ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা


প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৩
–New with DIV——–


ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

বণিক বার্তা ডেস্ক

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তাই স্থূলতা কমাতে ভারতীয়রা অস্ত্র্রোপচারে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থূলতা বেড়ে যাওয়ায় অবিসিটি সার্জারি (স্থূলতা হ্রাসের অস্ত্রোপচার) দেশটির অন্যতম ব্যবসা হয়ে উঠেছে। লন্ডনের বাজার গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

গবেষণায় বলা হয়, নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে এখন হালকা পাতলা গড়নের চেয়ে অপেক্ষাকৃত মোটা নারীদের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। ২০০৯ সালে চেন্নাইয়ের একটি বস্তিতে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, এখানে প্রতি তিনজন নারীর দুজনই স্থূল সমস্যায় রয়েছেন।

দেশটির ৬৩ মিলিয়ন নাগরিক এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছে। এ কারণে এসব রোগী স্থূলতা কমাতে চাইছে। এজন্য তারা অবিসিটি সার্জারির দ্বারস্থ হচ্ছে। এ ধারাকে চালিয়ে নিতে ভারতের ২৫০টি হাসপাতালে ৪০০ সার্জন পেটের চর্বি কমানোর মতো অস্ত্রোপচারের কাজে নিয়োজিত আছেন।

এর ফলে ভারত বিশ্বের ১২০ কোটি ডলারের বেরিয়াট্রিক ডিভাইসের (স্থূলতা কমানো ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহূত বিভিন্ন উপাদান) একটি উদীয়মান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতে টিটানিয়াম স্টমাক স্ট্যাপল সরবরাহে জনসন অ্যান্ড জনসনের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে আয়ারল্যান্ডের কভিডেইন পিএলসি। এর মাধ্যমে চলতি বছর ভারতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর ১০ হাজার অস্ত্রোপচার হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গ্লোবালডাটার তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে বিশ্ব বেরিয়াট্রিক সার্জারি ডিভাইস বাজারে জনসন অ্যান্ড জনসনের শাখা ইথিকন এন্ডো-সার্জারি ইনকরপোরেশনের শেয়ার ছিল ২৪ শতাংশ। এ সময় কভিডেইনের ছিল ২১ শতাংশ, অ্যালারগান ইনকরপোরেশনের ছিল ১৬ শতাংশ।
কভিডেইনের ভারত বিভাগের প্রধান মার্ক রনেই জানান, ‘বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে সহায়তা করে ভারতে এমন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতে মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ১ ডলারের কমে তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করে। এসব নাগরিক তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য রোগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের চিকিত্সা দেয়া যায়। কারণ আমরা জানি, স্বল্পমূল্যে এটি অনেক ভালো একটি সেবা, যা ভারতের প্রত্যেক নাগরিকই বহন করতে পারবে।’

মুম্বাইয়ের বেসরকারি হাসপাতাল নোভা স্পেশালিটি সার্জারির সার্জন রামেন গোয়েল জানান, এ কোম্পানিগুলো এখন ভালো ব্যবসা করছে। তারা ব্যবসার জন্য এখন ভারতকে অন্যতম লক্ষ্যে পরিণত করেছে। সার্জারির মাধ্যমে এখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধু শরীরচর্চার মাধ্যমেই এসব রোগীর স্বাস্থ্য ভালো হবে না। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

গ্লোবালডাটা জানায়, স্ট্যাপল, স্ট্যাপল গানস ও এ ধরনের অস্ত্রোপচারে ব্যবহূত অন্য উপকরণগুলোর আন্তর্জাতিক বাজার চলতি বছর ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে। ২০১৮ সাল নাগাদ তা বেড়ে ২৩০ কোটি ডলার হবে।

বিশ্বে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি অস্ত্রোপচার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার মতো সমস্যায় রয়েছে। দ্য আমেরিকান সোসাইটি ফর মেটাবলিক অ্যান্ড বেরিয়েট্রিক সার্জারির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ২০ হাজার এ ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

ওজন কমানোর অস্ত্রোপচার করলে ডায়াবেটিসসহ স্থূলতাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়— এমন প্রমাণ পাওয়ার পরই এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। গ্যাস্ট্রিক সার্জারির মাধ্যমে পেটের আকার কমিয়ে আনা হয় এবং ক্যালরি বাড়তে দেয়া না, যার সহায়তায় ওজন কমে যায়। এছাড়া এ ধরনের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিছু কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব শরীরের সহায়তাকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে অন্ত্রে থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। গত মার্চে প্রকাশিত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী নয়, উদীয়মান দেশেও এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। নিম্ন ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোয় ছোঁয়াচে ও অপুষ্টিজনিত রোগের হার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের স্থূলতার মতো ঝুঁকি বাড়ছে, যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘দ্বিগুণ বোঝা’ বলে উল্লেখ করেছে। এসব দেশ আধুনিকীকরণের মতো কার্যক্রম শুরুর পরই এ ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে।

নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেসের অধ্যাপক জানান, সত্যিকারের শিল্পায়িত দেশগুলো এখন এ ধরনের সমস্যায় রয়েছে। ভারতে ২০ বছর ধরে এ সমস্যা চলছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভিয়ানের শিল্প বিশ্লেষক আরতি শেঠী জানান, গত দুই দশকে ভারতে স্থূল লোকের সংখ্যা ‘নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।’ ফলে দেশটিতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার বাজারের প্রবৃদ্ধিও বেড়ে চলছে।

রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন


১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

গেল অর্থবছরে ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন (এক হাজার ২৮৫ কোটি) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা বা ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। 
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্স সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১১-১২ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে আসা ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে জুন মাসে এসেছে ১০৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
 
১২ মাসের মধ্যে মাত্র মাস দুই মাস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ একশ’ কোটি ডলারের কম ছিল। বাকি দশ মাস এসেছে একশ’ কোটি ডলারের বেশি।
 
এর মধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে জানুয়ারি মাসে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১২২ কোটি ১৪ ডলার। এক মাসের হিসাবে যা ছিল সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।
 
রেমিটেন্স বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৭০ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তবে মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
 
২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ কোটি ডলার।
 
এ ছাড়া বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ডলারের কিছু বেশি।
 
৭৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার এসেছে ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যাধ্যমে। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ এক কোটি ৯৫ লাখ ডলার।


রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন

প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স আমাদের দেশে মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা বরাবরই মূল্যহীন। এরা আমাদের কাছে শুধুই শ্রমিক হিসেবে গণ্য। প্রতিবছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে প্রবাসীরা। অথচ তাদের কোনো মূল্য নেই আমাদের দেশে। কোনো শ্রমিক বিদেশে মারা গেলে কোম্পানির খরচে দেশে পাঠানো হলেও স্টুডেন্ট বা ভিজিট ভিসায় গমনকারীদের চাঁদা তুলেই দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হয়।

সরকার কর্তৃক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে। এছাড়া চরম নিরাপত্তা হুমকিতে দিন কাটাতে হয় বাংলাদেশের প্রবাসীদের। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দেশের বাইরে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে তারা। এভাবে অনেকটা মূল্যহীন এবং অবহেলিত হয়েই প্রবাস জীবন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ রয়েছে, এসব শ্রমিক দেশে এসে কোনো রকম কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না।

বিদেশে অবস্থানকালে হাইলি স্কিলড এসব জনশক্তি আমাদের দেশে এসে অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। উপরন্তু কোনো রকম প্রবাসী ফান্ড বা ট্রাস্ট নেই বলে দেশে এসে শূন্য হাতেই জীবন কাটাতে হয় তাদের। বিদেশে অবস্থান কালে চিকিৎসা সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করলেও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেও কোনো রকম রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায় না তারা। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স জাতীয় অর্থনীতির জন্য মূল্যবান হলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই আমাদের দেশে। এছাড়া বাইরে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো রকম নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় জালিয়াত চক্রের হাতে হরহামেশা প্রতারিত হচ্ছে দেশের শিক্ষিত যুবকরা। গুটিকয়েক দেশীয় চক্র উচ্চ শিক্ষার নামে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সমপ্রতি মার্কিন দূতাবাস থেকে পাওয়া এক অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির পুরনো আবেদন ফরম ও ছবিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। এছাড়াও ইমিগ্রেশন পুলিশ জালিয়াতি করে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন সময় প্রায় ১ হাজার ৫শ’ যুবককে আটক করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সমপ্রতি একটি জালিয়াত চক্র উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৫৫ জন যুবকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। পরে তাদের বিদেশে না পাঠিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে।

ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে বিদেশ যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় জালিয়াত চক্র সুযোগ পেয়ে অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ভিজিট ভিসার নামে হাজার হাজার যুবক বিদেশে যায়। সেখানে গিয়ে নানা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র রোহিঙ্গাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে অনেককেই আটক করা হয়। কিন্তু এরপর সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে আদম বেপারীরা চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণ-তরুণীদের বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখায়। প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ হাজার তরুণ-তরুণী বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে গত প্রায় এক বছরে দেড় হাজার তরুণ-তরুণীকে গলাকাটা পাসপোর্টসহ নানা অভিযোগে ইমিগ্রেশনে আটক হয়েছে বলে জানা গেছে। আটককৃতদের মধ্যে অনেকেই ভুয়া ছাত্র সেজে উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশ যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে অন্য কাজ করে। আবার অনেকেই ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে। কেউ কেউ গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে জালিয়াতি করে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সঠিক পাসপোর্ট এবং কাগজ-পত্র ভেবেই তারা অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু যখন জানতে পারে পুরো বিষয়টিই ভুয়া তখন আর কিছুই করার থাকে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইমিগ্রেশন পুলিশের এক অপরাধ বিশেষজ্ঞ শীর্ষ কাগজকে জানান, এ জালিয়াত চক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য দেশে রাজধানী, বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা চালানো দরকার। এয়ারলাইনসগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। সংশ্লিষ্ট মতে, উচ্চশিক্ষার নামে চটকদার বিজ্ঞাপনগুলো খতিয়ে দেখার জন্য সরকারিভাবে একটি মনিটরিং সেল থাকা প্রয়োজন

বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’


বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’ ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

Occupy Wall St.


মেহেদী হাসান • ওয়াল স্ট্রিট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল কেন্দ্র। অন্য কথায়, পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যে কেন্দ্রে বসে আছে সমগ্র জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ, একচেটিয়া পুঁজির প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ বহুজাতিক করপোরেশন (তেল, অস্ত্র, খাদ্য), ব্যাংক, বীমা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আর যাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এ স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যাকে সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ, গণহত্যা, জাতিগত সহিংসতা, সামরিক শাসন বিস্তৃত করতে হয়েছে। অস্ত্র আর তেল কোম্পানির স্বার্থে সারা পৃথিবীতেই যুদ্ধোন্মাদনা ছড়াতে হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান সর্বশেষ লিবিয়ায় লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের বলি হয়েছে। কেবল দখলকৃত দেশগুলোর মানুষই রাষ্ট্রটির তাড়নার শিকার হয়নি, হয়েছে তার নিজ দেশের সাধারণ মানুষও। যুদ্ধ এবং দমন অর্থনীতির পেছনে জনগণের করের অর্থে এ রাষ্ট্রটি ব্যয় করে বছরে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ বাহ্যিক চাকচিক্যময়, জৌলুসপূর্ণ এ মুল্লুকে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকে চার কোটি মানুষ। তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজন মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। মন্দা অর্থনীতিতে জর্জরিত এ রাষ্ট্রে গোয়েন্দাগিরির পেছনে খরচ বেড়েছে তিনগুণ, কমেছে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়। দৈত্যাকার ব্যাংক, করপোরেশনের অন্তর্গত মন্দার কারণে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে গিয়ে বেইল আউট কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। বেড়েছে দ্রব্যমূল্য, কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ঋণ বেড়েছে জনগণের ওপরে করের বোঝা বেড়েছে জনগণের।

‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ আওয়াজ দিয়ে এহেন পররাজ্যগ্রাসী, সন্ত্রাসী, ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী অংশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা শতকরা ৯৯’ আর এটি এখন সারা দুনিয়ার এক প্রতীকী স্লোগান। আর এরই ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে আন্দোলন। নারী-শ্রমিক-শিক্ষার্থী-শিক্ষক-বেকার-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত; যারা বর্তমান বিদ্যমান ব্যবস্থায় জর্জরিত, দিশেহারা; তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে। ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ হলো শোষণকেন্দ্রে প্রজবলিত বিদ্রোহের নতুন নাম, নতুন পরিচয়। যে পরিচয় হীনমন্যতা, ভোগবাদিতা, আত্মপরিচয়ের সংকটকে ঝেড়ে ফেলে নতুন শক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এই শক্তি এখন ইথারে ভেসে ছড়িয়ে গেছে সারাবিশেবর তরুণ-যুব সম্প্রদায়ের কাছে। সারাবিশ্বের ভুক্তভোগী সংবেদনশীল মানুষের কাছে। নিজের দেশের অসহনীয় অস্বস্তিকর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর প্রতিরোধের শক্তি নিয়ে বিশ্বের প্রায় এক হাজার শহরে এই আন্দোলন দানা বেঁধেছে। নোয়াম চমস্কি এ আন্দোলনকে সমর্থন করে বার্তা পাঠিয়েছেন ‘জনগণের পক্ষে সম্মানজনক এবং দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ভূমিকা’ বলে।

সম্মানজনক কেন? কারণ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক শ্রেণীরাষ্ট্র-মুখপাত্ররা যেখানে পুরো সমাজকে ভোগবাদিতার চকচকে রঙিন চশমা দিয়ে দুনিয়াকে দেখানোর প্রচেষ্টায় দিনরাত আহাজারি করছে; পণ্যভোগকে ধর্মের স্থানে ঠাঁই দেওয়ার প্রচেষ্টায় মত্ত যেখানে `TINA’ (There is no Alternative)-র অনুসারীরা সেখানে সে বেড়াজালকে ছিন্ন করে ‘মানুষ’ পরিচয়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা দুঃসাহসিকই বটে। এই মানুষ প্রমাণ করেছেন, রাষ্ট্র যতই ক্ষমতাধর কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, জনগণের অসাধ্য কোনো কিছু নেই। নাহলে, বিশ্বের সবচাইতে ‘দুর্ধর্ষ’ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে এহেন কাজ কীভাবে সম্ভব? সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়; এটা প্রমাণ করেছেন ‘শতকরা ৯৯’-এর প্রতিনিধিরা।

Occupy Wall St.


কেন পুঁজিতান্ত্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে বিদ্রোহের নতুন ঠিকানা তৈরি হলো? এই কি প্রথম? তা তো নয়। নভেম্বর ১৯৯৯তে সিয়াটলে, এপ্রিল ২০০১-এ কিউবেক সিটিতে ‘পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বায়নবিরোধী’ বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই পর্বে পূর্বের আন্দোলনের দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতাকে অনেক ক্ষেত্রে অতিক্রম করে সচেতনতা-ধরণ-ধারণ-বিস্তৃতি-ব্যাপকতার নতুনমাত্রা নিয়ে এই আন্দোলন আরো শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আন্দোলন এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চেতনার ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে। এটা ঠিক এই আন্দোলনে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। এখানে যেমন শ্রমিক আছেন, তেমনি বেকাররাও আছেন। আছেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, পরিবেশবাদী, স্টাডি গ্রুপ, সংস্কৃতিকর্মী। বিপক্ষে; ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, ধর্মযাজক, স্টক এক্সচেঞ্জ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।

যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলনের গতি বিস্তৃত হয়েছে যে জগত তৈরি করেছিল করপোরেট তার আপন মুনাফাবৃদ্ধির স্বার্থে। সে প্রযুক্তিই তার জন্য কবর রচনা করতে যাচ্ছে। করপোরেট রাষ্ট্রের ভয়ও সে কারণে মারাত্মক। এই ভীতি থেকেই ন্যায্য এবং যুক্তির শক্তি নিয়ে দাঁড়ানো আন্দোলনকে দমন করতে উদ্যত। হামলা-মামলা-ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দমনমূলক নীতি নিয়ে তারা যে ‘পুলসেরাতের পুল’ পার হতে পারছে না তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের জুকোটি পার্কে অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব, ব্যাংক বন্ধকি সংকট ও করপোরেট লোভের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পর্তুগালের লিসবনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামে। তারা স্লোগান দেয়- ‘ঋণের দায় আমাদের নয়, আইএমএফ বেরিয়ে যাও’। এ আন্দোলন এখন নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া পর্যন্ত। সারা বিশ্বের হাজার শহরে; পাঁচজন থেকে পাঁচ হাজার, পঞ্চাশ হাজার, লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হচ্ছেন আপন আপন স্থানে।

স্লোগানের নতুন নতুন ভাষা তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন বক্তব্য। ‘আমরা ৯৯ শতাংশ’, ‘আমরা আমাদের দেশকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এসেছি’। ‘আমরা হারিয়েছি, ব্যাংক বেইল আউট পেয়েছে’, ‘সারাদিন, সারা সপ্তাহ ওয়াল স্ট্রিট দখল করুন’, ‘করপোরেট সাম্রাজ্য জাগ্রত এবং সচেতন মানুষকে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’ ‘৯৯ শতাংশ মানে বৃহৎ সংখ্যা, যারা হারতে পারে না।’ ‘ব্যাংকারদের গ্রেফতার কর, আমাদের নয়।’ ‘প্রাইভেট ব্যাংক সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে, জনগণ নয়।’ ‘আমাদের চাকরি কোথায়?’ ‘এটি আমাদের দেশ-একে আমরা দখল করবো, এগুলো আমাদের রাস্তা-এগুলো আমরা দখল করবো, আমরা এখানে আছি এবং আমরা ক্রমশ বাড়ছি-চল সবাই একসঙ্গে দখল করি।’ ‘আমাদের যা পাওনা আমরা তা বুঝে নেই।’

এই বিদ্রোহের প্রয়োজনীয়তা কেন তা স্লোগানের ভাষার মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়।

ক্রিস হেজেস যিনি একজন লেখক-সাংবাদিক, পূর্ব ইউরোপের অনেক ধরনের গণআন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী এবং ‘অকোপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশগ্রহণকারী; তিনি বলছেন, ‘আমি এই আন্দোলনে এসেছি ভেতরের তাগিদ থেকে। কারণ, করপোরেশনগুলো আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাথা-মগজ দখল করে নিয়েছে। দখল করে নিয়েছে তাদের স্বতবা। এ আন্দোলন তার বিরুদ্ধে।…যখন এই ধরনের আন্দোলন মাথা তুলে দাঁড়ায় সেখানে করপোরেট দখলের বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে প্রকৃত সত্যটাই সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের আন্দোলন যখন তৈরি হয় তখন যে মানুষ যে সমাজে বসবাস করছে সে সমাজের প্রকৃত চিত্রটাকে পরিষ্কার করে তুলে ধরে। তুলে ধরে সমাজের বৈষম্য, ক্ষমতাবানদের দেŠরাত্ম্য-অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা এবং আন্দোলন অনেকটা ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স’ ধরনের কাজ করে- কারণ এ আন্দোলনের যে শক্তি তা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথায় গিয়ে এর শেষটা দাঁড়াবে তা পূর্বে থেকে অনুমান করা যায় না।..সমাজের এলিট গোষ্ঠী, নীল পোশাকধারী পুলিশ প্রশাসন, মাথা-মগজ নিয়ন্ত্রণের ম্যাকানিজম; কেউ এ আন্দোলন আশা করে না। কিন্তু বিধি বাম, ইতিহাস তাদের নির্ধারিত পথে চলে না এবং শেষ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের কারণে ক্ষমতাবানরা হয়ে পড়ে প্রতিরোধহীন।’

‘করপোরেট ডাকাত হানা দিয়েছে দ্বারে, তাকে প্রতিরোধ কর’ প্ল্যাকার্ড হাতে ২০/২২ বছরের একজন তরুণ বলছেন, ‘আমরা এখন আর করপোরেটের হাতে বন্দি হতে চাই না। রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ আমরা চাই না। এই অর্থ সারা বিশ্বের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে; নিয়ন্ত্রণ করছে প্রাকৃতিক সম্পদ, সমস্ত জীবন-মান।’ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই তরুণ-যুব সমাজের অংশ। কয়েকজনের সাক্ষাৎকার সংবলিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তারা বলছেন, ‘ব্যাংক এবং এক্সনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ঘাড়ে চেপে আমাদের নিংড়ে নিচ্ছে। আমরা যারা সমবেত হয়েছি তারা এ প্রক্রিয়ার বিপক্ষে।’….‘মধ্য প্রাচ্যে যখন কোনো আন্দোলন হয় তখন মিডিয়া সেটাকে খামচে ধরে প্রচার করে। কারণ, সেখানে তাদের স্বার্থ আছে। সরকারি স্বার্থের সঙ্গে তাদের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু যখন নিজের দেশের উঠানে করপোরেট স্বার্থ-শোষণবিরোধী একটি ন্যায্য আন্দোলন হচ্ছে তখন সেটি প্রচার করতে তাদের অনীহা। কারণ, এতে তাদের মুনাফা স্বার্থ বাধাগ্রস্ত হয়।’…‘শাসকরা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জুয়া খেলছেন এবং এই বিষয়টি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে হচ্ছে। এটা তো কোনোভাবেই আমি মেনে নিতে পারি না।’…‘সরকার আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা আমাদের জীবনকে কোনো পরোয়াই করে না। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’ চাকরিজীবী একজন পৌঢ় বয়সের, তিনি সেদিনই উপস্থিত হয়েছেন আন্দোলনে। তার উপলব্ধি হলো, ‘এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা বলছেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কথা। এটা ঠিক। এদের কারণে আমরা আমাদের কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’ ৩০/৩২ বছরের একজন বেকার যুবক অসহনীয় অবস্থায় থেকেও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি আমার চাকরি হারিয়েছি। হারিয়েছি হেলথ ইন্স্যুরেন্স। সামাজিক নিরাপত্তা জাল যেটি সরকারের দেওয়ার কথা ছিল বেকার অবস্থায় তার সবকিছু এখন আমার আয়ত্তের বাইরে। কিন্তু এর জন্য আমরা কর প্রদান করি। বিপরীতে এখন অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ভর করেছে। আমি আমার এই কথাগুলোই বলতে এসেছি এখানে।’…‘যখন আমাদের জীবন-মান সব চলে যাচ্ছে অল্প কিছু সম্পদলোভী হায়েনার হাতে তখন আমরা আর কী করতে পারি। যখন আমাদের করের অর্থে ভোগ-বিলাসে মত্ত গুটিকয়েক লোক যারা সমাজের ১%, তখন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে না দাঁড়ানোর কি কোনো কারণ আছে? আমাদের করের অর্থে চালানো হচ্ছে যুদ্ধ, মানুষ মরছে, আমরা হচ্ছি বেকার’।

এ কথাগুলো শুধু আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নয় বরং মার্কিন মুল্লুক এবং পুঁুজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অধীনস্ত সব দেশের মানুষের। যার কারণে এর ঢেউ সারাবিশ্বে আছড়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। যার চেহারা আমরা দেখছি বিশ্বব্যাপী। শারীরিক-মানসিক-প্রাযুক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজস্ব স্বর এবং সুর নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের দখল-আধিপত্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা, সমাজের সিংহভাগ মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে, ‘আমরা শতকরা ৯৯’। রক্তাক্ত হচ্ছে কিন্তু আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে পারছে না ক্ষমতাধর প্রশাসন। গায়ে ‘কাঁদা’ লাগানোতে অনীহা মূল ধারার করপোরেট মিডিয়ার। এজন্য একদিকে আমরা দেখি লিবিয়ায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ নামক তেল দখলের যুদ্ধের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাহিনী যত না ফলাও করে প্রচার করা হয়; লিবিয়ার তথাকথিত বিদ্রোহী এনটিসির যুদ্ধ জয়ের খবর যত না আগ্রহ সহকারে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে; তার সিকিভাগের একভাগ গুরুত্ব পায় না জনগণের ন্যায় এবং ন্যায্য আন্দোলন। তার বিপরীতে ‘শতকরা ৯৯’কে আড়ালে রাখায় মরিয়া হয়ে উঠতে দেখি! উপরন্তু করপোরেট মিডিয়ার ঘাড়ে এখন ‘সমাজতন্ত্রের ভূত’ চেপে বসেছে। এ ভূত ঘাড় থেকে নামানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে কিন্তু কোনোভাবেই নামাতে পারছে না। কী মার্কিন, কী বাংলাদেশে। আদল আলাদা, রক্তের ধারা এক। কিন্তু এ বিদ্রোহের বিশেষত্ব এই যে, করর্পোরেট মিডিয়ার মুখ পানে চেয়ে বসে নেই বিদ্রোহীরা। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগের মতো সামাজিক মিডিয়াকে অবলম্বন করে আন্দোলনকে বিস্তৃত করতে তৎপর। যদিও এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু, এই শক্তিকে রুখবে কে?

বাংলাদেশেও একচেটিয়া পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন চলছে। সম্পদ এবং সম্মান যা বিভিন্ন মেয়াদের সরকারের সময় জনগণের হাতছাড়া হয়েছে তাকে জনগণের হাতে ফেরৎ আনার আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর সঙ্গে সংহতি এবং সম্পর্ক সেখানেই। ভিন্ন দেশ কিন্তু দখল-আধিপত্যবিরোধী গণআন্দোলনের সুরটি অভিন্ন। শোষণের মূল ধর্মটি যেখানে এক সেখানে প্রতিরোধ-বিদ্রোহের ভাষার মূলে ঐক্য থাকবে সেটিই স্বাভাবিক। mehedihassan1@gmail.com [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

ঢাকা, অক্টোবর ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গরিবী হটাও আন্দোলন’ এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নূরুল হক মেহেদী বলেন, “এ আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিশ্বের শ্রমজীবী-মেহনতী মানুষের আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে। এ আন্দোলনের ঢেউ আমাদের অধিকার বঞ্চিত মানুষদের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘অতিমুনাফা’র প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এ আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্বের ৮০টি দেশের ৯৫১টি শহরে একযোগে প্রতিবাদে নামে এ আন্দোলনের সমর্থকরা।

ঢাকার সমাবেশে কমরেড মেহেদি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুনেত্র ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গরিবী হটাও আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের সভাপতি খায়রুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মাহবুব।
সমাবেশ শেষে মিছিল করেন তারা।

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life

জাতিসংঘের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়


জাতিসংঘের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়

ভিওবিডি, ঢাকা থেকে

জাতিসংঘের ঝঁুকিপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ঢাকা সম্পর্কে আশঙ্কা করা হয়েছে এখানে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে। কারণ জনসংখ্যার ঘনত্ব, ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো ও ঘন বিল্ডিং নির্মাণ। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) মিলনায়তনে একশন এইড বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান কমিশন ফর হিউম্যানিটারিয়ান এইড এর সহযোগিতায় বিজিএমইএ ও পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) যৌথ উদ্যোগে পোশাক শিল্পে কর্মরতদের ভূমিকম্প ও অগ্নি দুর্ঘটনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ আশঙ্কার কথা উঠে আসে। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ড· মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এ ঝঁুকির কথা জানান।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শ্রমনিবিড় পোশাক শিল্পে নিয়োজিত বিপুল জনগোষ্ঠী। এ খাতে একই ভবনে বহু শ্রমিককে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। কিন্তু তারা জানে না ভূমিকম্প হলে কিভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হবে। তাই এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন একশন এইড বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি আসগর আলী সাবরি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগে· জে· আবু নাঈম মোঃ শহীদুলস্নাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বুøরোর মহাপরিচালক আহসান জাকির, পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক মিলন বিকাশ পাল, বিজিএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, ফায়েজুন নবী চৌধুরীসহ বিজিএমইএর পরিচালকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ড· মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভূমিকম্পকালীন যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সেজন্য প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে জীবন বাঁচানো ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে তার মন্ত্রণালয় থেকে ৭০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভূমিকম্পে বিপন্ন মানবতাকে সাহায্য করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে।

আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণে বিজিএমইএ এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবস্থায় ৩৫ লাখ শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, বছরব্যাপী চাল, ডাল, তেল, লবণ, আটাসহ খাদ্যসামগ্রী ন্যায্যমূল্যে তারা যাতে পেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিজিএমইএ সভাপতি মাননীয় মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। আসগর আলী সাবরি বলেন, ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে অগ্নি নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে বিজিএমইএর সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করা হয়। তিনি বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়াও একশনএইড বাংলাদেশ বিজিএমইএর সঙ্গে কমপস্নায়েন্সের ক্ষেত্রগুলোয় কাজ করতে আগ্রহী।

রিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ শেয়ার মার্কেটে প্রতারণা বাংলাদেশী নূর মোহাম্মদ নিউইয়র্কের কারাগারে


ধাপ্পাবাজিঃরিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ শেয়ার মার্কেটে প্রতারণা বাংলাদেশী নূর মোহাম্মদ নিউইয়র্কের কারাগারে

এনা, নিউইয়র্ক থেকে

শেয়ার বাজারে লাগাতার কেলেংকারির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশী আমেরিকান নূর মোহাম্মদ (৪৭)কে এফবিআই গ্রেফতারের পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের ব্যাপারে ফেডারেল প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর আগে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, রিয়েল এস্টেট প্রতারণা, ধাক্কা ব্যবসায় বেশ কিছু বাংলাদেশীর জেল-জরিমানা হলেও ওয়াল স্ট্রীটে প্রতারণার মত মারাত্মক কোন অপকর্মে কোন বাংলাদেশী গ্রেফতার হননি। নূর মোহাম্মদকে জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে বলে ইউএস এটর্নীর মুখপাত্র রবার্ট নারডোজা ২১ অক্টোবর বার্তা সংস্থা এনাকে জানিয়েছেন। এর আগে তার জামিন হয়েছিল ২ মিলিয়ন ডলার বন্ডে, কিন্তু পরবর্তিতে তা নাকচ করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত ঠিকানা পত্রিকার চলতি সংখ্যা (২২ অক্টোবর) প্রথম পাতায় সেকেন্ড লীড হিসেবে চাঞ্চল্যকর সংবাদটি ‘প্রতারণাঃ রিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ ধাপ্পাবাজ নূর মোহাম্মদের অবিশ্বাস্য কাহিনী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। তা এখানে উপস্থাপন করা হলো।

নূর মোহাম্মদ।

রিয়েল এস্টেট ও মর্টগেজ প্রতারকরা নয়া ধান্দা হিসেবে ওয়াল স্ট্রীটকে বেছে নিয়েছে। ই-ট্রেড ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্টে অর্থ না থাকা সত্বেও মোটা অংকের চেক ইসুø এবং ইসুøকৃত ঐ চেকের বিপরীতে শর্ট-টার্ম স্টক ক্রয় করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে নিউইয়র্কের নূর মোহাম্মদ নামক এক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার এবং তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ব্রুকলীনে অবস্থিত ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সূত্রে ওয়াল স্ট্রীটে প্রতারণার অভিনব এ কৌশলের তথ্য জানা গেছে। নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয় গত সেপ্টেম্বরে এবং ২ মিলিয়ন ডলার বন্ডে জামিনের অনুমতি দেয়া হলেও বন্ড সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বিধায় এখনও তিনি জেলেই রয়েছেন। ১ অক্টোবর থেকে তার বিরুদ্ধে ডিটেনশনের নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল জজ যোয়ান এম এজরেক। ১৫ অক্টোবর নূর মোহাম্মদের কথিত অফিস থেকে প্রতারণার অনেরক ডকুøমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। উদ্ধারকৃত ডকুøমেন্টে রয়েছে প্রতারণাকারীদের ড্রাইভার লাইসেন্স, সোস্যাল সিকিউরিটি কার্ড, হস্তলেখা, বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট, মোট সহায়-সম্পদের পরিমাণের হিসাব এবং কথিত ই-ট্রেড একাউন্টগুলোর নম্বর।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, নিউইয়র্কের ডিয়ার পার্ক এলাকার অধিবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান নূর মোহাম্মদ ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ আইল্যান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ ইনক নামে কোম্পানীর রেজিস্ট্রেশনের জন্যে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্টে আবেদন করেন। একই নামে তিনি এইচএসবিসি ব্যাংকে একটি একাউন্টও খুলেন। এছাড়া নূর মোহাম্মদের নামে আরেকটি কোম্পানীর অস্তিত্ব পায় এফবিআই। সেটির নাম হচ্ছে দেশ ডেভেলপমেন্ট ইনক। এ কোম্পানীর মালিকের নাম হচ্ছে নূর মোহাম্মদ। দেশ ডেভেলপমেন্ট ইনকের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয় চেজ ব্যাংকে। এ একাউন্টের পক্ষ থেকেই চেক ইসুø করা হয় এবং স্বাক্ষর করেন এন মোহাম্মদ। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১৫ অক্টোবর এই নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করেছিল সাফোক কাউন্টি পুলিশ। ব্যাংক অব আমেরিকাকে তিনি ৯৫ হাজার ডলারের একটি চেক দিয়েছিলেন দেশ চেজ একাউন্ট থেকে। সে একাউন্টে কোন অর্থ ছিল না। ঐ প্রতারণার মামলায় নূর মোহাম্মদ ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই মাননীয় আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং জীবনে কখনো এহেন প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না মোচলেকা দিয়ে ঐ মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন।

ফেডারেল কোর্টে বিচারাধীন মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে নূর মোহাম্মদ অনলাইনে একটি ই-ট্রেড একাউন্ট খুলেন। একাউন্টে নূর মোহাম্মদকে উপরোক্ত আইল্যান্ড ট্রেডিংয়ের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বার্ষিক আয় দেখানো হয় ২ লাখ ডলার এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয় ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার। মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল এইচএসবিসি ব্যাংকের একাউন্ট থেকে এন মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত ৩০ হাজার ডলারের একটি চেক ইসুø করা হয় অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদের নামে এবং তা জমা দেয়া হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। সে সময় এইচএসবিসি একাউন্টে ছিল ১৫ হাজার ডলার। অথচ চেক দেয়া হয় ৩০ হাজার ডলারের। ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল ২৩১ ব্রডকম কল থেকে নূর মোহাম্মদ প্রতি শেয়ার ১.২৫ ডলার হারে মোট ২৯০৫৮.২৪ ডলারের শেয়ার ক্রয় করেন ই-ট্রেড একাউন্ট বরাবরে। একাউন্টে ডলার না থাকা সত্বেও শর্ট টার্ম শেয়ার ক্রয়ের পরিণতিতে ব্রডকম কলের বাজারে পতন ঘটে এবং পরদিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল প্রতি শেয়ারের দাম মাত্র ৩৫ সেন্ট হয়। অর্থাৎ আগের দিন নূর মোহাম্মদের কেনা শেয়ারের দাম কমে ৭৯০১.৬৩ ডলার হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১ মে উপরোক্ত ৩০ হাজার ডলারের চেক ফেরৎ আসে, কারণ নূর মোহাম্মদ স্টপ পেমেন্ট করেছিলেন। এভাবে স্টক ব্যবসায় ধসের দায় এড়ানোর নাটক করেন নূর মোহাম্মদ এবং তার একাউন্ট নেগেটিভ হয় ১৮৮৭২.৪৯ ডলারের।

নূর মোহাম্মদের প্রতারণার ঘটনা বর্ননাকালে মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে আরেকটি ই-ট্রেড একাউন্ট খোলা হয় নূর মোহাম্মদের নামে। এ সময় এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে নূর মোহাম্মদ বলেন যে, তাৎক্ষণিকভাবে তার কিছু ডলার দরকার। একাউন্টে ডলার রয়েছে কিন্তু চেকবই আনতে ভুলে গেছেন। এভাবে ঐ লোকটির কাছে নগদ অর্থ নিয়ে পরদিন যে চেক দিয়েছিলেন সেটি ভাঙ্গানো যায়নি একাউন্টে ডলার না থাকায়।

২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের একটি একান্ট থেকে ৯৫ হাজার ডলারের চেক ইসুø করা হয়। সে চেক জমা দেয়া হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। পরবতিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে একাউন্টে রয়েছে মাত্র ৩০০ ডলার, অথচ চেক ইসুø করা হয় ৯৫ হাজার ডলারের। ২০০৭ সালের ১ মে মাস্টার কার্ড শেয়ার ক্রয় করা হয় মোট ৯৪ হাজার ৮৪৩.৭১ ডলারের। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ২.১০ ডলার থেকে ২.৩৫ ডলার করে। পরদিন মাস্টার কার্ডের শেয়ারের দাম বেড়ে প্রতিটি ৭.৭০ ডলার থেকে ৮.৩০ ডলার করে বিক্রি হয়। অর্থাৎ আগের দিন ৯৪৮৪৩.৭১ ডলারের শেয়ার পরদিন বিক্রি হয় ৩২৬৬৩১.২১ ডলারে। ২ মে সিটি ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে ৯৬ হাজার ডলার ড্র করা হয়। এর পরদিন ৯৫০৩০ ডলারের আরেকটি চেক ইসুø করা হয়। ৭ মে চেকটি রিটার্ন আসে একাউন্টে ডলার না থাকায়। মামলায় বলা হয়েছে, ৮ মে থেকে ১১ মে র্পন্ত সিটি ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে ৩১৮০০০ ডলার ট্র্যান্সফার করা হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। ঐ অর্থ থেকে ২৪৮০০০ ডলার স্থানান্তর করা হয় চেজ ব্যাংকে। এর সপ্তাহখানেক পর অর্থাৎ ১৬ ও ১৭ মে চেজ ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে মোট দেড় লাখ ডলার ড্র করা হয়। ১৭ মে ৭৫ হাজার ডলারের চেজ ক্যাশিয়ার চেক জমা দেয়া হয় দেশ চেজ একাউন্টে। এসব চেকে স্বাক্ষর করেন এন মোহাম্মদ। অর্থাৎ চেক ইসুøকারী এবং গ্রহণকারী একই ব্যক্তি হলেও বিভিন্ন নামে একাউন্ট খুলে ব্যাংকের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে লাগাতারভাবে। একাউন্টে অর্থ না থাকা সত্বেও চেক জমা দিয়ে কালেকশন হওয়ার জন্যে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে তিনি স্টক ব্যবসা করে মোটা অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উপরোক্ত নূর মোহাম্মদ তার প্রতারণায় শাশুড়িকেও ব্যবহার করেছেন। ২০০৭ সালের ২২ মে চেজ একাউন্ট থেকে ৯০ হাজার ডলারের একটি চেক ইসুø করা হয় শাশুড়ির নামে খোলা ই-ট্রেড একাউন্টে। অথচ ঐ সময় চেজ একাউন্টে জমা ছিল মাত্র ৫০ ডলার। এই চেক জমা দেয়ার পরই ২২ মে সন্দা ইন্টারন্যাশনাল থেকে ৮৯৯৯৩.১৯ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ১.২৫ ডলার থেকে ১.৩৫ ডলার করে। ভূয়া চেকের বিপরীতে শেয়ার কেনার তথ্য জানাজানি হওয়া মাত্র দরপতন ঘটে এবং ২৪ মে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে ৪০ থেকে ৪৫ সেন্ট হয়। অর্থাৎ নূর মোহাম্মদের ক্রয় করা শেয়ারের মোট মূল দাঁড়ায় ২৯৩১৬.৩১ ডলার। অথচ দুদিন আগে তা কেনা হয় ৮৯৯৯৩,১৯ ডলার দিয়ে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, ২৪ মে ভেরিজি লিমিটেডের ২০৬টি শেয়ার কেনা হয় নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। প্রতিটি ১.৩০ থেকে ১.৪০ ডলার হারে মোট ২৮৮৩৪.৪৮ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। ২৫ মে শেয়ারের দাম বেড়ে প্রতিটি ৩.৮০ থেকে ৩.৯০ ডলার করে বিক্রি হয়। অর্থাৎ মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮৪৯৪.৩৩ ডলার। ২৫ মে সানটেক পাওয়ারের ৪১০টি শেয়ার কেনা হয় ঐ নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১.৮৫ ডলার থেকে ১.৯৫ ডলার। অর্থাৎ মোট ৭৮৮৫৭.৪৫ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। দিন পর এসব শেয়ারের মূল্য পতন ঘটে প্রতিটি ৭০ সেন্ট থেকে ১.০৫ ডলার করে বিক্রি হয় অর্থাৎ ৭৮৪৯৪.৩৩ ডলারের শেয়ার বিক্রি করতে হয় মাত্র ৪১৮৬১.৮৭ ডলারে। এসব শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে যে চেক দেয়া হয়েছিল ৯০ হাজার ডলারের, তা রিটার্ন আসে একাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায়। ফলশ্রুতিতে নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির একাউন্টে নেগেটিভ ব্যালেন্স দাঁড়ায় ৪৭৯৬৪.৫৯ ডলারে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে আরেকটি ই-ট্রেড একাউন্ট খোলা হয় জনৈক ব্যক্তির নামে (যার পরিচয় এফবিআই জানে)। অনলাইনে খোলা ঐ একাউন্ট হোল্ডার আইল্যান্ড ট্রেডিংয়ের কর্মচারি বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০৭ সালের জুন মাসে ঐ একাউন্টে যখন কোন অর্থই ছিল না সে সময় ট্রেডিং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। এরপর ১৪ জুন কমার্স ব্যাংকের একটি চেক ইসুø করা হয় ৭৫ হাজার ডলারের। এ চেক জমা করা হয় আগের ই-ট্রেড একাউন্টে। এ সময় কমার্স ব্যাংকের একাউন্টে ছিল মাত্র ১০ ডলার। ১৪ জুন এডবি সিস্টেমের ১১৪০টি শেয়ার ক্রয় করা হয় উপরোক্ত ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। ঐ সময় কমার্স ব্যাংক প্রদত্ত ৭৫ হাজার ডলারের চেক কালেকশনের অপেক্ষায় ছিল বিধায় শেয়ার মার্কেট থেকে শর্ট টার্ম হিসেবে ১১৪০টি শেয়ার কেনা সম্ভব হয়-যার মূল্য দাঁড়ায় ৭৪৯৮০.৯৮ ডলার। ১৯ জুন ঐ চেক রিটার্ন আসে। অপরদিকে ২২ জুন এডবির শেয়ারের মূল্য পরিশোধের শেষ সময় ছিল। ই-ট্রেড একাউন্ট থেকে ঐ শেয়ারের কোন অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও নূর মোহাম্মদ গং-রা তা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন। যদিও সে সময় ঐ ট্রেড একাউন্টে নেড়েটিভ ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছিল ৭৫১১৫.১৮ ডলার।

এভাবে আরো কয়েকটি চেক প্রতারণামূলকভাবে ইসুø করেন নূর মোহাম্মদ এবং শেয়ার বাজারে টালমাটাল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ১৫ অক্টোবর নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতারের সময় প্রতারণার অনেক ডকুøমেন্ট পুলিশ উদ্ধার করেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গার্ডেন সিটিতে ই-ট্রেড শাখায় ২০০৭ সালের ১৬ ও ১৭ জুলাই এক ব্যক্তি দুটি চেক জমা দিয়েছেন-সে ভিডিও রয়েছে এফবিআইয়ের হাতে। ভিডিওতে নূর মোহাম্মদের ছবি রয়েছে যিনি ভূয়া চেকগুলো জমা দিয়েছিলেন। নূর মোহাম্মদ তার স্ত্রীকেও রেহাই দেননি। স্ত্রীর নামেও ই-ট্রেড একাউন্ট খুলেছিলেন এবং ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই দেড় লাখ ডলারের একটি চেক জমা দেয়া হয়। চেকটি ছিল সিটি ব্যাংকের এবং জমা দেয়া হয় স্ত্রীর নামে ই-ট্রেড একাউন্টে। সে সময় সিটি ব্যাংকের একাউন্টে ছিল মাত্র ৪৫ ডলার অথচ চেক ইসুø করা হয় দেড় লাখ ডলারের। এ চেকের বিপরীতে ২৪ জুলাই নিউট্রিসিস্টেমের ৪৬৭ শেয়ার ক্রয় করা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ১.২৫ ডলার থেকে ১.৬৫ ডলার করে। মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৬১৫৫.২১ ডলার। পরদিন শেয়ারের দরপতন ঘটে এবং তা বিক্রি করতে হয় পানির দরে। ২৫ জুলাই অকামাই টেকনোলজির ৪৮৮ শেয়ার কেনা হয় প্রতিটি ১.৬৫ থেকে ১.৮০ ডলার করে। মোট ক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৮৪৩৫৫.৯৮ ডলার। ১৮ আগস্ট এসব শেয়ারের কন্ট্রাক্ট ফুরিয়ে যায়। অর্থাৎ কোন মূল্য ছাড়াই শেয়ারগুলো পরিত্যক্ত হয়। এরইমধ্যে ৩১ জুলাই উপরোক্ত দেড় লাখ ডলারের চেক রিটার্ন আসে। ফলে ২০০৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে নূর মোহাম্মদের স্ত্রীর একাউন্টে নেগেটিভ ব্যালেন্স দাঁড়ায় ১৪৪৯৫৩.৪৪ ডলার। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ তার দেশ চেজ একাউন্টের চেক কাটেন ৯৫ হাজার ডলারের। এ চেক জমা দেয়া হয় তারই ব্যাংক অব আমেরিকা একাউন্টে। দেশ চেজ একাউন্টে সে সময় ছিল মাত্র ২ হাজার ডলার। এ চেক দেখিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ আপেল ইনকের ৩৬৭ শেয়ার ক্রয় করেন প্রতিটি ১.৭০ ডলার থেকে ২.৬৫ ডলার হারে। মোট ক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৭৮৮৭৫.২৫ ডলার। প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হবার পর শেয়ারের দরপতন ঘটে এবং ২১ সেপ্টেম্বর তা বিক্রি করতে হয় প্রতিটি ১.৪০ ডলার করে এবং বিক্রির পর পাওয়া যায় মাত্র ৫৬৮৫৮.৮২ ডলার। একই চেকের অজুহাতে ২১ সেপ্টেম্বর বিয়ার স্টিয়ার্নস কোম্পানীর ৯৯০টি শেয়ার ক্রয় করেন ঐ নূর মোহাম্মদ মোট ৭৭৯১৪.৫০ ডলারের। শেয়ারের দাম কমায় ২৪ সেপ্টেম্বর ৩৩৭টি বিক্রি করা হয় মোট ১০১৪.৫৫ ডলারে। অবশিষ্ট শেয়ারগুলোর কোন মূল্যই পাওয়া যায়নি। যথারীতি ২৪ সেপ্টেম্বর ৯৫ হাজার ডলারের চেকটিও ফেরৎ এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর উপরোক্ত নূর মোহাম্মদ ১৯০০০০ ডলারের আরেকটি চেক ইসুø করেন চেজ ব্যাংক একাউন্ট থেকে এবং তা জমা করা হয় ব্যাংক অব আমেরিকার একাউন্টে। সে চেকটিও ফেরৎ এসেছে একাউন্টে কোন অর্থ না থাকায়। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে নূর মোহাম্মদ মোট ৬ লাখ ডলার ক্ষতি করেছেন ই-ট্রেড এবং ব্যাংক অব আমেরিকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, ধাক্কা ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট প্রতারণার সাথে জড়িত একটি চক্রের নেপথ্য কারিগররা এখন নবউদ্যমে ওয়ালস্ট্রীটে এহেন জালিয়াতির ধান্দা করেছে। একাউন্ট খুলে এভাবে চেক প্রদানের পর শর্টটার্ম শেয়ার ক্রয় করে স্টক মার্কেটে এরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করছে বলে জানা গেছে। সূত্রঃ খবর ডট কম

কালো টাকার অনেক মালিকই গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আসছে: এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে।


রাজনৈতিক টিভি লাইসেন্স বন্ধের দাবি

আজকাল ঢাকা প্রতিনিধিঃ তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ১/১১ এর জরম্নরি অবস্থা থেকে আজকের গণতন্ত্রের উত্তরণে গণমাধ্যম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং গণমাধ্যমকে সহায়ক শক্তি মনে করে। কাজেই গণমাধ্যমের বিরম্নদ্ধে সংসদে কোন সাংসদ কি বক্তব্য দিলেন; সেটা সরকারের অবস্থান নয়। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে সচেতন আছেন। প্রথম আলো অwেয়াজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক গোলটৈবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির ভাষণে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহষ্পতিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কালো টাকা এখন সবখানে। গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়। তবে আদর্শ ও নৈতিকতা মেনে সাংবাদিকতা করতে হবে। টাকার কাছে বিক্রি হলে চলবে না। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসা, দি ইনডিপেনডেন্টের সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নয়াদিগন্তেôর সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান গীতি আরা নাসরীন, আমাদের সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বৈশাখি টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল, এবিসি রেডিওর বার্তা ও অনুষ্ঠান প্রধান সানাউলস্নাহ লাবলু, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, মাছরাঙ্গা টেলিভিমনের বার্তা প্রধান শাহ আলমগীর, এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ· ই· মামুন, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহা এবং দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক।

বৈঠকের সূচণা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তôম্্‌ভ। বাংলাদেশের অদিকাংশ সংবাদপত্র মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও স্বাধীনতার পড়্গে। সরকারের ভুল ত্রম্নটি দেখিয়ে দিয়ে সংবাদপত্র সরকারকে দায়িত্ববান করে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা তার পাঠকের কাছে। কাজেই কোন গণমাধ্যম দায়িত্বশীল না হলে পাঠক বা দর্শক হারাবে।

মতিউর রহমান বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়েনি। নিউজপ্রিন্টের দাম বাড়ছেই। এই সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া জরম্নরি। জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিউজপ্রিন্টের শুল্ক প্রত্যাহার, সরকারি বিজ্ঞাপনের দাম বাড়ানোসহ অনান্য বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

সংসদের ঘটনায় উদ্বেগঃ বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকরা সম্প্রতি সংসদে যে ভাষায় সংবাদপত্রের সমালোচনা করা হয়েছে তার সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, তত্বাবধায়ক সরকার ড়্গমতায় আসার পর বলেছিলো দেশে এখন সংসদ নেই। গণমাধ্যম সংসদের ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু সেই গণমাধ্যমের ওপর নানা সময়ে নির্যাতন হয়েছে। সাংসদদের ত্রম্নটি বিচুøতি নিয়ে সংবাদ হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে এভাবে সমালোচনা হতে পারে না।

মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল বলেন, ভারতে টাকা খেয়ে প্রশ্ন করার দায়ে ১৫ সাংসদের সদস্যপদ চলে যায়। বাংলাদেশের সাংসদরাও একইভাবে সংবাদপত্র নিয়ে সংসদে আলোচনা করলেন কিনা সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ এমন লড়্গণই সেদিন দেখা গিয়েছিলো। গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘সংসদে সেদিন যেভাবে গণমাধ্যমের সমালোচনা হয়েছে আমি আমার পেশাগত জীবনে তেমনটা দেখিনি। আমাদের সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করা উচিত ছিলো।’ গোলাম সারোয়ারও একই প্রশ্ন করে বলেন, ‘যেভাবে এই ঘটনা ঘটলো, স্পিকারও যেভাবে যোগ দিলেন তাতে সন্দেহ হয় এটা পূর্ব পরিকল্পিত কিনা।’

তবে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সংসদের এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।এটি সরকারের বক্তব্য নয়। কারণ, এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে। গণমাধ্যমকে সহায়ক শক্তি ভাবে। রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক কর্মীরা সাংবাদিকদের উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এটি বন্ধ করতে হবে। শাইখ সিরাজ বলেন, সংবাদপত্র তুলনামূলকভাবে অনেক স্বাধীনতা ভোগ করলেও টেলিভিশনে নানা চাপ আসে। কাজেই একটি সম্প্রচার নীতিমালা করা দরকার। তিনি বলেন, সরকারের পড়্গ থেকে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে বিটিভির খবর প্রকাশ করার জন্য বলা হচ্ছে। এতে জনগণের কি উপকারটা হবে বোঝা যাচ্ছে না। এ ছাড়া পত্রিকায় কোন বিজ্ঞাপন দিলে সরকার টাকা দেয়। কিন্তু টেলিভিশনে কোন টাকা না দিয়ে উল্টো বলা হয়, গুরম্নত্বপূর্ণ সময়ে দেখাতে হবে। অতীতে ও জরম্নরি অবস্থায় টেলিভিশনগুলোকে অনেক চাপে কাজ করতে হয়েছে।

মুন্নী সাহা বলেন, আগে বিভিন্ন ভবন থেকে চাপ আসতো। তবে এখন সেটা নেই।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেছেন, এই সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাই কোন চাপ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, গত দুই বছরে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোথাও কোন চাপ দেওয়া হয়েছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না।

রাজনৈতিক লাইসেন্স বন্ধের দাবিঃ রাজনৈতিকভাবে টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধের আহবান জানান বক্তারা। রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, কাকে টেলিভিশন ও রেডিওর লাইসেন্স দেওয়া হবে সে ব্যাপারে নীতিমালা করতে হবে। জ· ই· মামুন বলেন, গণমাধ্যশ একটি শক্তিশালী অস্ত্র। কাকে এই অস্ত্র দেবেন, কাকে দেবেন না সেটি ঠিক করা দরকার। একই রকম মন্তôব্য করেন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সব বার্তা প্রধানরা।

কালো টাকা নিয়ে উদ্বেগঃ মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল বলেন, পুঁজি ও ড়্গমতা নানাভাবে গণমাধ্যমকে কলুষিত করেছে। শ্যামল দত্ত বলেন, কালো টাকার বিনিয়োগ আসছে মিডিয়ায়। যাদের বিরম্নদ্ধে লেখালেখি হয় তারাই এখন টাকা নিয়ে সংবাদপত্র বের করছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, কালো টাকার অনেক মালিকই গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আসছে। বুদবুদের মতো এই বিনিয়োগ উড়ে গেলে অনেকেই চাকুরি হারাবেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কালো টাকা এখন সব জায়গায়। কিন্তু সাংবাদিকদের টাকার কাছে বিক্রি হলে চলবে না। গোলাম সারোয়ার বলেন, কালো টাকার মালিকরা এসে বেশি বেতনে সাংবাদিকদের নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রথম আলো সম্পাদকের বিরম্নদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে খুবই নোংরাভাবে। আমাদের সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করা উচিত।

খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের শীর্ষ মহল উদ্বিগ্ন : ঋণখেলাপি দুই হাজার, ব্যাংকের পাওনা ১৫ হাজার কোটি টাকা


খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের শীর্ষ মহল উদ্বিগ্ন

গোলাম মওলাঃ
ঋণ খেলাপিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকারের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংকট তৈরি হবে। এ মুহূর্তেই খেলাপি ঋণের হ্রাস টেনে না ধরলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়তে পারে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সভায় খেলাপি ঋণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ইএনবি।

সভায় জানানো হয়, ঋণ খেলাপিরা মাত্র ১০% ডাউন পেমেন্ট দিয়ে পুনরায় সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে যায়। এতে করে সরকারের তারল্য সংকটসহ দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের পরিপ্রেক্ষিতে যে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে তা আরো ঘনীভূত হবে। দেশে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্তô হবে বেশি।

এদিকে গতকাল অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্তô সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ঋণ খেলাপির ওপর আলোচনা হয়। উলেস্নখ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত খেলাপি ঋণের ব্যাপারে বরাবরই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছিলেন। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড· এমএম আকাশ বলেছেন, দেশে দুটি শ্রেণী সৃষ্টি হচ্ছে। একটি ধনীকশ্রেণী আরেকটি হতদরিদ্র। মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী লোক রাষ্ট্রীয় অর্থ আইন-কানুনের ফাঁক-ফোঁকরে কুক্ষিগত করে দেশে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পথ তৈরি করছে।

ঋণখেলাপি দুই হাজার, ব্যাংকের পাওনা ১৫ হাজার কোটি টাকা

সংসদে তালিকা: শীর্ষ ১০ খেলাপি
১. বেক্সিমকো টেক্সটাইলস লি. ২. পদ্মা টেক্সটাইল মিলস লি. ৩. বিজেএমসি ৪. বিটিএমসি ৫. এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল লি. ৬. শাইনপুকুর হোল্ডিংস লি. ৭. মাগুরা পেপার মিলস লি. ৮. আদমজী জুট মিলস লি. ৯. ফেয়ার এক্সপো ওয়েভিং মিলস ১০. বেক্সিমকো নিটিং লি.

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রথম আলোঃ
দেশে এক কোটি বা এর চেয়ে বেশি অঙ্কের ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজার ১৯৬। এই খেলাপি-দের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনা ১৫ হাজার ৪৫১ কোটি দুই লাখ টাকা।
তালিকার শীর্ষে বেক্সিমকো টেক্স-টাইলস। শীর্ষ দশের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আরও আছে সরকারি দুটি করপোরেশন এবং বন্ধ আদমজী পাটকল।
জাতীয় সংসদে গতকাল রোববার এই তালিকা উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ নূর আফরোজ আলীর প্রশ্নের জবাবে লিখিত আকারে এ উত্তর দেওয়া হয়। তবে সময়ের অভাবে প্রশ্নটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা তালিকা জাতীয় সংসদে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের মার্চ শেষে দেশে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা; যা সেই সময় পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা দুই লাখ ১২ হাজার ৪৪ কোটি টাকার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ।
তবে এই হিসাবের বাইরে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করা হয়েছে। এর বিপরীতে ১০০ ভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ব্যাংক সংরক্ষণ করে বলে মোট খেলাপি ঋণের হিসাবে তা যোগ করা হয় না। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে খেলাপি ঋণ যুক্ত থাকার কথা। খেলাপির সংজ্ঞা অনুসারে, কোনো ঋণ পরিশোধের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে সেই ঋণটি খেলাপিতে পরিণত হয়।
জাতীয় সংসদে দেওয়া তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে পোশাক ও বস্ত্র খাতের নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই বছরের পর বছর ধরে খেলাপি হয়ে রয়েছে। তালিকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান যেমন রয়েছে, তেমনি অখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এমনকি এই তালিকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নামও রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ২১৬তম খেলাপি। মোট খেলাপির পরিমাণ ১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
বেক্সিমকো গ্রুপ ছাড়াও তালিকায় আবুল খায়ের লিটু, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
তালিকার শীর্ষ খেলাপি বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা টেক্সটাইলের খেলাপি ঋণ ২৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ষষ্ঠ স্থানেও আছে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর হোল্ডিংস। শাইনপুকুরের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। শীর্ষ দশের সর্বশেষ কোম্পানি বেক্সিমকো নিটিংয়ের মোট খেলাপি ঋণ ৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর বাইরে ২১তম স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং। তাদের খেলাপি ঋণ ৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৫৫তম খেলাপি বেক্সিমকো ডেনিমস। খেলাপির পরিমাণ ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তালিকায় ৩২৯ নম্বরে থাকা বেক্সিমকো কম্পিউটার্সের মোট খেলাপি ঋণ ১১ কোটি দুই লাখ টাকা এবং ৩৬৮তম খেলাপি বেক্সিমকো ফ্যাশনস লিমিটেডের খেলাপি ঋণ নয় কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের আট প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণ ৯৮১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম মালিক সালমান এফ রহমান। তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা।
তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি করপোরেশন। এর মধ্যে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) খেলাপি ঋণ ২৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ বস্ত্রকল করপোরেশনের (বিটিএমসি) খেলাপি ঋণ ১৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। বন্ধ হয়ে গেলেও ঋণখেলাপির তালিকায় এখনো রয়েছে আদমজী পাটকল। ব্যাংকের পাওনা ১২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
পঞ্চম শীর্ষ ঋণখেলাপি বেসরকারি খাতের এসডিএস ইন্টারন্যাশনালের মোট খেলাপি ঋণ ১৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মাগুরা পেপার মিলস দেশের সপ্তম শীর্ষ ঋণখেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ১২৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। নবম স্থানে থাকা ফেয়ার এক্সপো উইভিং মিলসের খেলাপি ঋণ ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
তালিকায় একাদশ স্থানে রয়েছে প্রয়াত মাওলানা এম এ মান্নানের রিভার সাইড লেদার ও ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৮ কোটি ছয় লাখ টাকা। দ্বাদশ স্থানের আর্চ লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর পরই আছে বাংলাদেশ অটোরিকশা চালক সমবায় ফেডারেশন। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় এই সমিতি গঠন করে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে আছে ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান শামসুল আল আমিন কটন মিলসের কাছে পাওনা ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এই গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান জাহানারা আল আমিন স্পিনিং মিল ৮০তম শীর্ষ খেলাপি। এর কাছে পাওনা ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান খুলনা নিউজপ্রিন্টের খেলাপি ঋণ ৭১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান কওমী পাটকলের খেলাপি ঋণ ৬৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ১৭তম খেলাপি আবুল খায়ের লিটুর দেশ বেভারেজ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির মোট খেলাপি ঋণ ৬১ কোটি ১৭ লাখ। এর পরের তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো যথাক্রমে সামিনা ট্যানারি (৬০ কোটি ৯৮ লাখ), স্টার সিমেন্ট (৬০ কোটি ৮৯ লাখ) এবং বিক্রমপুর পটেটো ফ্লেকস (৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা)।
মোহাম্মদ আলীর দেশমা সুজ (৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা) ২২তম শীর্ষ খেলাপি। একই ব্যক্তির এবি ভেজিটেবল অয়েলের অবস্থান ৪৫তম, খেলাপির পরিমাণ ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। আবার দেশ বেভারেজ ছাড়াও আবুল খায়ের লিটুর আরেক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনওয়াইড কমিউনিকেশন তালিকায় ১০৭তম স্থানে রয়েছে। খেলাপির পরিমাণ ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ওয়ান স্পিনিং মিল ২৪তম খেলাপি, পাওনা ঋণের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ৭৫তম খেলাপি ওয়ান এন্টারটেইনমেন্টের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকা, আবার ১৫৭তম স্থানে থাকা ওয়ান ডেনিমের খেলাপি ঋণ ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বহুল আলোচিত বিদ্যুতের খঁুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খাম্বা লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণ ১৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
খালেদা জিয়ার ভাই সাইদ এস্কান্দার ও ছেলে তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠান ড্যান্ডি ডাইং ৫৪তম খেলাপি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের পাওনা ৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। রেকর্ড পরিমাণ কম সময়ের মধ্যে সুদ মওকুফ করার পরও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়ে গেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করা আরেক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম ফারুকের ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার ৯৬তম খেলাপি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা ৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও খেলাপির তালিকায়: বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও খেলাপির তালিকায় রয়েছে। যেমন, ৫৯তম অবস্থানে থাকা আমার দেশ পাবলিকেশন্সের মোট খেলাপি ঋণ ৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গত বিএনপি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চেয়ারম্যান। ডায়লগ পাবলিকেশন্স ৬৮তম খেলাপি, মোট খেলাপি ঋণ ৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বৈশাখী মিডিয়া ৯১তম খেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ৩১ কোটি ২১ লাখ টাকা। বন্ধ সিএসবি বা বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফোকাস মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের অবস্থান ১৬১তম, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ১৮৯তম খেলাপি জনকণ্ঠ-এর কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২৯২তম খেলাপি একুশে টেলিভিশনের মোট খেলাপি ঋণ ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
বিএনপির সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্বামানের গচিহাটা একুয়াকালচার ফার্মস ১৯৩তম খেলাপি এবং মোট পাওনা ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সোহাগপুর টেক্সটাইল ১১৯তম খেলাপি এবং ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এর স্বত্বাধিকারী বিটিএমএর সভাপতি আবদুল হাই সরকার। ২৩৮তম খেলাপি এয়ার পারাবাতের খেলাপি ঋণ ১৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। হায়দারুজ্বামানের বেস্ট এভিয়েশনের খেলাপি ঋণ ছয় কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কে জেড ইসলামের নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল ২৯তম খেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। বিএনপির সাবেক সাংসদ জি এম সিরাজের ক্যাব এক্সপ্রেস ৪০৪তম খেলাপি, ঋণের পরিমাণ আট কোটি ৭৮ লাখ টাকা। জাহাজ তৈরির কোম্পানি আনন্দ শিপইয়ার্ড ১১৮তম ঋণখেলাপি, পাওনার পরিমাণ ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
তালিকার শেষ দিকে রয়েছে বসুন্ধরা, ফায়নাজ অ্যাপার্টমেন্ট (পঞ্চম তলা), ৩৭/১ পুরানা পল্টনের নাম। ১৫২৫ নম্বরে থাকা এই হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকের পাওনা এক কোটি ৭০ লাখ টাকা।