লস এঞ্জেলেসে বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিল


লস এঞ্জেলেসে বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিল

বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠানের ছবি 2013:
icon

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত ২৮ জুলাই লস এঞ্জেলসের দ্য বেভারলি গারল্যান্ড হলিডে ইন হোটেলের বলরুমে কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেসের (বাফলা) ২০১৩-১৪ সনের নতুন পরিচালনা কমিটির এক অনাড়ম্বর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
 বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস বাফলা  BUFLA 2013-14 Cabinet  (R-L) President Shiper Chowdhury, Faruque Howlader - Public Relations Secretary, Mohammad Amzad Hossain - Organizing Secretary, Layek Ahmed - Finance secretary, Abul Hasnath Rayhan - Vice President, Anjuman Ara Sheulee - General Secretary

বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস বাফলা
BUFLA 2013-14 Cabinet
(R-L) President Shiper Chowdhury, Faruque Howlader – Public Relations Secretary, Mohammad Amzad Hossain – Organizing Secretary, Layek Ahmed – Finance secretary, Abul Hasnath Rayhan – Vice President, Anjuman Ara Sheulee – General Secretary


স্বাগত বক্তব্যে ২০১২-১৩ সনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ড্যানি তৈয়েব বলেন, গত সাত বছরে আগে লস এঞ্জেলেসের প্রায় সকল সংগঠন নিয়ে গঠিত এই ফেডারেশন বর্তমানে প্রবাসে সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

তিনি তার টার্মে থাকাকালীন ২০১৩ সালের সফল বাফলা প্যারেডসহ প্রথম ঈদ রিইউনিয়ন ও মেলা, একুশে ফেব্রুয়ারী উদযাপন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ও এল এ সিটির সহযোগীতায় ফ্রি হেলথ ক্লিনিক ও সেমিনার, জব ফেয়ার, দেশে-বিদেশে দুর্গতদের সাহায্যার্থে ফান্ডরেইজিং সহ মূলধারায় বাংলাদেশীদের সম্মানজনক অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করতে লস এঞ্জেলেসের বুকে লিটল বাংলাদেশ সৃষ্টি ও সাম্প্রতিক মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়রের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় অংশগ্রহনের বর্ননা দেন।

This slideshow requires JavaScript.


অনুষ্ঠান শুরু হয় মোঃ আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় হামদ, নাথ ও সুরা আবৃত্তি প্রতিযোগীতা দিয়ে। বাফলার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট ড্যানি তৈয়েব পুরষ্কার বিতরণ করেন ও নতুন কমিটিকে স্বাগত জানান। নতুন প্রজন্মের চোখে গত বছরে বাফলার উল্লেখ্যযোগ্য কার্যক্রম নিয়ে আদনান তৈয়েবের স্লাইডশো পরিবেশিত হয়। বাফলার এক্সিকিউটিভ মেম্বারসহ কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বাফলার কার্যক্রম নিয়ে বক্তৃতা দেন। বাফলার বোর্ড অব ট্রাষ্টির চেয়ারম্যান নাসিমুল গনি ও সদস্য টিয়া হাবিব নতুন কমিটির নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান।

নবনির্বাচিত ক্যাবিনেট সদস্যরা হলেন, সভাপতি শিপার চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল হাসনাত রাইহান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান আরা শিউলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, পাবলিক রিলেশন সম্পাদক ফারুক হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ লায়েক আহমেদ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক দিলুর চৌধুরী।

নুতন ক্যাবিনেটকে শুভেচ্ছা, শুভকামনা ও সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করে বক্তব্য দেন ডাক্তার এম এ হাশেম, খন্দকার আলম, আবুল কাশেম তোহা, নজরুল ইসলাম কাঞ্চন, নজরুল আলম, সালেক সোবহান, শামসুদ্দিন মানিক, সাইফ কুতুবী, জাকির খান, এনামুল হক এমরান, প্রফেসর আলী আকবর, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, এম কে জামান, মুমিনুল হক বাচ্চু, ওমর হুদা, মুজিব সিদ্দীকি, সালেহ কিবরিয়া, জসিম আশরাফি আহমেদ, বাফলার প্রতিষ্ঠাতা ডঃ মাহবুব খান প্রমুখ।
ইফতারী, নামাজ ও ডিনারের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

প্রবাসে সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশ নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক জাহান হাসানকে ক্রেষ্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

#jahanhassan #জাহানহাসান #বাফলা #BUFLA #littlebangladesh #লিটলবাংলাদেশ

BUFLA Awarded to Jahan Hassan in recognition for outstanding contributions to Bengali Literature, Language, Journalism and Media.
This Award honors public service journalism that explores and exposes an issue of importance to immigrant in the United States. #jahanhassan

বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠানের পরে সামাজিকতার ছবি 2013
icon

Social gathering after BUFLA Iftar & inauguration 2013 Pictures


http://goo.gl/Zv26yM
Activities of BUFLA’s Slide Show :

Advertisements

ক্যালিফোর্ণিয়ায় বিএমএ নর্থ আমেরিকার ৩৩তম বাত্সরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত


ক্যালিফোর্ণিয়ায় বিএমএ নর্থ আমেরিকার ৩৩তম বাত্সরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত
আধুনিক চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষার উন্নয়নে প্রবাসী চিকিৎসকদের দ্বায়িত্ববোধ ও মমতা বাংলাদেশ ও প্রবাসের মধ্যকার বন্ধনকে আরো সম্প্রসারণ ও জোরদার করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হল বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (বিএমএএনএ) ৩৩তম বাত্সরিক কনভেনশন ২০১৩।

আধুনিক চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষার উন্নয়নে প্রবাসী চিকিৎসকদের দ্বায়িত্ববোধ ও মমতা বাংলাদেশ ও প্রবাসের মধ্যকার বন্ধনকে আরো সম্প্রসারণ ও জোরদার করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হল বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (বিএমএএনএ) ৩৩তম বাত্সরিক কনভেনশন ২০১৩।

আধুনিক চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষার উন্নয়নে প্রবাসী চিকিৎসকদের দ্বায়িত্ববোধ ও মমতা বাংলাদেশ ও প্রবাসের মধ্যকার বন্ধনকে আরো সম্প্রসারণ ও জোরদার করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হল বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (বিএমএএনএ) ৩৩তম বাত্সরিক কনভেনশন ২০১৩।

গত ৪ঠা জুলাই থেকে ৭ই জুলাই ডিজনীল্যান্ড খ্যাত অরেঞ্জ কাউন্টির হায়াত রিজেন্সী হোটেলের সাউথ হলে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশাল আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের স্বাগত জানান ক্যালিফোর্ণিয়া চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ও বাত্সরিক কনভেনশন ২০১৩’র কনভেনর ডাঃ প্রদীপ চৌধুরী।

কনভেনশনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল কন্টিনিউয়িং মেডিক্যাল এডুকেশন বা চিকিৎসা শিক্ষা হালনাগাদকরণ সেমিনার। এই প্রাণবন্ত সেমিনারে অনেক দেশী-বিদেশী চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রবাসী চিকিৎসকদের মাঝে নেটওয়ার্কিং ছাড়াও তিনদিনব্যাপী কনভেনশনে ছিল শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পোস্টার প্রদর্শনী।

BMA President Dr Mahmud Hasan (R) BMANA President Dr Maksud Chowdhury

BMA President Dr Mahmud Hasan (R) BMANA President Dr Maksud Chowdhury


তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় আরো ছিল বিএমএএনএ’র কার্যক্রমের বিবরণসহ নব নির্বাচিত কার্যকরী কমিটি ও ক্যালিফোর্ণিয়া চ্যাপ্টারের পরিচিতি, বিভিন্ন প্রতিযোগীতার পুরষ্কার বিতরণ। অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য, উপস্থাপনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বিএমএএনএ’র সভাপতি ডাক্তার মাকসুদ চৌধুরী, ডাঃ প্রদীপ চৌধুরী, ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, ডাঃ তালাত খান, ডাঃ রুবিনা নাজীব, ডাঃ সোমা বড়ুয়া, ডাঃ সালমা খান, ডাঃ রুমান রইস, ডাঃ নাসিমা, ডাঃ শামীম ঝিমলি, ডা: তনিমা শাহিদ ও প্রাক্তন সভাপতিবৃন্দ সহ অনেকে। ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বিভিন্ন প্রতিযোগীতার অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন ডাঃ রুবী হোসেন।
IMG_1955085

কন্স্যুলেট জেনারেল অফিস অফ বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেসের মাননীয় কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন ও বিএমএএনএ’র সভাপতি ডাক্তার মাকসুদ চৌধুরী (L)


সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কন্স্যুলেট জেনারেল অফিস অফ বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেসের মাননীয় কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ থেকে আগত বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ মাহমুদ হাসান প্রমুখ। ডাঃ মাহমুদ হাসান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিএমএএনএ-এর অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, বিএমএএনএ-এর ব্যানারে প্রবাসী চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা সহ বিভিন্ন চ্যারিটিতে অংশগ্রহণ করার জন্য নিয়মিত বাংলাদেশে আসেন এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন দুর্ভোগ, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএমএ নর্থ আমেরিকার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ (গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভ)-এর সক্রিয় সহযোগী হিসাবে প্রবাসী চিকিৎসকদের যুক্তরাষ্ট্রে নীতি-নির্ধারনীতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

BMANA
চিকিত্সা ও মানব সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের সম্মাননাসহ সর্বোপরি উত্তর আমেরিকা চিকিৎসক সম্মেলনের মূল আকর্ষন ছিল স্থানীয় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দসহ ডিনার ও সারম্বর উপভোগ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় একাডেমীর নৃত্যশিল্পীদের ক্লাসিক্যাল ও বাউল নাচ, লক্ষণ বাউলের বাউল গান, উচ্চাঙ্গ সংগীত সহ কমেডিয়ান নাভিদ মাহবুব ও স্থানীয় ব্যান্ড রয়েল হার্টস-এর সাথে সামিনা চৌধুরীর একক মন-মাতানো সঙ্গীতানুষ্ঠান।

স্বাগতিক সংগঠন বিএমএএনএ ক্যালিফোর্ণিয়া চ্যাপ্টারের সহযোগীতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে নর্থ আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০০’র অধিক বাংলাদেশী চিকিৎসক ও তাদের পরিবার-পরিজন যোগ দেন।
IMG_2116185
IMG_2152204

IMG_2219254
Pic Link:
Bangladesh Medical Association of North America – Main Program
http://goo.gl/ybQYA
BMANA Convention 2013 – hanging out in hotel lobby
http://goo.gl/UfuSZ
BMANA Convention 2013 – Cultural Evening
http://goo.gl/4tu8S
Samina Chowdhury at BMANA 2013 Convention in Orange County, CA
http://goo.gl/FcBHk
Bangladesh Medical Association North America,California chapter FaceBook Page
http://goo.gl/L1lEK
https://www.facebook.com/groups/littlebangladeshlosangeles/
###
http://bmanaca.org/
http://bmana.org/
http://www.bma.org.bd
——————–
জাহান হাসান
একুশ নিউজ মিডিয়া, লস এঞ্জেলেস
1 818 266 7539
Editor@Ekush.info

কানাডা-প্রবাসী বাংলাদেশী দুই নাগরিকের মাস্টার কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের কেনাকাটা করা হয়েছে ঢাকায়


মাস্টার কার্ড জালিয়াতি
সাকিব তনু

কানাডা-প্রবাসী বাংলাদেশী দুই নাগরিকের মাস্টার কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের কেনাকাটা করা হয়েছে ঢাকায়। প্রবাসী দুজন হলেন রহমান মোল্লা ও তার মেয়ে ফারজানা বেগম। জালিয়াতির কাজটি করেছে ঢাকায় বায়তুল মোকাররমের ইমরান জুয়েলার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
রহমান মোল্লা ও ফারজানা বেগম কানাডার ব্যাংক অব মনট্রিয়লের টিডি ভিসা কার্ড এবং এমবিএনএ মাস্টার কার্ড ব্যবহার করেন। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রহমান মোল্লার কার্ডে ইমরান জুয়েলার্স ও বাটার ফ্লাই মার্কেটিং ঢাকা অফিস থেকে তিনটি লেনদেনের মাধ্যমে ২৩ হাজার ১১৫ কানাডিয়ান ডলারের পণ্য কেনা হয়। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি ফারজানা বেগমের কার্ডে একই জুয়েলার্স থেকে ১১টি লেনদেনের মাধ্যমে ৪০ হাজার ৬৯৭ কানাডিয়ান ডলারের পণ্য কেনা হয়। অথচ তারা সে সময় দেশে ছিলেন না।
বাংলাদেশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে এ লেনদেন হয়। লেনদেন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ইমরান জুয়েলার্সের প্রায় ২০ লাখ টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আটকে দিলেও তা তখন বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করেনি ব্যাংকটি। যদিও মানি লন্ডারিং আইন, ২০০৯-এর ২৫ ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট করার বিধান রয়েছে।
পরে প্রতারিত এ দুই গ্রাহকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মাস্টার কার্ডের বিধান অনুযায়ী তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘন করার কারণে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কাছে জবাব চাওয়া হবে ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বায়তুল মোকাররমে একসময় ইমরান জুয়ালার্স থাকলেও বর্তমানে এ নামে কোনো দোকান নেই। ইমরান জুয়েলার্সের কর্ণধার নুরউদ্দিন ইমরান পরে বুলবুল ও একতা জুয়েলার্স নামে দুটি নতুন দোকান চালু করলেও সম্প্রতি বুলবুল জুয়েলার্স ছেড়ে দিয়েছেন। এখন তিনি একতা জুয়েলার্স ও ইমরান আর্মস নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। গতকাল ইমরান আর্মসের ম্যানেজার পরিচয় দেয়া জিতু জানান, নুরউদ্দিন ইমরান ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে আছেন। কবে ফিরবেন তা তার জানা নেই।
জানা যায়, কানাডিয়ান ব্যাংক দুই গ্রাহকের কাছে যখন আর্থিক বিবরণী পাঠায়, তখন তাদের কাছে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ভুক্তভোগীরা আইনজীবীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কাছে গ্রাহকের আন্তর্জাতিক মাস্টার কার্ড ও ভিসা কার্ডের লেনদেনের বিবরণী চেয়ে পাঠান। ব্যাংকটি এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকেও অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইমরান জুয়েলার্সের কর্ণধার নুরউদ্দিন ইমরানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোকাল শাখায় একটি হিসাব রয়েছে (নম্বর ১০১.১১০.২৮১৩১)। এ হিসাবের আওতায় তিনি ব্যাংকটির কার্ড ডিভিশনের মার্চেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং কার্ডে অর্থ পরিশোধের ইলেকট্রনিক মেশিন বা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) নেন।
২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রহমান মোল্লার কার্ড থেকে তিনটি লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে ইমরান জুয়েলার্স। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২ শতাংশ হারে কমিশন কেটে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ইমরান জুয়েলার্সের হিসাবে ক্রেডিট করে সেদিনই। একই দিন ইমরান জুয়েলার্স এটিএমের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা ও চেকের মাধ্যমে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা তুলে নেয়।
২০ ফেব্রুয়ারি ইমরান জুয়েলার্সে ১১টি লেনদেনের বিপরীতে ফারজানা বেগমের কার্ড থেকে ২৬ লাখ ২ হাজার টাকা কেটে রাখে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। একই বছরের ৩ মার্চ ২ শতাংশ হারে কমিশন কেটে ইমরান জুয়েলার্সের হিসাবে ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪২ টাকা ক্রেডিট করে। একই দিন আবার ভুল বিক্রি দেখিয়ে ২০ লাখ ১৫ হাজার ৭৬২ টাকা ওই হিসাব থেকে ডেবিট করে ব্যাংকটি। ওই দিনই ইমরান জুয়েলার্স ৫০ হাজার ও পরদিন ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা তুলে নেয় তার হিসাব থেকে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১১টি সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ ব্যাখ্যার জন্য ইমরান জুয়েলার্সকে ১০ মার্চ একটি ই-মেইল পাঠায়। ইমরান জুয়েলার্স আজ অবধি এর কোনো জবাব দেয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইমরান জুয়েলার্স হিসাব খোলার ফরমে ঘোষণা দেয়, তার সর্বোচ্চ জমা ২ লাখ এবং সর্বোচ্চ উত্তোলন ৩ লাখ টাকা হবে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি লেনদেনে ঘোষিত সীমা অতিক্রম করলেও ব্যাংকটি গ্রাহকের কাছে এর কোনো ব্যাখ্যা চায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এসএম মুনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তারাই দেখছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। গ্রাহকও যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, তাও দেখা হচ্ছে।
ইদানীং মাস্টার কার্ড জালিয়াতির ঘটনা বেড়েছে। বিদেশী একটি চক্র এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে অনেকের ধারণা। এতে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ই পড়ছেন বিপাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের অনাস্থাও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা জড়িয়ে পড়ছেন আইনি জটিলতায়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই মাস্টার কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এ জন্য ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনকে আরও মনোযোগী এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকতে হবে। মাস্টার কার্ড বীমা থাকাটাও ভালো। এতে গ্রাহক সহজেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।
প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু বলেন, এ ধরনের ঘটনা রোধ বেশ কঠিন। আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেও কম। তবে মোটেই যে ঘটছে না, তা বলা যাবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে এ জালিয়াতি রোধে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে ফোনে একাধিবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


দীর্ঘ প্রবাসবাসে আনমনে যে নস্টালজিয়ার জন্ম হয়, শিকড়ের টানে তা যে কত দৃঢ় এবং কতটা গভীরে প্রোথিত, প্রবাস জীবনে স্বদেশের সাথে গ্রন্থিত রজ্জু যার হৃদয়বৃন্তে নেই, তার পক্ষে এই যন্ত্রণার আনন্দ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।


ভেতরে কেবলই হিংসার চাষবাস

নাসীর মাহমূদ

ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতো একটা অবাস্তব অর্থ প্রদানকারী প্রবচনের সাথে অনেকেরই পরিচয় রয়েছে। এই প্রবচনটিকে মিথ্যা প্রমাণিত করে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েই লাখ টাকার স্বপ্নকে কিছুটা হলেও বাস্তব করে তুলেছিলেন যেই ব্যক্তিটি তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘ প্রবাসবাসে আনমনে যে নস্টালজিয়ার জন্ম হয়, শিকড়ের টানে তা যে কত দৃঢ় এবং কতটা গভীরে প্রোথিত, প্রবাস জীবনে স্বদেশের সাথে গ্রন্থিত রজ্জু যার হৃদয়বৃন্তে নেই, তার পক্ষে এই যন্ত্রণার আনন্দ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কবি নজরুল জাহান্নামের আগুনে বসে পুষ্পের হাসি হাসতেন। তার ওই হাসি ফাঁসির মঞ্চেও যে হাসা যায়, তা সমগ্র অস্তিত্ব দিয়ে বুঝতে পারছি প্রবাসে এসে। প্রবাস মানেই যন্ত্রণা, প্রবাস মানেই কষ্ট। এই অবস্থান থেকে যখন বাংলাদেশী হিসেবে গর্ব করার মতো কোনো খবর পৃথিবীময় ছড়িয়ে যায়, তখন নজরুলের ওই হাসিটা একান্ত বাস্তব হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে, ভারত কিংবা পাকিস্তানের মতো দেশ অথবা অহঙ্কারী অস্ট্রেলিয়াকে যখন খেলায় হারায় তখনো তা বাস্তব হয়ে ওঠে। ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি তেমনই এক নজরুলি হাসির বাস্তবতা। প্রবাসে বাংলাদেশীরা যত ভালো পদেই কাজ করুন না কেন, তাদের মর্যাদা তৃতীয় বিশ্ব অর্থাৎ বিশ্বের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকের ঊর্ধ্বে নয়। তবু এ ধরনের গর্ব করার মতো আশ্চর্য সন্দেশ থার্ড ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার মতো একটা আত্ম-পরিতৃপ্তি এনে দেয়। নোবেল বলে কথা, বাংলাদেশী বলে কথা। যারা আমাদের ঝড়ের দেশ, বন্যার দেশ, অভাবের দেশ বলে তাচ্ছিল্যের ভাব দেখায়, তাদের বুক ফুলিয়ে বলতে পারা যায় নতুন সংযোজনীর কথা­ নোবেল পুরস্কারে ভূষিত দেশ। ড. ইউনূস তখন আর ব্যক্তি থাকেন না, হয়ে যান সমগ্র দেশের কিংবা বলা ভালো সমগ্র বিশ্বের। নোবেল পুরস্কারের বিশ্ব শিরোপা তিন বাঙালি পরলেও ড. ইউনূসকে নিয়ে আমাদের গর্ব আগের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। এই অভিব্যক্তির ফলে যে প্রশ্নটি সামনে এসে দাঁড়াবে তার উত্তরটাও বেশ দীর্ঘ। আজ তা আমাদের আলোচ্য নয়। আলোচ্য প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দেশোত্তীর্ণ এই বিশ্বব্যক্তিত্বকে আমি সুদূর প্রবাস থেকে জানাই সালাম এবং আন্তরিক অভিনন্দন।

দুইঃ হিংসুক শুকায় প্রতিবেশীর সুখে। নিজের নাক কেটে হলেও তাই প্রতিবেশীর সুখ নষ্ট করা চাই। এ রকম অদ্ভুত সব চিন্তা আর প্রবাদ নদীর স্রোতময় ধ্রুপদী সঙ্গীতে ভরা, নিবিড় সবুজে ঘেরা, ফুল-পাখি আর বিচিত্র নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বাংলাদেশে কী করে জন্মাল তা বুঝে আসে না। অজানা সেই লতাতন্তুজাল টেনে বের করা আমার কাজ নয়, আমার বরং দেখতে ইচ্ছে করে ঈর্ষা আর হিংসামুক্ত বাংলাদেশ। যে বৃক্ষটি সাতচল্লিশের কৃত্রিম ঝড়ে দ্বিখণ্ডিত হলো, সেই ঝড় পশ্চিমাংশের জলের দু’পাড়ে ফেলে রেখে গিয়েছিল দু’টি বীজ। একাত্তরের পর আজ দুই হাজার দশে এসে দেখছি ওপারের বীজটি ফলে-ফুলে সজ্জিত। যদিও অতিথি পাখিরা এসে খেয়ে যাচ্ছে সব। তবু বৃক্ষটির শিকড়জুড়ে আছে পরমাণুর আপাত শক্তি। আর এপারের বীজটি থেকে যে বৃক্ষটি বেড়ে উঠেছিল তার শিকড়জুড়ে ইঁদুরের বসতি। প্রতি কয়েক বছর পরপর তার শেকড় ও ডালপালা কেটে যে যার মতো নিয়ে যাচ্ছে। এখন তাই বনসাই হয়ে আছে সে। আমাদের দেশের মালিরা এই বাগানের সেবার বিচিত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজে যোগ দিয়ে অবশেষে বাগান উজাড় করে ফেলে। পিতৃত্ব কিংবা যে দোহাই যা দিয়েই কাজে লাগুক না কেন, ভেতরে কেবলই হিংসার চাষবাস। কারো বেশি কারো কম। তবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কিংবা বলা ভালো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যেভাবে এখন হিংসার চাষ হচ্ছে, সে রকম বাম্পার ফলন বাংলাদেশে ইতঃপূর্বে আর হয়নি। সাবাস বাংলাদেশ। হিংসা তাই এখন ডিজিটাল মাত্রা পেয়েছে, অনন্য শিরোপা লাভ করেছে। অনেকেই বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির হিংসার চাষবাস প্রথমে হয়েছে নির্বাচনে, তারপর পিলখানা হয়ে মইনুল রোডে। আর উৎপাদিত এই হিংসাপণ্য ডিজিটালি পৌঁছে গেছে বাংলার ঘরে ঘরে। চারদিকে তাই এখন হিংসার জয়োল্লাস। হিংসাটা ভয়ঙ্কর। প্রতিবেশীর বাগানে ফুল সুগন্ধি ছড়ায়, আমার কেন তা নেই, তাই ফুলের ওই বাগানটি ধ্বংস করে দিতে হবে­ এরই নাম হিংসা। ঈর্ষাটা কিন্তু মন্দ নয়। প্রতিবেশীর বাগানের মতো আমারও একটি বাগান চাই এবং সেখানেও ফুটুক ফুল, ছড়াক সুগন্ধি­ এই হলো ঈর্ষা। তাই হিংসার বদলে ঈর্ষার চাষ হলে বাগানটা ফুলে-ফলে আরো রঙিন আরো শ্যামল হয়ে উঠত। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ বাড়ির প্রতিইঞ্চি মাটিতে, প্রতিটি ধূলিকণায় এখন হিংসার চাষ। তাই এ মাটিতে গড়ে না কিছুই, কেবলই ভাঙে। ভাঙে বৃক্ষ, ভাঙে বাগান, ভাঙে আবহমান ঐতিহ্য আর স্মৃতিময় ডালপালা। আমরা ভাঙনের এই সংস্কৃতির অবসান চাই। আবহমান এই ভাঙনের পরিবর্তে গড়ার প্রবণতায় ঋদ্ধ সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের মন আর মনন­ সে রকম সুস্থতার চর্চা দেখতে চাই। একজনের নোবেল শিরোপা কেড়ে নিয়ে কিংবা তার ওপর নোংরামির নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দিয়ে অর্জনকে ্লান না করে আমরা আরো বেশি নোবেল অর্জনের চেষ্টা দেখতে চাই। দেখতে চাই আরো অনেক অনেক প্রাপ্তি যোগ। মনে রাখা উচিত, সম্মান পেতে হলে সম্মান দিতে হয়, দিতে জানতে হয়। সম্মান দেয়ার মাঝে, আচার-আচরণের মাঝে, কথাবার্তার মাঝে মন-মানসিকতা এবং আভিজাত্যের পরিচয় ফুটে ওঠে। যাদের নিজেদের সম্মান-সম্ভ্রমের অভাব আছে, কেবল তারাই আরেকজনের সম্মানের ব্যাপারে তোয়াক্কা করে না। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসবের চর্চা হলে নিু পর্যায়ে যে বেয়াদবির ধারার সূচনা ঘটবে তা বোধ হয় এখন আর কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়। কেননা দেশবাসী এখন নিজেদের সব অস্তিত্ব দিয়ে তা অনুভব করছে। ড. ইউনূস সোনার মেকুরের মতো কারো দুধের বাটি খেয়ে যাননি। বরং একটা ধারণা এনে দিয়েছেন, দিতে চাচ্ছেন। অনেকেই তার সোশ্যাল বিজনেস নিয়ে কিংবা বিদেশীদের ঋণ প্রদান নীতিতে পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নেতিবাচক কথা বলছেন। সমসাময়িক অনেক অর্থনীতিবিদকেও দেখছি ড. ইউনূসের নতুন এই বিজনেস না বোঝার ভান করছেন অনেকটা সচেতনভাবে অচেতন থাকার মতো। ড. ইউনূসের সহজ কথাটি হলো­ বিদেশীরা যেসব ঋণ দেয় সেসব টাকা গঠনমূলক কিংবা লাভজনক কোনো কাজে ব্যবহার করার সুযোগ তারা দেয় না। সে জন্য ঋণের ফলে সাহায্যগ্রহীতা দেশের কোনো লাভ হয় না, বরং তার মাথায় ঋণের বোঝা বেড়েই যেতে থাকে। কিন্তু ‘সামাজিক ব্যবসা তহবিল’ সৃষ্টি করা গেলে গ্রহীতা দেশের মধ্যে ওই তহবিলের টাকা ক্রমান্বয়ে বাড়বে, দেশের সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন উদ্ভাবনীমূলক সামাজিক ব্যবসার কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ড. ইউনূস বলতে চাচ্ছেন বিদেশী দাতাদের উদ্দেশ করেঃ ‘কর্মচঞ্চল এই হাতে দান নয়, কাজের সুযোগ করে দাও’। এই দৃষ্টিভঙ্গি বা ধারণা দোষণীয় তো নয়ই বরং প্রশংসনীয় এবং ধন্যবাদার্হ বলেই মনে করি।

এবার আসা যাক ড. ইউনূস সম্পর্কে উত্থিত কিছু আপত্তি প্রসঙ্গে। ড. ইউনূস একজন মানুষ, মেধাবী মানুষ। তিনি অতিমানব বা ফেরেশতা নন। তিনি তাই দোষের ঊর্ধ্বে নন। আমরা যারা অপরের দোষ ধরে অভ্যস্ত তারা নিজেদের কথা ভাবি না। একটিবার আত্মসমালোচনা করি না। ড. ইউনূস যা কিছুই করেছেন তা দেশের জন্য অমঙ্গল নয় মঙ্গলই বয়ে এনেছে, সম্মান বয়ে এনেছে। এই সম্মান আর মর্যাদায় দেশের ভেতরে এবং বাইরে অনেকেই হিংসার চর্চা করে থাকতে পারেন। এই চিন্তাটি মাথায় রেখে আমরা কি পারি না কারা এসব করছে, কেন করছে, কাদের ইঙ্গিতে করছে­ সেসব নিয়ে তদন্ত করতে? একটা শ্রেণীকে দেখা যায় ড. ইউনূসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন রকম হাইপোথিসিস দাঁড় করাচ্ছে। কোনো একটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছে কিংবা নিশ্চিত না হয়ে হুট করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে অরুচিকর, হীনম্মন্য, হিংসুক কোনো মন্তব্য করা কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা উচিত। বাইরের কেউ এসে আমাদের ঘরের বিষয়ে মাতব্বরি করলে আমাদের সম্মান বাড়ে কী কমে সেটাও কি একবার ভেবে দেখা যায় না? ঘরের উত্থাপিত সমস্যাকে পরের হাতে তুলে না দিয়ে নিজেদের ভেতরে মীমাংসার পরিবর্তে কারা একে বিতর্কিত ইসুø বানিয়ে বিশ্বব্যাপী আমাদের অর্জনকে ্লান করে দিতে চাচ্ছে তাদের বরং শনাক্ত করা উচিত। নিজেদের ঘরের ব্যাপারে বাইরের কাউকে নাক গলাতে দেয়াই ঠিক নয়। আমাদের ভাবতে হবে, চাঁদের গায়ে দূর থেকে যেসব কলঙ্ক দেখা যায়, সেসব সত্ত্বেও তার জ্যোৎস্নায় কোনোরকম কলঙ্ক থাকে না। আনন্দিত যে ড. ইউনূস তার গায়ের কলঙ্ককে অস্বীকার করার লক্ষ্যে সুষ্ঠু তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশপ্রেমী যেকোনো নাগরিকও তার এই দৃঢ়তায় আনন্দিত হবে সেটাই স্বাভাবিক।
nasir.radio@gmail.com

যুদ্ধক্লান্ত জীবনে এতো কবিতা আসে কী করে! ওদের তো দেশ নেই, ঘর নেই, মেঘের মতোই বেসে বেড়ায়, তারপরও এত আনন্দময় কী করে হয় জীবন?


সারা আকাশ আর কালো বোরখা

নু রু ল ক রি ম না সি ম

আরো কয়েকদিন থেকে গেলে হয়তো ভালো হতো। প্রবাসের বন্ধুরাও সেরকম ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওয়াহিদ মাহমুদের মন সাড়া দিচ্ছিল না, তার মন উড়ে গিয়েছিল ঢাকার ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের ছিমছাম একতলা অফিসে, তার একান্ত পৃথিবীতে। টরন্টো থেকে বিমানে উঠলেন আলো-অাঁধারের এক অপরূপ ভোরবেলা। এখন তীব্র শীত নেই। অসম্ভব গরমও নেই। এখন ফুরফুরে বাতাস আর চমৎকার আবহাওয়ার দিন।

সবসময়ই তার বিমানযাত্রা সুপ্রসন্ন হয়। এটা বহুবার ওয়াহিদ লক্ষ করে অভিভূত হয়েছে। এবং যেহেতু সে মার্কসিস্ট, সে তার অজানা ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এবারও জানালার একান্ত পাশের সিট পেল। অন্য সিটগুলোতে তার পাশে বসলো একজন ভারতীয়, একজন আইরিশ। ওই দুজনের আলাপচারিতায় সে জানতে পারল ওরা বিজনেস পার্টনারও আবুধাবির এক কোম্পানির। ওয়াহিদের চিরকালের শখ বিমানের জানালায় বসে মেঘের অনিশ্চিত বিচরণ দেখা। ঠিক যেন জীবনের মতো। মাঝে মাঝে সে অবাক হয়। মেঘেরা যেমন অবয়ব বদলায়, রং বদলায় সেও যদি তেমনটি পারত, জীবন অন্যরকম হতো তাহলে। তার জীবন অনিশ্চয়তার দোলায় কেবলই দুলছে। ভালো চাকরি পেয়েছিল, করেনি। মন্ত্রী ডেকে ব্যবসা দিতে চেয়েছিলেন, কোথায় যেন তার অাঁতে ঘা লাগল কী কারণে, সেই প্রলোভনের ফাঁদে পা দেয়নি। রাজনৈতিক পার্টিতে ডেকেছিল, যায়নি। সৃজনশীল প্রকাশনা আর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি তার প্রিয়তম পেশা। সে সেল্ফ অ্যাম্পলয়েড থাকতে ভালোবাসে। তা ছাড়া আছে বিশাল পৈতৃক সম্পত্তি। সেই উৎস থেকে কম টাকা আসে না প্রতি মাসে! লেবানিজ এয়ারহোস্টেসের সুরেলা কণ্ঠে তার কল্পনা আর ভাবনা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তার প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেল পানীয়ের। কিছুক্ষণ পর হালকা ব্রেক ফাস্ট। সেইসাথে বিশেষ অনুরোধে পানীয় পেল। লেবাননের মেয়েটি সি্নগ্ধ ও মায়াবী, ঠিক তার সেক্রেটারি বীথিকার মতো। হঠাৎ সে কথা মনে হতেই দুষ্ট করে মনটা নিভে গেল। বাইরে তখন সূর্যের আলো হঠাৎ নিভে গেছে, মেঘে মেঘে ধোঁয়াটে হয়ে যাচ্ছে সারা আকাশ। তার ভেতর দিয়ে মেঘ কেটে কেটে এগোচ্ছে ভিনদেশি এই বিমানটি।

বীথিকা হঠাৎ কী এক অজানা কারণে দেশ ত্যাগ করে চলে গেল। শুনেছে লন্ডনে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। তার হাজবেন্ড ভীষণ ভালোবাসত, বলা চলে একটু বেশি ভালোবাসত। সব সময় বাইরের ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে আগলে রাখতে চাইত। একটু বেশি পজিটিভ ছিল। এটা বীথিকার ভালো লাগত না। তাদের কারো বছরের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান নেই। বীথিকার মনে সব সময়ই সন্তানের জন্য একটা হাহাকার ছিল। সব কথা তার বস ওয়াহিদ মাহমুদকে বলত; কিন্তু লন্ডন যাওয়ার কথাটা বলেনি। তার স্বামীও জানতো না ব্যাপারটা। এক ডিভোর্সি বান্ধবী, যে আগেই চলে গিয়েছিল, জানা যায় সমস্ত ব্যবস্থা সেই করেছিল।

সোনালি রংয়ের পানীয় দিয়ে সোনালি চুল দুলিয়ে সি্নগ্ধ সুন্দর এয়ারহোস্টেস চলে গেল। ধন্যবাদ দিয়ে ওয়াহিদ বলল : না, তোমার চক্ষু দুইটি সত্যিই অপূর্ব সুন্দর। ইওর আইস আর বিউটিফুল। মেয়েটি শব্দ করে হাসল। অজস্র চুড়ি যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল। মেয়েটির ভারি নিতম্ব দুলে উঠলো। উদ্ধত বুক যেন তীব্র কটাক্ষ হানলো। মেয়েটি বললো, ‘ইহা আমার চক্ষুদ্বয় নহে, ইহা সুন্দর তোমার দৃষ্টি যা আমাকে দেখে।’ ভোরের চমৎকার আলোর মতো এতক্ষণের জমে থাকা মেঘমেদুর বেদনা উড়ে গেল। তার মনে হলো, এরা কি জন্মগত কবি। যুদ্ধক্লান্ত জীবনে এতো কবিতা আসে কী করে! ওদের তো দেশ নেই, ঘর নেই, মেঘের মতোই বেসে বেড়ায়, তারপরও এত আনন্দময় কী করে হয় জীবন?

বোরখা ও নেকাব

বোরখা ও নেকাব

দীর্ঘ যাত্রা শেষে আবুধাবিতে ট্রানজিট। আধ ঘণ্টার। ওয়াহিদ নামল না। একটি সিলেটি পরিবার তার পাশের সিটে এসে বসলো। ভদ্রলোকের মুখে সামান্য দাড়ি। তার স্ত্রীর সারা শরীর কালো বোরখায় ঢাকা, শুধু চাঁদের মতো অপূর্ব মুখাবয়বটুকু বের করা। এতো সুন্দর মুখ অনেকদিন দেখেনি। বাংলাদেশের মেয়েরাও এরকম সুন্দর ও সি্নগ্ধ হতে পারে, তা ভেবে ভালো লাগে। এয়ারহোস্টেস মেয়েটির চেয়ে সুন্দর ও মায়াবী। চোখ দুটো কালো ও প্রেমময়। ঠোঁট দুটো পেলব, অনেকদিন সম্ভবত সেখানে চুমু পড়েনি। ভদ্রলোক সিলেটি। তিনি নিজে যেঁচে কথা বললেন। স্ত্রী-কন্যার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সব সিলেটিরা রক্ষণশীল নয়, ওয়াহিদের বিস্ময় জাগল। কথায় কথায় ওয়াহিদের বেশ কয়জন সিলেটি বন্ধুদের চিনতে পারলেন ভদ্রলোক। বিমান যাত্রার এই ভাসমান আড্ডা আরো জমে উঠল। ঢাকার স্মৃতি, সিলেটের স্মৃতি, টরন্টোর স্মৃতি_কত ছবি, কত কথা ওয়াহিদের লন্ডনের হারিয়ে যাওয়া যৌবনের দিনগুলো অবচেতনে নক করতে লাগল। এক সিলেটি বাসায় আশির দশকে সে পেয়িংগেস্ট হিসেবে ছিল। এসএসসিতে পড়ত। থাকত দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের বালামের কাছে ফোর্টস্কিউ রোডের একতলা লালইটের ছবির মতো এক বাড়িতে। হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল, দেশ তাকে গভীরভাবে টানল। সে পড়াশোনা অসম্পূর্ণ রেখে চলে এলো বাংলাদেশে। সিলেটি ভদ্রলোকের কোনো কথা তার কানে ঢুকছে না। আর ঢুকবে না পরবর্তী মুহূর্তগুলোতে। সে কোথায় কোন সুদূরে যেন হারিয়ে গেছে। তার আর উদ্ধার নেই, তার আর মুক্তি নেই।

বিমান ঢাকা এয়ারপোর্টের হাইওয়ে স্পর্শ করেছে। সবাই নেমে যাচ্ছে। সিলেটি পরিবারটিও বিদায় নিয়ে নেমে গেল। মহিলা শব্দহীন রহস্যময় হাসলেন। সেও। এখানেই কি সব কিছু শেষ! হঠাৎ সেলফোন বেজে উঠল। মহিলার কল এসেছে। তিনি হেসে হেসে খুব মৃদুস্বরে কী যেন বলছেন। সিলেটি ভদ্রলোক অস্থির, বিরক্ত এবং ক্ষেপে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ওয়াহিদের কাছে এসে অভিযোগ করলেন_অনেকটা সে রকম কণ্ঠ, ‘ওমরাও করাইয়া আনলাম, তবুও মাগির টেলিফোনের অভ্যাস গেল না।’

বিশ্বচরাচরের কোনোদিকে খেয়াল নেই, কালো বোরখা পরা মহিলাটি নিরন্তর কথা বলে যাচ্ছে_যেন এ আলাপচারিতা সহসা শেষ হওয়ার নয়।

—————————————————————————————————————————–

আকাশপথের খাবার : চলছে গবেষণা



বিমানের ভেতরের পরিবেশ কিছুটা ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার মতো। কারণ যখন নাক বন্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তির সমস্যা হয়, স্বাদের অনুভূতিও কমে যায়। কম বায়ুচাপে আকাশপথে কফি খেতে খারাপ লাগে, তবে যাত্রীদের কাছে টমেটোর সস স্বাদু মনে হয়
জার্মানির লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স এবং এর ক্যাটারিং সহযোগী এলএসজি ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটকে অনুরোধ করেছে যে, ১০ হাজার মিটার উঁচুতে কোন ধরনের খাবার ভালো লাগবে এবং কোনটি লাগবে না।

ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, আকাশ ভ্রমণে বর্তমান প্রচলিত খাবার হতে হবে কড়া ধরনের অর্থাৎ ঝালে-মসলায় ভরা যারা আকাশপথে ভ্রমণ করেন তারা প্রত্যেকেই জানেন যে, বিমানের ভেতরের আবহাওয়া এবং পরিবেশটি কেমন থাকে। বিমানের ভেতর আর্দ্রতা থাকে মাত্র ১৫ শতাংশ। বিমানের শব্দে আরোহীদের চারপাশে ঠিক যেন মেলা থাকে এক ধোঁয়াটে সাদা চাদর। আর বায়ুচাপে শরীরের তরল হয় ঊর্ধ্বমুখী। এ রকম পরিস্থিতিতে তৃষ্ণা বেড়ে যায়, শ্বাস কম প্রবাহিত হয় এবং ঘ্রাণশক্তির ব্যাঘাত ঘটে। সম্প্রতি জার্মানির ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বিমানে পরিবেশন করা খাবার সম্পর্কে এক মজার তথ্য প্রকাশ করেছেন। আর তা হলো, আকাশপথে ভ্রমণের সময় বিমানের খাবারে লবণ, ঝাল এবং মসলাযুক্ত খাবার আরও বেশি দরকার। ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. ফ্লোরিয়ান মায়ার এ বিষয়গুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন এবং সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি বলেন, বিমানের ভেতরের পরিবেশটা কিছুটা ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার মতো। কারণ তখন নাক বন্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তির সমস্যা হয়, স্বাদের অনুভূতিও কমে যায়। বায়ুচাপ কমে গেলেও এমনটিই ঘটে।

জার্মানির লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স এবং এর ক্যাটারিং সহযোগী এলএসজি এ কারণেই ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছিল যে, ১০ হাজার মিটার উঁচুতে কোন ধরনের খাবার ভালো লাগবে এবং কোনটি লাগবে না। জানা গেছে, এ গবেষণার জন্য একটি বিমানের সামনের অংশে ৩০ মিটার দীর্ঘ টিউব আকৃতির চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। এই চেম্বারটির ভেতরের বায়ুচাপটি নিয়ন্ত্রিত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। ফ্লোরিয়ান মায়ার এ ব্যাপারে বলেন, এখানে আর্দ্রতার পরিমাণ রাখা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। আকাশে থাকার সময় বিমানের ভেতরে যে পরিবেশটি থাকে, তেমন পরিবেশই তারা তৈরি করেছেন এই চেম্বারটিতে। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়েও এর ভেতরের চাপটি কম রাখা হয়েছে। ভূপৃষ্ঠে বায়ুচাপ থাকে ৯৫০ হেক্টো প্যাসকল, কিন্তু বিমান যখন আকাশে থাকে তখন এর ভেতরের বায়ুচাপটি থাকে ৭৫০ থেকে ৮০০ হেক্টো প্যাসকল। আর এই টিউব আকৃতির চেম্বারটির ভেতরে আকাশ ভ্রমণে বিমানের ভেতরের পরিবেশটি যেমন থাকে, ঠিক তেমন পরিবেশই তৈরি করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে বিমানের আসনগুলো কাঁপে এবং শব্দ হয়, এখানেও একইরকমভাবে কাঁপন এবং শব্দ হয়। শুধু তা-ই নয়, বিমানে দেওয়া খাবারের মেন্যুর মতোই এখানে খাবার দেওয়া হয়। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, আকাশ ভ্রমণে বর্তমান প্রচলিত খাবার হতে হবে কড়া ধরনের অর্থাৎ ঝালে-মসলায় ভরা। ড. ফ্লোরিয়ান মায়ারের মতে, মসলাদার খাবার যেমন থাই বা ইন্ডিয়ান খাবার এ পরিবেশে দারুণ মানানসই হবে। আর এর কারণ হচ্ছে, এই খাবারের স্বাদটি সবসময় এক থাকে। এর মসলাদার ঝাল ঝাল ভাবটি কখনও কমে যায় না। কিন্তু সাধারণ খাবারে বাড়তি মসলা ঢেলে দিয়ে তবেই স্বাদ বাড়াতে হয়। অবশ্য লুফ্থহানসা তার বিমানের খাবারের মেন্যুতে বাড়তি কোনো সুরুয়া জাতীয় খাবার যুক্ত না করলেও এর ক্যাটারিং সার্ভিসটি ইতিমধ্যেই তাদের সরবরাহকৃত ব্রেডরোলে যুক্ত করেছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, আকাশ ভ্রমণে যাত্রীরা টমেটোর সস বেশি খায়। আর কেন তারা টমেটোর সস বেশি খায় এ প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছিলেন গবেষকরা। লুফ্থহানসা এয়ারলাইন্স তার বিমানের খাবারের সঙ্গে বছরে শুধু ১৭ লাখ লিটার টমেটোর সসই সরবরাহ করে থাকে। টমেটোর এই সস একই সঙ্গে লবণ আর ঝালের কাজ করলেও ড. মায়ার বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, বায়ুচাপের সঙ্গে সঙ্গে টমেটোর স্বাদও বদলাতে থাকে। তাই মাটিতে বা ভূপৃষ্ঠে টমেটোর জুসের যে বদনাম রয়েছে সেটির স্বাদই আকাশপথে ভ্রমণের সময় সুস্বাদু হয়ে ওঠে। ড. মায়ার আরও বলেছেন, কম বায়ুচাপের কারণে আকাশপথে কফি খেতে একেবারেই খারাপ লাগে।

যে কোনো ডেজার্টে আরও চিনি ঢেলে তারপর এর মিষ্টি ভাবটা আনতে হয়। অনেক বিমানেই প্যাক করা স্যান্ডউইচ, কিছু মাঝারি ধরনের সাদামাটা খাবার সামান্য পরিবেশন করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন কোনো ঝাল-মসলাদার খাবার কিংবা স্বাদ বাড়ায় এমন মুখরোচক খাদ্য বিমানের খাবার মেন্যুতে যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত খাবারের মেন্যুতে টমেটোর সস বা জুস টিকে থাকছে। আকাশপথে ভ্রমণের নতুন খাবার নিয়ে গবেষকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুব শিগগিরই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে এবং ভোজনরসিকরাও মেপে মেপে কম মসলায় রাঁধা সব খাবারের পরিবর্তে ঝাল ও মসলাদার বিভিন্ন খাবার খেয়ে রসনায় তৃপ্তি আনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রদীপ সাহা

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।


প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশপ্রেম এবং চারপাশের বাস্তবতা

Probashi

প্রবাসী

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রবাসী পক্ষে দেশকে না দেখে কোনো উপায় নেই। প্রথম কথা এই যে, প্রবাসী মাত্রেই স্বদেশবাসী, দেশ তার সঙ্গে সঙ্গে থাকে, স্মৃতিতে জ্বলে, অনুভবে লুকিয়ে রয়, দৃষ্টিভঙ্গিতেও ধরা পড়ে। দেশে বাস করে দেশকে উপেক্ষা করা বরং সহজ, প্রবাসে থেকে দেশকে না দেখার তুলনায়। দ্বিতীয় সত্য এই যে, বিদেশে এসে খোঁজ পাওয়া গেছে নতুন আলোর। খোঁজ পাওয়া নয় তো, অনেক ক্ষেত্রেই আলোটা সঙ্গী হয়ে থাকে সর্বক্ষণ। সে আলো দেশকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।

তৃতীয় ঘটনা এমনতর যে, ভালো দৃশ্য যেমন তেমন, খারাপ দৃশ্য চোখ কাড়ে না হয়তো কিন্তু চোখে টেনে নেয় ঠিকই। ফুলের টব ও আবর্জনার বালতি পাশাপাশি থাকলে আবর্জনাই দেখি প্রথমে। দৃশ্য তো আছেই; গন্ধটাও কম নয়। দেশে ফিরলে প্রবাসী প্রথমে যা দেখে তা হলো ভিড়। আগেও ছিল, কিন্তু সে ভিড় আরো বেড়েছে। উপচে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে দেখা হয় অরাজকতাও। নানা ধরনের দুর্বৃত্ত ওঁৎপেতে রয়েছে। ধরবে, জব্দ করবে, ঠকাবে।

কোনো মতে পথে বের হয়ে আসতে পারলে দেখবে সে বৈষম্য। বৈষম্য পুরাতন ব্যাপার, কিন্তু তার মনে হবে যে, সেটা বেড়েছে। সত্যি সত্যি তো বেড়েছে, না দেখে উপায় কী। এই বৈষম্য রাস্তায় চোখে পড়বে, নিজের ঠিকানায় পৌঁছলেই টের পাওয়া যাবে। পরিবার ভেঙে গেছে, ক্ষুদ্র এক অংশ ওপরে গেছে উঠে, অপরাংশ, সেটাই বড়, নেমে গেছে নিচে। দেখবে সে তথ্যপ্রযুক্তির প্রাচুর্য ঘটেছে। মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, বিদেশে যা দেখেছে, এখানেও পাবে দেখতে।

কিন্তু এদের প্রাচুর্য অভাব দূর করেনি মানুষের, যা করেছে তা হলো বৈষম্য বৃদ্ধি। অন্তর্গত বৈষম্যকে আরো প্রকটিত করে তুলেছে। না দেখে উপায় থাকবে না। সর্বত্র ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় চলে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে, এ খবর জানা আছে প্রবাসীর। দেখবে সে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা পেতে হলে যেতে হবে প্রাইভেট ক্লিনিকে। দেখবে সে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সঙ্কুচিত, প্রাইভেট কারের দাপটে। আর সেই সব গাড়ি যে পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ছে তা শারীরিকভাবে পর্যুদস্ত করে দেয় মানুষ ও গাছপালাকে।

বিদেশে প্রবাসীদের জন্য সমস্যা মাতৃভাষা চর্চা করা। এখানে এসে দেখবে ধনী ঘরের ছেলেমেয়েরা মাতৃভাষা ভুলতে চলেছে। এ কেমন ঘটনা, ভাববে সে। বিদেশে আমরা আতঙ্কে থাকি মাতৃভাষা ভুলে যাব বলে, আর এখানে দেখেছি মাতৃভাষা ভোলা যায় কী করে তার জন্য জীবনপণ চেষ্টা। শিক্ষার প্রধান যে ধারা সেই বাংলা মাধ্যমিক ব্যবস্থায় দেখবে সে যে নকল বেড়েছে পরীক্ষায়। শুনবে শ্রেণীকক্ষ থেকে পড়াশোনা উঠে গেছে; যা হওয়ার হয় কোচিং সেন্টারে। প্রবাসীরা দেখেছে পুঁজিবাদী বিশ্বে নৈতিকতার প্রশ্নটি বড় জরুরি হয়ে উঠেছে। পুঁজিবাদীরা নানা অপকর্ম করে, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কোনো প্রকার সামাজিক দায়িত্ব নিতে চায় না। প্রবাসী বাঙালি কেউ কেউ ভাবে প্রতিকার রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষায়। কিন্তু প্রবাসী জানে সে শিক্ষা স্কুল শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না, বড়জোর পরিপূরক হওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রবাসী দেখবে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার বেড়েছে; দেখে সে চিন্তিত হবে।

Probashi

লস এঞ্জেলেস এ প্রবাসীদের মেলা


শিক্ষা তো শিক্ষার্থীকে আধুনিক করবে। তাকে দক্ষতা দেবে, বাড়াবে তার মানমর্যাদা। এ কথা তো সত্য, মাদ্রাসাতে প্রধানত যায় গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরাই। কেননা, সেখানে খরচা কম। আর যায় কিছুটা অবস্থাপন্ন ঘরের বুদ্ধিবৃত্তিতে কম অগ্রসর সন্তানরা। তারা সেখানে গিয়ে যে শিক্ষা পায় তাতে তাদের জাগতিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না, বরং আরো খারাপ হয়, তাদের শিক্ষা অর্থনৈতিকভাবে তাদের এগিয়ে দেয় না। প্রবাসীর চোখে এটা ধরা পড়ে বেশ সহজেই যে, গরিব ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসা শিক্ষা দেয়া আসলে গরিব মানুষকে গরিব করে রাখার ষড়যন্ত্র। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় এটা যে, গরিব টেরই পায় না যে এটা তার সঙ্গে শত্রুতা মাত্র, সে ভাবে তার উপকার করা হচ্ছে, তাকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী দেখবে এই বিপরীত ঘটনাও যে, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য যারা উচ্চ হারে সরকারি ব্যয়ের বরাদ্দ দেয়, তাদের কোনো সন্তান-সন্ততি মাদ্রাসায় পড়ে না।

প্রবাসীর মনে এই দুশ্চিন্তা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পীড়াদায়ক হয়ে দেখা দেবে যে, এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে কিনা। এর ঐক্যটা কোথায়? না, ঐক্য সে খুঁজে পাবে না। দেশপ্রেম সে প্রবাসীদের মধ্যে যতোটা দেখেছে, দেখে উৎফুল্ল হয়েছে, দেশে ফিরে অনেক বাঙালির মধ্যেই তা দেখতে পাবে না, না পেয়ে দমে যাবে। টের পাবে সে যে, স্বদেশীদের অনেকেই তাকে ঈর্ষা করছে। বলছে খুব ভালো আছো ভাই। কিভাবে যাওয়া যায় তার ফন্দি-ফিকির তারা জানতে চাইছে। ধাক্কা খাবে প্রবাসী এটা দেখে যে, সে যাদের ঈর্ষা করে তাদের কাছেই সে পাত্র হচ্ছে ঈর্ষার। তাতে তার ব্যক্তিগত অহমিকা বাড়ছে ঠিকই কিন্তু সমষ্টিগত ভবিষ্যৎটা তার কাছে উজ্জ্বল মনে হবে না।

সবাই বলবে দেশে নিরাপত্তা নেই। সরকার যে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অস্ত্র ও বোমার ব্যবহার বাড়ছে। এমন জিনিস আগে এ দেশে ছিল না। অপরাধী ধরা পড়ছে না। আর ধরা পড়ছে না বলেই অপরাধ বাড়ছে। আসল অপরাধ সুযোগ প্রাপ্তরাই করে থাকে। করে ক্ষমতার ছত্রছায়ায়। আর সে ক্ষমতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি দলের। সন্ত্রাস মূলত রাজনৈতিক এবং তা ঘটে রাজনীতির স্বার্থে এবং পৃষ্ঠপোষকতায়। ভাড়াটে খুনিও পাওয়া যাচ্ছে অল্প দামেই। পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে এ দেশের মানুষের কখনই কোনো আস্থা ছিল না। ভয় ছিল। কিন্তু সেই আস্থাহীনতা ও ভীতিও এখন যে পর্যায়ে গেছে সেটা আগে কখনো দেখা যায়নি।

প্রবাসী শুনবে কৃষকের দুর্দশার কথা। ফসল খারাপ হলে কৃষকের মাথায় বাজ পড়ে। সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু শুনবে সে যে বাম্পার ফসল হলেও কৃষকের সমূহ সর্বনাশ। টমেটো পচনশীল। তা ধরে রাখা যায় না। সেজন্য উত্তরবঙ্গে এমনও ঘটনা ঘটেছে যে এক মণ টমেটো বিক্রি করে কৃষক ১ সের চাল কিনে ঘরে ফিরেছে। বোরো ধান খুব ফলেছে। তাতে কৃষক বসে গেছে মাথায় হাত দিয়ে। যে ধান তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এই খরচের মধ্যে কৃষকের শ্রমের হিসাবটা নেই। ব্যাপার দাঁড়াচ্ছে এই যে, কৃষক যদি নিজের ক্ষেত্রে ধান না চাষ করে অন্যের ক্ষেত্রে দিনমজুরি খাটতো তাহলে তার উপকার হতো বেশি। খাদ্যে গর্বিত স্বয়ংসম্পূর্ণতা শীর্ণ কৃষকের দীর্ঘশ্বাসে পুষ্ট বটে।

লিটল বাংলাদেশ

লস এঞ্জেলেস এ লিটল বাংলাদেশ


প্রবাসী শুনতে পাবে এবং দেখবেও যে, দেশের নদী-খাল, বিল, পার্ক, খোলা মাঠ সব ব্যক্তিগত হয়ে গেছে। তার জানা আছে এটা যে, একাত্তর সালে এ দেশে হানাদাররা এসেছিল বাইরে থেকে। তারা ছিল শত্রু, তাদের আচরণ ছিল দৈত্যের মতো। তারা মানুষ মেরে, বাড়িঘর পুড়িয়ে, ধর্ষণ করে, সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার এসে দেখবে সে যে, বিদেশি হানাদাররা গেছে চলে ঠিকই, কিন্তু দেশী হানাদাররা তৎপর হয়ে উঠেছে মহোৎসাহে, তারা দৈত্য নয় হয়তো তবে রাক্ষস ও শৃগাল বটে যা পায় খেয়ে ফেলে এবং খাওয়াতে কোনো বিরতি নেই, ক্লান্তি নেই। দেখতে পাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। বৃদ্ধি করা উচিত ছিল রেল লাইন, সেটা এক ইঞ্চি বাড়েনি বরং কমেছে। বাড়ানো উচিত ছিল নৌপথের সুবিধা। সেটা এক তিল বাড়েনি। বেড়েছে বাস, সড়ক ও সড়কের দুর্ঘটনা। সড়ক নির্মাণ করলে সুবিধা ঠিকাদারদের, সুবিধা বাস-ট্রাক মালিকের। সুবিধা ওসবের বিদেশি বিক্রেতার স্থানীয় এজেন্টের। সেই সুবিধারই পাকা বন্দোবস্ত মানুষের মৃত্যু বিনিময়ে।

বিদেশ থেকে প্রবাসী শুনে এসেছে যে, বাংলাদেশ গ্যাস ও তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু তাতে বাংলাদেশের বিপদের আশু সম্ভাবনা। কেননা, তা বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির কাছে। তারা আমাদের গ্যাস ও তেল তাদের নিজেদের স্থির করা দামে কিনবে এবং পরে তা আন্তর্জাতিক দরে তাদের কাছ থেকেই আবার আমরা কিনে নেব। অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্য। সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কার অবস্থা।

সমুদ্র বন্দর হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। বাংলাদেশে বন্দর বলতে আসলে একটাই। চট্টগ্রামে। প্রবাসী শুনবে সেটা ধ্বংসের ব্যবস্থা হচ্ছে বিদেশীদের পাল্টা বন্দর তৈরি করার সুযোগদানের মাধ্যমে। কারা দিচ্ছে? আবার কারা, ওই দেশী লুণ্ঠনকারীরা। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদদৌলা লড়েছিলেন উপনিবেশবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তারপর ব্রিটিশ শাসনকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। ব্রিটিশ গেছে, কিন্তু উপনিবেশ যায়নি। যে জন্য পাকিস্তানি শাসন আমলে আমাদেরকে লড়াই করতে হয়েছে। আজকে দেশ স্বাধীন। কিন্তু প্রবাসী দেখবে মনুষের মুক্তি তো দূরের কথা দেশের স্বাধীনতাও আসেনি। লগ্নিপুঁজি ও মুক্তবাজার দেশ দখল করে ফেলেছে। ফলে বড় রাষ্ট্র ছোট হয়েছে ঠিকই কিন্তু রাষ্ট্রের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার মতাদর্শ ও সংগঠন দুটোই পুঁজিবাদী ও আমলাতান্ত্রিক। ব্রিটিশ আমলেও এ রকম ছিল, পাকিস্তান আমলেও তাই, এখনো অধিকাংশ সেই রকমই। পরিবর্তন যা তা নামে।

ব্রিটিশ গেছে, পাঞ্জাবি গেছে, এখন এসেছে বাঙালি। বাঙালি শাসক আগের শাসকদের মতোই লুটপাট করে। তবে একটা তফাৎ আছে, আগেকার শাসকরা জানতো তারা বিদেশি, তাই অল্প হলেও ভয়ে ভয়ে থাকতো, এখনকার শাসকদের সেই ভয়টা নেই, কেননা তারা স্বদেশী। এরা লুণ্ঠন করছে আরো নির্মমভাবে। তাদের জন্য দায় নেই কোনো জবাবদিহিতার এবং অবাধে এই লুণ্ঠনই হচ্ছে তাদের রাজনীতি। যে জন্য সর্বত্র এমন নৈরাজ্য, নিরাপত্তার এমন অভাব।

নির্বাচন আসলে হচ্ছে দুইদল ডাকাতের মধ্যে লড়াই। তাই তো নির্বাচন আসছে দেখলে মানুষ কিছুটা ভীত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের যে প্রস্ত্ততি তাতে উলুখাগড়াদেরই বিপদ। কে জিতবে, কে হারবে তাতে জনগণের কিছু আসবে যাবে না। তাদের অবস্থা আরো খারাপ হতেই থাকবে। লুণ্ঠনকারীরা তাদের রেহাই দেবে না। প্রবাসী যেটা দেখতে না পেয়ে পীড়িত হবে তা হলো প্রতিরোধ। লুণ্ঠন ব্রিটিশ আমলে ছিল, পাকিস্তান আমলেও ছিল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধও ছিল। এখন সেটা নেই। হতাশার কারণ রয়েছে সেখানেই। অনুৎপাদক লুণ্ঠনকারীরা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকে। এ দলে তারা, ও দলেও তারাই। জনগণ কোনো বিকল্প পাচ্ছে না। লুন্ঠনের বাইরে কোনো আদর্শবাদিতা নেই। প্রবাসী দেখবে এটা। দেখে দুশ্চিন্তায় পড়বে। প্রতিরোধ যে একেবারেই নেই তা অবশ্য নয়। আর শুনবে সে এবং আশা করবে যে প্রতিরোধটা শক্তিশালী হোক, মানুষের মুক্তির যে রাজনীতিটা সামনে আসুক। এই রাষ্ট্রের চরিত্র বদল ঘটুক এবং রাষ্ট্রের আদর্শগত সাংগঠনিক বিন্যাসের পরিবর্তন মানুষকে মাুনষের মতো বাঁচতে দিক।

মূল প্রয়োজন ওই আদর্শবাদী রাজনীতির। দেশের মানুষ সেটা গড়ে তুলতে পারছে না। নেতৃত্ব আসবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকেই কিন্তু সে মধ্যবিত্তকে শ্রেণীচ্যুত হয়ে জনগণের সঙ্গে এক হতে হবে। জনগণের স্বার্থকে প্রধান করে তুলতে হবে। তার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ আবশ্যক। প্রবাসী বুঝবে সেটা। চাইবে ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে। যতোটা চাইবে ততোটাই ভালো। তার বাইরে তো কেবলই হতাশা।

দেশে এখন দেশপ্রেমের খুবই অভাব। প্রবাসী বাংলাদেশী পীড়িত হয়, দেশে ফিরে যখন সে অভাব দেখে এই দেশপ্রেমের। প্রবাসী মাত্রেই যে দেশপ্রেমিক তা নিশ্চয়ই নয়। কেউ কেউ আছে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু অধিকাংশই দেশের কথা ভাবে, দেশের জন্য তাদের মন কাঁদে, দেশের দুর্দশা দেখে তারা পীড়িত বোধ করে। দেশের রাজনীতিতে মীর জাফরদের উৎপাতে প্রবাসী টের পায়, টের পেয়ে তার দুঃখ বাড়ে। কিন্তু প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।প্রবাসীদের পক্ষে ভাবার বিষয় হচ্ছে এ লড়াইয়ে তারা কোনো ভূমিকা নিতে পারে কিনা। কেবল টাকা পাঠালেই যে দেশ বদলাবে না তা তো বোঝাই যাচ্ছে।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush

লিটল বাংলাদেশ লস এঞ্জেলেস এর প্রথম অফিশিয়াল কার্য্যক্রমে অভূতপূর্ব সাড়া।

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,