বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ


বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ

ডঃ কাজী নাসির উদ্দীন

সম্প্রতি বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে মার্কিন সমাজের আচার ব্যবহারের অনুপ্রবেশ বিশেষভাবে লক্ষ্যগোচর হচ্ছে গত কয়েক বছর যাবত অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে মা দিবস আর ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মার্কিনী প্রথায় ছেলেবন্ধু (বয়ফ্রেন্ড) ও মেয়েবন্ধু (গার্লফ্রেন্ড) গড়ে উঠছে এই রকম বন্ধুত্বের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোন পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না অচিরেই হয়তো শুনতে পাবো যে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েই যুবক-যুবতীরা একই ছাদের নীচে বসবাস করছে ।

দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হিড়িক পড়ে গেছে এবং তরুণ-তরুণীরা বন্ধুত্বের দাবীতে বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে আর একে অপরকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে অপরিসীম আনন্দ উপভোগ করছে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকেও এই মার্কিনী অনুকরণের বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এখন বাংলাদেশের গায়ক-গায়িকাদের গানের সঙ্গে নাচ যোগ করে দিতে হয় অর্থাৎ নেচে নেচে গান না গাইলে সে গান জনপ্রিয় হয় না বসে বসে গান গাওয়াটাতো এখন অতীতের ব্যাপারে পর্যবসিত হয়েছে আমাদের দেশের সংগীত শিল্পীরা চিরকাল গলা আর হৃদয়াবেগের মিশ্রণে মনের আকুলতা প্রকাশ করে এসেছে দেহকে সেখানে টেনে আনার কোন প্রয়োজন দেখা দেয় নি অবশ্য আমি এ ব্যাপারে সচেতন, যে কোন সংগীত চর্চায় গলা ও হৃদয়ের সঙ্গে দৈহিক অঙ্গভঙ্গী ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে, যেমন বাউল গান ও লালন গীতি কিনতু নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত ও আধুনিক গান যদি নেচে নেচে গাইতে হয়, তবে কেমন হয় ? পাঠকরাই বিবেচনা করুন এছাড়া দেশের তরুণীরা এখন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ আর ওড়না ছেড়ে দিয়ে বেপরোয়াভাবে শার্ট আর জিন্স-এর প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।

বলা বাহুল্য যে সমাজ ও সংস্কৃতির চিত্র উপরে তুলে ধরা হলো তা হুবহু মার্কিন সমাজ ও সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ মাত্র এক কথায় বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতি কেন এমন হলো ? পাশ্চাত্যে আরো অনেক দেশতো রয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকেরা পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ড ভ্রমণ করার সুযোগ আমার হয়েছে সেই সমস্ত দেশে বসবাসকারী বাঙালিদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রাণান্তকর প্রয়াসের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি আশ্চর্য্যরে ব্যাপার ঐ সমস্ত দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বাংলাদেশের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি কেবলমাত্র মার্কিনী সংস্কৃতি গ্রাস করে নিয়েছে বাংলাদেশকে আরো আশ্চর্য্যরে বিষয় এই যে পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি গ্রাস করে নিতে পারেনি উপরন্তু পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশে আমি মার্কিনী সংস্কৃতির প্রতি চরম বিতৃষ্ণা আর ঘৃণা লক্ষ্য করেছি জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে স্পেনে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম স্পেন, ইংল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডের অধিবাসীরা আমেরিকানদের রাখাল বালক (Cow Boy)হিসেবে অভিহিত করে অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে বলা হয়ে থাকে আমেরিকানরা অসভ্য আর অসংস্কৃত সুতরাং হঠাৎ করে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের কাছে আমেরিকার সংস্কৃতি এতো প্রিয় হয়ে গেল কেন যে, এ বিষয়টি নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

কোন একটি দুর্বল দেশকে যদি কোন একটি সবল দেশ চিরদিনের জন্যে অধীনস্থ করে রাখতে চায় তাহলে দুর্বল দেশটির সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘদিন যাবত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজেদের উপনিবেশকে বহাল তবিয়তে রাখার জন্য এই ধ্বংস যজ্ঞে আত্মনিয়োগ করেছিলো নিজেদেরকে কিšতু জাগ্রত প্রহরীর মতো সে সমস্ত উপনিবেশের বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা তাদের উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতির অপলাপ রোধ করতে সক্ষম হয়েছিলো আর তারই ফলশ্রুতিতে সেই সমস্ত দেশের পক্ষে সম্ভব হয়েছিলো তাদের নিজ নিজ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের অবসান আজও ঘটেনি নতুন মুখোশ পরে সাহায্য সহযোগিতার অজুহাতে আর গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা দুর্বল দেশগুলোর উপর নিজেদের অধিকার চিরস্থায়ী করার জন্যে তৎপর হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝতে পেরেছে সৈন্য লেলিয়ে দিয়ে একটি দেশকে দখল করা যায় সাময়িকভাবে কিনতু সে দেশটিকে জয় করা যায় না যতদিন পর্যন্ত না সে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা, গর্ব আর অহংকারকে চূর্ণ করা যায় ততদিন পর্যন্ত সে দেশের মানুষকে বশীভূত করা যায় না একটি জাতির গৌরব, গর্ব আর অহংকারকে ধ্বংস করতে হলে সর্বপ্রথম ধ্বংস করতে হবে সে জাতির সংস্কৃতিকে মহা ধ্বংসযজ্ঞে বর্তমানে আত্মনিয়োগ করেছে সাম্রাজ্যবাদীরা আর এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ কেন ? যেহেতু বাংলাদেশ হারিয়েছে তার আত্মমর্যাদা দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ সকল গৌরবকে দিয়েছে জলাঞ্জলি সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশকে জয় করার এই হচ্ছে মোক্ষম সময় এই পরিস্থিতির হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে বাংলদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে যেমনভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলো পৃথিবীর দিকে দিকে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বিভিন্ন জাতি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে।

সংস্কৃতি চেতনা যাদের খুব প্রখর তাদের আত্মমর্যাদাবোধ অত্যন্ত বলিষ্ঠ এই রকম আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতিকে অধীনস্থ করা কঠিন আমার নিজের দেশবাসীরাই যদি অতি আগ্রহের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদীর অপসংস্কৃতির অনুকরণে উৎসাহী হয়, তাহলে সাম্রাজ্যবাদীকে দোষ দিয়ে লাভ কি ? সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্যটাতো দেশবাসীর সহায়তায় সহজেই হাসিল হয়ে যায় কিনতু কেন যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এই মার্কিনী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশকে রুখে না দাঁড়িয়ে বরং স্বাগত জানালো সে বিষয়টা এবার একটু তলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রে বিপরীত আকর্ষণ (Opposite attracts) করে বলে একটা তত্ত্ব আছে এর সারমর্ম এই যে তরুণ-তরুণীরা তার সম্পূর্ণ বিপরীতের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে বাংলাদেশ আমেরিকার সম্পূর্ণ বিপরীত ক্রান্তিতে অবস্থান করছে অর্থাৎ আমেরিকায় যখন দিন বাংলাদেশে তখন রাত আমেরিকা পৃথিবীর একটি মহাপরাক্রমশালী দেশ বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম দুর্বল দেশ আমেরিকা পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় ধনী দেশ সমূহের তালিকাভুক্ত আর বাংলাদেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ বিপরীত বটে, আর সে কারণেই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের আমেরিকার সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়া মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রের তত্ত্ব অনুযায়ী খুবই স্বাভাবিক কিনতু এই স্বাভাবিক মানসিক অবস্থাটাকে দুর্বল পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যে তত্ত্ব প্রকাশ পায় তার নাম হলো হীনমন্যতা বোধ ইংরেজীতে যাকে বলে Inferiority complex এই হীনমন্যতা বোধের শিকারে পরিণত হয়ে যারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী মহান সভ্যতা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা শুধু নিজেদেরকেই অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে না, তারা সমগ্র জাতিকে দেউলিয়া করে দেশের স্বাধীনতাকে করে বিপন্ন। আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের জন্মলাভের জন্য ওরা নিজেরাও যথার্থভাবে দায়ী নয় আমাদের দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্যে দায়ী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি চেতনা, দেশাত্মবোধ এবং দেশপ্রেম গড়ে তুলতে বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন আমাদের দেশের দুর্নীতিপরায়ণ, স্বার্থান্বেষী কর্ণধাররা তাদের নিজেদের আখের গোছানোর কাজে এবং বিদেশী প্রভুদের পদলেহনে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে তারা আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে দেশাত্মবোধের কোন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হননি ।

বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অনেকে আবার মার্কিন সংস্কৃতির অনুকরণের স্বপক্ষে তাদের মনের মধ্যে অনেক যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তারা বলেন, বিদেশী সংস্কৃতিতে যদি কোন ভালো জিনিস থাকে তবে তাকে গ্রহণ করতে দোষ কি ? এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে এই যে সংস্কৃতির সঙ্গে ভালো মন্দের কোন সম্পর্ক নেই একটি দেশের সংস্কৃতি বলতে সেই দেশের মানুষের সামগ্রিক জীবন যাপন পদ্ধতিকে বুঝায় আমাদের সংস্কৃতির যে বিষয়টি আমরা সবচেয়ে ভালো মনে করি আমেরিকানরাতো সেটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে না তাহলে ওদের ভালো জিনিসটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে কেন ? তাছাড়া আপাততঃ যাকে ভালো মনে হয় সংস্কৃতির অঙ্গনে তার উৎপত্তি ও বিকাশের কারণটা খুঁজে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ মার্কিন মুল্লুকে মা দিবস ও বাবা দিবসের উদ্ভবের কারণ বিশ্লেষণ করা যাক আমেরিকায় সন্তান-সন্ততিরা তাদের ষোল (১৬) বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গৃহ ত্যাগ করে তারপর কালে ভদ্রে কখনো সখনো মা-বাবার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয় সেই দেখা সাক্ষাতের জন্যে আবার আগে থেকেই দিনক্ষণ নির্ধারণ (appointment) করে নিতে হয় তাছাড়া আমেরিকার ছেলেমেয়েদের মা-বাবারা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এক সঙ্গে এক বাড়িতে বসবাস করে না এই সমস্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদেরকে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্যে বৎসরে একবার মা-বাবার খোঁজ খবর নেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে সুতরাং আপাততঃ এটাকে একটা ভালো জিনিস মনে হলেও এর মূলে ভালো কিছুই নেই আমাদের সংস্কৃতিতে প্রতিটি দিনই মা-বাবার দিন প্রতিটি মূহুর্তে আমরা মা-বাবার সেবা করতে পারলে নিজেদেরকে ধন্য মনে করি এমন কি প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় নিজেদের ঘর সংসার নিয়ে যখন আমরা আলাদাভাবে বসবাস করি তখনও মা-বাবা বেঁচে থাকলে আমরা যখন তখন মা-বাবার কাছে ছুটে যাই মা-বাবার কাছ থেকে আমাদের কোন অনুমতি নিতে হয় না আমাদেরকে একবার মায়ের বাড়ি আর একবার বাপের বাড়ি দৌড়াতে হয় না আমরা মা-বাবাকে এক সঙ্গে পাই সব সময় সুতরাং ঘটা করে আমেরিকার মতো বৎসরে একবার মা আর একবার বাবার সেবা করাটা বাংলাদেশের সভ্যতা ও সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে যে কতো অবাস্তব তা সহজেই বোধগম্য ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আগে আমি দীর্ঘ ৩৪ বছর বাংলাদেশে বসবাস করি এখন আর ৩০ বছর যাবত আমি আমেরিকায় বসবাস করছি আমেরিকায় আসার পর এদেশের সংস্কৃতির তুলনায় আমাদের দেশের সংস্কৃতি যে কতো উন্নত, পরিশীলিত আর আমরা যে কি এক মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী তা আমার চোখে পড়ে দেশ থেকে বের না হলে দেশকে চেনা যায় না এটা শুধু আমার একার অভিমত নয় আমার মতো অনেকেই যারা কিছুদিন মার্কিন মুল্লুকে বসবাস করেছেন তারা সবাই মার্কিনী সংস্কৃতির অন্তঃসারশূন্যতা সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছেন আর তাদের নিজের বাংলাদেশে এই অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অতি সম্প্রতি হলিউড থেকে প্রকাশিত ”একুশ” পত্রিকায় চাঁদ সুলতানা মাহবুব কামরুন-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত ”ঘুরে এলাম কিছু সময় বা ঝটিকা সফর”-এ সেই দুঃখ এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ”একটা ব্যাপার খুব চোখে লাগলো, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ফ্রীডমে বিদেশকেও হার মানিয়েছে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মোহনা ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে” অন্যত্র ”নব্য সভ্যতার যুগে পুরাতন কালচার সব হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িতে ছেলেমেয়েরা সুরে বেসুরে ওদের ইচ্ছামতো গান গাচ্ছিলো আমি তখন একমনে খুঁজছিলাম আমার হারিয়ে যাওয়া পুরানো অতীতকে” বড়ই দুঃখের বিষয় সেই অতীত দ্রুত বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে সে কারণেই বোধ হয় প্রবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অত প্রাণান্তকর প্রয়াস অথচ আমাদের প্রিয় দেশবাসী তরুণ-তরুণীরা নির্বিচারে বিদেশী অপসংস্কৃতিতে অবগাহন করে পরম পুলক অনুভব করছে এর চাইতে পরিতাপের বিষয় আর কি হতে পারে ? কবে কিভাবে আমাদের বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের অবসান ঘটবে ? কবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কুঁড়ে ঘরে থেকেও শিল্পের বড়াই করতে শিখবে, কবে ওরা বুক ফুলিয়ে বলবে, ”নিক হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা” ? সে কথাই আজ ভাবছি।

একুশ পত্রিকা,

লস এঞ্জেলেস, জুলাই ৪ ২০০৭ ইস্যুঃ উপ-সম্পাদকীয়ঃ

পোশাক শিল্পে আগুন: লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর শোক সমাবেশ ও আলোচনা সভা


পোশাক শিল্পে আগুন, প্রবাসীদের শোকঃ নিহতদের প্রতি সহানুভূতি এবং সমবেদনা
লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর শোক সমাবেশ ও আলোচনা সভা
লস এঞ্জেলেস, ২৭ নভেম্বর, একুশ নিউজ মিডিয়াঃ শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে সরকারকে নিরাপদ কার্যক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত শেষে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অনিরাপদ ভবনে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বিল্ডিংকোড শক্তিশালী করে নিরাপত্তা পরিদর্শকদের আরও দায়িত্ববান হওয়া ও দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা আর অযোগ্যতার বিরুদ্ধে সরকারের পূর্নদৃষ্টি দেবার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লস এঞ্জেলেসের প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে লস এঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্র লিটল বাংলাদেশে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও প্রবাসীদের অবস্থান’ শীর্ষক আলোচনা ও শোকসভায় এসব কথা বলা হয়। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি ইন আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া (বাদাম)।

আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক লোকের প্রাণহানির ঘটনা ও চট্টগ্রামে উড়াল সেতু দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি ইন আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এক শোক সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। বাদাম-এর আহবানে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও সাধারণ প্রবাসীরা এই সভায় যোগ দেন।

শোকসভায় কারখানার নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে ক্রেতা কোম্পানিগুলোর দায়বদ্বতা নিয়ে প্রবাসীরা তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। গত শনিবার সংঘটিত দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে বৃহত্তম এবং ভয়াবহতম অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যাতে পোশাক শিল্পকে হুমকির মুখে না নিয়ে যায়, প্রবাসীরা এই ব্যাপারে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার নিমিত্তে দল-মত নির্বিশেষে একমত পোষণ করে।

সভায় মোবারক হোসেন বাবলু স্মারকলিপি পড়ে শোনান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অ্যাঞ্জেলিনোদের মাঝে সুচিন্তিত রূপরেখাসহ বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম খোকন, ফরিদ উ আহমেদ, সোহেল রহমান বাদল, মুশফিকুর চৌধুরী খসরু, এম হোসেন বাবু, ইসমাইল হোসেন, ড্যানী তৈয়ব, এম এ বাসিত, ডঃ জয়নাল আবেদিন, তৌফিক সোলেমান খান তুহিন, মোরশেদুল ইসলাম, আবু হানিফা, ডঃ মাহবুব হাসান, ফারহানা সাঈদ, মোঃ মুরাদ হোসেন, মুজিব সিদ্দিকী ও এম কে জামান।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে যেন কোন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না পড়ে তার প্রতি সতর্ক ও সচেতন দৃষ্টি দেবার জন্য সকলকে কাজ করে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান লস এঞ্জেলেসের রাজনৈতিক কর্মীরা। সভায় নিরাপত্তা পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা আর অযোগ্যতার অভিযোগ তুলে প্রবাসীরা বলেন, ব্যাক্তিস্বার্থের উর্ধে উঠে দেশের এই বৃহত্তর শিল্পকে বিশ্বের বুকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।

This slideshow requires JavaScript.

বক্তারা জানান, কর্তৃপক্ষের অবহেলা যেমন বাঞ্ছনীয় নয়, তেমনি শ্রমিকদের ঘামের বিনিময়ে মুনাফার অংশ যেন শ্রমিকদের কল্যাণে সচেতনভাবে ব্যয় হয় তার প্রতি মালিক সম্প্রদায়ের দায়বদ্বতা অস্বীকার করার সুযোগও নেই। দুর্ঘটনা যেন হত্যাকাণ্ডে পরিণত না হয় তার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান সচেতন প্রবাসীরা।

গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড ও চট্টগ্রামে উড়াল সেতু দুর্ঘটনায় নিহতদের সত্যিকারের পরিচয় সংগ্রহ করে সেই সকল দুস্থ পরিবারদের সরাসরি সাহায্য করার জন্য প্রবাসীরা একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পোশাক শিল্প কারখানায় সংগঠিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ও পরিজনকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানানো হয়। এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য লাভ কামনা করা হয়।

আলোচনা ও শোকসভায় আরো যোগ দেন সাইফুল আনসারী চপল, জহির ইউ আহমেদ, আবদুল খালেক মিয়া, রেজাউল চৌধুরী, আব্দুল কে মিয়া, জামাল হোসেন, মতিউর রহমান মার্টিন, আলী তৈয়ব, কাজী নাজির হাসিব, রেজাউল চৌধুরী, জামাল হোসেন, মশিউর চৌধুরী, আখতার ভুঁইয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাদাম-এর আহবায়ক জাহান হাসান। সহযোগিতায় ছিলেন পঙ্কজ দাস ও শফিউল ইসলাম বাবু।

অপরাধ ব্যবসা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতি


জাতিসংঘের ভাষ্য : প্রধান ২০ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ১টি অপরাধমূলক ব্যবসা

বিশ্বের প্রধান ২০টি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি হচ্ছে অপরাধ-সম্পর্কিত ব্যবসা। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিচার কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) ২০০৯ সালের বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
এ তথ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য হুমকি বলে মনে করেন ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফেদোটোভ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অপরাধ ব্যবসা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ অর্থনীতির কাতারে চলে এসেছে। এখন তা প্রধান ২০টি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি।
অপরাধ দমন ও বিচার-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কমিশনের (সিসিপিসিজে) সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তব্য রাখার সময় ফেদোটোভ জানান, এ পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করার আগে আরও বিশ্লেষণের কথা জানান তিনি।
ফেদোটোভের মতে, দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর ৪ হাজার কোটি ডলার লোকসান হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর। আবার আদম পাচারের মতো অবৈধ ব্যবসা থেকে অপরাধীরা আয় করছে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মতো।
অন্য এক বক্তব্যে ফেদোটোভ বলেন, ‘এক হিসাব অনুযায়ী, গড়ে ২৪ লাখ মানুষ আদম পাচারের শিকার হচ্ছে। এ হচ্ছে আধুনিক দাসত্বের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ।’
তিনি জানান, অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলেও বিশাল অঙ্কের অর্থ আয় করছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল)’ অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে সংঘটিত অপরাধ, অবৈধ আদম ব্যবসা, উগ্রবাদ ও দুর্নীতি। ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের দরিদ্রতম মানবগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আরেকটি সম্মেলনে জাতিসংঘের প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ব্রায়ান নিকোলাস জানান, আইনের ফাঁকফোকর বের করে নিজেদের টিকিয়ে রাখা ও মুনাফা লোটার নিত্যনতুন উপায় বের করতে অপরাধীদের জুড়ি নেই। তিনি বলেন, আগের দিনের পারিবারিকভাবে নিয়ন্ত্রিত শ্রেণীভিত্তিক অপরাধীদের সঙ্গে এখনকার অপরাধ চক্রগুলোর কোনো মিল নেই বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের বদলে এখনকার অপরাধচক্রগুলো শিথিল ও অপ্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত। এখনকার অপরাধীরা নিজেদের সুবিধামতো উপায়ে যোগাযোগ করে আর তাদের কার্যপরিধিও অনেক বিস্তৃত।’
নিকোলাস অবশ্য ইউএস ব্যুরো অব ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিকস অ্যান্ড ল এনফোর্সমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গেও যুক্ত।
তিনি জানান, এখনকার সন্ত্রাসী দলগুলোও অর্থায়নের জন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। নিকোলাস বলেন, এমনও দেখা গেছে, নিজেদের সুবিধার জন্য সন্ত্রাসীরা অপরাধ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে।
[বণিক বার্তা ডেস্ক]
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


http://www.unodc.org/documents/data-and-analysis/Studies/Illicit_financial_flows_2011_web.pdf
April 23, 2012 11:03 AM

U.N.: Crime
is one of world’s “top 20 economies”

(CBS/AP)

(CBS/AP) VIENNA – Criminality worldwide generates proceeds in the trillions of dollars each year, making crime one of the world’s “top 20 economies,” a senior U.N. official said Monday

With the scope of global crime — and particularly organized crime — threatening emerging economies and fomenting international instability, Yury Fedotov called for concerted world action to combat the trend.

“We need to recognize that the problem requires a global solution,” Fedotov, the head of the U.N. Office on Drugs and Crime, told reporters outside an international conference focused on preventing the exploitation of illegal migrants and other crimes linked to human trafficking. “No country can handle this problem alone.”

Fedotov said that “criminal business” earns those behind it $2.1 trillion — nearly 1.6 trillion euros — a year, which he said is equivalent to nearly 7 percent of the size of the global economy.

Complete speech by Yury Fedotov, Executive Director, UNODC

In a recent UNODC report, global gross proceeds were calculated from such illicit activities as money-laundering (US$1.6 trillion in 2009) and cocaine trafficking (US$84 billion for 2009).

Other criminal enterprises which added to UNODC’s $2.1 trillion estimate were counterfeiting; human trafficking; and trafficking in oil, wildlife, timber, fish, art and cultural property, gold, human organs, and small and light weapons). (Criminal proceeds within a national sector, such as burglaries, fraud, loan sharking or protection racketeering, were not included.)

Transnational crime threatens Millennium Development Goals (UNODC)

In separate comments inside the meeting, Fedotov said that as many as 2.4 million people may be victims of human trafficking worldwide at any given time, calling it “a shameful crime of modern-day slavery.”

Corruption is another concern of the meeting. Fedotov told the opening session that estimates put the amount of money lost through corruption in developing countries at $40 billion annually.

U.S. delegate Brian A. Nichols said the changed face of organized crime makes prosecution more difficult than in the past.

“Today, most criminal organizations bear no resemblance to the hierarchical organized crime family groups of the past,” he told the meeting.

“Instead, they consist of loose and informal networks that often converge when it is convenient and engage in a diverse array of criminal activities, including the smuggling of counterfeit goods, firearms, drugs, humans, and even wildlife to amass their illicit profits.”
http://www.cbsnews.com/8301-202_162-57418890/u.n.-crime-is-one-of-worlds-top-20-economies/

প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি


প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি

এম এম মুসা ‘ভোট ও ভাতের অধিকার দারিদ্র্যবিমোচনের হাতিয়ার’ এই স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ‘দিনবদলের সনদ’ নামে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। পাঁচটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহারে ২৩ দফা কাজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে নিয়ে আসা, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি বন্ধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূরীকরণ, দারিদ্র্যবিমোচন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক গতিশীলতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম অঙ্গীকার। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাঁচটি বিষয়সহ ২৩ দফা প্রতিশ্রুতির সবকটিতেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং দিয়ে যাচ্ছে সরকার। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। গত বছরের জুন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কোনো সময়ই খাদ্যমূল্যস্ফীতি নয় শতাংশের নিচে নামেনি, কখনো কখনো এটি ১০ শতাংশের উপরে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সেপ্টেম্বরে খাদ্যমূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে নয় দশমিক ৭২ শতাংশ। মহাজোট ক্ষমতা নেওয়ার সময় যে মোটা চাল বিক্রি হতো ২৪ টাকায় এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকায়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। এ সময়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ও বিনিয়োগ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত, বিশ্ব দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, অকার্যকর সংসদ, প্রশাসনে দলীয়করণ, কর্মকর্তাদের মারধর, গণপিটুনি, যৌনসন্ত্রাসহ হেন জায়গা নেই যেখানে পরিস্থিতি খারাপ হয়নি।


আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিল দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার। মজুদদারি-মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া ও টিসিবিকে শক্তিশালী করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার বাস্তবায়ন হয়নি। মজুদদারি-মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস শুধুই কথায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। টিসিবিকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ ও অতিরিক্ত দামে খাবারের অনুপযোগী পণ্য আমদানি করা হয়েছে। দুই বছরে মোটা থেকে সরু-সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যমতে, মজাজোট ক্ষমতায় আসার প্রথম সপ্তাহে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ছিল ২৪-২৫ টাকা যা এখন ৩২-৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু চালের দাম ছিল ৩২-৪০ টাকা যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৪৮ টাকায়। মহাজোট ক্ষমতা নেওয়ার সময় প্রতি কেজি আটা ও ময়দা বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ২২-২৭ এবং ২৮-৩২ টাকায়, এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩২ ও ৩৩-৩৮ টাকায়। ৭০ টাকা লিটারের সয়াবিন তেল এখন ১১৩, ৩০ টাকা কেজির চিনি ৬০, ৮০ টাকা কেজির ডাল ১২০, ২০ টাকার পেয়াজ ৫০, ৩০ টাকা কেজির রসুন ২০০, ৪০ টাকার আদা ১৮০ এবং ১৬০ টাকার গরুর মাংস ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রায় দুই বছরে ভোগ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

২০১৩ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সাড়ে চার কোটিতে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দুই বছরে সেটি বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র হিসাব অনুযায়ী, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ছয় কোটি এক লাখ মানুষ ন্যূনতম পরিমাণের চেয়ে কম খাদ্য গ্রহণ করে। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আট কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে যাদের দৈনিক আয় এক দশমিক ২৫ ডলারের কম। এই সংখ্যা আগামী বছর আরো বাড়বে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের দারিদ্রে্যর মাত্রা কমপক্ষে এক শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দুই বছরে নতুন প্রায় আট হাজার লোক কোটিপতির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তাহীন দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন খাতে সরকারের দিনপ্রতি মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র সাড়ে ছয় টাকা। এ সময়ে কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ প্রভৃতি কার্যক্রমে দলীয় কর্মীদের প্রাধান্য ও খাবারের অযোগ্য খাদ্য সরবরাহ করায় বিক্ষোভ করেছে মানুষ। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বলেছিল তারা ক্ষমতায় গেলে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দুই কোটি ৮০ লাখ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে দুই কোটি ৪০ লাখে নামিয়ে আনবে। কিন্তু জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী দুই বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে ২০ লাখ।

বিশ্বমন্দার প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ। প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায়, বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি, কমেছে জনশক্তি ও পণ্য রফতানি এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি। ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে জনশক্তি রফতানি কমেছে প্রায় চার লাখ। ২০০৯ সালের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৭৭ হাজার ২৩৮ জন শ্রমিক কম বিদেশ গেছেন। অপরদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিদেশ থেকে ৩৬ হাজার ৩৫ জন শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন। জনশক্তি রফতানি হ্রাস ও বিদেশ থেকে শ্রমিক ফেরত আসার কারণে চলতি অর্থবছরের জুন থেকে রেমিট্যান্সের গতি নিম্নমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২২৬ কোটি নয় লাখ টাকা কম রেমিট্যান্স এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ আয়ের টাকা, পেশিশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূল করার কথা ইশতেহারে উল্লেখ থাকলেও প্রথম বাজেটেই সরকার অবৈধ ও কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ প্রদান করে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবনমন, টেন্ডারবাজি ও দখল, ঋণখেলাপিদের পুনর্বাসন, চাঁদাবাজি, জমি দখল এখন নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দুদক আইন সংশোধন করে এর স্বাধীনতা ও ক্ষমতা খর্ব করার উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠানটিকে বিরোধী রাজনীতিকদের নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলেও দুদক নীরব। কমিটি করে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দায়ের করা দুর্নীতির মামলা, এমনকি খুন-রাহাজানির ন্যায় ফৌজদারি মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, সিটবাণিজ্যের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দেশব্যাপী ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারা গেছেন ৭০ জন, আহত হয়েছেন আরো প্রায় ১১ হাজার।

সরকারি নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন ও পুরনো কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে ২০১১ সালের মধ্যে উৎপাদন পাঁচ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের অঙ্গীকার করেছিল মহাজোট। কিন্তু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসে বেসরকারি খাতে উচ্চ খরচসমৃদ্ধ বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোনিবেশ করে তারা। এতে ছেদ পড়ে যায় সরকারি খাতে নিম্ন খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন। সংস্কারের অভাবে খুলনা, কাপ্তাই, ঘোড়াশালসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি হিসাবেই প্রতিদিন বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুতের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সংকটও তীব্র হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নতুন সংযোগ প্রদান বন্ধ রয়েছে। এদিকে ১৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিলেও সময়মতো কোনো প্রতিষ্ঠানই বিদ্যুৎ দিতে পারেনি। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে এবং জ্বালানি সরবরাহের কারণে রাষ্ট্রকে প্রতিবছর আট থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার গচ্চা দিতে হবে। বিনা টেন্ডারে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে দায়মুক্তি বিল, দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, উচ্চমূল্যে বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাল্ব বিতরণ, ঘড়ির কাঁটা ঘোরানোর মাধ্যমে সময়ের পরিবর্তন, কোটি টাকার রোডশো, এসি বন্ধ ও তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রির নিচে না রাখা, কর্মকর্তাদের ড্রেসকোড নির্ধারণ, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান বন্ধ রাখা, মার্কেটের সময়সূচির পরিবর্তনসহ নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও এসব কর্মসূচিতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দিয়েছিল সেটি থেকেও সরে এসেছে। হরতাল প্রতিহত করার নামে বিরোধীদলীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সরকারি বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের ওয়াদাও রাখেনি সরকার বরং নতুন মাত্রা লাভ করেছে। যুক্ত হয়েছে গুম ও বেওয়ারিশ লাশ। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের হিসাবে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত খোদ রাজধানী থেকে প্রায় দুই হাজার বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা অধিকারের হিসাব অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২৫৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত খুন হয়েছে সাত হাজার ৬৩৪ জন। পুলিশের হিসাবেই অপহরণ হয়েছে এক হাজার ৫৭৮ জন, চুরি হয়েছে ১৬ হাজার ১৮৪টি, ডাকাতি হয়েছে তিন হাজার ৭৬৯টি, বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৫ হাজার ৫৩৮ জন নারী, নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে দুুই হাজার ৩২৯টি শিশু, অচেতন করে লুটের ঘটনা ঘটেছে ৪৮ হাজার ২১টি এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছে ৭৩৯ জন। অধিকারের তথ্যানুযায়ী জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর, ২০১০ সময়কালে ১১৯ ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার নিরীহ লোককে আসামি বানিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। চাঁদাবাজির কারণে ঢাকা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার বাসমালিক সমিতি ধর্মঘটও পালন করেছে। মানবাধিকার কমিশন ক্রসফায়ারকে আইনবহির্ভূত হত্যাকান্ড বলে উল্লেখ করেছে।

অধিকারে তথ্যমতে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে বর্তমান বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে ৪৪০ জন, চলতি বছরে প্রথম নয় মাসে পুলিশি হেফাজতে মারা গেছে ৮৭ জন। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর এই নয় মাসে ২৯৭ জন নারী যৌতুক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৯০ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে এবং ৮৫ জন বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে ৬৪ জন মহিলা ও ৩৩ বালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাবে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত৪৩৫টি নারী যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এতে ২২ জন আতহত্যা করেছেন। শুধু অক্টোবরেই নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসীর হাতে শিক্ষক, মা ও নানাসহ চারজন খুন হয়েছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন জাতীয় সংসদে বলেছেন, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন এই ছয় মাসে সারা দেশে এক হাজার ৫৮৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করার অঙ্গীকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নিজেদের কোন্দলে মারা গেছেন ১২ জন ছাত্র, আহত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, বন্ধ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, নষ্ট হয়েছে শিক্ষাঘণ্টা। মহাজোট ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে এক হাজারেরও বেশি। অধিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ১০ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন সহস্রাধিক।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্টাচার ও সহিষ্ণুতা গড়ে তোলার কথা বলা হলেও পরিবর্তনের কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি দুই বছরে। সংসদ চলছে বিরোধী দলবিহীন অবস্থায়। সংসদ কার্যকর করার ব্যাপারে উদাসীনতা, সংসদে রীতিবিরুদ্ধ ভাষার ব্যবহার নতুন মাত্রা লাভ করেছে। জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী জনসমক্ষে বলেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী দলের অস্তিত্ব রক্ষা করতে দেওয়া হবে না।’ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের ওপর নির্মম পুলিশি নির্যাতন এবং সংগঠনটির মিছিলের ওপর ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। মন্ত্রী, এমপিদের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশের ওয়াদা করেছিল আওয়ামী লীগ। সেই ওয়াদা এখনো পূরণ হয়নি। এমপিদের বিনাশুল্কে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির অনুমতি ও প্রথা ভেঙে এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রতিটি এমপিকে কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে প্রতিষ্ঠিত সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করা হয়েছে, এতে অপচয় হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। শুধু জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনে খরচ হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা।

প্রশাসনে দলীয়করণ, যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতা নয়-দলীয় পরিচয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে প্রমোশন, পদ ও নিয়োগ। গোপালগঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলী বলেছেন, ”আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত কর্মীদের মধ্য থেকে সাড়ে ১৩ হাজার জনকে কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের বাইরে কেউ যাতে সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।” এদিকে চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর রংপুরে একটি কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ”পদোন্নতি কোনো অগ্রাধিকারের বিষয় নয়। এটি দেওয়া হয় সরকারি নিজস্ব চিন্তাচেতনা থেকে।” সরকার ২৩ মাস মেয়াদে প্রায় ১০ হাজার নিয়োগ স্থগিত করেছে। ১২ মে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, ”পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগে দলীয় লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পুলিশ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে দলীয় ছেলেমেয়েদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচন হলেও বর্তমান সরকারের অনীহার কারণে আজও সেটি কার্যকর হয়নি। উপজেলা পরিষদ কার্যকর করার দাবিতে অনশন পালন করেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। এ ছাড়া ১ আগস্ট পদত্যাগেরও হুমকি দেন তারা। এ সময়ে এলাকার উন্নয়ন স্থানীয় প্রতিনিধিদের হাত থেকে এমপিদের হাতে অর্পণ করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবর্তে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কৃষির উপকরণ সঠিক সময়ে কৃষকের হাতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। বাজারে বেশি দামে সরকারি সার ও বীজ বিক্রি এবং বীজ ও সার না পেয়ে বিভিন্ন জেলায় কৃষকের বিক্ষোভের খবর ছিল বছরজুড়ে পত্রিকার পৃষ্ঠায়। বিদ্যুতের অভাবে ডিজেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়া সত্ত্বেও আউশ, আমন ও বোরোসহ কোনো মৌসুমেই সরকার প্রাক্কলিত চাল কিনতে পারেনি। সিডর ও আইলা উপদ্রুত এলাকায় জনসাধারণের জন্য কোনো কার্যক্রমই গ্রহণ করেনি সরকার। ইশতেহারে ২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে নিট ভর্তি ১০০ শতাংশ করার কথা থাকলেও এখনো ছয় থেকে আট শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় না। ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি সরকার। এখনো নিরক্ষতার হার ৩৫ শতাংশ। তিন মাসের মধ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়ার সাত মাস পার হলেও সেটি প্রণীত হয়নি। ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটিতে রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইতোমধ্যে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। শ্রমনীতি প্রণয়ন, বেতনবৈষম্য দূরীকরণ, ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ, স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন এবং ভূমিহীন, হতদরিদ্র, ক্ষেতমজুর ও শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু করার প্রতিশ্রুতির কোনো অগ্রগতি নেই। প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিকাঠামো এখনো নির্ধারণ হয়নি। দ্রুততার সঙ্গে শিল্পপুলিশ গঠন করা হলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন চালু করেনি সরকার। দুই বছরে শ্রম-অসন্তোষ বেড়েছে। এ সময়ে পুলিশ ও শ্রমিক সংঘর্ষে মারা গেছেন ১৫ জন পোশাকশ্রমিকসহ অর্ধশতাধিক।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৯তম দফায় ‘সকল প্রকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রবাহের অবাধ চলাচল সুনিশ্চিত ও সংরক্ষণ করা হবে’-বলা থাকলেও সেটি হয়নি। দলীয় বিবেচনায় ১০-১২টি টিভি চ্যানেল চালুর অনুমতি দিলেও চালুকৃত চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বন্ধ করে দেওয়া সিএসবি নিউজ চ্যানেল চালুর অনুমতি দেওয়া হয়নি। দৈনিক আমার দেশ বন্ধ এবং সম্পাদককে গ্রেফতার করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় সরকার। বিগত বছরগুলোতে সাংবাদিক হত্যা ও নিপীড়নের দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। ২০০৯ সালের মার্চে ইউটিউবসহ বেশকিছু ওয়েবসাইটে বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত ফেসবুক বন্ধ করে দেয় সরকার। গত বছর অধিকার পরিচালিত নির্যাতন প্রতিরোধে মানবাধিকারকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও গণসচেতনতামূলক অনুমোদিত প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আটজন সাংবাদিক খুন হওয়াসহ এক হাজারের ওপর সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শেষ কথা : মহাজোট ক্ষমতায় আসার আগে তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখন আর মনোযোগী নয়। সরকারের দৃষ্টি এখন এজেন্ডাবহির্ভূত বিষয়গুলোতেই বেশি। সরকার একদিকে ভারতকে তড়িঘড়ি করে বিনাশুল্কে ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট দিতে ব্যস্ত, তেমনি তাদের আগ্রহ নির্যাতন-নিপীড়ন এবং জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে অবজ্ঞা করায়। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ফাঁকাবুলি রাজনৈতিক দলের ওপর জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার অভাবকে বিপজ্জনকভাবে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে সরকার ও জনগণ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। [ এম এম মুসা ● সাপ্তাহিক বুধবার musamiah@gmail.com ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস, যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!


স্টপ ! দুর্নীতিঃ

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

Corruption spreading like cancer in Bangladesh

Corruption spreading like cancer in Bangladesh

দুর্নীতি নিয়ে আজকাল মানুষের মুখে মুখে আলোচনার কোনো শেষ নেই। লেখালেখিও কম হচ্ছে না। প্রাচীনকাল থেকেই এ নিয়ে জনগণের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-কথাবার্তা চলে আসছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে রাষ্ট্রের কর্মকৗশল ও নীতিমালায় ‘দুর্নীতিকে’ একটি স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। বিলেতি শাসকদের সুপরিকল্পিত প্রশ্রয়ে রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম ও সমাজ জীবনে দুর্নীতি দৃঢ়মূল ও বিস্তৃত হয়। ব্রিটিশরা বিদায় নেয়ার পর পাকিস্তানি যুগেও ঔপনিবেশিক আমলের দুর্নীতির ধারা অব্যাহত থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশেও সেই দুর্নীতির ‘সংস্কৃতি’ ও ধারা দূর হয়নি, বরং তা আরো বেড়েছে।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলের শেষ বছরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দুর্নীতির ইসু্য নিয়ে আলোচনা বিশেষভাবে জোরদার হয়ে ওঠে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২, ২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ‘চ্যাম্পিয়নের’ আসনে অধিষ্ঠিত থাকে। হাওয়া ভবনকে কেন্দ করে সেসময় যে দক্ষ-মসৃণ দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়া প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে সংগঠিত সেনসেশনাল বিভিন্ন ঘটনা দুর্নীতি নিয়ে আলোচনাকে এক নম্বরে নিয়ে আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। বলা হয় যে, ‘চুনো-পুঁটিদের না ধরা হলেও দুর্নীতিবাজ রুই-কাতলাদের রেহাই দেয়া হবে না’। ধর-পাকড়, মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অচিরেই একথা পরিষ্কার হতে থাকে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আসল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক। মাইনাস-টু ফমর্ুলা কার্যকর করে ফরমাইসি শক্তিকে কৃত্রিমভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করাই এই অভিযানের লুক্কায়িত এজেন্ডা। উপরন্তু এরূপ খবরও জানাজানি হতে থাকে যে রুই-কাতলাদের আটক করে বা তাদেরকে ভয় দেখিয়ে কর্তৃত্ববান মহলের হাঙ্গর-কুমিররা দেদারসে ‘টু পাইস’ কামিয়ে নিচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে কেন্দ করে পরিচালিত দুর্নীতির ঘটনা সম্পর্কে অনেকের সুনির্দিষ্ট বিবরণ পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছে।

Bangladesh Prime Minister Sk Hasina

Bangladesh Prime Minister Sk Hasina

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী, দ্রব্যমূল্য, বিদু্যৎ ইত্যাদির সাথে সাথে দুর্নীতির ইসু্যটিও অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইসু্য হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যে পাঁচটি ইসু্যকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয় তার দ্বিতীয় নম্বরেই স্থান পায় দুর্নীতির বিষয়টি। মেনিফেস্টোতে বলা হয় যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে দ্রব্যমূল্য সমস্যা নিরসনে নিম্নোক্ত ৬টি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। “ঃ(১) দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। (২) দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। (৩) ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। (৪) রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের ঘুষ-দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনোপার্জিত আয়, ঋণ খেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালো টাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নিমর্ূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (৫) প্রতি দপ্তরে গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিক সনদ উপস্থাপন করা হবে। (৬) সরকারি কর্মকাণ্ডের ব্যাপকভাবে কম্পিউটারায়ন করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা হবে।”

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শাসনের প্রায় দু’বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। দুর্নীতির সমস্যা নিরসনের জন্য নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যে ৬টি কাজের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল তার মধ্যে ৫টি আংশিকভাবে ও ৬টি অতীব ক্ষুদ্র পরিসরে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রথম ৪টি প্রতিশ্রুতি পালনে কোন দৃষ্টিগ্রাহ্য পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। বরঞ্চ সেসব বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির অবনতি ও পশ্চাৎপসারণ ঘটেছে। দুদকের ক্ষমতা খর্ব করে তাকে কার্যত দন্তহীন বাঘে পরিণত করা হয়েছে। পাওয়ার সেক্টরের সব কাজকর্মকে বিচারের আওতা থেকে দায়মুক্তি দিয়ে আইন করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বদলে দুর্নীতি করার সুযোগ নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ করে ক্ষমতাসীনদের ক্যাডাররা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছে। এই যুদ্ধে তাদের শতাধিক কর্মী নিজেরাই নিজেদের হাতে মৃতু্যবরণ করেছে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ জনগণ দু’বছরেও জানতে পারেনি। একজন মাত্র মন্ত্রী ব্যতীত অন্য কেউ সম্পদ বিবরণ জমাই দেননি বলে খবরে প্রকাশ। ফ্রি স্টাইলে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি চলছে। কালো টাকা সাদা করার জন্য আবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে যা ঘটার তাই ঘটেছে। দেশে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে।

Former prime minister Begum Khaleda Zia

Former prime minister Begum Khaleda Zia

এখন হাওয়া ভবন নেই। তাই দুর্নীতির কেন্দ ীভবনকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাও নেই। দুর্নীতির ক্ষেত্রে এখন কার্যত এক ধরনের নিরঙ্কুশ বিকেন্দ ীকরণ ঘটেছে। দুর্নীতিবাজরা এখন প্রত্যেকেই আলাদা-আলাদা পেস্নয়ার, সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ ‘মিনি-হাওয়া ভবন’। প্রত্যেকেই আপন-আপন এসব ‘হাওয়া ভবনের’ একেকজন পরিচালক। ‘হাই ব্রিডরা’সহ লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী-ক্যাডারদের ‘স্বাধীন দুর্নীতির ব্যবসার’ ফলে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্রই অবধারিতভাবে সৃষ্টি হয়েছে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঠোকাঠুকি। এর স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে উদ্ভব ঘটেছে পরস্পরের মধ্যে হানাহানি, সংঘর্ষ, নৈরাজ্য। জনগণ সবকিছুই দেখছে। তাদের হতাশা, উদ্বেগ ও আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এসব দুষ্কর্মের অবাধ বিস্তার তাদের ক্ষোভকেও জাগিয়ে তুলছে। দুর্নীতি যে বাড়ছে তার উপলব্ধির পেছনে রয়েছে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা। এটা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা সৃষ্ট উপলব্ধি নয়। তবে হঁ্যা! যুদ্ধপরাধীদের রক্ষায় সচেষ্ট সেসব ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের হাতে তুলে দেয়া এতো সুন্দর এই সুযোগটি ষোল আনা কাজে লাগাতে তৎপর রয়েছে। তবে সে সুযোগ করে দিচ্ছে শাসক দলের দুর্নীতিবাজরা_ যারা সেই দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ করে অন্যভাবে তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে তারা নয়।

দেশে দুর্নীতি যে বেড়েছে সে সম্পর্কে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির প্রতিফলন ঘটেছে এবছরের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচকে’। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১ নম্বরে। ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে তা কিছুটা উন্নত হয়ে যথাক্রমে ছিল ৩, ৭, ১০ ও ১৩ নম্বরে। এবছর প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ থেকে ১২ নম্বরে নেমে গেছে। দুর্নীতিমুক্ত অবস্থানের সূচক অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ২.৪। এবারও তা ২.৪ই রয়ে গেছে।

Corruption in Bangladesh

Corruption in Bangladesh

প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য যে, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে সূচকে ১.১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এবার শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আছে আফগানিস্তান ও ইরাক। সকলেরই জানা আছে যে, এই দু’টি দেশই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত ও অধিকৃত দেশ। সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রার সাথে দুর্নীতির সূচকের সম্পর্ক অনুসন্ধান করাটা একটি আগ্রহোদ্দীপক বিশেস্নষণের বিষয় হতে পারে। বাহ্যিকভাবে এটাই দৃশ্যমান যে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো মার্কিন সেনাবাহিনী দখলকৃত দেশগুলো দুর্নীতির লীলাভূমি হিসাবে শীর্ষে জায়গা করে নিচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কিসের ভিত্তিতে ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক’ নির্ধারণ করে থাকে? এটি একটি খুবই প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এবং এমনকি সমাজ সচেতন শিক্ষিত মহলের কাছেও টিআই-এর সূচক নির্ধারণের অনুসৃত পদ্ধতির বিষয়টি যথেষ্ট পরিমাণে স্বচ্ছ নয়। টিআই-এর একটি জরুরি কর্তব্য হওয়া উচিত, তার সূচক নির্ধারণের পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ ব্যাখ্যা করে সব মহলকে অবগত করা। এটা করা হলে তার রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। ব্যাপারটাকে ‘ধারণা সূচক’ বলে আখ্যায়িত করলেও সকলকেই জানতে দিতে হবে যে, এই ধারণা সূচকের হিসাব কোন্ কোন্ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে। কি ধরনের কাজকে দুর্নীতিমূলক কাজ বলে আখ্যায়িত করা উচিত? এটা একটি প্রাথমিক ও মৌলিক প্রশ্ন। ‘বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত অভিধানে’ দুর্নীতি শব্দের অর্থ হিসেবে লেখা হয়েছে ‘যা নীতি বিরুদ্ধ, কুনীতি, অসদাচরণ’। সকলেই স্বীকার করবেন যে, এই সংজ্ঞা অনুযায়ী দুর্নীতি পরিব্যাপ্ত থাকতে পারে যেমন অর্থনীতিকে কেন্দ করে তেমনি তা সংগঠিত হতে পারে সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক, নীতি-নৈতিকতা প্রভৃতি পরিমণ্ডলেও। দুর্নীতি সম্পর্কে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, তা মূলত অর্থনীতি সম্পৃক্ত কোনো অনৈতিক কাজ আর্থিক দুর্নীতি একটি প্রধান বিষয় হিসেবে বিদ্যমান থাকলেও এর বাইরে সংগঠিত অন্য নানা ধরনের দুর্নীতির প্রকোপ মোটেও কম নয়।

দুর্নীতি সম্পর্কে আরো একটি সরল ভ্রান্তি রয়েছে। এমন একটি ধারণা কিছু মহল থেকে প্রচার করা হয় যে, দুর্নীতির বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পৃক্ত ব্যাপার। যে বিখ্যাত ইংরেজি উক্তিটি এক্ষেত্রে হরহামেশাই উদ্ধৃত করা হয় তা হলোঃ ক্ষমতা দুর্নীতির জন্ম দেয়, আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশ দুর্নীতির পথ করে দেয়। অর্থাৎ ক্ষমতাই হলো দুর্নীতির উৎস। সম্প্রতি চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতারা পরপর কয়েকটি সেমিনারে তত্ত্ব দিয়েছেন যে, বেসরকারি খাতে দুর্নীতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীদেরকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। কারণ তারা তো রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত নন। তারা ব্যবসা করে আইনসম্মতভাবে। কোনো ব্যবসায়ী আইন ভঙ্গ করে কিছু করলে সেটাকে একটি বেআইনি কাজ বলে গণ্য করা গেলেও তাকে কোনোভাবে ঘুষ-দুর্নীতির কোনো ব্যাপার বলে গণ্য করা যেতে পারে না।

The Fine Art of Policing in Bangladesh

The Fine Art of Policing in Bangladesh

এক্ষেত্রে দু’টি কথা বলা আবশ্যক। প্রথমত, শুধু রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ক্ষমতাই যে ‘ক্ষমতার’ একমাত্র রূপ সে কথা মোটেও সত্য নয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ‘ক্ষমতার’ আরেকটি রূপ। চূড়ান্ত বিচারে অর্থনৈতিক ক্ষমতাই অন্য সব ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক। তাই কথাটি অর্থনৈতিক ক্ষমতার-র ক্ষেত্রে আরো বড়ভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং ‘দুর্নীতি’ ব্যাপারটি কেবল রাষ্ট্র প্রশাসন রাজনীতি সম্পৃক্ত ব্যাপার, এর সাথে বেসরকারি খাতের কোনো সম্পর্ক নেই,_ এ ধরনের বক্তব্য কেবল যুক্তিহীনই নয়, তা শোষক শ্রেণীর স্বার্থে উত্থাপিত একটি প্রতিক্রিয়াশীল কুতত্ত্ব। দ্বিতীয়ত, এ কথাটিও বুঝতে হবে যে, যা আইনসঙ্গত সেটা যে ন্যায়-নীতি সম্মত হবে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আইনসম্মত হওয়া ও ন্যায়-নীতি সম্মত হওয়া_ এ দুটো ভিন্ন মাত্রার আলাদা দু’টি বিষয়। আইন যদি শোষকের পক্ষে ও শোষিতের বিপক্ষে হয় এবং ইনসাফ ও ন্যায়-নীতি বর্জিত হয় তাহলে সেক্ষেত্রে একটি আইনসম্মত কাজও ন্যায়-নীতি বিরুদ্ধ কাজ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় অনেক কাজই আইনসম্মত হলেও সেগুলো ন্যায়-নীতি বিরুদ্ধ, তথা দুর্নীতিমূলক কাজ। দেশ আজ সে আইনসম্মত অথচ ন্যায়-নীতি বর্জিত অনৈতিক কাজসহ এক সর্বব্যাপী ‘দুর্নীতির’ লীলাভূমি হয়ে উঠেছে। এর ফলে ধ্বংস হচ্ছে মানবতা, মানুষ, দেশ ও জাতি। এই ‘দুর্নীতি’ প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবন।

সমাজের এই বৈষম্য কবে যে দূর হবে!

সমাজের এই বৈষম্য কবে যে দূর হবে!

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জহির রায়হান ‘ঃ স্টপ। জেনোসাইড ঃ ‘ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি অসাধারণ ডকুমেন্টারি ফিল্ম রচনা করেছিলেন। এই প্রামাণ্য সিনেমাটি বিশ্ব বিবেককে জাগিয়ে তুলতে অমূল্য অবদান রেখেছিল। সাম্প্রতিক সময়কালে, বিশেষত গত এক দশক ধরে, দেশে ‘দুর্নীতির’ যেরূপ ভয়াবহ বিস্তৃতি ঘটেছে তাতে ‘স্টপ! দুর্নীতি’ নামে নতুন একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম রচনা করাটা আজ জরুরি প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে কম কঠিন কোনো কাজ নয়।

অনেকেই এ কথায় আপত্তি করে হয়তো বলবেন, ‘জেনোসাইড’ (গণহত্যা) আর ‘দুর্নীতি’-কে সমতুল্য অপরাধ বলে গণ্য করাটা কি সমীচীন? আমি বলবো, হঁ্যা! কখনো কখনো তা সমীচীন বটে। সমাজের মুষ্টিমেয় একশ্রেণীর ‘অমানুষের’ সীমাহীন অবাধ দুর্নীতি আজ ‘কেড়ে খাচ্ছে ষোল কোটি মানুষের মুখের গ্রাস’। তার পরিণতিতে অপুষ্টি, অর্ধাহার, অনাহার, চিকিৎসার অভাবে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনীশক্তি, জ্বালানির অভাবে ক্ষীণ হয়ে আসা প্রদীপ-শিখার মতো, অকালে নির্বাপিত হচ্ছে। এই অবস্থাকে এক ধরনের পরোক্ষ নীরব গণহত্যা বলে বিবেচনা করাটা কি ভুল হবে? দুর্নীতির ফলে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি যে সম্ভাব্য পরিমাণের চেয়ে দুই-তিন শতাংশ কম হয় তা অর্থনীতির পণ্ডিতরা হরহামেশাই বলে থাকেন। তবে, দুর্নীতির কুপ্রভাবের ব্যাপারটি পরিসংখ্যানের একটি বিমূর্ত ব্যাপার শুধু নয়। দুর্নীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে দেশবাসীর জীবনের শত শত কোটি বছরের জীবনের আয়ু, নীরব মৃতু্যর পথে ঠেলে দিচ্ছে শত-সহস্র মানুষকে।

হে মহান আল্লাহ - আমাদেরকে নেক হেদায়েত দান করুন, আমরা যেন "আশরাফুল মাখলুকাত" হতে পারি - আমিন।

হে মহান আল্লাহ - আমাদেরকে নেক হেদায়েত দান করুন, আমরা যেন "আশরাফুল মাখলুকাত" হতে পারি - আমিন।

‘দুর্নীতি’ একটি ভয়াবহ সামাজিক মরণব্যাধি। আমাদের চেনা-জানা ‘গণহত্যার’ মতো দুর্নীতিও একটি নিষ্ঠুর নরঘাতক। তাই গণহত্যার জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার চাই, একই সাথে চাই আরেকটি নরঘাতক ‘দুর্নীতির’ হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। চাই দুর্নীতিমুক্ত সমাজের প্রতিষ্ঠা। সে জন্য পরিচালনা করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মতোই আরেকটি লড়াই।

ষোল কোটি দেশবাসীর সামনে আজ তাই নজরুলের সেই দীপ্ত ঘোষণা প্রতিধ্বনিত করে বজ নিনাদে রণধ্বনি তোলার সময় এসেছে_ “যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,/ যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!”

[লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।]

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,

দুর্নীতির তালিকায় এবার বাংলাদেশের অবস্থান দ্বাদশ। গতবার ছিল ত্রয়োদশ। দুর্নীতি একটুও কমেনি


দুর্নীতি একটুও কমেনি

সমকাল প্রতিবেদক
দুর্নীতি একটুও কমেনি বাংলাদেশে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশ এবার এক ধাপ পিছিয়েছে। যদিও পয়েন্ট আগের মতোই। দুর্নীতির তালিকায় এবার বাংলাদেশের অবস্থান দ্বাদশ। গতবার ছিল ত্রয়োদশ। বাংলাদেশের এবারেরও পয়েন্ট ২ দশমিক ৪। ‘গতবারের সমান পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের এ অবস্থান থেকে ধারণা পাওয়া যায়, বাংলাদেশে দুর্নীতি হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি’_ বলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ২০০৯ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সূচকটি তৈরি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে দুর্নীতির সূচক-২০১০ প্রকাশ করা হয়। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরার জন্য সূচকটি প্রকাশ করে টিআই। বার্লিনভিত্তিক এ সংস্থাটি বলেছে, এটা প্রামাণ্য বিষয় নয়, তবে এ থেকে দুর্নীতি বিস্তারের একটি ধারণা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে টিআইবি। টিআই সূচকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩, ২০০৭ সালে ৭, ২০০৮ সালে ১০ এবং ২০০৯ সালে ছিল ১৩তম। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে।

টিআইর এবারের সূচকে দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া। তাদের পয়েন্ট ১ দশমিক ১, অর্থাৎ সূচক অনুযায়ী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় সোমালিয়ায়। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে যৌথভাবে আফগানিস্তান ও মিয়ানমার। তৃতীয় স্থানে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাক এবং চতুর্থ সুদান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান। অন্যদিকে সূচকে ৯ দশমিক ৩ পয়েন্ট নিয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের দিক থেকে আফগানিস্তান ৩, নেপাল ১০, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ ১১, শ্রীলংকা ২০ ও ভারত ২১তম অবস্থানে। তবে ভুটান ৪৪তম স্থান নিয়ে এ অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এ বছর ১৭৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪। গত বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৯। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে আরও আটটি দেশ। এগুলো হলো_ আজারবাইজান, হন্ডুরাস, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, সিয়েরা লিওন, টোগো, ইউক্রেন ও জিম্বাবুয়ে।

সূচকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে আরও রয়েছে_ ফিনল্যান্ড, সুইডেন, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, হংকং, ভুটান, ইতালি, থাইল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ বছর বেশ ক’টি দেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো_ ভুটান, চিলি, ইকুয়েডর, গাম্বিয়া, হাইতি, জ্যামাইকা, কুয়েত ও কাতার।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রত্যাশিত ফল আসেনি। অবস্থান ত্রয়োদশ থেকে দ্বাদশ হয়েছে। এটা ক্রমাবনতি। টিআইর সূচকে ১০ পয়েন্ট কেউ করতে পারেনি জানিয়ে তিনি বলেন, তার মানে হলো দুর্নীতি বিশ্বজনীন সমস্যা।

সূচক সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের এবারের পয়েন্ট গতবারের সমপর্যায়ে থাকাটা নিরাশাব্যঞ্জক, কারণ ২০০৮-এর তুলনায় ২০০৯-এ আমরা ০.৩ পয়েন্ট বেশি পেয়েছিলাম। এক বছরের ব্যবধানে ০.৩ পয়েন্ট বেশি পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছিল। সঙ্গত কারণেই প্রত্যাশা ছিল যে, গতবারের অর্জিত ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ হয়তো গতবারের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি পয়েন্ট পাবে, বিশেষ করে এমন পরিপ্রেক্ষিতে যখন দেশে এমন এক সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে যাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থান অন্যতম প্রাধান্য পেয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সূচকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অগ্রগতি হবে কি-না তা নির্ভর করছে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশন, তথ্য কমিশন, বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সরকারি প্রশাসন এবং মানবাধিকার কমিশনের মতো গণতন্ত্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং কার্যকারিতা বর্তমান সরকার কতটা নিশ্চিত করতে পারবে তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের অগ্রগতির সম্ভাবনা। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করাও দুর্নীতি প্রতিরোধে অপরিহার্য।

এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির চেয়ারম্যান এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, পরিসংখ্যানের দিক থেকে বাংলাদেশে দুর্নীতি হ্রাসে অগ্রগতি দেখছি না। তবে মানবাধিকার কমিশন গঠন, সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন কার্যকর করা, সংসদীয় কমিটিগুলো সক্রিয় থাকা ও সিটিজেন্স চার্টার তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, সংসদ অকার্যকর হয়ে আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পূর্ণ কার্যকর নয়। অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে দুদক। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সোনার নৌকা নিচ্ছেন, সার্ভিস চার্জের নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তি আইন পাস করা হয়েছে, সংসদীয় কমিটিগুলো স্বার্থে জড়িয়ে পড়ছে ইত্যাদি একটি দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে নেতিবাচক। তিনি বলেন, কেবল বক্তব্য দিলেই দুর্নীতি রোধ হবে না। রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থাকতে হবে।

অধ্যাপক মোজাফ্ফর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পর সংসদে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধে বক্তব্য দিয়েছেন বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখি না। অর্থমন্ত্রীর বারবার আহ্বানের পরও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও আয়কর রিটার্ন প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে অর্থমন্ত্রীর সম্পদের হিসেব দেওয়াকে স্বাগত জানান তিনি।

দুর্নীতির ধারণা সূচক-২০১০ অনুযায়ী ৯.৩ পয়েন্ট পেয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকার শীর্ষে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একত্রে অবস্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর। এশিয়ার সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিবেচিত সিঙ্গাপুর গত বছরের তুলনায় দশমিক ১ পয়েন্ট বেশি অর্জন করে এ বছর নিউজিল্যান্ড এবং ডেনমার্কের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে। গত বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরের অবস্থান ছিল তৃতীয়।

২০০৯ সালের মতো এ বছরও তালিকায় সর্বনিম্ন পয়েন্ট (১.১) পেয়েছে সোমালিয়া। দ্বিতীয় স্থানে আফগানিস্তান ও মিয়ানমার, তৃতীয় ইরাক এবং চতুর্থ সুদান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান। সিপিআই-২০১০-এ ১৭৮টি দেশের মধ্যে পরিচালিত জরিপের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দেশের পয়েন্ট ৫-এর নিচে যা বিশ্বে দুর্নীতির প্রবল মাত্রাকেই ইঙ্গিত করে। টিআইর চেয়ার হিউগেট লেবেল তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ২০১০ সালের ফল থেকে এটা স্পষ্ট, বিশ্বজুড়ে সুশাসনকে সুদৃঢ় করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যেহেতু দুর্নীতির কারণে বহু মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে তাই সব সরকারকেই সুনির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার প্রমাণ করে দেখাতে হবে। বস্তুত সব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুশাসন অপরিহার্য সমাধান।

দুর্নীতির ধারণা সূচক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক প্রণীত ও প্রকাশিত একটি সূচক। এ সূচকটি নির্ণয়ে টিআইবি কোনো ভূমিকা পালন করে না। এমনকি টিআইবির গবেষণা থেকে প্রাপ্ত কোনো তথ্য বা বিশ্লেষণ সিপিআইয়ে পাঠানো বা বিবেচনা করা হয় না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের টিআই চ্যাপ্টারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। রাজনীতি ও প্রশাসনে বিরাজমান দুর্নীতির ব্যাপকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণার ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দুর্নীতির তুলনামূলক অবস্থান নির্ণয়ের জন্য এ সূচক ব্যবহার করা হয়। যে দেশগুলো ০ থেকে ১০-এর স্কেলে ৩ বা তার কম পয়েন্ট পেয়ে তালিকার নিচে অবস্থান করে সিপিআই অনুযায়ী সে দেশগুলোতে দুর্নীতির ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে যে দেশের পয়েন্ট যত বেশি অর্থাৎ ১০-এর কাছাকাছি, সে দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা তত কম বলে সূচকে ধারণা করা হয়।