ব্যবসা ও ব্যবসায়ী


ব্যবসা ও ব্যবসায়ী

চিররঞ্জন সরকার

ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের দেশের মানুষের বড় বেশি ভক্তি-শ্রদ্ধা নেই। তারা লাখপতি, কোটিপতি হতে পারেন, দামি গাড়ি-বাড়ি, বিপুল বিত্ত-বৈভব, প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী হতে পারেন; কিন্তু আমাদের সমাজে ব্যবসায়ীদের ইমেজ খুব একটা ইতিবাচক নয়।

এর অবশ্য কারণও আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা ব্যবসায়ীদের আঙুল ফুলে কলা গাছ হতে দেখি। সত্ পথে থেকে সত্ভাবে ব্যবসা করে বড় লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়—এমন একটা বদ্ধমূল ধারণা আমরা লালন করি। যারা ব্যবসা করেন, তারা চোরাপথে মাল কিনে, শ্রমিক-কর্মচারীদের ঠকিয়ে, ভেজাল বা নিম্নমানের জিনিস গছিয়ে, ওজনে কম দিয়ে, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বড়লোক হন বলে অনেকের বিশ্বাস। আমাদের দেশের বেশিরভাগ বড়লোকই হচ্ছেন ব্যবসায়ী। তারা কোনো না কোনো ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুই নম্বরি করে তারা বড়লোক হয়েছেন—এই সন্দেহের বশে আমরা তাদের খারাপ চোখে দেখি। তবে এই খারাপ চোখে দেখার ব্যাপারটা তখন আর শুধু বড়লোক ব্যবসায়ীদের প্রতি সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের ওপর বর্তায়।

তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কথাই হচ্ছে লাভ। যে কোনো উপায়ে লাভ করাই একজন ব্যবসায়ীর প্রধান লক্ষ্য। শুধু লাভ নয়, মহালাভ খোঁজেন তারা। লাভ করতে গিয়ে কোনো ঝুটঝামেলা, ইনকাম ট্যাক্স, সেল্স ট্যাক্স, কাস্টমস, পুলিশ, মামলা, অসন্তোষ, হরতাল, ধর্মঘটে জড়িয়ে না পড়েন—ব্যবসায়ীদের মনে এই আকাঙ্ক্ষাও প্রবলভাবে কাজ করে। তবে ব্যবসা করা সহজ কাজ নয়। অনেক ঝানু ব্যক্তি ব্যবসা করতে গিয়ে ফতুর হয়েছেন, আবার অনেক হাঁদারামও ব্যবসায় সফল হয়ে কোটিপতি বনেছেন। উভয় প্রকার উদাহরণই আমাদের সমাজে ভূরিভূরি আছে। প্রখর বুদ্ধি, কঠোর পরিশ্রম, অমিত আত্মবিশ্বাস, সেইসঙ্গে ভাগ্যদেবীর সুনজর—এসব না হলে ব্যবসায় সফল হওয়া যায় না।

হ্যাঁ, সেইসঙ্গে সততাও প্রয়োজন। আমরা ছোটবেলায় দেখতাম দোকানে কাচের ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে—সততাই আমাদের একমাত্র মূলধন। আজকাল অবশ্য এরকম কোনো ঘোষণাপত্র কোনো দোকানে বা শোরুমের দেয়ালে দেখা যায় না। পুরো সমাজ থেকেই যেখানে সততা বিদায় হয়েছে, সেখানে দোকানে তা আর টিকে থাকবে কীভাবে? ব্যবসায় সততা বলতে যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই তেমন নয়; সততা এখনও আছে। তবে তা ভিন্ন সংজ্ঞায়, আলাদা মানে নিয়ে। এ প্রসঙ্গে একটি গল্প বলা যাক।

এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ী তার শিশু নাতিকে নিয়ে নিজের দোকানে এসেছেন। তিনি নাতিকে নিয়ে ক্যাশবাক্সের পেছনে গদিতে বসেছেন, পাশের দেয়ালেই ‘সততাই আমাদের মূলধন’ বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে। নাতি পড়তে শিখেছে। সে ওটা দেখে পিতামহকে প্রশ্ন করল: দাদু সততা কী? দাদু বললেন, সততা একটা খুব খাঁটি জিনিস। চট করে বোঝানো কঠিন। মনে কর আমি আর তুমি এ ব্যবসার অংশীদার। এখন একজন গ্রাহক এসে একটা জিনিস কিনে ১০ টাকা দিতে গিয়ে ভুল করে ২০ টাকার নোট তোমাকে দিয়ে চলে গেল। তুমিই ক্যাশবাক্সে বসেছ, তোমার অংশীদার আমি দোকানের অন্যদিকে রয়েছি। আমি দেখতে পাইনি যে, গ্রাহক ভুল করে ১০ টাকা বেশি দিয়েছে। এখন তুমি যদি ওই ১০ টাকা থেকে আমাকে ৫ টাকা দাও তাহলে সেটাই হলো তোমার সততা।

নাতি বললো, কিন্তু দাদু গ্রাহক. . .

দাদু বললেন, গ্রাহকের কথা ভেব না, ওটা বাদ দাও। এ ঘটনার অনেক দিন পরের কথা। বৃদ্ধ ভদ্রলোক এখন আর নিজে দোকানে যান না। তার ছেলে যায়। কিন্তু ছেলে তার মতো তুখোড় নয়। ব্যবসাপত্র বেশ মন্দ যাচ্ছে।

বৃদ্ধ সারাদিন বাসায় বসে থাকেন। সাত-পাঁচ চিন্তা করেন আর নাতির পড়াশুনা দেখেন। নাতির কৌতূহল এখনো নানা বিষয়ে অপরিবর্তিত রয়েছে। একদিন কী একটা পড়তে পড়তে দাদুকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা দাদু রসাতল কী?

দাদু শুকনো গলায় একটু খুকখুক করে কেশে জবাব দিলেন, রসাতল হলো সেই জায়গা যেখানে তোমার বাবা আমার ব্যবসাকে পাঠাচ্ছে।

ব্যবসা বড় বিচিত্র জিনিস। কিসে কত লাভ এক দোকানদার ছাড়া কেউ জানে না। যখন দোকানদার বলছে, স্যার আপনাকে আমি কেনা দামে জিনিস দিচ্ছি, তখন সে ডাহা মিথ্যা কথা বলছে। আর একটা কথা মনে রাখা উচিত, ব্যবসায়ে মিথ্যা বলা ব্যবসায়ীর কাছে মোটেও পাপ নয়, বরং সেটাই তার ধর্ম। ব্যবসার আসল কথা হলো লাভ, তা সে যেভাবেই হোক। লাভের জন্য ব্যবসায়ীরা যা বলেন, যা করেন সবই তার জন্য ‘সততা’ বা ‘ন্যায়’।

লাভ প্রসঙ্গে আর একটি গল্প বলা যাক। একটি ঘড়ির দোকানের বাইরে বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল:’এখানে লোভনীয় দামে ঘড়ি বিক্রি হয়।’ এক পথচারী সেই দোকানে ঢুকে ঘড়ির দাম কীরকম জানতে চাইল। দোকানদার বললেন, আমরা আমাদের ঘড়ি কোম্পানির কেনা দামের চাইতেও শতকরা পঁচিশ টাকা কমে বিক্রি করি। পথচারী এ কথা শুনে বিস্মিত হয়ে বলল, তাহলে ঘড়ি বেঁচে তো আপনাদের ক্ষতি হয়। দোকানদার গম্ভীর হয়ে বললেন, তা হয়। পথচারী আবার প্রশ্ন করলেন, তাহলে আপনাদের দোকান চলছে কী করে?

অধিকতর গম্ভীর হয়ে দোকানদার বললেন, ক্ষতিটা ঘড়ি সারিয়ে পুশিয়ে নিই।

আমাদের দেশে গত প্রায় দুই যুগ ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী বেশ ভালোই লাভ করছে। লবণ, সয়াবিন তেল, তৈরি পোশাক, ঝুট কাপড়, ইয়াবা থেকে শুরু করে শেয়ার ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত নানা কারসাজিতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণের সরকারি প্রচেষ্টা কোনো কাজে দেয়নি। তবে চোরের ওপর বাটপাড়ি শুরু করেছে সরকারের আরেক আশীর্বাদ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীচক্র। ব্যবসায়ীদের লাভের গুড়ে এই চক্র ভাগ বসাচ্ছে। বনিবনা না হলে দু’একজন মাঝারি গোছের ব্যবসায়ী খুনও হচ্ছেন। সরকার কার পক্ষ নেবে? এই দু’পক্ষই যে তাদের একান্ত আপনজন!

আগে মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে ব্যবসায়ীরা সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করত। তাদের স্বার্থের পক্ষে নীতি ও আইন প্রণয়নের জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হত। বর্তমানে ব্যবসায়ীরাই রাজনীতিবিদ, রাজনীতিবিদরাই ব্যবসায়ী। এখন আর তোয়াজ-তোষামোদের বালাই নেই। এখন তারাই সর্বেসর্বা। তারা নিজেদের স্বার্থে আইন প্রণয়ন যেমন করছেন, নিজেদের প্রয়োজনে সেই আইনকে বুড়ো আঙ্গুলও দেখাচ্ছেন। দেখারও কেউ নেই আর বলারও কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীসহ দু’চারজন ছাড়া বাকি সবাই প্রায় নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কাজেই তারাই এখন নীতি-নির্ধারক। দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। আমাদের মতো আমপাবলিকের হারিকেন হাতে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া অন্য কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না।
https://i0.wp.com/i.usatoday.net/news/_photos/2012/03/13/31-dead-in-Bangladesh-ferry-crash-3L14SBFF-x-large.jpg
পুনশ্চ: আমাদের দেশে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় (বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান) অগ্নিকাণ্ড বা ভবন ধসের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এসব ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় ঝড় উঠছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবসায়ীদের তাতে কোনো ভ্রূক্ষেপ আছে বলে মনে হয় না। সেই একই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা, অমানবিকতা, জুলুমবাজি চলছে তো চলছেই। শ্রমিকদের সমূহ ক্ষতি হলেও মালিক-কর্তৃপক্ষের কোনো ক্ষতি বা সমস্যা হচ্ছে না। হবেইবা কেন? তাদের জন্য যে ভর্তুকি নিয়ে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তৈরি! এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে একটি পুরানো গল্প।

ব্যাংককের পাতায়া সমুদ্র সৈকতে একটি চারতারা হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে দুই সদ্য পরিচিত ব্যবসায়ী ঠাণ্ডা বিয়ার খাচ্ছেন। তাদের দু’জনের আজকেই আলাপ হয়েছে। দু’জনে পাতায়া বেড়াতে এসে একই হোটেলে উঠেছেন। এই দু’ ব্যবসায়ীর বাক্যালাপের কিছু অংশ উদ্ধৃত করা যাক—

প্রথম ব্যবসায়ী : আপনি কী করেন?

দ্বিতীয় ব্যবসায়ী: এখন কিছু করি না। আমার একটা কারখানা ছিল, সেটা আগুনে পুড়ে গিয়েছে। দুর্ঘটনা বীমার ভর্তুকি পেয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। ভবিষ্যতে কী করা যায় সেটাও ভেবে দেখছি আর কি। (এরপর একটু থেমে) আচ্ছা আপনি কী করেন?

প্রথম ব্যবসায়ী: ঐ আপনার মতোই আমারও একটা কারখানা ছিল।

দ্বিতীয় ব্যবসায়ী: সেটা আগুনে পুড়ে গেল?

প্রথম ব্যবসায়ী: না, তা নয়। আমার কারখানাটা বন্যায় ভেসে গেছে। দুর্ঘটনা বীমার ভর্তুকি পেয়ে এখানে বেড়াতে এলাম।

দ্বিতীয় ব্যবসায়ী: (গলা নামিয়ে, চুপিচুপি স্বরে) আচ্ছা ভাই, আগুন লাগার ব্যাপারটি তো বুঝি; কিন্তু বন্যা লাগান কী করে একটু বুঝিয়ে বলবেন?

লেখক:কলামিস্ট

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভবিষৎ অনিশ্চিতঃ

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত, বিদেশী বিনিয়োগের বড় বাঁধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর দুর্নীতি – ড্যান ডব্লিউ মজিনা

লস এঞ্জেলেস, ২৩ অক্টোবর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃবাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা লস এঞ্জেলেসে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমেরিকার তার নিজস্ব স্বার্থেই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক কারণেই আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিক্ষুদ্ধ চরমপন্থী সহিংসতার মাঝে মধ্যপন্থী সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক লোকায়ত রাষ্ট্রশক্তি হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান উত্থান এই অঞ্চলে প্রচণ্ড আশাবাদ নিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা এমনকি চীনের সাথে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ সহযোগীতার কেন্দ্রস্থল হিসাবে আবির্ভুত হচ্ছে। শান্তিরক্ষী মিশনে বিশ্বের প্রথম দুটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা পুলিশ ইউনিট সহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে  ১০ হাজার ৬৫৩ জন শান্তিরক্ষী সদস্যের বৃহত্তম শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম কুড়াচ্ছে। তারজন্য আমেরিকা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায়।’ বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা ও মানবহিতৈষী কর্মকান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহযোগিতা ও সাহায্যের কথা ড্যান ডব্লিউ মজিনা অভিবাসী বাংলাদেশীদের জানান। তিনি বলেন আমেরিকা চায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো উন্নত হোক।

This slideshow requires JavaScript.


বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। তিনি এই প্রসঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দারিদ্র্য দূরীকরণে মাইক্রোক্রেডিটকে সাফল্যকে যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করে বলেন, আমেরিকা এই প্রতিষ্ঠানের সার্থক প্রসারের ধারায় অনুভূতিশীল ও সহানুভূতিশীল। আশ্রয়হীন, বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের অতীতের মতোই আশ্রয় দেয়ার জন্য আবারও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। তিনি এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে আরো মানবিক হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী উদ্বাস্তুরা ভারতে আশ্রয় নেয়, সেই ঘটনার কথা তিনি স্মরণে আনেন। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়েও তার উদ্বেগের কথা জানান। বাংলাদেশকে আগামীর এশিয়ান টাইগার হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি রোধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ-সহায়তার উপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতুর ভবিষৎ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সেতু হলে বাংলাদেশের তথা এ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে পদ্মা সেতুর জন্য ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র,ভারত এবং জাপানসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কাজ করছে। এখন ভারত সেই আশাবাদ থেকে সরে এসে  দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে ভিন্নভাবে অগ্রসর হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের স্বাভাবিক শর্তে বর্তমান সরকারের অস্বাভাবিক আচরনে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজেদের আভ্যন্তরীণ আয়োজনে এই সেতু নির্মান করা প্রায় অসম্ভব বলে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য ঋনের ব্যাপারটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ও আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুকে জনগনের সামনে এনে সুবিধা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। 

গত কয়েক বছর ধরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশী-আমেরিকান শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুনগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের অংশ হিসাবে মার্কিন কূটনীতিকদের এই আয়োজন। এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে নতুন প্রজন্মদের সম্পৃক্ত করে নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য মিলিয়ন ডলারের পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মিতুল দেশাই। দেশে জনসেবায় প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করার নিমিত্তে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে তাদের এমবেডেড এনজিওগুলির সাথে কাজ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের অর্জিত ব্যবসা, প্রফেশনাল ও সাইন্টিফিক নেটওয়ার্ককে স্বদেশে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই কমিউনিটি উদ্যোগ ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আমেরিকান দূতাবাসের সহযোগীতায় তাদের আমব্রেলা অর্গানাইজেশনগুলির মাধ্যমে কো-ডেভেলপমেন্টের সুযোগ তৈরী করাই এই ইনিশিয়েটিভের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানী এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় নয় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী তিন বছরে এই রপ্তানিকে তিনগুন করার লক্ষ্যে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসবার আহ্বান জানান। আমেরিকান দূতাবাস এই ব্যাপারে সর্বাত্মক সাহায্য করার অঙ্গীকার করছে।

লস এঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে প্রবাসী ব্যবসায়ী ফিরোজ ফখরীর বাসভবনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্টনারশিপ ডায়লগের অংশ হিসাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (ইউ এস বি বি এফ) এ মতবিনিময় নৈশভোজের আয়োজন করে। গত সপ্তাহজুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন স্তরের এই মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। এই পর্যায়ে নিউইয়র্ক, পোর্টল্যান্ড ও ক্যালিফোর্ণিয়ায় প্রবাসী সীমিতসংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিকদের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা খোলামেলা কথা-বার্তা বলেন। লস এঞ্জেলেসে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ণ ক্যালিফোর্ণিয়ায় শিক্ষক-ছাত্র ও কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে লাঞ্চ, বিকালে উডল্যান্ড হিলের এক প্রবাসীর বাসায় ইভনিং টী প্রোগ্রাম ও রাতে বেভারলি হিলস-ব্রেন্টউড এলাকায় ডিনার পার্টি আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও নৈশভোজে স্থানীয় প্রবাসীদের সাথে রাষ্ট্রদূত পত্নী গ্রেস ফিনে মজিনাও উপস্থিত থেকে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফিরোজ ফখরী তার স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মজিনাকে এই কমিউনিটি উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। এরপর মজিনা অভ্যাগত অতিথিদেরও কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। এই পর্বটি পরিচালনা করেন ইউ এস বি বি এফ-এর প্রসিডেন্ট মোঃ জাফরুল্লাহ। 
Video: United States Ambassador to Bangladesh – Dan Mozena with Bangladeshi American in Los Angeles
-Jahan Hassan
Editor,
Ekush News Media
13659 Vicory Blvd, #376, Van Nuys, CA 91401, USA

1 818 266 7539
editor@Ekush.info
FaceBook: 
http://www.facebook.com/jahan.hassan.1

Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151198517861897.480982.826936896&type=1&l=a99bed5285


Dan Mozena Grace Feeney -Jahan Hassan Ekush News Media জাহান হাসান একুশ নিউজ মিডিয়া
Editor

http://www.probashipotro.com/2012/10/26/padmasetu/

গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ


অপরাধ রোধে উদ্যোগ
গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ
 
আশরাফুল হক রাজীব: অপহরণ, গুমসহ নানামুখী অপরাধ নির্মূল করতে গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারি-বেসরকারি কোনো ধরনের গাড়িতেই কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি মার্কারি ও অস্বচ্ছ কাচও ব্যবহার করা যাবে না। আদেশ কার্যকর করতে দু-একদিনের মধ্যে পুলিশের কাছে নির্দেশনা যাচ্ছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে দেশে অপহরণ ও গুমের ঘটনা বেড়ে গেছে। আর এসব কাজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গাড়ি ব্যবহার হয়। গাড়িতে কালো কাচ থাকায় ভেতরে কী হচ্ছে- তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না। অপহৃত ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশের সামনে দিয়ে গাড়ি চলাচল করলেও পুলিশের কিছু করার থাকে না। তা ছাড়া রাস্তায় চলাচলরত সব গাড়িতে তল্লাশি চালানোও পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। একই অবস্থা সাধারণ মানুষেরও। তারাও কিছু বুঝতে না পারায় স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিরোধ বা পুলিশের খবর দেওয়ার সামাজিক দায়িত্বটি পালন করতে পারে না। এ কারণে গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে চলাচলরত প্রায় অর্ধেক গাড়িতেই কালো কাচ ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ থাকলেও তা এত দিন কড়াকড়িভাবে আমলে নেওয়া হয়নি। কিন্তু অপহরণ-গুমের ঘটনায় সরকার কালো কাচের গাড়ি ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদ গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কালো কাচের আড়ালে নানা ধরনের অপরাধ ও অপকর্ম হয়। এ কারণেই মূলত গাড়িতে কালো, মার্কারি বা অস্বচ্ছ কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
গত ২৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মাসিক সমন্বয় সভায় গাড়িতে কালো কাচ, মার্কারি বা অস্বচ্ছ কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।
 
২৬ এপ্রিলের সভায় জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলার বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অপরাধ বা অপকর্ম রোধের জন্য গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে না। তবে ভিআইপিসহ জরুরি প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে। সরকারি বা অন্য কারো প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। কালো বা অস্বচ্ছ কাচ আছে- এমন গাড়ি আমদানি না করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বলা হয়েছে।
সমন্বয় সভায় সীমান্ত বা সমুদ্র উপকূলে মানব পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে কঙ্বাজারের টেকনাফ বা চকোরিয়ায় ট্রলার ছাড়ার সময় তাতে তল্লাশির সিদ্ধান্ত হয়। উপকূলে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোস্টগার্ড কী ব্যবস্থা নিয়েছে- তা জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একইভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- তা জানাতে বলা হয়েছে।
সমন্বয় সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শ্রমিকদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সভায় একজন যুগ্ম সচিব জানান, বিদেশগামী বা ফেরত শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই লেখাপড়া জানেন না। তাঁদের পক্ষে সিকিউরিটি ফর্ম পূরণ করা সম্ভব হয় না। শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ফরম পূরণ করেন দায়িত্বরত আনসার, পুলিশ বা বিমানবন্দরের কর্মচারীরা। এ ক্ষেত্রে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হলে শ্রমিকদের নাজেহাল হতে হয় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধ করতেও হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা দরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যাওয়া-আসার সময় সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে অফিসিয়াল ডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ


মে দিবসের বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর বন্ধের উপক্রম
পহেলা মে দিবস উপলক্ষে গতকাল (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের নেতা-কর্মীরাই মূলতঃ এ বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিক্ষোভে উত্তাল সিয়াটেল শহরে উত্তেজিত জনতা বহু ভবনের জানালা ভেঙেছে আর নিউ ইয়র্ক এবং অকল্যান্ড শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া, প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। এসব শহর থেকে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু নিউ ইয়র্ক শহর থেকেই আটক করা হয়েছে অন্ততঃ ৪০ জন। মার্কিন সমাজে তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলমান অকুপাই আন্দোলন আবার চাঙ্গা করার জন্য এর আয়োজকরা গতকাল নতুন বিক্ষোভের ডাক দেন। অবশ্য, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই মে দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে প্রস্তুতিমূলক বিক্ষোভ হয়ে আসছিল।
খোদ পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে- অকল্যান্ড শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য দাঙ্গা পুলিশ টিয়ারগ্যাস এবং প্রচণ্ড শব্দ সৃষ্টিকারী গ্রেনেড ছোঁড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীরাও পুলিশের ওপর লোহা ও নানা ধরনের জিনিস ছুঁড়ে মারে। শহরের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা দু’টি ব্যাংক, পুলিশের একটি গাড়ি এবং একটি সংবাদপত্রের গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে। সন্ধ্যার পরে আবারো সেখানে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ হয়। অকল্যান্ড শহর থেকে দিনব্যাপী এক ডজনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
সিয়াটেল শহরে বিক্ষোভকারীরা দু’টি ব্যাংক ভবনে ভাংচুর চালায় এবং বহু ভবনের জানালা ভেঙেছে। এ সময় সেখান থেকে আট বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করে। লস অ্যাঞ্জেলেস শহর থেকে আটক করা হয়েছে ১০ জনকে এবং এক মহিলা পুলিশ আহত হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভে অংশ নেয়া বেশিরভাগ লোকজনই ছিল বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারি।
মে দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক শহরের ইউনিয়ন চত্বরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। প্রথম দিকে অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও দিনের শেষে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কালো পোষাক পরা অন্ততঃ চারশ’ বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ ছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, চিঠির খামে করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হোয়াইট পাউডার পাঠানো হয়েছে। তবে এগুলো ক্ষতিকর ছিল না। মনে করা হচ্ছে- অ্যানথ্রাক্স ভীতি ছড়ানোর জন্য কোনো গোষ্ঠী এ কাজ করেছে।
এদিকে, ক্লিভল্যান্ড শহরের একটি চার লেনযুক্ত ব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে সেখানে বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ হয়নি।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

ওয়াল স্ট্রিট দখলকারীদের সাহসী ভুবন


ওয়াল স্ট্রিট দখলকারীদের সাহসী ভুবন
Wall Street protesters urge students to boycott loan payments


অ্যামি গুডম্যান • মঙ্গলবার রাত ১টার পর আমাদের কাছে খবর এলো, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারীদের ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। আমি ‘ডেমোক্রেসিনাউ’ টিমের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে জুকুটি পার্কের দিকে দৌড়ালাম। এই পার্কটির নতুন নামকরণ হয়েছে লিবার্টি স্কয়ার বা স্বাধীনতা চত্বর। গিয়ে দেখি কয়েকশ’ দাঙ্গা পুলিশ ইতোমধ্যেই এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে। দেখলাম, পুলিশ একদিকে তাঁবুগুলো ছিঁড়ে ফেলছে আর সিটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের জিনিসপত্রগুলো ময়লার ট্রাকে ছুড়ে মারছে। পুলিশ বেষ্টনির বাইরে পার্কের কেন্দ্রস্থলে ২০০ থেকে ৩০০ আন্দোলনকারীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বসে থাকতে দেখলাম। কিছুতেই তারা দুই মাস ধরে দখল করে বসে থাকা জায়গাগুলো ছেড়ে যাবে না। তাদের সবাইকে এক এক করে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা যে ক’জন সংবাদকর্মী পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারলাম তাদের জুকুটি পার্ক সংলগ্ন রাস্তাগুলোর ওপর দাঁড়াতে দেওয়া হলো। তবে আমরা আমাদের ক্যামেরাগুলো চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সামনে দুটি পুলিশ বাস এনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো যাতে আমরা ভেতরকার ছবি তুলতে না পারি। আমি আর আমার কয়েকজন সহকর্মী বাস দুটির ফাঁক গলিয়ে এবং ছেঁড়া তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগের স্তূপ পেরিয়ে পার্কের ভেতর ঢুকে পড়লাম। পুলিশ এতবড় একটা ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র মিডিয়ার কাছ থেকে প্রায় আড়ালই করে ফেলছিল।

একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বইয়ের একটি ভাঙা তাক আমার চোখে পড়ল। পার্কের বেশ কিছুটা ভেতরে গিয়ে দেখতে পেলাম একটি বই পড়ে আছে। বইটির গায়ে ‘ওডব্লিউএসএল’ চিহ্ন সাঁটা ছিল যার মানে হচ্ছে বইটি অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট লাইব্রেরির। এটি এখন পিপলস লাইব্রেরি হিসেবেও পরিচিত। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল এই লাইব্রেরিটি। সর্বশেষ তথ্য মতে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দান করা ৫ হাজার বইয়ের একটি সংগ্রহ রয়েছে এটির। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা গণতন্ত্রের ধ্বংসাবশেষের মাঝখানে যে বইটি আমার দৃষ্টিগোচর হলো সেটি পড়েছিল একটি আবর্জনার স্তূপের ওপর। বইটির নাম ‘ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড রিভিজিটেড’। লেখক এলডাস হাকসলি।

রাত গভীর হতে থাকলে হাকসলির বইটি চোখে পড়ার মাহাত্ম্য স্পষ্ট লাগল। তার বিখ্যাত উপন্যাস ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড লেখার ৩০ বছর পর ১৯৫৮ সালে হাকসলি এই বইটি লেখেন। মূল বইটিতে তিনি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর মানুষকে হ্যাভস এবং হ্যাভনটস এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। তার বর্ণিত দ্য ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ডের মানুষ আনন্দ, উন্মাদনা, বিজ্ঞাপন আর নেশা জাগানিয়া দ্রব্যাদির সাহচার্যে গা ভাসাবে। যাকে বলে প্রকৃত অর্থেই একটি ভোগবাদী জীবন। এই সমাজের নিচের স্তরের মানুষ ওপরের স্তরের অভিজাত কিছু মানুষকে সব ধরনের সেবা যুগিয়ে যাবে। তবে হাকসলির ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড রিভিজিটেড বইটি কিন্তু উপন্যাসধর্মী রচনা নয়। এটিতে তিনি আধুনিক সমাজের একটি বিবর্ণ ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এই বইটির এখানে একটি প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কারণ আমরা দেখেছি যে, বাণিজ্য এবং বিশ্বায়নের আধিপত্যকে বিরোধিতা করে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। আন্দোলনকারীদের ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

হাকসলি তার বইতে লিখেছেন ‘প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এবং ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে গড়ে ওঠা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক বলতে বোঝায় পার্টির মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণই। সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং বেসামরিক আমলারা ওই মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের আজ্ঞাবাহী হয়ে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুঁজিবাদী একটি গণতন্ত্রে এই নিয়ন্ত্রণটি রয়েছে অধ্যাপক সি রাইট মিলসের ভাষায় পাওয়ার এলিটদের হাতে। হাকসলি বলছেন, এই পাওয়ার এলিট বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীটি দেশের লাখ লাখ মানুষকে তাদের কারখানা, অফিস এবং স্টোরগুলোতে কর্মে নিয়োজিত করে। অন্যদিকে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী কেনার জন্য এই পাওয়ার এলিটরা আবার লাখ লাখ মানুষকে টাকা ধার দেয় এবং এর মাধ্যমে তাদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

তাছাড়া নিজেদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে প্রতিটি মানুষের চিন্তাভাবনা, আবেগ-অনুভূতি এবং কর্মকান্ডকেও তারা বিপুল পরিমাণে প্রভাবিত করে থাকে। জুকুটি পার্কে পুলিশি হামলা চলার সময় পিপলস লাইব্রেরির কর্মী স্টিফেন বয়ার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতার এড়িয়ে এবং আক্রান্তদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পর তিনি বলছেন, পার্কে আমরা যেসব জিনিস জড়ো করেছিলাম তার সবই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এত সুন্দর একটি লাইব্রেরিও ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা ৫ হাজার বইও হারিয়ে গেছে। অনুদান হিসেবে পাওয়া আমাদের তাঁবুগুলোও ছিঁড়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের সব অর্জন এরা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মিচেল ব্লুমবার্গের অফিস থেকে পরে অবশ্য উপরে কিছু বই সাজিয়ে রাখা একটি টেবিলের ছবি প্রচার করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে, লাইব্রেরির বইগুলো সংরক্ষিত আছে। তবে পিপলস লাইব্রেরির টুইটারে বলা হয়েছে, কিছু বই অক্ষত আছে দেখে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের অন্য বইগুলো কোথায়, আমাদের আচ্ছাদন আর বাক্সগুলোই বা কোথায়? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লাইব্রেরিকে এই আচ্ছাদনগুলো উপহার দিয়েছিলেন ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বিখ্যাত রক অ্যান্ড রোল শিল্পী প্যাটি স্মিথ।

দখল অবস্থান নেওয়া আরো কিছু স্থানেও ইতোমধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। ওকল্যান্ডের মেয়র জ্যা কুয়ান বিবিসির কাছে স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ১৮টি নগরীর কর্তৃপক্ষেও সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্য আরেকটি খবরে জানা গেছে, এফবিআই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও পরিস্থিতি সম্পর্কে নগরীগুলোর কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টেট আদালতের একজন বিচারক এই মর্মে রায় দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উৎখাত করার বিষয়টি বহালই থাকবে এবং তারা আর তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে জুকুটি পার্কে ফিরে যেতে পারবে না। এই রায় জারির পর সংবিধান বিশেষজ্ঞ একজন আইনজীবী আমাকে এই মর্মে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন, ‘মনে রাখবেন আন্দোলন কিন্তু এখন রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। আদালতকে সব সময়ই শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।’ কিংবা প্যাট্টি স্মিথের বিখ্যাত সেই গান ‘জনগণই সর্বশক্তিমান’।

কমন ড্রিমস থেকে ভাষান্তর

আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না •

দুই মাস আগের ঘটনা। মাত্র ২০০ জন মানুষ আমরা তাঁবু গেড়ে বসলাম ওয়াল স্ট্রিটের দোরগোড়ায়। সেই থেকেই অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট একটি জাতীয় এবং এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একই কায়দায় সারা আমেরিকায় এবং বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন শহর এবং নগরে দখল করে নেওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। এখন এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে। ক্রমশ বাড়তে থাকা গণআন্দোলন আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, আমাদের গণতন্ত্র এবং আমাদের ভবিষ্যতের চেহারাটাই তাৎপর্যপূর্ণভাবে পাল্টে দিতে শুরু করেছে।

এই গণআন্দোলনকে প্রতিহত করতে পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে আমরা কিন্তু এতটুকুও দমে যাইনি। আমাদের শক্তি এখন তুঙ্গে। আমাদের মনোবল অনমনীয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আন্দোলন কেবল একটি প্রতিবাদ মাত্র নয়, তার চেয়েও বড় কিছু। এটি দখল করে নেওয়ার চেয়েও বেশি কিছু এবং এটিকে কেবল একটি কৌশল হিসেবে দেখলেই চলবে না। শারীরিকভাবে যারা দখল কার্যে অংশ নিতে পেরেছেন এই আন্দোলনে ‘আমরা’ শব্দটি দিয়ে তাদের চেয়ে আরো বড় একটি পরিসরকে বোঝানো হয়েছে। এই আন্দোলনে যারা সহযোগিতা প্রদান করেছেন, যারা আন্দোলনের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো নিয়ে বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন কিংবা যারা কোনো না কোনোভাবে নাগরিক সমাজের এই কর্মকান্ডে যুক্ত হয়েছেন তারা সবাই এই আন্দোলনের অংশ।

আমাদের জীবন বিপন্নকারী সংকটের মুহূর্তে আমরা যেমন সবাই একত্রে মিলে আমেরিকার অন্তর্নিহিত শক্তিকে আবিষ্কার করে সেই সংকট মোকাবিলা করি এবারের এ আন্দোলনও তারচেয়ে কম কিছু নয়। এমন একটি আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায় না। কিছু রাজনীতিক আমাদের হয়তো শারীরিকভাবে আমাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে নিতে পারেন, গণজমায়েত ভেঙে দিতে পারেন। বলপ্রয়োগের এই প্রচেষ্টায় তারা হয়তো সফলও হবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা এখন একটি আদর্শিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ। আমাদের ভাবনার জায়গাটি অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা চাই, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি আমাদের সেবা দেবে। কেবল ধনসম্পদ আর ক্ষমতাবানদের নয়, সেবা দেবে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই চিন্তার সঙ্গে সব মানুষই সহমত পোষণ করে। কারণ আমাদের প্রতিনিধি পরিষদ কংগ্রেস ওয়াল স্ট্রিটের ঘটনা দেখেও না দেখার ভান করেছে, তারা ঘরে ঘরে জন্ম নেওয়া অসন্তোষ, প্রতিবেশীর হৃদয়ের আর্তনাদ, অর্থনৈতিক কারণে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কষ্টের কাহিনীকে অবজ্ঞা করেছে। আমরা একটি গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখি। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট এবং আমরা ৯৯%-এর আন্দোলনে সেই স্বপ্ন মূর্ত হতে শুরু করেছে।

১০০ মানুষ জেলে বসে আছেন। আজ সকালেই একজন বিচারক রায় দিয়েছেন যে, আমরা আমাদের জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার অধিকার রাখি, অধিকার রাখি আমাদের অবস্থানে ফিরে যাওয়ারও। তবে মেয়র ব্লুমবার্গ ঘোষণা দিয়েছেন, পার্কটি বন্ধই থাকবে। তাতে অবশ্য কিছুই আসে যায় না। আমরা আবারো রাস্তার দখল নেব। আমরা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানগুলো দখল করে নেব। সর্বত্র আমরা এ কাজ করব। কারণ আমরা জানি যে, আমাদের চিন্তাকে হত্যা করা যাবে না।

কমন ড্রিমস থেকে ভাষান্তর [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

পুলিশের অপরাধ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ


১লাখ ৫০ হাজার অভিযোগ: মানুষের কাছে আইনরক্ষাকারীরা এখন আতঙ্ক

পুলিশের অপরাধ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ

ঢাকা প্রতিনিধি: পুলিশকে রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। সমাজের অপরাধ দমনের জন্য। এই অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের, সেই পুলিশ দিনদিনই অপরাধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। দিনদিনই হয়ে উঠছে বেপরোয়া। ঘুষ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, নির্যাতন, ব্লাকমেইলিংয়ের পাশাপাশি খুনের মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দফতরে এ ধরনের ১ লাখ ৫০ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে আছে।তবে প্রকৃত অপরাধের ঘটনা আরো অনেক বেশী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া আদালতেও পুলিশের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলাও ঝুলে আছে। ্তবে পুলিশ সদস্যদের শাস্তি পেতে হয় না। বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা উঠিয়ে নিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ আছে। এ অবস্থায় পুলিশ-সদস্যরা ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠছে। পুলিশ এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।

পুলিশ সদর দফতরে সূত্রে জানা যায় ২০১০ সালে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১১ হাজার পুলিশের শাস্তি হয়েছে। এসব শাস্তির মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুতি, বরখাস্ত, পদাবনতি, ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ব্যবস্থা। মোট অভিযোগের তুলনায় শাস্তির ঘটনা খুবই নগন্য।

ট্রন্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল, বাংলাদেশের জরীপে পরপর দুবার পুলিশকে দেশের সবচেয়ে দূনীতিবাজ বাহিনী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপরেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ যেমন ডাকাতি, ছিনতাই, খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছে, তেমনি ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকারও হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় অর্থের লোভে পুলিশ এ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে বলা হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অপরাধ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তবে এসব অপরাধের জন্য অল্পসংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তাকেই শাস্তি পেতে হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, খোদ রাজধানীতেই পুলিশ সদস্যদের নানা অপরাধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গত মাসে ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড় থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তিন যুবককে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তিনজনেরই দুই হাত পেছনে ও পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। এ ছাড়া দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। রাজধানীর উপকণ্ঠ আমিনবাজারে ছয় কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করর ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে মাদক ব্যাবসায়ী ও পুলিশের যোগসাজসে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। পরে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ নিহত ছয় ছাত্রকে ডাকাত প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠে। পুলিশের সহায়তায় পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতারের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করা হয়। পরে ওই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসিসহ তিন পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মিরপুর থানার ওসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা হয়েছ। আবদুল কাদের মিয়া নামে একজন বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন। মিরপুর থানার সাবেক ওসি জাকির হোসেন মোল্লা, উপ-পরিদর্শক আবদুল আজিজ ও আবু বকরের বিরুদ্ধেও ঢাকার সিএমএম আদালতে ঘুষ গ্রহণ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে মামলা হয়।। মতিঝিল থানার ওসিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়। থানায় অপহরণের মামলা করতে গেলে মতিঝিল থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা নিলেও আসামি গ্রেফতার না করে উল্টো বাদীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয় পুলিশ। এদিকে আরেক ঘটনায় রামপুরা থানার ওসির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্য রাখার অভিযোগও রয়েছে একই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। পল্টন থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ফুটপাতে চাঁদাবাজিসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। মগবাজারের সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী বাবুল গাজীকে হত্যার অভিযোগে রমনা থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ, দুই সোর্সসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা হয়েছে। পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ইয়াকুব ও সহকারী উপ-পরিদর্শক আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন পল্লবীর ফুটপাতের এক কাপড়-বিক্রেতা। কদমতলী থানাধীন দনিয়া বাজারে চাঁদার টাকা আনতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হন তিন পুলিশ কনস্টেবল। কেরানীগঞ্জ থানায় আটক হাজতিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে ওসি ও দুই উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা হয় ঢাকার সিএমএম আদালতে। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কমার্স কলেজের ছাত্র মোমিনকে তাদের উত্তর ইব্রাহীমপুরের বাসার সামনে খুনের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত।

নিরীহ তরুণকে ডাকাত বানিয়ে গণধোলাইয়ের মাধ্যমে হত্যা করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। হত্যা ও হত্যাকান্ডে সহযোগিতার অপরাধে পুলিশসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে নোয়াখালীর ২ নম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহকে ক্লোজড, এসআই আকরাম শেখ এবং দুই কনস্টেবল আবদুর রহিম ও হেমারঞ্জন চাকমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গত মাসে ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড় থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তিন যুবককে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তিনজনেরই দুই হাত পেছনে ও পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। এ ছাড়া দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। রাজধানীর উপকণ্ঠ আমিনবাজারে ছয় কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে মাদক ব্যাবসায়ী ও পুলিশের যোগসাজসে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। পরে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ নিহত ছয় ছাত্রকে ডাকাত প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠে। পুলিশের সহায়তায় পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতারের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করেন খিলগাঁও থানার ওসি হেলাল উদ্দিন। পরে ওই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসিসহ তিন পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশ সদস্যরা ডাকাতি করতে যেয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাদের ঘেরাও করে গণধোলাই দিয়ে আটক করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের ছাড়িয়ে আনাকে কেন্দ্র করে থানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পুলিশের এসপি ও জেলার ডিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক আইজি এস এম শাহজাহান বলেন, অপরাধের দায়ে সাধারণ মানুষের চেয়ে পুলিশের শাস্তি বেশি হওয়া উচিত। কারণ পুলিশকে রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন তাদের শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা মনে করেন, পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার বন্ধ না হলে তাদের অপরাধও বন্ধ হবে না।

পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি অবশ্য বলেন দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে আমি ভাবে মনে করি না।

পুলিশ সদর দফতরের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ জমা পড়ে, সেগুলোর তদন্ত পুলিশই করে থাকে। যে কারণে অভিযোগের তদন্ত সঠিকভাবে হয় না। পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর শাস্তি হয়েছে, এমন নজির কম। এসব ক্ষেত্রে কনস্টেবল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের শাস্তি পেতে হয় বেশি।

এ কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীরা পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে না পেরে আদালতের আশ্রয় নেয় মানুষ। আদালতে মামলা হলেও পরে তা আর বেশি দূর এগোয় না। পুলিশের চাপে ভুক্তভোগীরা মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা শাস্তি না পাওয়ায় পুলিশ বেপরোয়া হতে থাকে।

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com

বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ব এড়াতে খুব পটু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন যদি সঠিকভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয় তাহলে এসব মৃত্যুরহস্য সহজেই উদ্ঘাটিত হতো।


পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের অন্য নাম বেওয়ারিশ লাশ

আহম্মদ ফয়েজ রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিদিনিই বাড়ছে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা। শুধু আঞ্জুমান মুফিদুলের হিসাব মতে, ২০০৯-এর জুলাই থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত খোদ রাজধানী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার বেওয়ারিশ লাশ। ২০০৪-এর জুলাই থেকে ২০০৫-এর জুন পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৬৫৬। আঞ্জুমানে মুফিদুলের উপ-পরিচালক (সার্ভিসেস) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেওয়ারি লাশের সংখ্যা এখন তুলনামূলকভাবে কম। এর কারণ হচ্ছে, আগে মানুষের কাছে কোনো প্রকার পরিচয়পত্র থাকতো না। এখন বেশিরভাগ মানুষের কাছেই জাতীয় অথবা কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র থাকে। তবে এখন যেসব বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায় এর বেশিরভাগই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের পর মৃতদেহের ওয়ারিশ না থাকায় তা বেওয়ারিশ হয়ে যাচ্ছে। পার পেয়ে যাচ্ছে ঘাতকরা। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কোনো লাশই বেওয়ারিশ নয়। তাদের মতে, লাশের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পুলিশের অবহেলার কারণে এত বেশি লাশ বেওয়ারিশ হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ হওয়া লোকজনকে উদ্ধারের ব্যাপারে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়লে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা কমবে।

পুলিশের যেন নেই কোনো দায়িত্ব : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয় এসব লাশ সম্পর্কে সঠিক খোঁজখবরও কেউ রাখছে না। এসব মানুষের লাশ পাওয়ার পর স্থানীয় থানা পুলিশ কিছুদিন বিবরণসহ সুরতহাল রিপোর্ট সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে তাদের আর কোনো হদিস থাকে না। এক সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দফতরে অজ্ঞাত লাশের ছবিসহ বিবরণ সংরক্ষণ করা হতো; কিন্তু এখন আর সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে কত অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যাচ্ছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পুলিশের খাতায়ও পাওয়া যাচ্ছে না। মহানগরীর বিভিন্ন থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার এবং হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তিনদিন সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে; কিন্তু অতিরিক্ত লাশের চাপ এবং সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সাধারণত এক থেকে দুই দিনের বেশি লাশ রাখা হয় না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের লাশকাটা ঘরে দায়িত্বপালনরত একজন ডাক্তার নাম প্রকাশ না করে বলেন, পুলিশ তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময় লাশ মর্গে নিয়ে এসে কোনো রকমে একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেই লাশটিকে বেওয়ারিশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ফেলে। এ কারণে অনেক লাশ তাদের আত্মীয়-স্বজনরা জানার আগেই দাফন হয়ে যায়।

রাজধানীতে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে এমন একমাত্র প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বাহার জানান, অভিভাবক না থাকায় এসব ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্তের যথেষ্ট অভাব আছে। পুলিশ কখনো কখনো লাশের পরিচয় জানার চেষ্টা না করেই অজ্ঞাত লাশ বলে আঞ্জুমান মুফিদুলে দিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি মৃত্যুর কারণ ও এগুলোর খুনিদের চিহ্নিত করে যদি শাস্তি দেওয়া যেত তাহলে হয়তো অজ্ঞাত খুনের সংখ্যা কমানো যেত। বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ব এড়াতে খুব পটু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন যদি সঠিকভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয় তাহলে এসব মৃত্যুরহস্য সহজেই উদ্ঘাটিত হতো।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সারাদেশেই এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের নিস্পৃহতার কারণেই এসব লাশের পরিচয় মিলছে না। বেওয়ারিশ লাশ শনাক্তকরণে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং মোবাইল অপারেটররা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। বেওয়ারিশ লাশের ছবি মিডিয়ায় প্রকাশ হলে অথবা মোবাইল অপারেটররা এসএমএসের মাধ্যমে মৃতদেহের বর্ণনা তাদের গ্রাহকদের সরবরাহ করলে সহজেই তা শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে প্রশাসন অজ্ঞাত লাশের পরিচয় বের করতে চায় না। তাছাড়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তো আছেই। এগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় নিহতরা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার। প্রশাসন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পুলিশ এসব মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করতে চায় না।
ঢাকা মেডিকেলের তথ্য : ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সভাপতি ও বিভাগীয় প্রধান মিজানুল হক জানান, খুন ও অপমৃত্যুর পরিসংখ্যান তাদের কাছে রয়েছে। তবে তা সবাইকে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিককে আমরা তথ্য দেই না। এসব তথ্য প্রকাশ হলে জনমনে আশঙ্কা বাড়তে পারে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে একটি গোপন সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে মোট ৪৫৩টি অজ্ঞাত লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৩ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলা, ফেব্রুয়ারিতে ৪১ জন পুরুষ ও ৯ জন মহিলা, মার্চে ৩৭ জন পুরুষ ও ৬ জন মহিলা, এপ্রিলে ৬ জন মহিলা ও ৩৬ জন পুরুষ, মে’তে ১৪ জন মহিলা ও ৪৬ জন পুরুষ, জুনে ১১ জন মহিলা ও ৪৯ জন পুরুষ, জুলাইয়ে ৫ জন মহিলা ও ৩৩ জন পুরুষ, আগস্টে ১২ জন মহিলা ও ৩৭ জন পুরুষ, সেপ্টেম্বরে ৫৩ জনের মধ্যে ১৫ জন মহিলা ও ৩৮ জন পুরুষ এবং ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ জন মহিলা ও ১৬ জন অজ্ঞাত পুরুষের লাশ ময়নাতদন্ত করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগ। এছাড়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে জানুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৭৮টি অজ্ঞাত লাশের ময়নাতদন্ত করেছে।

হত্যাকান্ডের লাশ বেওয়ারিশ এবং অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে : পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার কারণেও লাশের পরিচয় পাওয়া যায় না। এর কারণে খুনি বা অপরাধী চক্র সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। উত্তরা জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বাড্ডা এবং উত্তরখান থেকে উদ্ধার করা টুকরো লাশের পরিচয় না পাওয়ার কারণে এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। খুনিদের সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তেজগাঁও জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি ১৪ মাস পর পরিকল্পিত হত্যার শিকার ২ তরুণীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাদের ঘাতকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। কারওয়ানবাজার এলাকার একটি ড্রেন থেকে এ দুই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ দুই তরুণী দীর্ঘ ১৪ মাস তাদের পরিবারের কাছে নিখোঁজ হিসেবে ছিল। সংশ্লিষ্ট থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়রিও করা হয়েছিল। অথচ সংশ্লিষ্ট থানা থেকে তাদের ছবি দেশের বিভিন্ন থানায় পাঠানো হলে ঘটনার পরপরই তরুণীদের পরিচয় পাওয়া যেত। পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকারীদেরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতো।

মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য : মানবাধিকারকর্মী ও হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, এখন যারা অপরাধ সংঘটিত করে তারা বেশ ভালো করেই জানে আইনকে কিভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়। আর এসব জেনে বুঝে তারা কাউকে খুন করার পর লাশটিকে এমন অবস্থা করে ফেলে যে সেটা আর সহজে চেনা যায় না। অনেক সময় দেখা যায় ইচ্ছা করে পুলিশ অনেক কারণেই একটি লাশকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে চালিয়ে দেয়। তা ছাড়া সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে পরিকল্পিত হত্যার শিকার অনেককে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হচ্ছে। এসব হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু থাকে না এবং প্রশাসনও এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে না। এ কারণে অপরাধীরা খুব সহজেই পার পেয়ে যায়।

বেওয়ারিশ লাশের হিসাব : রাজধানীতে বেওয়ারিশ লাশের মিছিল দিনে দিনে বড় হলেও এর কতটি খুন, কতটি সড়ক দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক মৃত্যু তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসন, এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে বেওয়ারিশ লাশগুলো কিভাবে খুন হয় এর কোনো নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। আঞ্জুমানে মুফিদুলের তথ্য মতে, ২০০৪-এর জুলাই থেকে ২০০৫-এর জুন পর্যন্ত বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা এক হাজার ৬৫৬টি, ২০০৫-এর জুলাই থেকে ২০০৬-এর জুন পর্যন্ত দুই হাজার ৪৯টি, ২০০৬-এর জুলাই থেকে ২০০৭-এর জুন পর্যন্ত দুই হাজার ২০৩টি, ২০০৭-এর জুলাই থেকে ২০০৮-এর জুন পর্যন্ত দুই হাজার ১১৯টি, ২০০৮-এর জুলাই থেকে ২০০৯-এর জুন পর্যন্ত এক হাজার ৭১৪টি এবং ২০০৯-এর জুলাই থেকে ২০১০-এর অক্টোবর পর্যন্ত এক হাজার ৯২২টি। [ আহম্মদ ফয়েজ ● সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,