‘দোয়েল’ এখন ডিজিটাল দুঃস্বপ্ন


বর্তমান মহাজোট সরকার ডিজিটাল শব্দের প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল ২০০৮ সালে। বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজড করার ছিল মহাপরিকল্পনা। এই ডিজিটালাইজড পরিকল্পনায় দেশের তথ্য-প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও এ খাতটিকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করার কথা ছিল। আর তাই পরের বছর ২০০৯ সালের জুনে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ল্যাপটপ উত্পাদনের ঘোষণা দেয়। যথারীতি টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ল্যাপটপ উত্পাদন করার জন্য একটি দেশি ও একটি বিদেশি কোম্পানি নিয়ে তাদের উত্পাদন কার্যক্রম শুরু করে। ১০ হাজার টাকা মূল্যে দেশে উত্পাদিত ল্যাপটপ দেশের মানুষকে দেয়ার কথা থাকলেও তার প্রত্যেকটি অংশ তৈরি করা হয় চীন থেকে। চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান শেয়ার ট্রনিক কর্পোরেশনের মাধ্যমে সব যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। টেশিসের গাজীপুর কারখানায় তা শুধু সংযোজন করা হয়। যদিও দোয়েলের উদ্বোধনের দিন টেশিসের তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসমাইল বলেছিলেন, এর ৬০ শতাংশ যন্ত্রপাতিই দেশে উত্পাদন করা হবে; বাকি ৪০ শতাংশ চীন, কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে আমদানি করা হবে। কিন্তু তার কিছুই করা হয়নি। টাকার অভাবে দোয়েল নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও সমপ্রতি দোয়েল তৈরি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর ওপর দিকে শুধু নামমাত্র ডিজিটাল স্বপ্ন দেখেই দায়িত্ব শেষ করেছেন সরকারের শীর্ষ মহল। তাই দোয়েল এখন একটি ডিজিটাল দুঃস্বপ্নের নাম। ডিজিটাল পাখায় বাঁধা এ পাখি নিজেও জানে না সে কখনও উড়তে পারবে কি-না!

৪ মডেলের দোয়েল
২০১১ সালের ১১ অক্টোবর জাতীয় পাখি দোয়েলের নামানুসারে
দোয়েল ল্যাপটপ-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে ৪টি মডেলে তৈরি করা হয় দোয়েল ল্যাপটপ। এক. বিজয় দিবস স্মরণে অ্যাডভান্স মডেল-১৬১২, দুই. ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে দোয়েল প্রাইমারি মডেল-২১০২, তিন. স্বাধীনতা দিবস স্মরণে দোয়েল স্ট্যান্ডার্ড মডেল-২৬০৩ এবং চার. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্মরণে দোয়েল বেসিক মডেল-০৭০৩ ল্যাপটপ তৈরি করা হয়। বৈশিষ্ট্য ভেদে এগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়। যেমনদোয়েল প্রাইমারি নেটবুকের দাম ১০ হাজার টাকা, বেসিক নেটবুকের দাম ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড নেটবুকের দাম ১৬ থেকে ২২ হাজার এবং অ্যাডভান্স নেটবুকের দাম ২২ থেকে ২৮ হাজার টাকা।

বিড়ম্বনার নাম দোয়েল ল্যাপটপ
মহাজোট সরকারের ইশতেহারে বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেশে দোয়েল ব্যান্ডের ল্যাপটপ তৈরির ঘোষণা দেয়া হয়। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করার জন্য গত ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর দোয়েলের উদ্বোধন করা হয়। এরপর তার চারদিন পর ১৫ অক্টোবর বাজারে আসে বহুল কাঙ্ক্ষিত দোয়েল ল্যাপটপ। দাম কম বলে আশা করা হচ্ছিল খুব শিগগিরই সারাদেশে এই ডিজিটাল ল্যাপটপটি সয়লাব হয়ে যাবে। কিন্তু না, বাংলার মানুষের সবার হাতে একটা করে ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে আসা দোয়েল এরই মধ্যে মুখথুবড়ে পড়েছে। বরং এরই মধ্যে যারা দোয়েল কিনেছেন তারা চরম বিরক্ত প্রকাশ করেছেন। কারণ এই ল্যাপটপ কেনার কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ
দেশীয় পণ্য বলে তারা এই ল্যাপটপ কিনেছেন। কিন্তু আর কিছু টাকা বেশি দিয়ে যদি অন্য ব্র্যান্ড নিতেন তাহলে এত সমস্যায় পড়তে হতো না। ক্রেতাদের অভিযোগের মধ্যে ল্যাপটপের গতি নিয়ে সমস্যা বেশি। তাছাড়া এর পাওয়ার ব্যাকআপ নিয়েও রয়েছে অনেক সমস্যা। মানুষ এই ল্যাপটপ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখলেও পরে শুধুই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

আর্থিক সমস্যা প্রধান কারণ!
হয়তো অনেকেই কথাটি শুনে অবাক হতে পারেন। দেশে কোনো কিছুর নাম পরিবর্তন করার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার জোগান দিতে পারলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে! আর তাই দেশীয় এই ডিজিটাল ল্যাপটপ দোয়েল উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই উত্পাদন বন্ধের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় সরকার। কারিগরি ও আর্থিক সমস্যাই এর কারণ বলে তখন জানানো হয়। ল্যাপটপ তৈরিতে প্রাথমিকভাবে ১৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের টাকা বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান থিম ফিল্ম ট্রান্সমিশনের (টিএফটি) তরফ থেকে আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশ সরকার টাকা দিয়েছে। ফলে ল্যাপটপ তৈরির কাজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। টেশিস সূত্রে জানা গেছে, আপাতত রিভলভিং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ ল্যাপটপ তৈরির নামে দুর্নীতির অভিযোগে বলা হচ্ছে, ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ কেনার জন্য দেড় লাখ ডলারের পণ্যের মূল্য ১০ লাখ ৬ হাজার ৫৪০ ডলার দেখিয়ে দুর্নীতি করা হয়েছে। আবার এই দুর্নীতি যারা করেছেন তারাই বলছেন আর্থিক সমস্যার কারণে দেশের এই সম্ভাবনাময় একটি খাত ডুবে যাচ্ছে।

দোয়েলে শুধুই সমস্যা
দোয়েল ল্যাপটপ অনেক সম্ভাবনার কথা বললেও সেখানে শুধুই সমস্যা আর সমস্যা। হাতেগোনা কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে এই দোয়েল ল্যাপটপ। যারা ল্যাপটপ পেয়েছেন তারাই অভিযোগ করে বলেছেন, খুবই হালকা প্লাস্টিক ধরনের আবরণ দিয়ে ল্যাপটপ তৈরি করা হয়েছে। ব্যাটারির ক্ষমতা কম। অপারেটিং সিস্টেমে ঠিকমত কাজ করা যায় না। এছাড়া লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি) মনিটর ঘোলা। টেশিসের হিসেবে দোয়েল প্রাইমারি মডেল-২১০২ মাত্র ৮-১০টি উপহার হিসেবে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে দেয়া হয়েছে। ৪ হাজার ৭০০ জন দোয়েল বেসিক নেটবুক ব্যবহার করেন। আর দোয়েল স্ট্যান্ডার্ড নেটবুক এবং দোয়েল অ্যাডভান্স নেটবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা হাজার খানেক। এসব সমস্যার সমাধানে এরই মধ্যে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে টেশিস সূত্রে জানা গেছে। ওই সূত্র আরও জানায়, দেশের বেশিরভাগ ব্যবহারকারী উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে অভ্যস্ত হওয়ায় তারা দোয়েল মডেলগুলোয় ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না। প্রাইমারি নেটবুকে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। বাকি ৩টি নেটবুক চলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে। কিন্তু যে সিস্টেমেই চলুক না কেন, সব ল্যাপটপেই রয়েছে ভয়ঙ্কর সব সমস্যা।

স্বদেশী পণ্য নাকি প্রতারণা?
দোয়েল বাংলাদেশে চালু হওয়ার পর থেকেই
দোয়েল কি স্বদেশী পণ্য নাকি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা? এ নিয়ে বিতর্ক ছিল। কারণ সরকার মাত্র ১০ হাজার টাকায় দেশে উত্পাদিত ল্যাপটপের স্বপ্ন দেখালেও এর প্রতিটি অংশ চীনের তৈরি। চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান শেয়ার ট্রনিক কর্পোরেশনের মাধ্যমে সব যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। টেশিসের গাজীপুর কারখানায় তা শুধু সহযোজন করা হয়। এছাড়া অনেকেই তখন প্রশ্ন করেছিল, দোয়েল ল্যাপটপের র্যাম, মাদার বোর্ড, প্রসেসর, হার্ডডিস্ক, সাউন্ড সিস্টেম, এলসিডি, কিবোর্ড, ওয়েবক্যাম, ইউএসবি, ডিভিডি, ওয়াইফাই ইত্যাদি কি বাংলাদেশের তৈরি? বাংলাদেশে দোয়েল ল্যাপটপের কোন অংশটি তৈরি হয়েছে? যদি কোনো অংশই দেশে তৈরি না হয়ে থাকে তাহলে কীভাবে এটি একটি স্বদেশী পণ্য হবে? যদি তা দেশের বাইরে থেকে এনে এখানে সহযোজন করা হয় তাহলে একটি লোগো লাগিয়ে দিলে স্বদেশী পণ্য হয়ে যাবে? বাংলাদেশের অধিকাংশ ডেস্কটপ বাইরে থেকে যন্ত্রাংশ এনে এখানে সহযোজন করা হয়, কিন্তু কেউ যদি কম্পিউটারের ওপর একটি লোগো লাগিয়ে দিয়ে কি বলতে পারেন এটি স্বদেশী পণ্য?

১০ হাজার টাকার ল্যাপটপ বিক্রি মাত্র ৫০টি!
বিপুল সম্ভাবনাময় তথাকথিত বাংলাদেশে উত্পাদিত দোয়েল ল্যাপটপ বাজারে আসার আগে প্রচুর চাহিদা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। অনেকেই ল্যাপটপ পাওয়ার জন্য এবং ব্যবসা করার জন্য অগ্রিম বিভিন্নভাবে মন্ত্রী পর্যন্ত লবিং করে রেখেছিলেন। কিন্তু দোয়েল কি জানত তার ডানা মেলার সময় হলেও নিজে স্বাধীন মতো উড়তে পারবে না? গেল বছর ২০১১ সালের ১১ অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোয়েল ল্যাপটপটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই তার ভাগ্যের চাকা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকটা উড়ার আগেই থুবড়ে পড়ল দোয়েল! কারণ গত বছরের অক্টোবরে দোয়েল ল্যাপটপ বাজারজাতকরণ শুরু হলেও পরে ছয় মাসেও ১০ হাজার টাকার ল্যাপটপ উত্পাদন করতেই পারেনি টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস)। অথচ টেশিসের প্রচার হয়েছে ১০ হাজার টাকাতেই পাওয়া যাবে স্বপ্নের দোয়েল ল্যাপটপ। সমপ্রতি সাড়ে ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুই হাজার ল্যাপটপ সহযোজন করা হলেও তার ৫০টিও বিক্রি হয়নি। টেশিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাইমারি মডেলের ল্যাপটপ উত্পাদনে যেতে তাদের কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ক্রেতাদের আগ্রহও অনেক কম বলে তারা জানান। প্রথম দফায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকার বেসিক মডেল এবং ২৬ হাজার ৫০০ টাকার অ্যাডভান্স মডেলের ল্যাপটপ সহযোজন করে টেশিস। প্রতিটি গ্রুপে ৫ হাজার করে ল্যাপটপ সহযোজন করা হয়। এর মধ্যে এক বছরে ১৫ হাজার ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছে বলে টেশিস থেকে দাবি করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এই ১৫ হাজারের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনীই নিয়েছে ৭ হাজার ল্যাপটপ। ফলে বাইরের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি এক বছরে মাত্র ৮ হাজার। জানা গেছে, ১০ হাজার টাকার প্রাইমারি মডেলের ল্যাপটপ সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া অ্যাডভান্স মডেলের মূল্য আগে ২৬ হাজার রাখা হলেও এখন তা সাড়ে ২৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তবে টেশিসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টাকা না থাকায় এখন দোয়েল ল্যাপটপ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।

দোয়েল উত্পাদনে হরিলুট!
বাংলাদেশে স্বপ্নের ল্যাপটপ দোয়েল উত্পাদনে আর্থিক সঙ্কটের কথা বলা হলেও এখানে রেকর্ড পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ আমদানি করার নামে এখানে হরিলুট হয়েছে। হাজার ডলারের যন্ত্রপাতির মূল্য লাখ ডলার দেখিয়ে আমদানি করা হয়েছে দোয়েল ল্যাপটপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। সে কারণে দেড় লাখ ডলারের পণ্যের মূল্য দেখানো হয় ১০ লাখ ৬ হাজার ৫৪০ ডলার। ৩শ
শতাংশ বেশি মূল্য দেখিয়ে আমদানি করা অর্থের ভাগবাটোয়ারা হয়েছে মালয়েশিয়ার পেনাং এবং নিউইয়র্কে। সমপ্রতি বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে এইচএসবিসি ব্যাংক ও নিউইয়র্কের টিডি ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে পৌনে ৪ লাখ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে, যার পুরোটাই ঘুষ হিসেবে দিয়েছে দোয়েল ল্যাপটপের তখনকার মালয়েশিয়ান অংশীদার টিএফটি টেকনোলজি গ্রুপ। উপরি আয়ের একটি বড় অংশ তখনকার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুও পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন টিএফটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ওয়াং বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে। টেশিসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ল্যাপটপ উত্পাদনে লুটপাট হয়েছে। বিষয়টি অনেক পরে ধরতে পেরেছেন তারা। মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে এইচএসবিসি ব্যাংকে (হিসাব নম্বর ৩৭১২৭১৭৪৩৭১০) মোহাম্মদ ইকবালের নামে দুই লাখ ৯৯ হাজার ডলার জমা করে টিএফটি। গত ২০১১ সালের ১১ জুলাই এ ডলার জমা করা হয়। একইভাবে নিউইয়র্কের টিডি ব্যাংকে সুইফট কোড পদ্ধতিতে (হিসাব নম্বর ০৩১১০১২৬৬) জমা করা হয় আরও ৭৫ হাজার ডলার। এ টাকা জমা হয় চৌধুরী অ্যাসোসিয়েটসের নামে। পৌনে চার লাখ ডলার দেয়ার পর সেটি অবহিত করে একটি চিঠিও মোহাম্মদ ইকবালের ঢাকার অফিসে পাঠান মাইকেল ওয়াং। চিঠিতে মোহাম্মদ ইকবালকে ঢাকার মিলেনিয়াম হোল্ডিং লিমিটেডের এমডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দিন যতই যাচ্ছে ততই দোয়েল ল্যাপটপ নিয়ে ডিজিটাল দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসছে।

Source: http://71.18.24.199/?cat=3

হলিউড, লস এঞ্জেলেস এ বাদাম এর আত্মপ্রকাশ



http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-07-07/news/271545
হলিউড, লস এঞ্জেলেস এ বাদাম এর আত্মপ্রকাশ

একুশ নিউজ মিডিয়াঃ লস এঞ্জেলেস, ২৪ জুন:বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার প্লাটফর্ম হিসাবে কাজ করা, সহায়তা ও পরামর্শ দিতে লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্ণিয়া, ইউ এস এ-তে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া (বাদাম BADAM)। স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ ও সুধীজন এই আলোচনা সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে ‘বাদাম’ -এর প্রতি সম্পৃক্ততা ঘোষণা করেন।

BADAM Los Angelesরবিবার লিটল বাংলাদেশ এলাকায় আলাদীন রেস্তোরায় এক আলোচনা সভার মাধ্যমে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উদ্যোক্তারা এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। প্রবাসের মূলধারায় দেশীয় বাংলা সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে দেশ-প্রবাসের কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের যোগসূত্র হিসাবে কাজ করবে এই সংগঠন।

সুদীর্ঘ সময় পরে হলেও নতুন প্রজন্মের সাথে আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পরিচয় ও তাদেরকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বাদাম-নতুন প্রজন্ম’ নামে সংগঠনের একটি শাখা খোলার প্রস্তাবনা করা হয়। প্রতিমাসে একবার করে নতুন প্রজন্মদের নিয়ে স্কুলশিক্ষার আদলে ইন্টারএক্টিভ কর্মশালার প্রস্তাব করা হয়।

BADAM Los Angelesকাজী মশহুরুল হুদার সঞ্চালনায় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের অতীত-বর্তমান-ভবিষৎ নিয়ে আলোচনা করেন মিজান শাহীন, কাজী রহমান, আলী আশরাফ রুনু, ডাঃ নাসির আহমেদ অপু, একতার ভূঁইয়া, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, তারিক বাবু, ফ্রেন্ডস বাবু, দিলশাদ রহমান, মার্টিন রহমান, মিঠুন চৌধুরী, রওনাক সালাম, বুলবুল সিনহা, আব্দুল খালেক, স্যামী নোবেল, খাজা মইনুদ্দীন চিশতী, শহীদ আলম, শাহানা পারভীন, সাদিয়া রহমান, জাবিন হিল্টন, মাহবুবা রশীদ, শামসুন্নাহার মনি প্রমুখ।

BADAM Los Angelesফারহানা সাঈদ সবার বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরে বলেন, সবার বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা -সংস্কৃতি সার্বজনীন, বহমান সংস্কৃতিকে মূলধারার সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করে নিজ দেশের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে হবে।

BADAM Los Angeles
বাদাম-এর প্রধান উপদেষ্টা এম কে জামান নান্টু তার বক্তব্যে বলেন, লস এঞ্জেলেস এ কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের এক অপূর্ব সম্মীলন ঘটাবে এই বাদাম। বাদাম ও স্থানীয় বাংলাদেশী ডাক্তারদের সহযোগীতায় লিটল বাংলাদেশ-এ ফ্রি সানডে ক্লিনিক খোলার ঘোষণা দেন তিনি।

BADAM Los Angelesনব গঠিত বাদাম’র আহ্বায়ক জাহান হাসান সভার শেষে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, আমেরিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের একটি শক্তিশালী সাহিত্যিক-সামাজিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনেকদিন ধরে অনুভূত হচ্ছিল। অনেক প্রবাসী তাদের নিজ নিজ অবস্থানে সমুজ্জ্বল হলেও সংস্কৃতি প্রসারে নিরপেক্ষ প্লাটফর্মের অভাবে এগিয়ে আসতে পারছেন না। তাদের অভিজ্ঞতা, সার্মথ্য ও দেশকে ভালবাসা বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে এই বাদাম। নিয়মিতভাবে প্রবাস ও দেশের গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করার ঘোষণা দেন তিনি।

২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাদাম’র কাজ শুরু করেছে। অচিরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরবর্তীতে বিভিন্ন ষ্টেটে কমিটি গড়ে পর্যায়ক্রমে সারা উত্তর আমেরিকায় সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। ঈদের পরে স্থানীয় প্রবাসীদের সামনে পূর্নাংগ কমিটি ঘোষণা করা হবে। সংগঠনের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসীদের সহায়তা কামনা করে জানান, কবি,সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে সংগঠনটি গঠিত হলেও বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য গড়তে কাজ করতে ইচ্ছুক যে কেউই এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রবাসে শিল্পকলা প্রসারে বাদাম-এর মত সংগঠনের সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সংগঠনের কয়েকজন পরিচালকের সাথে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে হলিউডে বাদাম-এর স্মরণ সভা



Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151062928006897.458033.826936896&type=3&l=78e5338c09

হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে হলিউডে বাদাম-এর স্মরণ সভা

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanহলিউড, ২ আগস্ট (জাহান হাসান, একুশ নিউজ মিডিয়া):কর্মের মাধ্যমে বেঁচে আছেন ও থাকবেন ক্ষণজন্মা এই কৃতি পুরুষ। অনন্য সাধারণ সহজভাষা ও সাবলীল রচনাশৈলী দিয়ে এক নিশ্বাসে একটি বই, এক বসায় একটি নাটক, এক যতিতে একটি চলচ্চিত্র দিয়ে শহর থেকে প্রান্তিক গরীব মানুষ পর্যন্ত সকলের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন হুমায়ুন আহমেদ।। তাই তার মৃত্যুর পর তিনি দেশ ও প্রবাসীদের মনে কান্নার শোয়াচাঁন পাখি হিসাবে অনুরণিত হচ্ছেন। BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

সদ্য প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিকের স্মরণে গত ২ আগষ্ট লস এঞ্জেলেসের হলিউডে স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) একটি নাগরিক শোক সভার আয়োজন করে। শোক সভায় লস এঞ্জেলেস কমিউনিটির কবি-সাহিত্যিক,অধ্যাপক, রাজনীতিক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও সাহিত্যের ওপর আলোকপাত করে মননশীল ও আবেগগঘন বক্তব্য রাখেন স্থানীয় প্রবাসীবৃন্দ। বক্তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনশীল সাহিত্য কর্মের মধ্য দিয়ে। বাংলা সাহিত্যের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো তার এই অকাল তিরোধানে। হুমায়ুন আহমেদ জীবদ্দশায় তার মেধা দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে সৃজনশীল করেছেন, সুবিশাল পাঠক-গোষ্ঠির সৃষ্টির সাথে সাথে বইমুখী করেছেন ধৈর্যের অভাববোধে তাড়িত সাধারণ পাঠকদের। বাংলা সাহিত্যের নবাগত ও অনাগত লেখকদের পথে আলোকবর্তিতা জ্বালিয়ে গেছেন নীরবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে দিয়েছেন শক্ত ভিত, প্রকাশনা শিল্পকে দিয়েছেন প্রাণ। চলচ্চিত্রশিল্পকে দিয়েছেন আশার আলো। ভবিষৎ প্রজন্মের সামনে এক অনন্য-সাধারণ উদাহরণ স্থাপন করে গেছেন এই নন্দিত কথাশিল্পী। BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan
বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অব লস এঞ্জেলেসের মাননীয় কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে হুমায়ুন আহমেদের প্রতীক প্রতিকৃতির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে এই স্মরনসভার উদ্বোধন করেন। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্ষণিকের নীরবতার মাধ্যমেহুমায়ুন আহমেদকে স্মরণ করা হয়। কথাশিল্পী, মনস্তত্ত্ববিদ এবং দার্শনিক হুমায়ুন আহমেদের অনবদ্য চরিত্র যুক্তিবাদী হিমুর স্মরণে ‘আজ হিমুর বিয়ে’ উপন্যাস থেকে আবৃত্তির মাধ্যমে বাদাম-এর এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা শুরু হয়। ইফতারের আয়োজনের পূর্বমূহর্তে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন। ইফতারির পরে হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু নির্মিত একটি তথ্যচিত্র উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তুলে।

প্রধান বক্তা কবি মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ সাহিত্য-সংষ্কৃতির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বাদাম-এর এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যার জন্য সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, লোভনীয় অধ্যাপনা জীবন থেকে বেরিয়ে এসে জীবনমুখী আপন সাম্রাজ্যের প্রভু হিসাবে প্রাত্যহিক জীবন সঙ্কটগুলির মাঝে সূক্ষ্ম সুখ আর দুঃখ যন্ত্রণাগুলিকে কাছে থেকে নিবিড়ভাবে অনুভব করে নিজস্ব আঙ্গিকে সাবলীলভাবে তুলে এনেছেন তার কর্মে, যা অবিনশ্বরভাবে সকলের মন হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

তার অবচেতন মনের গভীর মূল্যবোধ, সামাজিক অবক্ষয়য়ের মাঝে সমাজচেতনা হুমায়ুন আহমেদকে এক স্বতন্ত্র ঐশ্বর্যমন্ডিত লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ও কবিপ্রতিভার মিলনগাথায় সাংগৃতিক নন্দনতত্বে সমন্বিত হয়ে প্রকাশ হয়েছে। গ্রামবাংলার শান্ত সরলতা ও গ্রামের ছোট-খাট সামন্তপ্রভূদের জীবনের স্বেচ্ছাচারী বিলাসিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করে তার লেখনীতে তুলে এনেছেন জীবনঘনিষ্ঠ রূপকার হিসাবে। তাই তার প্রায় গল্পে, নাটক ও চলচ্চিত্রে এই ধরনের ছোট-খাট অনুষঙ্গ, যেমন ঐতিহ্যবাহী ব্যান্ড বাজানোর সার্থক সূচনার মাধ্যমে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে তুলে আনার প্রয়াসে গনমানুষের স্বপ্নকে লেখক নিজের বাস্তব স্বপ্নীল লেখনীতে ধারণ করেছেন।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

আমরা যেমন করে আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের ভুলিনি, আমাদের গর্ব রবীন্দ্র-নজরুল-শরৎ-বিভুতি-বঙ্কিম-মানিকদের ভুলিনি, যদিও তারা তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত জীবনের মোড়কে, হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে নিয়ে গেছেন ধনী থেকে প্রান্তিক গরীব মানুষের অন্তরে। এইভাবেই তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে যুগ-যুগ ধরে। হুমায়ুন আহমেদদের মরণ হয়না।

কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন বলেন, অনিশ্চিত, অবধারিত মৃত্যু জেনেও যারা কর্মকে আলিঙ্গন করে তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেন তারা অমর হয়ে থাকেন শত-শত বছর ধরে। বিশ্বসাহিত্য থেকে বিশেষ করে রাশিয়ান ও স্প্যানিশ সাহিত্য হতে নির্যাস এনে অসাধারণ মেধাবী হুমায়ুন আহমেদ আমাদের সাহিত্যে প্রবৃষ্ট করে সাহিত্যের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার ধর্ম ও ঈশ্বরপ্রীতির বর্ননা দিতে গিয়ে ষ্টীভেন হকিংয়ের এন্ড অফ লাইফের বিষয়ে হুমায়ুন আহমেদ বলেছিলেন, এই জীবনই শেষ নয়, আমরা সবাই ফিরে যাব সেই মহা স্রষ্টার কাছে। তার বিজ্ঞানমনস্কতা, উদার মননশীলতা, প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ ও জোসনার প্রতি ভালোবাসা আমাদের নিজেদেরকে জটিল ভাবনায় না ফেলে সহজ সরল সমাজবোধ, স্নেহ মমতায় অনুরাগে সিক্ত করে।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

হুমায়ুন আহমেদ স্মরণে একটি ইন্সটিটিউশন, যাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র করার জন্য আহ্বান জানান কাজী মশহুরুল হুদা। তিনি বলেন, হুমায়ুন আহমেদের অবিক্রীত চিত্রকর্ম যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য অতি সত্বর তার চিত্রকর্মগুলিকে নিউইয়র্ক থেকে উদ্বার করে বাংলাদেশে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়।

হুমায়ূন আহমেদের বিপুল রচনাবলির ইংরাজী ও অন্য ভাষায় ভাষান্তরিত করে তার সাহিত্য কর্মকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিবার জন্য ক্যালিফোর্ণিয়া প্রবাসীদের সহযোগিতায় হুমায়ুন আহমেদ স্মরণ ডট কম নামে একটি ওপেন ওয়েবপোর্টাল স্থাপন করার ঘোষণা দেন এম হোসেন বাবু।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

স্নেহাশিষ প্রিয় বড়ুয়া বলেন, জাতির মনের খোরাকের ভূমিকায় তিনি যা রেখে গেছেন তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মনের উৎকর্ষতা বাড়াবে। হুমায়ুন আহমেদকে জাতীয় লেখক হিসাবে স্বীকৃতি দানের জন্য আর্টেশিয়ার লিটল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হুমায়ুন আহমেদ স্মরণ সভা থেকে উত্থাপিত দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবরে একটি খসরা স্মারকলিপি তৈরি করা হয়েছে যা প্রবাসীদের সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে শীঘ্রই স্থানীয় কন্সুলেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে প্রেরণ করা হবে ।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan enayet hossain

হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যকে যে পর্যায়ে নিয়ে এসেছে তা আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। প্রবাসে হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় নাটকগুলিকে নতুন প্রজন্ম ও বিদেশীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সাব-টাইটেলসহ প্রচার করার জন্য টিভি ষ্টেশন ও নির্মাতাদের অনুরোধ করেন শাহানা পারভীন। পারিবারিক কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি থেকে সাধারণ মানুষের কাছে হুমায়ুনকে ফিরিয়ে দেবার সোচ্চার দাবী জানান তিনি।

জাহিদ হোসেন পিন্টু বলেন, হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্যকর্মে রবীন্দ্রনাথ, হাসন রাজার গানের উপযুক্ত ব্যবহার তার সৃষ্টিতে সার্বজনীনতা এনেছে।

সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু বলেন, স্বাপ্নিক হুমায়ুন আহমেদের দৃষ্টিপথে যুগোপযোগী ধারায় তার দর্শনকে নুহাশপল্লীতে সংরক্ষিত করার আহ্বান জানান।

১৯৯৩ সালে ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হবার পর ২০০৩ সনে ইংরাজিতে অনুদিত ‘ইন ব্লিসফুল হেল’ নামে বইটি বিদেশেও আলোড়ন তোলে বলে জানান, এক কালের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক মোবারক হোসেন বাবলু। তার বইয়ের অনুবাদ হুমায়ুন আহমেদকে বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় লেখক হিসাবে স্বীকৃতি বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassan

হুমায়ুন আহমেদের প্রস্তাবিত ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান জনাব সরোজ।

ফয়সাল আহমেদ তুহিন সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণের সময় তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ননা করে বলেন, হুমায়ুন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধ আর ইসলামকে পৃথক করে দেখেননি। স্বকীয়তা বজায় রেখে তিনি আত্মার ক্ষুধা মেটনোর জন্য দীর্ঘ চল্লিশ বছর লিখে গেছেন বিশ্বের বিশিষ্ট রম্য লেখক হিসাবে।

গেরুয়া পোশাকের হিমু, স্পিরিট্যুয়াল মিছির আলী চরিত্রের মাধ্যমে একজন হুমায়ুন আহমেদ বাংলা ভাষা প্রেমী জনসাধারণের মনে যে জায়গা করে নিয়েছেন সেখান থেকে তাকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ‘রুপা’ নামের উপন্যাস থেকে কিছু অংশ তিনি পাঠ করেন।

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanতারেক বাবু বলেন, নুহাশ আহমেদ তার বাবাকে সাবলীল ভাষায় যে শেষ চিঠি লিখেছে তাতে তিনি হুমায়ুন আহমেদের লেখনীর ছোঁয়া পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাদাম এই শোকসভা আয়োজন করে হুমায়ূনভক্তদের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছে।

এম কে জামান বলেন, জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আহমদ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন কথাশিল্পী নন, একজন বড়মাপের মনস্তত্ত্ববিদ এবং দার্শনিকও বটে। তার অভাব সহজে পূর্ণ হবে বলে আমি মনে করি না।

বাদাম-বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়ার আহবায়ক জাহান হাসান বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সম্রাট হুমায়ুন আহমেদের অকাল প্রয়াণে সমগ্র বাঙালী জাতি আজ শোকাহত। প্রকাশকদের হিসেবে, হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩২২ টি। বিক্রি হয় বছরে প্রায় আড়াই লাখ কপি। যা দেশে বিক্রি হওয়া মোট বইয়ের ৭৫ শতাংশ। শুধু সংখ্যাগত প্রাচুর্য নয়, শিল্পের নবমাত্রা সংযোজনে তার অবদান অসামান্য। হুমায়ুশ্র আহমদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকল সদস্য ও বন্ধু বান্ধবদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা এবং পরম করুণাময়ের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে অনুষ্ঠানে সবাইকে অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

ছড়া কবিতায় শ্রদ্ধা জানান জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ও কবি মুক্তাদির চৌধুরী তরুনের কবিতা আবৃত্তি করেন কানিজ ফাতেমা শিমুল।
…আমার জীবন সন্ধ্যার নির্জন সমাপ্তি উৎসবে,
নগর সভ্যতার বিদ্বেষ স্বার্থ শেষবারের মত তোমাদের সন্ধ্যাতারার কাব্যে গোপন রাখো।
আমি এখন গল্প থামিয়ে নির্মোহে চলে যাবো,
প্রিয় অপ্রিয় ধরিত্রী ছেড়ে-বিজন শান্তির পথে।
তোমরা বাঁজাও, নিশ্চিন্তে বাঁজাও – বাউলের বাউন্ডুলে বেদনার একতারা।
অনন্ত নীল থেকে ঝরে পড়তে দাও ক’ফোটা বৃষ্টির বরষা জলে…

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা, সহযোগীতা করেছেন জাহান হাসান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাঃ রবি আলম, ড্যানী তৈয়ব, শামসুদ্দিন মানিক, আঞ্জুমান আরা শিউলী, ম্যাকলীন চৌধুরী, কাজী নাজির হাসিব, বুলবুল সিনহা, নিয়াজ মোহাইমেন, প্রমূখ।

বাদাম আয়োজিত উক্ত শোকসভায় তোফাজ্জল কাজল, আকতার ভুঁইয়া, জিয়া আহমেদ, ডাঃ নাসির আহমেদ অপু, শফিঊল আলম বাবু, আইয়ুব হোসেন, পঙ্কজ দাস, ফ্রেন্ড ফেরদৌস, আঃ খালেক, মোঃ শাহ আলম, আলী তৈয়ব, খাজা মইনুদ্দীন পপসি, শফিক আহমেদ, মিঠুন চৌধুরী, মার্টিন রহমান সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।

Pic Link: 2011 – Were you there?
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151057559576897.457431.826936896&type=3&l=9f725eb6d6

লস এঞ্জেলেস এ বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠিত BUFLA Appreciation Dinner and Inauguration Ceremony


লস এঞ্জেলেস এ বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠিত

BUFLA Appreciation Dinner and Inauguration Ceremony

গত ২৪শে জুলাই লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় দি উইশ্যায়ার হোটেলে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস-বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ডে প্যারেডের পর প্রতি বছর বাফলার নির্বাচন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অভিষেক অনুষ্ঠানে পুরাতন কমিটি নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে । বাফলার এবারের নির্বাচিত কর্মকর্তারা হলেন-সভাপতি সামছুদ্দিন মানিক,সহসভাপতি কাজী মশহুরুল হুদা,সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফ আহমেদ আকবর, সাংষ্কৃতিক সম্পাদক আন্জুমান আরা শিউলী, কোষাধ্যক্ষ আক্তার হোসেন মিয়া ও পাব্লিক রিলেশন অফিসার তারেক রহমান । অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন,মিসেস এনায়েত হোসেন ও ভাইস কনসাল শামীম আহমেদ ছাড়াও লস এঞ্জেলেসএর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন । ডিনার আপ্যায়ন, স্বাগত নৃত্য ও বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পী রুমানা ইসলাম খানের সঙ্গীত দিয়ে গভীর রাত্রিতে অভিষেক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও প্লে-লিষ্ট Bufla Video Playlist

অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও ১

অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও ২

অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও ৩

বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস

বাফলার নতুন কমিটির শপথ গ্রহন

কেন এই ঘটনা ঘটলো এর behind the story উদঘাটন করার চেয়ে জরুরি কাজ হবে, এই নৃশংসতার ভেতর দিয়ে আমরা কোন বাস্তবতাকে দেখতে পাই, তা উদঘাটন করা, সেই সত্যকে সামনে টেনে আনা।


রুমানা : এই নীরবতার শৃঙ্খল আমরা ভাঙবোই

অভিমত

সাদাফ নূর-এ ইসলাম ● বারবার ফিরে যাচ্ছি পেছনে ফেলে আসা দিনগুলোতে। কেন্টাবেরির যাইলস লেন ধরে মাথা নিচু করে চোখের পানি আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে আমি মারলো বিল্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছি। দেশে আমি রেখে এসেছি আমার সাড়ে চার বছরের ছেলেকে। ইমিগ্রেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ওর চেহারা আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না। আমি এখনো যেন ওই বেদনা অনুভব করতে পারি। রুমানা, তুমি আমাকে আবার ফিরিয়ে দিলে ওই দিনগুলোতে। যখনি পত্রিকার পাতায় পড়েছি, তুমি নয় মাস পর মেয়েকে দেখবার জন্য কানাডা থেকে ছুটে এসেছিলে, ততবারই আমি যেন তোমার মধ্যে আমাকে দেখতে পাই। তোমার আকুলতা আমার বুকে চিন চিনে ব্যথা ধরায়। অপরাধী করে। কিন্তু এই আকুলতা কি তোমার দীর্ঘদিনের সঙ্গী বুঝেছে? তুমি এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে জানতে চাও, ‘মা, তুমি আজ কোন রঙের জামা পরেছো? তুমি মন ভরে, চোখ ভরে তোমার মেয়েকে দেখবার আগেই, তোমার ওপর নেমে এসেছে পুরুষের ধারালো খড়গ। কারণ তুমি আরো পড়তে চেয়েছ, তোমার দায়িত্ব শেষ করতে চেয়েছ। আর এই চাওয়া তোমার স্বামীর মনে ‘স্বামীত্ব’ হারাবার ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। তুমি কি ভেবেছিলে, নীরবে সয়ে যাওয়া নয় বছরের প্রতিদান তোমার স্বামী তোমাকে দেবে? সে তোমার স্বপ্নকে সত্যি হতে বাধা দেবে না? তুমি নিশ্চয় ভাবোনি, ‘তোমার এই সয়ে যাওয়া’ তোমার স্বামীকে ইতোমধ্যে আরো দানব করে তুলেছে। সে তোমাকে নীরবে সইবার প্রতিদান দিয়েছে – চোখ দুটো উপড়ে নিয়ে। রুমানা, তুমি আমাদের ক্ষমা করো, তোমার জন্য, কোনো নারীর জন্যই আমরা অসহিংস সমাজ তৈরি করতে পারিনি এখনো। আজ অনেকেই দোষী হিসেবে তোমার দিকে আঙুল তুলছে – কেন তুমি সয়েছো? কেন তুমি এতোটা বাড়তে দিলে? অথচ তারা ভুলে যায় আমরাই শিখিয়েছি তোমাকে এভাবে সইতে। আমরাই এই দানবকে ক্ষমতা দিয়েছি, বলেছি, তুমি পুরুষ, তুমি স্বামী। স্ত্রীকে, নারীকে দখলে রাখবার জন্য তোমার যা খুশি তুমি করতে পার। যা খুশি করার তার হাতিয়ারগুলোকে আমরাই শাণিয়েছি, পাহারা দিয়ে রেখেছি, যাতে সময় গড়িয়ে গেলেও হাতিয়ারগুলো অক্ষত থাকে। আজ তোমার অন্ধত্বের দায় আমাদের নিতেই হবে। এই দায় যে আমাদের, সে সত্যকে আর নানা কথায় আড়াল করা যাবে না। নইলে আমাদের কোনো নারীরই মুক্তি নেই।

দুই.

নির্যাতনের শ্রেণী চরিত্র আছে। নিদেনপক্ষে আমরা তাই মনে করি। সকালে ছুটা বুয়ার শরীরে স্বামীর নির্যাতনের চিহ্ন দেখে আমরা অাঁৎকে উঠি। অভিসম্পাত করি পুরুষালিপনাকে। কিন্তু মধ্যবিত্ত শিক্ষিত নারীর জীবনের নির্যাতনগুলোকে প্রাইভেসির নাম দিয়ে আড়ালে রাখি। এটা শুধু প্রাইভেসির জন্যই নয়, বিয়ে সংসার নামের প্রতিষ্ঠানের ‘পবিত্রতা’ রক্ষার জন্যও এই নির্যাতনগুলো আমরা আড়াল করে রাখি। কেননা, ‘বস্তির মানুষ একটা ছেড়ে আরেকটা ধরে, শিক্ষিতরা তো তা করে না। মেয়েদের জীবনে বিয়ে একবারই হয়।’ তাই মধ্যবিত্ত নারীর জন্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় মনোগামিতার পতাকাকে বহন করবার। আর ‘টলারেন্স’ তো মেয়েরা বড় হতে হতে পরিবার থেকেই শেখে। কিন্তু কতোটা সইতে হবে? কতোটুকু সহ্য করলে সংসার টেকানো যায়? আর কতোটুকু মেনে নিলে আর তাকে নেগোসিয়েশন বলা যায় না, তা কি আমরা মেয়ে সন্তানকে শেখাই, নাকি শিখতে দেই? আজ এই সত্যকে মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে।

রুমানা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিন্তু সে এই সমাজেরই একজন। তার ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতাকে ‘আলাদা’ ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কেন এই ঘটনা ঘটলো এর behind the story উদঘাটন করার চেয়ে জরুরি কাজ হবে, এই নৃশংসতার ভেতর দিয়ে আমরা কোন বাস্তবতাকে দেখতে পাই, তা উদঘাটন করা, সেই সত্যকে সামনে টেনে আনা। এই সত্য হলো, পুরুষের সহিংসতা এমনি প্রবল তা রুমানা বা রহিমাকে একই চাকার তলে পিষ্ট করে। নারীর নিজ সত্তা, ইচ্ছা, মান, মর্যাদা, ইজ্জত সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আর আমরা এর পরও নারীকে দোষ দিয়ে বলতে থাকি, ‘মনে হয় কোথাও একটা কিন্তু আছে।’ আমরা বলতে ভয় পাই যে আমাদের এই পরিবার কাঠামো, নারীর আত্মপরিচয় গড়তে বাধা দেয়, নারীর জন্য পরিবেশকে সহিংস করে তোলে, আর নিরন্তনভাবে নারীর জন্য কন্ট্রাডিকশন তৈরি করে – ‘ওকে বাড়তে দেব কিন্তু মাথা তুলে দাঁড়াতে দেব না।’

কিন্তু নারী মাথা তুলে ঘুরে দাঁড়াতে জানে। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পথ সংকুল, একা চলার মতো নয়। কিন্তু সে পথে আমরা দীর্ঘদিন ধরে হাঁটছি।

তিন.

রুমানা, তোমার মেয়ের পোশাকের রং তুমি আর দেখবে কিনা জানি না। কিন্তু তুমি জেনো, তোমার অন্ধত্বকে আর তোমার মতো জানা-অজানা আরো নারীর বেদনাকে, আমরা আজ নিজের বলে নিলাম। এ আমাদের নিতেই হবে। নারীর জন্য সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের শৃঙ্খল ভাঙতেই হবে।

তোমার জন্য অফুরান ভালোবাসা।

[সাপ্তাহিক বুধবার, লেখক : শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।]

বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ব এড়াতে খুব পটু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন যদি সঠিকভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয় তাহলে এসব মৃত্যুরহস্য সহজেই উদ্ঘাটিত হতো।


পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের অন্য নাম বেওয়ারিশ লাশ

আহম্মদ ফয়েজ রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিদিনিই বাড়ছে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা। শুধু আঞ্জুমান মুফিদুলের হিসাব মতে, ২০০৯-এর জুলাই থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত খোদ রাজধানী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার বেওয়ারিশ লাশ। ২০০৪-এর জুলাই থেকে ২০০৫-এর জুন পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৬৫৬। আঞ্জুমানে মুফিদুলের উপ-পরিচালক (সার্ভিসেস) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেওয়ারি লাশের সংখ্যা এখন তুলনামূলকভাবে কম। এর কারণ হচ্ছে, আগে মানুষের কাছে কোনো প্রকার পরিচয়পত্র থাকতো না। এখন বেশিরভাগ মানুষের কাছেই জাতীয় অথবা কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র থাকে। তবে এখন যেসব বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায় এর বেশিরভাগই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের পর মৃতদেহের ওয়ারিশ না থাকায় তা বেওয়ারিশ হয়ে যাচ্ছে। পার পেয়ে যাচ্ছে ঘাতকরা। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কোনো লাশই বেওয়ারিশ নয়। তাদের মতে, লাশের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পুলিশের অবহেলার কারণে এত বেশি লাশ বেওয়ারিশ হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ হওয়া লোকজনকে উদ্ধারের ব্যাপারে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়লে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা কমবে।

পুলিশের যেন নেই কোনো দায়িত্ব : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয় এসব লাশ সম্পর্কে সঠিক খোঁজখবরও কেউ রাখছে না। এসব মানুষের লাশ পাওয়ার পর স্থানীয় থানা পুলিশ কিছুদিন বিবরণসহ সুরতহাল রিপোর্ট সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে তাদের আর কোনো হদিস থাকে না। এক সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দফতরে অজ্ঞাত লাশের ছবিসহ বিবরণ সংরক্ষণ করা হতো; কিন্তু এখন আর সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে কত অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যাচ্ছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পুলিশের খাতায়ও পাওয়া যাচ্ছে না। মহানগরীর বিভিন্ন থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার এবং হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তিনদিন সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে; কিন্তু অতিরিক্ত লাশের চাপ এবং সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সাধারণত এক থেকে দুই দিনের বেশি লাশ রাখা হয় না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের লাশকাটা ঘরে দায়িত্বপালনরত একজন ডাক্তার নাম প্রকাশ না করে বলেন, পুলিশ তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময় লাশ মর্গে নিয়ে এসে কোনো রকমে একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেই লাশটিকে বেওয়ারিশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ফেলে। এ কারণে অনেক লাশ তাদের আত্মীয়-স্বজনরা জানার আগেই দাফন হয়ে যায়।

রাজধানীতে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে এমন একমাত্র প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বাহার জানান, অভিভাবক না থাকায় এসব ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্তের যথেষ্ট অভাব আছে। পুলিশ কখনো কখনো লাশের পরিচয় জানার চেষ্টা না করেই অজ্ঞাত লাশ বলে আঞ্জুমান মুফিদুলে দিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি মৃত্যুর কারণ ও এগুলোর খুনিদের চিহ্নিত করে যদি শাস্তি দেওয়া যেত তাহলে হয়তো অজ্ঞাত খুনের সংখ্যা কমানো যেত। বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ব এড়াতে খুব পটু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন যদি সঠিকভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয় তাহলে এসব মৃত্যুরহস্য সহজেই উদ্ঘাটিত হতো।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সারাদেশেই এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের নিস্পৃহতার কারণেই এসব লাশের পরিচয় মিলছে না। বেওয়ারিশ লাশ শনাক্তকরণে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং মোবাইল অপারেটররা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। বেওয়ারিশ লাশের ছবি মিডিয়ায় প্রকাশ হলে অথবা মোবাইল অপারেটররা এসএমএসের মাধ্যমে মৃতদেহের বর্ণনা তাদের গ্রাহকদের সরবরাহ করলে সহজেই তা শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে প্রশাসন অজ্ঞাত লাশের পরিচয় বের করতে চায় না। তাছাড়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তো আছেই। এগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় নিহতরা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার। প্রশাসন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পুলিশ এসব মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করতে চায় না।
ঢাকা মেডিকেলের তথ্য : ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সভাপতি ও বিভাগীয় প্রধান মিজানুল হক জানান, খুন ও অপমৃত্যুর পরিসংখ্যান তাদের কাছে রয়েছে। তবে তা সবাইকে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিককে আমরা তথ্য দেই না। এসব তথ্য প্রকাশ হলে জনমনে আশঙ্কা বাড়তে পারে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে একটি গোপন সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে মোট ৪৫৩টি অজ্ঞাত লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৩ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলা, ফেব্রুয়ারিতে ৪১ জন পুরুষ ও ৯ জন মহিলা, মার্চে ৩৭ জন পুরুষ ও ৬ জন মহিলা, এপ্রিলে ৬ জন মহিলা ও ৩৬ জন পুরুষ, মে’তে ১৪ জন মহিলা ও ৪৬ জন পুরুষ, জুনে ১১ জন মহিলা ও ৪৯ জন পুরুষ, জুলাইয়ে ৫ জন মহিলা ও ৩৩ জন পুরুষ, আগস্টে ১২ জন মহিলা ও ৩৭ জন পুরুষ, সেপ্টেম্বরে ৫৩ জনের মধ্যে ১৫ জন মহিলা ও ৩৮ জন পুরুষ এবং ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ জন মহিলা ও ১৬ জন অজ্ঞাত পুরুষের লাশ ময়নাতদন্ত করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগ। এছাড়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে জানুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৭৮টি অজ্ঞাত লাশের ময়নাতদন্ত করেছে।

হত্যাকান্ডের লাশ বেওয়ারিশ এবং অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে : পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার কারণেও লাশের পরিচয় পাওয়া যায় না। এর কারণে খুনি বা অপরাধী চক্র সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। উত্তরা জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বাড্ডা এবং উত্তরখান থেকে উদ্ধার করা টুকরো লাশের পরিচয় না পাওয়ার কারণে এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। খুনিদের সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তেজগাঁও জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি ১৪ মাস পর পরিকল্পিত হত্যার শিকার ২ তরুণীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাদের ঘাতকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। কারওয়ানবাজার এলাকার একটি ড্রেন থেকে এ দুই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ দুই তরুণী দীর্ঘ ১৪ মাস তাদের পরিবারের কাছে নিখোঁজ হিসেবে ছিল। সংশ্লিষ্ট থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়রিও করা হয়েছিল। অথচ সংশ্লিষ্ট থানা থেকে তাদের ছবি দেশের বিভিন্ন থানায় পাঠানো হলে ঘটনার পরপরই তরুণীদের পরিচয় পাওয়া যেত। পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকারীদেরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতো।

মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য : মানবাধিকারকর্মী ও হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, এখন যারা অপরাধ সংঘটিত করে তারা বেশ ভালো করেই জানে আইনকে কিভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়। আর এসব জেনে বুঝে তারা কাউকে খুন করার পর লাশটিকে এমন অবস্থা করে ফেলে যে সেটা আর সহজে চেনা যায় না। অনেক সময় দেখা যায় ইচ্ছা করে পুলিশ অনেক কারণেই একটি লাশকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে চালিয়ে দেয়। তা ছাড়া সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে পরিকল্পিত হত্যার শিকার অনেককে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হচ্ছে। এসব হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু থাকে না এবং প্রশাসনও এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে না। এ কারণে অপরাধীরা খুব সহজেই পার পেয়ে যায়।

বেওয়ারিশ লাশের হিসাব : রাজধানীতে বেওয়ারিশ লাশের মিছিল দিনে দিনে বড় হলেও এর কতটি খুন, কতটি সড়ক দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক মৃত্যু তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসন, এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে বেওয়ারিশ লাশগুলো কিভাবে খুন হয় এর কোনো নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। আঞ্জুমানে মুফিদুলের তথ্য মতে, ২০০৪-এর জুলাই থেকে ২০০৫-এর জুন পর্যন্ত বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা এক হাজার ৬৫৬টি, ২০০৫-এর জুলাই থেকে ২০০৬-এর জুন পর্যন্ত দুই হাজার ৪৯টি, ২০০৬-এর জুলাই থেকে ২০০৭-এর জুন পর্যন্ত দুই হাজার ২০৩টি, ২০০৭-এর জুলাই থেকে ২০০৮-এর জুন পর্যন্ত দুই হাজার ১১৯টি, ২০০৮-এর জুলাই থেকে ২০০৯-এর জুন পর্যন্ত এক হাজার ৭১৪টি এবং ২০০৯-এর জুলাই থেকে ২০১০-এর অক্টোবর পর্যন্ত এক হাজার ৯২২টি। [ আহম্মদ ফয়েজ ● সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

সরকার জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারছে না। সময়মতো পাঠ্যবই নেই, ভোজ্যতেল হাওয়া, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন, জনশক্তি রফতানিতে ধস, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে, পোশাক শিল্পে আগুন জ্বলছে, পাটগুদাম পুড়ছে, শেয়ারবাজার নিয়ে চলছে জুয়াখেলা।


রাজনৈতিক সংস্কৃতি পালটে দেয়া ঠিক হচ্ছে না

মাসুদ মজুমদারঃ রাজনীতিতে অনৈতিকতার প্রভাব বাড়ছে। প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার প্রবণতাও প্রবল। ক্ষমতার রাজনীতিতে স্বার্থের বোঝাপড়াও বেড়ে গেছে। ক্ষমতার স্বার্থে যেকোনো অনিয়ম করতেও সরকার এখন প্রস্তুত। এ লক্ষ্যে মিথ্যাচারও বৈধ হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধ ইসুকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হাতিয়ার বানানো হয়েছে। এটা যেনো প্রতিপক্ষ দলন ও দমানোর মোক্ষম হাতিয়ার। স্পর্শকাতর এ ইসুকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা বলেছে।

১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করেনি­ এমন মানুষ বাংলাদেশে নেই। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়ার পর সরকার কার্যত ভড়কে যায়। কারণ আওয়ামী লীগ এ প্যান্ডোরার বাক্স নিয়ন্ত্রণহীনভাবে খুলতে চায়নি। আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে পরিচ্ছন্নভাবে নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যুদ্ধাপরাধ ইসুটি সামনে আনতে হলে সরকারের অতীত ভূমিকা বিতর্কিত হয়ে পড়বে। এমনকি বঙ্গবন্ধুও অভিযুক্ত হয়ে যান। জড়িয়ে যায় ভারত। পাকিস্তান তো জড়াবেই। আওয়ামী লীগ এত জটাজালে আটকে যেতে চায় না। কার্যত সরকার আন্তরিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। চায় এই ইসুকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে। রাজনৈতিক মেরুকরণে ইসলামপন্থীরা জাতীয়তাবাদী শক্তির মিত্র। অপর দিকে ক্ষমতার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ বিএনপি। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার মতো ধারালো অস্ত্র আওয়ামী লীগের হাতে নেই। জিয়া ইমেজ এখনো ইতিবাচক। তাই আওয়ামী লীগ জিয়া ইমেজের রশি ধরে টান দিতে চেয়েছে। জিয়াকে নিয়ে বিতর্কের আসল মাজেজা মৃত জিয়াও শক্তিমান। বিএনপি’র রাজনীতিতে ধস নামাতে হলে জিয়া ইমেজ ফুটো করে দেয়া জরুরি। অনেক ভুলভ্রান্তি নিয়েই বিএনপি জোট সরকার পরিচালনা করেছে, কিন্তু জাতীয় ইসুতে ও জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টিতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করেনি। প্রতিপক্ষ দমনেও হ্যাটট্রিক করেনি। ফলে ক্ষমতাসীন একটি দল অতীত ক্ষমতা চর্চাকারী অপর একটি দলকে শুধু সাফল্য-ব্যর্থতার নজির টেনেই সমালোচনা ও নিন্দা করতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান ব্যর্থতার তলানিতে পৌঁছে যাওয়ার কারণে সরকারকে অন্য ইসুতে মনোযোগী হতে হয়েছে। সেই ইসুটি যুদ্ধাপরাধ ইসু। মিত্ররা আক্রান্ত কিংবা অভিযুক্ত হলে অপর মিত্র বিব্রত হওয়া স্বাভাবিক। জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারে বিএনপি বিব্রত হয়েছে। সরকার এটাই চেয়েছিল। কারণ এই একটি মাত্র ইসুতে জামায়াত বিব্রতবোধ কাটাতে পারে না। এই ইসুটিকেই সরকার বিরোধী দলকে কাবু করার পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করেছে। দেশী-বিদেশী মিত্রদেরও এই ইসুতে কাছে পাওয়ার ভরসা পেয়েছে। অস্তিত্বের স্বার্থে বর্তমান সরকারের সাথে আছে তাবৎ বামপন্থী। আরো সাথে আছে সাংস্কৃতিক কর্মী পরিচয়ে বামপন্থী ও সেকুলার নামে ধর্মবিদ্বেষী একটি গোষ্ঠী। এরা ধর্মপন্থীদের আদর্শিক শত্রু বিবেচনা করাকে একধরনের প্রগতিশীল ভাবনা মনে করে। তাই বামপন্থীদের আদর্শিক শত্রু এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শত্রু কমন শত্রুতে পরিণত হয়েছে। ভারত তার ইমেজ বৃদ্ধি ও স্বার্থ উদ্ধারে নানামুখী প্রভাব বলয় সৃষ্টি করার জন্য সচেষ্ট। ঐতিহাসিক কারণে ভারত বাংলাদেশের চীনঘেঁষা বামপন্থী, জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ইসলামপন্থীদের তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিবন্ধক মনে করে। অপর দিকে পশ্চিমা ঘোলা চশমায় ইসলামপন্থী, জাতীয়তাবাদী শক্তি মানে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের প্রতি সহমর্মী। পশ্চিমা শক্তির ধারণা এরা একই সাথে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণাকেও কম পছন্দ করে। তাই পশ্চিমা শক্তি অন্তত কয়েকটি ইসু ভাবনায় জাতীয়তাবাদী-ইসলামি মূল্যবোধ লালনকারীদের তুলনায় সেকুলার ও বামপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। সমর্থন জোগায়। তা ছাড়া সাম্রাজ্যবাদী চিন্তার বীজ বপনের জন্য সেকুলার ও বামপন্থীদের মগজ এখন উর্বর। বামপন্থীদের সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদবিরোধী অবস্থান আজকাল একধরনের ফ্যাশন। যেকোনো জাতীয় স্বার্থবিরোধী সন্ধি-চুক্তিতে এদের ব্যবহার করা সহজ। ক্ষমতার টোপ দিয়ে কেনাকাটাও কঠিন নয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার সমস্যার জট পাকিয়ে ফেললেও এ কারণেই ভারত ও পশ্চিমা শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা পায়। একধরনের মন্দের ভালো বিবেচনায় মার্কিন লবির একটি অংশও বর্তমান সরকারকে তাদের স্বার্থানুকূল ভাবে। যদিও মার্কিন নীতি এককভাবে দলবিশেষ ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতি ঝুঁকে থাকার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। মার্কিন লবি হয়তো চাইবে না ভারত বাংলাদেশকে একক বাজার ও পশ্চাৎভূমি হিসেবে ব্যবহার করুক। কারণ তেল, গ্যাস, বন্দরসহ ভূরাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানের কারণে মার্কিন স্বার্থ সব ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থের সমান্তরাল হয় না।

আগেই বলেছি, আওয়ামী লীগ প্রকৃত অর্থে যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে যে ঢোল সহরত করছে সেটাও এক ধরনের রাজনৈতিক তামাশা। এ তামাশাও দেখাতে চায় খণ্ডিতভাবে। বাস্তবে সরকার প্রতীকী অর্থে বিচার নামের প্রহসনের ওপর ভর করে একই তীরে দুটো অর্জন নিশ্চিত করতে চায়। প্রথমত, তারা চায় প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে অকার্যকর প্রতিরোধহীন শক্তি হিসেবে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে রাখতে। একই সাথে আশা করে একই তীর ছুড়ে বিএনপিকে বন্ধুহীন করে রাখতে। দ্বিতীয়ত, জামায়াতকে কোণঠাসা ও কাবু করে রাখার জন্য এত সস্তা দাওয়াই আর নেই। এটা প্রয়োগ করে ভারত ও পশ্চিমা মিত্রদেরও বোঝানো সহজ যে, মহাজোট সরকার জঙ্গিবাদ-মৌলবাদবিরোধী এবং মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ সমর্থকদের দমন-পীড়নে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রশ্নে আওয়ামী লীগের নৈতিক অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। তারা আশা করেছিল বিএনপি শুরুতেই কঠোর অবস্থান নেবে। তাতে বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর বলে প্রচারণা চালানো সহজ হবে। বিএনপি’র দুর্বল অবস্থান সরকারকে অতি উৎসাহী করে তোলে। তারা আশা করে আখ খাওয়ার গল্পের মতো জামায়াতকে কোণঠাসা করে পরে বিএনপিকে দুর্বল করা সহজ হবে। যদিও একধরনের ইনার কন্ট্রাডিকশন নিয়ে আওয়ামী লীগ পথ চলছে। সিদ্ধান্তহীনতাও তাদের ঘিরে ধরে আছে। রাজনৈতিক তামাশা প্রদর্শন করতে গিয়ে যত পথ চলছে সামনে ভুলের মাশুলগুলো পথ রোধ করে দাঁড়াচ্ছে। জনগণের আবেগ কাটছে। সমর্থকদের মনোবল দুর্বল হচ্ছে।

সরকার যে মানবতাবিরোধী অপরাধের ইসুতে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে তার সর্বশেষ প্রমাণ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গ্রেফতার নাটক। তাকে গ্রেফতার করা হলো মগবাজারে গাড়ি পোড়ানোর মামলায়, যা শুধু অবিশ্বাস্য নয়, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ভোঁতা। নাবালক শিশুও বোঝে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পুলিশি সিদ্ধান্তে গ্রেফতার করা হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনা ছাড়া এ গ্রেফতার অসম্ভব। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের নৈতিক অবস্থান স্বচ্ছ হলে তাকে প্রথমেই কথিত যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হলো না কেন? বিএনপি প্রথমে এই ইসুটিকে অত্যন্ত হালকাভাবে গ্রহণ করেছে। জামায়াতও ভেবেছে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াতের শীতল প্রতিক্রিয়ায় উৎসাহবোধ করেছে। এ উৎসাহের প্রথম কারণ, তারা লক্ষ করেছে জামায়াতকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া সম্ভব হয়েছে। বিএনপিকেও বন্ধুহীন করার ফন্দি কাজ দিয়েছে। বিরোধী দল মাঠ ছেড়েছে। কেউ নয়াপল্টন, কেউ মগবাজারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ উৎসাহ আরো উচ্চাভিলাষের জন্ম দিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, এ উচ্চাভিলাষ ও বিরোধী দলকে অবমূল্যায়ন জনগণের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি।

সাধারণ মানুষ বলাবলি করছে দরাজ গলায় ‘আমরা ক্ষমা করতে জানি’ বলে চিহ্নিত ১৯৫ জনকে ভারতের সাহায্যে জামাই আদরে বিদায় করে দিয়ে সরকার এত বছর পর নিজ দেশের মানুষদের নিয়ে টানাহেঁচড়া করছে কেন? অপরাধী যেই হোক তার বিচার হওয়া কাম্য। কিন্তু মূল অপরাধী ছাড়া পাবে, তাদের সহযোগী শাস্তি পাবে, আইন-বিচার, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার কোথাও এর সমর্থন পাওয়া যাবে না। কোথাও এমন নজিরও নেই।

অনেকের মনে প্রশ্ন, সরকার যুদ্ধাপরাধ ইসু কদ্দূর টেনে নিয়ে যাবে। আসলে ইসুটি রাজনৈতিক। এর আইনি পরিসমাপ্তি সম্ভব নয়। এর জের টানা এত সহজ হলে বঙ্গবন্ধুকে ভিন্ন ভূমিকায় দেখা যেত। এখন বিএনপি-জামায়াত জোট ইসুটিকে নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে সরকার এগোতেই থাকবে। একটা প্রহসনের বিচার মহড়ায় কিছু চিহ্নিত প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার সব সুযোগ গ্রহণ করবে। কারণ অসৎ ভাবনা­ অনৈতিক কাজ ও প্রতিহিংসার শেষ থাকে না। যদিও সামগ্রিক ইসুটিকে সরকার বিতর্কিত করে লেজেগোবরে অবস্থায় নিয়ে গেছে।

সাকা চৌধুরীকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার প্রশ্ন নয়। তাকে খাতির-আত্তি করার বিষয়ও নয়। কিন্তু তাকে যে প্রক্রিয়ায় আগের কয়েকটি প্রশ্নবিদ্ধ গ্রেফতার রীতি অনুসরণ করে আটক করা হলো, তা কিন্তু খারাপ নজির হয়ে রইল। নির্যাতনের উপমাও মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এ সরকার একমাত্র সরকার নয়। শেষ সরকারও নয়। দেশজাতির সামনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে উপমা সৃষ্টি করে রাখা হলো তা যে বারুদে হাত রাখার শামিল হবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে। পরবর্তী সরকারগুলোর জন্য এ নজির ও উপমা অপকর্ম বৈধতা দেয়ার সনদ হয়ে থাকবে। এ খোঁড়া গর্ত বা কবরে বর্তমান শাসকরা পড়বেন না সেই নিশ্চয়তাই বা কোথায় পাওয়া যাবে। তা ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি পালটে দেয়ার প্রকৃতিগত প্রতিক্রিয়া রোধ করা কিভাবে সম্ভব হবে।

নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদলের পরও আমরা সংযমহীন বাড়াবাড়ি দেখেছি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের গায়ে পুলিশ হাত তুলেছে­ এমন দৃশ্য স্বচক্ষে দেখেছি। মান্নান সাহেবকে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে গোলাপ শাহ মাজারের কাছে, হরতালের সমর্থনে পিকেটিংয়ের সময়। মতিন চৌধুরীকে পুলিশ হামলে পড়ে অপদস্থ করেছে মৌচাকে। নাসিম সাহেবের ওপর পুলিশের হামলার দৃশ্য তো মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। বাবর সাহেবকে নিয়ে কী করা হচ্ছে তার কথা না তোলাই ভালো। তাই সহজেই উচ্চারণ করা যায় এককাল শাশুড়ির, আর এককাল বউয়ের। তা ছাড়া এক মাঘে শীত না যাওয়ার গল্প কে না জানে। তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করার জন্য যখন যারা দায়ী তারা সবাই নিন্দনীয় কাজ করেছেন।

আমরা অনুশীলিত রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি নিয়ে শঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত (।) একই সাথে বিব্রতও। আমরা সহজ কথায় যে সত্যটি বুঝি, ভিন্ন মত না থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। বিরোধী দল নাই হয়ে গেলে সরকারও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় টিকে থাকতে পারবে না। ভিন্ন মত ও বিরোধী দল সহ্য না করার প্রেক্ষাপটে যে অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়েছে, তার ষোলো আনা দায়ভার নিতে হবে সরকারকে। তাই ক্ষমতার জোরে পুলিশকে বেপরোয়া বানিয়ে দেয়া কিংবা আইনের ঊর্ধ্বে এলিট ফোর্সকে রক্ষীবাহিনী চরিত্রে নিয়ে যাওয়ার কোনো কুমতলব না থাকাই ভালো।

সরকার জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারছে না। সময়মতো পাঠ্যবই নেই, ভোজ্যতেল হাওয়া, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন, জনশক্তি রফতানিতে ধস, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে, পোশাক শিল্পে আগুন জ্বলছে, পাটগুদাম পুড়ছে, শেয়ারবাজার নিয়ে চলছে জুয়াখেলা। এর মাধ্যমে অতীতের অনেক ভয়াবহ ও ভীতিজনক স্মৃতির কথা মনে পড়ে। তাই জনগণের হৃৎস্পন্দন বোঝার দায় বাড়ছে। এ দায় পূরণে ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। ব্যর্থ হলে পাদুয়া দৃষ্টান্ত হবে। সরকার বিএসএফ নিয়ে রা করেনি। মিডিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ দেখেও না দেখার ভান করেছে। এটা যেনো ছিল বন্ধুত্বের সহনীয় ‘উৎপাত’। জনগণ অপেক্ষা করেনি। দল ও মতনিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে ভারতীয় আগ্রাসন ঠেকিয়ে দিয়েছে। জনগণের এ সম্মিলিত শক্তিকে সমীহ না করলে বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করার ফলাফল কোনো দিনই ভালো হওয়ার কথা নয়।

%d bloggers like this: