তৈরি পোশাক খাত:শ্রমিকসংকটের আশঙ্কা:বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনছে চীনা উদ্যোক্তারা:রেমিট্যান্সপ্রবাহে বিশাল ধস নেমেছে


তৈরি পোশাক খাত
শ্রমিকসংকটের আশঙ্কা
বদরুল আলম

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প সচল রেখেছেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। তবে শিল্পমালিকরা বলছেন, এ খাতে শ্রমিক প্রয়োজন ৫০ লাখ। এ হিসাবে এখনই ১০ লাখ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যেই ঘটছে তাজরীন ফ্যাশনসের মতো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, যা কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলছে শ্রমিকদের। এর ওপর আছে মজুরি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের শ্রমিকসংকটে পড়তে যাচ্ছে বার্ষিক ২০ বিলিয়ন ডলার এনে দেয়া খাতটি।
শ্রমিকসংকটের কথা স্বীকার করছেন খাতসংশ্লিষ্টরাও। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহসভাপতি ফারুক হাসান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় ভয়াবহ শ্রমিকসংকটের আশঙ্কা করছি আমরা। এর মূল কারণ, শ্রমিকরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এ আস্থার সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হবেই।’

জানা যায়, তৈরি পোশাকের মূল সরবরাহকারী চীন তাদের অবস্থান থেকে ক্রমেই ছিটকে যাচ্ছে। দেশটিতে শ্রমের মজুরি বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। কয়েক বছর আগে চীন বিশ্বের মোট চাহিদার ৪২ শতাংশ তৈরি পোশাক সরবরাহ করলেও এখন তা ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ভারতেও শ্রমের মজুরি প্রতি বছরই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে এ খাতে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করার। তবে মজুরি ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশের অভাবে এ সুযোগ কাজে লাগানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
Bangladesh fire victims want old jobs back

Bangladesh fire victims want old jobs back

খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মাসে ১৫-২০ শতাংশ শ্রমিক পোশাক কারখানা ছেড়ে যাচ্ছেন। তিন বছর আগেও এ হার ছিল ৫-১০ শতাংশ। কৃষিকাজে উপার্জনের সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামে ফিরে যেতে চাইছেন অনেকেই। দিনে ৩০০-৩৫০ টাকা হিসাবে একজন কৃষি শ্রমিক মাসে ৯-১০ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত এ হারে আয় করতে পারবেন তারা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে অনেক কারখানা আছে, যেগুলোর শ্রমিকরা এখন মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়েই কারখানাগুলোকে সারা বছরই শ্রমিক নিয়োগে চেষ্টা চালাতে হচ্ছে। ঢাকাসহ আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কারখানায়ই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে।

শ্রমিকদের মধ্যে পোশাক কারখানা ছেড়ে দেয়ার প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা। এর সর্বশেষ উদাহরণ আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস। এ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার পর আতঙ্কিত শ্রমিকদের অনেকেই এখন এ পেশা ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন। সংগঠনগুলো তাজরীনের পাশের কারখানাগুলোয় শ্রমিকদের কাজের সুযোগ করে দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া মিলছে না।

তাজরীন ফ্যাশনসের অপারেটর শামসুল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ কারখানায় আর কাজ করব না। অন্য কারখানায়ও যেতে চাই না। বেশির ভাগ কারখানার পরিবেশই প্রায় একই রকম। তাই কাজ পেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে না।’

শ্রম পরিবেশ নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগগুলোর সত্যতা মেলে পোশাক খাত নিয়ে করা সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায়। সমীক্ষা অনুযায়ী, পোশাক খাতের শ্রমিকপর্যায়ের ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ চাকরিই অস্থায়ী। ৮০ শতাংশ কারখানার প্রশিক্ষণ সুবিধা নেই। ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ কারখানায় চিকিত্সা সুবিধা নেই। পরিবহন সুবিধা দেয় না, এমন কারখানার হার ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ।

অবশ্য শ্রমিক প্রতিনিধিরা এ সংকট সাময়িক বলে ধারণা করছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরিন আখতার বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি করেছে। সাময়িকভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকসংকট সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি যা-ই হোক, এ খাতের সার্বিক কর্মপরিবেশ উন্নয়নে এখনই উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ এ খাতের মূল আকর্ষণই হচ্ছে শ্রমের সস্তা মজুরি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা খাত পরিবর্তনে বাধ্য হবেন কি না, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ ও সময়সাপেক্ষ। তবে এটাও ঠিক, তাদের হাতে খুব বেশি বিকল্পও নেই।

পোশাকশিল্প খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ শ্রমিকই নারী, যারা শহরে এসে একসময় বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। এ পেশা ছেড়ে তারা আর আগের পেশায় ফিরে যেতে চাইবেন না। আবার গ্রামে কৃষিকাজের সুযোগ থাকলেও কায়িক শ্রম বেশি হওয়ায় পুরুষরা তাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে— দেশের বাইরে চলে যাওয়া। কিন্তু সেখানেও রয়েছে নিরাপত্তার অভাব। কাজেই এ মুহূর্তে পোশাক কারখানাগুলোর উচিত কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশাল এ কর্মী বাহিনীকে ধরে রাখা।

বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনছে চীনা উদ্যোক্তারা
পোশাক শিল্পে সস্তা শ্রমের সুযোগ
সাইদুল ইসলাম

সস্তা শ্রমের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে পোশাক শিল্প কারখানা সরিয়ে আনছে বিশ্ব অর্থনীতির বৃহত্ শক্তি চীন। চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে গার্মেন্টস তৈরি করে তা নিজেদের দেশের ভোক্তাদের জন্য রপ্তানিও করছে। বর্তমানে দেশে চীনা পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও চীনের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য কম দামে পোশাক রপ্তানি করছে। জানা গেছে, চীনের স্থানীয় খোলাবাজারে সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রি প্রতিষ্ঠান ভ্যানসেল ইতিমধ্যে কিছু প্যান্ট এবং শার্টের অর্ডার বাংলাদেশকে দিয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা ক্রেতা ওশান এবং এইচ এন্ড এম চীনা বাজারে পোশাক সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে কাজ করাচ্ছে।

বর্তমানে একজন চীনা শ্রমিকের সর্বোচ্চ বেতন প্রতিমাসে চারশ থেকে পাঁচশ মার্কিন ডলার। আর বাংলাদেশের একজন শ্রমিকের সর্বোচ্চ বেতন ৭০ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার। চীনা বিনিয়োগকারীদের মতে, এ পরিমাণ বেতন দিয়ে অনেক সময় কারখানা চালাতে গিয়ে উত্পাদন ব্যয় বেড়ে যায়। রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক সময় পুষিয়ে উঠা সম্ভব হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে কম মূল্যে পোশাক রপ্তানি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনের সবচেয়ে বড় অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত।

চীনের বন্দর শহর নিনগোতে একটি গার্মেন্টস কারখানা চালান সেখানকার নাগরিক রোজা দাদা। দৈনিক ইত্তেফাককে তিনি বলেছেন, চীনে কারখানা চালানো এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। গত দু’ বছরে শ্রমিকদের বেতন যে হারে বেড়েছে তাতে বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে আরেক চীনা প্রতিষ্ঠান ফোর সিজন ফ্যাশনের জন্য কাজ করেন। রোজা দাদা আরো বলেন, তিনি শুধু পণ্য ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য ঢাকায় অফিস খোলেননি। তিনি চীনে পোশাক রপ্তানির বিষয়টিও তদারকি করছেন। চীনা উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস আমদানি করলে তাদের খরচ চীন থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম পড়ে।

বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, তারা ৯০ শতাংশ গার্মেন্টস পণ্য যেমন টি-শার্ট, জিন্স এবং স্যুয়েটারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পায়। তাদের মতে, শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকলে চীনে রপ্তানি আরো বাড়বে। কয়েক বছর আগে চীনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দুই কোটি মার্কিন ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা ১৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ রপ্তানি ৫০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে বলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আশা করছেন।

তবে চীনা উদ্যোক্তাদের কারখানা সরিয়ে আনার খবরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা কিছুটা শংকিত। একজন রপ্তানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেছেন, চীনা উদ্যোক্তারা এখানে ছোট একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। এর আদলে তারা বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্ডার নিয়ে আসে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করিয়ে নিয়ে তারা পুরো মুনাফা নিজেদের পকেটে পুরছে। এছাড়া চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দরকারি কাঁচামাল তাদের নিজ দেশ থেকে আমদানি করার কারণে বাংলাদেশের পশ্চাত্সংযোগ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মত দেন তিনি।

নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৯৮ মিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেমিট্যান্সপ্রবাহে যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছিল তাতে বিশাল ধস নেমেছে। গত অক্টোবরের চেয়ে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার কম রেমিট্যান্স এসেছে নভেম্বরে। এমনকি চলতি অর্থবছরের যেকোনো মাসের চেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে নভেম্বরে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৯৮ মিলিয়ন ডলার। অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৫৩ মিলিয়ন, সেপ্টেম্বর ও আগস্টে ছিল ১ হাজার ১৭৮ মিলিয়ন এবং জুলাইয়ে ছিল ১ হাজার ২০১ মিলিয়ন ডলার।

নভেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৩ মিলিয়ন ডলার। অক্টোবরে আসে ৪৪৬ মিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে নভেম্বরে এসেছে ৩০৬ মিলিয়ন ডলার, অক্টোবরে আসে ৩৯৮ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ৭১৭ মিলিয়ন ডলার, অক্টোবরে যার পরিমাণ ছিল ৯৬৯ মিলিয়ন ডলার।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ব্যাংকাররা জানান, দুই ঈদের কারণে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছিল। এখন জনশক্তি রফতানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সপ্রবাহে।
Sources: http://www.bonikbarta.com/?view=details&pub_no=162&menu_id=1&news_id=20414&news_type_id=1
http://www.bonikbarta.com/?view=details&pub_no=162&menu_id=11&news_id=20411&news_type_id=1

ফোর্বসের শিক্ষায় শীর্ষ ১৫ উদ্ভাবকের তালিকায় সালমান খান | তেল উৎপাদনে সৌদিকে ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র


লন্ডনকে হারিয়ে অর্থনৈতিক রাজধানী নিউইয়র্ক

চাকরির দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনৈতিক রাজধানীর মুকুটটি হারিয়েছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। ২০১৫ সালের মধ্যে শহরটি এদিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা নিউ ইয়র্ক ও হংকং থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিলো লন্ডন। কিন্তু চলতি বছর অবশেষে শহরটিকে নিউ ইয়র্কের কাছে হার মানতে হলো। এছাড়া তিন বছরের মধ্যে লন্ডনকে ছাড়িয়ে যাবে হংকং, এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও ব্যবসায় গবেষণা কেন্দ্র (সিইবিআর)।
এমনকি সিঙ্গাপুরও খুব দ্রুত এ তালিকার উপরের দিকে উঠে আসছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
সিইবিআর আরও জানায়, পূর্বাঞ্চলের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণেই লন্ডন তার প্রভাব হারিয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে অদূরদর্শী নিয়ম-কানুনের খড়গ, অহেতুক কর ও ব্যাংকারদের অনিয়ম।

তেল উৎপাদনে সৌদিকে ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র
২০১৭ সাল নাগাদ সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা জ্বালানি সংস্থা আইইএ সোমবার এ পূর্বাভাস দিয়েছে। অতীতের নানা পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত এই পূর্বাভাস দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’ (আইইএ) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানিতে অনেকটাই স্বয়ং-সম্পূর্ণ হয়ে উঠতে সক্ষম হবে। যা আগে অচিন্তনীয় বলে মনে করা হচ্ছিল।
শিল্পোন্নত বড় বড় দেশগুলোর জ্বালানি নীতির পরামর্শ দানকারী আইইএ তাদের আগের কয়েকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০৩৫ সাল নাগাদ সৌদি আরবই বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে থাকবে।
কিন্তু এবার দীর্ঘমেয়াদের বার্ষিক প্রতিবেদনে আইইএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খাতের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। জ্বালানি খাতসহ উত্তর আমেরিকাতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবারই আইইএ সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক পূর্বাভাস দিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি কমতে থাকবে এবং তেল রপ্তানিকারক হয়ে উঠবে উত্তর আমেরিকা। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানিতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র।

৪ বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে চীনের অর্থনীতি
আগামী ৪ বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে চীন। এ কথাই বলছে আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান। প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) বলেছে, এ বছরের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনীতি ইউরোজোনের দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। আর এভাবেই ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। ওইসিডির ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ আশা জোহানসন বলেন, আগামী ৫০ বছরে বিশ্বের জিডিপি বাড়বে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে; কিন্তু বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চলভেদে এর বড় ধরনের তারতম্যও ঘটবে। তিনি বলেন, ২০৬০ সাল নাগাদ চীন ও ভারতে মানুষের আয় ৭ গুণ বেড়ে যাওয়াসহ দরিদ্র দেশগুলোতে বেশিরভাগ মানুষের আয় অনেক বাড়লেও বৈষম্য দূর হবে না। ২০২৫ সাল নাগাদ চীন এবং ভারতের সম্মিলিত জিডিপি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সম্মিলিত জিডিপিকে ছাড়িয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে এ ধরনের পরিবর্তনই পরিলক্ষিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অক্টোবরে চীনের অর্থনৈতিক উপাত্তে দেখা গেছে, দেশটিতে তিন বছরের ধীরোগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। অক্টোবরের তথ্যে দেখা গেছে এ উন্নয়নের ধারা। অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বেড়ে ৫ মাসে দ্রুত সচল হয়েছে চীনের অর্থনীতি। রয়টার্স।

এক ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

আসজাদুল কিবরিয়া: বিশ্ব আর্থিক উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ) বিশ্বের ৬২টি দেশকে নিয়ে এ বছর এই সূচক প্রণয়ন করেছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম। আর গত বছর ৬০টি দেশের মধ্যে অবস্থান ছিল ৫৬তম।
অবশ্য এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার আরও দুটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দেশ দুটি হলো ভারত ও পাকিস্তান। এই দুই দেশও এই সূচকে আগের বছরের চেয়ে পিছিয়ে গেছে।
ভারত গতবারের ৩৬তম অবস্থান থেকে এবার নেমে গেছে ৪০তম স্থানে। আর পাকিস্তান গতবারের ৫৫তম অবস্থান থেকে এবার নেমে এসেছে ৫৮তম স্থানে। সুতরাং, অবনমনের বিবেচনায় ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অবনমন কম হয়েছে।
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক খাতের বিভিন্ন দিকের ওপর পর্যালোচনা করে ডব্লিউইএফ এ সূচক প্রণয়ন করে থাকে। চলতি মাসে এই সূচকভিত্তিক পঞ্চম বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ১০০টির বেশি উপকরণকে মূল্যায়ন করে সাতটি স্তম্ভের ওপর সার্বিক সূচক নির্ণয় করা হয়েছে। ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা খাত, পুঁজিবাজার, ব্যবসার পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছে।
ডব্লিউইএফের এ সূচক থেকে দেখা যায়, সাতটি স্তম্ভের মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা স্তম্ভে বাংলাদেশ ৬২টি দেশের মধ্যে ৩৭তম অবস্থানে রয়েছে। মুদ্রা বিনিময়ের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে মূলত এ অগ্রগতি হয়েছে। এই উপসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। আবার যেসব উপকরণ দিয়ে এই উপসূচক গঠিত, তাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিপরীতে বৈদেশিক ঋণ উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
আবার আর্থিক স্থিতিশীলতা স্তম্ভের ব্যাংকব্যবস্থার স্থিতিশীলতা উপসূচকের পাঁচটি উপকরণের শেষটি হলো, ব্যাংকিং-সংকটে উৎপাদনের লোকসান। এই উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। এর মানে হলো, বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং-সংকটে বাংলাদেশের কোনো লোকসান হয়নি। অবশ্য আরও ২০টি দেশ একই রকম অবস্থানে আছে। কাজেই এককভাবে বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থান নেই।
এভাবে যেসব উপকরণের ওপর এই স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোর কোনো কোনোটিতে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো প্রতীয়মান হয়। যেমন: অব্যাংক আর্থিক সেবা স্তম্ভের বিমা উপসূচক গঠিত হয়েছে পাঁচটি উপকরণ নিয়ে। এর মধ্যে একটি হলো জীবন বিমায় ঘনত্ব। এ উপকরণে শীর্ষে আছে ভারত। আর সাধারণ বিমা ঘনত্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। ভারতের অবস্থান তৃতীয়। বিমার ঘনত্ব বলতে কোনো দেশে নির্দিষ্ট সময়ে জনসংখ্যার বিপরীতে বিমার প্রিমিয়ামের অনুপাতকে বোঝানো হয়।
ব্যবসার পরিবেশ শীর্ষক স্তম্ভে ব্যবসা করার ব্যয় উপসূচক গঠিত হয়েছে ছয়টি উপকরণ দিয়ে। এর অন্যতম হলো ব্যবসা বন্ধ করার ব্যয়। এতে বাংলাদেশ আছে ১৭তম স্থানে।
আর্থিক প্রবেশগম্যতা (অ্যাকসেস) স্তম্ভের খুচরা প্রবেশগম্যতা উপসূচকে ক্ষুদ্রঋণ হিসাব উপকরণে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

ফোর্বসের শিক্ষায় শীর্ষ ১৫ উদ্ভাবকের তালিকায় সালমান খান
শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা বিশ্বের শীর্ষ ১৫ জন ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস সাময়িকী। এ তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সালমান খান।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই ১৫ জন বিশ্বব্যাপী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নবধারা প্রবর্তন করেছেন। ফোর্বস সাময়িকী এই ১৫ ব্যক্তিকে ‘শ্রেণীকক্ষের বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে তাঁরা কীভাবে বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন, তার বর্ণনা দিয়েছে।
ফোর্বস-এর তালিকায় স্থান পাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুজন মার্কিনও রয়েছেন। তাঁরা হলেন: ভারতে কম দামের ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডেটাউইন্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীত সিং ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক অনন্ত আগারওয়াল। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

‘দোয়েল’ এখন ডিজিটাল দুঃস্বপ্ন


বর্তমান মহাজোট সরকার ডিজিটাল শব্দের প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল ২০০৮ সালে। বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজড করার ছিল মহাপরিকল্পনা। এই ডিজিটালাইজড পরিকল্পনায় দেশের তথ্য-প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও এ খাতটিকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করার কথা ছিল। আর তাই পরের বছর ২০০৯ সালের জুনে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ল্যাপটপ উত্পাদনের ঘোষণা দেয়। যথারীতি টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ল্যাপটপ উত্পাদন করার জন্য একটি দেশি ও একটি বিদেশি কোম্পানি নিয়ে তাদের উত্পাদন কার্যক্রম শুরু করে। ১০ হাজার টাকা মূল্যে দেশে উত্পাদিত ল্যাপটপ দেশের মানুষকে দেয়ার কথা থাকলেও তার প্রত্যেকটি অংশ তৈরি করা হয় চীন থেকে। চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান শেয়ার ট্রনিক কর্পোরেশনের মাধ্যমে সব যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। টেশিসের গাজীপুর কারখানায় তা শুধু সংযোজন করা হয়। যদিও দোয়েলের উদ্বোধনের দিন টেশিসের তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসমাইল বলেছিলেন, এর ৬০ শতাংশ যন্ত্রপাতিই দেশে উত্পাদন করা হবে; বাকি ৪০ শতাংশ চীন, কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে আমদানি করা হবে। কিন্তু তার কিছুই করা হয়নি। টাকার অভাবে দোয়েল নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও সমপ্রতি দোয়েল তৈরি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর ওপর দিকে শুধু নামমাত্র ডিজিটাল স্বপ্ন দেখেই দায়িত্ব শেষ করেছেন সরকারের শীর্ষ মহল। তাই দোয়েল এখন একটি ডিজিটাল দুঃস্বপ্নের নাম। ডিজিটাল পাখায় বাঁধা এ পাখি নিজেও জানে না সে কখনও উড়তে পারবে কি-না!

৪ মডেলের দোয়েল
২০১১ সালের ১১ অক্টোবর জাতীয় পাখি দোয়েলের নামানুসারে
দোয়েল ল্যাপটপ-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে ৪টি মডেলে তৈরি করা হয় দোয়েল ল্যাপটপ। এক. বিজয় দিবস স্মরণে অ্যাডভান্স মডেল-১৬১২, দুই. ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে দোয়েল প্রাইমারি মডেল-২১০২, তিন. স্বাধীনতা দিবস স্মরণে দোয়েল স্ট্যান্ডার্ড মডেল-২৬০৩ এবং চার. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্মরণে দোয়েল বেসিক মডেল-০৭০৩ ল্যাপটপ তৈরি করা হয়। বৈশিষ্ট্য ভেদে এগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়। যেমনদোয়েল প্রাইমারি নেটবুকের দাম ১০ হাজার টাকা, বেসিক নেটবুকের দাম ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড নেটবুকের দাম ১৬ থেকে ২২ হাজার এবং অ্যাডভান্স নেটবুকের দাম ২২ থেকে ২৮ হাজার টাকা।

বিড়ম্বনার নাম দোয়েল ল্যাপটপ
মহাজোট সরকারের ইশতেহারে বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেশে দোয়েল ব্যান্ডের ল্যাপটপ তৈরির ঘোষণা দেয়া হয়। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করার জন্য গত ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর দোয়েলের উদ্বোধন করা হয়। এরপর তার চারদিন পর ১৫ অক্টোবর বাজারে আসে বহুল কাঙ্ক্ষিত দোয়েল ল্যাপটপ। দাম কম বলে আশা করা হচ্ছিল খুব শিগগিরই সারাদেশে এই ডিজিটাল ল্যাপটপটি সয়লাব হয়ে যাবে। কিন্তু না, বাংলার মানুষের সবার হাতে একটা করে ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে আসা দোয়েল এরই মধ্যে মুখথুবড়ে পড়েছে। বরং এরই মধ্যে যারা দোয়েল কিনেছেন তারা চরম বিরক্ত প্রকাশ করেছেন। কারণ এই ল্যাপটপ কেনার কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ
দেশীয় পণ্য বলে তারা এই ল্যাপটপ কিনেছেন। কিন্তু আর কিছু টাকা বেশি দিয়ে যদি অন্য ব্র্যান্ড নিতেন তাহলে এত সমস্যায় পড়তে হতো না। ক্রেতাদের অভিযোগের মধ্যে ল্যাপটপের গতি নিয়ে সমস্যা বেশি। তাছাড়া এর পাওয়ার ব্যাকআপ নিয়েও রয়েছে অনেক সমস্যা। মানুষ এই ল্যাপটপ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখলেও পরে শুধুই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

আর্থিক সমস্যা প্রধান কারণ!
হয়তো অনেকেই কথাটি শুনে অবাক হতে পারেন। দেশে কোনো কিছুর নাম পরিবর্তন করার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার জোগান দিতে পারলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে! আর তাই দেশীয় এই ডিজিটাল ল্যাপটপ দোয়েল উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই উত্পাদন বন্ধের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় সরকার। কারিগরি ও আর্থিক সমস্যাই এর কারণ বলে তখন জানানো হয়। ল্যাপটপ তৈরিতে প্রাথমিকভাবে ১৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের টাকা বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান থিম ফিল্ম ট্রান্সমিশনের (টিএফটি) তরফ থেকে আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশ সরকার টাকা দিয়েছে। ফলে ল্যাপটপ তৈরির কাজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। টেশিস সূত্রে জানা গেছে, আপাতত রিভলভিং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ ল্যাপটপ তৈরির নামে দুর্নীতির অভিযোগে বলা হচ্ছে, ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ কেনার জন্য দেড় লাখ ডলারের পণ্যের মূল্য ১০ লাখ ৬ হাজার ৫৪০ ডলার দেখিয়ে দুর্নীতি করা হয়েছে। আবার এই দুর্নীতি যারা করেছেন তারাই বলছেন আর্থিক সমস্যার কারণে দেশের এই সম্ভাবনাময় একটি খাত ডুবে যাচ্ছে।

দোয়েলে শুধুই সমস্যা
দোয়েল ল্যাপটপ অনেক সম্ভাবনার কথা বললেও সেখানে শুধুই সমস্যা আর সমস্যা। হাতেগোনা কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে এই দোয়েল ল্যাপটপ। যারা ল্যাপটপ পেয়েছেন তারাই অভিযোগ করে বলেছেন, খুবই হালকা প্লাস্টিক ধরনের আবরণ দিয়ে ল্যাপটপ তৈরি করা হয়েছে। ব্যাটারির ক্ষমতা কম। অপারেটিং সিস্টেমে ঠিকমত কাজ করা যায় না। এছাড়া লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি) মনিটর ঘোলা। টেশিসের হিসেবে দোয়েল প্রাইমারি মডেল-২১০২ মাত্র ৮-১০টি উপহার হিসেবে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে দেয়া হয়েছে। ৪ হাজার ৭০০ জন দোয়েল বেসিক নেটবুক ব্যবহার করেন। আর দোয়েল স্ট্যান্ডার্ড নেটবুক এবং দোয়েল অ্যাডভান্স নেটবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা হাজার খানেক। এসব সমস্যার সমাধানে এরই মধ্যে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে টেশিস সূত্রে জানা গেছে। ওই সূত্র আরও জানায়, দেশের বেশিরভাগ ব্যবহারকারী উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে অভ্যস্ত হওয়ায় তারা দোয়েল মডেলগুলোয় ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না। প্রাইমারি নেটবুকে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। বাকি ৩টি নেটবুক চলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে। কিন্তু যে সিস্টেমেই চলুক না কেন, সব ল্যাপটপেই রয়েছে ভয়ঙ্কর সব সমস্যা।

স্বদেশী পণ্য নাকি প্রতারণা?
দোয়েল বাংলাদেশে চালু হওয়ার পর থেকেই
দোয়েল কি স্বদেশী পণ্য নাকি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা? এ নিয়ে বিতর্ক ছিল। কারণ সরকার মাত্র ১০ হাজার টাকায় দেশে উত্পাদিত ল্যাপটপের স্বপ্ন দেখালেও এর প্রতিটি অংশ চীনের তৈরি। চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান শেয়ার ট্রনিক কর্পোরেশনের মাধ্যমে সব যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। টেশিসের গাজীপুর কারখানায় তা শুধু সহযোজন করা হয়। এছাড়া অনেকেই তখন প্রশ্ন করেছিল, দোয়েল ল্যাপটপের র্যাম, মাদার বোর্ড, প্রসেসর, হার্ডডিস্ক, সাউন্ড সিস্টেম, এলসিডি, কিবোর্ড, ওয়েবক্যাম, ইউএসবি, ডিভিডি, ওয়াইফাই ইত্যাদি কি বাংলাদেশের তৈরি? বাংলাদেশে দোয়েল ল্যাপটপের কোন অংশটি তৈরি হয়েছে? যদি কোনো অংশই দেশে তৈরি না হয়ে থাকে তাহলে কীভাবে এটি একটি স্বদেশী পণ্য হবে? যদি তা দেশের বাইরে থেকে এনে এখানে সহযোজন করা হয় তাহলে একটি লোগো লাগিয়ে দিলে স্বদেশী পণ্য হয়ে যাবে? বাংলাদেশের অধিকাংশ ডেস্কটপ বাইরে থেকে যন্ত্রাংশ এনে এখানে সহযোজন করা হয়, কিন্তু কেউ যদি কম্পিউটারের ওপর একটি লোগো লাগিয়ে দিয়ে কি বলতে পারেন এটি স্বদেশী পণ্য?

১০ হাজার টাকার ল্যাপটপ বিক্রি মাত্র ৫০টি!
বিপুল সম্ভাবনাময় তথাকথিত বাংলাদেশে উত্পাদিত দোয়েল ল্যাপটপ বাজারে আসার আগে প্রচুর চাহিদা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। অনেকেই ল্যাপটপ পাওয়ার জন্য এবং ব্যবসা করার জন্য অগ্রিম বিভিন্নভাবে মন্ত্রী পর্যন্ত লবিং করে রেখেছিলেন। কিন্তু দোয়েল কি জানত তার ডানা মেলার সময় হলেও নিজে স্বাধীন মতো উড়তে পারবে না? গেল বছর ২০১১ সালের ১১ অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোয়েল ল্যাপটপটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই তার ভাগ্যের চাকা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকটা উড়ার আগেই থুবড়ে পড়ল দোয়েল! কারণ গত বছরের অক্টোবরে দোয়েল ল্যাপটপ বাজারজাতকরণ শুরু হলেও পরে ছয় মাসেও ১০ হাজার টাকার ল্যাপটপ উত্পাদন করতেই পারেনি টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস)। অথচ টেশিসের প্রচার হয়েছে ১০ হাজার টাকাতেই পাওয়া যাবে স্বপ্নের দোয়েল ল্যাপটপ। সমপ্রতি সাড়ে ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুই হাজার ল্যাপটপ সহযোজন করা হলেও তার ৫০টিও বিক্রি হয়নি। টেশিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাইমারি মডেলের ল্যাপটপ উত্পাদনে যেতে তাদের কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ক্রেতাদের আগ্রহও অনেক কম বলে তারা জানান। প্রথম দফায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকার বেসিক মডেল এবং ২৬ হাজার ৫০০ টাকার অ্যাডভান্স মডেলের ল্যাপটপ সহযোজন করে টেশিস। প্রতিটি গ্রুপে ৫ হাজার করে ল্যাপটপ সহযোজন করা হয়। এর মধ্যে এক বছরে ১৫ হাজার ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছে বলে টেশিস থেকে দাবি করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এই ১৫ হাজারের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনীই নিয়েছে ৭ হাজার ল্যাপটপ। ফলে বাইরের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি এক বছরে মাত্র ৮ হাজার। জানা গেছে, ১০ হাজার টাকার প্রাইমারি মডেলের ল্যাপটপ সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া অ্যাডভান্স মডেলের মূল্য আগে ২৬ হাজার রাখা হলেও এখন তা সাড়ে ২৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তবে টেশিসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টাকা না থাকায় এখন দোয়েল ল্যাপটপ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।

দোয়েল উত্পাদনে হরিলুট!
বাংলাদেশে স্বপ্নের ল্যাপটপ দোয়েল উত্পাদনে আর্থিক সঙ্কটের কথা বলা হলেও এখানে রেকর্ড পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ আমদানি করার নামে এখানে হরিলুট হয়েছে। হাজার ডলারের যন্ত্রপাতির মূল্য লাখ ডলার দেখিয়ে আমদানি করা হয়েছে দোয়েল ল্যাপটপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। সে কারণে দেড় লাখ ডলারের পণ্যের মূল্য দেখানো হয় ১০ লাখ ৬ হাজার ৫৪০ ডলার। ৩শ
শতাংশ বেশি মূল্য দেখিয়ে আমদানি করা অর্থের ভাগবাটোয়ারা হয়েছে মালয়েশিয়ার পেনাং এবং নিউইয়র্কে। সমপ্রতি বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে এইচএসবিসি ব্যাংক ও নিউইয়র্কের টিডি ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে পৌনে ৪ লাখ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে, যার পুরোটাই ঘুষ হিসেবে দিয়েছে দোয়েল ল্যাপটপের তখনকার মালয়েশিয়ান অংশীদার টিএফটি টেকনোলজি গ্রুপ। উপরি আয়ের একটি বড় অংশ তখনকার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুও পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন টিএফটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ওয়াং বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে। টেশিসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ল্যাপটপ উত্পাদনে লুটপাট হয়েছে। বিষয়টি অনেক পরে ধরতে পেরেছেন তারা। মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে এইচএসবিসি ব্যাংকে (হিসাব নম্বর ৩৭১২৭১৭৪৩৭১০) মোহাম্মদ ইকবালের নামে দুই লাখ ৯৯ হাজার ডলার জমা করে টিএফটি। গত ২০১১ সালের ১১ জুলাই এ ডলার জমা করা হয়। একইভাবে নিউইয়র্কের টিডি ব্যাংকে সুইফট কোড পদ্ধতিতে (হিসাব নম্বর ০৩১১০১২৬৬) জমা করা হয় আরও ৭৫ হাজার ডলার। এ টাকা জমা হয় চৌধুরী অ্যাসোসিয়েটসের নামে। পৌনে চার লাখ ডলার দেয়ার পর সেটি অবহিত করে একটি চিঠিও মোহাম্মদ ইকবালের ঢাকার অফিসে পাঠান মাইকেল ওয়াং। চিঠিতে মোহাম্মদ ইকবালকে ঢাকার মিলেনিয়াম হোল্ডিং লিমিটেডের এমডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দিন যতই যাচ্ছে ততই দোয়েল ল্যাপটপ নিয়ে ডিজিটাল দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসছে।

Source: http://71.18.24.199/?cat=3

চুড়ির রিনিক ঝিনিক ও ‘যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভোলে না মোরে’


চুড়িবন্দনা

জিয়াউদ্দিন সাইমুম

শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার ‘অরক্ষণীয়া’ উপন্যাসে নারীর চুড়িপ্রেম ফুটিয়ে তুলেছেন বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যে। বুড়ো মেসতুতো ভাই জ্ঞানদার হবু বউয়ের জন্য মাসিমা দুর্গামণির হাতে অতুল যেই আকর্ষণীয় চুড়ি তুলে দিয়ে ছিলেন, তার বর্ণনা এসেছে এভাবে :

‘তাহার রং এবং কারুকার্য দেখিয়া দুর্গামণি অত্যন্ত পুলকিতচিত্তে দাতার ভূয়োঃ ভূয়োঃ যশোগান করিতে লাগিলেন। চুড়ি দুগাছি কাচের বটে, কিন্তু সেরূপ মূল্যবান বাহারে চুড়ি পাড়াগাঁয়ে কেন, কলিকাতাতেও তখনো আমদানি হয় নাই। বস্তুত তাহার গঠন, চাকচিক্য এবং সৌন্দর্য দেখিয়া মায়ের নাম করিয়া অতুল নিজের টাকাতেই বোম্বাই হইতে ক্রয় করিয়া আনিয়াছিল।’

আর বাংলা গানে এসেছে :

‘আমার চুড়ির রিনিক ঝিনিক রে

তার কাছে লাগত বড় বেশ।’

হ্যাঁ, চুড়ির আবেদন সব সময়ই ছিল। হয়তো থাকবে নানা আঙ্গিকে। তবে এক সময় শুধু শাড়ির সঙ্গেই পরত ললনারা। তারা সোনা আর কাচের চুড়ি পছন্দ করতেন। এখন সময়ের নিয়মে ‘সময়’ বদলে গেছে। তারপরও চুড়ির আবেদন কমেনি। বরং হাল ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে চুড়ি নানান ফরমেটে-ডিজাইনে। যে কোনো পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে পরা যায়Ñ এমন চুড়ি উদ্ভাবন হচ্ছে দিনকে দিন। বয়স দিয়েও এখন চুড়িকে বাঁধার সুযোগ নেই। বিশ্বায়ন সব বয়সী নারীর জন্য চুড়ির দরজা খুলে দিয়েছে। তাই কাচের চুড়ির পাশাপাশি ফ্যাশন শোকেসে জায়গা করে নিচ্ছে নানা উপাদানের চুড়ি।

তবে কাচের চুড়ির রিনিঝিনি আওয়াজ আর বাহারি রঙের মিশেলে জড়িয়ে আছে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ, পোশাক যাই হোক না কেন এখনো অনেক আধুনিক তর”ণীর পছন্দের এক বিশেষ অনুষঙ্গ হচ্ছে কাচের চুড়ি।

অবশ্য আজকাল সব কিছুতেই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রচলিত ধারার বাইরে আধুনিক মানুষের আগ্রহ বেড়েছে নান্দনিকতার দিকে। তাই অতীতের সাদামাটা এক রঙের কাচের চুড়িতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শিল্পের বাহারি ডিজাইনের ছোঁয়া। কাচের চুড়ির পাশাপাশি এখন কাচের চুড়ির ওপর নানা রঙের পাথর, চুমকি, জরিসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে আনা হচ্ছে নতুনত্ব।

আবার কাচের চুড়ির আধিপত্যে ধীরে ধীরে ভাগ বসাচ্ছে চৌকো, ত্রিকোণ, ডিম্বাকৃতির প্লাস্টিক ও মেটাল চুড়ি। বস্তুত বাঙালি নারীদের এক অনন্য অলঙ্কার হচ্ছে চুড়ি। এমন অনেক নারীই আছে যারা যে কোনো পোশাকেই চুড়ি পরেন। চুড়ি ছাড়া তাদের দিনই কাটে না।

তবে আধুনিকতার কল্যাণে মেটাল, সুতা, চামড়া, ব্যাকেলাইট, রবার, কাঠ, মাটি, বিডস, পুঁতি, সিটি গোল্ডসহ নানা ধরনের চুড়ির ব্যবহার বাড়ছে।

এক সময় চুড়ি প্রধানত কাচ থেকে তৈরি হতো। তবে শামুকের খোল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও হাতির দাঁতের চুরিও তখন ছিল।

অন্যসব উপাদান দিয়ে চুড়ি তৈরির কারণ এবং হাল ফ্যাশনের চুড়ির উপযোগিতার কথা ফ্যাশনবিদদের ঠোঁটের ডগায় লাফায়, ‘আসলে কাচের চুড়ি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অন্যান্য টেকসই উপাদানে তৈরি চুড়ির চিš—া আসছে। পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে রুচিবোধেও। কারণ পার্বতীর মতো হাত ভর্তি চুড়ি এখন সবাই পরতে চান না। আবার হাতে মাত্র বালা ধারণ করে অনেকে এখন তৃপ্তি পাচ্ছেন। আসলে কসমোপলিটন পণ্য হয়ে যাওয়ার কারণে সব বয়সের নারীই চুড়ি পরছেন।’

বাঙালি নারীর সঙ্গে চুড়ির গভীর সখ্য ঠিক কবে সৃষ্টি হয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য রেকর্ড আমাদের হাতে নেই। তবে চুড়ি পরতে ভালবাসেন সব বয়সী নারী। উৎসবের দিন জমকালো সাজের সঙ্গে চুড়ি এখন অপরিহার্য হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, হাতে চুড়ি না থাকলে সাজ ঠিক পরিপূর্ণতা পায় না। পত্রিকার বিশেষ পাতায় বিভিন্ন উৎসবের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দসই চুড়ি পরার প্রেসক্রিপশন হামেশাই চোখে পড়ে।

চুড়ির রিনিঝিনি ছন্দ মনেও দোলা দেয়। হালে ফ্যাশনের নতুন প্রবণতা হচ্ছে সুতোর চুড়ি। প্লাস্টিকের বালার ওপর নানা রঙের সুতো পেঁচিয়ে তৈরি হচ্ছে চমৎকার সব সুতো-চুড়ি। সুতো ছাড়াও কাতান কাপড়ের লেস পেঁচিয়ে বানানো হচ্ছে রং-বেরঙের চুড়ি। শাড়ি, কামিজ, ফতুয়া সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে এ ধরনের চুড়ি মানানসই বলে দাবি করা হয়।

আবার কপার, তামা, দস্তাসহ বিভিন্ন ধাতু দিয়ে তৈরি হচ্ছে বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের চুড়ি আর বালা। মাটি বা সিরামিকের নানা রং ও নকশা করা চুড়িও পাওয়া যাচ্ছে। এসব চুড়ি নাকি দেশি সুতি বা ঁতাঁত কাপড়ের সঙ্গে বেশ মানায়।

কাঠ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ডিজাইনের চুড়ি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। মোটা, চিকন, বাঁকা অবয়বে বিভিন্ন কাঠের চুড়ি চোখে পড়ে। কাঠ দিয়ে আবার ব্রেসলেটও তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে গোলাকার ছাড়াও ঢেউ খেলানো, বাঁকা, ত্রিভুজ, ষড়ভুজসহ নানা আকৃতির প্লাস্টিকের চুড়ি পাওয়া যাচ্ছে মোটা আর চিকন ডিজাইনে। স্কার্ট, টপস, ফতুয়া-জিনসের সঙ্গে ম্যাচিং করে কাঠ ও প্লাস্টিকের তৈরি এসব চুড়ি তৈরি হচ্ছে। জয়পুরি, মাল্টি, কাসুটিসহ নানা ধরনের চুড়ির কথাও শোনা যায়। মুক্তার চুড়ির চাহিদাও বাড়ছে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসও তৈরি করছে নানা ডিজাইনের ফ্যাশনেবল চুড়ি।

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে চুড়ির প্রচলন রয়েছে। এটা চেকে naramek, ডাচে enkelring, ফিনিশে rannerengas, জার্মানে armreif, হাঙ্গেরিয়ানে karperec, ইন্দোনেশিয়ায় gelang, ইতালিয়ানে braccialette, মালয়ে gelang, স্পেনিশে brazlete ও তুর্কিতে halhal, তামিলে ভালায়ন, মালয়ালমে ভালা আর নেপালিতে চুরা নামে পরিচিত।

ভারতীয় উপমহাদেশে চুড়ি ঠিক কবে চালু হয়েছে, তার সঠিক তথ্য কারো কাছে নেই। তবে বিভিন্ন প্রত্নতাত্তিক খননকালে খোল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও আকিক পাথরের চুড়ি পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের মহেঞ্জোদারোতে (যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও ২৬শ বছর আগে) পাওয়া এক মূর্তিতে দেখা যায়, নৃত্যরত এক বালিকার বাম হাতে চুরি রয়েছে। সম্ভবত তখন দুহাতে চুড়ি পরার সংস্কৃতি ছিল না। অন্যদিকে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ডিজাইনের চুড়ি পাওয়া গেছে ভারতের তক্ষশীলায়।

হীরা, মূল্যবান পাথর আর মুক্তো বসানো চুড়ির প্রচলন এখনো ভারতীয় উপমহাদেশে রয়েছে। এক সময় লাক্ষার তৈরি চুড়িরও বেশ প্রচলন ছিল এখানে। আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অংশেও চুড়ির প্রচলন রয়েছে।

বিয়ের চুড়ি সাধারণত রঙিন হয়ে থাকে। লাল রঙের চুড়ি হচ্ছে ‘জীবন ও আনন্দের প্রতীক’ আর সবুজ রঙের চুড়ি হচ্ছে ‘উর্বরতার প্রতীক’। চুড়ি দুই হাতে পরা যায়। এক হাতে পরতেও বাধা নেই।

আধুনিক প্রজন্মের তরুণ সমাজের একটি অংশ এখন বেশ আগ্রহ নিয়েই চুড়ি পরছে। তবে তাদের এই চুড়ি ‘খাড়–’ নামে পরিচিত। এটা রবার অথবা ধাতুর তৈরি হতে পারে। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের উঠতি তরুণরা এটা পরছে।

গিফট আইটেম হিসাবেও চুড়ি বেশ আদরণীয়। কারণ নারীরা শাড়ি বা জামার সঙ্গে ম্যাচিং করে চুড়ি পরতে এখন বেশ সচেতন।

চুড়ি নিয়ে কুসংস্কারও আছে। বলা হয়, চুড়ির কারণে স্বামীর নিরাপত্তা যেমন বাড়ে, তেমনি ভাগ্যও ফেরে। আবার চুড়ি অকারণে ভেঙে গেলে স্বামীর বিপদ ঘটে।

আমাদের দেশে বৈশাখে লাল-সাদা বিভিন্ন বর্ণের রেশমি চুড়ি পরে নিজেকে নানাভাবে সাজানোর প্রবণতা নারীদের মাঝে এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার তারাই ভিন্ন উৎসবের দৈনন্দিন পথচলায় দেশপ্রেমের বহির্প্রকাশ ঘটাচ্ছেন পতাকার রং মিলিয়ে লাল-সবুজ রঙের হাত ভরা চুড়ি পরে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে প্রতিটি উৎসবেই বাঙালি নারী চুড়ি সাজের জন্য বেছে নিচ্ছে বিশেষ বিশেষ রংকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি চুড়ি।

হাতভরা চুড়ি পরা বাঙালি সংস্কৃতির একটি অংশ। ফ্যাশনবিদরা বলেন, হাতের গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে দুহাত ভরা চুড়ি হাতের সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দেয়, তেমনি সাজকেও করে পরিপূর্ণ।

একবার এক মহিলা তার স্বামীর সঙ্গে শপিং করতে গেছে। এক পর্যায়ে ওই উন্নাসিক মহিলা এক সেট চুড়ি পছন্দ করল।

‘তুমি এত চুড়ি কেনো। অথচ কোনদিন পরতে দেখি না’ স্বামী অনুযোগের সুরে বলল।

‘চুড়ি পরলে ভেঙে যাবে। তাই চুড়ি পরি না, শুধু কিনি’ মহিলার চটপট জবাব।

হাতপাখাবন্দনা

হাজার হাজার বছর ধরে গ্রামবাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে হাতপাখা। কবি-সাহিত্যিক, বাউল শিল্পীরা হাতপাখা নিয়ে বিভিন্ন গান, কবিতা ও গীত রচনা করেছেন এবং তুলে ধরেছেন এটার সৌন্দর্যমণ্ডিত ঐতিহ্য। হাতপাখা নিয়ে মজার মজার রূপকথা, গল্প-কাহিনীও আমাদের সমাজে প্রচলিত।

আমাদের সমাজে এক সময় হাতপাখা বলতে তালপাখাই বোঝাত। আর সংস্কৃতে তালপাখা ‘তালবৃন্তক’ নামে পরিচিত। পরে কাপড়, বাঁশ ও সুতো দিয়ে হাতপাখা বানানো শুরু হয়। হাতপাখায় নকশা আর ডিজাইনের নতুন মাত্রা এসেছে। পদ¥, শতফুল, উনিশকাঁটা, সঙ্কলন, বরফি, শিঙ্গারা, শক্সখ, আয়নাকোটা, শক্সখপদ¥, ঝুরিফুল, চালতা ফুল, পানপাতা, তারাফুল, চারমাছ, হাতিবান্ধা, মোরগ, চৌখুপি, চক্র নামে হাতপাখার নকশার কথা শোনা যায়। কোনো কোনো নকশার মধ্যে আয়নার টুকরোও বসানো হয়। হাতলে লাগানো হয় বাঁশের একটি নল, যাতে হাতপাখা ঘোরাতে কম বেগ পেতে হয়।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমীর ‘লোকশিল্প’ গ্রন্থে হাতপাখা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ‘উষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত এদেশে খর বৈশাখের দাবদাহ এবং ভাদ্রের আর্দ্রতা মিশ্রিত গরমে হাতপাখা মানুষের নিত্যসঙ্গী। সুতা, বাঁশ, চুলের ফিতা, বেত, খেজুরপাতা, নারকেলপাতা, তালপাতা, কলার শুকনো খোল, পাখির পালক, সুপারির খোল, শোলা, গমের ডাঁটা, মোটা কাগজ প্রভৃতি পাখার উপাদান। এ নিত্যব্যবহার্য বস্তুটি বিশেষ করে মেয়েদের হাত পড়ে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। সুতা, বাঁশ, সরতা বেত ও কলার খোলের শুকনা বেতি দিয়ে পাখা বোনা হয় পাটি বা ম্যাট বোনার কায়দায়। বিভিন্ন মটিফ বা ডিজাইনে এ পাখা তৈরি হয় এবং এগুলোর বিভিন্ন নামও রয়েছে। এর মধ্যে পানগুছি, কেচিকাটা, তারাজো, পুকুই রাজো, ধানছড়ি, ফলং ঠেইঙ্গা, ফড়িংয়ের ঠ্যাং, রাবণকোডা, নবকোডা, কবুতর খোপ, মাকড়ের জাল, পদ¥জো, কামরাঙ্গা জো, ধাইড়া জো, সুজনি জো, চালতা ফুল, কাগজ কাটা, হাতি, মরিচ ফুল, আটাসান, শক্সখলতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য’।

কাপড় ও সুতো দিয়ে হাতপাখা বানাতে গেলে প্রথমে বাঁশের কাঠি দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে নিতে হয়। এর ওপরেই সুতো অথবা কাপড়ের নানা বুনন। বৃত্তের পরিধিতে জুড়ে দেওয়া হয় রঙিন কাপড়ের ঝালর।

গরমে অতিষ্ঠ ইংলিশ বেনিয়ারা এ দেশে ল¤¦া কাঠের সঙ্গে লাল শালুতে কিনার মোড়ানো পাটি জুড়ে দিয়ে আংটা লাগানো আর ছাদে ঝোলানো বিশেষ পাখা উদ্ভাবন করেছিলেন। দূরে বসে দড়ি বাঁধা এই পাখা যারা মৃদুলয়ে টা

জাহান হাসান একুশ নিউজ মিডিয়া

হাতপাখা

নতেন তাদের বলা হতো ‘পাক্সখাবরদার’। এক সময় আদালতের এজলাসেও এসব পাখা দেখা যেত।

তবে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণার কারণে হালে হাতপাখা পল্লীজীবন ছাপিয়ে নগরজীবনেও বেশ পোক্ত স্থান করে নিচ্ছে।

নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য এক সময় বাঁশ অথবা তালপাতার ডাঁটিতে বোনা তালপাখাই ছিল গরমে স্ব¯ি— পাওয়ার সম্বল। তবে বহনে অসুবিধা থাকায় নগরজীবনে ফোল্ডিং হাতপাখার প্রচলন বাড়ে। কথাটাকে আরো সহজভাবে বললে এভাবে বলা হয়, দৃষ্টিনন্দন চীনা হাতপাখার কাছে দেশি হাতপাখা টিকে উঠতে পারছে না। শিক্ষার্থীরাও এখন বইয়ের ঝোলায় ফোল্ডিং হাতপাখা বহন করছে। বিশেষত অসহ্য রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ব্যাগে এই জাতীয় পাখা রাখার ফায়দা অনেক। পাবলিক বাসেও এখন অনেককে হাতপাখা বুলোতে দেখা যায়।

হাতপাখায় জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যও। বৈশাখী মেলা থেকে শুরু করে যে কোনো বাঙালি উৎসবেই হাতপাখার থাকে আলাদা কদর। গরমে আরাম পাওয়াই হাতপাখার মৌল উদ্দেশ্য হলেও প্রযুক্তি ও ফ্যাশনের উৎকর্ষে এটি ধারণ করছে শৈল্পিক রূপ।

এক সময় জমিদার বাড়ির হাতপাখাগুলো হতো ঝালর লাগানো এবং বিশাল আকৃতির। সেসব পাখা রেশম বা সাটিনের কাপড়ের ওপর সুতা, জরি এমনকি সোনা-রুপা দিয়েও কাজ করা থাকত। এখন অনেকের ড্রয়িংরুমে নানা ডিজাইনের হাতপাখা শোপিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

প্রাচীন কারুশিল্প হাতপাখার যাত্রা কোথায় এবং কাদের মাধ্যমে ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেটা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। তবে ভ্যাপসা গরমে হাতপাখা নাড়িয়ে বাতাসে দোলাচল সৃষ্টি গরম হাওয়া সরিয়ে অপেক্ষাকৃত শীতল হাওয়া প্রবাহের উদ্দেশ্যেই হাতপাখার ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। আর গরমে এটার উপযোগিতা প্রমাণিত হওয়ার পর সময়ের ব্যবধানে এটা রূপান্তরের পথ বেয়ে একটি অলঙ্করণময় শিল্পে পরিণত হয়। এখনো ধর্মীয় ও রাজকীয় অনুষ্ঠানে কারুকাজমণ্ডিত হাতপাখার প্রচলন রয়েছে।

প্রত্নতাত্তিক সাক্ষ্য থেকে ধারণা করা হয় ভারতবর্ষ, চীন, জাপানসহ প্রাচ্যের কয়েকটি দেশে হাতপাখার ব্যবহার ছিল। আবার প্রাচীনকালে মধ্যপ্রাচ্যে পশুর চামড়ার তৈরি অলঙ্কৃত হাতপাখার সন্ধান পাওয়া গেছে। এটার হাতলে গাছের ডালের অংশ অথবা পশুর হাড় লাগানো থাকত।

এক সময় গ্রামের ললনারা হাতপাখা তৈরি করে রঙিন সুতা দিয়ে ‘ভুলো না আমায়’ বা ‘যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভোলে না মোরে’- টাইপের ছন্দ লিখত। আবার রোদেলা দুপুরে দুরন্ত কিশোর দলের হাতে শোভা পেত কারুকাজের তালপাখা। আর মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরা গাছের ছায়ায় বসে তালপাখা হাতে বাতাস করতে করতে দূরের রাখাল ছেলেটির বাঁশির সুর শুনত।

অন্যদিকে ক্লান্তপরিশ্রান্ত কৃষক মাঠ থেকে ফেরার পর কিষাণী ব্যস্ত হয়ে পড়ত হাতপাখার শীতল পরশে তাকে জুড়িয়ে দিত।

আসলে হাতপাখার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে থাকতে পারে গ্রামীণ নারীর আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ নাম না জানা কত্ত কাহিনী। হাতপাখা বুনন ছিল আবহমান গ্রামবাংলার চিরাচরিত অতি পরিচিত দৃশ্য। প্রযুক্তি আর যান্ত্রিকতার দাপটে নাগরিক জীবনে হাতপাখার প্রচলন এখন কমে গেছে। তারপরও ভয়াবহ লোডশেডিংকালে বিপর্যস্ত নগরবাসী ক্ষণিকের জন্য হলেও মনে করেন হাতপাখার শীতল পরশ বা বাতাসের কথা। কেউ কেউ অসহ্য গরমে স্বস্তি পেতে এখনো হাতপাখার দ্বারস্থ হন।

আজকাল হাতপাখা ফ্যাশনের উপাদানে পরিণত হয়েছে। তালপাখার পাশাপাশি বাহারি রং ও ডিজাইনে প্লাস্টিক, বেত, ব্যাকেলাইট, কাগজ দিয়ে হাতপাখা তৈরি করা হয়। এছাড়া অধিকাংশ হাতপাখার হাতল হিসাবে জুড়ে দেওয়া হয় বাঁশের চিকন কাঠি, বেত অথবা লাঠি। তবে আজকাল কাপড় ও সুতার কারুকার্যমণ্ডিত বাহারি ধরনের হাতপাখা পাওয়া যাচ্ছে। এতে যুক্ত হচ্ছে হরেক রকমের রং ও সুতা, ফলস, শাড়ির পাড় ও লেস।

‘আমার নাম তালের পাখা শীতকালে দেই না দেখা, গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা’- এটি আমাদের দেশের গ্রামবাংলার একটি পুরনো প্রবচন। এখনো গরমে আমরা হাতপাখার ওপর নির্ভরশীল। চাহিদা থাকায় অভিজাত বুটিক বাড়ি কিংবা ফ্যাশন হাউসগুলোও নজর দিচ্ছে বাহারি হাতপাখার ওপর। এসব হাতের পাখা নানা ঢং আর রঙে চলে আসছে অভিজাত ড্রইংরুমের সৌন্দর্য বাড়ানোর উপকরণ হয়ে।

একাধিক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ জোয়ারা গ্রামের হাতপাখা এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। মান ভালো হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও সৌদি আরব, জার্মানি, দুবাই, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশে এখানকার পাখার চাহিদা বাড়ছে।

বোশেখের কাঠফাটা রোদে লোডশেডিং নগর জীবনে উত্তাপ বাড়ায়- দিনে রাতে সমানে। মাথার ওপর তিন পাখাওয়ালা যন্ত্রটা নিশ্চল ঝুলে থাকে। ঘামভেজা দেহটাকে এক বিন্দু স্বস্তি দিতে সবার চোখ যায় হাতপাখাটার দিকেÑহোক না তা তালপাতা, কাপড়, প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত কাঠ অথবা কাগজের। অসহ্য গরমে হাতপাখাই হয়ে গেছে দিনে-রাতের সঙ্গী। হাতপাখা ছাড়া নগরজীবন চলে কী করে? ২০১১ সালের নববর্ষের একটি বাড়তি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিনে পয়সায় কাগজের হাতপাখা বিতরণ। এটার মানবিক দিক থাকলেও পণ্যের বিজ্ঞাপনই ছিল মুখ্য। রমনা, চারুকলা, টিএসসি, শিল্পকলা প্রান্তর ঘুরে দেখা গেছে, সিঙ্গার, ইমাম টেলিকমসহ কমপক্ষে ১৫টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিনে পয়সায় কাগজের হাতপাখা বিলিয়েছে। এক সময় এ দেশে তালপাখার ব্যাপক প্রচলন ছিল। বাঁশ, বেত ও কাপড় দিয়েও তা তৈরি হতো। কিন্তু ঠিক কবে এ দেশে হাতপাখার প্রচলন হয়েছিল, তার কোনো লিপিবদ্ধ বা প্রত্নতাত্তিক প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। মুঘল আমলে হাত-টানা পাখার প্রচলন দেখে এটা অনুমান করা যেতে পারে, পরবর্তীকালে জমিদার ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোতে হাতটানা পাখার প্রচলন ঘটে।

পশ্চিমা বিশ্বসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে হাতপাখা ফ্যাশন সামগ্রী হলেও আমাদের দেশে তা নয়। বিদ্যুতের কল্যাণে নগরজীবন থেকে হাতপাখা বিদায় নিয়েছে। কিন্তু লোডশেডিংই হাতপাখাকে নগরজীবনে ফিরিয়ে আনছে। হাতপাখা মূলত কুটির শিল্প হলেও হালে প্লাস্টিকের হাতপাখা চোখে পড়ে। তারপরও এটা সুসংঘবদ্ধ শিল্পে পরিণত হতে পারেনি। তাই দেশে এ পণ্যটির চাহিদার প্রকৃত পরিসংখ্যান জানার উপায় নেই। তবে লোডশেডিং এ শিল্পের পুনরুজ্জীবনে ভমিকা রাখছেÑ এমন দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। লোডশেডিং অভিশাপ কাটানো গেলে হাতপাখা আমাদের ফ্যাশন পণ্য হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশিদের জীবনে হাতপাখার প্রচলন বাড়ছে। লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা আর কাঁহাতক সহ্য করা যায়? তপ্তদেহে এক চিলতে শাšি—র পরশ বুলাতে হাতপাখার বিকল্প নেই।

বিশ্বে শিল্প, হাতির দাঁত, পশুর হাড়, মাইক, চন্দনকাঠ, মুক্তো এমনকি কচ্ছপের খোল দিয়েও হাতপাখা তৈরির প্রমাণ রয়েছে।

জাপানে হাতপাখার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য অনেক। ওখানে এটা বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা ও শুভ কামনার প্রতীক। জাপানি নাচেও হাতপাখার উপস্থিতি চোখে পড়ে।

ইতিহাসে রয়েছে, ১৫শ শতকে পর্তুগিজ বণিকরা চীন ও জাপান থেকে হাতপাখা আমদানি করে পশ্চিমা বিশ্বে তা ছড়িয়ে দিয়েছে। ১৬শ শতকে চীনা ভাঁজ করা হাতপাখা ইউরোপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফোল্ডিং ফ্যান হাতে ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের একটি প্রোর্ট্রেট এখনো রাজপরিবারে সংরক্ষিত রয়েছে। এ কারণে বলা হয়, হাতের মুঠোয় ঠাঁই পাওয়া হাতপাখাই একটি জাতির ইতিহাস, ভূগোল ইতিহাসের গল্প বলে। মিসর, ব্যবলিন, আজটেক, ইনকা, পারস্য, গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় হাতপাখার প্রচলন ছিল। তবে এটার আবিষ্কারক কারা, তা জানা যায়নি।

রেশম, পাখির পালক, হালকা ধাতু পাত দিয়েও হাতপাখা তৈরি হয়। এটাতে হ্যাড পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি পুতি, ক্রিস্টাল ও ফিতা লাগানো হয়।

হাতপাখা নিয়ে প্রচলিত কৌতুক এ রকম :

একদিন এক সর্দারজি ট্রেনে চেপে কোথাও যাচ্ছিলেন। সেদিন ছিল প্রচণ্ড গরম। তাই সর্দারজিসহ অনেকেই ফেরিওয়ালার কাছ থেকে হাতপাখা কিনে বাতাস করতে লাগলেন। অথচ এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যেতে না যেতেই সবার হাতপাখা খুলে নষ্ট হয়ে গেল।

কিন্তু সর্দারজির হাতপাখাটা একদম নতুনের মতোই আছে। এটা দেখে অবাক হয়ে একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘সর্দারজি, আপনার হাতপাখাটি এখনো নতুনের মতো আছে কী করে?’ সর্দারজি বললেন, ‘আরে মশাই, আমি আপনাদের মতো বোকা নাকি? টাকা দিয়ে হাতপাখা কিনেছি কি নষ্ট করার জন্য? আমি তো হাতপাখা মুখের কাছে ধরে শুধু মাথাটা নড়াচড়া করেছি।’

সূত্রঃ সাপ্তাহিক ২০০০

ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে


তৈরি পোশাকের নয়াবাজারে ঢুকতে পারছে না বাংলাদেশ

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দারুণ চাহিদা। একই অবস্থা আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। তবে এসব দেশের নতুন বাজারে ঢুকতে পারছেন না দেশের তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তারা। সরকারি পর্যায়ে নানা জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পের বাজার প্রতিনিয়তই বাড়ছে। দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৭৮ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রফতানি হচ্ছে। সাড়ে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ শিল্পটি বাজার সম্প্রসারণের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় উদ্যোগগুলো কাজে লাগছে না।
এদিকে পোশাক শিল্পের নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে গত বছর বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে। এ ভ্রমণের ফলাফল হিসেবে সম্প্রতি শেষ হওয়া বাটেক্সপো মেলায় উপরোক্ত দেশগুলোর ক্রেতাদের অংশগ্রহণ এবং এদেশ থেকে তারা পোশাক কেনার জন্য স্পট অর্ডারও দিয়েছেন।
এবারের বাটেক্সপো মেলায় মোট ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার পেয়েছেন এদেশের পোশাক শিল্প মালিকরা। পাশাপাশি আরও ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু অর্ডার পেলেও সেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় রফতানি কার্যক্রম দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না।
যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে সেসব দেশে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা না থাকায় রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে বাংলাদেশকে প্রতি বছরই কোনো না কোনো বায়ার হারাতে হচ্ছে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩৯টি দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার রয়েছে।
একদিকে নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে যতই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিজিএমইএ, অন্যদিকে সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর লবিংয়ের অভাবে বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দূতাবাস না থাকায় দেশগুলোতে পোশাক রফতানি করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিএমইএর একটি সূত্র।
এশিয়ার অনেক দেশে দূতাবাস থাকলেও বাণিজ্যিক পরামর্শক না থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশেও পোশাক রফতানির অর্ডার পেয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দ্রুত ভিসাপ্রাপ্তি এবং দূতাবাসগুলোতে বাণিজ্যিক লবিস্ট না থাকার কারণে খুব সহজে রফতানি করতে পারেছেন না পোশাক শিল্প মালিকরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করতে পারবে এ দেশ। ফলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন; কিন্তু এখনও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের চোখে পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলিসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এ বাজার ধরে রাখার জন্য এবং সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সে দেশগুলোতে যেতে হয়। কিন্তু আমরা তা পারছি না। ফলে বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ নিটঅয়্যার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ বিষয়ে গতকাল আমার দেশকে বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর যেমন ইউরোপ-আমেরিকায় তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নতুন বাজারও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আফ্রিকার অনেক দেশ আছে যেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রফতানি হচ্ছে; কিন্তু এ সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারছে না।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

ওবামার চীন আতঙ্ক : যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে ইসলাম এবং বিকাশমান চীনকে ভয় করছে। এশীয় অঞ্চলে জাপান ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে থাকলেও এখন জাপান আর সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এশিয়ায় চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে ভারতকে কাছে টানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প নেই।


ওবামার চীন আতঙ্ক
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

President Barack Obama met with Chinese President, Hu Jintao

President Barack Obama met with Chinese President, Hu Jintao

এক শতাব্দী আগে জার্মানি যেভাবে সমৃদ্ধ, বিকশিত ও সম্প্রসারিত হয়ে ইউরোপ তথা বিশ্বের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র চীনের অর্থনৈতিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিকে ঠিক একইভাবে দেখছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক ভারত সফর শুধু দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে কিছু চুক্তি সম্পাদনের জন্য ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হল, কিভাবে এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে সামাল দেবে। মার্কিন নেতৃবৃন্দ মুখে যতই ইসলামকে ‘মহান ধর্ম’ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশকে ‘মডারেট’ বলে সার্টিফিকেট দিক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে ইসলাম এবং বিকাশমান চীনকে ভয় করছে। এশীয় অঞ্চলে জাপান ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে থাকলেও এখন জাপান আর সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সে কারণে এশিয়ায় চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে ভারতকে কাছে টানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প নেই।

ওবামার ভারত সফর নিঃসন্দেহে দেশটির নেতৃবৃন্দের নৈতিক মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘকাল ভারত কোনো পরাশক্তিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পায়নি, বরং চীনের ‘শীতল হুমকি’র মুখোমুখি ছিল; যে হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে ভারত মনে করে। গত ২২ অক্টোবর চীন সরকারিভাবে যে অনলাইন ম্যাপিং সার্ভিস চালু করেছে তাতে ভারতের অরুণাচল, হিমাচল ও লাদাখের আকসাই চীন এলাকাকে চীনের ভূখণ্ড হিসেবে দেখিয়েছে। এটা চীন যে শুধু এবারই দেখাল তা নয়, পুরো এলাকাকে তারা দীর্ঘ দিন ধরে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। তাদের মতে, অরুণাচল প্রদেশ আসলে দক্ষিণ চীন, যা ভারতের জবরদখলে রয়েছে। ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী সম্প্রতি দি এশিয়ান এজ-এ এক নিবন্ধে চীনের দাবিকে অরুণাচলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন। ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ভি কে সিং গত ১৯ অক্টোবর দিল্লিতে এক সেমিনারে চীন ও পাকিস্তানকে ভারতের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি বলে উল্লেখ করেন। সে কারণে ভারত নিজের নিরাপত্তার জন্য তিব্বতকে বাফার জোন হিসেবে দেখতে চায়। ভারত তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে, আর চীন তিব্বতকে নিজ ভূখণ্ডের অংশে পরিণত করেছে। এ বিরোধ অনেকটাই নিষ্পত্তির অতীত।

যুক্তরাষ্ট্র চীনের মোকাবেলায় ভারতকে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দেখতে চায় এবং ওবামা ভারত সফরকালে ঘোষণা করেছেন, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। এ ঘোষণার আগে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কাছে যুক্তরাষ্ট্র নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য বৃদ্ধি করতে হলে জাতিসঙ্ঘের কাঠামোতে যে সংস্কার করতে হবে সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে, এটা জাতিসঙ্ঘের নিজস্ব ব্যাপার। তারা যে প্রক্রিয়ায় অন্যান্য বিষয়ে সংস্কার করে থাকে, এ ক্ষেত্রেও একইভাবে সংস্কার করবে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে শুধু চীন এখন পর্যন্ত ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের ব্যাপারে কোনো মতামত ব্যক্ত করেনি। অনেকে মনে করেন, ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রস্তাবে চীন ভেটো দেবে, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের জোরালো সমর্থন ঘোষণার পর চীন এখন পর্যন্ত নেতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি; বরং চীনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ অনেকটাই ভারতকে আশাবাদী করার মতো। ওবামার ঘোষণার পর চীন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত Zhang Yan-কে ভাইস মিনিস্টারের পদে উন্নীত করেছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রে নিয়োজিত চীনের রাষ্ট্রদূতরা ভাইস মিনিস্টারের পদমর্যাদা ভোগ করে থাকেন।

U.S. businesses say China's currency is undervalued and puts them at a big competitive disadvantage

U.S. businesses say China's currency is undervalued and puts them at a big competitive disadvantage

এ ছাড়া চীনের পররাষ্ট্র দফতর থেকে ওবামার ঘোষণার পর যে প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে, সেটিও যথেষ্ট ইতিবাচক বলে ধরে নেয়া যায়। চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘China understands New Delhi’s aspirations to play a bigger role in the United Nations and is ready for consultation with it over reforms of the world body. China values India’s status in the international affairs and is ready to keep contact and consultations with India and other member states on the issue of Security Council reform. China supports reasonable and necessary reform of the United Nations Security Council and will maintain priority to giving more representation to developing countries at the UN Security Council, so that they can play bigger role in the Security Council.’

চীনের এই সদিচ্ছা সত্ত্বেও ভারত ও চীনের মধ্যে যে সীমান্ত বিরোধ বিদ্যমান, তা শিগগিরই দূর হবে, এমনটি আশা করা বোধহয় সঠিক হবে না। ১৯৬২ সালে সীমান্ত সংঘর্ষের পর উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত যে শীতল সম্পর্ক ছিল, তা কিছুটা উষ্ণ হলেও ঘনিষ্ঠতার পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। চীন যেমন ভারতকে তার ভূখণ্ডের দখলদার হিসেবে বিবেচনা করছে, ভারতও অনুরূপ চীনের দিক থেকে হামলার আশঙ্কামুক্ত হতে পারছে না। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় অস্ত্র মজুদ করার পাশাপাশি ভারত তার এশীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও আর গোপন রাখছে না। Indian Defence Journal-এর সম্পাদক মি. ভরত বর্মা সম্প্রতি এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘India wants to control the politics of the whole Asian region, like the role of the United States of America playing in the global politics. And to achieve the goal it is not sufficient to patronize a section of pro-Indian intellectuals and politicians of other countries. It is necessary to develop infrastructures in order to facilitate supply of troops and logistics, side by side setting up big embassies, ensuring use of port facilities and also developing intelligence network in those countries. Even, if necessary, military aggression could be an alternative to this end. Afghanistan was not occupied by the Americans only due to the presence of people like Hamid Karzai, the Americans had to set up cantonments, air fields and build road infrastructures. Besides, they are fighting there without a ceasefire.’

President Obama touring the Badaling section of the Great Wall

President Obama touring the Badaling section of the Great Wall

ভারতের এমন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বিপরীতে চীন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে, এমনটি ধারণা করা ঠিক হবে না। গত বছর (৭-৮ আগস্ট ২০০৯) নয়াদিল্লিতে যখন ভারত-চীন সীমান্ত বৈঠক চলছিল, তখন বেইজিং ভিত্তিক China-Centric Asian Strategy Institute-এর জার্নালে ‘If China takes a little action, the so called great Indian federation can be broken up’ শীর্ষক নিবন্ধে গবেষক Zhan Lue Gang বলেন, “এশিয়ায় নয়াদিল্লির ভারত-কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবে হিন্দুস্থান-কেন্দ্রিক নীতি। কিন্তু ‘হিন্দুস্থান’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই এবং দেশটির অনেক রাজ্যে বহুসংখ্যক ‘স্থানীয় কেন্দ্র’ বিদ্যমান। বহুবিধ স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে তথাকথিত ভারতীয় জাতিকে প্রকৃতপক্ষে এক জাতি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ইতিহাসে এমন ভারতীয় জাতির অস্তিত্ব কখনো ছিল না। মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসনাধীনে একীভূত দেশটি বর্তমানে ‘ভারত’ নামে পরিচিত।”

নিবন্ধকারের মতে, ভারত যদি ঐক্যের জন্য কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে থাকে, তাহলে সেটি হলো হিন্দু ধর্ম, ১৯৪৭ সালে যার ভিত্তিতে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল। সে হিসেবে ভারতকে একটি ‘হিন্দু ধর্মীয় রাষ্ট্র’ বলা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্ম একটি ক্ষয়িষ্ণু ধর্ম, এতে বর্ণ ও জাতগত প্রতারণা ও শোষণ রয়েছে; যা দেশটির আধুনিকতার পথে বড় অন্তরায়। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে, চীনের উচিত তার নিজের স্বার্থে এবং এশিয়ার অগ্রগতির স্বার্থে ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী যেমন­ অসমিয়া, বাঙালি, নকশাল, মারাঠি, পাঞ্জাবি, তামিল ও কাশ্মীরিদের সাথে মিলিত হয়ে এবং তাদেরকে সমর্থন দিয়ে ভারতের বাইরে তাদের নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করা।

নিবন্ধে আরো বলা হয়, ‘China so that Assam realizes its national independence… For Bangladesh, the biggest threat is from India, which wants to develop a great Indian empire extending from Afghanistan to Myanmar. India is also targeting China with support to Vietnam’s efforts to occupy Nansha group of islands in South China Sea. This is why China should strengthen its alliance with Bangladesh, a country with which the US and Japan are also improving their relations to counter China. China should also open secret contacts with pro-independence groups fighting Indian rule in at least 13 states inside India.’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে বিভাজন করার লক্ষ্যে চীন তার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানকে সাথে নিয়ে আসামের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ULFA-কে এবং তামিল, নাগা ও কাশ্মীরিদের মতো জাতি-গোষ্ঠীগুলোর আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করতে পারে, …এবং সবশেষে ভারত কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত দক্ষিণ তিব্বতের ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, যাকে তারা অরুণাচল প্রদেশ নামে অভিহিত করে, সেই ভূখণ্ড উদ্ধার করতে পারে।’

ভারতকে ইউরোপের মতো ২০ থেকে ৩০টি জাতিরাষ্ট্রে বিভক্ত করার আশা ব্যক্ত করে নিবন্ধকার উপসংহার টেনেছেন যে, ভারতের জাতি-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যদি সচেতনতা জাগিয়ে তোলা যায় তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক সংস্কার ও পরিবর্তন আনয়ন এবং বর্ণভেদ দূরীকরণের মাধ্যমে সমগ্র এলাকাকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

এই অবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিপরীতে ভারতকে তার প্রভাববলয়ে নেয়ার ফলে এশিয়ায় উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে বরং বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। ওবামার ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, তার বাইরেও এ সফরের আরেকটি অগ্রাধিকার ছিল ভারতের কাছে ২৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক উপকরণ বিক্রয়, যার সূচনা হয়েছিল ২০০১ সালে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারে ১৪৫টি Howitzer কামান, ৪.৫ বিলিয়ন ডলারে ১০টি হেভি লিফট এয়ারক্রাফট, ২ বিলিয়ন ডলারে আওয়াকস রিফুয়েলিং সিস্টেম, ৮৮০ মিলিয়ন ডলারে ক্লাস্টার বোমা ক্রয় করবে। এ ছাড়া ভারতের সামরিক ক্রয় তালিকার মধ্যে আগামী ১০ বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যে ৬০০ হেলিকপ্টার আর তিন হাজার ৬০০ কামান রয়েছে। গত বছর ভারত ২.১ ডলার মূল্যে লং রেঞ্জ মেরিটাইম রিকনাইসেন্সের অর্ডার দিয়েছে ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বজায় রাখার প্রস্তুতি হিসেবে।

ওবামার সফরের মধ্যে ‘না বলা’ অনেক কিছু রয়ে গেছে, যা প্রাথমিকভাবে উপমহাদেশের জন্য এবং ব্যাপকভাবে এশিয়ার জন্য বিপদের বার্তা বয়ে আনবে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ‘এশীয় কূটনীতির কেন্দ্রে’ পরিণত করার নামে দেশটিকে যেভাবে অস্ত্রসজ্জিত করছে, তা ইতোমধ্যে ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করেছে। পঞ্চাশের দশক থেকে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে যে মৈত্রী ছিল, তা সোভিয়েত ব্লকে থাকা ভারতের জন্য ছিল ঈর্ষণীয়। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যদের বিতাড়নে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে এবং বর্তমানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আগামী শতকের ‘Indispensable Partner’ হিসেবে ঘোষণা করায় পাকিস্তান হতাশ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতার রাজনীতিতে মেতে উঠেছে, যার নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই’।

ভারত-মার্কিন সম্প্রীতি এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হলে কারো আপত্তি থাকার কথা ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক আলামতই বলে দিচ্ছে যে, এর ফলে এ অঞ্চলে অস্থিরতা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতাই শুধু বৃদ্ধি পাবে।
লেখকঃ সাংবাদিক
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান:এসব সফরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক সাফল্য চোখে পড়েনি।


প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান

publish On 04/11/2010

বুধবার প্রতিবেদন ● প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেয়াদে এখন পর্যন্ত দুই বছরেরও কম সময়ে ১৫ বার বিদেশ সফর করে ৬৯ দিন দেশের বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে, বিদেশ সফরে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি এখন পর্যন্ত ৬৮ বার সরকারি অর্থে সফর করে বিদেশে ছিলেন প্রায় ১৮০ দিন। এসব সফরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক সাফল্য চোখে পড়েনি। তবে সরকারি অর্থের ব্যাপক ব্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতবার সফর করলেও বিদেশী সম্মানিত অতিথি বাংলাদেশে এসেছেন খুব কম। বহির্বিশ্ব থেকে রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধান অথবা বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ সফর করলে সেটাকে মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয়। দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে শীর্ষনেতা তথা রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে শুধু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল বাংলাদেশ সফর করেছেন। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিনপিন ফিরতি সফর করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েও বাংলাদেশে সফর হয়েছে গুটিকয় মাত্র। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রী শেরি ব্লেয়ার এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কয়েক ঘণ্টার সফর ছাড়া বিদেশী কোনো গণ্যমান্য মেহমান বাংলাদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরের আগে তার প্রস্ত্ততি হিসেবে ব্যাপকভাবে কোনো গ্রাউন্ডওয়ার্ক লক্ষ্য করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে ভারত সফরের সময় যদিও গ্রাউন্ডওয়ার্ক চলেছে দীর্ঘদিন ধরে তবু এই সফর থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। অপরাপর সফরগুলোর আগে প্রস্ত্ততি যথেষ্ট ছিল না। তড়িঘড়ি করে বিদেশ সফরের আয়োজন করাই যেন লক্ষ্য ছিল। এসব সফরের ফলাফল পেতে হলে কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায় থেকে আগেই সবকিছু চূড়ান্ত করে রাখা হয়ে থাকে। এ ধরনের পর্যাপ্ত প্রস্ত্ততি প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলাফল দেখে প্রমাণ হয় না।

প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এতসব বিদেশ সফরের পরও বিদেশে বাংলাদেশের জনশক্তির বাজার আশঙ্কাজনক পর্যায়েই রয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্য কিংবা বিনিয়োগও বাড়েনি। সর্বোপরি বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির নাজুক পরিস্থিতিও কাটেনি। প্রধানমন্ত্রীর এসব সফরের মাধ্যমে রুটিন বৈঠক ও কুশল বিনিময়ের বাইরে তেমন কোনো অর্জন লক্ষ্য করা যায় না। কোনো কোনো বিদেশ সফরে যেমন ভারত, অসম চুক্তি সম্পাদন করে অর্জনের বদলে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার নজিরও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাইপ্রোফাইল সফরের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ছেলেবউ ক্রিস্টিন, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানার ছেলেমেয়েসহ প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনরা সঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশ সফরে মন্ত্রী, কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রাচারের দায়িত্বরত ব্যক্তিবর্গ, নিরাপত্তা দল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা, মহাজোটভুক্ত দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক সফরসঙ্গী রাষ্ট্রীয় অর্থে বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়েছেন। কোনো কোনো সফরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ‘নিজেদের লোকদের বিদেশ ঘুরিয়ে’ আনার প্রবণতা লক্ষণীয়।

মহাজোট ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত বছরের ২০ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে প্রথম সফরে যান সৌদি আরব। আগের আমলে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম সফর করেছিলেন চীন। বেগম খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথম সফর করেন চীন। ফলে প্রথমে সৌদি আরব সফর করে শেখ হাসিনা এবার সেই প্রথায় ছন্দপতন ঘটান। প্রধানমন্ত্রী জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সংক্ষেপে ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় সফরটি করেন মিসর। ১৪-১৭ জুলাই মিসরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

একই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সফর করেন শেখ হাসিনা। এই সফরে ১-৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সফরের সময় তিনি বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর অনেক বেশি, যা কেউই অস্বীকার করে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে গোটা বিশ্বের মাতামাতির সময়ে সবচেয়ে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে দরকষাকষির জন্য গ্রাউন্ড ওয়ার্ক বা দক্ষ কোনো কূটনীতিক গড়ে তোলেনি। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো ডেস্ক নেই, এমনকি বিশেষ কোনো দূতও নেই। ফলে এ-সংক্রান্ত সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণ করে প্রথাগত কিছু কথাবার্তা বলেই ক্ষান্ত থাকতে হয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো এই সংকট মোকাবিলায় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে সামান্যই এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণের বদলে বিভিন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে রুটিন বক্তব্যই শুধু দিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ২২-২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে যোগদান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটা নিয়মিত বহুপক্ষীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। যদিও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদলে তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা অবশ্য আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় অনেকটাই ব্যর্থ এই বহুপক্ষীয় সংস্থার প্রতি তার সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের বিষয় নিশ্চিত করতে এবারও একইভাবে ৬৫তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের জন্য শেখ হাসিনাকে এমডিজি পুরস্কার প্রদান করা হয়। এটি জাতিসংঘের কোনো পুরস্কার নয়। কিন্তু তবুও এই পুরস্কার নিয়ে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনাকে তার দলের নেতা-কর্মীরা অভিনন্দন জানান। এই ফুলেল শুভেচ্ছার ডালি হাতে নিয়ে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা ঢাকা শহরে ওইদিন এক অসহনীয় যানজটের অবতারণা করান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপীয় উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গত বছরের ২১-২৪ অক্টোবর কেন সুইডেন সফর করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। ইউরোপ দিবসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানো জনগণের অর্থের অপচয় বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত। একই বছরের ২৫-২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরে কাতার গিয়েছেন। জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে ওই সফরে কোনো দিগন্ত উন্মোচন হয়নি।

শেখ হাসিনা প্রথম রাষ্ট্রীয় দ্বিপক্ষীয় সফর করেন ভুটান। গত বছরের ৬-৯ নভেম্বর তিনি ভুটান সফর করেন। কৌশলগত কারণেই তিনি প্রথম সফরটি ভুটানে করেছেন। প্রথম সফরে ভারত গেলে রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার ইস্যু সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কাতেই সম্ভবত প্রথমে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার পর্বতবেষ্টিত ছোট দেশ ভুটান সফর করেন। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ১৫-১৯ নভেম্বর ইতালি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। ইতালিতে তিনি বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১তম আন্তর্জাতিক এরোস্পেস প্রদর্শনী ‘দুবাই ২০০৯’ এ যোগদান করতে তিনি সে দেশ সফর করেন। সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলোর ক্লাব হিসেবে পরিচিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান করতে শেখ হাসিনা গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফর করেন। কোপ-১৫ নামে পরিচিত জলবায়ুবিষয়ক ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’ বৈঠকে যোগ দিতে শেখ হাসিনা গত বছরের ১৫-২০ ডিসেম্বর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন সফর করেন।

শেখ হাসিনা এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর করেন চলতি বছরের ১০-১৩ জানুয়ারি ভারতে। এ সফরটিই তার এই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত সফর। এ সফরে তিনি ভারতের সঙ্গে ৫০ দফার যে যৌথ ইশতেহার সই করেছেন তার বেশির ভাগই প্রতিবেশী এই বড় দেশটির স্বার্থের অনুকূলে হয়েছে। ভারতকে নিঃশর্তভাবে ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে এ ক্ষেত্রে অবদান রাখলেও অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন চুক্তি করে বাংলাদেশের পানির হিস্যা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে ৫০ দফার যৌথ ইশতেহারকে একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী দলিল হিসেবে গণ্য করেন বিশ্লেষকরা। এটি বাস্তবায়নে এখন সরকার তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ভারত সফরের পর এ অঞ্চলে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭-২১ মার্চ চীন সফর করেন। এ অঞ্চলে চীন অন্যতম ক্ষমতাকেন্দ্র হওয়ায় দেশটির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সহায়তা বাংলাদেশের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ৭-৯ ফেব্রুয়ারি কুয়েতে দ্বিপক্ষীয় সফর করেন। ভুটানে ২৮-২৯ এপ্রিল সফর করেছেন ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান গুরুত্বপূর্ণ। আট জাতির এই আঞ্চলিক সংস্থার সম্মেলনে অপরাপর সদস্য দেশগুলোর শীর্ষনেতারাও যোগ দিয়েছেন। তবে ১৬-১৮ মে ইউএনএসকাপের ৬৬তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সফর এবং ১৯-২০ মে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ষষ্ঠ বৈঠকে যোগদানের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সফর প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে হওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে কূটনৈতিক মহল মনে করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭-৯ জুলাই উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর খুব দুর্বল জোট ডি-৮ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে নাইজেরিয়া সফর করেন। ইসলামি সম্মেলন সংস্থা সংক্ষেপে ওআইসি জোট থাকার পরও বিগত শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ডি-৮ গড়ে তোলা হয়েছিল বিধায় এই সম্মেলনে তিনি যোগ দিলেন। যদিও কার্যত এই জোটের কোনো কর্মকান্ড নেই। তবে কিছুদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জাপান, রাশিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ সফরে যেতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিদেশ সফরের তালিকা অনেক দীর্ঘ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত বছর ১-৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সেল পিরিওডিক রিভিউর জন্য সুইজারল্যান্ড, ইউনাইটেড মালয়েস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২৬-৩০ মার্চ মালয়েশিয়া, আফগানিস্তানসংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে ৩১ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস, সভ্যতা সম্মেলনে যোগ দিতে ৬-৭ এপ্রিল তুরস্ক, মানব পাচার প্রতিরোধ বৈঠকে যোগ দিতে ১৫ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ২০-২৪ এপ্রিল সৌদি আরব, জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে ২৮ এপ্রিল নরওয়ে, ২৯-৩০ এপ্রিল ন্যাম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে কিউবা, ৮-১০ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৫-১৭ মে মিয়ানমার, ২৩-২৫ মে ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে সিরিয়া, ২৯-৩০ মে সাগ্রি লা ডায়ালগে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর, ২৪-২৬ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ৯ জুলাই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে ভারত, ১০ জুলাই সার্কের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কা, ১২ জুলাই কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসিতে যোগ দিতে পর্তুগাল, ১৩-১৮ জুলাই ন্যাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মিসর, ২৩ জুলাই ১৬তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ড, ২-৩ সেপ্টেম্বর গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর ক্লাইমেট সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ৮ সেপ্টেম্বর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে ভারত, ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ২৩-২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৬৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ১৫-১৬ অক্টোবর এশীয় সহযোগিতা সংলাপ (এসিডি) ৮ম বৈঠকে যোগদানের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা, ২২-২৪ অক্টোবর ইউরোপ উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সুইডেন, ২৬-২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কাতার, ১-২ নভেম্বর ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে মালয়েশিয়া, ৬-৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভুটান, ৯-১০ নভেম্বর ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে মালদ্বীপ, ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১৬-১৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ইতালি, ২৫-২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ১০-১২ ডিসেম্বর বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে মিয়ানমার, ১৪-১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ডেনমার্ক ও ২১ ডিসেম্বর মরিশাস সফর করেন। এটা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির ২০০৯ সালের বিদেশ সফরের ফর্দ। তিনি চলতি বছর অর্থাৎ ২০১০ সালেও বিদেশ সফরে পিছিয়ে নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি চলতি বছরের ১০-১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভারত, জ্যোতি বসুর শেষকৃত্যে যোগদান করতে ১৯ জানুয়ারি ভারত, ২৫-২৭ জানুয়ারি নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ৭-৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কুয়েত, ১-২ মার্চ মানবাধিকার বৈঠকে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ১৬-১৭ মার্চ ন্যাম বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফিলিপাইন, ১৭-২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে চীন, ১৪-২২ এপ্রিল ব্রিটেন ও নরওয়ে, ২৭-২৯ এপ্রিল সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে ভুটান, ২-৪ মে এনপিটি রিভিউ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ১৮-২০ মে ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে তাজাকিস্তান, ২১-২২ মে রাশিয়া, ২৭-২৯ মে সভ্যতা সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাজিল, ৩১ মে থেকে ২ জুন আইসিসি রিভিউ কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে উগান্ডা, ৭-৯ জুন চিকা সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক, ২০-২২ জুন ফ্রান্স, ২৩-২৫ জুন দ্বিপক্ষীয় সফরে স্পেন, ৪-১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নাইজেরিয়া, ২৩ জুলাই ১৭তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে যোগ দিতে ভিয়েতনাম, ৩-৪ আগস্ট এমডিজি সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়া, ২৩ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও জার্মানি, ১৮-২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ৩-৫ অক্টোবর ব্রিটেন সফর করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ মুহূর্তে অসুস্থ। তাই তার চীন সফর বাতিল করেছেন।