বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?


বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা কমাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণা দিতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থা (ইউএসটিআর) সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে বাণিজ্য সুবিধা কমানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। ৩০ জুন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করেছে, এ হুমকি হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় শ্রম পরিবেশ সংস্কারে যথেষ্ট উত্সাহ জোগাবে।

তবে সুবিধা কমানো নাকি পুরোপুরি বাতিল করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম সংগঠন দি আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনসের (এএফএল-সিআইও) বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান সেলেস্ত ড্রেক রয়টার্সকে বলেন, গত নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনস ও সম্প্রতি সাভার রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করতে বা কমিয়ে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, এএফএল-সিআইও ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ সুযোগ-সুবিধা (জিএসপি) বাতিলের দাবিতে প্রথম আবেদন করে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে বাজার-সুবিধা দেয়া হয়, তা হলো জিএসপি বা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এ সুবিধার আওতাভুক্ত নয়।

তবে এ ঘোষণা বাংলাদেশের রফতানিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বাণিজ্য সুবিধা বাদ দিলে তা শাস্তি হিসেবে না নিয়ে বরং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা উচিত হবে। দেশের রফতানি খাতে বর্তমানে কর্মপরিবেশ থেকে শুরু করে সার্বিক মানের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সম্ভব হয়েছে। কারণ দেখা গেছে, সরকার বা স্থানীয় উদ্যোক্তা চাপে না পড়লে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরত থাকেন। তবে এ ধরনের সুবিধা বৃদ্ধি বা কমানোর পাশাপাশি ক্রেতা দেশগুলোর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সূত্রমতে, গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনায় সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এর পর থেকেই বাংলাদেশকে দেয়া বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করার দাবি ওঠে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে। ডিসেম্বরে তাজরীন দুর্ঘটনার পর থেকেই ইউএসটিআর জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। রানা প্লাজা ধসের পর এ পর্যালোচনায় নতুন মোড় নেয়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এড গ্রেসার জানান, গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁবু, গলফ খেলার সরঞ্জাম, প্লেটসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এর ওপর জিএসপি সুবিধা বাবদ ২০ লাখ ডলার শুল্কছাড় পেয়েছে। আবার বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার শুল্ক দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদিও রফতানি খাতের মূল পণ্য তৈরি পোশাক খাত কোনো ধরনের বাণিজ্য সুবিধা পায় না। তার পরও শ্রম নিরাপত্তাহীনতার তাত্পর্য মাথায় রেখে প্রতীকী জবাব হিসেবেই বাংলাদেশকে দেয়া সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব-অর্থনীতিতে ক্ষমতাধর দেশ হিসেবেই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা অনুসরণ করতে পারে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ।

অন্যদিকে রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হলে তা বাংলাদেশের রফতানি খাতের ভাবমূর্তির সংকটকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কারণ এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা আরো জোরালো হয়ে ভাবমূর্তি সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাণিজ্য সুবিধার আওতায় পোশাক খাত নেই। তার পরও আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু দেশটিতে আমাদের লবিংয়ের চেয়ে অ্যান্টি-লবিং অনেক বেশি জোরালো। আর তাজরীনের পর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় কোনো লবিং বা অনুরোধ কাজে লাগছে না। যদিও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা এখনো ছেড়ে দিইনি।’

জানা গেছে, অতীতে অনেক আইনপ্রণেতাই বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া তৈরি পোশাক খাতকে জিএসপি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক প্রস্তুতকারীরা এর বিরোধিতা করেছেন। আশির দশকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তত ১৩টি দেশের জিএসপি সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি বাতিল হয়। পরে তাদের বেশির ভাগই অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করায় আবার জিএসপি সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য সাউথ এশিয়া স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক সঞ্চিতা সাক্সেনা জানান, বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলেও তা দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কোনো সহায়তায় আসবে না। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসব পোশাক কারখানায় নজরদারি করতে পারে এবং বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগে চাপ দিতে পারে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউরোপের ক্রেতারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা-বিষয়ক চুক্তি সই শুরু করেছে। কিন্তু মার্কিন ক্রেতাদের এখনো বিষয়টিতে খুব একটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন পিসাকি এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তায় সাহায্যের বিষয় নিয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সংলাপ চলছে। সেখানকার কর্মপরিবেশকে মূলে রেখেই আলোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন ক্রেতাদের চুক্তি ও দায়িত্বশীল আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে জেন পিসাকি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, ক্রেতারা কর্মপরিবেশ ও মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবেন। যদি কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি সই নাও হয়, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও কর্মপরিবেশ নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মান ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। আশা করি, ক্রেতারা নিজ থেকেই এ মান বজায় রাখবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ১১৩ শ্রমিকের। এর পরই স্মার্ট ফ্যাশনে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ছয়জনের। আর চলতি বছর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩০।

Obama nears decision on Bangladesh trade following tragedies

Fri, Jun 14 03:16 AM IST

By Doug Palmer

WASHINGTON (Reuters) – President Barack Obama could soon decide to cut off trade benefits for Bangladesh, in a largely symbolic response to tragedies in the country’s garment sector that have cost more than 1,200 lives in the past eight months.

The U.S. Trade Representative’s office, with input from other government agencies, is completing its recommendations in preparation for a White House announcement by June 30.

Even though the trade benefits affect less than 1 percent of Bangladeshi exports to the United States, its government has pleaded with the Obama administration not to cut them off.

The AFL-CIO, the largest U.S. labor organization, first filed a petition to suspend Bangladesh from the U.S. Generalized System of Preferences program in 2007.

The U.S. government has put off that decision for six years, hoping the threat would be enough to encourage Bangladesh to make long-needed labor reforms.

But after the Tazreen factory fire in November that killed 112 people and the Rana Plaza building collapse in April that killed 1,129 more, it seems likely that Obama will eliminate or reduce the trade benefits, Celeste Drake, the AFL-CIO’s lead on trade issues, told Reuters this week.

The past year in Bangladesh has been so horrendous that unless the United States acts the labor provisions of the GSP program will be seen as meaningless, she said.

The GSP program is aimed at helping create jobs in poor countries by waiving U.S. duties on thousands of goods as long as the countries meet certain eligibility requirements.

Bangladesh has been in the program since it began in 1976. But its main export, clothing, is not eligible for GSP tariff cuts, in deference to the U.S. textile and apparel industry, which employed some 2.4 million workers four decades ago compared to less than 300,000 now.

Last year, the GSP program spared Bangladesh about $2 million in duties on $35 million worth of tents, golf equipment, plates and other items it exported to the United States, said Ed Gresser, a trade analyst with the GlobalWorks Foundation.

But Bangladesh paid about $732 million in duties on $4.9 billion worth of clothing to the United States. That is almost twice as much as the $383 million in U.S. tariffs collected on $41 billion worth of French goods in 2012, Gresser said.

In the past, some lawmakers have proposed changing the GSP program to provide duty-free benefits for clothing from Bangladesh and Cambodia, but U.S. textile manufacturers lobbied to prevent action on the legislation.

At least 13 countries have lost some or all of their GSP benefits since workers rights protections were added to the eligibility criteria in the 1980s. Most have been reinstated after making progress on the concerns.

While Bangladeshi clothing manufacturers would not be directly affected by a decision to suspend the GSP program, Drake said she expected other Bangladeshi companies hit with increased duties to join the international community in lobbying the government for labor reforms.

“It’s a small stick, which is perhaps right, given that it is a developing country. Nobody wants to do something that would be an earthquake to their economy,” Drake said.

Sanchita Saxena, associate director of the Center for South Asia Studies at the University of California at Berkeley, said revoking Bangladesh’s GSP benefits would not help workers in Bangladesh’s garment industry.

“If the U.S. wants to help improve conditions, international brands and international NGOs can help in building capacity to monitor the thousands of factories that need monitoring and help to enforce some of the laws that are in the books,” she said.

U.S. retailers should also sign an agreement embraced by European retailers to improve safety conditions in Bangladesh’s garment industry, Saxena said.

– See more at: http://bonikbarta.com

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ প্রশংসা করা হয়। ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম ২০১২’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেশীয় ও আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ এবং প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের তত্পরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে সন্ত্রাসীদের বিচারিক প্রক্রিয়া ধীর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরও ‘সন্ত্রাসবাদ দমন অধ্যাদেশ ২০০৯’ ফৌজদারি আইন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগের পথে বাংলাদেশ এগোচ্ছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরো জোরদারে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সরকারি কৌঁসুলিরা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আর্থিক সহায়তায় অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ একটি ন্যাশনাল একাডেমী ফর সিকিউরিটি ট্রেনিং চালু করেছে। যেখানে সন্ত্রাস দমনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন রোধ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে পুরো প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। জঙ্গি অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ পাচার রোধ আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে সার্কের আওতায় বেশকিছু স্মারকে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জাতিসংঘের দেয়া বৈশ্বিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি আঞ্চলিক দেশগুলো বিশেষ করে ভারত দ্বারা প্রভাবিত। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কের কারণে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ হুমকিতে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের আন্তরিকতায় সন্ত্রাসবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নত ও সম্প্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোয় পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। এছাড়া বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্থিক অপরাধ এবং জঙ্গি অর্থায়নসহ অন্যান্য অপরাধ তদন্তে সহায়তাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মনে করে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ‘পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে, যা সন্ত্রাসবাদ দমনে
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে। সেই সঙ্গে মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

jahan Hassan Dan Mozena Ekush News Media

US praises Bangladesh’s counterterrorism efforts
But it says judiciary moves slowly
UNB, Dhaka

Counterterrorism

The US has highly appreciated Bangladesh’s role in combating terrorism saying its counterterrorism efforts made it harder for transnational terrorists to operate in or establish safe havens in Bangladeshi territory but said the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

“…Bangladesh has demonstrated its commitment to combating domestic and transnational terrorist groups,” the ‘Country Reports on Terrorism 2012’ of the US State Department said in its Bangladesh part.

It mentioned that the South Asia remains a frontline in the battle against terrorism.

US assistance supports programmes for Bangladeshi civilian, law enforcement, and military counterparts to build their capacity to monitor, detect, and prevent terrorism.

The report considers Bangladesh as an influential counterterrorism partner in the region, and mentioned that the country continued to make strides against domestic and international terrorism. Besides, Bangladesh and India improved and expanded counterterrorism cooperation.

Despite the absence of major terrorist incidents on their territory, governments in the five Central Asian states were concerned about the possibility of a growing threat connected to changes in the international force presence in Afghanistan in 2014.

Legislation, Law Enforcement and Border Security

Bangladesh’s criminal justice system is in the process of fully implementing the Antiterrorism Act of 2009. However, the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

Bangladesh cooperated with the United States to further strengthen control of its borders and land, sea, and air ports of entry. It continued to participate in the Department of State’s Antiterrorism Assistance program and cooperated with the Department of Justice’s efforts to provide prosecutorial skills training to its assistant public prosecutors, encourage greater cooperation between police and prosecutors, and institute community policing in targeted areas of the country.

With financial support from the United States and other partners, Bangladesh established a National Academy for Security Training in 2012 and began to provide counterterrorism training courses.

Countering Terrorist Finance

Bangladesh is a member of the Asia/Pacific Group on Money Laundering, a Financial Action Task Force (FATF)-style regional body.

The Bangladesh Bank (the central bank) and its Financial Intelligence Unit/Anti-Money Laundering Section lead the government’s effort to comply with the international sanctions regime.

FATF has identified Bangladesh’s implementation of UNSCRs 1267 and 1373 as a deficiency in its laws. Bangladesh formed an interagency committee to address this issue, and has drafted regulations to implement both of these provisions.

While Bangladesh’s Anti-Terrorism Act criminalised terrorist financing, FATF has recommended that Bangladesh amend its laws to meet international standards and to clarify remaining ambiguities.

The interagency committee mentioned above has begun revising the legislation to satisfy FATF’s concerns in this regard.

Regional and International Cooperation

Bangladesh is party to various counterterrorism protocols under the South Asian Association for Regional Cooperation and is bringing the country’s counterterrorism efforts in line with the four pillars of the UN Global Counter-Terrorism Strategy.

Bangladesh’s foreign and domestic policies are heavily influenced by the region’s major powers, particularly India.

In past years the Indo-Bangladesh relationship provided openings for transnational threats, but the current government has demonstrated its interest in regional cooperation on counterterrorism. Bangladesh was active in the full range of international fora.

In 2012, Bangladesh enacted a mutual legal assistance law that will allow for greater international cooperation. It has also signed memoranda of understanding with a number of countries to share evidence regarding criminal investigations, including investigations related to financial crimes and terrorist financing.

Countering Radicalisation and Violent Extremism

Bangladesh uses strategic communication to counter violent extremism, especially among youth.

The Ministry of Education provides oversight for madrassas and is developing a standard national curriculum that includes language, math, and science curricula; and minimum standards of secular subjects to be taught in all primary schools, up to the eighth grade.

The Ministry of Religious Affairs and the National Committee on Militancy Resistance and Prevention work with imams and religious scholars to build public awareness against terrorism.
“The Government of Bangladesh is also actively expanding economic opportunities for women as it views economic empowerment for women as a buffer against violent extremist messages of male religious leaders,” the report says.

About Pakistan it said the country continued to experience significant terrorist violence, including sectarian attacks.

Although terrorist attacks occurred in 85 different countries in 2012, they were heavily concentrated geographically. As in recent years, over half of all attacks (55%), fatalities (62%), and injuries (65%) occurred in just three countries: Pakistan, Iraq, and Afghanistan, the report says.
সূত্রঃ বনিকবার্তা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি। শুধু রাষ্ট্রদূত পদে নয়, ফার্স্ট সেক্রেটারি থেকে শুরু করে সহকারী সচিবের মতো মধ্যম ও নিম্নস্তরের কূটনীতিক পদে চলছে চুক্তিভিত্তিতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ। এ পর্যন্ত ১২ জনকে রাষ্ট্রদূত এবং ১১ জন দলীয় ক্যাডার, ক্যাডারদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে মধ্যম এবং নিম্নস্তরের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত। অনেকে ছিলেন গৃহিণী। কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো যোগ্যতাই নেই এসব দলীয় ক্যাডারের। এ নিয়ে পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম হতাশা এবং ক্ষোভ। দলীয় ক্যাডারদের এই নিয়োগের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ভারত এবং জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনসহ মোট ১২টি মিশনে দলীয় লোকদের চুক্তিভিত্তিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এখন নিচের পদে চলছে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান টিপুকে ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তার পেশা ছিল রাজনীতি। ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক এক আওয়ামী লীগ এমপির ছেলে শাহেদুর রহমানকে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসুলেটে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তার পেশা ছিল রাজনীতি। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েত-মৈত্রী হল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অপর্ণা পালকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব (কনসুলার) পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অপর্ণা পাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং তিনি অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত।
অপর্ণা পাল এখন কানাডায় পোস্টিং নেয়ার চেষ্টা করছেন।

ছাত্রজীবনে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম ওয়াইসুজ্জামানের স্ত্রী মৌসুমী ওয়াইসকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি একজন গৃহিণী ছিলেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাসুম আহমেদকে নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসে সেকেন্ড সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তিনি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এপিএস ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম রুহুল আমীনের স্ত্রী আনিসা আমীনকে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী।

ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্নার স্ত্রী ইরিন পারভীন বাঁধনকে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সেলর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক ফারুক আমীনের স্ত্রী রওনক আমীনকে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী। বিডিআর বিদ্রোহে নিহত এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর এপিএস (২) সাইফুজ্জামান শেখরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শামীমা পারভীনকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে সেকেন্ড সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম শিকদার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমানের স্ত্রী চৌধুরী সুলতানা পারভীনকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসুলেটে কনসল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন একজন গৃহিণী।

এছাড়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরস্কার হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সাবেক কূটনীতিক তারিক এ করিমকে ভারতে, সাবেক কূটনীতিক আকরামুল কাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম সাইদুর রহমান খানকে ব্রিটেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রীর ভাই ড. আবদুল মোমেনকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নেপালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় অযোগ্য ও বিতর্কিত ড. নিমচন্দ্র ভৌমিককে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে পেশাদার কূটনীতিকদের বাদ দিয়ে চীনে সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ, ওমানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নূরুল আলম, রাশিয়ায় ড. এসএম সাইফুল হক, পাকিস্তানে মো. সোহরাব হোসেন, ইরাকে মুহাম্মদ কামালউদ্দিন, লিবিয়ায় মুহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং শেখ কামালের বন্ধু ও আবাহনী ক্লাবের সাবেক পরিচালক শাহেদ রেজাকে দলীয় লোক হিসেবে কুয়েতে রাষ্ট্রদূত পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ক্ষমতায় আসতে নানাভাবে সহায়তা করার পুরস্কার হিসেবে এদের রাষ্ট্রদূত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া ১/১১’র অন্যতম প্রধান হোতা লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হাইকমিশনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বহাল তবিয়তে রেখেছে বর্তমান সরকার।

দলীয় ক্যাডারদের এই নিয়োগের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অতীতে কখনও এভাবে অযোগ্য দলীয় ক্যাডার এবং তাদের আত্মীয়স্বজনদের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। পেশাদার কূটনীতিকদের বাদ দিয়ে এক্ষেত্রে ঢালাওভাবে যে দলীয়করণ শুরু হয়েছে তাতে অকার্যকর হতে চলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে মেধাবীরা আর কূটনীতিক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইবে না। এছাড়া দলীয়করণের ফলে কূটনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কূটনীতির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। এদিকে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান ।

দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখাটা অনেক বেশি জরুরি।


ডিপ্লোম্যাটিক নাকি ডিপসোম্যানিক?

আবু ইশমাম
যাদের স্থান পাওয়ার কথা
Deep-low-mat-এ বা গভীর নিচুতে পাতা মাদুরে, দেশের পররাষ্ট্রনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাছে তারা বড়ই আদুরে! উল্টো তাদের স্থান দেয়া হয়েছে মর্যাদার উঁচু আসনে, Diplomat হিসেবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের হিসাবে বড়ই ভুল ছিল। জানি না এ ভুলের জন্য তারা এখন অনুশোচনায় চুল ছিঁড়তে চাইবে কি না! জাপান, ওমান ও নেপালে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতেরা তাদের অশিষ্টতা বা মদ-নারীতে আসক্তিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমেDiplomat ভাবমর্যাদার বদলে বিদেশে তাদের পরিচিতি হয়েছে Diplomatic বা মাদকাসক্ত উন্মাদরূপে! নেপালে সম্প্রতি বাংলাদেশের দুইজন সাহসী তরুণ মুসা ও মুহিত বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করে সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উঁচু করেছিলেন। Dipsomanic Diplomat-রা তা আবার নামিয়ে আনলেনDeep-low-mat-এ। পেশাগত দক্ষতার বদলে দলীয় আনুগত্যই একমাত্র যোগ্যতা বিবেচিত হওয়ায় কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদার এই ভূমিধস পতন বলে অনেকে মনে করছেন। আমাদের রফতানি আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে বিদেশী রেমিট্যান্স থেকে (২০১০ সালে ১১ বিলিয়ন ডলার); যা অব্যাহত রাখতে ও দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখাটা অনেক বেশি জরুরি।

 

গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রীর এক সফরসঙ্গীর নারী কেলেঙ্কারিও দেশের সুনামের অবয়বে কালিমা লেপন করেছিল। কিন্তু সে ঘটনায়ও বোধ হয় সংশ্লিষ্টরা কূটনৈতিক নিয়োগে যথেষ্ট সতর্ক হননি। তাই চাণক্যের উত্তরসূরি ভেবেই হয়তো ড. নিমচন্দ্র ভৌমিককে নেপালে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সেই উত্তরসূরি যে আসলে উত্তর-শুঁড়ি, তা কে জানত? চন্দ্রেরও কলঙ্ক থাকে, তাই নিমচন্দ্রেরই বা থাকবে না কেন? নিম তো একটু তেতো বটেই! মার্সিডিস বেঞ্জের বদলে বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল খারাপ কিছু নয়! কাঠমান্ডুতে বাইকে চেপে রাষ্ট্রদূত যাচ্ছেন, এটা দেখে তার কৃচ্ছ্রসাধনের প্রতি অনেকেই শ্রদ্ধাবনত হতে পারেন! কিন্তু ক্লাবে-বারে তার মদ-নারী-ফুর্তি ফুটিয়ে তুলেছে তার আসল মূর্তি! এ বিষয়ে বিগত ৩ জুন ২০১১ তারিখের নয়া দিগন্তের এক বিস্তারিত রিপোর্টে জানা যায়, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের ব্যবহারের জন্য দামি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি রয়েছে। নিমচন্দ্র ভৌমিক নজিরবিহীনভাবে দূতাবাসের হিসাবরক্ষকের মোটরসাইকেলে চড়ে ড্যান্সবারে যান। মদ ও নারী নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করেন। শুধু তা-ই নয়, কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতের একজন মহিলা কাউন্সিলরের বাসায় তিনি জোর করে ঢুকতে চাইলে কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী বাধা দেন। এর পরও রাষ্ট্রদূত ওই কাউন্সিলরের বাসার সামনে আধা ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করেন। কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহিভূত আচরণের জন্য নেপালের পররাষ্ট্রসচিব নিমচন্দ্র ভৌমিককে সরিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাস এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে শিগগির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কাঠমান্ডুতে পেশাদার কূটনীতিক নিয়োগ দেয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।’ প্রশ্ন হচ্ছে, নেপালে রাষ্ট্রদূত হওয়ার কী যোগ্যতা তার আছে? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেই কি রাষ্ট্রদূত হওয়া যায়? একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেতৃত্বই কি তার বিশেষ যোগ্যতা? দেশে কি সচ্চরিত্র, দেশপ্রেমিক, মার্জিত-শিক্ষিত-সুসভ্য-যোগ্য পেশাদার কূটনীতিকের অভাব পড়েছে? নিমচন্দ্র কূটনৈতিক নর্ম ভঙ্গ করে যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে কেউ আর তাকে নমঃ জানাবে না, বরং মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে তার অবনমনই চাইবে। নেপালের সাথে ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার ও বাণিজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। সার্ক সচিবালয় রয়েছে কাঠমান্ডুতেই। নেপালের সাথে ভৌগোলিক দূরত্বও মাত্র ষোলো মাইল। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের অবিমৃশ্যকারিতায় সৃষ্টি হতে পারে বহু যোজন কূটনৈতিক দূরত্ব, যা আমাদের জন্য ক্ষতিই বয়ে আনবে। আর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সম্প্রতি নেপাল কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী।http://www.newkerala.com-এর বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারির এক খবর অনুযায়ী মালয়েশিয়া বাংলাদেশী ৫৫ হাজার কর্মীর ভিসা বাতিল করে নেপালের জন্য আগের ২৫ হাজারের বদলে এক লাখ কর্মীর ভিসা ইসু করেছে। তা ছাড়া, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সাথে কূটনৈতিক বিপর্যয় আমাদের জন্য কতটা দুর্ভোগের কারণ হতে পারে, সেটা আশা করছি ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। আমাদের বিপর্যস্ত পেলে, নেপালও বাগে ফেলে লুটে নিতে পারে কূটনৈতিক-বাণিজ্যিক ফায়দা।

কূটনীতিক নিয়োগের পর বিদেশে পাঠানোর আগে পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া দরকার, আর এটাই স্বাভাবিক। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত অন্য কূটনীতিকেরাই তার জন্য প্রস্তুত থাকেন। তারা কি নতুন রাষ্ট্রদূতকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারেননি? তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা তাদের বিদেশে পাঠিয়েছি কী কারণে? দেশের মর্যাদা এভাবে বিকিয়ে দিতে? কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকালে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সে দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা-ভব্যতার রীতিনীতিগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়।

 

ওমানে আমাদের রাষ্ট্রদূত Woman-প্রীতিতে জড়িয়ে না পড়লেও, তিনি যে কেন প্রথম সাক্ষাতে মন্ত্রী ও রাজপরিবারের সদস্যের কাঁধে হাত রাখতে গেলেন, তা বোধগম্য নয়! রিপোর্টে জানা গেছে, ‘আওয়ামী লীগের তিনবারের নির্বাচিত এমপি নূরুল আলম চৌধুরীকে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ২০১০ সালের ২২ মে। ওমানের সুলতানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের আগে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাউই বিন আবদুল্লাহর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালের একপর্যায়ে নূরুল আলম চৌধুরী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাঁধে হাত তুলে দেন। এ আচরণকে কূটনৈতিক রেওয়াজের লঙ্ঘন বলে ওমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল ও আঞ্চলিক ডেস্কের প্রধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী নূরুল আলম চৌধুরী মাস্কাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এটিকে একটি আড্ডাস্থলে পরিণত করেছেন।’ কূটনীতিক নিয়োগের পর বিদেশে পাঠানোর আগে পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে তাকে কী প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয়েছিল, জানা দরকার। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত অন্য কূটনীতিকেরাই বা কী করেছিলেন? তারা কি নতুন রাষ্ট্রদূতকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারেননি? তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা তাদের বিদেশে পাঠিয়েছি কী কারণে? দেশের মর্যাদা এভাবে বিকিয়ে দিতে? কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকালে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সে দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা-ভব্যতার রীতিনীতিগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে পর্যন্ত দেখা গেছে, ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী পোশাকে সৌদি বাদশাহর সাথে দেখা করতে। বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ-এর সাবেক প্রতিনিধি ও ভারতের পেশাদার কূটনীতিক সুনিতা মুখার্জিকে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় অনেক অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতকালে মাথায় কাপড় দিতে। ওমানে প্রেরিত কূটনীতিক সে দেশের সংস্কৃতির প্রতি আরো সংবেদনশীল হলেই তার প্রকৃত পোশাদারিত্বের পরিচয় পাওয়া যেত। বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম শ্রমবাজার ওমানে ২.৬১ লাখের ওপরে বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করেন (বাংলাদেশ টুডে ২৪-৩-২০১০)। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের চেয়ে ওখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকায় তা হতে পারে আমাদের শ্রম রফতানির এক ক্রমবর্ধনশীল বাজার। শ্রমিকদের কল্যাণে এবং প্রাথমিক গমন খরচ কমাতে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনার সুযোগও রয়েছে বলে জানা যায়। ২০১০ সালে যত লোক বিদেশে গেছে তার ১১ শতাংশই গ্রহণ করেছে ওমান (ডেইলি স্টার, ০৫-০৩-২০১১)। ওমানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও মুসলিম বিশ্বে আমাদের ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের যৌন কেলেঙ্কারি সবচেয়ে বড় আঘাত। জাপান একক রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার। সেখানে কূটনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে আমরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। রিপোর্টে জানা গেছে, পেশাদার কূটনীতিক এ কে এম মাজিবুর রহমান গত বছর জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের সোস্যাল সেক্রেটারি হিসেবে একজন জাপানি মহিলা কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সেই মহিলা রাষ্ট্রদূত মাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন। এসংক্রান্ত অভিযোগ তিনি টোকিওতে অবস্থিত সব বিদেশী দূতাবাসকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। পদত্যাগকারী মহিলা সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগে রাষ্ট্রদূত মাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। সংস্কৃতিবান, উন্নত ও পরিশীলিত রুচির জাপানিরা এ ঘটনাকে কিভাবে নিয়েছে, ভাবতেই লজ্জায় ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছি। জাপানে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশী কর্মজীবী রয়েছেন বলে জানা যায়। তারা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি মজুরি পেয়ে থাকেন। ১৯৯১-২০০৪ সাল পর্যন্ত জাপান থেকে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। সুনামি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত জাপান কর্মক্ষেত্র হিসেবে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর, কূটনৈতিক বিপর্যয় সে স্পর্শকাতরতা আর বাড়িয়ে দিতে পারে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক বাংলাদেশের কূষ্টিয়ার সন্তান জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল (১৮৮৬-১৯৬৭) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জাপানে যুদ্ধাপরাধবিষয়ক বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে জাপানিদের পক্ষে দুঃসাহসী মত ব্যক্ত করে জাপানিদের শ্রদ্ধা অর্জন করে লাভ করেছিলেনOrder of the Sacred Treasure খেতাব। তা ছাড়া, তাকে সম্মান জানাতেYasukuni shrine ও Kyoto Ryozen Gokoku Shrine-এ তার ভাস্কর্যও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ইতিহাসকে কালিমালিপ্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের কেলেঙ্কারি কী খেতাব বয়ে আনবে তা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি।

 

দলীয় বিবেচনায় কূটনীতিক নিয়োগের বিপদসঙ্কেত ব্যক্ত করে বিগত ১৮ মে ২০১১ তারিখে আমার দেশ পত্রিকা একটি প্রতিবেদন ছেপেছিল। সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অসতর্কতা যে এত দ্রুত বাস্তবে দৃশ্যমান হবে তা ভাবা যায়নি। বিপদ যে সত্যি সত্যিই রিপোর্টে ব্যক্ত অনুমানের আগেই অনেকখানি ঘটে গেছে, তা কে জানত? সত্যিই এসব কূটনীতিক অনেক করিৎকর্মা, তারা প্রতিবেদকদের দূরদর্শিতার চেয়ে অনেক অগ্রসর। রিপোর্টটিতে জানা গিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি। শুধু রাষ্ট্রদূত পদে নয়, ফার্স্ট সেক্রেটারি থেকে শুরু করে সহকারী সচিবের মতো মধ্যম ও নিুস্তরের কূটনীতিক পদে চলছে চুক্তিভিত্তিতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ। এ পর্যন্ত ১২ জনকে রাষ্ট্রদূত এবং ১১ জন দলীয় ক্যাডার, ক্যাডারদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে মধ্যম এবং নিুস্তরের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যারা অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত। অনেকে ছিলেন গৃহিণী। কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো যোগ্যতাই নেই এসব দলীয় ক্যাডারের। এ নিয়ে পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ। এ বিষয়ে রিপোর্টটিতে সতর্ক করা হয়েছিল, দলীয়করণের ফলে কূটনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কূটনীতির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

যা হোক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ০৬-০৬-২০১১ তারিখের এক বিস্তারিত রিপোর্টে জানা যায়, টোকিওর বাংলাদেশ মিশনের সোস্যাল সেক্রেটারি মিজ কিয়োকো তাকাহাসিকে কয়েক দফা ইন্টারভিউকালে এবং নিয়োগের পর কর্মক্ষেত্রে ও বাইরে রাষ্ট্রদূত এ কে এম মাজিবুর রহমান তাকে উত্ত্যক্ত করেন, চুমু খেতে চান, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেন। সব সময়ই মেয়েটির জবাব ছিল ‘না’। এই যৌন নির্যাতনে তাকাহাসির মুখের হাসি দূর হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের লোলুপ দৃষ্টির বাঁকা হাসি ও অপচেষ্টা বন্ধ না হওয়ায় তিনি অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন।

ডিপ্লোম্যাটিক জগতে কূটনীতিক ও নারীর মধ্যে পার্থক্য বিষয়ে একটি মজার গল্প চালু রয়েছে, তা হচ্ছেঃ যখন একজন কূটনীতিক বলেন, হঁ্যা, তাহলে মনে করতে হবে, তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, সম্ভাবনা আছে। যদি তিনি বলেন, আসলে কোনো কূটনীতিকই নন। অন্য দিকে একজন নারী যদি বলেন, ‘না’, তাহলে মনে করতে হবে, তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন সম্ভাবনা আছে। আর যদি তিনি বলেন, হঁ্যা, তাহলে মনে করতে হবে তিনি সত্যিকার অর্থে কোনো নারীই নন। জাপানে আর নেপালে নিয়োজিত আমাদের রাষ্ট্রদূতেরা হয়তো এই গল্পটি জানতেন, সে কারণে তারা আকাঙ্ক্ষিত নারীদের ‘না’কে সম্ভাবনা আছে মনে করেই হয়তো সীমা লঙ্ঘন করে থাকবেন। ওমানি কূটনীতিকের অনমনীয়তা এবং ভারতীয় ও জাপানি নারীদের ‘না’ ফুটিয়ে তুলেছে তাদের আপসহীন চারিত্রিক দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব। আমাদের নির্লজ্জ কূটনীতিকেরা তাদের থেকে কিছু শিখতে পেরেছেন কি?

—————————————————————————————————————————————————–

অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সত্ত্বেও আরো গোপন তথ্য ফাঁস: উইকিলিকসে বাংলাদেশ বিষয়ে ২১৮২ নথি


অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সত্ত্বেও আরো গোপন তথ্য ফাঁস

সবকিছুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী :অস্ট্রেলিয়া

যৌন অপরাধের মামলায় প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার হওয়া সত্বেও থামানো যাচ্ছে না তার সাড়া জাগানো সৃষ্টি ওয়েবসাইট-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের লাখ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে দুনিয়াজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলা উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ মঙ্গলবার ব্রিটেনে গ্রেফতার হন। সুইডেনের একটি গ্রেফতারি পরোয়ানায় তাকে আটক করা হয়। দু’জন মহিলার উপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ আগেই পরোয়ানা জারি করেছিল।

তবে অস্ট্রেলিয়া বলেছে, উইকিলিকসে আড়াই লাখ কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নন। অ্যাসাঞ্জকে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তার দেশ অস্ট্রেলিয়া। খবর বিবিসি, এপি ও এএফপির।

যৌন অপরাধের অভিযোগ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ব্রিটেনে গ্রেফতার হলেও গতকাল বুধবার তার প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস আরো গোপন তথ্য ফাঁস করেছে। ওয়েবসাইটের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, সামনে আরো গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আনবে উইকিলিকস। উইকিলিকস মুখপাত্র ক্রিস্টিন রাফসোন টুইটারে এক ক্ষুদ্রবার্তার সহায়তায় গতকাল বলেন, নতুন আরো গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। আমাদের মিডিয়া পার্টনাররা সময়মতো এগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবে। করপোরেট সেনসরশিপ আরোপ করে কিংবা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। উইকিলিকস অনলাইনে আছে। সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটটি ৫০০ এর বেশি স্থান থেকে অনুলিপি করা আছে। তাই সাইটটি বন্ধ হবার আশংকা মিথ্যা।’ উইকিলিকস সর্বশেষ যে গোপন তথ্য ফাঁস করেছে তাতে আছে ব্রিটেন-লিবিয়া কুটনৈতিক সম্পর্ক, লকারবি বোমারু মেগরাহি ইসু্য, সৌদি যুবরাজ সম্পর্কিত তথ্য, ইত্যাদি।

মঙ্গলবার লন্ডন পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, অনৈতিক বলপ্রয়োগের একটি ধারা, যৌন নিপীড়নের দুইটি ধারা ও ধর্ষণের একটি ধারায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এ অপরাধগুলোর সব কয়টি ২০১০ সালের আগস্টে ঘটেছে। একারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দায়ী ঃ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রাড বলেছেন, উইকিলিকসে আড়াই লাখ কূটনৈতিক নথি ফাঁস হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নন। কেভিন রাড বলেন, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রবাহে তার সম্পর্কে যে সমালোচনা হয়েছে করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। কেভিনের এ অবস্থানকে সমর্থন করেছেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। কেভিনের মন্তব্যেরও প্রশংসা করে গিলার্ড বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছেন।’

উইকিলিকসের স্রষ্টা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ লন্ডনে গ্রেফতার

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ


অবশেষে প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় দোসররা। দুই সুইডিশ নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বর্তমানে বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করা ওয়েবসাইট ‘উইকিলিকসের’ স্রষ্টা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে। বিবিসি, পিপিআই।
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রিটেনে বসবাসকারী অ্যাসাঞ্জ মঙ্গলবার তার আইনজীবীদের নিয়ে লন্ডনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এর পরই তাকে সুইডেনে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের আওতায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। তাকে এরপর ওয়েস্ট মিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তোলা হয়। সেখানে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। আদালতে অ্যাসাঞ্জ জানান, তাকে জোর করে সুইডেনে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন তিনি। এদিকে আদালতে পাঁচ বিশিষ্ট ব্রিটিশ নাগরিক অ্যাসাঞ্জের জামিনদার হতে চান। এদের মধ্যে রয়েছে প্রখ্যাত সাংবাদিক জন পিলগার, সমাজকর্মী ও কিংবদন্তী ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা। ৩৯ বছর বয়স্ড়্গ অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক অ্যাসাঞ্জ একজন পেশাদার কম্পিউটার হ্যাকার। পেন্টাগনসহ মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করে বিশ্ব রাজনীতির লাখ লাখ গোপন তথ্য বের করে আনেন তিনি। এরপর উইকিলিকস নামক ওয়েবসাইটটি তৈরি করে ওইসব তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন অ্যাসাঞ্জ। ফাঁস হয়ে যায় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথিত ধারক ও বাহক যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নানা গোপন কাহিনী। জনগণ আঁতকে উঠেন ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র অত্যাচার-নির্যাতনের কথা শুনে। কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানের কুকীর্তির তথ্য ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের নিজেদের ইশারায় নাচায় এ তথাকথিত বন্ধুপ্রতিম দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক নোংরা কাহিনী ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আঁতে ঘা লাগে এই বিশ্ব পরাশক্তির। হুমকি-ধমকি দিয়ে উইকিলিকসকে ডোমেইন বরাদ্দ দেয়া প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করে তাদের ডোমেইন প্রত্যাহার করে নিতে। এতে সফলও হয় তারা। বন্ধ হয়ে যায় উইকিলিকস। কিন্তু তা মাত্র কয়েকঘণ্টার জন্য। এরপর ওয়েব ঠিকানা সামান্য পরিবর্তন করে আবারও সচল হয় উইকিলিকস। এরই মধ্যে ২০০৯-এ সুইডেনে দায়ের হওয়া ওই যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অ্যাসাঞ্জ অবশ্য বরাবরই নিজেকে নির্দোষ ও একে যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো নাটক হিসেবেই দাবি করে আসছিল। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়ের পরম বন্ধু সাদ্দামকে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানো এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গেরিলাযুদ্ধ পরিচালনার জন্য নিজেদের সৃষ্টি করা তালেবান ও আল কায়দাকে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার পর নির্মূল করতে উঠেপড়ে লাগা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ইতিহাস ঘাটলে অ্যাসাঞ্জের দাবিকে চিরায়ত সত্যের মতোই মনে হবে। তবে ঘটনা যাই হোক, সত্যের জয় হবে এমনই প্রত্যাশা সবার।

————————————————————————————————————————
বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার
তথ্য ফাঁস নয়, অভিযোগ যৌন নিপীড়নের

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটেনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে লাখ লাখ মার্কিন গোপন তথ্য ফাঁসের জন্য নয়, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তথাকথিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগে। গতকালই তাকে আদালতে হাজির করার পর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় উইকিলিকসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এতে আমাদের গোপন ফাইল প্রকাশ বন্ধ হবে না। খবর বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স ও অন্যান্য সূত্রের।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় লন্ডনের পুলিশ গতকাল সকালে তাকে গ্রেফতার করেছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড আরো বলেছে, অ্যাসাঞ্জ নিজেই তার আটকের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। লন্ডন পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অনৈতিক বলপ্রয়োগের একটি ধারা, যৌন নিপীড়নের দু’টি ধারা ও ধর্ষণের একটি ধারায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ অনলাইন পত্রিকাটির সম্পাদক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। সব অপরাধ ২০১০ সালের আগস্টে ঘটেছে।’ এর আগে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সুইডেন সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
আলজাজিরা জানায়, মিডিয়ার খবরে বলা হয়, আগস্টে সুইডেন সফরকালে অ্যাসাঞ্জ দুই নারীর সাথে শুয়েছিলেন। তাদের একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সুইডিশ পত্রিকা একটি অদ্ভুত তথ্য জানায়। বলা হয়, সম্মতিক্রমেই সেক্স শুরু হলেও শেষটা নাকি হয় ‘বলপূর্বক’। তবে পেন্টাগনের মদদে এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ওই নারী প্রত্যাখ্যান করেন। এএফপি জানায়, ওই দুই নারী ছিলেন উইকিলিকসের স্বেচ্ছাসেবী। অ্যাসাঞ্জ চলতি বছরের প্রথম দিকে বেশ কিছু দিন সুইডেনে ছিলেন।
অ্যাসাঞ্জ অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে এটিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারকে তার আইনজীবী বর্ণনা করেছেন রাজনৈতিক চমক হিসেবে।
গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা পর গতকালই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। কালো গাড়িতে করে তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার সময় রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল বলেও বিভিন্ন সূত্র জানায়।
সুইডিশ কৌঁসুলিরা অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েও বেশ জটিলতায় পড়েছেন। প্রথমে তারা যে মামলাটি করেছিলেন, সেটা তারা প্রত্যাহার করেন। তারপর আবার তারা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন।
উইকিলিকসের মুখপাত্র হরাফনসন গতকাল রয়টার্সকে বলেন, অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হামলা। উইকিলিকস কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আগের মতোই একইভাবে কাজ করে যাবো। জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে না।
এর আগে অ্যাসাঞ্জ নিজেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, তাকে গ্রেফতার করা হলে তার সহকর্মীরা আরো ভয়াবহ তথ্য ফাঁস করে দেবে। তার কাছে গুয়ানতানামো বেসহ মারাত্মক সব তথ্য এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক লোকের প্রাণহানির ভিডিওচিত্রও আছে বলে তিনি দাবি করেন। উইকিলিকসের মুখপাত্র বলেন, উইকিলিকস লন্ডন ও অন্যান্য গোপন স্থান থেকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বিবিসি জানায়, গ্রেফতারের আগে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী মার্ক স্টিফেনস জানিয়েছিলেন, ‘পুলিশের কাছে তার স্বেচ্ছায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’ তিনি জানান, তার মক্কেল অভিযোগগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান। সোমবার রাতে ব্রিটিশ পুলিশ তাকে জানিয়েছিল, তারা সুইডিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পেয়েছে।
মার্ক স্টিফেনসের উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা জানায়, উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসে ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রই এসব অভিযোগ উত্থাপনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।
অ্যাসাঞ্জের লন্ডনভিত্তিক আইনজীবী জেনিফার রবিনসন বলেন, তার মক্কেল তাকে সুইডেনে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ প্রতিরোধ করবেন। কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। তবে আইনি জটিলতা থাকায় তাকে শিগগিরই সুইডেনে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না বলে আইনজীবীরা দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ইরাক, আফগান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ গোপন নথি উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হলে বিপাকে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পাইপলাইন, যোগাযোগ ও পরিবহন, ক্যাবল লোকেশন, স্যাটেলাইট ও বিএই সিস্টেম প্লান্টসহ বেশ কিছু গোপন স্থাপনার তালিকা প্রকাশ করে উইকিলিকস। এতে ওই সব স্থাপনা এখন সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার মুখে রয়েছে। এসব তথ্য ফাঁসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে অন্য দেশগুলোর কাছে দুঃখও প্রকাশ করতে হয়। আরো অনেক বিশ্বনেতার তোপের মুখেও পড়েন জুলিয়ান।
৩৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জকে আশ্রয় না দিতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ওয়াশিংটন আহ্বান জানায় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। সোমবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ যুক্তরাজ্যসহ স্পর্শকাতর অবস্থানের তথ্য ফাঁস করায় উইকিলিকসের সমালোচনা করে বলেছিলেন, তারা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পলিন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে রক্তমাখা হাতে মার্কিনবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনেন। অ্যাসাঞ্জের নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছ থেকেও তার সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ইতোমধ্যে অ্যাসাঞ্জের সমালোচনা করেছেন। তিনি নথি প্রকাশকে বেআইনি কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ইন্টারনেট সার্ভিস যোগানদাতা প্রতিষ্ঠান উইকিলিকসকে সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা সুইস সার্ভার নিতে বাধ্য হয়। সোমবার সুইস কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অ্যাসাঞ্জ তার আবাসস্থল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে এক সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জ এক লাখ ইউরো হারিয়েছেন। পোস্ট ফিনান্সের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সাথে সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ তার স্থায়ী নিবাস হিসেবে জেনেভা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তার সুইজারল্যান্ডে বসবাসের কোনো প্রমাণ না থাকায় তিনি পোস্ট ফিন্যান্সের সাথে ভোক্তার সম্পর্ক রাখার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে ব্যাংক তার অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অধিকার রাখে।
উইকিলিকস এক বিবৃতিতে জানায়, গত সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিশোধের বড় প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল জার্মান দাতব্য সংস্থা ওয়াও হল্যান্ড ফাউন্ডেশনের ৬০ হাজার ইউরো জব্দ করেছে। এ প্রতিষ্ঠান পরোক্ষভাবে উইকিলিকসকে সহায়তা করে থাকে।
সম্প্রতি ওবামার পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করে অ্যাসাঞ্জ বলেন, যদি দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের গোয়েন্দা লাগানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, যিনি এমন কাজের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি যদি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে দেখতে চান তাহলে তাকে পদত্যাগ করা উচিত।
প্রকাশিত ওই নথিগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো, জাতিসঙ্ঘের কর্মকাণ্ড গোপনে মনিটরিং করা, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে বলা হয়েছিল তিনি যেন জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার টেলিফোন, ই-মেইল ও ক্রেডিট কার্ডসহ যাবতীয় বিষয়ে গোয়েন্দা লাগিয়ে রাখেন।
চমস্কির স্বাক্ষরঃ এএফপি জানায়, বিখ্যাত মার্কিন বুদ্ধিজীবী, ভাষাতাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কি উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পক্ষাবলম্বন করে তাকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়ান গিলার্ডের কাছে পাঠানো একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজির (এমআইটি) অধ্যাপক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচক নোয়াম চমস্কি ওই চিঠিতে গিলার্ডকে তিনি এ বিষয়ে দৃঢ়তাপূর্ণ বিবৃতি দেয়ার জন্যও বলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন আইনজীবী, লেখক ও সাংবাদিক এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বংশোদ্ভূত অ্যাসাঞ্জকে লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান সহিংস বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বাক্ষরকারীরা বলেন, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জে স্প্যারো ও মানবাধিকার আইনজীবী লিজি ও’শেরার লিখিত চিঠিটিতে গিলার্ডকে অবাধে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

————————————————————————————————————————
উইকিলিকসে বাংলাদেশ বিষয়ে ২১৮২ নথি

কালের কণ্ঠ, Sun 5 Dec 2010
ওয়েবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিসহ গোটা বিশ্বের যে আড়াই লাখ নথি ফাঁস করার মিশনে নেমেছে, তার মধ্যে দুই হাজার ১৮২টি বাংলাদেশবিষয়ক। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত উইকিলিকস তার ওয়েবসাইটে ৬৮৩টি নথি প্রকাশ করেছে। বাকিগুলো গুরুত্ব বুঝে পর্যায়ক্রমে আগামী কয়েক মাসে প্রকাশ করা হবে বলে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ১৯৬৬ সাল থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেশটির ২৭৪টি দূতাবাসের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া নথি ওয়েবসাইটটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য নথিগুলোর উৎস দেখানোর জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখচিত্রে (গ্রাফ) ৪৫টি দূতাবাস স্থান পেয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৩৭ নম্বর অবস্থানে আছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

উইকিলিকস সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশিত ও প্রকাশিতব্য নথির মধ্যে আট হাজার ৩২০টি চীনবিষয়ক, সাত হাজার ৯৫টি আফগানিস্তানবিষয়ক, পাঁচ হাজার ৮৭টি ভারতবিষয়ক এবং চার হাজার ৭৭৫টি পাকিস্তানবিষয়ক। গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রকাশিত নথির চারটিতে বাংলাদেশের নাম এসেছে। এগুলোর মধ্যে দুটি প্যারিসের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে এবং বাকি দুটি ইসলামাবাদের দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো। ইসলামাবাদের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো নথিতে বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার আস্তানা থাকতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের দূতাবাস থেকে পাঠানো নথিতে ২০০৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিবেদনের বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মরক্কো থেকে আসা কমপক্ষে ২০ জন ইমামকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা এতে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ২০০৬ সালে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের নথিতে বাংলাদেশসহ ৯টি দেশে ডিএনএ পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো নথিতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের ব্যাপারে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত ফাঁস হওয়া এমন সাতটি নথি রয়েছে যেগুলোর অনুলিপি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে এসেছে। এগুলো হলো শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিষয়ে ‘শ্রীলঙ্কা ওয়ার ক্রাইম অ্যাকাউন্টিবিলিটি : দ্য তামিল’, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারকে চাপে রাখার বিষয়ে ‘টেরর ফিন্যান্স : এমবাসি প্রেসেস গভর্নমেন্ট অব পাকিস্তান অন ইউএন ১২৬৭’, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার না করতে আমেরিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের কাছে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের অনুরোধ বিষয়ে ‘মোশাররফ টেলস ম্যাককেইন : ডোন্ট পুল আউট ফ্রম ইরাক’, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল স্কুমেকার এবং দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক বিষয়ে ‘প্রেসিডেন্ট মোশাররফ ব্রিফস জেনারেল স্কুমেকার অ্যান্ড’, আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি রিচার্ড বাউচারের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক প্রসঙ্গে ‘মোশাররফ টেলস বাউচার অ্যাবাউট পাকিস্তানস প্ল্যান ফর’, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি সভার স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক বিষয়ে ‘প্রেসিডেন্ট মোশাররফ মিটস স্পিকার পেলোসি’ এবং ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার আস্তানা থাকতে পারে বলে ধারণা পোষণ বিষয়ে ‘প্রিজার্ভিং ইনফরমেশন শেয়ারিং’

—————————————————————————————————-
নিজেদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ

প্রথম আলো, Sun 5 Dec 2010
উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোপন বার্তা প্রকাশের পর থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অ্যাসাঞ্জ বলেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা যেকোনো হুমকি থেকে নিজেদের বাঁচাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গত শুক্রবার অজ্ঞাত স্থান থেকে অনলাইনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এসব কথা বলেন। তাঁর এ সাক্ষাৎকার ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে অ্যাসাঞ্জ নতুন করে আরও তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছেন, ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন) ও অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্যও তিনি প্রকাশ করবেন। তিনি তরুণ মার্কিন সেনা ব্রাডলি ম্যানিংকে �অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক� বলে আখ্যায়িত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার এই সেনাই সে দেশের গোপন দলিলপত্র উইকিলিকসের কাছে পাচার করেছেন। পুলিশ চলতি বছরের মে মাসে ম্যানিংকে গ্রেপ্তার করে।

অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁকে কেউ হুমকি দিলে তা হত্যার প্ররোচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, �আমাদের জীবনের হুমকির বিষয়টি সবারই জানা। পরাশক্তির সঙ্গে পেরে উঠতে এ বিষয়ে আমরা যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।� নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী বলেছেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তরের সব প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, বিদেশি শক্তিগুলো সুইডেনকে এ ব্যাপারে প্রভাবিত করছে।
এদিকে সুইডেন কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এরই মধ্যে ব্রিটেনের কাছে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজপত্র হস্তান্তর করেছে। ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ মাইক হুকাবি বলেছেন, যে ব্যক্তিই গোপন মার্কিন দলিল প্রকাশ করুক না কেন, তার বিচার করতে হবে।
আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন দলিল প্রকাশ করে উইকিলিকস বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলে। সর্বশেষ তারা বিপুল পরিমাণ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশ করে। এ নিয়ে উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে পড়ে।

এর পর থেকেই তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অ্যাসাঞ্জ দাবি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিল ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ সম্ভবত দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কোনো এক জায়গায় অবস্থান করছেন। ব্রিটেনের পুলিশ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছে।

—————————————————————————————————-

আত্মপক্ষঃ রহস্যজনক প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস

এবনে গোলাম সামাদ

সম্প্রতি উইকিলিকস (WikiLeaks) ওয়েবসাইট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। এসব গোপন তথ্য উইকিলিকস কিভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছে সেটা বিস্ময়কর। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, আরো অনেক রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করছে উইকিলিকস। তাই উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য যে বানোয়াট, তা কোনো রাষ্ট্রই বলছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল পাকিস্তানের পরমাণু চুল্লি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার এটা হতে দেয়নি। উইকিলিকস এই তথ্য ফাঁস করেছে পাকিস্তানের একজন সরকারি মুখপত্র বলেছেন, উইকিলিকসের দেয়া তথ্য যথার্থ। উইকিলিকসের ফাঁস করা সব তথ্যই মনে হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ আর এর আছে দালিলিক ভিত্তি। কী করে একটি প্রতিষ্ঠান এত দলিল সংগ্রহ করতে পারল, সেটা অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে বিস্ময়কর।

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জি (Julian Assange) একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তার জন্ম সে দেশে। অ্যাসাঞ্জি বলেছেন, তার সাথে সর্বক্ষণ কাজ করে মাত্র পাঁচজন। আর এ ছাড়া যারা কাজ করে তারা কেউই সার্বক্ষণিক নয়। প্রায় ৮০০ লোক পৃথিবীর নানা দেশ থেকে সহযোগিতা করছে অ্যাসাঞ্জিকে। উইকিলিকস নাম দুটো শব্দকে একত্রে মিলিয়ে তৈরি। উইকি (Wiki)শব্দটা হাওয়াই দ্বীপের ভাষা থেকে পাওয়া। শব্দগত অর্থ হলো দ্রুত। আর খপথর শব্দটা ইংরেজি। এর একটা মানে হলো ফাঁস করা। শব্দগত অর্থে তাই উইকিলিকস বলতে বোঝাচ্ছে ‘দ্রুত ফাঁস করা’। অ্যাসাঞ্জি ঘোষণা করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানত বিভিন্ন দেশের সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস করা। যাতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে সেসব দেশের মানুষের কাছে হতে হয় জবাবদিহিতার মুখোমুখি। উইকিলিকস বস্তুনিষ্ঠভাবে বিভিন্ন দেশের সরকারের স্বরূপ করে চলবে উন্মোচন।

উইকিলিস প্রতিষ্ঠানের মালিক অ্যাসাঞ্জি নন। এর মালিক হলো সানশাইন প্রেস (The Sunshine Press)। উইকিলিকস শুরু হয়েছে ২০০৬ সালে। কিন্তু মাত্র এই কয় বছরে তা হয়ে উঠেছে বিশেষ আলোচ্য ও তথ্যের উৎস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের New York Times, বিলাতের The Guardian, জার্মানির Der Spiege , এবং ফ্রান্সের Le monde Gog এসব পত্রিকা খুবই নামকরা। আর হালকা ধরনের নয়। এসব পত্রিকায় ছাপানো হচ্ছে উইকিলিসের ফাঁস করা তথ্য। আর বিভিন্ন দেশের পাঠক সমাজের কাছে তা গৃহীত হচ্ছে নির্ভরযোগ্য হিসেবে। উইকিলিকস সম্প্রতি ফাঁস করেছে, সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন, সে যেন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আঘাত করে। বাদশা আবদুল্লাহ চেয়েছেন ইরানের পরমাণু স্থাপনার ধ্বংস। উইকিলিকসের দেয়া এই তথ্য ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে নিশ্চয় সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটাবে। খবরটি এমনই এক সময় উইকিলিকসের পক্ষ থেকে ফাঁস করা হলো, যখন বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ইরান ও সৌদি আরব তাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে ইচ্ছুক।

উইকিলিকস দাবি করেছে, তার হাতে আছে আফগানিস্তানের ওপর ৭৬ হাজার ৯০০ দলিল, যা সে প্রকাশ করবে আফগানিস্তান সম্পর্কে মার্কিন নীতিকে উন্মোচিত করার জন্য। উইকিলিকস বলেছে, চীনের লক্ষ্য হচ্ছে দুই কোরিয়াকে এক করে একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং সেখান থেকে মার্কিন সৈন্যের অপসারণ। উইকিলিকস সেটা বলেছে, চীনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গোপন বক্তব্য উদ্ধৃৃত করে। প্রশ্ন উঠেছে উইকিলিকস এত সব গোপন তথ্য কী করে সংগ্রহ করতে পারছে? এসব তথ্য সংগ্রহ করতে নিশ্চয় তার ব্যয় করতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তার এই অর্থের উৎস জানা যাচ্ছে না। সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, তথ্য প্রচারের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক ব্রাডলি ম্যানিংকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গোপন তথ্য দিয়েছেন অ্যাসাঞ্জিকে। অ্যাসাঞ্জি বলেছেন, ব্রাডলি ম্যানিংয়ের মামলার সব খরচ তিনি বহন করবেন উইকিলিকসের পক্ষ থেকে। এই মামলায় প্রচুর অর্থ লাগবে। অ্যাসাঞ্জি এই অর্থ কোথা থেকে পাবেন তা নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রশ্ন। অর্থাৎ উইকিলিসককে যে ধরনের প্রতিষ্ঠান বলা হচ্ছে সে তা নয়। এর পেছনে আছে একটা শক্তিমান চক্র। যারা সাহায্য করে চলেছে অ্যাসাঞ্জিকে।

উইকিলিকসের কোনো সদর দফতর নেই। উইকিলিকসের কাজ চলেছিল সুইডেনকে নির্ভর করে। কিন্তু সুইডেনে অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যৌন হয়রানির। অ্যাসাঞ্জির বয়স ৩৯। তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। অনেকে বলছেন, অ্যাসাঞ্জিকে বিপাকে ফেলার জন্যই করা হয়েছে এই মামলা। প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে, তিনি একজন যৌন বিকারগ্রস্ত মানুষ। শোনা যাচ্ছে অ্যাসাঞ্জি এখন আছেন বিলাতে, কিন্তু বিলাতের পুলিশ নাকি তাকে ধরতে আগ্রহী নয়। তাই তিনি এখনো ধরা পড়েননি। বিলাতের পুলিশ কেন তাকে ধরতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট নয়। অ্যাসাঞ্জিকে মনে হয় রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে কোনো বিশেষ মহল থেকে। উইকিলিকসের জন্ম বেশি দিন হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে এর কর্মকা । কিন্তু ইতোমধ্যেই তা প্রতিষ্ঠা পেতে পেরেছে একটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সে দেশে অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে গোপন তথ্য চুরি করার অভিযোগে। কিন্তু অ্যাসাঞ্জি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থেকে এই কাজ করনেনি। তাই মার্কিন আদালতে এই মামলার বৈধতা নিয়ে থাকবে প্রশ্ন। অন্য দিকে ব্রিটেনে তার বিপক্ষে কোনো মামলা করা যাবে না, কারণ তিনি ব্রিটেন থেকে কোনো তথ্য চুরি করেননি। এ ছাড়া ব্রিটেনের আইন বলে (বিল অব রাইটস-১৬৮৯ খ্রিঃ) মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সংবাদপত্রে বিলাতে কোনো খবর ছাপাতে বাধা নেই। বিলাতের আইনে তাই অ্যাসাঞ্জিকে বলা যাচ্ছে না কোনোভাবেই অপরাধী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আইন আছে খবর জানার অধিকারের। অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা উঠলে নিশ্চয় এই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে গোপন তথ্য সংরক্ষণের কড়াকড়ি। কিন্তু তথাপি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস হতে পারছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সচিব) বলেছেন, অ্যাসাঞ্জি যা করছেন তা হলো তথ্য সন্ত্রাস। আর এই তথ্য সন্ত্রাসের ফলে কেবল যে মার্কিন স্বার্থই বিপন্নই হচ্ছে তা নয়, তার মিত্রদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। ফলে বিশ্বশান্তি বিপন্ন হতে পারে। বিপন্ন হতে পারে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা। অ্যাসাঞ্জি ঘোষণা করেছেন, উইকিলিকসের হাতে আছে এমন দলিলপত্র যা প্রকাশিত হলে মানুষ জানতে পারবে মার্কিন ব্যাংক ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা। তিনি এসব দলিল প্রকাশের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। অ্যাসাঞ্জি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কী করে এত দূর ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারলেন, সেটা থাকছে অজ্ঞাত। সে যা হোক, উইকিলিকস হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বের পত্রপত্রিকার বিশেষ খবর। উইকিলিকস যদি বিভিন্ন দেশের খবর ফাঁস করে চলতে পারে, তবে নিশ্চিতভাবেই তা প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে বিশ্ব রাজনীতির ধারাকে।

লেখকঃ প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info

সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকা ও নিউজ এজেন্সিগুলো উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তাগুলো প্রকাশ করছে। জনগণের স্বার্থেই এসব প্রকাশ করা হচ্ছে। বেশির ভাগ পশ্চিমা নেতাই উইকিলিকসের তথ্য ফাঁস ঘটনার নিন্দা করলেও, এমনকি এগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন করবে বলে ঘোষণা দিলেও নিজ নিজ মিডিয়াকে এসব তারবার্তা প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন না।


উইকিলিকস মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনবে?

wikileaks

wikileaks


ও সা মা আ ল শ রী ফ
“Could become as important a journalistic tool as the Freedom of Information Act.” – Time Magazine…<<উইকিলিকসের ওয়েবসাইট

এ সপ্তাহে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ লাখ লাখ তারবার্তা ফাঁস হওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, অন্য দেশের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়কে কিভাবে দেখেন, তা এসব তারবার্তার মাধ্যমে গোটা বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেল। কূটনীতির দুনিয়া সম্পর্কে এতদিন যে সাধারণ ধারণা ছিল, তা উইকিলিকস কেলেংকারির ধাক্কায় বদলে যাবে। ১৯৬৬ থেকে ২০১০- প্রায় সাড়ে চার দশকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে বিশ্বের ২৭৪টি মার্কিন দূতাবাস, কনসুলেট অফিস ও কূটনৈতিক মিশনের মধ্যে যেসব তারবার্তা চালাচালি হয়েছে, তারই বিশাল ভাণ্ডার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে উইকিলিকস। এত বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ক’দিন আগে ইরাক যুদ্ধের কিছু দলিল ফাঁস করেছিল উইকিলিকস। এ নিয়েও হৈচৈ হয়েছে। তবে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ওদের কাছে যত তথ্য আছে তার আকার ইরাক যুদ্ধের দলিলের চেয়ে সাত গুণ বেশি। এসব তারবার্তা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিতে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে। সেই সঙ্গে তার মিত্রদের জন্যও বিষয়টি বিব্রতকর। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা হল, এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা কূটনীতি জগতেও পরিবর্তন আনবে। বিভিন্ন দেশের সরকার বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে, সে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে।

বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক কার্যক্রমের শুরু কয়েকশ’ বছর আগে। প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এর মাধ্যমে শুধু বন্ধু নয়, শত্রুদের সঙ্গেও খোলাখুলি আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক আলোচনা, বোঝাপড়া বা তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয়গুলো জনগণের কাছ থেকে আড়াল রাখাই হল নিয়ম। সরকারগুলো জনগণকে কূটনীতির টেকনিক্যাল টার্ম প্রয়োগ করে নিজেদের মতো করে সবকিছু বোঝায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব বক্তব্যের সত্যতা খুবই কম।

এই যে কূটনীতির জগৎ নিয়ে এত লুকোচুরি, কূটনৈতিক কার্যক্রমের ওপর ভারি একটা পর্দা ঝুলিয়ে একে চিরতরে জনগণের আড়ালে রাখার চেষ্টা- উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় এ জগৎটাই উন্মুক্ত হয়ে গেল। গত দুই দশকের ডিজিটাল বিপ্লবের ফলেই এটা সম্্‌ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতির ওপর এ ঘটনার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আইনগত কাঠামোর মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং এ নিয়ে বিতর্ক চলবে। আর এসবের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে।

তবে এ মুহূর্তে যে ক্ষতিটা হয়ে গেছে তা সারানো জরুরি। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে দৌড়াতে হবে। বিশেষ করে উইকিলিকসে প্রকাশিত কিছু তারবার্তায় যেসব বন্ধুরাষ্ট্রের নেতা সম্পর্কে মার্কিন নেতারা অযাচিত মন্তব্য করেছেন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে। আবার তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনতেও কাজ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। কারণ অনেক দেশ বা সংস্থা সম্পর্কে মার্কিন নেতারা বিব্রতকর মন্তব্য করেছেন, এমনকি কোথাও কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিপজ্জনক কিছু নীতি গ্রহণের কথাও প্রকাশ পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনীতিকরা গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্পর্কে তাদের মন্তব্য ও তাদের চরিত্রহননের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিব্রত হবেন। আবার কেউ কেউ বুঝে নেবেন যে বিশেষ কিছু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জায়গায় তাদের সমঝোতা করতে হবে। বিশেষ করে পাকিস্তান, উপসাগরীয় এলাকা এবং ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতায় কিছু ছাড় দিতে হবে।

এখানে বিপরীত একটা দিকও আছে। শুধু কি যুক্তরাষ্ট্রই এভাবে অন্যান্য দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়? উইকিলিকস যদি রাশিয়া ও চীনের কূটনৈতিক তারবার্তাগুলো পেত, আর সেগুলো প্রকাশ করত; তবে একইভাবে সেগুলো পড়েও বিশ্ববাসী চমকে উঠত। একই ধরনের ঘটনা সেসব দেশের ক্ষেত্রেও ঘটে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এত বড় আকারে হয়তো নয়।

উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে এরই মধ্যে ‘ক্যাবলগেট’ নাম দেয়া হয়েছে। সত্তরের দশকে নিক্সন সরকারের আমলের সাড়া জাগানো ‘ওয়াটারগেট’ কেলেংকারির মতো এই নাম। এ ‘ক্যাবলগেট’ কেলেংকারি যুক্তরাষ্ট্রেই শুধু সম্্‌ভব হয়েছে, অন্য দেশে এটা সম্্‌ভব ছিল না। কারণ উইকিলিকস মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কিছু ব্যর্থ সিস্টেমের সুযোগ নিয়েছে। এ দুর্বলতার পেছনে ৯/১১ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের খুব অভাব। তাছাড়া তাদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানও কম। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমির ওপর সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঠেকাতে দেশটি ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে এ ঘটনা থেকে ভালো কিছুও তো পাওয়া যেতে পারে, নয় কি? দেখা গেছে সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকা ও নিউজ এজেন্সিগুলো উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তাগুলো প্রকাশ করছে। তাদের যুক্তি হল, জনগণের স্বার্থেই এসব প্রকাশ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে তাদের পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করে, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া, ইরান, চীন ইত্যাদি স্পর্শকাতর ইসুøতে মার্কিন নেতা ও কূটনীতিকদের কাজকর্মের কথা জানার অধিকার বিশ্ববাসীর রয়েছে। তাই বেশির ভাগ পশ্চিমা নেতাই উইকিলিকসের তথ্য ফাঁস ঘটনার নিন্দা করলেও, এমনকি এগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন করবে বলে ঘোষণা দিলেও নিজ নিজ মিডিয়াকে এসব তারবার্তা প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন না।

তাই সম্্‌ভবত এসব ঘটনা থেকে ভালো কিছুও বেরিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এটা ঠিক। কিন্তু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি আগ্রাসী, কখনও কখনও অনৈতিক। উইকিলিকস বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ভূমিকাগুলোর ওপর সামান্য আলো ফেলতে পেরেছে মাত্র। ওরা আরও তথ্য প্রকাশ করলে আরও অনেক অপ্রীতিকর সত্য বেরিয়ে আসবে। মার্কিন নেতারা বিশ্বজুড়ে নানা আলোচিত ঘটনায় কিভাবে কতটুকু জড়িত ছিলেন তা জানা যাবে।

এর মানে আবার এটা নয় যে, কূটনীতিকরা রাতারাতি বদলে যাবেন। তবে মার্কিন কূটনীতির ধারাটা বদলে যেতে পারে। ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহের এ যুগে কোন কিছুই জনগণের চোখের আড়ালে রাখা সম্্‌ভব নয়। হয়তো আরও দৃঢ় নেটওয়ার্ক দিয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনা বন্ধ করার চেষ্টা হবে। আইনি কাঠামোগুলোও জোরদার করা হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে এখন তাদের পররাষ্ট্রনীতি চালাচ্ছে- সেটা কি বদলে যাবে?

আরব নিউজ পত্রিকা থেকে ভাষান্তরঃ ফারহানা মিলি

ওসামা আল শরীফঃ জর্ডানের প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার
Prosecuting WikiLeaks For Publishing Documents Would Raise Serious Constitutional Concerns, Says ACLU

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,