ফেসবুক বলে দেবে প্রেমের গভীরতা!


ফেসবুক বলে দেবে প্রেমের গভীরতা!

ঢাকা টাইমস ডেস্ক ঢাকা: নিত্যদিনের আর পাঁচটা দরকারি কাজকম্মের মতোই ফেসবুকটিও জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়েছে। এই ব্যাপারটি আর যেই হোক, তর্কবাগীশ বাঙালি কিন্তু অস্বীকার করতে পারবেন না। সে আপনি ফেসবুক ব্যবহার করতে চান বা না-ই চান! কী পারে না এই ফেসবুক? প্রাত্যহিকভাবে নতুন কোনও কিছুর হদিশ দিতে পারা এই ফেসবুকে একদিকে যেমন অন্যের দেওয়ালে নাকগলানো বা ‘পোক’ করা যায়, তেমনই জোড়া লাগানো বা ফাটল ধরানোও যায় সম্পর্কে। তবে এতসব জটিলতার মাঝে হারিয়ে না গিয়ে এবার ফেসবুক থেকে জেনে নিতে পারেন আপনার প্রেমিকের সততা বা সম্পর্কের দায়বদ্ধতার কথাটিও! ভাবছেন, কী করে বুঝবেন মনের মানুষটি আপনাকে ঠকাচ্ছেন কিনা?
Facebook Love
১. ফেসবুকে তাঁর নিত্যনতুন ছবি আপলোড হয়ে থাকলেও আপনাদের জুটির ছবির কোনওটাই কি ফেসবুকের চৌকাঠ মাড়ায় না? তাহলে বরং একটু নড়েচড়ে বসুন দেখি! আর ভাবুন, কেন আপনাকে অন্যান্য বন্ধুদের কাছে দেখাতে চাইছেন না পুরুষটি। সেটা কিছুটা অতিরিক্ত অধিকারবোধের জায়গা থেকেও হতে পারে বইকি। সেক্ষেত্রে তাঁর কাছে একদিন আলতো করে পেড়েই দেখুন না কথাটা। তার পরেও তিনি অভ্যেস না বদলালে আপনার নেতিবাচক দিকটার কথা ভাবাই বোধহয় উচিত হবে। তাছাড়া নিজেতে মত্ত থাকার প্রমাণস্বরূপ আপনার প্রেমের মানুষটি যদি একটু বেশিই নিজের ছবি পোস্ট করে থাকেন, তবে শুনুন, তিনি কিন্তু নার্সিসিস্ট! মানে শুধু নিজেকেই ভালবাসেন, এমন একজন মানুষ।

২. এরই উল্টোদিকে আপনার কিম্বা আপনাদের প্রচুর ছবি যদি আপনার প্রেমিক পোস্ট করেন ফেসবুকে, তাও আবার সম্পর্কের মাস কয়েকের মধ্যেই অথবা প্রেমপ্রস্তাব স্বীকার করার মুহূর্তের মধ্যেই তিনি যদি ‘ইন আ রিলেশনশিপ’ রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দেন আপনাকে- তবে নিশ্চিন্ত থাকুন, সেটিও আর যাই হোক- প্রেম নয়। তাহলে? কিছুই না, আপনার বয়ফ্রেন্ড বড় ধরনের রিলেশনশিপ অ্যাডিক্ট! এবার তিনি মনেপ্রাণে কতটা চাইছেন আপনাকে, আর কতটাই বা শুধুই রিলেশনশিপের চাহিদা- ভাল করে ভেবে দেখুন।

৩. মাস কয়েকের বেশি সময় ধরেই আপনাদের প্রেমলীলা চলছে, তবুও প্রিয় পুরুষের ফেসবুকের ‘সিঙ্গল’ স্টেটাসটিকে কি আপনি পারেননি বদলাতে? তবে জানবেন মানুষটি একেবারেও সিরিয়াস নন আপনাকে নিয়ে, তিনি সেটি ইচ্ছাকৃতভাবেই রেখেছেন ‘সিঙ্গল’ করে।

৪. কারও প্রেমে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকে ডুবে থাকার সময়টি কমে যায় মানুষের জীবনে। চারপাশে একটু তাকিয়ে দেখুন, কথাটার সত্যতা হাড়ে হাড়ে টের পাবেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ফেসবুককে উৎসর্গ করা সময়টি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে থাকে না ততটাই খালি। কিন্তু সম্পর্কে ঘোরতরভাবে ঢুকে যাওয়ার পরেও, আগের মতো কমিটেড লংটাইম ফেসবুক সারফিং করলে বুঝবেন, মানুষটি একেবারেই সিরিয়াস নন সম্পর্টিকে নিয়ে।

৫. অতি তুচ্ছ কারণে মনের মানুষের সব কিছুই ফেসবুকে পোস্ট করাকেও দেখতে পারেন সন্দেহের চোখে। যেমন ধরুন, তাঁর মায়ের শরীর খারাপে তিনি মর্মাহত, কিম্বা চাকরি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ… এমন ব্যক্তিগত কথা যদি আপনাকে না জানিয়ে পুরুষটি পোস্ট করেন আগেভাগেই ফেসবুকে, তার মানে আপনার নয়, অন্য মহিলাদেরও অ্যাটেনশন চাইছেন তিনি। ভাবছেন, এবারে আপনার কী কর্তব্য? আর কিছু না, ফেসবুকে তাঁর গতিবিধি দেখে এবারে ঠাহর করে নিন বয়ফ্রেন্ডের মনের গোপন কথা। স্পষ্ট মালুম হবে, কতটাই বা আছে তাঁর কমিটমেন্ট আপনাদের সম্পর্কের জন্য!

চুড়ির রিনিক ঝিনিক ও ‘যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভোলে না মোরে’


চুড়িবন্দনা

জিয়াউদ্দিন সাইমুম

শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার ‘অরক্ষণীয়া’ উপন্যাসে নারীর চুড়িপ্রেম ফুটিয়ে তুলেছেন বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যে। বুড়ো মেসতুতো ভাই জ্ঞানদার হবু বউয়ের জন্য মাসিমা দুর্গামণির হাতে অতুল যেই আকর্ষণীয় চুড়ি তুলে দিয়ে ছিলেন, তার বর্ণনা এসেছে এভাবে :

‘তাহার রং এবং কারুকার্য দেখিয়া দুর্গামণি অত্যন্ত পুলকিতচিত্তে দাতার ভূয়োঃ ভূয়োঃ যশোগান করিতে লাগিলেন। চুড়ি দুগাছি কাচের বটে, কিন্তু সেরূপ মূল্যবান বাহারে চুড়ি পাড়াগাঁয়ে কেন, কলিকাতাতেও তখনো আমদানি হয় নাই। বস্তুত তাহার গঠন, চাকচিক্য এবং সৌন্দর্য দেখিয়া মায়ের নাম করিয়া অতুল নিজের টাকাতেই বোম্বাই হইতে ক্রয় করিয়া আনিয়াছিল।’

আর বাংলা গানে এসেছে :

‘আমার চুড়ির রিনিক ঝিনিক রে

তার কাছে লাগত বড় বেশ।’

হ্যাঁ, চুড়ির আবেদন সব সময়ই ছিল। হয়তো থাকবে নানা আঙ্গিকে। তবে এক সময় শুধু শাড়ির সঙ্গেই পরত ললনারা। তারা সোনা আর কাচের চুড়ি পছন্দ করতেন। এখন সময়ের নিয়মে ‘সময়’ বদলে গেছে। তারপরও চুড়ির আবেদন কমেনি। বরং হাল ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে চুড়ি নানান ফরমেটে-ডিজাইনে। যে কোনো পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে পরা যায়Ñ এমন চুড়ি উদ্ভাবন হচ্ছে দিনকে দিন। বয়স দিয়েও এখন চুড়িকে বাঁধার সুযোগ নেই। বিশ্বায়ন সব বয়সী নারীর জন্য চুড়ির দরজা খুলে দিয়েছে। তাই কাচের চুড়ির পাশাপাশি ফ্যাশন শোকেসে জায়গা করে নিচ্ছে নানা উপাদানের চুড়ি।

তবে কাচের চুড়ির রিনিঝিনি আওয়াজ আর বাহারি রঙের মিশেলে জড়িয়ে আছে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ, পোশাক যাই হোক না কেন এখনো অনেক আধুনিক তর”ণীর পছন্দের এক বিশেষ অনুষঙ্গ হচ্ছে কাচের চুড়ি।

অবশ্য আজকাল সব কিছুতেই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রচলিত ধারার বাইরে আধুনিক মানুষের আগ্রহ বেড়েছে নান্দনিকতার দিকে। তাই অতীতের সাদামাটা এক রঙের কাচের চুড়িতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শিল্পের বাহারি ডিজাইনের ছোঁয়া। কাচের চুড়ির পাশাপাশি এখন কাচের চুড়ির ওপর নানা রঙের পাথর, চুমকি, জরিসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে আনা হচ্ছে নতুনত্ব।

আবার কাচের চুড়ির আধিপত্যে ধীরে ধীরে ভাগ বসাচ্ছে চৌকো, ত্রিকোণ, ডিম্বাকৃতির প্লাস্টিক ও মেটাল চুড়ি। বস্তুত বাঙালি নারীদের এক অনন্য অলঙ্কার হচ্ছে চুড়ি। এমন অনেক নারীই আছে যারা যে কোনো পোশাকেই চুড়ি পরেন। চুড়ি ছাড়া তাদের দিনই কাটে না।

তবে আধুনিকতার কল্যাণে মেটাল, সুতা, চামড়া, ব্যাকেলাইট, রবার, কাঠ, মাটি, বিডস, পুঁতি, সিটি গোল্ডসহ নানা ধরনের চুড়ির ব্যবহার বাড়ছে।

এক সময় চুড়ি প্রধানত কাচ থেকে তৈরি হতো। তবে শামুকের খোল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও হাতির দাঁতের চুরিও তখন ছিল।

অন্যসব উপাদান দিয়ে চুড়ি তৈরির কারণ এবং হাল ফ্যাশনের চুড়ির উপযোগিতার কথা ফ্যাশনবিদদের ঠোঁটের ডগায় লাফায়, ‘আসলে কাচের চুড়ি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অন্যান্য টেকসই উপাদানে তৈরি চুড়ির চিš—া আসছে। পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে রুচিবোধেও। কারণ পার্বতীর মতো হাত ভর্তি চুড়ি এখন সবাই পরতে চান না। আবার হাতে মাত্র বালা ধারণ করে অনেকে এখন তৃপ্তি পাচ্ছেন। আসলে কসমোপলিটন পণ্য হয়ে যাওয়ার কারণে সব বয়সের নারীই চুড়ি পরছেন।’

বাঙালি নারীর সঙ্গে চুড়ির গভীর সখ্য ঠিক কবে সৃষ্টি হয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য রেকর্ড আমাদের হাতে নেই। তবে চুড়ি পরতে ভালবাসেন সব বয়সী নারী। উৎসবের দিন জমকালো সাজের সঙ্গে চুড়ি এখন অপরিহার্য হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, হাতে চুড়ি না থাকলে সাজ ঠিক পরিপূর্ণতা পায় না। পত্রিকার বিশেষ পাতায় বিভিন্ন উৎসবের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দসই চুড়ি পরার প্রেসক্রিপশন হামেশাই চোখে পড়ে।

চুড়ির রিনিঝিনি ছন্দ মনেও দোলা দেয়। হালে ফ্যাশনের নতুন প্রবণতা হচ্ছে সুতোর চুড়ি। প্লাস্টিকের বালার ওপর নানা রঙের সুতো পেঁচিয়ে তৈরি হচ্ছে চমৎকার সব সুতো-চুড়ি। সুতো ছাড়াও কাতান কাপড়ের লেস পেঁচিয়ে বানানো হচ্ছে রং-বেরঙের চুড়ি। শাড়ি, কামিজ, ফতুয়া সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে এ ধরনের চুড়ি মানানসই বলে দাবি করা হয়।

আবার কপার, তামা, দস্তাসহ বিভিন্ন ধাতু দিয়ে তৈরি হচ্ছে বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের চুড়ি আর বালা। মাটি বা সিরামিকের নানা রং ও নকশা করা চুড়িও পাওয়া যাচ্ছে। এসব চুড়ি নাকি দেশি সুতি বা ঁতাঁত কাপড়ের সঙ্গে বেশ মানায়।

কাঠ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ডিজাইনের চুড়ি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। মোটা, চিকন, বাঁকা অবয়বে বিভিন্ন কাঠের চুড়ি চোখে পড়ে। কাঠ দিয়ে আবার ব্রেসলেটও তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে গোলাকার ছাড়াও ঢেউ খেলানো, বাঁকা, ত্রিভুজ, ষড়ভুজসহ নানা আকৃতির প্লাস্টিকের চুড়ি পাওয়া যাচ্ছে মোটা আর চিকন ডিজাইনে। স্কার্ট, টপস, ফতুয়া-জিনসের সঙ্গে ম্যাচিং করে কাঠ ও প্লাস্টিকের তৈরি এসব চুড়ি তৈরি হচ্ছে। জয়পুরি, মাল্টি, কাসুটিসহ নানা ধরনের চুড়ির কথাও শোনা যায়। মুক্তার চুড়ির চাহিদাও বাড়ছে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসও তৈরি করছে নানা ডিজাইনের ফ্যাশনেবল চুড়ি।

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে চুড়ির প্রচলন রয়েছে। এটা চেকে naramek, ডাচে enkelring, ফিনিশে rannerengas, জার্মানে armreif, হাঙ্গেরিয়ানে karperec, ইন্দোনেশিয়ায় gelang, ইতালিয়ানে braccialette, মালয়ে gelang, স্পেনিশে brazlete ও তুর্কিতে halhal, তামিলে ভালায়ন, মালয়ালমে ভালা আর নেপালিতে চুরা নামে পরিচিত।

ভারতীয় উপমহাদেশে চুড়ি ঠিক কবে চালু হয়েছে, তার সঠিক তথ্য কারো কাছে নেই। তবে বিভিন্ন প্রত্নতাত্তিক খননকালে খোল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও আকিক পাথরের চুড়ি পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের মহেঞ্জোদারোতে (যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও ২৬শ বছর আগে) পাওয়া এক মূর্তিতে দেখা যায়, নৃত্যরত এক বালিকার বাম হাতে চুরি রয়েছে। সম্ভবত তখন দুহাতে চুড়ি পরার সংস্কৃতি ছিল না। অন্যদিকে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ডিজাইনের চুড়ি পাওয়া গেছে ভারতের তক্ষশীলায়।

হীরা, মূল্যবান পাথর আর মুক্তো বসানো চুড়ির প্রচলন এখনো ভারতীয় উপমহাদেশে রয়েছে। এক সময় লাক্ষার তৈরি চুড়িরও বেশ প্রচলন ছিল এখানে। আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অংশেও চুড়ির প্রচলন রয়েছে।

বিয়ের চুড়ি সাধারণত রঙিন হয়ে থাকে। লাল রঙের চুড়ি হচ্ছে ‘জীবন ও আনন্দের প্রতীক’ আর সবুজ রঙের চুড়ি হচ্ছে ‘উর্বরতার প্রতীক’। চুড়ি দুই হাতে পরা যায়। এক হাতে পরতেও বাধা নেই।

আধুনিক প্রজন্মের তরুণ সমাজের একটি অংশ এখন বেশ আগ্রহ নিয়েই চুড়ি পরছে। তবে তাদের এই চুড়ি ‘খাড়–’ নামে পরিচিত। এটা রবার অথবা ধাতুর তৈরি হতে পারে। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের উঠতি তরুণরা এটা পরছে।

গিফট আইটেম হিসাবেও চুড়ি বেশ আদরণীয়। কারণ নারীরা শাড়ি বা জামার সঙ্গে ম্যাচিং করে চুড়ি পরতে এখন বেশ সচেতন।

চুড়ি নিয়ে কুসংস্কারও আছে। বলা হয়, চুড়ির কারণে স্বামীর নিরাপত্তা যেমন বাড়ে, তেমনি ভাগ্যও ফেরে। আবার চুড়ি অকারণে ভেঙে গেলে স্বামীর বিপদ ঘটে।

আমাদের দেশে বৈশাখে লাল-সাদা বিভিন্ন বর্ণের রেশমি চুড়ি পরে নিজেকে নানাভাবে সাজানোর প্রবণতা নারীদের মাঝে এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার তারাই ভিন্ন উৎসবের দৈনন্দিন পথচলায় দেশপ্রেমের বহির্প্রকাশ ঘটাচ্ছেন পতাকার রং মিলিয়ে লাল-সবুজ রঙের হাত ভরা চুড়ি পরে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে প্রতিটি উৎসবেই বাঙালি নারী চুড়ি সাজের জন্য বেছে নিচ্ছে বিশেষ বিশেষ রংকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি চুড়ি।

হাতভরা চুড়ি পরা বাঙালি সংস্কৃতির একটি অংশ। ফ্যাশনবিদরা বলেন, হাতের গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে দুহাত ভরা চুড়ি হাতের সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দেয়, তেমনি সাজকেও করে পরিপূর্ণ।

একবার এক মহিলা তার স্বামীর সঙ্গে শপিং করতে গেছে। এক পর্যায়ে ওই উন্নাসিক মহিলা এক সেট চুড়ি পছন্দ করল।

‘তুমি এত চুড়ি কেনো। অথচ কোনদিন পরতে দেখি না’ স্বামী অনুযোগের সুরে বলল।

‘চুড়ি পরলে ভেঙে যাবে। তাই চুড়ি পরি না, শুধু কিনি’ মহিলার চটপট জবাব।

হাতপাখাবন্দনা

হাজার হাজার বছর ধরে গ্রামবাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে হাতপাখা। কবি-সাহিত্যিক, বাউল শিল্পীরা হাতপাখা নিয়ে বিভিন্ন গান, কবিতা ও গীত রচনা করেছেন এবং তুলে ধরেছেন এটার সৌন্দর্যমণ্ডিত ঐতিহ্য। হাতপাখা নিয়ে মজার মজার রূপকথা, গল্প-কাহিনীও আমাদের সমাজে প্রচলিত।

আমাদের সমাজে এক সময় হাতপাখা বলতে তালপাখাই বোঝাত। আর সংস্কৃতে তালপাখা ‘তালবৃন্তক’ নামে পরিচিত। পরে কাপড়, বাঁশ ও সুতো দিয়ে হাতপাখা বানানো শুরু হয়। হাতপাখায় নকশা আর ডিজাইনের নতুন মাত্রা এসেছে। পদ¥, শতফুল, উনিশকাঁটা, সঙ্কলন, বরফি, শিঙ্গারা, শক্সখ, আয়নাকোটা, শক্সখপদ¥, ঝুরিফুল, চালতা ফুল, পানপাতা, তারাফুল, চারমাছ, হাতিবান্ধা, মোরগ, চৌখুপি, চক্র নামে হাতপাখার নকশার কথা শোনা যায়। কোনো কোনো নকশার মধ্যে আয়নার টুকরোও বসানো হয়। হাতলে লাগানো হয় বাঁশের একটি নল, যাতে হাতপাখা ঘোরাতে কম বেগ পেতে হয়।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমীর ‘লোকশিল্প’ গ্রন্থে হাতপাখা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ‘উষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত এদেশে খর বৈশাখের দাবদাহ এবং ভাদ্রের আর্দ্রতা মিশ্রিত গরমে হাতপাখা মানুষের নিত্যসঙ্গী। সুতা, বাঁশ, চুলের ফিতা, বেত, খেজুরপাতা, নারকেলপাতা, তালপাতা, কলার শুকনো খোল, পাখির পালক, সুপারির খোল, শোলা, গমের ডাঁটা, মোটা কাগজ প্রভৃতি পাখার উপাদান। এ নিত্যব্যবহার্য বস্তুটি বিশেষ করে মেয়েদের হাত পড়ে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। সুতা, বাঁশ, সরতা বেত ও কলার খোলের শুকনা বেতি দিয়ে পাখা বোনা হয় পাটি বা ম্যাট বোনার কায়দায়। বিভিন্ন মটিফ বা ডিজাইনে এ পাখা তৈরি হয় এবং এগুলোর বিভিন্ন নামও রয়েছে। এর মধ্যে পানগুছি, কেচিকাটা, তারাজো, পুকুই রাজো, ধানছড়ি, ফলং ঠেইঙ্গা, ফড়িংয়ের ঠ্যাং, রাবণকোডা, নবকোডা, কবুতর খোপ, মাকড়ের জাল, পদ¥জো, কামরাঙ্গা জো, ধাইড়া জো, সুজনি জো, চালতা ফুল, কাগজ কাটা, হাতি, মরিচ ফুল, আটাসান, শক্সখলতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য’।

কাপড় ও সুতো দিয়ে হাতপাখা বানাতে গেলে প্রথমে বাঁশের কাঠি দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে নিতে হয়। এর ওপরেই সুতো অথবা কাপড়ের নানা বুনন। বৃত্তের পরিধিতে জুড়ে দেওয়া হয় রঙিন কাপড়ের ঝালর।

গরমে অতিষ্ঠ ইংলিশ বেনিয়ারা এ দেশে ল¤¦া কাঠের সঙ্গে লাল শালুতে কিনার মোড়ানো পাটি জুড়ে দিয়ে আংটা লাগানো আর ছাদে ঝোলানো বিশেষ পাখা উদ্ভাবন করেছিলেন। দূরে বসে দড়ি বাঁধা এই পাখা যারা মৃদুলয়ে টা

জাহান হাসান একুশ নিউজ মিডিয়া

হাতপাখা

নতেন তাদের বলা হতো ‘পাক্সখাবরদার’। এক সময় আদালতের এজলাসেও এসব পাখা দেখা যেত।

তবে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণার কারণে হালে হাতপাখা পল্লীজীবন ছাপিয়ে নগরজীবনেও বেশ পোক্ত স্থান করে নিচ্ছে।

নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য এক সময় বাঁশ অথবা তালপাতার ডাঁটিতে বোনা তালপাখাই ছিল গরমে স্ব¯ি— পাওয়ার সম্বল। তবে বহনে অসুবিধা থাকায় নগরজীবনে ফোল্ডিং হাতপাখার প্রচলন বাড়ে। কথাটাকে আরো সহজভাবে বললে এভাবে বলা হয়, দৃষ্টিনন্দন চীনা হাতপাখার কাছে দেশি হাতপাখা টিকে উঠতে পারছে না। শিক্ষার্থীরাও এখন বইয়ের ঝোলায় ফোল্ডিং হাতপাখা বহন করছে। বিশেষত অসহ্য রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ব্যাগে এই জাতীয় পাখা রাখার ফায়দা অনেক। পাবলিক বাসেও এখন অনেককে হাতপাখা বুলোতে দেখা যায়।

হাতপাখায় জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যও। বৈশাখী মেলা থেকে শুরু করে যে কোনো বাঙালি উৎসবেই হাতপাখার থাকে আলাদা কদর। গরমে আরাম পাওয়াই হাতপাখার মৌল উদ্দেশ্য হলেও প্রযুক্তি ও ফ্যাশনের উৎকর্ষে এটি ধারণ করছে শৈল্পিক রূপ।

এক সময় জমিদার বাড়ির হাতপাখাগুলো হতো ঝালর লাগানো এবং বিশাল আকৃতির। সেসব পাখা রেশম বা সাটিনের কাপড়ের ওপর সুতা, জরি এমনকি সোনা-রুপা দিয়েও কাজ করা থাকত। এখন অনেকের ড্রয়িংরুমে নানা ডিজাইনের হাতপাখা শোপিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

প্রাচীন কারুশিল্প হাতপাখার যাত্রা কোথায় এবং কাদের মাধ্যমে ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেটা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। তবে ভ্যাপসা গরমে হাতপাখা নাড়িয়ে বাতাসে দোলাচল সৃষ্টি গরম হাওয়া সরিয়ে অপেক্ষাকৃত শীতল হাওয়া প্রবাহের উদ্দেশ্যেই হাতপাখার ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। আর গরমে এটার উপযোগিতা প্রমাণিত হওয়ার পর সময়ের ব্যবধানে এটা রূপান্তরের পথ বেয়ে একটি অলঙ্করণময় শিল্পে পরিণত হয়। এখনো ধর্মীয় ও রাজকীয় অনুষ্ঠানে কারুকাজমণ্ডিত হাতপাখার প্রচলন রয়েছে।

প্রত্নতাত্তিক সাক্ষ্য থেকে ধারণা করা হয় ভারতবর্ষ, চীন, জাপানসহ প্রাচ্যের কয়েকটি দেশে হাতপাখার ব্যবহার ছিল। আবার প্রাচীনকালে মধ্যপ্রাচ্যে পশুর চামড়ার তৈরি অলঙ্কৃত হাতপাখার সন্ধান পাওয়া গেছে। এটার হাতলে গাছের ডালের অংশ অথবা পশুর হাড় লাগানো থাকত।

এক সময় গ্রামের ললনারা হাতপাখা তৈরি করে রঙিন সুতা দিয়ে ‘ভুলো না আমায়’ বা ‘যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভোলে না মোরে’- টাইপের ছন্দ লিখত। আবার রোদেলা দুপুরে দুরন্ত কিশোর দলের হাতে শোভা পেত কারুকাজের তালপাখা। আর মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরা গাছের ছায়ায় বসে তালপাখা হাতে বাতাস করতে করতে দূরের রাখাল ছেলেটির বাঁশির সুর শুনত।

অন্যদিকে ক্লান্তপরিশ্রান্ত কৃষক মাঠ থেকে ফেরার পর কিষাণী ব্যস্ত হয়ে পড়ত হাতপাখার শীতল পরশে তাকে জুড়িয়ে দিত।

আসলে হাতপাখার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে থাকতে পারে গ্রামীণ নারীর আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ নাম না জানা কত্ত কাহিনী। হাতপাখা বুনন ছিল আবহমান গ্রামবাংলার চিরাচরিত অতি পরিচিত দৃশ্য। প্রযুক্তি আর যান্ত্রিকতার দাপটে নাগরিক জীবনে হাতপাখার প্রচলন এখন কমে গেছে। তারপরও ভয়াবহ লোডশেডিংকালে বিপর্যস্ত নগরবাসী ক্ষণিকের জন্য হলেও মনে করেন হাতপাখার শীতল পরশ বা বাতাসের কথা। কেউ কেউ অসহ্য গরমে স্বস্তি পেতে এখনো হাতপাখার দ্বারস্থ হন।

আজকাল হাতপাখা ফ্যাশনের উপাদানে পরিণত হয়েছে। তালপাখার পাশাপাশি বাহারি রং ও ডিজাইনে প্লাস্টিক, বেত, ব্যাকেলাইট, কাগজ দিয়ে হাতপাখা তৈরি করা হয়। এছাড়া অধিকাংশ হাতপাখার হাতল হিসাবে জুড়ে দেওয়া হয় বাঁশের চিকন কাঠি, বেত অথবা লাঠি। তবে আজকাল কাপড় ও সুতার কারুকার্যমণ্ডিত বাহারি ধরনের হাতপাখা পাওয়া যাচ্ছে। এতে যুক্ত হচ্ছে হরেক রকমের রং ও সুতা, ফলস, শাড়ির পাড় ও লেস।

‘আমার নাম তালের পাখা শীতকালে দেই না দেখা, গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা’- এটি আমাদের দেশের গ্রামবাংলার একটি পুরনো প্রবচন। এখনো গরমে আমরা হাতপাখার ওপর নির্ভরশীল। চাহিদা থাকায় অভিজাত বুটিক বাড়ি কিংবা ফ্যাশন হাউসগুলোও নজর দিচ্ছে বাহারি হাতপাখার ওপর। এসব হাতের পাখা নানা ঢং আর রঙে চলে আসছে অভিজাত ড্রইংরুমের সৌন্দর্য বাড়ানোর উপকরণ হয়ে।

একাধিক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ জোয়ারা গ্রামের হাতপাখা এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। মান ভালো হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও সৌদি আরব, জার্মানি, দুবাই, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশে এখানকার পাখার চাহিদা বাড়ছে।

বোশেখের কাঠফাটা রোদে লোডশেডিং নগর জীবনে উত্তাপ বাড়ায়- দিনে রাতে সমানে। মাথার ওপর তিন পাখাওয়ালা যন্ত্রটা নিশ্চল ঝুলে থাকে। ঘামভেজা দেহটাকে এক বিন্দু স্বস্তি দিতে সবার চোখ যায় হাতপাখাটার দিকেÑহোক না তা তালপাতা, কাপড়, প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত কাঠ অথবা কাগজের। অসহ্য গরমে হাতপাখাই হয়ে গেছে দিনে-রাতের সঙ্গী। হাতপাখা ছাড়া নগরজীবন চলে কী করে? ২০১১ সালের নববর্ষের একটি বাড়তি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিনে পয়সায় কাগজের হাতপাখা বিতরণ। এটার মানবিক দিক থাকলেও পণ্যের বিজ্ঞাপনই ছিল মুখ্য। রমনা, চারুকলা, টিএসসি, শিল্পকলা প্রান্তর ঘুরে দেখা গেছে, সিঙ্গার, ইমাম টেলিকমসহ কমপক্ষে ১৫টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিনে পয়সায় কাগজের হাতপাখা বিলিয়েছে। এক সময় এ দেশে তালপাখার ব্যাপক প্রচলন ছিল। বাঁশ, বেত ও কাপড় দিয়েও তা তৈরি হতো। কিন্তু ঠিক কবে এ দেশে হাতপাখার প্রচলন হয়েছিল, তার কোনো লিপিবদ্ধ বা প্রত্নতাত্তিক প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। মুঘল আমলে হাত-টানা পাখার প্রচলন দেখে এটা অনুমান করা যেতে পারে, পরবর্তীকালে জমিদার ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোতে হাতটানা পাখার প্রচলন ঘটে।

পশ্চিমা বিশ্বসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে হাতপাখা ফ্যাশন সামগ্রী হলেও আমাদের দেশে তা নয়। বিদ্যুতের কল্যাণে নগরজীবন থেকে হাতপাখা বিদায় নিয়েছে। কিন্তু লোডশেডিংই হাতপাখাকে নগরজীবনে ফিরিয়ে আনছে। হাতপাখা মূলত কুটির শিল্প হলেও হালে প্লাস্টিকের হাতপাখা চোখে পড়ে। তারপরও এটা সুসংঘবদ্ধ শিল্পে পরিণত হতে পারেনি। তাই দেশে এ পণ্যটির চাহিদার প্রকৃত পরিসংখ্যান জানার উপায় নেই। তবে লোডশেডিং এ শিল্পের পুনরুজ্জীবনে ভমিকা রাখছেÑ এমন দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। লোডশেডিং অভিশাপ কাটানো গেলে হাতপাখা আমাদের ফ্যাশন পণ্য হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশিদের জীবনে হাতপাখার প্রচলন বাড়ছে। লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা আর কাঁহাতক সহ্য করা যায়? তপ্তদেহে এক চিলতে শাšি—র পরশ বুলাতে হাতপাখার বিকল্প নেই।

বিশ্বে শিল্প, হাতির দাঁত, পশুর হাড়, মাইক, চন্দনকাঠ, মুক্তো এমনকি কচ্ছপের খোল দিয়েও হাতপাখা তৈরির প্রমাণ রয়েছে।

জাপানে হাতপাখার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য অনেক। ওখানে এটা বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা ও শুভ কামনার প্রতীক। জাপানি নাচেও হাতপাখার উপস্থিতি চোখে পড়ে।

ইতিহাসে রয়েছে, ১৫শ শতকে পর্তুগিজ বণিকরা চীন ও জাপান থেকে হাতপাখা আমদানি করে পশ্চিমা বিশ্বে তা ছড়িয়ে দিয়েছে। ১৬শ শতকে চীনা ভাঁজ করা হাতপাখা ইউরোপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফোল্ডিং ফ্যান হাতে ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের একটি প্রোর্ট্রেট এখনো রাজপরিবারে সংরক্ষিত রয়েছে। এ কারণে বলা হয়, হাতের মুঠোয় ঠাঁই পাওয়া হাতপাখাই একটি জাতির ইতিহাস, ভূগোল ইতিহাসের গল্প বলে। মিসর, ব্যবলিন, আজটেক, ইনকা, পারস্য, গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় হাতপাখার প্রচলন ছিল। তবে এটার আবিষ্কারক কারা, তা জানা যায়নি।

রেশম, পাখির পালক, হালকা ধাতু পাত দিয়েও হাতপাখা তৈরি হয়। এটাতে হ্যাড পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি পুতি, ক্রিস্টাল ও ফিতা লাগানো হয়।

হাতপাখা নিয়ে প্রচলিত কৌতুক এ রকম :

একদিন এক সর্দারজি ট্রেনে চেপে কোথাও যাচ্ছিলেন। সেদিন ছিল প্রচণ্ড গরম। তাই সর্দারজিসহ অনেকেই ফেরিওয়ালার কাছ থেকে হাতপাখা কিনে বাতাস করতে লাগলেন। অথচ এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যেতে না যেতেই সবার হাতপাখা খুলে নষ্ট হয়ে গেল।

কিন্তু সর্দারজির হাতপাখাটা একদম নতুনের মতোই আছে। এটা দেখে অবাক হয়ে একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘সর্দারজি, আপনার হাতপাখাটি এখনো নতুনের মতো আছে কী করে?’ সর্দারজি বললেন, ‘আরে মশাই, আমি আপনাদের মতো বোকা নাকি? টাকা দিয়ে হাতপাখা কিনেছি কি নষ্ট করার জন্য? আমি তো হাতপাখা মুখের কাছে ধরে শুধু মাথাটা নড়াচড়া করেছি।’

সূত্রঃ সাপ্তাহিক ২০০০

‘প্রেম ব্যবসা’


ছাতার নিচে টক-মিষ্টি প্রেম- স্পট : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান  

গতকাল দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উদ্যানের ভেতরদিকের বেশ কয়েকটি স্পটে লাল-নীল রঙিন সব ছাতা। নিচে বসার জন্য লাল চেয়ার। দেখলে সাগর সৈকতের বেলাভূমির মতো মনে হয়। চেয়ারগুলোতে জোড়ায়  জোড়ায় প্রেমিকযুগল বসে আছে।
 সন্ধ্যার পর এ দৃশ্যাবলী যেন আরো মনোরম। চেয়ারগুলোর চারপাশে লাল কাপড় দিয়ে ঘেরা থাকে। ভেতরে আলো-আঁধারিতে চলে প্রেম-যুগলের প্রেমলীলা। এসব ছাতার নিচের প্রেমকে স্থানীয়রা ‘প্রেম ব্যবসা’ বলেই নাম দিয়েছে। আর সাধারণের আইওয়াশের জন্য এখানে মূলত বেচাবিক্রি হয় চটপটি। কিন্তু টক-ঝাল-মিষ্টি এ ব্যবসার আড়ালে চেয়ারে বসে নিরাপদে চলে প্রেমলীলা। শেষ হলে আয়োজক বা ব্যবসায়ী যা-ই বলা হোক না কেন তাদের হাতে তুলে দিতে হয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বিল। মাঝেমধ্যে বাড়তি কিছু।
বাবুল নামের এক দোকানির কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে জানায়, কাপড়ের ভেতরে বসে আড্ডা মারলে আপনি নিরাপদ। আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কিন্তু এর বাইরে পার্কের যেখানেই আড্ডা দিতে বসবেন; সেখানেই আপনাকে বখাটে ছেলেরা উত্ত্যক্ত করবে।
 কখনো কখনো প্রেমিকাকে টানাটানির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এসব চেয়ারে বসে আড্ডা দিলে আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কারণ এসব বসার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতারা। তাদেরই শেল্টারে এ প্রেম ব্যবসা চলে থাকে। গতকাল দুপুরে পুরো উদ্যানজুড়ে ৫০-৫৫টি চটপটির দোকান দেখা যায়।
 অনেকগুলো আবার গুটিয়ে শিকল দিয়ে একসঙ্গে করে বেঁধে রাখা হয়েছে। দিনের বেলা এসব দোকান বন্ধ থাকে। বিকেলের পরপর খুলে দেয়া হয়। তখন দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০-৭৫টি।
দোকানি বাবুল, শফিক, মামুন ও বাবর জানান, এখানে দোকান চালাতে প্রতিদিন দোকান প্রতি তাদের ২শ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
লোকমান নামের একজন ওই টাকা তুলে ছাত্রনেতাসহ পুলিশকে দিয়ে থাকে। চাঁদার টাকা নিয়ে ছাত্র সংগঠনের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হয়েছে কয়েকবার। সন্ধ্যার পর বখাটেরা মাদক ব্যবসাও করে ওখানে। এছাড়া ভাসমান অনেক পতিতা এসেও জড়ো হয়।
মাঝে শাহবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালালেও পরে আবার দোকান বসে। প্রেমব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। তবে স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বহিরাগত অনেক প্রেমিক-প্রেমিকারা নিয়মিত আসে এখানে। ফলে চটপটি দোকানিদের এ ‘প্রেম-বাণিজ্য’ বেশ জমজমাট।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি জানান, পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এরপর আবার তারা শুরু করে। তাছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ধরলেও বিভিন্নরকম সমস্যা দেখা দেয়। তবু আমরা সবসময় উদ্যানের পরিবেশ যেন খারাপ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখি।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


সৌন্দর্য ও প্রেমের সৃষ্টি নর-নারীর যৌথতায়


সৌন্দর্য ও প্রেমের সৃষ্টি নর-নারীর যৌথতায়

ফখরুল ইসলাম মাসুদ

মানুষের ভিতরের অনুভূতি শক্তি, চিন্তা করার বিশেষ ক্ষমতা সব কিছুই সৌন্দর্যের মাত্রা নির্ণায়ক! নর সচরাচর সাদা চামরাকে সৌন্দর্যের প্রতিক হিসাবে বিবেচনা করে। কোন নারীর সাদা চামরা কখনোই সৌন্দযের্র বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না। একটা তাজা গোলাপ ঘন্টার পর ঘন্টা চোখের দেখায় বিশ্রী লাগতে পারে আবার কচুরী পানার ফুল এক পলকে মন জয় করতে পারে। যদিও কচুরী পানা নালা-নর্দমায় জন্মে তবুও সে তার সৌন্দর্য্য দিয়ে জয় করে হৃদয়।

সৌন্দর্য শব্দটি যত সুন্দর এর ভিতরে বিপত্তি ততই লক্ষণীয়। নর নারী সৌন্দর্যে উন্মুখ হয়ে জগতের মাঝে আকর্ষণীয় ভুলগুলো করে। আর সৌন্দর্য থেকেই কামের আসক্তি ঘটে! জগতে নর-নারী উভয়ে কামুক হতে পারে কিন্তু নারী অপেক্ষা নর একটু বেশীই সৌন্দর্য প্রিয়। এটা নরের জন্মগত দুর্বলতা।

শেক্সপিয়র লিখেছেন, “সৌন্দর্য কামের সঞ্চার করে। পাকা ফলে যেমন রস টুইটুম্বুর থাকে তুমিও তেমনি রসের সঞ্চার করো। শেক্সপিয়ারের কাব্য অনুযায়ী সৌন্দর্যের মাঝে রস থাকে। আর রসের মধ্যেই তৃষ্ণা মেটাবার উপকরণ থাকে। কিন্তু ফলে রস হয়ে কামনা নিবৃত্তির মহৌষধ! স্পষ্ট হয় যে, সৌন্দর্যই কি অসৌন্দর্য প্রধান কারণ? সৌন্দর্যই কি বাস্তবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য দৈত-দানব? না, সৌন্দর্য্য শব্দটিকে এভাবে দেখার কোন যৌক্তিকতা নাই। মানসিকতাই এখানে মূল চালিকা শক্তি। নর নারীর সৌন্দর্য্য পাগল, এতে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু নর যখনি দেহের সৌন্দর্য্য আকৃষ্ট হয় বিপত্তি ঘটে ঠিক তখনি নর-নারী সৌন্দর্যের পূজারি থাকে না; হয়ে ওঠে ধর্ষক।

‘ … বুদ্ধি লোপ পেলে মানুষ যেমন নিজেকে চিনতে পারে না ঠিক তেমনি প্রেম না থাকলে দৈহিক সুখে প্রশান্তি আসে না; সুখকে বড় অপরিচিত মনে হয়। তাকে হাতের কাছে পেয়েও স্পর্শ করা যায় না। আর এর জন্য মানুষ প্রেম করে। …”

যে সব দেশে অধিকাংশ মানুষ অনাহারী, সেখানে মাংসল হওয়া রূপসীর লক্ষণ। এজন্যেই বাংলা ফিল্মের নায়িকাদের দেহ থেকে মাংস ও চর্বি উপচে পড়ে। ক্ষুধার্ত দর্শকেরা সিনেমা দেখে না, মাংস ও চর্বি খেয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করে।

বিখ্যাত লেখিকা নির্মলা শী বলেছেন, ‘প্রেম মানেই শরীর কদাপি নয়, কিন্তু পুরুষের কাছে প্রেম মানেই শরীর। একমাত্র নারী প্রেমের মানে বোঝে। অবশ্য পুরুষ যৌনতারও মানে বোঝে না। প্রতিটি পুরুষই আসলে ধর্ষক’। সত্যি কি তাই! প্রতিটা পুরুষ আসলেই কি ধর্ষক? ধরে নিলাম বিবেক বিসর্জন দিয়ে হলেও নর ধর্ষক। কিন্তু নারী? নারী কি দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নাকি পরিস্থিতির শিকার? এই প্রশ্নের জবাবে প্রায় সকল নারী নিজেকে শুদ্ধ প্রমাণের নিমিত্তে এক বাক্যে বলে উঠবে, আমরা পরিস্থিতির শিকার। এখানেই নারীরা এগিয়ে। নারীরা জন্মগত ভাবে নরম/ কোমল হয় তাই তাদের চোখের দু‘ফোটা জল রাজ্য জয় করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু পক্ষান্তরে নর বরাবর নারীর সৌন্দর্যের শিকার! যদিও এর পুরো দায়দায়িত্ব নরের কাধেই উঠে। যদি নারী কিছুটা সাবধানী হলে সৌন্দর্যের মাঝে থেকেও সৌন্দর্য উত্তাপে নরের পায়ে শৃ´খল ওঠে। আর তা উভইয়ের জন্য কল্যাণকর হয়। সৌন্দর্যানুভূতির একটি বিশেষ দিক হল বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সৌন্দর্যানুভূতি। আর এখানেই প্রেমের জন্ম হয়, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের অপর নাম কাম অথবা সেক্স! কিন্তু সেক্স এবং প্রেম একই জিনিস! এও সম্ভব? এটা কখনো কি হতে পারে? অনন্যা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘সেক্স আর প্রেম যদি আলাদা জিনিস হয়, ওয়াটার ও জলই বা ভিন্ন বস্তু নয় কেন? ওয়াটার ও জল এক হলে সেক্স আর প্রেম ভিন্ন হয় কোন সাহসে! এ যেন এক দেয়ালের এপিঠ ওপিঠ। তাহলে প্রশ্ন করা স্বাভাবিক, মানুষ তাহলে প্রেম করে কেন? একবারে সেক্স করলেই তো হয়; কিন্তু তা করে না কেন? বুদ্ধি লোপ পেলে মানুষ যেমন নিজেকে চিনতে পারে না ঠিক তেমনি প্রেম না থাকলে দৈহিক সুখে প্রশান্তি আসে না; সুখকে বড় অপরিচিত মনে হয়। তাকে হাতের কাছে পেয়েও স্পর্শ করা যায় না। আর এর জন্য মানুষ প্রেম করে।

‘ …We are at a crossroads. If we don’t want to cede the discourse to Regressives, Progressives of all stripes had better put forward a sexual ethic that works humanely and lovingly. Few people want sexual anarchy, especially as regards their children. We need standards that allow our sexual interactions to enhance and express the beauty and uniqueness of our souls. Such standards would not be rule-based, but relationship-based. We must look at the quality of our interactions and ask, “Does this affirm and respect the wholeness of the individuals involved? Does it increase the odds on love? Does it honor and celebrate Life Itself, in all its variety?” If so, there are qualities, which are more likely than not to be present: regard, mutuality, caring, choice, honesty, openness, and a willingness to be fully present. These qualities constitute sexual and relational integrity. They make way for authentic intimacy, and the flow of erotic love that connects us far beyond our ability to understand or control it.
We can stand for love and responsible relationship, in all its shapes and sizes, as a positive moral force, or risk losing the gains of the past half-century to fear and control. When sex loses its relationality, it becomes mere pornography. In the absence of life-affirming sexual ethics, it would be tragic and shameful to return to the destructive strictures of the past, which destroyed countless lives and cannot, by the standards of love and respect, be called moral at all. …” More: http://www.huffingtonpost.com/w-hunter-roberts/sexual-anarchy-and-other-_b_906829.html