লস এঞ্জেলেসে ষ্টেট আওয়ামী লীগের ইফতার ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন


লস এঞ্জেলেসে ষ্টেট আওয়ামী লীগের ইফতার ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন

একুশ নিউজ মিডিয়া,লস এঞ্জেলেস, ২৭ জুলাই :
লস এঞ্জেলেসে ইফতার সন্ধ্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪২তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
লস এঞ্জেলেসে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন
ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গত শনিবার লস এঞ্জেলেসের অলিম্পিক পুলিশ ষ্টেশন কম্যুনিটি সেন্টারে ইফতার মাহফিলে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মিয়া আবদুর রব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে দোয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সুস্থতা ও সাফল্য কামনা করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দুয়ার প্রসারিত করার লক্ষ্যে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নাই, আর সেই সন্ধিক্ষণে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অগ্রযাত্রাকে সুযোগ দিতে প্রবাসীসহ দেশবাসীকে আহ্বান জানান ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলম।

ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, নিজেদের মাঝে দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে আগামী নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।

দলের দুঃসময়ে যারা দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তাদেরকে সংগঠিত করে প্রবাসে-দেশে শক্তিশালী নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির উপর গুরুত্বারোপ করেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি সোহেল রহমান বাদল।

জন্মদিন উদযাপনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহাতাব আহমেদ টিপু, মিজানুর রহমান শাহীন, তোফাজ্জল কাজল, মোঃ হোসেন, শওকত চৌধুরী, মোঃ আলী, আকতার এইচ মিয়া, মোবারক হোসেন বাবলু, ফরিদ উ আহমেদ, শফিউল আলম বাবু, সৈয়দ এম হোসেন, জসীম আশ্রাফী, জিয়াউল ইসলাম, মোঃ হিলটন, তপন দেবনাথ, এম কে জামান, নাসির আহমেদ অপু, নিপা মোনালিসা, আতিক রহমান, মিঠুন চৌধুরী ও মমিনুল হক বাচ্চু প্রমুখ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় জন্ম হয় জয়ের, বিজয়ের পর তার নাম রাখেন নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তথ্য-প্রযুক্তিবিদ প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনের কেক কাটেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান সহ আগত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
২০১৩ ছবি লিঙ্কঃ http://goo.gl/mL3rVs

This slideshow requires JavaScript.


২০১২ জন্মদিনের ছবি ও নিউজঃ http://goo.gl/yNP3TI

Advertisements

দরবেশ থাকেন ভাড়া বাড়িতে?


Some content on this page was disabled on October 27, 2016 as a result of a DMCA takedown notice from Deshe Bideshe. You can learn more about the DMCA here:

https://en.support.wordpress.com/copyright-and-the-dmca/

পার্থকে নিয়ে বিপাকে শেখ হেলাল পরিবার


পার্থকে নিয়ে বিপাকে শেখ হেলাল পরিবার

June 19, 2013
Andalib Parthoঢাকা:মেয়ের জামাইকে নিয়ে বিপাকেই পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন। কোনো কিছুতেই বাগে আনতে পারছেন না তাকে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হয়ে ও হরহামেশাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মুখোরোচক সমালোচনা করে যাচ্ছেন তিনি। এই তিনির নাম আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি আঠারো দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সভাপতি।

ভোলা সদরের সাংসদ আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়ে আওয়ামী লীগে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে­ নিয়ে তাঁর বক্তব্য ভাল ভাবে নিচ্ছেন না সরকারের নীতি নির্ধারকরা। শেখ হেলাল কেন পার্থ কে বোঝাতে পারেন না তা নিয়ে ও নানা কথা আছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে। শুধু তিনিই নন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম পার্থর মামা। ভাগ্নের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাকেও। খালাতো ভাই জাতীয় সংসদের হুইপ নূর-ই-আলম লিটন চৌধুরী ও এর বাইরে নয়। তিনি ও সমালোচকের দায় এড়াতে পারেন না সহজে। খালু আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। মামাতো ভাই ফজলে নূর তাপসও এ নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পার্থর ঘনিষ্ঠ সূত্র ঢাকাটাইমসকে জানায়, কদিন আগে বিজেপি নেতার বাসায় আওয়ামী লীগের তার ঘনিষ্ঠরা এ নিয়ে বৈঠক ও করেন। তারা পার্থকে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের পক্ষে বক্তৃতা-বিবৃতি থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। এরপর থেকে অনেকটা গা ঢাকা দিয়ে আছেন বিজেপি চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আন্দালিব রহমান পার্থর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে হারিয়ে ভোলা সদরের এমপি হন পার্থ। বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা পার্থের। সাবেক মন্ত্রী নাজিউরের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের মেয়ে শেখ সায়রা রহমানকে বিয়ে করেছেন তিনি। এই দম্পতির দুই কন্যা মাহাম সানজিদা রহমান এবং দিনাবিনতে আন্দালিব।

ঢাকায় সেন্টযোসেফ ও ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়া লেখা করেছেন পার্থ। লন্ডনে রলিং কনসইন থেকে ১৯৯৭ সালে সম্পন্ন করেন বার-অ্যাট-ল। ইংল্যান্ডের উল্ভার হ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন পার্থ। টিউশন নিয়েছেন হল্বর্ন কলেজ থেকে। তিনি লিংকন সইনের মেম্বার। দেশে ফিরে চার বছর কাজ করেন প্রখ্যাত আইনজীবী রফিক-উল হকের সঙ্গে।

পার্থ মনে করেন, ছাত্রলীগ যুবলীগ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হবে না। সোনার বাংলা গড়তে হলে যে প্রবাসী শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এদেশে টাকা পাঠায় তাদের মূল্যায়ণ করতে হবে। তাদের ভালোবাসতে হবে। যে পোশাক শ্রমিকরা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছে তাদের সম্মান করতে হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ এ কথা বলেন।

পদ্মাসেতু, হলমার্ক, হেফাজতে ইসলাম, জঙ্গী, শাহবাগ, ভিওআইপিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের বিতর্কিত ভূমিকার সমালোচনা করে বক্তৃতা করেন তিনি। বিতর্কিত ভূমিকার জন্য দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের পদত্যাগও দাবি করেন পার্থ।

ওয়ান ইলেভেনের সময়ে সরকারের নির্যাতন, অনিয়মের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, এজন্য দায়ী কোন সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়নি।
পার্থের বক্তৃতার সময় সরকার দলীয় সদস্যরা হৈ চৈ করে প্রতিবাদ জানান। বক্তৃতা শেষে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতে চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনাকে পরে সময় দেওয়া হবে।

http://newstimes24.net/?p=10849

তথ্য আছে, আ.লীগ আবার আসবে: জয়


তথ্য আছে, আ.লীগ আবার আসবে: জয়.

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের ব্যাপারে ‘আত্মবিশ্বাসী’ প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ আয়োজিত ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ আগামীবার আবার ক্ষমতায় আসবে। বিএনপির মিথ্যা প্রচার মোকাবেলা করতেই হবে।”

আগামী ছয় মাস তরুণ ভোটারদের কাছে বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরারও আহ্বান জানান জয়।

গত ১৬ জুলাই স্ত্রী ক্রিস্টিন ওভারমায়ার ও মেয়ে সোফিকে নিয়ে সজীব ওয়াজেদ দেশে আসেন। দেশের ফেরার পর সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দেয়া ইফতার আয়োজনে অংশ নেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশ পেছন দিকে হাঁটবে। বাংলার মানুষ কখনোই বিএনপি-জামায়াতের সেসব দিনের কথা ভুলবে না।

২১ অগাস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার কথা উল্লেখ করে জয় বলেন, “একুশে আগস্টের কথা আমরা ভুলিনি। আমার মা কে লক্ষ্য করে বোমা হামলা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ২৩ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ৪০০ জন। আর এই হামলার মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে নিজে আমার মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।”

“আমার মা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও আইভী রহমান বাঁচতে পারেননি। তিনি আমাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন। আমরা কিছুই ভুলিনি, ভুলব না। ২১ শে আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই।”

বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোথায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে? বিগত বিএনপির সাথে বর্তমান সরকারের তুলনা করে দেখুন। টিআইবি এতো অভিযোগ করে কিন্তু বিএনপির সময়ে টিআইবির জরিপে দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ, এখন বাংলাদেশের অবস্থা ৪০ এর উপরে।”

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে হয় না দাবি করে জয় বলেন, “হলমার্ক-ডেসটিনি নিয়ে এত কথা হয়, কিন্তু হাওয়া ভবনের কথা কি জাতি ভুলে গেছে? খাম্বার কথা ভুলে গেছে? বিএনপি সরকার ৫ বছর শুধু খাম্বা কিনেছে, বিদ্যুৎ দিতে পারেনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও বিএনপি-জামায়াত সরকার ছিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ।”

দেড় কোটি মানুষ গত সাড়ে ৪ বছরে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান, যুবলীগ নেতা হারুনুর রশীদ, ফজলুল হক প্রমুখ।

কে জানে গণতন্ত্রই এক দিন গুম হয়ে যায় নাকি এ দেশে!


গুম হয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র?
 

  

আসিফ নজরুল:

অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
 

রোববারের পত্রিকা পড়ার পর আরও চিন্তিত হয়ে আছি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, গুম ও নিখোঁজের কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তাঁর এই সাহসী বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ; কিন্তু তিনি যা বলেছেন, তা উদ্বেগজনকও। এই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় যখন আমরা মিজানুর রহমান খানের লেখায় পাই গুমের একটি ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবে থাকা একজন সেনাসদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ।

বাংলাদেশে বহু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র‌্যাব জড়িত ছিল। এ ধরনের ঘটনা বানানো হলেও র‌্যাবের একটি কৈফিয়ত থাকে। লাশ উদ্ধার হয় বলে তার ময়নাতদন্ত, সৎকার এবং ভবিষ্যতে বিচারের একটি সম্ভাবনা থাকে। গুমের ক্ষেত্রে এসব কিছুই থাকে না; থাকে না এমনকি ‘মৃত’ মানুষের জন্য প্রার্থনা করার সুযোগটুকু। এই পৈশাচিক অপরাধকে তাই নিকৃষ্টতম অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আইন ও নৈতিকতা—উভয় বিচারে। পৃথিবীর ইতিহাস বলে, যে দেশের সরকার যত বেশি ফ্যাসিস্ট, সেখানে তত বেশি গুমের ঘটনা ঘটে। কম্পুচিয়া, ভিয়েতনাম, কলম্বিয়া, নিকারাগুয়া, জিম্বাবুয়ের মতো দেশে এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটত একসময়। ইলিয়াসের নিখোঁজের ঘটনা আবারও এই প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে যে আমরা কি সেদিকে যাচ্ছি? নাকি এরই মধ্যে এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছি, যেখানে জনগণের নিরাপত্তার বড় শত্রু স্বয়ং রাষ্ট্র!

অতীতের বিশাল বর্ণনা বাকি রাখি। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনাই চরম অস্বস্তির জন্ম দেয় আমাদের মনে। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পর এর তদন্ত তদারকির দায়িত্ব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও নিয়েছেন—এ কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে। পুলিশের আইজি হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর বলেছিলেন, তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তদারকির দায়িত্ব নেওয়ার পরও সেই পুলিশি তদন্তের ফলাফল উচ্চ আদালতের ভাষায় কেমন করে তাহলে ‘জিরো’ হয়ে যায়! কেন এই তদন্তের দায়িত্ব অবশেষে দিতে হয় র‌্যাবকে, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই রয়েছে তদন্ত ‘গুম’ করার বা সাজানোর অভিযোগ! এ দেশের ইতিহাসে বিদেশি কূটনীতিকের খুন হওয়ার কোনো নজির ছিল না। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর রাজধানীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় খুন হন একজন পদস্থ সৌদি কূটনীতিক। কেন প্রায় দুই মাস পরও এমন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর খুনের তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই? কেন দেশকাঁপানো এমন দুটো ঘটনায় একজনকে আজও গ্রেপ্তার করতে পারল না পুলিশ? মিডিয়ার এত জিজ্ঞাসা সত্ত্বেও কোথায় গায়েব হয়ে গেল সুরঞ্জিতের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা, যার কারণে উদ্ঘাটিত হয়নি সেই গাড়িচালক আলী আজম?

সবশেষে কেমন করে রাজধানীর সবচেয়ে প্রটেকটেড একটি রাস্তা থেকে উধাও হলেন বিরোধী দলের একজন প্রথম সারির নেতা? এ ঘটনার পর বিএনপি, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদের সাবধানে চলাফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলোতে। বড় রাজনীতিবিদদের গানম্যান আছে, সঙ্গী-সাথি আছে, খবর নেওয়ার নেটওয়ার্ক আছে। তাঁরা সাবধানে থাকতে হয়তো সমর্থ। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কী হবে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেডরুমে নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। আবার আমরা দেখছি, রাজপথ থেকেও উধাও হয়ে যেতে পারে কোনো মানুষ। আইন-আদালত কোথাও নিষ্পত্তি হচ্ছে না কারও দায়দায়িত্ব!

এ পরিস্থিতি, বিশেষ করে সরকারের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণকারীদের জন্য অশনিসংকেত। এ পরিস্থিতি মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকারের জন্য ভয়ংকর। এ পরিস্থিতি কখনোই গণতন্ত্র নয়, বরং গণতন্ত্রের মোড়কে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিতবাহী।

২.
প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যে বর্ণনা আমরা পেয়েছি, তাতে এটি সন্দেহ করার কারণ রয়েছে, সরকারের কোনো সংস্থার লোকেরা ইলিয়াসকে তুলে নিয়ে গেছে। যে নিখুঁত পরিকল্পনায় তাঁর গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে নেমে আসতে বাধ্য করা হয়, যেভাবে সেখানে মাইক্রোবাসে তাঁকে তোলা হয় এবং ঘটনাস্থলে সাইরেন বাজানো যানের যে বর্ণনা আমরা পাই, তাতে এ ধারণা যে কারও জন্মাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ইলিয়াস লুকিয়ে থাকতে পারেন আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করার জন্য। সোহরাব হাসান তাঁর লেখায় ব্যাখ্যা করেছেন কতটা অবাস্তব এটি। আমি মনে করি, যে সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দলীয়করণ আর ভারত-তোষণের অভিযোগের পাহাড় জমছে, তার বিরুদ্ধে আন্দালনের আর কোনো নতুন ইস্যুর প্রয়োজন নেই; বরং খতিয়ে দেখলে মনে হবে ইলিয়াসকে উধাও করার ঘটনার পেছনে সরকারেরই মোটিভ থাকতে পারে। প্রথমত, বিএনপি অভিযোগ করেছে, রেল মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যের দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তা আড়াল করার জন্য ইলিয়াসকে গুম করা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, তোলপাড় করা সুরঞ্জিতকেন্দ্রিক এ দুর্নীতির ঘটনা আসলেই অনেকটা আড়াল পড়ে গেছে ইলিয়াস গুম হওয়ার ঘটনায়। দ্বিতীয়ত, বিএনপির একজন নেতা টিপাইমুখবিরোধী আন্দোলনে সম্প্রতি ইলিয়াসের সোচ্চার ভূমিকাকেও আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৃতীয়ত, আন্দোলনের মাঠ সচল রাখার ক্ষেত্রে ইলিয়াসের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ইলিয়াসের মতো একজন সুপরিচিত নেতা গুম হয়ে গেলে মাঠপর্যায়ে, বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি এটি বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে আতঙ্কিত এবং আন্দোলনবিমুখও করে তুলতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, এর আগে বিএনপির প্রায় দুই ডজন নেতাসহ শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। কারও ক্ষেত্রেই তদন্তের কোনো সুরাহা হয়নি। দুই বছরে সরকার আমাদের কিছুই জানাতে পারেনি যে চৌধুরী আলম কোথায়, তাঁকে কে উধাও করেছে, তিনি মারা গেলে তাঁর লাশ কোথায়?

সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব যেকোনো নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া। কোনো মানুষ উধাও বা খুন হলে দোষীদের গ্রেপ্তার করা এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা। সরকার যদি এটি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুটো অনুসিদ্ধান্তই কেবল নেওয়া সম্ভব। এক. সরকার নিজে তা করেছে বলে বিচার করতে অনিচ্ছুক। দুই. সরকার অপরাধী শনাক্ত করতে বা অপরাধটির বিচার করতে অক্ষম বা অসমর্থ। যদি এর একটিও সত্যি হয়, তাহলে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায় থাকে? মানুষের নিরাপত্তা ও জীবন যদি রাষ্ট্রযন্ত্র কেড়ে নেয় বা তা কেড়ে নেওয়া মেনে নেয়, তাহলে সে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর আইনের শাসন কোথায় থাকে?

৩.
আমাদের কিছু উদ্বেগ এখনো দূর হয়ে যেতে পারে ইলিয়াস জীবিত অবস্থায় ফেরত এলে। কিন্তু তিনি কি বেঁচে আছেন এখনো? আমি জানি, যাঁরা প্রকৃত রাজনীতিক, যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁরা মনেপ্রাণে চাইবেন তিনি বেঁচে থাকুন। আওয়ামী লীগের মতো সুদীর্ঘকালের গণতান্ত্রিক দলে এমন বহু নেতা-কর্মী আছেন, যাঁরা ইলিয়াসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তাঁর অন্তর্ধানের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কথাবার্তায় তাঁদের উদ্বিগ্ন ও বিব্রত মনে হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কিছু দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্যের পর আওয়ামী লীগের দু-একজন নেতাকে তাঁর মতো করে কথা বলতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, ইলিয়াসকে খালেদা জিয়াই লুকিয়ে থাকতে বলে নাটক সাজিয়েছেন, তাঁকে ভুল প্রমাণ করার জন্য নিশ্চয়ই পুলিশ-গোয়েন্দা কাজ করবে না। অন্য বহু তদন্তের মতো সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে এটিও ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে তাই। সরকারের কাজের যা প্যাটার্ন, এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরও ভয়াবহ কোনো ঘটনাও হয়তো ঘটানো হতে পারে বাংলাদেশে।

আমি জানি, দেশজুড়ে গুজব আছে ইলিয়াসকে ফেরত দেওয়া হতে পারে জীবিতাবস্থায়। কিন্তু এটি বিশ্বাস করা কষ্টকর। যেখানে কোনো তদন্তের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এটি বিরোধী দলের নেত্রীর সাজানো নাটক, সেখানে ইলিয়াস এমন একটি বিবরণ নিজে থেকে দিতে রাজি হলেই কেবল তাঁকে জীবিত ফেরত দেওয়া সম্ভব। নিজের জীবন রক্ষার্থে এবং সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে ইলিয়াস হয়তো সাময়িকভাবে রাজি হতে পারেন এতে। কিন্তু তাতে এই হীন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা রক্ষা পাবে, প্রকৃত ঘটনা নিয়ে কুৎসিত কাদা ছোড়াছুড়ি অব্যাহত থাকবে, দেশবাসী আরও বিভ্রান্তিতে পড়বে।

আমরা তবু চাই, ইলিয়াস ফেরত আসুন। কারণ, শাহ্দীন মালিকের গতকালের অসাধারণ লেখা থেকেই বলছি, ‘এভাবে চলতে থাকলে দেশে রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের আকাল পড়বে। বহাল তবিয়তে থাকবে শুধু র‌্যাব।’

যত দূর মনে করতে পারি, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে র‌্যাবের দিকে ইঙ্গিত করে বিরোধী দলকে বলছেন, আপনাদের সৃষ্টি করা বাহিনীই আপনাদের খাবে! বিএনপির কি এখন বোধোদয় হচ্ছে, কী ভয়ংকর আগুন নিয়ে খেলেছিল তারা র‌্যাবের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে? আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি বুঝতে পারছেন, আপনার আমলে গুম-সংস্কৃতি বিস্তার হওয়ায় কোন দাবানল তৈরি হচ্ছে দেশে? গুম হওয়া যদি স্বাভাবিক হয়ে পড়ে, তাহলে কে জানে গণতন্ত্রই এক দিন গুম হয়ে যায় নাকি এ দেশে!

আমরা সত্যিই আশঙ্কিত!

পাদটীকা: এই লেখা যখন লিখছি, দেশে তখন হরতাল চলছে বিরোধী দলের আহ্বানে। হরতালের দিন এবং আগের দিন সহিংসতায় নিহত হয়েছেন দুজন, আহত হয়েছেন অনেকে, বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা হরতালের অধিকারে বিশ্বাসী, কিন্তু হরতালে নিহত-আহত হওয়ার ঘটনা আর ধ্বংসযজ্ঞ এই অধিকারের আওতায় পড়ে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

 
 

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[সূত্রঃ প্রথম আলো, ২৩/০৪/১২]

‘দলীয় নেত্রী’ ও দেশের ‘প্রধানমন্ত্রীর’ মধ্যে যে একটা গুণগত পার্থক্য থাকে তা অনেক সময়ই তিনি বিস্মৃত হয়ে যান


ক্ষুদ্রঋণ : প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে

আ বু ল আ ব্বা স

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ ও প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। এ ব্যাপারে ‘প্রথম আলো’ পত্রিকা তাদের এক সম্পাদকীয়তে বলেছে : ‘শেখ হাসিনা যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন তা অনিভিপ্রেত। তদন্তের আগেই কাউকে দোষারোপ করা যায় না।’ (৭ ডিসেম্বর) ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকাও এ বিষয়ে এক সম্পাদকীয়তে বলেছে : প্রধানমন্ত্রী ও মিডিয়ার একটি অংশ নরওয়ের টিভি চ্যানেলে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের সূত্র ধরে নোবেল বিজয়ী, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছে তা সব তথ্যকে বিবেচনায় এনে করা হয়নি। (৬ ডিসেম্বর) দৈনিক ‘সমকাল’ এক সম্পাদকীয়তে বলেছে : ‘ইতিমধ্যে ড. ইউনূস সম্পর্কে কোনো কোনো মহল থেকে এমন সব মন্তব্য করা হয়েছে, যা সমর্থনযোগ্য নয়। ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যকে এক ফুত্কারে অস্বীকার করব, সেটিও সমর্থনযোগ্য নয়। (৮ ডিসেম্বর)

প্রধানমন্ত্রীর আলোচ্য বক্তব্য নিয়ে অনেক স্থানে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। আমি অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যে অবাক হইনি। কারণ, তিনি এরকমই বলে থাকেন। ‘দলীয় নেত্রী’ ও দেশের ‘প্রধানমন্ত্রীর’ মধ্যে যে একটা গুণগত পার্থক্য থাকে তা অনেক সময়ই তিনি বিস্মৃত হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা উপলক্ষে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কেও ব্যঙ্গোক্তি ও চটুল ভাষায় সমালোচনা করে থাকেন। পাঠকের নিশ্চয় তা মনে আছে। রাজনীতিতে অনেক সময় ভাষা বা ভাবের ত্রুটি খোঁজা হয় না। তবু সেখানেও একটা পরিমিতি থাকা প্রয়োজন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা নোবেল বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে যে ভাষায় সমালোচনা করেছেন, তা শেখ হাসিনার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী পদের একজন নেতা দেশের কোনো সম্মানিত নাগরিক সম্পর্কে (রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক ছাড়া) ব্যক্তিগত পর্যায়ে অশোভন, অরুচিকর ভাষায় যে মন্তব্য করতে পারেন তা অনেকেরই কল্পনার অতীত ছিল। প্রধানমন্ত্রী কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কর্মসূচির সমালোচনা করতেই পারেন। প্রত্যেক নাগরিকেরই সেই অধিকার রয়েছে। কিন্তু সমালোচনার যে ভাষা তিনি ব্যবহার করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রী পদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শুধু ভাষা নয়, তিনি গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করেছেন, তাও তথ্যভিত্তিক নয়। তা কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মতলববাজ গবেষক বা সাংবাদিকের পক্ষে এ ধরনের অভিযোগ মানালেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য তা খুবই বেমানান ও অশোভন। প্রধানমন্ত্রী এমন একটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সম্পর্কে তির্যক সমালোচনা করেছেন, ঘটনাক্রমে সেই প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারে’ সম্মানিত, যা প্রকারন্তরে বাংলাদেশেরই গৌরব। সমালোচনা করার সময় প্রধানমন্ত্রী সেই তথ্যটিও বিস্মৃত হয়েছেন। আশা করি, নোবেল পুরস্কারের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ভুল ধারণা নেই। শুধু নোবেল পুরস্কার নয়, ড. ইউনূস সারা বিশ্বের জাতীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অসংখ্য পুরস্কার এবং পৃথিবীর নানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ৪৮টি সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি লাভ করেছেন। এসব ডিগ্রি তিনি কোনো সরকারি পদে থাকার সময় পাননি। ড. ইউনূসের মতো এত বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার খুব কম মানুষের ভাগ্যে জুটেছে। বিশ্বের বহু দেশের সাধারণ মানুষ এখন ‘বাংলাদেশকে’ চেনেন শুধু ড. ইউনূসের জন্য।

আমার ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. ইউনূসসংক্রান্ত এসব তথ্য জানেন না। বোধ হয় প্রধানমন্ত্রীর ধারণা, ড. ইউনূস সোনালী বা জনতা ব্যাংকের মতো আরেকটি সরকারি ব্যাংকের এমডি। তা না হলে তিনি ড. ইউনূস সম্পর্কে প্রকাশ্যে এই ভাষায় সমালোচনা করতে পারতেন না।
ড. ইউনূস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন। তিনি ভোট, হরতাল, মিছিল, সরকারি ব্যবসা, কমিশন বাণিজ্যের অংশীদার, কোনো সরকারি পদ ইত্যাদি থেকে অনেক অনেক দূরে। যেগুলো দেখভাল করা প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনে ড. ইউনূস তো কোনো বাধা নয়। তবু ড. ইউনূসের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রোশ কেন? খালেদা জিয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর আক্রোশের কারণ বোঝা যায়। এটা বোঝা যায় না।

‘গ্রামীণ ব্যাংক’ সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী সমালোচনামুখর। গ্রামীণ ব্যাংকও একটি নোবেল জয়ী প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর খুব কম ‘প্রতিষ্ঠানই’ নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। এই পুরস্কারে বাংলাদেশ সম্মানিত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সম্মানিত। অথচ সেই বিরল প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে তিনি যুক্তিহীনভাবে সমালোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান আক্রমণের টার্গেট ‘ক্ষুদ্রঋণ’। এটা খুব রহস্যময়। কারণ, সারা পৃথিবী বাংলাদেশের উদ্ভাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ’ নিয়ে প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত, অথচ এর জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এর সমালোচনায় মুখর। তিনি বলেন, ‘আমি এটা কখনোই সমর্থন করিনি। প্রতিবাদ করেছি।’ তিনি কেন একে সমর্থন করেননি, তার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক নেতার সমালোচনার মতো শুধু ঢালাও মন্তব্য পাওয়া যায়। রাজনৈতিক নেতারা রাজনৈতিক ইস্যুতে ঢালাও মন্তব্য করে থাকেন। এটা মোটামুটি সহনীয় হয়ে গেছে। কোনো সমালোচনার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত দেয়া রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রে নেই। (ব্যতিক্রম খুব কম) ঢালাও মন্তব্য করার মধ্যেই তাদের আনন্দ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ক্ষেত্রে অভ্যাসমত তাই করেছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা হয়তো ভুলে গেছেন ‘ক্ষুদ্রঋণ’ কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, ট্রানজিট বা টিপাইমুখ বাঁধের মতো। এটা বহুল পরীক্ষিত ও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত একটি অর্থনৈতিক মডেল। বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশের ১১০টি দেশে এই ‘গ্রামীণ’ মডেল অনুসরণ করা হয়। বিশ্বের বহু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও ফিন্যান্স শাস্ত্রে ‘মাইক্রো ফিন্যান্স’ পড়ানো হয়ে থাকে। এই মডেল নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। বহু বই প্রকাশিত হয়েছে। এটা ‘একটি বাড়ি ও একটি খামার’ এর মতো কোনো সরকারি কর্মসূচি নয়, যা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

ড. ইউনূস ‘গ্রামীণ’ আইডিয়ার মাধ্যমে একটি নতুন ব্যাংকিং মডেল উদ্ভাবন করেছেন, যার বৈশিষ্ট্য হলো : বিনা বন্ধকিতে গরিব মানুষকে ছোট অংকের ঋণ দেয়া ও প্রতি সপ্তাহে সুদসহ তা পরিশোধ করা। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী যেসব গরিব নারী ও পুরুষ সম্পদের অভাবে (কোলেটারেল) কোনোদিন ব্যাংকের কাছে ঋণ চাইতে পারেনি, তারা আজ ‘গ্রামীণ’ মডেলের বদৌলতে ঋণ নিয়ে আয়-উপার্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতে পারছেন। নিজের একটি ছোট বাড়ি করতে পেরেছেন। সবই ক্ষুদ্রঋণের জন্যই সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি কখনও বাংলাদেশের গরিব মানুষের, বিশেষ করে গরিব, বিত্তহীন নারীদের জীবনে এই পরিবর্তনের কথা শোনেননি? বাংলাদেশের গ্রামে কি আওয়ামী লীগের কোনো শাখা নেই? কোনো নেতা নেই? কর্মী নেই? তারা কি ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের (অন্যান্য এনজিওসহ) ভাগ্য পরিবর্তন নিজের চোখে দেখেননি? যদি দেখে থাকেন, তাহলে সেই গল্প দয়া করে আপনাদের নেত্রীকে বলবেন।

পৃথিবীর নানা দেশের সরকারপ্রধান ও নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশের গ্রামে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে গরিব নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন দেখে গেছেন। শুধু দেখার সময় হয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। মনে হয় বেগম খালেদা জিয়ারও দেখার সময় হয়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কি!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কয়েকটি সমালোচনার পয়েন্ট তুলেছেন। আমি এখানে একে একে তা নিয়ে আলোচনা করব।

১.প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গরিব মানুষের রক্ত চুষে খেলে ধরা খেতে হয়।’ অন্যান্য ব্যাংক বা এনজিওর কর্মসূচি ছাড়াও শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮৪ লাখ। দেশের সব এনজিও মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি মানুষ ক্ষুদ্রঋণ নেয়। এরা সবাই গরিব মানুষ। গ্রামীণ ব্যাংক এ পর্যন্ত (নভেম্বর ২০১০) ৫৭ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। এই ঋণ নিয়ে গ্রামের গরিব মহিলারা উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি ও বন, গৃহপালিত পশু ও মত্স্য, ব্যবসা, ফেরি ব্যবসা ও দোকানদারি ইত্যাদি কাজে খাটান। এর চেয়ে বড় কাজেও তারা ঋণের টাকা খাটান। যেমন : ট্রাক্টর ভাড়া দেয়া, মুরগির খামার, মাছ চাষ, স’মিল, ফার্নিচারের ব্যবসা, মুদি দোকান, মাছের আড়ত, কাপড়ের ব্যবসা, তেলের ব্যবসা ও ওষুধের দোকান ইত্যাদি। এই কাজগুলো করছেন গ্রামের বিত্তহীন নারী ও পুরুষ। যারা ঋণ নেয়ার আগে দু’বেলা ভাত খেতে পারতেন না। যাদের ছেলেমেয়েরা কখনও স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেনি। এখন গ্রামীণ ব্যাংকের ‘শিক্ষা ঋণ’ নিয়ে তাদের অনেকের ছেলেমেয়ে ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিংও পড়ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি এসব তথ্যে কোনো উন্নয়ন দেখতে পান না? নাকি পুরোটাই তার ভাষায় ‘ভোজবাজি’? গ্রামের গরিব মহিলাদের এই অবস্থার পরিবর্তনকে প্রধানমন্ত্রী এত ছোট করে দেখতে চান কেন? এই উন্নয়নকেই কি শেখ হাসিনা ‘গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া’ বলতে চেয়েছেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে গরিব নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা কি ‘রক্ত চুষে খাওয়া?’

দেশের তিন কোটি ঋণ গ্রহীতার মধ্যে হয়তো কেউ কেউ ঋণের টাকা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সবাই মূলধন ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হয় না। কিন্তু তিন কোটি ঋণ গ্রহীতার মধ্যে ৩০০ জনের ব্যর্থতাকে কি ক্ষুদ্রঋণের ব্যর্থতা বলা হবে?

২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষকে গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হয়েছে।’ কোন মানুষকে? গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়। গ্রামীণ ব্যাংক তো সেই স্তর পেরিয়ে এসেছে ৩০ বছর আগে। এখন গিনিপিগের প্রশ্ন আসছে কেন? তাছাড়া যে ব্যাংকের সদস্য সংখ্যা ৮৪ লাখ, সেখানে গিনিপিগ হবে কে?

৩. প্রধানমন্ত্রী নাম উল্লেখ না করে ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘নিজের আখের গোছাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন।’ ড. ইউনূস নরওয়ের টিভির কথিত অভিযোগে নিজের আখের গুছিয়েছেন কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে আশা করি। তবে আমার জানা মতে, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সরকারি স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন। ব্যাংকের গাড়িতে চড়েন, ব্যাংকের কোয়ার্টারে থাকেন। নোবেল পুরস্কারসহ যাবতীয় আন্তর্জাতিক পুরস্কারের টাকা ‘ইউনূস ট্রাস্টে’ দিয়েছেন। যে ট্রাস্ট গরিব মানুষের কল্যাণে নানা প্রকল্প নিয়ে থাকে। সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে নানা ‘সামাজিক ব্যবসা’ শুরু করেছেন। ড. ইউনূস উদ্ভাবিত ‘সামাজিক ব্যবসার’ অন্যতম শর্ত হলো : এই ব্যবসার মালিক কখনও ব্যবসা থেকে লাভ (ডিভিডেন্ট) নিতে পারবেন না। বিনিয়োগের টাকা ফেরত নিতে পারবেন। ব্যবসার লাভ থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হবে। নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করা হবে।

ড. ইউনূসের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নানা ‘গ্রামীণ কোম্পানির’ (গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত নয়) পরিচালনা বোর্ডের তিনি অবৈতনিক চেয়ারম্যান। এর একটিও ব্যক্তিমালিকানার প্রতিষ্ঠান নয়। এগুলো হয় সামাজিক ব্যবসা বা ট্রাস্ট কিংবা ফাউন্ডেশন। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে অবসর নিলে তিনি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ও অবসর সুবিধা ছাড়া আর কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না। অবশ্য বিশ্বজোড়া খ্যাতিও সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
এবার শেখ হাসিনা বলুন, ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ ও গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে কীভাবে নিজের আখের গোছাচ্ছেন?

৪. প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক জনগণের সম্পত্তি। অথচ এখন তাকে এমনভাবে কব্জা করা হয়েছে, এটা যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তি।’
গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা, পরিচালনা বোর্ড, অর্থের উত্স ইত্যাদি কোনো কিছু সম্পর্কেই শেখ হাসিনার পরিষ্কার ধারণা আছে বলে মনে হয় না। সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী যদি অর্থমন্ত্রী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে একটু আলাপ করে নিতেন, ভালো হতো। তারা অনেক দিন যাবত্ গ্রামীণ ব্যাংককে জানেন। জনসমক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ভুল তথ্য বা ধারণা দেয়া ঠিক নয়।

প্রকৃত তথ্য হলো : গ্রামীণ ব্যাংক সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিষ্ঠান। কারণ এর ৭৫ ভাগ মালিকানা এর শেয়ারহোল্ডারদের। বাকি ২৫ ভাগ সরকারের। একটি নির্দিষ্ট স্তরের গরিব না হলে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য হওয়া যায় না। বাংলাদেশে ৭৫ ভাগ মালিকানায় গরিব মানুষের আর কোনো প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার মনে হয় না। প্রধানমন্ত্রী কি জানেন, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হয়েও গরিবের মালিকানার এই ব্যতিক্রমী শর্তটি তিনি নিজেই যুক্ত করেছিলেন?

একজন সম্পাদক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলেছেন : ‘আগে গ্রামীণ ব্যাংকে ৬০ শতাংশ সরকারের মালিকানা ছিল। এখন তা ২৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে।’ মনে হয় সম্পাদক সাহেব এটা পছন্দ করতে পারেননি। সরকার যে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানাও ছেড়ে দিচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংক বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে, সরকারি ব্যাংকে পৃথক বেতন স্কেল দিয়েছে, এ ব্যাপারে সম্পাদক সাহেব প্রশ্ন করেন না কেন? নাকি তার এজেন্ডা শুধু গ্রামীণ ব্যাংক? আমরা তো জানি, নাগরিক সমাজের জনপ্রিয় দাবি হলো : সরকার কোনো রকম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। সরকার করবে নীতি ও মনিটরিং। প্রশ্নকর্তা সম্পাদক মনে হয় এখনও সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের যুগেই রয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী উত্তরে বলেছেন : ‘গ্রামীণ ব্যাংক যেন আজ ব্যক্তি সম্পত্তি।’ এ কথা প্রধানমন্ত্রী অবশ্য পরোক্ষভাবে ঠিকই বলেছেন। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা গরিব নারী পুরুষরাই এর মালিক। এরা গরিব হলেও ব্যক্তি তো। এই গরিব নারী ও পুরুষরা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক হলে শেখ হাসিনার আপত্তি কেন? কে বা কারা মালিক হলে শেখ হাসিনা খুশি হতেন? প্রধানমন্ত্রী কি এ কথা স্পষ্ট করে সাংবাদিকদের জানাবেন?

৫. প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিদেশ থেকে গরিব মানুষের (ভাগ্য বদলানোর) কথা বলে টাকা আনা হলেও তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এক সময় ইআরডির সচিব ছিলেন। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা তার সঙ্গে আলাপ করলে ভালো হয়। কোনো দাতা সংস্থা তাদের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে আর কখনও টাকা দেয় না। দাতাদের থাকে নিজস্ব অডিট ও মনিটরিং ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে ইআরডিরও রয়েছে পৃথক মনিটরিং। বিদেশের টাকা আনা ও খরচ করা খুব সহজ কাজ নয়। এটা রাজনৈতিক দলের চাঁদা সংগ্রহ নয়। যার কোনো রশিদ বা হিসাব থাকে না। এমনকি অডিটও হয় না।
আমার সন্দেহ, আমাদের কর্মব্যস্ত প্রধানমন্ত্রীকে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানানো হয়নি। তিনি হয়তো জানেন না গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯৮ সালের পর থেকে আর কোনো বিদেশি অনুদান গ্রহণ করেনি। কাজেই বিদেশ থেকে গরিব মানুষের অজুহাতে টাকা আনার অভিযোগ থেকে গ্রামীণ ব্যাংক এখন পুরোপুরি মুক্ত। প্রধানমন্ত্রী কি জানেন, বিশ্বব্যাংক বহু চেষ্টা করেও গ্রামীণ ব্যাংককে এক সময় টাকা দিতে পারেনি। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতি সপ্তাহে ২২৫ কোটি টাকা ঋণ দেয় কীভাবে? গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ দেয় তার সদস্য ও বহিরাগতদের কাছ থেকে সংগৃহীত আমানতের মাধ্যমে।

৬. প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্রঋণের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমি কখনও এর সমর্থন করিনি। বিরোধিতা করেছি।’
খুব ভালো কথা। ক্ষুদ্রঋণ একটি আইডিয়া, একটি মডেল। সবাই তা সমর্থন করবেন, এটা আশা করা উচিত নয়। সবাই কি সমাজতন্ত্র সমর্থন করেন? করেন না। সমর্থন বা বিরোধিতা নিয়ে বাদানুবাদের কিছু নেই। এটা ব্যক্তি অভিমত। বাংলাদেশের কয়েকজন অর্থনীতিবিদও ক্ষুদ্রঋণ সমর্থন করেন না। তাতে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুদ্রঋণ সমর্থন না করা বা বিরোধিতার একটি ভিন্ন তাত্পর্য রয়েছে। তা হলো : তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রধান নীতিনির্ধারক। নীতির প্রশ্নে তার স্ববিরোধিতা মানায় না। তিনি একদিকে বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ সমর্থন করেন না। অন্যদিকে তার সরকার নানা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, পিকেএসএফ, যুব মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়মিত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। তদুপরি গ্রামীণ ব্যাংকে রয়েছে সরকারের আংশিক মালিকানা। তার এক মন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের আর প্রয়োজন নেই।’ তাহলে এত সরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে কেন? বন্ধ করে দিলেই তো ভালো হয়। অন্তত আওয়ামী লীগ যত দিন ক্ষমতায় আছে, তত দিন ক্ষুদ্রঋণ দেয়া বন্ধ করা যেতে পারে। সেটাই হবে শেখ হাসিনার কথার সঙ্গে কাজের মিল। তা না হলে একে স্ববিরোধিতাই বলতে হবে।

সারা দেশে সম্ভব না হলেও আপাতত যেসব উপজেলা ও গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাদের উচিত, তাদের নেত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে সেই সব গ্রামে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া। সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ‘গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়ার’ এই ব্যবস্থা মেনে নেয়া ঠিক হবে না। সবখানে প্রচার করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গরিব নারীদের এই ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয়া হলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ ও ড. ইউনূস সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করেছেন, তা কতটা সত্য বা অসত্য, তা একমাত্র নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে। আমার এই সামান্য রচনা প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ সম্পর্কে একজন সাধারণ নাগরিকের পর্যবেক্ষণ মাত্র।

লেখক : একজন উন্নয়নকর্মী
তথ্যসূত্র : বিভিন্ন সংবাদপত্র, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকাশনা ও গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয়

এটাই হওয়ার কথা ছিল? মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সীমাহীন ধৈর্য দেখতে পাই আমরা। ধৈর্য নেই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে।


এটাই হওয়ার কথা ছিল?

হা সা ন মা মু ন

বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে যেভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে, আইনগত ভিত্তি থাকলেও সেটাকে সরকারের বলপ্রয়োগ বলে মনে হতে পারে। সরকার পক্ষ থেকে অবশ্য আভাস দেয়া হচ্ছিল, নোটিশের মাধ্যমে নির্ধারিত ১২ নভেম্বরের পর তাকে আর ওখানে অবস্থান করতে দেয়া হবে না। এর পক্ষে মামলাটিতে হাইকোর্টের রায়ের কথাও জোর দিয়ে বলা হচ্ছিল। কিছুটা বিস্ময়কর যে, বেগম জিয়ার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা হলেও সরকারের সম্্‌ভাব্য উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে তার কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়নি। কেন চাওয়া হয়নি, তার কোন ব্যাখ্যা এ পর্যন্ত দেননি বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- ‘হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে’ সরকারকে যে অভিযান পরিচালনা করতেই হবে, তাকে ঘিরে মানুষের সহানুভূতি কাড়তে ও রাজনৈতিক ইসুø তৈরি করতেই স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়নি। এও বলতে হবে, সরকার এর সুযোগ নিয়ে একদিনও দেরি করেনি বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে। সেটি করলে নাকি আদালত অবমাননা হতো!

এমন অনেক দৃষ্টান্তই দেয়া যাবে, যেখানে আদালতের রায় বা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকার রীতিমতো গড়িমসি করছে। আদালতের কাছে গিয়ে রায় বাস্তবায়নে সরকারের সময় প্রার্থনার দৃষ্টান্তও কম নেই। ওইসব ক্ষেত্রে হয়তো ব্যাপক মানুষ বা অর্থনীতির স্বার্থ জড়িত। বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে আরও ক’টা দিন পর উচ্ছেদ করলে এমন কী জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হতো- সংশ্লিষ্টরা কি তা বুঝিয়ে বলতে পারবেন? ঈদের বেশি বাকি নেই। তার চেয়ে বড় কথা, উচ্চতর আদালত মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। সেটিকে এক ধরনের স্থগিতাদেশ ধরে নিয়ে অপেক্ষা করলে তাকে শুধু আদালতের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ বলেই প্রচার করা যেত না- জনগণের মনে হতো, সরকার তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনেও ধৈর্য ধরতে জানে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষভাবে ভুগে দাবি জানানোর পরও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়েও তার সীমাহীন ধৈর্য দেখতে পাই আমরা। ধৈর্য নেই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে। বিএনপির বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ তোলা যাবে, হয়তো বেশিই যাবে। কিন্তু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তো আশা করে আছে- কোন না কোন পক্ষ, কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও থেকে ধৈর্যের চর্চাটি শুরু করবেন। ‘সুযোগের সদ্ব্যবহারের’ চেষ্টা থেকে নিজেদের বিরত রেখেও এ চর্চা শুরু করা দরকার। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, বিশেষত আমাদের মতো দেশে যেখানে সরকার সাংবিধানিকভাবেই অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী, সেখানে তার কাছেই এ দাবি বেশি করে উচ্চারিত হবে।

বোঝাই যাচ্ছিল, বর্তমান সরকার বেগম জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে আর থাকতে দেবে না। তাকে ওই বাড়ি বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়াগত ত্রুটি তারা বের করেছেন সফলভাবেই। হাইকোর্টে তা গ্রাহ্যও হয়েছে। হয়েছে বলেই তারা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দেয়া নোটিশ বাতিল করেননি। বিএনপিরও অনেকে এখন বলবেন, সরকারের অ্যাকশনের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হওয়াটা ঠিক হয়নি। উচ্চ আদালতও সঠিকভাবে চলছে না বলে তারা বলা যায় রোজ বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। অনেকে মনে করেন, বেগম জিয়ার উচিত ছিল সরকারের মনোভাব বুঝে; জনমত, নৈতিকতা ইত্যাদিও বিবেচনায় নিয়ে নোটিশ পাওয়ার পরপরই ওই বাসভবন ছেড়ে দেয়া। বিএনপির একটি অংশ নাকি চাইছিল আদালতে না গিয়ে এ ইসুøতে রাজপথ উত্তপ্ত করতে। দলে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী বেগম জিয়া নিশ্চয়ই ওটা অনুমোদন করেননি। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করাটাও তারই সিদ্ধান্ত নিশ্চয়। স্থগিতাদেশ না নিয়ে তিনি যে ১২ নভেম্বরের পরও ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেটা কার সিদ্ধান্ত? তিনি কি জানতেন না, সরকার তাকে ওই বাড়িছাড়া করতে ব্যগ্র? ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি যেভাবে ওই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন, তাতে মানুষের সহানুভূতি তিনি পাবেন। তবে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দেশে সরকার সমর্থকদের সহানুভূতি কতটা তার পক্ষে যাবে, সে প্রশ্ন রয়েছে। এমন মানুষও কম নেই, যারা মনে করেন একজন নিহত রাষ্ট্রপতির বিধবা স্ত্রী হিসেবে তিনি অনেক বেশি পেয়েছেন ও নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর ভেতরেও এমন মনোভাবের লোক সময়ান্তরে বেড়ে গেছে বলেই মনে হয়। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তো অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হবে সেখানে।

পরে যাই করা হোক, আপাতত বেগম জিয়ার নামে বরাদ্দ ওই বিশাল বাড়ি ও জমি দখলে নিয়েছে সরকার। সুপ্রিমকোর্টে নিষ্পত্তির পর অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে কাজটি তারা নির্বিঘ্নেই করতে পারতেন, সেটি করেছেন দৃষ্টিকটুভাবে। প্রকৃত ঘটনা ঢেকে রাখতে কিছুটা বিকৃত প্রচারণারও আশ্রয় নেয়া হয়েছিল বলতে হবে। এ নিবন্ধ যেদিন লেখা হচ্ছে, সেদিন দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকে বিএনপিও এর যথাযথ জবাব দেয়নি। ঈদের বাজারে লোকে যখন গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছে এবং কোরবানির পশু পরিবহনেও ব্যস্ত অনেকে, তখন এ ধরনের কর্মসূচি কেউ পছন্দ করবে না। সকাল-সন্ধ্যার হরতালকে অর্ধদিবস করা হলেও বোঝা যেত, তারা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিচয় দিয়েছেন। জনস্বার্থে দীর্ঘ সময়ের জন্য ডাকা হরতাল পালনেরও সামর্থø কি অর্জন করতে পেরেছে বিএনপি? বেগম জিয়াকে ওভাবে উচ্ছেদের প্রতিবাদে কিছু অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালেও দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভও সংঘটিত করতে পারেননি তারা।

সরকার নাকি ভেবেছিল, ঈদের আগে বিএনপি ওই উচ্ছেদের প্রতিবাদে অন্তত হরতাল ডাকবে না। বিএনপি ও বেগম জিয়াও কি ভেবেছিলেন, সুপ্রিমকোর্টে শুনানির আগে সরকার ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করবে না? দু’পক্ষই যদি তাই ভেবে থাকে, তাহলে বলতে হবে তারা পরস্পরকে কম চেনে। তবে দু’দলই এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের চেনা। জনগণের অন্তত বড় দলনিরপেক্ষ অংশটি চায়, চেনা দৃশ্যপটে তারা কিছু পরিবর্তন অন্তত আনুন।
হাসান মামুনঃ সাংবাদিক