প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান


প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান
রঙ-ঢঙ ডেস্ক

আকার আর ওজনের সুবিধা মিলিয়ে সারা বিশ্বেই প্লাস্টিকের বোতলজাত পানির কদর বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বোতলজাত পানি ব্যবসায়ীদের নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। যে কারণে এটি এখন ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গ। তবে এ বোতলজাত পানি কতটা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উপকারী, তা নিয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। চলছে গবেষণা, নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম অথবা স্টিলের বোতলে পানি খেতে। মেলবোর্ন ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানেও চলতি বছর প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি সরবরাহকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। কাজও চলছে সেই মাফিক। অস্ট্রেলিয়ার ২০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের বেশির ভাগই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার মতো আধুনিকতা ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষবিদ্যার শিক্ষক ক্রিস উইনডার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখিয়েছেন প্লাস্টিকের বিক্রিয়া ও মানবশরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব। তিনি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বোতলের পুনর্ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াদূষণের জন্য দায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর তা এমনভাবে ধুতে হবে, যেন অন্য কোনো উপাদান, যেমন- সাবান প্রভৃতি এর সঙ্গে লেগে না থাকে। তাহলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে অন্তত রেহাই মিলবে। তবে অবশ্যই তা ঠাণ্ডা পানিতে ধুতে হবে। কারণ তাপে প্লাস্টিকে ব্যবহূত রাসায়নিক পদার্থগুলো উন্মুক্ত হয়; যা শরীরের ক্ষতি করে।

প্লাস্টিক বোতল তৈরি হয় মূলত দুই ধরনের প্লাস্টিক থেকে। এর একটি পলিকার্বন, যা বিসফেনল এ (বিপিএ) থেকে উত্পাদিত এবং অন্যটি পিইটি, যা পলিইথিলিন থেকে উত্পাদিত। পলিইথিলিনকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়। তবে বিপিএ ক্ষতিকর। ১৯৫০ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে প্লাস্টিক উত্পাদনে এর ব্যবহার হয়ে আসছে; যার ক্ষতিকর বিষয়গুলো এরই মধ্যে প্রমাণিত।

বিপিএ প্লাস্টিকের আধারে জমে থাকা উপাদান দ্রবীভূত করার ক্ষমতা রাখে। পানিতে এসব উপাদান মিশে যায় সহজেই। ৯৫ শতাংশ মার্কিনের মূত্রে এ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। এর পরিমাণ শিশুদের মধ্যেই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

বিপিএর সঙ্গে এক প্রকার হরমোনের গাঠনিক মিল রয়েছে। এটি ওয়েসট্রোজেন মিকি হরমোন নামে পরিচিত। অধ্যাপক উইনডার জানিয়েছেন, বিপিএ নানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ। যেমন— অনুর্বরতা, মোটা হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, গলার ক্যান্সার, এমনকি এ উপাদান কেন্দ্রীয় সংবেদনশীলতাকেও অবশ করে দিতে পারে। স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের কারণও হয়ে উঠতে পারে এ বিপিএ। উইনডার আশা করছেন, মানুষ শিগগিরই এর বিপদ সম্পর্কে অবহিত হবে, ১০ বছরের মধ্যেই এ উপাদানের ক্ষতি সম্পর্কে সবাই জানবে এবং ২০ বছরের মধ্যেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় পানির বোতল তৈরিতে। একবার ভাবলেই বিষয়টি উপলব্ধি করা সম্ভব। কারণ এ বোতল তৈরির ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ উত্পাদিত হয়। ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকেল, ইথাইলবেনজিন, ইথিলিন অক্সাইড, বেনজিন প্রভৃতি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দেড় হাজার পানির বোতল নিঃশেষ করা হয়। এর কারণে নষ্ট হয় ভূমির উর্বরতা ও ব্যাহত হয় জলাধারের স্বাভাবিক গতি।

আতঙ্কের আরো বিষয় হচ্ছে, প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করার যে মানদণ্ড দেয়া হয়, বিশ্বব্যাপীই তা মানা হয় না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়েই অন্তত ২২ শতাংশ প্লাস্টিকের বোতলে ক্ষতিকর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। একই সঙ্গে পানির উত্স, এর বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ও দাম বিষয়েও ঘাপলা তৈরি হয়।

সূত্রঃ বনিকবার্তা

Advertisements

আমি আর স্বপ্ন দেখি না বাংলাদেশ নিয়ে


নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না

শামারুহ মির্জা

আমার বাবা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। আমি এই মানুষটি এবং অন্য আরও কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু কথা লিখছি। নিজের বাবাকে নিয়ে লেখা বোধহয় খুব শোভন নয়! আপাতদৃষ্টিতে এ কাজটি আমি আজ করতে চাই এবং করব।

মির্জা আলমগীরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্ব্বীরা তাকে শ্রদ্ধা করেছেন সবসময়। এলাকায় যে কোনো বিপদে-আপদে প্রথমে ছোটেন তাঁর কাছে, সমাধানের জন্য। তিনি যে দলেরই হোন না কেন, তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন। বলুকাকার একটি কথা মনে পড়ে গেল। নির্বাচনী প্রচারণায় আমি হাঁটছি এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায়। বলুকাকার বাসার সামনে এসেছি, সঙ্গে থাকা দু’জন বললেন—ভেতরে যাওয়ার দরকার নেই, তিনি আব্বুর বিরুদ্ধে প্রচারণা করছেন। আমি তবু এগিয়ে গেলাম। ঘরে ঢুকতেই দেখি বলুকাকা আর ক’জন বসে। বললাম, বলুকাকা, আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। বলুকাকা হেসে বললেন—মাগো, রাজনৈতিক কারণে আমি তোমার বাবার বিরোধিতা করছি; কিন্তু মানুষ আলমগীরের জন্য আমার মঙ্গল কামনা নির্ভেজাল, সবসময় ।

নাম বলছি না, তবে আওয়ামী লীগের এক বিখ্যাত বাগ্মী রাজনীতিবিদ এক টকশোতে আব্বুর সঙ্গে বসতে চাননি। তার স্রেফ কথা, এই ভদ্রলোকের সঙ্গে আমি ঝগড়া করতে পারব না। শতভাগ সততার সঙ্গে মানুষটি সারা জীবন রাজনীতি করেছেন; নিজের আদর্শ, নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে কখনো সমঝোতা করেননি। শুধু বোঝেননি, এই বাংলাদেশে তিনি বড়ই অনুপযুক্ত এক রাজনীতিবিদ। একটি ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার আজ এই মানুষটিকে যেভাবে অপদস্থ করল, তা আসলেই উদাহরণ হয়ে থাকবে চরম অবিচারের।

কী অপরাধ ছিল তাঁর? তিনি বিরোধী দলের মহাসচিব, সরকারের সমালোচনা করতেন, কর্মীদের সংগঠিত করতেন, তাঁদের উজ্জীবিত করতেন সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিয়ে, যা পুরো বাংলাদেশের মানুষ দেখত, শুনত, উপলব্ধি করার চেষ্টা করত। তিনি বোমাবাজি করেছেন কিংবা করিয়েছেন? গাড়িতে আগুন দিতে বলেছেন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মির্জা আলমগীরের চরম শত্রুও তা বিশ্বাস করবে না!

পঁয়ষট্টি বছরের মানুষটাকে আমি প্রায়ই প্রশ্ন করতাম—আব্বু, এই নষ্ট, পচে যাওয়া সমাজে তুমি কেন এখনও রাজনীতি করছ? ‘৭১-পূর্ববর্তী রাজনীতির সেই পরিবেশ তো আর নেই। আগেও রাজনীতিবিদদের বন্দি করা হতো, তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হতো, আজ তো কোনো নিয়ম নেই, আজ তো গ্রেফতার করেই রিমান্ডে নিয়ে প্রাগৈতিহাসিকভাবে অত্যাচার করে। এসব বাদ দাও না! আব্বু স্মিত হেসে বলতেন, ‘শেষ চেষ্টাটা করেই দেখি, আমার তো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’ তাঁর খুব প্রিয় কবিতার একটি লাইন প্রায়ই আমাকে বলতেন, ‘এখনি অন্ধ বন্ধ করো না পাখা।’

আমার এই বাবার বিরুদ্ধে এই সরকার দুটি আজব মামলা দিয়েছে। একটিতে অভিযোগ, আব্বু এবং আরও ক’জন মিলে সচিবালয়ে ককটেল ফুটিয়েছে বা ফোটাতে সহযোগিতা করেছে; আরেকটিতে অভিযোগ, তাঁর এবং আরও ক’জনের প্ররোচনায় ২৯ এপ্রিল একটি বাস পোড়ানো হয়েছে। মামলার চার্জশিট পড়ছিলাম। নিজের অজান্তেই হেসে উঠলাম। আমাকে হাসতে দেখে আমার এক স্টুডেন্ট প্রশ্ন করল, কেন হাসছি। ওকে পুরো ঘটনাটা খুলে বললাম। ও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল। তোমার বাবাকে আসামি বানিয়েছে? এই মামলায়? ওর বিস্ময় দেখে বললাম, বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মানুষ তোমার মতোই বিস্মিত! ওকে বললাম—জানো, এই সরকার দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে, এরা দিনবদলের কথা বলেছে! ওর বিস্ময় আরও বাড়ল। ‘বল কী, এটা নির্বাচিত সরকার! আমি তো ভেবেছি, এটা স্বৈরাচারী সামরিক সরকার।’ খারাপ লাগছিল। বললাম, ‘চিন্তা করো না, ঠিক হয়ে যাবে, সরকার একটু টালমাটাল এখন, ঠিক হয়ে যাবে।’ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ঘটনাটা আসার পরে অনেকেই আমার কাছে জানতে চাইল পুরো ব্যাপারটা। খুব চেষ্টা করলাম দেশের ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষা করে বুঝিয়ে বলার। সবাইকে আশ্বাস দিলাম, আমাদের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে।

নিম্নআদালত আব্বুদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই আব্বুকে ফোন দিলাম। ভীষণ পজিটিভ, হাসছিলেন আমার দুশ্চিন্তা দেখে। হঠাত্ গলাটা বোধহয় আবেগে কিছুটা বুজে এলো। বললেন—’মাগো, তুমি সাহস হারিয়ো না, আমরা একসঙ্গে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করব, করতেই হবে। যা-ই হোক, তুমি সাহস হারিয়ো না মা।’ আমি আর কথা বলতে পারলাম না। তাঁকে বললাম না, আমি আর স্বপ্ন দেখি না বাংলাদেশ নিয়ে, আমি আর আশা করি না। আমার কেন জানি আজকাল শুধু মনে হয়, ওরা ভিন্নমতাবলম্বী, সাহসী, সত্যবাদী, দেশপ্রেমিক কোনো বাংলাদেশী নাগরিককে মুক্ত থাকতে দেবে না। তুমি যদি স্বাধীনভাবে কথা বলতে চাও, চুপ করে থাকো। এর কিছুই তাঁকে বলা হোল না। শুধু বললাম, ‘তুমি ভালো থেকো আব্বু।’

আমার প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর আনোয়ার হোসেনের লেখা আজকাল প্রায়ই পড়ি। সব লেখাতেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামের কথা, তাঁর ভাইয়ের আত্মদানের কথা, সোনার বাংলা নিয়ে তাঁর পরিবারের স্বপ্নের কথা। আমারও মনে পড়ে ১/১১-এর পরে তাঁর সাহসী ভূমিকার কথা, আরেকটু আগেকার কথাও মনে পড়ে, শামসুন নাহার হলে পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকার কথা। আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। স্যারকে দেখতে গিয়েছিলাম তাঁর বাসায়, তাঁর আগেও স্যারের বাসায় গেছি রাতের খাবার খেতে, ক’জন বন্ধুসহ। কিছুদিন আগে মেইলে পেলাম তাঁর চিঠি, ১/১১-এর পরে কোর্টে দেয়া তাঁর জবানবন্দিসহ, তাঁকে ভোট দেয়ার আবেদন করে।

এই স্যার আজ আর প্রতিবাদ করছেন না, গর্জে উঠছেন না, মিছিলে যাচ্ছেন না। উনি দেখছেন, সেই একই পুলিশি রিমান্ডে রাজনৈতিক নেত্রীকে চার পেয়ে পশুর মতো অত্যাচার করা হচ্ছে, মেয়েটি দাঁড়াতে পারছে না, সেই একই রিমান্ডে মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হচ্ছে, সেই একই বাহিনী রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাচ্ছে কারও বাবাকে, কারও স্বামীকে, কারও সস্তানকে, ক’দিন পরে বুড়িগঙ্গায় ভেসে উঠছে মানুষের হাত, পা। স্যার কিন্তু কিছুই বলছেন না। স্যার একটি রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করেন জানি। খুব স্বাভাবিক। প্রতিটি মানুষ রাজনৈতিক। কিন্তু যে কোনো অন্যায় তো অন্যায়ই, যে কোনো অবিচার তো অবিচারই, যে কোনো অত্যাচার তো অত্যাচারই। এসবের তো অন্য কোনো নাম নেই, অন্য কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে? তাঁর এই নীরবতার কারণ কী? স্যারের একটি লেখা পড়লাম, কালের কণ্ঠে। তিনি লিখেছেন তাঁর প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে। সেই লেখাতেও তিনি কয়েকবার উল্লেখ করলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অতীত সংগ্রামের কথা। প্রশ্ন করি তাঁকে, আপনার ভাই যে আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছেন, তার কতটুকু এই ‘সোনার বাংলা’য় বাস্তবায়ন হয়েছে? প্রশ্ন করি তাঁকে, বর্তমানকে তিনি কীভাবে দেখছেন এবং বর্তমানে তিনি কী করছেন? সংগ্রাম কি চলমান প্রক্রিয়া নয়?

আমি স্যারের কথা উল্লেখ করলাম, কারণ আমি মনে করি বাংলাদেশের বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবীকে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন। আমাদের আঁতেলরা এক একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে কেমন জানি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে যান। একটি মার্কা, একটি রঙ তাঁদের অন্ধ করে দেয়। চোখের সামনে সমাজটা নষ্ট হয়ে যায়, চোখের সামনে মানুষগুলো কুঁকড়ে যায়, চোখের সামনে দেশটা বধ্যভূমিতে পরিণত হয়, এদের কিচ্ছু যায় আসে না। একটু আগেই খবর পেলাম, আনোয়ার স্যার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মনোনীত হয়েছেন, স্যারের সাম্প্রতিক নীরবতার কারণটা এখন বোধগম্য হলো!

সোহেল তাজের পদত্যাগের পর একটি ব্যাপার আমার কাছে পুরো পরিষ্কার। আমরা সবাই এক একটি সোহেল তাজ। আমরা খুব সাহস, উদ্যোগ নিয়ে নেমে পড়ি সমাজ বদলাবো বলে। ফেসবুকে এমন ঝড় তুলি, সে ঝড়েই যেন উড়ে যায় সব অনাচার, রাজনীতিবিদদের গালিগালাজ করে অর্গাজমের সমপরিমাণ আনন্দ বোধ করি, অন্যের পিণ্ডি চটকিয়ে দাবি করি—আমিই আলাদা, আমিই শুদ্ধ। তারপর যখন ত্বধষরঃু নরঃবং, দৈত্যগুলো কামড়ে দেয়, তখন গাল ফুলাই, অবুঝ শিশুর মতো বলি—’আমি তোমার সঙ্গে আর খেলব না।’ বিশাল একটা চিঠি লিখে পালিয়ে যাই আমেরিকা। ব্যস, নাটকের এখানেই সমাপ্তি।

আমার কিছু উচ্চশিক্ষিত বন্ধু আছে, এরা প্রায়ই বিভিন্ন আড্ডায়, ফেসবুকে রাজনীতিবিদের পিণ্ডি চটকায়। খুব ফ্যাশনের কাজ, নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণের কী সাংঘাতিক চেষ্টা, অনেক হাত তালি। ভাবখানা এমন, ‘হলো তো? দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা শেষ, এবার চলো, শীশা খেতে যাই।’ সুবিধাবাদের চূড়ান্ত! রাজনীতিবিদদের গালি দিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানো যায় না, এ সহজ কথাটি আমার উচ্চশিক্ষিত বন্ধুদের মাথায় ঢোকে না, সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবেই!

আমার বাবা একটি কথা আজকাল প্রায়ই বলেন, ‘আমাদের দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনে একটি অন্যতম মূল ভূমিকা রেখেছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত। পুঁজিবাদ আর ভোগবাদের প্রভাবে এই মধ্যবিত্ত আজ নির্লিপ্ত হয়ে গেছে, সুবিধাজনক বলে।’ আর আমার মাথা বলে, এটা খুব ভয়ঙ্কর একটা অবস্থা। কোনো নিয়মতান্ত্রিকভাবে, সভ্যভাবে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। আজ ব্যক্তি মির্জা আলমগীরের ওপর যে অন্যায় হলো, যে অবিচার হোল—এর ফল ভোগ করতে হবে পুরো জাতিকে। এটা পরিষ্কার। আজ অথবা কাল। নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না।
লেখক : কলামিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষারত

‘প্রেম ব্যবসা’


ছাতার নিচে টক-মিষ্টি প্রেম- স্পট : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান  

গতকাল দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উদ্যানের ভেতরদিকের বেশ কয়েকটি স্পটে লাল-নীল রঙিন সব ছাতা। নিচে বসার জন্য লাল চেয়ার। দেখলে সাগর সৈকতের বেলাভূমির মতো মনে হয়। চেয়ারগুলোতে জোড়ায়  জোড়ায় প্রেমিকযুগল বসে আছে।
 সন্ধ্যার পর এ দৃশ্যাবলী যেন আরো মনোরম। চেয়ারগুলোর চারপাশে লাল কাপড় দিয়ে ঘেরা থাকে। ভেতরে আলো-আঁধারিতে চলে প্রেম-যুগলের প্রেমলীলা। এসব ছাতার নিচের প্রেমকে স্থানীয়রা ‘প্রেম ব্যবসা’ বলেই নাম দিয়েছে। আর সাধারণের আইওয়াশের জন্য এখানে মূলত বেচাবিক্রি হয় চটপটি। কিন্তু টক-ঝাল-মিষ্টি এ ব্যবসার আড়ালে চেয়ারে বসে নিরাপদে চলে প্রেমলীলা। শেষ হলে আয়োজক বা ব্যবসায়ী যা-ই বলা হোক না কেন তাদের হাতে তুলে দিতে হয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বিল। মাঝেমধ্যে বাড়তি কিছু।
বাবুল নামের এক দোকানির কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে জানায়, কাপড়ের ভেতরে বসে আড্ডা মারলে আপনি নিরাপদ। আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কিন্তু এর বাইরে পার্কের যেখানেই আড্ডা দিতে বসবেন; সেখানেই আপনাকে বখাটে ছেলেরা উত্ত্যক্ত করবে।
 কখনো কখনো প্রেমিকাকে টানাটানির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এসব চেয়ারে বসে আড্ডা দিলে আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কারণ এসব বসার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতারা। তাদেরই শেল্টারে এ প্রেম ব্যবসা চলে থাকে। গতকাল দুপুরে পুরো উদ্যানজুড়ে ৫০-৫৫টি চটপটির দোকান দেখা যায়।
 অনেকগুলো আবার গুটিয়ে শিকল দিয়ে একসঙ্গে করে বেঁধে রাখা হয়েছে। দিনের বেলা এসব দোকান বন্ধ থাকে। বিকেলের পরপর খুলে দেয়া হয়। তখন দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০-৭৫টি।
দোকানি বাবুল, শফিক, মামুন ও বাবর জানান, এখানে দোকান চালাতে প্রতিদিন দোকান প্রতি তাদের ২শ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
লোকমান নামের একজন ওই টাকা তুলে ছাত্রনেতাসহ পুলিশকে দিয়ে থাকে। চাঁদার টাকা নিয়ে ছাত্র সংগঠনের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হয়েছে কয়েকবার। সন্ধ্যার পর বখাটেরা মাদক ব্যবসাও করে ওখানে। এছাড়া ভাসমান অনেক পতিতা এসেও জড়ো হয়।
মাঝে শাহবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালালেও পরে আবার দোকান বসে। প্রেমব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। তবে স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বহিরাগত অনেক প্রেমিক-প্রেমিকারা নিয়মিত আসে এখানে। ফলে চটপটি দোকানিদের এ ‘প্রেম-বাণিজ্য’ বেশ জমজমাট।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি জানান, পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এরপর আবার তারা শুরু করে। তাছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ধরলেও বিভিন্নরকম সমস্যা দেখা দেয়। তবু আমরা সবসময় উদ্যানের পরিবেশ যেন খারাপ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখি।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ফেসবুক নিয়ে বিতর্ক, উদ্বেগ এবং ক্ষোভের মাত্রাও দিন দিন বাড়ছে


সামাজিক যোগাযোগ :ফেসবুকের এপিঠ-ওপিঠ

মো. আবদুল হামিদ

যুবসমাজের মাথা বিগড়ে দেয়া ‘ফেসবুক’-এর অকল্যাণ নিয়ে উদ্বিগ্নদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে বিস্তর গবেষণা হচ্ছে এবং বেশ ইতিবাচক তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এক জরিপে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বলেছেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখলে মনটা হালকা হয় বলে ফুরফুরে মেজাজে চলমান কাজে অধিকতর মনোযোগী হওয়া যায়। সে গবেষণায় ফেসবুকবিমুখদের মনোযোগের লেভেল ব্যবহারকারীদের তুলনায় কম বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মতে, ফেসবুক তাদের আত্মবিশ্বাসের লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। কানেক্টিভিটির এ যুগে দীর্ঘ সময় নিকটজনের খোঁজখবর না পেলে বা নিজে কোথায়, কী করছে তা ঘনিষ্ঠজনদের জানাতে না পারলে কেমন যেন অস্বস্তি কিংবা উদ্বিগ্নতা কাজ করে। কিন্তু কিছুক্ষণের জন্য হলেও একবার ঢুঁ মারতে পারলে অনেকটা সময় নিশ্চিন্ত মনে কাজে ডুব দেয়া যায়। ফেসবুক বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত সোস্যাল নেটওয়ার্ক। কে জানত পরিবার ও সহপাঠীদের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের জন্য জাকারবার্গ যে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিলেন (২০০৪ সালে নিজেরা শুরু করলেও উন্মুক্ত হয় ২০০৬ সালে) তা মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও সম্প্রসারণশীল সাইটে পরিণত হবে! কর্তৃপক্ষের হিসাবে, প্রতিদিন ফেসবুক ব্যবহার করে ২৫ কোটির বেশি ইউজার, যাদের গড়ে ১৩০ জনের বেশি বন্ধু রয়েছে এবং মাসে ৭০ হাজার কোটি মিনিটের বেশি ফেসবুক ব্যবহার হয়। মোট ব্যবহারের ৭০ শতাংশ নন-আমেরিকান এবং পর্নো পেজ ও গ্রুপগুলো ভিজিট হয় সবচেয়ে বেশি। আইফোন ও অন্যান্য সেল ফোনে ইন্টারনেট চালু হওয়ায় ফেসবুক ব্যবহারের প্রবণতা গোটা বিশ্বেই ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শুরু থেকেই ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ, উন্নত দেশগুলোয় যা কঠোরভাবে মেনে চলার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাজ্যে অন্য এক স্টাডিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের (২১ থেকে ২৯ বছর বয়সী) পাশাপাশি মানসিক চিকিত্সায় নিয়োজিত কিছু বিশেষজ্ঞের মতামতও নেয়া হয়েছে। অধিকাংশের মতে, পরিমিত মাত্রায় ফেসবুকের ব্যবহার মানুষের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। কোনো স্ট্যাটাস দেখে উচ্চ স্বরে হেসে ওঠা, ভালো লাগা এমনকি সাময়িক কষ্ট পাওয়া মস্তিষ্ককে সচল করে এবং আগের তুলনায় বেশি কনসেনট্রেট করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় এক জরিপে দেখা যায়, যারা বাস্তব জীবনে সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি ও বজায় রাখতে কম দক্ষ, তারাও ফেসবুকে সফলভাবে যোগাযোগ করতে পারেন। অর্থাত্ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বা যারা ঘরকুনো বলে অবহেলিত তারাও অন্যদের মতো এ মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষায় সক্ষম। তবে সবচেয়ে ভালো দিক হলো বন্ধুরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাক (এমনকি স্থান বদলের পরও), যোগাযোগের ঠিকানা জানতে বা পরিবর্তন করতে হয় না। এক ক্লিকেই তথ্য, ছবি, ভিডিও সব পাওয়া যায় এবং প্রায় বিনা খরচে। তবে সুফলের পাশাপাশি শক্তিশালী প্রযুক্তির অপব্যবহারের শঙ্কাও বাড়ছে; যেমন— আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সেদিন শিক্ষকের লেকচার ভালো লাগছিল না বলে ক্লাসরুমে বসেই ফেসবুকে এ সম্পর্কে স্ট্যাটাস দেয়। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের বন্ধুরা তার জবাবে নানা ধরনের প্রতিমন্তব্য করে, যার শেষটা মোটেই সুখকর ছিল না। কয়েক মাস আগে জাবি ও বুয়েটের দুই শিক্ষককে আদালত তলব করেন স্ট্যাটাস ও কমেন্ট লেখার কারণে। ফলে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ফেসবুক নিয়ে বিতর্ক, উদ্বেগ এবং ক্ষোভের মাত্রাও দিন দিন বাড়ছে।
হতাশ হওয়ার মতো অনেক তথ্যও বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ২০০৯ সালে যত বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে তার ২০ শতাংশই ছিল সরাসরি ফেসবুকজনিত কারণে। অর্থাত্ স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ফলো করত, তারপর পাসওয়ার্ড নিয়ে নজরদারি; একপর্যায়ে অবিশ্বাস বাড়তে থাকে এবং কোর্টের মাধ্যমে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তারা। অনেক দেশে এটাকে অ্যালকোহল বা কোকেনের মতোই ভয়াবহ মনে করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য যেমন শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে একটানা বেশি সময় ফেসবুক ব্যবহার তেমনি ক্ষতিকর। শরীরে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা করা, ঘাড় বা পিঠে ব্যথা, হাতের ও হাঁটুর গিটগুলোয় ব্যথা অনুভব করা, মাথা ধরে থাকা প্রভৃতি উপসর্গ প্রায়ই লক্ষ করা যায়। তা ছাড়া খাবার খেতে অনিয়ম করা ফেসবুক অ্যাডিক্টদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। তারা ফাস্টফুড ও শুকনাজাতীয় খাবারে বেশি আগ্রহী হয়, যা সুষম খাদ্য সরবরাহ করে না এবং শরীরচর্চা না করায় মোটা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো ক্রিকেট খেলার বিরোধিতা করেছিল এ যুক্তিতে যে খেলোয়াড়, আয়োজক, দর্শক সবারই দিনের সিংহভাগ সময় ব্যয় হয় খেলার পেছনে; ফলে তারা কাজ করবে কখন? সে দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক ব্যবহারে কত শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয় তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। সে কারণেই হয়তো চীন ও ইরানের মতো দেশগুলো এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এক গবেষণা সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশে মোট ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। তারা যদি দিনে গড়ে ১০ মিনিট করে ফেসবুক ব্যবহার করে, তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার কর্মচারীর এক মাসের শ্রমঘণ্টার চেয়েও বেশি পণ্ডশ্রম হচ্ছে প্রতিদিন আমাদের মতো গরিব দেশে!
ফেসবুকে আমার বন্ধু তালিকার অধিকাংশই বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে অথবা গত কয়েক বছরে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে। ফলে তরুণদের ফেসবুক ব্যবহার প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার বেশ সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয়ের উল্লেখ মনে হয় প্রাসঙ্গিক হবে, মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ঐশ্বরিয়া রাইকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ধরা যাক তার সামনে দুটি অপশন আছে: কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষ হওয়া অথবা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা— আধুনিক তরুণী হিসেবে সে কোনটাকে বেছে নেবে এবং কেন? ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছিলেন ইংরেজি ভাষা; কারণ হিসেবে বলেছিলেন, এটি জানা থাকলে কম্পিউটার শেখাটা সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু কম্পিউটার শিক্ষা ভাষার মান বাড়াতে পারবে না। তা ছাড়া অনেক পেশা আছে, যেখানে কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষ না হয়েও ভালো ইংরেজি জ্ঞান দিয়ে সফল হওয়া সম্ভব। হলভর্তি দর্শক জোরে হাততালি দিয়ে তার জবাবকে সমর্থন করেছিলেন, আমিও মুগ্ধ হয়েছিলাম তাত্ক্ষণিক ওই কথায়। কয়েক বছর আগে যখন তরুণদের মধ্যে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে থাকে, তখন খুব আশাবাদী হয়েছিলাম যে, এ অসিলায় অন্তত আমাদের তরুণরা ইংরেজি ভাষাটা ভালোভাবে রপ্ত করবে। কিন্তু ভয়ঙ্কর কিছু ব্যাপার তারা ফেসবুক ভাষায় ব্যবহার করছে, যা তাদের অধঃপতনই ত্বরান্বিত করছে; কল্যাণ নয়। একটি হলো ইংরেজি অক্ষরের মাধ্যমে বাংলা লেখা। এতে আগে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে সে যা বলতে চাইছে তার ইংরেজি শব্দটা বা বাক্যটা জানার চেষ্টা করত এখন তার প্রয়োজন শেষ হয়েছে। ফলে নতুন কোনো ইংরেজি শব্দ না শিখেও তারা অনায়াসে মেসেজ পাঠাচ্ছে, মন্তব্য করছে। আরেকটি বিষয় হলো, তারা বড় ও জটিল শব্দগুলোকে সংক্ষিপ্ত করছে। বড় শব্দকে ছোট লিখতে গিয়ে তারা প্রকৃত বানানটা ভুলে যাচ্ছে। অনেকেই যখন বানান নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যায়, তখন মাঝের দু-তিনটা অক্ষর বাদ দিয়ে শব্দটা লেখে। তাতে সঠিক বানান না জানার দুর্বলতাও গোপন করা যায়; আবার স্মার্টনেসও দেখানো হয়। এর কুপ্রভাব সাম্প্রতিক কালে পরীক্ষার উত্তরপত্রেও লক্ষ করা যাচ্ছে, বানান ভুলের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। সংক্ষেপ হলেই স্মার্ট হয়— এ ভয়াবহ ধারণাটি আমাদের তরুণদের এখানেও আক্রান্ত করেছে। উন্নত দেশের যে মেয়েটি মিনি স্কার্ট পরে সে কিন্তু ক্লাসরুমেও অল্প কথায় মূল মেসেজটি সবার সামনে তুলে ধরতে পারে। দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের তরুণ-তরুণীরা তাদের পোশাকের ঢঙটাই নকল করতে চেষ্টা করে, জ্ঞানের উত্কর্ষতা নয়।
ক্যারিয়ার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ থাকায় চেষ্টা করি এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে। আমাদের তরুণরা হয়তো এখনো ভাবতে শুরু করেনি, তার ফেসবুক প্রোফাইল ও স্ট্যাটাস চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরাট প্রতিবন্ধক হতে পারে। ইউরোপের বিখ্যাত একটি ফাইভ স্টার হোটেল চেইনের হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের প্রধান সেদিন জানালেন, সিভিতে প্রদত্ত ই-মেইল আইডি ব্যবহার করে ফেসবুক ও অন্যান্য সোস্যাল নেটওয়ার্কে চাকরিপ্রার্থীর অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করেন। সিভিতে যেসব দিক উল্লেখ থাকে, প্রার্থী বাস্তব জীবনে তার কতটা চর্চা করেন— তা বুঝতে চেষ্টা করেন! প্রশ্ন করা হয়েছিল, অনেকের অ্যাকাউন্ট তাদের বন্ধু ছাড়া কেউ দেখতে পারে না, সে ক্ষেত্রে কীভাবে দেখেন? তিনি বলেন, বড় বিজ্ঞাপনদাতা হওয়ায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলোয় ঢুকতে পারেন। সেখানে বিশেষভাবে খেয়াল করেন প্রার্থী ফেসবুকে আসক্ত কি না। তা ছাড়া সে কী ধরনের স্ট্যাটাস দেয়, তার বন্ধুদের তালিকায় থাকা অধিকাংশ লোক কোন প্রকৃতির, দিনের কোন অংশে পোস্ট দেয়ার প্রবণতা কেমন, কমেন্টগুলো কতটা বুদ্ধিদীপ্ত প্রভৃতি। ফলে স্ট্যাটাস লেখার সময় সতর্ক হতে হবে। কারও কমেন্টের একটি বাক্যে তিনটি ভুল (বানান, শব্দের প্রয়োগ, বাক্যের গঠন) যখন চোখে পড়ে, তখন তার বিদ্যার দৌড় সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়। ফলে এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
বাস্তব একটি ঘটনা বলে শেষ করতে চাই। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত এক ভদ্রলোক অসুস্থতার অজুহাতে অফিস থেকে এক সপ্তাহের ছুটি ম্যানেজ করেন। বাসায় ফিরেই ফেসবুকে লিখলেন, ‘ওহ কী শান্তি…!’ পরবর্তী সময়ে দিনে কয়েকবার করে স্ট্যাটাস আপডেট দেন, যার প্রতিটিই ছিল হাসি-আনন্দসম্পর্কিত এবং ছুটিকালীন শরীর খারাপ, হাসপাতাল, চিকিত্সা, চিকিত্সক নিয়ে একটি স্ট্যাটাসও ছিল না। এমনকি ফ্যামিলি নিয়ে যেসব স্থানে ঘুরতে গেছেন তার ছবিও আপলোড করেছেন। তিনি খেয়ালই করেননি যে, তার কলিগ ও বস ফেসবুকের বন্ধু হিসেবে সব দেখছেন। ছুটিশেষে যেদিন কর্মক্ষেত্রে ফিরলেন সেদিন তাকে বলা হলো, যারা ব্যক্তিজীবনে অসত্ এবং অফিসের কাজ উপভোগ করেন না. তাদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ফলে অফুরন্ত শান্তির জন্য আপনাকে চাকরি থেকে বিদায় দেয়া হলো! তাই সাবধান। বস, সহকর্মী, প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রী সবাই কিন্তু আপনাকে দেখছে ফেসবুকের জানালা দিয়ে। আর সোস্যাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে গিয়ে নিজে যেন ছোট্ট স্ক্রিনে বন্দি হয়ে না যান। তাহলে সবার সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্পর্ক বাড়লেও পরিবার ও চারপাশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল হয়ে পড়বে, যা আদৌ কল্যাণকর নয়।

লেখক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক
mahamud.biz@gmail.com

http://www.bonikbarta.com/2012-05-04/news/details/30351.html
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls

স্থায়ী ক্যাম্পাস না গড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপদ!


স্থায়ী ক্যাম্পাস না গড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপদ!


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় সনদ অর্জনের যোগ্যতা অর্জন করেছে সেই তথ্য জানতে চেয়ে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে না পারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর ৪৭ ধারা উদ্ধৃত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শর্ত পূরণ করে সনদ নিতে পারেনি সেসব বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদ্যমান আইনের সংশিস্নষ্ট শর্ত পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ গ্রহণ করে স্থায়ী হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শর্ত পূরণ করে সনদ গ্রহণ করে স্থায়ী হতে পারবে না, সরকার সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমতি বাতিল করে বন্ধ ঘোষণা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্যই ইউজিসিকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইউজিসি এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার পর একটি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলী কালের কণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী অবস্থান সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসে কাজ শুরু করা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ই সনদ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে কী হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক শিবলী বলেন, আমরা (ইউজিসি) তথ্য দেওয়ার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আলোকে সনদ অর্জনে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদ অর্জনের গ্রহণযোগ্যতা সাপেক্ষে চলতি বছরের ফল সেমিস্টার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে পারবে বলে গত ১৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে। ওই আদেশের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে সভাটি হয়নি। এ অবস্থায় ফল সেমিস্টার শেষ হওয়ার পথে। ফলে স্থগিত হওয়া সভাটি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই সভা সামনে রেখেই ইউজিসি থেকে সব তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে ্তুরেড অ্যালার্ট্থ জারি করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে ১৪টি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহসভাপতি আবুল কাশেম হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জমি খুঁজছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। সরকারকে তাঁদের সময় দিতে হবে। কারণ জমি পেলেই তো হবে না, এগুলোর প্রসেস করতে একটু সময় লাগে। তিনি বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে তারা সময় পেয়েছে ১২ বছর। অন্যদিকে যারা যেতে পারেনি তাদের (বিশ্ববিদ্যালয়) জন্ম হয়েছে মাত্র সাত-আট বছর। কাজেই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সবাইকে একই পরিমাণ সময় দেওয়া উচিত।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি সূত্রে জানা যায়, দেশে ৫৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কোনো উদ্যোগই নেয়নি। ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন রয়েছে; কিন্তু আইনানুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নয়। ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে; কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেনি। সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যারা স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনে এখন অবকাঠামো নির্মাণ করছে। ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে গেছে। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের অনুমতি নিয়ে চালাচ্ছে। একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের হিসাবে আসেনি।

সূত্র মতে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে সেগুলো হলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, আহ্‌ছান উলস্নাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালাচার অ্যান্ড টেকনোলজি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সাভারে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে বলে ইউজিসিকে জানিয়েছে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য ইউজিসিতে পাঠানো হয়নি। সেখানে পুরোপুরিভাবে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু করা হয়নি।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে এবং অবকাঠামো নির্মাণ করছে সেগুলো হলো ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেনি সেগুলো হলো আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, লিডিং ইউনিভার্সিটি সিলেট, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি সিলেট, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন আছে কিন্তু আইনানুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নেই সেগুলো হলো পিপলস ইউনিভর্সিটি অব বাংলাদেশ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এক বিঘা জমি কিনেছে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি ইউজিসি তদন্ত করছে।

এ ছাড়া আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চালু রয়েছে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হচ্ছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য আদালতের রায় থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মেলেনি।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য উদ্যোগ নেয়নি সেগুলো হলো দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

দৈনিক কালের কণ্ঠ / প্রথম পাতা : ২৯/১১/২০১১
—————————————–
Here is the list of the UGC Approved private university of Bangaldesh:

1. Ahsanullah University of Science and Technology(AUST)
2. American International University – Bangladesh(AIUB)
3. America Bangladesh University
4. ASA University Bangladesh (ASAUB)
5. Asian University of Bangladesh (AUB)
6. Atish Dipankar University of Science & Technology(ADUST)
7. Bangladesh University(BU)
8. Bangladesh University of Business and Technology(BUBT)
9. Begum Gulchemonara Trust University(BGTU)
10. BGC Trust University Bangladesh(BTUB)
11. Brac University(BracU)
12. Central Women’s University
13. City University(CU)
14. Daffodil International University (DIU)
15. Darul Ihsan University
16. Dhaka International University(DIU)
17. East West University (EWU)
18. Eastern University (EU)
19. Gano Bishwabidyalay
20. Green University of Bangladesh (GUB)
21. IBAIS University
22. Independent University, Bangladesh (IUB)
23. International Islamic University Chittagong (IIUC)
24. International University of Business, Agriculture & Technology (IUBAT)
25. Leading University
26. Manarat International University (MIU)
27. Metropolitan University, Sylhet
28. North South University (NSU)
29. Northern University – Bangladesh (NUB)
30. Premier University , Chittagong
31. Presidency University
32. Prime University
33. Primeasia University
34. Pundra University of Science and Technology
35. Queens University
36. Royal University of Dhaka (RUD)
37. Santa Marium University of Creative Technology
38. South East University (SEU)
39. Southern University
40. Stamford University
41. State University of Bangladesh (SUB)
42. Sylhet International University
43. The People’s University of Bangladesh (PUB)
44. The Millenium University
45. The University of Asia Pacific (UAP)
46. United International University (UIU)
47. University of Development Alternative (UODA)
48. University of Information Technology & Sciences (UITS)
49. University of Liberal Arts Bangladesh (ULAB)
50. University of Science and Technology, Chittagong (USTC)
51. University of South Asia (UniSA)
52. Uttara University
53. Victoria University of Bangladesh
54. World University of Bangladesh

Private university in Bangladesh is increasing day by day. As the students are rapidly increasing & the number of public university in Bangladesh are very few; so there is no substitute of private university to manage the higher education for the passed students of all over the Bangladesh.

But students have to be careful to choose the correct private university (Which is UGC Approved) for him/her to enlighten his/her future academic life. I am saying so because a lot of private university is inaugurating almost every new year; who are just selling the certificates by taking lots of money without providing any proper and qualified education.

যে মানুষটিকে আপনি কখনও লেখাপড়া নিয়ে কোন কথা বলতে শোনেননি তিনি হঠাৎ করে নামের পাশে বিরাট করে ‘ডক্টর’ লিখছেন


উচ্চশিক্ষার্থে বিলেত যাত্রায় সাবধানতা প্রয়োজন

আ ব দু ল মা ন্না ন

প্রায় কুড়ি বছর আগের কথা। লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরছিলাম বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে। ফ্লাইটটি যথারীতি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে প্রায় আট ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছিল। মাঝখানে দুবাইয়ে ঘণ্টা দুয়েকের যাত্রাবিরতি। তারপর আবার ঢাকার উদ্দেশে উড়ল। সে সময় বিমানের অভ্যন্তরীণ সেবার মান মোটামুটি ভালো ছিল। খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকিয়ে বিমানের স্মার্ট বিমানবালা জানতে চাইলেন, ডিউটি ফ্রি কিছু কিনতে চাই কিনা! তখন আমি একজন নিয়মিত ধূমপায়ী। দশ ডলার দিয়ে কিনলাম এক কার্টন বিদেশী ব্র্যান্ডের সিগারেট। ঢাকা বিমানবন্দরে শুল্ক কর্তৃপক্ষ তা বাজেয়াপ্ত করল এই বলে যে, বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীর বিদেশী সিগারেট দেশে আনা নিষিদ্ধ। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি, সিগারেট আমার কাছে বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ শুল্কমুক্ত দোকানই বিক্রি করেছে। তারা আমাকে কখনও বলেনি, বাংলাদেশী পাসপোর্ট হলে এ সিগারেট নেয়া যাবে না। বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে অনেক সময় শুল্ক কর্তৃপক্ষকে সহজ কথাও বোঝানো সম্্‌ভব নয়। তাদের সোজাসাপ্টা উত্তর, কোথা থেকে কিনলেন, কারা বিক্রি করল, তা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। সিগারেট আপনি নিয়ে যেতে পারবেন না। এসব বিষয়ে আমি সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নই। তর্ক হয় বেশ কিছুক্ষণ। লাভ হয় না কিছুই। শেষতক শখের ওই সিগারেটের কার্টনটা শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হই। এতদূর পড়ার পর পাঠক মনে করতে পারেন, আমি বুঝি বাংলাদেশ বিমান বা বিমানবন্দর শুল্ক কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে কিছু একটা লিখতে বসেছি। না, তেমনটি নয়। বিষয়টি হচ্ছে বহুল আলোচিত, সমালোচিত, নিন্দিত ‘শিক্ষাবাণিজ্য’ বিষয়ক।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত ভোরের ডাক পত্রিকা ২ ডিসেম্বরে প্রথম পৃষ্ঠায় চার কলামের শীর্ষ খবর হিসেবে ‘ব্রিটেনে ৬৩ হাজার বাংলাদেশী ছাত্রের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত’ একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদে বলা হয়েছে, সে দেশ থেকে হাজার হাজার বিদেশী ছাত্রকে বিদায় করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে কনজারভেটিভ নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকার। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নন-ডিগ্রি কোর্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশসহ অন্তত ৯০ হাজার বিদেশী শিক্ষার্থীর ভিসা আর ব্রিটিশ সরকার নবায়ন করবে না। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বরাত দিয়ে সংবাদটিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটেনে অবস্থানরত বাংলাদেশের মোট শিক্ষার্থীর আনুমানিক ৭০ শতাংশই নন-ডিগ্রি কোর্সে অধ্যয়ন করছে। সেদেশের সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্রিটেনে অধ্যয়নরত প্রায় ৬৩ হাজার বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হলে হাজার হাজার বিদেশী ছাত্র, যারা ‘উচ্চশিক্ষা লাভের’ উদ্দেশ্যে বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বৈধভাবে শখের বিলেত যাত্রা করেছিল, তাদের নিজ দেশে ফিরতে হবে সবকিছু অসমাপ্ত রেখে। এটি কুড়ি বছর আগে বৈধভাবে বিমানের শুল্কমুক্ত বিপণি থেকে আমার সিগারেট ক্রয় করে ফ্যাসাদে পড়ার অবস্থা আর কী।

যেসব ছাত্রকে ব্রিটিশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে সে দেশ ছাড়তে হবে, তারা কেউই জাল ভিসা নিয়ে সে দেশে যায়নি। সেটি সম্্‌ভবও নয়। সব ছাত্র বৈধ ভিসা নিয়েই সে দেশে প্রবেশ করেছে এবং সে ভিসা পাওয়ার জন্য অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। বিরাট অংকের ভিসা ফিসহ নানা কিসিমের কাগজপত্র জমা দিতে হয়েছে। তাদের সহায়তা করেছে এ দেশে কার্যরত সেদেশেরই একটি সরকারি সংস্থা এবং ব্রিটেনের অনেক নন-ডিগ্রি গ্রান্টিং কলেজ, তার অনেকগুলোর প্রচলিত নাম ‘ভিসা কলেজ’। এদের কারও কারও আবার ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামে সহায়ক অফিসও আছে। এসব কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিরতি দিয়ে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে যায়, পত্রপত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়, বলে কাগজপত্র নিয়ে আস, স্পট এডমিশন নাও এবং আমার সঙ্গে চল। এরকম একটি ব্যবস্থাকে আমি আগে আমার একটি লেখায় আমাদের বাপ-দাদাদের আমলের সৌদি আরব থেকে হজের মৌসুমে আসা মোয়াল্লেম ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছিলাম। সে সময় হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে হাজী সাহেবানদের সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হতে হতো। তারও আগে যেতে হতো মুম্বাই হয়ে। সেখান থেকে জেদ্দা। সময় লাগত প্রায় এক মাস। সে সময় সৌদি আরব থেকে মোয়াল্লেমরা এসে চট্টগ্রাম বা মুম্বাইয়ে অফিস খুলে হাজী সাহেবদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করে একটা ফি নিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে যেত। তখন সৌদি আরব কোন তেলসম্পদ সমৃদ্ধ দেশ নয়। হজ মৌসুমের আয়টাই তাদের প্রধান আয়। ব্রিটেনে বর্তমানে উচ্চশিক্ষার নামে (যারা বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশে ছাত্র আনতে যায়) তাদের অবস্থাও এখন অনেকটা সেরকম। যে ছাত্রদের তারা সেদেশ থেকে বের করে দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে, তারা কিন্তু একটা বড় অংকের অর্থ সেদেশে নিয়ে গেছে, খরচও করেছে। সহজ কথায়, তারা সে দেশের অর্থনীতিতে সামান্য হলেও অবদান রেখেছে।

১৯৯৮-২০০০ সালে আমি লন্ডনের অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য ছিলাম। সে সময় অ্যাসোসিয়েশন যেসব কলেজ নন-ডিগ্রি কলেজের নামে শিক্ষাবাণিজ্যে লিপ্ত ছিল, সে বিষয়ে বেশ চিন্তিত ছিল। এদের তখনও বলা হতো ভিসা কলেজ, এখনও তা বলা হয়। ২০০০ সালে এর সংখ্যা ছিল ১৬০, পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দেড় হাজারে উন্নীত হয়। এটি বেশি বৃদ্ধি পায় যুক্তরাষ্ট্রের এক/এগারোর পরে। যখন সে দেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ব্রিটেনের কিছু ব্যক্তি, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই, তারা এসব কলেজ খুলে বসে। এসব কলেজের বেশিরভাগই অভিবাসী (যেমন- পূর্ব লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম) অধুøষিত এলাকায় অবস্থিত। কলেজ মানে কোন একটা ভবন বা দোকান বা রেস্টুরেন্টের ওপর দু’খানা ছোট আকারের কামরা। এগুলোর প্রায় কোনটাতেই কোন ফুলটাইম শিক্ষক নেই। নাম হয় বেশ বাহারি। কেউ কিন্তু ডিগ্রি দিতে পারে না। দিতে পারে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট। কোন কোনটির সঙ্গে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা আছে। একটি পর্যায়ের পর, (সাধারণত দুই বছর) সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে একজন কলেজ ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। তবে বাস্তবে তা কদাচিৎ ঘটে। আর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ও তেমন কোন উঁচুমানের বিশ্ববিদ্যালয় নয়। ব্রিটেনে এখনও পর্যন্ত শুধু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়। তাতে ভর্তি হতে গেলে অনেক টাকা লাগে। কলেজগুলোতে ভর্তি হতে সাধারণত এক সেমিস্টারে (চার-সাড়ে চার মাস) তিন হাজার পাউন্ড দিতে হয়। অন্যান্য খরচও আছে। সঙ্গে আছে থাকা-খাওয়ার খরচ। একজন ছাত্র সপ্তাহে কুড়ি ঘণ্টা কাজ করতে পারে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সে সুযোগও বেশ সীমিত। ছাত্রভিসা নবায়ন করতে হলে কলেজের একটা প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হয়। সেটা নিতে গেলেও আবার মোটা অংকের অর্থ দিতে হয়। যেহেতেু এসব কলেজের ছাত্ররা বেশিরভাগ সময়ই কাজ খঁুজতে ব্যস্ত থাকে অথবা কোন একটা বাঙালি রেস্টুরেন্টে স্বল্প আয়ে কাজ করতেই সময় ব্যয় করে, সেহেতু তারা নিয়মিত ক্লাসও করতে পারে না। সুতরাং তাদের বেলায় প্রত্যয়নপত্রের জন্য ফিও দিতে হয় বেশি। সবকিছু মিলিয়ে পুরো বিষয়টা নিয়ে একটা প্রতারণার জালে আটকে যায় বিদেশী ছাত্ররা। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। তবে সেরকম কলেজের সংখ্যা হাতে গোনা যায়।

দেরিতে হলেও ব্রিটিশ সরকার বিষয়টার গুরুত্ব কিছুটা উপলব্ধি করেছে এবং বিগত চার-পাঁচ বছরে এরকম প্রায় সাতশ’ কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, তারা শিক্ষার নামে মূলত আদম ব্যবসা করে আসছিল। তবে তা যদি তারা স্বীকারই করে তাহলে তারা এসব কলেজে সরল বিশ্বাসে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের শুরুতে স্টুডেন্ট ভিসা দিয়েছিল কেন? অতএব পুরো প্রতারণা ব্যবস্থায় ব্রিটেন সরকারের সম্পৃক্ততা তারা অস্বীকার করে কিভাবে? বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নিয়মিত বিরতি দিয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনেকটা ঢালওভাবে কঠোর সমালোচনা করে। এর মধ্যে ঠিক হয়েছে অনেকগুলোকে নাকি চরমপত্র দেয়া হবে। এটি অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই, বাংলাদেশের বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মনীতি মানছে না, শিক্ষার মান ভালো নয়, সার্টিফিকেট বিক্রি করে ইত্যাদি। এগুলোর ক্রেতার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যাও কম নয়। কারণ একটা ডিগ্রির সনদ জোগাড় করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সুযোগ সহজ হয় বলে ধারণা। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, বাংলাদেশের সবচেয়ে নিম্নমানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও সম্্‌ভবত বিলেতের এসব তথাকথিত কলেজের চেয়ে ভালো। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এসব কলেজের ক্ষেত্রে তেমন একটা উচ্চবাচ্য করে না। তবে সরকার ইতিমধ্যে দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলার নামে ব্যবসায়িক ফাঁদ পাতা নিষিদ্ধ করার একটা উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যারাই জড়িত, নিশ্চিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে প্রশংসা করবেন তারা। তবে খেয়াল রাখতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপটা শুধু নির্দেশেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে।

এ সত্যটি নিশ্চয় কেউ অস্বীকার করবেন না। যেসব ছাত্র বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে উচ্চশিক্ষার নামে উল্লিখিতভাবে বিলাত যাত্রা করে, বর্তমান অবস্থায় তাদের প্রতারিত হওয়ার সম্্‌ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। ক’দিন আগে ঢাকার একটি ভুয়া ফরেন এডুকেশন কনসালটেন্ট বাংলাদেশী ছাত্রদের কাছ থেকে পনেরো কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে, ঠিক যেমনটা ঘটে আদম বেপারিদের ক্ষেত্রে। এসব জালজোচ্চুরি বন্ধ করতে হলে উভয় দেশের সরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ব্রিটেনকে মনে রাখতে হবে, এটি এখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুগ নয়। আপনারা হাজার হাজার বিদেশী ছাত্রকে স্টুডেন্ট ভিসা দিয়ে (বিরাট অংকের অর্থের বিনিময়ে) নিজ দেশে নিয়ে যাবেন এবং তারা সেখানে নিম্নমানের কালেজে ভর্তি হবে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে, যার অনুমোদন ব্রিটিশ সরকার দিয়েছে এবং কিছ- সময় পর সেসব ছাত্রকে ব্রিটেন ত্যাগে বাধ্য করবেন, এটা তো কোন সৎ উদ্দেশ্যের কাজ হতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে বা মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত হয়ে যেমন অনেক শ্রমিক সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরে আসে, বিলেত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও অনেকটা সেরকম অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি বন্ধ করার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে, বাংলাদেশের সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। দেশে এখন প্রায় একান্ন ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সে সুযোগটা না থাকলে হয়তো এদের অনেকেই বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হতো। সুতরাং এখন সরকারকে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা নিয়ে প্রতারণার কথা না বললে লেখাটা অসমাপ্ত থেকে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র বাজার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বলে সে দেশে টাকা দিলে সবকিছু পাওয়া যায়। ডিগ্রিও সহজলভ্য। অবশ্য তা কোন প্রতিষ্ঠিত এবং স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়। এগুলোকে বলা হয় ব্রিফকেস বা অ্যাপার্টমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়। অনেকটা ব্রিটেনের কলেজগুলোর মতো, তবে তাদের কাজ করার ধরন আলাদা। ডিজিটাল যুগে তারা অনলাইনে ডিগ্রি দেয়। একেবারে সরাসরি পিএইচডি পেতে পারে যে কেউ। পাঁচ থেকে দশ হাজার ডলার খরচ করে নাম নিবন্ধন করতে হয়। বিএ, এমএ ডিগ্রির জন্য রেট একটু কম। বছরখানেক পর দেখা যাবে, যে মানুষটিকে আপনি কখনও লেখাপড়া নিয়ে কোন কথা বলতে শোনেননি তিনি হঠাৎ করে নামের পাশে বিরাট করে ‘ডক্টর’ লিখছেন। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে জানান দিচ্ছেন। আসলে শিক্ষা নিয়ে জালিয়াতি বা বাণিজ্য এখন সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। সব শেষে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে তার সাফল্য কামনা করি এবং আশা করব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও এ ব্যাপারে একটা জোরালো ভূমিকা রাখবে। তাতে অন্তত এদেশের কিছু মানুষ প্রতারণার হাত থেকে বাঁচবে এবং কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে পাচার বন্ধ হবে। যারা নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে উচ্চশিক্ষার্থে নিজ সন্তানকে বিদেশ পাঠাবেন বলে ঠিক করেছেন, তা করার আগে ভালো করে খোঁজখবর নিন, যথাযথ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপনার সন্তানটিকে পাঠাচ্ছেন কিনা! না হয় প্রতারিত হওয়ার যথেষ্ট সম্্‌ভাবনা রয়েছে।

আবদুল মান্নানঃ শিক্ষক, ইউল্যাব, ঢাকা, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মারাত্মক শব্দদূষণ : জটিল মানসিক ও শারীরিক সমস্যা বাড়ছে ।। শব্দদূষণ প্রতিরোধ জরুরি


মারাত্মক শব্দদূষণ : জটিল মানসিক ও শারীরিক সমস্যা বাড়ছে ।।

শব্দদূষণ

শব্দদূষণ


নগরীর রাজপথ থেকে আবাসিক এলাকা-সর্বত্রই শব্দদূষণের ফলে জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিরোধ করতে হাইড্রোলিক হর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও যানবাহন মালিক, চালকরা এগুলো মানছেন না। স্কুল কিংবা হাসপাতালের সামনে হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ হলেও কে শোনে কার কথা। অব্যাহত যানজট শব্দ দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণ প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করছে, জরিমানা করছে, কিন্তু শব্দদূষণ বন্ধ করতে পারছে না। যানবাহনের দুর্ভোগ তো আছেন, তার সাথে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের প্রকোপে জেনারেটরের বিকট শব্দ, যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যানবাহন, যানবাহনের হর্ন, মাইক, লাউড-স্পিকার, ইট ও পাথর ভাঙার মেশিন, জেনারেটর ইত্যাদি থেকে নির্গত শব্দ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই সময় এসেছে শব্দদূষণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার। বিষয়টি মোটেও সহজসাধ্য নয়। তাই দেরি না করে জনসচেতনতার মাধ্যমে এবং আইন প্রয়োগ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

ঢাকা হচ্ছে বিশ্বের একটি অন্যতম জনবহুল ও অপরিকল্পিত মহানগর। এখানে এভাবে অযথা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে, মাইক ও লাউড-স্পিকার দিয়ে শব্দদূষণ করা হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত খুব ক্ষতিকারক। উন্নত দেশগুলোতে হাজার লোকের সমাবেশে উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার না করে মাউথ-স্পিকারের মাধ্যমে বক্তৃতা দেওয়া হয়। মিছিলে উচ্চ কণ্ঠে শ্লোগান দিয়ে শব্দদূষণ না করে প্লাকার্ড বহন করা হয়। রেলস্টেশনগুলো এমনভাবে তৈরি, ইঞ্জিনের হর্ন ও শব্দ আবসিক এলাকায় কোনো প্রভাব ফেলে না। আর আমাদের দেশে হাসপাতালে যখন চিকিৎসা চলে, তখন দেখা যায়, রাস্তায় মাইক দিয়ে কেউ বক্তৃতা দিচ্ছে, মাইক দিয়ে গান বাজিয়ে লটারির টিকিট বিক্রি করছে, কারণে-অকারণে বাস ও ট্রাকচালকেরা হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে বাইরে থেকে হাসপাতালের ভেতর শব্দদূষণ করছে। শাহবাগের পিজি হাসপাতালের লাইব্রেরিতে পড়তে গেলে বোঝা যায়, শব্দদূষণ কী মারাত্মক!

শব্দদূষণ ঢাকা শহরের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা

শব্দদূষণ ঢাকা শহরের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা


শব্দদূষণে রাজধানীর শতভাগ মানুষ রোগাক্রান্ত। গাড়ি ও কল-কারখানার অনিয়ন্ত্রিত উচ্চশব্দের প্রভাবে সবাই ছোট-বড় বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের রোগীরা শব্দদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঢাকার ৪৫টি পয়েন্টে গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত শব্দমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। যানজট বাড়ার সঙ্গে শব্দমাত্রাও বেড়ে চলছে।

জানা গেছে, শ্রবণের জন্য শব্দের কম্পাঙ্ক ৪৫ ডেসিবল সহনীয় মাত্রা। ১০৬ ডেসিবলের শব্দ অতিমাত্রায় দূষণ ঘটায়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সূত্রে জানা যায়, ৩০টি কঠিন রোগের কারণ ১২ রকমের পরিবেশ দূষণ। শব্দদূষণ তার মধ্যে অন্যতম। শব্দদূষণের প্রধান উৎস গাড়ির হর্ণ। এ ছাড়া ইট ভাঙার মেশিন, জেনারেটর, মাইকের শব্দ, কারখানার শব্দ, উচ্চ শব্দে গান শোনা ইত্যাদি নানাভাবে শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিছুদিন ধরে বিকট শব্দে হর্ণ বাজানো যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। মোটর সাইকেলে শোনা যায় কুকুর বা গাধার ডাক, প্রাইভেট কারে গাড়ি ব্রেকের শব্দ। পেছন থেকে হঠাৎ এমন শব্দ শুনলে সামনের পথচারীর শোচনীয় অবস্থা। চিন্তার ফুরসতও পায় না তারা।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়ায ঢাকা শহরে গাড়ির উচ্চশব্দে শব্দদূষণশীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধে শব্দদূষণকে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম বড় কারণ বলে চিহ্নিত করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরাও গাড়ির উচ্চশব্দকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন।

Sound pollution -- a severe health hazard

Sound pollution -- a severe health hazard

ডুয়েটের শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়াযের গবেষণা প্রবন্ধটি মিলিটারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের জার্নালের চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসরত শিক্ষক, ছাত্র, ডাক্তার, ট্রাফিক পুলিশ, চালক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন চাকরিজীবীর সাক্ষাত্কার নিয়ে দেখা গেছে শতভাগ মানুষই শব্দদূষণের কারণে নানা রোগে ভুগছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১২ ভাগ মাথাব্যথা ও চোখের পানিপড়া, ১৮ ভাগ অবসাদ, ১৫ ভাগ অনিদ্রা, ২৮ ভাগ বদমেজাজী, ২৬ ভাগ কানে কম শোনা এবং ৩ ভাগ লোক অন্যান্য রোগে ভুগছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিল্প এলাকায় শব্দের সহনীয় মাত্রা দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবল ও ৬০ ডেসিবল মিশ্র এলাকায় ৬০ ডেসিবল ও ৫০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবল ও ৪০ ডেবিল এবং নিরব এলাকায় (হাসপাতাল ও স্কুল আছে এমন এলাকা) ৪৫ ডেসিবল ও ৩৫ ডেসিবল।

কিন্তু ঢাকা শহরের ৪৮টি পয়েন্টে সরেজমিন জরিপে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৫টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা থাকে ৮০ ডেসিবলের ওপরে। ১০টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা থাকে ৭১ থেকে ৮০ ডেসিবল, ১৩টি স্পটে ৬১ থেকে ৭০ ডেসিবল, ৯টি পয়েন্টে ৫১ থেকে ৬০ ডিসেবল এবং ১টি পয়েন্টে ৪৫ থেকে ৫০ ডেসিবল শব্দমাত্রা থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল ১০টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

এমনকি সাইলেন্ট জোন হিসেবে পরিচিত হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এলাকায় যানজটের কারণে শব্দমাত্রা থাকে ৮০ ডেসিবলের কাছাকছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। তিন দিক থেকে উচ্চশব্দ আসে এ হাসপাতালটিতে। শাহবাগ মোড়, শাহবাগ হয়ে শেরাটন হোটেল এবং শাহবাগ হয়ে কাঁটাবন পয়েন্টে প্রচণ্ড যানজটে অতিউচ্চমাত্রার গাড়ির শব্দ এ হাসপাতালের রোগীদের সাধারণ রোগের পাশাপাশি শব্দদূষণ রোগে আক্রান্ত করে। এ দুটো হাসপাতালে শব্দপ্রতিরোধক দেয়াল তৈরি করা যেতে পারে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট এলাকা সাইলেন্ট জোন হলেও এই পয়েন্টে উচ্চমাত্রার শব্দদূষণ চলে দিনভর।

শব্দদূষণ

শব্দদূষণ


গবেষণাপত্রে বলা হয়, উচ্চশব্দে হর্ন বাজানোকে বেশিরভাগ চালক নিজেদের শক্তির পরিচয় হিসেবে মনে করেন। অপেক্ষাকৃত আগে যেতে অন্য গাড়ি থেকে সাইড নেয়ার জন্য তারা উচ্চশব্দে হর্ন দেন। আবার লেন পরিবর্তন করার জন্য লাইট ইনডিকেটর সিগন্যাল ব্যবহার না করে বেশিরভাগ চালক হর্ন ব্যবহার করে থাকেন।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে উচ্চ শব্দমাত্রা হয় রমনা পার্কের অরুণোদয় গেটের সামনের সড়কে বিকাল ৫টার দিকে এবং এ মাত্রা ৯৯ দশমিক ৮ ডেসিবল। মগবাজার মোড় সংলগ্ন এলাকায়ও শব্দমাত্রা বেশিরভাগ সময়ই ৯১ ডেসিবল ছাড়িয়ে যায়। গুলিস্তান ও মতিঝিল থেকে প্রেসক্লাব এবং হাইকোর্ট হয়ে রমনা পার্কের সামনে দিয়ে শাহবাগ ও ফার্মগেট হয়ে বিজয়নগর সড়কে যানজটের কারণেই বেশি উচ্চমাত্রার শব্দ হয়ে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আবাসিক বাড়িতে ও শোবার ঘরে শব্দের মাত্রা ২৫ ডেসিবল, অন্যান্য রুমে ৪০ ডেসিবল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩০ ডেসিবল, রেস্টুরেন্টে ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবল, অফিস কক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ ডেসিবল এবং শ্রেণীকক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবল থাকা স্বাস্থ্যসম্মত। এর চেয়ে বেশি হলে সেটা শব্দ দূষণের পর্যায়ে পড়ে।

মারাত্মক শব্দদূষণ প্রতিরোধ জরুরি

Noise-pollution

Noise-pollution

শব্দদূষণ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আপনি জানেন কি, তিন বছর বয়সের নিচে কোনো শিশুর কানে যদি খুব কাছ থেকে ১০০ ডেসিবেল শব্দ আসে, তাহলে তার শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে? শব্দদূষণের কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বুক ধড়ফড়, খিটখিটে মেজাজ, মাথাব্যথা, পেপটিক আলসার, অস্থিরতা, অমনোযোগী ভাব, ঘুমে ব্যাঘাত, শ্রবণশক্তি ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ মানুষের লিভার সিরোসিস, গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তচাপজনিত রোগ, মাথা ধরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগ নষ্টসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে। অপরদিকে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বড় বড় শহরে পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে শব্দদূষণ। উচ্চ শব্দদূষণের কারণে প্রাণিকুল আজ বিলুপ্তির পথে, শহর আজ পাখিশূন্য। ঢাকায় সৃষ্ট শব্দদূষণে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে হাজার হাজার শিশুর শ্রবণক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে বা কমছে।

বাড়িতে, অফিসে, রাস্তাঘাটে, বিপণিকেন্দ্রে, বাস ও রেলস্টেশনের মাধ্যমে শব্দদূষণ করা হচ্ছে। শব্দদূষণ সম্পর্কে এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিএএফ শাহীন কলেজের কাছে শব্দদূষণ দিনের বেলায় ৭৪ ডেসিবেল এবং রাতে ৮৩ ডেসিবেল। মতিঝিল সরকারি হাইস্কুলের কাছে দিনে ৭৯ ডেসিবেল এবং রাতে ৮৫ ডেসিবেল; ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দিনে ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৮০ ডেসিবেল; পিজি হাসপাতালের কাছে দিনে ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৮৩ ডেসিবেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নগর-পরিবেশের জন্য নিরাপদ শব্দমাত্রা হচ্ছে সর্বোচ্চ ডেসিবেল। বিভিন্ন মাত্রার শব্দ ভিন্ন ভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে, যেমন-

৩০-৩৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রায় নার্ভাসনেস ও ঘুমের ব্যাঘাত।

৬৫ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় হৃদরোগ।

৯০ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় আলসার, শ্রবণে ব্যাঘাত ও স্মায়ুতন্ত্রের পরিবর্তন।

১২০ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় শ্রবণযন্ত্রে ব্যথা এবং স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি লোপ পেতে পারে। এ ছাড়া শব্দদূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের সমস্যাই দেখা দেয় এবং এটা হতে পারে স্থায়ী বা অস্থায়ী। হঠাৎ কোনো উচ্চ শব্দে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে এবং সঙ্গে রক্তক্ষরণও হতে পারে। উচ্চ শব্দে কানের মধ্যে ইনফ্লামেশন হয়ে ইফিওশন হতে পারে।

উচ্চ শব্দের উৎসের কাছে দীর্ঘদিন কাজ করলে একজন মানুষের শ্রবণক্ষমতা স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। রোগী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য শব্দদূষণ মারাত্মক ক্ষতির কারণ। শব্দদূষণের কারণে বিকলাঙ্গ শিশুও জ্নগ্রহণ করতে পারে।

প্রচণ্ড শব্দ শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। কোনো শিশুর কানে যদি খুব কাছ থেকে উচ্চ শব্দ আসে, তাহলে তার শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শব্দদূষণের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর শ্রবণক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে। এর প্রতিকার জরুরি।

এভাবে শব্দদূষণ চলতে থাকলে রাজধানীবাসীর শ্রবণশক্তি দিন দিন হ্রাস পাবে বলে গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করেন ডুয়েটের শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়ায। অন্য রোগগুলো আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ অস্বাস্থ্যকর এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকার যানজট নিরসন ও চালকদের অধিকতর প্রশিক্ষণ জরুরি। এছাড়া রোড ডিভাইডারে পরিকল্পিত বনায়ন, শব্দদূষণ রোধে বিশেষ আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন এবং কম মাত্রার শব্দ করেএমন গাড়ি তৈরি ও আমদানি করার সুপারিশ করেন এই গবেষক। গবেষণা সুপারিশে একইসঙ্গে ব্যস্ততম সড়কের পাশে হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজ নির্মাণ না করা, প্রতিষ্ঠানে শব্দপ্রতিরোধক আসবাবপত্র ব্যবহারেরও পরামর্শ দেয়া হয়। এজন্য ঢাকা শহরকে যতটুকু সম্ভব পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এসব থেকে নিস্তার চাই মানুষ। ভিন্ন একটি সূত্র জানিয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত হর্ণের শব্দ, কালো ধোঁয়া, এলাকাভেদে অনুমোদিত শব্দ মাত্রার হর্ণ ব্যবহারের ব্যাপারে নগর ট্রাফিক বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্কাউট, গার্লস গাইড, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা ভাল অবদান রাখতে পারে। পরিবেশ রক্ষা ও শব্দদূষণ রোধে ব্যাপক গণ সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও কঠোরভাবে তা প্রয়োগও জনস্বার্থে জরুরি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শব্দদূষণ সংক্রান্ত আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। ১৯৭৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্ধারিত স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নিরব এলাকা হিসেবে নির্দিষ্ট রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, এ ধরনের স্থানেও অবাধেই গাড়ির হর্ণ বাজানোসহ লাউড স্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিকট ও কর্কশ শব্দ নিয়ন্ত্রণে শব্দ অপরিবাহী আবরণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে, কিন্তু করা হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে শব্দদূষণ কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে ড্রাইভারদের অধিকতর প্রশিক্ষণ, যানজট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিম মাঠে নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে হাসপাতালে শব্দপ্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ এবং মূল সড়কের পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে শব্দপ্রতিরোধক আসবাবপত্র ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তারা। এর শিকার নগরবাসীর প্রশ্ন আর কতদিন সইতে হবে এমন যন্ত্রণা?

সূত্রঃ মাহাবুবুর রহমান, ঋত্বিক নয়ন, ডা: মুহম্মদ শফিকুল হক

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,