মেধা নাকি যৌন আবেদনে আসে খ্যাতি!


যৌন আবেদন নাকি মেধা?

ফোর্বস ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক এক তালিকা দেখে এমন প্রশ্নের আবির্ভাব৷ তালিকাটা ৩০ বছরের কম বয়সি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী সেলিব্রেটিদের৷ তাতে শীর্ষ দশের সাতজনই হচ্ছেন নারী৷

একেবারে শীর্ষ অবশ্যই লেডি গাগা৷ গত বছরে তাঁর আয় ছিল ৮০ মিলিয়ন ডলার৷ হিট গান বিক্রি, ওয়ার্ল্ড ট্যুর আর বিভিন্ন পণ্যের মডেল হয়ে এই অর্থ আয় করেছেন লেডি গাগা৷ পরিমাণটা হয়ত আরও বাড়তে পারতো যদি না ইনজুরির কারণে কয়েকটি ট্যুর বাতিল না করতেন৷ ঐ সময়টা তাঁকে তাঁর ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি হুইলচেয়ারে কাটাতে হয়েছে!

এরপরেই আছেন তালিকায় থাকা তিন তরুণের প্রথমজন ক্যানাডিয়ান সেনসেশন জাস্টিন বিবার৷ তবে তাঁর আয় লেডি গাগার চেয়ে ২২ মিলিয়ন ডলার কম, অর্থাৎ ৫৮ মিলিয়ন৷ তালিকার অন্য দুই ছেলে তারকা হলেন ডিজে ক্যালভিন হ্যারিস ও অভিনেতা টেলর লাউটনার৷ তাঁদের আয় যথাক্রমে ৪৬ ও ২২ মিলিয়ন ডলার৷ আর মেয়েদের মধ্য আছেন টেলর সুইফট (৫৫ মিলিয়ন ডলার), রিহানা (৪৩ মিলিয়ন), কেটি পেরি (৩৯ মিলিয়ন), আডেলে (২৫ মিলিয়ন), জেনিফার লরেন্স (২৬ মিলিয়ন ডলার) ও ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট (২২ মিলিয়ন)৷

তবে শুধু কম বয়সি তারকাদের তালিকায় নয়, গত জুনে ফোর্বস যে ‘পাওয়ারফুল সেলিব্রেটি'-দের লিস্ট তৈরি করেছিল তাতেও শীর্ষ দশে ছিলেন ছয়জন নারী৷

ফেমিনিস্ট ওয়েবসাইট জেজেবেল ডটকমের ব্লগার কেট ড্রাইস বলছেন, ‘‘শুধু যৌন আবেদন দিয়ে মেয়েরা অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা ঠিক নয়, বরং গানের শিল্পীরা শুধু মিউজিশিয়ান হওয়ার চেয়ে আরো অন্যান্য বিষয়েও দক্ষতা অর্জন করছেন৷ তাই তাঁরা বেশি আয় করছেন৷

তিনি বলেন, লেডি গাগা, রিহানা, টেলর সুইফট, কেটি পেরির মতো তারকারা পণ্যের মডেল হয়েই বেশি আয় করছেন৷ বিশেষ করে তাঁরা চান বিভিন্ন কসমেটিক পণ্যের সঙ্গে নিজের নাম জড়াতে৷ এমনকি জাস্টিন বিবারও তরুণীদের কাছে তাঁর নাম বেঁচে অনেক অর্থ আয় করছেন বলে মনে করেন ড্রাইস৷
প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন?

ফেসবুক বলে দেবে প্রেমের গভীরতা!


ফেসবুক বলে দেবে প্রেমের গভীরতা!

ঢাকা টাইমস ডেস্ক ঢাকা: নিত্যদিনের আর পাঁচটা দরকারি কাজকম্মের মতোই ফেসবুকটিও জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়েছে। এই ব্যাপারটি আর যেই হোক, তর্কবাগীশ বাঙালি কিন্তু অস্বীকার করতে পারবেন না। সে আপনি ফেসবুক ব্যবহার করতে চান বা না-ই চান! কী পারে না এই ফেসবুক? প্রাত্যহিকভাবে নতুন কোনও কিছুর হদিশ দিতে পারা এই ফেসবুকে একদিকে যেমন অন্যের দেওয়ালে নাকগলানো বা ‘পোক’ করা যায়, তেমনই জোড়া লাগানো বা ফাটল ধরানোও যায় সম্পর্কে। তবে এতসব জটিলতার মাঝে হারিয়ে না গিয়ে এবার ফেসবুক থেকে জেনে নিতে পারেন আপনার প্রেমিকের সততা বা সম্পর্কের দায়বদ্ধতার কথাটিও! ভাবছেন, কী করে বুঝবেন মনের মানুষটি আপনাকে ঠকাচ্ছেন কিনা?
Facebook Love
১. ফেসবুকে তাঁর নিত্যনতুন ছবি আপলোড হয়ে থাকলেও আপনাদের জুটির ছবির কোনওটাই কি ফেসবুকের চৌকাঠ মাড়ায় না? তাহলে বরং একটু নড়েচড়ে বসুন দেখি! আর ভাবুন, কেন আপনাকে অন্যান্য বন্ধুদের কাছে দেখাতে চাইছেন না পুরুষটি। সেটা কিছুটা অতিরিক্ত অধিকারবোধের জায়গা থেকেও হতে পারে বইকি। সেক্ষেত্রে তাঁর কাছে একদিন আলতো করে পেড়েই দেখুন না কথাটা। তার পরেও তিনি অভ্যেস না বদলালে আপনার নেতিবাচক দিকটার কথা ভাবাই বোধহয় উচিত হবে। তাছাড়া নিজেতে মত্ত থাকার প্রমাণস্বরূপ আপনার প্রেমের মানুষটি যদি একটু বেশিই নিজের ছবি পোস্ট করে থাকেন, তবে শুনুন, তিনি কিন্তু নার্সিসিস্ট! মানে শুধু নিজেকেই ভালবাসেন, এমন একজন মানুষ।

২. এরই উল্টোদিকে আপনার কিম্বা আপনাদের প্রচুর ছবি যদি আপনার প্রেমিক পোস্ট করেন ফেসবুকে, তাও আবার সম্পর্কের মাস কয়েকের মধ্যেই অথবা প্রেমপ্রস্তাব স্বীকার করার মুহূর্তের মধ্যেই তিনি যদি ‘ইন আ রিলেশনশিপ’ রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দেন আপনাকে- তবে নিশ্চিন্ত থাকুন, সেটিও আর যাই হোক- প্রেম নয়। তাহলে? কিছুই না, আপনার বয়ফ্রেন্ড বড় ধরনের রিলেশনশিপ অ্যাডিক্ট! এবার তিনি মনেপ্রাণে কতটা চাইছেন আপনাকে, আর কতটাই বা শুধুই রিলেশনশিপের চাহিদা- ভাল করে ভেবে দেখুন।

৩. মাস কয়েকের বেশি সময় ধরেই আপনাদের প্রেমলীলা চলছে, তবুও প্রিয় পুরুষের ফেসবুকের ‘সিঙ্গল’ স্টেটাসটিকে কি আপনি পারেননি বদলাতে? তবে জানবেন মানুষটি একেবারেও সিরিয়াস নন আপনাকে নিয়ে, তিনি সেটি ইচ্ছাকৃতভাবেই রেখেছেন ‘সিঙ্গল’ করে।

৪. কারও প্রেমে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকে ডুবে থাকার সময়টি কমে যায় মানুষের জীবনে। চারপাশে একটু তাকিয়ে দেখুন, কথাটার সত্যতা হাড়ে হাড়ে টের পাবেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ফেসবুককে উৎসর্গ করা সময়টি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে থাকে না ততটাই খালি। কিন্তু সম্পর্কে ঘোরতরভাবে ঢুকে যাওয়ার পরেও, আগের মতো কমিটেড লংটাইম ফেসবুক সারফিং করলে বুঝবেন, মানুষটি একেবারেই সিরিয়াস নন সম্পর্টিকে নিয়ে।

৫. অতি তুচ্ছ কারণে মনের মানুষের সব কিছুই ফেসবুকে পোস্ট করাকেও দেখতে পারেন সন্দেহের চোখে। যেমন ধরুন, তাঁর মায়ের শরীর খারাপে তিনি মর্মাহত, কিম্বা চাকরি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ… এমন ব্যক্তিগত কথা যদি আপনাকে না জানিয়ে পুরুষটি পোস্ট করেন আগেভাগেই ফেসবুকে, তার মানে আপনার নয়, অন্য মহিলাদেরও অ্যাটেনশন চাইছেন তিনি। ভাবছেন, এবারে আপনার কী কর্তব্য? আর কিছু না, ফেসবুকে তাঁর গতিবিধি দেখে এবারে ঠাহর করে নিন বয়ফ্রেন্ডের মনের গোপন কথা। স্পষ্ট মালুম হবে, কতটাই বা আছে তাঁর কমিটমেন্ট আপনাদের সম্পর্কের জন্য!


প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৩ ০০:০০:০০


কফি সঞ্জীবনী

বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত কফি পান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কফিতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। গত এক দশকে একাধিক গবেষণায় এর আরো গুণের কথা জানা গেছে

মাহফুজউল্লাহ বাবু

গল ব্লাডারে পাথর: হার্ভার্ডের গবেষকরা ২০০২ সালে জানান, দিনে কমপক্ষে চার কাপ কফি পান করেন, এমন নারীদের ক্ষেত্রে গল ব্লাডারে পাথর হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫ শতাংশ কম থাকে। এর আগে একই ধরনের এক গবেষণায় পুরুষদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

বিষণ্নতা প্রতিরোধ: ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে দু-তিন কাপ কফি পান করেন, এমন নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা জন্মানোর প্রবণতা ১৫ শতাংশ কম এবং চার কাপ বা তারও বেশি কফি পান করা নারীদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার এ হার ২০ শতাংশ কম।

স্মৃতিশক্তি: কফি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের স্মৃতি বাড়াতে সাহায্য করে। ২০০৫ সালে উত্তর আমেরিকার রেডিওলজিক্যাল সোসাইটিতে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রিত মাত্রার ক্যাফেইনসমৃদ্ধ কফি দিনে দুই কাপ পান করলে স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের তাত্ক্ষণিক সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাড়ে। ২০১১ সালে ফ্লোরিডার বিজ্ঞানীরাও জানান, মধ্য বয়স থেকে নিয়মিত চার-পাঁচ কাপ কফি পান অ্যালঝেইমার (বয়স বাড়ার কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া) রোগের ঝুঁকি কমায়।

ডায়াবেটিস: দিনে চার কাপ বা তারও বেশি কফি পানের অভ্যাস আছে যাদের, তাদের ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কম থাকে। ২০১২ সালে জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়। কফির বিভিন্ন উপাদান শরীরে এইচআইএপিপি নামে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান প্রতিরোধ করে, যার প্রভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতেও কফির প্রভাব রয়েছে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদানের (কার্সিনোজেন) মাত্রা কমায় কফি। ২০০৮ সালে সুইডেনে এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে দু-তিন কাপ কফি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। হার্ভার্ডে সম্প্রতি আরেক গবেষণায় পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে দৈনিক চার-পাঁচ কাপ কফি পানের সুফল দেখানো হয়েছে।

হজম: খাদ্য শরীরে কাজে না লাগিয়ে সরাসরি চর্বিতে রূপান্তর হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়ায় কফির ভূমিকা রয়েছে। ১৯৮০ সালেই এটি জানান বিজ্ঞানীরা। তবে ক্যাফেইন নাকি অন্য কোনো উপাদান এ কাজে সহায়তা করে, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছিল না। ২০০৬ সালে জানা যায়, ক্যাফেইনবহির্ভূত অন্যান্য উপাদানের কারণে হজমে দক্ষতা বাড়ে। জাপানের গবেষকরা সম্প্রতি জানান, কফির ক্লোরেজেনিক এসিডের কারণে শর্করা কাজে লাগানোর দক্ষতা বাড়ে দেহে। সবুজ কফিতে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি থাকে।

পারকিনসন্স রোগ: একাধিক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, তিন-চার কাপ কফি পানের অভ্যাস শেষ বয়সে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: হার্ভার্ডের গবেষকদের মতে, আমেরিকায় সব ধরনের উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সবচেয়ে বড় উত্স হচ্ছে কফি।

সক্রিয়তা: শারীরিক ও মানসিক ক্রিয়াশীলতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে কফির ক্যাফেইন। মনোযোগ ও পরিষ্কারভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ায় কফি। ক্যাফেইন ছাড়াও কফির বেশকিছু উপাদান চিন্তা ও আচরণে জড়তা কমায়।

গেঁটে বাত: শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় প্রদাহ, ফুলে যাওয়া ও ব্যথার সমস্যাই গেঁটে বাত। ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত কিংবা নিয়মিত কফি দুটোই ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। দৈনিক গড়ে ছয় কাপ কফি পান করলে এ ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে।

তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানো থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে উল্টো বিষণ্নতা ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। তিন-চার কাপে সীমাবদ্ধ থাকাই ভালো হবে। তাছাড়া যাদের ঘুমে সমস্যা বেশি হয়, তারা দুপুরের পর কফি এড়িয়ে চলবেন।

লাম্পট্যতা রোধে জেল-জরিমানা! কতটা ফলপ্রসু? ‘ইভ টিজার’ বলে বখাটেদের সম্মান না দিয়ে যথার্থ বাংলা শব্দের প্রয়োগ করতে হবে।


লাম্পট্যতা রোধে জেল-জরিমানা! কতটা ফলপ্রসু?
নজরুল ইসলাম টিপু



সুন্দরী চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে? রাগ করোনা সুন্দরী গো, রাগলে তোমায় লাগে আরো ভাল….। এটি ৩০ বছর আগের বাংলা ছবির একটি হিট গান, গানের সূর সুন্দর হলেও ছবিতে দেখা যায়, একজন নারী একাকী রাস্তায় চলে যাচ্ছে, আরেকজন পুরুষ গাড়ীতে বসে নারীকে উত্যক্ত করে গানটি গাইছে। এখনও কদাচিৎ টিভিতে ছবিগুলো প্রদর্শিত হয়। তখনকার দিনে সমাজ জীবনে এগুলোর কোন প্রভাব ছিলনা, মানুষ ভাবত নিতান্ত আনন্দ বিনোদনের জন্য ছবি দেখা, যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই। বর্তমান কালের ছবিতে যে গানগুলো নাচিয়ে দেখানো হয়, সেগুলো না গাওয়া যায়, না দেখা যায়, না শোনা যায়, না লিখা যায়! টিভি খবরের মাঝখানে যদি ফ্লিমের এ্যাড আসে হয় টিভি বন্ধ করতে হয়; নতুবা যে যার মত সে স্থান থেকে ত্যাগ করতে হয়। বর্তমানের প্রচলিত গানের কলি না লিখে ৩০ বছর আগের একটি গানের কলি এখানে তুলে আনলাম; কেননা আমিও ৩০ বছর আগের ইজা টানব। ছবিতেই নারীকে উত্যক্ত করে গানটি গাওয়া হয়েছিল; তখনকার দিনে বাস্তবে কেউ প্রকাশ্যে এটা করলে তাকে লম্পট, লুইচ্ছা, বদমাইশ, বেয়াদব বলার সাথে সাথে, মার-গুথোর পর জুতা কামড়িয়ে মাটি থেকে তুলতে হত। বর্তমান ডিজিটাল যুগে আধুনিক সমাজের কাছে এই ব্যক্তিদের নাম হল ‘ইভ টিজার’! কিছুটা সম্মানজনক শব্দ বটে!

বাংলাদেশে নারী-পুরুষের যৌনতার চাদরে আবৃত প্রেম ব্যতীত সিনেমা নাই। কেউ বানাতে পারেনা, তাদের দাবী বানালে নাকি বাজারে চলবেনা! বাংলা সিনেমায় দেখুন, আঁট-শাট পোষাক পরিহীতা কিছুটা দেমাগী, সুন্দরী মেয়েটি কাউকে পাত্তা না দিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে চলল। ক্লাসে কিংবা কেন্টিনে মেয়েটির দেমাগী ভাব ক্লাসের স্যারদের সামনে নিলর্জ্জ যথারীতি চলে। ক্লাসের আরেক ছাত্র হতে পারে ধনী কিংবা মেধাবী মেয়েটিকে উত্যক্ত করল দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য। ছেলেটি ব্যর্থ হয়ে মেয়েটির কামিজে টান মারে, অমনি মেয়েটি বাম হাতের পাঁচ সিকার একখানি থাপ্পড় ছেলের গালে বসিয়ে দেয়! ব্যস, শুরু হল আসল খেলা, টানটান উত্তেজনা, রক্ত টগবগ করা কাহিনী জমে উঠে। হঠাৎ ছন্দপতন, সে কাহিনী মোড় নেয় প্রেমে, অমর প্রেম। উভয় পক্ষের বাবা-মা মানতে নারাজ, শেষ পর্যন্ত বাবা-মা বুঝতে পারে, তারাই আসলে ভূল করেছিল। ছেলেমেয়েরা কোন ভূল করেনি, তারা ঠিক পথেই চলছিল। পিতা-মাতার কম আকলের কারনে তা বুঝে উঠতে পারেনি, ফলে সানাই বাজল বিয়ে হল। এভাবেই প্রতিটি বাংলা সিনেমার ছবি তৈরী হয়, বুঝানো হয়, মেয়েদের উত্যক্ত করেই প্রেম করতে হয়, মন পেতে হয়। সঙ্গত কারনে দর্শকদের মাঝে উঠতি বয়সের কিছু ছেলেদের উপর এর খারাপ প্রভাব পড়ে। কেউ প্রশ্ন করেনি, মামলা করেনি, আসলেই কি কলেজের অভ্যন্তর ভাগের হালছাল এত বিশ্রি! উত্যক্ত করলে মেয়েরা থাপ্পড় মারেনা, বাস্তবতা হল মেয়েরা পারলে জুতো পিটুনি দেয়। কখনও সিনেমাতে দেখেছেন? উত্যক্তকারী নায়ককে জুতো পিটুনি দিতে? অথছ সেটাই ছিল তার কর্মের প্রাপ্য।

বিগত ১০ বছর আগেও সমালোচনা হত টিভি বিজ্ঞাপনে অযথা মেয়েদের দেখানো হয়, অপ্রয়োজনে তাদের দিয়ে নানা অঙ্গ-ভঙ্গি করিয়ে নেয়া হয়। ভদ্র অভিরুচি সম্পন্ন শিক্ষিত সমাজ থেকে বলা হত গাড়ীর টায়ারের বিজ্ঞাপনে, ব্লেডের বিজ্ঞাপনে, সিমেন্ট, লোহা কিংবা জমির সারের বিজ্ঞাপনের সাথে নারীদের কি সম্পর্ক? কেন তাদের এভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে? রাষ্ট্রিয়ভাবে এগুলো নিয়ে কোন সরকারই ভাবেনি, ভাবার গরজও মনে করেনি। সেটার উত্তরণতো হয়নি বরং এখন সেটা মহামারী আকারে, মিডিয়া জগতে প্রবেশ করেছে। আগে ছিল অপ্রয়োজনে নারীদের উপস্থিতি নিয়ে যত কথা, এখন যোগ হয়েছে নাচ-গান সহ বিভিন্ন উদ্ভট অঙ্গ-ভঙ্গি। এখন সাবানের বিজ্ঞাপনে নারীদের নাচ আছে, বিস্কুটের বিজ্ঞাপনে নারী-পুরুষের লাফালাফি আছে। সিমেন্ট, ময়দা, লাচ্ছা সেমাই, ইট, টিভি, ফ্রিজ, নুডুলস্, বিস্কুট, চুইংগাম, ন্যাপকিন, পাওয়ার টিলার, জৈব সার থেকে শুরু করে কোন বিজ্ঞাপনে ছেলে-মেয়েদের দৃষ্টি কটু লাফালাফি নাই? পানির পিভিসি পাইপের বিজ্ঞাপনে নারী চরিত্র ঢুকাতে হবে, কিছুতেই মাথায় আসছেনা কিভাবে সম্ভব করা যায়। আমার এক মিডিয়া শুভাকাঙ্খির কাছে সাহায্য চাইল এ্যাড ফার্মের বন্ধু, একটু বুদ্ধি পরামর্শ দিতে! খাদ্য পণ্যের বিজ্ঞাপনের একটি সংলাপ এমন, বান্ধবীকে বলা হল, মুখে থাকবে গান, হাতে থাকবে বিস্কুট। ১৫ সেকেন্টের এই বিজ্ঞাপনের ১১ সেকেন্ট চলল বক্ষ প্রদর্শনী নৃত্য, ৪ সেকেন্ট পণ্যের নাম। ক্রিমের ১৫ সেকেন্টের বিজ্ঞাপনে ১৩ সেকেন্ট ধরে মেয়েটি ছেলেদের উত্যক্ত করার দৃশ্য, মাত্র২ সেকেন্টে নিল পণ্যের নাম বলতে! পণ্য সামগ্রীর গুনগত মান, সূলভ, সহজলভ্যতা, উপকারী, দরকারী কিনা কোন কথা বার্তা নাই। প্রায় প্রতিটি বিজ্ঞাপনের আজ এই দশা।

ইদানীং মোবাইল কোম্পানীগুলো যথেষ্ট বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। মোবাইল ডিজিটাল যুগের অমর কীর্তি, চরম বিষ্ময়, যথেষ্ট প্রয়োজন ও উপকারী। এমন একটি প্রয়োজনীয় সৃষ্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেও কি, একই উচ্চতার, একই গড়নের, একই আকৃতির একদল তরুনীর মাঝখানে একজন পুরুষকে নাচাতে হবে? বিজ্ঞানের বিষ্ময়কর সৃষ্টি, অতীব প্রয়োজনীয় একটি বস্তুকে পরিচিত করাতে, নারী-পুরুষের বেলাল্লাপনার আয়োজন কি অতি জরুরী? পৃথিবীতে মোবাইল কোম্পানী কি শুধুমাত্র বাংলাদেশের মাটি ফেঁড়ে উদ্ভিদের মত গজিয়েছে? পৃথিবীতে মোবাইলের এ্যাড কি আর কেউ দেয়না? নাকি মোবাইলের প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে কোম্পানীদের গলদঘর্ম হয়? মোবাইলের ব্যবহার আর যাই হোক, এসব দেখে উঠতি বয়সী বাচ্চাদের যে নৈতিক স্খলন ঘটবে, তা কোন বাবা-মা অস্বীকার করতে পারবে না।

আব্বাস উদ্দীন, বশির আহমেদ, আবদুল আলীম, সাবিনা ইয়াসমীন, রুনা লায়লা, নীনা হামিদ সহ প্রচুর বিখ্যাত গায়ক গায়িকা বাংলাদেশে রয়েছে। তাদের কত জনকে তদানীন্তন বাংলাদেশের মানুষ চোখে দেখেছে? ভাটি অঞ্চলের প্রান্তে কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের নিভৃত পল্লীতে তাদের গান গুলো, পথ চলা পথিকের কন্ঠে টান পড়ত। মানুষ জানত এটা আব্বাস উদ্দীনের ভাটিয়ালী কিংবা আবদুল আলীমের পল্লীগীতি। রূপবানের গানের সূরে নীনা হামিদ প্রতিটি গ্রামের বধুদের কাছে পরিচিত। অথছ তখন ছিলনা টিভি, রেডিও, কেসেট প্লেয়ার, এমপি থ্রির মত সহজলভ্য যন্ত্রাংশ কিংবা ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসব শিল্পীদের মানুষ নামে চিনত, কন্ঠে চিনত, ফলে হৃদয় নিংড়ানো ইজ্জত দিত। এখন ইলেকট্রনিক্স বাদ্যের কারনে বেসুরো গায়ক-গায়িকাদের মেলা কদর বেড়েছে। আগে গানের তালে বাদ্য বাজত, এখন বাদ্যের তালে বেসুরো গলায় শিল্পীকে গাইতে হয়। মিক্সিং করে গলা ও সুরের দুর্বলতাগুলো রিপেয়ার করা হয়। এত কিছু করেও শিল্পীরা আগের মত পরিচিতি পাচ্ছেনা। ফলে গান দেখানোর জন্য আশ্চর্য্য এক ব্যবস্থা চালু হল। শিল্পী নিজে গাইবে, আর মডেল কণ্যা, গায়িকা নামধারী একজনকে কলা গাছের তলায়, সীম বাগানের ঝোপ-ঝাড়ে নৃত্যে করাবে। সেটার জন্য অরুচিকর বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা হবে। ব্যবসা এখন তাতেও ভাল যাচ্ছেনা, ফলে গানের মডেলদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে খোদ গায়িকারাই নিজেই গানের মডেল হয়ে গাইছেন। এখন গায়িকাদের ভাল কণ্ঠ থাকলেই চলেনা, মঞ্চ কাঁপানোর মত লম্প-ঝম্প, নর্তন কুর্দন না করলে চলেনা। সমস্যাটা এখানেই, বাজার দখলের ধান্ধায় এসব গায়িকা কাম মডেল কণ্যারা, নিজেরাই নিজেদের ড্রেস তৈরী করছেন। ড্রেসগুলো আভিজাত্য ও পরিমার্জিত করার চেয়ে বেশী নজর দেয়া হয়, সেগুলো যথেষ্ট উত্তেজক হয়েছে কিনা সেদিকে। সে ড্রেসগুলো পরে গায়িকা কাম মডেল কণ্যারা, নেচে গেয়ে চলছেন অবিরত। কেউ ভাবছেনা, কেউ বলছে না এগুলো আমাদের দেশের সাংস্কৃতির সাথে মানান সই কিনা? দেশের ছেলেমেয়েরা আমাদের সাংস্কৃতির অংশবিশেষ। বড় আফসোস লাগে বাংলার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া, সম্মান পাওয়া গায়িকা ছাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লার মত দেশ কাঁপানো গায়িকারাও হাল আমলের শিল্পীদের মাঝে বিলীন হয়ে যেতে। অথছ তাদের না দেখেই বাংলার মানুষ শ্রদ্ধা করতে শিখেছিল।

আজ ঘরে ঘরে হিন্দী ছবির সয়লাব। অনেক পরিবার ভাল বাংলা বলতে পারেনা, ইংরেজী বলতে পারেনা, তবে ঠিকই হিন্দী বলতে পারে ও বুঝে। হিন্দী নাটক ও ছবিগুলো সর্বদা সমাজের মধ্যে অসামাজিক নোংমারী ঢুকাতে সিদ্ধহস্থ। প্রায় সব নাটকেই পরকীয়া প্রেমকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়। এক পুরুষের সাথে মা-মেয়ের প্রেম, এক মহিলার সাথে বাবা-ছেলের প্রেম! এসব হচ্ছে ভারতীয় ছবি ও নাটকের উপজীব্য বিষয়। এসব কুৎসিত চিন্তা, নোংরা কাহিনী হলো নাটকের মূল বিষয় বস্তু, সেগুলোকে বাস্তবতার রূপ দিয়ে পরিবেশন করা হয়। যারা দেখে তারা এক পর্যায়ে দেখতে অভ্যস্থ হয়ে যায়। সেসব গর্হিত কাজকে বর্তমান তরুণ শ্রেনী বাস্তব পক্রিয়া বলে ভাবতে শুরু করে। বর্তমানে নাটকের শিখানো কায়দায় ছেলেরা রাস্তাঘাটে অসহায় নারীদের উত্যক্ত করে চলছে, এগুলো যাদের দেখার দায়িত্ব তারা কিভাবে এই পরিণতির দায় এড়াবেন? বর্তমানে বিয়ের সম্পর্ক করতে গেলে ঘরে কি কি চ্যানেল তারা দেখে থাকেন, খোঁজ খবর নেওয়া অনেকেই জরুরী মনে করেন, অনেকে এদের সাথে আত্মীয়তা করতে দশবার ভাবছেন।

বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন চ্যানেলেও নাটক তৈরীতে ভারতীয় ভূতের আছর পড়েছে। তারা ব্যবসা সফলতার জন্য ভারতীয় পন্থাকে অনুকরন করছে এবং আমাদের চ্যানেলগুলো সেদিকে ধাবিত হচ্ছে। চ্যানেল গুলোতে অভিনেত্রী, গায়িকা খুঁজার নামে কোটি কোটি টাকা খরছ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে সেরা গায়িকা-নায়িকা বাছাই হলেই জাতি স্বনির্ভর হবে অচিরেই। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ইংরেজী-অংকের পিছনে সময় দেবার চেয়ে, গানের পিছনে বেশী সময় ব্যয়কে উপরে উঠার মাধ্যম মনে করছেন। কেননা চ্যানেল গুলোতে তাদের মূল্যই বেশী। একটি চ্যানেলও শিক্ষার ক্ষেত্রে নূন্যতম সময় ব্যয় করেনা। আবার নায়িকা বাছাই পক্রিয়ার রীতি নীতিগুলো আপত্তিকর, তাদের ক্লোজআপ দৃশ্যগুলো আরেকটি অনুষ্ঠান বানিয়ে রগরগে বর্ণনায়, রঙ্গচটা ভঙ্গিতে প্রচার করা হয়। সামাজিক সমস্যার কথা বাদ দিলেও উঠতি যৌবনপ্রাপ্ত বালদের জন্য এসব দৃশ্য দেখে ধর্য্য ধারন করা অবশ্যই কষ্টকর হবে। যারা এসব বানাচ্ছে তাদের কাছে সমাজের চাহিদার কোন দায়বদ্ধতা নেই। তাদের মূল উদ্দ্যেশ্যই হল টাকা বানানো, সমাজ বানানো নয়।

নারীদের উপর এসব প্রতিরোধে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে, মার্শাল আট শেখানো হচ্ছে। একটি ওড়না দিয়ে কিভাবে ছেলেকে কাবু করা যায় শেখানো হচ্ছে। আরো নতুন প্রতিরোধক ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। ছেলেরা যেখানে ছুরি মারছে, এসিড মারছে, শরীরে গাড়ি তুলে দিচ্ছে; সেখানে মার্শাল আর্ট প্রযুক্তি কতটুকু কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে? সরকার ইতিমধ্যে ১ বছরের জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা করেছে। ইতিমধ্যে ছোট খাট শাস্তি দেওয়া শুরু হয়েছে। এ দ্বারা একটি বখাটে ছেলের বিরুদ্ধে সাময়িক ভীতি তৈরী করা সম্ভব হলেও, একদল বখাটের বিরুদ্ধে কি কাজে আসবে? যে সমাজে দৈনিক হাজার হাজার বখাটে তৈরীর উপকরণ খোলা রেখেছে, সেখানে উপরোক্ত পদ্ধতি কৌতুক ছাড়া বড় কিছু নয়। মার্শাল আর্ট শিখার টাকা যার ঘরে আছে তার কণ্যা যে বখাটের খপ্পড়ে পড়বেনা, বলাই বাহুল্য। গ্রীসের মানুষেরা খুবই ভদ্র, মার্জিত। সেখানে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশী। স্কুল-কলেজের সামনে, কিংবা মহিলা আধিক্য বাসে যেভাবে পুরুষকে নারীরা উত্যক্ত করে ভাবলে শরীর শিউরে উঠে। আমাদের দেশে পুরুষ বেশী বলে নারীরা উত্যক্ত হচ্ছে, যে দেশে নারী বেশী সেখানে পুরুষ উত্যক্ত হওয়া কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়। তাই নারীকে মার্শাল আর্ট শিখিয়ে পুরুষদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা যেমনি চিন্তাশীল গোষ্টির উত্তম কর্মকান্ড হতে পারেনা। বখাটে ছেলেদের জেলে ঢুকিয়ে সাময়িক ফায়দা হলেও, জেল ফেরৎ বখাটেরা মেয়েদের বিরুদ্ধে আরো প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে উঠবে সন্দেহ নাই, তাই দীর্ঘ মেয়াদের জন্য এই পদ্ধতিও কোন সূফল বয়ে আনবেনা।

উপরের কয়েকটি দৃশ্য থেকে উপলব্ধি করা যায়, কিভাবে আমাদের দেশের সাংস্কৃতি কান্ডারী বিহীন নৌকার মত মতো, নদীর স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। কোন নিয়ন্ত্রন নাই, কারো অনুশোচনা নাই, কারো দায়বদ্ধতা নাই। যার কারনে এগুলো দেখে, আকৃষ্ট হয়ে, তরুণ সমাজে দুষ্ট ক্ষতের সৃষ্ট হচ্ছে। তরুণেরা সর্বদাই তরুণ, তাদের কাছে ভাল-মন্দের মানদন্ড রক্ষা করা কষ্টকর। যেখানে, যে যায়গায় তারা হাত দিবে, সেখানেই তারুণ্যের ছাপ রাখবে। এটা তাদের দোষ নয়, ফলে তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারিবারিক শাসন, স্কুল শিক্ষকের ভয়, সামাজিক বদনামের ভীতি দিয়ে তাদের সর্বদা তাড়িত করাতে হয়। তবেই তারা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। প্রশ্ন হল সুশীল ব্যক্তিরা যে সমাজ ব্যবস্থা আমাদের তৈরী করে দিয়েছেন বিগত ৩০ বছর আগ থেকে তার দায় কে নেবে? সমাজ পঁচনের শেষ সীমায় এসে এন্টিবায়োটিক দিলে, কি উপকার হবে সে অংশের; যেটা ইতিমধ্যে পঁচে গেছে? সিনেমা-নাটকে তরুনীদের উত্যক্ত করার দীর্ঘ অপসাংস্কৃতি চালু করে; তরুন-যুবকদের সুপ্ত তারুণ্যকে উসকিয়ে দিয়েছেন, তাদের তারুণ্যের অপরাধ কে কাঁধে নেবে? আজ সাংস্কৃতিক জগতের অপসাংস্কৃতির নোংরামী, পঁচা মগজের সৃষ্ট কদাকার কাহিনীর পরিনাম ও দায়ভার কি তারা নেবে? তারা কি বুঝতে পেরেছে এই পট পরিবর্তনে তাদের অবদানই মূখ্য ভূমিকা রেখেছে?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলেন, এগুলো মূলত অপসংস্কৃতির প্রভাব, যেগুলো এসেছে আধিপত্যবাদিদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে। পরাশক্তিগুলো সামরিক আগ্রাসনের চেয়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে অনেক বেশি সুবিধাজনক ও ফলপ্রসু মনে করে। কেননা সামরিক হামলা চোখে দেখা যায়, শত্রুকে চেনা যায়; এমনকি প্রস্তুতি নেবার সময় পাওয়া যায়। ফ্লিম, ছবি, নাটক, ফ্যাশন শো’র মতো উপকরণ নিয়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফল আসে ধীরগতিতে। উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়ে যায়, ফলে জনগোষ্টি দেখতে দেখতে তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, প্রতিরোধের সুযোগ হাত ছাড়া হয়। শত্রুর জন্য অপেক্ষার সুযোগ মেলে না। ফলে পুরো জাতি তাদের মনোগত গোলামে পরিনত হয়। অবশেষে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের আড়ালে প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে বাণিজ্যিক ও সামরিক আগ্রাসন। একই উদ্দেশ্যে তালেবানের পতনের পর কারজাই সরকারের সাহাযার্থে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সাহায্য-সামগ্রী পাঠালেও; ভারত সরকার টিভি, ভি,সি,আর এবং হিন্দী ছবি নিয়ে যায় আফগান জনগনের সাহাযার্থে। আজ বাংলাদেশের আপামর জনতা পতনের কিনারায় দাঁড়িয়ে গেছে; দেশের একটি গোষ্টি অপসাংস্কৃতির মনোগত গোলামে পরিণত হয়েছে।

তাই এগুলো প্রতিকারের জন্য প্রথমেই সাংস্কৃতির পরিমন্ডলের প্রতিটি জোড়ায় হাত দিতে হবে। বিকৃত, কু-রুচিবোধ, অপসাংস্কৃতির পঁচা মগজে নৈতিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি চ্যানেল ও নাট্য ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সরকারকে আগে বসতে হবে। মনোবিজ্ঞানী ও ধর্মীয় পন্ডিতদের পরামর্শে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। এটা পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কাজ নয়, ছেলেদের পিটিয়ে, কানধরে উঠ-বস করিয়ে ভীতি তৈরী করা যাবে, সমস্যার উত্তরণ হবেনা। কারন রোগটি হয়েছে মগজে, নৈতিকতার অভাবে। আর নৈতিকতা শিক্ষা দেয় ধর্ম, সকল ধর্মই নৈতিকতার কথা বলে, খারাপ মানুষকে ভাল বানায়। আল্লাহ নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তোমরা হিজাব তথা শালীন পোশাক পড়, তাহলে তোমরা সম্ভ্রান্ত হিসেবে পরিচিত হবে এবং রাস্তায় তোমাদের উত্যক্ত করা হবেনা। পুরুষদের বলেছেন, তোমরা পর নারীর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করোনা। তিনবারের অধিক তাকালে মহাপাপের ভয় দেখিয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের দেখা মাফ হলেও, তার সন্তোষজনক জবাব থাকতে হবে। কেননা সবই তিনি মনিটরিং করছেন? ইসলাম নারী-পুরুষ দুজনকেই পর্দা করতে আদেশ করেছেন, তাদের চরিত্রের মানদন্ড ও সীমানা নির্ধারণ করেছেন।

সকল ক্লাসে সকল ধর্মের বই পড়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। টিভির বিজ্ঞাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। যৌন উত্তেজক ছবি পরিহার করে, হাসি-কৌতুকের ছবিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নারী-পুরুষ উভয়কে শালীন পোশাক পড়তে উৎসাহিত করতে হবে। মসজিদে-মন্দিরে চরিত্র গঠন মূলক বক্তব্য ও স্কুলে এ বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা করতে হবে। নাটক, কার্টুন ছবির মাধ্যমে চরিত্রবান মানুষের কি মর্যাদা ও সম্মান ইত্যাদি বিষয়ে নাটক তৈরী করে প্রচার করতে হবে। আমাদের দেশে ইংরেজী শব্দের প্রতি আকর্ষন ও সম্মান বেশী। অর্থ যত বেমানান হোক, বোধগম্য নাই হোক; ইংরেজীর মত হলেই নিজেকে সম্মানী ভাবে। মানুষ ইংরেজী লিলি নাম রাখে বাংলায় শাপলা রাখেনা, বিউট রাখে সুন্দরী রাখেনা, লোটাস রাখে পদ্ম রাখেনা। তাই বিদেশী শব্দ ‘ইভ টিজার’ বলে বখাটেদের সম্মান না দিয়ে যথার্থ বাংলা শব্দের প্রয়োগ করতে হবে। যে শব্দ শুনলে একজন মূর্খ মানুষের চামড়ায় যাতে আগুন জ্বলে, ঘৃণা তৈরী হয়। লম্পট, লূইচ্ছা, বখাটে শব্দ না হলেও প্রচলিত নতুন বাংলা শব্দ খোঁজে বের করতে হবে। তখনই আমরা একটি সুস্থ যুবক শ্রেনী তৈরী করতে পারব এবং আমাদের কোমলমতি তরুণীরা পথে-ঘাটে, ঘরে-বাহিরে উত্যক্ত হবেনা।

লেখক আমীরাত প্রবাসী।