যে মানুষটিকে আপনি কখনও লেখাপড়া নিয়ে কোন কথা বলতে শোনেননি তিনি হঠাৎ করে নামের পাশে বিরাট করে ‘ডক্টর’ লিখছেন


উচ্চশিক্ষার্থে বিলেত যাত্রায় সাবধানতা প্রয়োজন

আ ব দু ল মা ন্না ন

প্রায় কুড়ি বছর আগের কথা। লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরছিলাম বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে। ফ্লাইটটি যথারীতি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে প্রায় আট ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছিল। মাঝখানে দুবাইয়ে ঘণ্টা দুয়েকের যাত্রাবিরতি। তারপর আবার ঢাকার উদ্দেশে উড়ল। সে সময় বিমানের অভ্যন্তরীণ সেবার মান মোটামুটি ভালো ছিল। খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকিয়ে বিমানের স্মার্ট বিমানবালা জানতে চাইলেন, ডিউটি ফ্রি কিছু কিনতে চাই কিনা! তখন আমি একজন নিয়মিত ধূমপায়ী। দশ ডলার দিয়ে কিনলাম এক কার্টন বিদেশী ব্র্যান্ডের সিগারেট। ঢাকা বিমানবন্দরে শুল্ক কর্তৃপক্ষ তা বাজেয়াপ্ত করল এই বলে যে, বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীর বিদেশী সিগারেট দেশে আনা নিষিদ্ধ। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি, সিগারেট আমার কাছে বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ শুল্কমুক্ত দোকানই বিক্রি করেছে। তারা আমাকে কখনও বলেনি, বাংলাদেশী পাসপোর্ট হলে এ সিগারেট নেয়া যাবে না। বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে অনেক সময় শুল্ক কর্তৃপক্ষকে সহজ কথাও বোঝানো সম্্‌ভব নয়। তাদের সোজাসাপ্টা উত্তর, কোথা থেকে কিনলেন, কারা বিক্রি করল, তা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। সিগারেট আপনি নিয়ে যেতে পারবেন না। এসব বিষয়ে আমি সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নই। তর্ক হয় বেশ কিছুক্ষণ। লাভ হয় না কিছুই। শেষতক শখের ওই সিগারেটের কার্টনটা শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হই। এতদূর পড়ার পর পাঠক মনে করতে পারেন, আমি বুঝি বাংলাদেশ বিমান বা বিমানবন্দর শুল্ক কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে কিছু একটা লিখতে বসেছি। না, তেমনটি নয়। বিষয়টি হচ্ছে বহুল আলোচিত, সমালোচিত, নিন্দিত ‘শিক্ষাবাণিজ্য’ বিষয়ক।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত ভোরের ডাক পত্রিকা ২ ডিসেম্বরে প্রথম পৃষ্ঠায় চার কলামের শীর্ষ খবর হিসেবে ‘ব্রিটেনে ৬৩ হাজার বাংলাদেশী ছাত্রের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত’ একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদে বলা হয়েছে, সে দেশ থেকে হাজার হাজার বিদেশী ছাত্রকে বিদায় করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে কনজারভেটিভ নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকার। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নন-ডিগ্রি কোর্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশসহ অন্তত ৯০ হাজার বিদেশী শিক্ষার্থীর ভিসা আর ব্রিটিশ সরকার নবায়ন করবে না। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বরাত দিয়ে সংবাদটিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটেনে অবস্থানরত বাংলাদেশের মোট শিক্ষার্থীর আনুমানিক ৭০ শতাংশই নন-ডিগ্রি কোর্সে অধ্যয়ন করছে। সেদেশের সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্রিটেনে অধ্যয়নরত প্রায় ৬৩ হাজার বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হলে হাজার হাজার বিদেশী ছাত্র, যারা ‘উচ্চশিক্ষা লাভের’ উদ্দেশ্যে বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বৈধভাবে শখের বিলেত যাত্রা করেছিল, তাদের নিজ দেশে ফিরতে হবে সবকিছু অসমাপ্ত রেখে। এটি কুড়ি বছর আগে বৈধভাবে বিমানের শুল্কমুক্ত বিপণি থেকে আমার সিগারেট ক্রয় করে ফ্যাসাদে পড়ার অবস্থা আর কী।

যেসব ছাত্রকে ব্রিটিশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে সে দেশ ছাড়তে হবে, তারা কেউই জাল ভিসা নিয়ে সে দেশে যায়নি। সেটি সম্্‌ভবও নয়। সব ছাত্র বৈধ ভিসা নিয়েই সে দেশে প্রবেশ করেছে এবং সে ভিসা পাওয়ার জন্য অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। বিরাট অংকের ভিসা ফিসহ নানা কিসিমের কাগজপত্র জমা দিতে হয়েছে। তাদের সহায়তা করেছে এ দেশে কার্যরত সেদেশেরই একটি সরকারি সংস্থা এবং ব্রিটেনের অনেক নন-ডিগ্রি গ্রান্টিং কলেজ, তার অনেকগুলোর প্রচলিত নাম ‘ভিসা কলেজ’। এদের কারও কারও আবার ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামে সহায়ক অফিসও আছে। এসব কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিরতি দিয়ে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে যায়, পত্রপত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়, বলে কাগজপত্র নিয়ে আস, স্পট এডমিশন নাও এবং আমার সঙ্গে চল। এরকম একটি ব্যবস্থাকে আমি আগে আমার একটি লেখায় আমাদের বাপ-দাদাদের আমলের সৌদি আরব থেকে হজের মৌসুমে আসা মোয়াল্লেম ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছিলাম। সে সময় হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে হাজী সাহেবানদের সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হতে হতো। তারও আগে যেতে হতো মুম্বাই হয়ে। সেখান থেকে জেদ্দা। সময় লাগত প্রায় এক মাস। সে সময় সৌদি আরব থেকে মোয়াল্লেমরা এসে চট্টগ্রাম বা মুম্বাইয়ে অফিস খুলে হাজী সাহেবদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করে একটা ফি নিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে যেত। তখন সৌদি আরব কোন তেলসম্পদ সমৃদ্ধ দেশ নয়। হজ মৌসুমের আয়টাই তাদের প্রধান আয়। ব্রিটেনে বর্তমানে উচ্চশিক্ষার নামে (যারা বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশে ছাত্র আনতে যায়) তাদের অবস্থাও এখন অনেকটা সেরকম। যে ছাত্রদের তারা সেদেশ থেকে বের করে দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে, তারা কিন্তু একটা বড় অংকের অর্থ সেদেশে নিয়ে গেছে, খরচও করেছে। সহজ কথায়, তারা সে দেশের অর্থনীতিতে সামান্য হলেও অবদান রেখেছে।

১৯৯৮-২০০০ সালে আমি লন্ডনের অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য ছিলাম। সে সময় অ্যাসোসিয়েশন যেসব কলেজ নন-ডিগ্রি কলেজের নামে শিক্ষাবাণিজ্যে লিপ্ত ছিল, সে বিষয়ে বেশ চিন্তিত ছিল। এদের তখনও বলা হতো ভিসা কলেজ, এখনও তা বলা হয়। ২০০০ সালে এর সংখ্যা ছিল ১৬০, পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দেড় হাজারে উন্নীত হয়। এটি বেশি বৃদ্ধি পায় যুক্তরাষ্ট্রের এক/এগারোর পরে। যখন সে দেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ব্রিটেনের কিছু ব্যক্তি, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই, তারা এসব কলেজ খুলে বসে। এসব কলেজের বেশিরভাগই অভিবাসী (যেমন- পূর্ব লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম) অধুøষিত এলাকায় অবস্থিত। কলেজ মানে কোন একটা ভবন বা দোকান বা রেস্টুরেন্টের ওপর দু’খানা ছোট আকারের কামরা। এগুলোর প্রায় কোনটাতেই কোন ফুলটাইম শিক্ষক নেই। নাম হয় বেশ বাহারি। কেউ কিন্তু ডিগ্রি দিতে পারে না। দিতে পারে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট। কোন কোনটির সঙ্গে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা আছে। একটি পর্যায়ের পর, (সাধারণত দুই বছর) সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে একজন কলেজ ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। তবে বাস্তবে তা কদাচিৎ ঘটে। আর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ও তেমন কোন উঁচুমানের বিশ্ববিদ্যালয় নয়। ব্রিটেনে এখনও পর্যন্ত শুধু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়। তাতে ভর্তি হতে গেলে অনেক টাকা লাগে। কলেজগুলোতে ভর্তি হতে সাধারণত এক সেমিস্টারে (চার-সাড়ে চার মাস) তিন হাজার পাউন্ড দিতে হয়। অন্যান্য খরচও আছে। সঙ্গে আছে থাকা-খাওয়ার খরচ। একজন ছাত্র সপ্তাহে কুড়ি ঘণ্টা কাজ করতে পারে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সে সুযোগও বেশ সীমিত। ছাত্রভিসা নবায়ন করতে হলে কলেজের একটা প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হয়। সেটা নিতে গেলেও আবার মোটা অংকের অর্থ দিতে হয়। যেহেতেু এসব কলেজের ছাত্ররা বেশিরভাগ সময়ই কাজ খঁুজতে ব্যস্ত থাকে অথবা কোন একটা বাঙালি রেস্টুরেন্টে স্বল্প আয়ে কাজ করতেই সময় ব্যয় করে, সেহেতু তারা নিয়মিত ক্লাসও করতে পারে না। সুতরাং তাদের বেলায় প্রত্যয়নপত্রের জন্য ফিও দিতে হয় বেশি। সবকিছু মিলিয়ে পুরো বিষয়টা নিয়ে একটা প্রতারণার জালে আটকে যায় বিদেশী ছাত্ররা। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। তবে সেরকম কলেজের সংখ্যা হাতে গোনা যায়।

দেরিতে হলেও ব্রিটিশ সরকার বিষয়টার গুরুত্ব কিছুটা উপলব্ধি করেছে এবং বিগত চার-পাঁচ বছরে এরকম প্রায় সাতশ’ কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, তারা শিক্ষার নামে মূলত আদম ব্যবসা করে আসছিল। তবে তা যদি তারা স্বীকারই করে তাহলে তারা এসব কলেজে সরল বিশ্বাসে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের শুরুতে স্টুডেন্ট ভিসা দিয়েছিল কেন? অতএব পুরো প্রতারণা ব্যবস্থায় ব্রিটেন সরকারের সম্পৃক্ততা তারা অস্বীকার করে কিভাবে? বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নিয়মিত বিরতি দিয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনেকটা ঢালওভাবে কঠোর সমালোচনা করে। এর মধ্যে ঠিক হয়েছে অনেকগুলোকে নাকি চরমপত্র দেয়া হবে। এটি অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই, বাংলাদেশের বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মনীতি মানছে না, শিক্ষার মান ভালো নয়, সার্টিফিকেট বিক্রি করে ইত্যাদি। এগুলোর ক্রেতার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যাও কম নয়। কারণ একটা ডিগ্রির সনদ জোগাড় করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সুযোগ সহজ হয় বলে ধারণা। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, বাংলাদেশের সবচেয়ে নিম্নমানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও সম্্‌ভবত বিলেতের এসব তথাকথিত কলেজের চেয়ে ভালো। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এসব কলেজের ক্ষেত্রে তেমন একটা উচ্চবাচ্য করে না। তবে সরকার ইতিমধ্যে দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলার নামে ব্যবসায়িক ফাঁদ পাতা নিষিদ্ধ করার একটা উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যারাই জড়িত, নিশ্চিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে প্রশংসা করবেন তারা। তবে খেয়াল রাখতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপটা শুধু নির্দেশেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে।

এ সত্যটি নিশ্চয় কেউ অস্বীকার করবেন না। যেসব ছাত্র বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে উচ্চশিক্ষার নামে উল্লিখিতভাবে বিলাত যাত্রা করে, বর্তমান অবস্থায় তাদের প্রতারিত হওয়ার সম্্‌ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। ক’দিন আগে ঢাকার একটি ভুয়া ফরেন এডুকেশন কনসালটেন্ট বাংলাদেশী ছাত্রদের কাছ থেকে পনেরো কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে, ঠিক যেমনটা ঘটে আদম বেপারিদের ক্ষেত্রে। এসব জালজোচ্চুরি বন্ধ করতে হলে উভয় দেশের সরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ব্রিটেনকে মনে রাখতে হবে, এটি এখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুগ নয়। আপনারা হাজার হাজার বিদেশী ছাত্রকে স্টুডেন্ট ভিসা দিয়ে (বিরাট অংকের অর্থের বিনিময়ে) নিজ দেশে নিয়ে যাবেন এবং তারা সেখানে নিম্নমানের কালেজে ভর্তি হবে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে, যার অনুমোদন ব্রিটিশ সরকার দিয়েছে এবং কিছ- সময় পর সেসব ছাত্রকে ব্রিটেন ত্যাগে বাধ্য করবেন, এটা তো কোন সৎ উদ্দেশ্যের কাজ হতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে বা মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত হয়ে যেমন অনেক শ্রমিক সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরে আসে, বিলেত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও অনেকটা সেরকম অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি বন্ধ করার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে, বাংলাদেশের সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। দেশে এখন প্রায় একান্ন ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সে সুযোগটা না থাকলে হয়তো এদের অনেকেই বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হতো। সুতরাং এখন সরকারকে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা নিয়ে প্রতারণার কথা না বললে লেখাটা অসমাপ্ত থেকে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র বাজার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বলে সে দেশে টাকা দিলে সবকিছু পাওয়া যায়। ডিগ্রিও সহজলভ্য। অবশ্য তা কোন প্রতিষ্ঠিত এবং স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়। এগুলোকে বলা হয় ব্রিফকেস বা অ্যাপার্টমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়। অনেকটা ব্রিটেনের কলেজগুলোর মতো, তবে তাদের কাজ করার ধরন আলাদা। ডিজিটাল যুগে তারা অনলাইনে ডিগ্রি দেয়। একেবারে সরাসরি পিএইচডি পেতে পারে যে কেউ। পাঁচ থেকে দশ হাজার ডলার খরচ করে নাম নিবন্ধন করতে হয়। বিএ, এমএ ডিগ্রির জন্য রেট একটু কম। বছরখানেক পর দেখা যাবে, যে মানুষটিকে আপনি কখনও লেখাপড়া নিয়ে কোন কথা বলতে শোনেননি তিনি হঠাৎ করে নামের পাশে বিরাট করে ‘ডক্টর’ লিখছেন। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে জানান দিচ্ছেন। আসলে শিক্ষা নিয়ে জালিয়াতি বা বাণিজ্য এখন সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। সব শেষে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে তার সাফল্য কামনা করি এবং আশা করব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও এ ব্যাপারে একটা জোরালো ভূমিকা রাখবে। তাতে অন্তত এদেশের কিছু মানুষ প্রতারণার হাত থেকে বাঁচবে এবং কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে পাচার বন্ধ হবে। যারা নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে উচ্চশিক্ষার্থে নিজ সন্তানকে বিদেশ পাঠাবেন বলে ঠিক করেছেন, তা করার আগে ভালো করে খোঁজখবর নিন, যথাযথ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপনার সন্তানটিকে পাঠাচ্ছেন কিনা! না হয় প্রতারিত হওয়ার যথেষ্ট সম্্‌ভাবনা রয়েছে।

আবদুল মান্নানঃ শিক্ষক, ইউল্যাব, ঢাকা, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

যুদ্ধক্লান্ত জীবনে এতো কবিতা আসে কী করে! ওদের তো দেশ নেই, ঘর নেই, মেঘের মতোই বেসে বেড়ায়, তারপরও এত আনন্দময় কী করে হয় জীবন?


সারা আকাশ আর কালো বোরখা

নু রু ল ক রি ম না সি ম

আরো কয়েকদিন থেকে গেলে হয়তো ভালো হতো। প্রবাসের বন্ধুরাও সেরকম ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওয়াহিদ মাহমুদের মন সাড়া দিচ্ছিল না, তার মন উড়ে গিয়েছিল ঢাকার ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের ছিমছাম একতলা অফিসে, তার একান্ত পৃথিবীতে। টরন্টো থেকে বিমানে উঠলেন আলো-অাঁধারের এক অপরূপ ভোরবেলা। এখন তীব্র শীত নেই। অসম্ভব গরমও নেই। এখন ফুরফুরে বাতাস আর চমৎকার আবহাওয়ার দিন।

সবসময়ই তার বিমানযাত্রা সুপ্রসন্ন হয়। এটা বহুবার ওয়াহিদ লক্ষ করে অভিভূত হয়েছে। এবং যেহেতু সে মার্কসিস্ট, সে তার অজানা ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এবারও জানালার একান্ত পাশের সিট পেল। অন্য সিটগুলোতে তার পাশে বসলো একজন ভারতীয়, একজন আইরিশ। ওই দুজনের আলাপচারিতায় সে জানতে পারল ওরা বিজনেস পার্টনারও আবুধাবির এক কোম্পানির। ওয়াহিদের চিরকালের শখ বিমানের জানালায় বসে মেঘের অনিশ্চিত বিচরণ দেখা। ঠিক যেন জীবনের মতো। মাঝে মাঝে সে অবাক হয়। মেঘেরা যেমন অবয়ব বদলায়, রং বদলায় সেও যদি তেমনটি পারত, জীবন অন্যরকম হতো তাহলে। তার জীবন অনিশ্চয়তার দোলায় কেবলই দুলছে। ভালো চাকরি পেয়েছিল, করেনি। মন্ত্রী ডেকে ব্যবসা দিতে চেয়েছিলেন, কোথায় যেন তার অাঁতে ঘা লাগল কী কারণে, সেই প্রলোভনের ফাঁদে পা দেয়নি। রাজনৈতিক পার্টিতে ডেকেছিল, যায়নি। সৃজনশীল প্রকাশনা আর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি তার প্রিয়তম পেশা। সে সেল্ফ অ্যাম্পলয়েড থাকতে ভালোবাসে। তা ছাড়া আছে বিশাল পৈতৃক সম্পত্তি। সেই উৎস থেকে কম টাকা আসে না প্রতি মাসে! লেবানিজ এয়ারহোস্টেসের সুরেলা কণ্ঠে তার কল্পনা আর ভাবনা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তার প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেল পানীয়ের। কিছুক্ষণ পর হালকা ব্রেক ফাস্ট। সেইসাথে বিশেষ অনুরোধে পানীয় পেল। লেবাননের মেয়েটি সি্নগ্ধ ও মায়াবী, ঠিক তার সেক্রেটারি বীথিকার মতো। হঠাৎ সে কথা মনে হতেই দুষ্ট করে মনটা নিভে গেল। বাইরে তখন সূর্যের আলো হঠাৎ নিভে গেছে, মেঘে মেঘে ধোঁয়াটে হয়ে যাচ্ছে সারা আকাশ। তার ভেতর দিয়ে মেঘ কেটে কেটে এগোচ্ছে ভিনদেশি এই বিমানটি।

বীথিকা হঠাৎ কী এক অজানা কারণে দেশ ত্যাগ করে চলে গেল। শুনেছে লন্ডনে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। তার হাজবেন্ড ভীষণ ভালোবাসত, বলা চলে একটু বেশি ভালোবাসত। সব সময় বাইরের ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে আগলে রাখতে চাইত। একটু বেশি পজিটিভ ছিল। এটা বীথিকার ভালো লাগত না। তাদের কারো বছরের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান নেই। বীথিকার মনে সব সময়ই সন্তানের জন্য একটা হাহাকার ছিল। সব কথা তার বস ওয়াহিদ মাহমুদকে বলত; কিন্তু লন্ডন যাওয়ার কথাটা বলেনি। তার স্বামীও জানতো না ব্যাপারটা। এক ডিভোর্সি বান্ধবী, যে আগেই চলে গিয়েছিল, জানা যায় সমস্ত ব্যবস্থা সেই করেছিল।

সোনালি রংয়ের পানীয় দিয়ে সোনালি চুল দুলিয়ে সি্নগ্ধ সুন্দর এয়ারহোস্টেস চলে গেল। ধন্যবাদ দিয়ে ওয়াহিদ বলল : না, তোমার চক্ষু দুইটি সত্যিই অপূর্ব সুন্দর। ইওর আইস আর বিউটিফুল। মেয়েটি শব্দ করে হাসল। অজস্র চুড়ি যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল। মেয়েটির ভারি নিতম্ব দুলে উঠলো। উদ্ধত বুক যেন তীব্র কটাক্ষ হানলো। মেয়েটি বললো, ‘ইহা আমার চক্ষুদ্বয় নহে, ইহা সুন্দর তোমার দৃষ্টি যা আমাকে দেখে।’ ভোরের চমৎকার আলোর মতো এতক্ষণের জমে থাকা মেঘমেদুর বেদনা উড়ে গেল। তার মনে হলো, এরা কি জন্মগত কবি। যুদ্ধক্লান্ত জীবনে এতো কবিতা আসে কী করে! ওদের তো দেশ নেই, ঘর নেই, মেঘের মতোই বেসে বেড়ায়, তারপরও এত আনন্দময় কী করে হয় জীবন?

বোরখা ও নেকাব

বোরখা ও নেকাব

দীর্ঘ যাত্রা শেষে আবুধাবিতে ট্রানজিট। আধ ঘণ্টার। ওয়াহিদ নামল না। একটি সিলেটি পরিবার তার পাশের সিটে এসে বসলো। ভদ্রলোকের মুখে সামান্য দাড়ি। তার স্ত্রীর সারা শরীর কালো বোরখায় ঢাকা, শুধু চাঁদের মতো অপূর্ব মুখাবয়বটুকু বের করা। এতো সুন্দর মুখ অনেকদিন দেখেনি। বাংলাদেশের মেয়েরাও এরকম সুন্দর ও সি্নগ্ধ হতে পারে, তা ভেবে ভালো লাগে। এয়ারহোস্টেস মেয়েটির চেয়ে সুন্দর ও মায়াবী। চোখ দুটো কালো ও প্রেমময়। ঠোঁট দুটো পেলব, অনেকদিন সম্ভবত সেখানে চুমু পড়েনি। ভদ্রলোক সিলেটি। তিনি নিজে যেঁচে কথা বললেন। স্ত্রী-কন্যার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সব সিলেটিরা রক্ষণশীল নয়, ওয়াহিদের বিস্ময় জাগল। কথায় কথায় ওয়াহিদের বেশ কয়জন সিলেটি বন্ধুদের চিনতে পারলেন ভদ্রলোক। বিমান যাত্রার এই ভাসমান আড্ডা আরো জমে উঠল। ঢাকার স্মৃতি, সিলেটের স্মৃতি, টরন্টোর স্মৃতি_কত ছবি, কত কথা ওয়াহিদের লন্ডনের হারিয়ে যাওয়া যৌবনের দিনগুলো অবচেতনে নক করতে লাগল। এক সিলেটি বাসায় আশির দশকে সে পেয়িংগেস্ট হিসেবে ছিল। এসএসসিতে পড়ত। থাকত দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের বালামের কাছে ফোর্টস্কিউ রোডের একতলা লালইটের ছবির মতো এক বাড়িতে। হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল, দেশ তাকে গভীরভাবে টানল। সে পড়াশোনা অসম্পূর্ণ রেখে চলে এলো বাংলাদেশে। সিলেটি ভদ্রলোকের কোনো কথা তার কানে ঢুকছে না। আর ঢুকবে না পরবর্তী মুহূর্তগুলোতে। সে কোথায় কোন সুদূরে যেন হারিয়ে গেছে। তার আর উদ্ধার নেই, তার আর মুক্তি নেই।

বিমান ঢাকা এয়ারপোর্টের হাইওয়ে স্পর্শ করেছে। সবাই নেমে যাচ্ছে। সিলেটি পরিবারটিও বিদায় নিয়ে নেমে গেল। মহিলা শব্দহীন রহস্যময় হাসলেন। সেও। এখানেই কি সব কিছু শেষ! হঠাৎ সেলফোন বেজে উঠল। মহিলার কল এসেছে। তিনি হেসে হেসে খুব মৃদুস্বরে কী যেন বলছেন। সিলেটি ভদ্রলোক অস্থির, বিরক্ত এবং ক্ষেপে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ওয়াহিদের কাছে এসে অভিযোগ করলেন_অনেকটা সে রকম কণ্ঠ, ‘ওমরাও করাইয়া আনলাম, তবুও মাগির টেলিফোনের অভ্যাস গেল না।’

বিশ্বচরাচরের কোনোদিকে খেয়াল নেই, কালো বোরখা পরা মহিলাটি নিরন্তর কথা বলে যাচ্ছে_যেন এ আলাপচারিতা সহসা শেষ হওয়ার নয়।

—————————————————————————————————————————–

আকাশপথের খাবার : চলছে গবেষণা



বিমানের ভেতরের পরিবেশ কিছুটা ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার মতো। কারণ যখন নাক বন্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তির সমস্যা হয়, স্বাদের অনুভূতিও কমে যায়। কম বায়ুচাপে আকাশপথে কফি খেতে খারাপ লাগে, তবে যাত্রীদের কাছে টমেটোর সস স্বাদু মনে হয়
জার্মানির লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স এবং এর ক্যাটারিং সহযোগী এলএসজি ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটকে অনুরোধ করেছে যে, ১০ হাজার মিটার উঁচুতে কোন ধরনের খাবার ভালো লাগবে এবং কোনটি লাগবে না।

ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, আকাশ ভ্রমণে বর্তমান প্রচলিত খাবার হতে হবে কড়া ধরনের অর্থাৎ ঝালে-মসলায় ভরা যারা আকাশপথে ভ্রমণ করেন তারা প্রত্যেকেই জানেন যে, বিমানের ভেতরের আবহাওয়া এবং পরিবেশটি কেমন থাকে। বিমানের ভেতর আর্দ্রতা থাকে মাত্র ১৫ শতাংশ। বিমানের শব্দে আরোহীদের চারপাশে ঠিক যেন মেলা থাকে এক ধোঁয়াটে সাদা চাদর। আর বায়ুচাপে শরীরের তরল হয় ঊর্ধ্বমুখী। এ রকম পরিস্থিতিতে তৃষ্ণা বেড়ে যায়, শ্বাস কম প্রবাহিত হয় এবং ঘ্রাণশক্তির ব্যাঘাত ঘটে। সম্প্রতি জার্মানির ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বিমানে পরিবেশন করা খাবার সম্পর্কে এক মজার তথ্য প্রকাশ করেছেন। আর তা হলো, আকাশপথে ভ্রমণের সময় বিমানের খাবারে লবণ, ঝাল এবং মসলাযুক্ত খাবার আরও বেশি দরকার। ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. ফ্লোরিয়ান মায়ার এ বিষয়গুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন এবং সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি বলেন, বিমানের ভেতরের পরিবেশটা কিছুটা ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার মতো। কারণ তখন নাক বন্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তির সমস্যা হয়, স্বাদের অনুভূতিও কমে যায়। বায়ুচাপ কমে গেলেও এমনটিই ঘটে।

জার্মানির লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স এবং এর ক্যাটারিং সহযোগী এলএসজি এ কারণেই ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছিল যে, ১০ হাজার মিটার উঁচুতে কোন ধরনের খাবার ভালো লাগবে এবং কোনটি লাগবে না। জানা গেছে, এ গবেষণার জন্য একটি বিমানের সামনের অংশে ৩০ মিটার দীর্ঘ টিউব আকৃতির চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। এই চেম্বারটির ভেতরের বায়ুচাপটি নিয়ন্ত্রিত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। ফ্লোরিয়ান মায়ার এ ব্যাপারে বলেন, এখানে আর্দ্রতার পরিমাণ রাখা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। আকাশে থাকার সময় বিমানের ভেতরে যে পরিবেশটি থাকে, তেমন পরিবেশই তারা তৈরি করেছেন এই চেম্বারটিতে। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়েও এর ভেতরের চাপটি কম রাখা হয়েছে। ভূপৃষ্ঠে বায়ুচাপ থাকে ৯৫০ হেক্টো প্যাসকল, কিন্তু বিমান যখন আকাশে থাকে তখন এর ভেতরের বায়ুচাপটি থাকে ৭৫০ থেকে ৮০০ হেক্টো প্যাসকল। আর এই টিউব আকৃতির চেম্বারটির ভেতরে আকাশ ভ্রমণে বিমানের ভেতরের পরিবেশটি যেমন থাকে, ঠিক তেমন পরিবেশই তৈরি করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে বিমানের আসনগুলো কাঁপে এবং শব্দ হয়, এখানেও একইরকমভাবে কাঁপন এবং শব্দ হয়। শুধু তা-ই নয়, বিমানে দেওয়া খাবারের মেন্যুর মতোই এখানে খাবার দেওয়া হয়। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, আকাশ ভ্রমণে বর্তমান প্রচলিত খাবার হতে হবে কড়া ধরনের অর্থাৎ ঝালে-মসলায় ভরা। ড. ফ্লোরিয়ান মায়ারের মতে, মসলাদার খাবার যেমন থাই বা ইন্ডিয়ান খাবার এ পরিবেশে দারুণ মানানসই হবে। আর এর কারণ হচ্ছে, এই খাবারের স্বাদটি সবসময় এক থাকে। এর মসলাদার ঝাল ঝাল ভাবটি কখনও কমে যায় না। কিন্তু সাধারণ খাবারে বাড়তি মসলা ঢেলে দিয়ে তবেই স্বাদ বাড়াতে হয়। অবশ্য লুফ্থহানসা তার বিমানের খাবারের মেন্যুতে বাড়তি কোনো সুরুয়া জাতীয় খাবার যুক্ত না করলেও এর ক্যাটারিং সার্ভিসটি ইতিমধ্যেই তাদের সরবরাহকৃত ব্রেডরোলে যুক্ত করেছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, আকাশ ভ্রমণে যাত্রীরা টমেটোর সস বেশি খায়। আর কেন তারা টমেটোর সস বেশি খায় এ প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছিলেন গবেষকরা। লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স তার বিমানের খাবারের সঙ্গে বছরে শুধু ১৭ লাখ লিটার টমেটোর সসই সরবরাহ করে থাকে। টমেটোর এই সস একই সঙ্গে লবণ আর ঝালের কাজ করলেও ড. মায়ার বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, বায়ুচাপের সঙ্গে সঙ্গে টমেটোর স্বাদও বদলাতে থাকে। তাই মাটিতে বা ভূপৃষ্ঠে টমেটোর জুসের যে বদনাম রয়েছে সেটির স্বাদই আকাশপথে ভ্রমণের সময় সুস্বাদু হয়ে ওঠে। ড. মায়ার আরও বলেছেন, কম বায়ুচাপের কারণে আকাশপথে কফি খেতে একেবারেই খারাপ লাগে।

যে কোনো ডেজার্টে আরও চিনি ঢেলে তারপর এর মিষ্টি ভাবটা আনতে হয়। অনেক বিমানেই প্যাক করা স্যান্ডউইচ, কিছু মাঝারি ধরনের সাদামাটা খাবার সামান্য পরিবেশন করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন কোনো ঝাল-মসলাদার খাবার কিংবা স্বাদ বাড়ায় এমন মুখরোচক খাদ্য বিমানের খাবার মেন্যুতে যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত খাবারের মেন্যুতে টমেটোর সস বা জুস টিকে থাকছে। আকাশপথে ভ্রমণের নতুন খাবার নিয়ে গবেষকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুব শিগগিরই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে এবং ভোজনরসিকরাও মেপে মেপে কম মসলায় রাঁধা সব খাবারের পরিবর্তে ঝাল ও মসলাদার বিভিন্ন খাবার খেয়ে রসনায় তৃপ্তি আনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রদীপ সাহা

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,