প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান


প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান
রঙ-ঢঙ ডেস্ক

আকার আর ওজনের সুবিধা মিলিয়ে সারা বিশ্বেই প্লাস্টিকের বোতলজাত পানির কদর বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বোতলজাত পানি ব্যবসায়ীদের নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। যে কারণে এটি এখন ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গ। তবে এ বোতলজাত পানি কতটা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উপকারী, তা নিয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। চলছে গবেষণা, নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম অথবা স্টিলের বোতলে পানি খেতে। মেলবোর্ন ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানেও চলতি বছর প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি সরবরাহকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। কাজও চলছে সেই মাফিক। অস্ট্রেলিয়ার ২০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের বেশির ভাগই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার মতো আধুনিকতা ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষবিদ্যার শিক্ষক ক্রিস উইনডার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখিয়েছেন প্লাস্টিকের বিক্রিয়া ও মানবশরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব। তিনি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বোতলের পুনর্ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াদূষণের জন্য দায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর তা এমনভাবে ধুতে হবে, যেন অন্য কোনো উপাদান, যেমন- সাবান প্রভৃতি এর সঙ্গে লেগে না থাকে। তাহলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে অন্তত রেহাই মিলবে। তবে অবশ্যই তা ঠাণ্ডা পানিতে ধুতে হবে। কারণ তাপে প্লাস্টিকে ব্যবহূত রাসায়নিক পদার্থগুলো উন্মুক্ত হয়; যা শরীরের ক্ষতি করে।

প্লাস্টিক বোতল তৈরি হয় মূলত দুই ধরনের প্লাস্টিক থেকে। এর একটি পলিকার্বন, যা বিসফেনল এ (বিপিএ) থেকে উত্পাদিত এবং অন্যটি পিইটি, যা পলিইথিলিন থেকে উত্পাদিত। পলিইথিলিনকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়। তবে বিপিএ ক্ষতিকর। ১৯৫০ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে প্লাস্টিক উত্পাদনে এর ব্যবহার হয়ে আসছে; যার ক্ষতিকর বিষয়গুলো এরই মধ্যে প্রমাণিত।

বিপিএ প্লাস্টিকের আধারে জমে থাকা উপাদান দ্রবীভূত করার ক্ষমতা রাখে। পানিতে এসব উপাদান মিশে যায় সহজেই। ৯৫ শতাংশ মার্কিনের মূত্রে এ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। এর পরিমাণ শিশুদের মধ্যেই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

বিপিএর সঙ্গে এক প্রকার হরমোনের গাঠনিক মিল রয়েছে। এটি ওয়েসট্রোজেন মিকি হরমোন নামে পরিচিত। অধ্যাপক উইনডার জানিয়েছেন, বিপিএ নানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ। যেমন— অনুর্বরতা, মোটা হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, গলার ক্যান্সার, এমনকি এ উপাদান কেন্দ্রীয় সংবেদনশীলতাকেও অবশ করে দিতে পারে। স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের কারণও হয়ে উঠতে পারে এ বিপিএ। উইনডার আশা করছেন, মানুষ শিগগিরই এর বিপদ সম্পর্কে অবহিত হবে, ১০ বছরের মধ্যেই এ উপাদানের ক্ষতি সম্পর্কে সবাই জানবে এবং ২০ বছরের মধ্যেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় পানির বোতল তৈরিতে। একবার ভাবলেই বিষয়টি উপলব্ধি করা সম্ভব। কারণ এ বোতল তৈরির ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ উত্পাদিত হয়। ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকেল, ইথাইলবেনজিন, ইথিলিন অক্সাইড, বেনজিন প্রভৃতি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দেড় হাজার পানির বোতল নিঃশেষ করা হয়। এর কারণে নষ্ট হয় ভূমির উর্বরতা ও ব্যাহত হয় জলাধারের স্বাভাবিক গতি।

আতঙ্কের আরো বিষয় হচ্ছে, প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করার যে মানদণ্ড দেয়া হয়, বিশ্বব্যাপীই তা মানা হয় না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়েই অন্তত ২২ শতাংশ প্লাস্টিকের বোতলে ক্ষতিকর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। একই সঙ্গে পানির উত্স, এর বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ও দাম বিষয়েও ঘাপলা তৈরি হয়।

সূত্রঃ বনিকবার্তা


প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৩ ০০:০০:০০


কফি সঞ্জীবনী

বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত কফি পান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কফিতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। গত এক দশকে একাধিক গবেষণায় এর আরো গুণের কথা জানা গেছে

মাহফুজউল্লাহ বাবু

গল ব্লাডারে পাথর: হার্ভার্ডের গবেষকরা ২০০২ সালে জানান, দিনে কমপক্ষে চার কাপ কফি পান করেন, এমন নারীদের ক্ষেত্রে গল ব্লাডারে পাথর হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫ শতাংশ কম থাকে। এর আগে একই ধরনের এক গবেষণায় পুরুষদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

বিষণ্নতা প্রতিরোধ: ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে দু-তিন কাপ কফি পান করেন, এমন নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা জন্মানোর প্রবণতা ১৫ শতাংশ কম এবং চার কাপ বা তারও বেশি কফি পান করা নারীদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার এ হার ২০ শতাংশ কম।

স্মৃতিশক্তি: কফি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের স্মৃতি বাড়াতে সাহায্য করে। ২০০৫ সালে উত্তর আমেরিকার রেডিওলজিক্যাল সোসাইটিতে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রিত মাত্রার ক্যাফেইনসমৃদ্ধ কফি দিনে দুই কাপ পান করলে স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের তাত্ক্ষণিক সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাড়ে। ২০১১ সালে ফ্লোরিডার বিজ্ঞানীরাও জানান, মধ্য বয়স থেকে নিয়মিত চার-পাঁচ কাপ কফি পান অ্যালঝেইমার (বয়স বাড়ার কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া) রোগের ঝুঁকি কমায়।

ডায়াবেটিস: দিনে চার কাপ বা তারও বেশি কফি পানের অভ্যাস আছে যাদের, তাদের ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কম থাকে। ২০১২ সালে জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়। কফির বিভিন্ন উপাদান শরীরে এইচআইএপিপি নামে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান প্রতিরোধ করে, যার প্রভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতেও কফির প্রভাব রয়েছে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদানের (কার্সিনোজেন) মাত্রা কমায় কফি। ২০০৮ সালে সুইডেনে এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে দু-তিন কাপ কফি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। হার্ভার্ডে সম্প্রতি আরেক গবেষণায় পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে দৈনিক চার-পাঁচ কাপ কফি পানের সুফল দেখানো হয়েছে।

হজম: খাদ্য শরীরে কাজে না লাগিয়ে সরাসরি চর্বিতে রূপান্তর হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়ায় কফির ভূমিকা রয়েছে। ১৯৮০ সালেই এটি জানান বিজ্ঞানীরা। তবে ক্যাফেইন নাকি অন্য কোনো উপাদান এ কাজে সহায়তা করে, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছিল না। ২০০৬ সালে জানা যায়, ক্যাফেইনবহির্ভূত অন্যান্য উপাদানের কারণে হজমে দক্ষতা বাড়ে। জাপানের গবেষকরা সম্প্রতি জানান, কফির ক্লোরেজেনিক এসিডের কারণে শর্করা কাজে লাগানোর দক্ষতা বাড়ে দেহে। সবুজ কফিতে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি থাকে।

পারকিনসন্স রোগ: একাধিক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, তিন-চার কাপ কফি পানের অভ্যাস শেষ বয়সে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: হার্ভার্ডের গবেষকদের মতে, আমেরিকায় সব ধরনের উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সবচেয়ে বড় উত্স হচ্ছে কফি।

সক্রিয়তা: শারীরিক ও মানসিক ক্রিয়াশীলতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে কফির ক্যাফেইন। মনোযোগ ও পরিষ্কারভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ায় কফি। ক্যাফেইন ছাড়াও কফির বেশকিছু উপাদান চিন্তা ও আচরণে জড়তা কমায়।

গেঁটে বাত: শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় প্রদাহ, ফুলে যাওয়া ও ব্যথার সমস্যাই গেঁটে বাত। ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত কিংবা নিয়মিত কফি দুটোই ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। দৈনিক গড়ে ছয় কাপ কফি পান করলে এ ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে।

তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানো থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে উল্টো বিষণ্নতা ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। তিন-চার কাপে সীমাবদ্ধ থাকাই ভালো হবে। তাছাড়া যাদের ঘুমে সমস্যা বেশি হয়, তারা দুপুরের পর কফি এড়িয়ে চলবেন।

ব্রেইন স্ট্রোক


ব্রেইন স্ট্রোক

Brain Stroke

Brain Stroke


ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এ দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত মুখী সমস্যা হলেও মানুষ প্রায়ই সমস্যা দুটিকে গুলিয়ে ফেলে। ব্রেইনের সমস্যা হলে হূদরোগের হাসপাতালে যায়। এতে সময় নষ্ট হয়, রোগীর সমস্যা বেশি হয়, স্ট্রোক থেকে আরোগ্য লাভে দেরি হয়, এমনকী রোগীর মৃতু্য পর্যন্ত হতে পারে। মস্তিষ্কের কাজের ব্যাঘাত ঘটা, যেমন শরীরের একপাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনী শুরু হয়ে যাওয়া, কথা অস্পষ্ট থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া অথবা খাদ্য বা পানি গিলতে অসুবিধা হওয়া, এসবের যে কোন একটা বা এক সাথে একাধিক উপসর্গ হলেই স্ট্রোক হয়েছে ধরে নিতে হবে।

অপরদিকে হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে ব্যথা, বুকে চাপ ভাব হবে, শ্বাস কষ্ট হতে পারে, রোগী অস্বাভাবিক ঘামতে পারে বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। রোগীর নাড়িরচাপ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে পারে বা রক্তচাপ কমে যেতে পারে বা রক্ত চাপ একদম শুন্যের কোঠায় পেঁৗছাতে পারে। এ থেকেই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না, রোগীর ব্রেইনে নয়, হার্টে সমস্যা হয়েছে। এছাড়া আরো অনেক বিরল রোগের সাথে স্ট্রোকের সম্পর্ক আছে যা জনসাধারণের জন্য দুর্বোধ্য হতে পারে বিধায় উলেস্নখ করা হলো না। আমরা এখানে আমাদের আলোচনা মস্তিষ্কের স্ট্রোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব।

যারা ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ রোগে ভোগেন, যারা ধূমপায়ী, যাদের রক্তে চর্বি বেশি থাকে এবং যারা শরীরের ওজনের আধিক্যে ভোগেন, তাদের শরীরের অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের রক্তনালীগুলি সরু, শক্ত ও শুকিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতায় ভোগে। এর মধ্যে মস্তিষ্ক ও হূদযন্ত্রের রক্তনালীগুলিই প্রধান। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির ব্যবহার, হূদযন্ত্রের কিছু রোগ, কিছু রক্ত রোগ, বয়স, পূর্বের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং রক্তনালীর চড়ার বিচু্যতির সাথেও স্ট্রোকের সম্পর্ক আছে।

স্ট্রোককে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
০০ মস্তিষ্কে সাময়িক রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত হয়ে স্ট্রোক: যা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যায়
০০ সাময়িক পক্ষাঘাত: এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো প্রকার দুর্বলতা না রেখেই ঠিক হয়ে যায়
০০ ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি লাভ করা স্ট্রোক: ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্রমান্নয়ে বাড়তে থাকে
০০ পরিনত স্ট্রোক: যা ক্রমান্নয়ে বাড়তে বাড়তে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে
০০ পূর্ণ স্ট্রোক: ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে এবং স্থায়ী পক্ষাঘাত করে ফেলে

বিভিন্ন ধরণের স্ট্রোকের ফলে যা হতে পারে:
০০ রক্তনালী ক্রমান্নয়ে সরু হয়ে বা চড়া পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা হার্ট বা রক্তনালী থেকে চড়ার বিচু্যতি হয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রবাহ বন্ধ হওয়া-এ ধরনের সমস্যাই সব চেয়ে বেশি, প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ
০০ মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়া-যাকে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বলা হয়, তা প্রায় ১০ ভাগ
০০ মস্তিষ্কের বাইরে কিন্তু মস্তিষ্কের আবরনীর ভেতরে রক্তক্ষরণ, যা প্রায় ৫ ভাগ
এছাড়াও মস্তিষ্কের রক্তনালীর বহিরাবরনী দ্বিক্ষন্ডিত হয়ে মস্তিষ্কের ব্যবহূত রক্তনালী গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মস্তিষ্ক আবরনীগুলির মধ্যে বা বাইরে রক্তপাত হলেও স্ট্রোকের মত উপসর্গ হবে। উলেস্নখিত বর্ণনায় স্ট্রোক সম্বন্ধে আপনাদের একটি প্রাথমিক ধারনা নিশ্চয়ই হয়েছে। একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা উচিৎ যে, একজন স্ট্রোকের রোগী প্রায় স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে একজন চিকিৎসকের কাছে এসে বলতে পারেন যে- আমি আমার মাথায় অসুবিধা অনুভব করছি। আবার কারো ক্ষেত্রে নিম্নলিক্ষিত উপসর্গগুলিও হতে পারে। যেমন:

০০ হাঁটতে বা দাঁড়াতে অসুবিধা
০০ হঠাৎ করে অস্বাভাবিক আচরণ বা অস্বাভাবিক কথা বলা
০০ কথা বা কাজ কর্মে ভুল করা
০০ মাথা ব্যথা হওয়া
০০ শরীরের একপাশ দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়া
০০ কথা জড়িয়ে যাওয়া
০০ কথা বলতে না পারা বা খাদ্য গিলতে অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি। অবস্থা আরো গুরুতর হলে, চেতনা লোপ থেকে রোগী গভীরভাবে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রোক সম্বন্ধে এই বর্ণনা জনসাধারণের উপলব্ধির জন্য। এর পরের করনীয় অবশ্যই একজন চিকিৎসকের। অতএব রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিতে হবে, বিশেষ করে একজন স্নায়ুরোগ বা স্ট্রোক বিশেষজ্ঞের কাছে। ভুল করে বা অজ্ঞতাবশত: হূদরোগ বিশেষজ্ঞ বা হূদরোগ হাসপাতালে নয়। একজন স্ট্রোক বিশেষজ্ঞ রোগীকে পরীক্ষা করবেন। রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় করবেন। যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করবেন। রোগীর অন্যান্য রোগ নির্ণয় করবেন। সে সম্পকর্ীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং তার চিকিৎসাও দেবেন। কারণ পূর্বেই উলেস্নখ করা হয়েছে, অন্য অনেক রোগের সাথে স্ট্রোকের সম্পর্ক থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় রোগীকে নিতে পারলে স্ট্রোকের বিশ্বমানের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই দেয়া সম্ভব।

স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসার পর আসে রোগীকে পুনরায় সচল করে তোলা, যা সম্মিলিত থেরাপির মাধ্যমে করা সম্ভব। এর পরের প্রশ্ন, স্ট্রোক ও আনুসাঙ্গিক রোগের একটি সম্মন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ণয় ও প্রয়োগ করা। এর মধ্যে স্ট্রোক যাতে পুনরায় না হয় তার দিকে যথাযথ দৃষ্টি দেয়া। এর পর রোগীকে যতটা সম্ভব সুস্থ করে পারিবারিকভাবে পুনর্বাসন ও তার কার্যক্ষেত্রে পুনরায় ফিরে যেতে সাহায্য করা। মনে রাখবেন, কাজটি কিন্তু সহজ নয়। এ কাজে অনেক ধৈর্য্যের প্রয়োজন।

শেষ কথা: স্ট্রোক কি ভাল হয়ে যাবে:

১. আরোগ্য নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি রোগীকে চিকিৎসা ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে তার উপর
২. কত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা কার্যক্রম ও ফিজিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে
৩. আরোগ্যলাভ আরো নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোথায়, কত বড় এবং কোন ধরণের স্ট্রোক হয়েছে এবং রোগী আর কী কী রোগে ভুগছে
৪. যে সব রোগীর প্রথম থেকে আরোগ্যলাভ শুরু হয়, তাদের ক্ষেত্রে পূর্ণমাত্রায় না হলেও প্রায় স্বাভাবিক কার্যক্ষম করে তোলা যায়
৫. অনেক ক্ষেত্রে রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্থ থেকেই জীবন কাটাতে বাধ্য হয়
৬. একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে, একবার স্ট্রোক হলে পুনরায় তা হতে পারে
৭. যারা মৃতু্যবরণ করেন, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্ট্রোক পরবর্তী জটিলতার কারণেই মৃতু্যবরণ করেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: ব্যক্তিগতভাবে আমি কয়েকটি পরিস্থিতিতে স্ট্রোক হতে দেখেছি। তারমধ্যে:-

০০ বয়ষ্কলোকের অত্যধিক মানসিক যন্ত্রণা
০০ শল্য চিকিৎসা-বিশেষ করে চোখের শল্য চিকিৎসার পর
০০ হূদযন্ত্রের ভেতর টিউমার
০০ অনেক চেষ্টা করেও স্ট্রোকের কারণ খুঁজে না পাওয়া (যদিও অনেক সময় সব ধরনের পরীক্ষা করা আমাদের দেশে সম্ভব হয়না বা অনেক উচ্চমানের পরীক্ষাগারে করেও সূত্র মিলানো যায় না)
০০ রোগী মানসিক রোগের উপসর্গ নিয়ে এসেছেন কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল, মস্তিষ্কে বিশাল স্ট্রোক হয়েছে। পরবর্তীতে এ রোগী মারাও গেছেন।
০০ একজন স্ট্রোক রোগীকে দেখেছি, যাকে তার আত্মীয়-স্বজনরা মাত্রাতিরিক্ত আনন্দ ও হাসাহাসির কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

স্ট্রোকের রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিতে হবে, বিশেষ করে একজন স্নায়ুরোগ বা স্ট্রোক বিশেষজ্ঞের কাছে। ভুল করে বা অজ্ঞতা বশত: হূদরোগ বিশেষজ্ঞ হূদরোগ হাসপাতালে নয়।

প্রফেসর ডা: সিরাজুল হক
http://hcd2.bupa.co.uk/fact_sheets/html/stroke.html

দীর্ঘমেয়াদি ব্যথাকে ‘ব্যথা রোগ’ বলা হয় যা একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা


মনোরোগে শরীর ব্যথা

 


ডা. জিল্লুর রহমান রতন
শারীরিক ব্যথা নিয়ে রোগীরা প্রায়ই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু যখন ব্যথার কোনো শারীরিক কারণ, যেমন_ আঘাতজনিত সমস্যা, স্নায়বিক সমস্যা, অস্থি-মাংসপেশির সমস্যা প্রভৃতি কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না তখন এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথাকে ‘ব্যথা রোগ’ বলা হয় যা একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণত এ রোগে শরীরের এক বা একাধিক স্থানে যেমন মাথা, পেট, বুক ও হাত-পাসহ যে কোনো স্থানে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। মনো-সামাজিক কারণ এ রোগের উৎপত্তি, তীব্রতা ও দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যা প্রকৃতপক্ষে শরীর ও মনের নিবিড় সম্পর্কের যোগসূত্রকেই নির্দেশ করে। এ ধরনের রোগীরা সুচিকিৎসার অভাবে বারবার চিকিৎসক বদল করেন, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য চিকিৎসা খরচ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পায় ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি হয়।

নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন; কিন্তু ধর্ম-বর্ণ ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও বংশগত প্রভাব, শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ, আর্থ-সামাজিক দুরবস্থা ও অনগ্রসরতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ ধরনের রোগীর দুই-তৃতীয়াংশের অন্যান্য মানসিক রোগ যেমন বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আতঙ্ক, মাদকাসক্তি ও ব্যক্তিত্বের সমস্যাসহ বিভিন্ন মনোদৈহিক সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে কিডনির রোগ ও ব্যথানাশকে আসক্তি হয়ে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ ব্যথা কমাতে পারে না। রোগীর মনো-সামাজিক ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত ইতিহাস, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্ব্াবধানে পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসা আরম্ভ করতে হয়।

এ রোগ চিকিৎসার মূলনীতি হচ্ছে, রোগীর শারীরিক সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে রোগ সম্পর্কে তাকে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া। সে সঙ্গে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল রোগীকে ব্যাখ্যা করে আশ্বস্ত করা। এতে রোগীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমে আসবে যা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কোনোভাবেই যেন শারীরিক সমস্যা নির্ণয়ে অবহেলা না করা হয় বা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এর সঙ্গে মানসিক রোগের চিকিৎসা চালিয়ে গেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বিষণ্নতারোধী ওষুধ এ রোগে বেশ কার্যকর। মনো-সামাজিক চিকিৎসা এ রোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রোগীকে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়ে থাকে।
মোনসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রক্তনালীর ব্লক: অ্যানজিওপস্নাষ্টি


রক্তনালীর ব্লক: অ্যানজিওপস্নাষ্টি

সমস্ত শরীরে জালের মতো ছড়িয়ে আছে রক্তনালী বা রক্ত চলাচলের মসৃন রাস্তা। এর মধ্যে বিশুদ্ধ রক্ত যাতায়াতের রাস্তাকে ধমনী আর দূষিত রক্ত যাতায়াতের রাস্তাকে শিরা বলা হয়। বিভিন্ন কারণে রক্তনালীর গায়ে চর্বি জমে রক্তনালী বস্নক হয়ে সরু বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনরূপ কাটাছেঁড়া না করে রক্তনালীর বস্নক দূর করার নামই অ্যানজিওপস্নাষ্টি। স্টেন্ট বা রিং বসিয়ে অ্যানজিওপস্নাষ্টি করা হয়।

কি কি কারণে রক্তনালী বন্ধ হতে পারে:

০০০ ধুমপান

০০০ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ

০০০ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস

০০০ রক্তে অতিমাত্রায় চর্বি

এর মধ্যে ধুমপান বর্জনযোগ্য। আর অন্যগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ধুমপান ত্যাগ করার জন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।

রক্তনালীর বস্নক-এ কি কি সমস্যা হয়:

০০০ হাঁটলে পায়ে ব্যথা হয়, বিশ্রামে নিলে কিছুটা কমে যায়

০০০ রোগের তীব্রতা বাড়লে বিশ্রামরত অবস্থায়ও পায়ে ব্যথা হতে পারে

০০০ পায়ে ঘা

০০০ পায়ে পঁচন বা গ্যাংগ্রিন

চিকিৎসা না করালে শেষ পরিণত:

পা পঁচে গেলে তা কেটে (অ্যাম্পুটেশন) ফেলা দেয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না। আমরা সচরাচর যেসব পঙ্গু লোক দেখতে পাই তাদের একটি বিরাট অংশ রক্তনালীর বস্নকজনিত পঁচন রোগে আক্রান্ত।

কিভাবে রক্তনালীর বস্নক নিরূপন করা যায়:

০০০ রোগীর উপসর্গ থেকে

০০০ হাত-পায়ের পাল্স বা নাড়ী পরীক্ষা করে

০০০ কম্পিউটারে পরীক্ষার (ডপলার পরীক্ষা) মাধ্যমে

০০০ অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে

রক্তনালীর বস্নক অপসারণের উপায় কি?

০০০ রোগীর উরু ও পেটের সংযোগস্থলে কুঁচকিতে স্থানীয়ভাবে অবশ করে ব্যথামুক্ত অবস্থায় একটা সুঁই ঢোকানো হয় (অনেকটা স্যালাইন দেয়ার মতো)। পরবর্তীতে এক ধরণের ইনজেকশন পুশ করে ছবি তোলা হয়। ছবিতে বস্নক ধরা পড়ে- এটাই হলো অ্যানজিওগ্রাম।

০০০ অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে বস্নকের সঠিক স্থান (পেটের মধ্যে, উরুতে, পায়ে, বুকের মধ্যে বা হাতে) এবং মাত্রা বা বিস্তৃতি নির্ণয় করা হয়। হার্টের রক্তনালীর বস্নকও এভাবে নির্ণয় করা যায়।

০০০ রক্তনালীর বস্নক অপসারণের পদ্ধতিকে বলা হয় অ্যানজিওপস্নাষ্টি। অ্যানজিওগ্রাম করার সময় সরু বা বন্ধ রক্তনালী প্রথমে বেলুন দিয়ে মোটা করা হয়। তারপরে উক্ত স্থানে একটা রিং বা আংটি বা স্টেন্ট বসিয়ে দেয়া হয়। ফলে রিং এর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল করতে পারে।

০০০ এছাড়া কাঁটাছেড়া করে রক্তনালীর বস্নকের স্থানে জমে থাকা চর্বি পরিষ্কার করে অথবা বাইপাস অপারেশনের মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

রিং বা স্টেন্ট কি?:

এটা ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরী এক ধরণের পাইপ। বিভিন্ন সাইজের রক্তনালী অনুযায়ী এটা বিভিন্ন সাইজের তৈরী করা যায়। এটা এমনভাবে তৈরী করা হয় যাতে রক্তনালীতে বসিয়ে দেয়ার পর সুন্দরভাবে রক্তনালীর গায়ে লেগে থাকে।

রিং বসানোর সময় রোগী ব্যথা পায় কিনা?:

কুঁচকি স্থানীয়ভাবে অবশ করার ফলে রোগীর ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়।

রিং বসানোর সুবিধা কিকি?:

০০০ কাটাছেঁড়ার দরকার হয় না

০০০ পূর্ণ অবশ (জেনারেল/রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া) করার দরকার হয় না

০০০ হাসপাতালে কম সময় থাকতে হয়

০০০ রিং বসানোর পুরো প্রক্রিয়া রোগী নিজে বা তার আত্মীয়স্বজনরা মনিটরের মাধ্যমে অবলোকন করতে পারে

০০০ কাটাছেঁড়ার চেয়ে অনেক কম সময়ে রিং বসানো যায়।

০০০ ইনফেকশনের সম্ভাবনা কম

রিং বা স্টেন্ট বস্নক হতে পারে কিনা?:

আলস্নাহর দেয়া রাস্তা বন্ধ হলে বান্দা সৃষ্ট রাস্তাও বন্ধ হতে পারে। পুনরায় বস্নক হলেও ভয় নেই। কারণ সেটাও বেলুন দিয়ে মোটা করা যায়। এমনকি রিং বসানো বা স্টেন্টিং করাও সম্ভব হয়।

রক্তনালীর বন্ধ হওয়াজনিত সমস্যায় অ্যানজিওপস্নাস্টি চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম থাকায় অনেক সময় আমরা অপচিকিৎসার শিকার হই অথবা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হই। ফলে অকালে অঙ্গহানির শিকার হতে পারি। আশা করি, আজকের লেখা এ ব্যাপারে আমাদের জ্ঞানকে আরো বেশি শানিত করবে।

০০ ডা.জি.এম.মকবুল হোসেন

ভাসকুলার (রক্তনালী) ও এন্ডোভাসকুলার স্পেশালিষ্ট সার্জন

জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে


যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি ওজন কমানোর ব্যাপারে সচেতন না হয় এবং শরীর চর্চা ছেড়ে দেয় তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডায়বেটিসে আক্রান্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) গত শুক্রবার একথা জানিয়েছে।

সিডিসি’র জেমস বোইল এবং তার সহকর্মীরা এক প্রতিবেদনে জানান, আগামী ৪০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। বর্তমানে যেখানে প্রতি দশজনে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সেখানে ২০৫০ সাল নাগদ প্রতি পাঁচ জনে একজন থেকে প্রতি তিনজনে একজন এ রোগে আক্রান্ত হবেন। সিডিসি’র ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ আন আলব্রাইট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ হার আশঙ্কাজনক।’ সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে বেশিরভাগই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যা মূলত অপরিমিত খাবার ও ব্যায়ামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। -রয়টার্স জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য bangla desh Share Market Jahan Hassan Los Angeles Ekush Bangla Newspaper