উত্তম কুমারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ২৪ জুলাই


আজ বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮০ সালের এই দিনে সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমান এই মহানায়ক। নিজের অভিনয়, মেধা ও যোগ্যতাবলে জীবদ্দশায় উত্তম কুমার নিজেকে অন্যরকম এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তার অভিনীত ছবির বেশির ভাগই ছিল দর্শকনন্দিত। বিশেষ করে তার ও সুচিত্রা সেনের জুটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে দর্শক হৃদয়ে।

বাংলা চলচ্চিত্রের অনেক দিন পার হয়ে গেলেও এ জুটির জনপ্রিয়তাকে এতটুকু স্পর্শ করতে পারেনি অন্য কোন জুটি। ১৯২৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বৃটিশ ভারতের কলকাতার আহরিটোলা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। সে সময় তার নাম রাখা হয়েছিল অরুণ কুমার চ্যাটার্জি। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে পা রেখে বনে যান উত্তম কুমার।

নীতিন বোস পরিচালিত ‘দৃষ্টিদান’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এ কালজয়ী অভিনেতার। এ ছবির মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি, যার ফলে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর একাধিক ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। পরবর্তীতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবিতে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি গড়ে অভিনয় শুরু করেন উত্তম কুমার। ছবিটি ছিল নন্দিত ও ব্যবসা সফল। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এ জুটি ৩০টি ছবিতে কাজ করেন।

এ ছবিগুলোর বেশির ভাগই ছিল ব্যবসা সফল। সুচিত্রা সেন ছাড়াও সেই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুপ্রিয়া চৌধুরী, সাবিত্রী চ্যাটার্জি, মাধবী মুখার্জি, শর্মিলী ঠাকুর, অঞ্জনা ভৌমিক, অপর্ণা সেন ও সুমিত্রা মুখার্জির সঙ্গে জুটি বেঁধেও ব্যাপক সফলতা পান উত্তম। বাংলা ছবিতে যখন সর্বোচ্চ তারকা খ্যাতিতে অবস্থান করছিলেন উত্তম কুমার তখন তার ডাক আসে হিন্দি চলচ্চিত্র থেকেও। তার অভিনীত হিন্দি ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ছোটি সি মূলকাত, অমানুষ, আনন্দ আশ্রম, দরিয়া প্রভৃতি।

এদিকে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে প্রায় ২০৯টি ছবিতে অভিনয় করেছেন উত্তম কুমার। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল দর্শকনন্দিত ও ব্যবসা সফল। তার উল্লেখযোগ্য বাংলা ছবির মধ্যে রয়েছে সাড়ে চুয়াত্তর, দৃষ্টিদান, সাগরিকা, শিল্পী, হারানো সুর, ইন্দ্রানী, সবার উপরে, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, মায়ামৃগ, থানা থেকে আসছি, কুহক, এন্থনি ফিরেঙ্গি, অপরিচিতা, নায়ক, চিড়িয়াখানা, ধনি মেয়ে, জীবন-মৃত্যু প্রভৃতি। এসব ছবির মাধ্যমে নিজেকে বাংলা চলচ্চিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন উত্তম কুমার। যার ফলে ভক্ত-দর্শক তাকে মহানায়ক উপাধিতে ভূষিত করেন। অসাধারণ অভিনয়ের জন্য একাধিকবার সেরা নায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

এছাড়াও পেয়েছেন দেশ বিদেশের অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা। অভিনয় ছাড়াও পরবর্তীতে প্রযোজক, পরিচালক, সংগীত পরিচালক ও গায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন উত্তম কুমার। ব্যক্তিগত জীবনে গৌরী চ্যাটার্জিকে বিয়ে করেছিলেন উত্তম কুমার। গৌতম চ্যাটার্জি নামে তার এক ছেলে রয়েছে। ১৯৮০ সালের ২৪শে জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান মহানায়ক উত্তম কুমার। মৃত্যুর এতো বছর পার হয়ে গেলেও বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তার কাছাকাছিও এখন পর্যন্ত কেউ যেতে পারেনি।

মহানায়ক সম্মান প্রত্যাখ্যান তিন অভিনেতার
কলকাতা প্রতিনিধি: মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুদিনে আজ পশ্চিমবঙ্গ সরকার মহানায়কের নামে পুরস্কার দিচ্ছে। তিনটি বিভাগে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আজীবন সম্মাননা, মহানায়ক সম্মান ও চলচ্চিত্র পুরস্কার। এসব পুরস্কারের সঙ্গে স্মারক ও আর্থিক মূল্যও দেয়া হচ্ছে। বিশেষ সম্মানও দেয়া হচ্ছে এবার।

এই সম্মান এবার পাবেন প্রবীণ অভিনেতা চিন্ময় রায় ও পার্থ মুখোপাধ্যায়। তবে পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বাম ঘনিষ্ঠ এবং সরকারের সমালোচক অভিনেতা ও শিল্পীরা। বাদ পড়েছেন সব্যসাচী চক্রবর্ত্রী ও কৌশিক সেনের মতো অভিনেতারা। তবে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ও পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। এই তিনজনই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। রাজ্য সরকারের দেয়া বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

তিনি এ পুরস্কারকে বোগাস বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। মহানায়কের মৃত্যু দিনে গোটা টলিউডকে একমঞ্চে শামিল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর তাই পুরস্কারও দেয়া হচ্ছে অসংখ্য অভিনেতা ও শিল্পীকে। এমনকি এ বছর প্রযোজক সংস্থাকেও পুরস্কৃত করা হবে। এবারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে অরোরা ফিল্ম, শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস, নিউ থিয়েটার্স ও আর পি বনশন এন্ড কোংকে। সারা জীবনের স্বীকৃতি দেয়া হবে মাধবী মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, দীপঙ্কর দে, রঞ্জিৎ মল্লিক ও পরিচালক গৌতম ঘোষকে। মহানায়ক পুরস্কার পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পাল প্রমুখ। আর চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবেন দেব, জিৎ, কোয়েল, শ্রাবন্তী, শুভশ্রী, রাইমা, স্বস্তিকা থেকে পরম, শ্বস্তত, মমতাশঙ্কর, রচনাসহ প্রায় সবাই।