বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভবিষৎ অনিশ্চিতঃ

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত, বিদেশী বিনিয়োগের বড় বাঁধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর দুর্নীতি – ড্যান ডব্লিউ মজিনা

লস এঞ্জেলেস, ২৩ অক্টোবর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃবাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা লস এঞ্জেলেসে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমেরিকার তার নিজস্ব স্বার্থেই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক কারণেই আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিক্ষুদ্ধ চরমপন্থী সহিংসতার মাঝে মধ্যপন্থী সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক লোকায়ত রাষ্ট্রশক্তি হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান উত্থান এই অঞ্চলে প্রচণ্ড আশাবাদ নিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা এমনকি চীনের সাথে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ সহযোগীতার কেন্দ্রস্থল হিসাবে আবির্ভুত হচ্ছে। শান্তিরক্ষী মিশনে বিশ্বের প্রথম দুটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা পুলিশ ইউনিট সহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে  ১০ হাজার ৬৫৩ জন শান্তিরক্ষী সদস্যের বৃহত্তম শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম কুড়াচ্ছে। তারজন্য আমেরিকা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায়।’ বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা ও মানবহিতৈষী কর্মকান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহযোগিতা ও সাহায্যের কথা ড্যান ডব্লিউ মজিনা অভিবাসী বাংলাদেশীদের জানান। তিনি বলেন আমেরিকা চায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো উন্নত হোক।

This slideshow requires JavaScript.


বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। তিনি এই প্রসঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দারিদ্র্য দূরীকরণে মাইক্রোক্রেডিটকে সাফল্যকে যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করে বলেন, আমেরিকা এই প্রতিষ্ঠানের সার্থক প্রসারের ধারায় অনুভূতিশীল ও সহানুভূতিশীল। আশ্রয়হীন, বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের অতীতের মতোই আশ্রয় দেয়ার জন্য আবারও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। তিনি এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে আরো মানবিক হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী উদ্বাস্তুরা ভারতে আশ্রয় নেয়, সেই ঘটনার কথা তিনি স্মরণে আনেন। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়েও তার উদ্বেগের কথা জানান। বাংলাদেশকে আগামীর এশিয়ান টাইগার হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি রোধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ-সহায়তার উপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতুর ভবিষৎ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সেতু হলে বাংলাদেশের তথা এ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে পদ্মা সেতুর জন্য ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র,ভারত এবং জাপানসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কাজ করছে। এখন ভারত সেই আশাবাদ থেকে সরে এসে  দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে ভিন্নভাবে অগ্রসর হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের স্বাভাবিক শর্তে বর্তমান সরকারের অস্বাভাবিক আচরনে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজেদের আভ্যন্তরীণ আয়োজনে এই সেতু নির্মান করা প্রায় অসম্ভব বলে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য ঋনের ব্যাপারটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ও আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুকে জনগনের সামনে এনে সুবিধা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। 

গত কয়েক বছর ধরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশী-আমেরিকান শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুনগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের অংশ হিসাবে মার্কিন কূটনীতিকদের এই আয়োজন। এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে নতুন প্রজন্মদের সম্পৃক্ত করে নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য মিলিয়ন ডলারের পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মিতুল দেশাই। দেশে জনসেবায় প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করার নিমিত্তে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে তাদের এমবেডেড এনজিওগুলির সাথে কাজ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের অর্জিত ব্যবসা, প্রফেশনাল ও সাইন্টিফিক নেটওয়ার্ককে স্বদেশে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই কমিউনিটি উদ্যোগ ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আমেরিকান দূতাবাসের সহযোগীতায় তাদের আমব্রেলা অর্গানাইজেশনগুলির মাধ্যমে কো-ডেভেলপমেন্টের সুযোগ তৈরী করাই এই ইনিশিয়েটিভের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানী এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় নয় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী তিন বছরে এই রপ্তানিকে তিনগুন করার লক্ষ্যে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসবার আহ্বান জানান। আমেরিকান দূতাবাস এই ব্যাপারে সর্বাত্মক সাহায্য করার অঙ্গীকার করছে।

লস এঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে প্রবাসী ব্যবসায়ী ফিরোজ ফখরীর বাসভবনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্টনারশিপ ডায়লগের অংশ হিসাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (ইউ এস বি বি এফ) এ মতবিনিময় নৈশভোজের আয়োজন করে। গত সপ্তাহজুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন স্তরের এই মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। এই পর্যায়ে নিউইয়র্ক, পোর্টল্যান্ড ও ক্যালিফোর্ণিয়ায় প্রবাসী সীমিতসংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিকদের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা খোলামেলা কথা-বার্তা বলেন। লস এঞ্জেলেসে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ণ ক্যালিফোর্ণিয়ায় শিক্ষক-ছাত্র ও কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে লাঞ্চ, বিকালে উডল্যান্ড হিলের এক প্রবাসীর বাসায় ইভনিং টী প্রোগ্রাম ও রাতে বেভারলি হিলস-ব্রেন্টউড এলাকায় ডিনার পার্টি আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও নৈশভোজে স্থানীয় প্রবাসীদের সাথে রাষ্ট্রদূত পত্নী গ্রেস ফিনে মজিনাও উপস্থিত থেকে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফিরোজ ফখরী তার স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মজিনাকে এই কমিউনিটি উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। এরপর মজিনা অভ্যাগত অতিথিদেরও কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। এই পর্বটি পরিচালনা করেন ইউ এস বি বি এফ-এর প্রসিডেন্ট মোঃ জাফরুল্লাহ। 
Video: United States Ambassador to Bangladesh – Dan Mozena with Bangladeshi American in Los Angeles
-Jahan Hassan
Editor,
Ekush News Media
13659 Vicory Blvd, #376, Van Nuys, CA 91401, USA

1 818 266 7539
editor@Ekush.info
FaceBook: 
http://www.facebook.com/jahan.hassan.1

Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151198517861897.480982.826936896&type=1&l=a99bed5285


Dan Mozena Grace Feeney -Jahan Hassan Ekush News Media জাহান হাসান একুশ নিউজ মিডিয়া
Editor

http://www.probashipotro.com/2012/10/26/padmasetu/

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরবীয় জনগণের মতাদর্শিক সংঘর্ষ


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরবীয় জনগণের মতাদর্শিক সংঘর্ষ


রামজে বারোউদ • স্বেচ্ছাচারীদের চ্যালেঞ্জ করা, পুরনো কাঠামো ধ্বংস করা এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য কর্মপন্থা উদ্ভাবনের কাজে আরবদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ব্যর্থ নীতি, ভুল ধারণা ও আত্মস্বার্থে অবিচল রয়েছে। আরবরা নিজেদের মধ্যে অনেক বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে, কিন্তু এ বিষয়ে খুব কম লোকই ভিন্ন মত পোষণ করে যে, এখন পিছনে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। মুবারক ও বেন আলীর মতো স্বেচ্ছাচারীদের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করে, তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জসহ নতুন সকাল। এ এলাকায় গণতন্ত্র, সুশীল সমাজ ও নাগরিকত্ব বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আরবের যেসব বুদ্ধিজীবী এখনো সন্ত্রাসবাদ ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বাগাড়ম্বর করে তাদের ওয়াশিংটন ভিত্তিক বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী কাজে লাগিয়েছে অথবা তাদের মধ্যে এমন কিছু বেপরোয়া লোক আছে যারা মিথ্যার বেসাতি বিক্রেতা রুপার্ট মারডকের ফক্স নিউজে উপস্থিত হন।

একটা কথা সহজে অনুমেয় – আরব বিশ্বের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো এখন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের বিষয় নয়। হোসনি মুবারক যখন মিসরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখনকার অবস্থার সঙ্গে এখনকার অবস্থার মিল নেই। একদল ‘আরব মধ্যস্থতাকারীর’ পরিচালনায় মুবারকের প্রধান দায়িত্ব ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির প্রতিফলন ঘটানো। ব্যাপারটা ছিল যেন তা মিসরের জাতীয় স্বার্থের জন্যও একটা জরুরি বিষয়। ইতোমধ্যে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ পরস্পরবিরোধী অবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে গেছেন। তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিষয়ে ভালো কাজে কৃতিত্ব লাভের জন্য তিনি বেপরোয়া ছিলেন – তিনি এখনো আরব প্রতিরোধের অভিভাবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০০১ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তান দখল করে তখন ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ কথাটা আরব সংস্কৃতিতে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত করা হয়। সাধারণ আরববাসীদের এমন বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বাধ্য করা হয় যা তাদের কাছে গুরুত্বহীন ছিল, অথচ সেই বিষয়টিই এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতিভাত হয়।

আরব নারী-পুরুষ সবাইকে অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়, এমনকি তাদের আশাশূন্য করা হয়। তাদের শুধু ওসামা বিন লাদেন, আল কায়েদা ও অন্যান্য বিষয়ে জনমত জরিপের উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। অথচ এসব বিষয় তাদের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও অবমাননার জন্য দায়ী কোনো বিষয় ছিল না।

আরব স্বেচ্ছচারীরা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বদ্ধ সংস্কারকে গ্রহণ করে। ইয়েমেনের আলী আবদুল্লাহ সালেহকে ‘আল কায়েদাকে পরাজিত’ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শত্রুভাবাপন্নভাবে দখল অথবা নিজেকেই ক্ষতিকর একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মধ্যে যে কোনো একটা পথ বেছে নিতে হয়। তিনি শেষোক্ত বিকল্পটি বেছে নেন এবং এমন ভূমিকার ফলাফল হাতে হাতেই পেয়ে যান। ইয়েমেনী জনগণ রাস্তায় নেমে আসে – তারা দাবি করে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের। সালেহ অনুগত বাহিনী ও রিপাবলিকান গার্ডদের পাঠান হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আল কায়েদা যোদ্ধাদের এবং নিরস্ত্র গণতন্ত্রকামী লোকদের একসঙ্গে হত্যা করার জন্য। সরাসরি ও কঠোর এ কাজকে তুলনা করা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অকথিত দরকষাকষির অাঁতাত, তোমাদের খারাপ লোকদের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করব যতক্ষণ আমি নিজেকে ধ্বংস করতে পারব এমন ভাবনার সঙ্গে।

লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো কাজে লাগান। তার শাসনামলে প্রতিনিয়ত জোর দেওয়া হয়েছে যে, বিরোধী দলগুলোর সদস্যদের মধ্যে আল কায়েদা আছে। এসব কথা পশ্চিমা গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়। পাশ্চাত্যকে শান্ত করার জন্য গাদ্দাফি এমন বেপরোয়া হয়ে যান যে, তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ফিলিস্তিনি ‘চরমপন্থীদের’ বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব স্বৈরশাসকরা যে ভাষায় কথা বলেন তা নির্যাতনের ভাষা কোষে খুঁজে পাওয়া যায় না এবং এটা একটা বিস্ময়কর বিষয়। অপরদিকে সাধারণ আরব জনগণ তাদের দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলো ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেলিত ছিল। আল কায়েদা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণনা অনুযায়ী আরব জনগণ ঐক্যবদ্ধ নয়, অন্য কিছু বিষয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ যা পশ্চিমা ভাষ্যকার ও সরকারি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। অংশীদারিত্বমূলক ইতিহাস, ধর্ম, ভাষা ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ঐক্য ছাড়াও তাদের মধ্যে আছে নির্যাতন, বিচ্ছিন্নতা, অন্যায় ও অসাম্যের এক সাধারণ অভিজ্ঞতা।

২০০৫ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের তৃতীয় আরব উন্নয়ন রিপোর্টে বলা হয় যে, আধুনিক আরব রাষ্ট্রে ‘নির্বাহী প্রক্রিয়ার ধরন একটা কৃষ্ণ গহবরের মতো, যা এর আশপাশের সামাজিক পরিবেশকে এমনভাবে গঠন করে যে, তা থেকে কিছু এগিয়ে যায় না এবং যা থেকে কিছু পালিয়ে যেতে পারে না।’ আরব রাষ্ট্রগুলোর জন্য ২০০৯ সালটা খুব ভালো ছিল না। ওই সময় এ ধরনের রিপোর্টের পঞ্চম খন্ডে বলা হয়, ‘মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে আশা করা হয়। অথচ বেশ কয়েকটা আরব দেশে দেখা গেছে, তা হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক সনদ ও জাতীয় শাসনতান্ত্রিক ধারাগুলোর প্রতি হুমকিস্বরূপ।’ মে’তে টাইম ম্যাগাজিন ‘হাউ দ্য এরাব স্প্রিং মেড বিন লাদেন অ্যান আফটারথট’ শিরোনামে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করে। আরব বিপ্লবের সম্মিলিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতির কথা উল্লেখ করে ওই রিপোর্টে পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, মিসরের তাহরির স্কোয়ারে ওসামা বিন লাদেনের প্রশংসা করে কোনো ব্যানার দেখা যায়নি। তিউনিসিয়া, লিবিয়া বা এমনকি ইয়েমেনেও সরকারবিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে তার ডেপুটি আয়মান আল জাওয়াহিরির কোনো ছবি দেখা যায়নি।’

সত্যের এই প্রকাশ পশ্চিমা মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা হলেও তাকে মোটামুটিভাবে বলা যায় একটা প্রতারণা। আসল কথা হলো, আল কায়েদা মডেল কখনো আরব সমাজের মূলধারায় প্রতিফলিত হয়নি। আরব বিপ্লব আল কায়েদা সম্পর্কে আরব সমাজের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেনি। কারণ ওই ধারণা সমগ্র আরব সমাজের ধারণার খুবই সামান্য একটা অংশ মাত্র। যা হোক, এসব বিপ্লব আরবদের সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ধারণাকে এখনো সত্যিকারভাবে চ্যালেঞ্জ করেনি।

জগবি ইন্টারন্যাশনাল জুলাইয়ে এরাব অ্যাটিচিউড ২০১১ প্রকাশ করে। এতে ছয়টি আরব রাষ্ট্রের এমন ধারণা প্রকাশ পায় যা এতে আরবদের মধ্যে বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা শতকরা ১০ ভাগ কমে যাওয়ার কথাও রয়েছে। ২০০৯ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবামা যখন তার বিখ্যাত ভাষণ দেন তখন অনেক আরব মনে করে যে, কোনো কোনো অংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-আরব অগ্রাধিকার চূড়ান্তভাবে এসে মিলেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কোনো অনুকূল দিকে পরিচালিত না হওয়ায় আরবরা অনুধাবন করে, মার্কিন নীতিগুলো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েই আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধ, ইসরাইলের প্রতি তার সমর্থন এবং তাদের পুরনো মিত্র অত্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ আরব শাসক ও অভিজাতদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আরবরা আবিষ্কার করেছে অথবা পুনরায় আবিষ্কার করেছে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোনো মিল নেই, বরং ওই দুই ধারা আসলে সাংঘর্ষিক পর্যায়ে আছে।

এটা খুবই স্বাভাবিক, মধ্যপ্রাচ্যের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট স্বার্থ ও লক্ষ্যে তার নীতি পরিচালিত করবে। কিন্তু আসলে যা হচ্ছে তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের জন্য অধিকাংশ আরব দেশের আশা আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আরব স্বৈরাচারী শাসকদের সহায়তায় ওয়াশিংটনের অস্পষ্ট ও বিভ্রান্ত নীতি আরব জাতিগুলোর জন্য অকথিত ক্ষতি ডেকে এনেছে। লাখ লাখ সাধারণ আরব যাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রাধিকারকে পুরোপুরি হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এখন আরব জনগণ দেখাচ্ছে যে, তারা ওই বাস্তবতা গ্রহণে আর রাজি নয়।

ইন্টারনেট থেকে ভাষান্তর [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

দলীয়করণে উচ্চ আদালতে সংকট


দলীয়করণে উচ্চ আদালতে সংকট

আমীর খসরু ● হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে একজন বিচারকের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবীর হট্টগোল, বিশৃঙ্খলা এবং এর জের ধরে সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশি মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় পুরো উচ্চ আদালতে এক অস্থির পরিস্থিতি চলছে। এই অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি একদিনে হয়নি, উচ্চতর আদালত এবং এর নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে অনেকদিন ধরেই। এছাড়া উচ্চতর আদালতকে লক্ষ্য করে যে রাজনৈতিক কটাক্ষের ফুলঝুড়ি সাম্প্রতিককালে আমরা লক্ষ্য করছি, তা ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায়নি। আদালতের একটি বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালীন সময়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনায় সিনিয়র আইনজীবীরা যেমন উদ্বিগ্ন তেমনি উদ্বিগ্ন সচেতন জনসমাজ। কারণ রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে বিচার বিভাগ। সংকীর্ণ দলীয়করণসহ নানামুখী অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের ফলে এখন ঐ দুটো বিভাগের সঙ্গীনদশা। বিচার বিভাগও সে পথেই এগুচ্ছে বলে অনেকে বলছেন। তাছাড়া সরকার নিজেই যখন এই পরিস্থিতিতে একটি পক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, তখন অবস্থা কতোটা ভয়াবহ হতে পারে বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষই তা উপলব্ধি করতে পারছেন।

গণতন্ত্রের দাবিতে এবং স্বৈরাচারী জেনারেল এরশাদ সরকারকে পতনে বাধ্য করার জন্য তৎকালীন সময়ে আইনজীবীদের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। এরই অংশ হিসেবে তখন আইনজীবীগণ দলমত নির্বিশেষে তখনকার প্রধান বিচারপতির এজলাস বর্জন করেছিলেন। স্বভাবতই এটা প্রত্যাশিত ছিল যে, ’৯০-এর সামরিক স্বৈরশাসকের বিদায়ের পরে রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলো আরো জনমুখী ও গণতন্ত্রপরায়ণ অবস্থান নিয়ে সচল, সজীব হবে। কিন্তু এর বদলে দলবিভক্তি এবং এর ফলে দলীয়করণ একদিকে যেমন আইনজীবীদের বিভক্ত করেছে, তেমনি বিচারক থেকে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তার নিয়োগ পর্যন্ত এর ক্ষতিকর প্রভাব দ্রুত দৃশ্যমান হতে থাকে।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন বিচারপতি কেএম হাসানসহ কয়েকজন বিচারপতির জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের পরে উচ্চতর আদালতে উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। ওই সরকারের সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিমের নির্দেশে বস্তি উচ্ছেদ করা হচ্ছিল। এর বিরুদ্ধে আইন ও শালিস কেন্দ্র একটি রিট আবেদন দায়ের করেছিল। এই রিটের পক্ষে আদালতে ড. কামাল হোসেন মূল আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করছিলেন। এই রিটের বিরুদ্ধে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ এবং ড. কামাল হোসেনের বাড়ির সামনে রাতারাতি বস্তি বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়েও তখন সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার এতে ক্ষান্ত না হয়ে উত্তপ্ত বাক্যবর্ষণ করে যাচ্ছিল উচ্চতর আদালতের বিরুদ্ধে।

২০০৬ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির কামরার দরজায় পদাঘাত করে ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর চালায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে এবং গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রীর। প্রধান বিচারপতির কক্ষ ভাংচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত একজন আইনজীবী বর্তমান সরকারের সময়ে এসে বিচারকও হয়েছেন। ঐ সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। তবে গ্রেফতারের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ এবং শপথ বাক্য পাঠ নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটে। তবে বিএনপি সরকারের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে ছিল সোচ্চার।

তবে এ কথাও বলে নেওয়া উচিত, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতের বেঞ্চে এ বছর যে পন্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে তাও প্রত্যাশিত নয়। প্রতিবাদের ভাষা এবং প্রতিবাদের প্রকাশ ভিন্নভাবে হওয়াটাই ছিল প্রত্যাশিত।

যদিও যতই দিন যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন স্তম্ভে ততোই রাজনৈতিক দুঃখজনক বিভাজন এবং দলীয়করণ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। আইনজীবীরাই এখন উচ্চ আদালতের ‘কোন কোর্ট কোন দলের পক্ষে’, তা প্রকাশে বয়ান করে চলেছেন। এ পরিস্থিতি আসলেই কাম্য ছিল না।

সাম্প্রতিককালে পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। উচ্চতর আদালতের এই রায় বিদ্যমান রাজনীতিতে সংঘাত, বিভেদ এবং বিবাদকে আরো উসকে দিয়েছে।

সর্বশেষ যে ঘটনাটি নিয়ে এখন উচ্চতর আদালত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা শুরু হয়েছে একজন বিচারকের একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে। সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হবে – এমন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জন্য ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং দু’জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ওই বেঞ্চে এর শুনানি চলতে থাকে। এ শুনানিকালে ওই বেঞ্চের একজন বিচারক বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে একটি মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের কোনো প্রয়োজন ছিল কিনা – এ প্রশ্ন উত্থাপন জরুরি, বিশেষত খালেদা জিয়ার বক্তব্য যখন আদালতের বিচার্য্য ছিল না। এটা ধরে নেওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট বিচারপতির দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা থেকেই এমন মন্তব্য এসেছে। এই বিচারপতি বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদকে আদালতে ডেকে নিয়ে ‘নির্বোধ, অজ্ঞসহ’ এমন ভাষায় ভৎর্সনা করেছিলেন যা এ দেশের অনেক সচেতন মানুষই আশা করেনি এবং অনেকেই মর্মাহতও হন।

দলীয়করণ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিচারিক সক্রিয়তার নামে বিচার বিভাগে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দলনিরপেক্ষ সিনিয়র আইনজীবীগণ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নিতেন। এখন তীব্র দলীয়করণের কারণে সেটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। সরকার যখন একটি শক্ত পক্ষ হিসেবে দাঁড়ায় তখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে বাধ্য।

কিন্তু এ অবস্থা কোনোক্রমেই কাম্য নয়। আইনজীবীদের দলীয়করণের মাত্রা বাড়বে যদি বিচার বিভাগের দলীয়করণ বন্ধ না হয়। বিচার বিভাগ স্বাধীন করার বদলে এখন বিচার বিভাগে দলীয়করণের মাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি কোনোক্রমেই দেশের গণতান্ত্রিক প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। এ কথাটি প্রধানত সরকারকেই বুঝতে হবে।

Published On 11-08-2011
Link: http://budhbar.com/?p=6031

দুর্ঘটনারোধে চালকদের দক্ষ ও সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই


গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের বিরুদ্ধে নামছে মোবাইল কোর্ট


১৩ জুলাই: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আজ জানিয়েছেন। মিরসরাইয়ে ট্রাক উল্টে ৪২ ছাত্রসহ ৪৪ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির কয়েকদিন পর এ ঘোষণা দিলেন তিনি।
সাহারা খাতুন আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত আইন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের অভাবে গাড়ি চালকদের মধ্যে এ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশ মোতাবেক এ ধরনের অপরাধের জন্য গাড়ি চালককে পাঁচশ টাকা জরিমানা বা এক মাস কারাদণ্ড কিংবা উভয়ই হতে পারে।
অবশ্য পুলিশ বলছে, এ আইন বাস্তবায়ন করার মতো জনশক্তি তাদের নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় সাহারা খাতুন বলেন, এ ধরনের অপরাধীদের খুঁজে বের করার ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বিশেষ গুরুত্বারোপ করবে। তিনি আরো জানান, মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশের কঠোর বাস্তবায়ন করবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সড়কে সঠিক ট্রাফিক চিহ্ন না থাকার কারণে অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হলে সাহারা খাতুন বলেন, সড়ক চিহ্ন বসানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবে।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলার বিরুদ্ধে দুর্বল আইন

শাহীন রহমান ॥ একটি পরিচিত বাণী পরিবহনের পেছনে লেখা থাকে। এসব বাণীর মধ্যে একটি জনপ্রিয় বাণী হলো একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না। গাড়ি চালাতে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কিন্তু এসব বাণী কেউ মেনে চলে, না বাণিজ্যিক উদ্দেশ ব্যবহার করা হয় তা নিয়ে হয়ত প্রশ্ন রয়েছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত অযৌক্তিক কারণে দেশে যে হারে দুর্ঘটনা বাড়ছে তাতে কান্নার রোল হয়ত কোনদিন থামবে না। পরিবহণে চলতে গেলে চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো কারও চোখ এড়ায় না। প্রতিবাদ করে লাভ হয়নি কোনদিন। উল্টো প্রতিবাদ করায় যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয় হরহামেশায়। কিন্তু যারা বেপরোয়া গাড়ি চালায়, এসব চালকের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। হেলপার হয়ে ড্রাইভারের কাজ করা, চলন্ত গাড়িতে চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার একটি স্বভাবে পরিণত হয়েছে। চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরম্নদ্ধে আইন থাকলে তার কোন প্রয়োগ নেই। শুধু দুর্ঘটনা ঘটলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর হতে দেখা যায়। তখন হয়ত গাড়ি চালাতে অনেক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কিছুদিন গেলে যে লাউ সেই কদুতে পরিণত হয়। আবার সবকিছু হয়ে যায় আগের মতো। কিন্তু মাঝখানে যে তরতাজা প্রাণগুলো হারিয়ে যায় তা কোনদিন ফিরে পাবার নয়। দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের কান্না যে কতদিন চলে তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানে। তাই হয়ত তাদের কান্না নিয়ে অন্যদের কোন মাথা ব্যথা নেই। ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার অর্ধশত স্কুল ছাত্রের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবেন কেউ। অথচ তাদের লাশ হয়ে ফেরার পেছনেও রয়েছে চালকের বেপরোয়া, খামখেয়ালি আর স্বেচ্ছাচারিভাবে গাড়ি চালানো। আইন না মেনে গাড়ি চালানোর কারণে এত কচি প্রাণের অপমৃতু্য ঘটল। চালক মোবাইল ফোনে কথা বলায় গিয়ে ব্রিজ থেকে গাড়ি খাদে পড়ে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো তাদের। এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। আইনে জেল জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিন্তু আইন মানার প্রবণতা কারও মধ্যে লৰ্য করা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর কারণে দেশে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি গাড়ি চালানোর সময় চালকের মোবাইলে কথা বলা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অথচ চলনত্ম অবস্থায় চালক মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণেই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, অনেকে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন চলনত্ম অবস্থায় চাকলের কথা বলাকে। রাজধানীসহ সারাদেশে হরহামেশা এ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিবহনের চালক ছাড়াও মোটরসাইকেল আরোহীকে প্রায়ই চলন্ত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায়। এভাবে কথা বলার কারণে রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি যেসব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার প্রধান কারণও এই মোবাইল ফোনের ব্যবহার।
চলন্তু অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার রোধে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা রোধ করতে ২০০৭ সালে মোটরযান আইনের সংশোধন করা হয়। ওই বছর ১২ জুলাই গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলার ব্যাপারে মোটরযান আইনের ১১৫(বি) ধারার সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি আইনে এয়ারফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন অমান্য করলে ৫শ’ টাকা জেল জরিমানার করার বিধান রয়েছে। কিন্তু হরহামেশা এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপৰ ব্যবস্থা নিতে দেয়া যায়নি। ভারতেও এধরনের একটি আইন রয়েছে। আইন অমান্য করলে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের জেলা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারতের আইনের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনের পার্থক্য হলো বাংলাদেশের আইনটি যেমন দুর্বল, তেমনি এর কোন প্রয়োগ নেই।
সম্প্রতি যে সব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার পেছনে রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় চালক প্রায় অসতর্ক অবস্থায় থাকে। এছাড়া পাশে বসা অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় অসতর্ক হয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালায়। গত সোমবার চট্টগ্রামে ট্রাক খাদে পড়ে ৪১ স্কুলছাত্রের নিহত হবার পেছনেও রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী চালক চলনত্ম অবস্থায় কথা বলছিল। তখন তার অসকর্ত হওয়ার কারণে ট্রাকটি এলামেলো চলছিল। একপর্যায়ে দ্রম্নতগতিতে ট্রাকটি সেতুর ওপর উঠে প্রচণ্ড ধাক্কা খায় তখনই ঘটে যায় স্মরণকালের ভয়াবহ দুঘর্টনা।
এ মাসের ২ তারিখে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে নোয়াখালীতে। এ ঘটনায় ৭ শিৰার্থীর করম্নণ মৃতু্য হয়। জানা যায়, নিহত ছাত্রছাত্রীর মধ্যে একলাশপুর হাইস্কুলের এবং নোয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী। এ ঘটনায় নিহত অপরজন চালক স্বয়ং। শিৰার্থীদের মধ্যে দুজন ছিল সহোদর। প্রত্যৰদর্শীদের ভাষ্যমতে চালক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ছয় শিৰার্থী প্রাণ হারায়। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন মারা যায়। এ দুর্ঘটনার পেছনেও ছিল চালকের মোবাইল ফোনের ব্যবহার। ওই বছরের ২৯ মে লোহাগড়ার চুনতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হানিফ এন্টারপ্রাইজের বেপরোয়া গতির বাসটি একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দিলে এক পরিবারের তিনজন নিহত হয়। আহত বা বেঁচে যাওয়া বাসের যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী চালক চলনত্ম অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আগামী ২৪ তারিখে ডাকা হয়েছে সড়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। জানা গেছে চালকদের সচেতন করতে এ বৈঠকে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মো. আয়ুবুর রহমান খান জনকণ্ঠকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সারাদেশে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। চালককের প্রশিৰণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বিআরটিএর পৰ থেকে। আগামী ২৪ জুলাই সড়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে বিসত্মারিত আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনারোধে চালকদের দক্ষ ও সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তার আন্দোলনের প্রেৰিতে দেশের নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের জন্য সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে মাত্র ৫শ’ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তাও কার্যকর করা হচ্ছে না। জরিমানার বিধান ৫শ’ টাকার বেশি করে এসব চালকের কঠোর শাসত্মির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বাসত্মবায়ন করা না গেলে দুর্ঘটনারোধ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, এসব বেপরোয়া চালকের পেছনে রয়েছে তাদের শক্তিশালী সংগঠন। কোনরকম দুর্ঘটনায় চালক একবার প্রাণে বেঁচে গেলে তাদের বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে সংগঠনগুলো। ফলে তাদের আর শাসত্মির আওতায় আনা সম্ভব হয় না। [একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ নিউজ মিডিয়া Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchange

ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দ দূষণ বেড়ে চলেছে তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে।


রাজধানীর অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাবে

শব্দদূষণ


এফএনএস (মাহতাব শফি) : রাজধানীতে বেড়েই চলছে শব্দদূষণ। নীতিমালা আছে কিন্তু তার কোন প্রতিকার নেই। রাজধানী ঢাকা শুধু নয়। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরেই বর্তমানে এই শব্দ দূষণের শিকার। ফলে আগামী প্রজন্ম হারাচ্ছে শ্রবণশক্তি। শ্রবণশক্তিই নয়, শব্দ দূষণের কারণে উচ্চরক্ত চাপ, মাথাধরা, অজীর্ণ, পেপটিক আলসার, অনিদ্রা ও ফুসফুসে সহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত শব্দ দূষণে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা নষ্ট হয়, সন্তান সম্ভাবনা মায়েদের যে কোনো ধরনের উচ্চ শব্দ মারাÍক ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, যানবাহনের শব্দ দূষণে ষ্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায় বহুমাত্রায়। এক জরিপে উঠে আসা রাজধানী ঢাকার শব্দ দূষণের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। যা সত্যিই আতংকজনক। সারা বিশ্বে এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার পালিত হয় ‘আর্ন্তজাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস’। সারা বিশ্বেই এই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে তেমন সচেতন নয়।
বাংলাদেশে রয়েছে শব্দ দূষণ নীতিমালা। ২০০৬ সালে প্রণীত এই নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা হলো ৫৫ ডেসিবেল এবং রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবেল। একই ভাবে, নীরব এলাকার জন্য এই শব্দসীমা যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৫০ ও ৪০ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় ৬০ ও ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ও ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ও ৭০ ডেসিবেল সর্বোচ্চ শব্দসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করা দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আমাদের দেশে এই বিধিমালা মানা হচ্ছে না।
একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বেসরকারী সংগঠনের পরিচালিত গবেষনায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় শব্দদূষণ মাত্রা ১০২ ডেসিবেল, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ৯৩ ডেসিবেল, বাংলামোটর এলাকায় ৯২ ডেসিবেল, সদরঘাট এলাকায় ৮৮ ডেসিবেল, ফার্মগেট এলাকায় ৯৩ ডেসিবেল, শাহবাগ এলাকায় ৮৬ ডেসিবেল, মহাখালীতে ৯৪ ডেসিবেল, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ১০১ ডেসিবেল, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ৯৫ ডেসিবেল, গুলিস্তান এলাকায় ৯২ ডেসিবেল এবং স্কয়ার হাসপাতাল এলাকায় ১০৪ ডেসিবেল। যেখানে সবোর্চ্চ শব্দসীমা যত তার দ্বিগুণ শব্দ দূষণ করা হচ্ছে।
রাস্তায় বেরুলেই দেখা যায় এই শব্দ দূষণের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। রিক্সা ওভারটেক করতে চায় বাসকে, বাস ওভারটেক করতে চায় প্রাইভেট কারকে, প্রাইভেট কার ওভারটেক করতে চায় এ্যাম্বুলেন্সকে। আর এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে আছে প্যাঁ পুঁ শব্দে হর্ণ বাজানো।
উন্নত দেশগুলো অবশ্য শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং বিশ্বব্যাংক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ৩০টি কঠিন রোগের উৎস ১২ রকমের পরিবেশ দূষণ, এর মধ্যে অন্যতম শব্দদূষণ। শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট সমস্যাবলীর ভিতরে রয়েছে কানে কম শোনা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক ভীতি। এছাড়া অস্থিরতা, উচ্চরক্তচাপ ও শব্দভীতি অন্যতম।
রাজধানীতে শুধু গাড়ির হর্নই নয় জনসভায় ব্যবহৃত মাইকগুলোও একে অন্যের চাইতে জোরে চিৎকাররত। মার্কেটে বাজছে উচ্চশব্দের গান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর একটি ভি,আই,পি সড়কে হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তা বেশী দিন কার্যকর রাখতে পারেনি। শুধুমাত্র একটা শব্দদূষণ বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া সরকারের আর কোন উদ্যোগই চোখে পড়ে না। এগিয়ে আসছে না কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা এনজিও।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, যদি টানা ৮ ঘন্টা ৯০ থেকে ১০০ ডেসিবেল শব্দ প্রতিদিন শোনা হয়, তাহলে ২৫ বছরের মধ্যে শতকরা ৫০ জনের বধির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শব্দ দূষণ চোখ ও মাথার বিভিন্ন সমস্যার জন্যও দায়ী। শহরের বেশীরভাগ মানুষই মাথার যন্ত্রণায় ভোগে-যার অন্যতম কারণ শব্দ দূষণ। এছাড়া ক্রমাগত শব্দ দূষণের ফলে মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক এমনকি লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দ দূষণ বেড়ে চলেছে তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে।
মানুষের ব্যক্তিগত অদূরদর্শী কার্যকলাপ, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপরিকল্পিত বিস্তার, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার ত্র“টি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারের বিবর্তিত শব্দের ব্যাপকতায় শব্দ দূষণ বর্তমান সময়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় শিল্পকারখানায়, পরিবহন পদ্ধতিতে এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনির্দিষ্ট তীব্রতা সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বাস, ট্রেন, জাহাজ, শিল্প-কারখানা থেকে বের হওয়া শব্দ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারের শব্দের তীব্রতা নির্দেশিত মাত্রায় বা তার নিচে বজায় রাখা উচিত। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকা প্রয়োজন। যানবাহন থেকে বের হওয়া শব্দের ব্যাপকতা এবং তীব্রতা হ্রাসের জন্য আইন করে উন্নত প্রযুক্তির ডিজেল ইঞ্জিন এবং এক্সসট গ্যাস পাইপে সাইলেন্সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যান্ড সঙ্গীতের আয়োজন করা হয়ে থাকে। যার ফলে এ সময় অনাকাক্সিক্ষতভাবে শব্দ দূষণ সৃষ্টি হয়ে আশেপাশে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীসহ প্রায় প্রত্যেকেরই ঘুমের বিঘœ ঘটছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে দরকার জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১৯৯৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব জায়গায় মোটরগাড়ির হর্ণ বাজানো বা মাইকিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ এ আইনের তোয়াক্কা কেউ করে না। ঢাকা সিটির সাইলেন্টস জোনেও আইনশৃংখলা বাহিনীর সামনেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইক বাজিয়ে দেদারসে ঔষধ বিক্রির নামে যন্ত্রণাদায়ক অশ্লীল কথামালায় মাইকিং করতে দেখা যায়।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী কোন এলাকা ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশী শব্দ হলে সেই এলাকা দূষণের আওতায় চিহ্নিত হবে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী অফিস কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩৫ ডেসিবেল, রেস্তোরায় ৪০ থেকে ৬০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা সহনীয়। ৬০ ডেসিবেল শব্দ মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।
উচ্চশব্দ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও অসচেতনার কারণে রাজধানীতে শব্দ দূষণের শিকার হচ্ছে ৯৫ ভাগ মানুষ। অবশ্য এ শব্দ দূষণের অন্যতম কারণ হিসাবে গাড়ির হর্ণকেই দায়ী করলেন বিষেজ্ঞরা।
শব্দদূষণ বন্ধে বিধিমালা বাস্তবায়নে গাড়িচালকদের মধ্যে সচেতনতার পাশাপাশি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের মাধ্যমে গাড়ীর হর্ণ বাজানোর জন্য সংশ্লিষ্ট চালক ও গাড়ির বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। শব্দদূষণ বন্ধে পুলিশ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের পরিচালিত মোবাইল কোর্টগুলোতে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ণ এর ব্যবহার রোধে আরও কার্যকারী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আইনৃ´খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, অপ্রয়োজনে হর্ণ বাজালে মোটরযান অধ্যাদেশের আওতায় ২শ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ জরিমানা চালককে দিতে হয় না বলে চালকরা এ অপরাধ করেই যাচ্ছে। শব্দ দূষণ রোধে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে এর কোন প্রয়োগ নেই।
প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষ। রাস্তায় নামছে নতুন নতুন গাড়ি। তৈরি হচ্ছে নতুন স্থাপনা। আর এই বাড়তি মানুষের চাহিদার জোগান দিতে বেড়েছে শব্দ দূষণের মাত্রা এবং বাড়তে বাড়তে এক অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাড়ি চালক ও গাড়ির মালিকগণকে শব্দ দূষণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিতকরণসহ জনসচেতনতা সৃষ্টি, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান এবং শব্দ দূষণ বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ করতে হবে। বিশেষ করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সেক্স, যৌন, যৌনতা, অপরাধ, একুশ নিউজ মিডিয়া, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchange

বাঙালির বুদ্ধিজীবিতার ইতিহাস সুবিধাবাদিতার ইতিহাস


জাতীয় সংকটে সুশীলরা কোথায়?

সোয়াদ আহমদ ● কেউ কথা বলছেন না, কয়েকজন বলছেন। তারা মোটে গুটি কয়। জাতীয় সম্পদ পাচার হচ্ছে, জাতীয় স্বার্থ লুণ্ঠিত হচ্ছে, গণমানুষের সঙ্গে নিদারুণ প্রতারণা হচ্ছে, রাষ্ট্রশক্তি বিক্রি করে দিচ্ছে গণমানুষের ভবিষ্যৎ – এসব অহরাত্রি ক্লান্তিহীনভাবে বলে চলেছেন আমাদেরই কয়জন। আনু মুহাম্মদ, এম এম আকাশরা লড়ছেন, সঙ্গে আছে বিশাল সংখ্যার রাজনীতি সচেতন এক তরুণ শ্রেণী। তরুণরা ব্লগে লিখছেন, তর্ক করছেন, গল্প করছেন, স্বপ্ন দেখছেন এবং তৈরি হচ্ছেন। তৈরি হচ্ছেন এক বড় সামাজিক প্রয়োজনে, নিজেদের মতো করে সব গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। অনেককেই ভুলিয়ে রাখতে পেরেছে রঙিন করপোরেট জগত, মাল্টিনেশন কোম্পানি অথবা সুশীল জাতীয়তাবাদের ছায়া, তবে সবাইকে পারেনি। সবাইকে পারা যায় না। এরা টিভি সিরিয়াল, সিনেমা, ফেসবুক সব ছাপিয়ে সময়ের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার ইচ্ছায় সচেতন বা অবচেতনভাবে অভিন্ন প্রয়োজনে জড়ো হচ্ছে।

আমাদের অতি চেনা হিসাব মতোই, আমাদের বুদ্ধিজীবীরা নির্ভাবনায় আরাম কেদারায় শুয়ে দু’পা নাচাচ্ছেন। অনেকেই অবাক হয়, যারা ইতিহাস সচেতন তারা অবাক হয় না, তারা এঁদের হাড়ে হাড়ে চেনেন। এই সময়গুলোতেই উনারা কালা এবং বোবা, আর বাকি সময়ে উনাদের মুখে কথার ফুলঝুরি। তেল-গ্যাস নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা বলবেন এর বাইরে আমাদের সুশীলদের বিষয়ে সামান্য গুণকীর্তনের নিমিত্তেই এই লেখার অবতারণা।

বারবার আমরা এই সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের চরিত্রগত সংকট দেখে বিস্মিত হচ্ছি। আমরা এরশাদ সরকারের পতন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের দোহাইয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দানের মধ্য দিয়ে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীটির শ্রেণীগত প্রতিষ্ঠা দেখি। তখন আমরা আমাদের বিশিষ্ট হেভিওয়েট দেশপ্রেমিক বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদের ঐক্যবদ্ধ হতে দেখি। ২৭ জুন ২০১১ তারিখে বিভিন্ন পত্রিকাতে দেয়া শেখ হাসিনার কলামেও তার কথা উল্লেখ করেছেন যে হাবিবুর রহমান ১৯৯৬তেই সুশীল অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। সেসব তো অনেক পরের কথা। আমরা বেশ খানিক আগে চলে যাব, এদের শ্রেণীগত চরিত্র বোঝার জন্য রাষ্ট্রের সংকটকালীন সময়গুলোর ওপর চোখ বোলালেই চলবে।

বাঙালির বুদ্ধিজীবিতার ইতিহাস সুবিধাবাদিতার ইতিহাস। নিজের ভোগবিলাস ছাড়া এই পরজীবী বুদ্ধিজীবীরা কিছুই বোঝে না। আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে সংকটকালীন সময় ’৭১, সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। এই বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ স্বপ্ন দেখতে জানত না, এদের চোখে কোনোদিন স্বাধীন বাংলাদেশের ছবি জেগে ওঠেনি। তাই সাহস করে কেউ ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেনি যে, একটি জাতি ঐতিহাসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি জাতীয় রাষ্ট্রের জন্ম দিতে যাচ্ছে। মনীষা আহমদ ছফা এই বিষয়টাতেই ভীষণ আক্ষেপ করতেন। পশ্চিম বাংলায় এ দেশের কোটি কোটি উদ্বাস্ত্ত বাঙালি যখন মানবেতর জীবন যাপন করছে তখন কলকাতা নগরীতে রাজ সম্মানে আশ্রিত বুদ্ধিজীবীরা আয়েশি জীবন, ভোগবিলাসে মগ্ন থাকতেন, সত্য-মিথ্যা গল্প ফেঁদে মোটা অর্থ কামাতেন। এরা সগৌরবে বিদেশী সাহায্যের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিতে লজ্জা পেতেন না। সময়ের প্রয়োজনে এদের অনেকেই যারা একসময় ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদী, পাকিস্তান রাষ্ট্র দর্শনের একনিষ্ঠ পুজারী তারাই স্বাধীনতার পর দলে দলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জয়গান গেয়েছেন। অনেক ভারি ভারি বুদ্ধিজীবী আইয়ুব খানের টাকার ঝুলির পেছনে কলম ফেলে দৌড়িয়েছে। এসব শুধুই ইতিহাস নয়, সেদিনের কতিপয় ‘বোকাসোকা’ মানুষ যারা বুদ্ধিকে জীবিকার বাহন হিসেবে নেয়নি, যে কয়জন ‘মূর্খের’ মতো নতুন ভূখন্ড নিয়ে অহর্নিশ স্বপ্ন দেখত, সেই কয়জনের বাইরে বুদ্ধিজীবীদের বিশাল অংশের শেকড়-বাকড় আর তাদের ভাবশিষ্য নিয়েই রচিত আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের ভিত্তিভূমি।

আমরা দেখেছি সময়ের প্রয়োজনে ও পুঁজির বিকাশের স্বার্থেই এরশাদ সরকারের উত্থান ঘটিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি। এরশাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তার পতনও ঘটানো হয়। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এরা নতুন আরেকটি শ্রেণী তৈরিতে উদ্যোগী হলো। গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মত প্রকাশ তথা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা। নতুন শ্রেণীটি হলো এই সংবাদ মাধ্যম আশ্রয়ী বুদ্ধিজীবী শ্রেণী আমাদের এখানে যারা সুশীল সমাজ নামে পরিচিত। এরা অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংস্কৃতি ও চিন্তার ধারক ও বাহক মধ্যবিত্ত ও মধ্যবর্তী শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে অতিমাত্রায় গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যায়। তাদের এই উত্থানের ও গ্রহণযোগ্যতার কারণ রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনে জেগে ওঠা হতাশাকে ধরতে পারা। তারা দেশে জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার গালভরা কথা বলে, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় উচ্চকণ্ঠ প্রকাশ করে যা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীকে সহজেই আকৃষ্ট করে তোলে। তৃতীয় বিশ্বের নেতা-নেত্রীরা ক্ষমতা ও অর্থ ছাড়া তেমন কিছু চেনে না এবং তা স্বাভাবিক, খালেদা-হাসিনারা তাই দুর্নীতির ধারক-বাহক। রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক অশ্রদ্ধা, গণতন্ত্র চর্চার অভাব, সহিংস মনোবৃত্তি ইত্যাদি জনমনকে সর্বদা ক্লান্ত ও হতাশ করে রাখে। সেই সুযোগটাই সুশীলরা হাতিয়ে নেয় কৌশলে। এদের আমরা প্রয়াশই দুর্নীতি, সুশাসন প্রভৃতি প্রশ্নে সভা সমিতি, সেমিনার, টক শো, পত্রিকার কলামে বলিষ্ঠ বক্তা ও প্রতিবাদী দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখি। যাদের মুখে বুলেটের মতো উচ্চারিত হয় দেশ, জাতি আর স্বাধীনতার কথা। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে আমাদের নেতৃত্ব দেশকে কিছুই দিতে পারেনি এই তাদের মূল বক্তব্য। সব ব্যর্থতার উৎস তারা রাজনীতি আর রাজাকারে খোঁজার প্রয়াস পায়। দেশ বিষয়ক মায়াকান্নায় মুহূর্তে তারা তরুণ শিক্ষিত সমাজকে সিক্ত করে ফেলে। ফের সুশাসন প্রশ্নে আমরা তাদের মূল বক্তব্য খুঁজে পাই, এক অগণতান্ত্রিক রাস্তার নির্দেশনা তারা কৌশলে দিয়ে থাকেন। সেই পথ এক পাপের পথ যে পথ কোনো দিন গণতন্ত্রকে মাটির গভীরে শেকড় গাঁড়তে দেবে না। তাদের সেই ষড়যন্ত্রের শিকার আমাদের স্বাধীনতা-উত্তর সমাজের তরুণ প্রজন্ম যাদের ফেইসবুকের পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস থাকে এই সব বাক্য। একটা প্রজন্মকে তারা নষ্টের চূড়ান্তে নিয়ে গেছে। যারা এরই মধ্যে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে। স্বার্থপর সহিংসতায় তাদের সহপাঠীর মৃত্যু তাদের ভাবিত করে না। ন্যায্য অধিকারের জন্য, শিক্ষার বাণিজ্যিকরণের বিরুদ্ধে তাদের সহযাত্রীদের সংগ্রাম এদের আলোড়িত করে না, তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাক বা ভবিষ্যৎ বংশধরদের কান্না কিছুই এদের কান নাগাদ পৌঁছুতে পারছে না।

এই সুশীল-বুদ্ধিজীবীর অভ্যুত্থানের সুযোগ করে দেয় হাসিনা-খালেদার অগণতান্ত্রিক রাজনীতিই। তারা যত বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যত দুর্নীতিগ্রস্ত হবে, যত তাদের রাজনৈতিক চরিত্র স্খলন হবে, ততই সুশীলদের লাভ। তারা তত সহজেই হতাশ জনগণের কাছাকাছি যেতে পারে। সুশীল সমাজ সম্রাজ্যবাদী শক্তির নতুন মাত্রার সহযোগী। নানা কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা তৃতীয় বিশ্বের সস্তা চরিত্রহীন রাজনীতিবিদের চাইতেও এই শ্রেণীটিকে বেশি পছন্দ করে এবং এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। তৃতীয় বিশ্বের এই পরিবারতন্ত্র, পুঁজিবাদের বিকাশ ও সম্রাজ্যবাদের প্রসারণে যথেষ্ট বাধার সৃষ্টি করে। তাই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চায় একেবারে তাদের নিজের শক্তিই ক্ষমতায় আসুক। সেই নিজের একান্ত শক্তি যে কখনো তার সঙ্গে বেঈমানী করবে না- সেটি হলো এই সুশীল সমাজ। খালেদা-হাসিনাকে তো সামান্য হলেও জনগণের কথা ভাবতে হয়, কিছুটা হলেও জনগণের সামনে দাঁড়াতে হয় কিন্তু এই বুদ্ধিজীবী সুশীল শ্রেণীর সে দায়বদ্ধতাও নেই।

এই নতুন মাত্রার সুশীল সরকারের এক্সপেরিমেন্ট আমরা দেখি ওয়ান-ইলিভেনে। আমেরিকার আশীর্বাদ পুষ্ট সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের অভ্যুত্থান হয় এই দিনটিতে। এক অগণতান্ত্রিক, অরাজনৈতিক ঐতিহাসিক পাপের জন্ম দিল সুশীল সমাজ। আরোপিত ব্যবস্থার নাম দিল সামরিক শক্তি সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার। কিন্তু আসলে এত দুর্নীতি, অন্যায়, দুঃশাসনের পরও জনমনে হাসিনা-খালেদার প্রতি সামান্য হলেও ভালোবাসা অবশিষ্ট ছিল। সে ভালোবাসাই আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়। বিভিন্ন ঘাত, প্রতিঘাত, সংগ্রাম, ছাত্র বিস্ফোরণ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের ভেতর দিয়ে দুর্বলভাবে হলেও নির্বাচিত সরকারের পুনর্জন্ম হয়েছিল বলা যায়। এই অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েই পিএসসি-২০০৮ বা রফতানিমুখী উৎপাদন বণ্টন চুক্তির প্রণয়ন দেখি। সম্ভবত সেই অগণতান্ত্রিক সুশীল সরকার থাকলে এতদিনে গ্যাস পাচারের কাজ শুরু হয়েই যেত। এখন যে আমরা নিদেনপক্ষে প্রতিবাদ, মিছিল বা হরতালের সুযোগ পাচ্ছি সেটা তখন কল্পনাও করা যেত না।

সুশীলরা এখন তাই নিশ্চুপ, এটা তাদেরই অসমাপ্ত কাজ। অস্থিতিশীল, দুর্বল বিএনপির মুখে জোর নেই, তারা নিজেরাই কয়েকবার জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে এবং জাতীয় কমিটির গণআন্দোলনের সামনে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া তারাও সরকারে থাকলে একই কাজ করত। ভালো মানুষের মুখোশ পরা দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান সুশীলরা শুধু এই প্রশ্ন নয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ ইত্যাদির যে কোনো শর্তে দেশের অপার মঙ্গল দেখতে পান, জনকল্যাণমুলক খাতসমূহে সরকারি ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ায় তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খুঁজে পান।

তবে এবার এদের নতুন প্রজন্ম চিনে রাখবে ভালোভাবেই। তারা মনে রাখবে এদের অনেকেই যারা ইউনূসের সম্মান বাঁচাতে দলে দলে মানববন্ধন করেছে, নাকের জল চোখের জল এক করে ফেলেছে আর তাদেরই ষোল কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ সামান্যও ভাবিত করে না। যাদের কাছে একটা নোবেল প্রাইজের ওজন ষোল কোটি মানুষের ওজনের চেয়ে বেশি তাদের নাম লাল কালি দিয়ে লিখে রাখবে আনু মুহাম্মদের উত্তরসূরিরা।

[লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchabge

পুনর্বার নতুন শক্তিতে জেগে উঠুক আমাদের ইতিহাস, আমাদের দেশবোধ, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।


রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন : একজন নাগরিকের প্রতিবাদ

পিয়াস করিম ● তেসরা জুলাই একটা তুলকালাম কান্ড ঘটে গেল ঢাকায়। জানি আমাদের জাতীয় জীবনে এই অস্থির ঘটনাগুলো নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর তো চল্লিশ বছর পায়ে পায়ে কেটে গেল। এই পদযাত্রা সহজ হয়নি কোনো অর্থেই। পথ কখনো কুসুমাস্তীর্ণ থাকেনি আমাদের।

যেই স্থিতিটুকু থাকলে জাতি হিসেবে আমাদের সত্তাকে আরো সুসংহত বলে মনে করা যেত- তা আর আমাদের হয়ে উঠলো না। আমাদের ইতিহাসজুড়ে বার বার রক্তপাত ঘটে গেছে, বার বার ঘটে গেছে অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থানের পালাবদল। আমাদের গণতন্ত্রের সঙ্গে স্বৈরতন্ত্রের বিভাজন রেখাটি বার বার ধূসর হয়ে গেছে। জাতি হিসেবে স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট আমাদের পেতে হয়েছে ক্রমাগত। আমরা প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়ও যে আমাদের শাসকরা খুব বোধ করেছেন তা নয়।

এই চল্লিশ বছরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর নিপীড়নের অভিজ্ঞতাতেও আমাদের খুব ঘাটতি নেই। আমাদের রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি কিছুতেই। যাদের রক্ষক হওয়ার কথা ছিল তারা ভক্ষক হয়ে উঠেছেন দিনের পর দিন। আমরা চেয়েছি বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বাধীনতা। উল্টো আমাদের ওপর নেমে এসেছে শ্বাসরুদ্ধকর স্বৈরশাসন। আমরা চেয়েছি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে জুটেছে গুপ্তমৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড। আমাদের তরুণরা দৃপ্ত পদে এগিয়ে যেতে চেয়েছেন। তার বদলে লিমনের মতো তরুণকে পা হারাতে হয়েছে।

সুতরাং তেসরা জুলাই যা ঘটে গেল, তাতে বিস্ময়ে চমকে ওঠার কারণ হয়তো আমাদের নেই। জাতি হিসেবে এটুকু স্থূলচর্ম তো আমরা অর্জন করেছে সেই কবেই। কোনো শোকই বুঝি আর শোক নয় আমাদের কাছে, কোনো আঘাতই আর আঘাত নয়।

কিন্তু তবু তেসরা জুলাই আমাদের নতুন করে ভাবাল। এই হাজারো কষ্টের মধ্যেও যে নতুন করে ভাবার, নতুনভাবে বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাটুকু আমাদের সুকঠিন অভিজ্ঞতার ফাঁকফোকরের মধ্যে এটুকু সবুজ চারাগাছের মতো নিজেকে জানান দেয় তা হয়তো প্রমাণ করে- এত পরাজয়, এত অবমাননার পরেও জাতি হিসেবে আমাদের ঘুরে দাঁড়াবার ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

তেসরা জুলাই ঢাকায় আধাবেলা হরতাল ছিল। তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বঙ্গোপসাগরের দুটি গ্যাস ব্লক মার্কিনি বহুজাতিক করপোরেশন কনোকো-ফিলিপসের কাছে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে এই হরতাল ডেকেছিল। হরতাল আইনসম্মত গণতান্ত্রিক অধিকার, অধিকার আদায়ের জন্য একটি স্বীকৃত গণতান্ত্রিক মাধ্যম। এই হরতাল কায়েমী স্বার্থের পক্ষের হরতাল ছিল না। পেছনের দুয়ার দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ছিল না এই কর্মসূচি। বাংলাদেশের সম্পদের ওপর বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রক্ষার, বাংলাদেশে স্বাধীন গণতান্ত্রিক অর্থনীতি বিকাশের প্রত্যাশার এটি ছিল ন্যয়সঙ্গত এক পদক্ষেপ।

কিন্তু তেসরা জুলাই কাকভোর থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্র তার নিপীড়নের থাবা নামিয়ে এনেছিল হরতালকারীদের ওপর। বিনা প্ররোচণায় জাতীয় কমিটির নেতারা একের পর এক গ্রেফতার হয়েছেন। কর্মীদের ওপর নেমে এসেছে পুলিশি নির্যাতনের দানবীয় শক্তি। আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি কর্মীরা বেধড়কভাবে লাঠিপেটা হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে। টেনেহিঁচড়ে ছেলেমেয়েদের পুলিশি ট্রাকে তোলা হচ্ছে। আমরা দৈনিক সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় ছবি দেখেছি এক তরুণীকে বুট দিয়ে লাথি মারছে জনগণের করের টাকায় প্রতিপালিত পুলিশ।

পল্টন থানায় দেখা হয় অদিতি হকের সঙ্গে। অদিতি নৃবিজ্ঞানী, সঙ্গীতশিল্পী। ওর বাবা-মা আমার ব্যক্তিগত বন্ধু সাইফুল হক এবং বহ্নিশিখা জামেরির সঙ্গে সে গ্রেফতার হয়েছিল। সেই সকালেই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেওয়ায় অদিতিকে ঘাড়ে-পিঠে বেধড়ক মেরেছে পুলিশ। পল্টন আর শাহবাগ থানায় অদিতির মতোই আরো সব তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে দেখা হলো সেই সন্ধ্যায়। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের সময়ও দেশপ্রেমিক কর্মীরা রাজপথে থাকতে পেরেছেন। স্বাধীন দেশের ‘‘পিকেটারদের রাস্তায় না দাঁড়াতে দেবার’’ রাষ্ট্রীয় নীতির কারণেই রাজনীতি বুঝি শেষে পথছাড়াই হয়ে গেল।

হরতালের আগের বিকালে জাদুঘরের সামনে সংস্কৃতিকর্মীদের সমাবেশ ছিল এই ইস্যুতে। সেই সমাবেশে আগুনের টুকরোর মতো ছেলেমেয়েদের দেখেছি। এদের কেউ অদূর ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি যাবে তেমন সম্ভাবনা নেই, সুবিধার হালুয়া-রুটিতে এদের কারো আগ্রহ নেই। বরং এদের মধ্যে আছে তারুণ্যের সেই জাদুকরী শক্তি-আদর্শের প্রতি সুগভীর বিশ্বাস। এদের চোখের তারায়, এদের কণ্ঠের কাঁপুনিতে সেই বিশ্বাস ঝিকমিক করে জ্বলে উঠেছিল। এইসব তরুণ-তরুণী এস্টাবলিসমেন্টের অংশ হতে চায় না, কায়েমী স্বার্থবুদ্ধি তাদের জীবনবোধের চালিকাশক্তি নয় এখনো। এদের মধ্যে জীবনের ওপর আস্থার সেই অকম্প শিখা, তারুণ্যেই বুঝি যার শুদ্ধতম প্রকাশ সম্ভব। শিক্ষক হিসেবে, পিতা হিসেবে আমার মনে হচ্ছিল এই বিশ্বাস, এই জীবনবোধ যতদিন জাগ্রত থাকবে, আমাদের এই বেনোজলের খরার, মন্বন্তরের দেশটি সব আশাও ততোদিন ফুরোবে না।

এইসব তরুণ-তরুণীদের অনেককেই পরদিন রাজপথে লাঞ্ছিত, প্রহৃত হতে হয়েছে। কিন্তু এই লাঞ্ছনা তো শুধু তরুণ কর্মীদের নয়। এই অবমাননা গণতন্ত্রের, মানবাধিকারের। তেসরা জুলাই আমাদের বহুবার ক্ষত-বিক্ষত হওয়া গণতন্ত্র ঢাকার রাজপথে আবার মুখ থুবড়ে পড়ল।

আসুন, রাষ্ট্র দ্বারা গণতন্ত্রের ওপর এই নিপীড়নের, গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর এই নিষ্পেষণের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আসুন আমরা বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিকরা প্রতিবাদে সোচ্চার হই। এই প্রতিবাদে আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক। পুনর্বার নতুন শক্তিতে জেগে উঠুক আমাদের ইতিহাস, আমাদের দেশবোধ, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchabge

%d bloggers like this: