রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন


১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

গেল অর্থবছরে ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন (এক হাজার ২৮৫ কোটি) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা বা ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। 
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্স সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১১-১২ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে আসা ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে জুন মাসে এসেছে ১০৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
 
১২ মাসের মধ্যে মাত্র মাস দুই মাস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ একশ’ কোটি ডলারের কম ছিল। বাকি দশ মাস এসেছে একশ’ কোটি ডলারের বেশি।
 
এর মধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে জানুয়ারি মাসে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১২২ কোটি ১৪ ডলার। এক মাসের হিসাবে যা ছিল সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।
 
রেমিটেন্স বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৭০ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তবে মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
 
২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ কোটি ডলার।
 
এ ছাড়া বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ডলারের কিছু বেশি।
 
৭৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার এসেছে ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যাধ্যমে। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ এক কোটি ৯৫ লাখ ডলার।


রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন

প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স আমাদের দেশে মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা বরাবরই মূল্যহীন। এরা আমাদের কাছে শুধুই শ্রমিক হিসেবে গণ্য। প্রতিবছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে প্রবাসীরা। অথচ তাদের কোনো মূল্য নেই আমাদের দেশে। কোনো শ্রমিক বিদেশে মারা গেলে কোম্পানির খরচে দেশে পাঠানো হলেও স্টুডেন্ট বা ভিজিট ভিসায় গমনকারীদের চাঁদা তুলেই দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হয়।

সরকার কর্তৃক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে। এছাড়া চরম নিরাপত্তা হুমকিতে দিন কাটাতে হয় বাংলাদেশের প্রবাসীদের। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দেশের বাইরে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে তারা। এভাবে অনেকটা মূল্যহীন এবং অবহেলিত হয়েই প্রবাস জীবন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ রয়েছে, এসব শ্রমিক দেশে এসে কোনো রকম কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না।

বিদেশে অবস্থানকালে হাইলি স্কিলড এসব জনশক্তি আমাদের দেশে এসে অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। উপরন্তু কোনো রকম প্রবাসী ফান্ড বা ট্রাস্ট নেই বলে দেশে এসে শূন্য হাতেই জীবন কাটাতে হয় তাদের। বিদেশে অবস্থান কালে চিকিৎসা সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করলেও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেও কোনো রকম রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায় না তারা। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স জাতীয় অর্থনীতির জন্য মূল্যবান হলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই আমাদের দেশে। এছাড়া বাইরে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো রকম নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় জালিয়াত চক্রের হাতে হরহামেশা প্রতারিত হচ্ছে দেশের শিক্ষিত যুবকরা। গুটিকয়েক দেশীয় চক্র উচ্চ শিক্ষার নামে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সমপ্রতি মার্কিন দূতাবাস থেকে পাওয়া এক অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির পুরনো আবেদন ফরম ও ছবিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। এছাড়াও ইমিগ্রেশন পুলিশ জালিয়াতি করে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন সময় প্রায় ১ হাজার ৫শ’ যুবককে আটক করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সমপ্রতি একটি জালিয়াত চক্র উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৫৫ জন যুবকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। পরে তাদের বিদেশে না পাঠিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে।

ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে বিদেশ যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় জালিয়াত চক্র সুযোগ পেয়ে অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ভিজিট ভিসার নামে হাজার হাজার যুবক বিদেশে যায়। সেখানে গিয়ে নানা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র রোহিঙ্গাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে অনেককেই আটক করা হয়। কিন্তু এরপর সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে আদম বেপারীরা চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণ-তরুণীদের বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখায়। প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ হাজার তরুণ-তরুণী বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে গত প্রায় এক বছরে দেড় হাজার তরুণ-তরুণীকে গলাকাটা পাসপোর্টসহ নানা অভিযোগে ইমিগ্রেশনে আটক হয়েছে বলে জানা গেছে। আটককৃতদের মধ্যে অনেকেই ভুয়া ছাত্র সেজে উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশ যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে অন্য কাজ করে। আবার অনেকেই ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে। কেউ কেউ গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে জালিয়াতি করে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সঠিক পাসপোর্ট এবং কাগজ-পত্র ভেবেই তারা অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু যখন জানতে পারে পুরো বিষয়টিই ভুয়া তখন আর কিছুই করার থাকে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইমিগ্রেশন পুলিশের এক অপরাধ বিশেষজ্ঞ শীর্ষ কাগজকে জানান, এ জালিয়াত চক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য দেশে রাজধানী, বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা চালানো দরকার। এয়ারলাইনসগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। সংশ্লিষ্ট মতে, উচ্চশিক্ষার নামে চটকদার বিজ্ঞাপনগুলো খতিয়ে দেখার জন্য সরকারিভাবে একটি মনিটরিং সেল থাকা প্রয়োজন

গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ


অপরাধ রোধে উদ্যোগ
গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ
 
আশরাফুল হক রাজীব: অপহরণ, গুমসহ নানামুখী অপরাধ নির্মূল করতে গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারি-বেসরকারি কোনো ধরনের গাড়িতেই কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি মার্কারি ও অস্বচ্ছ কাচও ব্যবহার করা যাবে না। আদেশ কার্যকর করতে দু-একদিনের মধ্যে পুলিশের কাছে নির্দেশনা যাচ্ছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে দেশে অপহরণ ও গুমের ঘটনা বেড়ে গেছে। আর এসব কাজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গাড়ি ব্যবহার হয়। গাড়িতে কালো কাচ থাকায় ভেতরে কী হচ্ছে- তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না। অপহৃত ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশের সামনে দিয়ে গাড়ি চলাচল করলেও পুলিশের কিছু করার থাকে না। তা ছাড়া রাস্তায় চলাচলরত সব গাড়িতে তল্লাশি চালানোও পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। একই অবস্থা সাধারণ মানুষেরও। তারাও কিছু বুঝতে না পারায় স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিরোধ বা পুলিশের খবর দেওয়ার সামাজিক দায়িত্বটি পালন করতে পারে না। এ কারণে গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে চলাচলরত প্রায় অর্ধেক গাড়িতেই কালো কাচ ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ থাকলেও তা এত দিন কড়াকড়িভাবে আমলে নেওয়া হয়নি। কিন্তু অপহরণ-গুমের ঘটনায় সরকার কালো কাচের গাড়ি ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদ গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কালো কাচের আড়ালে নানা ধরনের অপরাধ ও অপকর্ম হয়। এ কারণেই মূলত গাড়িতে কালো, মার্কারি বা অস্বচ্ছ কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
গত ২৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মাসিক সমন্বয় সভায় গাড়িতে কালো কাচ, মার্কারি বা অস্বচ্ছ কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।
 
২৬ এপ্রিলের সভায় জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলার বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অপরাধ বা অপকর্ম রোধের জন্য গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে না। তবে ভিআইপিসহ জরুরি প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে। সরকারি বা অন্য কারো প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। কালো বা অস্বচ্ছ কাচ আছে- এমন গাড়ি আমদানি না করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বলা হয়েছে।
সমন্বয় সভায় সীমান্ত বা সমুদ্র উপকূলে মানব পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে কঙ্বাজারের টেকনাফ বা চকোরিয়ায় ট্রলার ছাড়ার সময় তাতে তল্লাশির সিদ্ধান্ত হয়। উপকূলে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোস্টগার্ড কী ব্যবস্থা নিয়েছে- তা জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একইভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- তা জানাতে বলা হয়েছে।
সমন্বয় সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শ্রমিকদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সভায় একজন যুগ্ম সচিব জানান, বিদেশগামী বা ফেরত শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই লেখাপড়া জানেন না। তাঁদের পক্ষে সিকিউরিটি ফর্ম পূরণ করা সম্ভব হয় না। শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ফরম পূরণ করেন দায়িত্বরত আনসার, পুলিশ বা বিমানবন্দরের কর্মচারীরা। এ ক্ষেত্রে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হলে শ্রমিকদের নাজেহাল হতে হয় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধ করতেও হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা দরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যাওয়া-আসার সময় সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে অফিসিয়াল ডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান:এসব সফরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক সাফল্য চোখে পড়েনি।


প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান

publish On 04/11/2010

বুধবার প্রতিবেদন ● প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেয়াদে এখন পর্যন্ত দুই বছরেরও কম সময়ে ১৫ বার বিদেশ সফর করে ৬৯ দিন দেশের বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে, বিদেশ সফরে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি এখন পর্যন্ত ৬৮ বার সরকারি অর্থে সফর করে বিদেশে ছিলেন প্রায় ১৮০ দিন। এসব সফরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক সাফল্য চোখে পড়েনি। তবে সরকারি অর্থের ব্যাপক ব্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতবার সফর করলেও বিদেশী সম্মানিত অতিথি বাংলাদেশে এসেছেন খুব কম। বহির্বিশ্ব থেকে রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধান অথবা বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ সফর করলে সেটাকে মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয়। দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে শীর্ষনেতা তথা রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে শুধু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল বাংলাদেশ সফর করেছেন। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিনপিন ফিরতি সফর করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েও বাংলাদেশে সফর হয়েছে গুটিকয় মাত্র। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রী শেরি ব্লেয়ার এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কয়েক ঘণ্টার সফর ছাড়া বিদেশী কোনো গণ্যমান্য মেহমান বাংলাদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরের আগে তার প্রস্ত্ততি হিসেবে ব্যাপকভাবে কোনো গ্রাউন্ডওয়ার্ক লক্ষ্য করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে ভারত সফরের সময় যদিও গ্রাউন্ডওয়ার্ক চলেছে দীর্ঘদিন ধরে তবু এই সফর থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। অপরাপর সফরগুলোর আগে প্রস্ত্ততি যথেষ্ট ছিল না। তড়িঘড়ি করে বিদেশ সফরের আয়োজন করাই যেন লক্ষ্য ছিল। এসব সফরের ফলাফল পেতে হলে কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায় থেকে আগেই সবকিছু চূড়ান্ত করে রাখা হয়ে থাকে। এ ধরনের পর্যাপ্ত প্রস্ত্ততি প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলাফল দেখে প্রমাণ হয় না।

প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এতসব বিদেশ সফরের পরও বিদেশে বাংলাদেশের জনশক্তির বাজার আশঙ্কাজনক পর্যায়েই রয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্য কিংবা বিনিয়োগও বাড়েনি। সর্বোপরি বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির নাজুক পরিস্থিতিও কাটেনি। প্রধানমন্ত্রীর এসব সফরের মাধ্যমে রুটিন বৈঠক ও কুশল বিনিময়ের বাইরে তেমন কোনো অর্জন লক্ষ্য করা যায় না। কোনো কোনো বিদেশ সফরে যেমন ভারত, অসম চুক্তি সম্পাদন করে অর্জনের বদলে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার নজিরও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাইপ্রোফাইল সফরের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ছেলেবউ ক্রিস্টিন, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানার ছেলেমেয়েসহ প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনরা সঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশ সফরে মন্ত্রী, কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রাচারের দায়িত্বরত ব্যক্তিবর্গ, নিরাপত্তা দল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা, মহাজোটভুক্ত দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক সফরসঙ্গী রাষ্ট্রীয় অর্থে বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়েছেন। কোনো কোনো সফরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ‘নিজেদের লোকদের বিদেশ ঘুরিয়ে’ আনার প্রবণতা লক্ষণীয়।

মহাজোট ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত বছরের ২০ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে প্রথম সফরে যান সৌদি আরব। আগের আমলে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম সফর করেছিলেন চীন। বেগম খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথম সফর করেন চীন। ফলে প্রথমে সৌদি আরব সফর করে শেখ হাসিনা এবার সেই প্রথায় ছন্দপতন ঘটান। প্রধানমন্ত্রী জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সংক্ষেপে ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় সফরটি করেন মিসর। ১৪-১৭ জুলাই মিসরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

একই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সফর করেন শেখ হাসিনা। এই সফরে ১-৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সফরের সময় তিনি বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর অনেক বেশি, যা কেউই অস্বীকার করে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে গোটা বিশ্বের মাতামাতির সময়ে সবচেয়ে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে দরকষাকষির জন্য গ্রাউন্ড ওয়ার্ক বা দক্ষ কোনো কূটনীতিক গড়ে তোলেনি। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো ডেস্ক নেই, এমনকি বিশেষ কোনো দূতও নেই। ফলে এ-সংক্রান্ত সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণ করে প্রথাগত কিছু কথাবার্তা বলেই ক্ষান্ত থাকতে হয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো এই সংকট মোকাবিলায় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে সামান্যই এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণের বদলে বিভিন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে রুটিন বক্তব্যই শুধু দিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ২২-২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে যোগদান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটা নিয়মিত বহুপক্ষীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। যদিও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদলে তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা অবশ্য আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় অনেকটাই ব্যর্থ এই বহুপক্ষীয় সংস্থার প্রতি তার সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের বিষয় নিশ্চিত করতে এবারও একইভাবে ৬৫তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের জন্য শেখ হাসিনাকে এমডিজি পুরস্কার প্রদান করা হয়। এটি জাতিসংঘের কোনো পুরস্কার নয়। কিন্তু তবুও এই পুরস্কার নিয়ে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনাকে তার দলের নেতা-কর্মীরা অভিনন্দন জানান। এই ফুলেল শুভেচ্ছার ডালি হাতে নিয়ে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা ঢাকা শহরে ওইদিন এক অসহনীয় যানজটের অবতারণা করান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপীয় উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গত বছরের ২১-২৪ অক্টোবর কেন সুইডেন সফর করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। ইউরোপ দিবসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানো জনগণের অর্থের অপচয় বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত। একই বছরের ২৫-২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরে কাতার গিয়েছেন। জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে ওই সফরে কোনো দিগন্ত উন্মোচন হয়নি।

শেখ হাসিনা প্রথম রাষ্ট্রীয় দ্বিপক্ষীয় সফর করেন ভুটান। গত বছরের ৬-৯ নভেম্বর তিনি ভুটান সফর করেন। কৌশলগত কারণেই তিনি প্রথম সফরটি ভুটানে করেছেন। প্রথম সফরে ভারত গেলে রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার ইস্যু সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কাতেই সম্ভবত প্রথমে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার পর্বতবেষ্টিত ছোট দেশ ভুটান সফর করেন। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ১৫-১৯ নভেম্বর ইতালি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। ইতালিতে তিনি বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১তম আন্তর্জাতিক এরোস্পেস প্রদর্শনী ‘দুবাই ২০০৯’ এ যোগদান করতে তিনি সে দেশ সফর করেন। সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলোর ক্লাব হিসেবে পরিচিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান করতে শেখ হাসিনা গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফর করেন। কোপ-১৫ নামে পরিচিত জলবায়ুবিষয়ক ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’ বৈঠকে যোগ দিতে শেখ হাসিনা গত বছরের ১৫-২০ ডিসেম্বর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন সফর করেন।

শেখ হাসিনা এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর করেন চলতি বছরের ১০-১৩ জানুয়ারি ভারতে। এ সফরটিই তার এই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত সফর। এ সফরে তিনি ভারতের সঙ্গে ৫০ দফার যে যৌথ ইশতেহার সই করেছেন তার বেশির ভাগই প্রতিবেশী এই বড় দেশটির স্বার্থের অনুকূলে হয়েছে। ভারতকে নিঃশর্তভাবে ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে এ ক্ষেত্রে অবদান রাখলেও অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন চুক্তি করে বাংলাদেশের পানির হিস্যা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে ৫০ দফার যৌথ ইশতেহারকে একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী দলিল হিসেবে গণ্য করেন বিশ্লেষকরা। এটি বাস্তবায়নে এখন সরকার তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ভারত সফরের পর এ অঞ্চলে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭-২১ মার্চ চীন সফর করেন। এ অঞ্চলে চীন অন্যতম ক্ষমতাকেন্দ্র হওয়ায় দেশটির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সহায়তা বাংলাদেশের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ৭-৯ ফেব্রুয়ারি কুয়েতে দ্বিপক্ষীয় সফর করেন। ভুটানে ২৮-২৯ এপ্রিল সফর করেছেন ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান গুরুত্বপূর্ণ। আট জাতির এই আঞ্চলিক সংস্থার সম্মেলনে অপরাপর সদস্য দেশগুলোর শীর্ষনেতারাও যোগ দিয়েছেন। তবে ১৬-১৮ মে ইউএনএসকাপের ৬৬তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সফর এবং ১৯-২০ মে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ষষ্ঠ বৈঠকে যোগদানের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সফর প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে হওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে কূটনৈতিক মহল মনে করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭-৯ জুলাই উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর খুব দুর্বল জোট ডি-৮ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে নাইজেরিয়া সফর করেন। ইসলামি সম্মেলন সংস্থা সংক্ষেপে ওআইসি জোট থাকার পরও বিগত শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ডি-৮ গড়ে তোলা হয়েছিল বিধায় এই সম্মেলনে তিনি যোগ দিলেন। যদিও কার্যত এই জোটের কোনো কর্মকান্ড নেই। তবে কিছুদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জাপান, রাশিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ সফরে যেতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিদেশ সফরের তালিকা অনেক দীর্ঘ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত বছর ১-৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সেল পিরিওডিক রিভিউর জন্য সুইজারল্যান্ড, ইউনাইটেড মালয়েস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২৬-৩০ মার্চ মালয়েশিয়া, আফগানিস্তানসংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে ৩১ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস, সভ্যতা সম্মেলনে যোগ দিতে ৬-৭ এপ্রিল তুরস্ক, মানব পাচার প্রতিরোধ বৈঠকে যোগ দিতে ১৫ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ২০-২৪ এপ্রিল সৌদি আরব, জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে ২৮ এপ্রিল নরওয়ে, ২৯-৩০ এপ্রিল ন্যাম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে কিউবা, ৮-১০ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৫-১৭ মে মিয়ানমার, ২৩-২৫ মে ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে সিরিয়া, ২৯-৩০ মে সাগ্রি লা ডায়ালগে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর, ২৪-২৬ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ৯ জুলাই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে ভারত, ১০ জুলাই সার্কের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কা, ১২ জুলাই কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসিতে যোগ দিতে পর্তুগাল, ১৩-১৮ জুলাই ন্যাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মিসর, ২৩ জুলাই ১৬তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ড, ২-৩ সেপ্টেম্বর গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর ক্লাইমেট সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ৮ সেপ্টেম্বর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে ভারত, ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ২৩-২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৬৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ১৫-১৬ অক্টোবর এশীয় সহযোগিতা সংলাপ (এসিডি) ৮ম বৈঠকে যোগদানের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা, ২২-২৪ অক্টোবর ইউরোপ উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সুইডেন, ২৬-২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কাতার, ১-২ নভেম্বর ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে মালয়েশিয়া, ৬-৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভুটান, ৯-১০ নভেম্বর ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে মালদ্বীপ, ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১৬-১৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ইতালি, ২৫-২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ১০-১২ ডিসেম্বর বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে মিয়ানমার, ১৪-১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ডেনমার্ক ও ২১ ডিসেম্বর মরিশাস সফর করেন। এটা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির ২০০৯ সালের বিদেশ সফরের ফর্দ। তিনি চলতি বছর অর্থাৎ ২০১০ সালেও বিদেশ সফরে পিছিয়ে নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি চলতি বছরের ১০-১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভারত, জ্যোতি বসুর শেষকৃত্যে যোগদান করতে ১৯ জানুয়ারি ভারত, ২৫-২৭ জানুয়ারি নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ৭-৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কুয়েত, ১-২ মার্চ মানবাধিকার বৈঠকে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ১৬-১৭ মার্চ ন্যাম বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফিলিপাইন, ১৭-২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে চীন, ১৪-২২ এপ্রিল ব্রিটেন ও নরওয়ে, ২৭-২৯ এপ্রিল সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে ভুটান, ২-৪ মে এনপিটি রিভিউ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ১৮-২০ মে ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে তাজাকিস্তান, ২১-২২ মে রাশিয়া, ২৭-২৯ মে সভ্যতা সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাজিল, ৩১ মে থেকে ২ জুন আইসিসি রিভিউ কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে উগান্ডা, ৭-৯ জুন চিকা সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক, ২০-২২ জুন ফ্রান্স, ২৩-২৫ জুন দ্বিপক্ষীয় সফরে স্পেন, ৪-১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নাইজেরিয়া, ২৩ জুলাই ১৭তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে যোগ দিতে ভিয়েতনাম, ৩-৪ আগস্ট এমডিজি সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়া, ২৩ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও জার্মানি, ১৮-২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ৩-৫ অক্টোবর ব্রিটেন সফর করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ মুহূর্তে অসুস্থ। তাই তার চীন সফর বাতিল করেছেন।

বেড়েছে আইএসডি কলচার্জ


বেড়েছে আইএসডি কলচার্জ

বিটিসিএল BTCL Bangladesh

বিটিসিএল BTCL Bangladesh

সজল জাহিদ

আন্তর্জাতিক টেলিফোন কলচার্জ কমানোর ঘোষণা দিয়ে উল্টো বাড়িয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনার (বিটিআরসি)। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অনেক দেশে কলচার্জ বেড়ে গেছে। এসব দেশে অনেক বাংলাদেশি থাকে এবং এতদিন পর্যন্ত সরকারি ল্যান্ডফোন (বিটিসিএল) থেকেই কম খরচে তাদের সঙ্গে কথা বলা যেত। কিন্তু তিন মাস আগে ৬ টাকা মিনিটের কলচার্জ দুই টাকা থেকে ২১ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ১ আগস্ট টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইএসডি কলের নতুন চার্জ নির্ধারণ করে। নতুন চার্জ অনুসারে অন্তত ৩৪টি দেশে ল্যান্ডফোন থেকে ল্যান্ডফোনে কথা বলার খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে ২২টি দেশের মোবাইল ফোনে কলচার্জ মিনিটে এক টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৯ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ওই ঘোষণার ফলে কয়েকটি দেশে ফোন করার কার্জ কিছুটা কমেছেও।
এর আগে বিটিসিএল ৫৫টি দেশের ইআইএসডি কল প্রেরণ করত। দেশগুলোর প্রত্যেকটিতে ল্যান্ডফোন টু ল্যান্ডফোন কলচার্জ তখন ছিল ৬ টাকা। বিটিআরসি নির্ধারিত চার্জ কার্যকর হওয়ায় সবচেয়ে বেশি খরচ বেড়েছে টোগোতে। দেশটিতে আমাদের তেমন কল করতে হয় না। সে কারণে ৬ টাকা মিনিট থেকে ২৭ টাকা হলেও তাতে তেমন সমস্যা হয়নি। একইভাবে মোনাকোতে কল করার চার্জ ১২ টাকা বৃদ্ধিও কোনো সমস্যা নয়। তবে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সাইপ্রাস, গ্রিস, স্পেনে কল করার চার্জ ৬ টাকা মিনিট থেকে ৮ টাকা করায় অনেক গ্রাহকের খরচ বেড়েছে। একই হিসাব প্রযোজ্য সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, আজারবাইজান, কোস্টারিকা, নরওয়ে, পোল্যান্ড এবং পর্তুগালের ক্ষেত্রেও। চার টাকা বেড়ে মিনিট ১০ টাকা হয়েছে ব্রুনেই, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, চেক রিপাবলিক, ফিনল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, লাওস, পানামা এবং ভেনিজুয়েলায়। মিনিটে ৬ টাকা বেড়েছে হল্যান্ড ও উজবেকিস্তানে। তাছাড়া মঙ্গোলিয়া ও জাম্বিয়ায় বেড়েছে মিনিটে ৮ টাকা করে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মোবাইল ফোন মোবিলিস্টারের কল করার খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আগে দেশের ল্যান্ডফোন থেকে অস্ট্রেলিয়ার যে কোনো মোবাইল কল করতে সাড়ে ষোল টাকা চার্জ ছিল। কিন্তু মোবিলিস্টারের কল করতে এখন মিনিটে ৪৫ টাকা খরচ করতে হয়। একইভাবে আগে ইংল্যান্ডে মোবাইলে কল করতে মিনিটে সাড়ে ষোল টাকা খরচ হলেও এখন তা কয়েক ভাগে ভাগ হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেটর ভেদে তা ৪/৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বেশি বাংলাদেশি থাকে এমন দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোবাইলে ফোন করার চার্জ ২ টাকা বেড়েছে। সমান চার্জ বৃদ্ধি হয়েছে সাইপ্রাসের ক্ষেত্রেও। মিনিটে দেড় টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে গ্রিস, জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রে। তাছাড়া নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ইতালিতে সাড়ে তিন টাকা করে বেড়েছে। নরওয়েতে মিনিটে বেড়েছে সাড়ে সাত টাকা।
বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বলছেন, এ বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকের খরচ বেড়েছে। অনেকে না বুঝে আগের মতো কথা বলে বেশি বিল তুলে ফেলছেন। অনেকে আবার কলচার্জ সম্পর্কে সচেতন হয়ে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন। তবে কলকার্জ বাড়লেও এক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই বলেও জানিয়েছেন কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ আবু সাইদ খান।
অন্যদিকে বিটিআরসি বলছে, কলচার্জ পরিবর্তন করা হয়েছিল বিটিসিএলের চাহিদা অনুসারে। তাছাড়া যে দেশগুলোতে কলচার্জ বেড়েছে সেখানে আমরা খুব কমই ফোন করি।

প্রায় ১ কোটি লোক বিদেশে কর্মরত আছেন। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ স্ফিত হয়ে আছে


দায়িত্ব দেশের অধিকার আমাদের!

সৈয়দ রেজাউল হায়াত

ব্যাবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার সম্প্রতি ৮১ জন ব্যবসায়ীকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩৯ জনকে সিআইপি করা হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে অবদানের জন্য, বাকিদের করা হয়েছে পদাধিকার বলে ব্যবসায়ীদের সংগঠন থেকে। সিআইপিরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ, সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাস, জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ, ব্যবসাসংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, রেলপথ, সড়কপথ ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণ এবং বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সুবিধা পাবেন। এসব সুযোগ-সুবিধা তাদের প্রাপ্য। তাদের অর্জনের জন্য আমরাও তাদের অভিনন্দন জানাই।

দেশ এবং সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধার জন্য ব্যবসায়ীদের আরও কি কি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন সেগুলো এ খবরে প্রকাশিত হয় নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশেষ করে শিল্পায়নে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহের জন্য সরকার তাদেরকে শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির সুবিধা দিয়ে থাকেন। ব্যবসায়ীদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সহজিকরণ করা হয়েছে এবং দেশের পণ্য বিদেশে বিপণনের জন্য সরকার প্রয়োজনে লবিস্ট নিয়োগ করেন। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাণিজ্যিক শাখা রয়েছে, যারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিদেশি ব্যবসায়ীদের যোগাযোগে সহযোগিতা করে, বায়ারস অ্যান্ড সেলারস মিটিং এবং বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করে। বিদেশি চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআই-এর প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী দৈনিক বাজার মূল্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখনই কোনো বিদেশ সফর করেন. ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের স্বার্থে তার সঙ্গে একটা বিরাট ব্যবসায়ীদলও বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পান। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে বিপণন করা এবং ক্রমান্বয়ে তার বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে কোনো সরকারই কর্পণ্য করেননি।

এতকিছু সত্ত্বেও সম্প্রতি একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানে সুপরিচিত একজন ব্যবসায়ীর বক্তব্য শুনে মনে হলো, ব্যবসায়ীদের জন্য এ গরিব দেশের আরও অনেক দায়িত্ব আছে। তিনি দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ব্যবসায়ীদের কম শুল্কে গাড়ি কেনার সুযোগ দেওয়া হোক। তাদের এ দাবিকে যৌক্তিক মনে হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তাদের কথাও বিবেচনা করা উচিত।

বর্তমানে সরকারিভাবে প্রায় ৭৫ লাখ, বেসরকারি পরিসংখ্যানে প্রায় ১ কোটি লোক বিদেশে কর্মরত আছেন। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ স্ফিত হয়ে আছে। দক্ষ ও অদক্ষ সেসব শ্রমিকের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আনয়নের ফলে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ সংকটে পড়তে হয়নি। আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য সবসময়ই কয়েক বিলিয়ন ডলার আমাদের মজুদ থাকে। এটা নিশ্চয়ই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সেই শ্রমিকরা বিমান বন্দরে কি ধরনের ব্যবহার পায়, দেশে আসা-যাওয়ার সময় দেশ এবং বিদেশে কিরকম বিড়ম্বনার শিকার হয় এটা কারোই অজানা নয়। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কদর থাকলেও শ্রমিক কিংবা সাধারণ লোকদের প্রবেশে কড়াকড়ি থাকে। একইভাবে দেশেও যখন তারা নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়, তখন দাবি করা সত্ত্বেও প্রতিকার পায় খুবই কম। কৃষিখাত আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। এ খাতে শুধু পণ্য রপ্তানিকারকদের সম্মানিত করা হয়েছে। অথচ পণ্য উৎপাদনকারী কৃষক, কৃষি গবেষক ও বিজ্ঞানীরা উপেক্ষিত থেকে গেছেন। তারাও নিশ্চিতভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার, তাদের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ বলা যাবে না। আমরা জানি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দুই মেয়াদেই কৃষি এবং খাদ্যক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি লাভ করেছে এবং বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে। কৃষিক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাই যেমন এই কৃতিত্বের দাবিদার, যারা এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের কথাও উল্লেখ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের পৈতৃক বাড়িটি জনসাধারণের জন্য একটি ট্রাস্টকে দান করেছেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী খুবই সাধারণ জীবনযাপন করেন। সরকারের দেওয়া শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধাও তিনি গ্রহণ করেননি বলে শুনেছি। ব্যক্তিগত লোভলালসা মুক্ত রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবন এই দুই নেত্রীকে উচ্চতর সোপানে নিয়ে গেছে। সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ পাওয়ার জন্য তাদের অনেক যুক্তি আছে। তারা অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে নির্বাচন করেন, নির্বাচনী এলাকা এবং ঢাকায় তাদের দুইটি স্থাপনা রাখতে হয়, কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর রাখতে হয়, সংসদ কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ ও আইন প্রণয়নে ব্যস্ত থাকতে হয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকিও করতে হয়। কাজেই এটা একটা সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে বিবেচিত। কয়েক যুগ আগেও রাজনীতি বা সংসদ সদস্য হওয়া কোনো পেশা ছিল না। ছিল হয়তো নেশা, অথবা জনসেবার সুযোগ। সেজন্যেই ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলে এমনকি বাংলাদেশ হওয়ার পরও যতদূর জানা আছে তারা বেতন পেতেন না, পেতেন সম্মানী। এটা তাদের কোনো সার্বক্ষণিক পেশা ছিল না। জনসেবার কাজে যতটুকু সময় দিতেন সে সময়ের জন্য সম্মানসূচক কিছু ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করা হতো। তখন যারা সংসদ সদস্য হতেন, তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো পেশা ছিল। তাদের অধিকাংশই ছিলেন আইনজীবী, বিভিন্ন পেশায় কর্মরত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি অথবা ত্যাগী সমাজসেবক। তারা পাওয়ার জন্য রাজনীতি করতেন না, জনগণকে কিছু দেওয়া ও সেবার জন্য রাজনীতি করতেন। অবিভক্ত ভারত থেকেই আমরা যদি দেখি পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, ডক্টর রাধাকৃষ্ণ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, একে ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। মহাত্মা গান্ধী ও মওলানা ভাসানী ক্ষমতার রাজনীতি করেননি। সুযোগ থাকলেও ক্ষমতায় যেতে চাননি। কিন্তু জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অবহেলিত, দরিদ্র ও নির্যাতিত জনগণের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সীমিত সম্পদের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা সত্ত্বেও কোনোদিন দেশ বা জনগণ থেকে কিছু নিতে চাননি। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তিনি জনগণের ভালোবাসার ঋণ শোধ করে গেছেন। তিনি মানুষকে ভালোবেসেছেন নিঃস্বার্থভাবে, আর বিনিময়ে পেয়েছেন মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা। তিনি প্রায়শ বলতেন, ‘আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি, দেশের মানুষ আমাকে ভালোবাসে।’

বর্তমান প্রেক্ষাপট হয়তো ভিন্ন। যেজন্য আমরা বিভিন্ন সচ্ছল পেশার লোকজনও মনে করি দেশের উচিত আমাদেরকে অনেক কিছু দেওয়া। তবে সব দায়িত্ব দেশ পালন করবে আর আমরা শুধু নাগরিক অধিকার-সুবিধাগুলো ভোগ করে যাব_ এমন মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। যেটুকুই সরকার ও দেশ দেয় তাতে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি না, আমরা আরও চাই। সরকারি অফিসাররা বেতন-ভাতা পান, অনেকে বাড়ি-গাড়ি পান, তাছাড়াও রয়েছে সরকারের দেওয়া অনেক সুযোগ-সুবিধা। চাকরি শেষে রয়েছে পেনশনের ব্যবস্থাও। তবুও তাদের দাবি_ নির্ধারিত বেতনভোগী হিসেবে আরও পাওনা রয়েছে। সরকার নামমাত্র মূল্যে তাদের জমি বরাদ্দ দেয়, যা তারা অনেক বেশি দামে হয় বিক্রি নতুবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। এই জমি নদীপারের কোনো খাস জমি নয়, নয় দূর-দূরান্তের অথবা বন-জঙ্গলের কোনো পরিত্যক্ত জমি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কক্সবাজারসহ দেশের বড় বড় শহরের গরিব জনগণের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা জমি। সরকারের জমি অধিগ্রহণ করা সম্পর্কিত আইনটিও খুবই নিষ্ঠুর। যার কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণত আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা যায় না। সরকার চাইলেই যে কোনো লোকের বাড়ি-ভিটা, জমি যেকোনো সময় ওই আইনের আওতায় নোটিশ দিয়ে অধিগ্রহণ করতে পারে। এই অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য যে ক্ষতিপূরণ জমির মালিক পায়, সেটা দিয়ে তাদের কোনো কাজ হয় বলে মনে হয় না। দেখা যাচ্ছে, গরিবের বাড়ি-ভিটা নিয়ে তাকে নিঃস্ব করে অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে তা নামমাত্র মূল্যে সরকার বরাদ্দ দিচ্ছে। এই বরাদ্দ এখন আর সরকারি অফিসারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বেসামরিক-সামরিক অফিসার ছাড়াও রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, অবস্থাপন্ন প্রবাসী বাঙালি ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও পাচ্ছেন। রবীন্দ নাথের ভাষায়_ ‘এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি, রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।’

সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পের ঋণ বরাদ্দে বিশ্ব ব্যাংক ও অন্যান্য দাতাদের বিভিন্ন শর্তাবলী নিয়ে আমি অনেক আপত্তি করেছি এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রচণ্ড দেনদরবার করেছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ দর কষাকষি ব্যক্তি পর্যায়ে তিক্ততার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকার কারণে এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় থাকতে পেরেছি। অবশ্য জমি অধিগ্রহণসম্পর্কিত দাতাদের একটি অবস্থানকে আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দাতাদের শর্ত ছিল_ যে জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তার সঠিক বাজার মূল্য দিতে হবে, বাজার মূল্য সরকারি অফিসের ওপর নির্ভর না করে নির্ধারিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঠিক করবে। সরকারি ও বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের কাছে পেঁৗছে দিতে হবে। জমির মূল্য ছাড়াও পরবর্তী ১০ বছরে ফসল বিক্রির যে পরিমাণ টাকা জমির মালিক পেতেন, তার সমপরিমাণ টাকাও তাকে দিতে হবে। জমিতে গাছপালা এবং ফল থাকলে তারও ক্ষতিপূরণ তার প্রাপ্য। অধিগ্রহণের ফলে আশপাশের কোনো লোক, যদি ব্যবসায়িক বা অন্যান্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাদের ব্যবস্থাও করতে হবে। শর্তগুলোর সবই গরিববান্ধব হলেও শুরুতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তা নিয়েই প্রচণ্ড অনীহা ছিল। সরকারের টাকা সাশ্রয়ের নামে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে বঞ্চিত করা কোনো জনগণের সরকারের কাম্য হতে পারে না। জমি মালিকদের সনাতনী ব্যবস্থায় তিন বছরের সরকারি বাজার মূল্যের একটি গড় ধরে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতো। তবে তারা প্রকৃত মূল্যের ১০ শতাংশও পেত না। বাড়ি-ভিটা এবং কৃষি জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোক যখন ১০ ভাগের এক ভাগ ক্ষতিপূরণ পায়, তখন তার মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় অবশিষ্ট থাকে না। যিনি ভুক্তভোগী শুধু তিনিই এ অবস্থা বুঝতে পারবেন। দাতাদের নীতি হচ্ছে, যার জমি যেদিন অধিগ্রহণ করা হবে, সেদিনের অবস্থা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকের অবস্থার কোনো অবনমন হবে না। বর্তমানে এ নীতিই সরকারে স্বীকৃত। জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের প্রতি খুবই সংবেদনশীল ও যত্নবান থাকা উচিত সংশ্লিষ্ট সবার। সমাজের বিত্তবানদের জন্য সরকার যেভাবে ঘটা করে জমি বরাদ্দ দেয়, বিত্তহীনদের জন্য খাস জমি বরাদ্দের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় বলে মনে হয় না। অথচ ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকরা দেশের ভূমিহীনদের জন্য খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত। ভূমি মন্ত্রণালয়- পূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতোই ঢাকঢোল পিটিয়ে খাস ও পরিত্যক্ত ভূমিগুলো বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে পারেন। মাঝেমধ্যে ‘জাল যার জলা তার’, গুচ্ছগ্রাম জাতীয় স্লোগান শোনা গেলেও কয়েকদিন পরেই ওইসব উদ্যোগ স্তিমিত হয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, যিনি রক্ষক তিনিই ভক্ষক সেজে যান। জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের (রাজস্ব) কাজ হচ্ছে, খাস/সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করে ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করা। অনেক সময় সে জমি তাদেরই কেউ কেউ অফিসারদের সমিতির নামে নিজেরাই বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা চালান। পূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, রেলওয়ে, পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইত্যাদি প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা সংস্থা যারা সরকারি জমি দেখাশোনা করেন, তাদেরই কেউ কেউ বিভিন্ন নামে এসব জমিজমা কুক্ষিগত করতে চান। ১৬ কোটি মানুষের ৫৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের এ দেশে শুধু বিত্তবানদের জন্যই সবকিছু বরাদ্দ হবে, তেলে মাথায় আরও তেল ঢালা হবে, এমন তো হতে পারে না। সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতি এ ব্যাপারে আরও গরিববান্ধব হওয়া উচিত।

আমাদের দেশের জনগণ ও সরকার খুবই উদার ও সদাশয়। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আমরা অনেক কিছু দিতে রাজি। এ দেওয়াটাও অনেক সময় বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। প্রায় এক যুগেরও আগে আমরা আইসিসি ট্রফি জেতার পর সরকারসহ দেশের অনেকে বিভিন্ন পুরস্কার ঘোষণা করে। জনগণের তরফ থেকে কেউ ঘোষণা করে সারা জীবন তাদের ফ্রি চুল কাটার সুযোগ দেবে, এক রেস্টুরেন্ট সারা জীবন ফ্রি খাওয়ানোর ঘোষণা করে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন পুরস্কারের ঘোষণা আসতে থাকে, কিন্তু তার ফল খুব প্রীতিকর হয়নি। এরপর ধারাবাহিক পরাজয়ের গ্লানি সইতে হয়েছে, টেস্ট স্ট্যাটাস প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ণ শক্তির একটি ক্রিকেট দলের সঙ্গে আমরা সিরিজ জয় করেছি। যথার্থভাবে দেশে খুশির বন্যা বইছে। তবে এই খুশি যেন পুরস্কারের আতিশয্যে ভেসে না যায়। বিশ্বকাপ মিশন থেকে আমাদের বিচ্যুত হলে চলবে না। একইভাবে অর্থনীতিতে যাদের বিশেষ অবদানকে পুরস্কৃত করা হলো, তারাও যেন থেমে না যান। পুরস্কারের আধিক্যে যেন আমাদের মাথা গুলিয়ে না যায় অথবা আরও অর্থের পিছনে ধাবিত না করে। কারণ দেশ এখনও এমন কোনো শক্ত অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড়ায়নি, যাতে দেশ শুধু তাদের দিয়েই যাবে। আমাদের দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সংযত হওয়া উচিত। দেশের চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক মধ্যবিত্ত শ্রেণী-পেশার সবাই সরকার নির্ধারিত শুল্ক দিয়েই গাড়ি কিনছে। সেখানে শুল্কমুক্ত অথবা কম শুল্কে সুবিধাভোগী উচ্চবিত্তশালীরা গাড়ি কিনবে, এটা সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে না। নিম্ন আয়ের মানুষের এ দেশে উচ্চবিত্তশালী ব্যবসায়ীদের কম মূল্যে গাড়ি কেনার সুযোগ দাবি করাটা সেক্ষেত্রে কতটা যৌক্তিক ভেবে দেখতে হবে। দেশ আমাকে কি দিল এ নিয়ে আমাদের হিসাব-নিকাশের সীমা নেই। অথচ এক্ষণে ভাবা উচিত_ জনবহুল, সমস্যাবহুল এ দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা দেশকে কি দিলাম বা দিচ্ছি। প্রয়োজন আত্ম বিশ্লেষণ। ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊধর্ে্ব উঠে, দেশের জন্য কর্তব্য পালনের আদর্শিক এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে এখনও এ বাক্যটি উচ্চারিত হয় দেশে দেশে।

লেখক : সাবেক সচিব
জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য bangla desh Share Market