মধ্যবিত্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা লিভ টুগেদারে আগ্রহী হয়ে উঠছে!


ঢাকায় লিভ টুগেদার বাড়ছে। মধ্যবিত্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা লিভ টুগেদারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ কারণে বাড়ছে খুনের মতো অপরাধও। গ্রাম থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থীও ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে লিভ টুগেদার করছে অনেকে।

সমাজবিজ্ঞানীরাও স্বীকার করছেন পাশ্চাত্য দুনিয়ার ওই ধারণা অনেকটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকায়। এ রকম এক জুটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একই বিভাগে, একই ক্লাসে পড়তেন। গভীর বন্ধুত্ব তখন থেকেই। দু’জনই মেধাবী। রেজাল্টও ভাল। বন্ধুটি এখন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বান্ধবী পিএইচডি করছেন, এখনও শেষ হয়নি। থাকছেন বনানী এলাকার একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটটিও নিজেদের। লিভ টুগেদার করছেন। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিয়ে করবেন না। দু’জনই চেষ্টা করছেন ইউরোপের একটি দেশে যেতে। বিত্তবান ঘরের সন্তান তারা।

বন্ধুটির বাড়ি ছিল ফেনীতে, বান্ধবীর ঢাকায়। শাহানা তার নতুন নাম। এ নামে কেবল জর্জই তাকে চেনে। জর্জকে ওই নামে অন্য কেউ চেনে না। এটা শাহানার দেয়া নাম। একে অপরকে দেয়া নতুন নামেই তাদের বাড়ি ভাড়া নেয়া উত্তরা এলাকায়। চাকরিজীবী দু’জনই। এক সময়ে চাকরি করতেন এই সংস্থায়। সেখান থেকে পরিচয় ঘনিষ্ঠতা। এখন তারা চাকরি করছেন পৃথক দু’টি বৈদেশিক সাহায্য সংস্থায়। উচ্চ বেতনে চাকরি। অফিসের গাড়ি। শাহানা ইংরেজি সাহিত্যে এমএ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জর্জ পড়াশোনা করেছেন ভারতের নৈনিতালে, বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। বছর পাঁচেক আগে ঢাকায় ফিরে চাকরি নিয়েছেন। লিভ টুগেদার করছেন। বিয়ের প্রতি আগ্রহ নেই তাদের। শাহানা ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাতে চান। সেখানে তার পরিবারের বেশির ভাগ লোক বসবাস করছে। শাহানার চিন্তা বিয়ে মানেই একটি সংসার, ছেলেমেয়ে, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি। এখনই এগুলোর কথা ভাবতে গেলে তার ক্যারিয়ার হোঁচট খাবে, বিদেশে যাওয়া না-ও হতে পারে। এ কথাগুলো সে খুলে বলেছে জর্জকে। জর্জ রাজি হওয়ায় এক সঙ্গে থাকছেন তারা চার বছর ধরে। খাওয়া-দাওয়ার খরচ দু’জনে মিলে বহন করেন। সব কিছুই হয় দু’জনে শেয়ার করে। মনোমালিন্য হয় না তা নয়, হয় আবার তা মিটেও যায়। এভাবেই চলছে চার বছর ধরে।

একটি মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছেন তারা। বসবাস করছেন ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটে। ছেলেমেয়ে দুজনই ধনাঢ্য পরিবারের। দু’বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন। পড়শিরা জানে, স্বামী-স্ত্রী। অন্যদের সঙ্গে সেভাবেই নিজেদের পরিচয় দেন। যশোরের একটি গ্রাম থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছেন ওরা। পরিচয় তাদের স্কুল থেকে। ঢাকায় এসে প্রথম দু’বছর দু’জন থাকতেন আলাদা বাড়ি ভাড়া করে। এখন দু’জন মিলে থাকছেন একই বাসায়। ভাড়া দেন দু’জনে শেয়ার করে। গত এক বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। ঢাকার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজগুলোর ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এমনকি সাধারণ কর্মচারীরা পর্যন্ত লিভ টুগেদার করছে। শোবিজে লিভ টুগেদার এখন সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। জাতীয় ভাবে পরিচিত শোবিজের অনেক স্টার এখন লিভ টুগেদার করছেন। দেশব্যাপী পরিচিত দু’জন নৃত্যশিল্পীর লিভ টুগেদারের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট শোবিজে। একজন পরিচিত কণ্ঠশিল্পী গত পাঁচ বছর ধরে লিভ টুগেদারের পর আপাত বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এখন থাকছেন আলাদা। শোবিজের নাট্যাঙ্গনের চার জোড়া নতুন মুখ লিভ টুগেদার করছেন বছরখানেক ধরে। তাদের পরিচিত ও নিকটজনরা জানেন তাদের লিভ টুগেদার সম্পর্কে। নিজেদের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তারা কেউ আপাতত বিয়ের কথা ভাবছেন না। শোবিজে ছেলেমেয়ে উভয়ের উচ্চাসনে যাওয়ার পথে বিয়েকে একটি বড় বাধা মনে করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত দুই তিন বছরের মধ্যে ঢাকায় লিভ টুগেদারেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে লিভ টুগেদারের বেশির ভাগ ছিল সমাজের উচ্চ স্তরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে। এখন লিভ টুগেদারের প্রবণতা বেড়েছে মধ্যবিত্ত সমাজে। সদ্য গ্রাম থেকে এসে ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ছেলেমেয়েরা লিভ টুগেদার করছে। কেবলমাত্র পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে কিন্তু তাদের কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি এমন অনেক মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা ঢাকায় লিভ টুগেদার করছে।

ঢাকার একটি নামকরা মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে বলেন, তার জানা মতে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম করে হলেও এক শ’ জোড়া ছেলেমেয়ে লিভ টুগেদার করছে। বিষয়টি তাদের কাছে ওপেন সিক্রেট হলেও কেউ কাউকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে না। ওই শিক্ষার্থী লিভ টুগেদারকে খারাপ কিছু মনে করেন না। তার ভাষায় দু’জনের মতের মিলেই তারা লিভ টুগেদার করে। এখানে অপরাধ কিছু নেই। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা লিভ টুগেদার করছেন। তাদের লিভ টুগেদারের কথা জানে তাদের অনেক ছাত্রও। ওই শিক্ষকদের একজন তার এক নিকটজনের কাছে বলেছেন, লিভ টুগেদারকে তিনি বরং গর্বের বিষয় মনে করেন।
ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন, বর্তমানে বসবাস করছেন গুলশান এলাকায়। চাকরি করেন একটি বিদেশী সাহায্য সংস্থায়। এর আগে তার কর্মস্থল ছিল পাপুয়া নিউগিনিতে। তিন বছর ধরে ঢাকায় আছেন। লিভ টুগেদার করছেন তারই এক সহকর্মী নারীর সঙ্গে। ওই ভদ্রলোক এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা দু’জনই বাংলাদেশী। তবে আমাদের কর্মক্ষেত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে পোস্টিং হয়। এখন বাংলাদেশে আছি, এক বছর পর অন্য কোথাও যেতে হতে পারে। সে কারণে আমরা দু’জনই ঠিক করেছি লিভ টুগেদার করতে।

তাছাড়া, লিভ টুগেদারের ধারণা খারাপ নয়, আমরা কেউ কারও বোঝা নই, আইনি বন্ধনও নেই। কারও ভাল না লাগলে তিনি এক সঙ্গে না-ও থাকতে পারেন। এতে কোন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে এ প্রবণতার কিছু কারণ জানা গেছে। তাদের মতে, যে সব মেয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করে, নিজেদেরকে ইউরোপ-আমেরিকা বা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা এখনই বিয়ে করে ছেলেমেয়ের ভার নিতে চায় না। সংসারের ঘানি টানতে চায় না। ওই সব মেয়ে নিজেদেরকে বিবাহিত বলে পরিচয় দিলে তাদের ক্যারিয়ার গড়তে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করে। এমন অনেক ছেলেও আছে যারা ওই সব মেয়ের মতো ধারণা পোষণ করে না তারা কেবলমাত্র জৈবিক কারণে লিভ টুগেদার করছে। অর্থবিত্তে বা চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত এমন অনেকে লিভ টুগেদার করছে কেবলমাত্র সমাজে তার একজন সঙ্গীকে দেখানোর জন্য, নিজের একাকিত্ব ও জৈবিক তাড়নায়। অনেকে বিয়ের প্রতি প্রচণ্ড রকম অনাগ্রহ থেকেও লিভ টুগেদার করছে। ঢাকা শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতির কন্যা ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন একজন বিদেশী নাগরিকের সঙ্গে। ওই শিল্পপতির কন্যার প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সংসার জীবনের পাট চুকিয়ে এখন বিদেশী নাগরিকের সঙ্গে লিভ টুগেদার করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছেলেমেয়েদের লিভ টুগদোর। ওয়েস্টার্ন সোসাইটির প্রতি এক ধরনের অন্ধ আবেগ ও অনুকরণের পাশাপাশি জৈবিক চাহিদা মেটাতে তারা লিভ টুগেদার করছেন। আবার ঘন ঘন তাদের লিভ টুগেদারে বিচ্ছেদও ঘটছে। সহসা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে খুনের মতো অপরাধ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত এক বছরে রাজধানীতে দশটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশি অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে ওইসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল লিভ টুগেদারের বিড়ম্বনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুনের শিকার হয়েছে মেয়েরা। দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। এক পর্যায়ে মনোমালিন্য বা মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে খুন করে পালিয়েছে ছেলেটি। চলতি বছর জুলাই মাসে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় খুন হয় সুরাইয়া নামের এক যুবতী। তিনি চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। তাকে খুন করে বাসায় লাশ রেখে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে চলে যায় যুবক সুমন রহমান। পরে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক ধরে লিভ টুগেদার করতেন সুমন ও সুরাইয়া।

এপ্রিল মাসে এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ পাওয়া যায় গাজীপুরের শালবন এলাকায়। পুলিশ অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা এলাকায় একটি বাড়িতে দুই-তিন বছর ধরে এক যুবকের সঙ্গে সে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া থাকতো। মে মাসে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বাসার ভেতরে এক তরুণীকে খুন করে পালিয়ে যায় ঘাতক। তারাও ভাড়া থাকতো স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে। মে মাসে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ওই তরুণী লিভ টুগেদার করতো তারই এক বন্ধুর সঙ্গে। মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের মাঝে। শেষে মেয়েটিকে খুন করে পালিয়ে যায় বন্ধুটি। গত ১লা নভেম্বর রর‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় ম্যারেজ মিডিয়ার দুই পার্টনার। ফরিদপুর শহরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে একই শহরের আরেকটি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে লিভ টুগেদার করছে। পারভীন নামের মেয়ে ও আরিফ নামের ছেলেটি অকপটে স্বীকার করেছে তারা লিভ টুগেদার করছে এবং এক সঙ্গে ম্যারেজ মিডিয়ার ব্যবসা করছে।

ঢাকাতে লিভ টুগেদার বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহ এহসান হাবীব বলেন, বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের প্রভাবে নানা ধরনের মুভি সিনেমাডকুমেন্টারি আমাদের সমাজমানসে পাশ্চাত্য জীবনের নানা দিক প্রভাব ফেলছে, অনেকে সেটা গ্রহণ করছে। তার সঙ্গে আমাদের সমাজে ইন্ডিভিজ্যুয়াল বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের চিন্তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও অনেক যুবক-যুবতী এখন ফ্যামিলিকে একটা বার্ডেন মনে করে, বিয়েকে তাদের ক্যারিয়ারের অন্তরায় মনে করে। দেখা যাচ্ছে, এরা বিয়ের চেয়ে লিভ টুগেদারকে বেশি পছন্দ করছে। এতে তাদের জৈবিক চাহিদাও মিটছে আবার সামাজিক নিরাপত্তাও পাচ্ছে। তারা সুখে দুঃখে একজন আরেক জনের সঙ্গী হচ্ছে। মধ্যবিত্তদের লিভ টুগেদারে আগ্রহী হয়ে ওঠা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে এখন বাড়ি ভাড়া একটি বড় সমস্যা। বাইরে থেকে পড়তে আসা বা চাকরি করতে আসা যুবক বা যুবতীকে বাড়ির মালিক আলাদা আলাদা বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এক সঙ্গে থাকছেন, লিভ টুগেদার করছেন। এতে তাদের জৈবিক চাহিদাও মিটছে আবার সামাজিক নিরাপত্তাও থাকছে। আবার অনেক ছেলেমেয়ে মনে করছে লিভ টুগেদার করে কয়েক বছর কাটিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারা আবার অবিবাহিত পরিচয়ে সমাজে ফিরে যাবে যাতে সমাজে তাদের মর্যাদা ঠিক থাকে। তিনি বলেন, তবে এতে সমস্যা হচ্ছে সমাজে এক ধরনের ক্রাইম তৈরি হচ্ছে, কোন কারণে বনিবনা না হলে খুন হয়ে যাচ্ছে মেয়ে বা ছেলেটি।
http://allsharenews.com/

আবাসন সমস্যা: স্বপ্নের ফ্লাট বাড়ি : আলী (রাঃ) বলেছেন চার জন মানুষ বড় অসুখী, তারা হল ‘যার সন্তান বখাটে, যার স্ত্রী বাচাল ও সন্দেহপরায়ন, যার প্রতিবেশী অসৎ, যার বাড়ী বাজারের মধ্যে’।


স্বপ্নের ফ্লাট বাড়ি
নজরুল ইসলাম টিপু

স্বপ্নের ফ্লাট বাড়ি

স্বপ্নের ফ্লাট বাড়ি




হাজার দর্শকের মন মাতাইয়া, নাচেগো সুন্দরী কমলা, প্রেমিক পুরুষ রহিম মিঞা, রূপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া…। মোতালেব সাহেবের মায়ের অস্থিরতা আবারো বেড়ে গেল। মা বললেন, বাবারে! মনে হচ্ছে এখনই দম বন্ধ হয়ে মারা পড়ব, হৃৎপিন্ডটি বুঝি এখনি ফেঠে পড়বে, ফ্যানটি জলদি চালু কর। মোতালেব সাহেব দৌঁড়ে গিয়ে ফ্যানের সুইচ চাপলেন, ধ্যাৎ! এখনও বিদ্যুৎ আসেনি! অগত্যা হাতপাখা দিয়েই বৃদ্ধা মায়ের মাথায় বাতাস দেওয়া শুরু করলেন। বাবারে, হাত পাখার গরম বাতাসে মুখখানা যেন পুড়ে যাচ্ছে, সহ্য হচ্ছেনা, মাথায় পানি ঢাল। মোতালেব সাহেবের স্ত্রী দৌঁড়ে গেলেন বাথরুমে, পোড়া কপাল! লাইনে এখনও পানি আসেনি। মায়ের এমন ধরপরানী দেখে মোতালেব সাহেব তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎহীন ফ্রিজ খুলে, দুটি মিনারেল ওয়াটারের বোতল বের করলেন। দুঃখের যেন শেষ নাই এই পানি মায়ের মাথায় ঢাললে পুরানা হাঁফানি আবার মাথাচাড়া দেবে। একটু সাধারন পানি জোগাড় করে ফ্রিজের ঠান্ডা পানির সাথে মিশিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে মায়ের মাথায় ঢালবেন, যোগাড় নেই। উপায়হীন মতলব সাহেব আজকের এই ছুটির দিনে পাশের প্রতিবেশীকে পূনরায় আরেক বার অনূনয়-বিনয় করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

মোতালেব সাহেব দরজা খুলে বের হতেই দেখেন ভবনের লবিতে একই ফ্লোরের আরেক ফ্লাটের প্রতিবেশীর স্কুল পড়ুয়া কিশোর ছাত্র রূপবানের কোমর দুলানোর গানের তালে তালে নিজেরাও কোমর দুলাইয়া নেচে চলছে। দেখেই মেজাঝটা আরো খারাপ হল। বলল কোন জাহান্নামে উঠেছি নিজেই জানিনা। কোন পাপের কারনে আমার উপর এত জ্বালা বুঝলাম না বলে খেদোক্তি করলেন। যাক জোড় করে মুখে একটু হাঁসি ফুঠিয়ে পাশের বাসার কলিং বেলে টিপ মারেন। একবার, দুবার, কয়েকবার! অবশেষে ঘরের ভিতর থেকে বোধোদয় হল কেউ দরজায় বেল টিপেছেন। প্রতিবেশীর কলেজ পড়ুয়া ছেলেটি হাতে লোহার চুড়ি, এককানে দুল পরিহিত অবস্থায় দরজা খুললেন। দরজা খোলা মাত্র মনে হল, পুরো ফ্লাটটি যেন শব্দ বোমায় ভাসছে! ভাবলেন এরা কিভাবে বাঁচে এই বিকট আওয়াজে! মোতালেব সাহেবকে সামনে দেখে ছেলেটি খুবই পেরেশান হল। বলুন আঙ্কেল কেন আসলেন? মোতালেব সাহেব বললেন, বাবারে এতদিন গেল নান্টু ঘটকের কথা শুইনা, অল্প বয়সে করলাম বিয়া। আর আজকে নতুন করে শুরু হল রূপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া। বাবারে তোমাদের দুই’পা ধরা বাকি রাখছি, আমার বৃদ্ধা মায়ের হার্টের অপারেশন হয়েছে, তিনি উচ্চস্বরের আওয়াজ শুনলে হার্টবিট বেড়ে প্রেসারে কষ্ট পায়, ডাক্তার বলেছেন এটা হলে তিনি নির্ঘাত মারা পড়বেন। তোমার হাই ভল্যূমের ড্রাম সেটের আওয়াজে আমাদের অস্থিত্ব আজ বিপন্ন হওয়ার জোগাড়।

আঙ্কেল আপনার প্রতিদিনকার ঘেনর ঘেনর আর ভাল লাগেনা। আমরা আমাদের ঘরে গান শুনছি, আপনার ঘরে বাজাচ্ছিনা। তাছাড়া কখন বাজাব? সকালে বাজাইলে আপনার সমস্যা, দুপুরে বাজাইলে আপনার মায়ের সমস্যা, সন্ধ্যায় বাজাইলে ওদের ছেলে মেয়ের লেখা-পড়ার সমস্যা, রাত্রে রাজইলে আমার মায়ের সমস্যা। আপনি কি এই পরামর্শ দিতে এসেছেন যে, গান শুনতে হলে রমনার বটমূলে চলে যাও? আমাদের যুবকদের কি কোন চাওয়া পাওয়া নেই? শুধু একটু গান বাজাইলেই দেখি আপনি আপত্তি দেন! আমি আস্তে বাজাই আর জোড়ে বাজাই সর্বদা আপনি বাধা দিচ্ছেন। আপনি যেভাবে ৪২ লাখ টাকায় আপনার ফ্লাট কিনেছেন একই ভাবে আমার পিতাও বিদেশে চাকুরী করে ৪২ লাখ টাকায় আমাদের জন্য এই ফ্লাট কিনে দিয়েছেন। আমরা আমাদের ফ্লাটে নাচব, গাইব, মারামারি করব সেটা নিয়ে আপনার আপত্তি থাকার কথা নয়। আপনি যা পারেন করেন, আমি আপনার কথা শুনতে বাধ্য নই, আর কখনও আমাকে বিরক্ত করবেন না প্লিজ!

চাকুরীজিবী মোতালেব সাহেব ছোটকাল থেকেই বাবার সাথে ঢাকা শহরে বড় হয়েছেন। চাকুরীর নির্দিষ্ট টাকার আয়ে তার পিতা যেভাবে একখন্ড জায়গার মালীক হতে পারেননি। মোতালেব সাহেবেরও ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও ঢাকায় একটি প্লট কিনে বাড়ী করতে পারেননি। পুরো জীবন মানুষের কথা শুনে শুনে, অসহায়ের মত ভাড়া বাসায় থেকেছেন। তাই বন্ধুর পরামর্শে মোতালেব সাহেব যেন স্বপ্ন হাতে পান, বাবার অবসরকালীন টাকা, গ্রামের জায়গা বিক্রির টাকা ও ব্যাংক থেকে নিজের নামে কর্জ্জ নিয়ে বহুদিনের স্বপ্ন, নিজের জন্য একখানা বাড়ী হিসেবে এই ফ্লাট খানা কিনে নেন। মনে বড় আশা নিয়ে ভাড়াটিয়ার জীবন ছেড়ে নিজেদের কেনা এই বাড়ীতে উঠেন। এখন থেকে আর বাড়ী ভাড়া নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা, বাড়ী ওয়ালার বাঁকা মন্তব্য সইতে হবেনা, বেতন থেকে খাওয়া ও বাচ্চাদের লেখাপড়া বাবদ যা যায়, বাকী পুরোটাই জমানো যাবে। মা এই ফ্লাট বাড়ী নিয়ে তেমন উৎসাহী ছিলেন না, তিনি বাবার মৃত্যুর পর গ্রামের বাড়িতেই থাকতে ছেয়েছিলেন। কিন্তু গ্রামের অব্যবহৃত বাড়ি বিক্রি না করলে, শহরের ফ্লাট বাড়ীর টাকা হচ্ছিলনা, তাই ছেলের পিড়াপীড়িতে মা বাধ্য হয়েই শহরে ছেলের সাথে থাকছেন বিগত ৫ বছর ধরে। মায়ের ভাষায় এটাতো থাকা নয়, যেন জাহান্নামের অভ্যন্তরে বসে ইটের রসগোল্লা খাওয়া!

মোতালেব সাহেবের মাথায় কাজ করছিল না, তার কি করা উচিত? কার সাহায্য চাওয়া উচিত? তিনি কি করবেন সামনের দিনগুলোতে? এ সমস্থ চিন্তায় ঘুম হারিয়েছেন দেড় বছর হল, চোখের নীচে কালি, ব্যাংকের কর্জ, মায়ের চিকিৎসা বাবদ মোটা অংকের ধার যোগ হয়েছে, মেয়ে দুটি যেন প্রতিমাসেই এক ইঞ্চি করে বাড়ছে। আরো দুঃখ হল, সামনের বাসাটি একজন অবসর প্রাপ্ত বিচারকের, তিনি বহু আগে কেনা প্লট বিক্রি করে, এই ফ্লাট নিয়েছেন। বাকী টাকা ব্যাংকে রেখে সূদ খাচ্ছেন, মাসের শেষে অবসরকালীন ভাতাটা যোগ করে দিন চালাচ্ছেন। পক্ষাঘাতে আক্রান্ত সাবেক বিচারক সর্বদা ঘরে শুয়েই থাকেন, বড় ছেলেটি মাস্তান ধরনের। সর্বদা দরজা খুলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে নিজেদের দরজায় বসে থাকেন। ফলে প্রাপ্ত বয়সী মেয়েদের নিয়ে হয়েছে জ্বালা। দু’একবার ঝগড়া হয়েছে, ফলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া ছাড়া কোন উপকার হয়নি। বিচারক একদা অন্যের সন্তানের বিচার করলেও আজ তিনি অসহায়, নিজেদের সন্তানের এই বেহায়পনা দেখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকানো ছাড়া কোন উপায় নাই। ছয়তলা এই বিল্ডিং এর প্রতি ফ্লোরে ৪টি করে পরিবার আছে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা থেকে আগত ২৪টি পরিবারের বাস এখানে। সবাই স্বচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের বাসিন্দা। কারো দরজায় টোকা দিয়ে অভিযোগ জানানো কদাচিৎ মুছিবতের কারন হতে পারে। কেউ অবসর প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, কেউ এমপি’র আত্বীয়, কেউ সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব। তার পরও এই ভবনের বাসিন্দারা যেন পুরো শহরের সবচেয়ে বেশী অসুখী মানুষ; যারফলে এই ভবনের গলিতে ফার্মেসী গড়ে উঠেছে বেশী।

মতলব সাহেব সোজা ও ভদ্র প্রকৃতির মানুষ, হিসেব করে কড়ি গুনে জীবন চালান। তিনি কারো ধারে-পাছে যেতে চাননা। ফ্লাট কিনে মানুষের সাথে যতবার হট্টগোল করতে হল, ভাড়া বাসায় বিগত ৩৫ বছরেও তার কিঞ্চিত পরিমান হয়নি। সমস্যা হলে বাড়ী ওয়ালাকে জানিয়েছে, বাড়ীওয়ালার একক সিদ্ধান্ত সবাই মানতে বাধ্য ছিল। বনিবনা না হলে ফ্লাট ছেড়ে দিয়েছে, নতুন জায়গায় উঠেছে, ব্যস! সব মিটমাট। এখানেতো নতুন জায়গায় উঠার সুযোগ নাই, নিজের ঘর, নিজের বাসা, একক ক্ষমতাধর কেউ নাই, যাকে বলে সূরাহা করা যায়; এখানে সবাই বাড়িওয়ালা!

পাঁচ ও ছয় তলার ঘরের ডিজাইনগুলো নিচের চাইতে একটু ভিন্ন ধরনের। ৪র্থ তলার মতলব সাহেবের রান্না ঘরের ঠিক উপরে পড়েছে পাঁচ তলার বাথরুম। ২ বছর আগে ৪ মাত্রার ভূ-কম্পনে রান্নাঘরের ছাদে একটু ফাটল হয়েছে। সে থেকে রান্না ঘরে উপরের বাথরুম থেকে টপ টপ পানি পড়তে থাকে। মিস্ত্রী দেখিয়েছেন, তারা বলল এক সপ্তাহের কাজ আছে, উপরের বাথরুমের ফ্লোর ভাঙ্গতে হবে, তবেই ঠিক করা যাবে। উপর ওয়ালা মতলব সাহেবের এমন আবদার শুনে অট্টহাসি দিলেন। তিনি বললেন আপনি আমার বাথরুম ভাঙ্গবেন আপনার সুবিধার জন্য! আর আমরা সবাই সিটি কর্পোরেশনের টয়লেট থেকে গোসল করে আসব? সে চিন্তা বাদ দিন বরং আমার বাথরুমের পানি তবরুক হিসেবে জোগাড় করে মাথায় মাখুন আকল বাড়বে! মামা বাড়ীর আবদার পেয়েছেন। কিছুদিন আগে উপরের ভদ্রলোকের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে, ছাগলের গোশত কেটেছিল বাথরুমে, ভারী মাস্তুলের আঘাতে ফাটল আরো বাড়ে, পানি এখন অনবরত চিকন ধারায় পড়ে, ফলে রান্নঘর এখন অব্যবহৃত। তাছাড়া উপরের মালীকের বুড়ো মায়ের প্রতি ৩০ মিনিট পর পর পান খাওয়ার অভ্যাস, হামান-দিস্তায় যেভাবে গুতো মারে তাতে পান-সুপারী নয়, যেন পাথর চূর্ন চলছে।

শোনা যাচ্ছে ভবনের মাটি পরীক্ষা ঠিক হয়নি, আস্তে আস্তে অচিরেই নীচে দেবে যাবে; অথছ মাটি পরীক্ষায় এটাতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে। ভবনের খীলানগুলো নাকি বেশী গভীরে ঢুকানো হয়নি, ফলে কাৎ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। ভবন বানানোর সময় মতলব সাহেব তো এখানে ছিলেন না, যে নিজের চোখে দেখে রাখবেন কতটুকু গভীরে গেছে খিলান; তাছাড়া তিনিতো প্রকৌশলী নন যে, দেখলেই ভূল ধরতে পারবেন। শুনেছিলেন ভবনের চারিদিকে ৩ ফুট রাস্তা থাকবে, পাশের ভবন উঠার সময় দেখা গেল ওটা তাদেরই জায়গা। ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বেশী দামে ফ্লাট বিক্রি করতে ৩ ফুট জায়গাও মূল ঘরের মধ্যে ঢুকিয়েছেন, শোনা যাচ্ছে সরকারী কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় এই ভবন ভাঙ্গার মধ্যে পড়েছে। এই ভবনে ফ্লাটের মালীক হিসেবে দু’একজন বড় কর্মকর্তা আছেন বলে কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গার কাজে এখনও এখানে হাত দেয়নি। সে জন্য ক্ষমতাশালী আরেক ফ্লাটওয়ালা যথাযত ব্যক্তিকে প্রতি মাসে মাসে বকশীশ দেন, তাই ভাঙ্গা আপাতত রহিত হয়েছে। এই নতুন উৎপাতে বকশিশ বাবদ মাসের বেতন থেকে একটি নির্দিষ্ট টাকার অংক খরছ হয়।

দুঃখের যেন শেষ নাই মতলব সাহেবের ফ্লাট বাড়ীতে। ভবনের সিমেন্ট নাকি দুই নম্বরী ছিল আরো বিপদের কথা ভবনে যে বালি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সামুদ্রিক বালি ছিল, তাতে নাকি লবনের পরিমান অধিক। ফলে সে লবণাক্ত বালী সিমেন্ট ও ইটের গাথুনীকে আস্তে আস্তে খেয়ে ফেলছে। যার কারনে কিছু দিন পরে ভবন থেকে গোশত খসে গিয়ে, লোহার কঙ্কাল দেখা যাবে, জোড়ে নাড়া খেলে চামড়া ঝরে গিয়ে এই ভবন হিরোসীমার বিধ্বস্থ বাড়িটির মত স্থাপত্য নিদর্শন হবে। আস্তর ঝরে যাওয়ার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হচ্ছে। মতলব সাহেব বারবার জিভে কামড় দিয়ে আফসোস করছেন, ফ্লাট কিনার আগে কেন তিনি এই ভবনের চুন সূড়কি একটু মুখে দিয়ে লবন পরীক্ষা করে দেখেননি?

ফ্লাট নেওয়ার আগে মোতালেব সাহেবের ধারনা ছিল বেতন থেকে এখন শুধু জমানোর পালা। আজ তিনি আকল জ্ঞান হারিয়ে গাধাকে বাপ ডাকতে বাধ্য হচ্ছেন। আধুনিক সুবিধায় পরিপূর্ন এই ভবন, ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি সহ লিফ্টের ব্যবস্থা আছে। মতলব সাহেব সর্বসাকূল্যে ১০ বার লিফ্টে চড়তে পেরেছিলেন, একবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়াতে লিফ্টের ভিতর মই ঢুকিয়ে উদ্ধার পেয়েছিলেন। বারবার বিদ্যুতের ভেলকীবাজীতে লিফ্টের পুরো কন্ট্রোল প্যানেলই জ্বলে যায়, ফলে দীর্ঘদিন লিফ্ট ব্যবহার বন্ধ, বর্তমানে সেটাকে ভবনের সিকিউরীটি তার কাপড়-চোপড়, গামছা-জুতো ঢুকিয়ে রাখার স্থান বানিয়েছেন। কন্ট্রোল প্যানেল নাকি সার্ভিস ওয়ারেন্টির মধ্যে পড়েনা, তাই এটা বাড়ীওয়ালাদের নতুন করে জাপান থেকে কিনতে হবে। জিঞ্জিরাতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এগুলোর দুই নম্বরী এখনও দেশে চালু হয়নি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়াতে জেনারেটর বন্ধ বহুদিন ধরে। আগে জেনারেটর চালাতে গিয়ে যে খরছ হয়েছে, অনেক বাড়ী ওয়ালা এখনও তেলের দাম দেয়নি। বন্ধ জেনারেটর চালু করতে গিয়ে দেখা যায় কার্বোরেটর খারাপ হয়েছে, অনেক টাকা খরছ করে কার্বোরেটর ঠিক করার পর জানা গেল, জেনারেটরের ভিতরের প্রায় যন্ত্রপাতি নাকি চুরি হয়েছে, উপরে দেখতে জেনারেটর, তবে ভিতরে হৃৎপিন্ড, যকৃত, পাকস্থলী, মুত্রথলী সব গায়েব! সিকিউরিটিকে পিটিয়ে জেলে ঢুকানো হয়েছে; কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনেক টাকা খরছ কার্বোরেটর ঠিক করা হয়েছে, তাও জলে গেল। তাই লিফ্ট-জেনারেটরে সমস্যার, স্থায়ী সমাধানের জন্য বাৎসরিক ইন্সুরেন্স করার পরামর্শ এসেছে।

এ সকল সমস্যা সমাধানে ফ্লাট ওয়ালাদের মাঝে ঐক্যমত দরকার, সেজন্য কমিটি গঠন করা হলো। কমিটি প্রধানের দায়িত্ব নিলেন এম, পি’র আত্বীয় পরিচয়ের আরেক মাস্তান বাড়িওয়ালা, সেক্রেটারী হলেন বিচারক সন্তান। তারা প্রয়োজনীয় সব কাজ করিয়ে নেবেন, প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর কমিটি সে টাকা তুলে নেবেন। ভবনে রং করা হলো, রঙ্গয়ের উজ্বলতা ৪ মাসও থাকেনা, কেউ বলে আস্তরের বালিতে লবনের কারনে এমন হয়, কেউ বলে রং টাই দু’নন্বর। কথা হলো পরীক্ষা করবে কে? কার কাছে কে বিচার জানাবে? ভবনে চুরি-চামারী বেড়ে যায়, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, কারো কারো ছেলে নাকি সিড়ির রুমে মাদক পান করে, কেউ লবিতে বসে সিগারেট টানে, পরিবেশ বরবাদ করে, বাচ্চারা বের হতে পারে না। কারো ছেলে নাকি বখাটে হয়েছে, কারো মেয়ের নাকি ছেলে বন্ধু বেশী; চাই আরো নিরাপত্তা। সিকিউরিটি ও ভবন পরিষ্কার করার জন্য যে মানুষ রাখা হবে, তাদের জন্য এই ভবনে কোন রুম তৈরী করা হয়নি, নিচে একটি উম্মুক্ত টয়লেট দরকার। পেটে টয়লেট চেপে রেখে ৩-৬ তলা বেয়ে উঠা সহজ নয়। তাই সবার মতামতের ভিত্তিতে ভবনের কোণায় একটি টয়লেট বানানো হল। সরকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেয়ায়, পরিদর্শক মোটা অংকের জরিমানা করে দিলেন। অথছ পুরো ভবনটির বহু অবৈধ কাঠামো অন্যায় ভাবে গড়ে উঠেছিল, তখন দেখার কেউ ছিলনা! এ জাতীয় নানাবিধ খরছ যোগ হতে হতে মতলব সাহেবকে মাসে ৭ হাজার টাকার ইজা গুনতে হয়। অথছ তিনি যখন ভাড়ায় থাকতেন তখন ৭ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া বাসায়ও আলীশান ভাবে থাকতে পারতেন।

অফিস থেকে ফিরছিলেন মতলব সাহেব, মোবাইল সাইলেন্ট থাকায় ১০টি মিসকল ধরতে পারেননি, তিনি উল্টো ফোন করে মেয়েদের কান্নার আওয়াজ পান। মতলব সাহেবের মনে সন্দেহ হল, দৌঁড়ে বাসায় পৌছলেন। তিনি নির্বাক, নিরব, নিথর হয়ে যান; কিছুক্ষণ আগেই মা ইন্তেকাল করেছেন। পাশের বাসা থেকে ভেসে আসা গানের সুরে তার কান্নার আওয়াজ মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। বাহিরের মানুষ নতুন ধরনের আওয়াজ শুনে বলাবলী করছিল বাজারে এখন বুঝি কান্নারও রি-মিক্স বেরিয়েছে। মা তার পুত্রবধুকে বলে গেছেন, জিবীত কালে তো পারেননি, অন্তত মরার পরে যেন তার লাশটি যাতে, শহরের কোলাহল থেকে দুরে গ্রামের নির্জন কবরে সমাহিত করা হয়। উপদেশ দিয়ে গেছেন পারলে এই ফ্লাট নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে, এত পেরেশানী নিয়ে এই দামী ভবনে যেন না থাকে, প্রয়োজনে কম টাকায় শহরতলীর কোন বেড়ার বাসায় যেন থাকে।

ঢাকা শহরে আবারো ৪.৬ মাত্রায় ভূ-কম্পন অনূভত হয়, ভবনে দৃশ্যমান কিছু ফাটল তৈরী হয়, প্রকৌশলী বলেছেন ওটা এমন কিছু না, ভয়ের কারন নাই। যারা ভবন তৈরী করেছিলেন তাদের দূর্বলতার কারণে এমনটি হয়েছে। তারা সর্বদা ব্যবসায়ীক মনোবৃত্তিকে কাজে লাগিয়েছেন, সেবাকে গুরুত্ব দেননি। নব্বই দশকে সামান্য ভূ-কম্পনে তুরস্কে এভাবে পুরো একটি শহরই ধুলোই পরিণত হয়েছিল। ভবনে লিফ্টের জন্য নতুন কন্ট্রোল প্যানেল বসানো হয়েছে, জেনারেটর ঠিক করা হয়েছে। এ সবের বিল ও আগের বকেয়া বিল মিলে, মোতালেব সাহেবকে ১লাখ ৪০হাজার টাকা দিতে হবে। কর্জ ভারে কাহিল মোতালেব সাহেব অতিরিক্ত এই টাকা দিতে অপারগ, তাই তাঁকে রুম ছাড়তে হবে। কমিটি তার রুমটি ভাড়া দিবে, ভাড়া থেকে মাসিক সার্ভিস চার্জ ও অনাদায়ী বকেয়া টাকা আদায় করা হবে। এই সমস্যা সমাধান হয়ে মোতালেব সাহেবের বাসা ফিরে পেতে ৫০ বছর লাগবে, যদি ভূমিকম্পনে ভবন ধব্বসে না যায়।

মোতালেব সাহেব ৪২ লাখ টাকা মূল্যের স্বপ্নের ফ্লাটে মাকে একটি দিনের জন্যও শান্তিতে রাখতে পারেননি। মানুষ অশান্তিতে থাকে সন্তানের অসদাচারণের কারনে। অথছ মোতালেব সাহেব ভাল মানুষ ছিলেন, মায়ের যত্নে কখনও সামান্যতম অবহেলা করতেন না, পুত্র বধু আন্তরিক ছিলেন, নাতীনেরা খুবই ভদ্র ও দাদীর প্রতি আদরনীয় ছিলেন। এতকিছু নিজের পক্ষে থাকার পরও, শহুরে জীবনে মাকে সুখ দেখাতে সক্ষম হননি; পরের সৃষ্ট সমস্যার কারনে। আলী (রাঃ) বলেছেন চার জন মানুষ বড় অসুখী, তারা হল ‘যার সন্তান বখাটে, যার স্ত্রী বাচাল ও সন্দেহপরায়ন, যার প্রতিবেশী অসৎ, যার বাড়ী বাজারের মধ্যে’। বাজারের হিসেবের কথা বাদ দিলেও স্বপ্নের ফ্লাট বাড়ীতে অসুখী হওয়ার জন্য বাকী উপকরনের সবগুলোই ছিল। রাসুল (সাঃ) প্রতিবেশীকে কষ্ট না দিতে বার বার তাগাদা দিয়েছেন। প্রতিবেশীর প্রতি গুরুত্ব বুঝানোর সময় সাহাবীরা ভাবতেন রাসুল (সাঃ) বুঝি এক্ষুনি আমাদের সম্পদে প্রতিবেশীর হক আছে এমন কথা বলে দেবেন। মোতালেবের স্বপ্নের এই ফ্লাট বাড়ীতে প্রতিবেশীর সমস্যাতো ছিলই, তাছাড়া ছিল নানা উদ্ভট ঝামেলা, যা ভুক্তভূগীরাই মূল্যায়ন করতে পারেন। তিনি সমস্যার কোনটাই মোকাবেলা করতে পারেননি, আগামী মাসেই নিজের কেনা ফ্লাট ছেড়ে দিতে হবে। মনের দুঃখে, এক বুক হতাশায়, কম দামের একটি ভাড়া বাসার সন্ধানে শহরতলীর দিকে পা বাড়ালেন…..।
—————————————————-

আবাসন সমস্যা

মাহমুদুল বাসার

কবিগুরু বলেছেন, ‘ধন নয় মান নয় এতটুকু বাসা, করেছিনু আশা।’ জীবনানন্দ দাশ ‘বনলতা সেন’ কবিতায় ‘পাখির নীড়ের মত চোখে’ কথাটি বলেছেন, তাতেও ঐ এতটুকু বাসায় ফেরার প্রগাঢ় স্বপ্ন ব্যক্ত হয়েছে। বাবুই পাখির গর্ব সে নিজের তৈরি বাসায় রাত কাটাতে পারে, পরের অট্টালিকায় থাকে না। বাংলাদেশের আধুনিক কবি আবুল হাসান বলেছেন এক কবিতায়, ইদুঁরের ও পালাবার গর্ত আছে।’ প্রাণিকুলের মধ্যে যেখানে নিজস্ব আবাস গড়ে তোলবার ব্যাকুল প্রবণতা আছে, সেখানে মানুষের একটি নিজস্ব বাড়ি, একটা ছোট্ট বাসা গড়ে তোলবার নিবিড় প্রত্যাশা হাজার হাজার বছর ধরেই আছে। ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় থাকে। যারা ভাড়া বাসায় থাকেন, তাদের বুকের গভীরে একটা ছোট বাসা কেনার স্বপ্ন ঘুমিয়ে আছে। সে স্বপ্ন খুঁচিয়ে জাগিয়ে তোলার সাহস তারা পান না। সাধ ও সাধ্যের মনিকাঞ্চন যোগ ঘটে না। ঢাকা রাজধানীতে এক কাঠা জমির দাম এক কোটি টাকা। আজকাল কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তারা এক কাঠা কোন দশ কাঠাও কেনার সামথর্্য রাখে, তারা ঢাকা শহরে বাসা-বাড়ি শুধু নয়, অট্টালিকারও মালিক।

আবাসন সমস্যার আবর্তে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মধ্যবিত্তরা। পত্রিকায় দেখেছি, ঢাকা শহরের বাড়ির মালিকেরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খেয়াল খুশিমত প্রতিবছর বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে। এটা শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বাড়ি ভাড়ার ব্যবসা প্রসারিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, ধানী জমি বিক্রি করে শহর বা উপশহর এবং পৌরসভার উপকণ্ঠে জমি কিনে রাতারাতি বিল্ডিং বানিয়ে ভাড়া দিচ্ছে অনেকে। ব্যাস! আর চিন্তা নেই, প্রতিমাসে ভাড়া তোল আর ঠ্যাং ঝুলিয়ে খাও।

যারা বিদেশে যেয়ে রাতারাতি কোটিপতি হচ্ছেন, তারাও বাড়ি বানিয়ে ভাড়া ব্যবসার প্রবণতায় নিমগ্ন। ঢাকার হাটখোলা রোডের একজন লব্ধ প্রতিষ্ঠ কথাশিল্পী কথা প্রসঙ্গে আমাকে বললেন, সকালে হাঁটতে বের হয়ে দেখি কেবলই ইট-বালু রড সিমেন্টের স্তূপ। আকাশ স্পর্শী বিল্ডিং হচ্ছে। ভাড়া দেবে খাবে, আরামে দিন কাটাবে, ডিশ দেখে সময় কাটাবে।

বললেন যে, আমাদের জাতি এভাবে উদ্বাস্তু মানসিকতায় পরিণত হচ্ছে। শ্রমবিমুখ, উৎপাদন বিমুখ হচ্ছে। আমাদের টাকাওয়ালাদের আত্মকেন্দ্রিক সুখ পরায়নতায় পেয়ে বসেছে। ‘লিভ এ্যান্ড লেট লিভ’ দৃষ্টি নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। তাই বৈষম্য ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে। বাড়ি বানিয়ে ভাড়া ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছে। ছোট-ছোট শিল্প গড়ে তোলার কথা ভাবে না যাতে দেশের বেকারত্ব দূর হতে পারে, কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

১৫ নভেম্বর ড. মযহারুল ইসলামের মৃতু্য তারিখ। তিনি একজন কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক হয়েও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটি গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সেখানে শত শত লোক চাকরি করে খায়। তিনি এক কলামে বলেছিলেন যে, ‘আমাদের দেশকে কৃষিভিত্তিক, তা থেকে শিল্পভিত্তিক করে তুলতে হবে।’ কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে লক্ষ্য রেখে কথাটি বলেছিলেন ড. ইসলাম।

ঢাকায় রিহ্যাব মেলা হয়েছে পাঁচদিনব্যাপী। রিয়েল এস্টেটের মালিক এবং আবাসন ব্যবসায়ীরা এই মেলার আয়োজন করেছে। জাতীয় পত্রিকাগুলো জানাচ্ছে, রিহ্যাব মেলায় মধ্যবিত্তরাই ভীড় করেছে বেশি। ভাড়া বাড়িতে থাকার বহুমুখী যন্ত্রণা থেকে মুক্তি প্রত্যাশী মধ্যবিত্তরা মেলায় গিয়েছে একটা পস্নট কেনার, একটা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন নিয়ে। আবাসন ব্যবসায়ীরা তাদের পস্নট ও ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়াতে নানা রকম অফার দিয়েছে।

বলা হচ্ছে যে, বাজেটে অতিরিক্ত করারোপের কারণে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে গেছে। নূ্যনতম স্বস্তি নূ্যনতম প্রশস্ত-নড়াচড়ারযোগ্য একটা ফ্ল্যাট কিনতে হলে ৪০ লক্ষ টাকা লাগে। কয়জনের আছে ৪০ লক্ষ টাকা! আবার ফ্ল্যাটে বসবাসের আছে নানা রকম পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া। আছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি। ডেভেলপাররা বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে যে বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ করে থাকেন, তাতে থাকে নির্মাণের দুর্বলতা। আবার ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে প্রতি মাসে দিতে হবে আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৪/৫ হাজার টাকা। গ্যাস, বিদু্যৎ, পানি, বার্থ রুম, টয়লেটেরও নানারকম অসুবিধা থাকে ফ্ল্যাটে। শত অসুবিধা মাথায় নিয়েও মানুষেরা একটা ফ্ল্যাট কিনতে চায়। কারণ, শহরেতো দূরের কথা থানা লেবেলেও বাড়ি করার সুলভ জমি পাওয়া যায় না। গ্যাসের আওতাভুক্ত জায়গাতো সোনার হরিণ।

আবাসন সমস্যা নিয়ে সরকারি পর্যায়ের সুষ্ঠু চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন আছে। ভাবতে হবে, এটাও জাতীয় সমস্যা। সরকারের পক্ষ থেকে যদি আবাসন ব্যবসায়ীদের একটা নীতিমালার মধ্যে এনে তাদের গাইড লাইন দিয়ে ব্যবসাটাকে পরিচালিত করা হয়, তাহলে সকল পক্ষের উপকার হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে, সরকার কর আদায় করবে, ক্রেতারা সরকারি তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আবাসন পাবে। আবাসন ব্যবসার মত, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয় সম্পর্কে। সরকারের সংশিস্নষ্ট কতর্ৃপক্ষের যেমন নজরদারি প্রয়োজন, তেমনী দরকার প্রণোদনা।

[ লেখক:প্রাবন্ধিক, গবেষক।]