বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?


বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা কমাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণা দিতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থা (ইউএসটিআর) সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে বাণিজ্য সুবিধা কমানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। ৩০ জুন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করেছে, এ হুমকি হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় শ্রম পরিবেশ সংস্কারে যথেষ্ট উত্সাহ জোগাবে।

তবে সুবিধা কমানো নাকি পুরোপুরি বাতিল করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম সংগঠন দি আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনসের (এএফএল-সিআইও) বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান সেলেস্ত ড্রেক রয়টার্সকে বলেন, গত নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনস ও সম্প্রতি সাভার রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করতে বা কমিয়ে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, এএফএল-সিআইও ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ সুযোগ-সুবিধা (জিএসপি) বাতিলের দাবিতে প্রথম আবেদন করে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে বাজার-সুবিধা দেয়া হয়, তা হলো জিএসপি বা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এ সুবিধার আওতাভুক্ত নয়।

তবে এ ঘোষণা বাংলাদেশের রফতানিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বাণিজ্য সুবিধা বাদ দিলে তা শাস্তি হিসেবে না নিয়ে বরং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা উচিত হবে। দেশের রফতানি খাতে বর্তমানে কর্মপরিবেশ থেকে শুরু করে সার্বিক মানের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সম্ভব হয়েছে। কারণ দেখা গেছে, সরকার বা স্থানীয় উদ্যোক্তা চাপে না পড়লে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরত থাকেন। তবে এ ধরনের সুবিধা বৃদ্ধি বা কমানোর পাশাপাশি ক্রেতা দেশগুলোর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সূত্রমতে, গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনায় সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এর পর থেকেই বাংলাদেশকে দেয়া বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করার দাবি ওঠে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে। ডিসেম্বরে তাজরীন দুর্ঘটনার পর থেকেই ইউএসটিআর জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। রানা প্লাজা ধসের পর এ পর্যালোচনায় নতুন মোড় নেয়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এড গ্রেসার জানান, গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁবু, গলফ খেলার সরঞ্জাম, প্লেটসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এর ওপর জিএসপি সুবিধা বাবদ ২০ লাখ ডলার শুল্কছাড় পেয়েছে। আবার বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার শুল্ক দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদিও রফতানি খাতের মূল পণ্য তৈরি পোশাক খাত কোনো ধরনের বাণিজ্য সুবিধা পায় না। তার পরও শ্রম নিরাপত্তাহীনতার তাত্পর্য মাথায় রেখে প্রতীকী জবাব হিসেবেই বাংলাদেশকে দেয়া সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব-অর্থনীতিতে ক্ষমতাধর দেশ হিসেবেই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা অনুসরণ করতে পারে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ।

অন্যদিকে রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হলে তা বাংলাদেশের রফতানি খাতের ভাবমূর্তির সংকটকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কারণ এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা আরো জোরালো হয়ে ভাবমূর্তি সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাণিজ্য সুবিধার আওতায় পোশাক খাত নেই। তার পরও আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু দেশটিতে আমাদের লবিংয়ের চেয়ে অ্যান্টি-লবিং অনেক বেশি জোরালো। আর তাজরীনের পর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় কোনো লবিং বা অনুরোধ কাজে লাগছে না। যদিও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা এখনো ছেড়ে দিইনি।’

জানা গেছে, অতীতে অনেক আইনপ্রণেতাই বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া তৈরি পোশাক খাতকে জিএসপি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক প্রস্তুতকারীরা এর বিরোধিতা করেছেন। আশির দশকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তত ১৩টি দেশের জিএসপি সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি বাতিল হয়। পরে তাদের বেশির ভাগই অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করায় আবার জিএসপি সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য সাউথ এশিয়া স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক সঞ্চিতা সাক্সেনা জানান, বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলেও তা দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কোনো সহায়তায় আসবে না। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসব পোশাক কারখানায় নজরদারি করতে পারে এবং বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগে চাপ দিতে পারে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউরোপের ক্রেতারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা-বিষয়ক চুক্তি সই শুরু করেছে। কিন্তু মার্কিন ক্রেতাদের এখনো বিষয়টিতে খুব একটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন পিসাকি এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তায় সাহায্যের বিষয় নিয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সংলাপ চলছে। সেখানকার কর্মপরিবেশকে মূলে রেখেই আলোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন ক্রেতাদের চুক্তি ও দায়িত্বশীল আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে জেন পিসাকি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, ক্রেতারা কর্মপরিবেশ ও মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবেন। যদি কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি সই নাও হয়, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও কর্মপরিবেশ নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মান ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। আশা করি, ক্রেতারা নিজ থেকেই এ মান বজায় রাখবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ১১৩ শ্রমিকের। এর পরই স্মার্ট ফ্যাশনে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ছয়জনের। আর চলতি বছর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩০।

Obama nears decision on Bangladesh trade following tragedies

Fri, Jun 14 03:16 AM IST

By Doug Palmer

WASHINGTON (Reuters) – President Barack Obama could soon decide to cut off trade benefits for Bangladesh, in a largely symbolic response to tragedies in the country’s garment sector that have cost more than 1,200 lives in the past eight months.

The U.S. Trade Representative’s office, with input from other government agencies, is completing its recommendations in preparation for a White House announcement by June 30.

Even though the trade benefits affect less than 1 percent of Bangladeshi exports to the United States, its government has pleaded with the Obama administration not to cut them off.

The AFL-CIO, the largest U.S. labor organization, first filed a petition to suspend Bangladesh from the U.S. Generalized System of Preferences program in 2007.

The U.S. government has put off that decision for six years, hoping the threat would be enough to encourage Bangladesh to make long-needed labor reforms.

But after the Tazreen factory fire in November that killed 112 people and the Rana Plaza building collapse in April that killed 1,129 more, it seems likely that Obama will eliminate or reduce the trade benefits, Celeste Drake, the AFL-CIO’s lead on trade issues, told Reuters this week.

The past year in Bangladesh has been so horrendous that unless the United States acts the labor provisions of the GSP program will be seen as meaningless, she said.

The GSP program is aimed at helping create jobs in poor countries by waiving U.S. duties on thousands of goods as long as the countries meet certain eligibility requirements.

Bangladesh has been in the program since it began in 1976. But its main export, clothing, is not eligible for GSP tariff cuts, in deference to the U.S. textile and apparel industry, which employed some 2.4 million workers four decades ago compared to less than 300,000 now.

Last year, the GSP program spared Bangladesh about $2 million in duties on $35 million worth of tents, golf equipment, plates and other items it exported to the United States, said Ed Gresser, a trade analyst with the GlobalWorks Foundation.

But Bangladesh paid about $732 million in duties on $4.9 billion worth of clothing to the United States. That is almost twice as much as the $383 million in U.S. tariffs collected on $41 billion worth of French goods in 2012, Gresser said.

In the past, some lawmakers have proposed changing the GSP program to provide duty-free benefits for clothing from Bangladesh and Cambodia, but U.S. textile manufacturers lobbied to prevent action on the legislation.

At least 13 countries have lost some or all of their GSP benefits since workers rights protections were added to the eligibility criteria in the 1980s. Most have been reinstated after making progress on the concerns.

While Bangladeshi clothing manufacturers would not be directly affected by a decision to suspend the GSP program, Drake said she expected other Bangladeshi companies hit with increased duties to join the international community in lobbying the government for labor reforms.

“It’s a small stick, which is perhaps right, given that it is a developing country. Nobody wants to do something that would be an earthquake to their economy,” Drake said.

Sanchita Saxena, associate director of the Center for South Asia Studies at the University of California at Berkeley, said revoking Bangladesh’s GSP benefits would not help workers in Bangladesh’s garment industry.

“If the U.S. wants to help improve conditions, international brands and international NGOs can help in building capacity to monitor the thousands of factories that need monitoring and help to enforce some of the laws that are in the books,” she said.

U.S. retailers should also sign an agreement embraced by European retailers to improve safety conditions in Bangladesh’s garment industry, Saxena said.

– See more at: http://bonikbarta.com

ওবামার চীন আতঙ্ক : যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে ইসলাম এবং বিকাশমান চীনকে ভয় করছে। এশীয় অঞ্চলে জাপান ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে থাকলেও এখন জাপান আর সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এশিয়ায় চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে ভারতকে কাছে টানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প নেই।


ওবামার চীন আতঙ্ক
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

President Barack Obama met with Chinese President, Hu Jintao

President Barack Obama met with Chinese President, Hu Jintao

এক শতাব্দী আগে জার্মানি যেভাবে সমৃদ্ধ, বিকশিত ও সম্প্রসারিত হয়ে ইউরোপ তথা বিশ্বের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র চীনের অর্থনৈতিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিকে ঠিক একইভাবে দেখছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক ভারত সফর শুধু দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে কিছু চুক্তি সম্পাদনের জন্য ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হল, কিভাবে এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে সামাল দেবে। মার্কিন নেতৃবৃন্দ মুখে যতই ইসলামকে ‘মহান ধর্ম’ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশকে ‘মডারেট’ বলে সার্টিফিকেট দিক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে ইসলাম এবং বিকাশমান চীনকে ভয় করছে। এশীয় অঞ্চলে জাপান ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে থাকলেও এখন জাপান আর সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সে কারণে এশিয়ায় চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে ভারতকে কাছে টানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প নেই।

ওবামার ভারত সফর নিঃসন্দেহে দেশটির নেতৃবৃন্দের নৈতিক মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘকাল ভারত কোনো পরাশক্তিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পায়নি, বরং চীনের ‘শীতল হুমকি’র মুখোমুখি ছিল; যে হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে ভারত মনে করে। গত ২২ অক্টোবর চীন সরকারিভাবে যে অনলাইন ম্যাপিং সার্ভিস চালু করেছে তাতে ভারতের অরুণাচল, হিমাচল ও লাদাখের আকসাই চীন এলাকাকে চীনের ভূখণ্ড হিসেবে দেখিয়েছে। এটা চীন যে শুধু এবারই দেখাল তা নয়, পুরো এলাকাকে তারা দীর্ঘ দিন ধরে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। তাদের মতে, অরুণাচল প্রদেশ আসলে দক্ষিণ চীন, যা ভারতের জবরদখলে রয়েছে। ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী সম্প্রতি দি এশিয়ান এজ-এ এক নিবন্ধে চীনের দাবিকে অরুণাচলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন। ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ভি কে সিং গত ১৯ অক্টোবর দিল্লিতে এক সেমিনারে চীন ও পাকিস্তানকে ভারতের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি বলে উল্লেখ করেন। সে কারণে ভারত নিজের নিরাপত্তার জন্য তিব্বতকে বাফার জোন হিসেবে দেখতে চায়। ভারত তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে, আর চীন তিব্বতকে নিজ ভূখণ্ডের অংশে পরিণত করেছে। এ বিরোধ অনেকটাই নিষ্পত্তির অতীত।

যুক্তরাষ্ট্র চীনের মোকাবেলায় ভারতকে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দেখতে চায় এবং ওবামা ভারত সফরকালে ঘোষণা করেছেন, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। এ ঘোষণার আগে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কাছে যুক্তরাষ্ট্র নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য বৃদ্ধি করতে হলে জাতিসঙ্ঘের কাঠামোতে যে সংস্কার করতে হবে সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে, এটা জাতিসঙ্ঘের নিজস্ব ব্যাপার। তারা যে প্রক্রিয়ায় অন্যান্য বিষয়ে সংস্কার করে থাকে, এ ক্ষেত্রেও একইভাবে সংস্কার করবে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে শুধু চীন এখন পর্যন্ত ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের ব্যাপারে কোনো মতামত ব্যক্ত করেনি। অনেকে মনে করেন, ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রস্তাবে চীন ভেটো দেবে, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের জোরালো সমর্থন ঘোষণার পর চীন এখন পর্যন্ত নেতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি; বরং চীনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ অনেকটাই ভারতকে আশাবাদী করার মতো। ওবামার ঘোষণার পর চীন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত Zhang Yan-কে ভাইস মিনিস্টারের পদে উন্নীত করেছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রে নিয়োজিত চীনের রাষ্ট্রদূতরা ভাইস মিনিস্টারের পদমর্যাদা ভোগ করে থাকেন।

U.S. businesses say China's currency is undervalued and puts them at a big competitive disadvantage

U.S. businesses say China's currency is undervalued and puts them at a big competitive disadvantage

এ ছাড়া চীনের পররাষ্ট্র দফতর থেকে ওবামার ঘোষণার পর যে প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে, সেটিও যথেষ্ট ইতিবাচক বলে ধরে নেয়া যায়। চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘China understands New Delhi’s aspirations to play a bigger role in the United Nations and is ready for consultation with it over reforms of the world body. China values India’s status in the international affairs and is ready to keep contact and consultations with India and other member states on the issue of Security Council reform. China supports reasonable and necessary reform of the United Nations Security Council and will maintain priority to giving more representation to developing countries at the UN Security Council, so that they can play bigger role in the Security Council.’

চীনের এই সদিচ্ছা সত্ত্বেও ভারত ও চীনের মধ্যে যে সীমান্ত বিরোধ বিদ্যমান, তা শিগগিরই দূর হবে, এমনটি আশা করা বোধহয় সঠিক হবে না। ১৯৬২ সালে সীমান্ত সংঘর্ষের পর উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত যে শীতল সম্পর্ক ছিল, তা কিছুটা উষ্ণ হলেও ঘনিষ্ঠতার পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। চীন যেমন ভারতকে তার ভূখণ্ডের দখলদার হিসেবে বিবেচনা করছে, ভারতও অনুরূপ চীনের দিক থেকে হামলার আশঙ্কামুক্ত হতে পারছে না। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় অস্ত্র মজুদ করার পাশাপাশি ভারত তার এশীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও আর গোপন রাখছে না। Indian Defence Journal-এর সম্পাদক মি. ভরত বর্মা সম্প্রতি এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘India wants to control the politics of the whole Asian region, like the role of the United States of America playing in the global politics. And to achieve the goal it is not sufficient to patronize a section of pro-Indian intellectuals and politicians of other countries. It is necessary to develop infrastructures in order to facilitate supply of troops and logistics, side by side setting up big embassies, ensuring use of port facilities and also developing intelligence network in those countries. Even, if necessary, military aggression could be an alternative to this end. Afghanistan was not occupied by the Americans only due to the presence of people like Hamid Karzai, the Americans had to set up cantonments, air fields and build road infrastructures. Besides, they are fighting there without a ceasefire.’

President Obama touring the Badaling section of the Great Wall

President Obama touring the Badaling section of the Great Wall

ভারতের এমন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বিপরীতে চীন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে, এমনটি ধারণা করা ঠিক হবে না। গত বছর (৭-৮ আগস্ট ২০০৯) নয়াদিল্লিতে যখন ভারত-চীন সীমান্ত বৈঠক চলছিল, তখন বেইজিং ভিত্তিক China-Centric Asian Strategy Institute-এর জার্নালে ‘If China takes a little action, the so called great Indian federation can be broken up’ শীর্ষক নিবন্ধে গবেষক Zhan Lue Gang বলেন, “এশিয়ায় নয়াদিল্লির ভারত-কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবে হিন্দুস্থান-কেন্দ্রিক নীতি। কিন্তু ‘হিন্দুস্থান’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই এবং দেশটির অনেক রাজ্যে বহুসংখ্যক ‘স্থানীয় কেন্দ্র’ বিদ্যমান। বহুবিধ স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে তথাকথিত ভারতীয় জাতিকে প্রকৃতপক্ষে এক জাতি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ইতিহাসে এমন ভারতীয় জাতির অস্তিত্ব কখনো ছিল না। মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসনাধীনে একীভূত দেশটি বর্তমানে ‘ভারত’ নামে পরিচিত।”

নিবন্ধকারের মতে, ভারত যদি ঐক্যের জন্য কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে থাকে, তাহলে সেটি হলো হিন্দু ধর্ম, ১৯৪৭ সালে যার ভিত্তিতে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল। সে হিসেবে ভারতকে একটি ‘হিন্দু ধর্মীয় রাষ্ট্র’ বলা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্ম একটি ক্ষয়িষ্ণু ধর্ম, এতে বর্ণ ও জাতগত প্রতারণা ও শোষণ রয়েছে; যা দেশটির আধুনিকতার পথে বড় অন্তরায়। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে, চীনের উচিত তার নিজের স্বার্থে এবং এশিয়ার অগ্রগতির স্বার্থে ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী যেমন­ অসমিয়া, বাঙালি, নকশাল, মারাঠি, পাঞ্জাবি, তামিল ও কাশ্মীরিদের সাথে মিলিত হয়ে এবং তাদেরকে সমর্থন দিয়ে ভারতের বাইরে তাদের নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করা।

নিবন্ধে আরো বলা হয়, ‘China so that Assam realizes its national independence… For Bangladesh, the biggest threat is from India, which wants to develop a great Indian empire extending from Afghanistan to Myanmar. India is also targeting China with support to Vietnam’s efforts to occupy Nansha group of islands in South China Sea. This is why China should strengthen its alliance with Bangladesh, a country with which the US and Japan are also improving their relations to counter China. China should also open secret contacts with pro-independence groups fighting Indian rule in at least 13 states inside India.’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে বিভাজন করার লক্ষ্যে চীন তার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানকে সাথে নিয়ে আসামের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ULFA-কে এবং তামিল, নাগা ও কাশ্মীরিদের মতো জাতি-গোষ্ঠীগুলোর আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করতে পারে, …এবং সবশেষে ভারত কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত দক্ষিণ তিব্বতের ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, যাকে তারা অরুণাচল প্রদেশ নামে অভিহিত করে, সেই ভূখণ্ড উদ্ধার করতে পারে।’

ভারতকে ইউরোপের মতো ২০ থেকে ৩০টি জাতিরাষ্ট্রে বিভক্ত করার আশা ব্যক্ত করে নিবন্ধকার উপসংহার টেনেছেন যে, ভারতের জাতি-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যদি সচেতনতা জাগিয়ে তোলা যায় তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক সংস্কার ও পরিবর্তন আনয়ন এবং বর্ণভেদ দূরীকরণের মাধ্যমে সমগ্র এলাকাকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

এই অবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিপরীতে ভারতকে তার প্রভাববলয়ে নেয়ার ফলে এশিয়ায় উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে বরং বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। ওবামার ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, তার বাইরেও এ সফরের আরেকটি অগ্রাধিকার ছিল ভারতের কাছে ২৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক উপকরণ বিক্রয়, যার সূচনা হয়েছিল ২০০১ সালে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারে ১৪৫টি Howitzer কামান, ৪.৫ বিলিয়ন ডলারে ১০টি হেভি লিফট এয়ারক্রাফট, ২ বিলিয়ন ডলারে আওয়াকস রিফুয়েলিং সিস্টেম, ৮৮০ মিলিয়ন ডলারে ক্লাস্টার বোমা ক্রয় করবে। এ ছাড়া ভারতের সামরিক ক্রয় তালিকার মধ্যে আগামী ১০ বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যে ৬০০ হেলিকপ্টার আর তিন হাজার ৬০০ কামান রয়েছে। গত বছর ভারত ২.১ ডলার মূল্যে লং রেঞ্জ মেরিটাইম রিকনাইসেন্সের অর্ডার দিয়েছে ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বজায় রাখার প্রস্তুতি হিসেবে।

ওবামার সফরের মধ্যে ‘না বলা’ অনেক কিছু রয়ে গেছে, যা প্রাথমিকভাবে উপমহাদেশের জন্য এবং ব্যাপকভাবে এশিয়ার জন্য বিপদের বার্তা বয়ে আনবে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ‘এশীয় কূটনীতির কেন্দ্রে’ পরিণত করার নামে দেশটিকে যেভাবে অস্ত্রসজ্জিত করছে, তা ইতোমধ্যে ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করেছে। পঞ্চাশের দশক থেকে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে যে মৈত্রী ছিল, তা সোভিয়েত ব্লকে থাকা ভারতের জন্য ছিল ঈর্ষণীয়। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যদের বিতাড়নে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে এবং বর্তমানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আগামী শতকের ‘Indispensable Partner’ হিসেবে ঘোষণা করায় পাকিস্তান হতাশ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতার রাজনীতিতে মেতে উঠেছে, যার নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই’।

ভারত-মার্কিন সম্প্রীতি এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হলে কারো আপত্তি থাকার কথা ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক আলামতই বলে দিচ্ছে যে, এর ফলে এ অঞ্চলে অস্থিরতা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতাই শুধু বৃদ্ধি পাবে।
লেখকঃ সাংবাদিক
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা: পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা ; হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন


পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা

বারাক ওবামা

বারাক ওবামা


সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির পরাজয়ের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক খাতে তেমন অগ্রগতি না ঘটায় ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই তারা ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর এজন্য আমিই দায়ী।’ বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপি, বিবিসি অনলাইনের। মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের দলের ভরাডুবির পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে মলিন মুখে হাজির হন বারাক ওবামা। মাত্র দুই বছর আগে রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে ধরাশায়ী করে ক্ষমতায় যান ওবামা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তায় ধস নামায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে বলেন, আমি খুব খারাপ বোধ করছি। একই সঙ্গে স্বীকার করলেন দলের এ অবস্থার জন্য নিজের দায়িত্বের কথা। তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকার কোনো উন্নতি ঘটাতে পারেনি এমন অভিযোগ মেনে নিতে নারাজ তিনি। তিনি বলেন, অর্থনীতি মন্দা অবস্থা থেকে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। বেকারত্বের হার অনেকটা কমে এসেছে। তবে জনগণ এখনও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত রিপাবলিকানরা ওবামার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার রিপাবলিকান জন বোয়েনার বলেন, এটা খুব স্পষ্ট, মার্কিন জনগণ আরও ছোট, কম ব্যয়ের এবং বেশি জবাবদিহিমূলক সরকার চায়। তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নির্বাচনের ফল জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণে গৃহীত পরিকল্পনাসহ পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে বারাক ওবামার অবস্থানকে বেশ জটিল পরীক্ষার মধ্যে ফেলবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে একটি গবেষণা সংস্থা। তারা বলছে, ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে তরুণদের ভোট পড়েছে প্রায় ১০ লাখ কম। সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের হিসাবে, মঙ্গলবার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের প্রতি পাঁচজনের একজন ভোট দিয়েছে। এ বয়সের প্রায় ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছে। অথচ ২০০৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় এক কোটি তরুণ।
৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮ আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ২৩৯টি। ওবামার ডেমোক্র্যাট পার্টি পায় ১৮৬টি আসন। বাকি ১০টির ফল জানা যায়নি। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পেরেছে। ১০০ আসনের মধ্যে তাদের আসন এখন ৫২টি। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪৭টি। একটি আসনের ফল চূড়ান্ত হয়নি।

হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে (মিশিগান কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৩) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হেনসেন হাশেম ক্লার্ক প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের।
বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, হেনসেন হাশেম ক্লার্কের বিজয় তার প্রতি সাধারণ জনগণের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।