একটি ছবির গল্প


একটি ছবির গল্প [ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী মাসুদ হাসানের ৪ সহোদর ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১ তারিখে বিশ্বাসঘাতক রাজাকারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় – আমরা তাদেরসহ সকল নিহত-আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাই – জাহান হাসান, একুশ নিউজ মিডিয়া ]
শফিকুল ইসলাম স্বপন
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সকালবেলা তখনো সম্পূর্ণ মুক্ত হয়নি দেশ, তখনো সারেন্ডার হয়নি, রাস্তাঘাটে পাকসেনা হাঁটছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে মুক্তিযোদ্ধারা এসে জমায়েত হচ্ছে। ভারতীয় ট্যাঙ্ক এসে জমা হচ্ছে। মৃত্যু ভয়ে নয়, আমার খুব খারাপ লাগছিল, তাই আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না। শাহার শহীদ হয় ১৪ ডিসেম্বর রাতে। আমাদের ঢাকা গ্রুপের মানিক ভাই শহীদ হন ১৪ নভেম্বর। তারপর নাসির উদ্দীন ইউসুফ ছিলেন আমাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তিনি আমাদের কমান্ডার হলেন এবং ঢাকা শহরের দায়িত্ব ছিল আসাদের উপর। সাভারে আমাদের ট্রেনিং ক্যাম্প। সেখান থেকে ঢাকা এসেছিলাম ফিল্ম এবং ওষুধপত্র নিয়ে যেতে। সম্ভবত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে অথবা নভেম্বরের শেষে। সব যোগাড়-যন্ত্র করে যখন আমাদের সাভারের ট্রনিং ক্যাম্পে ফিরব, হঠাত্ খবর পেলাম ঢাকার ভেতরে আমরা যারা আছি তারা যেন কোন অবস্থাতেই ঢাকা শহর থেকে বেরিয়ে না যাই। সামনেই ঢাকা শহরে শুরু হবে প্রচণ্ড আক্রমণ এবং আমরা ভেতরে যারা আছি তাদেরকে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও শহরের ভেতরে যুদ্ধ করতে হবে। তাই প্রত্যেকের কাছে একটি করে অস্ত্র রেখে যার যার অবস্থানে থাকতে হবে।

শফিকুল ইসলাম স্বপন

শফিকুল ইসলাম স্বপন


আগেও আমাদের অস্ত্র ধরা পড়ে, সবশেষে আমাদের অস্ত্র একসাথে জমা ছিল শাহারদের বাসায়, ফার্মগেটের খুব কাছে। সেদিন ১৫ ডিসেম্বর সকালবেলা বাবলু (যে বাবলুর সাথে আমি পালিয়েছিলাম এক কাপড়ে), আসাদ আর আমার দুলাভাই মাহবুব মোরশেদ রেলওয়েতে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন (তিনি আজ নেই), প্রচণ্ডভাবে আমাদেরকে সাহায্য করতেন রেলওয়ের সমস্ত ম্যাপ থেকে শুরু করে যত কিছু আমাদের প্রয়োজন হয়েছে সব কিছুতেই। দুলাভাই বলেন— “সবার যাওয়ার দরকার নেই। স্বপন তুই থাক। Air Action কিছু হলে তুই ছবি তুলতে পারবি। বরং আমি গাড়ি নিয়ে আসাদকে আর বাবলুকে নিয়ে যাচ্ছি। শাহারের বাসা থেকে আমরা তোদের অস্ত্রগুলো নিয়ে আসি। বস্তায় ভরে, গাড়ির পেছনে করে নিয়ে আসি, কেউ টের পাবে না”। প্রচণ্ডআর বাবলু দুলাভাইয়ের সাথে গাড়ি নিয়ে গেল। আমি বাসায় অপেক্ষায়। অনেকক্ষণ পর ফিরে এলেন দুলাভাই। সভার মুখ কালো, কেউ কিছু বলছে না। আমাকে শুধু বললেন-অস্ত্র আনতে পারিনি। পরে কখন যেন দুলাভাই আমাকে আস্তে আস্তে বুঝিয়ে বলেন যে, গতরাতে শাহারের বাসায় আর্মিরা হামলা করেছিল। শাহারের এক বন্ধু অথবা পরিচিত কেউ একজন গোপনে আর্মিকে খবর দেয়। শাহাররা চারজন একসাথে ছিল ওই রাতে। ওর বাবা-মা অন্য জায়গায় থাকতো। ওদেরকে মেরে ফেলে রেখে গেছে উঠানে। ওরা উঠানে পড়ে আছে এবং বাড়িতে কোন অস্ত্রশস্ত্র নেই। যা ছিল সব নিয়ে গেছে। দেখেই বুঝা যায় হয়তো বন্ধু বেশে ডাক দিয়েছে, শাহার একটু বাইরে আয়। সরল বিশ্বাসে হয়তো শাহার দরজা খুলেছিল এবং চারজনকেই ১৪ ডিসেম্বর রাতে একই সাথে শহীদ হতে হলো। ওই পাড়ার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ছেলেরা অবশ্য সেই বিশ্বাসঘাতক রাজাকারকে ১৬ তারিখ সকালে ধরে নিয়ে এসেছিল। আমি এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলেই আবার চলে যাই অন্যদিকে। প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলাম বুকের ভেতরে। আজও সেই কষ্ট আমি ধারণ করে আছি, যা কোনোদিন ভুলবো না, ভোলা যায় না।
লেখক : চলচ্চিত্র গ্রাহক ও আলোকচিত্র শিল্পী

Source: http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMDRfMTJfMV8yXzFfMTIwNg==
মাসুদ হাসানের কথাঃ
In this story Shapan Bhi describe my brother’s Makon,Roton, Lucky and Shaher, my 4 brother’s whom Pakistani army killed on 14th December 1971 in our framgate house. As like he said our house was a depot for 3/4 group of muktizodda’s arms and ammunition. Shahar was known as TIGER SHAHAR in Manic group with Shapan bhai, Naseruddin Yosuf Bachoo and actor/movie hero Assad.
মাসুদ হাসান Masud Hassan

মাসুদ হাসান Masud Hassan


On 16th December around 3 pm me ,my father, my younger brother and few hundred Muktizodda together put them in rest in front our house. May GOD bless them. Actually 5 member of my family was killed that 14th December 1971 in our framgate house my four brother’s and my cousin Nehal bhi.Shahar was memder of Manic group, Lucky was member of Mostafa Mohossin Montoo group and Nahal was member of student leader Khosru (later known as Hero Khosru in ORA AGARO ZON movie) and Roton was a member in a intelligent group working in Tejgon Airport my older brother also a member with them working in State Bank Pakistan now Bangladesh bank.

এনাহেইমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন


এনাহেইমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন


ছবিঃ জাহান হাসান, একুশ

লস এঞ্জেলেস, মে ২৫, ২০১২। আজ ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এন আর বি ইউ এস এ, মেড ইন বাংলাদেশ ও বাংলার বিজয় বহর ২০১২’র যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিজনীল্যান্ড-এর জন্মস্থান ক্যালিফোর্ণিয়ার এনাহেইম শহরের এক মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান ড প্রফেসর রফিকুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আলোচনায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সৃজনকর্ম সম্পর্কে নানা দিক তুলে ধরা হয়। কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় প্রবাসী চলচ্চিত্র অভিনেতা মিঠুন ও তাস হক নজরুলের গান পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ভাষা সৈনিক ও চিকিৎসাবিদ ডাঃ মোঃ সিরাজুল্লাহ, সাউথ এশিয়ান বিজনেস নেটওয়ার্কের (সাবান) প্রধান মোহাম্মদ ইসলাম, ইউ এস বি বি এফ এর ডিরেক্টর সাংবাদিক মোঃ জাফরুল্লাহ, মূলধারার পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক মোঃ ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেসের (বাফলা) প্রেসিডেন্ট শামসুদ্দিন মানিক, আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার প্রেসিডেন্ট সোহেল রহমান বাদল, সামাজিক সংগঠন বনফুল ও বাংলাদেশ ফিজিশিয়ান অর্গানাইজেশন অব ক্যালিফোর্ণিয়ার কো-ফাউন্ডার ডাঃ মোয়াজ্জেম ও ডাঃ রুবী হোসেন, ঢাকা হোটেলিয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাফি আহমেদ, লিটল বাংলাদেশ ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাষ্ট লিঃ এর পরিচালক মুজিব সিদ্দিকী, অরেঞ্জ কাউন্টি গ্রীষ্মমেলা ২০১২ আহবায়ক নেতৃবৃন্দ মামুন, রেজা, রাজু, রবি, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক কে এম জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব ইয়াহিয়া, সৈয়দ দিলির হোসেন দিলির, সাংবাদিক জাহান হাসান, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, কুদ্দুস খান, কবি ফারহা সাঈদ, অভিনেত্রী নিপা মোনালিসা প্রমুখ। এছাড়া লস এঞ্জেলেস, ইংল্যান্ড অ্যাম্পায়ার, রেডল্যান্ড, ল্যাংকাষ্টার থেকে বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্ব পালন করেন এন আর বি ইউ এস এ, মেড ইন বাংলাদেশের পরিচালক তারিক বাবু ও ফারহানা টিনা। অনুষ্ঠানের শেষে তারিক বাবু ও ফারহানা টিনার বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের স্বুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে টেস্ট অব বাংলাদেশ।

ছবিঃ সৈয়দ এম হোসেন বাবু

ছবি লিংকঃ ক্লিক করুনঃ

ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ


ঢাকার বাতাসে বিষ

বুধবার প্রতিবেদন ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ। বাতাসের দূষণ এতটাই মাত্রাতিরিক্ত যে, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বছরে কয়েক হাজার মানুষ মারা যায় এ দূষণের কারণে। এছাড়াও লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন শ্বাসজনিত রোগে ভোগে। জাতীয় পর্যায়ে রাজধানীর বাতাস দূষণের বোঝাটি এতটাই ব্যাপক যে প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প পরিমাণের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর এটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি সমাপ্ত বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বায়ু দূষণ দেশের মৃত্যুহার এবং মানুষের কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ।

ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা সম্প্রতি এতটাই বেড়েছে যে, বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা দূষিত উপাদানের কারণে মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা শ্বাসনালী সংক্রান্ত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। বায়ু দূষণের কারণে ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি রক্তশূন্যতাও দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দূষিত বায়ুর কারণে শিশুরা এলার্জি, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত রোগ এতটাই প্রকট যে, তা ডায়রিয়ার প্রকোপকেও ছাড়িয়ে গেছে। দূষিত বাতাসের মাধ্যমে ফুসফুসে সিসা ও অদৃশ্য বস্ত্তকণা ঢুকে নিউমোনিয়া ও রক্তস্বল্পতা দেখা দিচ্ছে। তবে তারা বলছেন, এসব রোগ আগেও ছিল। আর ১০ বছরে তা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। তাছাড়া, আগে সামান্য পরিচর্যায় এসব রোগ ভালো হলেও এখন শিশুদের বয়স্কদের মতো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

শনিবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দীর্ঘ লাইন- যাদের একটি বড় অংশই শ্বাসজনিত রোগী। কথা হয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সুমা আক্তারের (১৩) পিতা সিদ্দিক মোল্লার সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে সুমা মাঝে মাঝে মাথায় ব্যথা অনুভব করছে। বিশেষ করে স্কুল থেকে ফেরার পর মাথা ব্যথাটা বেশি অনুভব করে। বর্তমানে যন্ত্রণা অনেক বেশি হয়েছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। লিপি মন্ডলের বয়স মাত্র সাত বছর। কিন্তু এই বয়সেই তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে লিপির শ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিপির মা নমিতা মন্ডল বলেন, আমাদের বংশে কারো শ্বাসকষ্ট রোগ নেই। তারপরও কী কারণে আমার মেয়ের এ রোগ হলো তা বুঝতে পারছি না। রক্তশূন্যতায় ভোগা সিহাবের (৭) মা নূরু-উন-নাহার জানান, শিহাবের বাবা রিকশা চালায়। দীর্ঘদিন ধরে সে রক্তশূন্যতায় ভুগছে। বর্তমানে একই সঙ্গে তার শ্বাসকষ্ট রোগ হয়েছে। শুধু সুমা, লিপি, সিহাব ও মিম নয় ঢাকা শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের প্রতি সাতজনের চারজনই অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত।

একই চিত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে। এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের একটা বড় অংশ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। তসলিমা আক্তারের (১০) মা জাহানারা বেগম জানান, তার মেয়ের রাতে প্রচন্ড কাশি হয়। একই সঙ্গে তসলিমার শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। রেজাউল করিমের (৭) পিতা করিম উদ্দিন বলেন, রেজাউলের প্রায় সময়ই মাথা ব্যথা করে। কাশিও হয়। তবে কাশির সঙ্গে কোনো কফ নেই। আর মাঝে মাঝে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।  কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন হচ্ছে বলে তিনি জানান। সেকেন্দারের (৯) পিতা এনামূল হক জানান, গত সপ্তাহে একবার এনামুলকে ডাক্তার দেখানো হয়। ওষুধ খাওয়ানোর পর শ্বাসকষ্ট কিছুটা কম হয়েছে। তবে এখনো রাতে মাঝে মাঝে সমস্যা দেখা দেয়। ফারহানা আক্তারের (৪) পিতা স্বপন মোল্লা জানান, জন্মের সময় থেকে তার অ্যাজমার সমস্যা ছিল বলে ডাক্তার জানিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি মেয়েকে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি। বর্তমানে তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

ইবনে সিনা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের শতকরা প্রায় ১১ ভাগ রোগীই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। এক সপ্তাহে ইবনে সিনার ধানমন্ডি শাখার জরুরি বিভাগে ১৯৫ জন চিকিৎসা নিয়েছে। যাদের মধ্যে ২৩ জনই ব্রঙ্কিয়ালে আক্রান্ত। এছাড়া একই কারণে হাসপাতালটিতে গত এক সপ্তাহে ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ফারুক রেজার (৬) পিতা রফিক রেজা জানান, শুক্রবার ও শনিবার তিনি ছেলেকে নিয়ে বই মেলায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ফারুকের কাশি হয়। শ্বাস নিতে সামান্য কষ্টও হচ্ছিল। পরে সমস্যা আরো বেড়ে গেলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তামান্না জাহান রোজির (৪) মা রোকেয়া আক্তার বলেন, রোজির জন্মের পর থেকেই এমন সমস্যা। সামান্য ঠান্ডা লাগলেই শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। তাই মেয়েকে সবসময় সাবধানে রাখি। কিন্তু বর্তমানে কোনো কারণ ছাড়াই সমস্যা লেগেই থাকছে। হালিমা আক্তার জ্যোস্নার (১৩) মা হাসিনা আক্তার বলেন, শীতের শুরুতে জ্যোস্নার সামান্য সর্দি-কাশি হয়। এটা জন্মের পর থেকেই হচ্ছে। তবে দুই-এক সপ্তাহ পর সাধারণত ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর পুরো শীতকাল জ্যোস্না সর্দি-কাশিতে ভুগেছে। আর বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।

এ ব্যাপারে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু) অধ্যাপক তাহমিনা বেগম বলেন, বায়ু দূষণের কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সঙ্গে বিষাক্ত সিসা প্রবেশ করছে। ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক হারে কমে যাচ্ছে। তাই সামান্য কারণেই তারা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে তা শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা বা নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে। শহরে বায়ু দূষণের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে এসব এলাকায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, আমার ২২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে বলতে পারি আগের থেকে এখন শিশুরা এসব রোগে প্রায় তিনগুণ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, বায়ু দূষণের কারণে সাধারণত শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া করা, নিউমোনিয়া, রক্তদূষণ, চর্মরোগ হয়ে থাকে। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে সিসা ও অদৃশ্য বস্ত্তকণার হার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা এলার্জি, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা জাতীয় রোগে আক্রান্ত। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত এমন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াদুদ গনি বলেন, বর্তমানে যেসব শিশু চিকিৎসাসেবা নিতে আসছে তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ব্রঙ্কিয়াল রোগে ভুগছে। আগেও শিশুদের এসব সমস্যা দেখা যেত। সে সময় পরিচর্যা আর সামান্য চিকিৎসা নিলে সাধারণত ভালো হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সমস্যাটা পূর্ণবয়স্কদের মতো করে দেখা দিচ্ছে। তাদের দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে।

শ্বাসজনিত রোগের কারণ ও প্রকোপ যে কতটা প্রকট তার প্রমাণ মিলে পরিবেশ বিভাগের তথ্য থেকেও। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাপক জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা যদি বর্তমান পর্যায় থেকে শতকরা ২০ ভাগও কমিয়ে আনা যায় তাহলে বছরে কম করে হলেও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যায় এমন ১২০০ থেকে ৩৫০০ মৃত্যু ঠেকানো যায়। এছাড়াও প্রতি বছর কম করে হলেও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ থেকে ১০ কোটি কমে আসত।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশ সরকারের ‘নির্মল বাতাস ও টেকসই পরিবেশ’ প্রকল্পের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে রাস্তায় ব্যাপক সংখ্যক গাড়ি ও আশপাশের ইটের ভাটা থেকে উৎসারিত ধোঁয়াশা, রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি ও দালানকোঠা নির্মাণ কাজ থেকে উৎসারিত দৃশ্য ও অদৃশ্য কণা, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কারখানার বর্জ্য ইত্যাদি। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই বায়ু দূষণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে পারলে সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যয় বছরে ১৭ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় করা যেত।

পরিবেশ অধিদফতরের সূত্রে ঢাকার একটি দৈনিকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে কম করেও ২৫০ মাইক্রোগ্রাম ধূলিকণা ভেসে বেড়াচ্ছে। সবচেয়ে শঙ্কার ব্যাপার সহনীয় মাত্রার চেয়ে এই পরিমাণ কম করেও পাঁচগুণ বেশি। ঢাকার বাতাসে সাধারণ ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো হচ্ছে সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ওজোন, হাইড্রোজেন সালফাইড, বিভিন্ন ধরনের সালফেট ও নাইট্রেট এবং দ্রবীভূত বিভিন্ন জৈব পদার্থ ইত্যাদি। এর সঙ্গে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষাক্ত ধাতব যৌগ। এসব ধাতব পদার্থের মধ্যে রয়েছে সীসা, পারদ, ম্যাংগানিজ, আর্সেনিক, নিকেল ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে বেঞ্জিন, ফরমালেডেহাইড, পলিক্লোরিনেটেড বাইফেনাইল, ডক্সিন ও অন্যান্য অদ্রবীভূত জৈব যৌগ।

বাতাসে এসব বিষাক্ত পদার্থ এত পরিমাণেই ভেসে বেড়াচ্ছে যে, ঢাকাকে তা একটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ঢাকার বাতাস যে কতটা বিষাক্ত ও দূষিত তার প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত একটি সমীক্ষা থেকে। এই সমীক্ষার ফলাফল দিয়ে তারা যে এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ২০১২ তৈরি করেছে, সে অনুযায়ী বিশ্বের মোট ১৩২টি দূষণ আক্রান্ত নগরীর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৩১তম।

বাংলাদেশ পরিবেশ বিভাগের পরিমাপে, মাত্রা অনুযায়ী প্রতি কিউবিক মিটার বাতাসে ২.৫ মাইক্রনের ৬৫ মাইক্রোগ্রাম ও ১০ মাইক্রনের ১৫০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সহনীয়। কিন্তু এই বিভাগের পরিমাপে শীত ঋতুতে এই মাত্রা ২৭৪ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০০৮ সালে ঢাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ছিল গড়ে ৩৩৯ দশমিক ২৩ মাইক্রোগ্রাম, ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৮ দশমিক ১৩ মাইক্রোগ্রাম এবং ২০১০ ও ২০১১ সালে পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ঘনমিটারে ৫৩৮ দশমিক ২০ ও ৬২৮ দশমিক ১২ মাইক্রোগ্রামে। একইভাবে বেড়েছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন যৌগসহ সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য কণা।

পরিবেশ বিভাগের মতে, এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাতাসে বিভিন্ন ধরনের কণার পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে কম থাকে। কিন্তু নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ ভয়াবহ আকারে বেড়ে যায়। এ সময় এই পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে ৪৬৩ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই দূষণের মাত্রা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বায়ু দূষণের শিকার বলে পরিচিত দুটি শহর মেক্সিকো ও মুম্বাইয়ের বায়ু দূষণের মাত্রা হলো প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৩৮৩ ও ৩৬০ মাইক্রোগ্রাম।

বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হচ্ছে অটোমোবাইল, ইটের ভাটা, শিল্পবর্জ্য, যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা নির্মাণ ও রাসায়নিক কারখানা, অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো (সড়ক, গৃহ) নির্মাণ কাজ, মেরামত, নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনীহা ইত্যাদি। ২০০২ সালের আগে গ্যাসোলিন দিয়ে গাড়ি চালানো, পুরনো গাড়ি বিশেষ করে টু স্ট্রোক অটোরিকশা বাতিল করায় ও সিএনজি দিয়ে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশ বিভাগের তথ্য মতে, নতুন করে ডিজেল চালিত পুরনো গাড়ি, ইটের ভাটা ও অবকাঠামো (গৃহ ও রাস্তাঘাট) নির্মাণ নিয়ন্ত্রণহীন বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকাসহ যত্রতত্র গজিয়ে গাড়ি মেরামত ও রড সিমেন্টের দোকান। নগরজীবনে প্রতিদিনের পারিবারিক ও গৃহস্থালী কাজের বর্জ্য নিষ্কাষণ ব্যবস্থার অসচেতনতাও দুষণের বড় কারণ। এরই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড়ের চিত্রে।

যেহেতু বায়ু দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত, তাই এর মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা অসম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজন উদ্যোগের। এর দায় সরকারের।
http://budhbar.com/?p=7771

…unity within diversity adds a richness and beauty to marriage and to life…


দুই ধর্মের মানুষের বিয়ে

লেখক: রফিকুল বাসার

০০ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রেখে সংসার করছেন অনেক দম্পতি
০০ বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম, যাদের উত্তরাধিকার সূত্রে ধর্মীয় কোন পরিচয় নেই
০০ এটাকে সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন বলছেন সমাজবিজ্ঞানীরা

ধর্ম পরিবর্তন না করেই দু’টি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে। একই ধর্মের দু’জন বিয়ে করে ঘর সংসার করতে হবে এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন অনেকেই। দুই ধর্মের দু’জন তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ঠিক রেখে বিয়ে করছেন। আচার-আচরণ পালন করছেন যে যার বিশ্বাস মত। এভাবে দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে করে সংসার করছেন অসংখ্য দম্পতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের জুটি এখন অনেক। আর এই বিয়ের ফলে বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম। যারা উত্তরাধিকার সূত্রে কোন ধর্মীয় পরিচয় বহন করছেন না। আধুনিক সমাজে সেটা প্রয়োজনও মনে করছেন না অনেকে। এই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেই একটি ধর্ম বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে আসছেন। তবে রাষ্ট্র আইন করে এমন বিয়ের ব্যবস্থা করলেও এইসব পরিবারের সম্পত্তি বন্টনের জন্য কোন আইন নেই।

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন। স্বাধীন সার্বভৌম দেশে সকলেই তার মত প্রকাশে স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। নানা মতের, ধর্মের মানুষ এক সাথে বসবাস করবে এটাইতো গণতন্ত্র। আদর্শ সমাজ। বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (সংশোধিত ২০০৭) অনুযায়ী এই বিয়ে হচ্ছে। এই আইন অনুযায়ী, একজন মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, ইহুদি বা অন্য যে কোন ধর্মের যে কেউ যে কারো সাথে বিয়ে করতে পারবে। ধর্মের পরিবর্তন করা প্রয়োজন হবে না। অথবা দু’জনই ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দিয়ে বিয়ে করতে পারবে। অথবা একজন অন্যজনের ধর্ম মেনে নিতে পারবে। তবে নাবালকের সাথে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী এই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার জন্য সরকার একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশে একজনই এই বিয়ে পড়িয়ে থাকেন।

” … পৃথিবীর উন্নত প্রায় প্রত্যেক দেশে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বিয়ের ব্যবস্থা আছে। এমন কি জীবন যাপনে আমাদের যেমন ধর্মীয় পরিচয় দিতে হয়। নানা ফরম পূরণ করতে গিয়ে লিখতে হয় ধর্ম। তা অনেক দেশেই নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুই ধর্মের দুইজন বিয়ে করতে পারে। আইনগত কোন সমস্যা নেই। এছাড়া ইউরোপ আমেরিকাতেও একই অবস্থা। সেখানে শুধু বিয়ে নয়, কোন কাজেই ধর্মীয় পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন হয় না। …”


প্রায় প্রতিমাসেই এই বিয়ে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই বিয়ের হার বেড়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে এপর্যন্ত এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ দম্পত্তি কোন ধর্ম পরিবর্তন না করেই এমন বিয়ে করেছেন। এদের মধ্যে ছেলে হিন্দু, মেয়ে মুসলমান। কিম্বা ছেলে মুসলমান, মেয়ে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। অনেকে আছেন আবেগে বিয়ে করছেন। অনেকে জেনে বুঝে গন্ডি ভাঙ্গার তাগিদে। অনেক পরিবার আছে এই বিয়ে মেনে নিচ্ছেন, আবার অনেক পরিবার আছে যারা মানছেন না।

ঈশান, নৈর্ঋত, নৈতিক। তিন ভাই। ওদের বাবা হিন্দু, মা মুসলমান। বাবা ব্যবসায় করেন, মা চাকরি। তিন ভাইই বয়সে এখনো ছোট। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে ওদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ওদের বাবা-মা। ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই ওরা এই সমাজে বেড়ে উঠছে। ওদের বাবা উজ্জল বালো মনে করেন, ধর্মীয় পরিচয় প্রয়োজন নেই। ‘মানুষ’ হবে এটাই বড় পরিচয়।

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ স্বাধীন। যে যার ইচ্ছে তার সাথেই বসবাস করতে পারে। এখানে কোন বাধা নেই। দুই ধর্মের দু’জনের মধ্যে ভাল লাগার এক পর্যায়ে বিয়ের প্রসঙ্গ আসলে সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা দু’টো, একটা সমাজ-পরিবার আর একটা নিয়ম না জানা। সে জন্য একজন ধর্মান্তরিত হয়ে অন্যজনের সাথে জীবন যাপন করে। এক্ষেত্রে একজনকে তার ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তন করতে হয়। একজনকে ছাড় দিতে হয় অনেক বেশি। কিন্তু কেউ কারো বিশ্বাস থেকে সরে না এসেও বিয়ে করছেন। এটা সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন। সমাজ যে কুসংস্কার, কূপমন্ডুকতা থেকে বের হয়ে আসছে তার উদাহরণ। উদার মনের পরিচয়। অন্যের বিশ্বাসের প্রতি আস্থা রাখা। সকলকে মত প্রকাশ করার সুযোগ বা স্বাধীনতা দেয়া। তবে এ স্বাধীনতা দেশের শহরাঞ্চলের মানুষ যতটা ভোগ করছেন গ্রামে ততটা নয়। তবে এক্ষেত্রে সমস্যা উত্তরাধিকারদের সম্পত্তি ভাগ নিয়ে। বাংলাদেশে ইসলাম, হিন্দু ও খৃষ্টান ধর্মীয় আইনে সম্পত্তি ভাগ হয়। কিন্তু এই পরিবারের সম্পত্তি যদি বাবা-মা ভাগ করে দিয়ে না যান বা উইল না করেন, তবে ভাগ করার কোন নিয়ম নেই।

আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমদ দুই ধর্মের দু’জনের বিয়ে বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, স্বাধীন দেশে মানুষের স্বাধীনতা আছে। সেই স্বাধীনতা তারা ভোগ করছে। এখানে সবাই স্বাধীন। যে যার মত পারে। রাষ্ট্র তাকে স্বাধীনভাবে চলার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা দিয়েছে এবং দিয়ে যাবে। দেশে সামাজিক পরিবর্তন হবে। মানুষের চিন্তার বিকাশ হবে। এক একজন এক একটা ভাববে কিন্তু অন্যের ক্ষতি করবে না এটাইতো স্বাভাবিক। দুই ধর্মের দম্পতির সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে কিভাবে বন্টন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্পত্তি যার নামে তিনি যে ধর্মের হবেন সম্পত্তিও সেই ধর্মের নিয়মে ভাগ হবে। বাবা যদি মুসলমান হন এবং সম্পত্তি যদি তার নামে থাকে তবে মুসলিম আইনে ভাগ হবে। আর মা যদি হিন্দু হন আর তার নামে সম্পত্তি থাকে তবে হিন্দু আইনে। কোন রকম সামাজিক সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত, কোন আইনগত বাধা না আসা পর্যন্ত এই বিয়ে বিষয়ে নতুন আইনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

” … আবেগটা কমিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে চলা ভাল। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। কোন একটা শক্তির কাছে নিজেকে সপে দিতে চাই। বিশ্বাস না করার জন্য একটা আলাদা শক্তি লাগে। আমার সেটা নেই। দুটো মানুষের সম্পর্ক এখানে বিষয়। ধর্মতো কোন বিষয় না। ধর্ম বাদ দিয়েও কেউ একসাথে থাকতে পারে। সেটা তাদের নিজেদের বিষয়। ধর্মটা আমার কাছে নিজের। বিশ্বাসটা আমার মতো। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান। এখানে ধর্ম কোন বিষয় না। আমার ব্যক্তি জীবনে নিজের এত বড় শক্তি নেই যে, আমি বিশ্বাসটাকে ফেলে দেব। আমার একটা আশ্রয় প্রয়োজন। …”


প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে এমন বিয়ে পড়ানোর একমাত্র স্থান পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলি। প্রাণেশ সমাদ্দার এই বিয়ের রেজিস্ট্রার। একই সাথে তিনি রাজধানীর পাটুয়াটুলির শরত্চন্দ্র ব্রাহ্ম প্রচারক নিবাসের আচার্য ও ট্রাস্টি। সেখানেই থাকেন তিনি। প্রাণেশ সমাদ্দার বলেন, শুধু ঢাকা নয় দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও ছেলে মেয়েরা আসে বিয়ে করতে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের আসতেই হয়। কারণ কোর্টে বিয়ে করলে বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন প্রমাণপত্র পাওয়া যায় না। অবশ্য কোর্টে দুই ধর্মের দু’জন বিয়ে করতে পারে না। অনেক সময় যারা জানে না তারা প্রথমে কোর্টে যায়। আর তখন আইনজীবীরা এখানে নিয়ে আসে। এখানে বিয়ে হলেও ডিভোর্স করানো যায় না। ওটা করতে হয় কোর্টে।

সূত্র জানায়, বিয়ের ১৪ দিন আগে রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিস দিতে হয়। এরমধ্যে কারো কোন আপত্তি থাকলে সে তা জানাবে। তারপর তিনজন সাক্ষী আর পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হতে হবে। নির্দিষ্ট ছকে ছেলে-মেয়ে দু’জন স্বাক্ষর করবে আর স্বাক্ষর করবে তিনজন সাক্ষী। এতেই হয়ে যাবে দু’জনের বিয়ে। সামাজিক আর কোন আনুষ্ঠানিকতা এখানে নেই। তবে বিয়ের পরে কেউ কেউ মিস্টি নিয়ে আসেন। উপস্থিত সবাই মিষ্টি খেয়ে নব দম্পতির মঙ্গল কামনা করেন।

বিশিষ্ট অভিনেতা এবং হিন্দু ও মুসলিম মিলিত পরিবারে বেড়ে ওঠা ত্রপা মজুমদার এমন পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিজেকে গর্বিত মনে করেন। তিনি বলেন, আমি এমন পরিবারে জন্মে গর্ব বোধ করি। যত সহজে ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে দেখতে পারি তা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ যদি এভাবে জীবন গড়তে চায় তবে তাকে আমি সাধুবাদ জানাবো। তবে আমার মা-বাবা বলে, দরকার নেই। কারণ এভাবে জীবন কাটানোর সংগ্রামটা অনেক বেশি কঠোর। আবেগ দিয়ে অনেকে এটা করে ফেলে। আবেগটা কমিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে চলা ভাল। আমি মনে করি কোন সমস্যা নেই। ধর্মটা একটা ব্যক্তিগত বিষয়। যে যার মতো ধর্ম পালন করবে। এখানে এক সাথে বসবাস করাতে কোন সমস্যা নেই। ছোট বেলা থেকে কিছু কিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক বা অন্য অনেকে বলেছে, তুমি কোন ধর্ম পালন কর? তোমার মা-বাবা কে কোন ধর্ম পালন করে? তখন খারাপ লাগতো। বিব্রত হতাম। বড় হওয়ার পরে আর খারাপ লাগে না। বিব্রত হই না। দাদু বাড়িতে যাই। সেখানে তাদের মত সব ধরনের হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে। আবার নানু বাড়িতে যাই সেখানেও সব ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে। তবে আমি নিজে ইসলাম ধর্ম চর্চা করি। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। কোন একটা শক্তির কাছে নিজেকে সপে দিতে চাই। বিশ্বাস না করার জন্য একটা আলাদা শক্তি লাগে। আমার সেটা নেই। দুটো মানুষের সম্পর্ক এখানে বিষয়। ধর্মতো কোন বিষয় না। ধর্ম বাদ দিয়েও কেউ একসাথে থাকতে পারে। সেটা তাদের নিজেদের বিষয়। ধর্মটা আমার কাছে নিজের। বিশ্বাসটা আমার মতো। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান। এখানে ধর্ম কোন বিষয় না। আমার ব্যক্তি জীবনে নিজের এত বড় শক্তি নেই যে, আমি বিশ্বাসটাকে ফেলে দেব। আমার একটা আশ্রয় প্রয়োজন।

একটি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি করেন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী শুভ। গত মার্চে বিয়ে করেছেন একটি মুসলমান মেয়েকে। একজনের বাড়ি পাবনা, অন্যজনের ময়মনসিংহ। ওরা কেউ তাদের ধর্ম পরিবর্তন করেনি। নিজ নিজ ধর্মে থেকেই বিয়ে করেছেন। এখন সংসার করছেন। মেয়েটি নামাজ পড়ে। ছেলেটি পূজা করে। ধর্মীয় কোন কিছুতে কারো কোন সমস্যা নেই। বাধাও নেই। সামাজিকভাবেও কোন সমস্যা নেই। দু’জনই চাকরি করছেন। বন্ধু, সহকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন। সংসার গোছাতে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বাধ সেধেছে পরিবারের অভিভাবকরা। সমস্যা শুধু পরিবার থেকে। শুভ বলেন, ধর্ম, রাষ্ট্র একটা গণ্ডি। আমরা সেই গণ্ডি থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছি। গণ্ডিটা ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছি। শুধু যে আবেগে বিয়ে করেছি তা নয়। এখানে দুইটা মানুষ এক হয়ে থাকবে সেটাই বড় কথা। মানুষতো ধর্ম এনেছে। ধর্মতো আর মানুষকে আনেনি। জীবনে মানবিকতাই বড়। অন্য কিছু নয়।

মৌসুমী (ছদ্ম নাম) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক হিন্দু ছেলের সাথে প্রেম করেছেন। পড়া শেষে চাকরি করতে দু’জনই ঢাকায়। এগার বছর পর তাদের বিয়ে হয়। মেয়ের বাড়ি থেকে এখনো মেনে নেয়নি। ছেলের বাড়ি থেকেও মেনে নেয়নি। মৌসুমী বললেন, ধর্ম বা সমাজ যদি বড় একটা বিষয় হত আমি বিয়ে করতাম না। আমরা কেউ ধর্ম পরিবর্তন করিনি। আমাদের সন্তানকে আমরা ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে গড়ে তুলব। পরে তার যদি কোন ইচ্ছা হয় তবে সে সেটা পালন করবে। তিনি বলেন, অফিস থেকে ভাল সাহায্য পেয়েছি। বন্ধুদের অনেকে সাহায্য করেছে। এই বিয়ে করতে গেলে মানসিক শক্তিটা অনেক বড় থাকতে হবে। ধর্মটা এখানে বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে সমাজ। আমার বাবা মনে করছে তার সমাজ কি বলবে। আমি যে তার মেয়ে সেটা সে দেখছে না। আমার চেয়ে তার সমাজের কে কি বলল সেটা বড় হলো। বাবা আমার কথা ভাবছে না। সমাজ কাছের মানুষকে এক করে না, দূরে পাঠায়। সমাজ তাকে কিছু দিচ্ছে না। তিরস্কার করছে। অথচ তারা ঐ সমাজ নিয়েই থাকছে। বিয়ে করার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলিতে গিয়ে প্রথমে নাম লিখিয়ে এসেছি। পরে নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে বিয়ে করেছি। তিনজন সাক্ষী লেগেছে। আর দু’কপি ছবি। সাথে পরিচয়পত্রর ফটোকপি। তারপর থেকেই আমরা একসাথে আছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা এম. রশিদ চৌধুরী বলেন, এটি আধুনিকতার একটি রূপ। যেখানে ধর্মটাকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন প্রভাবে এটা হচ্ছে। সমাজ মেনে নিচ্ছে। আবার রক্ষণশীল সমাজ হলে তা মানছে না। এখানে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্বাধীন জীবন যাপন করছে তারা। এটা বেশি দেখা যায় শিক্ষিত সমাজে। সেখানে মনের মিলটাই গুরুত্বপূর্ণ। গোঁড়ামি কুসংস্কার ছিল, তা এখন কমে আসছে। সামাজিক বিধি-নিষেধ, বাধা কমে যাচ্ছে। সংস্কৃতির মধ্যে ধর্ম আসছে না। যারা সাংস্কৃতিক অঞ্চলে জীবন যাপন করে তারা এটা মানে না। তিনি বলেন, এই ধরেনর বিয়েতে প্রথমে পরিবার থেকে বাধা আসে। তবে তা পরবর্তীতে ঠিক হয়ে যায়। তবে আধুনিকতা পরবর্তীতে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সামাজিক কিছু সমস্যা হয়। ছেলে-মেয়ে কি হবে। তারা কিভাবে পরিচিত হবে। এগুলো সামনে চলে আসে। তবে ইসলাম ধর্মে কিছু বাধা নিষেধ আছে। ইসলাম ধর্মে এ ধরনের বিয়ের কোন নিয়ম নেই। যদি ধর্ম না মেনে রাষ্ট্রীয় আইনে বিয়ে করে তবে ঠিক আছে।

প্রসঙ্গত, পৃথিবীর উন্নত প্রায় প্রত্যেক দেশে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বিয়ের ব্যবস্থা আছে। এমন কি জীবন যাপনে আমাদের যেমন ধর্মীয় পরিচয় দিতে হয়। নানা ফরম পূরণ করতে গিয়ে লিখতে হয় ধর্ম। তা অনেক দেশেই নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুই ধর্মের দুইজন বিয়ে করতে পারে। আইনগত কোন সমস্যা নেই। এছাড়া ইউরোপ আমেরিকাতেও একই অবস্থা। সেখানে শুধু বিয়ে নয়, কোন কাজেই ধর্মীয় পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

” … Free International Calls: Free mobile calls between 50 countries..Make a cheap call to Bangladesh Landline / Mobile 3.9¢ / No Pin / 1 Min rounding/ The honest LD company in the Planet …”

Say YES/ NO to inter-religious marriage..?? Click…

দুর্ঘটনারোধে চালকদের দক্ষ ও সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই


গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের বিরুদ্ধে নামছে মোবাইল কোর্ট


১৩ জুলাই: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আজ জানিয়েছেন। মিরসরাইয়ে ট্রাক উল্টে ৪২ ছাত্রসহ ৪৪ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির কয়েকদিন পর এ ঘোষণা দিলেন তিনি।
সাহারা খাতুন আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত আইন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের অভাবে গাড়ি চালকদের মধ্যে এ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশ মোতাবেক এ ধরনের অপরাধের জন্য গাড়ি চালককে পাঁচশ টাকা জরিমানা বা এক মাস কারাদণ্ড কিংবা উভয়ই হতে পারে।
অবশ্য পুলিশ বলছে, এ আইন বাস্তবায়ন করার মতো জনশক্তি তাদের নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় সাহারা খাতুন বলেন, এ ধরনের অপরাধীদের খুঁজে বের করার ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বিশেষ গুরুত্বারোপ করবে। তিনি আরো জানান, মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশের কঠোর বাস্তবায়ন করবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সড়কে সঠিক ট্রাফিক চিহ্ন না থাকার কারণে অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হলে সাহারা খাতুন বলেন, সড়ক চিহ্ন বসানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবে।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলার বিরুদ্ধে দুর্বল আইন

শাহীন রহমান ॥ একটি পরিচিত বাণী পরিবহনের পেছনে লেখা থাকে। এসব বাণীর মধ্যে একটি জনপ্রিয় বাণী হলো একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না। গাড়ি চালাতে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কিন্তু এসব বাণী কেউ মেনে চলে, না বাণিজ্যিক উদ্দেশ ব্যবহার করা হয় তা নিয়ে হয়ত প্রশ্ন রয়েছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত অযৌক্তিক কারণে দেশে যে হারে দুর্ঘটনা বাড়ছে তাতে কান্নার রোল হয়ত কোনদিন থামবে না। পরিবহণে চলতে গেলে চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো কারও চোখ এড়ায় না। প্রতিবাদ করে লাভ হয়নি কোনদিন। উল্টো প্রতিবাদ করায় যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয় হরহামেশায়। কিন্তু যারা বেপরোয়া গাড়ি চালায়, এসব চালকের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। হেলপার হয়ে ড্রাইভারের কাজ করা, চলন্ত গাড়িতে চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার একটি স্বভাবে পরিণত হয়েছে। চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরম্নদ্ধে আইন থাকলে তার কোন প্রয়োগ নেই। শুধু দুর্ঘটনা ঘটলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর হতে দেখা যায়। তখন হয়ত গাড়ি চালাতে অনেক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কিছুদিন গেলে যে লাউ সেই কদুতে পরিণত হয়। আবার সবকিছু হয়ে যায় আগের মতো। কিন্তু মাঝখানে যে তরতাজা প্রাণগুলো হারিয়ে যায় তা কোনদিন ফিরে পাবার নয়। দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের কান্না যে কতদিন চলে তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানে। তাই হয়ত তাদের কান্না নিয়ে অন্যদের কোন মাথা ব্যথা নেই। ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার অর্ধশত স্কুল ছাত্রের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবেন কেউ। অথচ তাদের লাশ হয়ে ফেরার পেছনেও রয়েছে চালকের বেপরোয়া, খামখেয়ালি আর স্বেচ্ছাচারিভাবে গাড়ি চালানো। আইন না মেনে গাড়ি চালানোর কারণে এত কচি প্রাণের অপমৃতু্য ঘটল। চালক মোবাইল ফোনে কথা বলায় গিয়ে ব্রিজ থেকে গাড়ি খাদে পড়ে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো তাদের। এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। আইনে জেল জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিন্তু আইন মানার প্রবণতা কারও মধ্যে লৰ্য করা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর কারণে দেশে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি গাড়ি চালানোর সময় চালকের মোবাইলে কথা বলা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অথচ চলনত্ম অবস্থায় চালক মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণেই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, অনেকে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন চলনত্ম অবস্থায় চাকলের কথা বলাকে। রাজধানীসহ সারাদেশে হরহামেশা এ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিবহনের চালক ছাড়াও মোটরসাইকেল আরোহীকে প্রায়ই চলন্ত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায়। এভাবে কথা বলার কারণে রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি যেসব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার প্রধান কারণও এই মোবাইল ফোনের ব্যবহার।
চলন্তু অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার রোধে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা রোধ করতে ২০০৭ সালে মোটরযান আইনের সংশোধন করা হয়। ওই বছর ১২ জুলাই গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলার ব্যাপারে মোটরযান আইনের ১১৫(বি) ধারার সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি আইনে এয়ারফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন অমান্য করলে ৫শ’ টাকা জেল জরিমানার করার বিধান রয়েছে। কিন্তু হরহামেশা এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপৰ ব্যবস্থা নিতে দেয়া যায়নি। ভারতেও এধরনের একটি আইন রয়েছে। আইন অমান্য করলে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের জেলা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারতের আইনের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনের পার্থক্য হলো বাংলাদেশের আইনটি যেমন দুর্বল, তেমনি এর কোন প্রয়োগ নেই।
সম্প্রতি যে সব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার পেছনে রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় চালক প্রায় অসতর্ক অবস্থায় থাকে। এছাড়া পাশে বসা অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় অসতর্ক হয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালায়। গত সোমবার চট্টগ্রামে ট্রাক খাদে পড়ে ৪১ স্কুলছাত্রের নিহত হবার পেছনেও রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী চালক চলনত্ম অবস্থায় কথা বলছিল। তখন তার অসকর্ত হওয়ার কারণে ট্রাকটি এলামেলো চলছিল। একপর্যায়ে দ্রম্নতগতিতে ট্রাকটি সেতুর ওপর উঠে প্রচণ্ড ধাক্কা খায় তখনই ঘটে যায় স্মরণকালের ভয়াবহ দুঘর্টনা।
এ মাসের ২ তারিখে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে নোয়াখালীতে। এ ঘটনায় ৭ শিৰার্থীর করম্নণ মৃতু্য হয়। জানা যায়, নিহত ছাত্রছাত্রীর মধ্যে একলাশপুর হাইস্কুলের এবং নোয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী। এ ঘটনায় নিহত অপরজন চালক স্বয়ং। শিৰার্থীদের মধ্যে দুজন ছিল সহোদর। প্রত্যৰদর্শীদের ভাষ্যমতে চালক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ছয় শিৰার্থী প্রাণ হারায়। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন মারা যায়। এ দুর্ঘটনার পেছনেও ছিল চালকের মোবাইল ফোনের ব্যবহার। ওই বছরের ২৯ মে লোহাগড়ার চুনতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হানিফ এন্টারপ্রাইজের বেপরোয়া গতির বাসটি একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দিলে এক পরিবারের তিনজন নিহত হয়। আহত বা বেঁচে যাওয়া বাসের যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী চালক চলনত্ম অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আগামী ২৪ তারিখে ডাকা হয়েছে সড়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। জানা গেছে চালকদের সচেতন করতে এ বৈঠকে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মো. আয়ুবুর রহমান খান জনকণ্ঠকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সারাদেশে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। চালককের প্রশিৰণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বিআরটিএর পৰ থেকে। আগামী ২৪ জুলাই সড়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে বিসত্মারিত আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনারোধে চালকদের দক্ষ ও সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তার আন্দোলনের প্রেৰিতে দেশের নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের জন্য সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে মাত্র ৫শ’ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তাও কার্যকর করা হচ্ছে না। জরিমানার বিধান ৫শ’ টাকার বেশি করে এসব চালকের কঠোর শাসত্মির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বাসত্মবায়ন করা না গেলে দুর্ঘটনারোধ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, এসব বেপরোয়া চালকের পেছনে রয়েছে তাদের শক্তিশালী সংগঠন। কোনরকম দুর্ঘটনায় চালক একবার প্রাণে বেঁচে গেলে তাদের বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে সংগঠনগুলো। ফলে তাদের আর শাসত্মির আওতায় আনা সম্ভব হয় না। [একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ নিউজ মিডিয়া Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchange

ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দ দূষণ বেড়ে চলেছে তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে।


রাজধানীর অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাবে

শব্দদূষণ


এফএনএস (মাহতাব শফি) : রাজধানীতে বেড়েই চলছে শব্দদূষণ। নীতিমালা আছে কিন্তু তার কোন প্রতিকার নেই। রাজধানী ঢাকা শুধু নয়। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরেই বর্তমানে এই শব্দ দূষণের শিকার। ফলে আগামী প্রজন্ম হারাচ্ছে শ্রবণশক্তি। শ্রবণশক্তিই নয়, শব্দ দূষণের কারণে উচ্চরক্ত চাপ, মাথাধরা, অজীর্ণ, পেপটিক আলসার, অনিদ্রা ও ফুসফুসে সহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত শব্দ দূষণে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা নষ্ট হয়, সন্তান সম্ভাবনা মায়েদের যে কোনো ধরনের উচ্চ শব্দ মারাÍক ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, যানবাহনের শব্দ দূষণে ষ্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায় বহুমাত্রায়। এক জরিপে উঠে আসা রাজধানী ঢাকার শব্দ দূষণের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। যা সত্যিই আতংকজনক। সারা বিশ্বে এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার পালিত হয় ‘আর্ন্তজাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস’। সারা বিশ্বেই এই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে তেমন সচেতন নয়।
বাংলাদেশে রয়েছে শব্দ দূষণ নীতিমালা। ২০০৬ সালে প্রণীত এই নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা হলো ৫৫ ডেসিবেল এবং রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবেল। একই ভাবে, নীরব এলাকার জন্য এই শব্দসীমা যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৫০ ও ৪০ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় ৬০ ও ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ও ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ও ৭০ ডেসিবেল সর্বোচ্চ শব্দসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করা দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আমাদের দেশে এই বিধিমালা মানা হচ্ছে না।
একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বেসরকারী সংগঠনের পরিচালিত গবেষনায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় শব্দদূষণ মাত্রা ১০২ ডেসিবেল, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ৯৩ ডেসিবেল, বাংলামোটর এলাকায় ৯২ ডেসিবেল, সদরঘাট এলাকায় ৮৮ ডেসিবেল, ফার্মগেট এলাকায় ৯৩ ডেসিবেল, শাহবাগ এলাকায় ৮৬ ডেসিবেল, মহাখালীতে ৯৪ ডেসিবেল, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ১০১ ডেসিবেল, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ৯৫ ডেসিবেল, গুলিস্তান এলাকায় ৯২ ডেসিবেল এবং স্কয়ার হাসপাতাল এলাকায় ১০৪ ডেসিবেল। যেখানে সবোর্চ্চ শব্দসীমা যত তার দ্বিগুণ শব্দ দূষণ করা হচ্ছে।
রাস্তায় বেরুলেই দেখা যায় এই শব্দ দূষণের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। রিক্সা ওভারটেক করতে চায় বাসকে, বাস ওভারটেক করতে চায় প্রাইভেট কারকে, প্রাইভেট কার ওভারটেক করতে চায় এ্যাম্বুলেন্সকে। আর এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে আছে প্যাঁ পুঁ শব্দে হর্ণ বাজানো।
উন্নত দেশগুলো অবশ্য শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং বিশ্বব্যাংক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ৩০টি কঠিন রোগের উৎস ১২ রকমের পরিবেশ দূষণ, এর মধ্যে অন্যতম শব্দদূষণ। শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট সমস্যাবলীর ভিতরে রয়েছে কানে কম শোনা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক ভীতি। এছাড়া অস্থিরতা, উচ্চরক্তচাপ ও শব্দভীতি অন্যতম।
রাজধানীতে শুধু গাড়ির হর্নই নয় জনসভায় ব্যবহৃত মাইকগুলোও একে অন্যের চাইতে জোরে চিৎকাররত। মার্কেটে বাজছে উচ্চশব্দের গান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর একটি ভি,আই,পি সড়কে হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তা বেশী দিন কার্যকর রাখতে পারেনি। শুধুমাত্র একটা শব্দদূষণ বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া সরকারের আর কোন উদ্যোগই চোখে পড়ে না। এগিয়ে আসছে না কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা এনজিও।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, যদি টানা ৮ ঘন্টা ৯০ থেকে ১০০ ডেসিবেল শব্দ প্রতিদিন শোনা হয়, তাহলে ২৫ বছরের মধ্যে শতকরা ৫০ জনের বধির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শব্দ দূষণ চোখ ও মাথার বিভিন্ন সমস্যার জন্যও দায়ী। শহরের বেশীরভাগ মানুষই মাথার যন্ত্রণায় ভোগে-যার অন্যতম কারণ শব্দ দূষণ। এছাড়া ক্রমাগত শব্দ দূষণের ফলে মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক এমনকি লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দ দূষণ বেড়ে চলেছে তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে।
মানুষের ব্যক্তিগত অদূরদর্শী কার্যকলাপ, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপরিকল্পিত বিস্তার, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার ত্র“টি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারের বিবর্তিত শব্দের ব্যাপকতায় শব্দ দূষণ বর্তমান সময়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় শিল্পকারখানায়, পরিবহন পদ্ধতিতে এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনির্দিষ্ট তীব্রতা সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বাস, ট্রেন, জাহাজ, শিল্প-কারখানা থেকে বের হওয়া শব্দ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারের শব্দের তীব্রতা নির্দেশিত মাত্রায় বা তার নিচে বজায় রাখা উচিত। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকা প্রয়োজন। যানবাহন থেকে বের হওয়া শব্দের ব্যাপকতা এবং তীব্রতা হ্রাসের জন্য আইন করে উন্নত প্রযুক্তির ডিজেল ইঞ্জিন এবং এক্সসট গ্যাস পাইপে সাইলেন্সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যান্ড সঙ্গীতের আয়োজন করা হয়ে থাকে। যার ফলে এ সময় অনাকাক্সিক্ষতভাবে শব্দ দূষণ সৃষ্টি হয়ে আশেপাশে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীসহ প্রায় প্রত্যেকেরই ঘুমের বিঘœ ঘটছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে দরকার জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১৯৯৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব জায়গায় মোটরগাড়ির হর্ণ বাজানো বা মাইকিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ এ আইনের তোয়াক্কা কেউ করে না। ঢাকা সিটির সাইলেন্টস জোনেও আইনশৃংখলা বাহিনীর সামনেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইক বাজিয়ে দেদারসে ঔষধ বিক্রির নামে যন্ত্রণাদায়ক অশ্লীল কথামালায় মাইকিং করতে দেখা যায়।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী কোন এলাকা ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশী শব্দ হলে সেই এলাকা দূষণের আওতায় চিহ্নিত হবে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী অফিস কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩৫ ডেসিবেল, রেস্তোরায় ৪০ থেকে ৬০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা সহনীয়। ৬০ ডেসিবেল শব্দ মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।
উচ্চশব্দ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও অসচেতনার কারণে রাজধানীতে শব্দ দূষণের শিকার হচ্ছে ৯৫ ভাগ মানুষ। অবশ্য এ শব্দ দূষণের অন্যতম কারণ হিসাবে গাড়ির হর্ণকেই দায়ী করলেন বিষেজ্ঞরা।
শব্দদূষণ বন্ধে বিধিমালা বাস্তবায়নে গাড়িচালকদের মধ্যে সচেতনতার পাশাপাশি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের মাধ্যমে গাড়ীর হর্ণ বাজানোর জন্য সংশ্লিষ্ট চালক ও গাড়ির বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। শব্দদূষণ বন্ধে পুলিশ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের পরিচালিত মোবাইল কোর্টগুলোতে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ণ এর ব্যবহার রোধে আরও কার্যকারী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আইনৃ´খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, অপ্রয়োজনে হর্ণ বাজালে মোটরযান অধ্যাদেশের আওতায় ২শ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ জরিমানা চালককে দিতে হয় না বলে চালকরা এ অপরাধ করেই যাচ্ছে। শব্দ দূষণ রোধে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে এর কোন প্রয়োগ নেই।
প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষ। রাস্তায় নামছে নতুন নতুন গাড়ি। তৈরি হচ্ছে নতুন স্থাপনা। আর এই বাড়তি মানুষের চাহিদার জোগান দিতে বেড়েছে শব্দ দূষণের মাত্রা এবং বাড়তে বাড়তে এক অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাড়ি চালক ও গাড়ির মালিকগণকে শব্দ দূষণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিতকরণসহ জনসচেতনতা সৃষ্টি, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান এবং শব্দ দূষণ বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ করতে হবে। বিশেষ করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সেক্স, যৌন, যৌনতা, অপরাধ, একুশ নিউজ মিডিয়া, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchange

বাঙালির বুদ্ধিজীবিতার ইতিহাস সুবিধাবাদিতার ইতিহাস


জাতীয় সংকটে সুশীলরা কোথায়?

সোয়াদ আহমদ ● কেউ কথা বলছেন না, কয়েকজন বলছেন। তারা মোটে গুটি কয়। জাতীয় সম্পদ পাচার হচ্ছে, জাতীয় স্বার্থ লুণ্ঠিত হচ্ছে, গণমানুষের সঙ্গে নিদারুণ প্রতারণা হচ্ছে, রাষ্ট্রশক্তি বিক্রি করে দিচ্ছে গণমানুষের ভবিষ্যৎ – এসব অহরাত্রি ক্লান্তিহীনভাবে বলে চলেছেন আমাদেরই কয়জন। আনু মুহাম্মদ, এম এম আকাশরা লড়ছেন, সঙ্গে আছে বিশাল সংখ্যার রাজনীতি সচেতন এক তরুণ শ্রেণী। তরুণরা ব্লগে লিখছেন, তর্ক করছেন, গল্প করছেন, স্বপ্ন দেখছেন এবং তৈরি হচ্ছেন। তৈরি হচ্ছেন এক বড় সামাজিক প্রয়োজনে, নিজেদের মতো করে সব গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। অনেককেই ভুলিয়ে রাখতে পেরেছে রঙিন করপোরেট জগত, মাল্টিনেশন কোম্পানি অথবা সুশীল জাতীয়তাবাদের ছায়া, তবে সবাইকে পারেনি। সবাইকে পারা যায় না। এরা টিভি সিরিয়াল, সিনেমা, ফেসবুক সব ছাপিয়ে সময়ের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার ইচ্ছায় সচেতন বা অবচেতনভাবে অভিন্ন প্রয়োজনে জড়ো হচ্ছে।

আমাদের অতি চেনা হিসাব মতোই, আমাদের বুদ্ধিজীবীরা নির্ভাবনায় আরাম কেদারায় শুয়ে দু’পা নাচাচ্ছেন। অনেকেই অবাক হয়, যারা ইতিহাস সচেতন তারা অবাক হয় না, তারা এঁদের হাড়ে হাড়ে চেনেন। এই সময়গুলোতেই উনারা কালা এবং বোবা, আর বাকি সময়ে উনাদের মুখে কথার ফুলঝুরি। তেল-গ্যাস নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা বলবেন এর বাইরে আমাদের সুশীলদের বিষয়ে সামান্য গুণকীর্তনের নিমিত্তেই এই লেখার অবতারণা।

বারবার আমরা এই সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের চরিত্রগত সংকট দেখে বিস্মিত হচ্ছি। আমরা এরশাদ সরকারের পতন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের দোহাইয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দানের মধ্য দিয়ে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীটির শ্রেণীগত প্রতিষ্ঠা দেখি। তখন আমরা আমাদের বিশিষ্ট হেভিওয়েট দেশপ্রেমিক বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদের ঐক্যবদ্ধ হতে দেখি। ২৭ জুন ২০১১ তারিখে বিভিন্ন পত্রিকাতে দেয়া শেখ হাসিনার কলামেও তার কথা উল্লেখ করেছেন যে হাবিবুর রহমান ১৯৯৬তেই সুশীল অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। সেসব তো অনেক পরের কথা। আমরা বেশ খানিক আগে চলে যাব, এদের শ্রেণীগত চরিত্র বোঝার জন্য রাষ্ট্রের সংকটকালীন সময়গুলোর ওপর চোখ বোলালেই চলবে।

বাঙালির বুদ্ধিজীবিতার ইতিহাস সুবিধাবাদিতার ইতিহাস। নিজের ভোগবিলাস ছাড়া এই পরজীবী বুদ্ধিজীবীরা কিছুই বোঝে না। আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে সংকটকালীন সময় ’৭১, সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। এই বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ স্বপ্ন দেখতে জানত না, এদের চোখে কোনোদিন স্বাধীন বাংলাদেশের ছবি জেগে ওঠেনি। তাই সাহস করে কেউ ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেনি যে, একটি জাতি ঐতিহাসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি জাতীয় রাষ্ট্রের জন্ম দিতে যাচ্ছে। মনীষা আহমদ ছফা এই বিষয়টাতেই ভীষণ আক্ষেপ করতেন। পশ্চিম বাংলায় এ দেশের কোটি কোটি উদ্বাস্ত্ত বাঙালি যখন মানবেতর জীবন যাপন করছে তখন কলকাতা নগরীতে রাজ সম্মানে আশ্রিত বুদ্ধিজীবীরা আয়েশি জীবন, ভোগবিলাসে মগ্ন থাকতেন, সত্য-মিথ্যা গল্প ফেঁদে মোটা অর্থ কামাতেন। এরা সগৌরবে বিদেশী সাহায্যের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিতে লজ্জা পেতেন না। সময়ের প্রয়োজনে এদের অনেকেই যারা একসময় ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদী, পাকিস্তান রাষ্ট্র দর্শনের একনিষ্ঠ পুজারী তারাই স্বাধীনতার পর দলে দলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জয়গান গেয়েছেন। অনেক ভারি ভারি বুদ্ধিজীবী আইয়ুব খানের টাকার ঝুলির পেছনে কলম ফেলে দৌড়িয়েছে। এসব শুধুই ইতিহাস নয়, সেদিনের কতিপয় ‘বোকাসোকা’ মানুষ যারা বুদ্ধিকে জীবিকার বাহন হিসেবে নেয়নি, যে কয়জন ‘মূর্খের’ মতো নতুন ভূখন্ড নিয়ে অহর্নিশ স্বপ্ন দেখত, সেই কয়জনের বাইরে বুদ্ধিজীবীদের বিশাল অংশের শেকড়-বাকড় আর তাদের ভাবশিষ্য নিয়েই রচিত আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের ভিত্তিভূমি।

আমরা দেখেছি সময়ের প্রয়োজনে ও পুঁজির বিকাশের স্বার্থেই এরশাদ সরকারের উত্থান ঘটিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি। এরশাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তার পতনও ঘটানো হয়। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এরা নতুন আরেকটি শ্রেণী তৈরিতে উদ্যোগী হলো। গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মত প্রকাশ তথা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা। নতুন শ্রেণীটি হলো এই সংবাদ মাধ্যম আশ্রয়ী বুদ্ধিজীবী শ্রেণী আমাদের এখানে যারা সুশীল সমাজ নামে পরিচিত। এরা অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংস্কৃতি ও চিন্তার ধারক ও বাহক মধ্যবিত্ত ও মধ্যবর্তী শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে অতিমাত্রায় গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যায়। তাদের এই উত্থানের ও গ্রহণযোগ্যতার কারণ রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনে জেগে ওঠা হতাশাকে ধরতে পারা। তারা দেশে জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার গালভরা কথা বলে, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় উচ্চকণ্ঠ প্রকাশ করে যা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীকে সহজেই আকৃষ্ট করে তোলে। তৃতীয় বিশ্বের নেতা-নেত্রীরা ক্ষমতা ও অর্থ ছাড়া তেমন কিছু চেনে না এবং তা স্বাভাবিক, খালেদা-হাসিনারা তাই দুর্নীতির ধারক-বাহক। রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক অশ্রদ্ধা, গণতন্ত্র চর্চার অভাব, সহিংস মনোবৃত্তি ইত্যাদি জনমনকে সর্বদা ক্লান্ত ও হতাশ করে রাখে। সেই সুযোগটাই সুশীলরা হাতিয়ে নেয় কৌশলে। এদের আমরা প্রয়াশই দুর্নীতি, সুশাসন প্রভৃতি প্রশ্নে সভা সমিতি, সেমিনার, টক শো, পত্রিকার কলামে বলিষ্ঠ বক্তা ও প্রতিবাদী দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখি। যাদের মুখে বুলেটের মতো উচ্চারিত হয় দেশ, জাতি আর স্বাধীনতার কথা। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে আমাদের নেতৃত্ব দেশকে কিছুই দিতে পারেনি এই তাদের মূল বক্তব্য। সব ব্যর্থতার উৎস তারা রাজনীতি আর রাজাকারে খোঁজার প্রয়াস পায়। দেশ বিষয়ক মায়াকান্নায় মুহূর্তে তারা তরুণ শিক্ষিত সমাজকে সিক্ত করে ফেলে। ফের সুশাসন প্রশ্নে আমরা তাদের মূল বক্তব্য খুঁজে পাই, এক অগণতান্ত্রিক রাস্তার নির্দেশনা তারা কৌশলে দিয়ে থাকেন। সেই পথ এক পাপের পথ যে পথ কোনো দিন গণতন্ত্রকে মাটির গভীরে শেকড় গাঁড়তে দেবে না। তাদের সেই ষড়যন্ত্রের শিকার আমাদের স্বাধীনতা-উত্তর সমাজের তরুণ প্রজন্ম যাদের ফেইসবুকের পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস থাকে এই সব বাক্য। একটা প্রজন্মকে তারা নষ্টের চূড়ান্তে নিয়ে গেছে। যারা এরই মধ্যে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে। স্বার্থপর সহিংসতায় তাদের সহপাঠীর মৃত্যু তাদের ভাবিত করে না। ন্যায্য অধিকারের জন্য, শিক্ষার বাণিজ্যিকরণের বিরুদ্ধে তাদের সহযাত্রীদের সংগ্রাম এদের আলোড়িত করে না, তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাক বা ভবিষ্যৎ বংশধরদের কান্না কিছুই এদের কান নাগাদ পৌঁছুতে পারছে না।

এই সুশীল-বুদ্ধিজীবীর অভ্যুত্থানের সুযোগ করে দেয় হাসিনা-খালেদার অগণতান্ত্রিক রাজনীতিই। তারা যত বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যত দুর্নীতিগ্রস্ত হবে, যত তাদের রাজনৈতিক চরিত্র স্খলন হবে, ততই সুশীলদের লাভ। তারা তত সহজেই হতাশ জনগণের কাছাকাছি যেতে পারে। সুশীল সমাজ সম্রাজ্যবাদী শক্তির নতুন মাত্রার সহযোগী। নানা কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা তৃতীয় বিশ্বের সস্তা চরিত্রহীন রাজনীতিবিদের চাইতেও এই শ্রেণীটিকে বেশি পছন্দ করে এবং এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। তৃতীয় বিশ্বের এই পরিবারতন্ত্র, পুঁজিবাদের বিকাশ ও সম্রাজ্যবাদের প্রসারণে যথেষ্ট বাধার সৃষ্টি করে। তাই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চায় একেবারে তাদের নিজের শক্তিই ক্ষমতায় আসুক। সেই নিজের একান্ত শক্তি যে কখনো তার সঙ্গে বেঈমানী করবে না- সেটি হলো এই সুশীল সমাজ। খালেদা-হাসিনাকে তো সামান্য হলেও জনগণের কথা ভাবতে হয়, কিছুটা হলেও জনগণের সামনে দাঁড়াতে হয় কিন্তু এই বুদ্ধিজীবী সুশীল শ্রেণীর সে দায়বদ্ধতাও নেই।

এই নতুন মাত্রার সুশীল সরকারের এক্সপেরিমেন্ট আমরা দেখি ওয়ান-ইলিভেনে। আমেরিকার আশীর্বাদ পুষ্ট সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের অভ্যুত্থান হয় এই দিনটিতে। এক অগণতান্ত্রিক, অরাজনৈতিক ঐতিহাসিক পাপের জন্ম দিল সুশীল সমাজ। আরোপিত ব্যবস্থার নাম দিল সামরিক শক্তি সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার। কিন্তু আসলে এত দুর্নীতি, অন্যায়, দুঃশাসনের পরও জনমনে হাসিনা-খালেদার প্রতি সামান্য হলেও ভালোবাসা অবশিষ্ট ছিল। সে ভালোবাসাই আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়। বিভিন্ন ঘাত, প্রতিঘাত, সংগ্রাম, ছাত্র বিস্ফোরণ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের ভেতর দিয়ে দুর্বলভাবে হলেও নির্বাচিত সরকারের পুনর্জন্ম হয়েছিল বলা যায়। এই অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েই পিএসসি-২০০৮ বা রফতানিমুখী উৎপাদন বণ্টন চুক্তির প্রণয়ন দেখি। সম্ভবত সেই অগণতান্ত্রিক সুশীল সরকার থাকলে এতদিনে গ্যাস পাচারের কাজ শুরু হয়েই যেত। এখন যে আমরা নিদেনপক্ষে প্রতিবাদ, মিছিল বা হরতালের সুযোগ পাচ্ছি সেটা তখন কল্পনাও করা যেত না।

সুশীলরা এখন তাই নিশ্চুপ, এটা তাদেরই অসমাপ্ত কাজ। অস্থিতিশীল, দুর্বল বিএনপির মুখে জোর নেই, তারা নিজেরাই কয়েকবার জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে এবং জাতীয় কমিটির গণআন্দোলনের সামনে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া তারাও সরকারে থাকলে একই কাজ করত। ভালো মানুষের মুখোশ পরা দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান সুশীলরা শুধু এই প্রশ্ন নয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ ইত্যাদির যে কোনো শর্তে দেশের অপার মঙ্গল দেখতে পান, জনকল্যাণমুলক খাতসমূহে সরকারি ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ায় তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খুঁজে পান।

তবে এবার এদের নতুন প্রজন্ম চিনে রাখবে ভালোভাবেই। তারা মনে রাখবে এদের অনেকেই যারা ইউনূসের সম্মান বাঁচাতে দলে দলে মানববন্ধন করেছে, নাকের জল চোখের জল এক করে ফেলেছে আর তাদেরই ষোল কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ সামান্যও ভাবিত করে না। যাদের কাছে একটা নোবেল প্রাইজের ওজন ষোল কোটি মানুষের ওজনের চেয়ে বেশি তাদের নাম লাল কালি দিয়ে লিখে রাখবে আনু মুহাম্মদের উত্তরসূরিরা।

[লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchabge

%d bloggers like this: