যেমন তাকে সহায়তা করছেন তেমনি তিনি অকুণ্ঠ সহযোগিতা-সমর্থন পাচ্ছেন তার সহকর্মীদের কাছ থেকে।
বুলগেরিয়া থেকে অভিবাসী হিসেবে গত শতকের চলি্লশ দশকে আসা স্কুল শিক্ষক পিতার কন্যা দিলমার জন্ম ব্রাজিলের বেলে হোরাইজোল্টের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৪৭ সালে। বাম আদর্শের প্রতি তিনি ঝুঁকে পড়েন তারুণ্যের দিনগুলোতে। ১৯৬৪ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর তিনি বামপন্থি গেরিলা দলে যোগ দিয়ে সেনা শাসনবিরোধী গেরিলা যুদ্ধে যোগ দেন। সরকারি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত নির্মম অত্যাচার ও কারাভোগ করেন দিলমা।
বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি পোর্টো আলেগ্রিতে নতুন জীবন শুরু করেন গত ৩০ বছরের জীবনসঙ্গী কার্লোস আরাউজোর সঙ্গে। তারা দু’জনে মিলে ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০০ সালে দুত্রা মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে লেবার পার্টি ছেড়ে তিনি প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
নতুন বছরের প্রথম দিনে মিজ দিলমা যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন, স্বাভাবিকভাবে তাকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ আসবে বামপন্থি থেকে ইভালজেলিস্ট খ্রিস্টানদের কাছ থেকেও। এই চ্যালেঞ্জ প্রাথমিকভাবে যদি তিনি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারেন, তাহলে সামনের দিনগুলো তার জন্য মসৃণ হবে।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার অনুসৃত কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তার সঙ্গে যদি পূর্বসূরির সংঘাত ঘটে, তা হলে মিজ দিলমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘোলাটে হতে পারে। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা অবশ্য ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন তার রাজনৈতিক উত্তরসূরির কাজে তিনি কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবেন না। কিন্তু ইতিমধ্যে সাও পাওলোর সংবাদপত্র ফোলহা দ্য সাও পাওলোতে খবর প্রকাশিত হয়েছে, প্রেসিডেন্ট লুলা বর্তমান অর্থমন্ত্রী ও সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরকে স্বপদে বহাল রাখতে মিজ দিলমাকে বলেছেন! পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এটি হতে পারে আগামী দিনে তার অব্যাহত হস্তক্ষেপের সূচনা!
মিজ দিলমার সরকারি কর্মপদ্ধতি বিগত সরকারের ছায়া থেকে অতিদ্রুত বের হয়ে আসবে_ এমনটি কেউ আশা করেন না। ইতিমধ্যে এক বেতার ভাষণে এ মর্মে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি তার ভাষণ শুরু করেছেন তার মহিলা পরিচয় তুলে ধরে। ‘হ্যাঁ, মহিলারা পারেন’ বলে তিনি তার ভাষণ শুরু করেন।
তিনি তার ভাষণে পুরুষ ও মহিলাদের সমানাধিকারের প্রয়োজনের কথা বলেন ব্রাসিলিয়ার হোটেলের মঞ্চ থেকে প্রদত্ত ভাষণে তিনি ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার আর্থ-সামাজিক বৈষম্য দূর করে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশটি থেকে দারিদ্র্য চিরতরে নির্মূল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ‘যদি এই মৌলিক অঙ্গীকার আমরা রক্ষা না করি, তাহলে অভাবের সুগভীর গহ্বরটি আমরা অতিক্রম করতে পারব না, যা আমাদের দেশের পক্ষে উন্নত দেশের কাতারে আসার প্রধান অন্তরায়।’
তার এই নীতিনির্ধারণী ভাষণ সাধারণভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায় খুশি। কারণ ব্রাজিলীয় অর্থনীতির প্রধান দুর্বলতা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের রূপরেখা তিনি তার ভাষণে দিয়েছেন। ‘আমাদের অর্থনীতির পুরো দায়দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি’ বলে তিনি লুলা দা সিলভার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দু’বছর জনখাতে অত্যধিক ব্যয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বিগত বছরগুলোর বাজেটের অর্থ এই সময়ে জনখাতে কেনাকাটায় ব্যয় হয়, যা লুলা দা সিলভার শাসনকালকে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তাই বলে ব্যয় সংকোচ করার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তেল খাতে সরকারের বিপুল ব্যয় আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে তিনি বলেন। রাষ্ট্র পরিচালিত জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাসে সরকারি অংশীদারিত্ব কমানো হবে না। এ খাত থেকে বর্ধিত আয় সামাজিক উন্নয়ন খাতে ব্যয় করার জন্য কংগ্রেসকে অনুমোদনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। মিজ দিলমা মনে করেন, যোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করা যায়।
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ব্রাজিলের মুদ্রানীতি সংস্কারের কাজে তিনি হাত দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বেশকিছু দেশের মূল্য অতিমূল্যায়িত। আবার কোনো দেশের অবমূল্যায়িত। ব্রাজিলের বর্তমান সমৃদ্ধ অর্থনীতিকে কেউ কেউ রফতানির জন্য হুমকি মনে করেন।
মিজ দিলমা যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উপবিষ্ট আন্তোনিও পালোসির দিকে সবার দৃষ্টি বারবার নিবদ্ধ হচ্ছিল। ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার প্রথম মেয়াদের অর্থমন্ত্রী পালোসিকে ব্রাজিলের বাজারবান্ধব অর্থনীতির স্থপতি বলা হয়।
ব্রাজিলে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সংকট নেই, এমন ঘোষণা করে আন্তোনিও পালোসি কি ভবিষ্যতের সরকারের অর্থনীতির রূপরেখাই আঁকতে চেয়েছেন?
সামনের দিনগুলোতে ব্রাজিল তথা বিশ্ব তার পরিচয় পাবে।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

%d bloggers like this: