একটি ছবির গল্প


একটি ছবির গল্প [ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী মাসুদ হাসানের ৪ সহোদর ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১ তারিখে বিশ্বাসঘাতক রাজাকারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় – আমরা তাদেরসহ সকল নিহত-আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাই – জাহান হাসান, একুশ নিউজ মিডিয়া ]
শফিকুল ইসলাম স্বপন
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সকালবেলা তখনো সম্পূর্ণ মুক্ত হয়নি দেশ, তখনো সারেন্ডার হয়নি, রাস্তাঘাটে পাকসেনা হাঁটছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে মুক্তিযোদ্ধারা এসে জমায়েত হচ্ছে। ভারতীয় ট্যাঙ্ক এসে জমা হচ্ছে। মৃত্যু ভয়ে নয়, আমার খুব খারাপ লাগছিল, তাই আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না। শাহার শহীদ হয় ১৪ ডিসেম্বর রাতে। আমাদের ঢাকা গ্রুপের মানিক ভাই শহীদ হন ১৪ নভেম্বর। তারপর নাসির উদ্দীন ইউসুফ ছিলেন আমাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তিনি আমাদের কমান্ডার হলেন এবং ঢাকা শহরের দায়িত্ব ছিল আসাদের উপর। সাভারে আমাদের ট্রেনিং ক্যাম্প। সেখান থেকে ঢাকা এসেছিলাম ফিল্ম এবং ওষুধপত্র নিয়ে যেতে। সম্ভবত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে অথবা নভেম্বরের শেষে। সব যোগাড়-যন্ত্র করে যখন আমাদের সাভারের ট্রনিং ক্যাম্পে ফিরব, হঠাত্ খবর পেলাম ঢাকার ভেতরে আমরা যারা আছি তারা যেন কোন অবস্থাতেই ঢাকা শহর থেকে বেরিয়ে না যাই। সামনেই ঢাকা শহরে শুরু হবে প্রচণ্ড আক্রমণ এবং আমরা ভেতরে যারা আছি তাদেরকে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও শহরের ভেতরে যুদ্ধ করতে হবে। তাই প্রত্যেকের কাছে একটি করে অস্ত্র রেখে যার যার অবস্থানে থাকতে হবে।

শফিকুল ইসলাম স্বপন

শফিকুল ইসলাম স্বপন


আগেও আমাদের অস্ত্র ধরা পড়ে, সবশেষে আমাদের অস্ত্র একসাথে জমা ছিল শাহারদের বাসায়, ফার্মগেটের খুব কাছে। সেদিন ১৫ ডিসেম্বর সকালবেলা বাবলু (যে বাবলুর সাথে আমি পালিয়েছিলাম এক কাপড়ে), আসাদ আর আমার দুলাভাই মাহবুব মোরশেদ রেলওয়েতে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন (তিনি আজ নেই), প্রচণ্ডভাবে আমাদেরকে সাহায্য করতেন রেলওয়ের সমস্ত ম্যাপ থেকে শুরু করে যত কিছু আমাদের প্রয়োজন হয়েছে সব কিছুতেই। দুলাভাই বলেন— “সবার যাওয়ার দরকার নেই। স্বপন তুই থাক। Air Action কিছু হলে তুই ছবি তুলতে পারবি। বরং আমি গাড়ি নিয়ে আসাদকে আর বাবলুকে নিয়ে যাচ্ছি। শাহারের বাসা থেকে আমরা তোদের অস্ত্রগুলো নিয়ে আসি। বস্তায় ভরে, গাড়ির পেছনে করে নিয়ে আসি, কেউ টের পাবে না”। প্রচণ্ডআর বাবলু দুলাভাইয়ের সাথে গাড়ি নিয়ে গেল। আমি বাসায় অপেক্ষায়। অনেকক্ষণ পর ফিরে এলেন দুলাভাই। সভার মুখ কালো, কেউ কিছু বলছে না। আমাকে শুধু বললেন-অস্ত্র আনতে পারিনি। পরে কখন যেন দুলাভাই আমাকে আস্তে আস্তে বুঝিয়ে বলেন যে, গতরাতে শাহারের বাসায় আর্মিরা হামলা করেছিল। শাহারের এক বন্ধু অথবা পরিচিত কেউ একজন গোপনে আর্মিকে খবর দেয়। শাহাররা চারজন একসাথে ছিল ওই রাতে। ওর বাবা-মা অন্য জায়গায় থাকতো। ওদেরকে মেরে ফেলে রেখে গেছে উঠানে। ওরা উঠানে পড়ে আছে এবং বাড়িতে কোন অস্ত্রশস্ত্র নেই। যা ছিল সব নিয়ে গেছে। দেখেই বুঝা যায় হয়তো বন্ধু বেশে ডাক দিয়েছে, শাহার একটু বাইরে আয়। সরল বিশ্বাসে হয়তো শাহার দরজা খুলেছিল এবং চারজনকেই ১৪ ডিসেম্বর রাতে একই সাথে শহীদ হতে হলো। ওই পাড়ার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ছেলেরা অবশ্য সেই বিশ্বাসঘাতক রাজাকারকে ১৬ তারিখ সকালে ধরে নিয়ে এসেছিল। আমি এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলেই আবার চলে যাই অন্যদিকে। প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলাম বুকের ভেতরে। আজও সেই কষ্ট আমি ধারণ করে আছি, যা কোনোদিন ভুলবো না, ভোলা যায় না।
লেখক : চলচ্চিত্র গ্রাহক ও আলোকচিত্র শিল্পী

Source: http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMDRfMTJfMV8yXzFfMTIwNg==
মাসুদ হাসানের কথাঃ
In this story Shapan Bhi describe my brother’s Makon,Roton, Lucky and Shaher, my 4 brother’s whom Pakistani army killed on 14th December 1971 in our framgate house. As like he said our house was a depot for 3/4 group of muktizodda’s arms and ammunition. Shahar was known as TIGER SHAHAR in Manic group with Shapan bhai, Naseruddin Yosuf Bachoo and actor/movie hero Assad.
মাসুদ হাসান Masud Hassan

মাসুদ হাসান Masud Hassan


On 16th December around 3 pm me ,my father, my younger brother and few hundred Muktizodda together put them in rest in front our house. May GOD bless them. Actually 5 member of my family was killed that 14th December 1971 in our framgate house my four brother’s and my cousin Nehal bhi.Shahar was memder of Manic group, Lucky was member of Mostafa Mohossin Montoo group and Nahal was member of student leader Khosru (later known as Hero Khosru in ORA AGARO ZON movie) and Roton was a member in a intelligent group working in Tejgon Airport my older brother also a member with them working in State Bank Pakistan now Bangladesh bank.

Advertisements

লস এঞ্জেলেসে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণে বাদামের শোকসভা


সুনীল আকাশের প্রান্তে তোমার ঠিকানা, লস এঞ্জেলেসে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণে বাদামের শোকসভা।

This slideshow requires JavaScript.


লস এঞ্জেলেস, অক্টোবর ২৮(একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃ
  উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কলমবন্ধু, প্রবাসী-প্রিয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে লস এঞ্জেলেসের সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ‘সুনীল আকাশের প্রান্তে তোমার ঠিকানা’ ব্যানারে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মরণে এক শোকসভার আয়োজন করে। প্রবাসে সুনীল যে কতোটা জনপ্রিয় ছিলেন তা শোকসভার মোড়কে প্রবাসীদের সুনীল স্মৃতি-চারণ সভায় রূপ নেয়।

মিডিয়া ও সাংস্কৃতিককর্মীদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাদামের আয়োজনে মাত্র দুইদিনের প্রস্তুতিতে তাৎক্ষনিক শোকসভায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ যথেষ্ট সংখ্যক সুনীল ভক্তরা এই নিবিড় শোকসভায় যোগ দেন। শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্ষণিকের নীরবতার মাঝে স্মরনসভা শুরু হয়। স্মরনসভায় বক্তারা বলেন, দুই বাংলার সাহিত্য অঙ্গনের তারকা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সুনীল আর হুমায়ুন আহমেদের তিরোধানে বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি আর শূণ্যতা হয়তো রয়েই যাবে আরও বহুকাল। ‘পূর্ব-পশ্চিম’ সাহিত্যকর্ম থেকে প্রবাসী জীবনের উপাখ্যানকে হৃদয়ে অমর করে রেখেছেন অভিবাসীরা। একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সাংবাদিক ও কলাম লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অন্তিমযাত্রায় বাংলাদেশ তার পরম সুহৃদ হারালো।

কমিউনিটি নেতা মমিনুল হক বাচ্চু বলেন, সাহিত্য সম্মেলনে আসা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লস এঞ্জেলেসে লিটল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণার পুরোভাগে ছিলেন, সেই লিটল বাংলাদেশ প্রবাসী সুহৃদ সুনীলকে সারা জীবন মনে রাখবে। বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান বলেন, পশ্চিম-বাঙলার কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ পূর্ব-বাঙলার কবি-সাহিত্যিকদের কিছুটা ভিন্ন চোখে দেখলেও আমরা বাংলাদেশের মানুষরা রক্তদিয়ে অর্জন করা মাতৃভাষার সব সৃষ্টিকেই সন্মান ও লালন করি। বাদামের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এম কে জামান নান্টু লেখকের জীবনের বিভিন্ন প্রাপ্তি ও উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন। শোকসভায় স্মৃতিচারণ ও লেখকের বিভিন্ন গুণাবলী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন- ড্যানী তৈয়ব, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, শামসুদ্দিন মানিক, বুলবুল সিনহা, খোকন (আলাদীন), সাদিয়া, শওকত চৌধুরী, প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন তপন দেবনাথ ও কাজী মশহুরুল হুদা।


Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151206909286897.482352.826936896&type=1&l=cea9c80c0f

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভবিষৎ অনিশ্চিতঃ

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত, বিদেশী বিনিয়োগের বড় বাঁধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর দুর্নীতি – ড্যান ডব্লিউ মজিনা

লস এঞ্জেলেস, ২৩ অক্টোবর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃবাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা লস এঞ্জেলেসে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমেরিকার তার নিজস্ব স্বার্থেই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক কারণেই আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিক্ষুদ্ধ চরমপন্থী সহিংসতার মাঝে মধ্যপন্থী সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক লোকায়ত রাষ্ট্রশক্তি হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান উত্থান এই অঞ্চলে প্রচণ্ড আশাবাদ নিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা এমনকি চীনের সাথে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ সহযোগীতার কেন্দ্রস্থল হিসাবে আবির্ভুত হচ্ছে। শান্তিরক্ষী মিশনে বিশ্বের প্রথম দুটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা পুলিশ ইউনিট সহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে  ১০ হাজার ৬৫৩ জন শান্তিরক্ষী সদস্যের বৃহত্তম শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম কুড়াচ্ছে। তারজন্য আমেরিকা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায়।’ বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা ও মানবহিতৈষী কর্মকান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহযোগিতা ও সাহায্যের কথা ড্যান ডব্লিউ মজিনা অভিবাসী বাংলাদেশীদের জানান। তিনি বলেন আমেরিকা চায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো উন্নত হোক।

This slideshow requires JavaScript.


বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। তিনি এই প্রসঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দারিদ্র্য দূরীকরণে মাইক্রোক্রেডিটকে সাফল্যকে যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করে বলেন, আমেরিকা এই প্রতিষ্ঠানের সার্থক প্রসারের ধারায় অনুভূতিশীল ও সহানুভূতিশীল। আশ্রয়হীন, বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের অতীতের মতোই আশ্রয় দেয়ার জন্য আবারও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। তিনি এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে আরো মানবিক হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী উদ্বাস্তুরা ভারতে আশ্রয় নেয়, সেই ঘটনার কথা তিনি স্মরণে আনেন। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়েও তার উদ্বেগের কথা জানান। বাংলাদেশকে আগামীর এশিয়ান টাইগার হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি রোধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ-সহায়তার উপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতুর ভবিষৎ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সেতু হলে বাংলাদেশের তথা এ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে পদ্মা সেতুর জন্য ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র,ভারত এবং জাপানসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কাজ করছে। এখন ভারত সেই আশাবাদ থেকে সরে এসে  দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে ভিন্নভাবে অগ্রসর হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের স্বাভাবিক শর্তে বর্তমান সরকারের অস্বাভাবিক আচরনে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজেদের আভ্যন্তরীণ আয়োজনে এই সেতু নির্মান করা প্রায় অসম্ভব বলে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য ঋনের ব্যাপারটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ও আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুকে জনগনের সামনে এনে সুবিধা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। 

গত কয়েক বছর ধরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশী-আমেরিকান শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুনগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের অংশ হিসাবে মার্কিন কূটনীতিকদের এই আয়োজন। এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে নতুন প্রজন্মদের সম্পৃক্ত করে নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য মিলিয়ন ডলারের পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মিতুল দেশাই। দেশে জনসেবায় প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করার নিমিত্তে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে তাদের এমবেডেড এনজিওগুলির সাথে কাজ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের অর্জিত ব্যবসা, প্রফেশনাল ও সাইন্টিফিক নেটওয়ার্ককে স্বদেশে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই কমিউনিটি উদ্যোগ ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আমেরিকান দূতাবাসের সহযোগীতায় তাদের আমব্রেলা অর্গানাইজেশনগুলির মাধ্যমে কো-ডেভেলপমেন্টের সুযোগ তৈরী করাই এই ইনিশিয়েটিভের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানী এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় নয় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী তিন বছরে এই রপ্তানিকে তিনগুন করার লক্ষ্যে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসবার আহ্বান জানান। আমেরিকান দূতাবাস এই ব্যাপারে সর্বাত্মক সাহায্য করার অঙ্গীকার করছে।

লস এঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে প্রবাসী ব্যবসায়ী ফিরোজ ফখরীর বাসভবনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্টনারশিপ ডায়লগের অংশ হিসাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (ইউ এস বি বি এফ) এ মতবিনিময় নৈশভোজের আয়োজন করে। গত সপ্তাহজুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন স্তরের এই মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। এই পর্যায়ে নিউইয়র্ক, পোর্টল্যান্ড ও ক্যালিফোর্ণিয়ায় প্রবাসী সীমিতসংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিকদের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা খোলামেলা কথা-বার্তা বলেন। লস এঞ্জেলেসে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ণ ক্যালিফোর্ণিয়ায় শিক্ষক-ছাত্র ও কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে লাঞ্চ, বিকালে উডল্যান্ড হিলের এক প্রবাসীর বাসায় ইভনিং টী প্রোগ্রাম ও রাতে বেভারলি হিলস-ব্রেন্টউড এলাকায় ডিনার পার্টি আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও নৈশভোজে স্থানীয় প্রবাসীদের সাথে রাষ্ট্রদূত পত্নী গ্রেস ফিনে মজিনাও উপস্থিত থেকে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফিরোজ ফখরী তার স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মজিনাকে এই কমিউনিটি উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। এরপর মজিনা অভ্যাগত অতিথিদেরও কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। এই পর্বটি পরিচালনা করেন ইউ এস বি বি এফ-এর প্রসিডেন্ট মোঃ জাফরুল্লাহ। 
Video: United States Ambassador to Bangladesh – Dan Mozena with Bangladeshi American in Los Angeles
-Jahan Hassan
Editor,
Ekush News Media
13659 Vicory Blvd, #376, Van Nuys, CA 91401, USA

1 818 266 7539
editor@Ekush.info
FaceBook: 
http://www.facebook.com/jahan.hassan.1

Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151198517861897.480982.826936896&type=1&l=a99bed5285


Dan Mozena Grace Feeney -Jahan Hassan Ekush News Media জাহান হাসান একুশ নিউজ মিডিয়া
Editor

http://www.probashipotro.com/2012/10/26/padmasetu/

লস এঞ্জেলেসে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান


This slideshow requires JavaScript.

লস এঞ্জেলেসে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

লস এঞ্জেলেস (একুশ নিউজ মিডিয়া): গত ১০ই অক্টোবর বুধবার লস এঞ্জেলেসের হিন্দু সম্প্রদায় চট্টগ্রামের পটিয়া ও কক্সবাজারের রামু, উখিয়ার মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবের প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে লস এঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কন্সুলেটের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ও কন্সুলেটে স্মারকলিপি প্রদান করে।

উইলশার সড়কে লস এঞ্জেলেস হিন্দু-বৌদ্ধ পরিষদ ও স্থানীয় কমিউনিটি নেতা-কর্মীরা শনিবার দুপর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানবন্ধন কর্মসূচি চলাকালে নেতৃবৃন্দরা কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। কমিউনিটির পক্ষ থেকে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিহার ও মন্দির বসতবাড়িতে ভাংচুর লুটপাট, অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও প্রবাসীদের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্ণবাসনের দাবি জানানো হয়। মানবন্ধন কর্মসূচি থেকে আমেরিকার আদলে হেইট ক্রাইম বিল পাশের জোর দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশে হিন্দুধর্ম্বাবলীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।Hindu community protest in Los Angeles Ekush News Media / BCNN

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে ডাঃ পরিতোষ মজুমদার, ডাঃ প্রদীপ চৌধুরী, ডাঃ তপন সরকার, অসীম ভৌমিক, অসিত শীল, দীপক মিস্ত্রী সহ অনেকে উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষে মিঠু বড়ুয়া, বাবু বড়ুয়া সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় কমিউনিটির লিডার মমিনুল হক বাচ্চু সহ হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি দল কন্সাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেনের সাথে মত-বিনিময় করেন। কন্সাল জেনারেল এই ন্যাকারজনক ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনায় আমাদের দেশের ভাবমূর্তি, ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। ডিপ্লোম্যাটিক কোরে আমাদের দেশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগে বাংলাদেশ সরকার বিব্রত ও লজ্জিত। সরকার দোষী ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘৃণিত কাজের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সরকার যথার্থ কার্য্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে।Hindu community protest in Los Angeles Ekush News Media / BCNN

লস এঞ্জেলেস কমিউনিটির অনেক সদস্যরা মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন সংগঠন, নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস (বাফলা) সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে উদ্ভূত ব্যক্তিগত এই উস্কানিমূলক কর্মকান্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকবার জন্য এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা ও দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।Hindu community protest in Los Angeles Ekush News Media / BCNN
Photo Courtesy: BCNN – Los Angeles

 

 

লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ


লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ
আটজন ব্যক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান
লস এঞ্জেলেস, ৩০ সেপ্টেম্বর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃ লস এঞ্জেলেসের অভিজাত এক রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি, আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেলেব্রেটি এওয়ার্ড প্রদান করে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর। অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে আটজন ব্যাক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান করা হয়।
BADAM Ibne Mizan Ekush Jahan Hassan
দেশ ও প্রবাসে শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতি-ক্রীড়া ও সমাজ উন্নয়নের আইকনদের কর্মের মূল্যায়ন, উৎসাহ, অবদানের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রেরনা সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও স্বদেশী স্বকীয়তাকে সমুজ্জ্বল রাখার নিমিত্তেই বাদাম-হলিউড পদক-এর সৃষ্টি।

বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্ব। এবারে যারা আজীবন সম্মাননা পদক পেলেন তারা হলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের লিজেন্ড পরিচালক, প্রযোজক ইবনে মিজান, স্বাধীনতাউত্তর বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের পুরোধা সৈনিক, “স্পন্দন” ব্যান্ডের নাসির আহমেদ অপু। আরো সম্মাননা পেলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কর্মের উপর অবদানমূলক কাজের জন্য খিলখিল কাজী, ডঃ গুলশান আরা কাজী, কবি রেজাউদ্দীন ষ্টালিন ও প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও শিক্ষক ফেরদৌস আরা। অভিনেত্রী তারিন জাহান, বিউটিশিয়ান – মেকআপ আর্টিষ্ট নাহিন কাজীকে ও সম্মাননায় ভূষিত করল বাদাম।
BADAM Tarin Nahin Zabin Hilton Jahan Hassan Ekush News Media
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা। সহযোগীতায় ছিলেন শাহানা পারভীন, এম কে জামান ও জাহান হাসান। সংগঠনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন বাদামের উপদেষ্টা মোবারক হোসেন। সম্মানিত বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর নির্মিত অডিও-ভিস্যুয়াল প্রর্দশনীর মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ইবনে মিজানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাদামের প্রধান উপদেষ্টা এম কে জামান। নাহিন কাজীকে ব্যবসায়ী ও সংগঠক ফরিদ আহমেদ নুরু ও তারিন জাহানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডাঃ রবি আলম।
BADAM Ekush News Media Jahan Hassan
তিন পর্বের এই অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু। বাদামের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্ণিয়ায় ৬ষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম এনডাউমেন্ট লেকচারশীপ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই পর্বে ফেরদৌস আরাকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান। খিলখিল কাজীকে জাতীয় বক্সার আক্তার ভূইয়া, ডঃ গুলশান আরা কাজীকে মোবারক হোসেন ও রেজাউদ্দীন ষ্টালিনকে শফিঊল আলম (ফ্রেন্ড বাবু) স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন।
BADAM Jahan Hassan ekush news media
সম্মানিতরা তাদের বক্তব্যে প্রবাসে তাদেরকে এই ধরনের তথ্যপূর্ণ ও ব্যক্তিগতভাবে যত্নশীল উপস্থাপনের জন্য বাদামকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশ-প্রবাসের মাঝে সেতুবন্ধনের এই মহতী প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

BADAM Jahan Hassan ekush news media

শেষ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ইবনে মিজানের বড় ছেলে ব্যবসায়ী, চিত্রনায়ক টিটো মিজান।
বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর ভিডিও নির্মান ও গবেষনায় ছিলেন জাহান হাসান। দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ এই ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেস সহ পার্শ্ববর্তী শহরের বিদগ্ধজনেরা যোগ দেন।

ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা


লস এঞ্জেলেস থেকে জেসমিন খানের কলাম
হলিউডে ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা
-জেসমিন খান
হলিউডের দেশে অর্থাৎ লস এঞ্জেলেসের “রয়াল দিল্লি প্যালেস” এর হলরুমে তখন আলো আধারির নরম আলোর তৈরী মোহনীয় আলোকসজ্জার মাঝে মঞ্চের বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে একটা গানের দৃশ্য। গানের সুর টা খুব আবেগময়। কন্ঠটাও খুব মিষ্টি। গায়িকা নিজেই অংশ নিয়েছেন কোরীয়গ্রাফিতে। আকাশ দেব কাকে? গানের কথায় আকাশ ছুয়ে যাওয়ার বাসনা, বৃষ্টির রিমঝিম ধারা ও শব্দের সাথে সুললিত কন্ঠ মাধুর্য ছুয়ে যাচ্ছে দর্শক-শ্রোতার হৃদয়। বৃষ্টি দেখতে দেখতে দর্শক শ্রোতাও পৌছে গেছেন বাংলাদেশের বর্ষার মাঝে। বাংলাদেশে এখন শরত এসেছে। হয়ত সেখানে এখন সুনীল আকাশে কৃষ্ণবর্ণ মেঘের আনাগোনা। বর্ষা বিদায় নিলেও যাই যাই করেও এখনো দাড়িয়ে আছে দুরে কোথাও। তবুও শরত এসেছে। এসেছে তার শিশির ভেজা সবুজ মাঠ,খালে বিলে পদ্ম ও শিউলির লাবন্য নিয়ে। এখন ভোর ভোর সকাল নেমেছে বাংলাদেশে। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সকালের স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে পরছে আমার দেশের পথে প্রান্তরে…|

চমক ভাঙ্গলো প্রচন্ড হাততালির শব্দে। গায়িকা অভিনেত্রী তারিনের গাওয়া গানের অংশ শেষ হয়েছে ,এখন অভিনয়ের অংশ বিশেষ দেখানো হচ্ছে। আয়োজনটি বাদামের পক্ষ থেকে। BADAM বাদাম -মানে, বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব ডাইভারসিটি আর্টস আন্ড মিডিয়া। আজ এখানে বাদাম আয়োজিত এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন দেশের আট জন গুনী ব্যক্তিত্ব। তার মধ্যে পাঁচ জনই নারী। নারীদের এই সাফল্য যে কতটা আনন্দের তা নতুন করে বলবার অপেক্ষা রাখে না। আমি পর্দায় জাহান হাসানের ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখতে দেখতে ভাবছিলাম – সাকসেস মাপার মাপকাঠিটি কেমন? কোন বিশেষ সংগায় বাধা যায় সাফল্যের রসাযন। যে মেয়েটা মিস ইউনিভার্স অথবা সেরা সুন্দরীর মুকুট পরে সারা দুনিয়ার মানুষকে তাক লাগিয়ে ফ্লাইং হাসি ছুড়ে দেয়, আর যে মেয়েটা লন্ঠনের আলোয় অঙ্ক কসে কসে ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো ডিগ্রির পরীক্ষায় ভালো ভাবে উতরে যায়,-তাদের মধ্যে কে বেশী সফল? প্রশ্নটা প্রায়ই আমায় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। নারী মুক্তির ইতিহাস নিয়ে কত কথা শুনি।

নারীবাদের আইনেস্টায়েন সিমন দা বুভেয়র এর “দা লাজিয়েম অফ সেক্স ” বা দা সেকেন্ড সেক্স” আদ্যপ্রান্ত পড়েও বুঝে উঠতে পারিনি এই সব গোলমেলে প্রশ্নের উত্তর। বুঝতে পারিনা তার আসল সংগা।একসময় পুতুল খেলার বয়সের বাচ্চা মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো ধর্ম রক্ষার নামে। তাদের স্বামী নির্বাচনের ব্যাপারে বয়সের কোনো মাপকাঠি ছিল না। একজন পুরুষ হলেই হলো। বৃদ্ধ,এমন কি মৃত্যু পথযাত্রী হলেও ক্ষতি নেই। সমাজ পতিদের মন রক্ষা হলেই বাধা নেই। তার পর বিধবা অথবা সহমরণ এই ছিল তাদের ভবিতব্য। সহমরণের ভয়ংকর প্রথা, বিধবাদের প্রতি সমাজের অকথ্য অত্যাচার, এসব থেকে তাদের বাচাতে এগিয়ে এসেছিলেন রামমোহন রায়,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর মতো মানুষ। বিদ্যাসাগর চেয়েছিলেন মেয়েমানুষ নামের এই সব অবলা বাকরুদ্ধ প্রাণীগুলো বাঁচতে শিখুক। ভালোমন্দ বুঝতে শিখুক। স্বপ্নটাকে আরো একটু বাড়িয়ে বিধবা-বিবাহ পর্যন্ত যেতে তাকে কম হেনস্থা সইতে হয় নি !

বিদ্যাসাগরের সময় থেকে বেগম রোকেয়ার সময় পর্যন্ত যে সব মেয়েরা বিদ্যাসাগর অথবা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন সার্থক করতে তুচ্ছ করেছিলেন সমাজের চোখ রাঙ্গানি ও ভ্রুকুটি -তারা কি বেশী সাফল্যময়ী নাকি সে সময়ের অভিজাত পরিবারের লোরেটো বা বেথুন থেকে পাশ করা সর্ব বিদ্যায় পারদর্শী মেয়েটি বেশি সাকসেসফুল তা ভাবনায় আসে অনেকটাই|

সাফল্যকে মাপা খুব জটিল একটা কাজ। তার নিজেরই একটা জ্যো-তি আছে। সে আলোতেই সে উদ্ভাসিত হয় সকলের চোখে। তেমনি আলোতেই গুণীজনদের আরো আলোকিত করবার প্রত্যয় ও প্রচেষ্টা নিয়েই বাদামের জন্ম। লস এঞ্জেলসে বেশ কিছু সংগঠন থাকা সত্বেও নতুন আরো একটি সংগঠন কেনো –এ প্রশ্নের উত্তরে বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান জানালেন –বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারার বিকাশ ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখবার একান্ত প্রচেষ্টাই বাদামের মূল লক্ষ্য। আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই এলাকার একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দেশের ও প্রবাসের কবি সাহিত্যিক ,দার্শনিক,সাংবাদিক ,অভিনেতা ,অভিনেত্রী ,ক্রীড়াবিদ ও সমাজের অন্যান্য শাখার প্রথিতযশা মানুষদের মূল্যায়নের জন্যই বাদাম কাজ করে যাবে।

এ লক্ষ্যেই বাদাম তার প্রথম আয়োজন করে -“সাম্প্রতিক বাংলাদেশ “। এই উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী হৃদয়ের অনেক চিন্তা-ভাবনার কথা উঠে আসে। কারণ প্রবাসের নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবনে বাস করলেও দেশের সুখ দুঃখ ,আনন্দ বেদনা ঘিরে রাখে প্রতিনিয়ত প্রায় সকল প্রবাসীকেই। হৃদয়ের চোরা কুঠুরিতে আলোড়ন তোলে দেশের ভাবনা। এই আবেগ থেকেই আলোচনা হয়ে ওঠে আরো প্রানবন্ত। স্থানীয় প্রবাসী ও পুরোনো সতীর্থদের সাথে যোগ দেন দেশের এর আর এক জন সফল মানুষ -ফিডব্যাক এর প্রথম ভোকালিস্ট, স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের প্রধান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জাকিউর রহমান। সম্বর্ধনা জানানো হয় বাংলাদেশে আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মানের অগ্রদূত চলচ্চিত্রকার মোহাম্মদ হোসেন জেমিকে। যিনি এই হলিউড থেকেই উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মানের ওপর।

এর মাঝেই বিষাদের ছায়া নেমে এলো বাঙালি সমাজে। শুধু বিষাদ নয় -এ যেনো এক কাল বৈশাখী ঝড়। কিংবদন্তির রূপকথার নায়ক হিসেবে যে মানুষটি অতি অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন দেশের কোটি মানুষের ভালবাসায়। সেই মহানায়ক লেখক হুমায়ুন আহমেদের চির প্রস্থানের পর বেদনাহত বাদাম পরিবার। সেই বেদনাকে সঙ্গী করে আয়োজন হলো -“-হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে–শ্রদ্ধাঞ্জলি “। তবু যেনো পাওয়া হলো না পরিপূর্ণ পাওয়ার দুর্লভ আনন্দ, যা অবিস্মরণীয় হতে পারতো! কারণ সদ্য প্রয়াত সেই মানুষটি অনন্তলোকের ওপার থেকেও আচ্ছন্ন করে রেখেছেন তার পাঠকের চিন্তা চেতনা ,মনন শীলতা। বাদামকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন ভক্তরা -জানালেন তাদের সেই অতৃপ্ততার কথা -বেদনার কথা ,শ্রদ্ধা ও ভালবাসার কথা।

এর পর বাদাম আয়োজন করে ওপার বাংলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় এর সাম্প্রতিক বই বেস্টসেলার ” কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট” এর হলিউডে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। আনন্দবাজার পত্রিকার সাবেক সহ সম্পাদক ও সংবাদ প্রতিদিনের সহ সম্পাদক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত লেখালিখি করেছেন -রবীন্দ্র জীবনের গোপনচারীনিদের নিয়ে। তার “আদরের উপবাস “বইটিতেও তিনি রবীন্দ্রনাথের জীবনের তিন নারীর ভূমিকার অজানা প্রেমময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরেছেন। তারা হলেন কাদম্বরী দেবী ,লেডি রানু মুখার্জি এবং ভাইঝি ইন্দিরা দেবী |স্কটিশ চার্জ কলেজের একদা ইংরেজির অধ্যাপক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় তার” আদরের উপবাসে ” জানিয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষ মুসলমান ছিলেন | তাদের পূর্বপুরুষের একজনের নাম ছিল -পীর আলী। যে কারণে তাদের পিরালী ব্রাহ্মন হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং নির্ভেজাল ব্রাহ্মন্ না থাকার কারণে ঠাকুর পরিবাররের ছেলেমেয়েদের বিবাহে -এমন কি রবীন্দ্রনাথেরও বধু সংগ্রহে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় |

সাহিত্যের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই, গোত্র নেই, নেই দেশ কাল সীমানা। সাহিত্য সকলের। তাই বাদাম তার সীমানা করেছে উন্মুক্ত। দেশ কাল পাত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাদাম সকলের। বিশেষ করে বাংলা ভাষা ভাষীদের প্রতিটি মানুষের। বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্। দেশের সংস্কৃতির অঙ্গনে তাদের অবদান অনষিকার্য। চলচিত্র বা সিনেমার পরিচালক হিসেবে ইবনে মিজান সুপরিচিত একটা নাম। বহু সফল বানিজ্যিক ছবির নির্মাতা তিনি। বর্তমানে তিনি লস এন্জেলেসে বসবাস করছেন। ইবনে মিজান ছাড়াও আজীবন সম্মাননা সনদ পেলেন নাসির আহমেদ অপু। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের, সম্ভবত ৭২ এর দিকে ব্যান্ড সঙ্গীতের জগতে জনপ্রিয় দল ” স্পন্দন ” এর সংগঠক ও প্রধান ভোকালিস্ট। বহু জনপ্রিয় গানের নির্মাতা তিনি। তার লেখা ও সুর করা গান -এমন একটা মা দেনা ,যে মায়ের সন্তানেরা -কান্দে আবার হাসতে জানে,-প্রচন্ড ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তিনিও বর্তমানে এখানেই বাস করছেন।
BADAM
নাহীন কাজী সম্মাননা পেলেন একটু ভিন্ন খাতে। তিনি একজন সফল বিউটিসিয়ান। তার কাজ অনেকটা অন্তরালে। টেলিভিশন বা মঞ্চের অভিনেত্রী বা গায়িকাদের সাজসজ্জায় আমরা মুগ্ধ হই, অনেক সময় অনুকরণ ও করতে চাই, সেই সব মনোমুগ্ধকর সাজ সজ্জা একজন বিউটিশিয়ানের সৃষ্টি। আধুনিক বিশ্বে সব কিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি ফ্যাশন, ফিউসন, লাইফ স্টাইল ট্রেন্ডস, হেলথ কেয়ার, তথা পারসনাল গ্রুমিং সব কিছুই জীবনে অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা সেলিব্রিটি বা মিডিয়ার সাথে যুক্ত। সৌন্দর্য চর্চা এবং সুন্দর থাকা তাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত। নাহীন কাজী তার কাজের মাধ্যমে দেশের মিডিয়া জগতে এক নন্দিত শিল্পীর পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করেছেন ইতিমধ্যে।

প্রখ্যাত গায়িকা ফেরদৌস আরার কথা নতুন করে বলবার কিছু নেই। তিনি জাত শিল্পী। অত্যন্ত খ্যাতিমান এই গায়িকা সঙ্গীতের সব শাখায় অবাধ বিচরণ করলেও নজরুল সঙ্গীতে তিনি ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তার জনপ্রিয়তা আজ আর দেশে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পরেছে সমস্ত পৃথিবীর প্রবাসী বাঙালির মাঝে। খিলখিল কাজিও এমনি একজন মানুষ। তিনি শুধু কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি নন ,প্রখ্যাত আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচীর কন্যা খিলখিল কাজী নিজে ও একজন শিল্পী। বহুবিধ প্রতিভার অধিকারিনী তিনি। অথচ তার কোনো প্রকাশ তার মধ্যে নেই। তিনি তার অসাধারণ বলবার ক্ষমতায় বর্ণনা করলেন কবি নজরুলের জীবনের অজানা আটপৌরে দিকগুলো।মুহুর্তেই বিদ্রোহী কবি তার যোজনার দুরত্ব ঘুচিয়ে হয়ে উঠলেন আমাদের সকলের আপনার। আমরা শ্রোতার দল খুঁজে পেলাম সেই নজরুল -যিনি রাগ করছেন,ফুটবল খেলে প্রিয় দল হেরেছে বলে অভিমানে কাঁদছেন,আবার সন্তানদের নিয়ে আনন্দ করে ঘুরছেন সাধারণ গৃহস্থ হয়ে, এই পাওয়াও বড় কম নয়। বাংলাদেশের জাতীয় কবি তথা বিশ্ব মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিশ্ব সমাজে পরিচিত করার লক্ষ্যে নর্থ আমেরিকাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নজরুল গবেষক ডঃ গুলশান আরা কাজী। তাকেও সম্মাননার অন্তর্জালেও আবদ্ধ করল বাদাম।

বেশ অনেকক্ষণ ধরে স্ক্রিনে দেখছি মিডিয়া কাপানো সেলিব্রিটিদের আনাগোনা। সাংবাদিক ও বাদামের আহবায়ক জাহান হাসানের অসাধারণ ভিডিও প্রেজেন্টশনএ প্রতিটি গুনিজনের জীবন বৃত্তান্ত ফুটে উঠেছে জীবন্ত হয়ে উঠছে রওনাক সালাম, শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের সাবলীল ধারা বর্ণনায়। সঞ্চালক মশহুরুল হুদা তার সহযোগী শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিকে করে তুলছে অত্যন্ত মনোগ্রাহী। কিন্তু কি যেনো একটা নেই। কি যেনো একটা অতৃপ্তি ! সাহিত্য বা কবিতার অনুপস্থিতি চোখে লাগে বৈকি ! উদ্যোক্তারা কি টেলিপ্যাথী জানেন?

এবার মঞ্চে যিনি এলেন, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন কবি। নজরুল একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর রেজাউদ্দিন স্টালিন তার সব পরিচয় ছাড়িয়ে কবি পরিচয়েই যেনো বড় বেশী কাছের হয়েছেন সকলের। কারণ অনেকেই তার কবিতা শুনতে চান। অত্যন্ত শক্তিমান এই কবি, কবিতার রাজ্যে বাস করেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন কাজী নজরুলের সব সৃষ্টিকে যথাযত ভাবে বাঁচিয়ে রাখবার প্রয়াসে। সকলের অনুরোধে তিনি পাঠ করলেন নিজের লেখা কিছু কবিতা। তার প্রায় কবিতায় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষার কথা বলেছেন। পৃথিবীকে বাঁচাবার কথা বলেছেন। স্টালিন বললেন কবিরা শুধু দিতে চায়, দিতে চায় হৃদয় ভরে। পৃথিবীকে সজীব ও সুন্দর রাখতে চায়। বিনিময়ে চায়না কিছুই। কোনো ঐশ্বর্যতেই কবিদের রুচি নেই। কবিরা প্রকৃতি ভালোবাসে তা আমরা জানি। তারা যে ঐশ্বর্য চায় না তাও আমরা জানি। অনেক বছর আগে শার্ল-বদলিয়ার বলেছিলেন –
কি তুমি চাও -অজানা আগন্তুক? মনি কাঞ্চন ,নাকি সোনা রুপা ?
কোথায় তোমার দেশ ?কোন দ্রাঘিমায় তার অবস্থান ?
অনেক প্রশ্নের উত্তরে সে বলছে —
আমি ভালো বাসি মেঘ ,চলিষ্ণু মেঘ ,যারা উড়ে যায় ওই উচু থেকে উচুতে …..||
আকাশ আর মেঘ থেকে আবার ফিরে এলাম মাটিতে। এই হলরুমে সুবেশী অসংখ্য নারী পুরুষের ভি। পরিমিত আলোক সজ্জা, চা কফি ছাড়াও সুখাদ্যের কমতি নেই। হৃদয় ও উদরের পরিপূর্ণ উপাদান।

বাদাম বয়সে নবীন হলেও কাজে প্রমান করেছে দায়িত্বশীলতার। ভাবছি –বাদাম যে প্রত্যয় দিয়ে শুরু করেছে তা ছিল অনেকটাই প্রতিশ্রুতিশীল। ছিল অনেক অঙ্গীকার। বাদাম কি তার প্রথম অঙ্গীকার থেকে কিছুটা সরে এসেছে? কিছুটা কি বদলে গেছে তার ভাবনার গতি? এই লস এন্জেলেসেই এমন বেশ কিছু মানুষ আছেন যারা সম্মাননা পাওয়ার তালিকার প্রথম সারিতে আছেন। আমার হয়ত অনেকের সাথে তেমন পরিচয় নেই, কিন্তু কিছু মানুষের কথা না বললেই নয়। তাদের মধ্যে আছেন –ড: মাহবুব হাসান, লেখক তপন দেবনাথ, কাজী মশহুরুল হুদা, মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ ও আরো অনেকেই। বাদাম কি ভাবছে তাদের নিয়ে? বাদাম কি তার পরবর্তী কাজের কথা ঘোষনা করেছে ইতিমধ্যে? জানবার বাসনা রইল অনেকটাই।

কবিতার রাজ্য থেকে আবার ফিরে এলাম গানের জগতে। তারিনের গানের মধ্য দিয়ে। তারিন জাহান বা তারিন এতটাই পরিচিত একটা নাম দেশের মিডিয়া জগতে যে ,তার সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলবার আর নেই। মিডিয়ার কল্যাণে তার সবকিছুই সবার মোটামুটি ভাবে জানাই আছে। নতুন কুড়ির শিশু শিল্পী হিসেবে তারিনের পথ চলা শুরু। তার পর থেকে পথটা শুধুই সাফল্যের। নাচ, গান, অভিনয় সবকিছুতেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা পাওয়া নামটি তারিন। আজকের দিন শুধু নয়। তারিন এগিয়ে যাবে আরো আরো অনেক দূর। যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম –সাফল্যের বেরমিটারের পারদ কি দিয়ে মাপা যায় ,যদি সে হয় নারী? আমেরিকার এই সব দেশে নারী পুরুষের তেমন তফাত মাপা হয় না। নারীদের কোনো জবাবদিহিতার দায় ও তেমন নেই। তবু ভাবি আরো কতদূর যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা? পলে পলে প্রতিবন্ধকতার বেড়ী এড়িয়ে? আমি জানি আজকের উদিতারা ,আজকের নারীরা অনেক চেতনা সম্মৃদ্ধ। তারা নিজ যোগ্যতাতেই খুঁজে নেবে পথের দিশা। আলোকের ঝরনাধারায় ধুয়ে দেবে সব অন্ধকার।

বাদাম সাথে থাক আমাদের। আজকের পৃথিবীর হিংসা বিদ্দেষ,অশান্তির কালো মেঘের মধ্যে দেখা দিক ভালবাসার আলোর উৎস। অন্ধকার গভীর হয় সূর্যের দুর্বল অবস্থানের জন্য। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রার্থনায় সূর্য আরো প্রখর হোক পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য। বেঁচে থাক প্রেম তার জাদুকরী উজ্জলতায়। বেচে থাক ফুল, নদী, পাখি, গান, কবিতা, সাহিত্য ও সুন্দর। এই সুন্দরের আগমনী সুরে –বাদাম এর স্বপ্ন দেখা –জাহান হাসান, কাজী মশহুরুল হুদা, এম কে জামান, পঙ্কজ দাস, ফারাহ সাঈদ, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, শাহানা পারভীন, শফিউর রহমান বাবু ,খাজা এরশাদ মইনুদ্দিন পপসি, আকতার ভুইয়া, মোবারক হোসেন ও কবি রওনক সালাম সহ বাদামের সকল সদস্য ও গুনগ্রাহীদের জানাই আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। এ পথ চলা সার্থক হোক।।
ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস


আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

On Saturday, community leaders and activists spoke to a packed house at an event in Parkchester commemorating 41 years of Bangladeshi independence from Pakistan. (Photo by Rachel Sapin)

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

নিউইয়র্ক থেকে এনা : স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় আসার পরও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছেন। কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপ্যানিক এবং শ্বেতাঙ্গের চেয়ে বাংলাদেশীদের মধ্যে দারিদ্র্যের এ হার দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্র সেনসাস রিপোর্টের ওপর পর্যালোচনার পর এশিয়ান-আমেরিকান ফাউন্ডেশন এ তথ্য প্রকাশ করেছে এবং তা মার্কিন মিডিয়াগুলোতেও ৯ মে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ওপর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলাদেশীর ৫৯% অত্যন্ত্ম গরিব। সিটির এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশীদের আর্থিক অবস্থান নবম স্থানে। ২০১০ সালের ওই সেনসাস রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রুকলিনে বাংলাদেশীর সংখ্যা ৬১ হাজার ৭৮৮ এবং ২০০৬ সালে তা ছিল ২৮২৬৯। এশিয়ান আমেরিকান ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে যে, ব্রুকলিনে পাকিস্ত্মানি এবং ভিয়েতনামি ইমিগ্র্যান্টদের অবস্থাও তথৈবচ।

উলেস্নখ্য, ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিরাট একটি অংশ নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বেশকিছু বাংলাদেশী সিটিতে ট্যাক্সি ড্রাইভিং করেন। খুচরা দোকানে সেলসম্যানের কাজও করেন উলেস্নখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী। ফেডারেল, স্টেট এবং সিটি প্রশাসনে কাজ করেন এমন বাংলাদেশীর সংখ্যা নিতান্ত্মই কম। এজন্যই যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী বাংলাদেশীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে না। কারণ, ইউএস সেনসাস ব্যুরো এ তথ্য সংগ্রহ করে ট্যাক্স রিটার্ন থেকে। অপরদিকে কুইন্সে বসবাসরত বাংলাদেশীর বিরাট একটি অংশ অফিসিয়াল কাজ করেন বিধায় তাদের আর্থিক অবস্থান কিছুটা ভালো। এদিকে মন্দার কারণে অসংখ্য বাংলাশীর কর্মঘণ্টা হ্রাস করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এখনো গতি আসেনি। নির্মাণ ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো কাজ পাচ্ছেন না। ফলে কম্যুনিটিতে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। ব্রুকলিনের মতো আরো অনেক এলাকাতেই বাংলাদেশীরা নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখী বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্কে নতুন প্রবাসী বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বেশী কাজ মেলে ডানকিন ডোনাট, কেএফসি, ম্যাগডোনাল্ডসহ ফাস্টফুডের দোকানসমূহে। এসব দোকানে প্রতি ঘন্টার জন্য পারিশ্রমিক দেয়া হয় মাত্র ৭ ডলার ২৫ সেন্টস। এভাবে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করলে ৪৮ঘন্টায় আয় হয় ৩’শ ৪৮ ডলার। এ হিসেবে মাসিক আয় দাড়ায় ১৩৯২ ডলার। কিন্তু এক বেড, এক ড্রইং রম্নমের একটি বাসার ভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ডলার। একার আয়ে বাসাভাড়া নিয়ে খাওয়ার টাকা থাকেনা। ফলে স্বামী-স্ত্রীরা পালা করে কাজ করেও দারিদ্র ঘোচাতে পারেন না। এ মুহুর্তে সরকারী চাকুরী নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে দু’একটা হলেও মুসলমানদের তাতে নেয়া হয়না। কৌশলে তাদের চাকুরী সা্কক্ষাৎকার এড়িয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতো কষ্টে থাকার পরেও দেশে আত্মীয় স্বজনের কাছে কেউ লজ্জায় কষ্টের কথা বলেন না।

” … Free International Calls: Free mobile calls between 50 countries …”

The Asian community was the fastest growing major population in New York City, increasing by 30% in the past decade. Asians are now 13.9% of the City’s population. In the same period, the population of Asian children grew by 16%, the only major race and ethnic group to show an increase, while the number of seniors in our community grew by 64%, the largest increase among major race and ethnic groups. The report also shows:

  • New York City is home to the largest Bangladeshi and Pakistani population in the U.S.
  • Korean children are twice as likely not to have health insurance than all children in New York City.
  • The poverty rate of Asian seniors increased while other race/ethnic groups declined.
  • Asian seniors were more than twice as likely to have no health insurance coverage than seniors in other populations.
  • Japanese have one of the highest rates of seniors living alone, citywide.
  • While Asians represent 11% of the citizen voting-age population in New York City, Asians were least likely to be registered to vote.
  • Despite having the highest income in the Asian community, Filipinos saw a drop in the median household income and an increase in child poverty rate of 4%.
  • Chinese, Indians and Koreans own 80% of the Asian-owned businesses in our City.
  • Asian workers had the largest jump in unemployment rates.
  • Asian-owned businesses contributed $38 billion worth of sales, receipts or value of shipments to the City’s economy.

Visit us on FaceBook একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

New face of poverty?

Brooklyn’s Bangladeshi community poorer than blacks and Latinos

Nearly 54% of the immigrant group live in poverty, report finds

By / NEW YORK DAILY NEWS

Wednesday, May 9, 2012, 6:21 PM
Mamnunul Haq. - (Susan Watts/New York Daily News)

Susan Watts/New York Daily News / Mamnunul Haq. – (Susan Watts/New York Daily News)

 A new face of poverty is emerging in Brooklyn.

Recent U.S. Census data shows that the borough’s Bangladeshi community is poorer than blacks, whites, or Latinos living in the county.

The Asian American Federation found that 53.9 % of Bangladeshis living in Brooklyn are poor – the highest rate among the city’s eight largest Asian immigrant groups.

The poverty rates for Bangladeshis was nearly double the numbers for blacks, whites, and Hispanics in the borough and citywide, according to stats from 2006 to 2010.

“We want to make sure that the programs that address poverty in the city address the specific needs of these groups,” said AAF’s Census guru Howard Shih.

The report also found high rates of poverty among Pakistanis and Vietnamese reidents in the city.

“They are really, really starting out at the bottom,” said CUNY sociologist Philip Kasinitz of the Banladeshis and other newcomers. “A lot of new (immigrant) groups are growing very rapidly.”

Asians are the fastest growing immigrant group in the city, increasing by one-third in 2010 compared to a decade ago and adding 262,142 new residents, said the AAF.

A large portion of the expansion came from the Bangladeshi community – centered in Kensington – which has doubled in size surging from 28,269 in 2000 to 61, 788 in 2010.

Father of three Mamnun Haq, AGE, moved to Kensington twenty years ago leaving behind a bank officer position in his South East Asian homeland.

Haq scrambled to find a steady paycheck in New York learning that his banking experience was worthless.

So he did what a lot of his friends were doing – drove a yellow cab.

“They are first generation and are trying to find work, mainly doing odd jobs,” said Haq pointing out that many of his friends are either hacks, construction workers, or restaurant employees at Dunkin’ Donuts.

But a passenger stabbed Haq in March 2005 ending his taxi career.

“I had a tough time,” Haq said.

He now runs a health program at NYU centered on teaching Bangladeshis how to eat better. A third of New York’s Bangladeshis suffer from diabetes, said Haq, three times the city’s average rate.

“Their food is too starchy; they eat too much rice,” Haq said.

Haq teamed up with Councilman Brad Lander (D-Kensington) getting more Bengali translators for Kensington public schools and pushing more Bangledeshi to attend community meetings to learn what services the city provides.

“There is still a long way to go,” said Lander. “We haven’t caught up with the growth of the community.”

Some experts pointed out that although many new Asian immigrants are poor, the hard numbers are much higher in the black and Latino communities.

The Community Service Society of New York found that an estimated 315,000 blacks and Latinos live in poverty in Brooklyn.

simonew@nydailynews.com

Read more: http://www.nydailynews.com/new-york/brooklyn/face-poverty-brooklyn-bangladeshi-community-poorer-blacks-latinos-article-1.1075313#ixzz1uVSYHVsu

Asians Lead City In Growth Rate

 By SUMATHI REDDY

While Chinatown’s Asian population declined over the past decade, the Asian footprint widened in far-flung neighborhoods from Sunset Park in Brooklyn to Murray Hill in Queens.

In a report released Friday the Asian American Federation, an advocacy and civic group, zeroed in on the city’s booming Asian population, breaking it down by country of origin, neighborhood and age.

Using U.S. Census data from 2000 and 2010, as well as American Community Survey results, the report tracks demographic changes in the Asian population, which increased 30% between 2000 and 2010, making it the city’s fastest-growing racial and ethnic group. Asians compose 13.9% of the city’s population, versus 10.9% in 2000, according to the report. The group showed growth in every borough.

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

Queens continued to have the largest Asian population, and it exceeding the number of blacks in the borough for the first time. The report predicts that if growth rates continue at the current pace, Asians will become Queens’s largest ethnic group this decade, topping non-Hispanic whites and Hispanics.

Brooklyn’s Asian population grew at the fastest clip, with children fueling much of the increase. The number of Asians in Dyker Heights and Sunset Park East, for example, shot up 83% and 60%, respectively.

The report found an increasing diversity within the Asian population. While Chinese and Indians continue to be the largest groups, the fastest-growing ethnic groups were Hmong, Taiwanese, Bangladeshi and Laotians, all of which more than doubled in size over the past decade, though some had tiny base populations. (The Hmong were the smallest, with 83 people.) Other emerging groups, though still small in number, include Nepalese, Burmese and Bhutanese, many of whom came to the U.S. as refugees in recent years.

Howard Shih, census programs director for the Asian American Federation, said the numbers showed that Chinatown’s 15% decrease in Asians was driven largely by a loss of children, while the boom in Sunset Park and Bensonhurst was fueled by children.

Queens had the largest increase in the number of Asian seniors.

The report noted several shifts in settlement. Koreans seem to be moving out of Jackson Heights and Elmhurst further east to Bayside and surrounding neighborhoods, said Mr. Shi.

Meanwhile, Astoria, Elmhurst and Flushing saw declines in the Indian population but their numbers increased in Richmond Hill, South Ozone Park and Northeast Queens.

One longstanding goal of the Asian community is to help Asian-American candidates win public office. The report showed that while the number of registered Asian voters has doubled, registration rates have remained relatively stable, said Mr. Shih.

“It certainly shows the great potential within the Asian community for being more engaged civically,” said Yang Chen, executive director of the Asian American Bar Association. “It would be a shame if we weren’t able to mobilize because it is an election year and it is a chance for the Asian community to have their voice heard.”

Write to Sumathi Reddy at sumathi.reddy@wsj.com

A version of this article appeared April 21, 2012, on page A17 in some U.S. editions of The Wall Street Journal, with the headline: Asians Lead City In Growth Rate.
http://online.wsj.com/article/SB10001424052702303513404577356153202527234.html?mod=WSJ_article_comments#articleTabs%3Darticle

%d bloggers like this: