দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

এটাই হওয়ার কথা ছিল? মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সীমাহীন ধৈর্য দেখতে পাই আমরা। ধৈর্য নেই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে।


এটাই হওয়ার কথা ছিল?

হা সা ন মা মু ন

বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে যেভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে, আইনগত ভিত্তি থাকলেও সেটাকে সরকারের বলপ্রয়োগ বলে মনে হতে পারে। সরকার পক্ষ থেকে অবশ্য আভাস দেয়া হচ্ছিল, নোটিশের মাধ্যমে নির্ধারিত ১২ নভেম্বরের পর তাকে আর ওখানে অবস্থান করতে দেয়া হবে না। এর পক্ষে মামলাটিতে হাইকোর্টের রায়ের কথাও জোর দিয়ে বলা হচ্ছিল। কিছুটা বিস্ময়কর যে, বেগম জিয়ার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা হলেও সরকারের সম্্‌ভাব্য উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে তার কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়নি। কেন চাওয়া হয়নি, তার কোন ব্যাখ্যা এ পর্যন্ত দেননি বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- ‘হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে’ সরকারকে যে অভিযান পরিচালনা করতেই হবে, তাকে ঘিরে মানুষের সহানুভূতি কাড়তে ও রাজনৈতিক ইসুø তৈরি করতেই স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়নি। এও বলতে হবে, সরকার এর সুযোগ নিয়ে একদিনও দেরি করেনি বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে। সেটি করলে নাকি আদালত অবমাননা হতো!

এমন অনেক দৃষ্টান্তই দেয়া যাবে, যেখানে আদালতের রায় বা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকার রীতিমতো গড়িমসি করছে। আদালতের কাছে গিয়ে রায় বাস্তবায়নে সরকারের সময় প্রার্থনার দৃষ্টান্তও কম নেই। ওইসব ক্ষেত্রে হয়তো ব্যাপক মানুষ বা অর্থনীতির স্বার্থ জড়িত। বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে আরও ক’টা দিন পর উচ্ছেদ করলে এমন কী জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হতো- সংশ্লিষ্টরা কি তা বুঝিয়ে বলতে পারবেন? ঈদের বেশি বাকি নেই। তার চেয়ে বড় কথা, উচ্চতর আদালত মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। সেটিকে এক ধরনের স্থগিতাদেশ ধরে নিয়ে অপেক্ষা করলে তাকে শুধু আদালতের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ বলেই প্রচার করা যেত না- জনগণের মনে হতো, সরকার তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনেও ধৈর্য ধরতে জানে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষভাবে ভুগে দাবি জানানোর পরও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়েও তার সীমাহীন ধৈর্য দেখতে পাই আমরা। ধৈর্য নেই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে। বিএনপির বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ তোলা যাবে, হয়তো বেশিই যাবে। কিন্তু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তো আশা করে আছে- কোন না কোন পক্ষ, কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও থেকে ধৈর্যের চর্চাটি শুরু করবেন। ‘সুযোগের সদ্ব্যবহারের’ চেষ্টা থেকে নিজেদের বিরত রেখেও এ চর্চা শুরু করা দরকার। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, বিশেষত আমাদের মতো দেশে যেখানে সরকার সাংবিধানিকভাবেই অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী, সেখানে তার কাছেই এ দাবি বেশি করে উচ্চারিত হবে।

বোঝাই যাচ্ছিল, বর্তমান সরকার বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে আর থাকতে দেবে না। তাকে ওই বাড়ি বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়াগত ত্রুটি তারা বের করেছেন সফলভাবেই। হাইকোর্টে তা গ্রাহ্যও হয়েছে। হয়েছে বলেই তারা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দেয়া নোটিশ বাতিল করেননি। বিএনপিরও অনেকে এখন বলবেন, সরকারের অ্যাকশনের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হওয়াটা ঠিক হয়নি। উচ্চ আদালতও সঠিকভাবে চলছে না বলে তারা বলা যায় রোজ বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। অনেকে মনে করেন, বেগম জিয়ার উচিত ছিল সরকারের মনোভাব বুঝে; জনমত, নৈতিকতা ইত্যাদিও বিবেচনায় নিয়ে নোটিশ পাওয়ার পরপরই ওই বাসভবন ছেড়ে দেয়া। বিএনপির একটি অংশ নাকি চাইছিল আদালতে না গিয়ে এ ইসুøতে রাজপথ উত্তপ্ত করতে। দলে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী বেগম জিয়া নিশ্চয়ই ওটা অনুমোদন করেননি। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করাটাও তারই সিদ্ধান্ত নিশ্চয়। স্থগিতাদেশ না নিয়ে তিনি যে ১২ নভেম্বরের পরও ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেটা কার সিদ্ধান্ত? তিনি কি জানতেন না, সরকার তাকে ওই বাড়িছাড়া করতে ব্যগ্র? ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি যেভাবে ওই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন, তাতে মানুষের সহানুভূতি তিনি পাবেন। তবে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দেশে সরকার সমর্থকদের সহানুভূতি কতটা তার পক্ষে যাবে, সে প্রশ্ন রয়েছে। এমন মানুষও কম নেই, যারা মনে করেন একজন নিহত রাষ্ট্রপতির বিধবা স্ত্রী হিসেবে তিনি অনেক বেশি পেয়েছেন ও নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর ভেতরেও এমন মনোভাবের লোক সময়ান্তরে বেড়ে গেছে বলেই মনে হয়। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তো অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হবে সেখানে।

পরে যাই করা হোক, আপাতত বেগম জিয়ার নামে বরাদ্দ ওই বিশাল বাড়ি ও জমি দখলে নিয়েছে সরকার। সুপ্রিমকোর্টে নিষ্পত্তির পর অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে কাজটি তারা নির্বিঘ্নেই করতে পারতেন, সেটি করেছেন দৃষ্টিকটুভাবে। প্রকৃত ঘটনা ঢেকে রাখতে কিছুটা বিকৃত প্রচারণারও আশ্রয় নেয়া হয়েছিল বলতে হবে। এ নিবন্ধ যেদিন লেখা হচ্ছে, সেদিন দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকে বিএনপিও এর যথাযথ জবাব দেয়নি। ঈদের বাজারে লোকে যখন গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছে এবং কোরবানির পশু পরিবহনেও ব্যস্ত অনেকে, তখন এ ধরনের কর্মসূচি কেউ পছন্দ করবে না। সকাল-সন্ধ্যার হরতালকে অর্ধদিবস করা হলেও বোঝা যেত, তারা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিচয় দিয়েছেন। জনস্বার্থে দীর্ঘ সময়ের জন্য ডাকা হরতাল পালনেরও সামর্থø কি অর্জন করতে পেরেছে বিএনপি? বেগম জিয়াকে ওভাবে উচ্ছেদের প্রতিবাদে কিছু অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালেও দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভও সংঘটিত করতে পারেননি তারা।

সরকার নাকি ভেবেছিল, ঈদের আগে বিএনপি ওই উচ্ছেদের প্রতিবাদে অন্তত হরতাল ডাকবে না। বিএনপি ও বেগম জিয়াও কি ভেবেছিলেন, সুপ্রিমকোর্টে শুনানির আগে সরকার ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করবে না? দু’পক্ষই যদি তাই ভেবে থাকে, তাহলে বলতে হবে তারা পরস্পরকে কম চেনে। তবে দু’দলই এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের চেনা। জনগণের অন্তত বড় দলনিরপেক্ষ অংশটি চায়, চেনা দৃশ্যপটে তারা কিছু পরিবর্তন অন্তত আনুন।
হাসান মামুনঃ সাংবাদিক